Friday, June 5, 2026







এক মুঠো প্রণয় ২ পর্ব-০২

#এক_মুঠো_প্রণয়
#সিজন_টু
#পর্ব_০২
লেখনীতেঃ একান্তিকা নাথ

বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যে হলো।জ্যোতি তখনও মেহুদের বাড়িতেই। অবশেষে আরো কিয়ৎক্ষন সময় মেহুর সাথে কাঁটিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়াল। বাইরে অন্ধকারের রেশ। কিছুটা দূর যেতেই হঠাৎ মনে হলো তার পেছনে কেউ আসছে। জ্যোতি মুহুর্তেই পিঁছু ঘুরল। অদ্ভুতভাবে কারোরই দেখা মিলল না৷ হতাশ হয়ে পুণরায় পথ চলায় মনোযোগী হতেই আবারও মনে হলো পেছনে কেউ আছে।কেউ অনুসরন করছে তাকে। এবার একদম সময় না নিয়েই পেছন ঘুরল। মুহুর্তেই এক পুরুষালি ছায়া চোখে পড়ল। এদিকেই এগিয়ে আসছে। জ্যোতি ক্ষীণ চোখে চাইল এবারে। মৃদুস্বরে বলে উঠল,

“ কে? ”

পুরুষালি অবয়বটা উত্তর না দিয়েই আরো কয়েক কদম এগিয়ে আসল। জ্যোতি মোবাইলের আলোটা ফেলে ভালোভাবে খেয়াল করল। মুহুর্তেই বলে ফেলল,

“ মেহেরাজ ভাই আপনি?

মেহেরাজ এতক্ষনে তাকাল জ্যোতির দিকে।ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ডান ভ্রুটা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“হ্যাঁ, আমি। তো?

জ্যোতি সরাসরিই প্রশ্ন করল,

“আমার পিছু পিছু আসছেন যে? ”

মেহেরাজের কপালে ভাজ পড়ল। চরম বিরক্তি নিয়ে উত্তর দিল,

“তুই কি আমার প্রেমিকা যে তোর পিছুপিছু যাবো চোরের মতো?”

“এদিকে তো আপনার এখন কোন কাজ থাকার কথা নয় মেহেরাজ ভাই৷ তাই জিজ্ঞেস করেছি, দুঃখিত।”

ফের ত্যাড়া স্বরে উত্তর দিল মেহেরাজ,

“কাজ না থাকলে রাস্তা দিয়ে চলা যায় না? নাকি রাস্তাটা তোর কেনা?আশ্চর্য!”

জ্যোতি থমথমে স্বরে বলে উঠল,

“ তা কখন বললাম? ”

মেহেরাজ ব্যাপক বিরক্ত এমন একটা ভান ধরেই ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল,

“ তা না বললে তোর পিছু পিছু আসছি কিনা জিজ্ঞেস করলি কেন?আমি কি তোর মতো?নাকি তুই ইচ্ছে করেই আমার সাথে কথা বলার জন্য অযুহাত খুঁজছিলি? ”

“ মানে? ”

এবারের উত্তরটা ব্যাপক অপমানজনক হয়েই আসল। শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় শীতল ক্রোধ নিয়ে বলে উঠল মেহেরাজ,

“ মানে এই যে গায়ে পড়া মেয়েদের মতো একটা ছেলের সাথে যেচে নিজ থেকে কথা বলাটা, মিথ্যে দোষারোপ করে প্রশ্ন করাটা? এগুলা কোন ধরণের মেয়েরা করে?”

মুহুর্তেই অপমানে থমথমে হয়ে গেল জ্যোতির মুখ।“আমি কি তোর মতো?” বাক্যটা দ্বারা যে তাকে এক আত্মসম্মানহীন, ছ্যাঁচড়া মেয়ের সাথে তুলনা করে ফেলেছে মেহেরাজ তা বুঝতে পেরেই রাগে জেদে মুখ টানটান হলো। স্পষ্টস্বরে কিছু কথা বলতে মন চাইলেও পরমুহুর্তে চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিল।এভাবে গ্রামের রাস্তায় একটা মেয়ের একটা ছেলের সাথে তর্কে জড়ানোটা শোভনীয় নয় বলেই সেখানে আর না দাঁড়িয়ে পেছন ঘুরে সোজা হাঁটা ধরল৷পেছন পেছন টের পেল মেহেরাজের উপস্থিতি ও।তবে বেশিক্ষন নয়। বাড়ির ভেতর ডুকতেই মিলিয়ে গেল যেন সেই উপস্থিতি।

.

