Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তোমার জন্য সিন্ধুর নীলতোমার জন্য সিন্ধুর নীল পর্ব-১৬+১৭

তোমার জন্য সিন্ধুর নীল পর্ব-১৬+১৭

#তোমার_জন্য_সিন্ধুর_নীল
#পর্ব_১৬
#সারিকা_হোসাইন

সৌম্যের সামনে অবনত মস্তকে বসে আছে পিউ।তার চোখ থেকে অনবরত টুপটাপ করে গড়িয়ে পড়ছে জল।সৌম্য নির্বাক হয়ে বসে আছে।তাকে শান্তনা দেবার মতো কোনো ভাষা তার জানা নেই।

শুধু কোমল কন্ঠে বলে উঠলো
―পিউ এভাবে কাঁদলে তো বুকে কষ্ট হয় সোনা!

কান্নার বেগ আরো হুহু করে বাড়ে পিউ এর।
একটি পেন ড্রাইভ নিয়ে সৌম্যের কাছে এসেছে পিউ।
সিক্ত নয়নে অপরাধীর ন্যায় কাঁপা হাতে পেনড্রাইভ টি তুলে দিলো সৌম্যের হাতে।

সৌম্যের কথামতো সে তার বাবার পিছনে স্পাই এর মতো লেগেছিলো এ কয়দিন।
ফিঙ্গার প্রিন্ট পাউডার কালেক্ট করে এর সাহায্যে ফোনের লক খুলতেও সক্ষম হয়েছিলো পিউ।

এরপর সে গোপন কল রেকর্ডার এপ্স চালু করে দেয় নাসের হায়দার এর ফোনে।
ওখানে সকল ধরনের কথা রেকর্ড হতো।
পিউ সৌম্যের দরকারি রেকর্ড গুলো প্রতিদিন রাতে তার বাবা নেশায় বুদ হয়ে মাতাল হলে কালেক্ট করে নিজের পেন ড্রাইভে রেখে দিতো।

আজ ও তার ব্যাতিক্রম হয়নি।
―কিন্তু এই রেকর্ড টা শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।

“”মেজর মুহিত ওয়াসিফ কে শেষ করে দেবার প্ল্যানিং করছে তার বাবা!””

স্বর্গ কখনো যদি জানে তার বাবা তার ভালোবাসার মানুষের হত্যাকারীদের একজন।
তখন স্বর্গ কে কিভাবে মুখ দেখাবে পিউ?

নিজের বাবার প্রতি ঘেন্নায় বমি এসে যাচ্ছে পিউ এর।এতোদিন কার কাছে থেকেছে সে?

এখন পিউ বুঝতে পারছে তার মা কেনো তাদের ছেড়ে পালিয়ে গেছিলো।
অযথাই মায়ের প্রতি এতোগুলো বছর ঘেন্না পোষন করেছে।
আসল কালপ্রিট তো ওই নাসের হায়দার।

পিউ সহসাই সৌম্যের হাত চেপে ধরলো,
কান্না জড়িত কন্ঠে বলে উঠলো আমাকে তোমার কাছে নিয়ে চলো সৌম্য।
ওই রাক্ষসপুরী তে আমি আর যাবো না।
―আমাকে তোমার কাছে নিয়ে চলো।

“”ওখানে প্রতিমুহূর্তে আমার দম বন্ধ লাগে,আমার কিচ্ছু ভালো লাগেনা।সব কিছু চরম অসহ্য মনে হয়।

―প্লিজ আমার উপর একটু দয়া করো সৌম্য।

বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লো পিউ।

সৌম্য পিউকে শান্ত করার জন্য তৎপর হলো।বিভিন্ন কথা বলে পিউকে শান্ত করার চেষ্টা চালালো।কিন্তু কিছুতেই পিউ থামছে না।

সৌম্য পড়লো আরেক বিপাকে।

একজন সেনা সদস্য হিসেবে তার বিয়ের বয়স হতে আরো মাস ছয়েক বাকী।
বাড়িতেও এখনো পিউ এর কথা বলা হয়নি।
গ্রামের সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে সৌম্য।
পিউ কি পারবে নিজেকে গ্রামীন পরিবেশে মানিয়ে নিতে?

তবুও পিউকে শান্তনা দিতে সৌম্য আদুরে স্বরে বলে উঠলো এভাবে কেঁদোনা প্লিজ।
―কান্না করছো তুমি,কষ্ট পাচ্ছি আমি।
আমি প্রমিজ করছি যতো দ্রুত পারি তোমাকে আমার কাছে আনার ব্যাবস্থা করবো।
প্লিজ লক্ষিটি আর এভাবে কেঁদে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করো না।
বলেই পিউ এর মাথা তার বুকে চেপে ধরলো।

******
মিসেস তারিন স্বর্গকে চেয়েছে মুহিতের জন্য,তনুজার মুখে যেনো আর খুশি ধরেনা।
ছেলে হিসেবে মুহিতকে লুফে নিতে কে না চাইবে?
সৌন্দর্যে,ব্যাক্তিত্বে,যোগ্যতায় লাখে একটা মিলে এমন ছেলে।

নাফিজ কে যখন তারিন বলেছে তোর মেয়েকে দিবি আমাকে?

নাফিজ খুশিতে হাসতে হাসতে এক বাক্যে বলেছে আপা তুই এখনই নিয়ে নে তোর ভাতিজি কে!

মিসেস তারিন ভেবেছিলেন এমন ভাঙাচোরা পরিবারে নাফিজ হয়তো মেয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাবে বা মুখে সরাসরি না বললেও আকার ইঙ্গিত দিয়ে বুঝাবে।

এজন্য কিছুটা ভয় আর কিছুটা সংকোচ রেখেই তিনি আবদার টা করেছিলেন।

নাফিজ এতো দ্রুত রাজি হয়ে যাবে এটা তারিনের কল্পনার বাইরে ছিলো।

সেদিন রাতে পানি পিপাসায় ঘুম ভেঙে যায় মিসেস তারিনের।উনার কক্ষের জারে কোনো পানি ছিলো না।
দরজা খুলে যেই বাইরে বের হবেন তখন ই দেখতে পান মুহিত দৌড়ে স্বর্গের রুম থেকে বেরিয়ে আসছে।

মুহিত কে কিছু টের পেতে না দিয়ে পানি না খেয়েই দরজা লাগিয়ে দেন মিসেস তারিন।

ছেলে কেনো ওই রুমে গিয়েছে মায়ের বুঝতে এক সেকেন্ড সময় ও লাগলো না।

স্বর্গ যখন জ্ঞান হারিয়ে বিছানায় পরে ছিলো মুহিত কে মারাত্মক রকমের অস্থির দেখেই তিনি বুঝেছিলেন ছেলে ভালোবেসে ফেলেছে।

