Friday, June 5, 2026







দরদিয়া পাখি পর্ব-০৫

‘দরদিয়া পাখি’ [পর্ব-০৫]
-আফরোজা আঁখি

‘আসমানের ধ্যান ভাঙল আরিয়ানার ডাকে। আরিয়ানা জানে,ওর ভাই কতটা অবসেসড পুষ্পিতার প্রতি! তাই আর কথা বাড়াল না সে। আসমান বুঝদার, বিচক্ষণ একটা ছেলে যা করছে, নিশ্চয়ই ভেবে করছে!কথাগুলো ভেবেই নিজেকে শান্ত করল আরিয়ানা। আসমানকে তাড়া দিল বাড়ি ফেরার জন্য। সাথে সাথেই গাড়ির দিকে পা বাড়াল আসমান।

_______________
‘রাত তখন শেষের দিকে। কিছুক্ষণ পরই চারিদিকে ভোরের আলো ফুটবে। এমন একটা সময় পুষ্পিতার মনে হলো সে হাওয়ায় ভাসছে কেমন যেন লাগছে,মনে হচ্ছে কেউ ওকে মদ জাতীয় কিছু খাইয়েছে।আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকাল পুষ্পিতা। স্পষ্ট বুঝতে পারছে,ও কারো কোলে চড়ে আছে।কেউ একজন গাড়িতে উঠে বসেছে, ওকে কোলে নিয়েই।পুষ্পিতা বিষয়টা বোঝা মাত্রই চিৎকার দিতে চাইল, কিন্তু গলা থেকে কথা বের হওয়ার আগেই সামনের মানুষটি চেপে ধরল ওর মুখ।পুষ্পিতা ভালো করে খেয়াল করলে বুঝতে পারল এটা আসমান ভাই! মনে ভয় জেকে বসল মেয়েটার মনে।এই মাঝরাতে ওকে নিয়ে আসমান ভাই যাচ্ছেন কোথায়?পুষ্পিতার ভয়ার্ত মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে বলল আসমান,
“ভয় পাচ্ছো কেন?আমি তোমাকে মারব না,কাটবও না,বস্তায় ভরে নদীতেও ফেলব না।”

পুষ্পিতার মুখের উপর থেকে হাত সরাল আসমান।পুষ্পিতা ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল,
“তা… তাহলে কি করবেন?”

নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে জবাব দিল ছেলেটা,
“বিয়ে করব।”

বিস্ময়ে পুষ্পিতার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে এলো।সে এক্ষুনি কি শুনল,বিশ্বাস করতে পারছে না। আসমানের বিয়ে কাল,আর আজ ও বলছে পুষ্পিতাকে বিয়ে করবে?আসমান ভাই কি মজা করছেন পুষ্পিতার সাথে?লোকটা কি বুঝে গেছেন,পুষ্পিতা উনাকে ভালোবাসে,তাই ছিনিমিনি খেলছেন ওর আবেগ নিয়ে? পুষ্পিতা ছটফট করল নিজেকে আসমানের থেকে ছাড়ানোর জন্য।আসমান আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ওকে, চোখ মুখ কঠিন করে তাকাল মেয়েটির দিকে।একইভাবে তাকাল পুষ্পিতা, নিজেও। রেগে বলল সে,
“হচ্ছে টা কি আসমান ভাই?ছাড়ুন আমাকে!”
“যদি না ছাড়ি?”
“আমি চিৎকার করব!”
“করো।লোকজন জড়ো হয়ে যখন আমাদের একসাথে দেখবে, তখন এমনিতেই বিয়ে দেবে।আমি সুন্দর শান্তিপূর্ণ বিয়ে চাইছি হার্ট,এমন কট ম্যারেজ এর ইচ্ছে আমার নেই!”

