Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"স্বপ্ন হলেও সত্যিস্বপ্ন হলেও স্বত্যি পর্বঃ-৫

স্বপ্ন হলেও স্বত্যি পর্বঃ-৫

স্বপ্ন হলেও স্বত্যি পর্বঃ-৫
আফসানা মিমি

এবার হাসো। বেশি করে হাসো। দুই পাটি দাঁত
বের করে হাসো। আন্টি বলল
—কিরে কি হয়েছে তোর পায়ে হঠাৎ? এমন
লাফাচ্ছিস কেন?
—আম্মু পায়ে কে যেন গুঁতো দিয়েছে।(আমার
দিকে তাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল)
—বাজে বকিস না তো। তোকে আবার কে গুঁতো
দিতে যাবে। মনে হয় টেবিলের পায়ায় আঘাত পেয়েছিস।
—ভাইয়া তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি? এখানে কে আসবে তোর পায়ে গুঁতো দিতে?
—তুই চুপ কর! আম্মু দেখো হালকা রক্ত বেড়োচ্ছে।
—যাহ তাহলে রুমে গিয়ে স্যাভলন লাগা।
—আপু আমার মনে হচ্ছে উনার পায়ে ইঁদুর কামড় দিয়েছে। বেচারা ইঁদুরের মনে হয় অনেক ক্ষিদে পেয়েছিল। আর কিছু খঁজে না পেয়ে শেষমেস সামনে উনার পা দেখেছে। তাই একটু টেস্ট করেছে আরকি।
—জানো আমারও তাই মনে হয়।(বলেই আপু
হেসে দিল)
—তোদের হাসি আমি বের করবো।(দাঁতে দাঁত চেপে)

এটা বলেই আমার দিকে রাক্ষুসে দৃষ্টিতে তাকালো। যার অর্থ দাঁড়ায়
“তোমাকে আমি দেখে নিব।”

তাই আমিও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে তাকে একটা মুচকি হাসি উপহার দিয়ে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। আবার লাগতে এসো আমার সাথে! একেবারে নামধাম ভূলিয়ে দিব তোমার বাছাধন। খুব খুশি খুশি লাগছে বদটাকে একটা শিক্ষা দিয়ে।
“আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে!”

কোচিং থেকে ফিরে বাসায় আসার পর দেখি শ্রাবণ
হল রুমে বসে আছে। তাকে দেখে ইচ্ছে করেই বললাম “আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে!”

“তোমার আনন্দ আমি বের করছি মিমি চকলেট। রাতের জন্য অপেক্ষা করো।”

তার কথা শুনেও না শুনার ভান করে রুমে চলে আসলাম। এসে শাওয়ার নিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চুল মুছছিলাম। তখনই খেয়াল করলাম শ্রাবণ তার ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফি খাচ্ছে। আবার তার ঠোঁটের কোণে একটা শয়তানি হাসিও দেখতে পেলাম। কোন শয়তানি প্ল্যান করছে নাকি আবার বাঁদরটা আমার ওপর প্রয়োগ করার জন্য! তার তো আবার বিশ্বাস নেই। করতেই পারে। দেখা যাক কি হয়!

রাতে ডিনার টেবিলেও দেখলাম আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। আজকে যে কাজ করেছি তাতে তো আমাকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে এমন একটা লুক দেখবো আশা করেছিলাম। কিন্তু ঘটনা তো উল্টো মনে হচ্ছে! আল্লাহ্ তার শয়তানির হাত থেকে রক্ষা করো আমায়! না জানি কি ছক কষছে আল্লাহ্ মালুম!
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


ডিনার শেষে আঙ্কেল, আন্টি আর আপুর সাথে
বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ বসে থেকে আড্ডা দিলাম।
শ্রাবণ এখানে উপস্থিত নেই। কি জানি বাঁদরটা
আবার কি আকাম করতে গেছে। আমার সাথে
যেন কিছু না করে দোয়া করি।