মা ছেলে মিলে জীবনে অনেক খুশি তারা হারিয়ে ফেলেছে।
গাধার মতো বাবার অর্পিত দায়িত্বের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে ছেলেটা।

মা হিসেবে কখনো কিছুই দিতে পারেননি তিনি মুহিত কে!
―,যা মুহিতের সকল গ্লানি মুছে দিতে পারে।

ভাইয়ের কাছে ভিক্ষা চেয়ে হলেও স্বর্গ কে মুহিতের কাছে এনে দেবেন এমন প্রতিজ্ঞাই তিনি মনে মনে করে ছিলেন।

কিন্তু তারা মুহিত কে এভাবে গ্রহণ করে ফেলবে উনি ভাবতেই পারেন নি।

মরার আগে ছেলেটাকে একটু গুছিয়ে দিয়ে যেতে পারলেই শান্তিতে শ্বাস ত্যাগ করা যাবে।
আমি থাকি বা না থাকি ছেলেটা তার ভালোবাসার মানুষের সাথে তো থাকবে?
মুহিতের বাবার অসমাপ্ত দায়িত্ব পালন করে দিয়ে যেতে পারলে মানুষটার আত্মা টা তো শান্তি পাবে।
মনে মনে ছেলে মেয়ে স্বামীর অতীত স্মৃতি মনে করে আনমনে অশ্রু বিসর্জন দিলেন তিনি।

ভেতরে থাকা দীর্ঘশ্বাস টাকে লুকিয়ে চোখে জমে থাকা জল মুছে ফেললেন সংগোপনে।
আজ মুকিত টা বেঁচে থাকলে কতো বড়ো হতো?
মুকিতের জন্যও একটা লাল টুকটুকে বউ আনতে হতো!
নামিরার ছোট বেবীটাকে দেখে কেমন রিয়াকশন হতো মুকিতের?

আহ, এসব ভাবলে বুকে ব্যাথা হয়,কষ্ট হয় প্রচুর।আমার ছোট বাচ্চাটা।
―আমার মুকিত !
আর পারলেন না এসব ভাবনা ভাবতে মিসেস তারিন।
হৃদযন্ত্র টা সায় দেয়না আর এসব ভাবলে।নিষ্ঠুরের মতো পীড়া দিতে থাকে।

★★★★

তনুজা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্বর্গের দিকে।
মেয়ের ঠোঁট কিভাবে এতখানি কেটে গেলো সেটাই তার বোধগম্য হচ্ছে না।
এদিকে জ্বরটাও কমছে না।মেয়েটার খালি বিপদের উপর বিপদ যাচ্ছে।
তনুজা একবার শুনেছিলেন গ্রাম্য মহিলাদের কাছে
―বিয়ের আগে যেসব কুমারী মেয়ের অসুখ বিসুখ,বিপদ আপদ লেগেই থাকে,তাদের যদি দ্রুত বিয়ে দেয়া হয় তাহলে সমস্ত বিপদ কেটে যায়।
উনি জানেন এসমস্তই কুসংস্কার।
কিন্তু মায়ের মন বলেও তো কথা।

তাই তিনি মনে মনে ভাবলেন যতো দ্রুত পারা যায় মেয়েকে মুহিতের গলায় ঝুলিয়ে দেবেন

মনের চিন্তা সরিয়ে স্বর্গের উদ্দেশ্যে বলে ফেললেন তনুজা
― ঠোঁটে ব্যথা কিভাবে পেলিরে বাবা?

―মায়ের কোলে মাথা রেখে গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিলো স্বর্গ।

মায়ের এহেন প্রশ্নে ভড়কে না গিয়ে সুন্দর ভাবে বলে দিলো

–―রাতে জ্বরের ঘোরে ওয়াশ রুমে যেতে নিয়েছি অমনি ওয়ালে বাড়ি খেয়েছি মা।

―চিন্তা করো না,ওয়েন্টমেন্ট লাগালেই ভালো হয়ে যাবে।

বলেই মুখ টিপে হেসে উঠতে চাইলো কিন্তু ঠোঁটের ঘায়ে টান লাগায় আউচ্ শব্দ করে উঠলো।

★★★★

জুন মাস বছরের সবচেয়ে উত্তপ্ততম মাস।আকাশে ঝকঝকে আকাশি মেঘের ভেলা সাথে আগুনসম সূর্যের তেজ।
কোনো ফাঁকফোকর গলিয়ে ধরনীতে বাতাসের আগমন হয় না।
ঘরের বাইরে বের হলেই মনে হয় যেনো গায়ে ফোস্কা পড়ে গেলো।
একটু রোদে দাঁড়ালেই পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়।

মুহিতের জলপাই রঙা আর্মি জিপটা নিয়ে মুহিত নাফিজ মাহমুদের বাংলোর সামনে অপেক্ষা করছে।আজ মিসেস তারিনের অস্ট্রেলিয়া যাবার ফ্লাইট।
আরো বিশ মিনিট আগে মুহিত মা কে তাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠে বসে আছে।অথচ তার মায়ের কোনো খবর নেই।গরমে আর সূর্যের তাপে মুহিতের মাথাও গরম হয়ে যাচ্ছে।

মেয়ে মানুষের এই এক দোষ।
কথার পর্বই শেষ হতে চায় না তাদের ।সময় নিয়ে একদম তাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।
হাতে থাকা স্মার্ট ওয়াচ টা বার বার টাচ করে করে সময় দেখে নিচ্ছে মুহিত।বিরক্তিতে মুখ দিয়ে ” চ” সূচক শব্দ করে জিপ থেকে নেমে দাঁড়ালো।
তার জানার অনেক আগ্রহ জাগলো এতো সময় কি করছে উনি ভেতরে।

_________

মিসেস তারিন খুশি খুশি মুখ নিয়ে তনুজার হাতে ধরে বিদায় নিচ্ছেন,তনুজা কেঁদে ভাসাচ্ছেন।
নাফিজ মাহমুদ বিরক্ত মুখে তাকিয়ে আছেন সহধর্মিনী তনুজার পানে।
অযথা কান্নার মানেই বুঝতে পারছেন না তিনি।
সকাল থেকে এই মহিলা কে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কান্না করতে দেখছেন তিনি।
তনুজা কোমল মনের মানুষ,সবাইকে একদম হৃদয়ের মধ্যে খানে বসিয়ে রাখে।
তাই বলে এতো কান্না করতে হবে?
মনের বিরক্তি আর ধরে রাখতে পারলেন না মুখ দিয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠলেন―
―আপা কি সারা জীবনের জন্য যাচ্ছে নাকি তনুজা?
যাচ্ছে তো মাস তিনেক এর জন্য।আর তার মেয়ের কাছে যাচ্ছেন।
অস্থানে তো যাচ্ছে না।
তুমি কান্না বন্ধ করো, না হলে আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি।

