Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বসন্ত এসে গেছেবসন্ত এসে গেছে পর্ব-৩০+৩১+৩২ এবং শেষ পর্ব

বসন্ত এসে গেছে পর্ব-৩০+৩১+৩২ এবং শেষ পর্ব

গল্পঃবসন্ত এসে গেছে
লেখাঃনুশরাত জেরিন
৩০.৩১ও শেষ পর্ব
পর্বঃ৩০

,
,
সকালে ডাইনিং টেবিলে বসে চুপচাপ নাস্তা করে অপু।
অন্যকোনদিকে তার কোন হুশ নেই।
তার পাশের চেয়ারে বসে ক্রমাগত উশখুশ করে চলে নোমান। অপুর সাথে কথা বলার জন্য ভেতরটা তার ছটফট করছে।
অপুর মুখের একটু কথা শোনার জন্য হা পিত্তেশ করে মরছে সে।
কিন্তু অপু?সে তো নির্বিকার।
কাল থেকে সে একটা টু শব্দ ও করেনি।নোমানের সাথে কথা বলা দুরের কথা ফুলির সাথেও কোন কথা বলেনি।
পুরোপুরি চুপচাপ হয়ে গেছে সে।
হুট করে এতোটা নিরবতায় নোমানের মনে অজানা কোন ভয় দানা বাঁধছে।
অপুর সাথে কথা বলার জন্য মন টানছে খুব।
কিন্তু কি বলবে?
কিভাবে বলবে?নোমান কিছুই বুঝতে পারছেনা।
কি বলবে সে?আমার ভুল হয়ে গেছে?
ক্ষমা চাইবে অপুর কাছে?
নোমান খান কখনো কারো কাছে ক্ষমা চাওয়া দুরের কথা ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবতে পর্যন্ত পারেনি।আর আজ সে কিনা ক্ষমা চাইবে?
তবু চাইবে।অপুর রাগ ভাঙানোর জন্য যদি ক্ষমা চাইতে হয় নোমান তাতেও রাজি।
কিন্তু কিভাবে কি বলা শুরু করবে নোমান কিছুই বুঝতে পারছেনা।
তাছাড়া অপু তো নোমানের সাথে কোন কথাই বলছেনা।
নোমানের দিকে একবারও ফিরে পর্যন্ত তাকাচ্ছেনা।

কাল রাতেও অপু নোমানের রুমে আসেনি।
অন্য রুমে ঘুমিয়েছে।
নোমান কয়েকবার গিয়েছিলো সে রুমের সামনে।
দরজার কাছ দিয়ে ঘুরঘুর করেছে কিন্তু অপু দরজা খোলেনি।
সে নিজের মতো থেকেছে।

নোমান ভেবে পায়না এতোটা রাগ করেছে অপু,সে রাগ কি এতো সহজেই ভাঙাতে পারবে সে?
তবুও একবার চেষ্টা তো করা যাক।এভাবে থাকলে তো তারই বেশি কষ্ট হচ্ছে।
বুকের ভেতরটা যে জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে।

কথা বলার জন্য নোমান টেবিলের কর্নারের জগ ধরার চেষ্টা করে।
এমন ভাব করে যেনো জগটা সে ধরতে পারছেনা,তার খুব পানির তেষ্টা পেয়েছে।
যদিও তার পাশেই আরেকটা জগ রাখা আছে।নোমান বলে,

–একটু জগটা এগিয়ে দাওনা অপরুপা।

অপু তবুও নির্বিকার।
নোমানের কথা শুনেছে কিনা তাও বোঝা গেলো না।

নোমান হতাশ হয়।তার বুদ্ধিটা কাজে লাগলো না ভেবে বড় নিশ্বাস নেয়।
মনে মনে আরেকটা বুদ্ধি বের করে।
বলে,

—বুঝলে অপরুপা,দাদি না খুব অসুস্থ জানো?
ঐ যে?দাদিকে চিনেছো তো?
গ্রাম থেকে এসেছিলো?
বাবার মৃত্যুর দুদিন পর যে বাড়িতে চলে গেলো?

