Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"গোলকধাঁধাগোলকধাঁধা পর্ব-১৬ এবং শেষ পর্ব

গোলকধাঁধা পর্ব-১৬ এবং শেষ পর্ব

#গোলকধাঁধা
#লেখনীতে -ইসরাত জাহান ফারিয়া
#পর্ব-(অন্তিম)

কিছু কথা মুখে বলতে হয় না। মুখ দেখে বা অপর মানুষটির আচরণেই বোঝা যায়। প্রত্যয়ও দরজায় দাঁড়িয়ে সেরকম সিরাতকে দেখছে, ওর মন পড়ার
চেষ্টা করছে। মুখফুটে না বললেও প্রত্যয় জানে সিরাতের রাগটাগ সব গলে পানি! ও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল আঁচড়ানো সিরাতের দিকে এগিয়ে গিয়ে তোয়ালে দিয়ে চুলগুলো মুছে দিতে দিতে বলল,
‘রাত জেগো না। শুয়ে পড়ো।’
সিরাত ছোট্ট করে বলল,
‘আপনিও।’
‘রাগ কমেছে?’
ভালোবাসার মানুষটি যখন নিজের মনোভাব প্রকাশ করে ফেলে, বারবার ছুটে আসে তখন মনে সৃষ্টি হয় চঞ্চলতা, উদ্বিগ্নতা। হৃদয় হয়ে ওঠে ব্যাকুল। মান-অভিমানের পাল্লা তখন চাইলেও আর দীর্ঘ করা যায় না। সিরাত দু’পাশে মাথা নাড়লো,
‘হুঁ।’
প্রত্যয় এবার ভাবুক হলো। তার বউয়ের মুড সুইংটা
সে ঠিকঠাক বুঝে ওঠতে পারছে না। তবুও বুকের ভেতর সে এক অদ্ভুত প্রশান্তি! ছোটখাটো দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে নিজের নাক ঘঁষলো সিরাতের নাকে। অস্ফুটস্বরে বলল,
‘যাক অবশেষে এই অধম নিস্তার পেলো তবে।’

________________________

এরমধ্যে কেটে গেলো কয়েক মাস!
আজ বসন্তের প্রথম দিন। ফাল্গুনী হাওয়া গায়ে
লাগিয়ে গাছগাছালি সেজেছে নতুন সাজে। সেইসাথে আনন্দের সাথে বসন্তকে বরণ করছে সকলে। প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছিলো তার ভার্সিটি প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য! সিরাত তাকে সাজিয়ে দিচ্ছে। তার ভারী শরীর। পেট আগের থেকে কিছুটা উঁচু হয়েছে। হাঁটাচলা করতে হয় সাবধানে। এরমধ্যে একগ্লাস পানি খেলো সিরাত। কিন্তু পানিটা খাওয়ার কিছু মুহূর্ত পরই কেমন অদ্ভুত এক যন্ত্রণা অনুভব করলো। তেমন একটা পাত্তা দিলো না। সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দিলো প্রত্যাশাকে। কুচি ঠিক করে দেওয়ার জন্য খানিকটা ঝুঁকতেই যন্ত্রণাটা আচমকাই প্রকট হয়ে গেলো। মৃদু চিৎকার দিয়ে নেতিয়ে পড়তে নিলেই প্রত্যাশা ধরে ফেললো। চেঁচিয়ে মা’কে ডাকলো৷ মুশফিকা চৌধুরী হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন। খানিকটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে দ্রুত স্বামী-ছেলেকে ফোন করলেন। এরপর ড্রাইভারকে বললেন গাড়ি বের করতে।

