Friday, August 29, 2025
বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 2028



ক্রাশ যখন বর Season_3Part_40/41/42

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_40
Writer-Afnan Lara

শিশির মিউজিয়াম থেকে বের হতেই মায়ের ফোন আসলো,বাবা নাকি খুব অসুস্থ,,
শিশির আর তনু দেরি না করে বাংলাদেশে ফিরার জন্য তৈরি হলো,
দুজনেই বসে আছে বিমানে,,শিশিরের মন খারাপ,
তনু-বাবা ঠিক হয়ে যাবে,টেনশন করিয়েন না
রাতে দুজনেই বাংলাদেশে এসে গেলো,,শিশির দেরি না করে হসপিটাল গেলো সোজা,বাবার নাকি হার্ট attack হইসে,,
শিশির-কি এমন ঘটসে যে বাবার এই অবস্থা হলো,,
মা-মীম একটা ছেলেকে পছন্দ করে ছেলে পাত্তা দেয় না দেখে বিষ খাইতে নিসিলো
শিশির মীমকে চড় মারতে যাবে তনু আটকালো,,
তনু-কি করতেছেন কি
শিশির গিয়ে চেয়ারে বসলো মাথায় হাত দিয়ে
মা শিশিরকে বুঝাচ্ছে,,
তনু-মীম তুই আমাকে বলস নাই কেন
মীম-ওরে আমি অনেক ভালোবাসি
তনু-আচ্ছা বাবা সুস্থ হোক,আমি ঠিক করে দিব
মীম-ওকে ভাবী
বাবার জ্ঞান ফিরেছে,,
কয়েকদিন পর বাবাকে হসপিটাল থেকে ছাড়া হলো,,
মীম ফোন নিয়ে শিশিরকে ছবি দেখালো
শিশির-চেনা চেনা মনে হচ্ছে,কোথায় যেন দেখেছি
তনু রান্নাঘরে কাজ করতেছে,কারন আজ ছেলের পরিবার আসবে,,শিশিরদের background এর কথা শুনে আর মীমকে দেখে নাকি ছেলের পছন্দ হইসে,
শিশির বাবাকে যখন বললো ছেলে মীমকে বিদেশ নিয়ে যাবে বাবাও রাজি হলো
তনু নাস্তা রেডি করে রেখে গোসল করতে গেলো,
গোসল করে একটা বেগুনি রঙের শাড়ী পরলো,,
বাথরুম থেকে বের হতেই তনু দেখলো শিশির ইয়া বড় হা করে তাকিয়ে আছে
তনু-কি?
শিশির-Crush!
তনু-?এতদিন আমার crush ছিল আর এখন আমি উনার crush,বাহ ভালোতো
তনু চুল ঝেড়ে চলে যেতে নিলো শিশির হাত ধরে আটকালো,,
তনু-??
শিশির তনুর মাথায় ঘোমটা দিয়ে দিলো,
শিশির-হুম এখন আমার বউ বউ লাগতেছে,
ছেলেরা এসে গেসে,তনু তাড়াতাড়ি মীমকে সাজিয়ে নিয়ে গেলো,
তনু চোখ তুলে তাকিয়ে ছেলেকে দেখে অবাক হয়ে গেলো,আরে এটা তো বিদেশি সেই ছেলেটা!!
ছেলেটা তনুর দিকে মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে
তনু থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
ছেলেটা মীমের দিকে একবার ও তাকাচ্ছে না
শিশির ছেলেটাকে প্রশ্ন করলো,ছেলেটা তনুর দিকে তাকিয়ে উত্তর দিচ্ছে,তনু রুমে চলে আসলো,
শিশির-মা আমি আসতেছি
শিশির-কি হলো তনু,শরীর খারাপ?
তনু-নাহ আসলে
মা শিশিরকে ডাকলো,শিশির চলে গেলো,,
ছেলের পরিবার নাকি ফোন দিয়ে জানাবে
মীম খুশিতে লাফাচ্ছে,,
তনুর মন খারাপ,বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে,এতবড় co incident হয় কি করে
শিশির তনুকে জড়িয়ে ধরলো, তনু চমকে উঠে তাকালো পিছনে
শিশির সেদিকে খেয়াল না করে তনুকে কোলে তুলে নিয়ে গেলো,শিশির তনুকে ছুঁয়ে দিচ্ছে তনুর খবর নাই
শিশির-কি হইসে তনু?
তনু-ঐ ছেলেটাকে আমি আমেরিকা দেখেছি,
শিশির -হুম,আমার ও মনে পড়সে,ভালই ছেলেটা,,পছন্দ হইসে আমার
তনু-ছেলেটা ভালো কিনা খবর নিয়ে দেখিয়েন
শিশির-হইসে বাদ দাও
শিশির তনুকে ধরে শুইয়ে দিয়ে ওর মুখ টিপে ধরে থুতনিতে চুমু দিলো,তারপর কপালে,তনুর গলা চাঁদের আলোয় স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে,শিশির সেদিকেই তাকিয়ে আছে,তারপর সেখানে নাক ঘষতেই তনু কেঁপে উঠলো,,
তনু শিশিরের কাঁধ খামছে ধরে আছে,,শীত করতেছে হঠাৎ করে,,শিশির চাদর টেনে নিলো♥
পরেরদিন সকালে ছেলেটার পরিবার জানালো তাদের মেয়ে পছন্দ হয়নি,
মীম তো কাঁদতে কাঁদতে শেষ,
তনু মীমকে সামলাচ্ছে,,মীমের ফোনে একটা কল আসলো,মীম রিসিভ করে কেঁদে দিলো,,
ছেলেটা ফোন দিসে,,তনুকে দিতে বললো
মীম তনুকে দিলো ফোন
ছেলেটা-একটা শর্তে আমি মীমকে বিয়ে করবো
তনু-কি শর্ত
ছেলেটা-তুমি শিশিরকে ডিভোর্স দিবে,আমি তোমাকে বিয়ে করে নিয়ে যাব,,মীমকে বেশি টাইম দিব না,তোমাকেই দিব
তনু বারান্দায় আসলো
তনু-ওহ আচ্ছা,,ডিভোর্স??জানস কত কাঠখড় পুড়িয়ে আমি শিশিরকে পাইসি??ও আমার crush, অনেক কষ্টে ওরে বিয়ে করসি আর তুই ওরেই ডিভোর্স দিতে বলস???আর মীম??তুই মীমকে ডিজার্ভ করস না,মীম তোর থেকেও ভালো ছেলে পাবে,আমরা খুঁজে বের করবো,,
তনু লাইন কেটে রেখে চলে আসলো
মীম-কি বললো?
তনু-বললো তুমি যাতে মন খারাপ না করো,তোমাকে বুঝাতে,ওর চেয়েও ভালো ছেলে পাবা তুমি
মীম-???
তনু রুম থেকে বের হতেই শিশির তনুর হাত ধরে রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো,,
তনু-কি হইসে
শিশির-আমি বারান্দাতে থেকে সব শুনেছি,,ছেলেটাকে তুমি কি আগ থেকে চিনো?
তনু-আমাকে disturb করসে আমেরিকাতে,বলসিলাম আপনাকে
শিশির-ছাড়ব না আমি ওরে,বাই দ্যা ওয়ে,আমাকে বিয়ে করতে তোমার কাঠখড় পোড়াতে হইসে?
তনু-হুম
শিশির-কি করসেন আপনি?
তনু-কত নফল নামাজ পড়সি,তায়াজ্জুত নামাজ পড়সি,রোজা রাখসি,তারপর পাইসি আপনারে
শিশির-ওহ তাই বুঝি,তো এখনও কি আপনার crush আমি?
তনু-হুম,কোনো সন্দেহ আছে নাকি??
শিশির-ভাবতে দাও
তনু শিশিরের চুল টেনে ধরলো,,শয়তান ছেলে,এখনও আমাকে chance দিবে কি দিবে না ভাবতেছে
শিশির তনুকে দেওয়ালের সাথে লাগিয়ে চেপে ধরলো,,
শিশির-chance তো সেদিনই দিয়ে দিসি
তনু শিশিরের চুল,,ঠোঁট,চোখ,নাক দেখতেছে,মনে হয় যেন এই প্রথম দেখতেছে
শিশির তনুর চাহনি দেখে অবাক হয়ে গেসে,মেয়েটা এমন কেন,,এমন ভাবে দেখতেছে যেন আমাকে আজ নতুন দেখতেছে,,
শিশির-এভাবে দেখ কেন তুমি
তনু-আমার বর তাই
শিশির-দেখে কি হবে
তনু-১২টা বাচ্চা হবে
শিশির-দেখাদেখি তেই?
তনু শিশিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে হাসতে হাসতে চলে যেতে নিলো আর দুম করে নিচে পড়ে গেলো
শিশির -বেশ হইসে,ইদানিং এত পড়ে যাও কেন??
তনু-?দূর্বল হয়ে গেসি,জামাই আদর কম করে তাই
শিশির-ওহ আচ্ছা,,কম??তুমি এত কিছু জানসো কোথা থেকে
তনু-আপনার মুখ দেখলেই romance এর সংজ্ঞা চলে আসে
শিশির-?????হাসাইলা
শিশির তনুকে উঠালো ধরে,,
মা ডাকতেছে,মীম নাকি অজ্ঞান হয়ে গেসে,,শিশির তাড়াতাড়ি doctor ডাকলো,,
doctor -কিছু খায়নি তাই দূর্বল হয়ে জ্ঞান হারিয়েছে,সমস্যা নাই
তনু-আপনি ভালো দেখে একটা ছেলে খুঁজেন
শিশির-হুম,
রাতে শিশির অফিস থেকে এসে দেখলো রুম অন্ধকার,দরজা খুলে ঢুকতেই মনে হলো বাদুড়ের মত কিছু এসে পিছন থেকে লাফ দিয়ে জড়িয়ে ধরে পিঠে উঠে গেসে
শিশির ভয় পেলো না
তনু-এই মিঃ ভয় পাও নাই
শিশির-আমার বাসার বাদুড়রে আমি চিনি
তনু-ভয় পাও নইলে কামড়ে দিব
শিশির-আউচ আমি ভয় পাইসি???
তনু-হালুম
তনু করচ করে কামড় দিয়ে দিলো শিশিরের কানে
শিশির-বাদুড় হালুম করতে এই 1st শুনলাম???
তনু-?কচু,ধুর
তনু নামতে গিয়ে দুম করে নিচে পড়ে গেলো
শিশির-doctor এর কাছে নিয়ে যেতে হবে যখন তখন পড়ে যাওয়ার জন্য
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_41
শিশির-শুনো আমাকে মালয়েশিয়া যেতে হবে
তনু-ওয়াও,আমি প্যাকিং করতেছি
শিশির-না,আমি একা যাব,তোমার ভিসা করতে লেট হবে,আর আমাকে আজই যেতে হবে
তনু-কিহ,কতদিন?
শিশির-২০/২৫দিন
তনু-নাহ আমি থাকতে পারবো না
শিশির-সরি বউ,কি করবো,আজ রাতেই রওনা দিতে হবে,
তনু কেঁদে দিলো শিশিরকে জড়িয়ে ধরে
শিশির-বাবু চলে আসব তাড়াতাড়ি

তনু সোফায় বসে কাঁদতেছে আর চোখ নাক মুছতেছে আর শিশির জামা কাপড় গুছাচ্ছে
তনুর কান্না থামতেছেই না
শিশির ব্যাগ রেডি করে এসে ওর পাশে বসলো,,
হাত দিয়ে গাল মুছে দিলো তনুর,ওকে টেনে কাছে নিয়ে আসলো
তনু-সরুন কথা কমু না
শিশির-কাজের জন্য যেতে হচ্ছে
তনু-হুহ
শিশির তনুর গলায় চুমু দিলো,ওকে আরও কাছে টানতেই তনু উঠে বারান্দায় চলে গেলো,
শিশির গিয়ে ওকে গ্রিলের সাথে চেপে ধরলো পিছন থেকে
তনু-ঢং দেখাতে হবে না
শিশির তনুর চুলে মুখ ডুবিয়ে নিলো,তনু হাত দিয়ে সরাতে যাবে ওর হাত ধরে ফেললো শিশির,
শিশির-ভালোবাসতে দাও,২০/২৫দিন পারবো না
তনুর গলায় নাক লাগাতেই তনু কেঁপে উঠলো,,
শিশির তনুকে নিজের দিকে ফিরিয়ে কোলে তুলে নিলো,বিছানায় নিয়ে গেলো,তনুর মুখে একটুও হাসি নেই,বারবার নেশার চোখে শিশিরকে দেখছে,মনে হচ্ছে শিশির ওকে ছেড়ে আজীবনের জন্য চলে যাবে
শিশির তনুর ঘাড়ে গলায় আদর করছে আর তনু চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে শিশিরকে,,মন বলতেছে যেও না শিশির
তনুর ঠোঁটে প্রানভোরে চুমু দিলো শিশির,শিশিরের নিজের কাছেই মনে হচ্ছে যেন হাজার বছর দেখা হবে না,
রাত ১টা বাজে,,২টাই বের হবে শিশির,
তনু শিশিরের বুকে ঘুমিয়ে আছে,শিশিরের বুকের চামড়া শক্ত করে ধরে,
শিশির-তনু
তনু-যেতে দিব না
শিশির-বাচ্চামি করিও না তনু
তনু শিশিরকে ছেড়ে উঠে চলে গেলো
শিশির শার্ট নিয়ে পড়ে মা বাবাকে বলে আসলো,তনু বারান্দায় কাঁদতেছে,
শিশির তনুর হাত ধরে দরজা পর্যন্ত আনলো
তনুর চোখ ছলছল করতেছে,শিশির তনুর কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো,
তনু দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে,যতদূর পর্যন্ত শিশিরের গাড়ী দেখা যায়,
শিশির চলে গেলো,তনু শিশিরের একটা ছবি নিয়ে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুতেই ঘুম এসে গেলো,
পরেরদিন সকালে তনু উঠেই ফোন চেক করলো,নাহ শিশিরের খোঁজ নেই,
দুপুরের দিকে শিশির ফোন দিলো সে মালয়েশিয়াতে পৌঁছেছে,
শিশির সারাদিন কাজ করতে করতে শেষ,খাওয়ার ও টাইম পায় না,এদিকে তনু ফোন দিলে শিশিরকে ঠিকমত লাইনে পায় না
তনুর সারাদিন মন খারাপ থাকে,মায়ের সাথে কথা বললেও দিন ভালো যায় না তনুর,,
কবে যে শিশির আসবে
ইদানিং তনুর শরীরটা খুব খারাপ,কিছু খেতে মন চায় না,
মা জোর করে খাওয়ায় তাও বমি করে দেয় তনু,,
তনুর একদিন সন্দেহ হলো সে pregnant নইতো,কিন্তু কিভাবে, আমি তো পিল খেয়েছিলাম,
তনু শিশিরকে জানানোর জন্য ফোন দিলো কিন্তু শিশির কাজের জন্য ফোন রিসিভ করতে পারলো না,
মা-তনু কিরে তোর গায়ে যে খুব জ্বর,চল হসপিটালে যাই
তনু-নাহ মা আমি ঠিক আছি
মা আর জোর করলো না,
তনু pregnancy এর কথা ভুলে গেলেও বমি করলেই আবার মনে আসে,তো একদিন pregnancy test করালো,,নেগেটিভ আসছে,একটা দাগ ঘাড়ো,একটা দাগ হালকা দেখা যাচ্ছে,তার মানে নেগেটিভ হবে মেবি,হুম,pregnant হলে ঘাড়ো হতো,
তনু শান্তিতে বিছানায় গেলো,শিশির ফোন দিলো,তনু গিয়ে রিসিভ করলো
শিশির-কি হইসে?তুমি ঠিক আছো?কাজের জন্য তখন ধরতে পারি নাই
তনু-নাহ, এমনিতেই,
শিশির ভিডিও কলে তনুকে দেখলো,তারপর কাজে চলে গেলো,রাতে তনুর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেলো,বমি করতে করতে শেষ,,শেষে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লো,
কাঁথা ছাড়াই
সকালে এত জ্বর আসলো যে সোফা থেকে উঠতেও তনুর খুব কষ্ট হচ্ছিলো
মা দেখতে এসে টেনসানে পড়ে গেসে,
একজন মহিলা doctorকে শিশিরের বাবা নিয়ে আসলেন
doctor -আমি ঔষধ লিখে দিসি,খাওয়াবেন,আর হ্যাঁ তনু, তুমি কি pregnant?
তনু-নাহ,চেক করসি,একটা দাগ হালকা আরেকটা ঘাড়ো
doctor -আরে এটা পজিটিভ ও হতে পারে,তুমি হসপিটালে গিয়ে আবার test করাও
মা খুশিতে হাসতেছে
তনু-মা আমি pregnant না,আমার হিসেব আছে,পিল খেয়েছিলাম আমি
মা-তাহলেও সমস্যা নাই,test করে নিস
কয়েকদিন হয়ে গেলো,তনুর আর test এর কথা মনে নেই,,
বিছানায় শুয়ে আছে,সকাল ১১টা বাজে
শিশির চুপিচুপি বাসায় ঢুকলো,,
বুয়া দরজা খুলেছে,শিশির মানা করলো যাতে না বলে
শিশির মা বাবাকে দেখে এসে তনুর রুমের দরজা খুললো,তনু ঘুমাচ্ছে,,
শিশির তনুর কানের কাছে নাক লাগাতেই তনু ভয়ে উঠে বসলো
শিশিরকে দেখে খুশিতে তনু শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো
শিশির-surprise!!!!
তনুর খুশি দেখে কে
শিশির-এই তোমার গায়ে এত জ্বর কেন,আর আমাকে বলোনি কেন
তনু-অল্প বেশি না
শিশির -ঔষধ খাচ্ছো?
তনু-হুম,ভালো হয়ে যাবে
তনু বিকালে কফি বানিয়ে বারান্দায় আনলো,শিশিরের হাতে কফির মগ দিলো,,
কফি খাচ্ছে আর দুজনে গল্প করতেছে
হঠাৎ তনুর মাথা ঘুরে উঠতেই নিচে পড়ে যেতে নিলো শিশির ধরে ফেললো,তনু অজ্ঞান হয়ে গেসে,
শিশির তনুকে বিছানায় এনে শীঘ্রই doctor কে ফোন দিলো
doctor -আমি তো সেদিন ও বলসি যে test করান,উনার হাবভাবে মনে হয় উনি pregnant
শিশির-কিহ??
শিশির মায়ের দিকে তাকালো
মা-তনু বলসে আমারে সে pregnant না
শিশির-আচ্ছা,আমি আজ ওরে নিয়ে হসপিটালে test করাই আনবো
দুপুরের দিকে তনুর জ্ঞান আসলো,,
শিশির ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে
তনু-কি হইসে
শিশির-তুমি pregnant আর আমি আজ এতদিন পর জানলাম?কেন?
তনু-নাহ pregnant না
শিশির-যাই হোক,test করাও নি কেন
তনু-ভুলে গেসিলাম
শিশির-রেডি হয়ে নাও,হসপিটালে যাব
দুজনেই হসপিটালে বসে আছে,test করাতে নিয়ে গেলো তনুকে
রিপোর্ট রাতে দিবে
গাড়ীতে তনু দুবার বমি করসে
মা-একি তনুর কি হইসে
শিশির-বমি করতে করতে দূর্বল হয়ে গেসে
শিশির তনুকে কোলে তুলে নিয়ে গেলো
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_42
রাতে যখন তনু চোখ খুললো,দেখলো মা বাবা,শিশির মীম হাসি মুখে তাকিয়ে আছে,,,
তনু উঠে বসলো
শিশির তনুর হাতে রিপোর্ট দিলো
তনু চেক করে দেখলো সে গর্ভবতী
তনু কিছুক্ষনের জন্য অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো রিপোর্টের দিকে
মা-আমি আজ অনেক খুশি,
মা তনুর কপালে চুমু দিলো,জড়িয়ে ধরলো তনুকে,
তারপর আস্তে আস্তে সবাই চলে গেলো
শিশির তনুর গা ঘেঁষে বসলো
শিশির-তা আপনি না এত তাড়াতাড়ি বাবু নিবেন না?
তনু-ভুলে কনসিভ করসি,
শিশির-its ok,,আমি তোমার খেয়াল রাখবো তুমি পারবে সব,,don’t worry
শিশির তনুকে বাবুর পিক দেখাচ্ছে শুয়ে শুয়ে
তনু-আচ্ছা যদি টুইন বেবি হয়?
শিশির-তোমার এই ছোট্ট পেটে ২টা বাচ্চা হবে না
তনু-?
শিশির -থাকো আমি বাজার করে আনি,তোমার এখন প্রচুর খেতে হবে
তনু-আজ না,কাল যাইয়েন,আজ আমার সাথে থাকুন না প্লিস,,
শিশির-ওকে,
শিশির ঘুমাচ্ছে,তনু চুপিচুপি বুয়ার কাছে গেলো
তনু-বুয়া,তোমার বাসার ঐদিকে তো কাঠবাদাম গাছ আছে,আমার জন্য কয়েকটা আনিও,,,জমজ হলে ভালো হয়
বুয়া-আইচ্ছা
পরেরদিন শিশির বাজার করতে চলে গেলো
বুয়া বাদাম কেটে এনে তনুর হাতে দিলো,,তনু টিভি দেখতে দেখতে সব বাদাম খেয়ে নিলো
তনু-ইস,জমজ ছিলো কিনা দেখতে ভুলে গেসি,ধুর!
তনু শিশিরকে ফোন দিয়ে বললো জমজ কলা আনতে
শিশির ইচ্ছে করে আনে নাই,কারন জমজ বাচ্চাতে তনুর মতন বাচ্চারই ক্ষতি হবে
শিশির বাজার করে এনে বুয়ার হাতে দিলো,
তনু-আনছেন?
শিশির-জমজ তো পেলাম না
তনু-?ওওহ
তনু চলে গেলো
মা তনুর সাথে গল্প করতেছে,মা তনুকে অনেক বুঝালো যে দুটো বাচ্চা বহন করা অনেক কঠিন,এমন পাগলামো যেন না করে
তনু তাও বুঝতেছে না
তনু-কবে আলট্রা করাবে?
শিশির-এখন যাই চলো??পেটের নাড়িভুড়ি দেখা যাবে
তনু-?
শিশির কথা বলতে বলতে তাকিয়ে দেখলো তনু হা করে ঘুমাচ্ছে,কাল সারা রাত ঘুমাতে পারে নি,খালি বমি করসে,,
শিশির তনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,,আর মুচকি হেসে দিলো,সে বাবা হতে চলেছে,,
রাতের দিকে তনু উঠে বসলো
তনু-এই যে আমি বাইরে হাঁটতে যাব
শিশির-না একদম না,হালকা শীত পড়তেছে,তোমার জ্বর বেড়ে যাবে
তনু-যাব!
শিশির কি আর করবে, তনুর হাত ধরে বের হলো,,ফাঁকা রাস্তা দিয়ে হাঁটতেছে
তনু-আচ্ছা এখন যদি গুন্ডা attack করে?
শিশির-আমি বাঁচাবো তোমাকে
তনু-বাবুর নাম কি রাখবো?
শিশির-S আর T দিয়ে একটা নাম খুঁজো(পাঠক পাঠিকারা খুঁজুন,সেই নাম রাখবো আমি)
তনু-S দিয়ে একজনের নাম,T দিয়ে আরেকজনের নাম
শিশির-তুমি এত সিউর কেমনে যে বাবু টুইন হবে
তনু-আমার মন বলতেছে
শিশির-কচু
শিশির আইসক্রিম কিনে দিলো তনুকে,
তনু আইসক্রিম শেষ দিয়ে আবার তাকিয়ে রইলো
শিশির-কি?
তনু-আরেকটা?
শিশির আরেকটা কিনে দিলো তনুকে
পার্কের সিটে বসে আছে তনু শিশির,তনু শিশিরের কাঁধে মাথা রেখে আইসক্রিম খাচ্ছে
শিশির-জানো আমি কখনও ভাবিনি যে নাতাশা নয় তনু আমার ওয়াইফ হবে,জীবনে কল্পনাও করিনি আমার ভাগ্যে কার নাম লিখা আছে,,
তনু-সেদিন আপনার সাথে আমার প্রথম দেখা maybe আল্লাহর ইচ্ছা ছিলো
শিশির-হুম,
তনু-আর আপনি আমাকে পাত্তা দেননি ?
শিশির-?অচেনা মানুষকে পাত্তা কেন দিব
তনু শিশিরের হাতে চিমটি কাটলো,
শিশির-চলো এবার যাই
তনু-ওকে
কিছুদূর হাঁটতেই শিশির বুঝলো তনুর হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে,শিশির তনুকে কোলে তুলে নিলো,,বাসায় আনার পর ঔষধ খেয়ে শুতেই তনুর ঘুম এসে গেলো,,
দুটি বাচ্চা হাসতেছে,,হঠাৎ একটা রক্ত মাখা হাত এগিয়ে আসতেছে,মুখটা খুব চেনা,,শিশিরের মতন দেখতে,,সে এসে বাচ্চা দুটির গলা টিপে ধরতেই তনু চিৎকার দিয়ে উঠে গেলো
তনু-আমার বাচ্চা,,
তনু পাশে শিশিরকে দেখলো না
উঠে গিয়ে রুম থেকে বের হতেই দেখলো শিশির মা বাবার সাথে কথা বলতেছে,
তনু দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে,স্বপ্নে দেখা সেই হাত,,একদম সেম,ঘড়িটাও,
মা-কিরে তনু,আয়য় বস
শিশির তনুর দিকে তাকালো
কেন জানি তনুর খুব ভয় করতেছে শিশিরকে দেখে,পাশে বসতেই শিশির তনুর হাত ধরলো,তনু কেঁপে উঠলো
শিশির-এত তাড়াতাড়ি উঠে গেলা?
তনু-এমনিতেই
তনু উঠে চলে গেলো,,
শিশির রুমে এসে দেখলো তনু ঘুমিয়ে গেসে,
পরেরদিন শিশির ভোরে উঠে অফিস চলে গেলো,,অনেক কাজ,,
শিশির কাজ করতে করতেই হঠাৎ দেখলো কতগুলো ছেলে এসে ওর রুমের ভিতর ঢুকে গেলো
শিশির-কে??রহিম চাচা,টিপু!!
বিদেশি ছেলেটা এসে দাঁড়ালো,ওর লোকেরা সবাইকে আঁটকে রেখেছে
শিশির-কি???এই নাটকের মানে কি?
(ছেলেটার নাম অমি)
অমি-তোমার বউ তো pregnant তাই না?
শিশির-নাহ
অমি-ওহ তাই,,ওরে কল দিয়ে এখানে আসতে বলো,,
শিশির-বেরিয়ে যাও ফল ভালো হবে না,
ছেলেটা শিশিরকে ফোন দেখালো,একটা ভিডিও,যেখানে মীমকে চেয়ারে বেঁধে বসিয়ে রাখা হইসে,,
অমি-বউরে ডাকো নইতো কি করবো ভাবতে আমার সময় লাগবে না,,
শিশির অমিকে মারতে যেতেই ৩জন মিলে শিশিরকে আটকে ধরলো,
অমি শিশিরের ফোন শিশিরের হাতে ধরলো,,লাইভে মীম কে দেখালো,,মীমের দিকে গুলি ধরে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে,,
শিশির চুপচাপ ফোন দিলো,মেসেজ করতে চেয়েছিলো কিন্তু অমি তা বুঝতে পেরে মীমের কাছে থাকা ছেলেটিকে ইশারা করতেই ছেলেটা মীমকে ২টা থাপ্পড় মারলো
মীম কাঁদতেছে
শিশির আর উপায় না পেয়ে তনুকে ফোন দিলো,
শিশির-তনু রিসিভ করিও না
তনু গোসল করে বের হলো,,ফোন গিয়ে রিসিভ করলো,
তনু-হুম বলেন
শিশির-তনু!
অমি চোখ রাঙালো
শিশির-আমার অফিসে আসো
তনু-এখন??কেন?
শিশির-আসো
তনু-ঠিক আছে
তনু রেডি হয়ে মাকে বলে বের হলো,,শিশিরের অফিসে গিয়ে দেখলো দারওয়ান নেই,কেমন খালি খালি লাগতেছে,
তনু-সবাই গেলে কই?
শিশির দোতলায় দাঁড়িয়ে তনুর দিকে তাকিয়ে আছে,৩জনে ওকে ধরে আছে,ওর মুখে কস্টিব লাগানো,
তনু অফিসের ভিতরে ঢুকতেই সাথে সাথে একটা ছেলে দরজা লাগিয়ে ফেললো,
তনু-(নতুন stuff নাকি)
তনু শিশিরের রুমের দিকে গেলো,,হাসি মুখে দরজা খুলে ঢুকে দেখলো শিশিরকে কয়েকটা ছেলে ধরে আছে
তনু-একি,শিশির,আপনারা কারা,ওকে ছাড়ুন
অমি-ছেড়ে দাও
তনু শিশিরকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়ালো
শিশির শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
অমি তার একটা লোককে দিয়ে এক গ্লাস জুস শিশিরের দিকে এগিয়ে দিলো
শিশির গ্লাসটা হাতে নিয়ে তাকিয়ে আছে,,
তনু-কি হচ্ছে এসব শিশির??
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_37/38/39

