Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমি আমার ভালোবাসা পর্ব-১৯

তুমি আমার ভালোবাসা পর্ব-১৯

#তুমি_আমার_ভালোবাসা
#পর্ব_১৯
#লেখিকা_Munni_Akter_Priya
.
.
ফাহাদ প্রিয়ার কোলে মাথা রেখে বেমালুম ঘুমাচ্ছে। প্রিয়া হেসে দিলো। কাকে শোনাচ্ছে তার অতীতের কথা। প্রিয়া ফাহাদের মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে ডাকলো,
“শুনছেন?”
ফাহাদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেলো না। প্রিয়া আবার ডাকলো,
“আপনি ঘুমাচ্ছেন?”
ফাহাদ এবার একটু নড়েচড়ে উঠলো। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বললো,
“না, না তুমি বলো। আমি শুনছি।”
“আপনার ঘুম পেয়েছে। আপনি বাড়ি যান।”
“না। আমি তোমার কাছেই থাকবো। তুমি বলো।”
“খুব বেশি ঘুম পেলে ভাইয়ার রুমে গিয়ে ঘুমান।”
ফাহাদ এবারও কোনো সাড়াশব্দ করলো না। আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। প্রিয়া আর ডাকলো না। ঘুমাক। আজ এমনিতেও প্রিয়ার আর ঘুম আসবেনা। পুরনো ক্ষত যে জেগে ওঠেছে। কিন্তু যাকে শোনানোর জন্য এত আয়োজন সেই তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আচ্ছা ফাহাদ কেন ওর অতীত শুনতে চায় না? কেন সিরিয়াস হয়না? এর উত্তর ভেবে পায়না প্রিয়া। ছাদের রেলিং-এর কাছে লম্বা সরু একটা বেঞ্চ পাতা আছে। ওটার ওপরই প্রিয়া বসে আছে। আর ফাহাদ প্রিয়ার কোলে মাথা রেখে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে। প্রিয়া রেলিং-এ মাথা ঠেকিয়ে আকাশ পানে তাকায়। বুকটা মোচর দিয়ে ওঠে। বিশাল চাঁদ আকাশে আর অজস্র তারা। কতই না স্বপ্ন বুনেছিল শিহাবের সাথে আকাশের চাঁদ আর তারা দেখতে দেখতে। কত ভালোবাসা ছিল একটা সময় দুজনের মধ্যে। সব শেষ হয়ে গেলো।

আকাশের দিকে তাকিয়েই প্রিয়া আবার অতীতে ফিরে যায়।

শিহাবের ওমন পাগলামিকে বেশিদিন এড়িয়ে যেতে পারেনি প্রিয়া। সারাক্ষণ পিছে ঘুরঘুর করা, ওর ক্লাস না থাকা সত্ত্বেও প্রিয়ার জন্য কলেজের সামনে অপেক্ষা করা এসব খুব ভাবাতো প্রিয়াকে। এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। কিন্তু হয়েছিল। এমনটাই হয়েছিল।
রাত থেকে প্রিয়ার খুব জ্বর। গা পুড়ে যাচ্ছিলো জ্বরে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে ওষুধও আনে। পরেরদিন আর জ্বর নিয়ে কলেজে যেতে দেয়নি প্রিয়ার মা। সেদিন সারাদিন ছটফট করেছে শিহাব। প্রিয়াকে একটা নজর দেখার জন্য উন্মাদ হয়ে যায়। কারো কাছেই প্রিয়ার কোনো ইনরফরমেশন পায়না। প্রিয়ার বাড়ির এড্রেসও জানেনা শিহাব। পরক্ষণেই শিহাবের মনে হলো সুমার কাছে তো প্রিয়ার নাম্বার আছে। ওর নাম্বারটা নিলেই তো পারে। শিহাব তাড়াতাড়ি সুমাকে কল দেয়।
“হ্যালো শিহাব ভাইয়া।”
“একটা হেল্প করবে?”
“কি?”
“প্রিয়ার নাম্বারটা দিবে প্লিজ?”
