গল্প – গোপন সংসার
পর্ব -৭
লেখক : রিহান অরণ্য
ফুপি আমার হাত থেকে ফোন নিয়ে গেছে, বাবা কে বলতে লাগলো ওর ফোনেই সব ন*ষ্ট করছে, এই বাচ্চা যে তার না সেটা শিওর বাচ্চার বয়স দেখে মনে হয় বছর হয়নি, রেসি তো ২/৩ মাস পর পর বাড়িতে আসতো, এমন কিছু হলে আমরা বুঝতে পারতাম, এটা অন্য কারো বাচ্চা , যার বাচ্চা তারে বলো যেন বাচ্চা নিয়ে যায় ওরে আর ঢাকা পাঠাবো না, ওর লেখা পড়া দরকার নাই।
এই দিকে এতো মানুষের চেচামেচি দেখে সিফিন কান্না শুরু করছে, আমি ওরে কোলে ও নিতে ও পারছি না, তাই আম্মুকে বললাম সবাই কে বলেন রুম থেকে বের হতে বাচ্চা কে দুধ খাওয়াবো এই বলে সিফিক কে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খুলে দিলে সিফিন মুখে নিয়ে নেয়। এটা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেলো, সবাই মনে করে নিলো আমার বাচ্চা এমন কি আমার মা ও বিশ্বাস করে নিছে সিফিন আমার সন্তান।
আমার মা আমাকে বললো কবে করলে এসব, তর পেটে বাচ্চা ছিলো আমরা কেন টের পাইলাম না, এখন আমি কি জবাব দিবো বুঝতে পাছিনা।এমন কিছু বলতে হবে যাতে আমাকে ঢাকা যেতে দেয়, আমি আম্মু কে বললাম তুমি আমার ফোন নিয়ে আসো তোমার জামাই ফোন দিবে।
আর ওয় ফোন দিয়ে ওর ছেলের খবর না পেলে পরে সমস্যা হবে, এই কথা গুলো আব্বু ও শুনছে, একটু পর আমার ফোন দিয়ে দিছে, আমি সিফিন কে নিয়ে রুমের দরজা লাগিয়ে বসে আছি, ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম তূর্য এখনো ফোন দেয়নি ওয় কি ওই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে নাকি কোন খবর তো দিলো না, একটু পর মা রুমে আসলো, বললো খেতে আয়, আমি সিফিন কে আমার ছোট বোনের হাতে দিয়ে খাওয়াদাওয়া করে, আবার রুমে চলে আসলাম সাথে আম্মু ও আসলো, আম্মু আমাকে বার বার জিজ্ঞেস করে বাচ্চার বাবা কই?আমি বলছি ঢাকা, মা আরো জিজ্ঞেস করলো সত্যি কি বাচ্চা তর, আমি বললাম হা মা সত্যি, আমার বাচ্চা না হলে কি আমার দুধ খায়, তখন আম্মু বললো এতোদিন গোপন করলে কেন, এর আগে যখন বাসায় আসলি তখন এক দিন থেকে চলে গেছিস এই জন্য, আমি বললাম হা, তার আগে যখন আসলে তখন তর পেটে বাচ্চা ছিলো না তো, আমি মা কে বললাম ৭ মাস আগে এসেছি তখন বাচ্চা ছিলো তোমরা বুঝতে পারোনি ( আম্মু কে মি*থ্যা বললাম ৫ মাস আগে গেছিলাম বাড়িতে কিন্তু ওনি এখন যা বলছি তাই বিশ্বাস করে নিছে,,) আম্মু শেষ জিজ্ঞেস করলো কি করবি এখন। আমি বললাম কাল সকালে ঢাকা চলে যাবো, তোমার জামাই তার ছেলেকে ছাড়া থাকতে পারে না, মা বললো ঠিক আছে তর বাবা হয়তো তর সাথে কথা বলবে না তর জন্য ছেলে দেখছে।
