Saturday, June 6, 2026







শিমুল ফুল পর্ব-২২+২৩

#শিমুল_ফুল
#২২
#জাকিয়া_সুলতানা_ঝুমুর

পলাশ তখন মাস্টার্স শেষ করে গ্রামে ফিরে এসেছে।হাতে অফুরন্ত সময়।পলাশ ইংরেজি নিয়ে মাস্টার্স শেষ করেছে।তাদের গ্রামের কলেজের প্রিন্সিপাল কলেজে ডেকে নেয়।কলেজে ভালো ইংরেজি শিক্ষক নেই,অনুরোধ করে যতদিন পলাশের চাকরি হচ্ছে না ততদিন যদি একটু সময় দিতো এবারের ইন্টারের ব্যাচটা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে।পলাশ অবসর বিধায় রাজি হয় তারও ইচ্ছা শিক্ষকতা করার এখন পড়ালে চর্চা হলো।তারপর নিয়মিত পড়ানো শুরু করে।তার পড়ানো ভালো বলে সব স্টুডেন্ট তার কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে।পলাশও হাসিমুখে পড়ায়।কিছুদিন পরে কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে একটা মেয়ে এসে ভর্তি হয়।জানা যায় মেয়েটার আব্বা ব্রাক ব্যাংকে চাকরি করে।বাবা বদলি হয়েছে বিধায় পরিবার সাথে নিয়েই এখানে এসেছে।তাই মেয়েকেও অন্য কলেজ থেকে ট্রান্সফার করে নিয়ে এসেছে।প্রথম দিন ক্লাসে পলাশ যখন পড়াচ্ছিলো তখন মেয়েটা প্রশ্ন করে যে এই জায়গাটা বুঝতেছেনা।পলাশ বই থেকে চোখ তুলে তাকায় উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা একটা মেয়ে জিজ্ঞাসু কাজলকালো চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।মেয়েটাকে দেখে শান্তশিষ্ট পলাশের বুকে ঠান্ডা গা কাঁপানো শিহরণ বয়ে যায়।পলাশ মাথা নিচু করে ফেলে গোটা জিবনে এই প্রথম এমন অনুভূতি হচ্ছে আসলে লেখাপড়ায় এতোই ডুবে ছিলো যে মেয়েদের দিকে তাকানোর সময় পায়নি।পলাশ জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আবার তাকায়।পলাশকে তাকাতে দেখে মেয়েটা ভদ্রতাসূচক হাসে।পলাশ উত্তর দেয়।জানতে পারে মেয়েটার নাম নিধি আনোয়ার।সে নামটা বারবার গুনগুন করে বলে,’নিধি নিধি নিধি।পলাশ ভাবে এটা হয়তোবা ভালো লাগা।আস্তে আস্তে কেটে যাবে।কিন্তু এক দিন দুই দিন সাপ্তাহ গড়ায় ভালো লাগার রেশ কাটে না যেন আরো বেশী দেখার জন্য মন আকুল হয়ে থাকে।পড়ার ফাকে ফাকে বারবার দেখে।তারপর একদিন নিজেকে নিজে খুব শাসায় সে শিক্ষক আর নিধি স্টুডেন্ট।শিক্ষক হয়ে ছাত্রীর উপরে এমন আকুল চোখে তাকানো ঠিক না,এটা অপরাধ।ভাবে আর তাকাবে না।দুইদিন নিজেকে খুব কষ্টে আটকে রাখে ভুল করেও তাকায় না।কিন্তু এই না তাকানো নিধির সহ্য হয় না সেও সবার সাথে পলাশের কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে।পলাশ হাসে।নিধিও হাসে।মেয়েরা যেন একটা সময় নিজে নিজেই পরিপক্ক হয়ে যায়,কোন বিদ্যা ছাড়াই ছেলেদের বুঝতে পারে।তাইতো পলাশের চোখের ভাষা পড়েই নিধি বুঝে নিলো অনেককিছু।শান্ত পলাশের বুকে অশান্ত ঝড় তুলে দিতে পারে এই কাজলচোখের বালিকা।প্রাইভেট শেষে সবাই চলে গেলেও নিধি যায় না।বান্ধুবীরা যেতে ডাকলে বলে তার একটা চ্যাপ্টারে সমস্যা আছে সেটা সলভ করেই আসছে।পলাশ মুচকি হাসে।নিধি বুঝতে পারে পলাশ খুব লজ্জা পায়।নিধিই পলাশকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় চিঠির মাধ্যমে।চিঠি পড়ে পলাশ মুচকি হাসে।প্রতিউত্তরে বলে,
“তোমার কি পলাশ ফুল পছন্দ নিধি?”

