Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"কুয়াশা মিলিয়ে যায় রোদ্দুরেকুয়াশা মিলিয়ে যায় রোদ্দুরে পর্ব-১৭+১৮

কুয়াশা মিলিয়ে যায় রোদ্দুরে পর্ব-১৭+১৮

#কুয়াশা_মিলিয়ে_যায়_রোদ্দুরে
#পর্ব_১৭
#লেখায়_নামিরা_নূর_নিদ্রা

“কুয়াশা তিন্নির মেয়ে হয়েছে। কিন্তু!”

“কিন্তু কী? আপু ঠিক আছে তো মা?”

“তিন্নির শারীরিক অবস্থা ভালো না। ওকে র ক্ত দিতে হবে।”

“র ক্ত পাওয়া যায় নি?”

“না। কুয়াশা সমস্ত মান-অভিমান ভুলে তুমি আজই বগুড়ায় এসো। তোমার আর ওর র ক্তে র গ্রুপ এক। ওকে বাঁচাও তুমি!”

“আপু আমার সাথে কী কী করেছে সব ভুলে গেলে মা?”

“ভুলিনি রে মা। কিন্তু একজনের জীবন নিয়ে প্রতিশোধ নিতে চাও তুমি? দিন শেষে তিন্নি কিন্তু তোমার বোন। ওকে বাঁচানো দরকার। অন্তত ওদের মেয়ের জন্য ওর বেঁচে থাকা দরকার। তুমি আর কথা না বাড়িয়ে চলে এসো। ডক্টরস ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় আসবে।”

আর কিছু বলার সুযোগ পায় না কুয়াশা। তার আগেই কল কেটে যায়। কুয়াশার মুখে লেগে আছে তাচ্ছিল্যের হাসি। যে হাসি বলে দিচ্ছে,

“আমার ক্ষতি করে এখনো আমার সাহায্য দরকার তোমার। নিয়তি বুঝি একেই বলে? হয়তো তাই!”

খুব দ্রুত তৈরি হয়ে বাস স্ট্যান্ডের দিকে রওনা দেয় কুয়াশা। বিকালের বাসে উঠে রাত এগারোটার মধ্যেই ক্লিনিকে পৌঁছে যায় সে। আজ অনেক দিন পর সবাইকে একসাথে দেখছে সে। সবার মুখেই বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট। কুয়াশা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সর্বপ্রথম তিন্নি আর ফয়সালের একমাত্র মেয়েকে কোলে তুলে নেয়। অতঃপর ছোট্ট রাজকন্যার কপালে তার ওষ্ঠদ্বয় স্পর্শ করে। বাচ্চার চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক দেখে হাসিমুখে বাচ্চাটাকে বুকে আগলে নেয় সে। ফয়সাল এসে কুয়াশার সামনে দাঁড়িয়ে করুণ স্বরে বলে,

“কুয়াশা তিন্নিকে বাঁচাও। ওর অবস্থা অনেক খারাপ। এই মুহূর্তে একমাত্র তোমার র ক্ত ওকে বাঁচাতে পারবে। নতুবা ওও শেষ হয়ে যাবে।”

কুয়াশা শক্ত কণ্ঠে জবাব দেয়,

“কোথায় যেতে হবে সেখানে নিয়ে চলুন আমাকে। আমি প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি।”

ফয়সাল দ্রুত কুয়াশাকে নিয়ে চলে যায়। একটা বেডে তাকে শুইয়ে দিয়ে তার শরীর থেকে র ক্ত নেওয়া হয়। সেই র ক্ত তিন্নির শরীরে প্রবেশ করানোর পরেই সবাই চিন্তামুক্ত হয়। কারণ তিন্নির অবস্থা এখন কিছুটা ভালো। আশঙ্কা অনেকটা কমে গিয়েছে। কুয়াশা চোখ বন্ধ করে ভাবছে,

“তোমার পাপের শাস্তি পাওয়া হয়তো এখান থেকেই শুরু আপু। এটা কেবল শুরু হলো। ভবিষ্যতে হয়তো আরো অনেকভাবে তুমি বুঝতে পারবে, তুমি আমার সাথে যা করেছ সেটা মারাত্মক অন্যায়। এই অন্যায় ক্ষমার যোগ্য নয়। তাই তোমাকে শাস্তি পেতেই হবে। আজ আমি তোমাকে বাঁচালাম। কারণ তোমার জীবন নিয়ে আমি প্রতিশোধ নিতে চাই না। আর বাচ্চাটা নিষ্পাপ। ওকে মা হারা করতে চাই না। তাই আমার র ক্ত দিয়ে আজ তোমাকে নতুন জীবন দিলাম আমি।”

নিজের মনে কথাগুলো বলে কুয়াশা গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। সে প্রচুর ক্লান্ত আজ। এখন তার বিশ্রামের প্রয়োজন। সারারাত ঘুমিয়ে ভোরে ঘুম ভাঙে কুয়াশার। পাশে তাকিয়ে দেখে মা বসে আছে।

“মা তুমি এখানে কী করছ?”