ছেলে সেনা*বাহিনী তে জব করে তাই তরে মি*থ্যা বলে এখানে নিয়ে এসেছে।তর বাবা যেমন সরকারি চাকরি করতো তরে ও সরকারি চাকরি করে এমন জনের সাথে বিয়ে দিবে বলে এতোদিন আসায় ছিলো।তর ফুপি এসেছে ছেলের বাড়ি যাবে তর বাবার সাথে কিন্তু সব শেষ হয়ে গেলো, তুই যে সকালে চলে যাবি এতদূরে তুই তর ছেলেকে নিয়ে কমনে কি করবে,আসার সময় না হয় তর জামাই তরে গাড়ি দিয়ে পাঠিয়েছে এখন বাসে যেতে হবে, আমি বললাম সেই টা নিয়ে টেনশন করতে হবে না, তুমি শুধু এখান থেকে বাস টার্মিনালে যাবার জন্য একটা সিএনজি ব্যবস্থা করে দিও।
সকালে মা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা রেডি করছে, আমি তার আগেই রেডি এখনো সিএনজি আসেনি তাই বসে আছি।
আম্মু মনে হয় আব্বু কে বলছে সিএনজি কে ফোন দিতে আব্বু ফোন দিছে একটু পরই সিএনজি চলে এসেছে। আমি অল্প একটু খেয়ে সিফিনকে নিয়ে আব্বু রুমে সামনে দাড়িয়ে বললাম আমাকে মাফ করে দিয়েন, আর দোয়া করবেন।
আরেকটা কথা আমি যদি মা-রা যাই তাইলে লা*শ এই ঠিকানায় আসবে তখন আর মুখ ফিরিয়ে নিয়েন না দাফন করে দিয়েন, এটা বলে ছোট বোন আর মা কে জড়িয়ে ধরে রাখলাম, মা কান্না করছে, মার কান্না দেখে আমি ও কান্না করে দিছি, আমার কান্না দেখে সিফিন ও কান্না শুরু করছে, তাই দেরি না করে সিএনজি তে উঠে চলে আসলাম বাস টার্মিনালে।
, ওখান থেকে টিকেট কেটে বাসে উঠে গেছি,সিফিনের মুখ টা মলিন হয়ে আছে, সে এই জায়গায় নতুন, মুখের ভিতরে আঙ্গুল দিয়ে চারপাশে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।
গাড়িতে বসে নেট অন করলাম তখন দেখলাম তূর্য অনেক বার কল দিছে।কিন্তু সে তো নাম্বারে কল দিতে পারতো, আমি ওরে ভয়েস মেসেজ করে দিলাম সরি ডাটা অফ ছিলো।
এমনি তে জার্নি করলে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যায় সেখানে সিফিনের কি অবস্থা।
বাসায় যেতে যেতে রাত হয়ে গেছে, বাসায় গিয়ে গরম পানি করে সিফিন কে গোসল করিয়ে দিলাম,আমি ও গোসল করে সিফিনের জন্য খাবার বানিয়ে ওরে খাওইলাম, তার পর আমি খেয়ে শুয়ে পরছি।শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগালাম সিফিন যদি আমার দুধ মুখে নিয়ে না খাওয়ার চেষ্টা করতো তাইলে হয়তো এখন বাড়িতে আ*টকে থাকতাম,, এখন কেমনে কি করবো লেখা পড়া ব*ন্ধ করবো না, যে ভাবেই হোক বাবার সপ্ন পূর্ণ করবো। সিফিন কে ঘুম পাড়িয়ে এখন আমি নিয়মিত পড়াশোনায় মন দিতে লাগলাম।
তূর্য এখন ফোন কম দিচ্ছে কারণ কি, ওয় তো এমন ছিলো না, তাই আমি ফোন দিলাম দেখি ওর ডাটা অফ।
পরের দিন সকালে ফোন দিছে তখন আমি ক্লাসে , ফোন ধরতে পারিনি, বাসায় গিয়ে কথা বলছি।ওর নাকি সিম সাসপেন্ড করে দিছিলো তাই কথা বলতে পারছিলো না এখন ঠিক আছে। আমি তূর্য কে বললাম রুম ভাড়ার টাকা দিয়ে গেছে কি করবো, ওনি বললো এটা তুমি রেখে দাও এটা তোমার আর তোমার ছেলের খরচ।আমি যেটা দিবো এটা তুমি জমিয়ে রাখবা, আমি বললাম বারবার আমার ছেলে আমার ছেলে বলে খোঁটা দিচ্ছেন, বাবা ডাক শুনতে পান নি বলে, তূর্য হাসি দিয়ে বললো হা, আমাকে এখনো ডাকেনি কেন,আমি বললাম ডাকবে ওর সামনে থাকলে।তখন দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে বললো সেই কপাল কবে হবে জানি না, এইবার কবে দেশে যাবো জানি না।
