Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তোমার জন্য সিন্ধুর নীলতোমার জন্য সিন্ধুর নীল পর্ব-১২+১৩

তোমার জন্য সিন্ধুর নীল পর্ব-১২+১৩

#তোমার_জন্য_সিন্ধুর_নীল
#পর্ব_১২
#সারিকা_হোসাইন

চারপাশে লাইটস ক্যামেরার ঝলকানি,সাধারণ মানুষের চাইতে যেনো রিপোর্টাস এর সংখ্যাই বেশি।
আহিয়ান কে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে শেল্টার এর সাথে ঢাকা এয়ার পোর্ট থেকে আর্মিদের স্পেশাল গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু চারপাশে ক্রুদ্ধ জনতা।

কেউ পাথর ছুঁড়ে মারছে,কেউ স্যান্ডেল ছুড়ে মারছে কেউবা আবার ডিম।

টিভিতে নিজের ছেলের এমন দুর্দশা দেখে টিভি বরাবর রিমোট ছুড়ে মারলেন আশরাফ চৌধুরী।রিমোটের আঘাতে নিমিষেই ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে গেলো বিদেশ থেকে আনা ব্র্যান্ডেড টিভি টার।

তার তিলেতিলে গড়া সম্মান,ভালমানুষির মুখোস,প্রতিপত্তি,এই জানোয়ার নিমিষেই নষ্ট করে দিলো।স্কাউনড্রেল টা কে আগেই খুন করে দিলে আজকে আর এই দিন দেখতে হতো না।

মানুষের সামনে সম্মান হানী, ছেলে সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জবাব এসব এড়াতে মিথ্যে নাটকের ভান ধরা ছাড়া আর কিচ্ছু করার নেই।বজ্জাত রিপোর্টার দের কথা না বললেই নয়।

প্রথম প্রশ্নই করে বসবে
―আপনার ছেলে এতো অপকর্ম করেছে ,আপনি একজন বাবা হিসেবে কিছুই জানেন না?
শুধু কি তাই?
মিথ্যে গুজব জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন হেডলাইন বানিয়ে খবর প্রচার করবে।
শেষে দেখা যাবে কেঁচু খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে গেছে।

―――――――
নিউজ পোর্টাল গুলো তে সাংবাদিক রা একে একে বিভিন্ন খবর বিভিন্ন ভাবে বলে যাচ্ছে_

বিশিষ্ট সমাজ সেবী আশরাফ চৌধুরীর একমাত্র ছেলে আহিয়ান চৌধুরী আহির ধুর্ততার সহিত মেজের জেনারেল নাফিজ মাহমুদ এর মেয়েকে রাশিয়াতে পাচার করে দেবার জন্য অপহরণ করেছে।
টানা পঁয়তাল্লিশ দিনের আর্মি অভিযানে রাশিয়ান আর্মির সহায়তায় সি,এম,এইচ এর এই নব্য মেডিকেল অফিসার কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

মুহিতের রেকর্ড করা রাশিয়ান ছেলে গুলোর জবানবন্দি গুলো কে মিডিয়া আরো রসিয়ে রসিয়ে প্রচার করলো।
আরো বললো―
ছেলের এহেন কুকীর্তি সহ্য করতে না পেরে বাবা আশরাফ চৌধুরী হার্ট এট্যাক করে ঢাকার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে আই সি ইউ তে ভর্তি আছেন।
অবস্থা আশংকাজনক।

********
বিভিন্ন জবানবন্দি, মেডিকেল টেস্ট করার পর স্বর্গকে বাসায় আনা হয়েছে।
মেয়েকে জড়িয়ে ধরে তনুজা আকুল হয়ে কেঁদে কেঁদে মেয়ের চোখে মুখে চুমু খাচ্ছেন।
মুহিত কে জড়িয়ে ধরে নাফিজ শুধু পিঠ হাতিয়েই যাচ্ছেন।

মুহিত আজ তার প্রাণ তার হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে।এই বিনিময়ে মুহিত যা চাইবে নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও মামা হিসেবে নাফিজ মাহমুদ মুহিতকে সেটাই দিবে দেবে।

মিসেস তারিন অবুঝের মতো শুধু চেয়েই রইলেন।কিছুই তার বোধগম্য হলো না।

সুখ দৌড়ে এসে স্বর্গকে জড়িয়ে ধরলো।
কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করলো
―মাফ করে দে আপু।আর কখনো তোর পিছনে লাগবো না।গুড বয় হয়ে লেখাপড়া করবো আর তোকে দেখেশুনে রাখবো।