নিধি পলাশের চোখে চোখ রেখে বললো,
“আগে পছন্দ ছিলো না এমনকি চিনতামও না।এখন চিনি পছন্দও করি।একটু বেশীই পছন্দ করি।”

পলাশ মুচকি হেসে বললো,
“আমারো।”

“কি?”

“নিধি পছন্দ।”

নিধি হাসে।দুজনের প্রেম খুবই ভালো চলছিলো।হঠাৎ করেই একদিন নিধি বলে,তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।পলাশ যেন আটকায়।বিয়ে ঠিক মানে?পলাশের মাথায় বাজ পড়ে।ছুটে যায় তার আব্বার কাছে।লাজুক পলাশ লজ্জাভুলে নিধির কথা তার আব্বাকে জানায়।শওকত হাওলাদার সোজা না করে দেয়।শুধু না করেই থামেনি নিধির আব্বাকে আবার বদলি করে অন্য এলাকায় পাঠিয়ে দেয়।নিজে বন্দোবস্ত করে নিধির বিয়েও দেয়।নিধির সাথে পলাশের শেষ কথা ছিলো।
“আপনি আমাকে ঠকালেন।”

পলাশ কেঁদে দিয়েছিলো।নিধিকে তার চাই কিন্তু তার আব্বা যে এমন করবে এটা কখনো ভাবেনি।নিধি প্রচুর কেঁদেছিলো।বিয়ে করবেনা বলে অনেক মার খেয়েছে।শিমুলও কেঁদেছে তার আব্বার পা ধরে বসে থেকেছে তিনি রাজি হয়নি।

“কেঁদো না নিধি।যার সাথে বিয়ে হবে সে আমার থেকেও বেশী ভালো হবে।”

নিধি চিৎকার করে বলেছিলো,
“ভালো হোক।কিন্তু সে তো পলাশ না।আমার পছন্দের পলাশ ফুল তো সে না।”

পলাশের চোখ বেয়েও পানি পড়েছিলো তবে সেটা নিঃশব্দে।
“পছন্দের ফুল অপছন্দের তালিকায় ফেলে দাও।”

“ভালোবাসি তো পলাশ।”

নিধির কান্না পলাশ সইতে পারে না তাই আবার তার আব্বাকে ধরে কিন্তু শওকত হাওলাদারের কাছে ছেলের পছন্দের থেকে সমাজ,ক্ষমতাই বেশী বড়ো।রাজি তো হয়নি বরং তার রাগ তার আম্মার উপর মিটিয়েছে।পলাশ চুপচাপ সব দেখেছে।শান্ত স্বভাবের পলাশ কোন টু শব্দ করেনি।আব্বার কথাই রেখেছে নিধিকে ভুলে গিয়েছে,তার আব্বাকে সমাজের কথা থেকে বাচিয়েছে।এই ঘটনার পর থেকে শান্ত স্বভাবের পলাশ যেনো আরো শান্ত হয়ে যায়।কলেজের চাকরি পার্মানেন্ট হয়।নিধির সাথে আর যোগাযোগ রাখেনি।কিন্তু আধো কি পলাশ নিধিকে ভুলতে পেরেছে? পারেনি।আর পারবেওনা।এখনো নিধিকে তার বুকে মিশিয়ে রেখেছে।রাতে নিধির কথা মনে হয়ে ঘুমাতে পারেনা,কতো বছর হয়ে গেছে তারপরেও নিধিকে মনে করে কাঁদে।বুকে ব্যাথা হয়,হাহাকার করে উঠে নরম মনটা।তাইতো বিয়ে করেনি।নিধিকে ছাড়া অন্য কাউকে কেন জানি কল্পনা করতে পারেনা।আরেকটু লড়াই করলে হয়তো নিধি তার হতো।এই আফসোস সারাজীবন বয়ে যেতে হবে।আজকে তিয়াস যখন ছুটে কলেজে আসে পলাশ তখন ক্লাস নিচ্ছিলো।তিয়াসের মুখে সব শুনে বাইক নিয়ে বাড়ির দিকে ছুটে।তার বুকে যে কষ্ট,হাহাকার,যন্ত্রনা হয়।অসহ্য জ্বলন পুড়নে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করে সে চায়না তার ভাইও একি কষ্টে জর্জরিত হোক।বাড়িতে ঢুকে তার আব্বার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
“আব্বা শিমুলের দরজা খুলে দেন।”

