Friday, June 5, 2026







হৃদপূর্ণিমা পর্ব-২৭

#হৃদপূর্ণিমা
লাবিবা_ওয়াহিদ
| পর্ব ২৭ |

বিয়ের ডেট ফাইনাল হয় আগামী শুক্রবার। এদিক দিয়ে মনিকা এবং অর্পিতা একটা কফিশপে বসে আছে। অর্পির চোখ দিয়ে আগুন বের হওয়ার উপক্রম, সে এতটাই রেগে আছে যে কিছুই বলতে পারছে না। মনিকা কিছুক্ষণ গালে হাত দিয়ে বসে একমনে কফির মগটার দিকে তাকিয়ে থাকলো। অতঃপর গলায় কাঠিন্য এনে বললো,

-‘আমি এদিক দিয়ে বিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করে যাবো। যদি বিফল হই তুমি তোমার নেক্সট গুঁটিটা আড়াল থেকেই চেলে দিও!’

অর্পি মাথা নাড়ায়। অতঃপর কফি মুখে না তুলেই উঠে চলে যায়।
_________________________________

রথি নাশিদের সঙ্গে শপিং এ এসেছে। নাশিদ হেসে জানায়,

-‘আজকের শপিং টা বাবা এবং নেওয়াজ ভাইয়ের পক্ষ থেকে বউ! অফিসের কাজের জন্য তারা আসতে পারেনি, তাই ভাবী, নাফিসা আর আমি-ই আসলাম!’

রথি প্রতুত্ত্যরে হাসলো। অতঃপর চারজন মিলে শপিং এ মনোযোগী হলো। শপিং শেষে নাশিদ রথিদের নিয়ে একটা ফুড বাজে নিয়ে যায়। সেখানে খাবার অর্ডার দিয়ে আশেপাশে হাঁটতে লাগে। হঠাৎ নাশিদের ফোন আসায় সে রথিকে দাঁড়াতে বলে নাশিদ অন্যদিকে চলে যায়। রথি রাস্তার কিনার দিয়ে হাঁটতে লাগে। তখনই কোথা থেকে একটা মিনি ট্রাক রথির দিকে দ্রুত যেতে লাগে। রথির দৃষ্টি সামনে থাকায় তার সেদিকে খেয়াল নেই। ট্রাকটা যখনই রথির কাছাকাছি চলে আসে তৎক্ষনাৎ নাশিদ রথির হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে সরিয়ে আনে। নাশিদ চোখ লাল করে দ্রুত কোমড়ের পেছন থেকে পিস্তল বের করে সেই ট্রাকের টায়ারে শুট করে। ট্রাক থামতে থামতে একটা গাছের সাথে গিয়ে ধাক্কা খায়। নাশিদ রথির দিকে তাকিয়ে দেখলো রথি থরথর করে কাঁপছে। নাশিদ রথির গালে হাত দিয়ে মৃদু সুরে বললো,

-‘ঠিক আছো?’

রথি ট্রাকটার দিকে দৃষ্টি স্থির করেই কম্পিত গলায় বলে, ‘হুম!’

নাফিসা এবং ভাবীও দ্রুত ওদের কাছে আসলো! নাশিদ রথিকে ওদের সঙ্গে রেখে পিস্তল হাতে নিয়ে রাস্তা পার হয়ে ঘটনাস্থলে গেলো। সেখানে অলরেডি কিছুটা ভীর জমেছে। যাওয়ার আগে নাশিদ নয়নকে একটা এসএমএস করে দিলো। নাশিদ দ্রুত ড্রাইভারের পাশের ডোর খুলে কলার ধরে টেনে বের করলো ড্রাইভারকে। ড্রাইভারের কপালে বিরাট চোট লেগেছে যার কারণে সে খানিকটা দুর্বল। তাও নাশিদের অগ্নিময় দৃষ্টি দেখে লোকটি পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু তার আগেই কঠিন ঝংকারের শব্দে কেঁপে উঠলো,

-‘কে পাঠিয়েছে তোকে? বল! কতো টাকার বিনিময়ে একজনের প্রাণ নিতে গেছিলি?’

লোকটা কেঁদে কেঁদে বলতে থাকলো,
-‘আমি কিছু জানি না! আমি কিছু জানি না!’

