Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"হৃদপূর্ণিমাহৃদপূর্ণিমা পর্ব-২৮ এবং শেষ পর্ব

হৃদপূর্ণিমা পর্ব-২৮ এবং শেষ পর্ব

#হৃদপূর্ণিমা
লাবিবা_ওয়াহিদ
| শেষাংশ |

রথি ঘঁষে ঘঁষে পুরো মুখের হলুদ ওঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পূর্বেই নাশিদ ওকে বাইরে ডেকে নিয়ে হলুদ ভূতে পরিণত করে দিয়েছে। এদিকে রথির অবস্থা দেখে রথির মামাতো বোন স্পৃহা হেসে লুটিপুটি খাচ্ছে। রথি আয়নার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে অগ্নিময় দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো স্পৃহার দিকে। মেয়েটা কখন থেকে হেসেই চলেছে। ইচ্ছে তো করছে ঝাটা দিয়ে রুম থেকে বের করতে। রথি ফোঁসফাঁস করতে করতে ওয়াশরুমে ঢুকে পরে।
শাওয়ার সেরে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখে স্পৃহা গালে দুই হাত দিয়ে আসমান-জমিন ভাবতে ব্যস্ত। রথির উপস্থিতি টের পেতেই স্পৃহা হেসে বলতে লাগলো,

-‘তুই কতো লাকি রে ইয়ার! তোর ওই খালি হাত দুটোতে জিজা মেহেন্দি দিয়ে দিবে। ইশ! আমার যদি এমন একটা বর হতো যে ঠিক নাশিদ ভাইয়ের মতো জোর দিয়ে বলবে “আমার বউকে আমি-ই মেহেন্দি পরিয়ে দিবো!” হায়! কী রোমান্টিক!’

-‘ঠেঙ্গিয়ে ঘর থেকে বের করবো তোকে। মজা নিচ্ছিস আমার সাথে?’

-‘প্লিজ ইয়ার! মজা কেন নিবো? ফিলিংস জানালাম, ফিলিংস!’

রথি প্রতিত্তোরে কিছু বললো না। তার মাথায় তো এক চিন্তাই ঘুরঘুর করছে, নাশিদ তো পুলিশ, সে তো আজীবন শুধু চোরের পিছেই দৌড়িয়েছে, সে আবার কেমন মেহেন্দি দিবে? আজব! তাও মুহূর্তেই সুপ্ত অনুভূতি তার সর্বাঙ্গে তীব্র শিহরণ খেলিয়ে দিলো।

স্পৃহা রথির পাশেই ঘুমাচ্ছে আর রথি তার ফোনে হলুদের ছবিগুলো দেখছে। সারাদিন মার্জানের বাসায় কাটিয়ে বিকালে বাসায় ফেরে তারা। মার্জানও এসেছে। এখন মার্জান অনেকটা অনুতপ্ত। আগের মতো রুদ্ধদ্বার অবস্থা তার নেই। তাকে নিয়েই ঘরোয়াভাবে হলুদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সাইফ চেয়েছিলো বোনের ধুমকধাম করে বিয়ে দিতে। কিন্তু রথি নাকোচ করে দেয়। তার এত মানুষের গিজগিজ একদমই পছন্দ না। রথিকে অনেকবার বোঝানো হয়েছে কিন্তু তার হলুদের অনুষ্ঠান ঘরোয়া ভাবেই হতে হবে। তার জেদে বেশি কিছু করতেও পারেনি। ওদিক দিয়ে নাশিদের হলুদের অনুষ্ঠান বড় করেই হয়। বিয়েটা ঘরোয়াভাবে হলেও তারা রিসিপশন বড়ো করেই করবে। রথি রিসিপশন নিয়ে মাথা ঘামায় না।
রথির ভাবনার মাঝেই নাশিদের কল আসে। রথি কাঁপা হাতে রিসিভ করে ফোন কানে ধরলো।

-‘ইশ বউ! আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে কাল আমি একা নই আমার বুকের উপর তোমার মাথা থাকবে। আমি তোমায় নিয়ে ঘুমাবো!’

