Friday, June 5, 2026







নীড় পর্ব-০১

নীড়
#সূচনা_পর্ব
#সুহা

তোমার ভাইয়ের কী নূন্যতম চক্ষুলজ্জাও নেই এমন প্রতিদিন আমাদের ফ্রীজটা ব্যবহার করছে! বলি ফ্রীজটা আমার বাপের বাড়ি থেকে আমায় দিয়েছে আমার সংসারে ব্যবহার এর জন্য তোমার ভাই এর জন্য নয়। তারপরেও নিত্যদিন ছোটলোকের মতো এসে পরে কিছু না কিছু রাখতে ফ্রীজ টায়। আর রমজানের সময় তোহ কথাই নেই রোজ পানি রাখবে আর নিয়ে যাবে। যত্তসব ফকিন্নির দল! আর সহ্য হয় না এদের!(অনিমা)

আহা এমন করছো কেন? আমি বুঝি সেধে তাদের নিয়ে এসেছি! এমন নির্লজ্জের মতো মতো প্রতিবার আসে তোহ কী আর করার। ছোটোলোক আর কী!পড়াশোনা কিছু করেছে নাকি যে এইসব জ্ঞানবোধ থাকবে?(আবির)

হমম না জানি কতদিন এইসব ছোটোলোকেদের সহ্য করতে হয়! তার উপর থাকেও এক টিনের ঘরে! আমাদের দোতালা বিল্ডিং এর সব সৌন্দর্য টাই নষ্ট করে দেয় ওই ফকিন্নি মার্কা টিনের ঘর!(অনিমা)

আরে আর দিন দুয়েক সহ্য করো।দলিলের কাজগ বানিয়ে ফেলেছি।একবার শুধু দলিলে ওই মূর্খের সাইন করাই পরে ঘাড় ধরে বের করবো এই বাড়ি থেকে।পরে ওই টিনের ঘর সরিয়ে ওখানে একটা সুন্দর একটা ছোট ঘর বানাবো তোমার আর আমার সুন্দর মুহুর্ত কাটাতে।(আবির)

আর কিছুই শুনতে পারলো না আনিক মস্তিষ্ক তার ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। নিজের ছোট ভাই এ তার স্ত্রীর মুখ থেকে তার প্রতি এহেন মন্তব্য শুনে স্তব্ধ সে।এসেছিলো ভাইয়ের ঘরের ফ্রীজে কিছু মাছ রাখতে কিন্তু এহেন কথায় আর আগানোর সাহস পায়নি সে। চুপচাপ নতমস্তকে নিজের ঘরে চলে আসলো।

কিগো মাছের পোটলাটা নিয়েই চলে আসলা যে!আবির আর অনিমা বুঝি ঘরে নাই?(নাইমা)

আরে ওরা আর কই যাবে ঘরেই আছে তোহ। আর আমার না আজকে একটু বেশিই মাছ খাইতে মন চাইতেসে। তুমি পুরাটাই রান্না করো তোহ। এক্কেবারে ঝোল ঝোল করে রাঁধবা কেমন। আজকে এক্কেবারে কব্জি ডুবায় খামু। (আনিক)

স্বামীর মুখের কথাটা কেন জানি বিশ্বাস হলো না নাইমার। দীর্ঘ ৫ বছরের সংসার জীবন তাদের। কই কখনো তোহ দেখেনি তাকে এমন আচরণ করতে। নিজের ভাবনাকে নিজের মাঝেই চেপে রাখলো সে, হাসিমুখে স্বামীর কথায় সায় জানিয়ে রান্নাঘরের দিকে অগ্রসর হলো সে।

এতক্ষন নিজের মুখে মিথ্যা হাসির প্রলেপ টেনে রাখলেও এখন আর সম্ভব হলো না। নিকষ কালো আঁধারে মুখটা ঢেকে গেলো আনিকের। পুরুষ মানুষের নাকি কাঁদতে নেই কিন্তু আজকে তার কাঁদতে মন চাচ্ছে। আজ যদি সে না কাঁদে হয়তো ভেতরের কষ্ট গুলোর চাপায় তার মৃত্যু হবে। দৌড়ে বাথরুমে গিয়ে পানি ছেড়ে মুখ চেপে কান্না করতে লাগলো সে। নিজের আদরের ছোট ভাই যাকে কিনা নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখলো সেই কিনা তাকে নিয়ে এমন খেলায় মাতলো। আজ নিজেকে ব্যার্থ এক সৈনিক মনে হচ্ছে। এই কী ছিলো তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিদান!