“তোমার পাশে বসে আছি। আমার মেয়েটা একদম ভালো নেই। তোমার চেহারা বলে দিচ্ছে এটা।”

“মা জানো? রায়াদ বিয়ে করেছে।”

“কবে?”

“এইতো কিছু দিন আগে।”

“ওর কথা এখনো কেন মনে করো তুমি?”

“চাই না মনে করতে। কিন্তু চাইলেও কি প্রথম ভালোবাসা ভুলে থাকা যায় মা?”

“ওর মত ছেলেকে মনে রাখার কোনো দরকার নেই। ওকে যত তাড়াতাড়ি ভুলতে পারবে তত তাড়াতাড়ি নিজের জীবনে ভালো কিছু অর্জন করতে পারবে।”

“শুধু রায়াদ নয়। তুরাবের কাজকর্ম আমাকে প্রতিনিয়ত খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমি আর এসব মেনে নিতে পারছি না মা। আমিও মানুষ। আর কত সহ্য করব?”

“তোমাকে আমি বলেছিলাম এই কেস হাতে না নিতে। কিন্তু তুমি তো আমার কথা শুনলে না। মলিও মানা করল। কারোর কথায় শুনলে না।”

“ব্যক্তিগত ঝামেলার জন্য আমার পেশাগত জীবনকে তো হুমকির মুখে ফেলতে পারি না। আমিও এই কেস হাতে নিতে চাইনি। কিন্তু আমার কাছে আর কোনো উপায় ছিল না। না চাইতেও তুরাবের কেস আমাকেই নিতে হয়েছে।”

“এমন ছেলের সাথে আর কতদিন বিয়ের মত সম্পর্কে আবদ্ধ থাকতে চাও তুমি?”

“আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি।”

“কী সিদ্ধান্ত?”

“সময় আসলে সব জানতে পারবে। সবার আগে তোমাকেই জানাব। চিন্তা করো না মা। আমার কিছু হবে না। ভালো থাকব আমি। তোমার মেয়েকে আর কেউ কষ্ট দিতে পারবে না। এমনভাবেই নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করছি আমি।”

“আচ্ছা অনেক কথা হয়েছে। এবার তোমাকে কিছু খেতে হবে।তোমার শরীর অনেক দুর্বল।”

“আপু কেমন আছে?”

“এখন ভালো আছে।”

মা-মেয়ের কথা বলার এক পর্যায়ে কুয়াশার মামি অর্থাৎ তিন্নির মা সেখানে চলে আসেন।

“কুয়াশা মা এখন কেমন আছিস?”

“ভালো আছি মামি।”

“শরীর কি অনেক দুর্বল লাগছে?”

“খুব বেশি না। ঠিক আছি আমি।”

“তিন্নি তোর সাথে একটু কথা বলতে চাচ্ছে। তুই কি একবার ওর কাছে যাবি?”

“না মামি। আমি তোমাদের বলে দিচ্ছি, ওর কাছে যাওয়ার জন্য আমাকে কেউ জোর করবে না।”

“একবার!”

“এই মুহূর্তে আর কথা বলতে ভালো লাগছে না আমার। আমি আর একটু বিশ্রাম নিতে চাই। তোমরা এখন আসতে পারো।”

কথাটা বলে নিজের চোখ দু’টো বন্ধ করে নেয় কুয়াশা। মেয়ের এমন আচরণ দেখে আর কিছু বলেন না মিসেস নাহার। তার মেয়ে যা চায় তাই হবে। তাই নিজের ভাইয়ের বউকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন তিনি।

কুয়াশার সারাদিন চলে যায় ক্লিনিকে। সন্ধ্যায় কিছুটা সুস্থবোধ করায় নিজের বাড়িতে চলে আসে সে। এসে সবার আগে সাফওয়ানকে কল দেয়। রিং হওয়ার দুই সেকেন্ডের মধ্যে সাফওয়ান কল রিসিভ করে। যেন এতক্ষণ সে কুয়াশার কলের জন্যই অপেক্ষা করছিল।

“আসসালামু আলাইকুম।”

“ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুয়াশা কেমন আছ তুমি? শরীর কি এখনো দুর্বল লাগছে?”