মিসেস তারিন তনুজার চোখের জল মুছে দিয়ে বললেন
―এতো কোমল কেনো তুমি তনু?
―আপা কিছুদিন পরই তো ফিরে আসবো।মনে কষ্ট নিও না।

চোখের জল মুছে তনুজা মিসেস তারিন কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন―
নিজের যত্ন নিবেন আপা, একদম খাবারে অনীহা করবেন না।
ওখানে নামিরা তো বাবুকে নিয়েই ব্যাস্ত হয়ে যাবে।আপনাকে আপনার নিজের ই সবকিছু খেয়াল করে চলতে হবে।

মিসেস তারিন স্বর্গের কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে থুতনি ধরে বললেন
―ফিরে এসেই তোমাকে আম্মা বানিয়ে আমাদের ঘরে নিয়ে যাবো।
আজেবাজে চিন্তা একদম করবেনা আম্মা।
এসে যেনো দেখি খেয়েদেয়ে একদম গুলুমুলু হয়ে গেছো।
ঠিক আছে?

স্বর্গের মনে হয় মিসেস তারিন কে আল্লাহ মুখে মধু দিয়ে পাঠিয়েছেন এই দুনিয়ায়।
না হলে একটা মানুষের কন্ঠ ,কথা বলার ধরন এতো মিষ্টি হয় কি করে?

মুহিত দরজায় দাঁড়িয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিলো।এর পর রুমে প্রবেশ করে মাকে শুধালো――
―মেয়ের কাছে যাবার ইচ্ছে নেই?
―দেখো কটা বাজে?
তোমার ফ্লাইটের টাইম হয়ে যাচ্ছে,দ্রুত বের হও।
ভাবছো পনেরো মিনিটের রাস্তা এজন্য ঢিলেমি করছো?
ইমিগ্রেশনে তোমার কাজ আছে মা-
তাড়াতাড়ি চলো বলেই মুহিত নাফিজ মাহমুদ কে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

******
শুনশান একটি জঙ্গল,কোনো মানুষের আনাগোনা নেই।মাঝে মাঝে পাখিদের কিচিরমিচির ডাক শোনা যাচ্ছে।চারপাশে বিশাল উঁচু উঁচু পাহাড়।
মুহিত আর স্বর্গ হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটি পাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছালো।

হঠাৎ ই পাহাড়ের চূড়া থেকে মুহিত কে কেউ ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দিলো।

,স্বর্গ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে কিন্তু নড়ার শক্তি পাচ্ছে না।মনে হচ্ছে কেউ তাকে চেপে ধরে আছে।

গলা দিয়ে আওয়াজ ও বের হচ্ছে না।

মুহিত কে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে লোকটি ভয়ংকর ভাবে হো হো শব্দ তুলে হেসে যাচ্ছে।

স্বর্গ কোনো কথাও বলতে পারছে না,কারো কাছে সাহায্য ও চাইতে পারছে না।
শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে।
অনেক কষ্টে গলায় শক্তি সঞ্চয় করে স্বর্গ চিল্লিয়ে উঠলো

“”মুহিত!

নিমিষেই ঘুম ছুটে গেলো স্বর্গের, সে এখনো কাঁদছে।শরীর ঘামে ভিজে একাকার।
এসির পাওয়ার উনিশ।
তবুও গরমে পিপাসায় তার গলা শুকিয়ে মরুভূমির ন্যায় হয়ে উঠলো।

ভয়ে বুক দুরু দুরু করে কাঁপছে।ঘড়িতে সময় দেখে নিলো দেড়টা বাজে।

কোনো কিছু চিন্তা না করেই মুহিতের রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলো।

――――――
মুহিত ল্যাপটপে নিজের যাবতীয় কাজকর্ম গুছিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
ভোর হতেই তাকে সিলেট যেতে হবে।সেখানে তিন দিনের জন্য থাকতে হবে।
মুহিতের সাথে মেজর আদ্রিয়ান আভিয়াজ ,ও দুজন ক্যাপ্টেন যাবে।
সৌম্য যেতে পারবেনা।
সে ছুটিতে আছে।

তাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর এসেছে সিলেট বর্ডার থেকে পাথরের গাড়িতে করে বিভিন্ন ড্রাগস বাইরের দেশ থেকে ঢাকায় সাপ্লাই দেয়া হচ্ছে।
মুহিত জানে এটি কার কাজ।
এজন্য প্রমান জোগাড় করতে নিজেই যাবে সে।
যেভাবেই হোক,যে কোনো প্রকারে আশরাফ চৌধুরী সম্পর্কে সকল তথ্যই মুহিত বের করে আনবে।
তাকে যদি পাতালেও যেতে হয় ,সেখানেও সে যেতে প্রস্তুত।

সব কিছু গুছিয়ে কেবলই মুহিত গায়ের টিশার্ট টা খুলে হ্যাঙ্গারে ঝুলাবে।
এমন সময়ে স্বর্গ এসে পিছন থেকে মুহিত কে ঝাপটে ধরে ফুঁপিয়ে উঠে।
এতো রাতে স্বর্গের উদ্ভ্রান্তের ন্যায় কান্নায় ভয় পেয়ে যায় মুহিত।

মামা মামী কেউ বাড়িতে নেই,হঠাৎ মামীর বাবা অসুস্থ হয়ে যাওয়াতে রাতে তারা উনাকে দেখতে গিয়েছেন,সকালে ফিরবে।
স্বর্গ অসুস্থ বলে তাকে রেখে গিয়েছে।

এখন যদি স্বর্গের অসুস্থতা বাড়ে, মুহিত একা কিভাবে সামলাবে?

সমস্ত চিন্তা বাদ দিয়ে স্বর্গকে সামনে এনে বিছানায় বসালো মুহিত।

বিচলিত হয়ে জানতে চাইলো
পেট ব্যাথা হচ্ছে বাবু?
কোথায় কষ্ট হচ্ছে আমাকে বলো!
এক্ষুনি সব ঠিক করে দিচ্ছি
প্লিজ জান এভাবে কেঁদোনা সহ্য করতে কষ্ট হয়।

মুহিতের আদর যুক্ত কথায় কিছুটা ফুপানো কমলো স্বর্গের।
মুহিত স্বর্গের চোখের জ্বল মুছিয়ে দিয়ে হাটু মুড়ে ফ্লোরে বসে স্বর্গ কে জড়িয়ে ধরে পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে জানতে চাইলো

কি হয়েছে পাখী?হসপিটাল নিয়ে যাবো?অনেক খারাপ লাগছে?