“ইশ! ভাইয়া রিহান আমার ফোন থেকে প্রিয়া আপুর নাম্বার ডিলিট করে দিয়েছে। স্যরি ভাইয়া।”
শিহাবের মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ফোন কেটে দিয়ে চুপ করে বসে রইলো। রিহানের ওপর রাগ হতে লাগলো।
“রিহান! রিহান! হ্যাঁ রিহানের থেকেই তো প্রিয়ার বাড়ির এড্রেসটা নিতে পারি।”
যেই ভাবা সেই কাজ। রিহানের থেকে এড্রেস আর ফোন নাম্বার নিয়েই বাইক নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।
বাহিরে প্রচণ্ড বৃষ্টি। সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে এই জ্বর নিয়েও বৃষ্টিতে ভেজার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরেছে প্রিয়া। মা তো এক কথায় বারণ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়। বাহির থেকে তালা দিয়ে রেখেছে। এই মেয়েকে দিয়ে একদম বিশ্বাস নেই। কখন জানি ফুড়ুৎ করে ছাদে চলে যাবে। মন খারাপ করে প্রিয়া বিছানায় শুয়ে রইলো। জ্বর তো অনেকটাই কমে গিয়েছে। একটু ভিজলে এমন কি ক্ষতি হবে? ঐদিকে বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটা প্রিয়াকে আহ্বান করছে। আর পারছেনা প্রিয়া। বারান্দার দরজা খুলে বারান্দায় চলে গেলো। বৃষ্টির পানি এসে বারান্দার ফ্লোর ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছে। বাহিরে প্রচন্ড বাতাসও বইছে। বারান্দার গ্রিল ধরে চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির স্বাদ নিচ্ছে। বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে প্রিয়ার চোখমুখ ভিজিয়ে দিচ্ছে। আচমকা চোখ খুলে তাকাতেই প্রিয়া ভয় পেয়ে যায়। রাতের বেলায় বাড়ির সামনে ভূত আসলো নাকি! প্রিয়া ভালো করে তাকিয়ে দেখলো নিচে শিহাব দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে আর কি যেন বলছে। কথা শোনা যাচ্ছেনা তবে শিহাবকে ল্যামপোস্টের আলোয় দেখা যাচ্ছে। প্রিয়া মনে মনে ভাবে,
“এই ছেলেকি পাগল নাকি! আমার বাড়ির সামনে কি করছে? তাও আবার বৃষ্টির মধ্যে।”
শিহাব হাতের ইশারায় কি যেন বুঝাচ্ছে। প্রিয়া ঠিক বুঝতে পারলো না। ভালো করে হাতের ইশারা লক্ষ করতেই বুঝতে পারলো শিহাব ফোনের কথা বলছে। প্রিয়া তৎক্ষণাৎ রুমে এসে ফোন খুঁজতে লাগলো।
“কাজের সময় কোথায় যে যায় ফোন।”
সারা বিছানা খোঁজার পর ফোন পেলো। ৩৮টা মিসডকল। তাও আননোন নাম্বার থেকে। নিশ্চয়ই শিহাব কল করেছে। প্রিয়া অবাক হলো। বাড়ির লোকজন ছাড়া আর গুটি কয়েক ফ্রেন্ডস ছাড়া কেউ প্রিয়াকে ফোন দেয়না। এতবার তো নয়’ই। প্রিয়ার মনে কেমন জানি ভালোলাগা শুরু করে। ভাবনার ঘোর কাটার আগেই শিহাব আবার ফোন দেয়। রিসিভ করবে নাকি করবেনা ভেবে রিসিভড করেই ফেললো। প্রিয়া চুপ করে আছে। হার্টবিট কেমন যেন বেড়ে যাচ্ছে। ওপাশ থেকে শিহাব বললো,
“প্রিয়া।”
প্রিয়া চুপ।
“প্রিয়া শুনছো? হ্যালো….হ্যালো। শুনছো তুমি?”
“হ্যাঁ শুনছি।”
“তুমি এত স্বার্থপর কেনো প্রিয়া?”
“কি করেছি আমি?”
