Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"সব সম্পর্কের নাম হয় নাসব সম্পর্কের নাম হয় না পর্ব-২+৩

সব সম্পর্কের নাম হয় না পর্ব-২+৩

সব সম্পর্কের নাম হয় না

পর্বঃ০২

লেখাঃ #বাশরুন বর্ষা

আজিব মানুষ তো আপনি এতো স্পিডে কেউ গাড়ি চালায়? ভাগ্যিস গাড়ি থেকে ছিটকে পরেছিলেন।না হলে তো এখনি গেছিলেন।দেখি উঠুন।

হঠাৎ গাড়ি থেকে এভাবে পরে যাওয়ায় মাথায় অনেকটা চোট লাগে উচ্ছ্বাসের।ওঠে দাঁড়াতেই মাথাটা কেমন ঘুরতে লাগে।চারদিকটা কেমন এলোমেলো লাগছে।
আর ইউ ওকে? এই যে হ্যালো।

পাশে থাকা সুকন্ঠী মেয়ের কথাগুলো ঠিকভাবে কানে যাচ্ছে না উচ্ছ্বাসের। মনে হচ্ছে মাথা ঘুরে পরে যাবে এখনি।কিন্তু পরক্ষনেই মেয়েটি উচ্ছ্বাসকে ধরে নিয়ে রাস্তার ধারেই একটা ব্রেঞ্চে বসালো। আশেপাশে অনেক লোক জড়ো হয়ে গেছে ভাগ্য ভালো থাকাতে গাড়ি ব্লাস্ট হওয়ার সময় কারো কোন ক্ষতি হয় নি। মেয়েটি কয়েকটা পুরুষ লোককে অনুরোধ করে যেনো উচ্ছ্বাসকে ধরে একটু সামনের হসপিটাল টায় দিয়ে আসে।দুজোন লোক উচ্ছ্বাসকে ধরে হসপিটালে নিয়ে যায়।ডক্টর মাথায় আর হাতে ব্যান্ডেজ করে দেয়।প্লাস একটা মেডিসিন সেখানেই খাইয়ে দেয়।এরপরই অনেকটা বেটার ফিল করে উচ্ছ্বাস। নরমালি কথাও বলছে। হসপিটালের সব ফরমালিটি শেষ করে বের হয় দুজনেই। এইবার পাশে থাকা মেয়েটিকে ঠিক ভাবে দেখা হলো উচ্ছ্বাসের। পরনে একটা লং টপস সাথে জিন্স।উড়নাটা গলায় পেচিয়ে দুইপাশে রাখা।পেছনে একটা ছোট ব্যাগ ঝুলানো।দেখেই বোঝা যাচ্ছে হয়তো কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়াশোনা করে।হসপিটালের গেটের সামনে এসেই দাঁড়িয়ে যায় উচ্ছ্বাস।

থ্যাংকস
ফর হোয়াট?

আপনার জন্যই হয়তো এখানে দাঁড়িয়ে আছি।না হয় হয়তো এখন আই সি ইউ তে থাকতে হতো আর না হয় সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে।

মৃত্যু এতোটাও সহজ না।ওই যে ওপরে একজন আছেন না? ওনিই সবটা করেন।আমরা মানুষ তো মাত্র ওনার উছিলা।

এনিওয়ে আপনার নামটাই তো জানা হয় নি।

আমি বৃষ্টি।আপনি?

উচ্ছ্বাস।

আচ্ছা একটা কথা বলুন তো এতো জোরে ড্রাইভ কেন করছিলেন? উফফ সরি সরি আপনাকে এই অবস্থায় বেশিক্ষন দাড় করিয়ে রাখাটা একদম ঠিক হবে না। এখান থেকে ৪ মিনিট হাটলে একটা রেষ্টুরেন্ট আছে।যদি চান তো এক কাপ কফি হতে পারে কি?

আপনার প্রবলেম নেই তো?

হা হা একদমই না চলুন।

বৃষ্টি আর উচ্ছ্বাস গিয়ে একটা রেষ্টুরেন্টে বসে। দুটো কফির অর্ডার করে।নিরবতার কিছুক্ষন পরেই শুরু করে বৃষ্টি

তারপর? কি করেন আপনি?

স্টাডি কমপ্লিট করে এখন বাবার বিজনেস সামলাচ্ছি দু বছর হয়।

বাপ রে এর মধ্যে পড়াশোনাও শেষ আপনার?

আমার বয়স কিন্তু খুব একটা কম নয় হা হা হা। বায় দ্যা ওয়ে আপনি করছেন?

ইঞ্জিনিয়ারিং ফাইনাল ইয়ার *ইউনিভার্সিটি।

আরে আমার ভাইও তো সেখানেই পড়ে।তুমি চিনবে হয়তো। নাম উজ্জ্বল। আমার চাইতে

আপনার চাইতে একটু কালো। আপনি হচ্ছেন ধবধবে ফর্সা। আর উজ্জ্বল একদম পারফেক্ট ফর্সা।হাইট এন্ড ওয়েথ সেম হবে।আপনার চুলগুলো যেমন হালকা কারলি ওর গুলো একদম স্ট্রেট।আপনার ছোট বোনের মে বি আজকে এনগেজমেন্ট তাই না?

তুমি চেনো তাহলে?

হ্যাঁ একসাথেই পড়ি আমরা। তবে আপনার ভাই সেটা জানা ছিলো না। আপনার বোনের নাম অনু নিশ্চয়। হ্যাঁ শুনেছিলাম। এর জন্যই তো উজ্জ্বল আরও ৩ দিন আগেই ভার্সিটি এরিয়া ত্যাগ করলো।

বৃষ্টির কথায় একটু হু হা করে হাসে উচ্ছ্বাস। কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলতে লাগে

আসলে আমাদের বোন আমাদের জন্য একটা পৃথিবী বলতে পারো। ওর জন্য আমরা সব করতে পারি। আচ্ছা উজ্জ্বল তোমায় ইনভাইট করে নি?