পরিবারের মানুষের এহেন সূচনীয় অবস্থা দেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো স্বর্গ।

বাবা মা,ভাইকে ছাড়া সেও অনেক কষ্ট পেয়েছে অজানা,অচেনা পরিস্থিতি তে।

সে আবার নতুন জীবন পেয়েছে মুহিতের জন্য।
স্বর্গ মনে মনে নিজের সমস্তটা মুহিতের জন্য উৎসর্গ করলো।

________
পিউকে চমকে দিতে সৌম্য নিজেই এসেছে পিউ এর ক্যাবিনে।

পিউ কোনো এক ভাবনায় ডুবে রয়েছে।

সৌম্য গলা খাকরি দিলো

―পিউ আনমনে জিজ্ঞেস করলো কি সমস্যা ?খুলে বলুন।

―সমস্যা তো অনেক ম্যাডাম।আপনি কয়টার মেডিসিন প্রেসক্রাইব করবেন?

পরিচিত কন্ঠস্বর কানে পৌঁছুতেই বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো পিউ।

সামনে দাঁড়ানো নিজের একান্ত ব্যাক্তিগত পুরুষ টিকে দেখে চেয়ার রেখে দৌড়ে সৌম্যের বুকে আছড়ে পড়লো।
এতো দিনের জমিয়ে রাখা কষ্ট বাঁধ ভাঙা অশ্রুতে ধুয়ে মুছে গেলো।

সৌম্যকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে জানালো নানান অভিযোগ
―আপনি খুব খারাপ ক্যাপ্টেন, খুব খারাপ।
আপনি আমাকে এতগুলো দিন অনেক কষ্ট দিয়েছেন।

―একটা ফোন কল ও কি আমার প্রাপ্য ছিলো না?

আদুরে কন্ঠে সৌম্য বলে উঠলো―

―আপনি বড্ডো নরম মনের মানুষ পিউ,এতো নরম হলে কিভাবে চলবে?মানুষ তো আপনাকে সহজেই ভেঙে দিয়ে চলে যাবে।

―পিউ সৌম্যকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,পিউ এর মনে হচ্ছে ছেড়ে দিলেই সৌম্য আবার পালিয়ে যাবে।

পিউকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে সৌম্য বলে উঠলো―
“”আপনি জানেন না দূরত্ব ভালোবাসা বাড়ায়??

―না আমি জানিনা,জানতেও চাইনা।
পিউয়ের সাবলীল উত্তর।
মুচকি হেসে পিউএর কপালে গাঢ় চুমুর পরশ আঁকে সৌম্য।

*****—-

যতো দুপুর গড়াচ্ছে সূর্যের তেজ হুহু করে বাড়ছে,বাইরে এক দন্ড টেকা যাচ্ছে না।সূর্যের উত্তাপে মাটি সহ মরুভূমির বালুর মতো উত্তপ্ত হয়ে আছে।কোনো ফাঁকফোকর গলিয়েও ধরনীতে কোনো হাওয়া বইছে না।পাখপাখালী পর্যন্ত গাছের পাতার চিপায় ঘাপটি মেরে বসে আছে।মাঝে মাঝে দু একটা কাকের কা কা ডাক শোনা যাচ্ছে।

একদিকে প্রচুর গরমের ভেতর জার্নি করে এসেছে তন্মধ্যে
খাবারের অনিয়ম, ভয়ভীতি,অনুপযোগী পরিবেশ,সব মিলিয়ে স্বর্গের অবস্থা নাজুক।

বাসায় এসেই সে হড়হড় করে বমি করে দিলো।

মাথা চক্কর দিয়ে উঠছে বার বার।

তনুজা ধরে ধরে দূতলায় স্বর্গের বেড রুমে স্বর্গকে এনে শুইয়ে দিলেন।

আর নিজে চলে গেলেন স্যুপ বানাতে।

শরীরে শক্তি পাচ্ছে না স্বর্গ।

এই মুহূর্তে ভিটামিন স্যালাইন পুশ করা জরুরি।
নিজের ফোন ওয়ালেট,ব্যাগ সব কিছু হারিয়ে গেছে স্বর্গের।

