Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"একটুখানি সুখএকটুখানি সুখ পর্ব-২৭+২৮

একটুখানি সুখ পর্ব-২৭+২৮

#একটুখানি_সুখ
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ২৭

বিছানার চাদর খামছে ধরে এদিকওদিক তাকাচ্ছে মোহ। নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম। কপাল বেয়ে যেন টুপ করে ঘাম বেয়ে গাল দিয়ে থুঁতনিতে এসে পৌঁছাবে। ঘরে সামান্য একটা সফট সাদা রঙের আলো। যেটা দিয়ে হালকা করে আশেপাশে দেখা যাচ্ছে। ঢক গিলে বড় নিশ্বাস নিলেই যেন স্বচ্ছ ঘরে ঢুকে পড়বে। ঘরটা স্বচ্ছের। স্বচ্ছের বললে ভুল হবে। আজ থেকে তো ঘরটা এক দম্পত্তির। এতে মোহেরও অধিকার আছে। কিন্তু আজকে বাসর রাত কথাটা ভাবলেই লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছে মোহ। স্বচ্ছের ঘরে এই প্রথম প্রবেশ করেনি সে। তাহলে আজ কেন এমন লাগছে বুঝছে না মোহ। এসির রিমোট হাতিয়ে খুঁজছে সে। গরম লাগছে তার। অথচ আবহাওয়া দিব্যি ঠান্ডা! সে নিজেই নিজেকে শান্তনা দিয়ে বলে উঠল,
“মোহ, মোহ, মোহ! রিল্যাক্স। মি. আহিয়ান স্বচ্ছ তোকে খেয়ে তো আর ফেলবে না। এতো ঘামাঘামির দরকার নেই।”

বলেই বড় বড় শ্বাস নিয়ে এসির রিমোটটা হাতাতে লাগল সে। ফুলে ভরা ঘর। আসার রাস্তা থেকে শুরু করে টেবিলেও ফুল। বেড ওপরটা নেটের কাপড় দিয়ে সাজিয়ে রাখা। টেবিলে রাখা এসির রিমোট। মোহ এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে এসির রিমোট হাতে নিতেই দরজা খোলার শব্দে হকচকিয়ে উঠে পিছু ফিরে তাকাতেই হাত থেকে পড়ে গেল রিমোট। শুকনো ঢক গিলে নিচে তাকালো সে। নাক থেকে ইতিমধ্যে নোলক খুলে পড়ে গেছে। কানে আঁটকে আছে শুধু। ঘনঘন চোখের পলক ফেলে প্রশস্ত অবয়বের দিকে তাকালো সে। বুঝতে এক মূহুর্তও লাগল না মানুষটা স্বচ্ছ। দরজা আঁটকে দিতেই মোহের মাঝে শিহরণ বয়ে গেল। থরথর করে কাঁপতে শুরু করে মোহ। স্বাভাবিক হতে চেয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে নাকের নোলকটা হাতে তুলে নেয় সে। নাকে লাগাতে গিয়ে আবারও পড়ে গেল হাত থেকে।

স্বচ্ছ দূর থেকে মোহের কান্ড দেখছে তার বিস্ময়ের চোখে তাকাচ্ছে। এমন করছে কেন মেয়েটা?
“কি হয়েছে? মৃগী রোগীর মতো কাঁপছো কেন?”

“আ…আপনি…”
পুরোটা শেষ করতে পারল না মোহ। স্বচ্ছ বেশ খানিকটা এগিয়ে এসেছে। তা দেখে পিছিয়ে যেতেই টেবিলের সাথে ধাক্কা লেগে উল্টে পড়ে যেতে লাগল সে। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিতেই স্বচ্ছও মোহের হাত ধরে বলল,
“আস্তে! এমন করছো কেন? আমি বাঘ নাকি ভাল্লুক?”

“একচুয়ালি, নার্ভাস লাগছে। প্রথমবার বিয়ের পর ফার্স্ট নাইট তো তাই।”
হাতের পিঠ দিয়ে নিজের কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলল মোহ। স্বচ্ছ ভ্রু কুঞ্চিত করে ফেলল। ক্ষীণ সুরে বলল,
“ওয়ান মিনিট! প্রথম বিয়ের পর ফার্স্ট নাইট মানে কি? আরো বিয়ে করার প্ল্যানিং নিয়ে বসে আছো নাকি?”

