Friday, June 5, 2026







দখিনা প্রেম পর্ব-২০

#দখিনা_প্রেম
#লাবিবা_ওয়াহিদ
|| পর্ব ২০ ||

—“জোহরার কী হইসে রে? ঘর থেকে বাইর হয় না ক্যা? কতো কাম আছে দেহে না?”

—“আম্মা হের অসুখ তাই আইতে পারবো না। তুমরা যা করার করো!”

বলেই কবির বাহিরে চলে গেলো। কবিবের ভাব-ভঙ্গি সা’দের কেমন সন্দেহ হলো। সা’দ রুবাইকে ডেকে কিছু বুঝিয়ে বললো। রুবাই সেসব বুঝতে পেরে মাথা নাড়িয়ে জোহরার ঘরে চলে গেলো। বাকিরা কবিরের দিকে নজর না দিয়ে যে যার কাজে লেগে পরলো। আজ আবিদের বড়ো বোন আদিবা তার স্বামী রাজিব এবং সন্তানদের নিয়ে আসছে। এখানেই তারা এবার ইদ করবে। আদিবার দুই মেয়ে। বড়ো মেয়ে লাবনী ৮ম শ্রেণির ছাত্রী আর ছোট মেয়ের নাম কলি যার বয়স মাত্র ৪। এই খবর শুনতেই সকলে তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত। সেহের তার বাবার হিংস্র চেহারা দেখে ভয়ে কাচুমাচু হয়ে আছে। কেউ তার হিংস্রতা বুঝতে না পারলেও সেহের ঠিকই বুঝেছে কারণ সেহের অনেকবার কবিরের এই হিংস্রতার খপ্পরে পড়েছে, তাই কবিরের এই হিংস্র চেহারা সেহের অনেক বেশি চেনা। রুবাই কিছুক্ষণ বাদে রুম থেকে বেরিয়ে সা’দের কাছে গেলো।

—“মেরে একেবারে আধমরা করে ফেলেছে। সারা শরীরে তার মারের চিহ্ন।”

রুবাইয়ের কথায় সা’দের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। দাঁতে দাঁত চেপে মিনমিন করে বলে,

—“এই অমানুষ কখনো শুধরাবে না! এর কিছু একটা ব্যবস্থা নিতেই হবে।”

বলেই সা’দ বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো। আর রুবাই, সে তো আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। সে চুপচাপ তার মায়েদের সাথে কাজে সাহায্য করতে লাগলো, সেহেরও যোগ দিলো। তপা এখনো বাড়ি ফিরেনি, সেদিকে কারো খেয়াল নেই।

সা’দ এক ক্ষেত পেরুতেই ঘন্টাখানেক আগের সেই লোকটাকে কবিরের সাথে দেখলো৷ কবির কিছু একটা নিয়ে যেন তাকে বোঝাতে চেষ্টা করছে। সা’দ খুবই সাবধানে তাদের দিকে এগিয়ে আড়ালে তাদের কথা শুনতে শুরু করলো।

—“আর তো মাত্র কয়টা দিন ভাই! দয়া কইরা উল্টা পাল্টা কিছু কইরেন না। আপনার তো ঘরে বউ আছে আর আমার ঘরে এতোগুলা মানুষ, তাই যা করার সবই গোপনে করা লাগবো। কাইল ইদ তাই কিছুদিন পর সব পরিকল্পনা মাফিক হইবো দেইহেন!”

—“আবার কোনো চিটারি করবি না তো!”

—“আল্লাহ’র কসম আমি কোনো চিটারি করি নাই বিশ্বাস করেন। আপনে খালি আমার ট্যাকাডার কথা ঠিক রাইহেন তইলেই সব হইয়া যাইবো। সেহেরকে আপনের লগেই বিয়া দিমু যা কেউ জানতে পারবো না।”

—“আইচ্ছা যা তোরে আরেকবার সুযোগ দিলাম। এহন যদি তুই কোনো গোলমাল করোছ রে কবির, তোরে যে কি করুম তুই ভাবতেও পারবি না এই কামাইল্লা কী কী করতে পারে।”

