Friday, June 5, 2026







দৃষ্টির_সীমানা পর্ব_০১

দৃষ্টির_সীমানা
পর্ব_০১
#লিখা জান্নাতুল ফেরদৌস
বাসার পিছনের বাগানটায় এসে বাগানের ফুলগুলো দেখছি।এই ফুলগাছগুলো একসময় আমি শখ করে নিজের হাতে লাগিয়েছিলাম।বাগানে ফুল গাছ লাগানো আমার শখের মধ্যে পড়ে।তাই যে ফুলগুলো আমার খুব ভালো লাগে সে ফুলের গাছগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংরক্ষণ করে আমি লাগাই।এরপর প্রতি সকালে ঘুম থেকে উঠে বাগানটায় হেঁটে হেঁটে ফুলগাছের যত্ন নেই।এখন ফুলে ফুলে বাগানটা ভরে আছে।খুব ইচ্ছে করছে নিজের পুরো বাগানটায় হেঁটে হেঁটে ফুলগুলো নিজ হাতে ছুঁয়ে দেই।কয়েকমাস আগেও আমি সেটা করতে পারতাম কিন্তু এখন তা আমার বাস্তবতার বাইরে।

বর্তমানে আমি মেঘ হুইল চেয়ারে চুপটি মেরে বসে আছি আর ফুলগুলো দেখছি।শুক্রবার দিনটায় পঙ্গু মানুষ হিসেবে আর কিই বা করতে পারি আমি।
.
.
-“উহুম উহুম,”
– “কে……”(ভয়ার্ত গলায়)।

কারোর গলার আওয়াজ শুনে মেঘ মাথাটা সামনে এনে দেখে একটা সুদর্শন ছেলে ওর হুইল চেয়ারের কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে।
-“আমাদের বাসার বাগানে হঠাৎ করে একটা অজানা অচেনা ছেলে কিভাবে ঢুকে গেল আশ্চর্য! চোর বা ডাকাত নয়তো।কিন্তু এই ছেলেকে দেখে তো তা মনে হচ্ছে না।ভদ্র ঘরের ছেলেই মনে হচ্ছে তাহলে!না না,,কাউকে এখন বিশ্বাস করা যায় না। এইরকম অচেনা অজানা একটা ছেলে ওদের বাড়িতে হুট করে ঢুকে পড়েছে নিশ্চয় খারাপ কোন মতলব আছে।আচ্ছা মা বাবা কি একে বাসায় আসতে দেখিনি!যদি দেখত তাহলেতো এতক্ষণে আমার সাথে উনার পরিচয় করিয়ে দিত।কি হচ্ছে এইসব!
মাথাটা ঘুরছে আর ভয় হচ্ছে।
.
.

-“এই যে মিস কোথায় হারিয়ে গেলেন!Are u ok?”
-“হ্যা…………এ…..এ…….।ভাইয়া কে…..আপনি!আমাদের বাসায় এলেন কি করে…….?কি চাই আপনার……..?”
-“ও ম্যাডাম…..আমাকে দেখে এত ভয় পাচ্ছেন কেন?আমার ড্রেস আপ, গেট আপ এভরিথিং ইজ ওকে।তারপরও আমাকে দেখে এত ভয় পাওয়ার কি হল বুঝলাম না। আর শুনোন আমাকে ভাইয়া না ডাকলেই খুশি হব।কারণ কয়েকদিন পর আপনার সাথে আমার…….।যাই হোক আমাকে দেখে এত ভয় পাবেন না।নরমাল হোন একটু।”