চোখ বড় বড় করে তাকায় মোহ। কি বলতে কি বলে ফেলেছে ভেবে জিহ্বা কেটে স্বচ্ছের দিকে দৃষ্টিপাত করে সে। স্বচ্ছ কি যেন মনে করে বাঁকা হেঁসে ওঠে।
“আবার বিয়ে করার ইচ্ছে থাকলে নো প্রবলেম। আমি এখনি রেডি। কিন্তু অন্য কাউকে বিয়ে করার ইচ্ছে মাথায় এনো না আবার। কারণ এই সুন্দরী সম্পূর্ণ ভাবে আমার হয়ে গেছে। তাকে না আমি অন্যকারো হতে দেব না অন্যকেউ তার হবে। সো…”

“সো?”

“সি ইজ মাইন!”
কর্ণকুহুরে স্বচ্ছের বলা কথাটি বাজতেই মৃদু কেঁপে উঠল মোহ। চোখ নামিয়ে ফেলল সে। এই মূহুর্তে স্বচ্ছের চোখের দিকে তাকালে যে তাকে হারিয়ে যেতে হবে। পথ হারিয়ে স্বচ্ছ নামক ব্যক্তিটির ভালোবাসার সাগরে এতো দ্রুত ডুবতে চায় না সে। নিজের কোমড়ে ঠান্ডা স্পর্শ পেয়ে চোখ পাকিয়ে তাকায় মোহ। স্বচ্ছ একহাতে জড়িয়ে নিয়েছে মোহের কোমড়। স্বচ্ছ মৃদু হেঁসে বলে,
“ভয় পাও?”

“ভ…ভয়? কিসে ভয়?”

“ভালোবাসতে! এই স্বচ্ছ নামক অস্বচ্ছ ব্যক্তির মাঝে হারিয়ে যাবার ভয় পাও?”

“ন…না মানে বলছিলাম য…যে… ”
তুতলিয়ে চলেছে মোহ। স্বচ্ছ মোহের এমন কান্ডে হাসছে নিঃশব্দে। এক পর্যায়ে মোহের কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে দেয় স্বচ্ছ। চোখ বুঁজে বলে,
“আজ থেকে আমার সুখপাখি তোমার। আর তোমার দুঃখপাখি হবে আমার। তোমার সুখেতে বেশি সুখি হবো আমি। তোমার হাসিতেই হাসব আমি। তোমার দুঃখেই কাঁদব আমি। তোমাকে তোমার মাঝ থেকে চুরি করে ফেলব। তুমি বুঝতেও পারবে না। আই প্রমিস!”

স্বচ্ছের একেকটা উত্তপ্ত ও ঘন নিঃশ্বাস মোহের মাঝে ফুটিয়ে তুলছে অস্থিরতা। অদ্ভুত অস্থিরতার মাঝে সুখময় মূহুর্ত। বেশিক্ষণ থাকলে হয়ত এই অস্থিরতায় ভরা সুখে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। কাঁপা কাঁপা হাতে স্বচ্ছকে আলতো ধাক্কা দেয় সে।

“এইযে ভয় পাচ্ছো। ভীতু মেয়ে।”
বলেই একটু জোরে হেঁসে সরে যায় স্বচ্ছ। বড় নিঃশ্বাস ফেলে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে মোহ। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থেকেই কেটে যায় তাদের। মোহ কথা খুঁজে না পেয়ে হুট করে বলে ওঠে,
“ঘুমোবেন না?”

“ঘুমাবো তো। বাট আমি আমার কোলবালিশ তো তুলে রেখেছি। ইউ নো? আমি ভেবেছিলাম বাসায় এক তুলতুলে কোলবালিশ আসবে! বাট আই ওয়াজ রং। তুলতুলে কোলবালিশের বদলে একটা মশা ঘরে নিয়ে এলাম। নো প্রবলেম এটাতেই কাজ চালিয়ে নিতে পারব।”
কথাটা বলে বিছানায় ধপ করে বসে পড়ল স্বচ্ছ। একটা বড় হাই তুলে অগোছালো হয়ে শুয়েও পড়ল সে বেডের মাঝখানে। মোহ শুধু কান্ডকারখানা দেখছে। এটা কোন পাগলের পাল্লায় পড়ল সে? মশা ঘরে এনেছে? ভাবতেই স্বচ্ছের দিকে চোখ রাঙালো সে। স্বচ্ছ অলরেডি চোখ বুঁজে ফেলেছে।

“আমি কোথায় ঘুমাবো এতো বড় বেড একাই জুড়ে ঘুমোলে অদ্ভুত তো!”

“আমি নিজেই আজ থেকে তোমার বেড। শুয়ে পড়তে পারো। মাইন্ড করব না।”
বলে একটা চোখ খুলে দুষ্টু হাসি দিল স্বচ্ছ। মোহের ইচ্ছে করল তার মুখটাই সেলাই করে দিতে। এতো আজেবাজে কথাবার্তা লোকটা পায় কোত্থেকে? একটু পরই সরে যায় স্বচ্ছ। এক সাইডে শুয়ে পড়ে সে।
“এবার ঠিক আছে? আই মিন কমফোর্টেবল হবে তো?”