আরও একটা ভোর। মেহু তখনও ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই তার মোবাইলটা বেজে উঠল তুমুল আওয়াজ তুলে। মেহু কপাল কুঁচকাল। না চাওয়া সত্ত্বেও চোখজোড়া কিঞ্চিৎ মেলে মোবাইলের স্ক্রিনে তাকাল। নাম্বারটা সে চেনে না। আননোন নম্বর।কিন্তু একবার কল করেই ক্ষান্ত হলো না আননোন নাম্বারের মালিকটি। পরপর আরো দুইবার কল আসাতেই মেহু কল তুলল।মোবাইলটা কানে নিয়েই বলে উঠল,

“ সকাল সকাল কল দিয়ে মানুষের ঘুম নষ্ট করছেন কেন ভাই?কে আপনি?”

ওপাশের মানুষটা বোধহয় কিঞ্চিৎ হাসল কথাটা শুনে। কেমন একটা হিশহিশ আওয়াজ হলো হাসার। মেহু বিরক্ত হলো। চোখমুখ কুঁচকে বিরক্তির স্বরে বলে উঠল,

“ কি আশ্চর্য! হাসছেন? হাসছেন কোন আক্কেলে আপনি?”

লোকটা হাসি থামাল এবারে। কিয়ৎক্ষন পরই চমৎকার কন্ঠে বলে উঠল,

“ হাসতে আক্কেল লাগে নাকি? ”

মেহুর মনে হলো কন্ঠটা সত্যিই চমৎকার। সুন্দর!তবুও প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিয়েই পুণরায় একই প্রশ্ন ছুড়ল,

“ আপনি কে? ”

“ জানাটা তো বাধ্যতামূলক নয় মিস মেহু।”

মেহু শক্ত কন্ঠে বলল,

“ অবশ্যই বাধ্যতামূলক! আমি অপরিচিত মানুষদের সাথে কথা বলি না। ”

লোকটা অমায়িক স্বরে শুধাল,

“চিন্তা নেই, আমি আপনার পরিচিতই! নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারেন।”

মেহু এবারে খুব বেশিই বিরক্ত হলে। একে তো সকাল সকাল কল দিয়ে ঘুম ভাঙ্গাল, বিরক্ত করল তার উপর পরিচয় দিচ্ছে না। এমন লোকের সাথে এই সাতসকালে মিঠে আলাপ জমানোর কোন মানেই হয় না। তাই তো মুহুর্তেই কল রেখে দিয়ে চোখ বুঝে নিল। ওপাশ থেকে ফিরতি কল এল। একবার, দুইবার,তিনবার!ঠিক তিনবারের সময়ই ফের কল তুলল মেহু। তপ্তশ্বাস ফেলে শুধাল,

“ কে আপনি ভাই? এভাবে বিরক্ত করার মানেই বা কি?”

ওপাশ থেকে ফের হাসার শব্দ শোনা গেল। বলল,

“ আমার ভাগ্যটা খারাপ মেহু। এতকাল যার থেকে দূরত্ব রেখে ছটফট করলাম, প্রেমযন্ত্রনায় ক্ষনে ক্ষনে দগ্ধ হলাম। আজ এতকাল পর তার জন্যই এতদূর ছুটে এসেও তার দেখা পেলাম না। কি ভীষণ যন্ত্রনা!অপেক্ষা নামক শব্দটাই যন্ত্রনার! ”

মেহু বোকা বনে গেল। লোকটার কথার শুরু থেকে শেষ কিছুই যেন বোধগম্য হলো না। বোকার মতো বলেই ফেলল তাই,