—“আপনে চিন্তা কইরেন না কইলাম তো। যাহোক এহন আমরা যাই কেউ হুইন্না ফেললে বিপদ।”

—“আইচ্ছা যা তুই আমিও যাই আশরাবরে খুঁজতে। কুত্তাডায় কই যাইয়া মরসে আল্লাহ মালুম।”

বলেই কালাম সেই স্থান ত্যাগ করলো। কালাম চলে যেতেই কবির একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সেও সেই জায়গা প্রস্থান করলো। ওরা চলে যেতেই সা’দ মানজুর মুখ থেকে হাত সরিয়ে ফেললো। যখন সা’দ আড়ি পেতে শুনছিলো মানজু তাকে দেখে সা’দকে কিছু বলার আগেই সা’দ মানজুর মুখ চেপে ছিলো। ভাগ্যিস সা’দ মানজুকে চুপ করিয়ে দিয়েছিলো নয়তো ধরা দু’জন ভালো করেই পরতো। সা’দের সাথে সেও সবটা শুনে চোখ বড়ো করে ফেললো। সা’দ এবং মানজু উভয়ই ওদের পরিকল্পনা শুনেছে। মানজু অবাক হয়ে চেঁচিয়ে বললো,

—“এই লুইচ্চা বেডায় কিনা সেহেরকে বিয়া করবে? এতো সখ আইয়ে কইত্তে এই বেডার! আর কবিররা! এই বাল কেমন বাপ! সামান্য কিছু টাকার লোভে ফুলের জীবনটা নষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে! ফুল কি খেলার পুতুল যে যা ইচ্ছা তাই করবে!”

বলে আরও গালমন্দ করতে থাকলো মানজু। মানজু এক মুহূর্তের জন্য ভুলে গেলো সে সা’দের সামনে। এদিকে সা’দের বুকটা ধুকধুক করছে। বারবার মনে হচ্ছে কিছু একটা হারিয়ে ফেলবে। নাহ সা’দ কিছু ভাবতে পারছে না। তাকে যা করার ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। ভেবেই সা’দ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

—“তোমার বান্ধুবীকে সাহায্য করত্র চাও তো?”

—“বুঝলাম না, কেমন সাহায্য?”

—“এই বদ লোকের খপ্পর থেকে বাঁচানোর?”

—“হ্যাঁ, অবশ্যই।”

—“তাহলে আমি যা যা বলছি তা করবা। তার আগে এটা বলো আবিদ এখন কোথায়?”

—“বাজারের দিকে থাকবে মনে হয়, নয়তো ব্রিজের দিকে। চিন্তা করবেন না, ব্রিজ দিয়েই বাজারে যেতে হয়, যদি ব্রিজে না পান বাজারে অবশ্যই পাবেন।”

—“ঠিক আছে, তুমি এখন বাসায় যাও বাকিটা আমি সামলে নিচ্ছি!”

বলেই সা’দ চলে গেলো। সা’দের দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো মানজু। সেহেরের প্রতি সা’দের ভাবনা দেখে মানজুর মনে আনন্দ কিছুটা দলা পাকালো৷ সে খুশিমনে নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো। তবে মনের মধ্যে ওই কামালকে নিয়ে তার একটা থেকেই গেছে।

—“কামাল কে আবিদ?”

—“কোন কামাল ভাই?”

—“ওইযে সকালে এসেছিলো?”

—“ওহ ওই ফন ব্যবসায়ী?”

—“হ্যাঁ। ওর সম্পর্কে যা যা জানো সব আমায় ক্লিয়ার করো।”

—“ওর ব্যাপারে আর কী ক্লিয়ার করবো। হালারপো বিশ্বসেরা লুইচ্চা! কতো মহিলা, বোনদের দিকে কুনজর দিয়েছে! ফালতু লোক পুরা! আর কামালের বড় পোলার কথা কী বলবো, সারাদিন জুয়া, বিড়ি, গাঁজা নিয়া পরে থাকে। কিন্তু ভাই আপনি তার ব্যাপারে জেনে কী করবেন!”

—“সত্যটা তোমাকে জানাতে চাইছিলাম না কিন্তু আগাম বিপদের জন্য তোমার সাহায্য বেশি প্রয়োজন, তাহলে শুনো….”