মোহ মাথা নাড়ায়। স্বচ্ছ পাশ ফিরে চোখ বুঁজে নেয়। সে আজ বড়ই ক্লান্ত। তার ঘুম প্রয়োজন। কত রাত যে নির্ঘুম কাটিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। শুধুমাত্র মস্তিষ্ক ভরা ছিল একটাই প্রশ্ন, ‘এই মেয়েটা ঠিক আছে তো? ভাই কিছু করে বসল না তো? নিজের করে পাবে তো তাকে?’
অবশেষে নিজের চোখের পাতা শান্তিমতো এক করতে পেরেছে স্বচ্ছ।

রাত তখন প্রায় ১ টা ছুঁইছুঁই। ঝনঝনানি শব্দে ঘুমটা হালকা হয়ে আসে স্বচ্ছের। হালকা নড়েচড়ে পাশ ফিরে হাত দিতেই কারো হাতের ওপর হাত পড়ে। কিছুটা চমকে ঘুম থেকে জাগে স্বচ্ছে। বিস্ময় ভরা চোখজোড়া নিয়ে তাকায় সে। মোহ এখনো জেগে। ইতস্ততবোধ করে হাতটা সরিয়ে নেয় মোহ।

“তুমি এখনো ঘুমাওনি? আমার চোখ লেগে এসেছিল তাই ঘুমিয়ে পড়েছি অল্পতে। তুমি ঘুমাওনি কেন? এনি প্রবলেম? কেউ এসেছিল ঘরে? কে কি করেছে তোমার সাথে?”
শেষ কথাগুলো বেশ উত্তেজনার সাথে জিজ্ঞেস করল স্বচ্ছ। সাথে সাথে উঠে বসল সে। মোহের বাহু ধরতেই মোহ হতবাক হয়ে প্রশ্ন করে,
“এই ঘরে কে আসবে এখন? আর কি করবে আমার সাথে? কেউ তো আসেনি। আমার তো ব্যাস ঘুম ধরছিল না সেকারণেই জেগে ছিলাম। নতুন জায়গা তো তাই ঘুম পাচ্ছিল না।”

কিছুটা স্বস্তি পায় স্বচ্ছ। তবে মোহের প্রশ্নে কিছুটা থতমত খায় সে। হালকা গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
“আসলে এই দিনে অনেকে বিরক্ত করে তো! মানে কাজিন আর বন্ধুবান্ধবরা তাই ভাবলাম ওরা হয়ত কেউ তোমায় বিরক্ত করছে।”

“না এমন কিছু না।”
স্বচ্ছ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
“তোমার ঘুম আসছে না তাই তো? তাহলে কি করা যায়! চলো বাহিরে যাই। ফাঁকা রাস্তায় একটু হেঁটে আসি।”

চকিতে দেখে মোহ। বিস্ফোরিত কন্ঠে বলে,
“আপনার মাথা ঠিক আছে? এতো রাতে বাহিরে যাব?”

“সো হোয়াট? ইউর হাজবেন্ড আহিয়ান স্বচ্ছ ইজ উইথ ইউ।”

“তাই বলে এতো রাতে বাহিরে…”
বলে থামে মোহ। প্রস্তাবটা মন্দ লাগেনা তার। খারাপ কি? নরম সুরে জবাব দেয়,
“ঠিক আছে চলুন যাই।”
মোহ বলামাত্রই তার হাত ধরে সকলের আড়ালে লুকিয়ে বেরিয়ে পড়ে স্বচ্ছ। এই শুরু হলো তাদের একসঙ্গে পথ চলা। এক পবিত্র সম্পর্কের মূল সূচনা!

শীতের শুরুটা হয়েছে ভালোভাবেই। কুয়াশা পড়েছে রাস্তায়। নিস্তব্ধ পরিবেশ। মাঝে মাঝে স্নিগ্ধ বাতাসে নড়ছে গাছপালার পাতা। বাতাসেও যেন এক ভালোবাসাময় অনুভূতি মাখানো। পাশাপাশি হাঁটছে এক রমনী সাথে তার পুরুষ। প্রথমে রাতের সূচনা হক ভিন্নভাবে ক্ষতি কি তাতে?

হাঁটতে হাঁটতে নিজের জুতো খুলে নেয় মোহ। তা দেখে সঙ্গে সঙ্গে মোহ জিজ্ঞেস করে,
“জুতো খুললে কেন? পায়ে অনেক কিছু বিঁধতে পারে তো!”

“উঁহু, বিঁধবে না। কুয়াশায় ভেজা রাস্তা। জুতো পায়ে দিয়ে হাঁটতে ভালো লাগে নাকি?”

