Friday, June 5, 2026







প্রথম প্রেম পর্ব-০৬

#প্রথম_প্রেম
পর্ব-০৬
লেখিকা-#খেয়া

বাবা- মাকে ছেড়ে বেচে থাকার মতো কঠিন কাজ দুনিয়াতে হয়ত আর নেই।আর এই কঠিন কাজটাই যে আমাকে করতে হবে।

আমার সামনেই আব্বু-আম্মুর কাফনে মোড়ানো লাশ রাখা।বাড়ি ভর্তি মানুষ কিন্তু দিনশেষে তো তারা সবাই চলে যাবে।আমরাও একা হয়ে যাবো।

ছোট ছোট ব্যাপারে কেদে ভাসিয়ে ফেলা এই আমি আজ একটুও কাদতে পারছিনা।খুব ইচ্ছে করছে চিৎকার করে বলতে”বাবা-মা তোমরা ফিরে আসোনা”।কিন্তু আমি পারছিনা।নিজেকে বড্ড অনুভূতিহীন মনে হচ্ছে।

আব্বু- আম্মুর দাফন শেষ হয়েছে ঘন্টা দুয়েক।বাকিরা সবাই চলে গেছে।শুধু আমাদের পরিবারের কিছু লোক রয়ে গেছে।

কিছুক্ষণ পরে খালামনি ও আংকেল আমার কাছে এলো।আংকেল মামাকে গিয়ে বলল

—- আবির তো বড় হয়ে গেছে ভাইজান। কিন্তু আফরা ও তো এখনো ছোটো।ওর দায়িত্ব কে নিবে।আবিরের বউ এলে তো ও বেশিদিন এখানে টিকতে পারবেনা।

উনি কিছুক্ষন থেমে আবার ও বললেল

—- দেখেন ভাইজান,নিবির যে আফরাকে পছন্দ করেনা সেটা তো সবাই জানে।তাই আফরা যে আপনাদের বাড়ি থাকতে পারবেনা সেটা আমি জানি।তাহলে নিশ্চয় ওর দায়িত্ব আমাদের ঘারে এসেই পড়বে।আমি কিন্তু ওসব ঝামেলা নিতে পারবনা।

আংকেলের কথা শেষ হতেই ভাইয়া চিৎকার করে বলে উঠল

—- কাউকে নিতে হবেনা আফরার দায়িত্ব।যতদিন আমি আছি ততদিন ওকে নিয়ে আপনাদের না ভাবলেও চলবে।

আংকেল বেশ অপমানিত হলেন ভাইয়ার কথায়। নানীও মুখ বুঝে সব শুনছে।ওখানে আর একমুহুর্ত না থেকে ঘরে চলে গেলা।গিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম।

নিজের আপন মানুষগুলোকেও আমার বড্ড অচেনা মনে হচ্ছে।সবারই এখন আমাকে বোঝা মনে হচ্ছে।একদিন হয়ত ভাইয়ারও আমাকে বোঝা মনে হবে।

বাইরে থেকে সবাই দরজা খুলতে বলছে।

—- তোমরা প্লিজ যাও এখান থেকে।আমাকে একটু একা থাকতে দাও।

————–

আব্বু- আম্মুকে ছাড়া পুরো একদিন কেটে গেছে।তখন থেকে এখন পর্যন্ত কিছু মুখে তুলিনি আমি।

—- একটু তো খেয়ে নে, মা।এভাবে না খেয়ে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে যাবি।

—- আমি খাবনা, মামি। তুমি খাবারটা রেখে এসো।

মামিকে কথাটা বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।আমি একদমই ক্ষুদা সহ্য করতে পারিনা।কিন্তু আজ একদমই খেতে ইচ্ছে করছেনা।শরীরটাও বড্ড দুর্বল লাগছে।হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যেতেই কেউ আমায় ধরে ফেলল।

চোখ খুলে দেখলাম মামি আর নিবির ভাইয়া বসে আছে।ভাইয়া হয়ত কোথাও গেছে।

আমাকে উঠতে দেখেই নিবির ভাইয়া মামিকে খাবার আনতে বলল।মামিও খাবার আনতে চলে গেলো।নিবির ভাইয়া আমার পাশে বসে বলল

