ছোট গল্প : #শিলার_রূপান্তর :প্রথম পর্ব
ইশরাত জাহান এনি
আজকে শিলার কিছু ভালো লাগছেনা। বিকাল থেকে ওর স্বামীকে কল দিচ্ছে কিন্তু ধরছে না। কত কিছু যে চিন্তা হচ্ছে শিলার। কোন এক্সিডেন্ট হলো কিনা, অন্য কোন বিপদে পড়লো কিনা। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে সামির নিজে কল দিয়ে জানাল হাত থেকে মোবাইলটা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে পড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর আসছে, চিন্তা করতে মানা করল।
শিলা আর সামিরের দুই ছেলে মেয়ে। বড় ছেলেটা ক্লাস সেভেনে আর ছোট মেয়েটা বিশেষ স্কুলে ক্লাস থ্রিতে পড়ে। সারাদিন সন্তানদের পড়াশোনা, কোচিং এসবেই শিলার সময় কেটে যায়। আগে বেশ ভালো একটা চাকরি করতো কিন্তু মেয়েটা হওয়ার পর ছেড়ে দেয়। কেননা ওর মেয়ে আলিশার জন্মের পর থেকে চোখের দৃষ্টি ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এখন একেবারেই দেখতে পায় না।
ওর বড় ছেলের সময় শাশুড়ি জীবিত ছিলেন। তিনিই সব করেছেন। তখন শিলার চাকরি করতে কোন অসুবিধাই হয়নি। মেয়ের দেখাশোনা করার জন্য নিরুপায় হয়েই চাকরীটা ছাড়তে হয়।
সামির শিলার জন্য খুব সুন্দর একটা শাড়ি নিয়ে এসেছে। শাড়িটা খুব পছন্দ হয় শিলার।
কত দিয়ে কিনেছো শাড়িটা?
কেন? দাম শুনে তোমার কি কাজ?
না হঠাৎ কোন অকেশন ছাড়া শাড়ি! এর আগে তো দাওনি।
আগে দেইনি তাই বলে এখন দেওয়াটা কি অন্যায়?
না তা বলছি না, এর চেয়ে বাচ্চাদের জন্য কিছু আনতে।
সামির কথা না বাড়িয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। শাড়িটা পেয়ে শিলার আনন্দ আর ধরে না।
শিলা আলিশাকে স্কুল থেকে নিতে এসেছে। এমন সময় ওর কলেজ ফ্রেন্ড ইভার ফোন আসে।
হ্যালো কে বলছেন?
আমাকে ভুলে গেছিস? নাম্বারটাও সেভ করিস নি?
ও ইভা, কেমন আছিস বন্ধু।
ভালো, আমার তোদের ওখানে পোস্টিং হয়েছে। সামির ভাইয়ের অফিসেই।
এটাতো অনেক ভালো কথা। অনেক আড্ডা হবে বাসায় আসিস।
ওকে বাই, দেখা হবে বন্ধু।
ইভা শিলার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এমন কোন বিষয় নেই যেটা শিলা কলেজে ওকে শেয়ার করেনি। দুজন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাবজেক্টে ছিল।
২/৩ দিন পর ইভা শিলার বাসায় উপস্থিত।
তুই আমার বাসার ঠিকানা পেলি কিভাবে?
ওমা ভুলে গেছিস সামির ভাই আর আমি একই অফিসে কর্মরত।
দরজায় বেল বাজে। সামিরও চলে এসেছে।
কি দুই বান্ধবী এক হয়ে কি আমার বারোটা বাজাবে নাকি?
তুমি শুধু উল্টাপাল্টা কথা বল।
সামির ভাই আপনি জয়েন করেন আমাদের আড্ডায়।
না না, তোমরা গল্প কর।
রাতের খাবার খেয়ে ইভা চলে যায়। ইভার হাজবেন্ড সিঙ্গাপুরে একটি আইটি কোম্পানিতে কর্মরত। ইভার একমাত্র ছেলে ক্লাস ফাইভে পড়ে।
আজকে শিলা আলিশাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছে। এত সুন্দর হয়েছে ওর মেয়েটা অথচ চোখে দেখতে পায় না। তবে ডাক্তাররা বলেছে ওর ভালো হওয়ার চান্স আছে। রাতদিন শিলার এখন সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই চাওয়া, মেয়েটা যেন দৃষ্টি ফিরে পায়। সামির আসতে দেরি করছে, ওদেরকে রিসিভ করে বাসায় নেওয়ার কথা। রাত আটটা বাজে।
কি হলো, এক ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি কোথায় তুমি?