আসমানের কথায় অবাক হচ্ছে পুষ্পিতা এ কাকে দেখছে ও! লোকটা আজ এভাবে কথা বলছে কেন? চেহারা, মুখের ভাবভঙ্গি আর পুষ্পিতাকে বলা কথাগুলো কেমন যেন লাগছে।পুরো উন্মাদ প্রেমিক পুরুষের মতো ব্যবহার আসমান ভাইয়ের!বিস্ময়ে পুষ্পিতার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে এল।আসমানের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলল,
“আপনার মাথা ঠিক আছে?নেশা করেছেন?”
“তুমি থাকতে আলাদা করে নেশা করার প্রয়োজন পড়ে বুঝি? তুমি নিজেই তো নেশা। জলজ্যান্ত নেশা তুমি।যে নেশা আকক্ত আসমান সিকদার।”

‘কথাটা বলে আসমান আগাতে নিলেই ওর বুক ঠেলে বলল পুষ্পিতা,
“কি বলছেন এসব!”
“আমি তোমাকে চাই,পুষ্প। নিজের করে চাই। সারাজীবনের জন্য আমার ভালোবাসার খাঁচায় বন্দী করতে চাই তোমাকে।”

‘কথাটা বলেই আসমান স্পর্শ করল মেয়েটার কোমর।পুষ্পিতা যেন বাকশক্তি হারিয়েছে,এবার কি বলবে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। নিজেকে কোনোমতে সামলে যেই না কথা বলতে যাবে,তখনই হুড়মুড়িয়ে গাড়িতে এসে ঢুকল আরিয়ানা। পুষ্পিতা অবাক হলেও নিজেকে বুঝালো আরিয়ানা ওকে বাঁচাতে এসেছে হয়তো! এই ভেবেই আরিয়ানাকে চোখের ইশারায় বাঁচাতে বলল পুষ্পিতা। আরিয়ানা হেসে বলল,
“ওখানেই তুই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকবি,পুষ্পিতা। কথা না বলে চুপচাপ বসে থাক।”

পুষ্পিতা চুপচাপ বসে রইল আসমানের কোলে। বেশি কিছু না ভেবে গাড়িটা স্টার্ট দিল আসমান। কিছু সময়ের জার্নির পর নির্দিষ্ট গন্তব্যে এসে থামল গাড়িটা। পুষ্পিতা বাইরের দিকে তাকাতেই দেখল, ওদের গাড়িটা কাজী অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে। মেয়েটা যেন এখনও ভ্রমের মধ্যেই আছে। মনে হচ্ছে, সে স্বপ্ন দেখছে। কি হচ্ছে কিছুই মাথায় ঢুকছে না ওর। পুষ্পিতাকে গাড়িতে রেখেই আসমান বেরিয়ে এল। আরিয়ানা তখন ওর পাশে এসে বসল, উত্তর দিল ওর সমস্ত প্রশ্নের। পুষ্পিতা অবাক সবটা শুনে। এগুলো কি সত্যিই? সত্যিই আসমান ভাই ভালোবাসে তাকে যেভাবে ভালোবাসে পুষ্পিতা নিজে! ওর যে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে সবটা। বার বার মনে হচ্ছে, ও স্বপ্নের মধ্যে আছে, আর চোখ খুলে তাকালেই মিথ্যে হবে সব।

কাজী অফিসের সামনে অপেক্ষা করছিল ফারহান আর আসমানের বাকি বন্ধুরা। প্রায় অনেকক্ষণ পর পুষ্পিতাকে গাড়ি থেকে নামানো হলো।আসমানের দুই মেয়ে বন্ধু আর আরিয়ানা ওকে নিয়ে একটা রুমে ঢুকল। ঐ রুমে ঢুকে অবাক পুষ্পিতা, বিছানায় সাজানো আকর্ষণীয় সব বিয়ের শাড়ি, গহনা। এগুলো বুঝি পুষ্পিতার জন্য আনা? তবে ওর মনে যে দ্বিধা কাজ করছে কিভাবে সে করবে এ বিয়ে? ও যে ওর মামা-বাবাকে জানায়নি কিছুই, আর জানে না বাড়ির অন্যরা। ওদের বিয়ে হলে সবাই কেমন রিয়েক্ট করবে? এগুলো ভেবেই পিছিয়ে গেল পুষ্পিতা, সোজাসাপ্টা বলে দিল বিয়েটা সে করবে না। সবাই মিলে বেশ অনেকক্ষণ বুঝালো মেয়েটাকে, কিন্তু ওর সেই এক কথা।

