Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রেমসাগরের উত্তাল ঢেউপ্রেমসাগরের উত্তাল ঢেউ পর্ব-২+৩

প্রেমসাগরের উত্তাল ঢেউ পর্ব-২+৩

#প্রেমসাগরের_উত্তাল_ঢেউ
লেখিকা-লাবিবা নুসরত
||পর্ব-২+৩||

প্রাচীর সামনে এখন আয়ুসের বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। আলতাফ হোসেন। হঠাৎ ওনাকে এখানে দেখে যতটা না অবাক হয়েছে সবাই তার থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে প্রাচীর। বিয়ে ভেঙেছে প্রায় ছয় মাস। এতোদিনে সে একবারও আসে নি। প্রাচী ভেবেছে হয়তো উনিও ভুল বুঝে রাগ করে আছেন। তাহলে আজ আসার মানে কি? মিসেস লারা ওনার সামনে গিয়ে দাড়ালেন। আলতাফ মাথা নিচু করে রেখেছেন। মিসেস লারা তাকে সরাসরি বললেন,

“আপনি এখানে কেন? আচ্ছা আমার মেয়েটাকে এতো কষ্ট দিয়েও কি শান্তি হয় নি আপনাদের? আর কি চান?”

আলতাফ মাথা নিচু রেখেই বললেন,

“আমি জানি একটা ভুল করে ফেলেছি। আর আমার ছেলেও ভুল করেছে। আসলে প্রাচীকে আমরা অপমান করেছি। কিন্তু এখন তো আয়ুসের বিয়ে। তো সব ভুলে যদি আপ্নারা আমার দাওয়াত গ্রহন করতেন!”

প্রহর এগিয়ে এসে বলে,

“আপ্নারা আমার বোনকে আর কতো কষ্ট দিবেন বলে ঠিক করেছেন? প্রথমে পাঁচ মাস আগে হঠাৎ করেই বিয়েটা ভেঙে দিলেন। এখন আবার নিজের ছেলের সাথে আমাদেরই পরিবারের একজনের বিয়ে দিচ্ছেন। আচ্ছা, সব মানলাম। দাওয়াত দিতে এসেছেন কোন সাহসে? বিন্দুমাত্র লজ্জা বোধ কি নেই আপনাদের?”

আলতাফ হোসেন মাথা একটু উঁচু করে বললেন,

“আমাকে মাফ করে দিবেন। আর প্রাচী মা এদিকে আসো একটু।”

প্রাচী রোবটের ন্যায় সামনে এসে দাড়ালো। আলতাফ তাকে বললেন,

“আমাকে পারলে মাফ করে দিও। একমাত্র ছেলে তো আমার। ও বিয়েটা করতে চায় নি। তাই আমি ওকে আর জোর করি নি।”

মিসেস লারা এই লোকের কথা খুবই অবাক। নিজের একমাত্র ছেলের কথায় একটা মেয়েকে এতো কষ্ট দিতেও দ্বিধা বোধ করছেন না! ইনি মানুষ না অন্য কিছু?

মিসেস লারা~”আপনার ছেলের বিয়ে করার খুব শখ৷ তাই তো বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় আবারও বিয়ে করছে। যাইহোক ওই ছেলে কি করলো না করলো তা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই৷ আমরা দাওয়াত গ্রহন করতে পারলাম না। মাফ করবেন।”

আলতাফ~”আপনারা কিন্তু ভুল বুঝছেন। আমি সেভাবে কিছু…”
আলতাফ কিছু বলার আগে প্রহর বলল,

“আমরা বুঝতে পেরেছি আপনার ছেলে আমার বোনকে অনেক ভালোবাসতো। তাই তো অবিস্বাস করে বিয়ে ভেঙে দিয়ে নতুন জীবন শুরু করছে।”

প্রাচী এতো সময় নিরব দর্শক ছিল। সে এসব আর নিতে পারছে না। আলতাফকে সে বলে,

“আঙ্কেল প্লিজ এখান থেকে যান। আমি অনেক কষ্টে আছি। এসব আর আমি নিতে পারছি না। যান প্লিজ!”

আলতাফ চলে গেলেন। প্রাচী নিজের রুমে চলে গেলো। প্রহর আর লারা গেলেন না। তারা ভাবলেন কিছুক্ষন একা থাকতে দেয়া উচিৎ ওকে। তাহলে হয়তো ভালো লাগবে।

তারা দুজন আবারও সোফায় এসে বসলো। লারা প্রচন্ড রেগে আছেন৷ তিনি প্রহরকে বললেন,

“আজ তোর বাবা বাসায় নেই বলে। না হলে যা হতো!”