আজকে অনেক টায়ার্ড লাগছে। তাই ব্যালকনিতে
না গিয়ে সোজা বিছানায় শুয়ে পরলাম। কাঁথাটা
খুলে যেই গায়ে দিতে যাব তখনই দেখি কাঁথার ভেতর থেকে গোটাকয়েক আরশোলা বের হয়ে কিলবিল করে বিছানার এ মাথা থেকে ঐ মাথা পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি করছে। তেলাপোকা দেখেই আমি লাফ দিয়ে ফ্লোরে নেমে এক চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। তারপর কি হয়েছে কিছুই মনে নেই।

মুখে হালকা পানির ছিটায় জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমার মুখের ওপর শ্রাবণ ঝুকে আছে। আমার কি হয়েছিল মনে করতে পারছি না। ধাতস্থ হওয়ার পর শুয়া থেকে তাড়াতাড়ি ওঠে যেই আবার চিৎকার দিতে যাব তখনই শ্রাবণ আমার মুখ চেপে ধরেছে।
—চুপ, আর একটা চিৎকারও দিবেনা বুঝলে? রাত বিরাতে এমন চিৎকার করলে মানুষ কি ভাববে?

জোর করে আমার মুখ থেকে তার হাতটা সরিয়ে
দিয়ে বললাম
—আপনি আমার রুমে কি করছেন? আর
কিভাবেই বা আসলেন? রুমের তো দরজা লাগানো।
—ঐ যে ঐখান দিয়ে আসলাম।

ব্যালকনিতে যাওয়ার দরজার দিকে ইশারা করলো। দেখি দরজা খোলা। তেলাপোকার কথা মনে পড়তেই আবারো লাফিয়ে বিছানা থেকে নেমে গেলাম।

—কি হলো? এভাবে লাফাচ্ছো কেন?
—আরশোলা।(অসহায় মুখ করে বললাম)
—তুমি আরশোলা এত ভয় পাও জানতাম না তো! ভয়ে একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেছিলে। আরশোলা দিয়ে ভয় দেখানো ঠিক হয়নি আম………(মুখে হাত দিয়ে বাকি কথাটা আর উচ্চারন করলো না)
—কি বললেন আপনি?
—না মানে বলছিলাম যে…..(ঢোক গিলে)
আরশোলার মত সাধারন একটা ছোট প্রাণীকে
এতো ভয় পায় কেউ?
—তার মানে আপনিই আমার বিছানায় আরশোলা রেখেছিলেন তাইতো? আজকে আমি আপনাকে…..

এটুকু বলেই উনার দিকে এগিয়ে গিয়ে বিছানায়
ওঠে উনার গলা চেপে ধরলাম।
—আজকে আপনার রেহাই নেই। একেবারে
মেরে ফেলবো আজ।
—আরে আরে আমাকে অল্প বয়সেই কি বিপত্নীক বানানোর ইচ্ছে আছে নাকি তোমার?

উনার কোন কথা-ই আমার কানো যাচ্ছে না। আমি আমার কাজে ব্যস্ত। আচমকা উনি বসা থেকে শুয়ে পড়লেন। আর আমি একেবারে উনার বুকের সাথে লেপ্টে উনার ওপর পড়ে গেলাম। আমার অবাধ্য খোলা চুলগুলি এঁকেবেঁকে আমার মুখ বেয়ে গিয়ে উনার মুখের ওপর বারি খাচ্ছে। এক অদ্ভুত মোহময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। উনার চোখ আমার মুখে নয়, আমার চোখে। একেবারে চোখের গভীরে। এমন দৃষ্টিতে তিনি আগে আমার দিকে কখনও তাকায়নি। উনার চোখগুলোও অনেক গভীর। যে চোখে মাদকতা আছে, ডুব দিলে নির্ঘাত ডুবে মারা যাব। কিন্তু কেন যেন উনার চোখ থেকে চোখ সরাতে ইচ্ছা করছে না। আমার হার্টবিটের সাথে উনার হার্টবিটও পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এতো দ্রুত বিট করছে কেন হার্ট? ফেটে বেরিয়ে আসবে নাকি?