অপু চোখ তুলে তাকায়।নোমানের দিকে ফিরে কৌতুহলী শ্রোতার মতো কথা শোনে।

নোমান মনে মনে হাসে।
তার প্রথম বুদ্ধিটা ফেল হলেও দ্বিতীয় বুদ্ধিটা কাজে লাগায় খুশি হয়।
আবার বলে,

—সেই দাদি খুব অসুস্থ বুঝলে।
খুব মানে খুব।
বাবার মৃত্যটা তো সে মেনে নিতে পারেনি।যতো যাই হোক, ছেলে তো।
সে নাকি তোমাকে খুব দেখতে চাচ্ছে।
আমাকে ফোন করেছিলো তো।
তোমায় নিয়ে যেতে বললো গ্রামে।

একটু থেমে আবার বললো,

—তুমি কি যাবে অপরুপা?

কিছুক্ষন অপেক্ষা করেও অপুর মুখ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে একরাশ হতাশা ভর করলো নোমানের উপর।

এবারের বুদ্ধিটাও ফেল হলো?
কতো ভেবে ভেবে বুদ্ধিটা বের করেছিলো নোমান।
ভেবেছিলো গ্রামে গেলে অপুর মনটা একটু ভালো হবে।তখনি নাহয় অপুর রাগ ভাঙাবে নোমান।
কিন্তু তা আর হলো কই?

প্লেটে অর্ধেক খাবার রেখেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো নোমান।
খাওয়ার মতো কোন ইচ্ছে হচ্ছে না তার।
কেমন যেন হতাশ লাগছে।
অপুকে হারানোর ভয়টা ক্রমশ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।

একপা এগোতেই অপুর গলা পেলো সে।

—আমি যাবো।

নোমানের নিরাশ হওয়া অন্ধকার মুখ হুট করে আলোকিত হয়ে উঠলো।
অপুর দিকে একপলক ফিরে হাসি মুখে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো সে।

—–

আলমারি থেকে বেছে বেছে কয়েকটা শাড়ি নিয়ে ব্যাগে ভরছে অপু।
গ্রামে যাওয়ার জন্য ব্যাগ গোছাতে বলেছে নোমান। কাল সকাল সকাল নাকি তারা রওনা হবে।সে উদ্দেশ্যে যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে নিচ্ছে সে।

এমন সময় দড়জা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে নোমান।
অপুর দিকে একপলক দেখে সেও আলমারির দিকে এগোয়।
অনেক ঘাটাঘাটি করেও একটা জামা বের করেনা সে।
মুখটা খুব বিরক্ত দেখায়।
আমলামির প্রত্যেকটা জামা-কাপড় এলোমেলো করে।এদিক-সেদিক ছিটায়।
এসবের মাঝে আঁড়চোখে অপুর দিকে তাকায়।
মুলত এসব সে অপুকে দেখানোর জন্যই করছে।
যাতে অপু যেচে এগিয়ে আসে নোমানকে সাহায্য করার জন্য।
কিন্তু এতেও অপুর ভাবগতির বিশেষ কোন পরিবর্তন লক্ষ না হওয়ায় মন খারাপ হয় নোমানের।
মুখ ফুটে বলে ওঠে,

—অপরুপা?

অপু উত্তর নেয়না।উত্তর যে দেবে এমনটা আশাও করেনি নোমান।
সে আবার বলে,

—আমার জামা কাপড় একটু গুছিয়ে দেবে?
আমি ঠিকমতো কিচ্ছু খুজে পাচ্ছিনা।

কথাটা বলে আবার আলমারিতে হাত দেয় নোমান।
অপু পাশ কাটিয়ে এগিয়ে আসে।
ঠান্ডা স্বরে বলে,

—আমি দিচ্ছি।

এতটুকু কথাতেই নোমানের চোখেমুখে বিশ্ব জয় করা হাসি ফুটে ওঠে।
বুকের ভেতর দিয়ে শীতল বাতাস প্রবাহিত হয়।
দ্রুত হেটে অপুকে জায়গা করে দেয়।
অপু বেছে বেছে যত্ন করে নোমানের জামা গোছায়।নোমান একধ্যানে তাকিয়ে সে দৃশ্য দেখে।প্রশান্তির হাসি ফুটে ওঠে তার মুখে।

মনে মনে ভাবে,গ্রামে যাওয়ার আগেই এতটুকু কথা বলেছে অপু,গ্রামে যাওয়ার পর পুরোটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবে সে।
,