মিথ্যা বলবো না করেছিলো।আমিই না করেছি। আসলে আমার এতো লোক সমাগম ভালো লাগে না।

তা বললে তো হবে না। চলো ওঠা যাক। এমনিতেও এখন আমি একা যেতে পারবো না।আর তুমি নিশ্চয় চাইবে না যে একজন রোগীকে একা একা বাড়ির দিকে যাক।দেখো রাস্তায় যদি কোন কিছু হয়ে যায় তাহলে কিন্তু দায় টা তোমার থাকবে।

আসলে।

কোন কিছু শুনবো না। চলো ওঠো।বন্ধুর ভাইয়ের রিকুয়েষ্ট তো রাখো।

ঠিক আছে রোগীকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে কথা তো আমি পৌছে দিচ্ছি তবে আমি কিন্তু গেটের ভেতরে যাবো না বলছি।আপনি কথা দিন আমায় আমাকে বাড়ির ভেতরে যেতে বলবেন না? ওয়েট ওয়েট কথা??আপনার স্ত্রীর নাম কথা না? হ্যাঁ সামথিং একটা কথা।ছবি দেখিছি উজ্জ্বলের ফোনে।খুব মিষ্টি দেখতে।একদম পরীর মতো।

বৃষ্টির কথা শেষ হওয়ার আগেই উচ্ছ্বাসের মুখে থাকা উজ্জ্বল হাসিটা নিভে যায়। বৃষ্টি নিজেও অনেকটা অবাক। হঠাৎ কি এমন বললো যার কারনে এরকম করে ফেললো মুখটা?

আমি কি কিছু ভুল বলে ফেললাম?

মুহুর্তেই উচ্ছ্বাস নিজেকে নরমাল করে নেয়।আর ফিক হেসে দেয়

সেরকম কিছু না।সত্যিই ও অনেক সুন্দরী।উপরওয়ালার এক অপরুপ সৃষ্টির একজন।

ও হ্যালো এবার যাওয়া যাক।

ওহ সরি। চলো।

উচ্ছ্বাস আর বৃষ্টি কপিশপ থেকে বের হয়েই দেখে সামনে একটা গাড়ি পার্ক করা। আর উচ্ছ্বাস কোন কথা ছাড়াই গাড়িতে ওঠে বসে।বৃষ্টি সাথে সাথে গাড়ির দড়জার গ্লাস ধাক্কাতে লাগে।উচ্ছ্বাস গ্লাস নামিয়ে ভ্রু কুচকে তাকায়,,,,

কি হলো ওদিক দিয়ে ওঠে এসো?

আপনি না বলেই একজনের গাড়িতে ওঠে বসলেন? আবার আমাকে বলছেন ওদিক দিয়ে ওঠার জন্য?

হা হা হা। এটা আমাদেরই গাড়ি। ড্রাইভার ম্যাসেজ করে লোকেশন টা বলেছিলাম।আর সামনে যে ড্রাইভার বসে আছে ওনি আমাদের করিম আঙ্কেল। চলো ওঠো এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাসায় যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। প্রচুর জ্যাম মনে হচ্ছে রাস্তায়।অনু হয়তো মন খারাপ করে বসে আছে।

কি ভেবেছিলে আমায় বিয়ে করো নি তাই পার পেয়ে যাবে? কখনো না সুইটু এভাবে তো আমি তোমায় ছেড়ে দিবো না। খুব শিগগিরই তুমি এই বাড়ি থেকে বের হচ্ছো বুঝলে?

বিশাল বড় খান বাড়ির একটা পাশে কথাকে একা পেয়েই রাস্তা আটকে ধরে পিয়াস। এক হাতে কথার একটা হাত শক্ত করে ধরে আছে আর একহাত দিয়ে কথাকে বুঝিয়ে যাচ্ছে পিয়াস কি বলছে।

পিয়াসের সাথেই কথার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো।কিন্তু পিয়াস ছেলেটা মোটেও ভাল নয়।আগের ঘরে একটা বউ প্লাস ছেলে আছে সেইসব লুকিয়েই বিয়ে করতে গিয়েছিলো কথাকে। আর সেটাই বিয়ের দিন প্রকাশ করে পিয়াসের আগের বউ।তখনি বিয়েটা ভেঙে যায়।আর সেখানেই উপস্থিত ছিলো উচ্ছ্বাস আর উচ্ছ্বাসের বাবা আমজাদ হোসেন খান।পিয়াস একটা সময় জোর করেই কথাকে বিয়ে করতে চাইলে উচ্ছ্বাসের বাবা পুলিশকে খবর দেয় আর মেয়েটার সম্মানের কথা ভেবে কথাকে নিজের ছেলের সাথে বিয়েটা দেয়।এর জন্যই এই বাড়ির সবার সাথে কথার সম্পর্ক টা ঠিক নেই।

এদিকে পিয়াস যে আদনান এর আত্নীয় তা কথা বা উচ্ছ্বাস কেউ ই জানতো না।অনুর ভালোবাসার কথা চিন্তা করে বিয়েটাও ভাঙা সম্ভব না।তাই সবটা দেখে যেতে হচ্ছে ওদের।

কথা এখনো পিয়াসের থেকে যেতে পারছে না।হাতটা এমন ভাবে ধরেছে যেনো এখনি খসে পরবে।হঠাৎ কেউ একজন পিয়াসকে পেছনে ঘুরিয়ে ঠাটিয়ে একটা চড় বসিয়ে দেয়।

লজ্জা করে না অন্যের বউকে এভাবে ধরতে।মেয়ে বলে অসহায় পেয়েছো নাকি? বৃষ্টি আর কিছু বলার আগেই পিয়াস সেখান থেকে দৌড়ে পালায়।কারণ এখানে বেশিক্ষণ থাকলেই লোক জানাজানি হয়ে যাবে।আর তখন পিয়াসের সব প্ল্যান শেষ।

কথাকে দেখেই বৃষ্টি চিনে যায়।দুইকাধে হাত রেখে বলতে লাগে

হেইই তুমি কথা তাই না? হ্যাঁ সেম চোখ সেম ঠোঁট। ছবির চাইতে বেশি সুন্দরী তুমি।

বৃষ্টির কোন কথাই কথা বুঝতে পারছে না।শুধু চেয়ে আছে। কথাকে কোন জবাব দিতে না দেখে অজান্তেই দু হাত ইশারা করে জিজ্ঞেস করে বৃষ্টি

কি হলো?