“ কিছুই বুঝলাম না। কিসব বলছেন? আমার নামও তো জানেন দেখছি আপনি।কিভাবে জানেন?আমায় চেনেন আপনি?আমার কন্ট্যাক্ট নম্বরই বা কোথায় থেকে পেয়েছেন? ”

একদম শীতল গলায় এবারে ওপাশ থেকে উত্তর আসল,

“ সেসব গুরুত্বপূর্ণ নয়।যার জন্য এতকাল যন্ত্রনায় ছটফট করে মরলাম তাকেই যন্ত্রনায় আবদ্ধ করতে ছুটে এলাম এতদূর।তার কাছে তো যেভাবেই হোক পৌঁছাতে হতোই আমায়,যেভাবেই হোক যোগাযোগ করতে হতো।তাই না?”

মেহু এবারেও বুঝল না কিছু। বিরক্তি নিয়ে বলল,

“আপনার এসব উদ্ভট কথাবার্তা শোনার জন্য সকালের ঘুম মিস দেওয়ার কোন মানেই হয় না।কিন্তু আসলেই কে আপনি ? চিনতে পারিনি।”

ওপাশের লোকটা আবারো হাসল। বলল,

“ আমি কে জানার জন্য একটু বেশিই আগ্রহী দেখছি আপনি মিস!শোনো মেয়ে,সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনায় প্রতিমুহুর্তেই তোমাকে চাওয়া এক অভাগা প্রেমিক আমি। অপেক্ষায় থাকলাম এই অভাগার জীবনে তোমার আগমণের, তোমার-আমার ফের সাক্ষাৎয়ের। ”

কথাগুলো বলেই কল রাখল লোকটা। মেহু অবাক হলো। কে হতে পারে লোকটা? তার পরিচিত কেউ? নাকি সাঈদ?

.

সন্ধ্যায় মেহেরাজদের ছাদে আড্ডা জমল। জ্যোতি, মিথি,মেহু, সামান্তা,নাবিলা, নুসাইবা, সাঈদ, মেহেরাজ সবাই ছাদে উপস্থিত। মেহেরাজ অবশ্য কিছুটা সময় আগেই এল ছাদে। বাদবাকি সবাই আড্ডায় মশগুল। তবে সামান্তা ব্যস্ত আপন মনে মেহেরাজকে দেখতেই।মনে মনে কয়েকবার ভাবল ও, “একটা পুরুষ এতোটা সুন্দর কি করে হয়?কেন এতটা সুন্দর?”তার সে ভাবনার মাঝেই মেহু,নাবিলা, জ্যোতি তাকে ন্ নিয়েই নিচে গিয়ে কাজে লেগে গেল। কড়াইয়ে মেহেরাজের রান্না করে রাখা নুডুলসগুলো প্লেটে পরিবেশন করে একে একে সব প্লেট নিয়ে হাজির হলো ছাদে। সবাইকে দেওয়া শেষেই আবারো বসে পড়ল তিনজনে। মিথি চামচ দিয়ে মুখে খাবার তুলেই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলে উঠল সঙ্গে সঙ্গে,

“ মেহু আপু?সবাইতো ছাদেই ছিলাম আমরা। তোমরা এই কমসময়ে গিয়ে কি করে রান্না করলে? ”

জ্যোতিও তাকাল। সত্যিই তো। রান্নাটা করল কে? মেহু উত্তরে হেসে বলল,

“আমরা রান্না করিনি তো এখন গিয়ে। শুধু প্লেটে করে নিয়ে এসেছি।”

মিথি বোকাবোকা চোখে তাকাল। বলল,

“ গরমই আছে এখনো, তার মানে রান্নাটা কিছুটা সময় আগেই হয়েছিল। তাই না? ”

” ভাইয়া করেছে রান্নাটা। এতক্ষন তো ভাইয়া ছাদে ছিল না, তখনই রান্না করেছে।”

মিথি তাকাল মেহেরাজের দিকে। মোবাইলের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে।বাহবা দিয়ে বলে উঠল মিথি,

“বাহ!বাহ!মেহেরাজ ভাই তো খুব ভালোই রান্না করে।বিয়ে করলে মেহেরাজ ভাইয়ের মতোই একটা জামাইকেই বিয়ে করব। রান্নাও করবে, কাজও করবে, ভালোও বাসবে। আহা!সুখ আর সুখ!”