গল্পঃবসন্ত এসে গেছে
লেখাঃনুশরাত জেরিন
পর্বঃ৩১

ব্যস্ততাময় রাস্তায় একের পর এক গাড়ি ছুটে চলেছে এদের গন্তব্যস্থানে।
গাড়ির হর্নের শব্দে কানে তালা লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গাড়ির ধুয়ায় চারিদিক ভরপুর।
নোমান গাড়ির কাচ উঠিয়ে দিতে চাইলেও অপুর জন্য পারেনি।
অপু কাচ লাগিয়ে বসে থাকতে পারেনা।তার অসস্থি হয়।খোলা হাওয়া অপুর পছন্দ।
একথা নোমান জেনেছে।আরও অনেক খুটিনাটি বিষয়ই অপুর বিষয়ে জেনেছে সে।
তাই তো অপুর পছন্দমতো চলার চেষ্টা করছে সে।

গাড়ির জানালায় মাথা রেখে বাইরের দৃশ্য দেখতে ব্যস্ত অপু।
নোমান গাড়ি চালানোর ফাকে ফাঁকে সেদিকে বারবার আড়চোখে তাকায়।
খুব কথা বলতে ইচ্ছে করে অপুর সাথে।
বাইরের হাওয়ায় অপুর মুখে চুল এসে পরে।
নোমানের ইচ্ছে করে হাত দিয়ে আলতো করে সে চুল সরিয়ে দেয়।
কিন্তু কোন এক অজানা দেয়াল বাধা হয়ে দাঁড়ায় সে ইচ্ছের সামনে।
অপরাধবোধের দেয়াল হবে হয়তো।
নোমান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
সে চাইলে এই সময়টা অন্যরকম হতে পারতো।
দুজনে হাসি খুশি ভাবে গ্রামে বেড়াতে যেতে পারতো।কথার ফুলঝুরি ঝরতো তখন এখানে।
কিন্তু এখন?
শুনশান নিরবতা বিরাজ করছে এ গাড়িতে।
এসবের জন্য নিজেকে নিজে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় নোমান।
কেনো সেদিন ওমনটা করলো সে?
কেনো বিশ্বাস করলো না অপুকে?
কিন্তু এসব এখন ভেবে কি আর হবে?যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।অতীতের ঘটনা ভেবে যতোই আফসোস হোক তা তো আর বদলানো যাবেনা।

হঠাৎ গাড়ি ব্রেক করে নোমান।
অপু নোমানের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। নোমান সে নিঃশব্দ প্রশ্নের উত্তরে এক চিলতে হাসি উপহার দেয়।
মুখে বলে,

—নামো।।

অপু অবাক হয়।এখানে কেনো নামবে তারা?এটাতো গ্রাম নয়,তারা তো এখনো শহরেই আছে।তাহলে এখানে নেমে কি করবে?

মনের ভেতর হাজার প্রশ্নেরা উঁকি দিলেও সে প্রশ্ন মুখ ফুটে বের হয়না তার।
চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে দাড়ায়।
নোমানও নামে।
অপুকে ইশারা করে নোমানের পিছু পিছু সামনে এগিয়ে যেতে।

কয়েক কদম যাওয়ার পর অপুর চোখ বড়বড় হয়।
একবার সামনে তো একবার নোমানের দিকে তাকায়।
তার বিশ্বাসই হতে চায়না,এখানে নোমান তাকে এনেছে?নোমান খান?
কিন্তু নোমান কি করে জানলো,অপুর ফুচকা পছন্দ? অপু তো কখনো বলেনি?
তাছাড়া সে তো নোমানের ওপর রেগে আছে।তাহলে রেগে থাকা ব্যাক্তির ট্রিট কি করে নেবে সে?

অপুকে ভাবতে দেখে নোমান হেসে এগিয়ে আসে।
পাশের টুলে টেনে বসায় অপুকে,নিজেও বসে।
বলে,

—ভাবনা চিন্তা সব একপাশে রাখো তো।এখন আপাতত ফুচকা খাও।

ফুচকাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

—মামা দু প্লেট ফুচকা দেন।

অপু বিস্ময়ে হতবাক হয়।নোমানের দিকে চেয়ে প্রশ্ন করে,

—দু’প্লেট কেনো?আপনিও ফুচকা খাবেন?

—তো আমি খাবোনা?তুমি খাবে আর আমি বসে বসে দেখবো?

অপু থতমত খায়।বলে,

—না,আপনি কি এসব খান নাকি?

