Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ঘাস ফড়িং (শেষাংশ)

ঘাস ফড়িং (শেষাংশ)

ঘাস ফড়িং (শেষাংশ)
———————–
মিনুর সঙ্গে দেখা করে আসার আজ তিনদিন হল। এই ক’দিন রোজ রাতে তাদের ফোনে কথা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকেই মিনুকে কল দেবার জন্য অপেক্ষায় থাকে নীলাভ। মিনু তখন টিউশনিতে। সেখান থেকে এসে খাওয়া-দাওয়া করেই নীলাভকে কল দেয়। দীর্ঘক্ষণ তাদের ফোনালাপ চলে। শ্রেয়া পাশের বালিশে মাথা রেখে চোখবুঁজে। খাদিজা বেগমের চোখে ধূলো দেবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। রাতের খাবার শেষ করে আজও তারা নিজেদের রুমে চলে এসেছে। শ্রেয়া বিছানা ঠিকঠাক করছে। ভেতরে যাই-ই ঘটুক বাইরে সে খুবই স্বাভাবিক আচরণ করে। শ্রেয়ার কাছে নীলাভকে আজ কেমন যেন অস্থির লাগে। কাউকে বারংবার কল দিয়ে বারান্দা থেকে রুমে পায়চারি করছে। শ্রেয়া জিজ্ঞেস করল,
— ‘কোনো সমস্যা নীলাভ?’
নীলাভ পেছন ফিরে তাকায়, তারপর বলে, ‘না, কি সমস্যা হবে?’
— ‘তোমাকে কেমন অস্থির দেখাচ্ছে।’
— ‘মিনু কেন জানি কল ধরছে না। অথচ এতোক্ষণে সে নিজেই কল দেবার কথা।’
— ‘কোনো কাজে ব্যস্ত আছে হয়তো।’
— ‘হ্যাঁ তা হতে পারে।’
নীলাভ বারান্দায় গিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে ঘন ঘন টানে। খানিক পর আবার কল দেয়। এখন ফোনটাই বন্ধ দেখাচ্ছে।

মিনুর অসুস্থ মা হারিকেন হাতে বারংবার রাস্তায় এসে দেখেন মেয়ে আসছে কি-না। কিন্তু রাত অনেক হয়ে গেছে তবুও মিনুর আসার কোনো নামগন্ধ নেই। তিনি হারিকেন হাতে রাস্তার পাশে একটা গাছের শেকড়ে বসে অপেক্ষা করতে করতে ঝিমুতে লাগলেন।

মিনু বুঝতে পারছে না মুখোশধারীরা তাকে কোথায় নিয়ে এসেছে। গাড়ি থেকে নামিয়ে কোনো এক জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এনে নৌকায় তুলেছে। নৌকা এসে লেগেছে একটা বাড়ির পেছন দিকে। চারপাশে ঝোপঝাড়। মিনুকে ধরে মুখোশধারীরা ভাঙাচোরা একটা খুপরি ঘরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে।
মুখোশধারী একজন, ‘এই খলিল, খলিল।’ বলে ডাকে। মিনু কেবল খুপরি ঘর থেকে সবকিছু শুনতে পাচ্ছে।
খলিল এসে বলল, ‘জ্বি ওস্তাদ।’
মুখোশধারীদের কেউ একজন বলল
— ‘গোশত নিয়া আয়। মদের লাইগা ভাজন লাগব। আর গোশত আইনা এই মাইয়ারেও খাওন দিস।’
