Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"পাওয়া না পাওয়া সুখপাওয়া না পাওয়া সুখ পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব

পাওয়া না পাওয়া সুখ পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব

#পাওয়া_না_পাওয়া_সুখ
#লেখিকাঃজিন্নাত_চৌধুরী_হাবিবা
#অন্তিম_পর্ব

হাত পুড়ে যাওয়ায় দুপুরের খাবার সুফিয়ার হাতেই খেলো নীহা। রাতে বাঁধলো বিপত্তি। সুফিয়ার মাথা ব্যথা হচ্ছে বলে ঘুমিয়ে পড়লো। নাফিজের মা ডায়াবেটিস এর রোগী বলে ঘরে বসেই রুটি খেয়ে নিলেন। খাবার টেবিলে শুধু নাফিজকে দেখা যাচ্ছে। নীহা খাবারটা বেড়ে দিয়েই উঠে যাওয়া ধরলো। তাকে থামিয়ে দিলো নাফিজ।

-“আপনি খাচ্ছেন না কেনো?”

গমগমে স্বরে উত্তর আসলো,
-“ক্ষিধে নেই। আপনি খেয়ে নিন।”

হাত বাড়িয়ে হাতটি ছুঁয়ে দিলো নাফিজ। চকিত ভঙ্গিতে তাকালো নীহা। নাফিজ ইশারায় বোঝালো পাশের চেয়ারে বসতে। নীহা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল,

-“খাবো না আমি, ছাড়ুন।”

নাফিজ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,
-“খাবেন না, নাকি আমার হাতে খাবেন না। কোনটা?”

নীহা বিরক্ত হওয়ার ভান করে বলল,
-“বললামতো খাবোনা।”

নাফিজ ক্ষীণ হেসে বলল,
-“বসুন, কিছু কথা বলি।”

না চাইতেও পাশের চেয়ারে বসে পড়লো নীহা।
লম্বা শ্বাস ফেলে নাফিজ বলল,
-“অযথা রাগারাগি করে কি লাভ হবে? দুটো পরিবার কষ্ট পাবে। নতুন করে আপনার বাবা মায়ের চোখে শোকের ছায়া নামবে। আপনি সেদিনের ঘটনা নিয়েই রে’গে আছেন তাইনা? আচ্ছা আপনি কি দেখেছিলেন আমি বাহার ভাইকে বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দিয়েছি? দেখেননি। ছোট্ট পরিসরের জীবনটাকে উপভোগ করতে শিখুন। বিষাদে মুড়িয়ে নিজের সাথে চারপাশের মানুষদের ও ঝলসে দেবেননা। বেশি কিছু বলার নেই আমার। খাবারটা খেয়ে নিন। না খেয়ে শুয়ে পড়লে ঘুম হবেনা ভালো করে।”

এতক্ষণ খাবেনা বলেছে, এখন কিভাবে হা করে বসবে? নীহা ইতস্তত করে বলল,
-“আসলে খেতে ইচ্ছে করছেনা।”

নাফিজ কথা না বাড়িয়ে নীহার মুখে খাবারের লোকমা তুলে দিয়ে নিজেও এক লোকমা খাবার মুখে তুলে নিলো।
নীহা নির্নিমেষ চেয়ে রইলো। তার চাহনিতে কি ছিলো? বিস্ময় নাকি মুগ্ধতা?
ধীরস্থির ভাবে চুপচাপ দুজনেই খাবার শেষ করলো।
পাশাপাশি দুটি মানুষ শুয়ে আছে। নাফিজ স্বভাব সুলভ কপালে ডান হাত রেখেই চোখ বন্ধ করে রেখেছে। উসখুস করছে নীহা। কিছুতেই আজ চোখে ঘুম ধরা দিচ্ছে না। সে কি ভুল ধারণা নিয়ে ছিলো এতদিন? অভিমানের দেয়াল মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। ধ্বসে পড়ছে রাগ, ক্ষোভ এর পাহাড়। ধূলো জমা হৃদয়টা ঝকঝকে হয়ে উঠছে।

