Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ভালোবাসি তোমায়ভালোবাসি তোমায় পর্ব-২৯ এবং শেষ পর্ব

ভালোবাসি তোমায় পর্ব-২৯ এবং শেষ পর্ব

#ভালোবাসি_তোমায়
#A_mysterious_love_story
#ইরিন_নাজ
#পর্ব_অন্তিম

কে বলে ছেলেরা কাঁ’দে না! এই যে ফাইয়াজ কাঁ’দ’ছে। অ’ঝো’র ধারায় কাঁ’দ’ছে। ফাইয়াজের চোঁখের পানি হুরের নাক মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে। হুরের নিজেরও চোখ থেকে একধারে পানি পড়ছে। এতক্ষন তার মনে হচ্ছিলো সব টা তার চোঁখের সামনে ঘটছে। ফাইয়াজের জীবনে যে এমন কোনো ঘটনা থাকতে পারে তার ধারণাও ছিলো না হুরের। বাইরে থেকে দিব্যি হাসি খুশি থাকা ছেলে টা মনের মধ্যে যে এতো ক’ষ্ট পু’ষে রেখেছে তা বুঝার সাধ্য হয়তো কারোর নেই।

ফাইয়াজ বাচ্চাদের মতো নাক টে’নে বললো,

— জানো ওই ফাইয়াজ শিকদার নামের বাচ্চা ছেলে টা কে ছিলো! আমি ছিলাম। আমার চোঁখের সামনে আমার বাবা মা কে নৃ’শং’স ভাবে হ’ত্যা করা হয়। আমি শুধু দেখেই গিয়েছি। কিছু করতে পারিনি। তবে আজ আমার প্র’তি’শো’ধ, আমার করা প্রতিজ্ঞা সম্পন্ন হয়েছে। তোমার জানামতে আমি হয়তো দুটো খু’ন করেছি কিন্তু আমি শুধুমাত্র দুটো খু’ন করিনি হুর। ওখানে উপস্থিত থাকা প্রত্যেক কে আমি নিজ হাতে শা’স্তি দিয়েছি।

নিজের কথা শেষ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করলো ফাইয়াজ। সে চায় না হুরের কাছ থেকে আর একটা কথাও লুকাতে। হুরের মাথায় এখনো অনেক প্রশ্ন ঘু’র’ছে। ফাইয়াজের বাবা মা যদি মা’রা গিয়ে থাকে তাহলে ফরিদ সাহেব কে! আর ফাইয়াজ কেনো ছ’দ্দ’বে’শ ধারন করে হুরদের ভার্সিটিতে গিয়েছিলো! কেনো মুহিব কে মা’র’লো! মুহিব তো ফাইয়াজের বাবা মার মৃ’ত্যু’র সাথে জ’ড়ি’ত ছিলো না। মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘো’রাফেরা করছে হুরের। কিন্তু মুখ দিয়ে একটা টু শব্দও বের হচ্ছে না।

কিছু সময় নীরবতার পর ফাইয়াজ নিজেই বলতে শুরু করলো,

— তোমার মাথায় হয়তো এখন অনেক প্রশ্ন ঘু’র’ছে। তার মধ্যে একটা তুমি যাকে আমার বাবা বলে জানো সে কে! তিনি আমার জন্মদা’তা পিতা নন, কিন্তু আমাকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। তিনি শুধু আমার বাবাই না আমার বেস্টফ্রেন্ড আমার সব।