“না। আমি এখন ভালো আছি।”

“ঢাকায় ফিরবে কবে? এদিকে তো তুরাবের কেস কোর্টে উঠবে আগামী পরশু। সেখানে তোমাকে থাকতে হবে।”

“আমি আগামীকাল ফিরে যাব। তুমি চিন্তা করো না।”

“তোমাকে আরো একটা খবর দেওয়ার ছিল।”

“হ্যা বলো।”

“আমাদের একটা পুরোনো বাড়ি আছে। ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে। এখন ফাঁকা পড়ে আছে। আগে ওখানে আমার দাদুবাড়ির লোকজন থাকত। এখন যেহেতু কেউ থাকে না, তাই আমি চাই ওই বাড়িতেই বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করতে। বাড়িটা অনেক বড়ো। একপাশে বৃদ্ধাশ্রম আর অন্য পাশে এতিমখানা বানালে কেমন হবে?”

“বাহ্! এটা অনেক ভালো হবে। কিন্তু তোমার পরিবার রাজি হবে?”

“আমি উনাদের থেকে অনুমতি নিয়েছি। এটা নিয়ে ভাবতে হবে না। তুমি রাজি থাকলে আমি আগামীকাল থেকেই বাড়ির কাজকর্ম শুরু করতে চাই।”

“আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে খরচ আমি বহন করব। এতে না করতে পারবে না তুমি।”

“আচ্ছা আমরা দু’জন মিলে সমাম সমাম করে দিব। এবার ঠিক আছে?”

“হুম।”

“খেয়েছ?”

“হ্যা৷ তুমি?”

“আমি খাব একটু পর। অনেক কথা হলো। এখন তুমি ঘুমাও। তোমার আরো বিশ্রামের দরকার।”

“রাখি তাহলে।”

“সাবধানে থেকো। শুভ রাত্রি।”

“শুভ রাত্রি।”

সাফওয়ানের সাথে কথা বলা শেষ করে কুয়াশা ফোন একপাশে রেখে চোখ বন্ধ করে নেয়। তার কোনোকিছুই ভালো লাগছে না। আজ বেশিক্ষণ ভাবনার জগতে থাকতে পারল না সে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে চোখে রাজ্যের ঘুম নেমে আসে কুয়াশার।

অন্যদিকে তিন্নি যখন থেকে শুনেছে যে কুয়াশা তাকে র ক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে কুয়াশার সাথে কথা বলার জন্য তার মন অস্থির হয়ে উঠেছে। কিন্তু কুয়াশা তার সাথে কথা বলতে চায় না, এই কথাটা শুনে তার মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। তার মনের মধ্যে কিছু একটা নিয়ে প্রচন্ড পরিমাণে অস্থিরতা কাজ করছে!

চলবে??

#কুয়াশা_মিলিয়ে_যায়_রোদ্দুরে
#পর্ব_১৮
#লেখায়_নামিরা_নূর_নিদ্রা

“আজ কেস কোর্টে উঠবে। তবে আমার মনে হয় না এই কেস খুব বেশিদিন চলবে। আশা করছি, তোমার প্রথম কেস দুই দিনেই শেষ হয়ে যাবে।”

কুয়াশা নিজের গায়ে কালো গাউন জড়াতে জড়াতে বলে,

“আজকেই এই কেস বন্ধ হয়ে যাবে কিনা এটা ভাবছি। মিহি নামের মেয়েটা এত কাঁচা কাজ করে পুলিশের কাছে আসলো কীভাবে?”

“পাগল হলে যা হয়।”

সাফওয়ানের কথায় কুয়াশা হাসিমুখে উত্তর দেয়,

“এমন কেসে নিজেকে জড়াতে হবে কখনো ভাবিনি। না মানে আমিই হয়তো প্রথম নারী যে কিনা নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে আসা এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই জীবন নিয়ে হাসব নাকি কাঁদব বুঝতে পারি না!”

“আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে কুয়াশা। এখন মন খারাপ না করে কোর্টে চলো। তোমার জীবনের প্রথম কেস এটা। খুব সাবধানে কথা বলতে হবে।”

“হ্যা জানি। দেখা যাক কি হয় আজকে।”

“চলো এখন।”

সাফওয়ান আর কুয়াশা একসাথে বের হয়ে যায় কোর্টের উদ্দেশ্যে। কোর্টের সামনেই তুরাবের সাথে দেখা হয়ে যায় তাদের। কুয়াশা তুরাবের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে,

“ভয় পাবেন না। এটা খুব ছোট একটা কেস। হ্যা, অভিযোগটা বড়ো। কিন্তু আমাদের কাছে অনেক প্রমাণ আছে। আশা করছি আজই এই কেস বন্ধ করে দেওয়া হবে। খুব বেশি হলে আগামী ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আপনার কোনো ক্ষতি হবে না এটুকু বলতে পারি। কারণ এই কেসে আপনি সত্যিই নির্দোষ। তবে জীবনের খাতায় নন!”