মাথাটা হালকা দুলিয়ে মেঘ লোকটার কথায় সম্মতি জানালো।
-“এইতো গুড গার্ল।”
মেঘ হা হয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে।কারণ লোকটা খুব সুন্দর করে কথা বলে।এইরকম লোকের হঠাৎ করে ওদের বাসায় আসার কারণটা মেঘ ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারল না।মনের কথাটা বাইরে এনে মেঘ লোকটাকে জিজ্ঞাস করল,
-“আচ্ছা তাহলে আপনি কে?আমাদের বাসায় আসলেন কেমন করে?আপনাকে আমার মা বাবা দেখে নি?আর দেখলেও আপনাকে কিছু বলেনি তা কি কেমন করে সম্ভব?আচ্ছা আপনি আমাদের বাসার ভিতর দিয়ে আসার সময় কিছু চুরি টুরি করেননি তো?হাত দেখিতো আপনার?নিশ্চয় আপনার হাতের পিছনে আমাদের ঘরের দামি জিনিস আছে সেটা চুরি করেছেন বলে পিছনের দিকে আপনার হাতটা লুকিয়ে রেখেছেন তাই না?আমি “সাবধান ইন্ডিয়া” তে দেখেছি যারা কারোর ঘরে চুরি বা ডাকাতি করতে আসে তারা খুব স্মার্ট আর ভালো পোশাক পড়ে আসে।এদের দেখে বুঝাই যায় না এরা চুরি, ডাকাতি করতে এসেছে!এদের উদ্দেশ্য আবার অনেকে ধরে ফেলতে পারলে এরা ঘরের মানুষদের মেরে ফেলে ঘরের সব কিছু নিয়ে চলে যায়। আপনিও ঠিক তাদের দলে তাই না?”(কান্না করতে করতে)
-“এই বোকা মেয়ে এইভাবে কেন কান্না করছ?কান্না থামাও বলছি।”
-“……………..”
যাহ্ বাবা এই মেয়ে তো কান্নায় থামাচ্ছে না?রাগটা এখন প্রচণ্ড উঠে যাচ্ছে।
-“এই মেয়ে চুপ….. একদম চুপ।তোমার কান্না থামাও।”(রাগী কণ্ঠে)
.
.
লোকটার রাগী গলার আওয়াজ পেয়েই মেঘ সাথে সাথে কান্না থামিয়ে দিল।কিন্তু একটু আগের কান্নার কারণে এখন সে একটু পর পর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে উঠছে।

-“এই নাও রুমাল।চোখের পানিগুলো মুছ।”
-“……………”
-“কি ব্যাপার রুমালটা নিতে বললাম না।নাও রুমালটা।”
লোকটার আবারো সেই রাগি কণ্ঠের গলার আওয়াজ শুনে মেঘ ভয়ে তাড়াতাড়ি রুমালটা নিয়ে নিল।

-“সরি,”
-“………….”
-“আসলে এইভাবে কাউকে কাঁদতে দেখলে আমি সহ্য করতে পারিনা।তাই কাউকে কাঁদতে দেখলেই আমার হঠাৎ করে রাগ উঠে যায়।”
-“…………..”
-“সরি বললামতো।By the way…আমি তন্ময়……..।”

লোকটার নাম শুনে মেঘ এবার নিচু মাথাটা উঁচু করল।
-“আর তুমি হচ্ছ মেঘ।”

লোকটার মুখে মেঘ নিজের নাম শুনে একটু চমকে উঠল। এই লোকটা তার নাম কি করে জানলো!
.
.

-“আপনি আমার নাম কি করে জানলেন!”
-“তোমার মেঘবরণ কালো চুল দেখে।”
কথাটা বলেই তন্ময় মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।
-“আমি কিন্তু খুব সিরিয়াস একটা প্রশ্ন করছি।মজা করবেন না আমার সাথে।!
-“আরে……বলছি বলছি।এত হাইপার হবেন না।একটু আগে এত্তগুলো প্রশ্ন একসাথে যে করলেন সেটা শুনে বুঝতে পারছি না কোনটা ফেলে কোনটার উত্তর আমি দিব।”
.
.
মেঘ আর তন্ময়ের কথার মাঝখানেই হঠাৎ করে মেঘের মা ঢুকে গেলেন।
-“কিরে মেঘ পরিচয় হল তন্ময়ের সাথে।”
-“মা উনি কে?আমাদের বাসায় কি করছেন?”

মেয়ের কথা শুনে মেঘের মা কিছুটা লজ্জা পেলেন।হঠাৎ করে পাত্রের সামনে এইরকম প্রশ্ন তার মেয়ে যে করতে পারে সেটা তার মাথায় আসেনি।তিনি মেয়ের কানের কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে বললেন,,
-“মারে পাত্রপক্ষ তোকে দেখতে বাসায় এসেছে।ছেলে তোর সাথে কথা বলবে তাই এইখানে চলে আসছে।আর উল্টাপাল্টা বকিস না মা।তুই না আমার লক্ষ্মী মা।”