সেদিন যখন আমি বাড়ি থেকে পা’লা’ই তার পরপরই মোস্তফার লোকেরা দরজা ভে’ঙে ফেলে। তারা ভিতরে এসে জানালা খো’লা দেখে বুঝতে পারে আমি পা’লি’য়ে’ছি। কিন্তু মোস্তফা আমাকে না মে’রে দ’ম নেবে না। তাই তার লোকেদের আমার পেছনে পাঠায়। তারা আমাকে ধা’ও’য়া করে। দৌঁ’ড়া’তে দৌঁ’ড়া’তে একসময় আমি বাবার গাড়ির সামনে এসে প’রি। চ’ল’ন্ত গাড়ির সাথে ধা’ক্কা খেয়ে মোটামোটি ভালোই আ’ঘা’ত পাই। বাবা বিশিষ্ট শিল্পপতি হওয়ায় তার আগে পিছে সবসময় গার্ড থাকতো। সেদিনও বাবার সাথে কয়েকজন গার্ড ছিলো বিধায় মোস্তফার লোকেরা আ’গানোর সাহস করে না। বাবা আমাকে আ’হ’ত পেয়ে নিজের সাথে নিয়ে যায়। মোস্তফার লোকেরা মোস্তফার ভ’য়ে তাকে গিয়ে বলে আমি একটা গাড়ির সাথে এ’ক্সি’ডে’ন্ট করে মা’রা গেছি। মোস্তফাও সেটা বিশ্বাস করে নেয়।

বাবা আমাকে হা’স’পা’তা’লে অ্যাডমিট করে। আমার চিকিৎসা করানোর পর আমাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। আমার বাবা মা পরিবার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার মানসিক অবস্থা খুবই বা’জে ছিলো। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকতাম। বাবা অনেক চেষ্টা করেও আমার মুখ থেকে একটা কথা বের করতে পারতো না। মাঝে মাঝে আমি অনেক কাঁ’দ’তা’ম কিন্তু কিছু বলতাম না। বাবা আমাকে সা’ই’ক্রি’য়া’টি’স্ট এর কাছে নিয়ে যায়। দীর্ঘ এক বছর আমি তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। ধীরে ধীরে সুস্থ হই আমি। চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় ডাক্তার কৌশলে আমার সম্পর্কে সব কিছু জেনে নেন আর বাবাকেও সবটা জানান। সবটা জানার পর বাবা আমার দায়িত্ব নেয়। কাগজে কলমে হয়ে যাই আমি তার ছেলে। এই মানুষ টা নিজের হাতে আমাকে গড়েছে। তাকে ছাড়া কখনোই আমি আমার লক্ষ্য পূরণ করতে পারতাম না।

বাবার পরিবারে আর কেউ ছিলো না এই বিষয়টা আমাকে সবসময় ভাবাতো। কিছুটা বড় হওয়ার পর জানতে পারি বাবার স্ত্রী অর্থাৎ আমার মা মা’রা গিয়েছিলেন। বাবা মা ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। বাবার যখন বিয়ে হয় তখন দাদুভাই বেঁচে ছিলেন। কিন্তু বিয়ের এক বছরের মাথায় তিনি মৃ’ত্যু’ব’র’ণ করেন। সুখের সংসার ছিলো বাবা মায়ের। যদিও তা বেশিদিন স্থায়ী হয় নি। মা যখন ৮ মাসের গর্ভবতী তখন সিঁড়ি দিয়ে স্লি’প করে প’ড়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃ’ত্যু ঘটে।

বিরতি নেয় ফাইয়াজ। চোঁখের পানি মো’ছা’র বৃ’থা চেষ্টা করে। হুর ভাবে আমাদের চোখের আড়ালেও কতোশত ঘটনা থাকে যা আমরা বাইরে থেকে দেখে বুঝতে পারি না। সবার জীবনেই হয়তো এমন কিছু অজানা গল্প রয়েছে। কারোর গল্প পুরো পৃথিবীতে র’টে যায় আর কারোর গল্প সকলের অগোচরেই রয়ে যায়। যা তারা নিজের মাঝে বয়ে বেড়ায়। হুরের চিন্তার মাঝে ফাইয়াজ পুনরায় বলতে শুরু করে,