আহিয়ানের দুধর্ষতার কথা মনে পড়তেই শরীর শিউরে উঠলো স্বর্গের।

হঠাতই স্বর্গের শয়ন কক্ষের দরজা খুট করে খুলে গেলো।
রুমে প্রবেশ করলো মুহিত।

মুহিত কে দেখে বুকের ধুকপুকুনি বেড়ে গেলো স্বর্গের।মনে হচ্ছে এখনই লাভ এট্যাক এসে যাবে।

মুহিতের আর্মি ইউনিফর্মের আকর্ষণীয় রূপে স্বর্গ ভুলে গেলো চোখের পলক ফেলতে।

উফ,কে বলেছে এই ব্যাটাকে এতো সুন্দর হতে?

এই ব্যাটা রাস্তায় চলাফেরা করে কিভাবে?

মেয়েরা কি তাকে নজর দিয়ে গিলে খায় না??

শোয়া থেকে উঠে বসতে চাইলো স্বর্গ,কিন্তু শরীর সায় দিলোনা।
বসা মাত্র মাথা ঘুরে উঠলো।
আউচ্ বলে মৃদু শব্দ করে আবার ধপ করে শুয়ে পড়লো স্বর্গ।

মুহিত বিচলিত হলো।দৌড়ে স্বর্গের কাছে এসে দুটো বালিশ উঁচু করে দুই বাহু ধরে স্বর্গকে শুইয়ে দিলো।

মুহিত এতটাই স্বর্গের কাছে চলে এলো যে,
দুজন দুজনের হার্টবিট শুনতে পাচ্ছে।

মুহূর্তেই চোখাচোখি হলো দুজনের।এতটা কাছে তার প্রেয়সী।বুকের ভেতর অবাধ্য ইচ্ছে আন্দোলন করে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
নিজেকে কন্ট্রোল করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে ।
নিজেকে ভয়াবহ শাসিয়ে সরে আসতে চাইলো মুহিত।

অমনি খপ করে শার্টের কলার ধরে ফেললো স্বর্গ।
―প্লিজ নড়বেন না মেজর।আপনার হৃদ স্পদন শুনতে আমার ভালো লাগছে।
―আপনি আমার কাছে থাকলে আমার ভালো লাগে।নিজেকে সেইফ মনে হয়।
বলতে বলতে স্বর্গ মুহিতের গালে আঙুল ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে ঠোঁটের কাছে আনলো।
দুই আঙুলের সহায়তায় মুহিতের টকটকে লাল ঠোঁটে টিপে ধরলো স্বর্গ।
আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেললো মুহিত।

কন্ঠ খাদে ফেলে বলে উঠলো
―নিজেকে কন্ট্রোললেস লাগছে স্বর্গ।আমি অনেক ক্ষণ ধরে সব কিছু আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছি।প্লিজ আমাকে সীমানা পার হতে বাধ্য করবেন না।
―আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবেন মেজর?
স্বর্গের আকুল নিবেদন।

কিভাবে মানা করবে নিজের মোহিনীর এমন আবদার?

মুহিত পারলো না স্বর্গের আকুতি ফিরিয়ে দিতে।দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে চেপে ধরলো বুকের সাথে।স্বর্গও মুহিত কে এমন ভাবে ঝাপটে ধরলো যেনো কেউ চাইলেও আর তাদের আলাদা করতে না পারে।
মুহিতের মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে স্বর্গ কে সে যদি বুকের ভেতর পুরে ফেলতো পারতো তাহলে বুকের ভেতর যেই উত্তাল দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে সেটা নিভে যেতো।

―আপনাকে ভালোবাসি মুহিত।আপনি ই আমার ভালো থাকার একমাত্র ঔষধ।
আপনি কাছে আসার পর থেকে আমার সকল ক্লান্তি,খারাপ লাগা,উধাও হয়ে গেছে।
আপনি কি সব সময় এভাবে আমার পাশে থাকবেন মেজর?