“আজ কলেজে কেন এলেনা? জানো কত কষ্ট হচ্ছিলো আজ তোমায় না দেখতে পেয়ে। মনে হচ্ছিলো দম আটকে মরেই যাবো।”
“একদিন কলেজ যাইনি তাতেই এই অবস্থা?”
“একদিন কি কথা? আমি এক সেকেন্ডও তোমায় ছাড়া থাকতে পারবো না। অনেক ভালোবাসি তোমায়।”
“কিন্তু আমি তো আপনাকে ভালোবাসিনা।”।
“তোমার বাসতে হবেনা। আমি একাই ভালোবাসবো।”
“পাগলামো বাদ দিয়ে এখন বাসায় যান।”
“না। তুমি বারান্দায় আসো তোমাকে দেখবো।”
“পারবোনা।”
“কেন?”
“আমি তো আপনাকে ভালোবাসিনা। তাহলে কেন শুনবো আপনার কথা?”
“তুমি কি আমায় সত্যিই ভালোবাসো না প্রিয়া?”
“না।”
“আচ্ছা বেশ। আজ আমি সারারাত তোমার বাড়ির সামনে বৃষ্টিতে ভিজবো।”
প্রিয়াকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই শিহাব ফোনটা কেটে দেয়। প্রিয়া কলব্যাক করে কিন্তু শিহাব রিসিভড করেনা। প্রিয়া বারান্দায় গিয়ে হাতের ইশারায় চলে যেতে বলে কিন্তু শিহাব সেকথার পাত্তা না দিয়ে অন্যপাশে মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয়া রাগে গজগজ করতে করতে রুমে এসে পড়ে। কাঁথা গায়ে জড়াতে জড়াতে আপনমনেই বলে,
“যা ইচ্ছে করুক আমার কি তাতে! যখন ঠান্ডা লাগবে তখন একাই চলে যাবে। এসব উটকো ঝামেলায় একদম জড়ানো যাবে না। সেঁধে সেঁধে বাঁশ খাওয়ার কোনো মানেই হয়না।”
.
সকালবেলা ঘুম ভাঙ্গতেই প্রিয়া আড়মোড়া ভাঙ্গলো। রাতের কথা মনে পড়ায় দৌঁড়ে বারান্দায় গেলো কিন্তু শিহাবকে দেখতে পেলো না। আজ অনেকটাই সুস্থ প্রিয়া। তাই মায়ের বারণ না শুনেই প্রিয়া কলেজে গেলো। কলেজে গিয়েই প্রিয়া চমকে গেলো। আজ কোথাও শিহাবকে দেখতে পেলো না। প্রিয়ার তো খুশি হওয়ার কথা কিন্তু মনের এক কোণায় কোথাও যেন শূন্যতা বিরাজ করছে। তবে কি প্রিয়া শিহাবকে ভালোবেসে ফেলেছে! কলেজ ছুটির পর শিহাবের বন্ধু প্রিয়ার কাছে যায়।
প্রিয়াই বললো,
“কি খবর মামু?”
“দেখো মজা কিন্তু পরেও করতে পারবা। এখন আমার সাথে চলো।”
“কোথায় যাবো?”
“শিহাবের ম্যাসে।”
“না।”
“শিহাব অনেক অসুস্থ।”
শিহাব অসুস্থ শুনে প্রিয়ার মনটা খারাপ হয়ে যায়।
“কি হয়েছে?”