শওকত হাওলাদার বললো,
“তুমি স্যার মানুষ এসব প্যাচালে এসো না।”

পলাশ মুখ শক্ত করে বললো,
“খুলবেন কিনা সেটা বলেন।”

“দুইটার পরে।”

“এখন খুলেন।”

চুপচাপ পলাশের মুখে এমন তেজী কথা শুনে শওকত হাওলাদার অভস্থ না।
“মুখে মুখে তর্ক করিস।থাপ্প/ড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো।”

পলাশ রান্নাঘরের দিকে চলে যায়।সাথে সাথেই ফিরে আসে।এগিয়ে যায় শিমুলের রুমের দিকে।শওকত হাওলাদার বাধা দিতে ছুটে আসে,
“তোর সাহস তো দেখি কম না!খুলবিনা বললাম।”

ততোক্ষণে পলাশের মুখ রক্তবর্ণ ধারন করেছে।শওকত হাওলাদারের দিকে তাকিয়ে হাতের বডি/দা উঁচু করে বলে,
“যে বাধা দিতে আসবে তার গ/লা থেকে মা/থা আ/লাদা করে দেবো।এবার আসেন কে আসবেন।”

শওকত হাওলাদার কিছু বলতে চাইলে পলাশ বলে,
“কোন কথা হবেনা।এটা জীবন দাবা খেলার চাল না।”

পলাশ দরজা খুলে দেখে শিমুল মাথা নিচু করে বসে আছে।দরজা খোলার শব্দে শিমুল মাথা তুলে তাকায়।দরজা খোলা দেখে মনে আশা জেগে উঠে।মাথার ব্যাথা সয়ে নেওয়ার মতো না,শরীর ঝিমঝিম করছে তারপরেও উঠে দাঁড়িয়ে পলাশের দিকে তাকিয়ে কেঁদে বলে,
“ভাইয়া পুষ্পর বিয়ে হয়ে গেছে?তাই দরজা খুলে দিয়েছো?”

পলাশ কথা বলেনা।শিমুলের আকাশী রংয়ের গেঞ্জি র/ক্তে ভেজে চুপচুপ হয়ে গিয়েছে।ফ্লোরে র/ক্ত।মাথার চুল র/ক্তে ভেজা।পলাশ এগিয়ে আসে।চিৎকার করে তার আম্মাকে ডাকে।শিমুল বাধা দেয় কাউকে ধরতে দেয় না।রুম থেকে বেরিয়ে তার আব্বার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।রাগে তার শরীর কাঁপছে।
“পুষ্পর যদি কিছু হয় খবর আছে…”

শওকত ছেলের অবস্থা দেখে ভ/য় পেয়ে যায়।তিনি ভাবেন নি শিমুল এমন কিছু করবে।রাবেয়া শিমুলকে দেখে একটা চিৎ/কার দিয়ে জ্ঞা/ন হারায়।শিমুল আর কিছু বলেনা।বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সোজা দৌড় দেয়।পলাশ আর তিয়াস সাথে যায়।শিমুল দৌড়াচ্ছে এই অবস্থায় এতটা পথ দৌড়ে গেলে শিমুলই বাচবেনা।পলাশ শিমুলের সামনে বাইক থামিয়ে উঠতে বলে।
শিমুলরা পুষ্পর বাড়ি গিয়ে সোজা ঘরে ঢুকে।বিছানায় কাজী বসে আছে।শিমুল বুজে আসা গলায় বলে,
“বিয়ে কি হয়ে গেছে?”