আসছি, অফিসের কাজ যে কত কঠিন তুমি তো বোঝো না?
এই কথাটা শুনলে শিলার খুব কষ্ট হয় আরে সেও তো অফিসে কাজ করেছে। ওর চেয়ে আরো বেশি দায়িত্বশীল পদে ছিল।
সামির আমিও কিন্তু চাকরি করেছি। এত দেরি হচ্ছে কেন বল।
অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়েছে আবার রাস্তায় টায়ার পাংচার হয়ে গিয়েছিল এজন্য। এইতো তোমাদের দেখতে পাচ্ছি।
আজ শিলারা ইভার বাসায় ডিনার করতে এসেছে। ছুটির দিনটা একসাথে আড্ডায় ভালোই লাগছে শিলার। শিলা ইভার গোছানো বাড়িঘর ঘুরে ঘুরে দেখছে। শিলাও এভাবে রাখতো এক সময়। কিন্তু মেয়েটা হওয়ার পর ওর দিকেই বেশি খেয়াল চলে গেছে। এসব তেমন করতে ইচ্ছে করে না। ইভা তিনটা তিন কালারের মগে কফি আনে। বারান্দায় তিনজন বসে খাচ্ছে। বাচ্চারা একসাথে খেলছে। হঠাৎ আলিশা ওর মাকে ডাকে। শিলা সামির আর ইভাকে রেখে মেয়ের কাছে যায়।
শিলা সেদিন কোনো সন্দেহ করেছে?
আরে না সন্দেহ করার কিছু পেলে না করবে।
হঠাৎ ইভা সামিরের কফির মগটা নিয়ে চুমুক দিতে থাকে। আর সামিরকে ওরটা দেয়।
শিলা ৫ মিনিট পর ফিরে আসে। ওর কি জানি চেঞ্জ মনে হচ্ছে। স্বামীর কে গ্রীন কালারের মগে কফি খেতে দেখেছিল আর ইভারটা ছিল রেড। ওরটা ব্লু। কিন্তু এখন দেখছে সামির রেড টাতে আর ইভা গ্রীন মগে কফি খাচ্ছে। ধুর কি ভাবছি উল্টাপাল্টা জিনিস, আমারই হয়তো চোখের ভ্রম ছিল।
কিরে কি ভাবছিস এত?
না কিছু না, কাল আয়ানের ম্যাথ পরীক্ষা যেতে হবে এখন বাসায়।
আয়ানের কোন প্রবলেম হবে না শিলা, আমার ছেলে ম্যাথে মাশআল্লাহ অনেক ভালো।
শিলারা আরো ঘন্টাখানেকের মত ইভার বাসায় কাটিয়ে বাসায় আসে।
শিলার দুই সন্তানের পরীক্ষা শেষ। ওরা স্বপরিবারে আগামীকাল নেপাল বেড়াতে যাবে।সব ব্যাগও প্যাক করা শেষ।
সামির তোমার আর কিছু প্যাক করা বাকি আছে?
ও তোমাকে কথাটা কিভাবে বলি সোনা। এবারের ট্রিপটা ক্যান্সেল করতে হবে। আমার এত কাজ, দম ফেলবার সময় নেই।
এটা কেমন কথা বাচ্চারা কত আশা করে আছে। অথচ তুমি আজ জানাচ্ছ?
সরি, তুমি ওদের একটু বুঝাও প্লিজ।
কি বুঝাবো, আগামী ছয় মাসে তো এত ছুটি একেবারে ওরা পাবে না, কি আর করা!