— জানো বাবা মা জানতে পেরেছিলো তাদের ঘর আলো করে একটা রাজপুত্র আসতে চলেছে। অনেক স্বপ্ন ছিলো তাদের। কিন্তু সব স্বপ্ন ভে’ঙে চু’র’মা’র হয়ে যায় একটা দু’র্ঘ’ট’না’য়। মা মা’রা যাওয়ার পর বাবা পা’গ’লে’র মতো হয়ে যান। কেউ ছিলো না তার। ছ’ন্ন’ছা’ড়া জীবন যাপন করতেন। হুটহাট এদিক ওদিক চলে যেতেন। তবে বাবার বিশ্বস্ত প্রধান গার্ড রহিম আঙ্কেল অসম্ভব ভালো মানুষ। তিনি চাইলে বাবার সেই অবস্থার সুযোগ নিতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। সবাই যে প্র’তা’র’ক হয় না তার প্রমান তিনি। বাবা কে সবসময় নি’রা’প’ত্তা দিতেন। বাবা রাত বি’রাতে এদিক ওদিক বের হয়ে গেলে উনিও বাকিদের নিয়ে আগে পিছে থাকতেন। এভাবেই চলছিল বাবার জীবন। এর মধ্যে বাবার সাক্ষাৎ আমার সাথে হয়।

বাবার মতে, আমি তার অ’ন্ধ’কা’র জীবনে আলো হয়ে এসেছিলাম। আমাকে পেয়ে তিনি পুনরায় বাঁচার ইচ্ছা ফিরে পান। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন আমার জন্য। হয়ে যান এক পুত্রের বাবা। অনেক দায়িত্ব ছিলো তার। আমাকে সঠিকভাবে গড়ে তোলেন। এতো বছরেও কখনো দ্বিতীয়বার বিয়ের চিন্তা করেন নি। আমাকে নিয়েই তার জীবন। এখন যোগ হয়েছো তুমি।

ফাইয়াজ হালকা হেসে বললো,

— এবার একটা মজার কথা বলি তোমাকে। যবে থেকে তুমি আমার জীবনে এসেছো, তখন থেকে প্রতিটা ঘটনাই বাবার জানা। ওই যে বললাম বাবা আমার বেস্টফ্রেন্ড। তার সাথে প্রতিটা কথা শেয়ার করি আমি। coinci’denta’lly তুমি বাবার বন্ধুর মেয়ে বের হও। আমার লাক হয়তো ভালো ছিলো তাই।

তোমার মনে হয়তো এই প্রশ্নটাও এসেছে যে আমি তোমাদের ভার্সিটি তে ছ’দ্দ’বে’শে কেনো গিয়েছিলাম!

হুর ও এবার প্রশ্নবোধক দৃষ্টি তা’ক করলো ফাইয়াজের দিকে। যেদিন থেকে ফাইয়াজের আসল পরিচয় জানতে পেরেছে সেদিন থেকে এই প্রশ্নের উত্তর হা’ত’ড়ে বেড়াচ্ছে হুর। কিন্তু জানতে পারে নি। আজ সময় এসেছে জানার। ফাইয়াজ বলতে শুরু করলো,

— আমার শ’ত্রু’তা মোস্তফার সাথে ছিলো, মুহিবের সাথে নয়। কিন্তু মোস্তফার বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার সময় জানতে পারি সে তোমাদের ভার্সিটি তে কারোর মাধ্যমে ড্রা’গে’র বিজনেস করছে। অসংখ্য ছেলে মেয়ের জীবন ন’ষ্ট করছে। আরও গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর জানতে পারি মোস্তফার ছেলেই মোস্তফা কে সাহায্য করছে। তোমাদের ভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারের বে’শে যাই প্রমান জোগাড় করতে। আমি ওদের ভদ্র মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শ’য়’তা’নটা’কে সবার সামনে আনতে চাচ্ছিলাম। আর আমি প্রমান জোগাড় করতে সফলও হই।