নাশিদ তার অপর হাতের গান লোকটির কপালে ঠেকিয়ে ক্ষীণ কন্ঠে বলে উঠলো,

-‘বল, নয়তো গান চালাতে আমার এক সেকেন্ডও লাগবে না!’

লোকটি ভিষণ ভয় পেয়ে গেলো। সে পুণরায় কাঁদতে কাঁদতে বললো,

-‘অর্পি ম্যাডাম!’

নাশিদ তৎক্ষনাৎ গান দিয়েই সজোরে লোকটির মাথায় বারি দেয়। আশেপাশের লোকজন নাশিদের হিংস্রতা দেখে ভুলেও কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। নয়ন চলে আসতেই নাশিদ লোকটিকে ধরে তাদের জিপে উঠিয়ে নিলো। দূর থেকে রথিরা নাশিদকে জিপে উঠতে দেখে নাফিসা বলে উঠলো,

-‘আই থিংক ভাইয়া এখন থানায় যাবে। ওয়েট আমি ড্রাইভারকে কল করে আনছি।’

নাফিসা ড্রাইভারকে কল দিতেই ড্রাইভার বলে উঠলো,

-‘রাস্তায় আছি ম্যাডাম। কিছুক্ষণের মাঝেই চলে আসবো!’

নাফিসা বেশ অবাক হয় ড্রাইভারের কথায়। ভাবী অধর জোড়া প্রসারিত করে বললো,

-‘দেবরজি আগেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছে। দেখলে তো রথি, আমার দেবরজি কতো দায়িত্বশীল?’

রথি প্রতুত্তরে হাসার চেষ্টা করলো। কিছুক্ষণ আগের ঘটনা এখনো তার অক্ষিকাচে বারংবার ভেসে উঠছে। না জানি নাশিদ আজ ওই লোকের কী হাল করবে!

_________________________________

নাশিদ ধপধপ পা ফেলে তার বাড়িতে প্রবেশ করলো। মনিকা তখন আবেশে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলো। নাশিদকে দেখে সে চায়ের কাপ রাখলো এবং পুণরায় নাশিদের দিকে তাকালো। নাশিদের রক্তিম বর্ণের মুখশ্রী দেখে মনিকার চিল করা মুখশ্রী আতংকে ছেয়ে যায়। মনিকা দ্রুত উঠে দাঁড়ায় এবং কম্পিত গলায় বললো,

-‘না..শিদ!’

নাশিদ মনিকার থেকে খানিক দুরত্ব বজায় রেখে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রাগ দমানোর প্রচেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু ফল ভালো হলো না।

-‘আর কতো নিচে নামবেন আপনি? ভালো কথা কী কানে যায় না? ভুলে যাবেন না নাশিদ একবার রেগে গেলে তার সীমানার বাইরে যেতে তার এক সেকেন্ডও লাগে না। আপনাকে চাইলে আমি এখনই কেস দিয়ে লকাপে পুরতে পারি। তখন ভালো লাগবে? রথি আমার বউ! তাকে ভালোবাসি বলে, তাকে সম্মান করি বলে আমি আবারও তাকে বিয়ে করছি। আপনার যদি এতোই সমস্যা হয় আমি এ বাড়িতে থাকবো না। ইনফেক্ট আমি আগেই বলেছি আমি আমার বউকে নিয়ে আলাদাভাবে জীবন-যাপন করবো। তাও আপনার এতো কিসের জ্বালা যে আজ অর্পিকে দিয়ে আমার বউকে মারার চেষ্টা করলেন? লাস্ট ওয়ার্নিং মিসেস মনিকা! অর্পি কী, রথি ব্যতীত দুনিয়ার কোনো মেয়েই আমার হৃদয়ে সামান্যতম জায়গা পাবে না। আর আমার রথির দিকে আঙুল তুললেই আমি তার আঙুল তৎক্ষণাৎ ভেঙ্গে দিবো!’

মনিকা চমকে গেলো। সে অপার্থিব স্বরে বলে উঠলো,

-‘আমি তো রথিকে মারার কথা বলিনি। আমি তো অর্পিকে বলেছি কিছুদিনের জন্য কিডন্যাপ করতে। বাবা, আমি এতোটাও নিচে নামতে পারি না!’