সামিরের অফিসের কাজে তিন দিনের জন্য চট্টগ্রাম থাকতে হবে। স্বামীর খুব তাড়াহুড়া করে ব্যাগ গুছাচ্ছে। শিলা লক্ষ্য করল স্বামীর ফরমাল ড্রেসের চেয়ে ইনফোরমাল ড্রেস বেশি নিচ্ছে।
কি ব্যাপার তোমার অফিসের কাজ কিন্তু অপ্রয়োজনীয় পোশাক এত নিচ্ছ কেন?
ও দেখো টেনশনে ভুলে গেছি কি নিব আর কোনটা নেব না। তুমি গুছিয়ে দাও না সোনা।
শিলা দরকারি কাপড়চোপড় সব দিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে দিল। তিন দিনে সামির হাতে গোনা ৪/৫ বার ফোনে কথা বলেছে তাও ব্যস্ততা দেখিয়ে। শিলার কেন জানি সামির এর পরিবর্তনগুলো চোখে বাঁধছে। ও ঠিক করে এবার খেয়াল রাখবে বিষয়টা।
ইভা আর সামির রাঙ্গামাটির একটা রিসোর্টে উঠেছে। সামির ফরমাল ড্রেসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিষয়টা অড লাগছে।
কি ব্যাপার সামির এসব ড্রেস পড়ে কেউ রিসোর্টে ঘুরে?
কি করবো বলো। আরেকটু হলে তো শিলার কাছে ধরা খেতাম।পরে ও সব কাপড়চোপড় নামিয়ে ফরমাল ড্রেসগুলো ভরে দিয়েছে।
চলো পাশেই মার্কেট কিছু ড্রেস কিনবে। আমাদের এত সুন্দর মুহূর্তের ছবি থাকবে এসব ড্রেস পরে?
তিন দিন কাটিয়ে সামির চলে আসে। এবারও শিলার জন্য গিফট ও বাচ্চাদের জন্য অনেক রকম চকলেট নিয়ে আসে। শিলা লক্ষ্য করে সামির ওর ব্যাগটা আলমারিতে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে দিল।
ওমা ময়লা কাপড় সহ ব্যাগ তালা দিচ্ছ কেন?
অনেক দরকারি কাগজপত্র আছে পরে বের করব, আজকে টায়ার্ড। তখন পরিষ্কার করো।
সামির অফিসে চলে যায় চাবি নিয়ে। শিলা তালা খোলার এক লোক নিয়ে আসে। সামিরের ব্যাগ খুলে বিশাল বড় ধাক্কা খায়। ওখানে শ্যাম্পেন, আউটিং এর অনেক গেঞ্জি প্যান্ট, প্রোটেকশান আর কিছু ঔষধপত্র। শিলা ব্যাগটা আবার যেখানে ছিল সেখানেই রেখে দেয়। ও বুঝতে পারে ওর জীবনে বিশাল ঝড় উঠে গেছে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে যাবে। শিলার এখন দেখার বিষয় কার সাথে সামির জড়িয়ে গেছে।
শিলা বছর তিনেক আগে সামিরের অফিসে গিয়েছিল। আজ হঠাৎ সামিরকে না জানিয়ে অফিসে উপস্থিত। সামিরের চেম্বারে যেয়ে দেখে ইভার সাথে খুব চুটিয়ে গল্প করছে। ইভা সামিরের এর চেয়ে পদবিতে ২ গ্রেড নিচে। বাসায় ওরা যতই পরিচিত থাক কিন্তু অফিসে এরকম আচরণ দৃষ্টিকটু। শীলাকে দেখে দুজনের মুখই কালো হয়ে যায়। শিলা ওর মনের ভাব লুকিয়েই রাখে।
কিরে তোরা দুজনেই দেখি আড্ডা মারিস বেশি এজন্যই কাজ টাজ বোধ হয় শেষ করতে পারিস না।
কি যে বলিস শিলা, সামির ভাই এত একটা ফানি কথা বলেছে, না হেসে পারিনা। তোরা কথা বল আমি আসি।
না তেমন কথা নেই, তোর যাওয়া লাগবে না।আমি সামিরকে নিয়ে আলিশার ডাক্তারের কাছে যাব। এই ডাক্তারকে যতদিন ধরে দেখাচ্ছি সামির তো সময়ই দিতে পারছে না। অথচ অন্য সময় আলিশাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে ও একাই যেত।
