হয়তো_ভালোবাসি
Part_05
#Writer_Eshetaq_Nora
নীড় কিছু না বলে চলে গেল
আসলে সে এসেছিলো নেশাকে সরি বলতে কিন্তু যা দেখলো তারপর সরি বলার সাহস পাচ্ছে নাহ।
।
নিচে
নিসুঃ ওইতো নেশা এসে গেছে।
নীড় ও ঘুরে তাকালো। ব্লু কালারের শর্ট ক্রপটপ।তার সাথে তার সাথে হোয়াইট কালারের লং স্কার্ট। চোখে হালকা কাজল,ঠোঁটে লিপস্টিক। কপালে পাথরের টিপ।চুল গুলো খোপা করা।কয়েকটা চুল সামনে দিয়ে বের করা।খুব সুন্দর লাগছে।নীড় তো হা করে তাকিয়ে আছে।।কিন্তু হঠাৎ মাথা গরম হয়ে গেল।কারন টপ টা শর্ট হওয়ার পেট দেখা যাচ্ছে।।নীড়ের নবীন বরণ এর দিন এর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
নীড়ঃ বিদেশ থাকে বলে কি নিজেকে বিদেশি ভাবে নাকি,হুহ। পেট বের করে জামা পড়তে গেছে।বোরকা পড়ে আসলে কি বের করে দিতো?।মানছি বোরকা না পড়তো বাট পেট নাহ দেখালে কি হতো।ওড়না দিয়েছে। মনে করছে আমার চোখ এরিয়ে যাবে।।ওইদিন এমন করিছি বলে শাড়ি পড়বে নাহ।। ডং করে আবার পা টা ও কেটে বসে আছে। তো এতো সাজের কি দরকার ছিলো।।বউয়ের থেকে যে নিজেকেই বেশি সুন্দর লাগছে তা কি জানে।আজ আবার পেট বার করে পড়েছে।মনটায় চাচ্ছে আবার নিয়ে আবার জামাটা ছিড়ে ফেলি। থাক বাবা। কিছু বলবো নাহ।যেই রাগ??।
নিসুঃ কিরে এতোক্ষণে আসলি।আয় আমায় হলুদ লাগিয়ে দে।
নেশাঃ হ্যা আসছি।
নিসুঃ কিরে তোর পায়ে কি হয়েছে?
নেশাঃআরে একটু কেটে গেছে।ও কিছু নাহ।
নিসুঃ ইশ। কতোখানি কেটে গেছে।এখন তুই নাচবি কিভাবে?
নেশাঃ আরে প্রবলেম নেই।। একটু কষ্ট হলে হবে।তোর জন্য পা ব্যাথা কিচ্ছু নাহ।।?
নীড়ঃ ড্রামা কুইন।জানে এইভাবে বললে নাচতে দিবে নাহ।তাই কতো ড্রামা করছে।
নিসুঃ না থাক। তুই বরং সংগীত এর দিন নাচিছ।আজ থাক।
নেশাঃ ওকে?।।
।
।
পরেরদিন সকালে।
সবাই এখনো ঘুমাচ্ছে।।কাল হলুদের অনুষ্ঠানে সবাই ক্লান্ত। সাংগীতি আবার ১ সপ্তাহ পর।।নিসুরই এইটা প্লেন ছিলো।হলুদের পর সবাই মিলে কোথায় ঘুরতে যাবে।তারপর আবার ১ সপ্তাহ পর সাংগীতি করবে।আর তার ১ সপ্তাহ পর বিয়ে।।
নেশা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেল।দেখলো রাফি,সায়ান,নীড়,আর নিসু গোল হয়ে বসে আছে।আর নিসুর মুড অফ।নেশা সেদিকে এগিয়ে গেল।
নেশাঃ হোয়াট হেপেন গাইস
সবাই নেশার কথা শুনে পিছনে তাকালো।নীড় তো নেশাকে দেখে আরেক দফা ক্রাশ। বেবি পিংক কালালের একটা ফ্রক পরেছে।চুল গুলো ভিজা। এলোমেলো।হয়তো মাত্র শাওয়ার নিয়েছে। যার কারনে আরো কিউট লাগছে।
নীড়ঃ এইমেয়েটা আমার হার্টএটাক করেই ছাড়বে।।উফফ একদম পুতুলের মতো লাগছে?।
নিসুর কথায় নীড়ের ঘোর ভেঙে গেলো।
নিসুঃ দেখ না বনু। ঘুরার জন্য জায়গা পাচ্ছি নাহ।
নেশাঃ কয়দিনের জন্য যাবি?