-‘এসব স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেন। আমাকে তো হলুদ দিয়ে ভূত বানিয়ে দিয়ে গেছেন!’

-‘আহা আমার রাগী বউতাহ। তোমার এই হলুদের সাজে আমার তোমায় খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছিলো। আমি তো সামান্য হলুদ মাখিয়েছি, খেয়ে ফেললে সহ্য করতে পারতে?’

-‘এসব কথা রাখেন তো! যত্তোসব লাগামহীন কথাবার্তা। আর কোনো কাজ নেই? ঘুমান তো, আমিও ঘুমাবো!’

-‘ভাগিয়ে দিচ্ছো তো? ওকে জাস্ট ওয়েটিং ফর আওয়ার ওয়েডিং নাইট।’

রথি কিছু না বলেই খট করে কল কেটে দেয়। কিছুক্ষণ পর নাশিদ আবারও মেসেজ করলো,

-‘আগামীকাল শুধে-আসলে সব শোধ নিবো!’

রথি হেসে মেসেজটার দিকে তাকিয়ে থাকে। সে আর রিপ্লাই করেনি। নাশিদের এই ছোট ছোট পাগলামি গুলোই রথিকে খুশি করতে যথেষ্ট।

বঁধূরূপে নিজের ঘরে বসে ফোঁপাচ্ছে রথি। কিছুক্ষণ আগেই কাজীসাহেব বিয়ে পড়িয়ে গেলো। এখন আপাতত রথি ব্যতীত এই ঘরে কেউ নেই। সকাল থেকে বুকটা তার ফেঁটে যাচ্ছে শূন্যতায়। তিন কবুল বলেই সারাজীবনের জন্য বাবার বাড়িতে মেহমান হয়ে গেলো। মা সকাল থেকেই আড়ালে আঁচলে মুখ গুঁজে নিঃশব্দে কাঁদছে। ছোট মেয়েটা আজ এতোই বড় হয়ে গেলো, এ যেন বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে তার। স্পৃহা নাফিসাকে নিয়ে রথির ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,

-‘বুঝলি রথি, ছবির চেয়েও আমাদের জিজা আরও কিউট। তুই না থাকলে আমি-ই ওনার সাথে লাইন মারতাম…’

বাকি কথা বলার আগেই স্পৃহা খেয়াল করলো রথি বারংবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছছে। নাফিসা রবং স্পৃহা একে অপরের দিকে তাকিয়ে দ্রুত রথির কাছে গেলো এবং রথিকে বোঝাতে লাগলো। কিন্তু রথির কান্না থামা তো দূরে আরও বেড়ে গেলো। তাতান রথির রুমে এসে রথিকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো,

-‘কাঁদছো কেন ফুপি? আম্মু তো চলে এসেছে! দেখো আমি কাঁদি না, তুমিও কেঁদো না ফুপি!’

রথি অনেক কষ্টে নিজের কান্না চেপে রাখলো। স্পৃহা সাবধানে রথির অশ্রুগুলো মুছে দেয়। স্পৃহা রথির চোখ মুছে দেয়ার সময় বিচলিত হয়ে বলে,

-‘এভাবে কাঁদিস না বইন, মেকাপ লেপ্টে গেছে অলরেডি। জিজা তোরে দেখলে পেত্নী ভেবে আগেই পালাবে!’

স্পৃহার কথায় রথির কান্নার মাঝেই ফিক করে হেসে দেয়। খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ হতেই বিদায়ের পালা আসে। রথি কান্নাকাটির একপর্যায়ে যখন গাড়িতে উঠবে তখনই মার্জান আসে। মার্জান অশ্রুসিক্ত নয়নে রথির গালে হাত দিয়ে বলে,

-‘অনেক পাপ করেছি বোন। পারলে এই পাপীকে ক্ষমা করে দিস!’