প্রত্যয় গুরুত্বপূর্ণ এক সমাবেশে যোগ দিতে মাহিনকে নিয়ে শহরের বাইরে তখন! ফোন ছিলো মাহিনের কাছে, রিসিভও করলো সে। ঘটনা শুনে তড়িঘড়ি
করে খবরটা দিতেই প্রত্যয় বিস্ময়ের সীমা রইলো না। আজই হতে হলো এসব কান্ড? সমাবেশের আয়োজকদের ব্যাপারটা বুঝিয়ে সেখান থেকে একভাবে বেরিয়ে এলো ওরা। এদিকে গাড়িতে বসেই প্রচন্ড ঘামতে শুরু করলো, উদ্বিগ্ন হয়ে বারবার ঘড়ি দেখছে প্রত্যয়। এত বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কখনো কোনো সমস্যায় এহেন দুর্বল প্রত্যয়কে কখনো দেখেনি মাহিন। রাস্তায় তখন ভীষণ যানজট।
গাড়ি আগানো যাচ্ছে না।বিরক্তিতে তেতো হয়ে
ওঠলো মন। ট্রাফিক পুলিশের থেকে জানা গেলো এ যানজট ছুটতে ঘন্টা লেগে যাবে। উত্তেজনা, চিন্তার মধ্যেই ফোন এলো প্রত্যয়ের,
মাহিন সেটা রিসিভ করলো। এরপর কলটা
কেটে প্রত্যয়ের দিকে পানির বোতল এগিয়ে
দিতে দিতে ঢোক গিলে বলল,
‘ভাই, আমাদের ভাতিজি মানে আপনের
মাইয়া হইসে।’
প্রত্যয় বেমালুম পানি খাওয়া ভুলে অবিশ্বাস্য
দৃষ্টিতে মাহিনকে দেখলো। গলা ধরে এলো ওর। কোনোমতে বলল,
‘যানজট কি ছাড়বে না? চল হেঁটে চলে যাই।’
মাহিন বলল,
‘হেঁটে গেলেও কয়েক ঘন্টা ভাই। আর একটু অপেক্ষা করে দেখি, নয়তো অন্য চিন্তা করা যাবে।’
প্রত্যয় আরকিছু ভাবতে পারলোনা!

