Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"স্পর্শতায় তুমিস্পর্শতায় তুমি পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব

স্পর্শতায় তুমি পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব

#স্পর্শতায়_তুমি
#অন্তিম_পব
#অধির_রায়

নিরবে নিভৃতে বসে আছে তিন জোড়া চোখ৷ একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে৷ নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে অজান্তা, প্রকৃতি, অর্পণের মাঝে৷ অজান্তা নিস্তব্ধতা ভেঙে বলল,

“ছোঁয়াকে রাজি করাতে পারছি বিয়েতে৷ ঋষিকে কিভাবে বিয়েতে রাজি করাব? ঋষি কি আজও রাজি হবে বিয়েতে?”

প্রকৃতি চকিত হয়ে বলল,

“ছোঁয়ার আবারও বিয়ে মানে! ছোঁয়ার তো একবার বিয়ে হয়ে গেছে৷”

অজান্তার প্রকৃতির দিকে এক পলক তাকায়৷ তারপর অজান্তা প্রকৃতি আর অর্পনকে সমস্ত বিষয় খুলে বলে৷ দু’জনে অজান্তার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়ে৷ অজান্তা মুচকি হেঁসে বলল,

“সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্যই করেন৷ তিনিও চান ছোঁয়া ঋষিকে মিলিয়ে দিতে৷ উনার চাওয়া না থাকলে আমার দাদা কখনও বাড়ি ছেড়ে যেত না৷ প্রকৃতি ছোঁয়া আজও ঋষির ভালোবাসার জন্য পা” গ”ল৷ তাকে ছাড়া কিভাবে বেঁচে আছে, তুমি তাকে দেখলে বুঝতে পারতে?”

অজান্তার কথা শেষ হতেই অর্পন আহত কন্ঠে বলল,

“সবার ভালোবাসা বুঝলেও আমার ভালোবাসা কেউ বুঝে না৷”

প্রকৃতি সন্দেহ কন্ঠে বলল,

“আপনার ভালোবাসা কে বুঝল না? আমার জানা মতে আপনি কারোর সাথে রিলেশনে যাননি৷”

ছোঁয়ার হাতের উপর হাত রেখে অজান্তা বলল,

“তার কথা ছেড়ে দাও৷ আমাদের মিশন হলো ঋষি ছোঁয়াকে এক করা৷ অর্পণ তুমি ঋষিকে বুঝিয়ে বলবে৷ আমি যতটুকু ঋষিকে জানি ঋষি অনেক বেশি দুর্বল ছোঁয়ার প্রতি৷ তোমার কথায় রাজি না হলে তাকে বলবে ছোঁয়া তোমাকে না পেয়ে এখন সুইসাইডও করতে পারে৷ তাদের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য একটু না হয় ব্লাকমেইল করলাম৷”

“আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি৷ আমি আজই ঋষির সাথে কথা বলব৷ অফিসে ঋষিকে কিছু বলার দরকার নেই৷ কোন কারণে ঋষি যদি অফিসে সিনক্রিয়েট করে তাহলে ছোঁয়ার মান সম্মান যাবে৷ আমি তোমাকে সন্ধ্যায় ফোন দিব৷ বরং তুমিই বলবে কথাগুলো।”
প্রকৃতিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তুমি তোমার পরিবারের সাথে কথা বলবে৷ তোমার পরিবারের কাছে বিয়েটা মেনে নিতে কষ্ট হবে৷ কারণ ছোঁয়া একজন ডিভোর্সী মেয়ে৷”

প্রকৃতি অভয় দিয়ে বলল,

“আমি মা বাবাকে ঠিক মানিয়ে নিতে পারব৷ আপনারা দাদাকে মানিয়ে নেন৷ আমিও চাই আমার দাদা সুখে থাকুক৷ ছোঁয়াকে ছাড়া দাদাও ভালো নেই৷”

—– ”পারব না আমি ছোঁয়াকে কিছুতেই নিজের বাড়ি বউ হিসেবে মেনে নিতে। যে মেয়ের জন্য আমার ছেলের এতো কষ্ট করল তাকে আমি এ বাড়িতে দেখতে পারব না৷”