মনিকার চোখে স্পষ্ট বিভ্রান্তি প্রকাশ পাচ্ছে। নাশিদ চুপ করে গভীরভাবে সেই দৃষ্টির প্রকৃত ভাষা বোঝার চেষ্টা করলো। অতঃপর প্রসঙ্গ পাল্টে কাঠ কাঠ গলায় বললো,

-‘সে যাইহোক, নিশ্চিন্তে থাকুন। এই বাড়ির ছায়াও মারাবো না আমাদের নতুন জীবনে। আপনি থাকুন আপনার সৌখিনতা নিয়ে।’

বলেই নাশিদ তার নিরংশু দৃষ্টি চারপাশে বুলিয়ে বেরিয়ে গেলো। মনিকার দিকে পিছে ফিরেও তাকালো না।
________

আজ রথি এবং নাশিদের গায়ে হলুদ। সকাল সকালই নাশিদের ঘুম ভাঙলো ফোনের মিষ্টি রিংটোনে। নাশিদ বালিশের নিচ থেকে ফোন হাতড়ে হাতে নিয়ে পিটপিট করে ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই রথির হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রীটা দেখতে পেলো। নাশিদ পুণরায় চোখ বুজে ঠোঁটজোড়া প্রসারিত করে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলো। অতঃপর ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে উঠলো,

-‘গুড মর্নিং বউ!’

-‘রাখেন আপনার মর্নিং। মশাই বেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছে আবার বলে গুড মর্নিং। আজ কতো কাজ খেয়াল আছে? দ্রুত উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিন!’

-‘কী করবো বলো বিয়ের আগেরদিনও নাইট ডিউটি করতে হয়। আজ প্রথম অনেক বিরক্ত হয়েছি এই পেশা নিয়ে!’

-‘পুলিশরা চোরের পিছে দৌড়াবেই, সেটা পূর্ব থেকেই ঘটে এসেছে। যাইহোক আপনি এখন কোথায়?’

-‘আমাদের তৈরি করা স্বপ্নের রাজ্যে!’

-‘মানে?’

নাশিদ হাসলো। অতঃপর মধুর সুরে বললো,

-‘তোমার লাক ভালো বউ যে এমন শ্বশুড় পেয়েছো। আমি তো ভেবেছিলাম এপার্টমেন্টের ভাড়া বাসায় থাকবো। কিন্তু আমার ভাবনায় এক বালতি জল ঢেলে তোমার শ্বশুড়মশাই তোমাকে আর আমাকে একটি সুন্দর ফার্মহাউজ আমাদের বিয়েতে গিফট করেছে। একবার আমার কাছে তোমায় আনি, আমাদের এই স্বপ্নের রাজ্যে তুমি-ই হবে রানী! আমার রানী!’

রথির গালে তৎক্ষনাৎ লাল আভা সৃষ্টি হয়। রথি তার ওড়না আঙুলে পেচাতে পেচাতে মৃদু সুরে বলে উঠলো,

-‘হয়েছে। এখন দ্রুত উঠে ফ্রেশ হয়ে নিন, নাস্তাও করবেন।’

-‘যথা আজ্ঞা বউ! রাখছি৷ আর হ্যাঁ ভালোবাসি!’

নাশিদের নেশাতুর কন্ঠে ‘ভালোবাসি’ শব্দটা কর্ণধারে পৌঁছাতেই সর্বাঙ্গকে খেলে গেল তীব্র শিহরণ। এই প্রথম নাশিদ তাকে ভালোবাসি বলেছে। এই শব্দটি তার মাঝে বিশাল এক সুখের ঝড় তুলেছে। রথি প্রতিত্ত্যুরে কিছু না বলেই খট করে কল কেটে দিলো। বুকের অন্তঃপুরে তীব্রভাবে হৃদপিন্ড শব্দ করছে। রথি নিজেকে সামলাতে বুকের মাঝ বরাবর হাত রেখে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো। তার এই শান্তিপূর্ণ সময়েই মা হন্তদন্ত হয়ে রথির কাছে এসে বলে,

-‘রথি, জলদি চল। বউমা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে।’
_________________________________