_____________

আমির সাহেবের আত্মীয়স্বজন বেশি। কিছু একটা হলেই দলবেঁধে সকলে ছুটে আসে কি হয়েছে না হয়েছে দেখতে! কিন্তু অনাগত নাতিনাতনি আসার খবরটি তিনি এখনি সবাইকে জানালেন না। শহরের সবচেয়ে বড় এই প্রাইভেট হসপিটালটি বড্ড আধুনিক। এখানে পেশেন্টদের স্বার্থেই জনসমাগম কম রাখার নির্দেশ আছে। সেজন্য আমির সাহেব শুধুমাত্র নিজের আর সিরাতের পরিবার ব্যতীত কাউকেই ডাকেন নি। মুশফিকা চৌধুরী করিডোরের ওয়েটিং রুমে বসে মিনারার সাথে কথা চিন্তিত মুখ করে বসে আছেন। কি হয় না হয়, কে জানে! তবে সকলের একটাই চাওয়া
মা-বাচ্চা যাতে ঠিক থাকে। একটু পরই একজন নার্স এলেন আকাঙ্ক্ষিত শিশুটিকে নিয়ে। মুশফিকা চৌধুরীর চোখেমুখে জল, ঠোঁটে উপচে পড়া হাসি। গদগদ ভঙ্গিতে আমির সাহেব আর শিমুল সাহেব কোলাকুলি করলেন। তোয়ালেতে মুড়িয়ে থাকা শিশুটিকে দেখে দুই পরিবারের সকলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সকলের চোখেমুখে উপচে পড়া আনন্দ! এর কোলে, ওর কোলে নিতে নিতে কন্যা শিশুটি দেখতে কার মতো হয়েছে তা নিয়েই চলছে আলোচনা, গবেষণা, হাসিঠাট্টা! সকলের আদর করা শেষ হলে প্রত্যাশা কোলে নিলো। কোলাহলে একপ্রকার বিরক্ত হয়েই একটুখানি মনোযোগ দিয়ে বাচ্চাটিকে দেখার আশায় প্রত্যাশা ওয়েটিং রুম থেকে বেরিয়ে করিডোরে চলে এলো। বসার জায়গা ফাঁকা পেয়ে বসে মুগ্ধ দৃষ্টিতে ভাতিজিকে দেখলো। চুমু খেলো হাতে-পায়ে, চোখে-মুখে। বরাবরই বাচ্চা তার ভীষণ পছন্দের! অমনি পেছন থেকে পুরুষালি কন্ঠস্বর ভেসে এলো,
‘একি! নিউ বর্ন বেবি আপনার কাছে কেন? কি
সব ডিজগাস্টিং কাজকর্ম করছেন? নূন্যতম
সেন্স নেই?’
প্রত্যাশা ভয় পেয়ে কেঁপে ওঠলেও নিজেকে
সামলে নিয়ে বলল,
‘কি করেছি?’
ডাক্তারটি রাগী সুরে বলল,
‘আপনার গবেট মাথায় এসব ঢুকবে না।’
‘মানে?’
ডাক্তারটি ওকে তেমন পাত্তাই দিলো না। যেন ভীষণ বিরক্ত ওর ওপর! হাঁকডাক ছাড়তেই দু’জন
নার্স ছুটে এলো। ডাক্তার শাফায়াত প্রচন্ড জোরে
ধমকে ওঠলেন,
‘কোথায় ছিলেন? নিউ বর্ন বেবি এতক্ষণ যাবৎ এখানে আর আপনারা কি করছিলেন? নিজের দায়িত্ব ভুলে গেলে মনে না পড়া পর্যন্ত কাজে যোগ দেবেন না৷
ওকে? আপনাদের জন্য হসপিটালের দুর্নাম হচ্ছে দিনদিন।’
নার্সরা ধমক শুনে কেঁপে ওঠলো। নিজেদের গাফিলতির জন্য মাথা নিচু করে রইলো। ক্ষমা চেয়ে প্রত্যাশার কোল থেকে বাচ্চাটিকে নিয়ে দ্রুত বেবি কেয়ারে নিয়ে গেলো। ডাক্তার শাখাওয়াত সেদিকে তাকিয়ে ফিরতেই দেখলেন বাসন্তী রঙের শাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা মানবীটির দিকে। তার দিকে কেমন
রাগ নিয়ে তাকিয়ে আছে। মানবীটি কটমট করে ওর মুখের ওপর বলে দিলো,
‘রাস্কেল ডাক্তার!’
বলে চলে যেতে উদ্যত হতেই পেছন থেকে
শাখাওয়াত বলল,
‘এক্সমিউজ মি, কথাটা কি আমাকে বললেন?’
‘হু, আপনাকেই মিস্টার।’
‘কারণটা কি?’
‘বলতে বাধ্য নই।’
শাফায়াত চোয়াল শক্ত করে এগিয়ে এলো। স্টেথোস্কোপটা হাতে নিয়ে জোর গলায় বলল,
‘কথাটা যেহেতু আমাকে বলেছেন তাহলে আপনি অবশ্যই বাধ্য। কারণ না দর্শিয়ে আপনি এখান থেকে যেতে পারবেন না।’
প্রত্যাশা নিজের চোখের চশমাটা ঠেলে নিলো। খোলা চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অকপটে প্রশ্ন ছুঁড়লো,
‘কারণ দর্শাবো না। কি করবেন আপনি?’
ডাক্তার শাখাওয়াত আচমকা উচ্চস্বরে হেসে
ফেললেন। এরপর আচমকা থেমে গিয়ে নিচু
গলায় বললেন,
‘না আর কারণ দর্শিয়ে লাভ নেই। আপনি যেতে পারেন।’
প্রত্যাশার রাগে গা জ্বলছে ডাক্তারটার একটু
আগের করা ব্যবহারে। শক্ত গলায় তাই বলল,
‘মেয়েমানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন।
আপনি উচ্চপদে আছেন বলে নিচু পদস্থদের
অসম্মান করবেন সেটা কোনো শিক্ষিতদের মধ্যে
পড়ে না।’
বলে চলে এলো। আসার পথে পেছন তাকাতেই দেখলো ডাক্তারটি করিডোরের দেয়াল ঘেঁষে
দাঁড়িয়ে ওর যাওয়া দেখছে। ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি। প্রত্যাশার কাছে হাসিটা বেশ রহস্যময়
ঠেকলো৷ করিডোর পেরিয়ে নিচের ক্যান্টিনে নামতেই দেখলো বাইরের বড় স্ক্রিনে তখনকার খটোমটো ডাক্তারটির হাস্যোজ্জ্বল চেহারা , নাম, পরিচয় দেখাচ্ছে। ও বিরক্ত হয়ে সেখান থেকে চলে এলো,
এই লোকের চেহারা সে দেখতে চায় না। ব্যাগে ফোন বাজছে। প্রত্যাশা ধরলো না। বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানে
সব বান্ধবীরা একসাথে ঘুরবে বলে
ঠিক করেছিলো। কিন্তু ভাবির এই অবস্থা আর
ভাইঝির প্রতি অসীম মমতা ছেড়ে প্রত্যাশা কোথাও যেতে রাজি না। বসন্তের এই উষ্ণ দিনে এতবড় উপহার ওর সব আনন্দ যেন বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে!