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_37
Writer-Afnan Lara

শিশির আবার এগিয়ে আসলো,তনু ধাক্কা দিতে গেলো শিশির তনুর দুহাত চেপে ধরলো
শিশির-কি?আমার দোষ কি
তনু-তুই আমাকে ভালোবাসোস নাহ
শিশির-ওহ আচ্ছা তাই
শিশির-কি করে বুঝলেন??
তনু-ভালোবেসে যেগুলো করে আপনি সেগুলো avoid করেন
শিশির-হুম বুঝলাম,আর তাই আমি তোমাকে ভালোবাসি না??
তনু-হুম
শিশির তনুকে উঠে বসালো,হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে গেলো,ইশারা করলো যাতে তনু শিশিরের পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ায়
তনু মুখ আরেক দিকে ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো
শিশির টান দিয়ে তনুকে বুকে এনে কোমড় ধরে উঁচু করে ধরলো,,
তনু-ঢং
শিশির তনুকে চুমু দিতে লাগলো,কিন্তু তনু এমন একটা লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে যেন মেরে ফেলবে শিশিরকে,একটা ছেলে ওরে কিস করতেছে সেদিকে ওর একটুও খেয়াল নেই,
শিশির ২মিনিট পর তনুকে ছেড়ে দিলো,,
তনু ঠাসঠুস করে চলে গেলো
শিশির-যাক বাবা এটা করলেও দোষ ওটা করলেও দোষ,
তনু খাটে গিয়ে শুয়ে পড়তেই ঘুম নেমে এলো,,
শিশির তনুর জামার চেইন ধরে জোরেসোরে এক টান দিলো
তনু চিৎকার দিয়ে উঠে বসে জামা ধরলো
শিশির-কি?এখন কিসের ঘুম
তনু-হারামি কুত্তা,কত কষ্টে একটু ঘুম আনিয়েছিলাম,
তনু খাট থেকে নেমে শিশিরকে ধরে ওর গায়ের শার্ট খুলে নিয়ে চলে গেলো
তনু-বেইজ্জতি=বেইজ্জতি
শিশির -হুহ
শিশির খালি গায়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে style করে কয়েকটা ছবি তুললো,তনু আড়চোখে তাকিয়ে আছে
তনু-কারে দিবেন এই ছবিগুলো
শিশির-post দিয়ে লিখবো girls weakness
তনু-কিহ????
তনু-ঠিক আছে ফাইন
তনু জামার হাতা অর্ধেক নামিয়ে কয়েকটা ছবি তুলে ফোন হাত নিলো post দেওয়ার জন্য,শিশির ছোঁ মেরে ফোনটা নিয়ে চলে গেলো
তনু-নিলেন কেন,আমিও post দিব,দিন
শিশির-শুনো তোমার আর আমার মধ্যে প্রচুর তফাৎ,আমি ছেলে আর তুমি মেয়ে,বুঝছো,এই পিক তুমি দিবা না
তনু-দিব,আপনি দিলে আমিও দিব
শিশির -তনু বাড়াবাড়ি করবা না
তনু ফোন নেওয়ার জন্য হাতাহাতি করতেছে,শিশির তনুকে আটকাতেই পারতেছে না,একটা সময় শিশির রেগে গিয়ে মারা জন্য হাত উঠাতেই তনু থেমে গেলো,
তনুর চোখে পানি এসে গেসে,চোখ মুছে ফোন ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো,
শিশির-তনু
তনু বাথরুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো,
শিশির-তনু দরজা খুলো,সরি তনু
শিশির গিয়ে খাটে চুপচাপ বসে থাকলো,তনু আসার অপেক্ষায়,
অনেকক্ষন পর তনু আসলো,চোখ মুখ ফুলে আছে মনে হয় কাঁদছে অনেক,খাট থেকে ওড়না খুঁজে পরে নিয়ে খাটের এক কোণে শুয়ে পড়লো
শিশির তনুকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো,ওর ঘাড়ে নাক লাগিয়ে সরি বললো,
তনু কিছু বললো না
শিশির-আমি ঐ ছবি post করি নাই,আর করবো ও না
শিশির-আর এই ওড়না কেন?
শিশির ওড়না খুলতে গেলো তনু দিলো না,
শিশির-রাগ কমেনি
শিশির তনুর ঘাড়ে কাতুকুতু দিতে লাগলো তনু উঠে বসে গেলো
শিশির-সরি,এই যে কানে ধরলাম
তনু-মারুন
শিশির-দেখো এভাবে বলো না
তনু -ছবি upload করুন,আমি আর কিছু বলবো না,আমি তো আপনার জোর করে বিয়ে করা বউ
শিশিরের মনটা খারাপ হয়ে গেলো,
তনু কেঁদে দিলো আবার,,
শিশির কিছু না বলেই তনুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,,
তনু শিশিরের বুকে কাঁদতেছে
শিশির-আর কেঁদো না প্লিস,হাত আমি কেটে ফেলবো
তনু কাঁদা শেষ করে শিশিরের মুখের দিকে চেয়ে রইলো
শিশির-সত্যি কাটতাম?
তনু-?তাহলে কি দুষ্টুমি করে বললেন?
শিশির-তুমি সিরিয়াস নিসো?হাত কাটলে তোমারে ধরে চুমু দিব কি করে
তনু-আমার হাত আছে না
শিশির-কি বজ্জাত মেয়েরে বাবা,
তনু শিশিরের গায়ে কয়েকটা কিল ঘুষি দিয়ে দিলো,
দিয়ে শিশিরকে গালি দিয়ে শিশিরের বুকে শুয়ে পড়লো,,
শিশির ফোনটা হাতে নিয়ে একটা ছবি তুললো দুজনের
তুলে সেটাই post দিলো,শিশিরের সব frd রা তো comment করা শুরু করে দিলো,,আসলে ছবিটা অনেক কিউট আসছিলো,,
বিকালের দিকে শিশির তনুকে টেনে তুললো,তনু শিশিরের কেনা টপস পরে বের হলো,,দুজনে ঘুরে আবার ফিরে আসলো,,
তনু-আমার এখানে একদম ভালো লাগতেছে না,মায়ের কথা মনে পড়তেছে
শিশির-?অন্য কোনো মেয়ে হলে বলতো এখানেই থেকে যাবে
তনু-হুম,আর আমি বাকিদের মতন না
নাতাশা ফেক আইডি থেকে শিশিরকে comment করসে,জান আমি আর তুমি, একটা মেয়ে এসে reply তে বললো যাক তোদের অবশেষে বিয়েটা হলো
শিশির-আজব তো
শিশির comment গুলো ডিলেট করে দিলো
তনু-কি হয়সে?
শিশির-কিছু না,চলো কফি খাব
শিশির তনুকে নিয়ে হোটেলের নিচে আসলো,,
তনু দেখলো শিশির ছবিটা post দিসে,তনুরর খুশি দেখে কে
শিশির-কি ম্যাম এত হাসির কারন?
তনু -ছবিটা দেখে
শিশির-welcome ?
তনু-??????☺
রুমে এসে দুজনে টিভি দেখতে বসলো,,
শিশির বারবার তনুর দিকে তাকাচ্ছে
তনু-কিছু বলবেন??
শিশির-নাহ
তনু-?
তনু চুলে খোঁপা করতেছে,তাও শিশির তাকিয়ে আছে
তনু-কি হইসে?
শিশির-আমার আইডিতে নাতাশার মেবি অনেক ফেক আইডি আছে,,খুঁজে বের করে blk দিতে পারবা??
তনু-ফোন দিন
শিশির তনুকে ফোন দিলো,
তনু আইডি খুঁজে একটা আইডি পেলো নাম Raha islam,সেটাকে blk দিলো
শিশির-বুঝলা কেমনে এটা নাতাশার
তনু-আইডির একটা poste ও কারোর লাইক নাই,আর post মাত্র ২টা দেওয়া,,তার উপর,,নিকনেম S এর বউ
শিশির-ওওওওও,বাপরে এত কিছু
তনু-?তোরে আমি খুন করে জেলে যামু
শিশির-কেন,কি করলাম
তনু-বডি দেখাইয়া খালি গায়ে পিক তুলে ১০০টা মাইয়ারে পাগল বানাইসে,এখন ঢং করে,
তোমরা crush রা আসলেই খারাপ
শিশির-সবাই না
তনু-হুম,,কিন্তু ঐ সবার মধ্যে তুমি পড়ো না,তুমি রিয়েলিই খারাপ
শিশির তনুর দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো
শিশির-কোন ধরনের খারাপ,চারিত্রিক নাকি লজিকালি
তনু-ইয়ে মানে,
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_38
তনু-?সত্যি বলবো?
শিশির-বলেন
তনু-চারিত্রিক ?
শিশির-কিহ??কেন এটা বললে কেন
তনু-কিস করার সময় নাতাশাকে মনে পড়ে,বাট কিস করেন তনুকে,এটা তো চরিত্রের দোষ
শিশির-??
তনু-হুহ,আচ্ছা একটা কথা বলেন
শিশির-হুম
তনু-আপনি সত্যি নাতাশাকে এখনও ভালোবাসেন?
শিশির-নাহ, আমি ওকে ভালোবাসি না
তনু-তাহলে ওর কথা আপনার এত মনে আসে কেন?
শিশির-আসে না,আগে আসতো,
তনু-?আমার আর নাতাশার মধ্যে কি তফাৎ?
শিশির-নাতাশা একজনের সাথে খুশি না,আর তুমি একজন নিয়েই খুশি
তনু-????
শিশির-?
তনু শিশিরের হাত থেকে ফোন নিয়ে চ্যাটলিস্ট চেক করতে বসলো
After 10mnt
তনু ব্যাব্যা করে কাঁদতেছে আর শিশির টিসু এগিয়ে দিচ্ছে
তনু-তুই এতগুলো মেয়ের সাথে চ্যাট করছস,আমি জীবনে কোনো পোলারে পাত্তা দিই নাই আর তুই???
শিশির-আরে এটা অনেক আগের
তনু শিশিরকে কিল ঘুষি দিয়ে বালিশ নিয়ে সোফায় চলে গেলো
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে খাটের মাঝখানে বসে আছে,খাটে হেলান দিয়ে,নায়ক নায়ক লুক
তনু -?
শিশির নিজের শার্টের বোতাম একটা একটা করে খুলতেছে,তনুর দিকে তাকিয়ে
তনু সোফায় উঠে বসলো,,হুহ,টাচ ও করতে দিব না
শিশির শার্ট খুলে ফেলে দিলো,উঠে এসে তনুর দিকে আসতে লাগলো,
তনু-টাচ করতে দিব না একদম
শিশির তনুর একদম কাছে এসে নিচু হয়ে গেলো
তনু মুখ ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে
তনু-দাঁত ভেঙে দিব
শিশির তনুর পাশ থেকে সোফায় রাখা টি শার্টটা নিয়ে চলে গেলো
তনু থ মেরে বসে আছে
শিশির-হিহি?
শিশির গিয়ে টিভি দেখতে বসলো
তনু-এই
শিশির-বলেন
তনু-রাগ ভাঙাবেন না আমার?
শিশির-রাগ করসেন বুঝি
তনু-?????
শিশির-কিভাবে ভাঙালে আপনার মনের মতন হবে
তনু-?
শিশির-হুম বুঝলাম
শিশির উঠে এসে তনুকে কোলে তুলে নিয়ে আসলো,,
তনুর মাথার চুলের মুঠি ধরে ওরে কাছে নিয়ে আসলো শিশির
তনু-ভালোবাসি তোমাকে
শিশির-আমিও খুব ভালোবাসি তোমায়
শিশির তনুর ঠোঁটে চুমু দিয়ে দিলো,,তনুর ঘাড়ের থেকে জামা সরিয়ে তাকিয়ে রইলো
তনু-কি?এখনও নাতাশার কথা মনে পড়তেছে নাকি??আর কি করসেন ওর লগে,আপনি ভার্জিন তো?
শিশির-ঐদিন বুঝো নাই?
তনু-আমি কেমনে বুঝবো
শিশির-আজ বুঝাই দিই তাহলে
শিশির তনুর গলায় জোরে কামড় বসিয়ে দিলো,তনু চিৎকার দিতে যাবে ওর মুখ চেপে ধরে আবার সেই জায়গায় চুমু দিয়ে দিলো শিশির♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥???????
পরেরদিন
শিশির-ম্যাডাম উঠেন,,আয়ারল্যান্ডে যেতে হবে
তনু লাফ দিয়ে উঠে জামা নিয়ে নিলো,
তনু-আজ আমি পানিতে নামবো
শিশির তনুর হাত ধরে হাঁটা শুরু করলো,
বিচে এসে তনুর চোখ কপালে,চোখ থেকে খুলেই গেসে বললেই চলে,থ হয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো তনু,সব মেয়ে বিকিনি পরা,
শিশির হাসতে হাসতে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে,
তনু-?আল্লাহ এদের হেদায়াত দান করো তুমি,
তনু শিশিরের চোখ ঢেকে ঢেকে হাঁটতেছে,বিকিনি পরা কয়েকটা মেয়ে হাসতে হাসতে শেষ তনুর এই কাজ দেখে,
শিশির-হাত সরাও,আমি কিছুই দেখতেছি না
তনু-দেখতে হবে না,মনে হচ্ছে দোযগে প্রবেশ করসি,এমন জানলে জীবনেও আসতাম না,ছিঃ,আল্লাহ আমার জামাইর দৃষ্টি ভালা রাখিও,আমিনননননননন
তনু-বল আমিন,বেদ্দপ
শিশির-আমিন
দুজনে একটু দূরে গিয়ে বসলো,
একটা মেয়ে শিশিরের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো,চোখ ফিরায়নি এখনও
শিশির একবার তাকিয়ে আর তাকালো না
তনু রেগে গিয়ে নিজের টপস খুলতে লাগলো
শিশির-আরে আরে কি করতেছো কি
তনু-তুই তাকালি কেন
শিশির-কই তাকালাম
তনু গিয়ে মেয়েটাকে ধরলো,
তনু-তুই আমার জামাইর দিকে তাকালি কেন
মেয়েটা-what?
তনু-বুঝস না?শয়তান,ফকিন্নি,
তনু নিজের ওড়না দিয়ে মেয়েটার গা ঢেকে দিলো
তারপর চলে আসলো,শিশির বোকার মত বসে আছে
তনু-?
তনু দেখলো অনেক মেয়ে আসতে যেতে শিশিরের দিকে তাকাচ্ছে
তনু রেগে উঠে গিয়ে পানিতে ডুব মারলো,
শিশির বসে আছে,বালিতে,কারন প্রচুর রোদ
তনু ডুব দিতেই গা ভিজে টপস গায়ের সাথে আটকে গেসে,ওখানে থাকা ছেলেগুলো তনুরর দিকে তাকিয়ে আছে, তনু তো নায়িকাদের মতন ডুবের উপর ডুব দিয়ে যাচ্ছে,ছেলেদের তাকানো দেখে শিশির ও উঠে গেলো
শিশির তনুর হাত ধরে বললো চলে আসতে
তনু-কেন?এত জলদি কেন,আপনাকে চুবানোই তো হলো না,
এটা বলেই তনু শিশিরকে পানিতে চুবিয়ে দিলো
শিশির কাশতে কাশতে শেষ,এটা একদম আশা করেনি শিশির,
তনু-????
শিশির-শয়তান মাইয়া
শিশির এবার তনুকে কোলে তুলে পানিতে ছুড়ে মারলো,
তনু তো নাক মুখ মুছে শিশিরকে ধরে আবার চুবালো
এভাবে দুজন দুজনকে চুবাতেই আছে,একটা সময় একটা ছেলে আর মেয়ে এসে ওদের থামালো
তনু হাসি থামিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখলো,মেয়েটাও বিকিনি পরা,তারউপর একদম ছোট বিকিনি বললেই চলে
তনু-ছিঃ,সর এখান থেকে
তনু শিশিরের চোখে হাত দিয়ে পানি থেকে নিয়ে গেলো
বালিতে বসে পড়লো তনু
শিশির শার্ট খুলে তনুর গায়ে মারলো
শিশির -গা ঢাকো
তনু ব্যাগ থেকে ওড়না নিয়ে শিশিরের গায়ে মারলো
তনু-বডি ঢাকো
কিছুক্ষন থেকে দুজনে একটা restaurant এ গেলো খাওয়ার জন্য
তনু-গোল গোল এগুলা কি
তনু মুখে দিলো
তনু-বাহ মজা তো
শিশির-শামুক
এটা শুনে তনু উঠে গিয়ে বমি করতে লাগলো
শিশির-কি হয়সে
তনু-আল্লাহ গো,কি খাওয়াইলো আমারে,আমি শেষ
একটা ওয়েটার এসে শিশিরের হাতে একটা ঔষধের প্যাকেট দিয়ে গেলো
শিশির পড়ে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
তনু মুখ মুছে শিশিরের হাত থেকে ঔষধটা নিতে গেলো
শিশির-না,এটা খাবা না
তনু-কেন
শিশির-এটা আসলে,pregnant মহিলাদের,ওরা বমি করলে ওদের যাতে বেশি কষ্ট না হয় তাই এই system করা
তনু-ও?
অন্য কিছু অর্ডার দিতে পারেন নাই,জেনেশুনে এসব কি অর্ডার দিসেন,মনে পড়লেই আমার বমি আসে
শিশির-এগুলা মজা,আমি কি জানি তুমি যে খাও না
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_39
তনু আর শিশির হোটেলে চলে আসলো আরও কিছুক্ষন থেকে,,
শিশির হাঁচি দিতেছে শুধু,তনু যে চুবানি দিসে
তনু-?নিজেও তো আমারে কম চুবাননি
তনুর ফোনে কল আসতেই তনু চেক করে দেখলো নাতাশা,উফ এই মেয়েটা কি আমাদের পিছু ছাড়বে না,
নাতাশা এবার তনুর আইডিতে নক দিলো
নাতাশা শিশিরের সাথে তোলা একটা ছবি তনুকে দিলো
তনু তো রাগে ফুলতেছে
শিশির গোসল করে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জেল লাগাচ্ছে চুলে,,
তনু গিয়ে দুম করে শিশিরের পিঠে একটা বারি দিয়ে দিলো
শিশির-আউচচ,কি করসি আবার
তনু পিকটা দেখালো
শিশির কিছু বলার আগেই তনু ওকে ধরে ঘুরিয়ে ওর খালি পিঠের উপর একটা চুমু দিলো,লিপ্সটিকের দাগ লাগিয়ে দিলো??,ওটার ছবি তুলে নাতাশাকে দিলো
নাতাশা -?সরে যাও বলসি
তনু-আর disturb করলে আরও ছবি দিব
শিশির-বাদ দাও blk করে দাও
তনু-হুম
তনু নাতাশাকে blk করে দিলো,শিশির তনুর কোমড় ধরে কাছ নিয়ে আসতেই তনু ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো
শিশির-কি করলাম আবার
তনু-তোর হাত নাতাশার কাঁধে কেন
শিশির -সরি
তনু-হুর,don’t touch me
তনু বারান্দায় চলে গেলো,,
শিশির গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো
শিশির-সরি তো,তখন তো আমরা প্রেম করতেছিলামম
তনু চোখ বড়বড় করে তাকালো শিশিরের দিকে
শিশির-?তুমি প্রেম করো নাই বুঝি
তনু-জী না,আমার চরিত্রের কোনো দোষ ছিলো না
শিশির-ভালো হইসে
শিশির ল্যাপটপ নিয়ে বসলো,
তনু বাইরে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে,,
পাশের রুমের বারান্দা attached করা,,একটা ছেলে বসে বসে সিগারেট খাচ্ছে আর তনুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে,,
তনু চোখ খুলে পাশে তাকাতেই দেখলো ছেলেটা তাকিয়ে আছে,তনু আর দেরি না করে রুমে চলে আসলো,
শিশির কাজ নিয়ে ব্যস্ত তাই তনু বারান্দাতে একটা চেয়ার নিয়ে বসে বাইরে তাকিয়ে আছে,,
ছেলেটা আবার এসে হাজির
ছেলেটা-হাই
তনু পাশে তাকালো
ছেলেটা-কেমন আছেন?
তনু-(চেহারা দেখে পাক্কা বিদেশি মনে হচ্ছে,বাংলা জানে কেমনে)
তনু ব্রু কুঁচকে তাকালো,তারপর উঠে চলে গেলো,
শিশির-কে কথা বলে
তনু-ফার্মের মুরগী
শিশির-এখানে আসলো কিভাবে
তনু-উড়ে
তনু-চলেন না ঘুরে আসি,,রাস্তাতে হাঁটবো,,ভালো লাগতেছে না
শিশির-ওকে চলো
দুজনেই হাঁটতেছে হাত ধরে,,
তনুকে শিশির আইসক্রিম কিনে দিলো,তনু আইসক্রীম খাচ্ছে আর হাসতেছে,,কারন ওর ও আইসক্রিম খেতে মন চাচ্ছিলো,
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
তনু-কি?
শিশির মুচকি হেসে তনুকে ধরে কিস করতে লাগলো,তনু একদম প্রস্তুত ছিলো না এটার জন্য,,
শিশির জানতো তনু এটাই চেয়েছিলো,সেদিন বারান্দা থেকে নিয়ে আসার পর তনু এই জন্যই রাগ করসিলো,
তনু সামনে তাকিয়ে সেই ছেলেটাকে দেখলো,,তারপর হঠাৎ শিশিরকে সরিয়ে দিলো
শিশির-কি হইসে
তনু-পাবলিক প্লেস এ এগুলা কেন
শিশির-তুমি তো চাইসিলা
তনু-চলুন এখান থেকে,
শিশির-কি হইসে বলো
তনু-এই ছেলেটা
শিশির পিছনে তাকালো
শিশির-আরে ও তো আরেক দিকে তাকিয়ে আছে,
তনু-চলুন তো
তনু শিশিরের হাত ধরে নিয়ে গেলো,,
তনু-উফ ছেলেটা তখন ওমন করে তাকাই ছিলো কেন
শিশির তনুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো
শিশির-ঘুমাও তো
তনু কিছুক্ষন পর চিন্তা ভুলে ঘুমিয়ে গেলো,,
পরেরদিন সকালে তনু উঠে ব্রাশ নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে দেখতেছে
পাশে তাকিয়ে দেখলে ছেলেটা হা করে তনুকে দেখছে
তনু ওড়না ঠিক করে ব্রাশ নামিয়ে এগিয়ে গেলো
তনু-কি সমস্যা কি আপনার,জানেন আমি married?
ছেলেটা-তোমার নাম কি
তনু-তোর মা
তনু মুখ ভেঁংচি দিয়ে চলে গেলে
ছেলেটা-হাহা,দুষ্টু মেয়ে
তনু গিয়ে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে
শিশির চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসলো
তনু-রুম পাল্টান প্লিস,আমি কোনো কথা শুনতে চাই না
শিশির-আচ্ছা ওকে,fresh হয়ে নি আগে
খাওয়া শেষ দুজনেই America museum of natural history দেখতে বের হলো,,
তনু একটা কংকাল দেখতেছে আর পাশে তাকিয়ে হঠাৎ সেই ছেলেটাকে দেখে তনু ভয় পেয়ে গেলো
তনু শিশিরকে বললো যে ছেলেটা তনুকে ফলো করতেছে
শিশির ছেলেটার সাথে কথা বলতে গেলো,ছেলেটা English এ সব কথা বললো, শিশির তনুর কাছে এসে বললো ছেলেটা এই দেশেরই,তনু হয়ত ভুল দেখসে,
শিশির তনুর হাত ধরে নিয়ে গেলো
তনু-আশ্চর্য, আজই তো বাংলায় কথা বললো
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_34/35/36