-‘ক্ষমা করেছি অনেক আগেই। এই বিদায়ের সময় অন্তত ক্ষমা চেয়ে আমায় ছোট করো না!’
বলেই রথি ডুকরে কেঁদে মার্জানকে জড়িয়ে ধরলো।

এক ঘন্টা হয়ে গেলো। রথির ঘুমে অবস্থা ঢুলুঢুলু। কই একটু শান্তিতে ঘুমাবে তা না নাশিদের পাগলামি বেড়েই চলেছে। এক ঘন্টা লাগিয়ে তাকে মেহেদী দিয়ে যাচ্ছে যার কোনো আগাও নাই মাথাও নাই। ভাব এমন যেন প্রফেশনাল মেহেন্দি ডিজাইনার। রথি হাত সরাতে নিলে নাশিদ এমন ধমক দেয়, সেইই ধমকে রথি চুপসে যেতে বাধ্য। মনের মতো মেহেন্দির ঝাল মিটিয়ে তবেই খান্ত হলো নাশিদ। রথি অসহায় দৃষ্টিতে একবার হাতের দিকে তো আরেকবার নাশিদের দিকে। নাশিদ মুখটা বাচ্চাদের মতোন করে মৃদ্যু স্বরে বলে,

-‘জানি পচা হয়েছে। তবে আমার কোনো দোষ নেই, এই টিউবটার দোষ! সহজে বেরই হয় না। এতো যুদ্ধ করতে হয়, উফফ!’

রথি বিছানা থেকে নামতে নিতেই নাশিদ থামালো।

-‘কোথায় যাচ্ছো?’

-‘হাত ধুঁতে!’

-‘এই না! কম করে হলেও এক ঘন্টা রাখবা!’

রথি আবারও অসহায় দৃষ্টিপাত নিক্ষেপ করলো। তার ইচ্ছে করছে এই মেহেন্দিটা নাশিদের দু’গালে ভালো করে লাগিয়ে দিতে৷ এসব টর্চারের কোনো মানে হয়? রথি গাল ফুলিয়ে ওভাবেই বসে রইলো। নাশিদ কিছুক্ষণ তাকে দেখছে তো কিছুক্ষণ রথির হাতে ফুঁ দিচ্ছে। এসব করতে করতেই ফজরের আযান দিয়ে দেয়। দুজন একসঙ্গে নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে যায়।

সকালে ব্রেকফাস্ট সেরেই রথি নাফিসাকে নিয়ে উঠে আসলো। নিচে ছেলেরাসহ মেহমানরা নানান কাজে ব্যস্ত৷ আজ রিসিপশন, এই ফার্মহাউজের পিছের বাগানেই বিরাট করে অনুষ্ঠান হবে। আত্নীয়-স্বজনে বাড়ি পুরো গিজগিজ করছে। মনিকা ওদের বাড়ি আসেনি। সে তার এক আত্নীয়ের অসুস্থতার নাম করে আগেই বাবার বাড়ি চলে গেছে। এখানে সকলকে সামলাচ্ছে নাশিদের বাবা এবং ফুপি। রথি নাফিসার সাথে রুমে যেতে যেতে খেয়াল করলো নাফিসা কেমন মনমরা হয়ে আছে। এই কারণটা নাশিদ তাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে তাই রথির ধরতে অসুবিধে হয় না। রথি নাফিসার উদ্দেশ্যে বলে,

-‘কালকেই ফ্লাইট?’

নাফিসা থতমত খেয়ে রথির দিকে তাকালো। অতঃপর আমতা আমতা করে বলে,

-‘হ্যাঁ!’

-‘এভাবে যাওয়া কী ঠিক হলো নাফু? তোকে ছাড়া থাকবো কী করে?’

-‘আরে চিন্তা করিস কেন? কয়েক বছরেরই তো ব্যাপার। তুই তো জানিস, কানাডায় মাস্টার্স করার আমার কতো সখ। ফাইনাল ইয়ারের ইক্সাম দিয়ে দিলাম, রেজাল্টও বের হলো, তাই আর দেরী করতে চাই না!’ হাসার চেষ্টা করে নাফিসা বললো।

-‘আবিরের কী হবে?’