বাবা-মা আর ছোট ভাই আবিরকে নিয়েই ছিলো আনিকের পৃথিবী। বেশ সুখেরই ছিলো এই পরিবার কিন্ত ঘন এক কালবৈশাখীর তান্ডবে যেন লন্ডভন্ড করে দেয় তাদের এই পরিবার।

যেদিন নিজের মাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তীর্নর ফলাফল নিয়ে বাড়ির উঠানে আসতেই বাবার নিথর দেহটি নজরে আসে ওদিনই যেন তার সব আনন্দ হারিয়ে যায় । বাবার মৃত্যুর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই মাও তাঁদের ফাঁকি দিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। কিন্তু দিয়ে যায় এক গুরুদায়িত্ব, নিজের ছোটো ভাইয়ের দায়িত্ব।তারপর থেকেই নিজের ছোট ভাইয়ের বটবৃক্ষ হয়েই জীবন কাটতে লাগলো তার। কিন্ত এতে আফসোস কখনোই হয়নি তার। নিজের শখ আল্হাদকে বিসর্জন দিয়ে নেমে পরে উপার্জনের পথে। দিনের পর দিন খেটে ভাইকে সুশিক্ষিত করে সে। ভাইয়ের সকল চাহিদাকে পূর্ণ করতে থাকে সে।আজ তার ভাই বিশাল কোম্পানিতে জব করে নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করেছে। আনিক ভেবেছিলো এই বুঝি তার পরিবার এর সকল যন্ত্রনা শেষ।তার নীড় আবার পূর্ণ হলো। কিন্ত হায় আজ সে জানতে পারলো সেই যে তার পরিবারের যন্ত্রনা! আর ভাবতে পারছে না সে ভিতরটা তার দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।

কী হইসে তোমার? চোখগুলো এমন লাল কেন? শরীর খারাপ?(নাইমা)

নাইমার কথার ঠিক কী জবাব দিবে তা জানে না আনিক। কোন মুখে বলবে সে যেই ভাইকে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে প্রতিষ্ঠিত করলো সেই আজ তাদের বোঝা ভাবে! কিভাবে সহ্য করবে নাইমা!সেও তোহ কম করেনি! হাসিমুখে স্বামীর সাথে নিজেও সব শখ আল্হাদ কে মাটি চাপা দিয়েছে সে।

আরে নাহ তেমন কিছুই না চোখে কী জানি পড়সিলো তাই আর কী। তুমি এত চিন্তা করিও না। আসো খেতে বসো।(আনিক)

নাইমাও পাতে ভাত বেড়ে খেতে বসবে এমন সময় ঘরে প্রবেশ করে আবির ও অনিমা। তাদের এমন আকস্মিক আগমনে আনন্দে আটখানা হয়ে পরে নাইমা, কতদিন পর ভাইটা তাদের ঘরে এলো! সে উৎফুল্লতার সাথেই তাদের স্বাগতম জানাতে লাগলো –

আরে ছোট ভাই আর অনি আয় আয় বস। একদম সঠিক সময়ে এসেছিস তোরা খেতে বসে পর। গরম ভাতের সাথে মাছ ভুনা আয় বসে পর।(নাইমা)

এদিকে অনিমা শুধু চারিদিকে তাকাচ্ছে আর মুখ মোচড়াচ্ছে যেন সে কোনো ময়লার স্তপে দাঁড়িয়ে আছে। নাইমা খেয়াল না করলেও আনিক তা ঠিকই খেয়াল করেছে আর তার ভাই আজ কেন তার ঘরে পা রেখেছে তাও সে ভালো করেই জানে।