একটা ঘোরের মধ্যে আছি আছি। সময়টা যেন থমকে গেছে। সেই সাথে থমকে গেছে দুই জোড়া আঁখি। পলক ফেলার নাম নেই। হঠাৎ আমাকে অবাক করে দিয়ে শ্রাবণ আমার ছোট ছোট চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিয়ে ঠোঁটের ডানপাশের নিচের তিলটায় আলতো করে তার ঠোঁট দুটি ছুঁইয়ে দিল। চোখদুটো আপনাতেই বন্ধ
হয়ে গেল আবেশে। মুহূর্তেই যেন আমার সারা মুখ কান গরম হয়ে গেল। যখন খেয়াল হলো তাড়াহুড়ো করে তার ওপর থেকে নেমে এসে ফ্লোরে দাঁড়ালাম। আমার পা এখনো কাঁপছে। তার সাথে হৃদস্পন্দন তো হচ্ছেই।

আজকে রাতে আমার ঘুম হবে না। অজানা এক মিশ্র অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছি এই প্রথম। তাও আবার রিয়েলে। একবার হয়েছিলাম স্বপ্নে তবে বাস্তবেরটা অনেক বেশিই নাড়া দিয়েছে আমার মনকে।

তখন শ্রাবণকে কোনকিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ব্যালকনির দরজা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দরজার সাথে লেপ্টে বসে খুব জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলাম। এতক্ষণ ধরে যেন আমার নিঃশ্বাসটা আঁটকে ছিল। বহুক্ষণ পর কিছুটা ধাতস্থ হলাম।

—ভাইয়া তোমাকে একটা কথা বলি রাখবে?
—তোর কোন কথাটা রাখিনি বল তো?
—সব কথাই রাখো তবে একটা কথা কখনোই
শুনছো না তুমি।
—কোন কথা?
—আরাদ্ধা আপুর কথা মনে রেখে এখনো কষ্ট পাচ্ছো। কেন এমন করছো বলো তো? সে তো তোমার কথা ভাবেনি। সে ভেবেছে তার কেরিয়ারের কথা, ভেবেছে তার স্ট্যাটাসের কথা। তোমাদের মধ্যে যে একটা গভীর সম্পর্ক ছিল সেটার দাম দিয়েছে কি সে? তোমার কথা কি একটাবারের জন্যও ভেবেছে? আপুর কাছে তুমি তার কেউ ছিলে না। তাহলে তুমি কেন সেই সময়টায়
আঁটকে আছো?
—জানিস আফু! সত্যিকারের ভালবাসাটা এমনই হয়। তাকে শত চেষ্টা করলেও ভুলা যায় না, ঘৃণা করা যায় না। ওর প্রতি আমার যে অনুভূতি তা একটুর জন্যও ফিকে হয়নি এখনো। হয়তো হবেও না কখনো।
—এমন ভালবাসা ভালো না ভাইয়া। এতে কোন
উপকার হয় না বরং এই ভুল মানুষকে ভালবাসার
জন্য সারাজীবন তার মাশুল দিতে হয়।
—তুই আমাকে নিয়ে ভাবিস না রে আফু। আমি ঠিক আছি।
—তুমি যে কেমন আছো আমার চেয়ে ভালো কেউ জানেনা ভাইয়া। তোমার জন্য খুব কষ্ট হয় আমার জানো ভাইয়া?
—আমার জন্য শুধু শুধু কষ্ট পাস না রে পাগলী।
তুই মন দিয়ে পড়াশোনা কর। আমাকে নিয়ে
অযথা চিন্তা করিস না।
—এটা তোমার শেষ কথা জানি আমি। কিন্তু তুমি
তিলে তিলে কষ্ট পাচ্ছো তা আমি সহ্য করতে
পারছি না। আপুকে আমি কোনদিন ক্ষমা করব
না। ভালো থেকো। আল্লাহ্ হাফেজ।

আজ শুক্রবার বিধায় কোচিং বন্ধ। সবাই নাস্তা করে একসাথে বসে আড্ডায় বসলাম। এই উল্লুকটার কি কোন কাজ নেই নাকি? সারাদিন দেখি বাসায় নয়তো ঐ কাঠের ঘরটায় থাকে।বাসায় বসে বসে খাওয়ার জন্যই কি সেলারি দেয় নাকি? আস্ত একটা অকর্মার ঢেঁকি বুঝাই যায়। নিশ্চয়ই কাজ থেকে বের করে দিয়েছে! অমন অকর্মণ্যকে কে রাখবে কাজে! আচ্ছা সে কি সত্যিই ইঞ্জিনিয়ার? আমার তো মনে হচ্ছে
ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার। নকল টকল করে পাশ করেছে নিশ্চিত! অপদার্থ একটা!