“কাল সারারাত তোমার বাড়ির সামনে বৃষ্টিতে ভিজছে। ফোন দিয়া জিজ্ঞেস করতেই বললো তোমার বাড়ির সামনে। ভোরে গিয়া দেখি ও সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছে। পরে সবাই মিলে ও নিয়া আসি। এখন অনেক জ্বর। বারবার খালি তোমার নাম নিতাছে।”
প্রিয়া আর কোনোকিছু না ভেবেই রাজি হয়ে যায়। হাজার হোক, ওর জন্যই তো শিহাব আজ অসুস্থ।
ছোট্ট একটা ম্যাসের সামনে এসে দাঁড়ায় ওরা। প্রিয়া বাড়িটা দেখে থমকে যায়। ব্যাচেলর বাড়ি। সব ছেলে মানুষ। প্রিয়ার কি যাওয়া ঠিক হবে? যদি কোনো ক্ষতি করে ফেলে! ছেলেদের দিয়ে তো একদম ভরসা নেই। প্রিয়াকে চুপ থাকতে দেখে ছেলেটা বললো,
“কি হইলো? আসো। তুমি কি ভয় পাইতাছো? ভিতরে আমার গার্লফ্রেড আর ওর কয়েকটা বান্ধবীও আছে। ভয়ের কিছু নাই।”
বলতে বলতেই দরজার সামনে কয়েকটা মেয়ে এসে দাঁড়ায়। প্রিয়া সস্তির একটা নিঃশ্বাস নিলো। যেতে যেতে বললো,
“উনি ম্যাসে থাকে কেন?”
“ওর বাবা-মা, ভাই-ভাবি সবাই রাজশাহী থাকে। ও এখানে পড়াশোনা করে। পরীক্ষাটা শেষ হলেই জব নিবে। আগে অবশ্য জব করতো। কিন্তু কয়েকদিন পর পরীক্ষা তো তাই ছাইড়া দিছে।”
“ওহ।”
ভিতরে গিয়ে দেখলো ছোট্ট একটা খাট পাতা আছে। খাটের পাশেই পড়ার টেবিল। জামা-কাপড় রাখার জন্য একটা ছোট্ট ট্রলি আর মাথার ওপর একটা সিলিং ফ্যান। ঘরটা বেশ পরিপাটিই বলা চলে। শিহাব বিছানায় শুয়ে আছে। প্রিয়া রুমে যেতেই সবাই বেড়িয়ে গেলো। প্রিয়ার খুব ভয় করছিল। এভাবে একা ঘরে, শিহাবের সাথে। যদি কোনো অঘটন ঘটে প্রিয়া তো মরেই যাবে। প্রিয়া মনে মনে বললো,
“নো প্রিয়া নো! তুই না ব্রেফগার্ল? এভাবে ভয় পেলে চলবে? ভয়কে জয় করতে হবে।”
প্রিয়া আস্তে করে ডাকলো শিহাবকে। শিহাব চোখ মেলে প্রিয়াকে দেখে খুশি হয়ে বললো,
“তুমি এসেছো?”
“হু। কিন্তু এগুলা কেমন পাগলামি বলেন তো? এভাবে নিজের ক্ষতি করার কোনো মানে হয়?”
“তুমি শুধু আমায় একটাবার ভালোবাসো প্রিয়া।”
“ভালোবাসা কি জোর করলেই হয়? আমার ভালোবাসা আসেনা। পেইন ভালোলাগে না। কষ্ট সহ্য করতে পারিনা একদম।”
“আমি তোমায় একটুও কষ্ট দিবো না।”
“ওটা আমার বান্ধবীদের বয়ফ্রেন্ডরাও বলতো। তারপরও দেখতাম আমার বান্ধবীরা কাঁদে। আমি বাবা এসব সহ্য করতে পারবো না।”
শিহাব হাসলো। বললো,
“বেশ। তবে আমরা বন্ধু হই?”
“বন্ধু হতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।”
তখন থেকেই শিহাব আর প্রিয়া বন্ধু। একসাথে কলেজে যাওয়া, বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া, কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়া, একসাথে কফি খাওয়া, ফুসকা খাওয়া সবকিছু জুড়েই শুধু শিহাব জড়িয়ে গেলো। কে যেন বলেছিল, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে কখনোই বন্ধু হতে পারেনা। এদের মধ্যে যেকোনো একজন তো প্রেমে পড়বেই। শিহাব তো আগে থেকেই প্রিয়াকে ভালোবাসে। এবার প্রিয়াও ভালোবেসে ফেলে শিহাবকে। শিহাব ইচ্ছে করেই ফ্রেন্ডশিপ করেছিল যাতে ভালোবাসার একটা সুযোগ পায়। হলোও তাই। শিহাব পরীক্ষার জন্য খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ে পড়াশোনা নিয়ে। এখন আর তেমন সময় দিতে পারেনা প্রিয়াকে। তখন থেকেই প্রিয়া উপলব্ধি করতে পারে যে প্রিয়াও শিহাবকে ভালোবেসে ফেলেছে। দুজনের ভালোবেসে একসাথে পথচলার শুরুটা তখন থেকেই। এই ভালোবাসাটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় প্রিয়ার জীবনে।
.