0

ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_34
Writer-Afnan Lara

তনু-হ্যাঁ
শিশির তনুর হাত হ্যাঁচকা টান দিয়ে কাছে নিয়ে আনলো,
শিশির-সত্যি??এটা কেন মনে হচ্ছে তোমার,আর কেন?আর এই টাইমে তোমার মতে আমার কি করা উচিত?
তনু-আমি জানি না,এটা তো আপনার জানা উচিত
শিশির-ভিজে গেসি,এখন ভিজা গায়ে romance করলে তো জ্বর এসে যাবে
তনু-আমি তো জোর করতেছি না,আমি তো নাতাশা নই
শিশির তনুর চুল টেনে ধরলো
শিশির-নাতাশার সাথে নিজেকে মিলাবা না,তুমি এসব বাদ দিয়ে যাও change করে আসো
তনু চলে গেলো,
change করে আসতেই শিশির জড়িয়ে ধরলো তনুকে
তারপর কোলে তুলে নিয়ে গেলো খাটে,তনুকে চুমু দিতে যাবে তনু মুখ সরিয়ে ফেললো
শিশির-কি করলাম আমি
তনু-কিছু না,আমি ঘুমাব
শিশির-ফাইন
শিশির উঠে চলে গেলো,
তনু শুয়ে আছে কিন্তু চোখ বুজতে পারে না,,কান্না পাচ্ছে খুব,শিশির কেন আমার রাগ ভাঙায় না,,
শিশির ফোন দেখতেছে,
তনু উঠে বসে শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে
শিশির-what?
তনু-তুই আমাকে ভালোবাসোস না?
শিশির-বাসি তো
তনু-কই
শিশির-তুমিই তো বাধা দিলা
তনু-এটাকে ভালোবাসা বলে না
শিশির-তাহলে?
তনু উঠে চলে গেলো
শিশির-উফ কথায় কথায় এত রাগ কেন করে মেয়েটা,ধুর
তনু বিকালের নাস্তা বানাচ্ছে,,
শিশির সোফায় বসে তনুর দিকে তাকিয়ে আছে
তনু খাবার এনে সোফার সামনে টেবিলে রাখলো,,
শিশির-রাগ কমেছে?
তনু কফির মগ এগিয়ে দিয়ে চলে গেলো
শিশির কফি খেয়ে বসে আছে,তনু এখনও আসতেছে না
শিশির এবার উঠে গিয়ে রুমের দরজা লাগালো,,চাবি পকেটে রেখে বারান্দায় তনুর কাছে গিয়ে বসলো
শিশির-কি ব্যাপার,??কি করতে পারি বলুন
তনু-কিছু না,,
তনু বসে বসে গাছে পানি দিচ্ছে,,
শিশির-দেখো তোমার এমন চুপচাপ স্বভাব আমার একদম ভালো লাগতেছে না,
তনু উঠে গিয়ে দরজা খুলতে গেলো পারলো না
তনু-চাবি দিন
শিশির-দিব না
তনু এগিয়ে এসে শিশিরের পকেটে হাত দিতে যাবে শিশির হাত টেনে ধরে বুকে চেপে ধরলো তনুকে,,
অনেকক্ষন জড়িয়ে ধরে রাখলো
শিশির-হ্যাঁ এটাই ভালোবাসা
শিশির তনুকে কোলে তুলে বারান্দায় নিয়ে গেলো,তনুকে নিজের কোলে বসিয়ে গান ধরলো
Bulave tujhe yaar aaj meri galiyan
Basaun tere sang main alag duniya
Na aayein kabhi dono mein zara bhi faasle
Bas ek tu ho, ek main hoon aur koyi na
Hai mera sab kuch tera tu samajh le
Tu chaahe mere hakk ki zameen rakh le
Tu saanson pe bhi naam tera likh de
Main jiyu jab jab tera dil dhadke