বলেই সা’দ বিয়ের থেকে শুরু করে একে একে কামালের ঘটনাসহ সবটা খুলে বললো। এদিকে আবিদ বিয়ের কথা শুনে নির্বাক হয়ে তাকালেও শেষে কামাল এবং কবিরের পরিকল্পনা শুনে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। আবিদ হুংকার ছেড়ে বললো,

—“ওই কুত্তার বাচ্চারে আমি এখনই মেরে পুঁতে রাখবো, শালা নিম্নহারামী! আমার বোনের জীবন নষ্ট করতে এরা উঠেপড়ে লাগসে!”

—“দেখো আবিদ কান্ট্রোল ইওরসেল্ফ। সেহেরকে বাঁচাতে হলে আমাদেরও কঠিন প্ল্যান করতে হবে তাই শান্ত হও। রাগ কখনো কোনোকিছুর সমাধান হয় না, এই রাগ হচ্ছে শয়তানের কুমন্ত্রণা যার ফলে রাগের মাথায় আমার ভুলপথে চলে যাই! তাই রাগ বর্জন করো। ঠান্ডা মাথা পরিকল্পনা করে ওদের উচিত শিক্ষা দিবো। তার আগে তোমার বোনকে প্রতিবাদ করাতে শিখতে হবে।”

—“ও কীভাবে শিখবে ভাই, ফুল তো কোনোদিনও ওদের মুখফুটে কিছু বলেনি, এখন বলবে কীভাবে?”

—“সেটা নাহয় আমার হাতে ছেড়ে দাও। আর প্রবাদ শুনেছো তো, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে দুজন সমান অপরাধী’। এই প্রবাদটা তোমার বোনের মাথায় ভালোভাবে ঢুকাতে পারলেই ব্যাস! খেল খতম!”

আবিদ মুগ্ধ হয়ে সা’দের দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ পর অনুনয় সুরে বলতে লাগলো,

—“বিশ্বাস করেন ভাইয়া, আপনাকে যেদিন থেকে চিনেছি সেদিন থেকে আপনাকে যেন চিনেই চলেছি এবং জীবনের নানান ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারছি। আপনার বিষয়ে যেন আমার জানার শেষ নেই, তবে আপনাকে যতটুকু চিনেছি এবং বুঝেছি আপনি খুবই নরম এবং সৎ মানুষ। এতো বড় মাপের মানুষ হয়েও আমাদের ফুলকে মেনে নিলেন। আসলেই আমাদের ফুলের কপাল ফুলের মতোই। আমার বিশ্বাস ছিলো আল্লাহ আমাদের ফুলের কষ্টের সমাপ্তি একজন ভালো মানুষ দ্বারাই করাবেন। দেখেন আমার বিশ্বাসটা কীভাবে মিলে যাচ্ছে। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত সময় বেশি দূরে নয়।”

সা’দ আবিদের কাঁধে হাত দিয়ে বাঁকা হেসে বলে,

—“চিন্তা করিও না, রিলেক্স। তোমার বোনকে আমি ইনশাল্লাহ স-সম্মানে আমার ঘরে তুলবো। আমার রাজ্যের রাণী হবে সে, কথা দিলাম।”

—“আপনাকে আমি বিশ্বাস করি ভাই। আমি জানি আপনি কখনো আমার বোনকে কষ্টে রাখবেন না। এখন চলুন আপনার কী কী পরিকল্পনা সেসব অনুযায়ী কাজ তো করতে হবে!” সা’দ মাথা নাড়ালো।