দুই হাতের তালুতে স্বর্গের মুখের আদল ধরে নাকে ছোট করে একটি চুমু দিয়ে মুহিত আদুরে স্বরে বলে উঠলো―

যেভাবে চাইবেন সে ভাবেই আমি আপনার পাশে থাকবো স্বর্গ।

#চলবে।

#তোমার_জন্য_সিন্ধুর_নীল
#পর্ব_১৩
#সারিকা_হোসাইন

সমস্ত সাক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আহিয়ান কে ফা*সি*র আদেশ ধার্য করলো।
আশরাফ চৌধুরীর কাছে পুলিশ মারফত খবর পাঠানো হলো
সে যেনো একবার হলেও তার পুত্রকে দেখতে আসেন।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে নাকি সুরে কেঁদে খবর পাঠালেন―
–যেই ছেলে তার দেশ ও দেশের মানুষের ক্ষতি পৌঁছায় সে আর যাই হোক আশরাফ চৌধুরীর ছেলে হতে পারে না।

আমার এই জীবব্দশায় জেনে বুঝে কোনো দিন কোনো একটা পিঁপড়ে পর্যন্ত মারিনি,আর আমার ছেলে কি না —!

বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন আশরাফ চৌধুরী।

যেসব মেয়ে গুলোকে আহিয়ান পাচার করেছে এবং নির্মম ভাবে হ*ত্যা করেছে তাদের পরিবারের কাছে সংবাদ মাধ্যমে মিডিয়ার সামনে ক্ষমা চাইলেন।

আদালত যাতে দ্রুত তার ফাঁসি দিয়ে দেয় এটা নিয়েও তিনি কঠোর মতবাদ জানালেন।

যেই ছেলে বাবার আদর্শে মানুষ হতে পারেনি,যেই ছেলে অপকর্মে লিপ্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি করে বেড়াচ্ছে ,সেই ছেলের বেঁচে থাকার হক নেই।

আশরাফ চৌধুরীর কান্নায় সারা দেশের সাধারণ জনগণের চোখেও জল এসে গেলো।
এই না হলো আদর্শ বাবা।

এমন বাবা ঘরে ঘরে হওয়া উচিত।সবাই আশরাফ চৌধুরী কে তালি সমেত বাহবা জানালো।

*******
জেলে বসে বসে আহিয়ান জীবনের হিসেব কষছে।
তার বয়স যখন ছয় বছর তখন সে তার মাকে তার বাবার হাতে খু*ন হতে নিজ চোখে দেখেছে।
শুধু তাই নয় ,এই বিষয়ে আহিয়ান যদি কাউকে কিছু জানিয়ে দেয় তাহলে তাকেও মায়ের মতো গলা টিপে চিরজীবনের মতো চুপ করিয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে।
মাতৃ ভালোবাসা হীন আহিয়ান বড় হয়েছে হেল্পিং হ্যান্ডের হাতে।বাবা আশরাফ চৌধুরী প্রতিদিন নিত্য নতুন মেয়ে নিয়ে এসে বাসায় ফুর্তি করে বেড়াতো।

বাবার শয়ন কক্ষে অন্য একটি মেয়ের যৌন শীৎকার আহিয়ান কে প্রচুর কষ্ট দিতো।প্রথম প্রথম সে দুই কান চেপে ধরে কান্না করতো।মাঝে মাঝে আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়তো।

আশরাফ চৌধুরী প্রায় ই নেশায় বুদ হয়ে আহিয়ান কে প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেটাতো।

বাবার হাত থেকে রক্ষা পেতে আহিয়ান তার বাবাকে প্রতিশ্রুতি দেয় উনি যেভাবে চাইবেন আহিয়ান সেই ভাবেই নিজেকে প্রকাশমান করবে।

তবে আজ কেনো তার বাবার তার প্রতি এতো ঘৃণা?
এটা কি ঘৃণা নাকি নিজেকে বাঁচানোর নতুন নাটক?

আহিয়ানের এই একত্রিশ বছরের জীবনে সে কখনো দেখেনি আশরাফ চৌধুরী কে সামান্যতম বুকে ব্যাথা অনুভব করতে।

তবে এক রাতের ব্যাবধানেই হার্ট এট্যাক এসে গেলো?

আশরাফ চৌধুরীর সাজানো নাটক বুঝতে পেরে কষ্টে বুক ফেটে কান্না এলো আহিয়ানের।

সে তো বলেনি টাকার বড়াই দেখিয়ে তাকে এখান থেকে মুক্ত করতে!

