#অপূরণীয়
#পর্ব_১
#লেখকা_Sathi
আমি ইতালিতে থাকি ৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। ৩ বছর আগে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করেছিলাম, কিন্তু বিয়ের ৪ মাসের মাথায় ডিভোর্স হয়ে যায়। দোষটা বোধহয় আমারই, কারণ আমি তাকে সময় দিতে পারিনি। বিয়ের ২ মাস পরেই তাকে রেখে ইতালিতে চলে আসি।
“আজ দেশে আবার এসেছি বোনের বিয়ে উপলক্ষে। কিন্তু ঘরে ঢুকে হতভম্ব হয়ে যাই,এখানে আমার সাবেক স্ত্রী উপস্থিত। মুহূর্তেই বু*কের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। চারিপাশ তাকিয়ে দেখি পরিবারের লোক আর সে ছাড়া কেউ নেই। অনুষ্ঠান রাতে, তাই এখন সকালে অতিথি না থাকারই কথা।
“আমাকে দেখতেই সবাই তোড়জোড় শুরু করে, কিন্তু আমি এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। কী নিষ্পাপ, মায়াবী চেহারা! অথচ এই নিষ্পাপ চেহারাটাই একদিন আমাকে ভীষণভাবে ভুল বুঝিয়েছিল, দূরে ঠেলে দিয়েছিল। বুকের কোথাও যেন পুরনো ব্য*থা নড়ে ওঠে।
__ রিদ বাবা, কেমন আছিস? তুই হঠাৎ আসবি, আমাদের তো বলিসনি?
__ ভালো মা। তুমি কেমন আছো? আমার পুতুলের বিয়ে না এসে কিভাবে পারি? এটা সারপ্রাইজ ছিলো।
“বলেই মাকে জড়িয়ে ধরি। মায়ের শ*রী*রের পরিচিত গন্ধে মনটা নরম হয়ে আসে। দীর্ঘদিন পর এই অনুভূতি। মাকে ছেড়ে সোফায় বসতে যাচ্ছিলাম, এমন সময় কারো চিৎকারে থেমে যাই।
__ ভাইয়া..!
বলতে বলতে গলা পেঁচিয়ে ধরে পুতুল। আমার নিঃ*শ্বাস যেন আটকে আসে। এত বড় হয়ে গেছে তবু এখনো আগের মতোই জড়িয়ে ধরে। তাড়াতাড়ি করে বোনের হাত গলা থেকে ছাড়িয়ে কপালে চু*মু দিই।
__ কেমন আছিস, পুতুল?
__ ঝাক্কাস! তুই কেমন আছিস ভাইয়া?
__ আমিও ঝাক্কাস আছি।
বলেই আমরা দু’জন একসাথে হেসে উঠি। হাসতে হাসতেই আড়চোখে একবার তাকাই, দেখি প্রিয়ার দিকে (আমার স্ত্রী)। আমার তাকানো দেখে সে কেমন অস্বস্তিতে পড়ে যায়। চোখ নামিয়ে ফেলে। দেখি ধীরেসুস্থে আমার দিকে হেঁটে আসছে। পায়ের শব্দ খুব ক্ষীণ, তবু আমার কানে স্পষ্ট শোনা যায়।আমিও অপেক্ষা করি তার জন্য। বুকে*র ভেতর অদ্ভুত এক ধড়ফড়ানি।আমার কাছে আসতেই কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
__ কেমন আছো, রিক?
__ ভালো। তুমি কেমন আছো?
__ ভালো।
বলেই প্রিয়া মাথা নিচু করে নেয়। চোখ তুলে তাকাতে পারে না। দুইজনের মাঝে অজানা এক দূরত্ব।আমিও আর কিছু না বলে সোফায় বসে যাই। মা আমাকে আপ্যায়ন করার কাজে লেগে পড়ে। আড়চোখে তাকিয়ে দেখি প্রিয়া দাঁড়িয়ে আছে। অস্বস্তিতে তার আঙুলগুলো ওড়নার কোণা মুচড়াচ্ছে।দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম।
__ বসো।
আমার কথায় প্রিয়া মাত্রই বসতে যাচ্ছিল। তবে বসতে পারল না। ঠিক তখনই পিছন থেকে একজন “মা” বলে ছোট ছোট কদমে এগিয়ে আসে। নরম পায়ের শব্দ, টুকটুক করে মেঝেতে আ*ঘাত করা ছোট স্যান্ডেলের আওয়াজ।একদম ছোট বাচ্চাটা, বয়স কত হবে ধারণা নেই। দুই? তিন? গোলগাল গাল, বড় বড় কৌতূহলী চোখ। বাচ্চাটার একটা হাত একজন ধরে আছে।তাকে দেখে আমি ভীষণ অবাক হই,এটা তো প্রিয়ার বন্ধু মির।আর বাচ্চাটা তাকে মা ডাকছে।তবে কি প্রিয়া বিয়ে করে নিয়েছে?
“প্রশ্নটা মাথায় ঝড়ের মতো ঘুরে ওঠে। বু*কের ভেতর হঠাৎ করেই কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। গলা শুকিয়ে আসে। এতদিন পর দেশে ফিরে, এমন একটা দৃশ্য দেখব,কখনো ভাবিনি।সামনে তাকিয়ে দেখি প্রিয়া দূরে গিয়ে বাচ্চাটাকে আ*দরে আদরে ভরিয়ে দিচ্ছে। সে হাঁটু গেড়ে বসে শিশুটার গাল চেপে ধরে, কপালে চু*মু খায়। তার মুখে মায়ার হাসি, যে হাসিটা একদিন আমার জন্য ছিল।এটা দেখে বুকটা কেমন ধড়ফড় করে ওঠে। মনে হয় কেউ ভেতর থেকে জোরে ধা*ক্কা দিল।আমি স্থির হয়ে বসে থাকি, “মা” এই দুটোই কানে বাজতে থাকে।মনের ভেতর অজস্র প্রশ্ন।
চলবে।