প্রকৃতির মা নিজের ভিতরের ক্ষোভ থেকে বলে কথাগুলো৷ প্রকৃতি করুন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মায়ের কথা গুলো মনোযোগ সহকারে শুনে যাচ্ছে৷ প্রকৃতি মা’কে সব সময় কোমল হৃদয়ের মানুষ হিসেবে জেনে আসছে৷ এমন অগ্নিমূর্তি ধারণ করতে কখনও দেখেনি৷ প্রকৃতি ভয়ে ভয়ে বলল,

“ঋষি যেখানে ভালো থাকবে সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের জরুরি। দাদা কোনদিন অন্য কাউকে বিয়ে করবে না ছোঁয়াকে ছাড়া৷ তুমি বলছো ছোঁয়া বিবাহিত! হে মানলাম ছোঁয়া বিবাহিত। বিশ্বাস করো মা ছোঁয়ার সাথে স্বচ্ছের কোন সম্পর্ক নেই৷ স্বচ্ছ ছোঁয়াকে রেখেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে৷ ছোঁয়ার হাত পর্যন্তও ধরেনি৷”

কর্কশ কন্ঠে বলল,

“সমাজে আমাদের একটা সম্মান আছে৷ ছোঁয়াকে বাড়ির বউ হিসেবে আনলে আমরা সমাজের চোখে ছোট হয়ে যাবো৷”

“তুমি কোন সমাজের কথা বলছো? যে সমাজ বিপদ দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়৷ যে সমাজ অন্যের দোষ গুণ বিচার না করে মানুষের নামে নিন্দা করে৷ তিল থেকে তাল করা সেই সমাজের কথা বলছো?”

“প্রকৃতি তুমি বুঝতে পারছো না৷ এমন কথা লুটে বেড়াবে, সমাজে মুখ দেখাতে পারব না৷”

“ব্যাস মা৷ আমি সমাজের কোন কথায় কান দিচ্ছিনা৷ তারা আমার ভাইয়ের ভালোবাসা বুঝবে না৷ কাটা স্থানে মলম না লাগিয়ে অন্য স্থানে লাগাতে আঘাত সেরে উঠে না৷ আজ তুমি দাদাকে অন্যত্র বিয়ে দিলে৷ পারবে তাদের খুশি করতে৷ আমরা সবাই চাই দাদা ভালো থাকুক৷ তার ভালো মন্দের খেয়াল আমাদের রাখতে হবে৷ মহল্লার কাকিমাদের রাখতে বলিনি৷”

প্রকৃতির মা মলিন কন্ঠে বললেন,

“আমার তেমন মত নেই৷ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি এই বিয়েতে মত দিলাম৷ কোন কিছু হলে আমাকে দোষারোপ করতে পারবে না৷”

মা’কে আলতো করে জড়িয়ে ধরে বলল,

“মা সীতাকে রাবণ হরণ করার পর সীতার নামে ক’ল’ঙ্ক দিয়েছিল৷ সীতার কল”ঙ্ক যেহেতু মুছে গেছে তেমনই তোমার ভাবনা পাল্টে যাবে৷ তোমার চোখের মণি হবে ছোঁয়া।”

————হাতিরঝিল লেগের পাশে পাশাপাশি বসে আছে অর্পন, ঋষি৷ এখনও অজান্তা এসে পৌঁছায়নি৷ অর্পন অনেক আগেই অজান্তাকে ফোন দিয়ে বলে দিয়েছে। অজান্তা অর্পনের পাশে এসে বসে৷ অজান্তা অর্পণের পাশে বসাতে অর্পন কিছুটা অবাক হয়৷ ঋষি সন্দেহের কন্ঠে বলল,

” ম্যাম আপনি এখানে৷ আপনি কখন আসলেন ?”