কুয়াশার শেষ বাক্য শুনে তুরাবের মুখ অন্ধকারে ছেয়ে যায়। সব সময় এই মেয়েটা তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলে। এটা করে যে মেয়েটা কি এমন শান্তি পায় তা তুরাব কিছুতেই বুঝতে পারে না।

“কুয়াশা আমাদের এখন ভেতরে যাওয়া উচিত।”

“হ্যা চলো।”

কুয়াশা সাফওয়ানের সাথে ভেতরের দিকে চলে যাওয়ার সাথে সাথে তুরাবও এগিয়ে যায় সেদিকে। কোর্টে সবাই উপস্থিত। এখন শুধু জজ আসার অপেক্ষা। যথা সময়ে জজ সাহেব চলে আসেন। নিজ আসন গ্রহণ করে কেসের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। প্রথেই কাঠগড়ায় তুরাবকে তোলা হয়। অপরপক্ষের উকিল ইচ্ছামতো তুরাবের উপর দোষ দিতে থাকে। কুয়াশা নিশ্চুপ হয়ে সব শ্রবণ করছিল। অতঃপর কুয়াশার সময় আসলে সে মিহিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। এরপর একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে।

“মিস মিহি আপনার কথা অনুযায়ী মিস্টার তুরাব তৌহিদ আপনার সাথে প্রেমের নাটক করে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে আপনাকে বিয়ে করতে সে রাজি হয়নি। ঠিক তো?”

“হ্যা।”

“এখন আমার প্রশ্ন হলো, আপনাদের ব্যক্তিগত সময়ের মুহূর্ত কে ভিডিয়ো করল? আর সেই ভিডিয়ো আপনিই বা কীভাবে পেলেন? পুলিশকে দেখালেন কীভাবে?”

কুয়াশার কথায় মিহি চুপ করে যায়। কোনো উত্তর দিতে পারে না।

“চুপ করে থাকবেন না। উত্তর দিন।”

“আসলে তুরাব যদি আমাকে ছেড়ে চলে যায় এই ভয় থেকে আমি নিজেই ভিডিয়ো ধারণ করেছিলাম।”

“আপনি এমন আমতা আমতা করছেন কেন? যাইহোক, এখন প্রশ্ন হলো যার কাছে এত ভয় তার কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন কেন?”

“ভালোবাসি তাই। ওকে হারানোর ভয় পেতাম আমি। তাই ওও যা যা বলেছে সেটাই করেছি আমি।”

“আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, আপনি যদি মিস্টার তুরাবকে এতটা ভালোবেসে থাকেন তাহলে ওনার থেকে দশ লাখ টাকা কেন চেয়েছেন?”

কুয়াশার এমন প্রশ্নে চমকে যায় মিহি। তার চোখেমুখে ভয় ফুটে উঠেছে।

“আমি কোনো টাকা চাইনি। এসব মিথ্যা কথা।”

কুয়াশা আপনমনে হেসে জজকে উদ্দেশ্য করে বলে,

“মহামান্য আদালত আপনি অনুমতি দিলে আমি আমার মক্কেলের হয়ে কিছু প্রমাণ পেশ করতে চাই।”

জজের পক্ষ হতে উত্তর আসে,

“অনুমতি দেওয়া হলো।”

কুয়াশা একটা পেন ড্রাইভ আর তুরাবের ফোন জজের সামনে দিয়ে বলে,

“এই ফোনে যে ভয়েস রেকর্ড করা আছে তা শোনার জন্য অনুরোধ করছি।”

জজ সাহেব ভয়েস চালু করতেই কিছু দিন আগে তুরাবের সাথে মিহির কথপোকথন শুনতে পায়। যেখানে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, মিহি এই কেস তুলে নেওয়ার জন্য তুরাবের থেকে দশ লাখ টাকা চাচ্ছে।

এই ভয়েস শোনার পর পেন ড্রাইভে থাকা ভিডিয়ো চালু করে জজ সাহেবকে সেটা দেখতে অনুরোধ করে কুয়াশা। ভিডিয়ো চালু করার পর কুয়াশা বলতে শুরু করে,

“এখানে দেখা যাচ্ছে মিস্টার তুরাব চোখ বন্ধ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে। মেয়েটার চুলের জন্য তা স্পষ্ট বোঝা না গেলেও খানিকটা বোঝা যাচ্ছে। এছাড়া মেয়েটার শরীর থেকে মিস্টার তুরাবের হাত বারবার সরে যাচ্ছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, একজন অচেতন ব্যক্তি কীভাবে মেয়েটার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারে? এটা কী নিছকই একটা ষড়যন্ত্র নয়?”