মিথির কথাতে সবাইই হুহা করে হেসে উঠল তৎক্ষনাৎ। কেবল জ্যোতিই হাসল না।মাত্রই খাবারের প্লেট হাতে নিয়েছিল। মেহেরাজ রান্না করেছে শুনে ফের আবারো রেখে দিল প্লেটটা। আবার যদি মেহেরাজ বলে,“ গায়ে পড়া মেয়েদের মতো যেচে আমার রান্না করা খাবার খেতে এসেছিস কেন?”জ্যোতি উঠে দাঁড়াল৷ ঠিক তখনই ফোন বাঁজল ওর। স্ক্রিনের উপরই “ মিনার ভাই ” নামটা দেখেই মনে প্রশান্তি জাগল। ছোটবেলা থেকেই এই মানুষটা তার বড্ড আপন।বাড়ি এসে সে আপন মানুষটার দেখা মেলেনি অবশ্য। দাদীর কাছে শুনেছিল কোথাও একটা গিয়েছে মিনার৷ তবে এই যে মাত্র কল এল? এর বার্তা হলো মিনার বাড়ি ফিরেছে। নিশ্চয় জ্যোতির আসার খবর পেয়েই কল দিয়েছে।জ্যোতি প্রথমবারে কল না তুলল না। মেহুকে উদ্দেশ্য করে বলল,

” আপু?বাড়ি যাব একটু এখনই। তাছাড়া দাদীও তাড়াতাড়িই ফিরতে বলেছিল আমায়৷ যাই এখন? ”

মেহু মুখ কালো করল।নিরস গলায় বলল,

“এখনই যেতে হবে?খেয়ে তারপর যা।”

বিনিময়ে জ্যোতি কিছু বলার আগেই পুণরায় ফোন বেঁজে উঠল। জ্যোতি কল তুলল। মোবাইলটা কানে নিয়েই সালাম দিয়ে বলে উঠল,

“কেমন আছো মিনার ভাই? ”

মেহেরাজের দৃষ্টি ফোনে হলেও জ্যোতির এতক্ষনকার সব কথায় মনোযোগ দিয়ে শুনল সে।তবে এবারের কথাটা শুনেই কেন জানি মুখভঙ্গি পাল্টে এল তার। স্থির চাহনিতেও যেন নিরব, অদৃশ্য এবং সূক্ষ রাগ এসে ভীড় করল। মনের ভেতরে কোথাও জানান হলো এই যে এতক্ষন এত আড্ডা, এত কথোপকোতন! এতোটা সময়ে জ্যোতি তার দিকে চোখ তুলেও তাকায়ওনি। এমন কি তার রান্না করা বলে না খেয়েই রেখে দিল। এতোটা জেদ? অপমানটা কি বেশি হয়ে গিয়েছে? আনমনে প্রশ্নটা করেই অবাক হলো মেহেরাজ। গা ছাড়া ভাব নিয়ে উঠে দাঁড়ায় সঙ্গে সঙ্গেই। মুহুর্তেই জ্যোতি ফোনের ওপাশের ব্যাক্তিতে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ তুমি বাড়ি এসেছো মিনার ভাই?”

ফের কিয়ৎক্ষন পর আবারো জ্যোতি বলল,

“ ফিরছি।বাড়ি এসেছো শুনে খুশি হলাম।”

মেহেরাজ নীরবে সবটাই শুনল। কেন জানি না সে আর দাঁড়িয়ে থাকল না সেখানে। খুব দ্রুতই পা এগিয়ে নিচে নামল।

.

সাঈদ নাবিলাদের কাছ থেকেই জেনে নিল মিথির সম্পর্কে সবটা। মাত্র ষোলো বছর বয়স মেয়েটার। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সবে কলেজে পা রেখেছে।নিঃসন্দেহে বয়সে তার চেয়ে অনেক ছোট।অথচ এই ছোট মেয়েটার কথাই কি সাংঘাতিক!এই যে এতক্ষনের আড্ডায় কিন্তু মেয়েটা অনেক কথাতেই তাকে জব্দ করেছে।বলা যায় অপমান করেছে! সাঈদ সে অপমানে নিরস হলো। মনে মনে এই মেয়েটাকে জব্দ করার বুদ্ধি নিয়েই কিছুটা দূরে একা দাঁড়িয়ে থাকা মিথির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,

“ এইযে অন্ধ মেয়ে,শুনছো?”