“আমি অনেক আগেই এসেছি৷ আপনার সাথে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা আছে৷ আশা করি আপনি আমাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনবেন৷”

ঋষির এদিক ওদিক তাকিয়ে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করে৷ চকিত হয়ে মিহি কন্ঠে বলল,

“আমার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা! তার আগে বলেন, আপনি অর্পনকে কীভাবে চিনেন? ”

“সেসব পরে হবে৷ আগে আমার সাথে আসেন৷ একটা নিরিবিলি জায়গায় এসব কথা বলতে হবে৷”

“আমি ছোঁয়ার বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইনা৷ ম্যাম আমাকে ক্ষমা করে দিবেন আপনার বিষয়েও কোন কথা শুনতে চাইনা৷ আমি ছোঁয়াকে ভুলতে পারব না৷ আপনাকে আমার মনে জায়গা দিতে পারব না। আমার মন বড় নয়৷ আমি ছোঁয়ার স্মৃতি নিয়ে বাকি জীবন পার করে দিতে চাই৷”

অজান্তা মুচকি হেঁসে বলল,

“আপনাকে এসব বিষয়ে কোন কথা বলব না৷ আপনার সাথে অন্য বিষয়ে কথা আছে৷”

ঋষি, অজান্তা, অর্পণ একটি ক্যাফেডিয়ামে যায়৷ অজান্তা কফির কাপে চুমু দিয়ে বলল,

“মা ছোঁয়ার বিয়ে ঠিক করেছেন।”

বিয়ের কথা শুনে ঋষি বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ে৷ হাতে থাকা কাপ ফ্লোরে পড়ে যায়৷ ওয়েটার কিছু বলার আগেই অর্পণ বলে উঠে, ‘আমি দাম দিয়ে দিব৷ এ নিয়ে কোন সিনক্রিয়েট করবে না৷’ ঋষির নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না৷ ঋষি অজান্তার দিকে ঝুকে বলল,

“এসব কি বলছেন? ছোঁয়া বিবাহিত। আপনার মা ছোঁয়ার সাথে এমন অন্যায় করতে পারে না৷”

ঋষির ইচ্ছা করছে অজান্তার গালে কষিয়ে কয়েকটা থা’প্পড় বসাতে৷ অর্পন ঋষির হাত ধরে টেনে বসায়৷ কোমল গলায় বলল,

“ঋষি নিজেকে শান্ত কর। অজান্তা কি বলতে চাচ্ছে তা শুনি?”

অজান্তা পুনরায় বলতে শুরু করল,

“আমার মা মনে করেন উনার জন্য ছোঁয়ার এমন অবস্থা৷ ছোঁয়া সারা দিন ডিপ্রেশনে থাকে৷ ঠিকমতো খাবার খায়না। মায়ের জন্য ছোঁয়ার এমন অবস্থা। নিজের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে ছোঁয়ার জীবন শেষ করে দিয়েছে৷ উনার ভুল সংশোধনের জন্য ছোঁয়ার অন্যত্র বিয়ে দিতে চান৷”

ঋষি আহত কন্ঠে বলল,

“ছোঁয়া এ বিয়েতে রাজি হয়ে গেল। ছোঁয়া আমার ভালোবাসার কোন মূল্য দিল না৷”

“হ্যাঁ! ছোঁয়া এ বিয়েতে রাজি। আপনি যদি ছোঁয়াকে বিয়ে করতে চান তাহলে এই বিয়ে আটকানো যাবে৷”

টলমল চোখে বলল,

“পারব না ছোঁয়ার মন ভাঙতে৷ আমি ছোঁয়াকে বিয়ে করতে পারব না৷ ছোঁয়া আমাকে ছাড়া খুশি থাকলে আমিও ভালো থাকব৷”

অজান্তা রাগী গলায় বলল,

“মানুষ ভালোবাসা দেখায় ভালোবাসতে পারেনা৷ আপনার ভালোবাসা সত্যি হলে আপনি ছুটে যেতেন ছোঁয়ার কাছে৷ তাকে এ বিয়ে করতে মানা করতেন৷ না আপনি অভিনন্দন জানাচ্ছেন৷”

অর্পন ঋষির দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,

“গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বিয়ে হোক৷ এমন গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে যাওয়া লোক ঋষি৷ তোর মন বলতে কিছু আছে৷ তোর ভালোবাসা খাঁটি নয়৷ খাঁটি হলে এমন করতে পারতি না৷ তোর ভালোবাসা হিন্দি সিরিয়ালকেও হার মানাবে৷ বাহ বাহ।”