বিকালের দিকে আদিবা আসলো। আদিবা সেহেরকে সুস্থ দেখে ভিষণ খুশি। আদিবা সেহেরকে অনেক ভালোবাসে একদম নিজের বোনের মতো। সেহেরের কষ্ট সহ্য হয় না দেখে সে খুবই কম আসতো বাবার বাড়িতে কিন্তু আজ সেহেরকে সহ পরিবারকে একসাথে দেখে সে ভিষণ খুশি। আদিবা এবং রুবাই সমবয়সী তাই দুজনে কথোপকথনে ব্যস্ত হয়ে পরলো। রিমন, কলি খেলছে আর তাদের পাহারা দিচ্ছে লাবণ্য। মাঝেমধ্যে সেও তাদের খেলায় যোগ দেয়। রাজীব এবং তানজীল টুকটাক আলোচনা করছে। তখনই তপা বাসায় ফিরলো। তপা ক্লান্ত থাকায় সোজা নিজের মায়ের ঘরে গেলো কারণ, এই কয়েকটা দিন সে সেখানেই থাকে। ঘরে গিয়ে জোহরাকে খেয়াল না করেই সে বিছানায় উবুড় হয়ে শুয়ে পরলো। জোহরা মেয়ের এই অবহেলা নিতে পারলেন না, আঁচলে মুখ চেপে কাঁদছে সে। এদিকে সেহের নিজের রুমে বসে আছে। মাগরিবের নামাজ শেষ করে উঠতেই দেখলো সা’দ দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সা’দকে দেখে সেহের জায়নামাজ ভাঁজ করতে করতে ইতস্তত হয়ে বললো,

—“কিছু বলবেন?”

—“হ্যাঁ। বলছি ছাদের চাবীটা আনতে পারবে?”

—“কেন?” চোখ বড় বড় করে বললো সেহের।

—“না মানে আজ তো চাঁদরাত। আকাশে সুন্দর চাঁদ উঠেছে। ছাদ থেকে পরিবেশ নিশ্চয়ই মনোমুগ্ধকর হবে।”

—“ও আচ্ছা। চাবীর দরকার নেই আপনি যেতে পারেন, ছাদ খোলাই আছে।”

—“ওহ তাহলে চলো!”

—“চলবো মানে? আমি আবার কোথায় যাবো?”

—“কেন ছাদে? বউ থাকলে একা কেন চাঁদবিলাস করবো? তুমিও যাবা।”

বলেই সেহেরের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। কেউই তাদের একসাথে দেখতে পেলো না কারণ, উপরে কেউ নেই তারা দুজন ছাড়া। সা’দ যেন সব বুঝে শুনেই মাঠে নেমেছে। এদিকে সেহের বারবার সা’দের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু সা’দও নাছোড়বান্দা। ছাদে এসে রেলিংয়ে হাত রেখে দুজন চাঁদ দেখছে। চাঁদের আলো খুবই স্বল্প। কিছুক্ষণ পর পর শীতল হাওয়া গাঁ ছুঁয়ে যেতেই কেঁপে উঠে সেহের। পরিবেশটা ভালোই লাগছে সেহেরের তবে তার চেয়েও বেশি অস্বস্তি লাগছে সা’দ পাশে দাঁড়ানোর কারণে। সা’দ বিষয়টা বেশ উপলব্ধি করছে। তাদের মধ্যে কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করলো। নিরবতা ভেঙ্গে সা’দ বলে উঠলো,

—“কী জন্যে তুমি তোমার সৎমা আর বাবার অত্যাচার সহ্য করো?”

সেহের অপ্রস্তুত হয়ে সা’দের দিকে তাকালো। অতঃপর আমতা আমতা করে বললো,

—“মানে কারণ কই থেকে আসবে?”

—“কারণ তো নিশ্চয়ই আছে নয়তো তুমি এতোকিছু চুপচাপ সহ্য করতে না, অবশ্যই পরতিবাদ করতে!” সা’দের কথায় সেহের চুপ করে মাথা নিচু করে রইলো। সেহেরের মাথানত করতে দেখে সা’দ সেহেরকে নিজের দিকে ফেরালো অতঃপর সেহেরের থুঁতনি ছুঁয়ে মাথা উঁচু করে দিয়ে মাদকতা চাহনী দিয়ে বললো,

—“সা’দ বিন সাবরানের বউ কোনো কিছুতেই মাথা নত করবে না। তার দৃষ্টি থাকবে সামনে, নিচে তাকানোর অধিকার আমি তাকে দেইনি!”

সেহের মুগ্ধ হয়ে সা’দের ঘোরলাগা চাহনীর দিকে তাকিয়ে রইলো। সেহেরের অজান্তেই তার চোখের কোণা বেয়ে জল গড়িয়ে পরলো। সা’দ সেহেরের দিকে কিছুটা এগিয়ে এসে চোখের জল মুছে দিয়ে আবেগীসুরে বললো,

—“এই বউ কাঁদছো কেন?”