Tujhse mera yeh jee nahi bharta
Kuch bhi nahi asar ab karta
Meri raah tujhse
Meri chaah tujhse
Mujhe bas yahin reh jana
তনু্-একটা জিনিস চাইবো দিবেন?
শিশির-বলো
তনু-কালকের দিনটা আমি চাই,আর কি চাই,কেমন চাই তা আপনি বুঝে নিয়েন,
তনু উঠে চলে গেলো
শিশির-পড়লাম আরেক চিন্তায়,ও কি চায়???
রাতে তনু আর শিশিরের সাথে কথা বললো না,কালকের জন্য অপেক্ষা করছে তনু,
সকাল শুরু হলো,কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে মুশলধারায়
শিশিরের সমস্ত প্লেন মাটি,বাইরে ঘুরার কত যে প্লেন করলো
কিন্তু না,অন্য কিছু ভাবতে হবে,,
শিশির তনুকে তৈরি হতে বললো
তনু একটা গোলাপি রঙের শাড়ী পরে নিলো,,শিশির পাঞ্জাবি পরলো,,তনুর হাত ধরে বেরিয়ে পরলো
তনু-গাড়ী নিবেন না,খুব বৃষ্টি হচ্ছে তো
শিশির কথা বলতেছে না,দুজনেই পার্কে হাত ধরে হাঁটতেছে,আশেপাশে মানুষ নেই,নির্জন হয়ে গেসে জায়গাটা,শুধু শিশির আর তনু,
তনু বারবার শাড়ী ঠিক করতেছে কারন ভিজে গায়ের সাথে আটকে যাচ্ছে শাড়ী
শিশির তনুর দিকে তাকালো
তাকিয়েই রইলো হাঁটা বন্ধ দিয়ে
তনু-কিই??আসুন গাছের নিচে দাঁড়াই,বৃষ্টি বেড়ে গেসে তো
শিশির যেন কথাগুলো শুনতেছেই না
শিশির তনুর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে,,যতদিন তনু ভিজা কাপড়ে ছিল শিশির তাকাতো না,কারন এই জিনিসটা ওকে অনেক বেশি attract করে,আর আজ ইচ্ছে করেই তাকিয়ে আছে শিশির
তনু হাত নাড়া দিলো শিশিরের
তনু-কি হলো??
শিশির তনুর কোমড়ে হাত দিয়ে কাছে নিয়ে আসলো,
গাছ থেকে একটা কৃষ্ণচূড়া ফুল এসে তনুর গায়ে পড়লো,,
শিশির ফুলটি নিয়ে তনুর কানে গুজে দিলো,
বৃষ্টির বেগ খুব বেড়ে গেলো,শিশির তনুকে টেনে আরও কাছে নিয়ে আসলো,
দুজনের নাকে নাক লেগে গেলো,
তনু ভয় পাচ্ছে শিশিরকে,কারন এমনটা আগে দেখেনি সে,
শিশির তনুর ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে দিয়ে চুমু খেতে লাগলো
৫মিনিট পর শিশির খেয়াল করলো তনুর হাত পা কাঁপতেছে,,শিশির ছেড়ে দিলো তনুকে
তনুর শীতে হাত পা কাঁপতেছে,কারন প্রায়ই ১ঘন্টার মতন তারা ভিজতেছে
শিশির-চলো যাই
শিশির তনুর হাত ধরে বাসার দিকে হাঁটা ধরলো
বাসায় আসার পর তনু শাড়ী change করতে যাওয়া ধরলো শিশির হাত ছাড়লো না
তনু-কি??
তনুর হাঁচি শুরু হলো
তনু-ছাড়েন,আমি শাড়ি পাল্টাবো
শিশির তনুকে নিয়ে বিছানায় বসালো,
নিজের পাঞ্জাবি খুলে তনুর দিকে এগিয়ে গেলো
তনু-কি,?
তনু ভয় পাচ্ছে শিশিরের এমন behave দেখে
শিশির তনুর গলায় চুমু দিয়ে ওর শাড়ী খুলে ফেলে দিলো,,
হাতের চুড়ি গুলো খুলে টেবিলে রেখে দিলো,,,
তনু হাত দিয়ে নাক মুছতেছে,,শিশির তনুকে শুইয়ে ওর কপালে চুমু দিলো,
তনুর শ্বাস নিশ্বাস বেড়ে গেসে,
শিশিরের বুকে পানি লেগে আছে,,তনু হাত দিয়ে দেখতেছে,,
শিশির-এভাবে তো আমার দেখার কথা
তনু চিৎকার দিয়ে উঠে বসলো
তনু-কি বললেন?অসভ্য কোথাকার!
শিশির তনুর ঘাড়ে নাক লাগিয়ে চুপ হয়ে রইলো,,,
শিশির-আজ বৃষ্টিটা আমার অনেক help করেছে,,
শিশির-আচ্ছা একটা কথা বলো
তনু-হুম
শিশির-আমার বুকে হাত দিয়ে ওভাবে দেখতেছিলা কেন
তনু-ভালো লাগে
তনু পিছিয়ে শিশিরের বুকে গিয়ে শুয়ে পড়লো,,
শিশির তনুকে নিজের দিকে ফিরাতে যাবে তনু ঘুমিয়ে গেসে ততক্ষনে,
শিশির আর জাগালো না,,কাঁথা টেনে তনুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজেও ঘুমিয়ে গেলো,,
শিশির নিজের বুকে গরম অনুভব পেয়ে জেগে গেলো,তনুর খুব জ্বর,ইস শুধু শুধু ভিজলাম,এখন আবার জ্বর এসেছে,
শিশির ঔষুধ এনে তনুকে উঠালো,তনুর মাথা ধরেছে,ঠিকমত মত বসতেও পারতেছে না,,শিশির কোনোরকমে ঔষুধ খাইয়ে দিলো তনুকে,তনু শিশিরের হাত জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো আবার
শিশির নিজের ফোনের গ্যালারি দেখতেছে হঠাৎ চোখে পড়লো ওর অনেক ক্যানডিড পিক,এগুলা তুললো কবে তনু,আর পাস জানলো কি করে,
সন্ধ্যার দিকে তনু উঠলো,কষ্ট করে নিচে নামলো খাট থেকে,শিশির ফোনে কথা বলতেছে সোফার রুমে
তনু গিয়ে শিশিরের পাশে বসলো,
শিশির তনুর হাত ধরে ফোনে কথা বলতেছে,,কথা শেষে তনুর জ্বর চেক করলো,,
তনু-বসেন কফি বানিয়ে আনছি
শিশির-আমি বানাচ্ছি already, বসেন
শিশির কফি নিয়ে আসলো,,
শিশির-একটা কথা বলো,আমার ফোনের পাস জানলা কি করে
তনু-TonU লিখার পর খুলসে,১০মিনিট ধরে চেষ্টা করে পারছি?
শিশির-শয়তান,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_35
দরজায় কে যেন নক দিলো
শিশির গিয়ে দরজা খুললো,একটা বয়স্ক লোক,,লোকটি ঝড়ে কোথাও থাকার জায়গা পাচ্ছে না তাই আশ্রয় চাচ্ছে,শিশির উনাকে ভিতরে আসতে বললেন
উনি সোফায় বসে আছে,,তনু নাস্তা দিলেন উনাকে
লোকটাকে তনুর খুব চেনা মনে হচ্ছে
শিশির guest রুমের দরজা দেখিয়ে উনাকে rest করতে বললেন,,
লোকটা সেখানে চলে গেলো
শিশির বাথরুমে আছে,,তনু বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে দেখতেছে,,,
তনুর ঘাড়ে হাতের ছোঁয়া লাগতেই তনু চিৎকার দিয়ে উঠলো
শিশির-কি হয়সে?আমি তো
তনু-ওহ আপনি
শিশির-তো আর কে হবে
তনু-নাহ আমিও না উল্টা পাল্টা ভাবি,,
শিশির-আমার এখন অফিসে যেতে হবে,কিন্তু তুমি বাসায় একা তার উপর একটা অচেনা লোক
তনু-প্লিস আমাকে একা রেখে যাবেন না
শিশির বুয়াকে ফোন দিলো,,
বুয়া ১০মিনিট পর আসলো,
শিশির বাই বলে তনুর কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো
তনু বারান্দায় বসে গাছ দেখতেছে,হঠাৎ দরজা আটকানোর শব্দে তনু চমকে উঠলো,এত তাড়াতাড়ি শিশির চলে আসলো?,
তনু উঠে দাঁড়িয়ে উঁকি মারলো,নাহ কেউ তো নেই,তাহলে দরজা লাগালো কে??
তনু পা বারাতেই ওর মাথায় প্রচণ্ড জোরে আঘাত দিয়ে কেউ বারি দিলো,তনু মাথায় হাত দিয়ে নিচে পড়ে গেলো,আর কোনো কিছু তার মনে নেই,,
যখন চোখ খুললো নিজেকে একটা খাটে দেখলো,তাড়াতাড়ি উঠে বসলো তনু,,ভয়ে নিজের দিকে তাকালো,না সব ঠিক আছে,
কিন্তু আমি কই,আর আমার মাথা,উফ অনেক ব্যাথা করতেছে,,শিশির?শিশির কই?
তনু উঠতে গিয়েও পারলো না,মাথা ভারী হয়ে আসতেছে
ঐদিকে শিশির কাজ সেরে বাসায় ফিরলো,কিন্তু দরজা খোলা কেন?
শিশির বাসায় ঢুকে দেখলো বুয়া সোফার সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে,শিশির তনুর নাম ধরে ডেকে রুমে চলে গেলো দৌড়ে,কোথাও তনু নেই,,ফ্লোরে রক্ত পড়ে আছে,,সেই বয়স্ক লোকটাও নেই,,
শিশির মাথায় হাত দিয়ে নিচে বসে পড়লো,তনু কই??আমার তনুকে কি করসে?
শিশির দেরি না করে পুলিশে খবর দিলো,,
মা বাবা শিশিরকে ধরে রেখেছে,শিশির কাঁদতে কাঁদতে শেষ,,
বুয়ার জ্ঞান ফিরতেই পুলিশ বুয়াকে জিজ্ঞেস করলো যে কি ঘটেছে,,
বুয়া-আমি তো রান্নাঘরে ছিলাম,,দেখলাম একটা লোক আপামনিরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে , আমি যেই আটকাতে যাব কয়েকটা পোলা আইসা আমারে কি যেন শুকিয়ে দিলো রুমাল থেকে,তারপর আর কিছু মনে নাই
পুলিশ-লোকটি কেমন ছিলো?দেখলে চিনবা??
বুয়া-ঐ যে বয়স্ক লোকটা আসছে উনি ছিলেন,কিন্তু দাড়ি গোঁফ ছিলো না,জোয়ান ছিলো
শিশির-তন্ময়??
পুলিশ -উনাকে চিনেন??
শিশির-চিনি অনেক,কিন্তু কোথায় থাকে কি করে জানি না,তনুকে disturb করতো
তনু অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালো,,দরজা ধাক্কাতে লাগলো
৫মিনিট ধরে দরজা ধাক্কানোর পর দরজা খোলা হলো,,কয়েকটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে,হাতে বিয়েরডালা, জিনিসপত্র সব
সবাই মিলে রুমে ঢুকে গেলো,
তনুকে দুজন মিলে ঝাঁপটে ধরে সাজানো শুরু করলো
তনু-এসব কি?তোমরা কারা,আমাকে সাজাচ্ছো কেন?
তন্ময় -আমাদের বিয়ে তাই সাজাচ্ছে
তনু-তুমি??!!!!
আমি শিশিরের কাছে যাব
তন্ময় -এমন জায়গায় আনছি তোমারে, তোমার শিশির টের ও পাবে না
তন্ময় শিশিররা যে ফ্ল্যাট এ থাকে তার উপরের ফ্ল্যাটেই তনুকে বন্দি করে রেখেছে যাতে কেউ সন্দেহ করতে না পারে,,
তনু কাঁদতেছে,আর চিৎকার দিতেছে,,
তন্ময় -আহারে,বেচারি
তন্ময় গানের sound বাড়িয়ে দিলো যাতে তনুর আওয়াজ বাইরে না যেতে পারে,আর তনু জানেও না সে কোথায় আছে,
মেয়েরা তনুকে সাজিয়ে চলে গেলো,
হুজুর-বলুন কবুল
তনু-মরে গেলেও বলবো না
তন্ময় পাঞ্জাবির হাতা উঠিয়ে তনুর গালে কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো,তনু নিচে পড়ে গেলো,
তন্ময় -বল কবুল
তনু-কখনও বলবো না
তন্ময় তনুর চুলের মুঠি ধরে আরেকটা চড় মারতে যাবে তন্ময়ের ফোনে কল আসলো
রনি-স্যার,,শিশির পুলিশ নিয়ে আনছে,ওরা পাশের ফ্ল্যাটে জিজ্ঞাসাবাদ করতেছে,,
তন্ময় -লাভ নাই,ওরা কিছু দেখেনি,
তনু রাগে ক্ষোভে হাতের থেকে চুড়ি নিয়ে নিয়ে ছুড়ে মারতে লাগলো,
শিশিরের মা তনুকে যে চুড়ি দিয়েছিলো,সেটাও বাকি গুলোর সাথে খুলে গেসিলো,
জোরে ছুড়ে মারায় চুড়িটা গড়িয়ে গড়িয়ে বেলকনি cross করে নিচে পড়ে গেলো,গিয়ে মায়ের রুমের বারান্দায় পড়লো
মা বাবা খাটে বসে ছিলেন
মা-কি পড়লো গো?
মা উঠে গিয়ে দেখলো সোনার চুড়ি চিকচিক করতেছে
মা-এটা তো আমি তনুকে দিসিলাম,উপর থেকে পড়লো কেন?তার মানে তনু উপরে নাকি
মা শিশিরকে ডেকে দিলো
একটা মেয়ে তন্ময়কে এসে বললো তনু সব গয়না খুলে ফেলতেছে
তন্ময় একটা ইনজেকশান এনে তনুকে চেপে ধরে ওর হাতে দিয়ে দিলো,মিনিটেই তনু জ্ঞান হারিয়ে ফেললো,
তন্ময় -কবুল টবুল বাদ,পেপার আনো,টিপ। ছাপ নিয়ে registration বিয়ে হবে,
শিশির তাড়াতাড়ি করে ঐ ফ্ল্যাটে এসে পড়লো,৪জন বডিগার্ড দাঁড়িয়ে আছে
পুলিশ দেখেও নড়তেছে না ওরা
পুলিশ-গুলি চালাতে বাধ্য করো না
একজন বলে উঠলো ওদের পেটে বোম আছে যেকোনো সময় ব্লাস্ট হয়ে যেতে পারে
পুলিশ এটা শুনে পিছিয়ে গেলো,শিশিরকেও টানতে লাগলো,কিন্তু শিশির কোনো কথা না শুনে ভিতরে ঢুকে পড়লো,তন্ময় তখন তনুর হাতে টিপ ছাপ দিচ্ছিলো,কাগজে লাগানোর আগেই শিশির ছোঁ মেরে কাগজটা নিয়ে নিলো
তন্ময় তনুকে ছেড়ে কাগজ নিতে যাবে শিশির কাগজ গোল করে তন্ময়ককে খপ করে ধরে ওর মুখে পুরে দিলো,তারপর মুখ চেপে ধরে ৪/৫টা ঘুষি মেরে দিলো,
তনু অজ্ঞান হয়ে খাটে পড়ে আছে
মারা শেষে পুলিশকে ডাক দিলো ওরা তন্ময়কে ধরে ফেললো,
বডি গার্ডরা মিথ্যা কথা বলতেছিলো কারন যাতে কেউ ভয়ে না ঢুকতে পারে
শিশির তনুকে কোলে তুলে বাসায় নিয়ে আসলো, তনুর এখনও জ্ঞান ফিরেনি,মা কাঁদতেছে তনুর পাশে বসে,মা তনুকে খুব ভালোবাসে,ওর এই অবস্থা দেখে নিজেকে আটকাতে পারেননি,
শিশির-মা অনেক রাত হইসে ঘুমাতে যাও,আমি ওর পাশে আছি
মা চলে গেলো,
শিশিরের চোখ থেকে পানি বেয়ে তনুর হাতে পড়লো,
শিশির তনুর হাত ধরে বসে আছে,,গালে চড়ের দাগ,,না জানি আর কত কষ্ট দিসে তনুকে,,
মাথার ব্যান্ডেজের দিকে তাকিয়ে শিশিরের বুক কেঁপে উঠলো,কখনও কল্পনাও করতে পারিনি তন্ময় ছদ্মবেশে আসতে পারে,কতবড় ক্ষতি করতে যাচ্ছিলো,,
রাত ২টোর দিকে তনু উঠলো,, মাথা ধরে উঠে বসে কিছুটা শক খেলো আগের ঘটনা মনে পড়ে,পাশে শিশিরকে দেখে কেঁদে দিয়ে জড়িয়ে ধরলো,,
শিশির শক্ত করে ধরলো তনুকে,,
তনু-আমি আরেকটু হলে মরেই যেতাম শিশির
শিশির-আমি তোমার কিছু হতে দিব না
তনু শিশির দিকে তাকিয়ে আছে,মনে হয় কতবছর পর দেখতেছে,
সারা রাত আর তনু দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি,শিশিরের বুকে চুপ হয়ে শুয়ে থাকলো,,শিশির সবটা তনুকে খুলে বললো,,
সকালে তনু উঠে দেখলো ৯টা বাজে,,তাড়াহুড়ো করে খাটে থেকে নামতে যেতেই শিশির মানা করলো
শিশির-খবরদার না,শুয়ে থাকো,doctor তোমাকে বেড rest. এ থাকতে বলসে
তনু fresh হয়ে এসে বসলো খাটে,
শিশির খাবার মুখে এগিয়ে দিতেই দেখলো তনু শিশিরের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে
শিশির-কি ম্যাডাম?এসব হচ্ছে না,খাবার শেষ দিতে হবে
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_36
শিশির তনুকে খাবার খাইয়ে দিলো,,মা দেখতে আসলো তনুকে
শিশির-কাল তোমাকে মা বাঁচিয়েছে বলতে গেলে
মা তনুকে জড়িয়ে ধরলো,,তনুর সাথে কথা শেষে মা চলে গেলেন,,শিশির জামা নিয়ে গোসল করতে চলে গেসে,তনু খাটে ঘাপটি মেরে বসে আছে,শিশির তোয়ালে পড়ে বের হলে তার সেইই লুক টা দেখবে,
শিশির তোয়ালে পড়ে বের হতেই দেখলো তনু হা করে তাকিয়ে আছে
শিশির-কি ম্যাডাম??
তনু-?
শিশির এসে তনুর গাল টেনে টিপে দিলো
তনু-এটা কি হলো
শিশির-বাচ্চাদের গাল টিপতে আমার খুব ভালো লাগে,
তনু-আমি বাচ্চা না বরং দুদিন পর আপনার বাচ্চার মা হয়ে যাব
শিশির-হুম,তুমি মিলে আমার বাসাটা কিন্ডারগার্ডেন হয়ে যাবে
তনু-?
তনু উঠে শিশিরের চুল টেনে দিলো
শিশির নিচু হয়ে তনুরর গায়ে চুল ঝেড়ে পানি ছিঁটাতে লাগলো
তনু চিল্লাতে চিল্লাতে সরতে গেলো শিশির দুহাত ধরে ভিজিয়ে দিলো
তনু-stupid
শিশির-?চুল টানো আরও
তনু-?
শিশির ল্যাপটপে কাজ সেরে এসে তনুকে দেখতে গেলো,তনু মাথার ব্যান্ডেজ খোলার চেষ্টা করতেছে
শিশির-এই এত তাড়াতাড়ি খুলতেছো কেন
তনু-মাথা ধরসে আমার?
শিশির-তো??লাগবে না খোলার,,কষ্ট করো কদিন তারপর ঠিক হয়ে যাবে
মা-শিশির
শিশির-হুম মা বলো
মা-তোর বাবা অফিস থেকে গিফট হিসেবে অামেরিকাতে ২টা ৭দিনের ট্যুর এর টিকেট পেয়েছে,,এখন আমাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নাহ,আমরা অসুস্থ মানুষ,পরে আরও অসুস্থ হয়ে যাব,তুই আর তনু যা
শিশির-কিন্তু মা
মা-যা,ঘুরে আসলে ভালো লাগবে
তনু এক লাফ দিয়ে উঠে জামা কাপড় গোছানো শুরু করলো
শিশির-?আবার ছুটি নিতে হবে
রাতে সবাইকে বিদায় দিয়ে তনু শিশির রওনা দিলো,,বিমানে বসে তনু ভয়ে শিশিরের হাত চেপে বসে রইলো,আগে কখনও উঠেনি তনু,
শিশির-কিহ ভয় লাগতেছে নাকি
তনু-হুমম,
শিশির-আমি আছি না
তনু ভালো করে এখনও সুস্থ হয়নি,,দূর্বল লাগতেছিলো,শিশিরের কাঁধে মাথা রাখতেই ঘুমিয়ে গেলো তনু,,
চকলেটের ঘ্রান নাকে যেতেই তনু চোখ খুললো,শিশিরের হাতে চকলেট,সবে নিয়েছে খাওয়ার জন্য,তনু জেগে যাওয়ায় শিশির থ হয়ে তাকিয়ে থাকলো,কারন তার ভাগে আর একটা চকলেট ও জুটবে না
তনু শিশিরের হাত থেকে নিয়ে মুখে পুরে নিলো চকলেট,
তনু-কিপটা আমাকে দেন নি কেন
শিশির-আমার ভাগের টাও খেয়ে নিলা??
তনু-তো চকলেট আমার প্রিয় জানেন না?
শিশির-ঐ দেখো তোমার কপালে একটা পিপড়া,দাঁড়াও ফেলে দিচ্ছি,এটা বলেই শিশির তনুকে খপ করে ধরে কিস করে দিলো???
কেউ দেখলো না,তবে একজন দেখলো,একটা ৬বছরের ছেলে,যে পাশের সিটে বসা ছিলো,
শিশির বাচ্চাটার দিকে বোকার মত তাকিয়ে আছে,
তনু শিশিরকে কয়েকটা কিল ঘুষি দিলো,
বাবু-আম্মু আম্মু
শিশির-ভাই বলিস না,তোমাকে চকলেট কিনে দিব
বাবু-আম্মু এই uncleটা বাবা যেমন তোমাকে চুমু দেয় তেমন করে antyককে চুমু দিলো
বাবুর মা-???
শিশির-?
তনু-?
আমেরিকা পৌঁছাতেই বিমান থেকে নেমে শিশির মাকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলো,,
যে হোটেলে বুকিং দেওয়া সেই হোটেলের সামনে ২টা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো,শিশির তনুকে ওয়েলকাম করার জন্য,
একটা মেয়ে তনুকে মালা পরিয়ে দিলো,শিশিরকে পরাতে যাবে তনু ছোঁ মেরে মালা হাত থেকে নিয়ে নিজে শিশিরকে পরিয়ে দিলো
তনু-Thank you ফকিন্নি☺☺
শিশির-???
মেয়েটি-Welcome???
শিশির-???
তনু-চলো!!!
তনু হোটেলে গিয়ে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়লো,
শিশির fresh হয়ে এসে দেখলো তনু মাথা ফ্লোরে দিয়ে পা বিছানায় রেখে ঘুমাচ্ছে,
শিশির-একি,তনু ঠিক হয়ে ঘুমাও
শিশির টেনে তনুকে ঠিক করে শুইয়ে দিলো
১০মিনিট ওর তনু উঠে বসলো,শিশির ব্যাগ থেকে জামা কাপড় বের করতেছে,সাথে তনুর ও,তনু চোখ কচলাতে কচলাতে দেখলো শিশির তনুর লুকিয়ে রাখা জিনিসপত্র হাতে নিয়ে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
তনু লাফ দিয়ে উঠে শিশিরের হাত থেকে নিয়ে নিলো
তনু-অসভ্য,এসব কেউ দেখে নাকি,শয়তান!
তনু লুকিয়ে ফেললো
শিশির-?আমি ভাবলাম নাইটি হবে
শিশির শার্ট change করে এসে দেখলো আয়নার সামনে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে,নাহ চুল তো বড়,এটা তো মেয়ে
শিশির হাত ধরে নিজের দিকে ফিরালো,একি তনু,তুমি আমার শার্ট পরসো কেন,আর জিন্স পেলা কই
তনু-কেন?এটা আমার,কিনসিলাম একবার,পরা হয়নি
শিশির-?এই বেশ কেন
তনু-এখানে সব মেয়েরা এগুলা পরে
শিশির-তুমি পড়বা না,যাও change করে আসো
তনু-এটা পরে যাব,যাব,যাব
শিশির-শুনবা না কথা
তনু-না
শিশির শার্টের বোতামের ভিতরে হাত নিয়ে এক টান দিয়ে পুরো শার্ট ছিঁড়ে ফেললো,তনুর গায়ে এখন একটা ছোট গেঞ্জি শুধু
তনু-নারী নির্যাতন হচ্ছে,domestic violence,কেউ বাঁচাও আমাকে
শিশির তনুর মুখ চেপে ধরে উঁচু করে কোলে তুলে নিয়ে খাটে ফেললো
তনু-যাব না আমি
শিশির শাড়ী এনে দিলো তনুকে,নাওও পরে নাও
তনু মুখ ভেঁংচি দিয়ে গিয়ে পরে আসলো,
শিশির তনুর হাত ধরে হাঁটা শুরু করলো
ওয়েটার খাবার দিতে এসে তনুকে নাইস বললো
তনু-ওহ তাই
ছেলেটা তনুর ভাষা বুঝলো না
শিশির-??translate করবো না?
তনু-?
খাওয়া শেষে দুজনেই ঘুরতে বের হলো,,সবাই তনুকে দেখতেছে কারন,,খাঁটি বাঙালি সাজে বের হইসে তনু,,একটা ১৬/১৭বছরের ছেলে তনুকে একটা ফুল ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো,শিশিরের মন খারাপ,তনুকে শার্ট পরতে দিলেই ভালো হতো
তনু-পোড়া পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে?
শিশির-?
শিশির তনুর হাত ধরে নিয়ে গিয়ে শপিং মল থেকে কয়েকটা western dress কিনে দিলো,তারপর হোটেলে ফিরে আসলো,তনু আরেকটু ঘুরতে চেয়েছিলো কিন্তু শিশির দেয়নি,
তনু টিভি দেখতেছে,আর শিশির নিজের ফোন দেখতেছে,হঠাৎ তনু গিয়ে শিশিরের গায়ে পড়লো,
চুইংগামের মত লেগে টিভির দিকে তাকিয়ে বসে আছে যেন কিছুই হয়নি,
শিশির-সরবা?আমার অসস্তি লাগতেছে
তনু-এতদিন আমাদের মধ্যে কিছু ছিল না তাই আপনার অসস্তি লাগতো,তাইলে আজ কেন?
শিশির-নিজের দিকে তাকাই দেখো,যে জামা পরসো ওটাতে পাগলের ও অসস্তি লাগবে
তনু -ওকে ফাইন,তনু গায়ের থেকে জামা নিয়ে খুলে নিচে ফেলে দিলো,আবার গিয়ে শিশিরের গায়ের সাথে লেগে বসলো,শিশির এবার বকতে যাবে তনুর গায়ের দিকে তাকিয়ে চমকে গিয়ে উঠে গেলো,
শিশির-তোমাকে নিয়ে যে কি করবো আমি,
তনু-?এটা করলেও দোষ,ওটা করলেও দোষ
শিশির বারান্দায় দাঁড়িয়ে রোড দেখতেছে
তনু এসে দাঁড়িয়ে পাশে তাকালো রোডের, একটা জায়গায় ছেলে মেয়ে দাঁড়িয়ে কিস করতেছে
তনু-আল্লাহ!আস্তাগফেরুল্লাহ,নাউজুবিল্লা?
শিশির-?এগুলা নরমাল এই দেশে
তনু-ওহ তাই,,
তনু-হ্যালো সবাই শুনতে পাচ্ছো এই দিকে তাকাও
তনু শিশিরকে শক্ত করে ধরে ওর পায়ের উপর ভর করে উঁচু হয়ে যেই না চুমু দিতে যাবে শিশির কোলে তুলে নিলো
তনুকে
বিছানায় রেখে চুমু দিতে যাবে তনু এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো শিশিরকে,
তনু-লাগবে না দরদ, কি সুন্দর একটা romantic scene create করসিলাম,সব মাটি করে দিসে
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_31/32/33