খলিল আচ্ছা ওস্তাদ বলে নৌকা নিয়ে যায়। ঘন্টা খানেক পরে খলিল গোসত নিয়ে এসে মাটির চুলোয় আগুন জ্বালে। এদেরকে তার একদম ভালো লাগছে না। এখানে তার সপ্তাহ খানেক হয়েছে। হন্য হয়ে কাজ খুঁজছিল। রেল স্টেশনে এদের সঙ্গে দেখা। ধরে নিয়ে আসে এ বাড়িতে। পালাতে চাইলে অবশ্য সে এখান থেকে যখন-তখন পালাতে পারে। কিন্তু অন্য কোথাও কাজ পাচ্ছে না। বাজারে গেলে মনে মনে কাজের ধান্ধা অবশ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না। এই বাড়িটা হচ্ছে মুখোশধারীদের আড্ডাখানা। নানান জায়গা থেকে ডাকাতি খুন-খারাবির টাকার ভাগাভাগি এবং সলাপরামর্শ এখানেই করে। মেয়ে মানুষকে ধরে আনার ঘটনা অবশ্য আজ প্রথম দেখছে খলিল। মেয়েটির কপালে কি আছে কে জানে? সে এসব নিয়ে আর ভাবতে গেল না। আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর নেবার অভ্যাস তার কোনো কালেই ছিল না। খলিল একটা বাটিতে গোসত নিয়ে গেল। মুখোশধারীদের অবশ্য এখন আর মুখোশ পরা নেই। গায়ের কাপড়ও খুলে ফেলেছে। সবাই মোটামুটি মধ্য বয়স্ক। মাথার চুল কাঁচা-পাকনা। খলিলের বয়স অবশ্য ওদের মতো এতো বেশি না। পঁচিশের কোটা বোধহয় পেরোয়নি। সে নিজের জন্ম সালটা ঠিক জানে না। মাথার চুল সব সময় কদম ছাঁট দেয়া থাকে। মাঝেমধ্যে তার মতো কাউকে পেলে দু’টাকার ব্লেড দিয়ে মাথাটা ন্যাড়াও করে নেয়। লম্বা চুলে তার চুলকায় ভীষণ। তাই লম্বা চুল সহ্য হয় না।
খলিল গোসতের বাটি মাঝখানে রাখে। সবাই গোল হয়ে বসে সিগারেট টানছে। গোশত খানিক ঠান্ডা হলেই সবাই আয়েশ করে মদ খাওয়া শুরু করবে। আজ তারা মনে মনে ভীষণ খুশি। যুবতী একটা মেয়ের মোমের মতোন মসৃণ শরীর তাদের কাছে আছে। মদ খেয়ে একজন একজন করে হায়েনার মতোন ছিড়েখুঁড়ে ফালাফালা করে ফেলবে।

খলিল চলে এলো রান্না ঘরে। নিজের জন্য একটা ডিম ভাজি করা ছিল। এইটাতে ভাগাভাগি করলে তার পুষবে না। ভাত পেট ভরে খেতে হয়। ক্ষিধে নিয়ে তার ছোটবেলা থেকে ভয়। এখন যে খাচ্ছি পরেরবার পাব কি-না। সুতরাং যখন পায় তখনই পেট ভরে খেয়ে নেবার অভ্যাস রক্তে মিশে আছে। তাড়াতাড়ি অযত্নে আরেকটা ডিম ভেজে নিল সে। এক হাতে প্লেট আর আরেক হাতে হারিকেন নিয়ে খুপরি ঘরের দিকে যায়। দরজা পা দিয়ে ধাক্কা দিতেই ক্যাচক্যাচ করে খুলে গেল। মিনু হাত-পা আর মুখ বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। নাক দিয়ে কেবল গোঙানি বেরুচ্ছে। আলো লাগায় সে চোখ খুলে। কেউ একজন হাতের বাঁধন খুলছে বুঝতে পারে। তারপর যখন মুখের বাঁধ খুলতে লাগল খলিল। মিনু তখন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। খলিল তখনও চিনতে পারেনি মিনুকে। বাঁধ খোলার পরেই মিনু ‘খলিল ভাই’ বলে প্রায় একটা চিৎকারই দিয়ে দিচ্ছিল।
খলিল মুখ চেপে ধরে মিনুর। তারপর দরজা থেকে উঁকি দিয়ে দেখে ওরা মদ গিলতে ব্যস্ত। খলিল ফিসফিস করে বলল
— ‘মোল্লা কাকার মাইয়া মিনু না তুই? এইখানে কী কইরা?’