স্বর্গ মুহিতের ঘাড়ে থুতনি রেখে ফুপাতে ফুপাতে বললো
―আমি তোমাকে নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখেছি!

“”কেউ তোমাকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিয়েছে।””
“জানো আমি না তোমাকে কোথাও আর খুঁজে পাইনি!”
বলেই মুহিত কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে জোরে কেঁদে উঠলো স্বর্গ।

“”জানো আমার কতো কষ্ট হচ্ছিলো?””

তোমাকে হারালে আমি কিভাবে বাঁচবো মুহিত?

স্বর্গের স্বপ্নের কথা শুনে মুহিত স্বাভাবিক হলো,স্বর্গকে নিয়ে যেই ভয় পাচ্ছিলো সেটা কেটে গেলো।
স্বর্গকে ছাড়িয়ে,ফ্লোর থেকে উঠে স্বর্গের পাশে বিছানায় বসলো।

স্বর্গের একটা হাত মুহিতের কোলে রেখে আরেকটা হাত বুকে জড়িয়ে মুহিত বলে উঠলো―

“”তুমি বাজে স্বপ্ন দেখেছো।
অসুস্থ হলে মানুষ এমন ভিত্তিহীন স্বপ্ন দেখে।

―এই দেখো আমি সুস্থ সবল ভাবে তোমার সামনে বসে আছি।
তোমার কাছ থেকে আমাকে দূরে সরায় কার সাধ্যি?

কেউ কিছু করতে এলে তুমি তাকে ক্রসফায়ার করে দিও আমি অনুমতি দিলাম
বলেই মুহিত স্বর্গের জড়িয়ে রাখা হাতে চুমু খেলো।

আমার কিচ্ছু হবে না লক্ষীটি।
আমি যেখানেই যাই, যাই করি না কেনো!
সমুদ্রের নিচেও যদি যাই তোমার জন্য ফিরে আসবো!

“”হ্যাপি??

স্বর্গ মুহিতের চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ভেঙে বললো
―তিন সত্যি বলো!

স্বর্গের কিউট ফেস টি দেখে মুহিত হেসে ফেললো এবং পর পর তিনবার ঠোঁটে চুমু একে বললো
―এক সত্যি, দুই সত্যি, তিন সত্যি।

স্বর্গ বাচ্চাদের মতো করে বলে উঠলো আমি তোমার সাথে ঘুমাবো,আমার ভয় লাগছে।

মুহিত কিছুক্ষন মৌন রইলো
এর পর স্বর্গকে বুকে টেনে নিয়ে বললো
একজন ছেলে আর একজন মেয়ে বিয়ের আগে এক বিছানায় ঘুমুলে দুর্ঘটনা হয়ে যাবে রে পাগলী।

আমি চাইনা আমার জন্য তোমার কোনোক্ষতি হোক।

স্বর্গের চুলে বিলি কাটতে কাটতে মুহিত বললো
―কি বলেছি বুঝতে পেরেছেন ম্যাডাম?

নাহ বুঝিনি।

স্বর্গ নাছোড়বান্দা।
সে এই রুমেই ঘুমাবে।

অগত্যা না পারতে মুহিত রাজি হলো।
মুহিত নিজের কাঁথা বালিশ নিয়ে ফ্লোরে বিছানা করতে নিলেই সেখানে স্বর্গ বাধা প্রদান করে বলে উঠলো
―তোমার বুকে ঘুমুতে চাই মুহিত,তোমার বিছানায় নয়।

বাঁকা হাসলো মুহিত।মেয়েটা তাকে ভালোই কাবু করতে জানে।
এমন জীবন সঙ্গী হলেই তো বিবাহিত জীবন মধুর হবে।

মুহিত স্বর্গের দিকে তাকিয়ে বললো
তোমার সাথে শোবো কিন্তু শর্ত আছে
উৎসুক হয়ে জানতে চাইলো স্বর্গ
“”কি শর্ত?

রুমের লাইট অন থাকবে ঠিক আছে??

বাধ্য মেয়ের মতো স্বর্গ রাজি হলো।

ঘড়ির কাটা তিনটের ঘরে।
হঠাৎই গুড়গুড় শব্দে মেঘ ডেকে ঝুম বরাবর বৃষ্টি শুরু হলো।
পরিবেশ নিস্তব্ধ, কারো কোনো সাড়াশব্দ নেই।
এই দূতলা বাড়িটিতে প্রাপ্ত বয়স্ক দুজন নর- নারী ছাড়া আর কোনো প্রাণী নেই।

মানব মানবী কারোর চোখের পাতাতেই ঘুম ধরা দিচ্ছে না।
দুজন দুজনের হৃদ স্পন্দন শুনতে পাচ্ছে।

মুহিত অস্থির হয়ে যাচ্ছে বার বার।
ভেতর থেকে নিজের পুরুষ সত্ত্বা বার বার নিজের পুরুষত্ব জাহির করতে চাইছে।
মুহিত তাকে শিকল পরিয়ে বেঁধে রেখেছে।

অষ্ঠেপিষ্টে স্বর্গ দখল করেছে মুহিতের বুক,পা,হাত।

মুহিতের মাথা খালি খালি লাগছে,ভো ভো শব্দ হচ্ছে।মনে হচ্ছে গায়ে কেউ কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে।
স্বর্গের লজ্জা জনক চোখের চাউনি, বার বার ঠোঁট কামড়ে ধরা,এলোমেলো চুল,ওয়েস্টার্ন স্লিপিং ড্রেস।
সবকিছু মুহিত কে কন্ট্রোল লেস করে দিচ্ছে।

হঠাৎই মুহিত স্বর্গকে নীচে ফেলে স্বর্গের উপরে উঠে গেলো।

স্লিপিং শার্ট এর কলার সরিয়ে স্বর্গের কাঁধে কামড়ে ধরলো।
স্বর্গ ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো।
হুঁশে ফিরলো মুহিত, কামড়ের জায়গা থেকে মুখ সরিয়ে দেখতে পেলো ক্ষত থেকে ব্লাড বের হচ্ছে।
স্বর্গের চোখে টলমলে জল।
নিজেকে অপরাধী মনে হলো মুহিতের।

কিভাবে পারলো নিজের কলিজায় কামড় বসাতে?
রাগের চোটে ওয়ালে জোড়ছে ঘুষি বসিয়ে দিলো।

কেনো সে নিজের কন্ট্রোল ধরে রাখতে পারছে না?