স্বচ্ছ মানা করে না। মেয়েটার মুখে হাসির রেখা। সেটা মুছে দেওয়া ঠিক হবে না। এতে যদি সে খুশি হয় হক না। ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে আস্তে আস্তে মোহের হাতটা চেপে ধরে স্বচ্ছ। একটু বিশ্বাস পাওয়ার আশায়। মোহের দিকে তাকায় সে। এখনো পরনে বিয়ের সাজসজ্জা। মাথায় টিকলি দুলছে। কানে দুল। গাঢ় লাল লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটে মৃদু লাজুক হাসি। গায়ে লাল রঙের লেহেঙ্গা তার ওপর চাদর জড়িয়ে রাখা। স্বচ্ছের ভাবতেই মনটা আনন্দে নেচে উঠছে যে ‘যার জন্য ছিল এতো পিপাসা! এখন সেই প্রেয়সী শুধুই তার?’

মোহ লাজুক হাসি দিয়ে স্বচ্ছের হাসিতে জ্বলজ্বল করা মুখশ্রীর দিকে তাকায়। এই মানুষটাকে যদি বুঝতে পারা যায় তবে মানুষটা সত্যিই স্বচ্ছ হয়ে উঠবে। স্বচ্ছের বড় বড় দীর্ঘদিন ধরে না কাটা চুল কপালে পড়ে মাঝে মাঝে উড়ছে। মায়াবী চোখে মায়া বেড়েই চলেছে যেন! মোহ সেটাতেই মত্ত হয়ে পড়েছে আজ।

হাঁটতে হাঁটতে একটা বাড়ির সামনে এসে থামে মোহ ও স্বচ্ছ। এখান থেকে নিজেদের বাড়ি ফিরবে তারা। যেখানে থেমেছে সেখানে বড়সড় একটা জবার গাছ চোখে পড়ল মোহের। ইচ্ছে করল জবাফুল নেবার। কিন্তু ইচ্ছেকে দমন করে হাঁটা লাগাতেই স্বচ্ছ লাফিয়ে রক্তবর্ণের জবাফুল পেরে হুট করেই মোহকে চমকে দিয়ে তার কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে তার গালে নিজের উষ্ণ ঠোঁটের আলতো পরশ মাখিয়ে ছুঁইয়ে দিয়ে বলল,
“দুটো ফুলই সুন্দর। কিন্তু আমার ফুলটা কেন জানিনা বেশিই সুন্দর। অত্যাধিক সুন্দর। এই অত্যাধিক সুন্দর ফুলটি আমার। একান্তই আমার।

চলবে…

#একটুখানি_সুখ
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ২৮

সকালে ঘুমটা এক উষ্ণ আবেশে ভাঙে মোহের। বিছানার চাদরে এক অন্যরকম গন্ধে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায় সে। এমন ঘ্রাণ তো তার বিছানায় থাকে না। এই ঠান্ডায় উষ্ণ গরম লাগছে তার। চোখ মেলতেই নিজের মুখশ্রীর একদম কাছাকাছি স্বচ্ছ নামক পুরুষটাকে দেখে চোখ থেকে ঘুম ছুটে গেল তার। মাত্র এক ইঞ্চি ফাঁক রয়েছে তাদের মাঝে। যদিও স্বচ্ছ উপুড় হয়ে একহাত মোহের পেট জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। মুখটা মোহের দিকেই করে আছে সে। স্বচ্ছের ঘুমানোর ধরন দেখে হেঁসেই ফেলল মোহ। কিভাবে ছোট বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফাঁক করে ঘুমাচ্ছে সে। মোহের মুখ আঁচড়ে পড়ছে তার তপ্ত নিঃশ্বাস।

দরজায় আস্তে করে টোকা পড়তেই ধ্যান ভেঙে মাথা হালকা উঁচু করে দরজার দিকে তাকায় মোহ। সাদা পাতলা পর্দা ভেদ করে কাঁচ ও কাঠের সংমিশ্রণে দরজার ওপাশে একটি অবয়ব দেখা যাচ্ছে। তার মানে কেউ ডাকতে এসেছে। ফট করে ঘড়ির দিকে তাকায় মোহ। দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা সুন্দর ঘড়িতে প্রায় সকাল নয়টা পেরিয়েছে। চক্ষু চরকগাছে পরিণত হয় তার। আবারও দরজায় টোকা পড়তেই আস্তে করে স্বচ্ছের হাতে হাত রেখে সেটা ধীরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে মোহ যাতে স্বচ্ছের ঘুমটা না ভাঙে। কিন্তু ঘটে উল্টো ঘটনা। হালকা নড়েচড়ে উঠে স্বচ্ছ আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরে মোহকে। এই মূহুর্তে স্বচ্ছকে জাগাতে চাচ্ছে না সে। হয় লোকটা তাকে লজ্জা পাইয়ে দিবে নয়ত নিজেই লজ্জায় পড়বে। মোহ জানে স্বচ্ছ লজ্জা পাওয়ার মানুষ নয়। তাই মোহ কেটে পড়তে চায় দ্রুত।