চলো শিলা বের হই। অফিসের ফাঁকে একটু রিলাক্স না হলে কাজ আগায় না।
হ্যাঁ ইভার সাথে আড্ডা দিয়ে আরেকদিন রিলাক্স হবে, আজ না হয় একটু বাদ থাক।
সামিরের পুরো রাস্তায় মুখ ভোতা ছিল। আলিশার ডাক্তার বলেছে বিদেশ থেকে যে ডাক্তার আসবে তাকে সব রিপোর্ট পাঠিয়েছিল। আলিশার চোখ ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ৮০%। এমন খুশিতে যখন সামিরের মন ভার তখন শিলার আর বুঝতে বাকি থাকে না ওর সম্পর্কটা ইভার সাথেই চলছে। ইভা আরও তিন মাস আগেই জয়েন করেছিল অফিসের স্টাফকে আজ জিজ্ঞাসা করে জেনে নিয়েছে শিলা। কিন্তু ইভা আর সামির দুজনেই বিষয়টা লুকিয়ে জয়েনিং ডেট তিন মাস পিছিয়ে বলেছে। এখন আর সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, শুধু হাতেনাতে ধরা বাকি।
কি হলো, মেয়ে চোখে দেখবে বাবার মুখে হাসি নেই কেন?
কি যে বল, ওর কথাই ভাবছিলাম। মেয়েটা অবশেষে চোখে দেখতে পারবে।
তাহলে হাসো, কষ্টের কি আছে?
অনেক জোর করে সামির মুখটা হাসি হাসি ভাব করে।
সামির অফিস থেকে সকাল সকাল চলে আসছে ইদানিং। অন্যান্য কাজেও বেশ মনোযোগী। সামির শিলাকে কিছু বলার চেষ্টা করেও বলছে না।
কি, কিছু বলবে নাকি?
বলছিলাম আগামীকাল আবার অফিসের কাজে দূরে যেতে হবে। খুবই আর্জেন্ট।
আচ্ছা ঠিক আছে, কয়দিনের জন্য?
একদিন
তাহলে যাও, এত চিন্তার কি আছে।
আমি ভাবছি একদিন ইভার বাসায় আড্ডা দিয়ে কাটাবো যেহেতু ছুটির দিন আর তুমিও বাসায় থাকবে না। তুমি যাও।
কথাটা শুনে সামিরের মুখের যে অবস্থাটা হল সেটা দেখে শিলার হাসি পায়। এখন শিলার সামিরের এসব আচরণে কষ্ট হয় না। ভালোবাসাটা একদম মরে গেছে।
ইভার বাসায় শিলা এক রকম জোরকরেই দাওয়াত নিয়ে গেল। ইভার অবস্থাও খুব খারাপ। বিকালের দিকে হঠাৎ ইভার বাসায় সামির উপস্থিত।
যেতে হবে না বুঝলে শিলা।
ভালোই হলো এই ইভা দেখ সামিরও এসে গেছে, এখন বেশ মজা হবে।
ইভা আবার কফির মগ আনে তিনটা তিন রংয়ের। যখন চুমুক দিচ্ছিল তখন শিলা সবার সেলফি তুলে। মেয়েকে ঔষধ খাওয়াতে হবে বলে উঠে যায় বারান্দা থেকে ড্রয়িং রুমের দিকে। কিন্তু বারান্দার বাহিরে চুপচাপ দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে।
ইভা, আমার মনে হয় শিলা সন্দেহ করছে।
ইভা সামিরের গ্রীন কালার এর মগটাতে চুমুক দিয়ে বলে এরকম সন্দেহ অনেক স্ত্রীরাই করে। কিন্তু প্রমান তো দিতে হবে। আর আমি যে সেই এটা বের করা অত সোজা না।
তোমার হাজব্যান্ড জানি কবে আসছে।
এইতো, আগামীকাল।
সব কথা শিলা স্পষ্ট শুনতে পায়। হঠাৎ বারান্দায় প্রবেশ করে।
কিরে ইভা সামিরকে দেওয়া গ্রীন মগে তোর কফি খেতে ভালো লাগলে গ্রিনটা তুই নিবি আর রেডটা ওকে দিবি। কিন্তু ও অর্ধেক খাওয়ার পর ওটা হাত থেকে টেনে নিয়ে চুমুক দেয়ার কি আছে। সামীরের এটো কফি তোর খেতে ভালো লাগে বুঝি?