সাইফ অশ্রুসিক্ত নয়নে জ্ঞানহীন মার্জানের দিকে তাকিয়ে আছে। তার একহাতে মার্জানের লেখা পত্রটি বিদ্যমান। তাতান তার মায়ের বুকে মাথা রেখে ফোঁপাচ্ছে। ডক্টর মার্জানকে চেক করে জানায় মার্জান ঠিক আছে। ভাগ্যিস সময়মতো জানালা দিয়ে মার্জানের ছোট ভাই দেখে নিয়েছিলো। নয়তো কী যে হতো ভাবতেই গা সিঁড়সিঁড় করে উঠে। মার্জান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলো এবং একটা চিঠিও লিখেছিলো, সাইফের উদ্দেশ্যে। সাইফ সেটা পড়ে নিজের আবেগকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

‘প্রিয় সাইফ,

তোমার জীবনে হয়তো অনেক বড় বোঝা এবং ঘৃণিত হিসেবে আমি-ই ছিলাম। কেনই বা হবো না? কম তো অন্যায় করিনি আমি। আমার অন্যায়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো এই লোভ। হ্যাঁ! লোভের বশেই বাবা মারা যাওয়ার পর নকল কাগজ দেখিয়ে বলেছিলাম ওই বাড়ি আমার। বাবা আমার নামে লিখে দিয়েছিলেন। আমি স্বাধীনভাবে বাঁচতে চেয়েছিলাম, ফ্রেন্ডদের নিয়ে পার্টি করাটা আমার বরাবরের মতোই নেশা ছিলো। তাদের যখন বাড়িতে আনতাম তখন বুক ফুলিয়ে অনেক বড় গলায় বলতাম এই বাড়ি সম্পূর্ণ আমার। আমার শ্বশুড় আমায় তার বাড়ি লিখে দিয়েছেন। কিন্তু তার আগে নানান ছলে মাকে আর রথিকে সরিয়ে দেই। এর কারণ অবশ্য আমার ফ্রেন্ডদের ঘিরেই। মা পুরাতন দিনের মানুষ, ওরা এসব ভালোভাবে নাও দেখতে পারে। এছাড়াও একধরণের স্বার্থপরতার মোহে পরে আমি তাদের আমার জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিলাম। সব ভালোই চলছিলো হঠাৎ আমার জীবনে শামুন নামক ঝড় চলে আসে। শামুন আমায় বেশ কয়েকবার বাড়ি এসে বলে গেছে রথিকে তার পছন্দ হয়েছে। তাকে তার যেকোনো মূল্যে চাই। আমি রাজি হই না কারণ ভালো খারাপের তফাৎ আমার জানা আছে। এ নিয়ে অনেকদিন নাকোচ করায় সে আমার তাতানকে কিডন্যাপ করার হুমকি দেয়। আমি সেই হুমকিতে ভয় পেয়ে তোমাদের সকলের মতামতকে উপেক্ষা করেই ওকে হোস্টেল পাঠিয়ে দেই এই আশায়, যেন শামুন তার ধরা-ছোয়ার বাইরে হয়। কিন্তু সেদিন তোমরা এটা বুঝো নি একজন মায়ের কান্না। তুমি ঘুমানোর পর তাতানের ছবিটা বুকে নিয়ে সারারাত পাগলের মতো কেঁদেছি। এক রাস্তার কুলাঙ্কারের জন্যে আমার তাতানকে আমার থেকে দূরে সরাতে হয়েছে। সন্তানের থেকে দূরে থাকাটা কতোটা কষ্টের সেদিন খুব করে উপলব্ধি করেছিলাম। তবে জানো কী? আমি বেশ চাপা স্বভাবের মেয়ে। আমার দুঃখ-যন্ত্রণাগুলো আমি কারো নিকট প্রকাশ করি না। তাই হয়তো তোমরা আমার ভেঙ্গে পরাটা দেখনি। সে যাইহোক, রথির খারাপ চাইতাম না আমি। তাই ওর প্রতি আমি সবসময় কঠোর ছিলাম। অপমান করতাম এই কারণেই যেন সে এই এলাকা ছেড়ে মাকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। কিন্তু তারা সেখানেই থেকে যায়। এভাবেই দিন চলতে থাকে মাসখানেক পর পর এসেই শামুন হুমকি-ধামকি দেয়া শুরু করে। আমি একদিন রাগাম্বিত হয়ে বলেছিলাম, তাকে যদি বাড়ির ত্রি-সীমানায়ও দেখি তাহলে এলাকার মানুষ ডেকে শামুনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হবো। সেদিন শামুন হাসতে হাসতে বলে,

-‘ঠিক আছে আসবো না। যদি কোনোরূপ চালাকী করো তাহলে আমি নিজে এসে উঠিয়ে নিয়ে যাবো!’