কয়েকটা ঘুষি মারতেই হাত ফেটে বেরিয়ে এলো রক্ত।

স্বর্গ দৌড়ে এসে মুহিত কে জড়িয়ে ধরলো।

প্লিজ থামো!

আমার ব্যাথা লাগেনি।

―নিজেকে কষ্ট দিও না প্লিজ

চলো হাতে ব্যান্ডেজ করবে বলে মুহিতকে ছেড়ে দিয়ে নিজের রুমে দৌড়ে চলে গেলো ফার্স্ট এইড বক্স আনতে।
অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে এসে মুহিতকে টেনে নিয়ে বিছানায় বসালো।
স্যাভলন আর তুলার সহিত রক্ত পরিস্কার এর কাজ চালালো।
মুহিত নির্বিকার,
ওয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে সাদা ব্যান্ডেজ হাতে মোড়াতে লাগলো স্বর্গ।
মুহিত গমগমে কন্ঠে বলে উঠলো

―কাল আমাকে বিয়ে করবি জান??
#চলবে।

#তোমার_জন্য_সিন্ধুর_নীল
#পর্ব_১৭
#সারিকা_হোসাইন

[১৮+ এলার্ট,নিজ দায়িত্বে পড়বেন,বাজে কমেন্টস করবেন না]

●●●
ঘড়ির কাটা টিকটিক করে জানান দিলো এখন সকাল ন’টা।কিছুক্ষণ আগেই তনুজা আর নাফিজ মাহমুদ বাসায় ফিরেছেন।বাবাকে কাছে পেয়েই আবদারের ঝুলি খুলেছে স্বর্গ।

―বাপী ,মেজর মুহিতের সাথে আমিও সিলেট ঘুরতে যেতে চাই। বলেই নাফিজ মাহমুদের উত্তর শোনার প্রতীক্ষায় তাকিয়ে রইলো স্বর্গ।

―নাফিজ মাহমুদ স্বর্গকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে,
মুহিত সেখানে ঘুরতে যাচ্ছে না, সে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কাজে।

সেখানে স্বর্গকে নিয়ে গেলে তার কাজে ঝামেলা হবে,মুহিত বিরক্তও হতে পারে।

কিন্তু স্বর্গ যাবেই।স্বর্গ না যেতে পারলে মুহিত ও যেতে পারবে না।

এতবড় মেয়ের বাচ্চাদের মতো জেদ দেখে মনেমনে খুব বিরক্ত হলেন নাফিজ মাহমুদ।

এবার তনুজা মেয়ের পক্ষ নিয়ে বলে উঠলো―

তুমি তো দেখতেই পাচ্ছ মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে ঘর বন্দী হয়ে আছে।মুহিত যেহেতু যাচ্ছে মেয়েটাকেও নিয়ে যাক না।
শুধু তো সাথে করে নিয়েই যাবে,ওকে তো আর কোলে নিয়ে ঘুরতে হবে না তাইনা?

আল্লাহ তো আমার মেয়েকে জ্ঞান বুদ্ধি সব দিয়েছেন, মুহিতের কাজে ডিস্টার্ব হবে এমন কিছু সে কেনো করবে?

ঘরে বসে সারাক্ষন বোরিং হবার চাইতে একটু হাওয়া বদল করে আসুক না।

নাফিজ মাহমুদ সবই বুঝলেন,তনুজার কথাও ফেলে দেবার নয়।মেয়েটা সারাক্ষন অসহায় এর মতো শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছে।

কিন্তু মুহিতের যেই ব্যাক্তিত্ব,নাফিজ মাহমুদ কিভাবে এই আবদার করবেন সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না।

হঠাৎই দূতলার সিঁড়ি বেয়ে মুহিতকে নামতে দেখা গেলো।

ধবধবে ফর্সা গায়ে নেভি ব্লু শার্ট জড়িয়েছে সাথে পড়েছে লাইট কালারের জিন্স।পায়ে সাদা স্নিকার্স।চোখে কালো রোদ চশমা।

ছেলেটা এতটাই সুন্দর,দেখলেই ফুরফুর করে মন থেকে ভালোবাসা চলে আসে।
মুহিতের এমন রূপ দেখে মনে শিহরণ জেগে গেলো স্বর্গের।পুরুষটি আজকে থেকে তার একান্ত ব্যাক্তিগত হবে।এতো সুখ কোথায় রাখবে স্বর্গ?
সুখের ঠেলায় কি সে আজ মরে যাবে?

মুহিত নীচে নেমে মামা মামীকে উদ্দেশ্য করে বললো
―আমি সিলেটে যাচ্ছি,ফিরবো তিন চার দিন পর।

তনুজা কিছুটা ইতস্তত করে মুহিতকে বলেই ফেললো
―বাবা মুহিত, স্বর্গ যদি তোমার সাথে যায় তোমার কোনো আপত্তি আছে?
না মানে ও অনেক দিন ধরে ঘরে বসে আছে,মনটাও ভালো নেই।একটু হাওয়া বদল হলে প্রকৃতি দেখলে যদি মনটা ভালো হয় এই আর কি?

মামী আসলে――

মুহিত কে থামিয়ে দিয়ে নাফিজ মাহমুদ বলে উঠলেন
―ও তোমাকে বিরক্ত করবে না।ও শুধু তোমার সাথে যাবে,ওখানে আমার এক ফ্রেন্ড আছে আমি তাকে বলে দেব স্বর্গের ঘুরাঘুরির সকল ব্যাবস্থা আমার বন্ধু করে দেবে।

মুহিত মনে মনে বিপাকে পড়ে গেলো।
“”আরেহ বন্ধুর বাসায় গেলে বিয়ে হবে কিভাবে??

“এ আবার কোনো মুসিবত হাজির হতে চাচ্ছে!

স্বর্গ মাঝে দিয়ে বলে উঠলো
আমি মেজর মুহিতের সাথেই ঘুরবো,কোনো বন্ধু ফন্ধুর বাসায় যাবোনা।

এবার মুহিত কাউকে কিছু না বলতে দিয়ে নিজেই আগ বাড়িয়ে বলে ফেললো
না স্যার কোনো সমস্যা নেই,আমি উনাকে নিয়ে যেতে পারবো,বলেই স্বর্গের উদ্দেশ্যে তাগাদা দিলো
―স্বর্গ আপনি দ্রুত রেডি হোন, একটু পরেই মেজর আদ্রিয়ান গাড়ি নিয়ে আসবে।

মনে মনে মুহিত দোয়া পড়তে লাগলো
হুহ বাবা বেঁচে গেছি,এখনই তো ভালো সাজার নাটক ছুটে যাচ্ছিলো।

বিয়ের আগেই কি শশুরের কাছে আবদার করা যায় নাকি যে,
“”আপনার মেয়েকে আমার সাথে দূরে ঘুরতে যেতে দিন??