“ভাবসাব দেখো! যেন আমাকে সত্যি কোলবালিশ বানিয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে এতো লেট হয়ে গিয়েছে বুঝতেই পারিনি। লোকটার সঙ্গে রাতে বের হওয়ায় ভুল হয়েছে আমার।”
কথাগুলো আপনমনে বিড়বিড় করে আবারও নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল মোহ।

“আমি নিরুপায়। বড্ড নিরুপায়। আমি কখনো চাই না ফ্যামিলিকে ধোঁকা দিতে। কিন্তু… ”
চকিতে তাকায় মোহ। স্বচ্ছ চোখ বন্ধ করেই বিড়বিড়িয়ে চলেছে। চোখজোড়া সরু হয়ে আসে মোহের। স্বচ্ছ কি স্বপ্ন দেখছে? যার কারণে এসব বিড়বিড় করছে? আবারও পড়ল দরজায় টোকা। এবার বেশ জোরেসোরেই টোকা পড়ল। স্বচ্ছ নড়ে উঠে মোহের বাঁধন হালকা করে দিতেই মোহ আস্তে করে নিজেকে ছাড়িয়ে বেড থেকে নেমে এলো। তার গায়ে বর্তমানে শুধু লেহেঙ্গা। ক্লান্ত হয়ে সেভাবেই শুয়ে পড়েছে সে। গয়নাও খোলেনি। বোধহয় স্বচ্ছই খুলে দিয়েছে। ঠিক মনে নেই মোহের। গায়ে লেহেঙ্গার ওড়না জড়িয়ে গুটিগুটি পায়ে দরজার কাছে গিয়ে দরজার লক খুলতেই চোখের সামনে স্পষ্ট হলো সোহা। দুষ্টু হেঁসে সোহা জিজ্ঞেস করল,
“রাতে ঘুম হয়নি তাই না? সেজন্য ঘুম ভাঙতে দেরি হলো?”

“হ্যাঁ। ঘুমোতে পারিনি।”
কিছু না বুঝেই স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিয়ে দিল মোহ। সাথে সাথে সোহা ফিক করে হেঁসে উঠে বলে,
“হয় হয়! এমন হয়। প্রথম প্রথম বিয়ে। মাখো মাখো প্রেম।”

চোখ লজ্জায় ছলকে তাকায় মোহ। সোহার বয়স বড়জোড় ১৭-১৮ হবে। মেয়েটা এতোটুকুতেই পেকে গেছে। অথচ মোহ নির্বিকার সুরে উত্তর দিয়ে চলছিল। মোহ হালকা কেশে রাগি সুরে বলার চেষ্টা করল,
“দুষ্টু হয়ে যাচ্ছো? আমি তোমার বড় না? মাইর লাগাবো।”

“হেহেহে! আচ্ছা, তুমি ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো। অনেক লেট হয়ে গেছে এমনিতেই। নিচে সব আত্মীয়রা তোমাকে দেখার জন্য ওয়েট করছে। আর এসব শাড়ি, গয়না পড়ে এসো।”

বলেই নিজের হাতে থাকা শাড়ি আর জুয়েলারি বক্স ধরিয়ে দেয় সোহা। রানী গোলাপি জামদানী শাড়ি! একপলক শাড়ি দেখে সৌজন্যমূলক হাসি দিল মোহ। সোহা চলে যেতেই দরজা লাগিয়ে দিল মোহ। স্বচ্ছের দিকে একবার তাকালো সে। নিজের বালিশটা জড়িয়ে এখনো গভীর ঘুমে বিভোর। সব জুয়েলারি বক্স রেখে শুধু শাড়ি আর তার সাথে ম্যাচিং জামাকাপড় নিয়ে ধীর পায়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে সে।

সকাল প্রায় এগারোটা। দুপুর হতে চলেছে। বিছানায় পাশে ঘুমের ঘোরে হাতায় স্বচ্ছ। পাশের জায়গাটুকু খালি। চোখটা হালকা করে মেলে সে। সূর্যের আলো সর্বত্র ছড়ানো। অদ্ভুত সুন্দর আলোকিত যেন আজকের পরিবেশ। চোখ খিঁচে ফেলল সে। এতোটা পর্দা মেলল কে? স্বচ্ছ সবসময় রুমটা কিছুটা অন্ধকার করেই রাখে। যে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বিরক্তির সুরে বলল,
“হোয়াট দ্যা হেল! পর্দা এতো মেলল কে?”