কাজী মাথা নেড়ে না করে।শিমুল চোখ বন্ধ করে শ্বাস নেয়।পরক্ষনেই পাশের রুম থেকে চিৎ/কার ভেসে আসে।শিমুল ওখানে গিয়ে দেখে মিজান শেখ উপর দিয়ে গিয়ে দরজা খুলে।লাল বেনারসি পড়ে পুষ্প ফ্লোরে হেলে পড়ে আছে।ফ্লোর লাল র/ক্তে রঞ্জিত।শিমুলের বুকটা ধুকপুক করে।সে কি দেরী করে ফেলেছে?রোকসানা আর মুন্নীর আহাজারিতে চারিপাশ ভারী হয়ে উঠে।তাদের কান্না শিমুলের ভালো লাগেনা।সবাই অবাক হয়ে শিমুলকে দেখে র/ক্তে সারা গা মাখামাখি।দ্রুত পায়ে পুষ্পর কাছে যায় কারো দিকে না তাকিয়ে পুষ্পকে পাজকোলে নিয়ে বাহিরের দিকে ছুটে।মিজান কিছু বলতে চাইলে পলাশ বাধা দেয়।শিমুল সি এন জি তে পুষ্পকে কোলে নিয়ে বসে কাঁ/দছে।ক্ষনে ক্ষনে পুষ্পর কপালে চুমু দিচ্ছে।পুষ্পর শরীর আস্তে আস্তে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।পলাশ সান্ত্বনা দিয়ে বললো,
“কাঁ/দিস না।কিচ্ছু হবে না দেখিস।”

“ওর কিছু হলে আমি ম/রে যাবো।”

হসপিটালে যাওয়ার পরে পুষ্পর চিকিৎসা করা হয়।পুরোনো ব্লে/ড বলে শিরা কাটেনি।এই যাত্রায় বেঁচে গেলো।বাড়ির সবাই এসেছে।শিমুল সাফিনকে ইচ্ছামতো জাড়ে।সবাই শিমুলকে ডাক্তারের কাছে যেতে বললেও শিমুল যায় না।পুষ্পর জ্ঞান ফিরলে শিমুলের এই অবস্থা দেখে কেঁদে দেয়।শিমুল পুষ্পর দিকে অভিমানি চোখে তাকিয়ে থাকে।কেন এমন করতে হবে?যদি কিছু হয়ে যেতো?
শওকত হাওলাদার এসে ছেলেকে নিয়ে যেতে চায়।শিমুল বিরক্ত হয়ে বললো,
“টানেন কেন?”

“নিজের অবস্থা দেখেছিস?অন্য কেবিনে চল মাথায় ব্যা/ন্ডেজ করতে হবে।”

শিমুল বললো,
“কাজী ডাকেন।আগে বিয়ে করবো তারপর ব্যা/ন্ডেজ ফ্যান্ডেজ।”

শিমুলের মাথার চুল থেকে তখনো ফোটা ফোটা র/ক্ত পড়ছে।শওকত ছেলের এতো র/ক্তক্ষরণ দেখে ঘাবরে যায়।
“আগে ব্যা/ন্ডেজ কর তারপর বিয়ে করিস।”

শিমুল তার আব্বাকে আর বিশ্বাস করেনা।ধমকে চেচিয়ে বললো,
“আগে বিয়ে।বিয়ে না হলে আমি এখান থেকে যাচ্ছি না।ম/রে গেলেও না।”

মিজান বেকে বসে চেয়ারম্যান এতো অপমানের পর এসব কিভাবে সম্ভব।শওকত চেয়ারম্যান রাস্তা না দেখে মিজান শেখের হাত ধরে অনুরোধ করে।শিমুলের কঠিন মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কিছু বলার সা/হস পায় না।আর কোনো উপায় না দেখে শিমুলের আর পুষ্পর বিয়ে পড়ানো হয়।কবুল বলতে বললে দুজনেই সেকেন্ডে কবুল বলে ফেলে।বিয়ে পড়ানো হয়ে গেলে শিমুল সবার সামনেই পুষ্পর কপালে চুমু খায়।তারপর তার আব্বার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আপনি হে/রে গেছেন।আমি জিতছি।”

শওকত হাওলাদার মুখ থমথমে করে বেরিয়ে যায়।মনে মনে বলে আস্ত একটা বেয়াদব জন্ম দিয়েছি।

নার্সরা শিমুল মাথা ধুয়ে দেয়।কয়েকদিন আগেও মাথায় আঘা/ত পেয়েছিলো তবে আজকের আঘা/তটা গুরতর।তাই সিটিস্কান করে দেখে কোন ক্ষ/তি হয়েছে কিনা।ভাগ্য শিমুলের সহায় ভেতরে কোন র/ক্তক্ষর/ণ হয় নি।কিন্তু সে/লাই লাগে আটটা,দুই ব্যাগ র/ক্ত লাগে।তাতে শিমুলের কোন ব্যা/থা বা আফসোস নেই।পুষ্পকে নিজের করে লিখে নিতে পেরেছে এর চেয়ে খুশীর আর কি হতে পারে!

