গল্প- গোপন সংসার
পর্ব -১৩
লেখক রিহান অরণ্য
কাবিন ছাড়া বিয়ের কথা শুনে তূর্য আমাকে ছেড়ে দিয়ে সিফিন কে বুকে নিয়ে শুয়ে পরছে, আমার কথার কোন উত্তর দেয়নি, শুধু বললো সকাল হয়ে গেছে, বাড়ির সবাই মনে হয় তারাতারি উঠে পরে, একটু বাহিরে দেখো,
আমরা ও সকাল সকাল বের হবো, আমি ওর কথা শুনে বুঝতে পারলাম সে আমার কথা গুলো এরিয়ে গেছে, এই ৪ টা বছরে অনেক বার ভাবছি তূর্য কে বলবো আমাকে সত্যি সত্যি সিফিনের মা করে নিতে কিন্তু সাহস হয়নি, আজকে সুযোগ পেয়ে বললাম তা ও সে পাত্তা দিলোনা, আমার কোন মূল্য তার কাছে নেই সেইটা বুঝতে পারলাম, আমি আার জোর করবো না ওরা ২ জনই আমার কাছে আপন, আমি না হয় ওদের কাজের লোক কিন্তু আমার কাছে ওরা আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে, দরজা খুলে বাহিরে আসলাম অর্নির মা আমাকে বললো সিফিন কে কিছু খেতে দাও সকাল হয়ে গেছে , আমি বললাম সে তার বাবার সাথে শুয়ে আছে এখন খাবে না, আমারা একটু পর নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে যাবো, অর্নির আম্মু বললো আর কিছু দিন থেকে যাও আবার কবে না কবে আসো, আমি বললাম এখন আপনার জামাইর অনেক কাজ আছে, আবার সময় করে এসে অনেক দিন থেকে যাবো, অর্নির বাবা বললো , এর পর যখন আসবা তখন ১ মাসের জন্য আসবা, তুমি থাকবা সিফিন কে নিয়ে, সিফিনের আব্বুর কাজ থাকলে তোমাকে আর সিফিন কে রেখে যাবে ১ মাস পরে এসে নিয়ে যাবে, আমি বললাম ঠিক আছে, এখন তো
হুটহাট করে চলে এসেছি এর পর থেকে জানিয়ে আসবো আর সময় নিয়ে আসবো, অর্নির বাবা আমাদের জন্য গাড়ি ঠিক করে দিলো, তূর্য আগেই অনলাইনে টিকেট রেডি করে রাখছে, মেডাম কে ফোন দিয়ে নিয়ে আসলাম ওনার উপকার কোন দিন ভুলবার মতো ছিলো না, ওনি স্কুলে চলে যাবে তাই ওনি আমাদের কে বিদায় জানিয়ে চলে গেছে,
সকালের নাস্তা খেয়ে আমরা অর্নিদের বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম, রাস্তায় তূর্য একবার ও আমার সাথে কথা বললো না, যখন প্লেন ছেড়ে দিবে তখন আমিই বললাম কলকাতার রাগ কি বাংলাদেশ ও যাবে নাকি, তূর্য তখন বললো কিসের রাগ আমি বললাম তাইলে কথা বলছেন না যে,
তূর্য বললো মন টা খারাপ অর্নিদের বাড়িতে হয়তো আর কোন দিন আসা হবে না, ওনারা আমার বাড়ির ঠিকানা রাখছে যদি কোন দিন কোন দরকারে বাংলাদেশ যায় তাইলে ওরা সিফিনের কাছে যাবে, আমি বললাম তাতে কি যাবে সমস্যা কোথায়, তূর্য বললো এতো কিছু জ্ঞান আমাকে দিলা গতকাল রাতে তাইলে এটা বুঝনা কেন ওরা গিয়ে তোমাকে তো পাবে না, আমি বললাম ওহ আচ্ছা এটা কোন সমস্যা না স্যার বলবেন আমি মা-রা গেছি তাই নতুন বিয়ে করছেন, এই কথা শুনে তূর্য তার হাত টা বার কেরে বললো এখন বেচে গেলা বাসায় গিয়ে একটা চ*র দিবো যাতে কোন দিন মুখ থেকে এই কথা বের না হয়, আমি চুপ হয়ে গেলাম, শুধু বললাম টেনশন কইরেন না সব ঠিক হয়ে যাবে,