মিনুর সমস্ত শারীরিক দূর্বলতা যেন খলিলকে দেখে কেটে গেল। সে আস্তে করে বলল, ‘ওরা ধরে নিয়া আসছে খলিল ভাই৷ শুনছি আমারে মাইরা ফেলবে। কিন্তু তুমি ওদের লগে কেন?’
খলিল যা বুঝবার বুঝে গেছে। সে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলল, ‘চুপ মিনু, বাঁচতে হইলে চুপ। ভাতটা তাড়াতাড়ি খাইয়া নে। আমি পানি আইনা দিতাছি।’
মিনু কোনো কথা না বলে খেতে লাগল। খলিল ভাইকে সে চিনে। ছোট বেলায় এলাকার জাম্বুরা, নারিকেল, কলা সহ নানান ফলফলাদি চুরি করে তাদেরকে নিয়ে খেত। বাচ্চাদেরকে ঘুড়ি বানিয়ে দিত। তাকে এখান থেকে অবশ্যই খলিল ভাই পালাবে নিয়ে। খলিল পেটের ক্ষিধেকে ভয় পায়। হাজার বিপদ আসুক সে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল। তারপর নিজের অল্প-সল্প যা কিছু আছে নৌকায় নিয়ে রাখে। স্টিলের গ্লাসে করে পানি এনে দিল মিনুকে। এক চুমুকে সব পানি খেয়ে তাকাল খলিল কিছু বলে কি-না।
খলিল কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, ‘নাও কিন্তুক পেছনের দরজার সামনেই বাইন্ধা রাখছে। আমরা যাওনের লগে লগে ঢের পাইব ওরা। তাই চুপিচুপি গিয়া লাভ নাই। তুই নৌকার কাছে গিয়া লগি হাতে নিয়ে দাঁড়াবি। কেউ আসলেই মাথা ফাটাইয়া দিবি লগি দিয়া। আর আমি মেশিন স্টার্ট দিয়া দিমু লগে লগে। তারপর ফুরুত কইরা চইলা যামু।’
মিনু আবার ফিসফিস করে বলল, ‘মেশিন স্টার্ট না দিয়া লগি দিয়ে কিছুদূর গেলে তো ওরা বুঝতে পারবে না।’
— ‘আরে গাদি তোর দাদা একটা দরজার সামনেই চ্যাপ্টা লাইগা বইসা আছে। এভাবেই যাওন লাগব। সামনে আসার আগেই মাথায় মারবি। হালারা মাতাল আছে।’
মিনু আস্তে আস্তে দাঁড়াল। পুরো শরীরে ব্যথা। ভীষণ দূর্বল লাগছে। তবুও নিজেকে শক্ত করে বলল, ‘চলেন।’
দু’জন চুপচাপ নৌকার পাশে গেল। দরজার কাছে থেকে একজন বলল,
— ‘কে রে?’
— ‘ওস্তাদ আমি খলিল।’
লোকটি চোখ কচলে তাকিয়ে আচমকা লাফিয়ে উঠলো, ‘এই হালার পুত মাইয়ারে বাইরে নিয়া আইছস ক্যান?’