[১৩]
সময়ের সুর কা’টেনা। সে তো বয়ে চলে অবিরাম। তার কোনো ক্লান্তি নেই। সময়ের তালে তালে জীবন বদলায়। মানুষ কিছু পায় কিছু হারায়।
নাফিজের দায়িত্ব, ভালোবাসা গুলো একে একে চোখে ধরা দিচ্ছে। এতদিন কেনো চোখে পড়েনি? অভিমান বাঁধা হয়েছিলো বলে? তবে কোথায় গেলো অভিমান? ভেঙে গুড়িয়ে গেলো বুঝি ভালোবাসার পদতলে। দূর হয়েছে সমস্ত অহংকার, ক্ষোভ। তবুও কাছে যেতে কেনো এত লজ্জা? সকালেই অফিস যাওয়ার পূর্বে ললাট ভিজিয়ে দিতে চেয়েছিলো নাফিজ। নীহা লজ্জায় খানিক আড়ষ্ট হলো, আড়াল হলো দৃষ্টি সীমানার বাইরে। আজ খুব অভিমান জমলো নাফিজের মনে। সে আর কখনোই নিজ থেকে ধরা দেবেনা। চাইলেই কিন্তু সে ঝাপটে ধরতে পারে, হিং’স্র হতে পারে। বাঁধা দেওয়ার সাধ্য নীহার নেই। তবুও নিজের বিবেক সায় দিচ্ছেনা। দুজন মানুষের মনমালিন্য পরিবারের মানুষগুলোর মাঝেও যখন ছড়িয়ে পড়বে কোথায় লুকোবে তখন নাফিজ?
আজ আর অন্তঃকরণ রংবেরঙের প্রজাপতিরা ডানা ঝাপটালোনা। মুখ ঘুরিয়ে পালিয়ে বেড়ালো। লাল রঙা হৃদয়খানা বিবর্ণ হয়ে গেলো।

তরকারি কা’টায় মনযোগ দিয়েছে নীহা। মনযোগ তার নাফিজের মধ্যে। মনে মনে আফসোস করছে মানুষটাকে কেনো ফেরালো? আজ অন্তত একটু কাছে আসতে পারতো। উত্তপ্ত গরম শ্বাস ওঠানামা করছে। ভেতরটা উসখুস করছে।
ফেসবুক স্ক্রোল করছিলো সুফিয়া। দৌঁড়ে রান্নাঘর ঢুকে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
-“একটু আগে বাস দু’ঘটনায় অনেক মানুষ মা’রা গেছে। অনেকেই আহত হয়েছে।”

বুকটা তড়াক করে উঠলো নীহার। নাফিজও তো বাসেই যাতায়াত করে। নাফিজের মা চিন্তায় কথা বলতে পারছেননা। গলায় এসে শব্দগুলো জট পাকিয়ে যাচ্ছে। মুখ খুলে বলতে পারছেননা একবার কল করে দেখতে। নীহা তরকারি ফেলে দৌঁড়ে ঘরে গেলো। নাফিজের নাম্বারে ডায়াল করলো। একটি মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসছে,
-“দুঃখিত! আপনি যে নাম্বারটিতে কল করেছেন তা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। একটু পরে আবার ডায়াল করুন।”

বারবার কল করে একই বাক্য ভেসে আসছে। হাত থেকে ফোন পড়ে গেলো। শরীর বেয়ে দরদরিয়ে ঘাম ছুটলো। কাঁপা হাতে ফোন তুলে ছুটলো বসার রুমে।
নাফিজের মা কোনোভাবে জিজ্ঞেস করলেন,
-“নাফিজ ফোন ধরেছে?”

নীহা জড়ানো গলায় উত্তর দিলো,
-“ন না আম্মা।”

সুফিয়াকে বলল,
-“তোমার কাছে উনার অফিসের নাম্বার আছেনা। একটু নাম্বারটা দাও।”

সুফিয়া নাম্বার ঘেটে ও পাচ্ছে না। বিপ’দের সময় আতঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবকিছুই যেনো ওত পেতে থাকে। অনেক খোঁজার পর নাম্বারটা পেলো সুফিয়া। নীহা ঝটপট নাম্বার তুলে অফিসে কল দিলো। নিজের পরিচয় দিয়ে নাফিজের কথা জিজ্ঞেস করতেই তারা জানালো নাফিজ অফিসেই আসেনি। কল কে’টে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো নীহা। নাফিজের মা আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
-“কি হয়েছে মা?”