পুষ্প এখনো কাঁদছে।তার মনে হয়েছিলো সে শিমুলকে হারিয়ে ফেলবে তাই তো এই বোকামীটা করে ফেলেছিলো।মাঝে মাঝে এই বোকামী করাই ভালো পুষ্প এমন বোকামী করেছে বলেই তো আজকে বিয়ে হলো।তার বিশ্বাস হচ্ছে না শিমুল তার স্বামী।
সাফিনের আব্বা আম্মা মিজান শেখের সাথে রা/গারা/গি করে চলে যায়।শিমুল আসে কিছুক্ষণ পরে।শিমুলকে দেখতে খুবই দুর্বল লাগছে তাও খুশীতে দাঁত বের করে হেসে মিজানকে বললো,
“আব্বা আপনার মেয়ে বাড়ি নিয়ে যান।গাড়ি দিয়ে গিয়ে আনবো।”

মিজান শেখ দাঁত কিড়মিড়িয়ে পুষ্পকে নিয়ে বাড়ি চলে যায়। শিমুলেকে ডিসচার্জ দিবে না জানায়।কিন্তু শিমুল ত্যাড়ামি করে বাড়ি চলে যায়।বাড়ি গিয়ে আগে মায়ের কাছে যায়।রাবেয়া ছেলেকে জড়িয়ে ধরে।শিমুল হেসে হেসে বললো,
“আম্মা বিয়ে করে ফেলেছি।”

“ভালো করেছো আব্বা।”

বাড়িতে যাওয়ার পর পুষ্পর উপর সবাই রা/গ প্রকাশ করে।তাতে পুষ্পর কিছু আসে যায় না।তার মায়ার বাক্স সে পেয়ে গেছে আর কেউ আলাদা করতে পারবেনা।মুন্নী খুব রাগ করে,তার স্বামীর বাড়িতে সে ছোট হলো এই রাগে সে রাতে পুষ্পর সাথে থাকলো না।পুষ্প একা একা খুশীতে ইচ্ছামতো কাঁদে,শিমুলকে পাওয়ার খুশীতে নফল নামায পড়ে ।

শিমুল রাত দুইটার দিকে বেরিয়ে পড়ে।এতো কষ্টের পরে আজকে বিয়ে করলো অথচ কেউ শশুড় বাড়িতে যেতে বললো না।তাই শিমুল নিজেই চলে এসেছে।বিয়ের প্রথম রাত কিনা আলাদা থাকবে?শিমুল জানালায় টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।পুষ্প জানতো আজকে পাগল প্রেমিক আসবেই।তাকে আজকে কোনভাবেই আটকানো যাবে না সে তার পাগল পাগল আবদার নিয়ে ঠিক আসবে।পুষ্প জানালা খুললে শিমুল হাসে।শিমুলের হাসি দেখে পুষ্প মুগ্ধ হয়।শিমুল আস্তে করে বললো,”দরজা খুলো।”

আজকে কোন ভ/য় ছাড়াই পুষ্প দরজা খুলে।শিমুল বাহিরে দাঁড়িয়ে বেশ দুঃখী দুঃখী চেহারা বানিয়ে বলে,
“বউ আজকে না আমাদের বাসর রাত।”

চলবে…..

#শিমুল_ফুল
#২৩
#জাকিয়া_সুলতানা_ঝুমুর

শিমুলের বিয়ের কথা শুনে সুইটি কেঁদেকেটে একাকার করে ফেলেছে।
আসমা আর পেশকারা কারোর কথাই শুনছে না।আসমা তার আম্মাকে বলে,
“দেখলেন কি করলো?ঠিকই ছোটলোকের বাচ্চাকে বিয়ে করে ফেললো।আপনার নাতিও একটা!”

পেশকারা বেগম বললো,
“শিমুলের মতো পোলা যে এমন জায়গায় যাবে আমার কল্পনার বাহিরে ছিলো।আমার মন বলে তাবিজ করে পোলার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে।তাইতো এমন পাগলের মতো কান্ডকারখানা করে।দেখলি না কেমন মাথা টাথা ফা/টিয়ে কি অবস্থা করেছে।”

পেশকারার কথা শুনে আসমাও মাথা নাড়ে।তারপর সুইটির মাথায় হাত ভুলিয়ে বললো,
“কাঁদিস না মা।আমি তোর জন্য এমন ছেলে খুঁজে আনবো যে তার সামনে শিমুলও ফেইল।”

সুইটি বলে,
“আমার অন্য কাউকে লাগবে না আমার শিমুলকেই লাগবে।”