মাতালগুলো সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বের হয়ে আসতে লাগল। খলিল তাড়াতাড়ি স্টার্ট দিতে যেয়ে দেখে উঠছে না। এদিকে মিনু লগি তুলে মারতেও পারছে না কেউকে। ভয়ে শরীর থরথর করে কাঁপছে। খলিল দৌড়ে এসে মিনুর কাছ থেকে লগি নিয়ে একজনের মাথায় বাড়ি মারে। ভেঙে যায় লগি। কিন্তু ভাঙ্গা অংশ ওদের হাতে যাবার আগেই মিনু চোখের পলকে হাতে নিল। সব কয়টা মদ খেয়ে মাতাল হওয়ায় শুধু অকথ্য ভাষায় গালাগালিই করতে পারছে৷ নিজের টাল সামলাতে পারছে না। একজন মিনুর দিকে এগিয়ে আসতেই মিনু লগি চালিয়ে দিল মাথায়। চিৎকার করে পড়লো লোকটি মিনুর পায়ের কাছে। এতোক্ষণে খলিল মেশিন স্টার্ট দিয়ে ফেলেছে। লাফিয়ে উঠল নৌকা। চিৎকার করে বলতে লাগল, ‘মিনু আয়। তাড়াতাড়ি নাওয়ে উঠ।’
কিন্ত মিনু পা নাড়াতেই পারছে না। মাতালটা বাড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে মিনুর পা শক্ত করে ধরে আছে। কোনো ভাবেই ছাড়াতে পারছে না। এদিকে আরেকজন প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে। লগির টুকরো অংশ হাতে হওয়ায় বেশ সুবিধা হচ্ছে। মিনু চোখের পলকে লোকটির মাথায় চালিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় চিৎকার করে পড়ে যায় মাটিতে। কিন্তু এদিকে পা ছাড়াতেই পারছে না। মিনুর হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে যায়। ওর এক পা ধরে আছে মাতালটা আরেক পা তুলতে গেলে সে নিজেই পড়ে যাবে। তাই লগিতে ভর দিয়ে এক পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে মাতালটার চোখে লাত্থি মারে মিনু। চিৎকার করে পা ছেড়ে নিজের চোখ চেপে ধরে লোকটি। মিনু তাকিয়ে দেখে নৌকা কিছুদূরে চলে গেছে। চারদিকে অন্ধকার। লাফিয়ে পড়ে পানিতে। নৌকার আওয়াজ লক্ষ্য করে সাঁতার কাটতে থাকে৷ পেছনেও লাফানির আওয়াজ কানে আসে। মাতালগুলোও লাফিয়ে পড়েছে তাহলে। মিনু খলিল ভাই খলিল ভাই বলে চিৎকার করতে লাগল৷ অন্ধকারে চিৎকার শুনে খলিল নৌকা ঘুরিয়ে তড়িৎ গতিতে মিনুর দিকে নিয়ে আসে। হাল ছেড়ে সে হাত বাড়িয়ে মিনুকে তুলতে গিয়ে নিজেই পড়ে গেল টুপ করে পানিতে। ততক্ষণে মিনু নৌকা এক হাতে ধরে ফেলেছে। এদিকে ওরা প্রায় কাছাকাছি খলিলের। সে চোখের পলকে হাত বাড়িয়ে জাপ্টে ধরে নৌকা। হাতে ভর দিয়ে উঠে পড়ে। টেনে তুলে মিনুকে। অন্ধকারে নৌকা চলছে। কোথায় যাচ্ছে কোনদিকে যাচ্ছে মিনু বা খলিল জানে না। অনেকদূর যাবার পর একটা জঙ্গল পেল। খলিল উঠে মেশিন বন্ধ করে দেয়। মিনু আঁতকে উঠে বলল, ‘মেশিন বন্ধ করে দিলা কেন?’
— ‘আন্ধারে কিছুই দেখা যাইতেছে না মিনু। এই জঙ্গলে রাত কাটাইয়া ভোর হইলে চইলা যামু। মেশিন বন্ধ কইরা দিছি ওরা খুইজা পাইব না।’
তারপর দু’জন নীরব থাকে। মিনু আবার নীরবতা ভেঙে বলল, ‘পাঁচ-ছয় বছর পর তোমার লগে দেখা খলিল ভাই। গ্রাম যে ছাইড়া আইলা আর যাওনি ক্যান?’