মিনিট দশেকের মধ্যেই স্বর্গ নীচে নেমে এলো।

তার পরনে মেরুন রঙের একটি জামদানি শাড়ি,সাথে ম্যাচিং গহনা,কানের দুল।বাদামি চুল গুলো খোঁপা করা,ঠোঁটে লিপস্টিক,চোখে কাজল, মুখে হালকা প্রসাধনী।
এমন রূপে নিজের প্রানপ্রিয় উর্বশীকে দেখে হার্টবিট মিস করলো মুহিত।
কেউ দেখার আগেই চোখ সরিয়ে, মামা আসছি ,বলে আগে আগে বেরিয়ে গেলো।।

বুকের বাম পাশে চাপড়াতে চাপড়াতে মুহিত মনে মনে বললো
―এই মেয়ে তোকে খু*ন করে ছাড়বে মুহিত।রূপের আগুনে তোকে ঝলসে দেবে।
এমন আগুন সুন্দরী নিয়ে রাস্তায় গাড়ি কিভাবে চালাবে মুহিত?
যদি মুহিত হার্ট এট্যাক করে?

হঠাৎই স্বর্গের গলার আওয়াজ পাওয়া গেলো―

কেমন অভিনয় করেছি মুহিত সোনা?

মুহিত হেসে হেসে বললো
―খুব ভালো হয়েছে,খুব খুশি হয়েছি, দশে দশ।সিলেট গিয়ে পুরুস্কৃত করবো দাঁড়াও।

মুহিত যে তাকে লেগপুল করছে সেটা ভালোই বুঝতে পারলো স্বর্গ।

এজন্য দ্রিম করে মুহিতের পিঠে বসিয়ে দিলো এক ঘা।

পিঠ হাতাতে হাতাতে মুহিত বলে উঠলো গুন্ডি একটা।

সব কিছুর শোধ সিলেট গিয়ে তুলবো।মনে মনে বাঁকা হাসলো মুহিত।

এরই মাঝে জিপ নিয়ে হাজির হলো মেজর আদ্রিয়ান।
মুহিত দুটো জিপের ব্যাবস্থা করেছে।।
একটাতে সে আর স্বর্গ যাবে অন্যটায় মেজর আদ্রিয়ান আর ক্যাপ্টেন রা যাবে।

ব্যাগপত্র গাড়িতে ভরে সবাই যার যার মতো গাড়িতে চেপে বসলো।গন্তব্য সিলেট,মৌলুভীবাজার,শ্রীমঙ্গল।

――――――――

হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় ফিরে এসেছেন আশরাফ চৌধুরী।মিথ্যে অভিনয় করে কতোদিন বসে বসে টাকা ঢালবেন সেখানে?
তার মধ্যে কোনো কাজ ই সেখান থেকে করা যাচ্ছিলো না।

নিজের ছেলের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে তেতে উঠলেন আশরাফ চৌধুরী।মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন
“”যার জন্য তার ছেলের এহেন দশা,তাকে জীবনের চরম শিক্ষাটাই দিবেন।
ভাবতেই কানে ফোন তুললেন

কি রে ফকিরের বাচ্চা দারোয়ান খলিল,ওই চুতিয়া মেজরের খবর বল।

ওপাশ থেকে খলিল নিজের এমন অপমানে কষ্ট পেলো।কিন্তু এটা তার সাময়িক কষ্ট।যখন টাকার চেক হাতে আসে এসব কষ্ট সেই চেকের সামনে ফিকে হয়ে যায়।

খলিল অপমান গায়ে না মেখে গদগদ হয়ে বললো
একটু আগে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
বিদঘুটে হাসলো আশরাফ চৌধুরী।
আজকেই তবে মেজরের খেল খতম হতে যাচ্ছে ?হুম?

মুহূর্তেই হাসি রাগে রূপান্তরিত হলো।
মদের গ্লাস হাতে তুলে চুমুক দিতে নিয়ে ছুড়ে ফেললেন মেঝেতে।
এই মেজরের জন্য তার অনেক কাজ আটকে রয়েছে।
যেখানে পুলিশ পর্যন্ত তাকে সমীহ করে চলে সেখানে এই দুটাকার মেজর তাকে পদে পদে নাজেহাল করে ছাড়ছে।
এই মেজরের জন্য তার যতো টাকা লস হয়েছে সব মেজরের চামড়া তুলে উসুল করবেন মনে মনে এই ভাবনা ভেবে ফেললেন আশরাফ চৌধুরী।

★★★

কাজী অফিসে বসে আছে স্বর্গ আর মুহিত।কিছুক্ষণ পরেই তারা একটি পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হবে।এর পর দুজন দুজনের সকল দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলবে।কেউ আঙ্গুল তুলতে পারবে না তাদের প্রতি।কোনো পাপবোধ থাকবে না।
থাকবে শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাসা।

কিছুক্ষণ পর কাজী সমস্ত পেপার রেডি করে দুজনের উদ্দেশ্যে পান খেতে খেতে নির্দেশ দিলেন――

“”এখানে সই করুন।””

স্বর্গের যেনো আর তর সইছে না।মুহিতের ব্যাপারে সে সবসময়ই ডেসপারেট।এই মুহূর্ত থেকে মুহিত তার ব্যাক্তিগত মানুষ হবে,নিজের স্বামী,সেই সুযোগ কিভাবে হাতছাড়া করবে স্বর্গ?