সন্ধ্যার আগেই আমরা বাসায় চলে আসলাম, রাতে আর রান্না করিনি অনলাইনে অডার করে খাবার আনিয়ে নিছি, তূর্য কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি বাসায় কবে যাবেন, ওয় বললো আরো ৩ দিন থাকবো এখানে বাড়ি থেকে ৭ দিনের কথা বলে এসেছি, আমি মনে মনে বলতে লাগলাম ৩ দিনে আমার উপরে ঝড় গুলো সামলাবো কেমনে , এমনি তে বাসায় আর কেউ নাই, যাদের কে ভাড়া দিছিলাম তাদের কে ও রুম ছেড়ে দিতে বলছি কারন আমরা নিজেরাই চলে যাবো তাই ভাড়াটিয়ারা ১০ দিন আগেই চলে গেছে, এখন বাসা পুরো ফাকা, না জানি কিছু হয়ে যায় আবার ওর সাথে, সেই চিন্তায় আছি,
আমরা বাসায় আসার পর বাড়ির মালিকের বউ এসেছে ওনি জানতে চাইলো আমরা ঠিক কয় তারিখে বাসা খালি করবো, তূর্য বললো আর তো ১ মাস বাকি
১৫ দিন আগেই আমরা চলে যাবো,
বাড়িওয়ালা বলছিলো বউ কে নিয়ে বাড়িতে উঠবেন নাকি অন্য কোথাও ভাড়া থাকবেন, যদি ভাড়া থাকেন তাইলে এখানে থাকেন, তূর্য বললো না বাড়িতে থাকবো, একটু পর বাড়িওয়ালা চলে গেছে, আমি তূর্য কে বললাম ১৫ দিন আগেই চলে যাবেন, তূর্য বললো হা কারণ ওনারা বাসা টা আাবার নতুন করে রং করে তার পর ভাড়া দিবে,
আমি চিন্তায় পরে গেলাম আর মাএ কয়েকটি দিন সিফিন কে কাছে পাবো, আমার কলিজা মানতেছে না,মনে হয় ম*রেই যাবো এসব ভাবতে ভাবতে কান্না চলে এসেছে, তূর্য আর সিফিন শুয়ে আছে, সিফিন ওর বাবার ফোন নিখে খেলা করছে,আমি দাঁড়িয়ে থেকে দেখছি বুকের ভিতর টা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বুঝতে দেইনি,
তূর্য আমার দিকে তাকিয়ে হাতে ইশারা দিলো,আমি গেলাম ওর কাছে,সে আমার হাত ধরে বিছানায় নিয়ে সিফিনের পাশে শুয়িয়ে দিলো, আমি তাকিয়ে আছি সিফিনের দিকে সে একবার ও আমার দিকে তাকাচ্ছে না, বাবার ফোন নিয়ে সে বিজি,
আমার মনে হলো এমনটাই চাইছে তূর্য, আজকে তার চাওয়া পূর্ন হলো, আমি তো এখানে কাজ করতে এসেছি, আমার কাজ শেষ আমাকে চলে যেতে হবে, তূর্য বিয়ে করবে, সিফিন নতুন মা পাবে,আর আমি সব হারিয়ে ঠিকানাহীন হয়ে কোথাও না কোথাও একটু জায়গা খুজে নিবো