খলিল দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ‘গিয়া কি হইব মিনু। কেউ তো নাই৷ এক নানী ভিক্ষা কইরা খাওয়াইয়ে বড় করছে সেও মইরা গেল। গ্রামের মাইনষে নানীর জানাজাও করলো না। তোমার বাপ-চাচারাই ফতোয়া দিল মাগী বেটির জানাজা কি। ভিক্ষা করছে দেহ ব্যবসাও করছে। তারপর আমিও যখন এলাকায় ভিক্ষা কর‍তাম লোকে বলতো জোয়ান পোলা ভিক্ষে কিসের। কাজকাম কইরে খেতে পারিস না? কিন্তুক কেউ আমারে কাজকাম আর দেয়নি৷ তারপর শুরু করলাম এলাকায় হাত গণনার ভণ্ডামি। তোমার বাপ-চাচাই তখন ভণ্ডামির জন্য এলাকা ছাড়া কইরা দিল। বের হইলাম রাস্তায় রাস্তায়। শহরে-বন্দরে। যা কাম পাই তাই করি। যখন কোনখানে কাজ পাই না তখন রেল স্টেশনে থাকি।’
মিনু চুপচাপ কেবল শুনে যায় খলিলের জীবনের গল্প। এই জগতে কোটি কোটি মানুষ থাকার পরও যার আপন বলতে কেউ নেই। যার মাথার উপরে ছাদ নেই। এবেলা ভাত খেলে ওবেলা কি খাবে তার ঠিক নেই। এই যে তার একমাত্র কর্মস্থল ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে তারপর কি কাজ পাবে কি করে খাবে কোথায় থাকবে সেসব নিয়ে আলাদা করে ভাবনা নেই। সে জানে, পৃথিবীতে কি এক রহস্যময় কারণে টিকে থাকলেই কীভাবে জানি খাবার জুটে, ঘুমানোর জায়গা মিলে। কেবল টিকে থাকতে হয়।

সকালে আবার কল দেয় নীলাভ। ফোন বন্ধ দেখায়। পাগলের মতো অবস্থা হয়ে যাচ্ছে তার। ফোন বন্ধ কেন! কি হয়েছে মিনুর। শ্রেয়া নাস্তা নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে,
— ‘কল কী ধরেছে?’
— ‘না, বন্ধ দেখাচ্ছে।’
শ্রেয়া খানিক ভেবে বলল, ‘বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখো, তবুও ফোনে না পেলে সিলেট চলে যাও, দেখা করো।’
নীলাভ বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারল না। শ্রেয়ার কাছে ভাড়ার টাকাটা চেয়ে দ্রুত বেড়িয়ে পড়ল। সে পৌঁছে গেল দুপুরের আগেই। কলোনিতে গিয়ে দেখল মিনু বিছানায় শুয়ে আছে। নিচের ঠোঁট ফোলা। দেখেই বুঝা যাচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। মিনুর পাশে অপরিচিত এক যুবক আর আন্টি বসা।
নীলাভ ব্যস্ত হয়ে বলল, ‘মিনু কি হয়েছে তোমার। কাল থেকে কল দিয়ে পাচ্ছি না কেন?’
খলিল যেন গল্প করার একটা সুযোগই পেল। সে আসন পেতে বসে বলল,
‘কি কইরা পাইবেন মিয়া ভাই মিনুরে৷ কি কান্ডটাই না ঘইটেছিল বুঝলেন। আমি না হইলে মনে করেন মাইয়াটা এক্কেরে শ্যাষ আছিল….।