নীহা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। নাফিজের মা আর কিছুই শুনতে পেলেননা। প্রেশারটা মনে হয়ে বেড়ে গিয়েছে। রুদ্ধ হয়ে আসছে শ্বাস। বড় বড় শ্বাস টেনে সোফাতেই জ্ঞান হারালেন তিনি। এক ছেলে বুকে ছু’রি বসিয়ে বিদায় নিয়েছে। আর একটাই আল্লাহ তার ভাগ্যে রেখেছে। তবে সেও কি দ্বিতীয়বার আ’ঘাত করে বসলো?
সুফিয়া আর নীহার কান্নায় শুনে নিচতলা থেকে ভাড়াটিয়ারা উঠে আসলেন। এক্সি’ডেন্ট এর খবর তারাও শুনেছে। তাই নাফিজকে নিয়ে একটা ধারাণা করে নিলো সবাই। নাফিজের মায়ের কাছে দোতলার মহিলাটি আছেন বলে তার ছেলের সাথে নীহা আর সুফিয়াকে পাঠিয়ে দিলো হাসপাতালে। ছেলেটি দায়িত্ব নিয়ে নীহা আর সুফিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে পৌঁছালো। হাসপাতালে ঢুকতেই চারদিকে মানুষের আহাজারি শুনে দম আটকে আসলো নীহার। নিচে ফ্লোরে বসে একটি অল্প বয়সী মেয়ে পাগ’লের মতো বিলাপ করে যাচ্ছে। তার বিয়ে হয়েছে বেশিদিন হয়নি। এর মাঝেই স্বামীকে হারালো। নীহা আর পা চালাতে পারছেনা। শরীর ভর ছেড়ে দিলো। অজানা আতঙ্ক ভেতরে বাসা বাঁধালো। আরও একবার কি সে পরাজিত হবে? বারবার ভালোবাসা খুঁজতে গিয়ে মরিচীকার পেছনে ছুটেছে সে? যদি নাফিজ ও হারিয়ে যায়? ধপ করে হাসপাতালের নোংরা ফ্লোরে শরীর ছেড়ে দিলো নীহা। চোখের পানি বাঁধ মানছেনা। অনুভূতি শূন্য হয়ে পড়েছে। সুফিয়া আর ভাড়াটিয়া ছেলেটি সাথে সাথে বসে নীহাকে দুপাশ থেকে ধরলো।

সামনের করিডোর দিয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি করছে নাফিজ। এক্সি’ডেন্ট টি মা’রা’ত্মক ভাবে ঘটেছে। ভাগ্য সহায় ছিলো বলে সে অন্য বাসে ছিলো। দু’র্ঘটনা দেখে আর অফিস যায়নি। ছুটে আসলো মানুষগুলোকে সাহায্য করতে। ভীড়ের মাঝেই অনুভব করলো পেছনে হাত দিয়ে কেউ ফোনটা নিয়ে গিয়েছে। বিপ’দের সময় চো’ররা তক্কে তক্কে থাকে। ফোন চু’রি হওয়া সাথে হাসপাতালে দৌঁড়ঝাপের কারণে আর বাড়িতে ফোন করা হয়নি। করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ মনে হলো সুফিয়াকে দেখেছে। ছুটলো সেদিকে। সুফিয়া এখানে কেনো এসেছে? কারণ উদ্ধার করতে গিয়ে সেখানে নীহাকেও দেখতে পেলো। যা বোঝার বুঝে গেলো। নিশ্চয়ই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করে এখানে এসেছে। বউ, বোন দুজনের চোখমুখের করুণ অবস্থা দেখে মনে মনে খানিক হাসলো। নাফিজকে সামনে দেখে ঝরে পড়া শরীরখানা যেনো খানিক শক্তি পেলো। উঠে দাঁড়িয়ে নাফিজকে ধরে হাউমাউ করে কাঁদলো নীহা। এত জোরে চিৎকার করে কাঁদছে যে সব মানুষ উৎসুক হয়ে তাদের দিকেই তাকিয়ে রইলো।
ক্রন্দনরত গলায় নীহা বলল,
-“আমাকে মাফ করে দিন। আমাকে আর একা করবেনা। এতবার আর ধা’ক্কা নিতে পারবোনা আমি।”