‘পুষ্পিতার দেরি হওয়ায় আসমান এসেছিল কি হয়েছে দেখতে। তখনই কানে গেল পুষ্পিতার বলা কথা।ও বিয়েটা করতে চায় না। শুনে রাগ হলো আসমানের। রুমে ঢুকে রেগে বলল সবাইকে,
“তোমরা বাইরে যাও। ওকে আমি দেখছি।”

আসমান আদেশ দিতেই সকলে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।পুষ্পিতা তাকাল মানুষটির দিকে, ওর রাগী চেহারা দেখেই ভয়ে চোখ নামিয়ে নিল সে। আসমান গিয়ে পুষ্পিতার সামনে দাঁড়াল। মেয়েটার দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরে রাগত্ব স্বরে বলে উঠল,
“আমাকে বিয়ে করতে তোমার সমস্যা কোথায়, পুষ্পিতা? তুমি কি আহানকে পছন্দ করো? ভালোবাসো ওকে?সত্যিই এমনটা হলে আমাকে বলো আমি ওর সাথেই তোমার বিয়ে দিব।”

সাথে সাথেই দুইদিকে মাথা নেড়ে জবাব দিল মেয়েটা,
“না না, আমি উনাকে সে চোখে কখনোই দেখিনি।”
“তাহলে আমার সাথে বিয়ে করতে এত আপত্তি কিসের তোমার?”

চুপ করে রইল পুষ্পিতা। আসমানের প্রশ্নের উত্তর জানা নেই তার। আসমান শান্ত হলো পুষ্পিতা মেয়েটা যে তাকে ভালোবাসে, তা আসমান ভালো করেই জানে, তবে নিজ মুখে স্বীকার করাবে আজ। আসমান আদুরে কণ্ঠে বলল,
“আমার চোখের দিকে তাকাও।”

কিছু সময় ব্যয় করে পুষ্পিতা তাকাল আসমানের ঘোলাটে চোখ দুটোর দিকে। কেমন যেন এক অনুভূতি হলো ওর। আসমানের নেশা ধরানো চোখের চাহনি ঝড় তুলল মেয়েটার হৃদয়ে। চোখ নামাতে নিলেই বলল আসমান,
“উঁহু, দৃষ্টি সরাবে না আমার চোখের দিকে তাকাও।”

পুষ্পিতা শুকনো ঢোক গিলে আবার দৃষ্টি মিলাল আসমানের চোখের সাথে। আসমান ওর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
“এবার বলো, তুমি আমাকে ভালোবাসো না?”

পুষ্পিতা কি বলবে বুঝতে পারছে না। একবার ভাবল, মিথ্যে বলবে। কিন্তু লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যে বলার সাহস পাচ্ছে না সে। পুষ্পিতা চুপ রইল। ওর ভীত মুখশ্রী দেখে আসমান মনে মনে হাসল। ওর কোমর স্পর্শ করে এগিয়ে আনল নিজের কাছে। পুষ্পিতার হাত দুটো ঠেকল গিয়ে আসমানের বুকে। আসমান আবারও বলল,
“বলো পুষ্প, ভালোবাসো না আমায়?”

মেয়েটার চোখ চিকচিক করছে। কি বলবে সে? সত্যি তো এটাই ও আসমানকে ভালোবাসে, নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসে। নিজের আবেগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো অষ্টাদশী। অতি আবেগে চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল পানি, উপর নিচ মাথা নেড়ে মুখে বলল সে,
“ভালোবাসি আসমান ভাই। আমি আপনাকে প্রচণ্ড রকমের ভালোবাসি!”

আসমানের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল হাসির রেখা। মেয়েটার ললাটে চুমু একে বলল,
“তাহলে বিয়ে করে নাও আমায়। সারাজীবনের মতো আমার হয়ে যাও তুমি!”
“আমাদের বিয়ে কি আদৌ সম্ভব? লোকজন কি বলবে?”
“তুমি চাইলেই সম্ভব। তুমি একবার হ্যাঁ বলো, আমি বাকিটা সামলে নেব। অন্যরা কে কি বলল না বলল, তাতে আসমান সিকদারের যায় আসে না। আমার কেবল তোমাকে চাই,তোমার ভালোবাসা চাই!”