এর মাঝে একদিন তুমি আমার সামনে আসো আর আমাকে ভালোবাসার কথা বলে বসো। যখন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম তখন আমার হৃদস্পন্দন অ’স্বা’ভা’বি’ক হারে বেড়ে গিয়েছিল। এর আগে কখনো কোনো নারীকে এতো গভীর ভাবে দেখি নি আমি। নিজের চিন্তা ভাবনায় নিজেই অবাক হয়েছিলাম। বুঝেছিলাম হয়তো তোমাকে ৱ্যা’গ দেয়া হয়েছে তাই আমাকে প্রপোজ করেছো। নাহলে ফারানের মতো কু’ৎ’সি’ত ছেলে কে কখনোই এতো সুন্দরী মেয়ের প্রপোজ করার কথা না এমন একটা ধারণা ছিলো আমার। আমার লুক, চার্ম, টাকার পেছনে অসংখ্য মেয়ে ঘু’রলেও ফারানের মতো কু’ৎ’সি’ত ছেলের পেছনে শুধুমাত্র তুমি ছাড়া কেউই ঘো’রে নি বরং নাক ছি’ট’কি’য়ে’ছে। সেদিন নিজের অনুভূতিকে পা’ত্তা দেই নি আমি। কিন্তু তোমাকে দেখার পর থেকে বাড়ি ফিরেও শান্তি পাচ্ছিলাম না। তোমাকে দেখার জন্য মন পা’গ’ল হয়ে যাচ্ছিলো। বাবাকে সব শেয়ার করার পর বাবা বললো আমার মনে নাকি প্রেমের ফুল ফুটেছিলো। আসলেই কিন্তু তাই ঘ’টেছিলো। যেখানে আমি সপ্তাহে দুই কি তিনদিন যেতাম সেখানে তোমাকে এক পলক দেখার জন্য নিয়মিত যেতে শুরু করি তোমাদের ভার্সিটি। যদিও তা তোমার অ’গো’চ’রে। তোমার অ’গো’চ’রেই আমি তোমায় নিয়মিত দেখতাম। আর এটাও বুঝে গিয়েছিলাম তুমিও আমায় ভালোবাসো। তোমার আমার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া, আমাকে দেখার অ’স্থি’র’তা আমাকে বলে দিয়েছিলো তুমি এই কু’ৎ’সি’ত ফারান কেই ভালোবাসো। কিন্তু আমি চাই নি ভু’ল পরিচয়ে তোমার সাথে সম্পর্কে জ’ড়াতে। সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। তোমাকে সব সত্যি বলে নিজের করে নিতে চেয়েছিলাম। তাই তোমাকে রি’জে’ক্ট করি। মুহিব তোমাকে নিজের করার জন্য উঠে প’ড়ে লাগে। কিন্তু তুমি রাজী না হওয়ায় সে জ’ঘ’ন্য বুদ্ধি আ’টে। প্ল্যান করে তোমাকে তু’লে আনবে আর…..। ওর প্ল্যানের বিষয়ে জানার পর আমার মাথায় র’ক্ত চ’ড়ে গিয়েছিলো। এর আগেও সে অসংখ্য মেয়ের স’র্ব’না’শ করেছে। কিন্তু ওর পাওয়ারের কারণে মেয়েগুলো মুখ খুলতে পারে নি। তাই ওর মতো ন’র’প’শু কে জ’ঘ’ন্য মৃ’ত্যু দেই। এটা ওর প্রাপ্য ছিলো।

দিনদিন তোমার প্রতি আমার ক্রে’জি’নে’স বেড়েই চলেছিল। তোমাকে দেখার জন্য ছ’ট’ফ’ট করতাম। ইচ্ছা করতো সারাক্ষন সামনে বসিয়ে রেখে দেখি। রাতে ঘুমাতে পারতাম না। তাই প্রায় রাতে লুকিয়ে চু’রি’য়ে তোমার রুমে ঢুকতাম।

হুর চোখ বড় বড় করে ফাইয়াজের দিকে তাকালো। তার আগেই স’ন্দে’হ হয়েছিল যে ওই লোকটা ফাইয়াজ হতে পারে। হুর ফাইয়াজের দিকে আঙ্গুল তা’ক করে বললো,

— তারমানে আপনি,, আপনি আমার রুমে ঢুকে আমার সাথে….!!!