চোখ কচলাতেই তার মনে হয় মোহের কথা। ভালোভাবে চোখ মেলিয়ে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিতেই যখন মোহকে পায় না তখনই দ্রুত উঠে বসে পড়ে সে। কোথায় গেলো মেয়েটা? হঠাৎ করেই তার মাথায় আসে সৌমিত্রে কথা! এখন সৌমিত্রের পরিস্থিতি ভালোভাবে জানা স্বচ্ছের। যেকোনো কৌশলে বাহিরে আসার চেষ্টা করে যাবে সে। স্বচ্ছ কিছুটা জোরে ডেকে ওঠে,
“মোহ?”

সাড়া পায় না সে। বড় নিঃশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায়। কিছুটা ছুটেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। করিডোর ধরে হাঁটতেই নিচে চোখ পড়ে তার। ড্রয়িংরুমের ডানপাশে রান্নাঘর! সেখানে চোখ, মন, চোখের পলক, পা জোড়া স্থির হলো তার। দূর থেকে গোলাপি আবরণে নিজেকে মুড়িয়ে নেওয়া এক নারীকে দেখা যাচ্ছে। ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফোটে স্বচ্ছের। দূর থেকে মোহকে একটা ছোট্ট পুতুল মনে হচ্ছে স্বচ্ছের। একটা পুতুলকে যেন গোলাপী শাড়ি আর গয়না পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আর পুতুলটা গুটিগুটি পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু সে রান্নাঘরে কি করছে? ভ্রু কুঁচকে আসে স্বচ্ছের। ফ্রেশ হয়ে মোহের কাছে যাবে ভেবে ঘরের দিকে হাঁটা দেয় সে।

গালে হাত দিয়ে রান্নাঘরের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে মোহ। চোখেমুখে ক্ষীণ চিন্তার ছাপ। একধ্যানে গ্যাসের চুলোর দিকে তাকিয়ে আছে সে। কপালে বেয়ে বেয়ে ঘাম পড়ছে। গোলাপী শাড়ির আঁচল কোমড়ে বেঁধে রাখা। বেশ ভাবনায় মেতে থাকা মোহ আচমকা অনুভব করে তার ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাসের সুগভীর উষ্ণতা। চমকে পেছনে তাকায় সে। জলপাই রঙের ফুল শার্ট পরিহিত ভ্রু উঁচিয়ে রাখা স্বচ্ছকে দেখে বুকে প্রথমে থুথু ফেলে বলে,
“আপনি? ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। এভাবে কেউ এন্টি নেয়?”

“স্বচ্ছ নেয় তো।”
চোখ টিপল স্বচ্ছ। মোহ আবারও মুখ বাঁকিয়ে চুলোর দিকে চোখ পাকায়। মোহের দেখাদেখি স্বচ্ছও চুলোর দিকে তাকিয়ে ভেবে বলে,
“এভাবে তো কোনোদিন নিজের বরের দিকেও তাকাওনি যেভাবে চুলোটার দিকে তাকাচ্ছো! কি আছে ওখানে এমন?”

“অনেক কিছু। আচ্ছা চুলোটা জ্বালিয়ে ওটার আঁচ কম করে কিভাবে?”
বেশ অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে স্বচ্ছকে প্রশ্ন করে মোহ। স্বচ্ছের ভ্রু কুঁচকে থাকার মাত্রাটা বাড়ে।

“কেন? সেটা জেনে কি করবে?”

“কি করব আবার? চুলো দিয়ে নিশ্চয় রান্নাই করে?”

“কে রান্না করবে? তুমি?”

“তা নয়ত কি? আমি যেহেতু চুলো জ্বালাচ্ছি সেহেতু আমিই করব।”

স্বচ্ছের চোখজোড়া বিস্ময়ে ভরে ওঠে। ভ্যাবাচেকা খেয়ে প্রশ্ন করে,
“তুমি তো রান্নাই পারো না। একটা রান্নাতে সাধারণত কি কি জিনিস ব্যবহৃত হয় সেটাও তো জানা নেই তোমার। রান্নাঘরে জীবনে ২-৩ বারের বেশি তো যাওনি। তুমি কি করে রান্না করবে? এই মেয়ে! কে বলেছে তোমায় রান্না করতে?”

মোহ নির্বিকার সুরে বলে,
“এটা তো নাকি নিয়ম। আপনার মা আর নানিমাও বলল। সকালে খেয়ে নিয়েছে সবাই। আপনি খাবেন না? আমাকে খাওয়ার সময় বলেছে দুপুরের রান্না করতে। নতুন বউদের নাকি রান্না করতে হয় প্রথম দিন?”