নিসুঃ এই তিন – চারদিনের জন্য।
নেশাঃ সাজেক চলি।
রাফিঃ ইয়েস সাজেক বেস্ট হবে।
নিসুঃ ওকে দেন সাজেক ফাইনাল।কিন্তু কিসে করে যাবো?
নেশাঃ আমি গাড়ি বলেদিচ্ছি।
নীড়ঃ সবাই বাসে যাই।মজা হবে বেশি।
নেশাঃ ওকে আমি বলেদিচ্ছি মিনি বাস কাল সকালে এসে যাবে।
নিসুঃ তুই কোথা থেকে করবি?
নেশাঃ ওইটা তোর ভাবতে হবে নাহ।
পরেরদিন সকাল সকাল সবাই বেড়িয়ে পড়লো।সবাই মিনি বাসে বসেছে।আর পিছনে গাড়িতে নেশার বডিগার্ডরা।।নিসু আর রাফি,সায়ান আর নীড় একসাথে।নেশা একা বসেছে। আসলে সবাই সবার জোড়া জোড়া মিলিয়ে বসেছে।নীড়ের খুব ইচ্ছা হচ্ছে নেশার সাথে বসার।কিন্তু সায়ান কি ভাববে তাই উঠতে পারছে নাহ।।হঠাৎ গাড়িতে আরো একটা মেয়ে উঠলো।সে আর কেউ নাহ ইমা। সায়ান তো অবাক।
সায়ানঃ ইমা তুমি এখানে??!!
নিসুঃ আমি ওকে এখানে আসতে বলেছি।ও আমাদের সাথে যাবে।তো কেমন লাগলো সারপ্রাইজ ?
সায়ানঃ ওহহ thank you নিসু।।।জান তুমি কেমন আছো।বলেই ইমা কে জড়িয়ে ধরলো।
ইমাঃ সায়ান সবাই দেখছে?।
সায়ানঃ ওহহ সরি সরি ভুলে গেছি।
রাফিঃ বাহ বাহ খুব ভালো। এককাজ করো সিটে গিয়ে বসে রোমান্স করো। কেউ দেখতে পারবে নাহ?।নীড় তুই বরং অন্য জায়গায় গিয়ে বস।
নীড় তো হাতে আকাশের চাঁদ পেল। লাফিয়ে গিয়ে নেশার সাথে ধপ করে বসে পড়লো।
নীড়ঃ হাই??
নেশাঃ হাই
নীড় তো মহা অবাক। নেশা কথা বলছে।
নীড়ঃ কেমন আছো ?
নেশাঃ ভালো। আপনি?
নীড়ঃ ভালো।।নেশা তোমার সাথে কিছু ক….
তখনই নেশার ফোন আসলো।নেশা নাম টা দেখে রাগে মোবাইলটা অফ করে দিলো।
নীড়ঃ কে ফোন দিয়েছিলো?
নেশাঃ কেউ নাহ।।
নীড়ঃ নাকি বলবে নাহ?
নেশাঃ দেখুন মি.নীড়।কথা বলেছি বলে ভাববেন নাহ আমি আগের কথা গুলো ভুলে গেছি।বাট আমি এখন আর ওইসব নিয়ে ভাবতে চাইনাহ।সো ইটিস বেটার ফর ইউ টু স্টে ইন ইউর লিমিট। আমার থেকে যতটা পারুন দুরে থাকার চেষ্টা করুন।আর আমার লাইফে ইন্টারফেয়ার করার চেষ্টা করবেন নাহ।
নীড়ঃ নেশা আমি??