ফাইয়াজ হুরের এক্সপ্রেশন দেখে হেসে ফেললো। বললো,

— হ্যা, আমি ছাড়া আর কে হবে। আমার পরীর আশেপাশে ঘে’ষা’র সাহস আর কারোর আছে নাকি! আর আমিও ঘে’ষ’তে দিতাম বুঝি হুঁহ। এখন হয়তো ভাবতে পারো তোমাদের গার্ড থাকতে আমি কিভাবে ভেতরে প্রবেশ করতাম আর তোমার বেলকনির ডোর লক করা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে প্রবেশ করতাম।

হুর জো’রে জো’রে মাথা না’ড়া’লো সে আসলেই জানতে চায়। হুর কে আরেক দ’ফা অবাক করে ফাইয়াজ বললো,

— তোমাদের বাড়ির গার্ড আমার ঠিক করা লোক ছিলো। তাই ঢুকতে কোনো সমস্যা হতো না। আর তারই সহায়তায় আমি তোমার রুমের আর তোমার বেলকনির ডোরের চাবি তৈরি করি। যার ফলে easily তোমার রুমে প্রবেশ করতে আর বের হতে পারতাম। ভেবেছিলাম সময় নিয়ে তোমাকে সব সত্যি জানিয়ে তারপর বিয়ে করবো। কিন্তু তা আর হলো কই। মোস্তফা ভাবে তার ছেলের মৃ’ত্যু’র সাথে তুমি জ’ড়ি’ত। তাই তোমার আর তোমার পরিবারের ক্ষ’তি করার চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু আমার লোকেদের কারণে সফল হতে পারে নি। তোমাকে সেফ রাখার জন্য তোমার আশেপাশে থাকাটা জরুরী ছিলো তাই বাবা বুদ্ধি করে আমাকে তোমাদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।

এক মাস পর আমি নিজের বাড়িতে চলে আসি। তারপর দীর্ঘ এক মাস আমি তোমাদের বাড়িতে আসি নি তবে এসেছিলাম সবার অ’গো’চ’রে। এই এক মাসেও তোমার উপর অনেকবার এ’টা’ক করা হয়। এই এক মাসে আমি মোস্তফার অনেক কু’কী’র্তি ফাঁ’স করাই। এই জন্য তার কাছ থেকে তার পদ ছি’নি’য়ে নেয়া হয় যেটা আমার বাবার ছিলো। তার বিজনেস ডু’বে যায়। আমি চেয়েছিলাম ওর সব কিছু ছি’নি’য়ে ওকে পথের ভি’কি’রি বানাতে। তারপর ওকে মা’র’তে। সব কিছু হারিয়ে আরও হিং’স্র হয়ে ওঠে মোস্তফা। কোনোভাবে জানতে পেরে যায় আমিই তার ছেলেকে মে’রে’ছি আর তার সব ক্ষ’তি’র পেছনে আমিই রয়েছি। আমার উ’ই’ক’নে’স যে তুমি এটাও জেনে গিয়েছিলো সে। তাই তখন তোমাকে এতো তা’ড়াহু’ড়োয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেই। কারণ আমাকে হা’রা’নো’র জন্য তোমাকে অ’স্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো মোস্তফা। তবে সে এটা জানতো না আমি সেই ফারাজ শিকদারের ছেলে। ভেবেছিলো তোমাকে ভালোবাসি বলে এসব করেছি। তারপর তো সব জানোই।

ফাইয়াজ হুরের চোঁখে চোখ রেখে বললো,

— আমি ভেবেছিলাম তুমি আমার উপর বিশ্বাস রাখবে। আমাকে ভু’ল বুঝবেনা। কিন্তু আমি ভু’ল ছিলাম। তুমিও আমায় ভু’ল বুঝলে। এখন তো সব বলেই দিলাম। তারপরও যদি তোমার মনে হয় আমি যা করেছি ভু’ল করেছি তাহলে আর কিছু বলার নেই। তবে এতটুকু মাথায় রেখো তুমি কখনোই আমাকে ছে’ড়ে যেতে পারবেনা।

ফাইয়াজের যে অনেক অ’ভি’মা’ন হয়েছে তা বুঝতে পারলো হুর। ফাইয়াজ হুর কে ছেড়ে উঠতে চাইলেও হুর উঠতে দিলো না। ফাইয়াজকে শ’ক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। ফাইয়াজ ছা’ড়া’নো’র চেষ্টা করলে আরও শ’ক্ত করে ধ’রলো। কাঁ’দো কাঁ’দো স্বরে নাক টে’নে বললো,