প্রহর~”মা আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম যে ছেলেটাকে আমার সুবিধার মনে হয় না। এরপরেও তোমরা আমার কথা শোনো নি। আর আরোহি এটা কিভাবে করলো? ও তো আমাদের রক্তের! আমার কি মনে হচ্ছে জানো? আয়ুস আর আরোহির মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। না হলে এতো জলদি কিভাবে সব হবে?”

মিসেস লারা প্রহরের কথায় তাল মিলিয়ে বলেন,

“হুম আমারও এখন তাই মনে হচ্ছে। মানছি আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এটা করার কোনো কারন ছিল না। তোর বাবা বলছিল যে প্রাচীর বিয়েতেই সব ঠিক করে ফেলবে। ওনাকেও দাওয়াত দেয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এখন দেখ! কি হয়ে গেলো! আমার মেয়েটা কিছুতেই ভুলতে পারছে না! এতো কষ্ট জীবনে কোনোদিন পায় নি ও!”
প্রহর~”মা তুমি চিন্তা করো না। আমি ওকে যতটা পারি বোঝাবো।”

মিসেস লারা~”তুই এখন ওর কাছে যা। একা রাখতে মন সায় দেয় না।”

প্রহর মিসেস লারার কথা মতো প্রাচীর ঘরে আসে। প্রাচী বিয়ের কার্ডটা ধরে কান্না করে যাচ্ছে। প্রহর কার্ডটা হাত থেকে নিয়ে পাশে থাকা ছোট ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। প্রহরের এমন কান্ডে প্রাচী অবাক হয়ে বলে,

“কি করলি আপুনি?”

প্রহর~”ওটা নিয়ে কি সবাইকে দেখিয়ে বেরাবি নাকি? ডাস্টবিনেই পরে থাক। এখন শোন। কান্না কেন করছিস?”

প্রাচী~”আপুনি আমার কষ্ট হচ্ছে খুব। এসব আর নিতে পারছি না। আর কতো সইতে হবে বলতে পারো? জীবনের প্রথম ভালোবাসা কিভাবে ভুলবো?”

প্রহর প্রাচীকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দেয়। দুই বাহুতে হাত রেখে বলে,

“যেদিন একটা রাজপুত্র আসবে! আর সে পুরো দুনিয়াকে ভুলে যাবে শুধু তোর জন্য! দেখিস সেদিন আর বেশি দূরে নেই।”

প্রাচী~”আপুই এটা বাস্তব! কোনো রূপকথার গল্প না।”

প্রহর~”তোকে দেখার পর সেই রাজপুত্রের কাছে সবকিছুই রূপকথার মতো স্নিগ্ধ হয়ে যাবে।”

প্রাচী বোনের কথার কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না। সে তো ভেবেই নিয়েছে যে আয়ুসকে ভুলতে পারবে না। প্রহর প্রাচীকে চুপ থাকতে দেখে বেশ বিরক্ত হলো। বোনটা সব বোঝে। তো এটা কেন বোঝে না যে খারাপ সময়ের পরেই ভালো সময় আসবে!
প্রাচীকে এইসেই কথা বলে যাচ্ছে প্রহর। সেই সময় কেউ দরজায় কড়া নারল।

“আসতে পারি শালিকা?”

প্রহর আর প্রাচী দুজনেই সেইদিকে তাকালো। ফারহান এসেছে। সে ভিতরে ঢুকে বলল,

“কি কথা হচ্ছিল হুম?”

প্রাচী চুপ করে আছে। প্রহর বলল,

“বোকার মতো কান্না করে যাচ্ছে ও। আচ্ছা তুমি বলো ও কেন বুঝছে না যে আসল দোষী ভালো থাকতে পারলে ও কেন পারবে না?”

ফারহান প্রহরকে বলে,

“উহু প্রহর,একটু ভুল বললে তুমি। তোমার এই কথার সাথে একমত হতে পারলাম না!”

প্রহর মুখ বাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“কেন কি ভুল বলেছি আমি? শুনি একটু!”