মিনুকে কিছুই বলতে হল না। সে কেবল খলিল ভাইয়ের আয়েশ করে গল্প বলা দেখে মুচকি হাসছে।
কিন্ত নীলাভ সবকিছু শুনে অস্থির হয়ে গেল। কে করল এসব, কেন করল? তাহলে আমি আর বাড়ি যাচ্ছি না তোমার সাথেই থাকব। এখানেই থাকব। তুমি টিউশনি পড়াতে গেলে আমি সঙ্গে যাব। মিনু মুচকি হেঁসে বলল, ‘আচ্ছা বাবা আচ্ছা।’
সত্যি সত্যিই নীলাভ দু’দিন এখানে থাকে। খলিল আর নীলাভ মিনুর বিছানায় থেকেছে। আর ওরা সবাই এক খাটে৷ মিনুর মা নীলাভকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বাড়িতে পাঠালেন। কিন্তু নীলাভ এর ভেতরে শ্রেয়ার কাছ থেকে বিকাশে টাকা এনে মিনুকে নতুন সিম আর মোবাইল কিনে দিয়ে গেছে। আগের মতোই আবার তাদের ফোনালাপ চলতে থাকল। কিন্তু ক’দিন পর আবার রাতে মিনুকে সে ফোনে পেল না। সকালেও না। ফোন বন্ধ। তার ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠে। তাহলে কী আবার মুখোশধারীরা মিনুকে তুলে নিয়ে গেছে? আগের পুরো ঘটনা সে শ্রেয়াকে বলেছিল। শ্রেয়া আঁতকে উঠেছে পুরো ঘটনা শুনে। নীলাভ বের হয়ে গেল রাতেই। শ্রেয়া আর বাসায় থাকতে পারলো না। সেও যাবে নীলাভের সঙ্গে। দু’জন রাত আটটার বাসে উঠে। বারোটার আগেই সিলেট পৌঁছে যায়। হেঁটে হেঁটে দু’জন কলোনিতে পৌঁছে দেখে কেউ নাই। মিনুর পুরো পরিবার উধাও হয়ে গেছে কলোনি থেকে। নীলাভ পাগলের মতো হয়ে গেল৷ কলোনির সবাইকে জিজ্ঞেস করল মিনুরা কোথায় কিছু জানে কি-না। সবাই বলল কোথায় গেছে জানি না। শুধু একজন যুবক আর মিনুরা ব্যাগ-প্যাক নিয়ে চলে যেতে দেখেছে। নীলাভ ফোন বের করে বারংবার কল দেয়। ফোন বন্ধ দেখায়। হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। রাত এখানেই তারা কাটিয়ে দেয়। পরেরদিনও শ্রেয়া নীলাভকে নিয়ে বাসায় যেতে পারলো না। সে মিনুর রুমেই থাকবে৷ মিনু ফিরে আসবে। এখান থেকে সে যাবে না। শ্রেয়া রাতেই মা’কে সব জানিয়েছিল। তিনি নীলাভের বাবাকে নিয়ে সকাল দশটার দিকে চলে এলেন কলোনিতে। নীলাভের সঙ্গে সায় দিয়ে বললেন ঠিক আছে তুমি কিছুদিন এই কলোনিতে থেকেই অপেক্ষা করো। আমি কলোনির মালিকের সঙ্গে কথা বলে এখানে তোমার আর শ্রেয়ার থাকার এবং খাবার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