এসব চিন্তাভাবনা করতে করতে আমি আমার চোখের পানি ছেড়ে দিলাম, ওরা বুঝে যাবে তাই চাদর দিয়ে নিজের মুখ ডেকে দিলাম, আমার মুখ ডাকা দেখে তূর্য জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে, আমি বললাম লাইটের আলো চোখে পরে তাই, কিন্তু আমার মুখ ডাকা দেখে সিফিন আমার মুখের কাপড় টেনে নামিয়ে দিলো, যখন আমার চোখে পানি দেখলো সিফিন তখন সে আমার কাছে এসে মাথায় হাত দিয়ে শান্তনা দিতে লাগলো,যেমন টা ওয় কান্না করলে আমি আদর করে দিতাম এটা দেখে আমি সিফিন কে বুকে জরিয়ে ধরে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলাম, তূর্য বুঝতেই পারলো না কি হয়েছে, আমার কান্না দেখে সিফিন ও কান্না শুরু করলো, তূর্য প্রথমে আমাকে বললো রেসি প্লিজ কান্না থামাও কি হয়েছে আমাকে বলো, সিফিন কে কান্না থামাও, তুমি কান্না না থামালে সিফিন কে ও থামবে না, তূর্যের কথায় আমি কান্না থামিয়ে সিফিনের কান্না ও থামিয়ে দিলাম, সিফিন কে বুকে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম, সে ঘুমিয়ে আছে,
আমি সিফিন কে তার বাবার কাছে শুয়িয়ে দিয়ে, আমি অন্য রুমে চলে গেলাম ওই রুমের দরজা বন্ধ করে কান্না করছি, তূর্য মনে করছে কোন কাজে ওই রুমে গেছি, যখন অনেক সময় পার হ’য়ে গেছে তখন সে আসলো আমার রুমে, এসে দরজা ধাক্কা দিতে লাগলো আমি খুলে দিছি, সে দেখে আমি কান্না করতে করতে চোখ ফুলিয়ে ফেলছি, সে আমাকে বললো কি হয়েছে কান্না কেন করছো, আমি বললাম এমনি ভালো লাগছে না, তূর্য বললো আমাকে কি এতোটাই বোকা পেয়েছো আমি বুঝবো না, তুমি যে সিফিনের জন্য কান্না করছো বুঝতে পারছি এতো দিন ওরে লালনপালন করছো মায়া জন্ম নিছে ওর জন্য, তুমি যদি ওর জন্য কান্না করো তাইলে কেমনে হবে, ওর তো ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করতে হবে, আজকে তোমার কাছে ওরে রেখে দিলে ওর বাবার পরিচয়ের কি হবে, তুমি যাকে বিয়ে করবা সে যদি ওরে না মানে তাইলে, আমি কোন রিক্স নিতে চাই না আমার সন্তান, আমার কাছে থাকবে,
আমি তূর্যের কথা শুনে অবাক হলাম, চাইলাম ওদের ২ জন কে আর সে কি চিন্তা ভাবনা করলো,
😭
আমি তূর্য কে বললাম আপনি ভুল চিন্তা ভাবনা করছেন আপনার ছেলে আপনার কাছেই থাকবে আমি সে জন্য কান্না করছি না,কান্না করছি অন্য কারণে,তূর্য জানতে চাইলো কি কারণ বলো, আমি মিথ্যে করে বললাম বাড়ির জন্য মন খারাপ ছিলো, তূর্য বললো আর কয়দিন পর তো বাড়ি চলে যাবা এই কয়টা দিন একটু আমাকে শান্তি দাও, আমি বললাম আপনাকে শান্তি দিবো মানে আমি কি আপনাকে অশান্তির মধ্যে রাখছি, তূর্য বললো পুরাপুরি না কিছুটা, আমি জানতে চাইলাম কি অশান্তি বলেন,তূর্য বললো ওই রুমে চলো সিফিন একা ঘুমাচ্ছে সে ঘুম থেকে উঠে যদি কাউকে না পায় ভয়ে কান্না করবে, আমি গেলাম ওই রুমে তূর্য