মিথি একবার তাকাল। জিজ্ঞেস করল,

”কে অন্ধ মেয়ে? কাকে বলছেন? ”

“ কেন? তোমায়। অন্ধ নাহলে কেউ এত সুন্দর একটা ছেলেকে ভেড়া বলতে পারে? অবশ্যই তুমি অন্ধ!”

মিথি ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল। বলল,

“ উহ! এখনো পুরো দুনিয়া দেখা বাকি। এখনই অন্ধ হতে যাবো কেন? আপনার ব্যাখ্যা ভুল।”

সাঈদ ছাদের রেলিং ঘেষে দাঁড়াল। মিথির কথাটার বিনিময়ে ফের কোন যুক্তি না দেখিয়ে বলে উঠল,

“ সবাই ছাদের আরেক কোণে। ধরো এই সুযোগে তোমাকে তুলে নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিলে কেমন হবে?ফেলে দেই এক্ষুনি? ”

সাঈদ ভেবেছিল মেয়েটা ভয় পাবে কথাটা শুনে। এইটুকু মেয়ে!ভয় পাওয়া তো স্বাভাবিক।কিন্তু তাকে হতাশ করে দিয়ে মিথি হু হা করে হেসে উঠল। মেয়েটার হাসি সত্যিই সুন্দর। ফর্সা ধবধবে গালে বিমুগ্ধকর টোল! সাঈদ একপলক তাকিয়েই নিজের ফ্লার্ট করার দক্ষতা প্রকাশ করে বুকে হাত রাখল। ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,

“ ওভাবে হাসলে তো পাগল হয়ে যাব। এভাবে হাসে না যে!বুকে ব্যাথা ধরে। ”

মিথি ফের হেসে বলে উঠল,

“ আপনি এমনিতেও বদ্ধ পাগল ভেড়াসাহেব। স্যরি স্যরি ভেড়াসাহেব বলতে চাইনি। কি যেন নাম আপনার? ”

সাঈদ মুখ কালো করল।উত্তরে বলল,

“ সাঈদ। ভেড়াসাহেব ডাকবে না বলে দিলাম৷ ”

মিথি উপরনিচ মাথা দুলিয়ে বলল,

“ সাঈদ? সুন্দর নাম তো। ভেড়ার মতো দেখতে একটা মানুষের এতো সুন্দর নাম রেখে কে উদ্ধার করল আপনাকে? নিশ্চয় সে মানুষটা অতি সুন্দর মনের বলুন?”

সাঈদ ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলতে নিল যেন। পরমুহুর্তেই আবার কি বুঝে চুপ হয়ে গেল। চোয়াল শক্ত করে চোখ বুঝে নিল মুহুর্তেই।মুখ যেন কেমন টানটান হলো।চোয়াল শক্ত হলো। দৃশ্যমান হলো কপালে ফুলে উঠা রগটাও। মিথি অবাক হলো। ছোটবেলা থেকে তার আব্বাকে অসংখ্যবার রেগে যেতে দেখেছে সে। কোথাও যেন আব্বার সে রাগী মুখটার সাথে সাঈদের এই মুখটার মিল পেল। অবাক হয়ে বলল,

“ একি!আপনি রেগে গেলেন নাকি? ”

সাঈদ বারকয়েক শ্বাস টানল। নিজেকে স্বাভাবিক করেই ঠোঁট বাকিয়ে চমৎকার করে হাসল। ফিচেল স্বরে বলল,

“ উহ!সাঈদ সুন্দরী মেয়েদের উপর রেগে থাকতে পারে না।”

মিথি সন্দেহি চোখে তাকাল। জিজ্ঞেস করল,

” তো হঠাৎ এমন মুখচোখ শক্ত করে ফেললেন যে সাঈদ ভাই?”