ফারহান~”আমার শালিকা কিন্তু মন থেকে ভালোবেসেছিল। আর ওই ছেলে কি যেন নাম? ওহ হ্যাঁ আয়ুস! ও মন থেকে বাসে নি। শুধু মোহ ছিল। যা এখন আরেকটা মেয়ের উপরে পরেছে। তাই আমার শালিকার কষ্ট বেশি হচ্ছে। কিন্তু এই মেয়ে শোনো?”

প্রাচীর দিকে তাকিয়ে ফারহান বলে,

“এখন কিন্তু এসব নিয়ে পরে থাকলে হবে না। জীবনটাই একটা ট্রাজেডি! কতো ঘূর্ণিপাকে পরতে হবে হিসেব নেই৷ একেকটা খারাপ সংবাদের সাথে হাজারটা ভালো সংবাদ পাবে। এখন ডিসিশন তোমার যে,কোনটা জরিয়ে থাকতে চাও!”

প্রাচী~”কেন?? কোনো ভালো সংবাদ আছে শুনি? আজকে সকালে নিজেক ভালোবাসার মানুষের বিয়ের কার্ড পেলাম। তাও দিয়ে গেলো তার হবু বউ। এরপর আবার আয়ুসের বাবা এসে দাওয়াত দিয়ে গেলো! আর কি সংবাদ পাবো?”

ফারহান~”সেটা বলবো। আগে আমার শ্বশুর মশাই আসুক বাসায়। এখন জামাই আদর কি পাবো না? নাকি পুরোনো হয়ে গিয়েছি? কোথায় যেন শুনেছিলাম শ্বশুরবাড়ি রসের হাড়ি! কিন্তু রস দূরের কথা হাড়িও পেলাম না! কি কষ্ট! এটার কাছে বাকি সব কষ্ট, দু:খ,বেদনা ফিকে!”

ফারহানের কথা শুনে কষ্টের মাঝেও প্রাচী হেসে দেয়। ফারহান মানুষটাই এমন! সবাইকে হাসাতে পারে। এটা তার একটা প্লাস পয়েন্ট। প্রাচীর এটা ভেবে ভালো লাগছে যে বোনটা তার মতো ভুল করে নি। ফারহানের সাথে প্রহরের নয় মাসের প্রেম ছিল। এরপর বিয়ে হয়৷ অনেক ভালো বাসে সে প্রহরকে। এক কথায় তার জীবন। প্রাচী তাদের দাম্পত্য জীবন দেখে ভাবতো যে তার আর আয়ুশের এমন একটা সংসার হবে। এখন সেসব মনে করলে রাগ হয় আবার হাসিও পায়। নিজের উপর হাসি পায়। নিজের ভাগ্যের উপর হাসি পায়!

_________________________

রাতের খাবার শেষ করে সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে। ফারহান আর প্রহর আজ যায় নি৷ মিস্টার ইজাজ শুধু একবার ফারহানকে শক্ত গলায় বলেছে যে আজ যেতে হবে না। ব্যাস! আর কিছু বলার সাহস পায় নি। তবে সে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার জন্য সবাইকে ড্রয়িংরুমে ডেকেছে। কেউ বুঝতে পারছে না ফারহান কি বলবে। কোনো ভালো খবর? কারন কোনো খারাপ খবর নেয়ার অবস্থায় কেউ নেই৷ বাইরে দিয়ে মিস্টার ইজাজ এবং মিসেস লারা নিজেদের শক্ত দেখাচ্ছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে কষ্ট থেকেই যায় তাদের।
মিস্টার ইজাজ ফারহানকে বলেন,

“কি বলবে তুমি?”

ফারহান আমতা আমতা করে বলে,
“আসলে…কিভাবে যে বলি?”

মিস্টার ইজাজ ~”বলো?”

এরপর ফারহান এমন একটা কথা বলে যা শুনে সবাই হা হয়ে যায়!

চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,,,,,,
(ধন্যবাদ সবাইকে গল্পটাকে ভালোবাসার জন্য। আজকের পর্ব কেমন লেগেছে জানাবেন অবশ্যই!)
#প্রেমসাগরের_উত্তাল_ঢেউ
লেখিকা-লাবিবা নুসরত
||পর্ব-৩||

ফারহান সবাইকে জানায় যে প্রহর প্রেগন্যান্ট। সবাই ফারহানের কথায় হা হয়ে যায়। প্রাচীর সব কষ্ট কিছুক্ষণের জন্য দূর হয়ে যায়। সে বলে উঠে,

“সত্যি?? ইসসস আমার একটা চ্যাম্প পার্টনার হবে!”