দুজনের কথাই বন্ধ হয়ে গেছে। শিলা বারান্দায় আগে থেকে লুকিয়ে রেখে দেওয়া মোবাইলটা বের করে ওদের মগবদল আর সব কথার দৃশ্য দেখায়। দুজনেই এখন স্তব্ধ।
দেখ শিলা তুই যা ভাবছিস তা না।
হ্যাঁ, সামিরের সাথে তিনদিনের ট্রিপে কি কফির মগই চেঞ্জ করেছিস নাকি আরো কিছু?
দেখ আমি তোর সংসার ভাঙতাম না।
তাহলে জোড়া লাগিয়ে রাখতি!! ও বুঝতে পেরেছি, স্বামী বিদেশ তাই টাইম পাস। তাও আবার বেস্ট ফ্রেন্ডের হাজবেন্ডের সাথে!! নিজের স্বামীকে যে আনন্দটা দিতি আমার স্বামীকে তার চেয়ে বেশী দিচ্ছিস। বাহ কি উদারতা!!!
সামির মুখে কুলুপ এটে রেখেছে। নিরব শ্রোতা হয়ে শুনছে। শিলা বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়ে চলে আসে। পিছন পিছন সামিরও আসছে।
কি ব্যাপার তুমি ইভাকে একা রেখে আসলে কেন? আমি সব জেনে গেছি এজন্য প্রবলেম?
আমার ভুল হয়ে গেছে শিলা, মাফ করে দাও।
ও এটা তো টাইম পাস, মাফ তো করাই যায়, তাই না?
আমি কখনো আর এরকম কিছু করবোনা।
গত দুই বছর যাবত ইভার সাথে সম্পর্কে আছো, তোমার ম্যাসেঞ্জার আর হোয়াটসঅ্যাপ চেক করে পেয়েছি। তখন কি ভেবেছিলে যে ফিরে আসা দরকার?
সামির মাথা নিচু করে থাকে। আজ ওর সব উত্তর হারিয়ে গেছে।
অপারেশনের পর শিলার মেয়ে এখন চোখে দেখতে পারে। আল্লাহ শিলার এই চাওয়াটা পূর্ণ করেছেন। শিলার অনেক কিছু হারিয়েও আর আফসোস নেই।
সামিরের সাথে ডিভোর্সের জন্য আবেদন করেছে। তিন মাস যাবত আলাদা বাসায় আছে। ভাগ্য ভালো সাত বছরের চাকরির টাকাগুলো এফডিআর করে রেখেছিল যেটা এখন ওর অনেক বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে শিলা অনেক কাজের কথা চিন্তা করছে। কোন কাজটাতে জড়াবে,ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিবে। শিলা এখন এতটাই কঠিন যে ওর পিছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। কিছুদিন পর বাচ্চাদের নিয়ে সামির ওর নামে যে ফ্ল্যাটটা কিনেছিল সেটাতে উঠবে। শিলার ছেলে আয়ান যথেষ্ট ম্যাচিউরড বয়সের তুলনায়। মার কষ্টটা ও ভালোভাবেই বোঝে।
মা তুমি ভেবো না, আমি সব সময় তোমার পাশে আছি। তুমি হলে আমাদের সবকিছু। তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা।
আলিশাও এসে দুজনকে জড়িয়ে ধরে। শিলার এখন আর কিছুর দরকার নেই। ওর নির্মল হাসি, সেটার জানান দেয়।
চলবে…..