ঋষি রাগী গলায় বলল,

“আমি কি করব? আমি ছোঁয়াকে উঠিয়ে নিয়ে আসব৷ তার বিয়ের আসরে গোন্ডামী করব। যেখানে ছোঁয়া নিজে থেকে এই বিয়েতে রাজি৷”

অজান্তা মাথা নিচু করে বলল,

“ছোঁয়া বিয়েতে রাজি কিন্তু বিয়ের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে৷ ছোঁয়ার ঋষিকে ছাড়া দ্বিতীয় কাউকে বিয়ে করবে না৷ ঋষি যদি তাকে মেনে নিতে না পারে তাহলে ছোঁয়া সু’ই’সা’ই’ড করবে৷”

“আমি কিছুতেই ছোঁয়ার ক্ষতি হতে দিব না৷ আমি ছোঁয়াকে বিয়ে করতে রাজি৷ আমি আজ রাতেই আপনাদের বাসায় যাবো বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে৷ আমি নিজে ম্যামের সাথে কথা বলব৷”

“বাড়িতে যান৷ আঙ্কেল আন্টিকে নিয়ে বাসায় আসেন৷ তারা এই বিয়েতে রাজি৷ প্রকৃতি তাদের বিয়েতে রাজি করিয়ে নিয়েছে৷”

ঋষির মা বাবা, ছোঁয়ার মা বাবা, অজান্তার মা বাবা, স্বচ্ছ ও তার স্ত্রী৷ প্রকৃতি পুষ্প স্যার সোফায় মুখ গোমড়া করে বসে আসে৷ এক পাশে চো’রের মতো বসে আছে ঋষি৷ ঋষির পাশে দাঁড়িয়ে আছে ছোঁয়া৷ পরিবারের লোক কি তাদের বিয়ে মেনে নিবে৷ বিশ মিনিট হয়ে যাচ্ছে সকলের মুখে নিরবতা। শুধু চোখের ইশারায় কথা হচ্ছে৷ অজান্তা হাতে মিষ্টি নিয়ে আসতে আসতে বলল,

“অভিনয় করতে হবে না৷ ঋষি ছোঁয়ার দিকে তাকানো যাচ্ছে না৷ বলে দাও আমরাাাা এএএএ বিয়েেে মেমমমনেেেেে নিয়েছি৷”

অজান্তার কথায় সকলেই উচ্চ স্বরে হাসিতে মেতে উঠে৷ ছোঁয়া ঋষির বিয়ে ঠিক করে সাতদিন পর৷ এর মাঝে কেউ কারোর সাথে দেখা করতে পারবে না৷

—– মুখ গোমড়া শুয়ে আছে প্রকৃতি। অপর পাশে অন্য দিকে কাঁধ হয়ে শুয়ে আছে পুষ্প স্যার৷ প্রকৃতির অভিযোগ পুষ্প স্যার তাকে একটুও ভালোবাসে না৷ প্রকৃতির ভালোবাসার কোন দাম নেই পুষ্প স্যারের কাছে। প্রকৃতি নিজে থেকে পুষ্প স্যারকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। পুষ্প স্যার নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে প্রকৃতির দিকে ঘুরে৷ ব্রু নাচিয়ে বলল,

“কি হচ্ছে এসব? আমাকে ঘুমাতে দাও৷ ঋষির বিয়ের সব কাজ আমাকেই করতে হচ্ছে৷ আমি অনেক ক্লান্ত৷”

প্রকৃতি রাগী অভিমানী কন্ঠে বলল,

“হু”নু’মা’ন বা’ন’র আমি তোর সামনে আছি আমাকে চোখে পড়ে না৷ তুই ঋষির বিয়ে নিয়ে পড়ে আছিস৷ তোর বিয়ে কিভাবে বাঁচাবি এটা ভাব৷ তিথি ঠিকই বলত নিজের বয়সের থেকে বড় কাউকে বিয়ে করলে আন রোমান্টিক হয়৷ লাগবে না আপনার ভালোবাসা। আমি আজ থেকে মাটিয়ে থাকব৷”

প্রকৃতি বালিশ নিয়ে নিচে নামতে নিলেই পুষ্প স্যার প্রকৃতির হাত ধরে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়৷ প্রকৃতি ছুটার চেষ্টা করছে৷ পুষ্প স্যার প্রকৃতির কানে ফিসফিস করে বলল,