____________

হসপিটালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা সাতটা
বেজে গেলো প্রত্যয়ের। ছোট্ট তোয়ালেতে মোড়া
শিশুটি হাত-পা নেড়ে চিৎকার করে কাঁদছে। পুরো পৃথিবীকে জানান দিচ্ছে যেন তার আগমন। প্রত্যয়কে দেখেই মুশফিকা চৌধুরী পুত্রকে কাছে ডাকলেন। এগিয়ে ধরলেন নাতনিকে। কম্পিত হাতে বাচ্চাটিকে কোলে নিতেই কেমন কেঁপে ওঠলো প্রত্যয়। এক
অদ্ভুত অনুভূতিতে হৃদযন্ত্রটা থমকে গেছে যেন।
মেয়েটা কার মতো দেখতে হয়েছে সেটা ঠিক বুঝতে পারছে না। নিজের মতো নাকি সিরাতের মতো? মুশফিকা চৌধুরীছেলেকে বললেন নাতনি তার
ছেলের মতোই হয়েছে! প্রত্যয় শুনে ভ্রু কুঁচকালো,
মেয়ে মায়ের মতো হলেই তো ভালো ছিলো! দুটোকে দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যেতো! প্রত্যাশা এসে ছোট্ট তোয়ালেতে মুড়ানো বাচ্চাটাকে ছো মেরে নিয়ে
নার্সের কোলে দিয়ে ভাইকে বলল,
‘ভাইয়া, তুমি গিয়ে বেডে শুয়ে থাকো। হার্ট-অ্যাটাক করে ফেলবে মনে হয়।’
প্রত্যয় চোখ রাঙালো বোনকে। কিন্তু এরপরই মেয়ের দিকে তাকাতেই নিজেকে শান্ত করে নিলো সে। বাবা হয়ে গেছে সে৷ এখন আর আগের মতো কিছু করা
যাবে না। নিজেকে সংযত করে প্রত্যয় ঢোক গিলে বলল,
‘সিরাতের অবস্থা কী? সুস্থ তো?’
‘সি-সেকশনের প্রয়োজন হয়নি, কালকেই বাড়ি
যেতে পারবে।’
প্রত্যয় ত্রস্ত পায়ে কেবিনের দিকে এগিয়ে গেলো। মৃদু আলোয় দেখলো সিরাত ঘুমিয়ে। চোখেমুখে ক্লান্তি লেপ্টে আছে। প্রত্যয় ওর মাথার কাছে টুল টেনে গিয়ে বসলো। চুমু খেলো ঘুমন্ত চোখের পাতায়! নড়েচড়ে ওঠে চোখ খুললো সিরাত। ওকে চোখের সামনে দেখেই তখুনি কেঁদে ওঠলো,
‘এতদিন তো বাচ্চাকে প্রথম আপনি কোলে নেবেন
বলে কত নাটকই না করলেন! আর আজ এতক্ষণে আপনার আসার সময় হয়েছে? বাচ্চার বয়স তো আট ঘন্টা পেরিয়ে গেলো! সবাই কোলে নিয়েছে, আপনি ছাড়া!’
প্রত্যয় ওর অভিযোগ শুনে হেসে ফেললো,
‘ফার্স্ট হতে গিয়ে লাস্ট হয়েছি। আফসোসটা রয়েই গেলো। যাইহোক, পরেরবার আর ভুল হবে না….’
প্রত্যয় চোখ টিপলো। সিরাত ক্ষুদ্ধ নয়নে
তাকাতেই বলল,
‘আমাকে বাবা বানিয়ে দেওয়ার জন্য এক
আকাশ ভালোবাসা মানবতার মাতা!’
সিরাতের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠলো! তখনি কেবিনের দরজার ফাঁক দিয়ে গাল ফুলিয়ে
তাকিয়ে থাকা সোহাকে দেখা গেলো। প্রত্যয় গিয়ে
ওকে কোলে তুলে নিতেই দেখলো বাচ্চাটার গাল ভেজা। অবাক হয়ে সে প্রশ্ন করলো,
‘কে বকেছে?’
সোহা দু-হাত দিয়ে চোখ মুছে বলল,
‘কেউ না।’
সিরাত হয়তো ওর মনোভাব বুঝতে পারলো। সেজন্য কাছে ডেকে বলল,
‘মায়ের কাছে আসো।’
সোহা এবার কেঁদে ফুঁপিয়ে ওঠল,
‘তোমাল বাবু আচে৷ আমাকে আদল কলবে না আর। তাইনা? আমি জানি!’
প্রত্যয় ওর গালে চুমু খেলো,
‘সবার আগে সোহাবাচ্চা আদর পাবে, এরপর বাকিসবাই? ঠিক আছে সোনা?’
সিরাতও হেসে ওকে নিজের কাছে বসিয়ে
মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
‘ওটা তো বোন হয় তোমার। বোন তোমার আদর চায়, ভালোবাসা চায়। দিবে না তুমি?’
সোহা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। এরপর গালে হাত রেখে ভাবুক গলায় বলল,
‘দিবো। তোমলা আমাকে আদল দিলে আমি বুনকে আদল দিবো। টিক আছে?’
সিরাত আর প্রত্যয় একসাথে হেসে ফেললো,
‘জো হুকুম!’