স্বচ্ছের ভ্রুজোড়ার সাথে চোখমুখও জড়িয়ে আসে বিরক্তিতে।
“এসব ফালতু নিয়ম কে মানতে বলেছে তোমায়? তুমি তো রান্নার ‘র’ জানো না। এসব নিয়ম মানতে হবেনা বেরিয়ে এসো রান্নাঘর থেকে।”

“নানিমা আর আপনার মায়ের কথা মানে বড়দের কথা অমান্য করব?”

রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসছিল স্বচ্ছ। পিছু ফিরে তাকায় সে। আবারও উল্টে এগিয়ে আসে মোহের দিকে। এগিয়ে আসতে আসতে মোহকে ঠেলতে ঠেলতে মোহকে ফিল্টারের সাথে ঠেকিয়ে ফেলে। কন্ঠে গাম্ভীর্য এনে বলে,
“সিরিয়াসলি? আমিও তো তোমার বড়। আমার কথা খুব মানো না?”

“আপনি অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলবেন আর সেসব মানতে হবে? আর আপনি কি করে জানলেন আমি রান্না পারি না?”

গম্ভীর স্বচ্ছের চোখমুখের রঙ পাল্টাতে শুরু করে যেন। তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বলে,
“বড়লোকের আদরের দুলালি মেয়ে কে রান্না শিখে? এটা তো কমন সেন্স! দেখো কিভাবে ঘামছো। তুমি তো অতিরিক্ত ঘামে অসুস্থ হয়ে যাও।”

বলেই সযত্নের সাথে মোহের কপালের ঘাম বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে মুছে দিল স্বচ্ছ। মোহ কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বলে,
“এবার বলুন এটা কিভাবে জানলেন?”

আবারও স্বচ্ছ বেশ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়তেই মোহ বলে,
“বলুন? এটা তো আপনার জানার কথা নয়। আপনার আর আমার সম্পর্ক গভীর হয়েছে মাত্র কয়েকদিনে। এর মাঝে এসব তথ্য কি করে জানলেন? এর আগে তো আপনি এই দেশেও থাকতেন না!”

“উফফ… এতো প্রশ্ন করো কেন তুমি? তোমার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিলাম আমি। হ্যাপি?”

বিরক্ত নিয়ে কড়া কন্ঠে উত্তর দিতেই মোহও তেতে উঠে বলে,
“আমি এখনো উত্তর পেলাম না।”

“দেব না। কি করবে তুমি?”

মোহ আর স্বচ্ছের সঙ্গ কথায় পেরে না উঠে হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকল। স্বচ্ছ চুলোর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
“তুমি হয়ত রান্না জানো না। বাট আমি কিন্তু জানি টুকটাক!”

“আপনি আর রান্না?”
বিস্ফোরিত সুরে বলল মোহ। স্বচ্ছ ফট করে চুলো ধরিয়ে বলল,
“এনি ডাউট সুন্দরী? একচুয়ালি, বিদেশে থাকতাম সেখানে মাঝে মাঝে রান্না করার আন্টি না এলে আমাকে একাই রান্না করতে হতো। আবার কফির বিষয়টা আছে। যেটা একা একা তৈরি করে খেতে হতো। দ্যাটস হুয়াই জানি কিছু কিছু রান্না।”

মোহ সুন্দর করে হেঁসে স্বচ্ছকে বিদ্রুপ করে বলে উঠল,
“বিশ্বাস হলো না।”

“ওকে দেন। কফি বানিয়ে দেখাচ্ছি। আমি তোমার থেকে বেটার রান্নাতে।”
মোহ চোখ গোলগোল করে তাকায়। সেও দেখতে চায় তার একমাত্র হাজবেন্ড কি আদোও রান্না জানে?

১০ মিনিটের মধ্যে কফি বানিয়ে তা মগে ভরে মোহের সামনে ধরল স্বচ্ছ। মোহ সরু চোখে তাকিয়ে আছে কফি মগের দিকে। কফির মগে অল্প একটু চিনি মেশানো। মোহ শুধু ভাবছে এটা খাবার পর তার কি হবে? স্বচ্ছ কিছুটা জোরে বলে উঠল,
“ও হ্যালো ম্যাডাম? আমি বানিয়েছি অনেকদিন পর তাও আপনার জন্য। সো আপনাকেই খেতে হবে।”

মোহ জোর করে হেঁসে কফির মগ হাতে নিল। ধীরে ধীরে ঠোঁট লাগালো মগে। কফি মুখে আসতেই চোখমুখ লাল হয়ে এলো তার। চোখমুখ ঝাঁকিয়ে স্বচ্ছের দিকে তাকালো সে।
“কেমন?”