সে শুধু চেয়েছে তার বাবা তার শেষ সময়ে এসে তাকে একবার হলেও দেখে যাক।
মমতা মাখা হাতটা মাথায় রেখে দুটো ভালো ভালো কথা বলে শান্তনা দিয়ে যাক।

গড়িয়ে পড়া জ্বল আঙুলের সাহায্যে মুছে টুকা দিয়ে দূরে ছুড়ে ফেললো আহিয়ান।

এর পর উঠে দাঁড়ালো,পাশে থাকা কারা রক্ষীকে কাছে ডাকলো।

কেটকেটে কন্ঠে কারা রক্ষী বলে উঠলো―

“”কী চাই””
আহিয়ান বাঁকা হেসে বললো―

“মেজর মুহিত ওয়াসিফ”

******

পুষ্টিকর খাবার,ইনজেকশন, ভিটামিন স্যালাইন আর বেড রেস্টের প্রভাবে কয়েক দিনেই অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে স্বর্গ।

ঘরে বসে থাকতে তার একদম ভালো লাগছে না।
বাইরে যাবার জন্য মন হাঁসফাঁস করছে।

সুখ চলে গেছে গত কাল,নাফিজ মাহমুদ দুপুরে খেয়ে ভাত ঘুম দিয়েছেন।উঠবেন সেই সন্ধ্যায়।

কোয়ার্টার এর মাঠ টাতে হেটে বেড়াতে পারলে ভালো লাগতো।

বিকেলে ছোট ছোট বাচ্চারা কেউ সাইকেল চালায়,কেউ দৌড়াদৌড়ি করে,কেউ ব্যাট মিন্টন খেলে কেউবা আবার বসে বসে আড্ডা দেয়।
প্রত্যেকটা অফিসারের বাংলোর সামনে সুসজ্জিত ফুলের বাগান।দেখলেই মন ভরে যায়।সাথে কচি নরম ঘাস।

মাঝে মাঝে স্বর্গের মনে হয় সে যদি গরু হতো তাহলে মাঠের সব ঘাস এক দিনেই সাবাড় করে ফেলতো।বিশেষ করে জেনারেল এর বাংলোর সামনের ঘাস গুলো।

মনের সকল ভাবনাকে একপাশে সরিয়ে স্বর্গ তার কক্ষ পরিত্যাগ করে ড্রয়িং রুমে নেমে আসলো।

সেখানে কাউকে পরিলক্ষিত হলো না।

সোফায় ধপ করে বসে পড়লো স্বর্গ।আজকের বিকাল টা তার কাছে সাংঘাতিক অলস মনে হচ্ছে।

সোফায় হেলান দিয়ে দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে হঠাৎ মুহিতের কথা মনে পড়লো তার।
মুহিতের আজ অফ ডে।

ওকেই তো নিয়ে যাওয়া যাবে।

ভাবনা টা মাথায় আসতেই ইয়েস বলে তুড়ি মারলো স্বর্গ।
যেই ভাবনা সেই কাজ।পা টিপে টিপে স্বর্গ মুহিতের কক্ষের দিকে অগ্রসর হলো।

মুহিতের দরজার সামনে এসে দুরু দুরু বুকে ঠকঠক শব্দ করলো স্বর্গ।

বিছানায় বসে ল্যাপটপে কিছু ব্যাক্তিগত কাজ সারছিলো মুহিত।
হঠাৎ দরজায় নকের শব্দে কাজে ব্যাঘাত ঘটলো।

এই টাইম টাতে মামা মামী দুজনেই ঘুমায়।আর মা তো কখনো ই আসেনা।মুহিত ই কাজের ফাঁকে গিয়ে মায়ের সাথে সময় কাটায়।তাহলে কে আসলো?
কাজ বাদ দিয়ে ল্যাপটপ অফ করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো মুহিত।

খুট করে দরজা খুলে স্বর্গ কে নিজের রুমের দরজার সামনে দেখে ঠান্ডা সমীরণ বয়ে গেলো মুহিতের প্রাণে।

না চাইতেও ঠোঁটে ফোটে উঠলো প্রশস্ত হাসি।

স্বর্গ আজ মেরুন রঙের একটি কুর্তি পড়েছে সাথে ম্যাচিং করা প্লাজও,গলায় ঝুলানো স্কার্ফ।ঘাড় সমান বাদামি চুল গুলো দুই পাশে ছাড়া।মুখে কোনো প্রসাধনীর ছোয়া নেই তবুও তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে মোহনীয় মনে হয় মুহিতের।

স্যালাইনের প্রভাবে মুখটা গুলুমুলু লাগছে।

মুহিতের মনে হলো মেয়েটাকে একটা টুপ করে চুমু খেয়ে ফেললে মন্দ হয় না ।
কিন্তু চাইলেই কি মেজর জেনারেল এর মেয়েকে যখন তখন চুমু খাওয়া যাবে নাকি?