“কিন্তু শিমুলের তো বিয়ে হয়ে গেছে।”

সুইটি ফুসফুস করে বললো,
“তো কি হয়েছে?বিয়ে হয়েছে ডিবোর্সও হবে।”

আসমা মাথা নেড়ে বলে,
“ডিবোর্স?এই মেয়ের জন্য যেই পাগল।”

সুইটি তার নানুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে।
“নানু আমি কিছু জানিনা।তুমি জানো কি করবে।কিন্তু একটা কথা শুনে রাখো আমি শিমুলকে ছাড়া বাঁচবোনা।”

পেশকারা বলেন,
“পুষ্পকে একবার এই বাড়িতে আসতে দে,চেয়ারম্যান বাড়ির বউ হওয়ার স্বাধ মিটিয়ে দেবো।লেবুর মতো চিপে চিপে তেল বের করবো।”

সুইটি তার নানুকে ভালো করেই চিনে।মলিন মুখে শুয়ে তার আর শিমুলের বিয়ের স্বপ্ন দেখে।

শওকত হাওলাদার সারাঘর পায়চারী করছে।রাগে মুখ থমথমে।বারবার হাত মুঠ করে আবার খুলছেন।তার পরিবারের প্রথম আত্মীয়তা কিনা এমন ফ্যামিলির সাথে হলো?ছিহ ছিহ।সমাজের মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।আর হাসাহাসি করবে কি?হাসাহাসি শুরু হয়ে গেছে শিমুল যা করলো ভাবতেই উনার মেজাজ খারাপ হয়।বিয়ে হলে হয়েছে এই মেয়েকে এই বাড়ির সিমানায় আসতে দিবে না।বাড়ির প্রথম বউ হিসেবে এই মেয়েকে মানায় না,পুষ্পকে দেখলেই উনারা রাগ লাগে,শিমুল যে কিভাবে এই মেয়েকে পছন্দ করলো তা আল্লাহই জানে।এর চেয়ে ভালো ছিলো সুইটিকেই বউ করে নিতো।তার সব পরিকল্পনা বাদ হলো পুষ্পর কারনে।এই মেয়ের গালে ঠাসঠাস চড় মারতে পারলে ভালো লাগতো।

রাবেয়া স্বামীর অস্থিরতা দেখে শান্তি পাচ্ছেন।কয়েকবছর আগে নিধির বিয়ের দিন পলাশ ঠিক এভাবেই অস্থির হয়ে ছিলো,পা/গলের মতো চুপিচুপি কেঁদেছিলো।উনি তো মা ঠিক বুঝেছেন কিন্তু এই পা/ষাণ মানুষের মন গলেনি,নিজের অহংকার ধরে রেখেছিলেন।আজকে শিমুলের কাজে রাবেয়া ভীষন খুশী।নিজস্বার্থ দেখা লোকদের এমন শিক্ষা হওয়া উচিত।পুষ্পকে বিয়ে করা নিয়ে সবাই অখুশী হলেও রাবেয়ার বুকটা ঠান্ডা হয়ে গেছে।এবার বউ ঘরে আসলেই হলো তার একটা সঙ্গি হবে।

পলাশ উপুড় হয়ে শুয়ে আছে।নিঃশব্দে চোখ থেকে পানি পড়ে বালিশ ভিজে যাচ্ছে।নিজেকে কাপুরুষ মনে হচ্ছে।কেন সে শিমুলের মতো হতে পারলো না?এমন হলে তো তার নিধি তারই থাকতো,বুকভরা কষ্ট নিয়ে থাকতে হতো না।পলাশ শক্ত করে বালিশ খা/মচে ধরে,ঠোঁট কাঁপে তিরতির,বুকে ব্যাথা হয় অসহনীয়।নিজেকে খুব ঘৃনা লাগে।নিধিকে আজকাল খুব মনে পড়ে,বাচ্চা মেয়েটা তার জন্য কতো কষ্ট সহ্য করেছে কিন্তু সে কিনা তার আব্বার কথার বাহিরে যায় নি।ছিহ! পলাশ প্রেমিক হবার যোগ্য না।

পুষ্প মুগ্ধ চোখে শিমুলকে দেখে।কালো গেঞ্জি কালো ট্রাউজার পরাতে ফর্সা শরীর আরো ফুটে উঠেছে।ফর্সা কপাল সাদা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা।এই যে ছেলেটা এতো অসুস্থ দেখলে কেউ বলবেনা। ব্যান্ডেজ মাথায় রেখেই কেমন হাসছে।এই প্রণয়পুরুষ তার এটা ভেবেই পুষ্পর নিজেকে সুখী সুখী মনে হলো।শিমুলের কথা শুনে দুই হাত মুড়ে দাঁড়ায়।
“বাসর রাত!তো?”