দরজা বন্ধ করে আমার হাত ধরে বিছানায় নিয়ে গেলো, আমি চুপচাপ শুয়ে আছি, সে আমার পিছনে হাত দিয়ে ধরে আছে, আমি কিছু বলতে ও পারছি না হাত টা এমন জায়গায় ছিলো যে আর বেশিক্ষণ থাকলে উল্টাপাল্টা হয়ে যেতে পারে,এমনি তে মন ভালোনা তাই ওর হাত টা সরিয়ে সাইড হয়ে গেছি, আমার সাইড হওয়া দেখে তূর্য বললো আর কতো দূর যাবে এখন তো পরে যাবে, আমি দেখলাম সত্যি আরেকটু হলে পরে যেতাম,
তাই আমি নিচে বিছানা করে শুয়ে পরলাম,
একটু পর তূর্য নিচে আসলো, আমি ওরে বললাম আপনি নিচে কেন,আমি না আপনাকে শান্তি দেইনা বললেন, তাইলে আপনি নিচে আসলেন কেন উপরে যান ওখানে গিয়ে শান্তি তে ঘুমান, কেউ বিরক্ত করবে না,
তূর্য বললো সত্যি তো বললাম তুমি আমাকে শান্তি দিতেছো না, আমি বললাম বার বার এই কথা কেন বলেন আমি কি এমন করছি যে আপনি শান্তি পান না, আচ্ছা বলেন কি করলে শান্তি পাবেন যদি বলেন তাইলে এখন আপনার সামনে ম *রে দেখাই, তূর্য বললো ম *রতে হবে কেন তোমার বুকে জায়গায় দাও তাইলে শান্তি পাবো,
তূর্যের কথার মানে বুঝতে পারছি সে আমাকে চাচ্ছে,
ওরে কি জবাব দিবো বুঝতে পারছিলাম না, চুপ করে শুয়ে আছি কোন উত্তর না দিয়ে, তূর্য আমার৷ উত্তর না পেয়ে ধরে নিছে আমি রাজি, তাই সে আমার উপরে উঠে গেছে, আমি কোন সারা দিলাম না সে নানান ভংগিমার আমারে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে,
কোন ভাবেই পারছে না, তাই সে ব্যর্থ হয়ে নিচে নেমে গেছে, কিছুখন বসে থেকে সে লাইট অন করে।রেডি হচ্ছে সে চলে যাবে, আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে কই যাচ্ছেন এখন সে বললো এখন মুখ থেকে কথা বের হলো কেন এতোক্ষণ যে এতোকিছু করলাম একবার জন্য আমার দিকে তাকওনি,
আমি বললাম তাতে কি হয়েছে আপনার কাজ আপনি করে নিন, এই কথা শুনে তূর্য আমার গালে থা*-প্পড় মারলো,বললো আমার যদি ওইটার দরকার থাকতো তাইলে তোমার কাছে গিয়ে ছোট হতাম না, নিজের টা নিজেই করতাম, আমি চাইছি কেউ আমাকে ভালোবাসোক, কেউ আমাকে আদর করুক, এই ভালোবাসা টুকু আমার জীবনে সৃতি করে রাখতে চাইছিলাম, রেসি তুমি কি মনে করছো তোমার কান্নার মানে মামি বুঝতে পারিনি, আমি সব বুঝতে পারছি,
কিন্তু আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না, কারণ একবার ফেমিলি কে না জানিয়ে বিয়ে করে এখন এই কষ্টের মধ্যে আছি, আবার করলে হয়তো আমাকে আর বাড়িতে যাওয়া হবে না, আমার জন্য আমার মাকে কষ্ট দিবে, যে আমাকে জন্ম দিছে তারে কষ্ট দিতে পারবো না, বাবা আম্মু কে এমনি অনেক ট*র্চার করে এখন যদি শুনে আনি ওনাদের পছন্দ মেয়ে কে বিয়ে করবো না তাইলে সংসার টা শেষ হয়ে যাবে, আমি তোমার কাছে হাত জোর করে বলি এই বাধনে আমাকে জড়াবে না, আমি চাইলে পারতাম তোমাকে বিয়ে করতে কিন্তুু বিয়ে করে তোমাকে রেখে অন্য কোথাও থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না,