—-এভাবে না খেয়ে থাকলেই কী তোর বাবা,মা ফিরে আসবে।না খেয়ে শুধু শুধু নিজেকে কষ্ট দেওয়ার মানে কী, আফরা। তোর জন্য আবির ও না খেয়ে আছে ।

—- আচ্ছা ভাইয়া খুব কী ক্ষতি হতো যদি বাবা মা আমাকেও তাদের সাথে নিয়ে যেত।

—- আফরা! তারা যখন তোকে সাথে নেয়নি তখন নিশ্চয় তারা চায় তুই এই দুনিয়ায় থাক। তোকে বাচতে হবে আফরা, আবিরের জন্য বাচতে হবে, নিজের জন্য বাচতে হবে, আমাদের জন্য বাচতে হবে।

একটু পরে মামি আমার জন্য খাবার নিয়ে এলো। আমিও খেয়ে নিলাম।নয়ত আমার জন্য ভাইয়াও না খেয়ে থাকবে।

বিকেলে আমাদের কিছু প্রতিবেশী এলো বাড়িতে।তারা এসেই বিভিন্ন কথা বলতে লাগল।

—- শোনো নিবিরের মা তোমরা বরং আফরার বিয়ে দিয়ে দাও।তাছাড়া কে নেবে ওর দায়িত্ব।

অন্য একজন বলে উঠল

—- তাছাড়া তোমার ঘরেও তো জোয়ান একটা ছেলে আসে।আফরা তো ছোট,বলা যায়না যদি তারা কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলে।

উনার কথা শুনেই কেদে দিলাম।তখনই নিবির ভাইয়া বাড়িতে ঢুকছিল।হয়ত সে সব কিছুই শুনেছে।
নিবির ভাইয়া উনাদের সামনে গিয়ে বলল

—- আফরাকে নিয়ে এতটা ভাবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।কিন্তু ওকে নিয়ে যদি আপনারাই সব ভেবে ফেলেন তাহলে আমরা কী করব বলেন। আমাদের জন্য কিছু রাখেন।
আর শোন আফরা একদম মানুষের এসব উল্টোপাল্টা কথায় কান দিবি না।

তখনই আরেকজন বলে উঠল

—- সবই বুঝলাম গো নিবিরের মা।শেষ পর্যন্ত এই ঝামেলা তোমাদের ঘাড়েই জুটবে।তোমার ছেলের তো ভাব খারাপ।

আর কোনো কথা শোনার আগেই রুমে চলে গেলাম। ওখানে একপাতা ঘুমের ঔষধ ছিল। সেটা থেকে অনেকগুলো ঔষধ খেয়ে নিলাম। জানি আমি অনেক বড় পাপ করছি কিন্তু আমার কিছু করার নেই।আমি আর এসব সহ্য করতে পারছিনা।আমি কারো ওপর ঝামেলা হয়ে থাকতে চাইনা।

—————

চোখ খুলতেই নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করলাম । তখনই ভাইয়া ঠাস করে একটা চড় মারল আমায়।
প্রচন্ড কষ্ট পেলাম ঘটনাটায়। জীবনে প্রথম ভাইয়া আমার গায়ে হাত তুলল।
একটু পরেই ভাইয়া আমার দুইগালে হাত রেখে বলল

—- মেরে ফেলবি আমায়, বনু।কেন এমন করলি।তুই জানিস না তোর কিছু হলে আমি বাচবোনা।কেন লোকের কথায় নিজেকে শেষ করবি তুই।তুই নিজের যোগ্যতায় দেখিয়ে দিবি যে তুই আমাদের বোঝা না অহংকার।

————–

কেটে গেছে অনেকগুলো দিন।এখন আমি যথেস্ট নরমাল।
পড়াশোনায় ও বেশ মনোযোগ দিয়েছি।আম্মুর খুব শখ ছিল আমি ঢাবিতে পড়ব।সে অনুযায়ী প্রিপারেশন নিচ্ছি।সামনেই এডমিশন টেস্ট।
নিবির ভাইয়াও এব্যাপারে খুব সাহায্য করে আমায়। একদিন উনি আমার সাথে একটুও খারাপ ব্যবহার করেননি।