সেদিন ওর কথাগুলোর মানে না বুঝলেও মাসখানেক পর যখন এসে জানালো রথি কোনো ছেলের সাথে ঘুরাঘুরি করছে তখন বুঝতে পারলাম। সেদিন শামুনের হুমকিতে আমি দ্বিতীয়বারের মতো ভয় পেলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম আবিরের সাথে বিয়ে দিবো। কিন্তু তোমরা কেউ-ই রাজি হতে না। তাই ভেবেছিলাম ভালোভাবে বিয়ে দিয়ে তোমাদের বুঝোবো। বুঝালেই হয়তো তোমরা বুঝবে। কিন্তু তা আর হলো না। রথি পালিয়ে গেলো আর শামুনের থেকে আরেকদফা হুমকির সম্মুখীন হলাম। তাই উপায়ন্তর না পেয়ে তোমাদের বুঝিয়ে দেই রথি কারো সাথে পালিয়েছে। বিশ্বাস করো সাইফ, রথি এবং তাতানের কথা ভাবতে ভাবতে আমি নিজের স্বার্থের কথা ভুলে গেছিলাম। আমার মাথায় শুধু এই দুইজনের প্রাণ নিয়ে চিন্তা থাকতো। রথি আবার ফিরলে তুমি আমায় ডিভোর্সের কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যাও। আচ্ছা সাইফ, আমি কী এতোই নিকৃষ্ট ছিলাম? আমার দুটো কথা শুনলে কী খুব ক্ষতি হতো? ভেতরে ভেতরে আমি-ই মরে গেলাম, কেউ একটু খোঁজ অবধি নিলো না। মানলাম আমি অনেক অন্যায় করেছি তাই বলে একটা সুযোগ দিলে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যেত? তুমি যখন বলেছিলে আমি আমার বাবার বাড়ি না গেলে তুমি বাড়ি ফিরবে না তখন আমি অর্ধেক নিঃশ্ব হয়ে গেছিলাম। বারবার মাথায় ঘুরছিলো আমার তাতানকে ছাড়া কীভাবে থাকবো? সারারাত চিন্তা করে পরেরদিন চলে আসি তোমায় মুক্তি দিয়ে। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি ভালো ছিলাম না। আমার মন বারবার তাতান এবং তোমার দিকে ছুটে যাচ্ছিলো। এদিক দিয়ে আত্নীয়-স্বজন আর সমাজের নানান কটু কথায় আমি আরও শেষ হয়ে যাই। এ জীবনে যদি তোমরাই না থাকো তাহলে আমার বেঁচে থাকার কী দরকার? আমি এসব বলছি কারণ আমি তোমার ঘৃণা আর নিতে পারছি না। মরার পরেও যেন আমি শান্তিতে থাকি তাই বললাম। জানো তো সাইফ, মানুষ তখনই আত্মহত্যার মতো মহাপাপ করে যখন সে এই পৃথিবীর বুকে নিঃস্ব। হয়তো আমি এখন তোমার থেকে বহুদূরে। তাও এই ভেবে ভালো লাগছে তোমায় সারাজীবনের মতো মুক্ত করে দিলাম। আমার তাতানের খেয়াল রেখো। জানো তাতানের মুখে ‘মা’ ডাকটা শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি। ওকে পেলে হয়তো আমার দুঃখ গুলো ভুলে যেতাম। কিন্তু তা আর সম্ভব না। ভালো থেকো সাইফ, ভালো থেকো।

ইতি
ঘৃণিত মার্জান।

~চলবে।

বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্যের প্রত্যাশায় রইলাম।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