তখন কথাও ইশারায় বৃষ্টিকে বোঝায়

আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি না।

তারমানে কথা কিছু বলতে পারে না? কই উজ্জ্বল তো কখনো এমন কিছু বলে নি।আর কে বলবে এই মেয়েটা বলতে পারে না।তাহলে কি লোকে ঠিক বলে যে আল্লাহ নাকি মানুষকে কোন না কোন দিকে একটু কম দেয়।যেমন বৃষ্টিনিজেই সবাই এতো এতো প্রশংসা করলেও নাকটা তার বোচা।কিন্তু এটা তো একটু কম না এতো সুন্দর একটা মেয়ে কথা বলতে পারে না।অথচ তার নামটাই কথা?

বৃষ্টি আর কিছু না ভেবেই কথার ডান হাতটা ধরে টানতে গেলে আয়া বলে ওঠে কথা। মুহুর্তেই হাতের দিকে তাকায় বৃষ্টি

একি হাতে কি হয়েছে?

এবার বৃষ্টি ইশারাতেই বলতে শুরু করে।তাই কথাও বুঝায়

ওই লোকটা হাতটা খুব শক্ত করে ধরেছিলো।

আহারে। তুমি এসো আমার সাথে।তোমার রুমটা কোথায় গো আমায় একটু নিয়ে চলো।

কথা বৃষ্টিকে সাথে করে নিজের রুমে যায়।বৃষ্টি রুমে ঢুকে এপাশ ওপাশ তাকিয়ে দেখে কোন মলম জাতীয় কিছু আছে কি না।কিন্তু সেরকম কোন কিছুই চোখে না পরায় নিজের ব্যাগ থেকে একটা মেডিসিন বের করে কথার হাতের লাল জায়গাটায় আলতো করে মেশাতে লাগে। প্রথমবার হাত দিতেই কেমন জালা করে ওঠে তাই হাতটা সরিয়ে নেয় কথা

আহা একটু তো জ্বালা করবেই তাই না? দেখি হাত দাও।এইতো গুড গার্ল হয়ে গেছে। একটা কথা বলো তো ছেলেটা কে? তোমাকে এভাবে ধরেছিলো কেন?

কথা কিছু বলে না।শুধু মাথা নেড়ে না বোঝায় যে কিছু হয় নি।কিন্তু মুখটা একদম মলিন। বৃষ্টি নিজের হাতদুটো কথার হাতের ওপর রাখে

আচ্ছা কিছু বলতে হবে না।তোমার সাথে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগলো জানো? এখন আমি আসি গো।টাটা।

বৃষ্টি ওঠে চলে যেতে নিলেই কথা ওর হাতটা ধরে বসে।বৃষ্টি পেছন ঘিরে মুখ নেড়ে জিজ্ঞেস করে কি?

কথা বসে বসেই বৃষ্টিকে বুঝাতে চেষ্টা করে

তুমি কে?

আমি কে? আমি একটা মানুষ।

অনুর কিছু হও?

উহু।

তাহলে এই বাড়ির কোন আত্নীয়?

না তো।

তাহলে?

বৃষ্টি খুব গভীর চিন্তার ভাব নিয়ে গালে হাত রেখে পুরো ঘর প্রায় হাটতে লাগে আর ভাবতে লাগে আমি কে? আমি কে? আসলেই তো আমি কে? একটু বাদেই কথার দিকে এগিয়ে আসে বৃষ্টি। হাত দিয়ে ওর ভাষায় বলতে লাগে

#সব সম্পর্কের নাম হয় না।

কথাটা বলেই বৃষ্টি রুম থেকে বের হয়ে যায়।

বৃষ্টি গুটিগুটি পায়ে বাড়ি থেকে বের হতে লাগে যেনো অন্তত উজ্জ্বরের চোখে না পরে।কিন্তু যেখানে বাঘের ভয় সন্ধ্যা তো সেখানেই হয়। সদরদরজা পার হতে যাবে তখনি পেছন থেকে কেউ বৃশু বলে ডেকে ওঠে।এই ডাক উজ্জ্বল ছাড়া আর কারো হতেই পারে না। কারণ এই পৃথিবীতে একমাত্র উজ্জ্বলই একজন যে কিনা কখনো বৃষ্টিকে বৃষ্টি বলে ডাকে না। যখনি ডাকে বৃশু।বৃষ্টি বা উজ্জ্বল কেউ ই জানে না এই শব্দটার মানে কি কিন্তু তবুও উজ্জ্বল ডাকবে।বৃষ্টি যে এখন দৌড়ে পালাবে সেই উপায়ও তার নেই কারণ ততোক্ষণে উজ্জ্বল ওর সামনে

তু তু তুমি এখানে?

আমারও তো একই প্রশ্ন।তুমি আমাদের বাড়িতে?

না মানে আসলে আমি তো জানি না এটা তোমাদের বাড়ি।আমি তো আসলে উচ্ছ্বাস

ভাইয়াকে চেনো তুমি?