অনেকদিন ঘরবন্দি ছিলাম। তাই আজ ঠিক করলাম মামাদের বাড়িতে যাবো।

সকালে হাসপাতালে যাওয়ার সময় ভাইয়া আমায় মামা বাড়ি নামিয়ে দিয়ে গেলো।

ভিতরেই এসে দেখলাম নিবির ভাইয়া আর কথা আপু একসাথে বসে কী যেন করছে। তাদেরকে একসাথে দেখেই পুরোনো ক্ষতটা যেন জেগে উঠল। কিন্তু আমি সে সবকে পাত্তা দিলাম না।

নিবির ভাইয়া যেন আমাকে দেখেও দেখলনা।আমিও কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে গেলাম।কিন্তু মামিকে কোথাও পেলাম না। তাই নিবির ভাইয়াকেই গিয়ে জিঙ্গেস করলাম

—- ভাইয়া, মামি কই।

—- আম্মু তো মামার বাসায় গেছে।

—- ওহ। তাহলে বরং আমি যায়।

—- এখনই যাবি।

—- হুম। থেকেই কী করব।

—-আচ্ছা যা।

আমিও বেরিয়ে এলাম। নিবির ভাইয়া একবার জিঙ্গেস ও করল না যে একা যেতে পারব কিনা।অবশ্য করবেই কেন।কথা আপু সাথে থাকলে তো তার দিন দুনিয়ার খেয়াল থাকে না।

বাসায় গিয়ে এখন একা বোর হওয়া ছাড়া কোনে কাজ নেই।নিবির ভাইয়াদের বাসার কাছাকাছি একটা ছোটোখাটো একটা লেক আছে।তাই ভাবলাম ওখান থেকে ঘুরে আসি।

যেই ভাবা সেই কাজ।একা একা লেকের পাড়ে হাটছি।এখন সকাল ১১ টা বাজে।এখন অফিস টাইম বলে খুব একটা ভিড় নেই।এখন মানুষ নেই বললেই চলে।কিন্তু বিকেল বেলা অনেক ভিড় থাকে। বাবার সাথে আগে অনেকবার এসেছি।

কিছু সময় পরে আমার ফোনে একটা মেসেজ এলো
” একা একা থাকতে বুঝি খুব ভালো লাগে শুভ্রপরী”।

মেসেজটা ঐ প্রহরই পাঠিয়েছে।আজকাল আর এগুলো নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করেনা।সব আবেগ গুলো যেন সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে।

হঠাৎই আজানের শব্দ কানে এলো।কখন যে এত সময় কেটে গেছে বুঝিনি।তাই বাড়ি যাওয়ার জন্য কিছুদূর এগিয়ে যেতেই দেখলাম নিবির ভাইয়া এদিকেই আসছে।উনার চোখ-মুখ অসম্ভব লাল হয়ে আছে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব রেগে আছে।

উনি আমার কাছে এসেই বেশ জোরে একটা চড় মারল।আমিও টাল সামলাতে না পেরে নিচে পড়ে গেলাম।

উনি আমাকে তুলে আমার হাত ধরে বললেন

—- তোর কী মাথা খারাপ হয়ে গেছে, আফরা।বাড়ি থেকে বেরিয়ে যে এখানে আসবি বলে আসতে পারলি না।তুই বেড়োনোর আধ ঘন্টা পর যখন আরশিকে ফোন করে জানতে পারলাম তুই বাড়ি যাসনি তখন আমার কী অবস্থা হয়েছিল জানিস।দুঘন্টা কত খুজেছি তোকে।ফোনটাও তো ধরিসনি।

আসলেই তখন আমার ভাইয়াকে বলে আসা উচিত ছিল।আর তখন মেসেজের জন্য ফোনটাও সাইলেন্ট করে রেখেছিলাম।কিন্তু আমায় নিয়ে উনার এত চিন্তা কেন?

—- চল তোকে বাড়ি দিয়ে আসি।আর সরি, এমন বিহেব করার জন্য।

আমি কোনো কথা না বলে চুপ করে রইলাম।
তখনই ভাইয়া এমন একটা কথা বলল যেটা শুনে আমি পুরো স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ভাইয়া বলল

—- আমায় বিয়ে করবি,আফরা।

(চলবে)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