মায়ের এই কথা শুনে মেঘের মুখটা ছোট হয়ে গেল।আজকে যে মেঘকে দেখতে পাত্রপক্ষ আসছে সেটা ওকে কেউ জানাই নি।জানালে হয়ত মাকে একটু আগে করা অদ্ভূত প্রশ্নটা মেঘ কিছুতেই করতনা।তাকে দেখতে ছেলে নিজে এখানে চলে আসছে।কথাটা বেশ হাস্যকর।মেয়ে পঙ্গু শুনে এখন পাত্রপক্ষ বাসায় আসে না আর এই লোক তার মা বাবাকে বাসার ভিতরে বসিয়ে এসে বাগানে চলে আসছে তার সাথে কথা বলার জন্য!সত্যিই কথাটা শুনে মেঘের হাসি পাচ্ছে।
-“আচ্ছা বাবা মেঘের সাথে কথা বল।কথা বলা শেষ হয়ে হয়ে গেলে ভিতরে চলে এসো।”
-“জ্বী আন্টি।”
.
.
পাত্রপক্ষ তাকে দেখতে আসছে এই বিষয়টা নিয়ে ভাবতেই মেঘ কিছুটা অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ল।তাই তন্ময় নামের লোকটা যে এতক্ষণ ধরে মেঘকে ডেকেই চলেছে তা তার কানে ঢুকেনি।

আর এদিকে তন্ময়ের ডাকে মেঘ সাড়া না দেওয়ায় মেঘের হুইল চেয়ারের নিচে যে ঝুড়ি আছে তার মধ্যে থাকা শিউলি ফুলগুলো মেঘের দিকে তন্ময় ছুড়ে মারল।

তন্ময়ের এই ধরণের অদ্ভূত কান্ডে মেঘ কিছুটা হচকিয়ে উঠল।
.
.
-“কি ব্যাপার মন কোথায়?ঠিক আছেন তো আপনি?”

মাথা নাড়িয়ে মেঘ তন্ময়কে বুঝাল,, কিছু হয়নি।সব ঠিক আছে।

-“তো মিস মেঘ কেমন আছেন?”
-“ভালোই আছি।”
-“আমাকে কিছু জিজ্ঞাস করলেন না?”
-“মানে,”
-“এই যে আপনার কুশলাদি জানলাম আমারটাও তো আপনার জানা উচিত তাই না?”
-“ও সরি,,কেমন আছেন?”
-“ভালো আছি।আর আপনাকে দেখে এখন আরো ভালো আছি আর এরপরের প্রতিটিদিন এখন থেকে আরো ভালো থাকব।”
-“ও…….।”
-“আমাকে জিজ্ঞাস করলেন না এরপর থেকে কিভাবে আমি আরো ভালো থাকবো?”

তন্ময়ের এই কথা শুনে মেঘ তন্ময়ের দিকে ভ্রু কুচকিয়ে তাকাল।আর মনে মনে ভাবতে লাগল,এই লোকটা একবার তুমি আবার মূহুর্তের মধ্যেই আপনি বলে কেন ডাকে আজব!তাছাড়া উনি বড্ড বেশি অপ্রয়োজনীয় কথা বলে।ছেলেমানুষ এত বেশি কথা বলে নাকি?মেয়েদের মতন স্বভাব একেবারে!বাচাল একটা।

-“ও হ্যালো কোথায় হারিয়ে গেলেন?
-“কোথাও না।”
-“তো এখন আমাকে জিজ্ঞাস করেন,কেন এরপর থেকে আমি আগের তুলনায় বেশি ভালো থাকব?”
.
.
ভদ্রতার খাতিরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেঘ তন্ময়কে জিজ্ঞাস করল,
-“আচ্ছা তাহলে বলে ফেলেন কারণটা!”
-“কারণ আজকের পর থেকে আপনিও আমার হৃদয়ের একটি অংশ হয়ে দাঁড়াবেন তাই।”(মুচকি হেসে)
-“কথাটা অনেক মজার ছিল।তা আপনি যে এত ভালো জোকস বলতে পারেন তা আমার সত্যিই জানা ছিল না।”
অন্যদিকে ফিরে গাছের ফুলগুলোর তাকিয়ে মেঘ এই কথাটা বলল।

-“তা ম্যাডামের কোন এঙ্গেল দিয়ে মনে হল আমি আপনার সাথে জোকস করছি।”
-“নিজের চোখেই তো সব দেখতে পারছেন।তবুও এই অদ্ভুত কথা আর প্রশ্নটা করে আমাকে লজ্জা দেওয়াটা কি খুব দরকার ছিল!”
-“না আমি কিছু দেখতে পারছি না।দয়া করে কথাটা ক্লিয়ার করুন।আর আমি কেনই বা আপনাকে লজ্জা দিতে যাব।”