— আমি সরি। আমি কখনোই চাই নি আপনাকে ভু’ল বুঝতে। কি,, কিন্তু আপনাকে চোঁখের সামনে খু’ন করতে দেখে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। আপনাকে অ’বিশ্বাস করতে বাধ্য হই।

ফাইয়াজ হুর কে ছা’ড়া’তে ছা’ড়া’তে অ’ভি’মা’নী কণ্ঠে বললো,

— যেই জন্যই করো করেছো তো। দেখি এবার ছাড়ো আমাকে। আমার কাজ আছে।

হুর ফাইয়াজ কে আঁ’ক’ড়ে ধ’রে রেখেই বললো,

— না ছাড়বো না। সরি বললাম তো। তারপরও রা’গ করে থাকবেন!

ফাইয়াজ তাও মানছে না দেখে কা’ন্না শুরু করে দিলো হুর। নাক টা’ন’তে টা’ন’তে বললো,

— আপনি আমাকে একটুও ভালোবাসেন না। নাহলে কি এমন করতে পারতেন! বললাম তো সরি। পা’নি’শ’মে’ন্ট দিতে চাইলে তাও দিতে পারেন। কিন্তু রা’গ করে থাকবেন না প্লিজ।

ফাইয়াজ কণ্ঠ গ’ম্ভী’র করে বললো,

— যা ইচ্ছা পা’নি’শ’মে’ন্ট দিতে পারি তাই তো!

হুর চোখ ছোটো ছোটো করে হুম বললো। সে আসলে বুঝার চেষ্টা করছে ফাইয়াজ কি পা’নিশ’মে’ন্ট দিবে আবার।

ফাইয়াজ নে’শা’লো দৃষ্টিতে হুরের দিকে তাকিয়ে আছে। হুরের কাছে ফাইয়াজের দৃষ্টি ঠিক লাগছে না। বুকটা ধ’ড়’ফ’ড় করছে। ফাইয়াজ হুরের মুখের কাছে নিজের মুখটা এগিয়ে আনতেই লা’ফি’য়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলো হুর। কিন্তু ফাইয়াজ হুরের কোমর চে’পে ধরে নিজের আরও নিকটে নিয়ে আসলো। কিছু একটা বলার প্রয়াস করলো হুর। কিন্তু বলতে পারলো না। তার পূর্বেই ফাইয়াজ হুরের অধর পল্লব নিজের দ’খ’লে নিয়ে নিলো।

———–

তিন বছর পর,

আজ ফাইয়াজ হুরের তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকী। দেখতে দেখতে তাদের বিবাহিত জীবনের তিনটা বছর পা’র হয়ে গেলো। ফাইয়াজের ক’ঠো’র পরিশ্রমে তাদের ব্যবসার আরও প্রসার ঘটেছে। হুরের অনার্স প্রায় শেষের দিকে। আর দুই মাস পর তার ফাইনাল এক্সাম। বিবাহিত লাইফ তার পড়াশোনায় মোটেও এ’ফে’ক্ট করেনি। বরং আগের তুলনায় তার রেজাল্ট এখন আরও ভালো। হবে নাই বা কেনো! ফাইয়াজ নিজেই তোহ হুর কে সারাক্ষণ পড়ার উপর রাখে। যাতে তার ফলাফল খা’রা’প না হয়।

বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বড় করে আয়োজন করা হয়েছে। অনেক মেহমান এসেছে বাড়িতে। হুরের বাবা মা ভাই সবাই আজকে এই বাড়িতেই থাকবে। লিয়াও তার হাসব্যান্ড কে নিয়ে এসেছে। লিয়ার বিয়ে মাহিমের সাথে হয়েছে প্রায় এক বছর হতে চললো। মাহিম জব পেয়েই লিয়ার বাড়িতে প্রস্তাব পাঠায়। ছেলে ভালো হওয়ায় আর লিয়ার পছন্দের হওয়ায় কেউ অ’ম’ত করে নি।

অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় নিজের রুমে চলে এসেছে হুর। অনেক মেহমানই চলে গেছে বাকিরাও যাচ্ছে। হুরের ভালো লাগছিলো না তাই সবাইকে বিদায় জানিয়ে রুমে চলে এসেছে।

বেলকনিতে এসেই মন ভালো হয়ে গেলো হুরের। ফাইয়াজ সবসময় তাকে ভিন্ন ধরণের গিফ্ট দেয়। এটা খুব ভালো লাগে হুরের। লক্ষ, কোটি টাকার গিফ্ট দেয় না বরং এক বাক্স খুশি দেয় যা নিয়ে সারা বছর আনন্দে থাকে সে। এই যেমন আজকে এক জোড়া বা’জ’রি’গ’র উপহার দিয়েছে। জোড়ার মধ্যে ছেলে পাখি টা ‘হুর’ উচ্চারণ করতে পারে আর মেয়ে পাখিটা ‘ফাইয়াজ’ উচ্চারণ করার চেষ্টা করছে কিন্তু নামটা ক’ঠি’ন হওয়ায় ‘ফাজ ফাজ’ করছে। হেসে ফেলে হুর। আর মিস্টার রুশো নতুনদের পেয়ে তাদের সাথে ভাব করার চেষ্টা করছে। তাদের খাঁচার পাশে গোল হয়ে বসে আছে। এই তিন বছরে বড়ো আর গো’লু’ম’লু হয়েছে সে। দেখলেই আদর আদর পায়।

হুরের চিন্তার মাঝে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ফাইয়াজ। হুরের ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিয়ে বললো,

— আমার গিফ্ট কই! আমি তোমাকে এতো কিউট উপহার দিলাম তুমি কিছু দিবে না??

হুর ফাইয়াজের দিকে ঘুরে তার গলা জড়িয়ে ধরলো। চোঁখের দিকে তাকিয়ে বললো,

— আজকে আপনাকে বেস্ট বেস্ট বেস্ট একটা গিফট দিবো।

ফাইয়াজ অবাক হয়ে তাকালো। বললো,

— জলদি দাও।

হুর নিজের মুখটা ফাইয়াজের মুখের আরেকটু কাছে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বললো,

— I’m pregnant… আপনি বাবা হতে চলেছেন ফাইয়াজ।

হুরের কথায় ফাইয়াজ কি রিঅ্যাকশন দিবে তাই ভুলে গেছে। চোখ ব’ড় ব’ড় করে তাকিয়ে রইলো হুরের পানে। হুট করে হুর কে শ’ক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। হুর নিজের কাঁধে পানির স্পর্শ পেয়ে বুঝতে পারলো ফাইয়াজ কাঁ’দ’ছে। তবে এ কা’ন্না আনন্দের। হুর নিজেও ফাইয়াজ কে শ’ক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। তাদের ঘরে নতুন মেহমান আসতে চলেছে। এর থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে! ফাইয়াজ হুর কে ছেড়ে কপালে চু’মু খেয়ে বললো,

— আ,, আমি বাবা হবো হুর! তাইনা! শোনো আজ থেকে আমার অফিস যাওয়া ব’ন্ধ। সারাক্ষণ তোমার সাথে সাথেই থাকবো দেখো। এক সেকেন্ডের জন্যও তোমায় একা ছাড়বো না। তোমার যা যা লাগবে আমাকে বলবে কিন্তু ঠিক আছে! আমি কালকেই আমাদের বেবির দরকারি সব নিয়ে আসবো। কালকেই।

ফাইয়াজ কে অ’স্থি’র হতে দেখে হেসে ফেললো হুর। আর তার হাসি মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলো ফাইয়াজ। হুর হাসতে হাসতেই বললো,

— আরে আপনি এতো অ’স্থি’র হচ্ছেন কেনো!এখনো কত্তো সময় বাকি। ধীরে ধীরে সব কেনা যাবে।