কুয়াশার এহেন কথায় মিহির গলা শুকিয়ে যায়। তার হাত-পা কাঁপতে শুরু করে।

“মিস মিহি প্রশ্নের জবাব দিন। কেন এমন কাজ করলেন আপনি?”

মিহিকে চুপ থাকতে দেখে কুয়াশা পুনরায় জিজ্ঞেস করে,

“কী হলো? আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।”

বারবার প্রশ্ন করার পরেও মিহিকে চুপ করে থাকতে দেখে কুয়াশা চিৎকার করে বলে,

“উত্তর দিন বলছি।”

মিহি নিজেকে সামলাতে না পেরে সমস্ত সত্যি স্বীকার করে নিয়ে বলে,

“হ্যা এসব আমার সাজানো নাটক। আমি টাকার জন্য এসব করেছি। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিন। আমি আর কখনো এমন করব না।”

কথাটা বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে মিহি। কুয়াশা জজ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে,

“মিস মিহি নিজেই সব কথা স্বীকার করে নিলেন। এখানে আমার মক্কেলের কোনো দোষ নেই তা পরিষ্কার। সুতরাং, আমি আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আসা এই অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। বিনা দোষে আমার মক্কেলকে যেন শাস্তি পেতে না হয় তার জন্য জজ সাহেবের কাছে অনুরোধ করছি।”

জজ সাহেব সমস্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এই কেস বন্ধ করে দেওয়ার আদেশ দেয়। একইসাথে মিহির এমন ঘৃণ্য কাজের জন্য তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।

এমন রায়ে সবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। একটা কেস এত সহজে শেষ করার জন্য কুয়াশাকে নিয়ে সবাই বাহবা দিতে থাকে। তুরাব খুশিমনে কুয়াশার দিকে এগিয়ে আসতে গেলে কুয়াশা তাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতে চায়। তুরাব কুয়াশাকে পেছন থেকে ডাকলেও সে সেই ডাক উপেক্ষা করে হাঁটতে থাকে। এমতাবস্থায় তুরাব কুয়াশার হাত ধরে ফেলে।

“কোন সাহসে আপনি আমার হাত ধরলেন?”

“কেন এমন করছ তুমি আমার সাথে?”

“আপনার কেস হাতে নিয়েছিলাম আমি। আপনাকে অনেক বড়ো অভিযোগ থেকে মুক্ত করেছি। আর কী চান?”

“তোমাকে চাই!”

“নিজের সীমানার মধ্যে থাকুন আপনি। এমন কিছু বলবেন না যার জন্য এখন আমাকেই আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে হয়।”

“নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাও?”

“বারবার আমার স্বামী হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে কী প্রমাণ করতে চান? আপনি আমাকে ভালোবাসেন? আমাকে বউ হিসেবে মানেন? আমাকে ফিরে পেতে চান? এসব প্রমাণ করতে চান?”

“যেটা সত্যি সেটা প্রমাণ করার জন্য কিছু করতে হয় না কুয়াশা। আমি সত্যিই তোমাকে ফিরে পেতে চাই।”

“আমাকে ফিরে পাওয়ার খুব ইচ্ছা আপনার তাই না?”

“হ্যা।”

“কিন্তু কেন? আমি আপনাকে বাঁচিয়েছি বলে দয়া দেখাতে এসেছেন?”

“না। মন থেকে তোমাকে অনুভব করতে পারি এখন। এজন্যই চাই যেন আমাদের সম্পর্ক আবার ঠিক হয়ে যায়।”

তুরাবের এমন প্রশ্নে কুয়াশা হাসতে আরম্ভ করে। যেন সে খুব মজার কিছু শুনেছে।

“কী হলো? তুমি এমন করে হাসছ কেন?”

কুয়াশা কোনোরকমে হাসি থামিয়ে তুরাবের দিকে তাকিয়ে বলে,

“আপনাকে আমার কিছু দেওয়ার আছে তুরাব!”

“কী?”

“একটু অপেক্ষা করুন।”

কথাটা বলে কুয়াশা সাফওয়ানকে কাছে ডাকে। তারপর তুরাবকে উদ্দেশ্য করে বলে,

চলবে??

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