Saturday, June 6, 2026







কাঁচের সংসার পর্ব-০৪

#কাঁচের_সংসার
#নাজমুন_বৃষ্টি
#পর্ব_৪

নিস্তব্ধ রাত। চারদিকে শান্ত, নির্জীব। দূরে কোথায় জানি কিছু সময় পর পর থেমে থেমে শেয়ালের হাক ভেসে আসছে। আরোহী রুমের জানালা খুলে গাঢ় আঁধারের দিকে তাকিয়ে আছে। আজ পূর্ণিমা, চারদিকে চাঁদের কী সুন্দর আলো! একদম সব স্পষ্ট। দূরের গাছের ডালটা হঠাৎ করেই নড়ে উঠল। হয়ত কোনো রাতের পাখি উড়ে নিজের নীড়ে ফিরছে। আরোহী সেদিকে নিবিড় দৃষ্টিতে তাকালো। পাখিটারও হয়ত আরোহীর মতো মন খারাপ! তাই বোধহয় প্রিয়জনের কাছ থেকে এতক্ষন দূরে ছিল, শেষ পর্যন্ত আর না পারতে নীড়ে ফিরছে।
আরোহী নিজের ভাবনা দেখে হাসলো। তার মন খারাপ বলে আরেকটা প্রাণীরও মন খারাপ হবে না-কি! পাখির মন খারাপ হবে কেন! হয়ত সে খাবারের খোঁজে বেরিয়েছিল, অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার ফলে রাত হয়ে গিয়েছে।
সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ভোর হওয়ার অপেক্ষায় আছে । ভোর হলেই এই বাসা থেকে চিরতরে বেরিয়ে পড়বে। একা একটি মেয়ে মানুষ তাই এই গভীর রাতে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছে না। হাজার হলেও এই শহরে অনেক মুখোশ পরিহিত মানুষের ভিড়ে আরোহী কোনোদিনও নিজেকে সপে দিবে না।

আরোহী জানালা বন্ধ করে এগিয়ে এলো রুমের দিকে। টেবিলের উপর ডিভোর্সের কাগজটা জ্বলজ্বল করছে। মনে হচ্ছে যেন সেটা আরোহীর দিকে তাকিয়ে আরোহীকেই উপহাস করে হাসছে।

আরোহী মেঝেতে বসে কাগজটা হাতে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। একটা সাইনের বিনিময়ে একটা পবিত্র সম্পর্ক গঠন হয় তেমনি একটা সাইনের মাধ্যমেই একটা সম্পর্ক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়।

এই ডিভোর্সের কাগজটার ব্যাপারে হয়ত আরিয়ান জানে না। কাল সকালে আরিয়ান বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষন পর স্নেহা আর লুৎফা বেগম এই কাগজটা আরোহীর দিকে ছুঁড়ে মেরে বলেছিল যাতে সে খুব দ্রুতই সাইন করে আরিয়ান ফেরার আগেই এই বাড়ি থেকে বিদায় নেয়।
লুৎফা বেগম গত একমাস ধরে আরিয়ানের বিয়ে নিয়ে মেতে উঠেছিল। তিনি জানতেন, আরিয়ান হয়ত কোনোদিনও আরোহীকে ডিভোর্স দিবে না কারণ আরোহীর যাওয়ার স্থান নেই কিন্তু লুৎফা বেগম আর স্নেহার এতো কিছু দেখার সময় নেই । তারা আরিয়ান আসার আগেই এই বোঝাটাকে বিদায় করতে পারলেই হলো। হয়ত স্নেহা বিয়ের একমাস আগে থেকে লুৎফা বেগমকে কান-পড়া দিয়েছিলো যে আরোহী থাকলে তারা সুখে সংসার করতে পারবে না আর আরিয়ান হয়ত আরোহীর অসহায়ত্ব দেখে ভুলেও ডিভোর্স দিতে চাইবে না। তাই দুইজনে লুকিয়ে ডিভোর্স পেপার বানিয়েছে আর তা সফল হতে যাচ্ছেও।

আরোহী আর কিছু না ভেবে খুব দ্রুতই সাইন করে দিল। একটা পেপারওয়েট এর সাহায্যে ডিভোর্স পেপারটা টেবিলে চাপা দিয়ে রাখলো। যাতে দরজা খুলতেই সবার আগে ডিভোর্স পেপারটা চোখে পড়ে।