নীলাভ এসব কথা শুনে না। সে শুধু জানে মিনু ফিরে আসবে। আর সে মিনুর রুমে থেকেই অপেক্ষা করবে। খাদিজা বেগম ভ্যান ডেকে খাট, বিছানা-বালিশ সব আনিয়ে দিলেন। রান্না করার জন্য কলোনির লোকদের সঙ্গে কথা বলে বুয়া ঠিক করে দিয়ে চলে গেলেন। শ্রেয়া নীলাভের কান্না আর পাগলামি রোজ সহ্য করে সামলে নিচ্ছে। সেও মনেপ্রাণে চায় মিনু ফিরে আসুক। নীলাভের মুখ আবার হাসি-খুশিতে ভরে উঠুক। কিন্তু ওরা দু’জনের কেউ-ই জানে না মিনু আর ফিরবে না। সেও এখন চায় শ্রেয়াকে নিয়ে নীলাভ সুখে থাকুক। একটা বিবাহিত সংসার তার জন্য নষ্ট হয়ে যাক সে আর চায় না।

মিনু যখন মুখোশধারীদের থেকে উদ্ধার হয়ে গেল তখন খাদিজা বেগম পুরোপুরি হতাশ হয়ে যান। এদিকে নীলাভ কলোনিতে দু’দিন থেকে পড়ে আছে। তিনি ফোন দিয়ে ভাইকে সবকিছু খুলে বললেন।
সহজ-সরল জাবেদ মিয়ার বুকটা ভাগ্নীর জন্য বেদনায় হু-হু করে কেঁদে উঠল। এমন হলে শ্রেয়া মামণির কি হবে? আমার বোনটাও নীলাভকে কত ভালবাসে। জাবেদ মিয়া তখন খাদিজা বেগমকে বললেন মিনুর সঙ্গে দেখা করা দরকার। সবকিছু বুঝিয়ে বলে দেখি কিছু হয় কি-না। খাদিজা বেগমও তাই ভেবেছিলেন। নীলাভ যেদিন ফিরে এলো। এর ক’দিন পরেই জাবেদ মিয়া এবং খাদিজা বেগম মিনুর কলোনিতে যান।
মিনু তাদের কাউকে চিনতে পারেনি। খাদিজা বেগম বললেন, ‘আমি নীলাভের ফুপু আর এই হচ্ছে নীলাভের বাবা।’
মিনু আঁতকে উঠে। তারপর মাথায় ওড়না পেঁচায়। কি করবে না করবে ভাবতে ভাবতে ঘেমে যায়। তাদেরকে বসতে দিয়ে দৌড়ে গেল চুলোয় আগুন ধরাতে।
জাবেদ মিয়া ডাকলেন। চা বসাতে নিষেধ করে বললেন, ‘মা আমি কিছু দরকারী কথা বলতে আইছি। তুমি আমার এক্কান অনুরোধ রাখতে হইবে মা।’
মিনুর খুবই খারাপ লাগে। নীলাভের বাবা তার কাছে এমন কাতর হয়ে অনুরোধ করবেন সেটা তার কাছে অনেক লজ্জার।
মিনু জাবেদ মিয়ার হাত ধরে বলল, ‘চাচা আপনি শুধু বলেন কি করতে হবে আমাকে।’
জাবেদ মিয়া প্রায় কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমার ভাগ্নিটা মরে যাইবে মা৷ আমার বইনের একমাত্র মাইয়া। তুমি যখন হারিয়ে গেলে তখন নীলাভ পাগল হওনের মতোন অবস্থা আছিল। তাকে বাঁচাতেই আমার বইনে শ্রেয়ার লগে নীলাভের বিয়া দিয়েছে৷ তাদের এই উপকারের প্রতিদান আমি কি এইভাবে দিব মিনু মা?’
খাদিজা বেগমও পায়ে পড়ে গেলেন কাঁদতে কাঁদতে। মিনু কি করবে ভেবে পায় না। তার পুরো শরীর ঘেমে গেছে। নীলাভ তাহলে শ্রেয়াকে বিয়ে করে নিয়েছে? সে কি অন্যের সংসার ভেঙে দিতে পা বাড়িয়েছে? এই অন্যায় তো শ্রেয়ার সঙ্গে সে করতে পারবে না। তা ছাড়া নীলাভের বাবা আর ফুপুর এমন অনুরোধ সে কীভাবে অমান্য করবে। মিনু ধরা গলায় বলল,
— ‘কিন্তু আমাকে কি করতে হবে?’