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_31
Writer-Afnan Lara
তনু আড়চোখে তাকালো শিশিরের দিকে
শিশিরের কপাল থেকে ঘাম বেয়ে বেয়ে নিচে পড়তেছে হাত কাঁপতেছে
তনু-থাক,মুখ চেয়েই আমার জীবন কাটবে,
তনু মুচকি হেসে চলে গেলো
শিশির টিসু এনে মুখ মুছে নিলো,,
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে,,
তনু বারান্দায় বসে গাছ দেখতেছে,
শিশির উঁকি মেরে তনুকে দেখতেছে এই নিয়ে ২২বার হলো,,
আলমারি থেকে সাদা একটা শার্ট নিয়ে পরে নিলো শিশির,,
তনু গাছ ধরে ছেড়ে দিতেই গাছের পানি সব এসে তনুর গায়ে পড়লো
তনু চোখ বন্ধ করে ফেললো
এটা দেখে শিশির বুকে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো,
বারান্দার গ্রিলের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিশির,হঠাৎ মুখ দিয়ে দুলাইন গান বেরিয়ে গেলো শিশিরের
পড়েনা চোখের পলক?
কি তোমার রূপের ঝলক?
দোহাই লাগে মুখটি তোমার
একটু আঁচলে ঢাকো??
আমি জ্ঞান হারাবো?
মরেই যাবো?
বাঁচাবে পারবেনাকো?
তনু অবাক হয়ে শিশিরের দিকে তাকালো
শিশিরের কাশি উঠে গেলো,
তনু-?
শিশির এসে তনুর পাশে বসলো,,তনুর হাত ধরলো,,চুমু দিলো হাতে
তনুর আরেকটু কাছে গেলো,,বড় একটা শ্বাস নিলো,,
শিশির-তনু ততততততনু
তনু-জ্বী
শিশির-আ
কলিংবেল বাজলো,,
শিশির -উফফফফ!!!!!!
শিশির উঠে গিয়ে দরজা খুললো,মা এসেছে,বাবাও,
শিশির উনাদের সালাম করলো, তনু ও এসে উনাদের সালাম করলো,,
তনু বুয়ার সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়লো নাস্তা বানাতে বানাতে,আর মা তো দুনিয়ার সব কাহিনি বলতেছে শিশিরকে ধরে,শিশির চিপস খাচ্ছে আর তনুকে দেখছে
তনু নাস্তা এনে দিলো,,শিশিরকে কফির মগ এগিয়ে দিলো তনু, শিশির তনুর হাতের কব্জি ধরে হাত আনলো,তনু ব্রু কুঁচকে তাকাতেই শিশির হাত সরিয়ে নিলো
মা মুচকি হাসতেছে
তনু বাবাকে চা দিয়ে এসে দেখলো মা আর বুয়া কথা বলতেছে, মা হাসতেছে
তনু-কি মা??
মা এসে তনুকে জড়িয়ে ধরলো
তনু-কি হইসে?
মা-আমি দাদি হতে চলেছি,কি যে ভালো লাগতেছে আমার,,কই গো শুনসো
তনু -মানে??
মা দাঁড়াও
মা তো চলে গেলে,তনু এক দৌড়ে শিশিরের কাছে গেলো,
শিশির-কিহ?কে বললো
তনু-কি জানি,মনে হয় কাল যে বমি করসি,বুয়া অন্য কিছু ভাবসে
শিশির-উফ মা কে কি বুঝাবো?
মা এসে শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো
শিশির মায়ের হাত ধরে খাটে বসিয়ে বুঝালো যে এটা সত্যি না,মায়ের মন খারাপ হয়ে গেলে,
তনুর ও খুব খারাপ লাগতেছে,উনি তো জানে না উনার ছেলে কিরকম,আমাকে ছুঁলেই মাথা ঘুরায় উনার ছেলের?
রাতে খাবার খেয়ে শিশির রুমে এসে দেখলো তনু কাঁথা টেনে সোফায় শুয়ে আছে
শিশির-কি?আমার কোলে উঠতে মন চায় নাকি
তনু-না কেন
শিশির-তাহলে এত বড় খাট রেখে সোফায় আসছো কেন
তনু-ঘুমাতে
শিশির খপ করে ধরে কোলে তুলে নিলো তনুকে,তারপর বিছানায় এনে শোয়ালো
তনু-ঢং দেখলে বাঁচি না
সকালবেলা♥♥♥
চোখ খুলে দেখলাম একটা লাল টুকটুকে মেয়ে চারিদিকে ছোটাছুটি করতেছে,,এটা যদি আমার বউ হতো,নাহ এটা তো আমারই বউ,তনু,সপ্ন দেখতেছি নাকি,শিশির নিজের হাতে নিজে চিমটি দিয়ে উঠে বসলো,,
শিশির-আজ কি কিছু আছে,বুঝলাম না, এমন সাজ, আর কি করতেছো তুমি
তনু-মেহমান আসবে তো তাই ঘর গুছাই
শিশির-কিসের মেহমান?
তনু-তোর মা রে জিগা
শিশির তনুর কথাই অবাক+ভয় দুটোই পেলো,কারন তনু সহজে তুই বলে না
শিশির fresh হয়ে এসে নাস্তা করতে বসলো,,মা এসে বসলো পাশে,মায়ের মুখে হাসি,
মা-তনু বলেছে শীঘ্রই আমাকে দাদি বানাবে
কথাটা শুনে শিশিরের কাশি উঠে গেলো,কিহ?কি বললা,
শিশিরের ভয়ে গলা শুকিয়ে গেসে,এটা কেন বলসে তনু,তনুর দিকে তাকাতেই তনু মুখ ভেটকাই দিলো,
শিশির নিজের রুমে এসে বসলো,
শিশির-তুমি মাকে এটা কেন বলসো
তনু-যেটা সত্যি হতে চলেছে সেটাই
শিশির-মানে?
তনু-আপনি তো নিজে আমাকে বাবু দিবেন না
শিশির-তাহলে কি করবা তুমি
তনু-বাবু আদায় করে নিব
শিশির চোখ বড়বড় করে তাকালো তনুর দিকে,জীবনে প্রথম মেয়ে মানুষের সামনে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে,,
শিশির মুখ মুছে রেডি হয়ে অফিসে চলে গেলো,,
শিশির অফিসে বসে ভাবতেছে আজ দেরি করে বাসায় যাবে,না জানি তনু কি না কি করে বসে
রাত ১২টার দিকে শিশির বাসায় আসলো,সবাই ঘুমিয়ে গেসে,,
বিছানায়ও তনু শুয়ে আছে,
যাক বাবা বাঁচা গেলো,
শিশির fresh হয়ে বের হলো,,হঠাৎ কেউ একজন শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো পিছন থেকে,শিশির অবাক হয়ে পিছনে তাকালো,তনু?তাহলে বিছানায় কে
শিশির-আমার সতীন,
শিশির-কে?
তনু-কোলবালিশ,
জানতাম আমি জেগে থাকলে কাছে আসতেন না,তাই এই কাজ করসি
শিশির তনুর হাত ছাড়িয়ে সরতে গেলো তনু টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো শিশিরকে,
শিশিরের পায়ের পাতার উপর ভর করে দাঁড়ালো তনু,
শিশির-আমি! আমি! আমি!
তনু-কিছু করতে হবে না শিশির
শিশির-আসলে!
তনু শিশিরের গলা জড়িয়ে ধরে ওর বুকে শুয়ে পড়লো,
শিশিরের ভয় চলে গেলো হঠাৎ করে,,তনুকে ধরলো শক্ত করে,,
তনু-আজ আমাকে ফিরিয়ে দিয়েন না
শিশির ২মিনিট নিরব হয়ে থেকে পরে আর কিছু না বলে তনুকে কোলে তুলে নিলো,বিছানায় নিয়ে গেলো,
শিশির তনুর কানে চুমু খেয়ে তনুর কাঁধের থেকে জামা সামান্য সরিয়ে গলার দিকে চুমু দিতে যেতেই তনু উঠে বসলো শিশিরকে সরিয়ে দিয়ে
শিশির-কি হয়সে?
তনু-আমি ঘুমাবো
তনু কাঁথা নিয়ে সোফায় চলে যেতে নিতেই শিশির আটকালো
শিশির-কেন?
তনু-আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে আপনাকে জোর করতে গেসিলাম,তা মনে পড়াই চলে যাচ্ছি,সেদিনের অপেক্ষায় থাকবো যেদিন আমি আপনাকে জড়িয়ে ধরে ভয় দূর করাতে হবে না আপনি নিজেই আসবেন আমাকে ভালোবাসতে
তনু চলে গেলো,রুমটা নিস্তব্ধ হয়ে গেসে,বাইরের বৃষ্টির শব্দ হচ্ছে শুধু,,
শিশির ঘুমায়নি,,, জানালার থাই গ্লাসের দিকে চেয়ে বসে আছে,কারন সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তনু কাঁদতেছে,আর চোখ মুছতেছে,অথচ একটা আওয়াজ ও বের হচ্ছে না
অজান্তেই শিশিরের চোখ দিয়ে দুফোঁটা পানি বেরিয়ে আসলো,আমি তো পারতাম আজ তনুকে চলে যাওয়ার সময় আটকাতে,তাহলে মন কেন আমাকে বাঁধা দিলো
শিশির উঠে রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই মায়ের সাথে ধাক্কা খেলো, মা পানি নিতে এসেছিলো,
মা শিশিরের মুখ দেখে অবাক হয়ে গেলো,কারন ওর চোখে পানি
মা শিশিরের হাত ধরে সোফায় নিয়ে গেলো
মা-কি হয়সে আমাকে বল
শিশির-মা আমি চাইলেও তনুকে ভালোবাসতে পারি না কেন,বারবার ওকে আমি ফিরিয়ে দিই,মেয়েটা কষ্ট পেতে পেতে শেষ হয়ে যাচ্ছে,আমি আর এটা দেখতে পারতেছি না
মা-দেখ তোদের বিয়ের অল্প কদিন হয়েছে,,এমন নয় যে তুই তনুকে আগ থেকেই চিনস,,সময় নিজেকে দে,তনু তোকে চায়,এবার তুই তনুকে চাইতে হলে আগে তোর নিজেকে সময় দিতে হবে,
মা শিশিরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,,
শিশির মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো
সকালে তনু ঘুম থেকে উঠে এসে দেখলো শিশির সোফায় ঘুমাচ্ছে,
তনু নাস্তা বানাতে চলে গেলো,
বুয়া-আপা ঝগড়া হইসে নাকি
তনু কোনো কথা না বলেই কাজ করতেছে,,
চলবে♥
(অনেকেই বলেন যে তনু শুধু বেহায়ার মতন কেন থাকে,,
উত্তর-গল্পের নাম হলো Crush যখন বর,,মানে crush যখন বর হবে তখন নায়িকা বিয়ের আগে যেমন পাগল ছিলো পরেও তেমনই পাগল থাকবে,,আর এটা নয় যে নায়ক খারাপ,,যথেষ্ট ভালো গুন আমি দিয়েছি নায়কের মধ্যে,,,যদি নামের সাথে গল্পের মিলই না হয় তাহলে তো বলবেন গল্পের সাথে গল্পের থিনের মিল নেই,)