আমি আর আপু আলাদা বসে কথা বলছিলাম। কোত্থেকে যেন শ্রাবণ এসে উপস্থিত হলো।
—কিরে ফাগুন মাস! কি এতো কথা হচ্ছে
দুজনের মাঝে?
—ভাইয়া! তোকে না বলেছি আমাকে ফাগুন
মাস ডাকবি না! আমার একটা সুন্দর নাম
আছে সেই নামে ডাকবি নয়তো ডাকতে হবে না।
—আরে এতো গাল ফুলাস কেন?
—ব্যাঙ ডাকার মাস তুমি।
—আপু ব্যাঙ ডাকার মাস মানে? বুঝলাম না।
—তোমার তা বুঝতে হবে না মিস মিমি চকলেট।
—এই যে মিঃ আমার নাম মিমি চকলেট না।
আফসানা মিমি আমার নাম! ওকে?
—আরে সানা তুমি তো জানো না ভাইয়া সবাইকেই একটা না একটা ডাকনাম দেয়। আচ্ছা যা বলছিলাম ভাইয়াকে ব্যাঙ ডাকার মাস ডাকার কারন হলো……
—এই তুই চুপ করবি?
—আরে বলতে দে তো তোর এই নামের সিক্রেট রিজনটা। আচ্ছা শুনো ভাইয়ার নাম তো শ্রাবণ।
আষাঢ় শ্রাবণ এই দুই মাস মিলে হয় বর্ষাকাল।
তো বর্ষাকালে ব্যাঙ ডাকে জানো তো? এজন্যই
ভাইয়াকে ব্যাঙ ডাকার মাস ডাকি।

এটা বলেই আপু হাসতে লাগল। আমারও হাসি পেয়ে গেল। আর মিঃ কাঠখোট্টা পেঁচার মত মুখ করে বসে আছে। দেখার মত হয়েছে মুখটা। শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে আপুকে আমি জিজ্ঞেস করলাম
—তা আপু কোন কোন ব্যাঙ ডাকে শ্রাবণ মাসে?
—ঐ মিমি চকলেট ভালো হবেনা কিন্তু।
—কি ভালো হবে না রে? নিজে তো ঠিকই বলতে
পারিস? লোকে বললে জাত চলে যায়!
—একদম উল্টাপাল্টা বলবি না……

তাদের ঝগড়া চলতেই আছে। তারা দুই ভাইবোনের ঝগড়া দেখে ভাইয়ার কথা মনে পড়ে গেল। ভাইয়াও আগে আমার সাথে কত দুষ্টমিই না করতো! এখন চেঞ্জ হয়ে গেছে ঐ একটা কারনে। এটার জন্য ভাইয়া কত কষ্টই না পাচ্ছে! এটা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।
একবার ভাইয়া আর আমি আম বাগানে গিয়েছি আম পাড়তে। যখন গাছে উঠে আম পাড়তে শুরু করলো তখন ভাইয়াকে বললাম
—ভাইয়া এখন যদি গাছে আরশোলা দেখো
তাহলে কি করবে?
—আফু রে আমাকে ভয় দেখাস না প্লিজ। নইলে
কিন্তু গাছ থেকে পড়ে যাব!

যদিও আমি জানতাম যে গাছে কোন আরশোলা থাকে না। তবুও ভয় দেখানোর জন্য বললাম যে
—ঐ যে দেখো ভাইয়া তোমার মাথার উপরের
ডালে আরশোলা!
এটা বলতে দেরি হলো কিন্তু দিক বেদিক হারিয়ে পড়তে দেরি হলো না। যদিও একেবারে মাটিতে পড়েনি। একটা ডালে ঝুলে ছিল। এটা দেখেই আমি হাসতে হাসতে শেষ। ছেলেরাও আরশোলাকে এত ভয় পায়!