কাজীর হাত থেকে পেপার টেনে নিয়ে ঘষঘস করে এক সেকেন্ডে সই করে মুহিতের দিকে এগিয়ে দিলো।
স্বর্গের এমন খসখস করে সই করতে দেখে কাজীর নাকে মুখে পানের রস উঠে গেলো।পানি খেয়েও তার কাশি কমলো না।চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে এলো।

বাঁকা হেসে মুহিত সই করে কাজীকে সব বুঝিয়ে দিয়ে স্বর্গের হাত ধরে বেরিয়ে এলো।

মনে মনে কাজী স্বর্গকে বেশরম খেতাবে ভূষিত করলো।

*********

এখানে তিন দিনের জন্য এসেছে মুহিত।স্বর্গ যদি আরো থাকতে চায় তবে মুহিত এক দিন ছুটি বাড়াতে পারবে।
এখানে প্রতিটা সেকেন্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ।যেই কাজে মুহিত এসেছে সেটা করেই তাকে ব্যাক করতে হবে।
এখন স্বর্গকে হোটেলে পৌঁছে দিয়ে মুহিত কাজে বের হবে।কখন ফিরবে সে জানেনা।

বাকি দুই ক্যাপ্টেন মেজর আদ্রিয়ান কে নিয়ে জঙ্গল কটেজে উঠেছে,মুহিত নিউলি ম্যারেড প্লাস স্বর্গের কম্ফোর্টের জন্য সে গ্র্যান্ড সুলতান এ উঠেছে।
হোটেলে ঢুকতেই তাদের ওয়েলকাম ড্রিংকস দিয়ে ওয়েলকাম করা হলো।

এই হোটেল টা বড় রিসোর্ট এর মতো, ভেতরে সকল ব্যাবস্থাই আছে।সুইমিংপুল,গল্ফ খেলার মাঠ,কিডস জোন,জিম সেন্টার, বাহারি ফুলের গাছ,বিশাল বড় বড় নারিকেল গাছ সাথে পাহাড় কেটে সিঁড়ি করা রাস্তা।
সবকিছু এক নিমিষেই স্বর্গকে মুগ্ধ করে ফেললো।
কিন্তু লম্বা জার্নির জন্য স্বর্গ কে মুহিত জোর করে ধরে রুমে নিয়ে গেলো।
ধবধবে সাদা বিছানায় গোলাপের পাপড়ি ছিটানো,আর মাঝখানে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে একটা লাভ বানানো,লাল গোলাপের স্টিক রাখা ফ্লাওয়ার ভ্যাসে।
আলফাব্যাটস বেলুন দিয়ে লিখা লাভ ইউ স্বর্গ।
সব কিছুই স্বর্গের মন ছুঁয়ে গেলো।
ভালো লাগায়, ভালোবাসায় মুহিত কে জড়িয়ে ধরলো স্বর্গ।
মুহিত স্বর্গের মাথায় হাত বুলিয়ে দ্রুত ফ্রেস হতে তাড়া দিলো।

স্বর্গ ফ্রেস হয়ে এলে মুহিত ও ফ্রেস হতে চলে যায়,ফিরে আসে মিনিট দশেক পর।এসেই পোশাক পাল্টে স্বর্গকে বিশ্রাম নিতে বলে বেরিয়ে যায়।
মিনিট দুয়েক পরেই আবার রুমে ব্যাক এসে সতর্কতা বাণী দিয়ে যায় স্বর্গকে।
―বাবু আমি সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসবো,তুমি ঘুমানোর ট্রাই করো, একা একা বাইরে যেও না, কিছু লাগলে ইন্টারকমে কল করবে রিশিপশন থেকে হেল্প করবে।বলে স্বর্গের কপালে চুমু খেয়ে বেরিয়ে যায়।

জিপ নিয়ে মেজর আদ্রিয়ান কে সঙ্গে নিয়ে মৌলভীবাজার বর্ডার এ পৌঁছুলো মুহিত।এখান থেকেই তাকে গুপ্তধন খুঁজে বের করতে হবে।চারপাশে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।বড় বড় গাছপালার জন্য জায়গাটা আরো ঘুটঘুটে লাগছে।মাঝে মাঝে দুই একটা বন্য পশু পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে।

মেজর আদ্রিয়ান আর মুহিত টর্চ জেলে দুজন দুই পাশে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো।
মিনিট দশেক খোঁজাখুঁজি করার পর কাঙ্খিত জিনিস পেয়ে দুজনের মুখের হাসি ই প্রশস্ত হলো।
বাকী কাজ কাল দেখা যাবে।
তাড়া দেখিয়ে মুহিত হাসকি কন্ঠে বলে উঠলো――

―তো মেজর আদ্রিয়ান হোটেলে ফেরা যাক?
―সিউর মেজর মুহিত ওয়াসিফ
লেটস গো।

●●●●
আজকের রাত টা মুহিত আর স্বর্গের জন্য একটা স্পেশাল রাত হতে যাচ্ছে।
মুহিতকে স্বর্গ নিজের সব দিক থেকে হ্যাপি করে দেবে আজ।
ইন্টারকমে কল করে স্বর্গ রুমটাকে সাজানোর প্ল্যানিং করলো।সাথে নিজেকেও মুহিতের জন্য তৈরি করলো।

****
প্রচুর গাছপালা, পাহাড়,আর মেঘালয় পর্বতের প্রভাবে প্রায় ই বৃষ্টি হয় মৌলভীবাজারে।
আজকের আবহাওয়া টা খুব সুন্দর।
মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে সাথে ঠান্ডা বাতাস।

স্বর্গ পুরো রুমটা মোমবাতির আলোতে সাজিয়েছে,সাথে মুহিতের প্রিয় ফুল লাল গোলাপ আর রজনী গন্ধা।

আজ স্বর্গ নিজের মন মতো সেজেছে।তার রূপে মুহিত কে আজ ডুবে মরতে হবে।কেনো অন্য মেয়ের সাথে সেদিন কফিশপে বসেছিলো তার শোধ তুলবে আজ।

স্বর্গ কালো রঙের একটা পাতলা জর্জেট শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে স্লিভলেস ব্লাউজ পরে নিলো,সাথে ম্যাচিং করে ডায়মন্ড এর সেট পরলো।স্ট্রেইট চুলগুলো কার্লি করে ছেড়ে দিলো কাঁধের দুই পাশে।ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক, চোখের ঘন পাপড়িতে মাসকারা,মোটা করে কাজল দিয়ে ব্লাশন দিয়ে সাজ কমপ্লিট করলো।
মেদহীন কোমরে গোল্ডেন কালারের বেলি চেইন পরে নিলো।

একটু আগে মুহিত কল করেছিলো, বলেছে দশ মিনিটের মধ্যে ফিরবে।
সব কিছু গুছিয়ে রাখতেই দরজায় নকের শব্দ হলো।
দরজায় নকের শব্দে স্বর্গের বুক ধাকধাক করছে,নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে।তার মানে মুহিত এসেছে।
দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলো স্বর্গ।
পুরো রুম অন্ধকার করে রেখেছে স্বর্গ,মুহিত স্মিত হাসলো।
তার মানে বউ স্পেশাল কিছু রেখেছে।
স্বর্গকে আসছি বলে ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে মুহিত ফ্রেস হতে চলে যায়।
স্বর্গ দিশলাই এর সাহায্যে ক্যান্ডেল গুলো জ্বালিয়ে দেয়।সুগন্ধি যুক্ত মোমবাতি তে আগুন দিতেই পুরো কক্ষ জুড়ে মন পাগল করা সুন্দর গন্ধ ভেসে বেড়াতে লাগলো।
মিনিট দশেক পর শাওয়ার নিয়ে বের হলো মুহিত।