পুষ্পিতা ফেরাতে পারল না আসমানকে। ও যে এই মানুষটিকে মনে প্রাণে ভালোবাসে। তার এমন পাগলামি, এমন সুন্দর আবদার না মেনে থাকবে কি করে? পুষ্পিতা রাজি হলো আসমানের কথায়। কালেমা পড়ে, আল্লাহকে সাক্ষী রেখেই বিয়ে হলো ওদের। দুজনে বাঁধা পড়ল বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনে।

______________
ফুলসজ্জিত বিছানার ঠিক মাঝখানে বসে আছে ফুলের মতো সুন্দর পুষ্পিতা। ওর পরনে আসমানের দেওয়া বিয়ের শাড়ি। লাল টুকটুকে শাড়িতে পুষ্পিতাকে পুরো যেন লাল গোলাপের মতো সুন্দর আর স্নিগ্ধ লাগছে।আসমান বসে আছে পুষ্পিটার সামনে,অবলোকন করছে মেয়েটার সৌন্দর্য প্রেয়সীর মোহনীয় রূপে বিভোর হলো আসমান।মনে ইচ্ছে জাগলো তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিতে নিজের বুকের সাথে।তাই করল আসমান! পুষ্পিতার কাছে গিয়ে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ালো ওর কপালে।পুষ্পিতা তাকাল আসমানের মুখপানে। ইশশ কতোটা স্নিগ্ধ সরল চেহারা!এই চেহারার মায়ায়ই তো পড়েছিল পুষ্পিতা!এই চাহনিই ঝংকার তুলে ওর নরম হৃদয়ে!পুষ্পিতার চোখের সাথে চোখ মিলিয়ে মিষ্টি আবদার করল আসমান।নিজের প্রশস্ত বুকের দিকে ইশারা করে বলল পুষ্পিতাকে,
“মাথা রাখবে এখানটায়?”

সাথে সাথেই মেয়েটা লুটিয়ে পড়ল আসমানের প্রশস্ত বুকে। প্রিয় মানুষটির বুকে মাথা রেখে নিশ্চিতে বন্ধ করল চোখের পাতা।আসমানও পরম যত্নে আগলে নিল মেয়েটাকে।

________________
রাতের অন্ধকার কেটে গিয়ে সুচনা হয়েছে নতুন সকালের। সিকদার বাড়িতে আজ মেহমানদের আনাগোনা। বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে তাই কোনো কিছুরই কমতি রাখেননি আরহাম সিকদার।আসমানদের বাড়িটা বিশাল,পুরো জমিদারি ঘোচের। সাজানোর জন্য আরও যেন সুন্দর লাগছে। বিয়ের আয়োজন প্রায় শেষ।মেহমানরাও চলে এসেছেন।কিন্তু যাদেরকে কেন্দ্র করে এতো আয়োজন তারা কেউ-ই উপস্থিত নেই। আসমানকে ডাকতে গেলো ওর কাজিনরা।কাউকে না পাঠিয়ে সালেহা বেগম গেলেন ভাইজির রুমে। কিন্তু রুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই যা দেখলেন তার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। নিজের হবু পুত্রবধূ আর বাহিরের একটা ছেলেকে একসাথে দেখে মেনে নিতে পারলেন না উনি। দরজাটা ছিলো আধখোলা, ভেতরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছিলো স্পষ্টই।স্নেহা আর ছেলেটা কতোটা ঘনিষ্ঠ অবস্থায়! রাগে ঘেন্নায় সালেহা বেগম এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্নেহার দিকে তখনই কানে এলো ওদের কথাবার্তা।উনি লুকিয়ে পড়লেন তখন। কান পেতে শুনলেন—’ছেলেটা স্নেহার কোমরে হাত রেখে বলছে,
“তোমার এই বিয়ে বিয়ে খেলা শেষ হবে কবে?আর কতো অপেক্ষা করব আমি?”