এটা মনে হতেই হাসি পেয়ে গেল আমার। হঠাৎ
শ্রাবণের একটা কথায় ঘোর ভাঙলো
—পাগলের মত এভাবে হাসছো কেন? কুকুর
কামড় দিয়েছে নাকি?
এটা শুনেই আমি চোখ বড় বড় করে তাকালাম।
এই লোকে কি বলে এসব?
—কি হলো? এমন তেলাপিয়া মাছের মতো চোখ বড় বড় করে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? মনে হচ্ছে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে!

এটা শুনে আমার মাথায় রক্ত ওঠে গেল। কি বললো!আমার চোখ তেলাপিয়া মাছের মতো! এমন একটা
কমপ্লিমেন্ট করতে পারলো আমার চোখ নিয়ে?
—ঐ মিঃ খরগোশ আপনার চোখ যে গরুর মতো
জানেন কি আপনি? সারাক্ষণ তো এই ষাঁড়ের মত
চোখ দিয়ে মানুষকে গিলেন।
আপু বাগড়া দিয়ে বললো
—আরে কি শুরু করেছো তোমরা? ছোট বাচ্চার
মতো ঝগড়া কেন করছো?
—ওই কি বললা তুমি আমার চোখ গরুর মতো?
সাহস তো কম না তোমার!
—যা সত্যি তাই তো বলেছি। হুহ্ গরুর চোখওয়ালা।

এটা বলেই রুমে চলে আসলাম। কত বড় সাহস এই বেটার! স্কুল কলেজে কেউ আমাকে এসব বলার সাহস পায়নি। আর ঐ বেটা বলে কিনা আমার চোখ তেলাপিয়া মাছের মতো! মন চাচ্ছে তাকে ব্লেন্ডারে ভরে ইচ্ছেমতো লবন, মরিচ, চিনি দিয়ে ব্লেন্ড করে শরবত বানিয়ে খাই। তবেই যদি সাময়িক সময়ের জন্য একটু শান্তি পাই! বেটা খচ্চর! বদমাইশ!

সারাদিন আর শ্রাবণের সাথে কোন কথা হয়নি। সে অবশ্য বলতে চেয়েছে কিন্তু আমিই পাশ কাটিয়ে চলে আসি। খেতে বসেও বারবার পায়ে গুঁতো দিচ্ছিল। তখন মনে চাচ্ছিল পা দুটো কেটে তার গলায় ঝুলিয়ে দেই! এতো বিরক্ত করেন কেন উনি?

ঘুমের যে কি হলো! ঘুমও আসছে না। রাত বাজে বারোটা! এদিকে আমারও বারোটা বেজে গেছে। ঘুমের মাসির দেখা নেই। কোথায় আছে কখন আসবে কে জানে! ব্যালকনিতে যেতাম কিন্তু যদি আবার ঐ
কাঠখোট্টার মুখ দেখতে হয় তাই যাবনা! চোখে যেই হালকা ঘুম ভর করেছে সেই মুহূর্তে মোবাইলটা বিকট শব্দে বেজে উঠল। সাইলেন্ট না করার ফল। মানুষের কি রাত বিরাতে কাজ নেই নাকি? শুধুশুধু ডিস্টার্ব করে। রিসিভ করার আগে ফোনদ্বাতার চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করলাম।
—আস্সালামু আলাইকুম কে বলছেন?
—কি করতেছো তুমি?
কেমন বেয়াদব! সালামের উত্তরটাও দিল না!
—কে বলছেন আপনি?
—আগে বলো কি করতেছো?
—জানেন না এই রাতের বেলা মানুষ কি করে? আমিও তাই করছি। খোলাখুলি বলতে গেলে এইমাত্র আমি সাঁতার কাটতেছি। আসলে একটু আগে ফুটবল খেলার কারনে প্রচুর গরম করতেছে তাই নদীতে নেমে সাঁতার কাটতেছি।পানিতে ইচ্ছেমত ডুবাচ্ছি এখন। মন চায়ছে
এই মুহূর্তে আপনাকেও পানিতে চুবাই।

চলবে……..

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