নাফিসার মুখে আঁধার নেমে গেলো। নাফিসা আনমনে বলে ওঠে,

-‘হয় অপেক্ষা করবে নয়তো অন্যকাউকে… ধুর এসব বাদ দে। কিছুক্ষণ পরেই পার্লার থেকে লোক চলে আসবে। তুই একটু রেস্ট কর তো!’

রথি নাফিসাকে আর ঘাটলো না। নির্বিঘ্নে তপ্তশ্বাস ফেলে নাফিসার কথামতোন রুমে চলে গেলো। বেশ ধুমধাম করে ওদের রিসিপশনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মায়েরা এসেছিলো। রথি ওদের সাথেই বেশি সময় কাটিয়েছে। নাশিদ বেচারা গেস্টদের চাপে রথির ধারেকাছেই ঘেঁষতে পারেনি। কী এক মহা জ্বালায় ছিলো।

—————-

-‘নাফিসা?’

-‘হু!’

-‘না গেলে হয় না?’

নাফিসা শূন্য দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকায়। তারা এখন এয়ারপোর্টের বাহিরেই অবস্থানরত। আর কিছুক্ষণ বাদেই নাফিসার ফ্লাইট। নাফিসা হাসার চেষ্টা করে বললো,

-‘না, হয় না। আমায় যেতে হবে, আমার পড়াশোনার ইচ্ছেটা অপূর্ণ রাখতে চাই না। মাত্র কয়েক বছর, তারপর ঠিকই ফিরে আসবো তোমার নিকট! অপেক্ষা করবে না?’

আবির কিছুক্ষণ থমকে তাকিয়ে রয় নাফিসার পানে। অতঃপর কাতর কন্ঠে বলে উঠলো,

-‘করবো অপেক্ষা। তোমায় ছাড়া আমি কাউকে এই মনকুঠুরিতে জায়গা দিতে পারবো না!’

নাফিসা মুচকি হেসে আবিরকে বিদায় দিয়ে চলে গেলো অজানা পথে। আবির সেখানেই দাঁড়িয়ে নাফিসার চলে যাওয়া দেখছে। একসময় এতো এতো মানুষের মাঝে সে হারিয়ে গেলো।

কেটে যায় এক বছর। এই এক বছরে নাশিদ অনেকবার রথিকে পড়ানোর চেষ্টা করেছিলো কিন্তু রথি সবসময় এক কথাই বলেছে, ‘আমার পড়ার সময় অনেক আগেই ছুটে পিছে চলে গেছে। তাই নতুন করে পড়াশোনা করার চেয়ে আমি এভাবে শিক্ষক হয়েই আমার বাকিটা জীবন কাটাতে চাই!’
নাশিদ প্রথমদিকে রথির উপর রাগ করলেও পরবর্তীতে সে আর জোর করে না। এক সংস্থাতেও রথি কর্মরত। তার উপার্জনের ৮০% সেই সংস্থাতে দান করে আর বাকি ২০% তার মায়ের খরচ হিসেবে সাইফের কাছে পাঠিয়ে দেয়। সাইফ নিতে না চাইলেও রথি জোর করে দিয়ে দেয়। নাশিদ এসবের জন্য খুবই খুশি রথির উপর। রথি যে নাশিদের জীবনের, সংসারের হৃদপূর্ণিমা সেটা রথি বারংবার নাশিদের চোখে আঙুল তুলে প্রমাণ করে দিয়েছে। নাশিদ একদিক দিয়ে যেমন কেস হ্যান্ডেল করে তেমনই রথির সাথে তার খুঁনসুটিময় ভালোবাসা পুরো জমে ক্ষীর! রথি নিজেও অনেকটা খুশি নাশিদের মতো হাসবেন্ড পেয়ে, যে কিনা রথির প্রতিটি পদে তার ঢাল হয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে নয়নকেও নাশিদ বাসায় আনে, তারপর রথি একের পর এক নাশিদের নামে বিচার দেয়। নয়ন শুধু হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকে। নাশিদ অবশ্য এসব বেশ মজা নিয়ে দেখে। এই এক বছরে মনিকা একবারের জন্যেও ওদের খবর নেয়নি। বাবা প্রায়ই এসে থেকে যায় ছোট ছেলে আর বউমার সঙ্গে। রথি মনিকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও নাশিদ কখনোই করতে দেয়নি। কারণ, সে রথিকে কথা দিয়েছিলো, তার হৃদপূর্ণিমার গায়ে কোনোরূপ কালো দাগ লাগতে সে দিবে না। নেওয়াজ এবং ভাবী বর্তমানে দেশের বাইরে ট্যুরে গিয়েছে।