মিস্টার ইজাজ ফারহানকে বললেন,

“ফারহান সব কথা পরে। আগে চলো মসজিদে গিয়ে নফল নামাজ পড়ি!”

ফারহান~”বাবা বাসায় পড়া যেতে পারে? আপনি হেঁটে এতো দূর যাবেন? নাকি গাড়ি নিয়ে? আমি আসলে আজকে গাড়ি আনি নি।”

মিস্টার ইজাজ ~”মসজিদ কাছেই৷ আর নামাজ সেখানে পড়লেই ভালো। চলো জলদি।”

তারা আর দেরি না করে চলে গেলেন। মিসেস লারা রাইমাকে বলল,

“রাইমা জলদি মিষ্টি আনো!”

সে ফ্রিজ থেকে মিষ্টি এনে টেবিলে রাখে। প্রাচী প্রহরকে সবার আগে খাইয়ে দেয়। প্রহর এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না। আসলে কিছুদিন ধরে তার শরির ভালো যাচ্ছিল না। তাই গতকাল ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল। প্রহর যেতে চায় নি ফারহান জোর করে নিয়ে গিয়েছিল।

নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ পরে ফারহান আর মিস্টার ইজাজ বাসায় আসেন।
সবাই একসাথে রাতের খাবার শেষ করেন। সবাই বেশ খুশি খুশি। এই দু:সময়ে একটা ভালো খবর অন্তত পেয়েছে।
মিস্টার ইজাজ ফারহানকে বললেন,
“তোমার মা-বাবা জানে?”

ফারহান~”হুম জানিয়েছিলাম। তারা কালই আসবে।”

ইজাজ~”আচ্ছা ভালো। লারা এখন কিন্তু মেয়ের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে বুঝেছো?”

মিসেস লারা~”এমন ভাবে বলছো তুমি যেন আমি কিছুই জানি না! তোমার এই দুই মেয়েকে বড় করেছি একা হুহ।”

ইজাজ~”আরে সেটা তো জানি। একটু না বললে কেমন দেখা যায় বলো?”

ফারহান~”বাবা? আমি ভাবছিলাম যে আরোহি নামের ওই মেয়েটার কথা। সরি, সবাইকে মনে করিয়ে দিলাম এই খুশির সময়। বাট এটা তো ফেলে রাখা যায় না। ঝামেলা যত তারাতাড়ি সম্ভব শেষ করতে হবে!”

মিস্টার ইজাজ~”জানোই তো, আমার ভাই জমিজমা নিয়ে আমার সাথে ঝামেলা করে। আল্লাহর রহমতে আমার যা আছে তা অনেক। ওইসব তো আমি চাই না। কিন্তু ও এমন করে যেন আমরা ওই শত্রু! ভেবেছিলাম প্রাচীর বিয়েতে দাওয়াত দিব৷ আর সব ঝামেলা মিটিয়ে ফেলবো।”

মিসেস লারা~”কিন্তু তারা যা করেছে? সেটা নিয়ে কি বলবে তুমি?”

ইজাজ~”দেখো দোষ তো তাদের মেয়ে করেছে। তারা তো নির্দোষও হতে পারে!”

লারা~”এখন কি তুমি তাদের সুকন্যার বিয়েতে যাওয়ার প্ল্যান করছো? আমার মেয়ের থেকে এখন তোমার ভাই বেশি দরকারি হয়ে গেলো? এই বাড়িতে যেদিন এসেছি সেদিন থেকে অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এবার আমার মেয়েকে তারা কষ্ট দিয়েছে। বিয়েটা পরে করলে কি হতো শুনি? আবার আরোহি বিয়ের কার্ড দিয়ে যায়। এরপর আয়ুসের বাবা এসে কার্ড দিয়ে যায়! আর কতো কিছু সহ্য করতে হবে প্রাচীকে? ওকে কি মানুষ বলে গন্য হয় না?”

মিস্টার ইজাজ অবাক হয়ে বললেন,

“আলতাফ সাহেব এসেছিলেন? কখন?”