নাফিজ একহাতে আগলে নিলো নীহাকে, অপর হাত বাড়িয়ে সুফিয়াকে জড়িয়ে ধরলো। দুজনেই কেঁদে কে’টে ওর শার্ট নষ্ট করে দিলো। এমনিতেও র’ক্ত লেগে শার্টের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিলোনা। মায়ের কথা শুনে তৎক্ষনাৎ বাড়ি ফিরলো নাফিজ।
জ্ঞান ফেরার পর নাফিজকে দেখে ঝাপিয়ে পড়লেন মা। যেনো এখনি বুকের খাঁচায় সন্তানকে বন্দি করবেন। ভ’য় কাটলো। আজ নিজের প্রতি পরিবারের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা দেখলো। প্রশান্তিতে বুক ভ’রে এলো নাফিজের।
এবার নীহা নিজ থেকেই কাছে ভীড়লো। দূরত্ব ঘুচলো। এক হলো দুটো হৃদয়, দুটো শরীর। ভালোবাসার সাক্ষী হলো প্রতিটি দেয়াল। সূচনা হলো নতুন অধ্যায়ের।

[১৪]
বছর ঘুরলো। নানার মৃ’ত্যু বার্ষিকীতে সবাই একত্রিত হলো। প্রেমার আর সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া হলোনা। নাফিজকে ভোলার চেষ্টায় নিজেই নিজের শরীরে কতবার আ’ঘা’ত করেছে। সেই সমস্ত তিক্ত আ’ঘাতের দাগ থেকে যাওয়ায় অনুমোদন পেলোনা প্রেমা। তখন আর পাবলিকে এডমিশন নেওয়ার সময় সুযোগ কোনটাই ছিলোনা। একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেলো। আজ সবাই নানার বাড়ী এসেছে। অন্তিক ও দুদিনের ছুটি নিয়ে ছুটে এসেছে। নীহা, নাফিজ সবাই এসেছে। নীহা নাফিজের সুখী পরিবার। অভীকের সাথে আলাপ জুড়ে দিয়ে প্রেমা সরু রাস্তা ধরে হাঁটলো। যোগ দিলো অন্তিক। ভাইয়ের ইশারায় কথা কা’টিয়ে কে’টে পড়লো অভীক। একটা বাঁশের তৈরি মাচায় বসলো অন্তিক, প্রেমা।

বাতাসের শুনশান শব্দ আর সাথে দুজন মানুষের মধ্যে নিরবতা। নিরবতায় সুর কা’টলো অন্তিক।
-“পড়ালেখা কেমন চলছে?”

-“ভালো।”

-“প্রেম?”

শব্দ করেই হাসলো প্রেমা।
-“সেসবে আমার আগ্রহ নেই।”

অন্তিক আড়চোখে তাকিয়ে বলল,
-“তাহলে বিয়ে করে ফেল। আশেপাশে কত ছেলে আছে।”

প্রেমার হাসি চওড়া হলো। অন্তিকের দিকে মুখ করে তাকালো।
-“জানো তো অন্তিক ভাইয়া আমি না একটা মানুষকে বড্ড চেয়েছিলাম। কিন্তু নিয়তি তাকে আমার করলোনা। আজীবন ভর তাকে আমি মনে জায়গা দিয়ে রাখবো। তার পরে এখন আর কাউকে চাইতে ইচ্ছে করেনা।”

গলা ধরে আসলো অন্তিকের। গতবছর যখন প্রেমা তাদের বাড়ি গেলো তখন থেকেই প্রেমার প্রতি আলাদা কিছু অনুভব করলো। ম্লান হেসে বলল,
-“তাকে নিজের করে নিতি।”

আবারও হাসলো নীহা।
-“সম্ভব না। আমি কে’ড়ে নিয়ে সুখী হতে চাইনা। তাকে না পেয়ে ও আমি সুখ সুখ অনুভব করি। যখন দেখি সে তার স্ত্রীকে কতইনা ভালোবাসে। তখন বিষাদ যন্ত্রণায় আছড়ে পড়ি। তবে বিশ্বাস করো আমি তার ভালোবাসাকে হিং’সা করতে পারিনা। তার ভালোবাসা দেখলে পুড়ে ছাঁই হই, তার ভালোবাসার মানুষের দিকে তাকালে একবুক শান্তিতে দম ফেলি। তখন আমার মনে হয় বিষাদ আছে বলেই দুনিয়াতে সুখের এত কদর।”