মন কে বহুত হুমকি ধামকি দিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করলো মুহিত।
মুখে হাসি বজায় রেখে বলে উঠলো―

―আরে স্বর্গ আপনি?
“ভেতরে আসুন।””

মুহিতের মুখে আপনি সম্বোধন শুনে রাগের মিটার ছয়শত ফারেনহাইট হলো সামনে দাঁড়ানো মানবীর ।

তৎক্ষণাৎ পিছন ফিরে হাঁটা দিলো সে।

সাথে সাথে ই মুহিত বেক্কল বনে গেলো।

নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলো ―

“”কী হলো মেয়েটার হঠাৎ””

মুহিত আবার বলে উঠলো―

“”কি প্রবলেম হয়েছে স্বর্গ আমাকে খুলে বলুন।ভেতরে আসবেন না?

স্বর্গ মুখে কাঠিন্য বজায় রেখে বলে উঠলো―

“”না যাবোনা””!

“”তখন মুড ভালো ছিলো এজন্য এসেছিলাম,এখন মুড খারাপ হয়ে গেছে তাই চলে যাচ্ছি।

“”দরজায় নক করে আপনার বিশেষ সময় নষ্ট করার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত, মাফ করবেন।

বলেই দুই হাত জোড় করে চলে যেতে উদ্দত হলো।

মুহিত জানে মেয়েদের মুড সুইং হয়।নিজের বোন কে দিয়েই জলজ্যান্ত প্রমান মুহিত।

তাই বলে সেকেন্ডের ব্যাবধানেই??

স্বর্গকে মুহিত অনেক দিন ধরেই দেখে আসছে।সেকেন্ডের মাঝেই এমন আমূল পরিবর্তন কখনোই চোখে পড়েনি।মেয়েটি যথেষ্ট ম্যাচিউর।

―তাহলে??

“”মুহিত কি কোনো অন্যায় করে ফেলেছে?

“”নিজের অজান্তেই কি স্বর্গের কোমল মনে আঘাত দিয়ে ফেলেছে?

ভাবনা থেকে বের হতেই মুহিত দেখতে পেলো স্বর্গ তার রুমের ত্রিসীমানায় নেই।
মুহিত মাথায় হাত দিয়ে চার পাশে উঁকিঝুঁকি মেরে চিল্লিয়ে উঠলো

―আরেহ পাখী গেলো কোথায়?

★★★
সৌম্য মিশন থেকে ফেরার পর থেকেই পিউ আর সৌম্যের ভ্যালেন্টাইন চলছে প্রতিদিন।লাভ বার্ড এর মতো সুযোগ পেলেই দুজন দুজনকে ছাড়া থাকতে পারছে না।

ডিউটি টাইম শেষ হতেই সৌম্য পিউকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়,নিজেদের মতো করে সময় কাটায়।

দুজনের বন্ডিং ও খুব ভালো।তারা দুজন দুজনের প্রতি যথেষ্ট লয়াল।
তাদের সম্পর্ক এখন মধুপুর্ন।
“”আপনি”” নামক সম্বন্ধ কে টাটা বাই বাই জানিয়ে “”তুমি””তে চলে এসেছে।

ক্যান্টনমেন্ট এর ভেতরে নির্ঝর আবাসিক এর লেকের পাড় দিয়ে হাত ধরে হেটে বেড়াচ্ছে সৌম্য আর পিউ।
হঠাতই পিউয়ের ফোনের কর্কশ রিংটোন এ প্রেমে ব্যঘাত ঘটলো তাদের।
ঝটপট ফোন বের করে স্বর্গের মায়ের নম্বর দেখতেই ভ্রু কুঁচকে এলো পিউ এর।
স্বর্গ তার ক্লোজ ফ্রেন্ড হলেও স্বর্গের মায়ের সাথে খুব কম কথাই হয়েছে তার।
চিন্তিত হয়ে ফোন রিসিভ করে সালাম দিতেই ওপাশ থেকে স্বর্গের আওয়াজ পাওয়া গেলো।

পিউ কুশল বিনিময়ের জন্য প্রশ্ন করার আগেই স্বর্গ ঝনঝনানি কন্ঠে বলে উঠলো―
ওই হাব্লু মেজরের বডিগার্ড তোকে কি বলে সম্বোধন করে রে?