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_32
শিশির উঠে দেখলো তনু কাজ করতেছে,,
শিশির রেডি হয়ে অফিস চলে গেলো,তনু ও আটকালো না,
মা ১০টার দিকে শিশিরকে কল দিলো
শিশির-হুম মা বলো
মা-খেয়েছিস?
শিশির-না,টাইম পাই না
মা-খেয়ে নে,তনুও না খেয়ে আছে
শিশির-ওকে বলে আমি খেয়ে নিচ্ছি
মা-ঠিক আছে,খাস কিন্তু
তনু বারান্দাতে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে,,
সারা বিকাল সেখানে বসেই কাটিয়ে দিলো তনু
সন্ধ্যাই শেষ হয়ে এখন রাত ৮টা বেজে গেসে,বাইরের বাতাসে তনুর এত ঘুম এলো যে খবরই নেই,,
শিশির অফিস থেকে এসে রুমের লাইট জ্বালিয়ে ভিতরে ঢুকলো,,তনুকে খুঁজতে খুঁজতে বারান্দাতে গিয়ে দেখলো সেখানে যে attached টুলটা আছে সেখানে ঘুমিয়ে আছে তনু,,চাঁদের আলোয় শুধু ওর মুখ আর হাত পা দেখা যাচ্ছে,কারন পরনে ছিল কালো শাড়ী
শিশির শার্ট থেকে টাই খুলে খাটে ছুড়ে মারলো,,তনুর পাশে বসে ওর যতটুকু গলা দেখা যায় ততটুকুতে চুমু দিলো
তনু স্পর্শ পেয়ে উঠে গেলো,
অন্ধকারে হঠাৎ এমন স্পর্শ তনুকে ভয় পাইয়ে দিসিলো
তনু-কে
শিশির কিছু না বলে তনুকে কোলে তুলে নিলো,শিশিরের গায়ের ঘ্রানে তনু বুঝলো এটা শিশির,
শিশির চুপচাপ হাঁটতেছে,
তনুকে খাটে নামিয়ে দিয়ে শার্টে হাত দিলো শিশির
তনু-মা আপনাকে কিছু বলসে??বিশ্বাস করুন,আমি মাকে কিছু বলিনি,,,,আমি আপনাকে বলতেছি বাধ্য হয়ে কিছু করবেন না
তনু কথাগুলো ভয় ভয় চোখে বলতেছে,কারন শিশিরের ভঙ্গী তনুর অন্যরকম লাগতেছে
শিশির শার্ট খুলে তনুর দিকে এগিয়ে গেলো,
তনু-মা আমাকে বলছে আপনি নাকি
শিশির মুখে আঙুল দিয়ে তনুর কথাবলা থামালো
শিশির -চুপ
তনুর চোখে অনেক প্রশ্ন,,
শিশির তনুর গায়ের থেকে শাড়ীর আঁচল ফেলে দিলো,
তনুর শুধু মনে হচ্ছে মা শিশিরকে ধমকিয়েছে আর তাই শিশির এমন করতেছে,
শিশির কাঁদের উপরের তিলটাতে আলতো করে কামড় দিলো
তনুর হাত পা কাঁপতেছে
শিশির থেমে তনুর দিকে তাকালো,তনুর চোখ বন্ধ করে আছে দেখে মনে হচ্ছে পর পুরুষ ওর সাথে এমন করতেছে
শিশির-এই মেয়ে শুনো,মা আমাকে কিছু বলেনি,বউকে আমার ভালো লাগসে তাই আমি এমন করতেছি,অন্য কিছু ভাবলে সেটা তোমার দোষ,আমার না,এখন আমাকে disturb করবা না,খায়নি কিছু এখনও,,
তনু-আমি খাবার দিচ্ছি,
তনু আঁচল টেনে গা ঢেকে উঠতে গেলো শিশির টান দিয়ে বিছানায় চেপে ধরলো
শিশির-বহুত পালাইসো,পালাইয়া আমার দোষ দিসো,আজ তোমাকে পালাতে দিচ্ছি না
শিশির তনুর হাত আর ছাড়লো না,,
তনুকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ঠিক তেমন করে যেমনটা তনু শুরু থেকে চেয়ে এসেছিলো,খুশিতে তনুর চোখ থেকে পানি বেয়ে পড়লো,
ফোন আসলো,শিশির রিসিভ করলো না কারন সে এখন তনুকে ভালোবাসতে ব্যস্ত,,
তনুর শাড়ীতে হাত দিতেই তনু দুহাত দিয়ে চোখ বুঝে ফেললো,,
শিশির মুচকি হেসে শাড়ী নিজের হাতে নিয়ে আনলো,
শিশির-এখনই এত লজ্জা?
তনু-??
তনুর গা এখনও কাঁপতেছে,সয্য করতে না পেরে উঠে বসলো তনু,,
শিশির-কি হয়সে আবার
তনু-আমার লজ্জা করে
শিশির-তো,কি করতাম তাহলে
তনু-?কিছু করতে বলি নাই আমি
শিশির-তাহলে,এখন কি হবে?
তনু-আরে ধুর,এটা বলা লাগে, কচু,
শিশির-ওহ আচ্ছা,তার মানে লজ্জা লাগুক না লাগুক বলতে হবে এটা
তনু-হুম
শিশির-তা কে বললে এটা?
তনু-আম্মু বলসে বলতে
শিশির-ওহ আচ্ছা,তো আপনার কি সত্যি লজ্জা লাগসে নাকি হুদাই শিখানো কথা বললেন
তনু-না মানে আসলে
শিশির তনুর ব্লাউজের ফিতা এক টান দিতেই তনু চিৎকার দিয়ে বললো সত্যি লজ্জা পেয়েছি
শিশির জিভে কামড় দিয়ে তনুর মুখ চেপে ধরে ওকে বিছানায় চেপে ধরলো
শিশির-আরে এত জোরে বলা লাগে,মা বাবা কি বলবে?
তনু-ওহ সরি
শিশির উঠে গিয়ে রুমের লাইট অফ করে ফিরে আসলো,
(তারপর কি হয়সে তোমরা তো জানোই,আমি কমু না,আমার নিজেরই এখন শরম করতেছে?)
১১টা বাজে,,
তনু ঘুমাচ্ছে,,
শিশির খুধায় শেষ,ওর চোখে ঘুম নেই,তাই উঠে গিয়ে মাকে বলে খেতে বসলো,
মা-কিরে তনু কই ওর শরীর খারাপ নাকি
শিশির-না,,আসবে এখনই
তনু চুড়ির খোঁচায় জেগে গেলো,
উঠে বসতেই ১১টা বাজে দেখে তাড়াতাড়ি করে শাড়ী খুঁজে পরে বেরিয়ে আসলো,,
মা খাবার খাচ্ছে,শিশির খাবার মুখে দিয়ে তনুর দিকে তাকিয়ে ওর গলায় খাবার আটকে গেলো,কারন তনু ব্লাউজ ছাড়ায় শাড়ী পরে এসেছে
মা-কিরে শিশির কি হয়সে,পানি খা
মা তনুর দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো,
তনু-কি হয়সে মা
শিশির-রুমে যাও
তনু-কেন যাব
শিশির উঠে হাত ধরে নিয়ে গেলো,নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড় করালে
তনু-এই রে ইস,আমি একদম খেয়াল করিনি,সরি
শিশির-শয়তান মাইয়া,মা এখন হাসতেছে,মুখ দেখাব কি করে আমি,
শিশির চোখ রাঙিয়ে চলে গেলো
তনু-বাহ বেশ লাগতেছে আমাকে,চাকমা মেয়েদের মত,
তনু শাড়ীটা আরেকটু উঁচু করে পড়লো আর পেঁচিয়ে নিলো চাকমা মেয়েদের মত,
শিশির খাবার শেষ করে এসে দেখলো তনু একটা গোলাপ নিয়ে কানে গুজছে,তনুর পোশাক দেখে শিশির কিছুক্ষন হা হয়ে তাকিয়ে রইলো
তনু-কেমন লাগতেছে??
শিশির-আমি জ্ঞান হারাবো
তনু-??
শিশির তনুকে কোলে তুলে বারান্দায় নিয়ে গিয়ে নিজের কোলে বসালো,
তনুর কানের ফুলের ঘ্রান আর তনুর গায়ের ঘ্রান যেন এক নেশা সৃষ্টি করতেছে,শিশির তনুর ঘাড়ে নাক রেখে সেই ঘ্রান নিচ্ছে
তনু-?????????
শিশির-কি ম্যাডাম এত হাসার কি আছে?
তনু-কাতুকুতু লাগতেছে,নাক সরান না প্লিস
শিশির-ও তোমার এই জায়গায় কাতুকুতু আছে বুঝি
তনু-হ্যাঁ অনেক
শিশির শয়তানি হাসি দিয়ে তনুর ঘাড়ে হাত দিয়ে কাতুকুতু দিতে থাকলো,তনু চিল্লাইতে চিল্লাইতে উঠে গেলো,কিন্তু শিশির থামতেছে না দেখে দৌড় দিলো,আর বাইরের কার্পেটের সাথে পা পেছিয়ে দুম করে নিচে পড়ে গেলো তনু,শাড়ীর পেঁচ ও খুলে গেলো,
তনু চোখ মুখ শাড়ীর আঁচল দিয়ে লুকিয়ে ফেললো
শিশির-কি?দৌড়াও আরও
তনু-নাহ
শিশির-কেন??দৌড়াও আমি দেখি
তনু-দেখতে হবে না
শিশির তনুর পাশে বসে তনুর দিকে তাকিয়ে আছে
তনু-প্লিস আরেকদিকে তাকান,আমি শাড়ী ঠিক করবো
শিশির-কেন তাকাব
তনু-তাকান না,একটা জিনিস দিব তাহলে
শিশির -ওকে
শিশির আরেকদিকে তাকালো,তনু শাড়ী ঠিক করে উঠে গিয়ে রান্নাঘর থেকে মুড়ি এক মুঠো আনলো
তনু-দেখি চোখ বন্ধ করেন,,জিনিসটা দিব,আর হাত পাতেন?
শিশির তো খুশি হয়ে হাত পাতলো
তনু মুড়ি গুলো শিশিরের হাতে দিয়ে এক দৌড়ে পালালো
শিশির চোখ খুলে রেগে গেলো
শিশির-শয়তান মাইয়া,রুমে আসো তোমার খবর আছে
তনু গিয়ে মায়ের কাছে চলে গেলো
মা-নে মা অনেক গল্প করলাম এবার তুই যা ঘুমা
তনু-তুমি ঘুমাবা,আচ্ছা
তনু ভয়ে ভয়ে উঁকি মেরে দেখলো কাঁথা মুড়ি দিয়ে শিশির ঘুমাচ্ছে
তনু রুমে ঢুকতেই কেউ দরজা টা লাগিয়ে দিলো
তনু চোখ বড়বড় করে পিছনে তাকালো
তনু-আপনি,তাহলে বিছানায় কে
শিশির-আমার 1st wife,কোলবালিশ??তোমার আইডিয়া কাজে লাগালাম
তনু পিছিয়ে যাওয়া ধরতেই শিশির হাত ধরে ফেললো,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_33
শিশির-আমাকে তো মুড়ি খাওয়ালেন
তনু-হ্যাঁ তো
শিশির-তো কি আর,
তনু-এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন হুম?
শিশির-নাহ দেখতেছি,
তনু-কি দেখেন??
শিশির-গোলাপ গাছে আরেকটা গোলাপ ফুটেছে
শিশির আরেকদিকে তাকিয়ে চলে গেলে
তনু ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে,
তনু-(আমি ভাবলাম আমার দিকে তাকিয়ে দেখতেছে,)
শিশির -একি আরেকটা গোলাপ যেন কই,ও হ্যাঁ তনুর কাছে,,
তনু তাড়াতাড়ি কানের থেকে ফুল নিয়ে শিশিরকে এগিয়ে দিলো
শিশির-খুললে কেন?
তনু-এমনি,নিন
শিশির ফুলটি নিয়ে dressing table থেকে একটা ক্লিপ এনে তনুর কাছে এসে ওর চুলের সিতি বরাবর টিকলির মতন আটকিয়ে দিলো,
শিশির-নাইস
তনু-আর কিছু না?
শিশির-মারকাটারি ফিগার
তনু-??
শিশির-?
শিশিরের ফোন আবার বাজলো,শিশির গিয়ে ফোন হাতে নিলো,,নাতাশার ফোন,উফ!
শিশির number blk করে দিলো,
তনু শিশিরকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো
তনু-কে?
শিশির-নাতাশার ফোন
তনু-মেয়েটা এমন করে কেন
শিশির-জানি না,বাদ দাও
শিশির তনুকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে গেলো,ওর ঠোঁট হাত দিয়ে স্পর্শ করে সেখানে চুমু দিলো,♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
পরেরদিন সকাল♥
শিশির তাড়াতাড়ি করে উঠে রেডি হয়ে অফিস চলে গেলো,কারন অনেক কাজ পড়ে আছে,
শিশির অফিসে আসতেই দেখলো নাতাশা বসে আছে ওয়েটিং রুমে,
শিশির-সমস্যা কি তোমার
নাতাশা-তুমি আমাকে মিথ্যা বলসো কেন?তোমার তো এইডস না
শিশির-whatever!!বেরিয়ে যাও এখান থেকে
নাতাশা-চলো রুমডেট করি
শিশির-মাথা ঠিক আছে তোমার??
নাতাশা-ওহ আমাকে আর লাগবে না তোমার
নাতাশা শিশিরের কলার টেনে ধরলো,
শিশির-ছাড়ো,রহিম চাচা, রহিম চাচা!!
রহিম -জী সাহেব
শিশির-ওকে বের করো
নাতাশা-খবরদার,বেরিয়ে যাও, আমি শিশিরের সাথে কথা বলবো,
নাতাশা শিশিরের দিকে এগিয়ে ওকে চুমু খেতে যেতেই একটা হাত ওকে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো,এমন জোরে যে নাতাশা গিয়ে নিচে পড়লো
হাতটা শিশিরের না,
তনুর
তনু-চুমু দিবি?এত সাহস??
তনু টেবিল থেকে পানি নিয়ে নাতাশার গায়ে ছুড়ে মারলো,
পায়ের থেকে জুতা নিলো
তনু-বের হবি নাকি জুতা পেটা করবো?
নাতাশা-how dare you?
তনু-how dare you???
শিশির-তুমি কখন এলে
তনু-কিছুক্ষন আগেই,আমি জানতাম আজ ও আপনার সাথে মিট করার চেষ্টা করবে,আর আমার সন্দেহ ঠিক ছিলো
নাতাশা উঠে তনুকে ধাক্কা দেওয়া ধরলো শিশির হাত ধরে ফেললো,হাত ছুড়ে মেরে একটা stuff কে ইশারা করলো,সে এসে নাতাশাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো,
শিশির-উফ কি ঝামেলা
তনু-সব আপনার জন্য
শিশির-আমি কি করলাম
তনু-সেদিন ওর বাসায় গিয়ে নাটক না করলে এমন হতো না,test মারাইতে গেসে,
শিশির – ?
তনু -হুহ
তনু গিয়ে শিশিরের চেয়ারে বসলো
তনু-এই মিঃ যাও আমার জন্য কফি নিয়ে আসো
শিশির-ওকে ম্যাম,,টিপু টিপু!!
তনু-তোমাকে বলসি আনতে,বড় পদের লোকদের এভাবে আপ্যায়ন করো বুঝি?
শিশির-সরি ম্যাম,আমি আনতেছি,,
টিপু কফি বানিয়ে শিশিরের হাতে দিলো,, শিশির কফি নিয়ে এসে টেবিলে রাখলো,তনু ধরতে যেতেই মগটা নিয়ে নিলো শিশির
শিশির-তো আপনার পদকি জানতে পারি?
তনু-আমি এই অফিসের মালিকের বউ
শিশির-সব যখন আমি করলাম,খাইয়েও আমি দিব,
শিশির তনুকে উঁচু করে তুলে টেবিলে বসিয়ে দিলো
তনু-লাগবে না লাগবে না,আমি নিজেই খেয়ে নিব
শিশির-তা হচ্ছে না,আপ্যায়ন করতে দিন
শিশির তনুর কোমড় চেপে ধরে কফি মুখের কাছে ধরলো,কাতুকুতুতে তনু মরে যাচ্ছে,অনেক কষ্টে এক চুমুক দিলো,,শিশিরের হাত এবার তনুর ব্লাউজের ফিতার দিকে গেলো
তনু-হয়সে হয়সে,এমন আপ্যায়ন আমার লাগবে না,আমি যাই
শিশির-কোনো কমতি হলো নাকি
শিশির তনুর হাত টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে ফেললো তনুকে,
তনু-নাহ কমতি হয়নি,বাসায় যাব?
শিশির-আমি যখন চাইব তখন,
তনু মুখ গোমড়া করে সোফায় বসে আছে,শিশির কাজ করতেছে,,
তনু হঠাৎ ফোন নিয়ে acting করতে করতে বললো,হ্যাঁ মা আসতেছি,
তনু-মা কল দিসে,বাই
শিশির-না,
তনু-মা বললো তো
শিশির-মা বাবাকে নিয়ে ফুফুর বাসায় গেসে,আমাকে বলসে,হুদাই drama করে এখান থেকে পালাতে পারবা না,তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যাব
তনু-কই???
শিশির-তা নিজেই দেখতে পাবে
শিশির কাজ শেষ করে তনুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো,,
তনুর চোখ বেঁধে দিয়েছে শিশির
তনু-কোথায় যাচ্ছি আমরা
শিশির-গেলেই দেখবেন
তনুর হাত ধরে বের হলো শিশির,আস্তে আস্তে ওকে নিয়ে যাচ্ছে,,একটা বাসায় ঢুকলো তনুর মনে হচ্ছে,,
শিশির রুমে এসে তনুর ঘাড়ের উপর থেকে চুল সরিয়ে চুমু দিলো,,
তনু-কোথায় আমরা
শিশির তনুর চোখের থেকে কাপড়টা খুলে ফেলবো,,
তনু-আরে এটা তো আমাদের রুম,,এভাবে সাজালেন কখন,,
শিশির-রহিমকে পাঠিয়ে করসি এসব,
পুরো রুম গোলাপ ফুল আর বেলি দিয়ে সাজানো,,
তনু তো পাগল হয়ে যাবে,খাটে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে লিখা তনু♥শিশির,,
শিশির-আজ আমাদের বিয়ের ২মাস পূর্ন হলো
তনু-ইস আমার একদম মনে ছিলো না?
শিশির-জী,,নেন,কেক কেটে আমাকে উদ্ধার করেন
তনু-মা বাবা কই
শিশির-উনারা আগামী ২দিন আসবে না,ফুফুর বাসায় থাকবে
তনু-ওহ
তনু কেক কেটে শিশিরের সারা গালে লাগিয়ে এক দৌড় মারলো
শিশির -আজ তোমার খবর আছে,
শিশির রুম থেকে বেরিয়ে দেখলো কোথাও তনু নেই মানে লুকিয়ে গেসে,,
শিশির-তনু ভালই ভালই চলে আসো নইলো আমি ধরলে খবর আছে
তনু-কচু করবা
ইস এটা কেন বললাম ধুর?
শিশির-হাহাহা,বোকা
শিশির সোফার পেছনে গেলো নাহ নেই,অল্প সময়ে লুকালো কেমনে,,
শিশির হাতের ঘড়ির কাঁচে তনুকে দেখতে পেলো,,
ব্যস এক টান দিয়ে ধরে ফেললো
তনু-প্লিস ছাড়ুন,?
শিশির-?
শিশির তনুকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো,,
তনু-ঐ যে বুয়া
শিশির পিছনে তাকাতেই তনু আরেক দৌড় মারলো
রুমে এসে দরজা লাগাতে যাবে দেখলো শিশির এসে গেসে,তাই পিছিয়ে বাথরুমে গিয়ে দরজা লাগাতে যাবে শিশির আটকিয়ে নিজে ঢুকে গেলো,দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে দিলো
শিশির-তনু এবার কই পালাবা??
তনু-এ্যা আম্মুউউউউ????
শিশির তনুর হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো,,তনুর গালে ঘষে নিজের গালের কেক লাগিয়ে দিলো,,
তনু হাত নড়াচ্ছে শুধু
শিশির হেসে দিয়ে ঝর্না ছেড়ে দিলো
দুজনেই চুপচাপ ভিজতেছে
তনু-একটা কথা বলবো
শিশির-বলো
তনু-আমি এখন বেবি চাই না
শিশির-হুম আমিও,কারন তুমি এখনও ছোট,তোমার পক্ষে এত কিছু সামলানো সম্ভব হবে না
তনু-আর মা?
শিশির-মাকে আমি বুঝিয়ে দিব
তনু শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো
তনু-আমাকে বুঝবেন জানতাম আমি
শিশির-জী,,তো চলেন, নইলে জ্বর এসে যাবে,
শিশির ঝর্না অফ করে দিলো,,
তনু মন খারাপ করে ফেললো,এতক্ষন ভালই লাগতেছিলো
তনু বের হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো,গায়ে দুজনেরই ভিজা কাপড়
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে,শিশির নিজের জামা নিতেছে পরার জন্য
তনু-আচ্ছা এখন যদি আমার জায়গায় নাতাশা থাকতো,ভিজা কাপড়ে,সেম পরিস্থিতিতে কি ও আপনি এমন করতেন?
শিশির থমকে গেলো তনুর কথায়,,কি বললে?
তনু-কিছু না
তনু নিজের জামা নিয়ে বাথরুমে যেতে নিলো শিশির পথ আটকালো
শিশির-তোমার মতে আমি তোমাকে আদর করতে কমতি দেখাচ্ছি?
চলবে♥