নেশাঃ আপনি কি চান আমি বাস থেকে নেমে যাই?
নীড় আর কিছু বললো নাহ। সারা রাস্তা দুইজন চুপ ছিলো।যেন একজন আরেকজনকে চিনে নাহ।নীড়ের ইচ্ছা করছিলো গলা ফাটিয়ে কান্না করতে। কিন্তু পারছিলো নাহ।
।
।
পরেরদিন সকালে ওরা সবাই সাজেক গিয়ে পৌছালো। বাসটি মেঘকাব্য রিসোর্টে থামলো।তারা ডুকার সময় সবাই তাদের ওয়েলকাম করলো।
রিসিপশনে গেলো নীড় আর নেশা রুম বুক করার জন্য।।
রিসিপশনিস্টঃ ম্যাম আপনিকি নেশা খান?
নেশাঃ ইয়েস।
রিসিপশনিস্টঃ ম্যাম আপনাদের জন্য রুম বুক হয়ে গেছে।
নেশাঃ হোয়াট। কিন্তু আমরা তো করিনি।
রিসিপশনিস্টঃ ডোন্ট নো ম্যাম। কিন্তু অনলাইনে আপনার নামেই পুরো রিসোর্টটা বুক করা হয়েছে।
নেশা ভালো করেই বুঝে গেছে কে কাজটা করেছে।আর মারাত্মক পরিমানে রেগে গেল নেশা।
নেশাঃ দেন আই কান্ট স্টে ইন দিস হোটেল।আমি এই হোটেল থাকতে পারবো নাহ।।সরি।
নিসুঃ কি হলো নেশা? কোথায় যাচ্ছিস?
নেশাঃ এই হোটেলে নাহ আমরা বরং অন্য হোটেলে যাই।
নিসুঃ কিন্তু কেন?
নীড়ঃ আরে কে জানি নেশার নামে পুরো হোটেল বুক করে রেখেছে।
নিসুঃ তাহলে তো ভালোই।আমার জামাইয়ের খরচ কমেছে??।আর তুই কিনা চলে যাবি বলছিস।
নেশাঃ লাইক সিরিয়াসলি ?।কে না কে বুক করেছে আর আমরা থাকবো?
নিসুঃ আরে যে করেছে হয়তো ভুলে করেছে।দেখিস পরেই খবর হয়ে যাবে যে ভুলে করেছে।এখন চল যাই।আমি অনেক টায়ারড?
নেশাঃ কিন্তু…
নিসুঃ কোন কিন্তু নাহ প্লিজ চল।
সবার জোড়াজুড়ি তে নেশা রাজি হলো।কিন্তু সে তো জানেই কাজ টা কে করেছে। সবাই যার যার রুমে চলে গেছে।হোটেল স্টাফ এসে সবাইকে বলে গেল রাতে নিচে পার্টি আছে সবাই যেন জয়েন করে।তাই সবাই রেডি হয়ে নিচে গেল।
নীড় আজও নেশার উপর ফিদা।সাদা শার্ট আর ব্লু কালারের স্কার্ট।স্কার্টটা ওতো লং নাহ আবার শর্টও নাহ।কোমরে চামড়ার মোটা বেল্ট।চুল গুলো ছাড়া।ঠোঁটে পিংক লিপস্টিক। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে খুব রেগে আছে চোখমুখ লাল হয়ে আছে।
নীড়ঃ এই বাঘীনির আবার কি হলো আজ. [বিড়বিড় করে]
হঠাৎ সব লাইট অফ হয়ে গেল।আর স্টেজের লাইট জ্বলে উঠলো।সবাই খেয়াল করলো একটা ছেলে উল্টো দিকে ঘুরে আছে।। আর গান গাইছে
Dil ka dariya beh hi gaya
Ishq ibaadat bann hi gaya
Khudko mujhe tu saunp de
Meri zarurat tu bann gaya
Baat dil ki nazron ne ki
Sach keh raha teri kasam
নেশা গলা শুনেই বুঝে গেছে কে।।রেগে চলে যেতে নিলো বডিগার্ডরা আটকালো।
বডিগার্ডঃ ম্যাম প্লিজ যাবেন নাহ।
নেশাঃ তোমরা আমার জন্য কাজ করো নাকি স্যার এর জন্য??