কিছুটা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে মেঘ বলল,,
-“আমি আগে জানতাম আমার মাঝে যে কমতি আছে সেটা চোখ দিয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় কিন্তু আজকে আপনাকে দেখে জানলাম শুধু চোখ দিয়েই মানুষের কমতি বা সমস্যা বুঝা যায় না দৃষ্টি সীমানার বাইরে আরেকটা জিনিস দিয়ে মানুষের ত্রুটি ধরা যায়।আর তা হচ্ছে উপলদ্ধি।আমার উপলদ্ধি দিয়ে বুঝলাম আপনাকে বাইরের দিক দিয়ে ফিটফাট লাগলেও আসলে আপনার মাঝে কিছু কমতি আছে।”
-“What?”
-“জ্বী……..। যা সত্যি তাই বললাম।আপনার যে কমতি আর সমস্যা আছে সেটা হয়ত আপনি নিজেও এতদিনে বুঝতে পারেন নি।আমি বলে দিচ্ছি আপনার সমস্যাটা কি?আপনার চোখের সমস্যা আছে।তা না হলে আপনার সামনে যে একটা জলজ্যান্ত পঙ্গু মেয়ে মানুষ হুইল চেয়ারে বসে আছে সেটা কি আপনার চোখে পড়ে না।একটা পঙ্গু মেয়ে কি করে আপনার হৃদয়ের অংশ হয়।একটা মেয়ের মধ্যে কোন কিছুর কমতি থাকলেই তাকে আর ভালোবাসা যায় না, তাকে আরেকটা মানুষের হৃদয়ের অংশ বানানো যায় না।তাছাড়া সে কোন বাড়ির বউ হওয়ারও যোগ্যতা রাখে না।আশা করি এতক্ষণে আপনার অন্ধ চোখ দুটি তার আলো দিয়ে সবকিছু দেখে নিয়েছে আর বুঝেও নিয়েছে।”
.
.
মেঘের কথা শুনে তন্ময়ের ঘোর যেন কিছুতেই কাটছে না।মেয়েটা একদম বড় মানুষদের মত করে কথা বলে।তারপরও সে নিজেকে সামলিয়ে বলল,

-“মেঘ আমি সব দেখতে পারি আর বুঝতেও পারি।আমার চোখের কোন সমস্যা নাই।আর সবকিছু ভালোভাবে দেখে বুঝেই আমি এই কথাটা বলেছি যে আজকের পর থেকে আপনি আমার হৃদয়ের অংশ হবেন।”
-“যাই হোক এই প্রসঙ্গ বাদ দিন।এইসব নিয়ে কথা বলতে এখন আমার ভালো লাগছে না।”

মেঘ যে কত কষ্ট পাচ্ছে তা তন্ময় নিজের অনুভূতি দিয়ে বুঝতে পারছে। তাই এই প্রসঙ্গের চিন্তা মেঘের মন থেকে সরানোর জন্য তন্ময় বলল,,,

-“আচ্ছা মেঘ আপনি কি সবসময় “সাবধান ইন্ডিয়া” দেখেন?”
-“কেন?হঠাৎ এই প্রশ্ন?”
তন্ময়ের হঠাৎ সিরিয়াল নিয়ে কথা বলা দেখে এবার মেঘ আরো বেশি অবাক হল।লোকটা কোথায় থেকে কথা কোথায় নিয়ে যায় বুঝা মুশকিল।
-“না মানে কিছুক্ষণ আগে আমাকে দেখে আপনি যা করলেন না তাই এই কথা বললাম।এইই যে একটু আগে বললেন না আমি আপনাদের বাসায় ঢুকে চুরি ডাকাতি করতে আসছি….এরপর আপনার মা বাবাকে খুন….. যাই হোক এইসব অভিজ্ঞতা তো আপনি সাবধান ইন্ডিয়া সিরিয়াল থেকে নিয়েছেন তাই না?”(হাত দিয়ে মুখটা চেপে তন্ময় ওর হাসিটা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।)
-“হ্যা…. না…..মানে……..”।
-” “সাবধান ইন্ডিয়া” দেখে সাবধান হোন সেটা ভালো কথা কিন্তু আপনার এই অতিরিক্ত সাবধানতার জন্য আজকে আপনি যা করলেন না…….তা সত্যিই দেখার মতন ছিল”।
এরপর তন্ময় ওর হাসিটা আর কন্ট্রোল করতে পারল না হো হো হো করে হেসে দিল।