জীবনে কিছু না পাওয়ার কষ্ট পাইনি কিন্তুু তোমাকে না পাবার কষ্ট আমার বুকে থাকবে,
তূর্যের কথা শুনে আমি কি জবাব দিবো বুঝতে পারছিলাম না শুধু বললাম এতো রাতে কোথাও যাবেন না, ওনি আমার কথা শুনে না তাই আমি ওর টিশার্ট ধরে বললাম কয়দিন পর তো নতুন বউ নিয়ে শুয়ে থাকবেন তখন আমার কথা মনে হলে কি করবেন যার বুকে শুয়ে থাকার জন্য হাজার টা বাহানা খুঝতেন সে কি ভাবে আছে একবার কি তার খুজ নিবেন, , তূর্য কোন কথা বলে না, আমি বললাম জামা খুলে সোজা এখানে শুয়ে পরেন,
যতোই ওর উপরে রেগে যাই ততোই সে আমার কাছে চলে আসে,ওরে বললাম যে গুলো।পরে এখন বাহিরে চলে যেতে লাগলো সে গুলো খুলে শুয়ে থাকতে, সেটা না করে সব খুলে এসে শুয়ে পরছে,
আমি হাসবো না কান্না করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, ওর এমন ছেলেমানুষী দেখে আর নিজের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারি নি, যা হবার হয়ে গেছে,
সকালে গোসল করে সিফেনের জন্য আগেই খাবার রেডি করলাম, তূর্য ঘুমাচ্ছে, ওরে ডাক দেইনি আমি আর সিফিন ২ জন মিলে ওর বাবার লেপটপ নিয়ে বসলাম, আমি পারি না লেপটবপ চালাতে কিন্তু সিফিনের ধৈর্য না হয়ে সে গিয়ে তার বাবার চুলে ধরে টানতে লাগলো, তূর্য উঠে লেপটপ না দিয়ে ওর ফোন দিলো সিফিনের হাতে, সিফিন ফোন নিয়ে খেলতে লাগলো, তূর্য গোসল করে এসে আমাকে বলতে লাগলো সে বাড়ি যাবে তার মা মাকি বলছে তার বাবা জেনে গেছে সে বাংলাদেশ এসেছে,
তার বাবার কোন পরিচিত কেউ নাকি আছে ইমি*গ্রেশনে জব করে, সে খবর গুলো তার বাবা কে দেয়,
তূর্যের মন খারাপ সে বললো বাড়ি গেলে কি হয় জানিনা রেসি তুমি সিফিন কে দেখে রেখো,
তূর্য রেডি হয়ে চলে গেছে, আমি সিফিন কে বসিয়ে রেখে সিফিনের যা যা খেলনা আছে সব ওই রুমে নিয়ে রাখলাম
জানিনা কখন তূর্য এসে সিফিন কে নিয়ে যায় তাই সব গুছিয়ে রেখে দিলাম,
তূর্য বাড়ি গিয়ে আমাকে মেসেস দিলো।অনেক ঝামেলা নাকি হয়েছে বাড়িতে, তার বাবা তার মাকে নাকি বলছে তূর্য বিয়ে করেনা অন্য কোন মেয়ের চক্করে পরছে তাই, সে জন্য এই সপ্তাহে বিয়ে ডেট ফিক্সড করলো, আমি মেসেজ টা দেখে কোন উত্তর দিলাম না,
আমি বুঝতে পারলাম আমার আর সিফিনের মধে দূরত্ব টা আর মাত্র কয়েক দিনের,
ইচ্ছে করছে এখনই সিফিন কে নিয়ে দূরে কোথাও চলে