না মানে সে অনেক কথা অন্য একদিন বলবো আজ আমি আসি কেমন।

বৃষ্টি চলে যেতে গেলেই উজ্জ্বল ওর হাতটা ধরে নেয়।আবার মুহুর্তেই হাতটা ছেড়ে দেয়

বৃশু প্লিজ।এসেছো যখন অনু্ষ্ঠান টা শেষ করেই যাও।

আমার এইসব একদম ভালো লাগে না উজ্জ্বল। আর তুমি সেটা খুব ভালোই জানো।আর তাছাড়া বাড়ি তো চিনেই গেলাম।আবার আসবো ওকে প্রমিজ কালকেই আসবো। কিন্তু আজ না প্লিজ।

কেনো আজকে থাকলে কি এমন রাজকার্য ফসকে যাবে শুনি? নাকি আমাদের বাড়ির আয়োজন পছন্দ হয় নি?

হঠাৎ করে কারো এমন কথায় ডানদিকে ফিরে তাকায় বৃষ্টি আর উজ্জ্বল। দেখে যে উজ্জ্বলের দাদি। উজ্জ্বল এগিয়ে গিয়ে দাদিকে বৃষ্টির সামনে নিয়ে আসে,

বৃশু এই হচ্ছে আমার দাদি। আর দাদি ও হচ্ছে বৃ

থাক তোমায় আর বলতে হবে না আমি বৃষ্টি। উজ্জ্বলের সাথে একই সাথে পড়াশোনা করি।

সে তো বুঝলাম।কিন্তু এখন যাবে মানে কি? আমার একমাত্র নাতনির বিয়ে বলে কথা।দাড়াও তুমি এক পা ও নড়বে না বলে দিচ্ছি। অনু এই অনু, অনু,

হ্যাঁ দাদি?

শোন এই হচ্ছে বৃষ্টি উজ্জ্বলের বন্ধু।যা ওকে তোর সাথে নিয়ে যা।আর একটা বড় নাতবউ এর শাড়ির মতো একটা শাড়ি ওকে দিবি বুঝলি।

আমি শাড়ি পরি না।

আহা পরো না তাতে কি। আমার বড় নাতবউও পরে না কিন্তু আজকে পরেছে সকালে একটা ক্রিম কালারের শাড়ি পরেছিলো আর রাতেও পরবে খুব সুন্দর লাগে ওকে শাড়ি পরলে।তুমিও পরবে কেমন? অনু যা নিয়ে যা।

অনু বৃষ্টির হাতটা ধরে উপরে নিয়ে যায়।কি থেকে কি হচ্ছে কিছুই মাথায় আসছে না বৃষ্টির।

এটা আমার রুম তুমি এখানে বসো।আমি ভাবির রুম থেকে আসছি। শাড়িটা ওখানেই আছে।

অনু শুনো এক টু। ধ্যাৎ চলেই গেলো কে জানে আজকে কখন যাওয়া হয়।বায় এনি চান্স যদি হোস্টেল গেট অফ হয়ে যায়।ওহ নো।

কথা বসে বসে শুধু বৃষ্টির বলা কথাটার মানে বুঝার চেষ্টা করছে।সব সম্পর্কের নাম হয় না মানে টা কি। এমন আবার হয় নাকি? আর কিছুই যদি না হয় তো এখানে কি করছে।কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই মনে পরে যায়।আজকে একবারও অনুর সাথে দেখা করার সুযোগ হয় নি কথার।কারন অজান্তা খান খুব কড়া করেই বলে গিয়েছেন যেনো অনুর আশেপাশেও কথা না থাকে।আর এই কয়দিনে নিজের শাশুড়ীর সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা হয়েছে কথার।কিন্তু এই মুহুর্তে তো অনুর সাথে দেখা করাটা খুব জরুরি। কথার ভাবনা শেষ হতে না হতেই হঠাৎ রুমে অনুর প্রবেশ। আর এসেই দড়জা আটকে দেয়।অনুকে দেখে কথা অনেকটা ভয় পেয়ে যায়।এভাবে এখানে এসেছে এটা যদি মা জানে তাহলে কি হবে।পুরো বাড়ি মাথায় করে নিবে সিউর।

চিন্তা করো না ভাবি মা কিছু দেখে নি।আমি এর জন্যই দড়জা বন্ধ করে নিয়েছি।মা এখন সাজতে ব্যস্ত।

অনুর কথায় একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে কথা।অনুকে নিয়ে বিছানায় বসে।আর আলমারি খুলে একটা ফুলের ঝুড়ি বের করে আনে।ঝুড়িটা খুব সুন্দর করে সাজানো।কিন্তু এটা হঠাৎ এখানে আনার মানে টাই বুঝতে পারছে না অনু

এটা দিয়ে কি হবে?

কথা একটা গাদাফুল সরাতেই অনুর চোখ কপালে পুরো

এইটার মধ্যে তো টাকা।তুমি কি তাহলে.

চোখ দুটো নামিয়ে অনুকে ভরসা দেয় কথা।হ্যাঁ সব ম্যানেজ করে ফেলেছি।

কিন্তু তুমি এতো টাকা কোথায় পেলে?

ওসব ছাড়ো তুমি এখন ফোন দাও লোকটাকে।আর বলো টাকা রেডি।

অনু লোকটাকে ফোন করে সবকিছু বলে।আর ওনারা যাতে কোন চালাকি না করে সেই ওয়ার্নিং ও দেয়। কিন্তু ঝামেলা টা হচ্ছে টাকার ঝুড়িটা নিয়ে বাইরে কিভাবে যাবে।

এমন সময় দড়জায় কেউ নক করতেই অনু কথাকে ইশারা করে যেনো ঝুড়িটা লুকিয়ে ফেলে।আর অনু গিয়ে দড়জা খুলে,,,

তু তুমি?