তন্ময়ের হাসির আওয়াজ শুনে মেঘ লজ্জা পেয়ে গেল।ইশ তখন ও না জেনে বুঝে কি কান্ডটাই না করে ফেলল।লজ্জাটা ঢাকার জন্য এই মূহুর্তে ওর কি করা উচিত তা মেঘ কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না।হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ায় ও সাথে সাথে তন্ময়কে প্রশ্ন করে বসল,
-“এই যে একটু আগে না আপনি হাতের মধ্যে কি একটা লুকিয়ে রেখেছিলেন?দেখুন আপনি কিন্তু ধরা খেয়ে গেছেন কিছুতেই ওই জিনিসটা লুকানোর চেষ্টা করবেন না।দেখান দেখান…. বলছি কি লুকিয়েছেন আপনি?”
.
.
এখন তন্ময় আর ইতস্তত করল না।হাতের পিছনে রাখা জিনিসটা মেঘকে দেখালো।
-“এইটা কিভাবে আপনার হাতে এল?”
-“আপনার রুম থেকে পেয়েছি।”
-“তাই বলে আমার পারমিশন না নিয়েই আমার ছবি লুকিয়ে চুরি করেছেন।”
-“উহু এইটাকে চুরি বলে না।নিজের হবু বউয়ের ছবি নিয়েছি।তাহলে সেটা চুরি করা কিভাবে হল তা শুনি।”
-“প্লিজ আপনি এইরকম কথা বলে বারবার আমাকে লজ্জা দিবেন না।আমি বুঝতে পারছি না আমার মত পঙ্গু মেয়েকে দেখতে আসার কিই বা হল?আর বিয়ে সেটাতো হচ্ছে না।আমি বিয়ে করব না।”
-“কিন্তু আমি যে বিয়ে করব।”
-“ভালো, বিয়ে করে ফেলেন। তবে আমাকে না অন্য কাউকে।আপনার মা বাবাও নিশ্চয় এই বিয়েতে রাজি না।আমার মাথায় কাজ করছে না আপনারা কি ভালোভাবে সব খোঁজ খবর নিয়ে এইখানে আসেন নি?!
-“ম্যাডাম আমরা সব খোঁজ খবর ভালো ভাবে নিয়েই এরপর আপনাদের বাসায় আসছি।আমি সহ আমার পরিবারের সবাই এই বিয়েতে রাজি আছে।আর বিয়ে করলেই আপনাকে করব।”
.
.
-“দয়া দেখাতে এসেছেন না?”
এই প্রশ্নের জবাব দিতে যাওয়ার আগেই মেঘের মা ডাক দিল।

-“বাবা তোমাদের কথা বলা কি শেষ হয়েছে?”
-“জ্বী আন্টি,,”
-“তাহলে ভিতরে আসো।তোমাদের আপ্যায়নও এখনো আমি ভালো ভাবে করাতে পারি নি ।”
-“আন্টি আপনি এত অস্থির হবেন না।আমি মেঘকে নিয়েই ভিতরে আসছি।মা বাবাও ওকে দেখবে।”

তন্ময়ের এই ধরণের কথায় মেঘের মা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন।ছেলেটার আচার -ব্যবহার বেশ ভালোই, খারাপ না।আর তা দেখেই মেঘের মা বুঝে নিয়েছেন মেঘের সাথে এই ছেলেটার বিয়ে হলে ছেলেটা তার মেয়েকে বেশ হাসিখুশি রাখবে।
.
.
.
.
মেঘকে দেখে তন্ময়ের মা বাবা পছন্দ করল।তাই তন্ময়ের মত নিয়েই ওর পরিবারের সবাই আজকেই এংগেজমেন্টের কাজটা সেরে ফেলতে চাইছে।মেঘের মা বাবারো ছেলের পরিবারের সিদ্ধান্তে সমস্যা নেই তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে এংগেজমেন্টের কাজটা সেরে ফেলল।আর মেঘ ফ্যালফ্যাল চোখের দৃষ্টি নিয়ে সব দেখতে লাগল।কিচ্ছুটি করতে পারল না।

অতঃপর বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাসার বাইরে যাওয়ার জন্য তন্ময়রা রওনা দিল।আর যাওয়ার আগে তন্ময় মেঘের হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিল।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