Crush যখন বর Season_3 Part_28/29/30

0

Crush যখন বর Season_3 Part_28
Writer-Afnan Lara

সকালে তনু চোখ খুলে যা দেখলো তার জন্য প্রস্তুত ছিলো না,,কতগুলো বেলুন ফ্লোরে দেওয়ালে,
তনু-আজ কারো বার্থ ডে নাকি
শিশির দরজা খুলে ঢুকলো
শিশির-আজ special day,আর আমি চাই তোমার সাথে সারাটা দিন কাটাতে
তনু-কি আজকে?
শিশির-ভাবো
শিশির তনুর হাত ধরে উঠালো,,একটা প্যাকেট দিলো ওর হাতে
শিশিরের মুখে আজ হাসি,তনু কি স্বপ্ন দেখতেছে??নাহ এটা তো সত্যি
তনু প্যাকেট খুলে দেখলো নীল রঙের শাড়ী,,
তনু খুশি হয়ে গিয়ে পড়ে আসলো,
তনু-আসেন নাস্তা করবো
শিশির কিছুক্ষন তনুর দিকে তাকিয়ে থাকলো,,নাতাশার চাইতেওও তনু একটু বেশি মিষ্টি,,চেহারার গঠন দেখতে বেশ,হবে নাতাশা বেশি ফর্সা,তাও তনুর গায়ের রঙ সুন্দর লাগে শিশিরের কাছে,,ওমন ফর্সা শিশিরের ভালো লাগে না,,নাতাশার নাক বোচা তবে তনুর নাক চিকন আর চুল ও বড় আছে,নাতাশার চুল একদম ছোট,,শিশির তনুর সাথে নাতাশাকে কখনও তুলনা করেনি,কারন তনুকে তার কাছে অন্যরকম লাগে,এমন রুপ তার কারোর সাথে মিলানো সম্ভব নাহ
তনু-এই যে কি হলো?কি ভাবেন?
শিশির-ওও না কিছু না,চলো যাই
দুজনে নাস্তা করে বেরিয়ে পড়লো,,তনু গাড়ীতে বসে রাস্তায় রাস্তায় দেখলো গোলাপ নিয়ে মানুষ বসে আছে,কাপল আর কাপল, তখনি ওর মনে পড়লো আজ তো valentines day,ইস আমার মনে ছিলো না
শিশির মুচকি হাসলো,,গাড়ী থামালো একটা লেকের সামনে,
শিশির তনুর হাত ধরে হাঁটা ধরলো
তনু চারিদিক দেখতেছে
শিশির-Restaurant যাবা নাকি এখানেই থাকবা
তনু-এখানেই থাকবো
দুজনে হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে বসলো এক জায়গায়,,
তনু শিশিরের কাঁধে মাথা রেখে বসলো,শিশির বাধা দিলো না
তনুর হাতে একটা লাল লাভ বেলুন,,তনু সেটা নিয়ে খেলতেছে,,
শিশির-তোমার সত্যি ১৮তো, দেখে তো মনে হয় বাচ্চা মেয়ে তুমি,,
তনু-হুহ,কাল পরশুর দিকে বাবুর মা হয়ে যাব আর আপনি আমাকে বাবু বলেন?
এটা বলেই তনু জ্বিভে কামড় দিলো,ইস কি বলে ফেললাম,?
শিশির-??
শিশির বাদাম কিনে তনুর হাতে দিলো,তনু মজা করে খেতে লাগলো,
শিশির বাদাম মুখে দিয়ে পুরুত করে ফেলে দিলো,কাশতে থাকলো যেন কেউ গুল্লি ধরে তাকিয়ে আছে
তনু লেকের ওপাশে তাকালো,নাতাশা কোমড়ে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে হাতে ফুল,
শিশির-চলো যাই এখান থেকে
তনু-না কেন??হুহ,
তনু শিশিরের এক হাত জড়িয়ে বসে থাকলো,
শিশির-শুধু শুধু prb হবে,চলো যাই
তনু না শুনার ভান করে বাদাম খাচ্ছে
নাতাশা আসতেছে
নাতাশা শিশিরের পাশে বসে ওর এক হাত চেপে ধরলো
তনু চোখ বড়বড় করে হাত ছাড়িয়ে নিলো
তনু-ঐদিন চুমু খাইয়ে দেখিয়ে দিসে তাও তোর শিক্ষা হয়নি??অন্য কিছু দেখতে চাস?
নাতাশা-you shut up!দুদিনের মেয়ে আমাকে সরাতে আসছে
তনু-তুই তো একদিনের মেয়ে,যারে কাঁচকলা দেখিয়ে আমি শিশিরকে বিয়ে করেছি
নাতাশস-তো কি হয়সে,শিশির শুধু আমার
তনু-লাত্তি দিয়া পানিতে ফালাই দিমু
নাতাশা-ফালাও,শিশির আমাকে তুলবে,আমি সাঁতার জানি না,তাই না জানু?
তনু-ওহ তাই,ওকে
তনু এক ধাক্কা দিয়ে নাতাশাকে পানিতে ফালাই দিলো
নাতাশা-বাঁচাও শিশির
তনু -এই যে হকার ভাইয়া লাফ দেন, আমার বোন পড়ে গেসে, আল্লাহ কি হবে,আমার জামাইর জ্বর পানিতে নামা যাবে না,আল্লাহ?????
হকার তার জিনিস রেখে এক লাফ দিয়ে নাতাশাকে ধরে তুললো,
নাতাশা রেগে গজগজ করতেছে
শিশিরের পকেট থেকে ৫০০টাকার নোট নিয়ে তনু জোর করে হকারকে দিয়ে দিলো
তনু-thanks ভাইয়া,আপনি না থাকলে আমার বোনের কি হতো????
নাতাশা-?
নাতাশা-আমি এখন বাসায় যাব কি করে, শিশির তোমার শার্ট টা দাও
তনু -হকার ভাইয়া দাঁড়ান
তনু শিশিরকে দাঁড় করিয়ে ওর গায়ের থেকে শার্ট খুলে নিলো,ওর গায়ে শুধু টি শার্ট একটা
শিশির-কি করতেছো কি
তনু শার্টটা হকার কে দিয়ে দিলো আর হকারের শার্ট টা নিয়ে নাতাশার গায়ে ছুড়ে মারলো
তনু-যাও,Next time পাঙ্গা করতে আসবা না বুঝছ
তনু শিশিরের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো
দুজনেই আরেকটু ঘুরে বাসায় চলে আসলো কারন মেঘের অবস্থা ভালো না
শিশির রুমে এসে change করে দেখলো তনু নেই,
শিশির বাইরে এসে দেখলো মেইন দরজা ফাঁক,
শিশির ছাদের দিকে গেলো ছাতা নিয়ে কারন খুব জোরে বৃষ্টি শুরু হয়সে
তনু ছাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে,দুহাত মেলে
শিশির -তনু! চলে এসো,জ্বর হয়ে যাবে তোমার
তনু-আপনি যান
শিশির ছাতা নিয়ে এসে তনুর মাথার উপর ধরলো,,বছরের প্রথম বৃষ্টি,জোরেই হচ্ছে,
তনু সরে গেলো
শিশির-জ্বর হবে তোমার
তনু-কিচ্ছু হবে না
শিশির ছাতা নিচে রেখে দিলো,
তনু-????
শিশির- আমিও ভিজি,
অনেকক্ষন দুজনে নিচে বসে ভিজলো,,
তনুর গা কাঁপুনি উঠতেই শিশির একটান দিয়ে গায়ের সাথে লাগিয়ে নিলো,,
বৃষ্টি থেমে গেসে,কিন্তু তনুর চুল থেকে পানি এখনও পড়তেছে,,গায়ের শাড়ী ভিজে একাকার,শিশির একবার তাকিয়ে আর তাকালো না আরেকদিকে তাকিয়ে রইলো,এসব তাকে আকর্ষন বেশি করে যা এখন সে চাচ্ছে না তাই আরেকদিকে ফিরে থাকা
তনুর মন খারাপ হয়ে গেলো,উঠে চলে গেলো,
শিশির আরও কয়েক মিনিট থাকলো সেখানে তারপর নিজেও চলে আসলো,তনু যে রুমে এতদিন ঘুমাতো সেখানে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে
শিশির-হুম রাগ হয়েছে
তনু হঠাৎ খেয়াল করলো শিশির তনুকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে শুয়েছে
তনু আচমকা তাকাতেই দেখলো শিশির চোখ বন্ধ করে আছে
তনু কোমড় থেকে হাত সরিয়ে উঠে বসলো
শিশির -কি?
তনু-এসব দিয়ে কি বুঝাতে চান,ভালোবাসার লোভ দেখিয়ে তো ভালোবাসা দেন না,তাহলে এসব কেন?লাগবে না আমার এসব
তনু উঠে চলে গেলো
শিশির আর কিছু বললো না,ঘুমিয়ে পড়লো
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_29
সকালে তনু নাস্তা বানিয়ে শিশিরকে ডাক দিলো,আজ শিশির ঘুমাচ্ছে এখনও,,
তনু-এই যে খাবার রেডি,অফিস যাবেন না??
শিশির-হুমমম, আসতেছি
শিশির উঠে গিয়ে fresh হয়ে বেরিয়ে হাতে অফিসের শার্টটা নিলো,তারপর কি যেন ভাবলো, ভেবে শার্টটা রেখে দিয়ে ডাইনিং এ আসলো,
তনু-একি রেডি হলেন না,আজ অফিস যাবেন না?
শিশির-নাহ
তনু দেখলো শিশির তনুর দিকে কেমন করে তাকাতে তাকাতে বসলো,এমনকি এখনও তাকিয়েই আছে,তনুর বুকের ভিতর কেঁপে উঠলো,,শিশিরের এমন চাহনি কেন,
তনু খাবার এগিয়ে দিলো
শিশির চুপচাপ খাচ্ছে,,
মা ফোন দিতেই তনু ফোন হাতে নিয়ে কথা বলতে বলতে সোফা গুছাতে থাকলো,
হ্যাঁ মা সবাই ভালো আছি,তোমরা কবে আসবা,অনেকদিন তোমাদের দেখি না আমি,মীমের পরীক্ষা শেষ হলেই আসতে হবে, ওকে বাই
তনু ফোন রেখে পিছনে তাকাতেই শিশিরকে হঠাৎ দেখে ভয় পেয়ে গেলো,পড়ে যেতে নিলো শিশির ধরে ফেললো
তনু-আপনি এখানে কেন,খাচ্ছেন না?
শিশির-ঐ আসলে মা কি বলে শুনার জন্য এলাম
তনু -ওহ,মা ভালো আছে,বলসে কয়েকদিন পর আসবে
শিশির-ওও
তনু খেয়াল করলো তনু যখন যে রুমে যাচ্ছে,শিশির ও যাচ্ছে
তনু-কি ব্যাপার বলুন তো
শিশির -আমার বাসায় আমি কি আমার মন মত রুমে ঘুরাঘুরিও করতে পারবো না??
তনু-হ্যাঁ অবশ্যই পারবেন,
শিশির- রেড কালার এটা কি??সস?
তনু-(এটা তো লাল মরিচের বাটা পানি মিক্স করা)হ্যাঁ সেটাই
শিশির-ওয়াও,
বুয়া ইশারা করতেছে শিশিরকে,যেন এটা না খায়,শিশির এক চামচ নিয়ে মুখে দিলো
মুখে দিয়ে তনুর দিকে তাকিয়ে আছে,এখনও গিলেনি,গিলার মত অবস্থাতে নেই শিশির,রোবটের মতন দাঁড়িয়ে আছে
তনু এক গ্লাস পানি এগিয়ে ধরলো
শিশিরের চোখ লাল টুকটুকে হয়ে আছে,জীবনে এমন ঝাল সে মুখে দেয় নি
তনু-নিন পানি খান
শিশির তনুকে ধরে এক টান দিয়ে কাছে নিয়ে এলো,
তনু খুব বুঝতে পারছে এখন কি ঘটতে চলছে,তাই সে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে রাখলো
শিশির আর কোনো ওয়ে না পেয়ে তনুর কাঁধ থেকে চুল সরিয়ে সেখানে কামড়ে ধরে চুমু খেতে লাগলো
বুয়া চোখে হাত দিলো?
তনু-?
শিশির মরিচগুলা তনুর ঘাড় থেকেই খেয়েছে,যখন তার মুখ থেকে ঝাল গেলো সে তনুকে ছেড়ে দিলো,এতক্ষন তনু অনেক ছটফট করেছে কিন্তু শিশির তার দুহাত চেপে ধরে রেখেছিলো,
শিশির মুখ মুছতে মুছতে পানির বোতল নিয়ে গিয়ে সোফায় বসলো
তনু তো চিল্লাতে চিল্লাতে পুরো বাসা মনে হয় ভেঙে ফেলবে,
এক দৌড়ে বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দিলো,আর এর ভিতর বালতি থেকে পানি নিয়েও ঘাড়ে ঢালতে থাকলো,ও মাগো, আমাকে শেষ করে দিলো গো,আল্লাহ গো,আব্বু গো,,আম্মু গো,,
৩০মিনিট পর কাঁদতে কাঁদতে বের হলো,এমন নাজেহাল আর কখনও হয়নি তার,,খাটে বসে বসে ভিজা রুমাল দিয়ে চাপতেছে ঘাড়ে,,
শিশির এসে পাশে বসলো,
শিশির-আর খাওয়াবা আমাকে মরিচ???
তনু চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে,ইচ্ছে করতেছে এখনই খুন করে ফেলি
বুয়া-আপা কে জানি আসছে
শিশির গিয়ে দরজা খুললো,পাশের বাসার আন্টি মিষ্টি নিয়ে এসেছে,তার ছেলের মেয়ে হয়েছে,
তনুকে ডাকতে বললো,
তনু এসে সালাম দিলো,
আন্টি-নাও মিষ্টি,
তনু বারবার ঘাড়ের দিকে হাত দিচ্ছে,
আন্টি-তুমি কি অসুস্থ??
তনু-না আসলে,
তনুর খুব অসস্তি লাগতেছে,,
আন্টি-কি হয়সে মা?দেখি
আন্টি গিয়ে তনুর ঘাড় ধরে দেখলো লাল টুকটুকে হয়ে আছে
আন্টি-একি পুড়লো কি করে
শিশির-নাহ, পুড়ে নাই,টমেটো বাটা ঘষতে গিয়ে মরিচবাটা ঘষে ফেলেছে তনু?
আন্টি-ইস,আহারে মেয়েটা,,
আন্টি-আমি বুয়াকে দিয়ে একটা মলম পাঠাচ্ছি,ওটা দিলে ঠিক হয়ে যাবে
শিশির-আচ্ছা
শিশির মলমটা তনুর ঘাড়ে লাগিয়ে দিলো,
বুয়া মুচকি মুচকি হাসতেছে,
তনু এটা দেখে রেগে শিশিরকে কয়েকটা কিল বসিয়ে দিলো ঠাস ঠাস করে
শিশির -আউচ,আমি কি করসি,তুমি কেন বলসো ওটা সস,
তনু-তাই বলে এভাবে প্রতিশোধ নিবেন?
শিশির-অন্যভাবে নেওয়া উচিত ছিলো নাকি?
শিশির তনুর দিকে এগিয়ে গেলো
তনু সোফার সাথে লেগে গেলো,
বুয়া-আপা
তনু-হুম বলো
বুয়া-আমার কাম শেষ,আমি যাই তাইলে
তনু-আচ্ছা
শিশির গিয়ে দরজা লাগালো,,
তনু টেবিলে খাবার দিতেছে,,
শিশিরের মুখে শয়তানি হাসি,খাবার খেয়ে উঠে গেলো
তনু-এমন করতেছে কেন। আজকে?হুহ
তনু হাত ধুয়ে গেলো,,উফ ঘাড় এখনও জ্বালা করতেছে,অসভ্য একটা?
তনু গিয়ে আলমারি গুছাতে লাগলো,শিশির ফোন দেখতেছে আর বারবার তনুর দিকে তাকাচ্ছে,,
তনু সোজা বারান্দায় চলে গেলো,
শিশির রেগে গেলো এবার
শিশির-কি এখানে আসতে মন চায় না তোমার
তনু অবাক হয়ে পিছনে তাকালো
শিশিরের মুখ একদম ভিলেনদের মত করে রাখসে,
তনু-এসে কি হবে?
শিশির-বাচ্চা হবে
কি বললো পরে মাথায় আসতেই শিশির মুখ আরেকদিকে ফিরিয়ে নিলো
তনু-তাই নাকি,বাচ্চা হবে?তা কেমনে?ম্যাজিক শিখলেন নাকি,নাকি কিস করবেন আর বাচ্চা হয়ে যাবে?
শিশিরের গায়ে কথাটা লাগলো,উঠে গিয়ে তনুর দিকে এগিয়ে গেলো
তনুর একদম ভয় লাগতেছে না,কারন শিশির কিছুই করবে না,কিন্তু সে জানে না সকাল থেকে শিশিরের মাথায় কি চলতেছে
শিশির তনুর চুলের মুঠি ধরে বারান্দার গ্রিলের সাথে তনুকে ঠেকে ধরলো
তনু-কি?
শিশির-তোমার ভয় লাগতেছে না?
তনু-কিসের জন্য?আর কি নিয়ে
শিশির-আমি যদি তোমার সাথে খারাপ কিছু করি?
তনু-ভিজা শরীরের একটা মেয়েকে দেখে বারবার যে চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে,সে আর কি করবে?
শিশির তনুর চুল আরও জোরে টেনে ধরলো
তনু ব্যাথা পেলো,কিন্তু আওয়াজ করলো না
তনুর মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে সেখানে জমে আছে শত শত অভিমান
তনু-যার মনে সারাদিন নাতাশা থাকে সে আর কি করবে?
শিশিরের রাগ বাড়তেছে,
তনু-ছাড়ুন,আশেপাশের মানুষ অন্য কিছু ভাববে
শিশির-কি ভাববে?
তনু-English এ এটাকে বলে Domestic violence
শিশির-মারতেছি তোমাকে?
তনু-তাই দেখা যাচ্ছে
শিশির-দূর থেকেও কি তাই দেখা যাবে?
তনু খেয়াল করলে শিশির তনুর একদম কাছে,,
তনু চোখ আরেকদিকে ফিরিয়ে নিলো
শিশিরের চোখ তনুর ঘাড়ের দিকে গেলো,,স্পষ্ট লাল বর্ন হয়ে আছে
শিশির আরও এগিয়ে গেলো
তনু চোখ মুখ খিঁচিয়ে সরে যেতে নিলে,শিশির মুখ নিয়ে ঘাড়ে চুমু দিলো,তারপর ছেড়ে দিলো তনুকে
শিশির-আজ আমি তোমাকে…
তনু তাকিয়ে আছে শিশিরের মুখের দিকে
শিশির-পারবো না,আমি পারবো না
শিশির বেরিয়ে গেলো,
তনু সেই জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
শিশির বেরিয়ে এসে গাড়ী চালিয়ে সোজা নাতাশাদের বাসায় গেলো,,
নাতাশা ফোনে কথা বলতে বলতে দরজা খুললো
শিশিরকে দেখে খুশি হয়ে ওর হাত ধরে ভিতরে আনলো
নাতাশা-তুমি ফিরে এসেছো আমার কাছে?
শিশির-চলো রুম ডেট করি
(নাতাশাকে last বারের মত test করছে শিশির)
নাতাশা-what, r u sserious? ok চলো,তনুকে দিয়ে হচ্ছে না বুঝি???নাকি ও হিজলা??
শিশির-নাহ আসলে এইডস হয়সে আমার??,চলো সময় নষ্ট করবো না
নাতাশা-কিহ,আর ইউ সিওর?
শিশির-হুম
নাতাশা-,,আমার একটা জরুরি কাজ আছে, পরে কথা হবে কেমন??রাগ করো না প্লিস
শিশির মুচকি হাসলে,বাহ বেশ ভালই প্রমান পেলো সে,,মনে হচ্ছে মাথা থেকে একটা বোঝা নেমে গেসে,শান্তির একটা শ্বাস নিয়ে হাসতে হাসতে চলে আসলো বাসায়,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_30
রাতে শিশির বাসায় ফিরলো,দরজা লক থাকায় পকেট থেকে চাবি নিয়ে শিশির দরজা খুললো,তনু সোফায় ঘুমিয়ে আছে,
শিশির তনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,হাত লাগতেই তনু উঠে গেলো
তনু-কখন এলেন
শিশির-মাত্র
তনু-ওহ,আসুন খাবার দিচ্ছি
শিশির-আমার খিধে নেই,
শিশির রুমে চলে গেলো,
তনুকে নাতাশা ফোন দিলো
তনু-হ্যালো কে?
নাতাশা-আমি নাতাশা
তনু-ওহ কি মনে করে?
শিশির দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে শুনতেছে
নাতাশা-শিশিরের নাকি এইডস হয়সে,তোমার কি এইডস ছিলো নাকি
তনু-মানে!
নাতাশা-হুম আজ এসেছিলো আমার বাসায়,রুম ডেট করবে বলে,আমি বাবা এইডস এর কথা শুনে পালাই গেসি
তনু-রুম ডেট!!!?
নাতাশা-হ্যাঁ,ও বলসে তোমাতে নাকি মন ভরে না তার
তনু ফোন রেখে দিলো,,
শিশিরের কাছে গেলো,
তনু-আপনি নাতাশাদের বাসায় গিয়েছিলেন??
শিশির-হুম
তনু-রুম ডেট করতে চেয়েছিলেন?
শিশির -হ্যাঁ,কিন্তু
তনু আর কিছু বলতে দিলো না,থামিয়ে দিলো
তনুর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তেছে
শিশির তনুর হাত ধরতে গেলো,তনু হাত সরিয়ে ফেললো,তনু বেরিয়ে গেলো রুম থেকে গিয়ে আরেক রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো,
শিশির-তনু আমার কথা শুনো,আমি রুমডেট করার কথা বলেছি তার পিছনে কারন আছে,তনু!তনু প্লিস দরজা খুলো
তনু ফ্লোরে বসে আছে,বিয়ের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত স্মৃতি ওর মনে আসতেছে,আর কান্না পাচ্ছে খুব,
শিশির-তনু দরজা খুলো
শিশির অনেকক্ষন ডাকলো,তনুর সাড়া না পেয়ে চলে গেলো,
সকালে শিশির তাড়াতাড়ি উঠে তনুকে দেখতে গেলো,দরজা এখনও বন্ধ,,
শিশির এবার আর থাকতে না পেরে সারা বাসা খুঁজে ঐ রুমের চাবি বের করলো,তারপর দরজা খুললো,ভিতরে গিয়ে দেখলো তনু খাটের পাশে নিচে বসে আছে,মাথা বিছানায় হেলিয়ে দিয়ে,
শিশির তনুকে ধরে উঠাতে গেলো তনুর হাত পা ঠাণ্ডা বরফ হয়ে আছে ফ্লোরে সারারাত থাকার কারনে,তার উপর তনু চোখ খুলছে না,জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তনু
শিশির তনুকে বিছানায় নিয়ে শোয়ালো,কল দিয়ে পাশের হসপিটালের একজন doctorকে ডাকলো,
উনি ২০মিনিট পর আসলো,তনুকে ভালো করে দেখে বললেন চিন্তার কিছু নেই,pressure এ senseless হয়ে গেসে,,একটা ইনজেকশান দিয়ে দিলেন,,আর বললেন যেন ঠাণ্ডা কিছু না খায় তনু
শিশির গিয়ে তনুর পাশে বসলো,,
তনু চোখ বুজে আছে,doctor একটা সেলাইন লাগিয়ে দিয়ে গেসে,,
দুপুরের দিকে তনুর জ্ঞান ফিরলো,শিশির পাশে বসে তাকিয়ে আছে
তনু উঠে বসতে লাগলো শিশির ধরতে যেতেই তনুর হাত আটকালে
তনু-Don’t touch me
তনু উঠে বসলো,
শিশির-আমি খাবার আনতেছি,
তনু-আমি খাব না
শিশির গিয়ে এক plate আনলো,,এনে তনুর মুখে খাবার ধরতেই তনু প্লেট নিয়ে নিচে ফেলে দিলো
তনু-আপনার থেকে আমি এত নিচ কাজ আশা করিনি,
তনুর চোখে পানি
শিশির-তুমি ব্যাপারটা না বুঝেই এটা বলতেছো
তনু-আমার আর কিছুই বুঝার নেই,চলে যান এখান থেকে
শিশির উঠে চলে গেল
কিছু না খেয়ে থাকায় তনুর মাথা ঘুরতে থাকলো,,শুয়ে পড়লো
দুপুরের দিকে শিশির তনুকে আবার দেখতে আসলো,
তনু বমি করতেছে বাথরুমে,শিশির গিয়ে হাত ধরলো,তনু ছাড়িয়ে নিলো,ঠিকমত হাঁটতেও পারতেছে না সে,,শিশিরকেও ধরতে দিচ্ছে না,কিছুদূর যেতেই নিচে পড়ে গেলো,শিশির গিয়ে ধরলো
শিশির-হলো তো,আমাকে ধরতে দেও না,
তনু উঠে বসলো খাটে,,
শিশির-শুনো আমার কথাটা শুনো
তনু-আমি বাসায় যাব
শিশির -আগে আমার কথাটা….
তনু উঠে দাঁড়ালো, শিশিরের এবার রাগ উঠে গেলো
সামনে হাঁটার জন্য পা বারাতেই শিশির হাত চেপে ধরে টান দিয়ে বিছানায় ফেললো তনুকে
তনু-আহ,
হাতে ক্যানেলারের সাথে ব্যাথা লাগসে তনুর
শিশির-তুমি আমার বিবাহিত স্ত্রী,,,
আমি যা বলবো তুমি তা শুনতে বাধ্য,,আর misunderstanding আমি clear করতে চাচ্ছি আর তুমি শুনতেই চাচ্ছ না
তনু হাত দিয়ে চোখ মুছতেছে,
শিশির রুমাল দিয়ে মুখ মুছে দিলো তনুর,
তনুকে কোলে তুলে নিয়ে সুন্দর করে খাটে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিলো,বুয়াকে বলতেই বুয়া খাবার নিয়ে আসলো,
শিশির খাবার নিয়ে মুখে ধরতেই তনু আবার মুখ ফিরিয়ে নিলো
শিশির এবার মুখ টিপে ধরে খাইয়ে দিলো জোর করে,
খাওয়ানো শেষে তনু উঠতে গেলো শিশির কোমড় চেপে ধরে বসিয়ে দিলো
শিশির-চুপ হয়ে বসে থাকো,আমার কথা শেষ হোক
শিশির -আমার মাথা থেকে নাতাশা যাচ্ছিলই না তাই গেসিলাম ওকে test করতে,,,বলসি চলো রুম ডেট করি আর ও সাথে সাথে রাজি হয়ে যায় আর তাই বলসি আমার এইডস,,ও আমার শরীরের অবস্থার কথা না ask করেই পালালো,,মাথা থেকে আমার যেন একটা বোঝা নামলো
তনু-আপনি নাতাশাকে বলেন নি যে আমাতে মন ভরে না আপনার,
শিশির-কই,আমি এটা কেন বলতে যাব
তনু-তার মানে নাতাশা মিথ্যা কথা বলেছে
শিশির-এটা কি নতুন নাকি, নাতাশা তো মিথ্যা কথাই বলে সবসময়
তনু-সামনে পাইলে ঐ হকারের সাথে বিয়ে দিয়ে দিতাম আমি,
শিশির-পরেরটা পরে দেখা যাবে,এখন তুমি ঘুমাও,তোমার rest দরকার
তনু শুয়ে পড়লো,,
বিকালে শিশির কফি খেতে খেতে তনুকে দেখতে আসলে,তনু কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে,, শিশির গিয়ে ওর পাশে নিচু হয়ে বসলো
ওর কপালে চুমু দিয়ে তারপর ঠোঁটের উপর চুমু দিয়ে চলে গেলো,?
যাওয়ার সময় দেখলো তনু ঘুমের মধ্যে হাসতেছে মুচকি মুচকি,শিশির তনুর গাল টিপে দিলো,তারপর চলে গেলো
রাত ৮টার দিকে তনু উঠলো,,
রুম অন্ধকার,,লাইট জ্বালিয়ে দেখলো সব রুমই অন্ধকার,শুধু শিশিরের রুমের আলো জ্বলছে,শিশির ল্যাপটপে কাজ করতেছে,তনু দাঁড়িয়ে দেখেতেছে
শিশির তনুকে দেখেই বললো ভিতরে আসতে,কিন্তু তনু এলো না,আবার চলে গেলো
শিশির উঠে গেলো তনুর কাছে
গিয়ে ওর হাত ধরলো
শিশির-আবার কি?
তনু-আপনার রুমে গিয়ে আমি কি করবো?
শিশির-কি করবা, আগে যা করতা তাই করবা
তনু-নাহ
তনু হাত ছাড়াতে লাগলো,শিশির আরও শক্ত করে ধরলো,ধরে নিয়ে গেলো,,
তনুকে খাটে বসিয়ে শিশির তনুর পাশে বসলো
শিশির-আমাদের মাঝে আর কোনো 3rd person নেই,সুতরাং তুমি এখন আর এমন রাগ দেখাবা না
তনু-কিসের রাগ,যেটা সত্যি সেটাই,এখানে থাকলে আমার ভালোবাসা পেতে মন চাইবে তার চেয়ে ভালো দূরে দূরে থাকি,,
শিশির-আমি তোমাকে ভালোবাসবো
তনু-জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না
শিশির-আসলে তোমরা মেয়ে জাতি এমন কেন?একবার বলো ভালোবাসি না কেন,এখন যখন ভালোবাসব বলসি এখন বলো লাগবে না,আজব তো,এদের কে কাঁচা মরিচ খাইয়ে মরুভূমিতে রেখে আসা উচিত
তনু-কিহ
শিশির-?????
তনু-?
শিশির হাসতে হাসতে শেষ,এমন একটা হাসির কথা বললো সে, সে নিজেই হাসতে হাসতে শেষ
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ হয়ে,এত্ত কিউট কেন এই ছেলেটা,তনুর চোখ শিশিরের কানের পাশের তিলের টার দিকে গেলো,লোভ সামলাতে না পেরে তনু মাথা উঁচু করে সেখানে একটা চুমু দিয়ে দিলো
শিশির হাসি থামিয়ে তনুর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো
তনু লজ্জা পেয়ে উঠে যেতে নিলো শিশির হাত ধরে ফেললো
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_25/26/27