এই অবস্থায় ৪ মাস কে*টে গেছে ২ জনেই ব্যস্ত, ওর ও এক্সাম আমার ও ২ জনে এখন রাত ছাড়া তেমন কথা বলা হয় না।
অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি এখন, বাড়ি থেকে আসার পর একবার আম্মুর সাথে কথা হয়েছে।
এক দিন সন্ধ্যা সময় অচেনা নাম্বারে একটা ফোন এসেছে। ফোন টা রিসিভ করে হ্যালো বলতেই অপর পাশতে বলে উঠলো রেসি আপু,আমি জিজ্ঞেস করলাম কে, সে বললো আপু আমি তানজিলা, আমি জিজ্ঞেস করলাম কোন তানজিলা, সে বললো আপু আমি, আমাকে ভুলে গেলে, তোমার আম্মুর থেকে নাম্বার নিছি। আমি বললাম কিরে পিচ্চি এতোদিন পর কেমনে খোঁজ নিলি।আমি বাড়ি যাবার পর তো তোরা আমার কাছে আসলি না, সে বলে আপু কাছে গেছি তুমি তখন রা’গারা’গি করছিলে ফুপির সাথে। তাই চলে এসেছি ভাবছি সকালে যাবো কিন্তু তুমি সকালে চলে এসেছো।
আপু তুমি ঢাকা কোথায় থাকো, আমি বললাম তুই তো চিনবি না,সে বলে ওয় নাকি ঢাকা, তার নানু কে নিয়ে মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এসেছে।আমাকে জিজ্ঞেস করে হাসপাতাল থেকে কতো দূরে থাকি। আমি বললাম তুই ১০ মিনিট অপেক্ষা কর আমি আসতেছি।
তানজিলা আমার চাচাতো বোন, আমি ঢাকা আসার আগে বাড়িতে ওদের সাথেই আড্ডা দিতাম, ওরা আমার ছোট তার পর ও ওরাই আমার আপন জন ছিলো।
আমি সিফিন কে ভাবির কাছে রেখে বের হলাম।রিকশা নিয়ে, হাসপাতালে গিয়ে ফোন দিলাম ওরা আসলো, সাথে আমার চাচি ও ছিলো বাড়ির মানুষ পেয়ে আমি অনেক খুশি।কাকি কে জিজ্ঞেস করলাম এখানে কয়দিন থাকতে হবে ওনি বললো এখনো জানে না, সাথে তানজিলার মামা মামি ও এসেছে, ওনারা ঢাকাই থাকে, আমি কাকি কে জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কই থাকবেন?তানজিলার মামা বললো এখোনো ঠিক করি নাই আমাদের বাসায় থাকতে পারে কিন্তু একটু দূরে হয়ে যায় ভাবছি এখানে কোথাও থাকার ব্যবস্থা করবো,আমি বললাম কাকি কে আর তানজিলা কে আমার সাথে নিয়ে যাই।
মামা বললো তাইলে ভালো হয়, কাছেই যেহেতু তাইলে আপা তুমি রেশির বাসায় থাকো।
আমি কাকি কে নিয়ে বাসায় আসলাম আমার রুমে জায়গায় করে দিলাম বললাম কাকি আপনার যতোদিন ইচ্ছে থাকতে পারেন, আর তানজিলা তর দুলাভাই বাসায় নাই আসতে দেরি হবে তুই আমার সাথে ওই রুমে থাকবি, কাকি আমাকে জিজ্ঞেস করলো তর জামাই কে কি দেখাবি না নাকি আমি বললাম ওয় তো ঢাকার বাহিরে আসলে দেখাতে পারতাম।
ওদের কে আমার রুম দিয়ে দিলাম।মাঝে মধ্যে তানজিলার মামি ও আসে যখন হাসপাতালে কাজ থাকে।
ওদের কে পেয়ে মনে হলো আমি আমার পরিবার পেয়েছি।
তাদের সাথে কথা বললেই মন ভালো হয়ে যায়।