চলবে

#সব_সম্পর্কের_নাম_হয়_না💗

পর্বঃ০৩

#লেখাঃ #বাশরুন_বর্ষা

অনু দড়জা খুলতেই দেখে বৃষ্টি দাঁড়িয়ে।এদিকে কথা ঝুড়িটা কোনরকম আলমারিতে রেখে আলমারিটা আধখোলা রেখেই বিছানায় এসে বসে।দড়জার সামনে দাড়িয়েই উত্তর দেয় বৃষ্টি,

“তোমার সাথে কিছু কথা আছে। আশাকরি ব্যাপারটা বুঝবে তুমি।এসো ভেতরে এসো।

অনুকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বৃষ্টি ওর হাতটা ধরে ভেতরে নিয়ে আসে।

“দেখো অলরেডি রাত হয়ে গেছে আমি এখন বের না হলে হোস্টেলের গেট অফ হয়ে যাবে। তোমাকে আর কিছু করতে হবে না। আমি বরং এখন চলে যাই প্লিজ।

“কিসব বলছো? তুমি এভাবে চলে গেলে দাদি অনেক কষ্ট পাবে। আর হোস্টেল অফ হলে কি হয়েছে আমার কাছে থেকো আজকে।

“তুমি আসলে ব্যাপারটা বুঝতে পারছো না।আর এতো কিছুর মধ্যে দাদিমার মনেও থাকবে ন।

বৃষ্টি কথাটা শেষ করতে না করতেই হঠাৎ একটা শব্দ হয়। শব্দটা এসেছে আলমারির দিক থেকে।সবাই একসাথেই ওদিকে তাকায়।তাড়াহুড়ো তে আলমারিটা আধখোলা প্লাস ঝুড়িটাও ঠিক মতো রাখতে না পারায় হঠাৎই ঝুড়িটা পরে যায়।আর ঝুড়িতে থাকা টাকার অনেকগুলো বান্ডিল বাইরে ছিড়িয়ে ছিটিয়ে পরে।কথা আর অনু খুব ভয় পেয়ে যায় দুজন দুজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে।এদিকে বৃষ্টি তো পুরো অবাক। এতো টাকা এখানে এভাবে দেখে। অনু এবার তাড়াতাড়ি ওঠে গিয়ে দড়জা টা আটকে দেয়।আর এদিকে কথা টাকাগুলো আবার ঝুড়িতে ওঠাতে লাগে।

বৃষ্টি এসবের কোন মানেই বুঝতে পারছে না।সব কেমন গোলমাল লাগছে।তাই কিছু না ভেবেই প্রশ্ন করে বসে,

“এতোগুলো টাকা এভাবে ঝুড়িতে সাজানো যে?

শুকনো ঢোক গিলে অনু,

“না আসলে তেমন কি ছু

“কি হয়েছে অনু? এনিথিং রং?

অনুর কাছে কোন জবাব না পেয়ে বৃষ্টি কথাকে ইশারা করে।কিন্তু কারো কাছেই কোন জবাব পায় না।শেষে নিজেরই কেমন অস্বস্তি হয় বৃষ্টির।হয়তো এটা ওদের একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার,

“আম এক্সট্রেমলি সরি।আমার হয়তো এভাবে এখানে আসাটাই ঠিক হয় নি। এনিওয়ে তোমরা থাকো আমি বরং এখন আসি কেমন?

বৃষ্টি রুম থেকে বের হতে গেলেই পিছু ডাকে অনু,

“বলো?

বৃষ্টিকে কথা আর অনুর মাঝে বসিয়ে শুরু করে অনু।শুরু থেকে শেষ টা সবটা খুলে বলে।সবকিছু শোনার পর বৃষ্টির চোখ ছানাবড়া। ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে অনুকে,

“আদনান মানে তোমার হবু বরের সাথে কি এখনো কোন কন্টাক্ট হয় নি তোমার?

“না। আর আমি এই জন্যই সিউর যে যা করেছে আদনান নিজেই করেছে।একবার শুধু মেমোরি টা আমার কাছে আসুক।আমি কখনোই এরকম একটা প্রতারক কে বিয়ে করবো না।

“চোখের দেখা বা কানের শোনা সবসময় ঠিক হয় না অনু।আচ্ছা ওনারা আসবে কখন আজকে?

বৃষ্টির কথা শেষ হতে না হতেই নিচে অনেক হৈ-হুল্লোড় এর আওয়াজ শোনা যায়।তারমানে ছেলের বাড়ির লোক এসে গেছে।বৃষ্টি তাড়াহুড়ো করে ওঠেই এপাশ ওপাশ কিছু একটা খুজতে লাগে।

“আমায় না কি শাড়ি দিবে বলেছিলে অনু।তাড়াতাড়ি দাও তো রেডি হয়ে নেই।

” সে কি তুমি তো চলে যাবে বলছিলে?

“আরে যাবো যাবো সময় হলেই যাবো। তা আগে একটা কথা আমি কিন্তু শাড়ি পরতে জানি না কিভাবে হাটতে হয় তাও জানি না।তাই প্লিজ একটু ফ্রিলি পরিয়ে দিও।

“তুমি চিন্তা করো না। কথা ভাবি খুব ভালো শাড়ি পড়ায়। ভাবি ওকে শাড়িটা পড়িয়ে দাও এই নাও।

“কথা বৃষ্টিকে শাড়ির কুচি পর্যন্ত পরাতেই আচল টা কোন রকম নিয়েই রুম থেকে উধাও হতে লাগে,,,আবারও পিছু ডাকে অনু,

“এই একটু সাজলে না?