প্রহর~”আজ বিকালে। তুমি বাইরে গিয়েছিলে।”

প্রাচীর এসব ভালো লাগছে না। ঘুরেফিরে সেই একই কথা! ওই একই ঘটনা! সে চুপচাপ হাত ধুয়ে উঠে যায়। সবাই প্রাচী যাওয়ার পরে চুপ হয়ে যায়। তারা বুঝতে পেরেছে যে প্রাচী এই কথাগুলোতে কষ্ট পেয়েছে।

_____________________

নিজের ঘরে শুয়ে আছে প্রাচী। সন্ধার দিকে প্রহরের প্র‍্যাগন্যান্সনির কথা শুনে সব কষ্ট কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল। রাতের আঁধারে সেই কষ্ট এসে বাসা বেঁধেছে তার মনে। এই রাতগুলোই সবথেকে বেশি কষ্টকর মনে হয় প্রাচীর কাছে। সে নিজেকে সামলাতে পারে না। আজও এমনটাই হয়েছে। একমনে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে সে। খোলা জানালা দিয়ে বাইরের রাতের আকাশ দেখা যাচ্ছে। ঘড়িতে তখন প্রায় সারে বারোটার কাছাকাছি।
অনেকদিন হলো ফোনটা ভালোমতো ধরা হয় না। ফেইসবুকে শেষ পাঁচ মাস আগে লগ ইন করেছিল। আজ অনেকদিন পরে প্রাচী ফোনটা ভালো মতো ধরলো। আজকে শুধু একজনই কল করেছে। আর সে হলো প্রাচীর ফ্রেন্ড। খুব ভালো ফ্রেন্ড না হলেও মাঝে মাঝে কথা হতো। মেয়েটার নাম আরিয়া। একমাত্র ওই জানতো যে প্রাচীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। আসলে বেশি কাউকে জানানোর টাইম পায় নি। আর ভার্সিটি লাইফের এই একটাই ফ্রেন্ড আছে তার। খুবই ঘরকোনা মেয়ে সে।
প্রাচী ভাবলো এতো রাতে কল করা ঠিক হবে না। তাছাড়া শুধু একবার কল করেছে। জরুরি কিছু বোধহয় না। সে এবার ফেইসবুকে লগ ইন করলো। কয়েকটা মেসেজ এসেছে মাত্র। এই ফেইসবুক জিনিসটা প্রাচীর ভালো লাগে না। এখানে একদমই এক্টিভ থাকে না সে। শুধু যুগের সাথে তাল মেলাতেই ব্যাবহার করা। ভার্চুয়াল লাইফ থেকে রিয়েল লাইফটা বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে করে সে। কিছুক্ষণ ফেইসবুক স্ক্রল করার পর একটা পোস্ট তার সামনে এলো। আরোহির রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস। সেখানে আয়ুসকে মেনশন করে লিখা এংগেইজড! এটা দেখার পর চোখ বেয়ে নিজের অজান্তেই জল গরিয়ে পরলো প্রাচীর। এই ব্যাপারটা ভুলবে কিভাবে সে? যতবার এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়ে ঠিক ততবার আরও কাছে এসে পরেছে। ফোনটা সুইচ অফ করে পাশে রেখে দিয়ে হাটুগেরে কান্না করতে লাগলো প্রাচী। একই সাথে মনে পরে গেলো সেই সোনালী রঙের দিন গুলোর কথা! কতোটাই না খুশি ছিল সে!

_______________আট মাস আগে_____________

সুন্দর করে সেজে কোথাও যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাচী। প্রাচীর রুমেই বসে ছিল প্রহর। বেরাতে এসেছে। প্রাচীকে সাজতে দেখে জিজ্ঞেস করলো,

“কিরে? এতো সেজে কোথায় যাচ্ছিস তুই?”

প্রাচী মুখটা বাকা করে বলে,

“একটু শাড়ি পড়েছি আর চোখে কাজল দিয়েছি। তাতেই তোর মনে হচ্ছে আমি এতো সেজেছি? তুই বিয়ের দিন কেমন সেজেছিলি রে? হুহ! আমাকে নিয়েই পারিস। একটা ইনোসেন্ট বোন পেয়েছিস দেখে এমন করতে হবে? একটু সাজতেও পারবো না তোর জন্য!”

প্রহর চোখ গুলো বড় করে বলে,

“তুই ইনোসেন্ট? আল্লাহ! যাইহোক এখন ঝামেলা করার মুড নেই। বল কোথায় যাওয়া হচ্ছে হুম?”