পিউ বুঝলো কোনো ঝামেলা নির্ঘাত হয়েছে।না হলে সৌম্য তাকে কি বলে সম্বোধন করে এসব সে কেনো জানতে চাইবে?

তাই স্বর্গ কে না ঘাঁটিয়ে সিধে ভাবে বলে দিলো–
তুমি বলে ডাকে।

তোকে আদর করে কি বলে ডাকে?

উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চাইলো স্বর্গ।

মাঝে মাঝে বাবু,জান, পাখি,টুকটুকি কখন কি বলে সেটা কথার মোডের উপর ডিপেন্ড করে “”
কেনো?
হঠাৎ এই প্রশ্ন কেনো?

স্বর্গ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলো তোর ওই মেজরের বডিগার্ড কে বলবি―
প্রতিদিন যেনো ওই রসকস হীন করল্লা মেজরের এক ঘন্টা করে লাভ ক্লাস নেয়।
না হলে এতদিন মেজর একা পানিশমেন্ট দিয়েছে,এবার থেকে বাপিকে বলে বাপীকে দিয়েও ওর হালুয়া টাইট করাবো।

বলেই খট করে কল কেটে দিলো স্বর্গ

স্বর্গের এহেন রণমূর্তি দেখে ভড়কে গেলো পিউ।
পিউএর মুখের দিকে তাকিয়ে সৌম্য বলে উঠলো ―

কি হয়েছে বাবু?

ঠোঁট উল্টে পিউ বললো –
স্বর্গ তোমাকে পানিশমেন্ট দিবে।

সৌম্য বড় বড় চোখ করে জিজ্ঞেস করে―

“”সে কী?আমি কি করলাম আবার?

―তুমি কিছুই করোনি,করেছে মেজর।

সৌম্য অবাকের সহিত প্রশ্ন করলো

“”কী করেছে মেজর??

সেটা তো আমিও জানতে চাই,বলেই বিজ্ঞের ন্যায় ভান ধরলো পিউ।

◆◆◆
নামিরা এখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।পেট টা অনেকটাই ফুলে উঠেছে।রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হয় তার,সোহাগ খেয়াল করেছে রাতের বেশির ভাগ সময় ই ওয়াশ রুমে কাটায় মেয়েটা।
খাবার দাবার এও চরম অনীহা এসেছে।

ডক্টর বলেছে এই টাইমটাতে প্রচুর সেইফলি চলাফেরা করতে হবে।
সোহাগ ভার্সিটি থেকে ছুটি নিয়েছে সে জন্য।

দিন যতো যাচ্ছে সোহাগ ততো ভয়ে সিটিয়ে যাচ্ছে,একা এই অচেনা দেশে সে কিভাবে সামলাবে নামিরা আর ছোট বাচ্চাকে?

সোহাগ মনে মনে ভাবলো নামিরার মাকে যদি এখানে আনা যায় তাহলে নামিরাও ভালো থাকবে,মা ও ভালো থাকবে।

অনেক ভেবে চিন্তে সোহাগ মুহিতের নম্বর ডায়াল করলো।

চারিদিকে ভ্যাপসা গরমে দম ফেলতেও যেনো কষ্ট হচ্ছে
সূর্যের উত্তাপ যেনো আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে ধরনীতে।এসির ঠান্ডা হাওয়ায় শরীর যেমন দ্রুত হীম হয় তেমনি বাইরে বের হলে যেনো গায়ে আগুন ধরে যায়।একটু বৃষ্টির শীতলতা উপভোগ করতে পারলে মন্দ হতো না।

মুহিত আজ অনেক ব্যাস্ত।অফিসিয়াল কাজে এক দন্ড রেস্ট নেবার ফুসরত মিলছে না।রোদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ির কারনে ঘেমে নিয়ে একাকার অবস্থা।
এর মধ্যে জেল সুপার জরুরি তলব করেছে।

মুহিতের সাথে জেল সুপার এর কি কাজ?