________________

রাত এগারো টা। প্রত্যয় ঘরে এসে দেখলো
সিরাতের দু-পাশে তার দু’মেয়ে ঘুমাচ্ছে। তিনজনের ঘুমন্ত চেহারাই নিষ্পাপ! সোহা এখন এখানেই
থাকে। প্রত্যয়ই নিয়ে এসেছে ওকে।
মৃদু হলদেটে আলোয় বেশ সুন্দর দেখাচ্ছিলো। কিছুক্ষণ মুগ্ধ দৃষ্টিতে দৃশ্যটুকু অবলোকন করার পর প্রত্যয়ের হঠাৎ মন বিষন্ন হয়ে গেলো। এই দুই মেয়ের চক্করে বউকে সে কাছে পায় না। তবে আজ এক বুদ্ধি খেলে গেলো মাথায়। দুই মেয়েকে একপাশে সরিয়ে দিলো সাবধানে। এরপর নিজে এসে শুয়ে পড়লো বউয়ের পাশে। পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘোর লাগা কন্ঠে বলল,
‘এতদিনে আমার ঘরটা পূর্ণ হলো।’
সিরাত ওঠে গেলো। প্রত্যয়ের কান্ড দেখে
হতবাক হয়ে বলল,
‘বোধবুদ্ধি লোপ পেয়েছে? আপনি এখানে কি করেন?’
প্রত্যয় অভিমানী গলায় বলল,
‘পেয়েছে। আমাকে সবসময় দূরে রাখো কেন?
ওদের মতো আমিও তোমায় বুকে নিয়ে ঘুমাতে চাই, বুঝো না কেন?’
সিরাত কটাক্ষ করে বলল,
‘বুইড়া বয়সে ভিমরতি ধরেছে নাকি? সরুন তো! ছোটটার ঘুম ভাঙলে শেষ! চিৎকার করে বাড়ি মাথায় করবে!’
প্রত্যয় শুনেই শক্ত করে ওকে জাপ্টে ধরলো,
‘করুক। আমিও আজ তোমাকে নিয়েই ঘুমাবো।’
‘আরে কি বাচ্চামো শুরু করেছেন?’
প্রত্যয় অন্যরকম স্বরে বলল,
‘স্বামীর জন্য দয়ামায়া নেই? অভুক্ত, তৃষ্ণার্ত,
পিপার্সাত, পানিপ্রার্থী আমি। একটু তো বুঝো। কাছে আসো মেয়ে!’
সিরাত লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। ওর মুখ চেপে
ধরে কম্পিত কণ্ঠে শুধালো,
‘বাচ্চাগুলো ওঠে যাবে।’
‘ওঠবে না।’
প্রত্যয় নিচু কন্ঠে বলতেই লাজুকলতা মুখ
গুঁজলো ওর বুকে। কেঁপে ওঠে হৃদযন্ত্র, নিঃশ্বাসের গাঢ় অনুভূতি মিলিয়ে যায় নিঃস্তব্ধ রাত্রিতে!
এরপর, এরপর! সীমাহীন প্রেম আর ভালোবাসায় কেটে যেতে লাগলো সময়, দিন, মাস, বছর!

[ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।]

_______সমাপ্ত___

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