—খাইনা তো কি হয়েছে?আজ খাবো।

অপু আর কথা বাড়ায়না।
মাথা নিচু করে বসে থাকে।
হুট করে কিছু মনে পড়ায় ফুচকাওয়ালাকে বলে ওঠে,

—মামা আমার ফুচকায় অনেক ঝাল দেবেন কিন্তু।

পাশ থেকে নোমান বলে,

—আমারও।

অপু বড়বড় চোখ করে নোমানের দিকে তাকায়।নোমান যে ঝাল খেতে পারেনা তা তো অপু জানে।

ইতস্তত করে বলে,

—আপনি তো ঝাল খেতে পারেননা।

নেমান ভাব নেয়।গর্বিত ভঙ্গিতে মাথা দুলায়।বলে,

—নোমান খান পারেনা এমন কোন কাজ নেই।আর ঝাল?হু,সে তো তুচ্ছ!

—————

গাড়ি আবার স্টার্ট দিয়েছে নোমান।এবার আর কোথাও থামবে না তারা।সোজা গ্রামের বাড়ি গিয়ে থামবে।
গাড়ি চালানোর ফাঁকে ফাঁকে একহাতে ধরে রাখা পানির বোতলে মুখ লাগাচ্ছে নোমান।
চোখ তার টকটকে লাল বর্ণ ধারন করেছে।
ফুচকায় এতো পরিমানে ঝাল ছিলো যে নোমানের অবস্থা কাহিল হয়ে গেছে।
অপুর সামনে চিল্লাতেও পারছেনা।এতো ঝালে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ইচ্ছে করছে তার।
নোমান ভেবে পায়না,এতো ঝাল মানুষ খায় কেমন করে?
মানুষ তো দুর অপু নিজেও তো খেয়েছে।
কই তার তো কিচ্ছুটি হয়নি।
দিব্বি বসে আছে।

নোমান গাড়ি থামিয়ে আরেক বোতল পানি বের করে।
অপুর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকায়।
অপু ব্যাগ থেকে চকোলেট বের করে নোমানের সামনে ধরে।
নোমান সেদিকে একপলক দেখে অপুর দিকে তাকায়।

অপু বলে,

—চকোলেটটা খেয়ে নিন,ঝাল কমে যাবে।

নোমান মুখ ভোঁতা করে চকোলেট হাতে নেয়।কোথায় সে ভেবেছিলো অপু নোমানের কষ্ট দেখে তার মিষ্টি ঠোঁট চেপে ধরবে তা না,এই কাঠ কাঠ চকোলেট দিচ্ছে।

,

গল্পঃবসন্ত এসে গেছে
লেখাঃনুশরাত জেরিন
শেষ_পর্ব

বাড়িটা টিনের।সামনে ছোট্ট একটা উঠোন।
গাছগাছালিতে ভরপুর চারিদিক।
কি মিষ্টি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।কান পাতলে মাঝে মাঝেই পাখির কলতান শোনা যায়।
উঠোনে বসে রাতের জোৎস্না উপভোগ করা যায়।
অপুও তাই করছে।
একটা টুল পেতে উঠোনে বসে জোৎস্না বিলাশ করছে।
তারা গ্রামে এসেছে প্রায় দিন তিনেক হলো।
এসেই দাদির অবস্থা দেখে অপু হতবাক হয়েছিলো।
দিব্যি হেটে চলে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।কোনরকম অসুস্থ তিনি নন।হ্যা,বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছেন তিনি দীর্ঘদিন কিন্তু তা এতো ফলাও করে বলার মতো না।
অপু আর নোমানকে দেখে তিনি কি যে খুশি হয়েছেন তা বলার অতীত।

এসবের মাঝে অপুর অবাক হয়েছিলো নোমানের কথা মনে করে।
দাদি পুরোপুরি সুস্থ আছে তারমানে নোমান তাকে মিথ্যা বলে গ্রামে এনেছে?নোমান খান মিথ্যা বললো?
কেন?শুধুমাত্র অপুকে খুশিতে রাখার জন্য?তার রাগ ভাঙানোর জন্য?
ব্যাপারটা ভাবতেই অপুর মনে একরাশ ভাললাগা ছেয়ে গেছিলো।
হ্যা,নোমানের উপর সে রেগে ছিলো,যথেষ্ট রেগে ছিলো।কিন্তু তা কিছুসময়ের জন্যই।
নোমানের কথায় অপুর খারাপ লেগেছিলো ঠিকই কিন্তু পরে এ বিষয়ে অপু খুব ভেবেছিলো।
তারও তো ভুল ছিলো।
রায়হানের সাথে কথা হয়েছে সে কথা তো নোমানকে আগে জানানো উচিত ছিলো তার।সে তো জানতো নোমান কেমন মানুষ?কেমন রাগী?রেগে গেলে যে তার হুশ থাকেনা।
তবু কেনো নোমান রেগে যায় এমন কাজ করতে গেলো অপু?