“আমার এসব সাজগোছ একদম পছন্দ না। আর আমি এখনি আসছি কেমন?কথাটা বলেই বৃষ্টি বেরিয়ে যায়।সিড়ি দিয়ে ঠিক ভাবে নামতে পারছে না।তাই শাড়িটা কোনরকম উঁচু করে নিয়ে নামতে লাগে।শেষ কয়েকটা সিড়ি থাকাকালীন কখন যে শাড়ির আচল টায় পারা লেগে যায় টেরই পায় না বৃষ্টি। আচমকা হোচট খেয়ে একেবারে নিচে এসে ধাক্কা খায় কোন একজন অচেনা মেয়ের সাথে যে কিনা ডালাতে করে গোলাপের পাপড়ি নিয়ে যাচ্ছিলো এরপরেই আবার ব্যালেন্স রাখতে না পেরে কারো ওপরে পরে যেতেই চোখ দুটো বন্ধ করে দেয় বৃষ্টি। চোখ খুলতেই দেখে উজ্জ্বল। এদিকে সবগুলো গোলাপের পাপড়িই ওদের দুজনের ওপরে এসে পরে।আসেপাশের সবাই কেমন হা করে তাকিয়ে আছে। এটা দেখে বৃষ্টি তাড়াহুড়ো করে ওঠে দাঁড়ায়। বৃষ্টিকে কখনো শাড়ি পরে দেখে নি উজ্জ্বল। আজকে হঠাৎ এভাবে দেখে অনেকটা অবাক। মাথাভর্তি গোলাপের পাপড়ি লেগে আছে।মুখে কোন প্রকার সাজ না থাকলেও ফুলের পাপড়িগুলোর জন্য অনেকটা অন্যরকম লাগছে,

“তুমি শাড়ি পরেছো?

“সরি সরি সরি।আসলে অভ্যস্ত নই তো তাই? তোমার লেগেছে কোথাও?

“হুম।।

“কই দেখি দেখি।

বৃষ্টি এগিয়ে আসতেই পলক ফেলে উজ্জ্বল,

“তুমি কখনো এটা দেখতে পারবে না বৃশু।

উজ্জ্বলকে খুব দ্রুত এরিয়ে অন্যদিকে দিকে চলে গিয়েও আবার ওর কাছে আসে বৃষ্টি।

“কিছু বলবে?

“অনুর বর কোনটা?

“ওহ।ওই যে নীল স্যুট পরা ছেলেটাই।

“থ্যাঙ্কিউ। কথাটা বলে আবারও উধাও বৃষ্টি।এখন শুধু সুযোগ খুজছে কিভাবে আদনানকে একা পাওয়া যায়।উপায় না পেয়ে খাবার সার্ফ করার জন্য যেসব লোকদের রাখা হয়েছে তাদের কাছে যায় বৃষ্টি। ওখান থেকেই একজন লোককে সাথে নিয়ে হাটতে লাগে,

“ওনাদের দিন।আসুন এদিকে আসুন। এক্সকিউজ মি প্লিজ। বৃষ্টি এক এক করে লোক টপকিয়ে আদনানের কাছে আসে।আর আদনানের হাতে একটা জুসের গ্লাস দিতে দিতে জিজ্ঞেস করে।

“হ্যালো আপনিই অনুর হবু বর তাই না?

“হ্যাঁ। কিন্তু আপনি?

“আমার কথা ছাড়ুন আগে বলুন আপনি ৩ দিন হয় অনুর সাথে কন্টাক্ট কেন করছেন না।

“ওহ একচুয়ালি আমার ফোন টা চুরি হয়ে গেছে।আর অনুর জন্য একটা সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছি আমি তাই আর এই কয়দিন অন্য কোন ফোন দিয়ে কন্টাক্ট করা হয়নি।এনিওয়ে ওকে একটু আলাদা করে আমার সাথে দেখা করাতে পারবেন? প্লিজ।

“সত্যিই আপনার ফোন চুরি হয়ে গেছে?

“সত্যিই চুরি হয়ে গেছে।

“ওকে আমি আসছি একটু।

বৃষ্টি আবারও রুমে চলে আসে।এসে দেখে অনু আর কথা পুরো রেডি।বৃষ্টিকে দেখেই ওঠে দাঁড়ায়।ওদের দুজনকে দেখে বৃষ্টি হা করে চেয়ে আছে,

“ওয়াও কি মিষ্টি লাগছে গো তোমাদের।আর অনু এনগেজমেন্টেই এতো গর্জিয়াছ লাগছে। আল্লাহ জানে বিয়ের দিন কি হবে।

“আগে বিয়েটা আসতে তো দাও।

“এসব বাজে কথা বলতে হয় না।শুনো আমি আদনানের সাথে কথা বলেছি।ওর ফোনটা আসলে চুরি হয়ে গেছে।

“মানে? ফোন চুরি হয়ে গেছে মানে কি? আর তুমু ওকে চিনলে কিভাবে?

“ওফফ এখন এতো কথা বলার সময় না৷ আর আগে বলো বেলকনি দিয়ে শাড়ি ধরে নামতে পারবে কে?
“কি বলছো এসব এটা কিভাবে সম্ভব।
“এছাড়া আর কোন উপায় নেই বাগানে যাওয়ার।কথা তুমি পারবে?

“উহু।
“বুঝেছি এখন আমাকেই যা করার করতে হবে।কথাটা বলেই বৃষ্টি শাড়ির আচল কোমড়ে গুজতে লাগে। বৃষ্টিকে এমন করতে দেখে অনু আর কথা চেয়ে আছে শুধু,

“দুটো শাড়ি দাও ফাস্ট।

কথা আলমারি থেকে দুটো সুতির কাপড় বের করে দেয়।বৃষ্টি শাড়ি দুটোকে একসাথে বেধে অনেকটা লম্বা করে নেয়।আর বেলকনিতে গিয়ে ওপরের রেলিং এর সাথে শক্ত করে বেধে নেয়।

“ঝুড়িটা দাও। ওহ একটা কালো কিছু দাও।

কথা গিয়ে টাকার ঝুড়িটা নিয়ে আসে সাথে একটা কালো চাদর।বৃষ্টি কোনরকম শাড়ি ধরে নিচে নেমে যায়।এরপর অনু শাড়ির মধ্যে ঝুড়িটা বেধে দিয়ে নিচের দিকে দেয়।বৃষ্টি ঝুড়িটা লোকগুলোর কথামতো সাদা গোলাপ গাছের নিচে রেখে আসে।আর আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে। এদিক থেকে অনু সেই লোকটাকে ফোন দিয়ে বলে যে টাকা টা সেখানে রেখে এসেছে।কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটা লোক এসে ঝুড়িটা নেয়।অন্ধকারে মুখটা দেখা যাচ্ছে না।কিন্তু হঠাৎ লোকটা ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে টাকা দেখার জন্য।