.
শিহাবের পরীক্ষা শেষ। ভালো একটা চাকরীও করছে এখন। প্রতি শুক্রবারটা প্রিয়ার জন্য বরাদ্দ রাখে শিহাব। শুক্রবারে প্রিয়া তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে। গোসল হয়ে রেডি হতে হবে। ঘুমঘুম চোখে ওয়াশরুমে এগিয়ে যাচ্ছিলো প্রিয়া। পেছন থেকে প্রিয়ার মেজ খালামনি বললো,
“প্রেমে ট্রেমে পড়লি নাকি?”
খালামনির কথা শুনে প্রিয়ার ঘুম উধাও। ফাঁকা একটা ঢোক গিলে বললো,
“এমন মনে হলো কেন?”
“ফেসওয়াশ মনে করে স্নো নিয়ে যাচ্ছিস ওয়াশরুমে। প্লাজুর বদলে তোর মায়ের পেটিকোট নিয়ে যাচ্ছিস। কাহিনী কি হুম?”
প্রিয়া হাতের দিকে লক্ষ করে দেখলো আসলেই সে মায়ের পেটিকোট আর স্নো নিয়ে যাচ্ছে। প্রিয়া জিভ কাটলো।
“ঘুমে উলটপালট হয়ে গেছে।”
“ঘুমে উলটপালট? প্রতি শুক্রবারে কোথায় যাওয়া হয়?”
এতক্ষণ শুধু মেজ খালামনি চেপে ধরলেও এখন যোগ দিয়েছে লামিয়া, মা, নানু আর ছোটখালামনি। মাঝখানে প্রিয়া একদম চ্যাপা শুটকি হয়ে যাচ্ছে। ওদের সবার সাথেই প্রিয়া অনেক ফ্রি। সব কথাই ওদের শেয়ার করে। কিন্তু ভালোবাসার কথা কিভাবে শেয়ার করবে? ইশ, কি লজ্জা! কিন্তু ওরাও নাছোড়বান্দা। কিছুতেই না শুনে ছাড়বেনা। শেষমেশ সব লজ্জাশরম কাটিয়ে প্রিয়া সব বললো। সবাই তো খুশিতে গদগদ। প্রিয়ার মা বললো,
“আগে ছেলের ছবি দেখা। ছেলে ভালো তো?”
প্রিয়া ফোন থেকে ছবি বের করে দেখালো।
“মাশআল্লাহ্। এটা তো পুরা নায়ক। কিন্তু মা, যাই করিস না করিস একটু সাবধান থাকিস। আজকালকের ছেলেদের দিয়ে বিশ্বাস নেই। দুইদিন প্রেম করবে তারপর উধাও।”
“মা শিহাব ওরকম নয়। আমি ওকে তোমাদের সাথে কথা বলিয়ে দিবো।”
“আচ্ছা। তাহলে আজই আসতে বল।”
“আজ?”
“হু।”
প্রিয়া ফোন করে শিহাবকে সব বললো। শিহাবের তো ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।
“প্রিয়া তুমি ঠিক বলছো? তোমার বাড়িতে আমার কথা জানিয়েছো?”