গায়ে সাদা শার্ট আর লোজ সাদা প্যান্ট পরে বেরিয়ে এলো মুহিত।
সামনের চুল গুলো কপালে দুই এক গাছি করে পড়ে রয়েছে।
গলার নীচে থুতনিতে মুক্তার মতো বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে,মোমের আলোতে স্বর্গের কাছে সেগুলোকে হীরে মনে হচ্ছে।

――――
মুহিতের দিকে নেশাক্ত নজরে মুহিতের সামনে এসে দাঁড়ায় স্বর্গ।
নিজের প্রেয়সীর এমন আগুন ঝরা রূপে দিশা হারালো মুহিত।
হারিয়ে ফেললো মুখের ভাষা।

স্বর্গ মুহিতের গলা জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে গাঢ় চুম্বন একে দিলো।
সম্বিৎ ফিরে পেলো মুহিত।
সহসাই স্বর্গের কোমর চেপে ধরলো শক্ত করে।
দখল নিলো স্বর্গের ঠোঁট।
মুহিতের সাথে তাল মিলিয়ে চললো স্বর্গ।
কাঁধ থেকে হাত চলে আসলো মুহিতের শার্টের বাটনে।
এক এক করে সব গুলো বোতাম খুলে ফেললো স্বর্গ।
মুহিত শার্ট খুলে ছুড়ে মারলো মেঝেতে।
বৃষ্টির বেগ আরো বেড়ে চললো সাথে উত্তাল হলো দুজন মানব মানবী।
স্বর্গকে এক ঝটকায় কোলে তুলে ফেললো মুহিত,শুইয়ে দিলো নরম ফুলের বিছানায়।ঝাঁপিয়ে পড়লো মুহিত স্বর্গের উপরে।
আজ কোনো বাধা নেই,কোনো পাপবোধ নেই।
আজ তারা পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ,স্বামী স্ত্রী।

স্বর্গের গলার ভাঁজে মুখ গুঁজে দিলো মুহিত,ছোট ছোট চুম্বনে ভরিয়ে দিলো গলা।
মুহিতের উষ্ণ স্পর্শে কেঁপে উঠছে স্বর্গ।

নিজের কন্ট্রোল হারালো মুহিত,হাতের বিচরণ হলো অবাধ্য।
স্বর্গের বক্ষে মুখ গুঁজে দিলো মুহিত,আস্তে আস্তে চলে এলো নাভীরন্দ্রের কাছে।উত্তপ্ত চুমু দিলো মেদহীন কোমরে।সাথে পেটে, কাঁধে,বক্ষে,পিঠে অসংখ্য লাভ বাইটস।

স্বর্গ নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারলো না।চরম আকুতি নিয়ে মাদকতার সুরে মুহিতকে আহবান জানালো স্বর্গকে সুখে ভাসাতে।

মুহিত বাধ্য দাসের ন্যায় আজ্ঞা পালনে সায় দিলো।
প্রথমবারের চেষ্টায় ককিয়ে উঠলো স্বর্গ,মুহিত স্বর্গের দিকে আহত দৃষ্টি দিয়ে সরে আসতে চাইলো।

জড়িয়ে ধরলো স্বর্গ।

ভেসে গেলো সুখের রাজ্যে,স্বর্গের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো জল।সেই জল শুষে নিলো মুহিত।
আদিম খেলায় মত্ত হলো দুজন নর–নারী।

~~~~~~
ভোরের আলো ফুটতেই ঘুম ভেঙে গেলো মুহিতের।নিজের বাহুডোরে স্বর্গের নিষ্পাপ মুখমন্ডল দেখে মনে সুখের হাওয়া দোলা দিলো।
স্বর্গের নগ্ন পিঠ দেখে আঁতকে উঠলো মুহিত। সারা পিঠে লালচে জখমের দাগ। ,নিজের অজান্তেই কষ্ট দিয়ে ফেলেছে স্বর্গকে।মুহিতের বুক থেকে সরিয়ে স্বর্গকে বালিশে শুইয়ে দিয়ে শাওয়ার নিতে চলে গেলো মুহিত।

পানির ছোয়া লাগা মাত্রই সারা শরীর জলে উঠলো মুহিতের।
কষ্টের বদলে সুখ অনুভূতি হলো মুহিতের।
প্রশস্ত হাসলো মুহিত।
মেয়েটা তাকে যেই সুখ গত রাতে দিয়েছে এই সুখ কি মুহিত তার এই ত্রিশ বছরের জীবনে কোনো দিন পেয়েছে?

মুহিত শাওয়ার নিয়ে এসে স্বর্গকে ডেকে তুললো,গোসল করে দ্রুত রেডি হতে বললো স্বর্গকে,আজ ঘুরতে নিয়ে যাবে।
কিন্তু স্বর্গ চোখ মেলে তাকাতেই পারছেনা।
এক রাতেই কেমন চেহারা মলিন হয়ে গেছে।মুহিতের অনেক মায়া হলো স্বর্গের জন্য।
স্বর্গ বহু কষ্টে উঠতে নিলে ব্যাথায় আবার শুয়ে পড়ে।

বিচলিত হয়ে মুহিত স্বর্গের গায়ের ব্ল্যাঙকেট টান দিতেই মুখে আধার নেমে আসে।পুরো শরীর লালচে জখমে ভরে আছে।

স্বর্গকে জড়িয়ে ধরে সরি বললো মুহিত।
এক্ষুনি মেডিসিন এনে দিচ্ছি জান, খেলেই ব্যাথা কমে যাবে।
স্বর্গের কপালে চুমু দিয়ে মুহিত আবার স্বর্গকে শুইয়ে দিলো।

রুমের অবস্থা এমন হয়ে আছে যেনো ঝড়,টর্নেডো,সাইক্লোন, সব কিছু এই রুমের উপর দিয়েই বয়ে গেছে।

মুহিত সব কিছু গুছিয়ে বাইরে চলে আসলো মেডিসিন কিনতে।
সাথে মেজর আদ্রিয়ান কে ফোন দিয়ে বললো ―

―চলুন মেজর আদ্রিয়ান শিকার ধরা যাক তবে।
বলেই বাঁকা হাসলো মুহিত।

#চলবে।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