দাঁত বের করে হেঁসে বলল স্বচ্ছ। রেগেমেগে হাতে থাকা মগ স্বচ্ছের হাতে ধরিয়ে বলে,
“আপনার কফি আপনিই খান। কি তেতো! নিজেও তেতো মানুষ। কফিটাও বানিয়েছেন তেতো।”

“ওহ তাহলে মিষ্টি চাই মোহ ম্যাডামের?”

“তা না হলে কি? তেতো কফি কেউ খায়?”

“ওয়েল! আমি দিচ্ছি মিষ্টি।”
বলে অদ্ভুত হাসি দেয় স্বচ্ছ। মোহ সন্দিহান হয়ে তাকালে হঠাৎ করেই মোহের চোখের ওপর হাত রাখে স্বচ্ছ। মোহ কিছু ভেবে ওঠার আগেই ঘটে যায় ভয়াবহ এক কান্ড! মোহের চিকন হালকা গোলাপী বর্ণের ঠোঁটে পরে স্বচ্ছের ঠোঁটের পরশ। উষ্ণ ঠোঁটের ছোঁয়ায় সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে মোহের। অদ্ভুত ঘোরের আবেশে মেতে ওঠে সে। বুঝতেই পারে না কি হলো তার সাথে? যখন ঘোর ভাঙিয়ে চোখ খুলে ফেলে তখন দেখে স্বচ্ছ রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেছে। হেঁটে যাচ্ছে সদর দরজার দিকে। পিছু ফিরে সে মোহের দিকে আবারও ঠোঁটজোড়া সরু করে চুমুর মতো ইশারা করে দৃষ্টির অগোচরে চলে যায় সে। মোহ থম মেরে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। এটা কেমন মিষ্টি ছিল?

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যেবেলা। চারিদিকে লোকজনের সমাগম। আলোতে ঝলমল করছে পরিবেশ। জাঁকজমকভাবে সাজানো রিসোর্ট। চলছে মোহ ও স্বচ্ছের রিসেপশন। কথা অনুযায়ী রিসেপশনের অনুষ্ঠান ধুমধাম করেই করছেন মিসেস. রেবা ও নেহাল সাহেব। তবে তাদের ইচ্ছে ছিল না। অনুষ্ঠানের মধ্যমনি স্টেজের সোফায় বসে থাকা মোহ ও স্বচ্ছ। একের পর এক ছবি তোলাতে বিরক্ত তারা। তবুও পরিচিত কেউ এলে জোর করে হাসি ফুটিয়ে আলাপে ব্যস্ত ওরা। স্বচ্ছ ও মোহকে রাঙানো হয়েছে এবার বেগুনি রঙে। দুজনকেই মিলিয়ে সাজসজ্জা করিয়েছে সকলে। বেগুনি রঙের শাড়ি আর সাথে হালকা গয়না পড়ে সাজানো হয়েছে মোহকে। কোঁকড়ানো চুল বাঁকা করে খোঁপা করা। সেখানেই বার বার সুযোগ পেলেই খুঁচিয়ে যাচ্ছে স্বচ্ছ। দাঁতে দাঁত চেপে মোহ বার বার ইশারাই মানা করলেও কে শোনে কার কথা?

অফিসের লোকজন আসাতে খোঁচানো বাদ দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে স্বচ্ছ। সবাইকে স্বাগতম জানাতে যায় সে। অফিসের সকলে এসে ভীড় করে মোহ ও স্বচ্ছের সামনে। সবার দিকে তাকিয়েই সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে আলাপ করছিল মোহ।

“স্যার, আপনি এভাবে বিয়ে করবেন এক্সপেক্ট করিনি। লুকিয়ে বিয়েটা সেড়ে ফেললেন? তাও আমরা বান্দরবান থাকা অবস্থাতেই?”
অফিসের একজন হঠাৎ করতেই জিজ্ঞেস করল স্বচ্ছকে। স্বচ্ছ উত্তরে বলল,
“এইতো সব হঠাৎ করেই….”

“থাক, অন্তত এখানে তো ইনভাইট করেছেন তাতেই খুশি।”
বলেই সবাই হেঁসে ওঠে। মোহ অন্যদিকে তাকিয়ে বসে ছিল। ভীড় লোকজনের সমাগম একদমই পছন্দ না তার। শ্বাস নিতে যেন কষ্ট হয়। হাসাহাসিতে একবার অফিসের লোকজনের দিকে তাকালো মোহ। এতো ভীড়ের মাঝে এক কোণে তৎক্ষনাৎ তার মনে হলো চেনা মুখ রয়েছে। ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই স্তব্ধ হয়ে গেল সে। মস্তিষ্কের সবটা ফাঁকা হয়ে গেল মানুষটাকে দেখে। নিজমনে মোহ বিড়বিড়িয়ে বলল,
“আয়মান!”

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