যাই, কিন্তুু আমি যে তূর্য কে ও চাই, কারন তূর্য সিফিন কে ছাড়া বা*চবে না, তাই ওর জন্য নিজের কষ্ট জমা রেখে তূর্যকে ফোন দিলাম কিন্তু সে ফোন রিসিভ করে নি, ৪ ঘন্টা পর তূর্য ভয়েস মেসেজ দিলো, রিসি কাল সকালে আমি আসবো সাথে আরেক জন আসবে যারে বিয়ে করবো সে, আমি তার কাছে সিফিনের কথা বলছি সে সিফিন কে দেখতে চাইছে, কাল সকালে আসবো তুমি একটু সিফিন কে তোমার রুমে নিয়ে নিয়ো আর আমার রুমটা তে তোমার কোন জামা কাপর রাখবা না,
ভয়েস মেসেজ টা শুনে বুঝতে পারলাম যে সে বউ কে
ভয় পাচ্ছে, আমি তো আগেই সিফিনের সব কিছু সরিয়ে নিছি এখন আমার গুলি সরিয়ে নিলাম,
সকালে ওরা আসলো, আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম দের ফিট্ হাইট হবে এমন মেয়ে কেমবে তূর্য পছন্দ করলো,
ওরা রুমে সে প্রথমে সিফিনের কাছে গেলো, সিফিন তখন খেলছিলো যখন ওর বাবা কে দেখলো তখন খেলা রেখে ওর বাবার কাছে গেলো তূর্য তখন সিফিন কে কোলে নিলো, তূর্য সিফিন কে কোলে নেওয়াতে মেয়েটি বললো এখন কোলে নিওনা, জমা ময়লা হবে আমরা আবার আরেক জায়গায় যাবো, এই কথা শুনে আমার রাগ উঠে গেলো আমি সাথে সাথে সিফিন কে আমার কোলে নিয়ে গেলাম, ,
তূর্য ওই মেয়ে কে নিয়ে তার রুমে গেলো আমি সিফিন কে নিয়ে রুমে বসে আছি রাগে গা জ্বলজ্বল করছে,
একটু পর মেয়েটা আমার কাছে আসলো একা, এসে জিজ্ঞেস করলো তুমি এখনে কতো দিন ধরে আছো, আমি বললাম ৪ বছর, মেয়েটা জিজ্ঞেস করলো এখানে তূর্য কয়বার এসেছে, আমি বললাম মনে নেই ওরে জিজ্ঞেস করেন, আমি তূর্য কে কেন ওরে জিজ্ঞেস করেন এটা বলালম এ জন্য সে রেগে গেছে, আমাকে জিজ্ঞেস করলো এসব কি ধরনের কথা, ওরে বলে কারে সেটা কি জানো, কারে কি বলতে হয় সেটা কি শিক্ষা নাওনি শুনলাম তো অনেক লেখা পড়া করছো,
তোমার কোন মাসের বেতন কি বাকি আছে, আমি বললাম না, ( মনে মনে বলতে লাগলাম আমার বেতন কতো ছিলো সেটাই ভুলে গেছি,) আবার বলতে লাগলো আর কোন টাকা পয়সা বাকি নাই তো, আমি বললাম না, সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো তূর্য লাস্ট কবে এখনে এসেছে আমি কিছু না বুঝেই বলে দিছি যে এই মাসে ২ বার এসেছে,, এটা শুনে মেয়েরা জিজ্ঞেস করলো তার সাথে কিছু হয়েছে তোমার যদি হ’য়ে থাকে তাইলে বলো পরবর্তী যেন সমস্যা না হয়, আমি বললাম কি হবে, মেয়েটা বললো ছেলে মানুষ বিয়ের আগে কতো কিছু করে যেমন টা লন্ডনে করে এখন সেই বোঝা দেশে নিয়ে এসেছে, এমন কিছু তোমার সাথে হলে বলো এখন তোমাকে চেকাপ করাবো, আবার কোন ঝামেলা চাই না,
____________________________________
চলবে