“হ্যাঁ। তুমি না সেদিন বললে যে, তোমার বাড়িতে আমার কথা বলেছো? তারাও তো রাজি। এখন আমার পরিবারও রাজি। এখন তো আমাদের বিয়েতে কোনো সমস্যাই হবেনা।”
“হুম।”
“তুমি তাড়াডাড়ি বাসায় আসো।”
“আমার ভয় করছে। সাথে লজ্জাও লাগছে।”
“আরে, আমি আছি তো। তাড়াতাড়ি আসো তুমি।”
প্রিয়া ফোন রেখে দিলো। আধঘণ্টার মধ্যেই শিহাব বাড়িতে আসে। বাড়ির সবাই খুব পছন্দ করে।
সেদিন বাইকে করে ঘুরতে যায় শিহাব আর প্রিয়া। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো দেখে একটা ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয় ওরা। মেঘে মেঘে কালো হয়ে আছে আকাশ। একটু পরপর বিদ্যুৎ চমকায়। প্রিয়া ভয় পেয়ে শিহাবের হাত জড়িয়ে ধরে। প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে শিহাব একটা দুষ্টু হাসি দেয়। প্রিয়ার অনেক কাছে এগিয়ে যায় শিহাব। ঘোরের মধ্যে চলে যায়। প্রিয়ার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। প্রিয়া কেঁপে ওঠে। আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলে। একসময় প্রিয়া লজ্জা পেয়ে শিহাবকে জড়িয়ে ধরে। চোখের কোণা বেয়ে পানি ঝড়ে পড়ে প্রিয়ার। শিহাব প্রিয়ার হাত ধরে বলে,
“আমায় কখনো ঠকিয়ো না প্লিজ। খুব বেশিই ভালোবাসি তোমাকে। আমার চেয়ে বেশি তোমায় কেউ ভালোবাসতে পারবেনা।”
“কখনো ঠকাবো না।”
“ছেড়ে যাবে না তো কখনো?”
“না।”
“আমার খুব ভয় করে প্রিয়া। ছেড়ে যেয়ো না আমায়।”
কাঁদতে কাঁদতেই ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে আসে প্রিয়া। প্রিয়ার চোখের পানি গাল বেয়ে ফাহাদের মুখে পড়ে। ফাহাদ তৎক্ষণাৎ উঠে বসে। দেখে প্রিয়া চোখ বন্ধ করে কাঁদছে। প্রিয়ার বাহুতে ধরে ফাহাদ হালকা ধাক্কা দেয়। প্রিয়া চোখ মেলে তাকায়।
“কি হয়েছে তোমার? কাঁদছো কেন?”
“কই?”
“চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আবার বলছো কই?”
প্রিয়া চোখে হাত দিয়ে দেখে আসলেই সে কাঁদছে। পুরনো ক্ষত কেন এত পোড়ায় প্রিয়াকে।
“কি হলো?”
“কিছুনা। এমনিই চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল।”
“কি লুকাচ্ছো বলো তো?”
“লুকানোর মত কিছুই নেই।”
ফাহাদ প্রিয়ার গালে হাত রেখে বললো,
“অতীতের স্মৃতিগুলো মনে পড়েছে?”
প্রিয়া আর সেখানে বসলো না। এক ছুটে নিজের ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো। হুট করেই কেন এত কষ্ট হচ্ছে। কেন মনে পড়ছে ওর কথা। তবে কি অতীত আবার ফিরে আসছে। কেন হলো এমন কেন! প্রিয়া মুখে হাত দিয়ে কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতে একসময় প্রিয়া ক্লান্ত হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে ভাবে এত ভালোবাসার মানুষটা কি করে এমন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল।..