সাঈদ হতাশ হয়ে চাইল। সেই হতাশ দৃষ্টি খেয়াল করেই মিথি জিজ্ঞেস করল,

“ কি হলো? সুন্দর নামেই ডেকেছি এবারে আপনাকে।খুশি হননি?”

সাঈদ মুখ ফুলাল।হতাশ গলায় শুধাল,

“ না হই নি।ভাই কেন ডাকবে? এমন সুন্দরী মেয়ের মুখে ভাই ডাক শুনলে বুক ব্যাথা করে আমার। ”

মিথি এবারে ঠোঁট চওড়া করে হাসল। অবস্থানরত স্থানটা ছেড়ে চলে যেতে যেতে বলল,

“ আপনার ফ্লার্ট আমার উপর ফলবে না সাঈদ ভাই।তবে উপভোগ করেছি আপনার ফ্লার্টিংস্কিলটা।দারুণ!”

.

আড্ডায়, আনন্দে কেটে গেল তিন তিনটে দিন। মেহেরাজ সোফায় গা এলিয়ে চোখ বুঝে আছে।পাশেই সাঈদ আবোল তাবোল বকবক করে যাচ্ছে গ্রামের মেয়েদের সম্বন্ধে। প্রথমে কিছুটা বিরক্ত হলেও এখন নিশ্চুপে সেসব শুনে যাচ্ছে মেহেরাজ। তার মধ্যেই হঠাৎ কানে এল মিথির চঞ্চল গলা,

“ একি! মেহেরাজ ভাই কি সোফায় বসে বসেই এভাবে ঘুমিয়ে যান?”

কথাটা বলেই হেসে উঠল মিথি। মেহেরাজ তৎক্ষনাৎই চোখ মেলে চাইল৷ চোখে পড়ল মিথির পাশে দাড়িয়ে থাকা জ্যোতি,নাবিলা আর মেহুকেও। একপলক চেয়েই নজর সরাল তৎক্ষনাৎ।মিথি আর নাবিলা দাঁড়ালেও জ্যোতি আর মেহু অবশ্য দাঁড়িয়ে থাকল না সেথায়। দ্রুত পা চালিয়ে চলে গেল। মেহেরাজ এই তিনদিনে এইটুকু খেয়াল করেছে যে জ্যোতি তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে পুরোপুরি ভাবে।এই তিনদিনে যতবারই এ বাড়ি এসেছে, বা সম্মুখীন হয়েছে মেয়েটা যেচে কথা বলা তো দূর, তার দিকে চোখ তুলেও তাকায়নি ৷ মেহেরাজের দাম্ভিক মনে কোথাও না কোথাও এই এড়িয়ে চলাটাই সহ্য হলো না যেন। সে সহ্য না হওয়ার নীরব যন্ত্রনায় আরো খানিকটা যন্ত্রনা বাড়াতেই বেধহয় নাবিলার উচ্ছাসিত কন্ঠে শোনা গেল,

“ ভাইয়া জানো? আজ বিকালে জ্যোতিকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে।সব ঠিক হলে আজই বিয়ে পড়িয়ে দিবে।আমার তো ব্যাপক হাসি পাচ্ছে। এই বয়সেই ওর বিয়ে হয়ে যাবে ব্যাপারটা হাস্যকর না?

নাবিলার সে কথাটার ঘোর বিরুদ্ধে গিয়ে মিথি বলে উঠল,

“ এ্যাঁ হাস্যকর! আমার অনেক বান্ধবীরই মাধ্যমিক পাশ করেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আপসোস! আমার বিয়েটাই দিল না এখনো দাদী। ”

মেহেরাজ অবশ্য শুনল না মিথির বলা কথাটা। কেবল নাবিলার বলা কথাটাই ভাবল কিয়ৎক্ষন।পরপরই গা ছাড়া ভাব নিয়ে উঠে চলে গেল নিজের ঘরে। মনে মনে বলল,“ কি আশ্চর্য! জ্যোতির বিয়ে হলে হবে। আমার কি? আমি কেন ভাবছি এত? ”

#চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