খাদিজা বেগম এবার ভাইকে পাশ থেকে সরিয়ে বললেন, ‘মা, তোমার মা আর ভাইকে নিয়ে চট্টগ্রাম চলে যাও। নীলাভের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রেখো না। চট্টগ্রাম আমাদের পরিচিত লোক তোমাদেরকে স্টেশন থেকেই নিতে আসবে। সেখানে তোমাদের থাকা-খাওয়া এবং কাজের ব্যবস্থা ওরাই করে দিবে।’
মিনু ঝিম মেরে বসে রইল। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। খাদিজা বেগম আবার ইশারা করেন জাবেদ মিয়াকে। জাবেদ মিয়া এবার মিনুর পায়েই পড়ে গেলেন।
‘দয়া করো মা, তুমি শ্রেয়াকে বাঁচাও। একটা বিবাহিত সম্পর্ক তুমি নষ্ট কইরা দিও না।
মিনু পাথরের মতো শক্ত হয়ে বসে রইল। খানিক পর বলল, ‘ঠিকাছে আমি চট্টগ্রাম চলে যাব।’
তারপর তারা সবাই রাতের ট্রেনেই চট্টগ্রাম রওয়ানা দেয়। সাথে আছে খলিলও। সে নানান গল্প করে যাচ্ছে মিনুর সঙ্গে। মিনুর সেদিকে মনযোগ নেই। জানালার বাইরে তাকিয়ে অতীত স্মৃতি ভাবতে ভাবতে গোপনে বারংবার চোখের জল মুছে নিচ্ছে।

পরিশিষ্ট: শ্রেয়া আর নীলাভ জানে না মিনুকে কে কিডন্যাপ করিয়েছিল। মিনুরা এখন কোথায় আছে। আর কখনও ফিরবে কি-না। নীলাভ আজও অপেক্ষা করে মিনুর। শ্রেয়া তার কাগজ-কলমের স্বামীকে পরম যত্নে বুকে আগলে রাখে। কে জানে মিনু আর ফিরবে কি-না। কে জানে শ্রেয়ার ভালবাসা আবার ধীরে ধীরে নীলাভকে স্পর্শ করে ফেলে কি-না। শ্রীমঙ্গলে কোলে করে লেক দেখার জন্য সেই পাহাড়ে তোলার দিনগুলি আবার শ্রেয়ার জীবনে ফিরে আসবে কি-না। আবার সে বলতে পারবে কি-না আমার ভীষণ আদর পাচ্ছে নীলাভ।
আজ এক সপ্তাহ হল তারা এখনও কলোনিতে অপেক্ষায় আছে মিনুর। রাতে নীলাভ ঘুমের ঘোরে ‘ঘাস ফড়িং ঘাস ফড়িং’ বলে বিড়বিড় করে।
শ্রেয়া একদিন জিজ্ঞেস করল, ‘ঘাস ফড়িং ডাকার কারণটা আজও বললে না যে।’
নীলাভ আনমনে বলতে লাগে, ‘কলেজের বাংলা স্যার খুবই মিশুক ছিলেন।
প্রায়ই তিনি গল্প করতেন।
একদিন আমাদেরকে বললেন সবার একটা করে পছন্দের কাজ বলো।
কেউ বলল মুভি দেখা, কেউ গান শোনা, কেউ ভ্রমণ করা, কেউ বই পড়া।
একমাত্র মিনুর পছন্দের কথা শুনে সবাই হু-হু করে হেঁসে উঠলো। কারণ ওর উত্তর ছিল ঘাস ফড়িং ধরা। নানান রঙের ঘাস ফড়িং না-কি ছিল তাদের লেবু বাগানের কচু গাছে। ফড়িংয়ের রঙ যে কত ধরনের আছে। ফড়িংও যে কত রকম হয় এমন গল্প শুরু করলে মিনুর শেষই হতো না। আমি তখন থেকেই বুঝতে পারি ঘাস ফড়িং মিনুর খুবই পছন্দের। তাই অনেক খোঁজাখুঁজি করে অসংখ্য ঘাস ফড়িং কাঁচের বোতলে ভরে তাকে দিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি তোমাকে ভালবাসি ঘাস ফড়িং।’
সে খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলেছিল, ‘আমিও অনেক ভালবাসি ঘাস ফড়িংকে।’
আমি বোতলটা ওর হাতে দিয়ে বলেছিলাম, ‘তুমি ভালবাসো এই ঘাস ফড়িংকে আর আমি বাসি তুমি ঘাস ফড়িংকে।’
মিনু বিস্মিত হয়ে বোতলটা হাত থেকে ছেড়ে দেয়। টুংটাং করে গ্লাস ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ঘাস ফড়িং সব কয়টা সেদিন মিনুকে ছেড়ে উড়ে গিয়েছিল। আমার ঘাস ফড়িংও উড়াল দিয়েছে শ্রেয়া। ফড়িং হচ্ছে পাখি। পাখিদের ধর্ম হচ্ছে উড়াল দেয়া।
—-সমাপ্ত—
লেখা: MD Jobrul Islam

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