সময়টা প্রিয়ার এইচএসসি এর টেষ্ট পরীক্ষার মাত্র পাঁচদিন আগের। মাঝখানে এত্তগুলো সময়, দিন, সপ্তাহ্, মাস পেড়িয়ে যায় শিহাব আর প্রিয়ার ভালোবাসায়। শিহাবের প্রচন্ড ইগো ছিল আর প্রিয়ার ছিল প্রচুর রাগ। কিন্তু ভালোবাসার কমতি ছিলনা কারোরই। কোনো আড্ডায় প্রিয়া থাকলেই সেখানে গর্ব করে বলতো শিহাবের কথা। কিন্তু হঠাৎ ভূমিকম্পের ন্যায় সব বদলে গেলো। ভূমিকম্প যেমন কোনো সংকেত দিয়ে আসেনা শিহাবের পাল্টে যাওয়াটাও ঠিক তেমন ছিল। আগের মত তো কথা বলেই না। দেখাও করেনা। যতটুকু কথা হয়, শুধু ঝগড়া হয় আর না হয় শিহাব চুপ করে থাকে। প্রিয়া ভেবে পায়না শিহাবের এমন পরিবর্তনের কারণ। তিনদিন এভাবেই কেটে যায়। যেখানে ঝগড়া করে শিহাব এক ঘন্টাই থাকতে পারতো না সেখানে তিনদিন প্রিয়ার সাথে কথা না বলেই থাকছে। প্রিয়াকে ইগনোর করছে। শিহাবের এমন আচরণ প্রিয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা। একা একাই কেঁদেকেটে বুক ভাসায়। ঠিকমত খায়না, গোসল করেনা। একদম পাগল প্রায় অবস্থা। কলেজে গিয়েও কাঁদতে থাকে। প্রিয়া ফোন দিলেই কেটে দিয়ে ম্যাসেজ দেয়, “আমি বিজি আছি।” অথচ পরে আবার কল দিলে দেখে শিহাবের নাম্বার ওয়েটিং। অবাক হয় প্রিয়া। এই কি সেই ভালোবাসার মানুষটা? যাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসতো?
কলেজে গিয়ে মনমরা হয়ে বসে আছে। বারবার ফোনে ট্রাই করছে শিহাবকে বাট নো রেসপন্স। ম্যাসেজেরও কোনো রিপলে নেই। স্যারের কোনো লেকচারও মাথায় ঢুকছে না। ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে শিহাবকে একটিভ পায়। ম্যাসেজ করে,
“কেমন আছো তুমি?”
সীন করেনা ম্যাসেজ।
“জান কথা বলো না কেন? কি করেছি আমি? কেন এমন করছো আমার সাথে?”
আকুতি-মিনতি করে একটাবার কথা বলতে চায় প্রিয়া। শিহাব রিপলে করে,
“চেষ্টা করবো।”
“প্লিজ জান একটাবার কথা বলো আমার সাথে।”
টিফিন টাইমে ফাঁকা ক্লাসে গিয়ে ফোন দেয় প্রিয়া। বারবার ট্রাই করেও লাভ হচ্ছে না। প্রিয়া জোরে আর্তনাদ করে কেঁদে ওঠে। অনেকবার ট্রাই করার পর শিহাব ফোন রিসিভড করে বলে,
“বলো।”
“আমার সাথে এমন কেন করছো?”
শিহাব চুপ।
“প্লিজ কিছু বলো।”
“আমি একটু সমস্যায় আছি প্রিয়া।”
“কেমন সমস্যা যেটা আমাকে বলা যায় না?”
“তোমাকে বললে তুমি কষ্ট পাবে।”
“কষ্ট তো তুমি এখনও কম দিচ্ছো না।”
“বাড়ি থেকে আমার বিয়ের কথা বলছে।”
প্রিয়ার বুকে মোচর দিয়ে ওঠে। বিয়ের কথা!
“তো এখানে সমস্যার কি আছে? তুমি না বলেছিলে তোমার বাড়ির সবাই জানে আমার কথা? মেনেও নাকি নিয়েছে।”
” তখন মেনে নিয়েছিল এখন নিচ্ছে না। বাবা অন্য জায়গায় মেয়ে দেখতে চাইছে। আমার মাথা কাজ করছে না।”
“এসব তুমি কি বলছো শিহাব? তুমি কি জানো তুমি কি বলছো? কেন মেনে নিবে না তারা?”
“শহরের মেয়ে তাদের পছন্দ না। এখন বিয়ে করলে তো তুমি পড়াশোনা করবে বিয়ের পরও তারা সেটা মানবে না।”
প্রিয়া কোনো কিছু না ভেবেই বলে ফেললো,
“আমি করবো না। আমি পড়াশোনা করবো না। তোমার জন্য আমি আমার স্বপ্ন স্যাক্রিফাইজ করতে রাজি আছি। তবুও প্লিজ আমায় ছেড়ে যেয়ো না।”
“দেখছি।”
“দেখছি? এরপরও তুমি বলছো দেখছি?”
প্রিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। ওপাশ থেকে শিহাব ফোন কেটে দেয়……

চলবে….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