শিমুল দুঃখী দুঃখী চেহারা করে বললো,
“ঘুমাতে গিয়েছিলাম কিন্তু ঘুম আসেনা।আমিতো এখন আর সিংগেল না।ম্যারিড পারসন!আজকেই বিয়ে করলাম আর প্রথম রাতে কি বউ ছাড়া ঘুম আসে?আসেনা তো!”

পুষ্প দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়ায়।
“ঘুম আসেনা?”

“না।বিবাহিত পুরুষের বউ ছাড়া ঘুমানোর নিয়ম নেই।আমি নিয়ম পালন করতে এসেছি।”

তারপর থেমে বললো,
“তোমার সাথে ঘুমাবো।”

পুষ্প শীতল চোখে তাকিয়ে হাসে।
“আচ্ছা।ভেতরে আসেন ঘুমিয়ে যান।”

শিমুল মাথায় হাত রেখে চুলকে রেখে দাঁত বের করে হাসে।
“শুধু ঘুমালে হবে না তো!”

“কেন?”

“কিছু মিছু করতে হবে?”

“কি?”

শিমুল চোখ ছোট ছোট করে বললো,
“বাসর রাতে কি হয় জানো না?”

পুষ্প জানে।বাসর রাতে কি হয় তার আবছা ধারনা কিশোরী পুষ্পর জানা।তারপরও মাথা নেড়ে বললো,
“না।”

শিমুল অবাক হয়ে বলে,
“সত্যিই জানো না?”

“না।আর তো বাসর রাত আসেনি কিভাবে জানবো?”

শিমুল পুষ্পর দিকে তাকিয়ে বললো,
“আচ্ছা চলো আমি শিখিয়ে দেই।”

পুষ্প লজ্জালজ্জা চোখে তাকিয়ে থাকে।শিমুল পুষ্পর চোখে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসে।শিমুল উপরে উঠে আসে পুষ্প একপা পিছিয়ে যায়।শিমুল মুচকি হাসে।বাহ্ তার ফুল তাকে ভয় পাচ্ছে?শিমুল পুষ্পর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,
“কিছু করবনা তো এতো ভয় পাচ্ছো কেন?আমি এতোটাও খারাপ না।”

আজকে শিমুল তার সাথে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে এটা ভেবেই পুষ্পর ভয় লাগছে।পুষ্প যে ভয় পাচ্ছে এটা লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিলো কিন্তু চালাক জামাইটা ঠিক বুঝে ফেলেছে।শিমুলের কথা শুনে পুষ্প বললো,
“ভয় পাবো কেন?আমি সাহসী।”

শিমুল আবার বাহিরে গিয়ে দাঁড়ায়।
“তা তো দেখতেই পাচ্ছি।”

তারপর দুজনেই চুপচাপ।চোখে চোখ রেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।শিমুল বললো,
“চল সামনে যাই।”

পুষ্প দ্বিরুক্তি করে না।দরজা আটকে শিমুলের পিছু পিছু যায়।রাস্তায় নেমে শিমুল পুষ্পর হাত ধরে।কোন ভয় নেই লুকোচুরি নেই,নেই কোন বাধা।দুজনেই কোন কথা না বলে চুপচাপ হাটে।নিঝুম নিস্তব্ধ রাতে ঝি ঝি পোকার ডাকের সাথে দুজনের মনটা খুশীতে বাক-বাকুম ডাকছে।চাঁদের দিকে তাকালে দেখা যায় আজকে নতুন চাঁদ উঠেছে।নতুন চাঁদ বিধায় আলো কম চারদিকে আবছা অন্ধকার।দুজন অন্ধকারে হাটতে হাটতে অন্ধকারের নিজ্বস্ব আলো চোখ চিনে নেয়।শিমুল বললো,
“আজকে চাদেঁর আলো কম কেন জানো?”

পুষ্প শিমুলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“কেন?”