এদিক থেকে লোকটার মুখটা দেখেই বৃষ্টি চিনে ফেলে।হ্যাঁ এটাতো বিকেলের সেই লোকটা যে কিনা কথার হাত মুচরে ধরেছিলো।দুষ্টু লোকগুলো মাঝে মাঝে একটু বেশিই বোকামি করে ফেলে তা না হলে কি এরকম ভুল কেউ করে।কোনপ্রকার হাইড ছাড়াই এসেছে টাকাগুলো নিতে। আবার এখানে দাঁড়িয়ে দাড়িয়েই সব দেখে যাচ্ছে।এই মুহুর্তে বৃষ্টির নিজেকে নিজের গালি দিতে ইচ্ছে করছে।আগে জানলে ওখানে একটা ভিডিও রেকর্ডার সেট করে রাখা যেতো। কিন্তু কি আর করার।অন্ধকার ছবি তুলতে গেলেও যে ফ্ল্যাশ জ্বলে ওঠবে ফোনের। তাই এখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় আর নেই।শুধু অপেক্ষা যেনো মেমোরি টা এখানে রেখে যায়।লোকটা ঝুড়িটা মাটিতে নামিয়ে পকেট থেকে কিছু একটা বের করে সেখানে রেখে চলে যায়।মিনিট ৫ পরে বৃষ্টি দৌড়ে আসে সেখানে এদিক ওদিক খুজে দেখে একটা কাগজ মোরা পরে আছে।বৃষ্টি ওটা খুলে দেখে সেখানে মেমোরি। তাড়াতাড়ি করে মেমোরি টা নিয়ে আবার কথার রুমে চলে আসে।

“দেখো তো সব ঠিক আছে কিনা?

অনুর অনিচ্ছা স্বত্বেও মেমোরি টা চেক করতে হয়,

“এটা তো ঠিকই আছে। কিন্তু যদি ওরা কোন কপি রেখে থাকে আর আবার আমায় ব্ল্যাকমেইল করে তখন?

অনুর কথায় একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে বৃষ্টি,

“সেই ব্যবস্থা আমি করে এসেছি।আর কিছুক্ষন পর আবার ফোন দিবে তোমায়,

“মানে??

“জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।

বৃষ্টির কথামতো কিছুক্ষন পর আসলেই আবার ফোন আসে একটা নাম্বার থেকে।বৃষ্টি ফোনটা লাউডে রাখতে বলে,

“হ্যালো।

“আমার সাথে চালাকি?কি ভাবছেন ১০ লাখ টাকা কম দিয়া পার পেয়ে যাবেন? ভালোই ভালোই বাকি টাকা টা দিন বলছি না হয় ভিডিও নেই তো কি হয়েছে এর চাইতেও খারাপ কিছু হবে আপনার সাথে। নাহ আপনার সাথে হবে না আপনার কাছের মানুষদের সাথে হবে।আদনান ছেলেটা কিন্তু খুব ভালো।ওর কিছু একটা করলে কেমন হবে বলুন তো?

অনুর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নেয় বৃষ্টি,

“যাক তাহলে আর কোন ভিডিও কপি তাহলে আপনাদের কাছে নেই। ঠিক আছে কথা যখন রেখেছেন বাকি টাকাটাও আপনি পেয়ে যাবেন।কাল রাতেই পেয়ে যাবেন প্রমিজ।কিন্তু হ্যাঁ এর মধ্যে আপনি আর অনুকে ফোন করবেন না। না হলে কিন্তু আমি আপনাকে দেখে নিয়েছি খুব ভালোভাবে। পুলিশকে সবটা বলে দিবো।

“কে কে বলছেন আপনি?

“আপনার খুব কাছের শুভাকাঙ্ক্ষী। বায় বায়।

কথা বৃষ্টির হাত ধরে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসায়।জিজ্ঞেস করতে লাগে,

“কি বললো লোকটা?

“আমি ওনাকে ১০ লাখ টাকা কম দিয়েছি।

বৃষ্টির কথা শুনেছো কথার চোখ পুরো কপালে,

“কেন? এখন কি হবে তা হলে।

“কিচ্ছু হবে না। এবার চলো এখনি হয়তো অনুকে নিতে উপরে চলে আসবে কেউ না কেউ।

“তার আগে তুমি এসো আমি তোমায় সাজিয়ে দিবো।হাত ইশারা করে এমনটা বুঝিয়েই কথা বৃষ্টিকে টেনে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে নিয়ে বসায়।আর সাজাতে লাগে।কিন্তু বৃষ্টি তো মোটেই সাজতে রাজি না কোন রকম হালকা একটু লিপস্টিক আর কাজল নিয়েই ওঠে পরে।কিন্তু কথা এক প্রকার জোর করেই কানে গলায় গয়না। আর দুইহাতে দু মুঠো চুড়ি পরিয়ে দেয়।

“এটা কি করলে তুমি এতো ভারি সাজে আমি নিচে যাবো কিভাবে।

“কোন চিন্তা করো না অনু আছে।

বৃষ্টি আর অনু বের হতে যাবে তখনি খেয়াল করে কথা শুধু শুধুই ঘর গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছে।অনু পেছন ঘুরে এসে কথাকে ধরে নিজের দিকে ঘুরায়,

“আমি এসব কুসংস্কার মানি না ভাবি।যে মানুষটার জন্য আমার এতোটা ভালো হলো।আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনলো যে মানুষটা সে কখনো অলক্ষী হতে পারে না।তার জন্য আমার কোন অমঙ্গল হতে পারে না।তুমি চলো আমার সাথে চলো বলছি।

অনু কথাকে টেনে নিয়ে যেতেই কথা দাঁড়িয়ে যায়।।

“কি হলো চলো?