আজ রথি নাশিদের সঙ্গে তার মায়ের কাছে এসেছে। মায়ের জোরাজুরিতে আজ রাত তারা এখানেই থাকবে। রাত বাড়তেই রথি নাশিদের কাছে এসে মৃদ্যু সুরে বলে,

-‘এক জায়গায় যাবেন?’

-‘কোথায়?’ ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলো নাশিদ। রথি নাশিদকে ইশারা করে বলে,

-‘গেলেই দেখতে পাবেন, আসুন আমার সাথে!’

বলেই রথি নাশিদকে নিয়ে ধীরে ধীরে সদর দরজার দিকে চলে গেলো। সদর দরজাটা খুব সাবধানে খুলে দুজন বেরিয়ে যায়। চাঁদের আবছা আলোয় রথি মই বেয়ে তার সেই ছোট ছাদটায় উঠলো। নাশিদও রথির পিছু নিয়ে মই বেয়ে ছাদে উঠলো। এখানে দুই জন বসার মতোই জায়গা আছে। রথি টাংকিটার সাথে হেলান দিয়ে বসে নাশিদকেও ইশারায় বসতে বললো। নাশিদ বিনাবাক্যে রথির পাশের ছোট জায়গাটিতে বসে পরলো। রথি এবার অদূর অম্বরের থালার ন্যায় চাঁদটির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগে,

-‘এখান থেকে পূর্ণিমা বিলাসের মজাই আলাদা। জানেন, আমার যখন মন খারাপ থাকতো আমি এখানে বসে চুপটি করে আকাশ দেখতাম। যেদিন হাজারো তারার মেলা বসতো, সেই তারার মাঝে বাবাকে খুঁজতাম। তবে খুব নিঃসঙ্গত অনুভব হতো। আপনার সাথে এই সময়টা সত্যি-ই মোহময়!’

নাশিদ রথিকে বুকে টেনে নিয়ে বলে,
-‘আমি আছি তো। নিঃসঙ্গ কিসের? নাশিদ সর্বদাই তার হৃদপূর্ণিমার নিকট থাকবে। আকাশের চাঁদের চেয়ে তোমার মায়া বেশি নেশাতুর!’

রথি লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলে। অতঃপর নরম বুলিতে বলে,

-‘জানেন, বিয়েরদিন যখন আপনায় প্রথম দেখি তখনই আল্লাহ’র কাছে আপনার মতো মানুষকে চেয়েছিলাম। দেখেন, গরিবের কথা বাঁশি হলেও সত্যি হলো। আল্লাহ আমায় আপনিটাকেই আমায় দিয়ে দিলেন। ভালোবাসি আপনায়, পুলিশম্যান!!’

-‘আমিও আমার হৃদপূর্ণিমাকে ভালোবাসি!’ রথিকে নিজের সঙ্গে আরও আগলে নিয়ে নাশিদ বললো।

~সমাপ্ত।

বিঃদ্রঃ সর্বপ্রথম ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনাদের এই ভালোবাসা সত্যি-ই আমায় অতিভূত করেছে সাথে অনেকটা অনুপ্রারিতও হয়েছি। এখন পুরো গল্পটি কেমন লেগেছে অবশ্যই অবশ্যই জানাবেন। জানি না, মূল কনসেপ্ট তুলে ধরতে পেরেছি কি না, তবে ভুল হলে অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন, আমি শুধরে নিবো। আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্যের প্রত্যাশায় রইলাম। নতুন গল্প নিয়ে শীঘ্রই ফেরার চেষ্টা করবো, ইনশাল্লাহ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আমার জন্য দোয়া করবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