ফাইয়াজ হুরের কোমর জড়িয়ে ধরে গালে নাক ঘ’ষে বললো,

— না আমি কালকেই সব আনবো। সময় নেই একদম সময় নেই। কতো কিছু কিনতে হবে। তুমি কিন্তু এখন থেকে এক কদমও একা হাটবে না বলে দিলাম।

হুর আবার হেসে বললো,

— আচ্ছা আচ্ছা। ঠিক আছে।

——-

রাত আড়াইটা। দোলনায় ফাইয়াজের কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে হুর। তার এখন ৭ মাস চলছে। মুড সু’ইং হতেই থাকে। এই যেমন এখন। ঘুম আসছে না তাই ফাইয়াজ কে নিজের সাথে নিয়ে বসে আছে। চোখ তার আকাশে আবদ্ধ। আর ফাইয়াজের চোখ তার প্রিয়সীতে আবদ্ধ। এতো দেখেও কখনো বি’র’ক্তি কাজ করেনা ফাইয়াজের। হুর হুট নিজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে ফাইয়াজের দিকে তাকিয়ে বললো,

— এতো কি দেখেন। আমি জানি আমি এখন অনেক মো’টু হয়ে গেছি আমাকে আর সুন্দর লাগে না। তাই বলে এতো পর্যবেক্ষণ করতে হবে!

ফাইয়াজ হুরের গালে টু’প করে একটা চু’মু খেয়ে বললো,

— মো’টু হয়ে গেছো তা তো ঠিক, কিন্তু সুন্দর লাগে না এটা ভু’ল কথা। তোমার গালজোড়া যে ফু’লো ফু’লো হয়েছে এটা দেখে আমার কি করতে মন চায় জানো!

হুর কৌতূহলী দৃষ্টিতে মাথা নাড়ালো। সে জানতে চায়। ফাইয়াজ হুরের গালে পুনরায় একটা চু’মু খেয়ে বললো,

— সারাদিন টু’প’টা’প চু’মু খেতে মন চায় এতো সুন্দর লাগে। উফঃ পুরাই আ’গু’ন।

ফাইয়াজের এক্সপ্রেশনে খিলখিল করে হাসতে লাগলো হুর। আর ফাইয়াজ মন ভরে দেখতে লাগলো। হুর ফাইয়াজের কাঁধে পুনরায় মাথা রেখে বললো,

— ফাইয়াজ একটা গান শোনাবেন?

ফাইয়াজ একটু ভাব নিয়ে বললো,

— হ্যা শোনানো যায়। আমার গান শুনিয়ে তোমাকে ধন্য করি।

গান ধরলো ফাইয়াজ~

🎶ঠিক এমন এভাবে
তুই থেকে যা স্বভাবে
আমি বুঝেছি ক্ষ’তি নেই
আর তুই ছাড়া গতি নেই
ছুঁয়ে দে আঙুল
ফুঁটে যাবে ফুল, ভিজে যাবে গা
কথা দেয়া থাক
গে’লে যাবি চোখের বাইরে না
ছুঁয়ে দে আঙুল
ফুঁটে যাবে ফুল, ভিজে যাবে গা
কথা দেয়া থাক
গে’লে যাবি চোখের বাইরে না

তোরই মতো কোনও একটা কেউ
কথা দিয়ে যায়, ছা’য়া হয়ে যায়
তোরই মতো কোনও একটা ঢেউ
ভা’সি’য়ে আমায় দূরে নিয়ে যায়
ছুঁয়ে দে আঙুল
ফুটে যাবে ফুল, ভিজে যাবে গা
কথা দেয়া থাক
গে’লে যাবি চোখের বাইরে না
ছুঁয়ে দে আঙুল
ফুঁটে যাবে ফুল ভিজে যাবে গা
কথা দেয়া থাক
গে’লে যাবি চোখের বাইরে না

~এখান থেকেই হয়তো তাদের জীবনের নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা হবে। ভালো থাকুক প্রতিটি ভালোবাসা। ভালো থাকুক ফাইয়াজ-হুর জুটি।🥀🥀

~সমাপ্ত~

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