—“ভালোবাসেন আমাকে?” সা’দের চোখের দিকে তাকিয়েই কাঁপা গলায় বলে উঠলো সেহের। সা’দ মুচকি হেসে সেহেরের কপালে নিজের কপাল ঠেকালো। এতে যেন সেহেরের দম উড়ে যাওয়ার মতো। সা’দের উষ্ণ নিঃশ্বাস তার মুখে পরছে। সা’দের প্রতিটা নিঃশ্বাস শুনতে পারছে সেহের। সা’দ মৃদ্যু মাথা নেড়ে বলে,

—“হ্যাঁ মায়াবীনি। ভালোবাসি তোমাকে, অনেক বেশি ভালোবাসি! তুমি কী জানো তোমার এই ডাগরআঁখি জোড়া আমায় কেমন মাতাল করে দিয়েছিলো? তোমার এই ভয়ংকর মায়ার জ্বালে সেই কবেই ফেঁসেছি, সেই ফেঁসে যাওয়ার পর আর ফিরতে পারিনি। ডুবে গেছি তোমার মায়ার গভীর সাগরে। হাতটা ধরে উঠাতে সাহায্য করবে না?”

সা’দের এমন উত্তর একদমই আশা করেনি সেহের। সা’দের উত্তরের বিপরীতে সে কী বলবে, তার বাকশক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছে সা’দের কথার মাঝে। সা’দ সেহেরের অস্বস্তি বুঝতে পেরে কথা ঘুরিয়ে বলে,

—“দেখো সেহের তোমায় আমার মনের কথা অলরেডি বলে ফেলেছি। এখন যদি রিমন, দাদীমা এবং আমার কষ্ট দেখতে না চাও তাহলে প্লিজ সবটা খুলে বলো আমি জানতে চাই। আমি সহ্য করতে পারছি না তোমার এই কষ্টগুলো।”

সা’দের আবেগীমাখা কথাগুলো শুনে সেহের নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না। সে সা’দের বুকে মাথা রেখে ডুকরে কেঁদে উঠলো। সা’দ পরম আবেশে তার প্রেয়সীকে জড়িয়ে ধরে সেহেরকে শান্ত হওয়ার সময় দিলো। সেহের কিছুক্ষণ কেঁদে থেমে থেমে বলতে লাগলো,

—“আমার মা ওয়াদা দিয়েছে আমাকে যেন আমি কখনো এই বাড়ি, এই সংসার ছেড়ে না যাই। আমি পারিনি আমার মায়ের শেষ ওয়াদার খেলাপ করতে। তাই আজ অবধি কখনো তাদের কিছু বলতে পারিনি।”

সা’দের এতক্ষণে সবটা ক্লিয়ার হলো। কিন্তু তার মনে খটকা লাগলো। সেদিন তার দাদীমার থেকে সব অতীত জেনেছিলো৷ এবং দাদীমা সা’দকে এও বলেছিলো সেহেরের মা সেহেরকে নিয়ে আলাদা এবং কবির আলাদা থাকতো, তাহলে সেহেরের মা কবিরের হাতে খুন হলো কী করে আর সেহেরের মা খুন হওয়ার কী করেই বা সেহেরকে এই নরকে থাকতে বললো। কোনো এক জায়গায় একটা প্যাঁচ তো নিশ্চয়ই আছে, তাই মনে হলো সা’দের। সেহেরকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে সেহের ভ্রু কুচকে বলে,

—“তোমার মা কী নিজের মুখে তোমাকে ওয়াদা দিয়ে গেছিলো?” সেহের মাথা নাড়ায় যার অর্থ “না”।

—“না। সৎমা আমাকে বলেছে।”

এবার যেন সা’দের সকল হিসাব মিলে গেলো। এই পরিবারটা যেমন খুনও করতে পারে তেমনই ছলনায় অভিজ্ঞ। আর সেহেরও সেই ছলনার ফাঁদে পা দিয়ে এসেছে বারংবার।

চলবে!!!

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