আরোহী উঠে দাঁড়ালো। সময় হয়েছে তার হারিয়ে যাওয়ার। সবাই যে যার রুমে শান্তির ঘুম দিচ্ছে, শুধু আরোহীরই চোখে ঘুম নেই।
আরোহী এসে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে পড়লো ভোর ফোটার অপেক্ষায়। হাঁটুমুড়ে মাথা গুঁজে অনেকটা সময় বসেছিল। চারদিকে থেকে পাখির কিচির-মিচির ডাক ভেসে আসতেই সে উঠে পড়লো।

আলমারি খুলে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিল। সাথে আর কিছুই নিল না। কী নিবে! এই সংসারের কিছুই তো তার নয়। সবকিছুই তো আরিয়ান বিয়ের পর একটার পর একটা কিনে দিয়েছিল। শুধু পরনের শাড়িটা আর আশ্রমে যতটুক পড়েছিল উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যন্ত সার্টিফিকেটগুলো বাদে সে আর কিছুই নিল না। হাতে কিছু টাকা ছিল সেগুলোই নিল। এগুলো বিয়ের পর পর আরোহী আরিয়ানের কাছ থেকে কিছু কিনে দেওয়ার বায়না ধরলে তখন আরিয়ান কিছু টাকা গুঁজে দিতো যে আরোহী যেন নিজে কিনে নিয়ে আসে। জিনিস কেনার পর যেগুলো ফেরত পেতো সেসব আর আরিয়ান নিতো না। তখন আরোহী বলতো,
‘আরে!আমি টাকা দিয়ে কী করবো! আমার সবকিছুই তো তুমি আনো বা দেখা-শোনা করো! আমার স্বামী আছে না!’

তখন আরিয়ান হাসি-মুখে এগিয়ে এসে আরোহীর মুখ তার দুইহাতে আবদ্ধ করে বলতো,

‘কেউ একজন জানি একটা কথা বলেছিলেন যে ‘অতি সুন্দরীরা বোকা হয়’। আমিও প্রমান পেলাম তোমাকে।’
তখন আরোহী মুখ ফুলিয়ে রাখতো। আর আরিয়ান হেসে বলতো,
‘প্রত্যেক মেয়েদের উচিত দিন শেষে স্বামীর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে অন্তত সবচেয়ে ছোট এমাউন্ট হলেও জমিয়ে রাখা। আর স্বামী না দিলেও নিজে আদায় করা। এগুলোই পরে বিপদের সময় কাজে আসে। স্ত্রী জাতিরাই টাকা বেঁধে রাখতে পারে কিন্তু তোমার অন্যদের মতো অতো বুদ্ধি-সুদ্দি নাই। তুমি টাকা হাতের লাগালে পেয়েও কাজে লাগাতে জানছ না। সাধে কী আর বোকা বলি!’

সেদিনের দৃশ্যটা চোখের উপর ভাসতেই আরোহী ঝাপসা চোখে হেসে দিল। সেদিন আরিয়ানের কথাগুলি আরোহীর মনে গেঁথে গিয়েছিল। সে সেদিন মুগ্ধ হয়েছিল আরিয়ানের ভাবনা দেখে। এরপরও অবশ্য আরোহীর টাকা খুঁজতে হতো না। দিন শেষে আরিয়ান অফিস করে ফিরতেই কিছু টাকা আরোহীর হাতে গুঁজে দিলে আরোহী বলতো,’মাত্র এই টাকা দিয়ে কী করা যাবে!’
তখন আরিয়ান মুচকি হেসে বলতো,’বিপদের সময় দেখো এই টাকাগুলোই জমে বৃহৎ আঁকার ধারণ করে কিভাবে আমাদের সাহায্য করবে! বিপদ তো আর বলে-কয়ে আসে না।’