রাতে তূর্য ফোন দিছে, বলতেছে এক সপ্তাহ ছুটি আছে আমি কি আসবো, আর আসলে ও বাড়িতে না তোমার ছেলের জন্য আসবো যদি আসতে বলো, আমি বললাম আসেন সিফিন কে সময় দিযে যান, তূর্য বললো তাইলে টিকেট রেডি করে ফেললাম, কালকেই চলে যেতে পারবো, আমি বললাম ঠিক আছে আসেন।
ফোনটা রেখে ভাবতে লাগলাম এখন সিফিনের আব্বু আসলে ওনাকে কই রাখবো আর আমি কই থাকবো। ওনার বাসা ওনার সব কিছু ওনাকেই না করি কেমনে! ওনি আসলে আবার এক রুমে থাকা লাগবে একটু ১৯/২০ হলেই ওরা বুঝে ফেলবে তাই তূর্য আসলে ওর সাথে একটু অভিনয় করতে হবে জামাই বউ এর, না হয় কাকি বাড়ি গিয়ে সব বলে দিবে।
পরের দিন রাত ১১ টার দিকে সে আসলো আমি আগেই ভয়েজ মেসেজ করে দিছি যে এয়ারপোর্টে যাবো না, তাই তূর্য অপেক্ষা না করে সোজা বাসায় চলে এসেছে। সাথে একজন মেয়ে ছিলো, এই প্রথম কোন মেয়েকে দেখলাম তূর্যের সাথে, রুমে এসে বললো রেশি ওর বাড়ি সিলেট আমাদের সাথে ফ্লাইটে এসেছে কাল কে সে তার বাড়ি চলে যাবে। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না, শুধু বললাম ঠিক আছে আপনারা ফ্রেস হয়ে আসেন খাবার খেতে দিচ্ছি।ভাগ্য ভালো তানজিলা কাকি ওরা ওই রুমে, ওরা কেউ দেখেনি।
আমি খাবার রেডি করে দিলাম ওনাদের ওরা খাবার খেয়ে সিফিনকে তার বাবা কোলে নিছে মেয়েটা খাটের এক কোনায় বসে আছে, সিফিন এখন রাতে তারাতারি ঘুমিয়ে যায়,তার বাবা আসবে তাই ওরে ঘুম পারানো হয়নি এখন আমি সিফিনকে কোলে নিয়ে ঘুম পরাচ্ছি। তূর্য বললো ওরে নিয়ে তুমি ওই রুমে চলে যাও সে তোমার সাথে থাকুক কাল সকালে চলে যাবে, আমি বললাম না সে আপনার সাথে থাকুক আমি সিফিন কে নিয়ে ওই রুমে চলে যাবো, আর ওই রুমে জায়গা নেই মেহমান এসেছে।তূর্য বললো তাইলে এখন কি করবো,আমি বললাম আমি ওই রুমে থাকবো আপনরা এখানে থাকেন, মেয়েটা আপনার সাথে ঘুমানোর জন্য খাটে উঠে বসে আছে। আমার এই কথা শুনে বললো আস্তে বলো শুনে ফেলবে,আমি বললাম ঠিক আছে দরজা লাগিয়ে দেন আমি চলে গেলাম সিফিন ঘুমিয়ে গেছে।এই বলে আমি সিফিন কে নিয়ে বাহিরে চলে আসলাম, এখন কি করবো আমি সিফিন কে নিয়ে কই যাবো কাকিরা ওই রুমে ঘুমাচ্ছে ওনারা জানে আজকে তূর্য আসবে, আমি তার সাথেই থাকবো।
এখন ওদের সাথে ঘুমাতে গেলে বাড়িতে গিয়ে বলে দিবে।
আর সিফিন কে নিয়ে তো বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না,
অনেক চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম ভাড়াটিয়া ভাবির কাছে যাবো ছোট হলে ওনাদের কাছে ছোট হবো, দরজার কাছে গিয়ে ডাক দিলাম ভাবি দরজা খুললো, আমি ভাবি কে সব কিছু বললাম সে তার হাসবেন্ড কে বলে খাঠের নিচে বিছানা করে নিলো, আমাকে উপরে থাকতে দিলো আমি বললাম না উপরে না সিফিন যদি পিশু করে তাইলে সমস্যা আমি নিচেই শুয়ে থাকি।
তাদের কে উপরে রেখে আমি সিফিন কে নিয়ে নিচে শুয়ে পরলাম।
চলবে