“আমি রোমান্টিক হলে সামনে বছরেই বাবা ডাক শুনতে পারব৷ তার জন্য তুমি প্রস্তুত তো৷”

“আপনি আসলেই একটা লু”চু পোলা। আমাকে লজ্জায় ফেলতে ভালো লাগে৷”

প্রকৃতি কোন কথা বলে পুষ্প স্যারের বুকে মুখ লুকায়৷ মান অভিনয় শেষে ভালোবাসায় পূর্ণ হয়৷

—— বউ সেজে বসে আছে ছোঁয়া। কাঁচা ফুলের গন্ধ সারাঘর মৌ মৌ করছে৷ নিজেকে আজ ভাগ্যবান মনে হচ্ছে৷ তিথি ছোঁয়াকের কোলে মাথা রেখে,

“আজ থেকে আমার ক্রাশকে তোকে লিখে দিলাম৷ আমার একটা ক্রাশ কমে গেল৷ চিন্তা করিস না৷ অর্পির চাচাতো ভাইয়ের দিকে নজর দিব এখন থেকে৷”

অর্পি রেগে বলল,

“কু”ত্তী তুই আমার ভাইয়ের দিকে নজর দিলে চোখ তুলে ফেলব৷ মা বলেছে তার সাথেই আমার বিয়ে দিবে৷”

তিথি অর্পিকে জড়িয়ে ধরে,

“আরে বোনু অভিনন্দন। আমার দুইটা দুলাভাই হলো৷ একটা তো ক্রাশ ছিল৷ যা আজ থেকে তাকেও দুলাইয়া বলে ডাকব৷”

প্রকৃতি বলে উঠল,

“তিথি পাখি এখন তোরা রুম থেকে বের হু৷ নতুন বউকে একটু সময় দেয়৷ দাদা বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে৷”

“তিথি ক্ষেপে বলল,

“তোর ভাই আমার ক্রাশ ছিল৷ আমি কিছুতেই রুম থেকে যাবো না৷ হিন্দি সিরিয়ালে দেখিস না এক্সরে বিয়েতে বাসর করতে দেয়না৷ আমিও তাদের বাসর করতে দিব না৷”

অজান্তা মুচকি হেঁসে বলল,

আস্তে বলো৷ বাহিরে সবাই আছে৷ ঋষি বেচারা বহু কষ্টে ছোঁয়াকে পেয়েছে। তাদের একটু সময় দিতে হবে৷

তিথিকে এক প্রকার টেনে রুম থেকে নিয়ে যায়৷ ঋষির রুমে এসে ছোঁয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে৷ ছোঁয়ার কপালে ভালোবাসার পরশ একে বলল,

“যাও এগুলো চেঞ্জ করে আসো৷ তোমার চেঞ্জ করা শেষ হলে আমি চেঞ্জ করব। দুই জনেই ভারী পোশাক ছেড়ে হালকা পোশাক পড়ে৷ ঋষি ছোঁয়ার হাত নিজের বুকে রেখে বলল,

” আমি তোমাকেই কিছুতেই হারাতে পারব না৷ তুমি আমার হৃদয়ের সাথে মিশে গেল৷ আমার শ্বাস প্রশ্বাস তুমি৷”

“আমিও আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনা করতে পারিনা৷ আপনার পাশে আমি সারাজীবন থাকব৷ শুধু এই জীবনে নয়৷ পরের জীবনেও আপনার সাথে থাকতে চাই৷”

ছোঁয়ার কানে ফিসফিস করে বলে উঠল,

“আমি তোমাকে প্রতিটি স্পর্শতায় পেতে চাই৷ আমার স্পর্শের কারণ হবে৷ কারণ আমার স্পর্শতায় তুমি থাকবে৷”

ছোঁয়া লজ্জা পেয়ে ঋষিকে জড়িয়ে ধরে। ঋষি ছোঁয়াকে পাঁজা কোলা করে বিছানায় শুয়ে দেয়। ছোঁয়া লজ্জায় দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ লুকানোর চেষ্টা করে। ঋষি রুমের লাইট বন্ধ করে দেয়৷

সমাপ্ত……৷

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