আরিয়ানের কথায় ঠিক হলো। এখন এসবই আরোহীর মুল সম্পদ। কিন্তু এই বিপদ শুধুমাত্র আরোহীর একার। আরোহী দরজার দিকে এগিয়ে থেমে গেল। শেষবারের মতো তার নিজ হাতে সাজিয়ে তোলা সংসারটা দেখে নিচ্ছে। তার নিজের রুমটা একটু দেখার ইচ্ছে ছিল কিন্তু স্নেহা দরজা আটকে দিয়েছে। সে অপলক দৃষ্টিতে রুমের দরজাটার দিকে তাকিয়ে মনের আশা পূর্ণ করে নিল। আরোহী চোখ মুছে নিজেকে শক্ত করলো। এই বাড়ির দিকে সে আর তাকাবে না। যতই তাকাবে ততই মায়া বাড়বে। মায়া জিনিসটা বড়োই খারাপ। আরোহী আর কিছু না ভেবে সামনের দিকে অগ্রসর হলো। দরজা পেরিয়ে পা অগ্রসর হতেই না চাইতেও বিয়ের প্রথম সে আর আরিয়ান ঢোকার মুহূর্তটা মনে পড়ে গেল। সেদিন আরোহী ভয়ে ভয়ে পা ঢোকাতে না চাইলে আরিয়ান তার ডান হাত মুঠো পুরে নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিল কিন্তু এক বছরের ব্যাবধানে সব শেষ।

আরোহী ঝাপসা দৃষ্টিতে বাড়িটির দিকে তাকিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালো। আর দেখবে না এই বাড়ির দিকে। যতবারই দেখবে ততবারই কোনো না কোনো দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠবে। সে চোখ মুছে মেইন রাস্তার দিকে এগিয়ে গেল। জিদের বশে তো বেরিয়ে গিয়েছে, এখন কোথায় যাবে ভেবে পাচ্ছে না। ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। কাল সারাদিন পেটে কোনো কিছুই পড়েনি যার ফলে মাথাটা তীব্র ব্যথা করছে, খিদের চোটে হাঁটতেও পারছে না। সে খাইনি তা না, খাবার দেয়নি। লুৎফা বেগম আর স্নেহা মনে করেছিল, আরিয়ান থাকতে বলেছে বিধায় আরোহী থেকে যাবে তাই তো তিনি আরোহীকে সারাদিন গাধার মতো খাঁটিয়েও কোনো খাবার দেয়নি যাতে আরোহী শেষমেষ এই বাড়ি থেকে বিদায় নেয়।
আরোহী মনে মনে হাসলো। সে তো লুৎফা বেগমকে শাশুড়ির চোখে না তাকিয়ে মায়ের দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল কিন্তু উনি কেন বউ না ভেবে মেয়ে ভাবতে পারলো না!

মেইন রাস্তায় উঠতেই আরোহীর মাথা গুলাতে শুরু করলো। পেট গুলিয়ে বমি পাচ্ছে। ক্ষিদেয় পেট চৌ চৌ করছে। এখন মনে হচ্ছে এতো ভালো সেজে লাভ ছিল না, অন্তত বেরিয়ে আসার সময় হলেও রান্নাঘর থেকে কিছু খেয়ে নেওয়া উচিত ছিল। তখন তো লুৎফা বেগম আর স্নেহা ঘুমে ছিল যার ফলে ধরা খাওয়ার উপায় ছিল না।
পরে আরোহী নিজেকে নিজেই উপহাস করে হাসলো। ক্ষিদের চোটে চুরি করে খাওয়ার কথা মাথায় আসতে দুই দন্ড সময় লাগছে না।
আরোহী আরেকটু এগিয়ে গেল। দূরে একটা মুদির দোকান খুলেছে। আরোহী আশার আলো খুঁজে পেলো ভেবে অদূরের দোকানটির দিকে পা বাড়ালো।
রাস্তার মাঝে উঠতেই পেট গুলিয়ে বমি পেয়ে গেল। মাথা অসম্ভব ঘুরছে। হয়ত ক্ষিদের যন্ত্রনা আর সহ্য করতে পারছে না। ছোট বেলা থেকেই সে ক্ষিদের যন্ত্রনা সহ্য করতে পারতো না, মাথা ঘুরাতো। আজও ব্যতিক্রম হলো না। আরোহী এইতো কাছে ভেবে পা চালাতে নিতেই দূরে গাড়ির আলো এগিয়ে আসতে দেখা গেল। সে তার শক্তিতে সরে যাওয়ার অবকাশ আর পেল না। মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতেই ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখতে পেল গাড়িটা তারই দিকে দানবের মতো এগিয়ে আসছে।

#চলবে ইন-শা-আল্লাহ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