না না ভাবি আজ না অন্য দিন। আজ একটু দরকারি কাজে ভাইয়ের কাছে আসছি ওটা করাটা বেশি দরকার।(আবির)

তোহ কী হইসে? কাজ কাজের জায়গায় এতে খাবারের কী? আয় খেতে বস!(নাইমা)

আহা নাইমা ওরা যখন খেতে চাচ্ছে না কেন জোর করছো? বল আবির কী কাজ?(আনিক)

যদিও সে জানে ঠিক কী কাজে তার ভাই আজ তার দুয়ারে এসেছে তাও একবার তার মুখ থেকে শুনতে চায় সে।

ভাই হইসে কী আজকাল তোহ সবই ডিজিটাল চলে তাই ভাবতেসি আমাদের জমিটার সকল দলিলগুলোও ডিজিটাল করে দিবো। তাই আর কী তোমার সাইন লাগবে। আমি সব করে ফেলসি তুমি শুধু সাইন টা করে দাও তাহলেই হয়।(আবির)

আনিক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো।তারই আপন ভাই তাকে নিঃস্ব করতে কী সুন্দর পরিকল্পনা টাই না করলো! পরমুহূর্তেই একটা হাসি দিলো যাতে হাজারো চাপা কষ্ট লুকিয়ে ছিলো।অতঃপর কাজগটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো যদিও সে জানে আবির বা অনিমা তাকে পড়তে দিবে না। হলোও তাই! যেই না সে কাজগটা পড়তে শুরু করলো অমনি অনিমা ফোড়ন কেটে বলে উঠলো –

কী ভাইয়া নিজের ছোট ভাইয়ের উপর দেখি আপনার রত্তি পরিমান ভরসাও নেই!

আনিক শুধু একবার চোখ তুলে তাকালো নিজের ভাই ও তার বৌয়ের দিকে পরে চুপচাপ সাইন করে দিলো দলিলে।

দলিলে সাইন পেয়ে তোহ আবির আর অনিমা আকাশের চাঁদ হাতে পেয়ে গেছে। তারা খুশিমনে কাগজ নিয়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো। আর সেদিকে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আনিক। এতটা ছলনা! একটাবার বললে কী হতোনা সে তোহ দিয়েই দিতো। নিজের জীবনটাই যেখানে ভাইয়ের প্রতি উৎসর্গ করে দিয়েছে সেখানে এইটুকুন জমি আর কী!বুক ভরা কষ্ট নিয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা আনিক যদিও ঘুম আসবার নয়।

উফফ আমার ভাবতেই আনন্দ লাগছে এতদিনের মনোবাসোনা এইবার পূর্ণ হলো। শুধু আজকের রাত আগামীকাল আমাদের বাড়ি ওই আবর্জনা মুক্ত।(অনিমা)

তা যা বলেছো অনিমা। এই ভালোমানুষির নাটক আর দেখাতে পারছি না। বিরক্ত হয়ে পড়েছি। শুধু সকাল হওয়াটাই বাকি তারপরেই ……….(আবির)

দুজন মিলে উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো।

কিগো আজ তুমি নিজেই নামাজ পড়তে উঠে পড়লে যে রোজ তোহ আমায় দেকে দিতে হয়।(নাইমা)

নাইমার কথায় আনিক একটু মুচকি হেসে বললো –

কখনো আমাগো জীবনে এমন কিছু হয় যা আমরা ভাবিও না। (আনিক)

নাইমা বোকার মতো আনিকের দিকে তাকিয়ে থাকলো। আর আনিক বেরিয়ে পড়লো নামাজ পড়বার উদ্দেশ্য। কী বলবে সে? তার যে কিছুই বলার নেই! ভাগ্যর নির্মম পরিহাসে আজ সে নিস্তব্ধ!

চলবে …………..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