সেটাই ভেবে চলেছে মুহিত।

ভাবনার সুতো ছিড়লো রিংটোন এর শব্দে।স্ক্রিনে সোহাগের নম্বর দেখে বুক কেঁপে উঠলো মুহিতের।
জরুরি দরকার ছাড়া সোহাগ কখনোই মুহিত কে কল করে না।

ফোন কানে তুলে হ্যালো বলতেই সোহাগের উচ্ছসিত কন্ঠ শোনা গেলো।
মুহিত কিছুটা শান্ত হয়ে কুশল বিনিময় পর্ব শেষ করলে।

সোহাগ ইতস্তত করে বলে উঠলো
―মুহিত নামিরার যেকোনো সময় লেবার পেইন উঠতে পারে,আমি একা এখানে সাহসে কুলাতে পারছি না।

“”তুমি জানো নামিরার মুখ থেকে একটু “আহ” মূলক শব্দ আমার হৃদয়ে কতোটা ব্যাথার সৃষ্টি করে।

লেবার পেইনে নামিরা এই বিদেশ বিভুঁইয়ে কাতরাবে এটা আমি সহ্য করতে পারবো না।
আর তা ছাড়া নামিরার একটা সাহস দেবার মানুষ প্রয়োজন।

জানি একটা অন্যায় আবদার করতে যাচ্ছি।তবুও নামিরার ব্যাপারে আমাকে একটু নয় অনেকটাই স্বার্থপর বলতে পারো।

সোহাগ অপরাধীর ন্যায় কন্ঠ খাদে ফেলে বললো

―””যদি কিছু মনে না করো মা কে একটু পাঠাবে?

মা তো অনেকটাই সুস্থ এখন।

,বলেই নীরব শ্রোতা হয়ে মুহিতের উত্তরের প্রতীক্ষায় রইলো সোহাগ।

স্মিত হেসে মুহিত উত্তর করলো

এতো ইতঃস্ততার কি আছে সোহাগ ভাই?

আমি মা কে বলে আপনাকে সব কিছু জানাবো।আপনি চিন্তা করবেন না ।
আরো বিভিন্ন কথা বলে সোহাগ কে ভরসা দিয়ে লাইন কেটে দিলো মুহিত।

――――――――――

মুহিত চিন্তিত মনে বসে অপেক্ষা করছে ক্রিমিনাল ভিজিটিং রুমে।

তার বোধগম্য ই হচ্ছে না আহিয়ান কেনো তার সাথে কথা বলতে চাইছে?
মুহিত তো সব কিছু সাবমিট করে দিয়ে ঝামেলা চুকিয়ে ফেলেছে।
তবে আজ কেনো আহিয়ান তাকে জরুরি তলব করেছে?

ঝনঝন শব্দে ধ্যান ভাঙলো মুহিতের।
হাতে হ্যান্ডকাফ, পায়ে বেড়ি দিয়ে মুহিতের সামনে বসানো হলো আহিয়ান কে।
দুদিন আগেই যেই ছেলেটার চেহারা জৌলুসে পরিপূর্ণ ছিলো আজ সেটা অনেকটাই মলিন।
কেমন যেনো কয়েক দিনের ব্যাবধানেই অনেকটা শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে ছেলেটা।
ক্লিন শেইভের চকচকে গাল গুলো খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে ভরে গেছে।
চোখের নিচে জমেছে কালি।

মুহিতের মনে হঠাৎ মায়ার উদ্রেক হলো।তবুও মুখে গাম্ভীর্য ভাব বজায় রেখে তাকে ডাকার হেতু জানতে চাইলো।

আহিয়ান বিষাদ পূর্ণ হাসি দিয়ে মুহিতের উদ্দেশ্যে বললো―
“”মেজর মুহিত আমাদের চোখের সামনে যা দেখি,যা ঘটে আমরা তাকেই সত্যি ভেবে নেই।

”’কিন্তু সত্যের পিছনেও সত্য থাকে।
আমরা সেটাকে যাচাই করিনা।

মুহিতের কপালে সূক্ষ্ণ ভাঁজ দৃশ্যায়মান হলো।
গমগমে কন্ঠে বলে উঠলো―
―হেঁয়ালি না করে যা বলতে চান তাই বলুন,সময় খুব কম আমার হাতে।

তাচ্ছিল্য পূর্ণ হেসে আহিয়ান বললো―
―””বাপ ভাইয়ের খুনি কে?

তা জানতে ইচ্ছে করে না মেজর মুহিত ওয়াসিফ??

#চলবে

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