প্রাচী প্রহরের একদম কাছে এসে বসে। লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে বলে,
“আপুনি শোন! আমাদের ভার্সিটির প্রাক্তন স্টুডেন্ট আয়ুস। আমার না ওকে অনেক পছন্দ! আজ একটা অনুষ্ঠান আছে৷ সেটায় দেখি ও আসে কিনা। তাহলে আমি বলে দিব।”

প্রহর অবাক হয়ে বলল,

“তলে তলে এতো কিছু চলে? ছেলে কি করে? ওর ব্যাপারে কিছু জানিস?”

প্রাচী~”শুনেছি আমি। নাম আয়ুস শরীফ। ওর বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা। আর আয়ুস নিজে একটা জব করে। এর থেকে বেশি কিছু জানি না! বাট আমি ভালোবাসি।”

প্রহর~”হঠাৎ করে ভালোবাসা হয়ে গেলো নাকি? ফারহানের সাথে সম্পর্কে যেতে এক বছর লেগেছিল। এরপর নয় মাস প্রেম। আর তোর ব্যাপারটা বুঝলাম না?”

প্রাচী~”আমি প্রথম ওকে রাস্তায় একটা বুড়ো মহিলাকে সাহায্য করতে দেখেছিলাম। এরপর ভার্সিটিতে আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানেও দেখেছি। আস্তে আস্তে কিভাবে যে ভালোবেসে ফেললাম!”

দুই বোন কথা বলছিল এরমধ্যেই মিসেস লারা চলে আসেন। প্রাচীকে দেখে বলেন,

“ওহ তুই তো দেখি শাড়ি পড়েই আছিস। ভালো। তা পড়েই বসে থাক৷ ঠিক আছে?”

প্রাচী ভ্রু কুচকে বলল,

“বসে থাকবো মানে?”

মিসেস লারা~”মানে হলো পাত্র পক্ষ তোকে দেখতে আসবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে ওরা।”

প্রাচী অবাক হয়ে গেলো মায়ের কথা শুনে। পাত্র পক্ষ আসবে মানে! জানা নেই শোনা নেই হুট করে দেখতে চলে আসবে? প্রাচী বলে,
“মা এসবের মানে কি? আমি বিয়ে করবো না! আর আমাকে না জানিয়ে আদিম কালের মতো বিয়ে ঠিক করে ফেললে?”

মিসেস লারা বিরক্ত হয়ে বললেন,

“আমি কি জানতাম নাকি? আজ সকালেই তোর বাবা বলেছে। আর সে এটাও বলেছে যে ছেলে তোর পছন্দ হলে তবেই বিয়ে। এখন ঝামেলা করিস না মা। আমি যাই। ওদিকে আবার কাজ আছে। রান্না বাকি।”

মিসেস লারা চলে গেলেন। প্রাচী মুখ ভারি করে বসে পরলো।

“দেখেছিস আপুনি? কার এমন সহ্য হয় বলতো?”

প্রহর~”আহা! প্রাচী! মন খারাপ করছিস কেন?”

প্রাচী~”তো কি এখন আমি নাচবো?”

প্রহর~”আমি বলেছি? আর দেখতে আসবে শুধু। বিয়ে তো আর হয়ে যাচ্ছে না। তুই বলে দিবি ছেলে তোর পছন্দ না ব্যাস!”

প্রহরের কথা শুনে প্রাচী কোনো উত্তর দিল না। বরং আগের মতোই মুখটা গোমরা করে বসে রইলো। চোখের কোনে পানি জমেছে। আয়ুসকে কি তবে আর বলা হবে না ভালোবাসার কথা!

______________________

পাত্র পক্ষের সামনে বসে আছে প্রাচী৷ মুখটা আগের মতোই ভার। আর মন ভরা কষ্ট। ছেলের দিকে তাকাতেও ইচ্ছা করছে না। তাক দেখতে নাকি দুজন এসেছে। ছেলে আর তার বাবা। প্রাচী মনে মনে ইচ্ছা মতো ছেলেটাকে ধোলাই দিচ্ছে। এখন এখানে থাকতেও ইচ্ছা করছে না। আবার উঠে যেতেও পারছে না। হঠাৎ প্রহর বলল,

“কিরে প্রাচী? সামনে তাকিয়ে ছেলের মুখ না দেখলে কিভাবে হবে?”
সবাই তাকে বলল ছেলের দিকে তাকাতে। তাই বাধ্য হয়ে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে সামনে তাকালো। আর তাকাতেই দেখলো একটা ছেলে মুখে ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে!

চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,,,,,,,,,,,

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