তারপরে নোমান অপুর রাগ ভাঙানোর জন্য যেসব কাজ করেছে সেসবেও তো নোমানের ভালবাসা প্রকাশ পায়।ভালবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়।
অপুর নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয়।
এমন একজন কে জীবনসঙ্গী পাবে,কখনো কি ভেবেছিলো?যে তাকে এতোটা ভালবাসবে?
নোমানের সেদিনের কথাগুলো ভুল ছিলো,অপুর বেশ খারাপও লেগেছিলো কিন্তু একটা সময়ের ব্যবহার বিবেচনা করে পুরো মানুষটাকে দোষী করা যায়না।
প্রত্যেকটা মানুষেরই একটা খারাপ পয়েন্ট থাকে।নোমানের সে পয়েন্টটা হলো রাগ।অতিরিক্ত রাগী সে।কিন্তু তাই বলে সে পুরো মানুষটাই খারাপ না।হতে পারে তার একটা দিক খারাপ।
কিন্তু কোন মানুষ পুরোপুরি ভাল?সবারই একটা না একটা খারাপ দিক আছে।
খারাপ ভালো মিলিয়েই তো মানুষ।

অপুর ভাবনার সূতো কাটে পাশে শব্দ পেয়ে।
পাশে তাকিয়ে দেখে নোমান বসে আছে একটা টুলে।
তার পাশাপাশি টুলে বসে অপুর দিকে একধ্যানে তাকিয়ে আছে সে।
এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অপু কিছুটা লজ্জা পায়।চোখ নামিয়ে মাথা নিচু করে।
জোৎস্নার রুপালী আলো চোখেমুখে পড়ায়,কি অদ্ভুত সুন্দর দেখায় তাকে।
নোমান মুগ্ধ হয়ে দেখে।

অপু বলে,

—কখন এলেন এখানে?

নোমানের ঘোর কাটে।অপুর লজ্জামাখা মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে।
বলে,

—এইমাত্র।

আরেকটু গা ঘেসে বসে।
নিচে গড়িয়ে থাকা শাড়ির আচল তুলে অপুর মাথায় দেয়।
দৃষ্টি আরো গাড় করে।
অপু বিষয়টা লক্ষ করে আরও নুইয়ে পরে।

—ঢাকা ফিরবেন না?

নোমান উদ্বিগ্ন গলায় বলে,

—কেনো?এখানে থাকতে ভালো লাগছেনা?

—না না ঠিক তা না।

—তাহলে?

কন্ঠ একটু আকুলতা আসে তার।বলে,

—আমাকে কি ক্ষমা করোনি অপরুপা?
বিশ্বাস করো আমি আর কোনদিনও তোমায় অবিশ্বাস করবো না,কক্ষনো না।
কখনো ওরকম ব্যবহারও করবো না।
তুমি তো জানো আমায়,চেনো আমায়।বলো?
তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে?
আমার এই রুক্ষ জিবনে বসন্তের বাতাস তুমি।
আমার জিবনে বসন্ত এনেছো তুমি।
তুমি আমায় না বুঝলে কে বুঝবে বলো?

অপুর খারাপ লাগে।
সত্যিই সে চেনে নোমানকে।
নোমানের হাত দুটো এগিয়ে এসে আঁকড়ে ধরে অপু।
নরম সুরে বলে,

—আমি বুঝি আপনাকে।

নোমান আসস্ত হয়।
ভেতরের উথাল-পাতাল তোলপাড়ের প্রলয় নিমিষে শান্ত হয়।
বুকের ভেতর আশা জাগে।ভালো থাকার আশা।
অপুর চোখে চোখ রাখে সে।
চোখের পলক পরেনা,অপুরও না।
চোখে চোখে হাজারও আলাপন হয়।
মিষ্টি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হয়।
দুজনে হাতে হাত রেখে জোৎস্নাবিলাশ করে।
দুরে কোথাও অজানা কোন নিশাচর পাখি ডাকে।
হালকা মৃদু বাতাস বয়।
সে শব্দ দুজনার কানে পৌছায় না।
দুজনার মনে তখন একই গান বেজে চলেছে।একই সুরে মত্ত দুজনায়।

সমাপ্ত

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