স্নেহা ভয়ে ভয়ে পর্যবেক্ষন করল চারিপাশ।আশেপাশে কাউকে না দেখে নিশ্চিত হলো সে। ধাক্কা দিয়ে ছেলেটাকে নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
“কেন এসেছো তুমি এখানে?বলেছিলাম তো,আমার বিয়ের আগে এ বাড়ির আশেপাশে আসবে না!”
“মানে! তুমি অন্য কারো সাথে বিয়ে করবে আর আমি দেখব!”
“হ্যাঁ দেখবে।”

রোহান রেগে গিয়ে আজেবাজে কথা বলতে শুরু করল। ওর হাবভাব দেখে ভয় পেলো স্নেহা। কেউ দেখে নিলে সর্বনাশ হবে ভেবেই আটাকানোর চেষ্টায় বলল রোহানকে,
“শুনো রোহান,আমি এসব কার জন্য করছি?তোমার জন্যই তো!তুমি জানো এ বাড়ি আর সিকদারদের বিশাল সম্পত্তির মালিক আসমান সিকদার।একবার বিয়েটা হয়ে গেলে সব আমার।আর আমার মানেই তো তোমার।”
“তাই বলে তুমি বিয়ে করবে!তুমি বুঝতে পারছ কি বলছ?”
“হ্যাঁ বুঝতে পারছি।তুমি কেন বুঝতে পারছো না,বলো তো? আমি তো আসমানকে ডিভোর্স দিয়ে তোমার কাছেই যাব….”

পুরো কথাটা বলতে পারল না স্নেহা। সালেহা বেগম ওর হাত টেনে সপাটে চড় বসালেন গালে।মেয়েটা গিয়ে ছিটকে পড়ল মেঝেতে।কি হয়েছে বোঝা মাত্রই ওর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।চিৎকার চেচামেচি শুরু করলেন সালেহা বেগম উনার চিতকারের আওয়াজ নিচ পর্যন্ত গেলো এক এক করে সকলেই আসলেন স্নেহার রুমের সামনে।কি হয়েছে সব ঘটনা শুনে পায়ের তলার মাটি সরে গেলো সকলেরই।স্নেহার বাড়ির লোকজন এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না তবে সব প্ল্যান ছিলো স্নেহার আম্মুরই উনি কোনোভাবে মেয়েকে নিয়ে পালালেন ওখান থেকে।লজ্জায় সালেহা বেগমের মাথা কাটা যাচ্ছে স্নেহাকে তো পছন্দ করেছিলেন উনি নিজেই! উনার ভাবনাতেও ছিলো না স্নেহা এতোটা জঘন্য হতে পারে!”

____________

সিকদার বাড়িতে কিচ্ছুক্ষণ আগেও ছিলো বিয়ে বিয়ে আমেজ কিন্তু এখন কেমন যেন এলো মেলো হয়ে গেছে সবটা। মেহমানরা সবাই এক এক করে চলে গেছেন।সালেহা বেগম ঘরে ঢুকে দরজা আটকে বসে আছেন কান্নাকাটি করে যাচ্ছেন সমানেই ছেলের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন না তিনি।বাড়িতে গমগমে পরিবেশ বিরাজ করছে আসমান সবটা জানার পর কেমন রিয়েজট করবে বুঝে উঠতে পারছেনা কেউ-ই?কিন্তু আসমান কোথায়?সকাল থেকে এতো আয়োজন,ঝামেলার মাঝখানে একাবারের জন্যও তার দেখা পাননি কেউ! এগুলো নিয়েই আলাপ আলোচনা করছিলেন আরহান সিকদার তখনই উনার চোখ গেলো বাড়ির সদর দরজার দিকে! আসমানের চাচিরা আর পুষ্পিতার মা বাবা দুজনে বিষ্ময় নিয়ে তাকালেন সেদিকে।সকলে মিলে ডেকে নিয়ে আসলেন সালেহা বেগমকেও। সকলের দৃষ্টি অনুসরণ করে উনি যখন তাকালেন সদর দরজার দিকে অবাকের চুড়ান্ত সীমায় পৌঁছালেন তখন।

চলবে….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