“তুমি খেয়াল করেছো?সবসময় আমরা রাতে দেখা করলে চাঁদের ভরা পূর্নিমা থাকতো কারণ চাঁদ তখন জানতো শিমুল প্রেম করে আর প্রেম করলে বেশী দুষ্ট হওয়া যায় না।আর এখন শিমুল তার ফুলের বর।যতো ইচ্ছা দুষ্টু হতে পারে।এসব অন্য কেউ দেখলে লজ্জা।তাইতো এই লজ্জায় চাঁদ মুখ লুকিয়েছে।ইন্টিলিজেন্ট চাঁদ।”

পুষ্প মাথা নিচু করে হাসে।প্রেম অবস্থায়ই তো ফিজিক্সের ক্লাস নেয়া শেষ।আরো দুষ্টু হওয়া বাকি?পুষ্পর লজ্জা লাগে।লজ্জায় নাকের ডগা শিরশির করে।পুষ্পর লজ্জায় অবনত মুখ দেখে শিমুল হাসে।দুজন হাটতে হাটতে হিজল গাছের নিচে আসে।শিমুল বলে,
“এই গাছটা আমাদের প্রেমের সাক্ষী।”

“হুম।”

“বেচারা কতো কি দেখে ফেলেছে।”

পুষ্প ঠোঁট টিপে হাসে।
“ফাও কথা।”

শিমুল গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়।পুষ্প কিছুটা দূরে দাঁড়ায়।একে অপরের দিকে তাকিয়ে আপনা-আপনিই হাসে,তৃপ্তির হাসি।পুষ্প শিমুলের চোখে চোখ রাখে।দুজনের চোখে অজস্র কথা হয়।পুষ্পর চোখের ভাষা তখন গাঢ়।শিমুলের বুকে অজানা শিহরণ নেচে উঠে সে মুচকি হাসে।মাথা নেড়ে বললো,
“কি?”

পুষ্প কিছু বলেনা।তাকিয়েই থাকে।

শিমুল পুষ্পর হাত ধরে কাছে আনে।
“বালিকা আমাকে বি/ষ ব্যাথা শিখাতে এসোনা,আমি নিজেই বি/ষের রাজা।”

পুষ্প লাজুক হেসে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
শিমুল বললো,
“আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।”

“আমারো।”

শিমুল পুষ্পর দু’গালে হাত রেখে বললো,
“তোমাকে সারাজীবনের জন্য পেয়ে গেছি।তুমি আমার।”

পুষ্পর চোখে পানি আসে।সুখে গলা বন্ধ হয়ে আসে।
“তুমিও আমার।আমার বর।”

“আমার বউ।”

“ভালোবাসি।”

শিমুল পুষ্পর গালে নিজের গাল ঘসে।পুষ্প চোখ বন্ধ করে নেয়।শিমুল পুষ্পকে দেখে।এই মেয়েটাকে সে খুব ভালোবাসে আর এখন থেকে যখন খুশী ভালোবাসা যাবে।পুষ্পর হাতের ব্যান্ডেজে চুমু খায়।দুজনের শ্বাস হয় ঘন,বুক কাঁপে ধুপধাপ।দুজন দুজনকে খুব করে উপলব্ধি করে।শিমুল আদরে আদরে পুষ্পকে ভরিয়ে নেয়।সারা মুখে এঁকে দেয় ভেজা চুম্বন।পুষ্প শিমুলের বুকে তার পিঠ লাগিয়ে দাঁড়ায়।জড়ানো গলায় ফিসফিস করে বললো,
“এতো আদর করতে হয় না জান।”

শিমুল পুষ্পকে দু’হাতে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।কানের কাছে মুখ এনে পুষ্পর মতই ফিসফিস করে বললো,
“তুমি আমার জন্য যত আঘাত সহ্য করেছো এতো আদর দিলেও সেগুলো মুছে যাবে না।”

পুষ্প মাথা নেড়ে বললো,
“মিথ্যে কথা।সব আঘাত মুছে গেছে।”

“মুছে গেছে?”

পুষ্প শিমুলের দিকে ফিরে তার গলা আঁকড়ে ধরে।তারপর শিমুলের নাকের সাথে নিজের নাকের ডগা আলতো ধাক্কা দিয়ে বললো,
“যখন কবুল বললাম তখন সব ব্যাথা গায়েব হয়ে গেছে।”

“তাই?”

“হ্যাঁ।”

শিমুল পুষ্পর দিকে নেশা নেশা চোখে তাকিয়ে থাকে।তারপর খুব জোড়ে জড়িয়ে ধরে বললো,
“ইশ কবে বাড়িতে নিয়ে যাবো।আর তো ভালো লাগে না।”

চলবে……

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