প্রেমার টলমলে চোখজোড়া ঘোলাটে হয়ে আসলো। মাচা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। সরু রাস্তায় পা বাড়ালো। অন্তিক নির্নিমেষ চেয়ে রইলো প্রেমার যাত্রা পথে। গাল জোড়া ভিজে উঠলো তার। ওহ পুরুষের কাঁদতে মানা। দীর্ঘশ্বাসে দুমড়েমুচড়ে ফেললো সকল অনুভূতি।

হাঁটতে হাঁটতেই পাওয়া না পাওয়ার খাতা খুলে বসলো প্রেমা। বাবাকে দিয়েই শুরু করলো। মানুষটা ছোটবেলা থেকে সুখ পায়নি। অল্প বয়সে বাবা মা’রা যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে বেরিয়ে পড়ে। শেষ বয়সে এসে একটু সুখের দেখা পেলো। বাবার সংসারে এসে মা ও অনেক কষ্ট করলো। এরপর বড় আপু। সবাই বলে সে একটা পা’ষাণ। বাবার বাড়ী আসেনা তেমন। কিভাবে থাকে? বাইরের গল্প সবাই জানে। ভেতরটা কজনে জানে? স্বামী সংসার থেকেই তাকে শিকলে আটকে রেখেছে। তাদের অবাধ্য হলেই শুরু হয় সংসারে অ’শান্তি। তাই সংসার বাঁচিয়েই চলে সে। বাবার ঘাড়ে এসে উঠে কদিন খাবে? এর আগেই সমাজ তাকে খাবে। তারপর আসলো মেজো আপু, নীহা। কৈশোরে প্রেম হারালো। যৌবনে স্বামী হারালো। শেষে এসে একমুঠো সুখের ভাগীদার হলো। আল্লাহ কবে কখন কার দ্বারা কাকে সুখী করেন সেটা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেননা। সর্বশেষে নিজের খাতাটা খুললো।
পঞ্চম শ্রেণীতে যখন আশানুরূপ ফল পেলোনা তখন মনে হয়েছিলো সে বড়ই অভাগী মেয়ে। যখন আশেপাশে চোখ রাখলো, তারই এক সহপাঠী খা’রা’প রেজাল্ট করলো।
তাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য বাবা ছিলো কিন্তু মেয়েটির বাবা নামক বটগাছের ছায়া ছিলোনা। তখন মনে হয়েছে না আমিই সবচেয়ে সুখী মেয়ে। যে একসাথে বাবা মা দুজনের ভালোবাসা পেয়েছে। কজনের এমন ভাগ্য হয়? তারপর জীবনে প্রেম আসে। তাকে পাওয়া হলোনা। হয়তো তার জন্য আরও উত্তম কিছু অপেক্ষা করছে।

-“তোমারে পেয়ে গেলে সুখের যন্ত্রণায় আমার আর বাঁচা হইতো না।”
কথাটি বলেই তাচ্ছিল্য হাসলো প্রেমা।
আঙ্গুর ফল টক। নাফিজকে না পেয়ে নিজেকে বুঝ দিচ্ছে।
আমরা মানুষরা বড্ড লোভী। একজীবনে শুধু সুখ খুঁজে বেড়াই। কেউ দুঃখের খোঁজ করেনা। তাইতো দুঃখ নিজে এসে ধরা দেয়। একজীবনে মানুষ সবকিছু পায় না। কিছু পেতে হলে কিছু হারাতে হয়। আকাশে দৃষ্টি রেখে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে,

-“হে পৃথিবী শুনছো তুমি? আমি সুখী। জীবনের কিছু সুখ পাওয়া না পাওয়ার খাতায় লিখে দিলাম। না পাওয়াতে ও চরম সুখ পাওয়া যায়। বিষাদ যন্ত্রনায় ছটফট করেও চরম সুখ অনুভব করা যায়। আমি প্রেমা সেটা প্রমাণ করে দিয়ে গেলাম।”

আমরা জলফড়িং এর মতো সুখের পেছনে ছুটে বেড়াই। আপনার সুখী হওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন আল্লাহ ততটুকুই আপনাকে দেবে। এর বেশি নয়। কিছু জিনিস না পাওয়ার খাতায় জমা থাকে। হয়তো সেগুলো আমাদের জন্য মঙ্গলকর নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দাকে শ্রেষ্ঠ টা দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। তিনিই ভালো বুঝেন কোনটায় বান্দার সুখ নিহিত।

#সমাপ্ত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