“মায়েদের কথা শুনতে হয় অনু।আর আমি তোমার অমঙ্গলের কথা ভেবে এখানে থাকছি না আমি তো শুধু মায়ের আদেশ পালন করছি।তোমার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা। হাতের ইশারায় কথাগুলো বলছে কথা আর দড়জায় দাঁড়িয়ে দেখছে উচ্ছ্বাস। অনু হঠাৎ এমন কেন বললো তা কিছুই বুঝতে পারলো না উচ্ছ্বাস। কিন্তু কথার দেখানোটা অনেকটা নাড়া দেয় উচ্ছ্বাসকে। সবাইকে কি আসলেই সম্মান দেয় মেয়েটা নাকি পুরোটাই অভিনয়।এসব কথা ভাবতে না ভাবতেই অনুর চিৎকারে ঘোর কাটে উচ্ছ্বাসের,

“ভাই তোমার মাথায় কি হয়েছে? হাতে কি হয়েছে? আর সারাদিন কোথায় ছিলে তুমি?

“আহা বাবা থাম না। কিছু হয় নি।এক্সিডেন্ট করেছিলাম। আর এই যে বৃষ্টি এই তো আমায় বাচালো নয়তো এতোক্ষনে গাড়ির সাথে সাথে আমিও ব্লাস্ট হয়ে যেতাম।

“কি বলছো তুমি এসব?

“কিছু না। আর এতো টেনশন করিস না তো।আজকে খুশির একটা দিন তাই না? চল নিচে চল।

“ভাই ভাবিকে বলো না?

“তুই যা আমি ওকে নিয়ে আসছি।

“সত্যি?

“হুম।

বৃষ্টি অনুকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে যায়।কোথায় বৃষ্টি অনুকে ধরে নিবে তা না অনুই বৃষ্টিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

উচ্ছ্বাসের এমন অবস্থা দেখে অনেকটা ঘাবড়ে যায় কথা।কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই এড়িয়ে যায় উচ্ছ্বাস। কিন্তু কথা নাছোড়বান্দার মতো বার বার উচ্ছ্বাসের সামনে গিয়ে একই প্রশ্ন করর যাচ্ছে।বিরক্ত হয়ে উচ্ছ্বাস কথার হাতের সেই ব্যাথা জায়গাতেই আবার চেপে ধরে।।

“নাটক করছো তুমি? এতো ইনোসেন্ট সেজে কিভাবে থাকো? কি ভেবেছো কিছু দেখেনি আমি সব দেখেছি আমি।কি করেছো তুমি এতোগুলো টাকা দিয়ে। বলো আমায়।বলোওওও

উচ্ছ্বাসের এমন ধমকে ভরকে যায় কথা।আর এক্সাই হোক সত্যিটা কখনোই বলা যাবে না।মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে কথা।উচ্ছ্বাস এবার কথার গালটা চিপে ধরে বলতে লাগে,

“তোমাদের মতো মেয়েরা আসলে চেনে একমাত্র টাকা। টাকা ছাড়া আসলে তোমরা কিচ্ছু চেনো না কিচ্ছু না।এই টাকার জন্যই তুমি পিয়াসের বউ বাচ্চা আছে জেনেও বিয়ে করতে চেয়েছিলে তাই না।

এবার কথা অনেকটা রেগে যায়।নিজেকে ছাড়িয়ে রক্ত চক্ষু নিয়ে বুঝাতে লাগে উচ্ছ্বাসকে,

“আর কতোবার বলবো আপনাকে যে আমি এসব জানতাম না। আর কিভাবে বুঝাবো আপনাকে?

কথার কোন কথাই উচ্ছ্বাসের কানে গেলো না। পাশে থাকা ফ্লাওয়ার ভাসটা ফ্লোরে ছুড়ে দিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগে,

“জানতে তুমি।।সবটা জানতে তুমি।তোমার মা এবং পিয়াস দুজনেই বলেছে তুমি জানতে সব। তুমি একটা লোভী মেয়ে।তুমি শুধু তোমার স্বার্থটাই দেখো। আর কিচ্ছু দেখো না তুমি। কেউ যে তোমাকে ভা,

এটুকু বলেই থেমে যায় উচ্ছ্বাস। কথাও নিজের চোখের পানি মুছে। খুব শক্ত হয়ে দাঁড়ায় উচ্ছ্বাসের সামনে।

“আপনি নিজেই তো আমায় চেক টা দিয়েছিলেন তাই না।বলেছিলেন যে আমার যতো টাকা প্রয়োজন আমি যেনো নিয়ে নেই।তো এখন আপনি কেন এরকম ব্যবহার করছেন আমার সাথে।আমার যতোটুকু লেগেছে নিয়েছি।কেন নিয়েছি কি জন্য নিয়েছি তা জবাব আমি আপনাকে দিবো না। কখনোই না।আর হ্যাঁ আপনি চেয়েছিলেন আমি যেনো টাকা গুলো নিয়ে এখান থেকে চলে যাই। হ্যাঁ চলে যাবো আমি এখনি চলে যাবো।গুড বায় মিঃ খান।

কথা আলমারি খুলে একটা ড্রেস বের করে।এই একটা ড্রেসই কথা নিজের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিলো। ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে বের হয়।দুই চোখ ছলছল করছে তবুও দাঁড়িয়ে আছে উচ্ছ্বাসের সামনে,

“আমি আপনার থেকে কিছুই নেই নি মিঃ খান।বরং আপনার অনেক কিছুই আপনার করে দিয়ে গিয়েছি।

এক মুহুর্তও দাঁড়ায় না কথা রুম থেকে বের হয়েই কোনমতে পেছন দড়জা দিয়ে বের হিয়ে যায় বাড়ির বাইরে।

চলবে,

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