বডিগার্ডঃ ম্যাম আপনা নাহ মানে স্যারের নাহ মানে আপনার নাহ মানে দুইজনের জন্যই??
নেশাঃ তাহলে আমায় যেতে দাও
বডিগার্ডঃ ম্যাম প্লিজ আপনি চলে গেলে আমাদের চাকরি চলে যাবে?
নেশা আর গেল নাহ।দাড়িয়ে রইলো।হঠাৎ লাইট গুলো নেশার দিকে ঘুরানো হলো।আর ছেলেটি গান গাইতে গাইতে নেশার সামনে এসে দাড়ালো
Tere bin ab na lenge ik bhi dum
Tujhe kitna chahne lage hum
Tere sath ho jayenge khatam
Tujhe kitna chahne lage hum
গান গাইতে গাইতে নেশার একদম কাছে এসে হাটু গেড়ে বসলো।
ছেলেটিঃ আই এম সরি জান।আর এমন হিবে নাহ প্রমিস।আর তোমায় নাহ বলে যাবো নাহ।
নেশাঃ আমি রুমে যাচ্ছি। বাই[নেশা যেতে নিলো ছেলেটি নেশার হাত টেনে আবার আগের জায়গায় দাড়া করালো ]
ছেলেটিঃ আমি যদি তোমায় বলে যেতাম তুমি যেতে দিতে নাহ।তাই বলে যাইনি।প্লিজ সরি।আর এমন ভুল হবে নাহ।
নেশাঃ হুহ। একদিন দুইদিন হলে কথা ছিলো। ইটিস এবাউট টু মানথ।দুইমাস তোমার খোঁজ ছিলো নাহ।কতটা মিস করেছি তুমি জানো?
ছেলেটাঃ হেই ডোন্ট ক্রাই।।[নেশার দুইগালে দুইহাত দিয়ে ]ওইখানে নেটওয়ার্ক এর প্রবলেম ছিলো তাই কন্ট্রাক করতে পারিনি।আর তুমি ওতো আমার ফোন ধরনি?
নেশাঃ তো কি করবো এট লাস্ট আমায় বলে তো যেতে???
ছেলেটাঃ এখন তো এসে গেছি।প্লিজ কান্না স্টপ করো?।না হলে কিন্তু আবার চলে যাবো
নেশাঃ চলে যাও। কে ধরে রেখেছে[ছেড়ে দিয়ে ছেলেটিকে ]
ছেলেটিঃওকে দেন টাটা
[বলেই চলে যেতে নিলো।নেশা টেনে সামনে দাড় করিয়ে জড়িয়ে ধরলো]
নেশাঃ বুকে মাথা রেখে-ইশ শখ কতো।পা ভেঙে রেখে দিবো আবার আমায় রেখে গেলে
ছেলেটিঃ??পাগলি।
[নেশার কপালে কিস করে ৷ ]
ছেলেটিঃ খুব মিস করেছি আমার জান টাকে?
নেশাঃ আমিও
ছেলেটিঃ লাভ ইউ
নেশাঃ লাভ ইউ মোর দেন ইউ?
বলে আবার ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরলো।
নীড়,নিসু,রাফি,সায়ান সবার মাথায় একসাথে বাজ পড়লো। আসা করি পাঠকদের মাথাও পড়েছে??।পড়লেই কি। ছেলেটা কে আজ তো আর বলবো নাহ।। বলবো তো কাল?
।
।
চলবে?
(আমি তো প্রথম পার্টেই বলেছি আমাদের গল্পের নায়িকা নেশা। কিন্তু নায়ক যে নীড় তা কি বলেছি?।তোমরা ভুল বুঝলে আমার কি?????)