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_25
Writer-Afnan Lara

তনু চুল আর বাঁধলো না,
শিশির খেয়াল করলো তনু গিয়ে খাটে শুয়ে পড়ছে,
শিশির খুশি হয়ে গেলো,গিয়ে পাশে বসলো,
তনু ইচ্ছে করে চোখ বন্ধ করে আছে তা বুঝাই যাচ্ছে,
তনু আগে চেয়েও শিশিরের চোখ নিজের দিকে ফিরাতে পারতো না আর এখন সে সারাদিন তার দিকেই চেয়ে থাকে
শিশিরের ফোন বেজে উঠলো,তনু চোখ খুলে তাকালো
শিশির ফোন হাতে নিয়ে দেখলো নাতাশার কল,
শিশির তনুর দিকে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে ইশারা করলো যাতে ও ব্যাপারটা Handle করে
তনু উঠে বসলো
তনু-পরে কথা শুনাবেন নাতো??
শিশির-নাহ
তনু-ওকে,হ্যালো
নাতাশা-তুমি??শিশিরকে দাও,শিশির কবে আসবে,আমার ভালো লাগে না
তনু -ওহ তাই?তোর আর ৫টা বফ তোরে খেয়ে ছেড়ে দিসে বুঝি??
নাতাশা-what do you mean?
তনু-তোর শা***,,আর কখনও এই নাম্বারে ফোন দিবি না,দিলে আমি ধরবো,গালি শুনতে তোর ভালো লাগবে?
নাতাশা-শিশিরকে দাও
তনু-না দিলে কি করবি?তোর বাপের সাধ্য আছে?
নাতাশা-হাত ভেঙে দিব বেশি কথা বললে
তনু-আর আমি কি করবো জানিস?তোরে মেরে চিড়িয়াখানায় বাঘের সামনে দিয়া আমু,কি দিয়া মারমু তোরে জানস??ব্লেড দিয়ে আঁকি আঁকি নুন মরিচ দিয়া তারপর বটি দিয়ে কেটে কেটে মারবো,experience আছে
নাতাশা-খুনি
তনু-মাছ এভাবে কাটি রে বোকা****?
নাতাশা-Whatever!শিশিরকে দাও
তনু-উফ disturb করিও না প্লিস,আমার জামাই আর আমি ব্যস্ত আছি,শাশুড়ি আম্মা নাতিপুতির মুখ দেখতে চেয়েছে বুঝছো,বাই
নাতাশা-এই খবরদার লাইন কাটবা না
তনু-হ্যাঁ চুমু দিবা আসো(নাতাশাকে শুনিয়ে শুনিয়ে)
নাতাশা রেগে লাইন কেটে দিলো
শিশির হা করে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে,এসব কি বললো তনু,জীবনের ২৪টা বছর এগুলা শুনেনি সে?
তনু*-Next time call দিলে আমাকে দিবেন,Blk করতে পারেন না?
শিশির-১০+ number ব্লক করসি,ও নিউ নাম্বার নিয়ে কল দেয়
তনু-ওহ,আচ্ছা শুনুন
শিশির-বলো
তনু-কখনও ওর কাঁধে হাত দিয়েছেন??
শিশির-?না কেন
তনু-গলায়?
শিশির-না
তনু-পায়ে??
শিশির-আমাদের ৬মাসের রিলেশন ছিলো তারপরই ও কোমায় যায় আই মিন নাটক করে
তনু-আচ্ছা এই নাটকটা কেন করলো?
শিশির-জানি না আমি
তনু-ভাবার বিষয়
শিশির তনুর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে
তনু-কিয়া?
শিশির-নাতাশাকে কি বললা? আমি তোমাকে চুমু দিব?
তনু-তো কি বলবো বিপদে পড়লে চুমু দেন
তনু মুখ ভেঁংচি দিয়ে শুয়ে পড়লো
শিশির-এই এক মিনিট,বিপদে পড়লে মানে??
তনু-মানে আমাকে আটকানোর জন্যই তো কিস করেছেন,,ভালোবেসে তো আর না
শিশির-হুহ,
তনু-কি?
শিশির-কিছু না,ঘুমাও
শিশির গিয়ে শুয়ে পড়লো,
তনু-??????
পরেরদিন ♥♥
তনু সকালে উঠে মুখ ধুয়ে দরজা খুলেই অবাক
একটা মেয়ে মায়ের সাথে হাসাহাসি করতেছে
মা-আরে তনু বস,দেখ কে এসেছে,,আমার বান্ধুবীর মেয়ে,,কিছুদিন থাকবে এখানে,,আমার বান্ধুবী ওর husband কে নিয়ে বাইরে গেসে,একমাত্র মেয়ে তাই আমার কাছে রেখে গেসে,আমরা best friend ছিলাম?
রুশা-হাই?
তনু-hello?
রুশা-তা শিশির কই?
মা-ঘুমাচ্ছে মনে হয়
রুশা-আমি গিয়ে surprise দিচ্ছি ওকে,আসি
তনু-দাঁড়াও
রুশা-what?
তনু-ওকে ঘুমাতে দাও,সারা রাত ঘুমাতে পারেনি তো?,, আর surprise ঘুম থেকে উঠলেও দিতা পারবা আপু?
রুশা চোখ রাঙিয়ে আবার সোফায় এসে বসলো,
মা মুচকি মুচকি হাসতেছে
তনু রান্নাঘরে চলে গেলো,,
শিশির গোসল করে বের হয়ে,তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে রুম থেকে বের হতেই রুশা এসে ওর হাত দুটো ধরলো
রুশা-surprise!!!
শিশির-রুশা!কি অবস্থা??
রুশা শিশিরকে জড়িয়ে ধরতে যাবে তনু এসে শিশিরের কোমড়ে হাত দিয়ে পিছিয়ে আনলো
শিশির তনুর দিকে তাকাতেই তনু অগ্নি দৃষ্টিতে শিশিরের দিকে তাকালো
রুশা-জড়িয়ে ধরলে any problem তোমার?
তনু-একদম না, আসো জড়িয়ে ধরি
এটা বলে তনু রুশাকে ঝাঁপতে ধরে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলো
শিশির মুখ চেপে ধরে হাসতেছে,
রুশা মুখ বাকিয়ে শিশিরের হাত ধরে টান দিয়ে নিয়ে গেলো সোফায়,তনুর মেজাজ গরম হচ্ছে
সোফায় শিশিরকে বসিয়ে নিজে বসে গেলো,আর বিজয়ের হাসি দিলো তনুর দিকে তাকিয়ে
তনু এসে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো
রুশা-আরে তনু এপাশে বসো এখানে তো জায়গা নেই
তনু মুচকি হাসলো?☺️☺️☺️
শিশির ইশারা করলো যে সে উঠে যাচ্ছে,কিন্তু তনু না করলো??
তারপর ধপ করে শিশিরের কোলে গিয়ে বসে পড়লো তনু?
শিশির আর রুশা দুজনেই অবাক?
রুশা তো ফুলতেছে
তনু-কি করবো বলো ননদ,,জায়গা নেই তাই, স্বামীর কোল তো ফ্রী,তাই না?
রুশা রাগে গজগজ করতেছে
তনু শিশিরের গাল ধরে টিপে দিলো,
তনু হেসে দিলো????
শিশির তনুর হাসি দেখে নিজেও হেসে দিলো,
তারপর শিশির হঠাৎ তনুকে কোলে তুলে নিলো,নিয়ে রুমে চলে গেলো,তনু এটা ভাবতেও পারেনি
রুশা চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে,
শিশির রুমে এসে তনুকে নামিয়ে দিলো
তনু-এটা করলেন কেন
শিশির-যাতে রুশা বুঝে we are happily married couple?
তনু-ওওও,very good?
২মিনিটেই রুশা দরজা নক করলো শিশিরদের রুমের
তনু-আবার এসেছে,??
আচ্ছা শুনেন,কাল বলছেন না ঢাকায় চলে যাবেন??ভোরে যাব কেমন??
শিশির-এত তাড়াতাড়ি?
তনু-এখানে থাকলে রুশা জ্বালাবে
শিশির-ওকে
শিশির দরজা খুলতে যাবে তনু কলার ধরে টেনে বিছানায় ফেললো
তনু-চুপচাপ শুয়ে থাকেন??
তনু শিশিরের শার্টের কয়েকটা বোতাম খুলে ফেললো
শিশির-এসব কি?আর কেন???
তনু-চুপপ?
তনু গিয়ে দরজা খুললো তাও ঠোঁট মুছতে মুছতে?
তনু-কি আপু??????
রুশা-?,
রুশা উঁচু হয়ে শিশিরের দিকে তাকালো,শিশিরের এমন অবস্থা দেখে মুখ কালো করে ফেললো
রুশা-আমার খুধা লাগসে,খাবার দাও,ততক্ষনে আমি আর শিশির গল্প করি????
রুশা তনুকে এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলো
তনু গিয়ে শিশিরের গা গেসে বসে পড়লো????
রুশা-বলসি না খিধা লাগসে?
তনু-বুয়ায়ায়ায়ায়াায়ায়ায়াা,খাবার দাও রুশা আপুকে???
শিশির-??
রুশা চলে গেলো রুম থেকে
শিশির-তুমি তো খুব শেয়ানা মেয়ে
তনু-আর কি দেখলেন??
রুশা-আহ আমার পায়ে লাগলো খুব,শিশির শিশির
তনু আর শিশির গিয়ে দেখলো রুশা পায়ে হাত দিয়ে বসে আছে,পা নাকি মচকে গেসে
রুশা-আমাকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে যাও,হাঁটতে পারবো না??
তনু ফিসফিসিয়ে শিশিরকে বললো
তনু-যদি এখন কোলে তুলো তোমার পা ভেঙে দিব?
শিশির রোবট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে?
রুশা-আহ মাগো
তনু-ব্যাথা পাইসো??আহারে
রুশা-হ্যাঁ????কোলে নাও আমাকে শিশির
তনু-আল্লাহ গোওওওওওওওও,তেলাপোকা ???
রুশা এক লাফ দিয়ে উঠে পিছনে তাকালো,
রুশা-কই কই??মাম্মিইইইইইইই
তনু-নাই,চলে গেসে
রুশা-কি গেসে
তনু-তোমার পায়ের ব্যাথা?
শিশির-?
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_26
রুশা চলে গেলো,,
তনু রুমে এসে জামাকাপড় গুছিয়ে নিলো,,
ভোর হতেই তনু শিশির রেডি হয়ে নিলো,মা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে বিদায় দেওয়ার জন্য,
রুশা-প্লিস আমাকেও নিয়ে যাও,আমার এখানে ভালো লাগতেছে না
তনু-আরে দেখো তোমার আম্মু আব্বু????
রুশা পিছনে তাকাতেই তনু শিশিরের হাত ধরে এক টান দিয়ে দৌড় মারলো
দুজনেই গাড়ীতে বসে পড়লো,আর গাড়ী start করে দিলো শিশির,দুজনে হাঁপিয়ে গেসে,একসাথে হেসে দিলো???
রুশা-Cheating করলো?
বিকালের দিকে ঢাকায় গিয়ে পৌঁছালো দুজন,
তনু রুমে গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চুল খুলতে লাগলো,,
শিশির কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো,
তনু চুল খুলে চিরুনি নিয়ে আঁচড়াতে লাগলো,হঠাৎ তার খেয়াল হলো শিশির তাকিয়ে আছে
তনু-Fresh হবেন না?
শিশির -ওহ হুমম
শিশির চলে গেলো,,
তনু চুল বেঁধে বারান্দাতে গিয়ে গাছগুলো দেখতে থাকলো,,দরজায় নক হলো,শিশির এখনও বের হয়নি,
তনু বুঝলো কে এসেছে,,লাল মরিচের গুড়া নিয়ে গেলো দরজা খোলার জন্য
হনহনিয়ে গিয়ে দরজা খুলেই মরিচের গুড়া ছুড়ে মারলো তনু নাতাশার মুখে,
কিন্তু একি এটা তো নাতাশা নয়,এটা তো তন্ময় ????
তনু-আল্লাহ!
তনু ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো,ঐদিকে তন্ময় চিৎকার দিতেছে,
শিশির-কে??কে এমন চিল্লাচ্ছে
তনু-তন্ময়
শিশির হাতা উঠাতে উঠাতে যাওয়া ধরলো তনু আটকালো,
তনু-আরে আমি কাজ করে দিসি,আর জীবনে আসবে না?
শিশির তনুর হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো মরিচের গুড়া,তারপর ব্যাপারটা বুঝে হেসে দিলো
তনু রান্নাঘরে গিয়ে কফি বানিয়ে এসে দেখলো শিশির সোফায় নেই,
তনু-কই গেলো আবার??
তনু রুমে এসে দেখলো বারান্দায় শিশিরের শার্টের কোণা দেখা যাচ্ছে
তনু-এই যে কফি খাবেন না?আসেন
শিশির-এখানে আসো
তনু গিয়ে চেয়ার নিয়ে বসলো,দুজনেই গোলাপ গাছের দিকে তাকিয়ে আছে,শিশির তনুর দিকে তাকালো,তনুর মুখে বাঁকা হাসি
শিশির-আমি যেটা ভাবতেছি তুমি ও কি সেটা ভাবতেছো?
তনু-1st kiss?
শিশির-হুম!
এমন একটা দিনে করসো আজীবন মনে থাকবে
তনু-??
শিশির-আচ্ছা কাল সকালে রেডি হয়ে নিও,তোমাকে আমি আমার অফিসে নিয়ে যাব
তনু-কেন?
শিশির-সবার সাথে পরিচয় করে দিব
তনু-ওকে
দুজনে সারাদিন জার্নি করায় শুয়ে পড়লো তাড়াতাড়ি
সকালবেলা শিশির আগে উঠলো,তনু কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে,শিশির জানালার পর্দা সরালো না
গিয়ে fresh হয়ে এসে দেখলো তনু বসে চোখ কচলাচ্ছে
শিশির-গুড মর্নিং ☺
তনু-কে?ওহ, হ্যাঁ গুত মর্চিং☕☕☕☕☕
শিশির-What?কি বললা
তনু-হুমমম
তনু ঠাস করে আবার শুয়ে পড়লে
শিশির -আরে আর কত ঘুমাবা
তনু মরার মত ঘুমাচ্ছে
শিশির গিয়ে দেখলে বুয়া নাস্তা বানাচ্ছে,সে ফিরে এসে দেখলো তনু নাই
শিশির-বাপরে মাত্রই তো দেখলাম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন
তনু মুখ মুছতে মুছতে আলমারি খুললো
শিশির -কি পরবা?
তনু-শাড়ী?
শিশির-হুম ওটাই বেটার
তনু একটা কালো জর্জেটের শাড়ী নিলো পরার জন্য,
শিশির টিভি দেখতে চলে গেসে,
তনু রেডি হয়ে শিশিরের পিছনে এসে দাঁড়ালো
তনু-এহেম এহেম!
শিশির ঘুরে পিছনে তাকাতেই হা হয়ে গেলো
টিভিতে গান শুরু হলো
Ho ek ladki ko dekha to aisa laga
Ek ladki ko dekha to aisa laga
Jaise khilta gulaab
Jaise shaayar ka khwaab
Jaise ujli kiran
Jaise van mein hiran
Jaise chaandni raat
Jaise naghme ki baat
Jaise mandir mein ho ek jalta diya
Ho ek ladki ko dekha to aisa laga
তনু-?????
শিশিরের কাশি উঠে গেলো,কাশি থামিয়ে উঠে দাঁড়ালো
বুয়া-আপামনিরে আজ হেব্বি লাগতেছে???
তনু-???
শিশির তনুর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখতে থাকলো,হাতে কালো কাঁচের চুড়ি,,চুল খোলা,,কানে দুল,,গলায় চিকন একটা হার,,সব মিলিয়ে নায়িকাদের মতন লাগতেছে
শিশির-নাইস
তনু*-নাইস?
বুয়া-Ocamm কন সাহেব,আমার পোলা কইসে এইডা মানে বেশি সুন্দর
তনু-?
শিশির-এক্কারি osammmmmm
তনু-??
শিশির-হয়সে এবার চলেন নাস্তা খেয়ে বের হবো
দুজনে নাস্তা করে বের হলো,শিশির নানা ছুতোয় তনুর দিকে তাকাচ্ছে গাড়ীতে বসে,না জানি অফিসের stuff দের কি অবস্থা হবে,,
শিশির তনুর হাত ধরে অফিসের ভিতরে নিয়ে গেলো
সবাই তনুকে সালাম দিলো,তনুর কেমন জানি শরম করতেছে,,
তনু-আপনার পি.এ কই???
শিশির-রিপন??
রিপন-জী স্যার বলুন
তনু-ওহ পোলা??তাইলে ঠিক আছে
শিশির-মেয়েদের প্রতি আমার তেমন interest নেই বুঝছো,
তনু নিজের শাড়ী ঠিক করতে করতে বললো তা তো দেখতেই পাচ্ছি
রিপন মুখ ধরে হেসে দিলো
শিশির-এহেম এহেম,,
একটা stuff উঠে এসে বললো ম্যাম আমাদের বসের ওয়াইফ হিসেবে আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি??
তনু-বলুন
stuff-ধুরুন একজন stuff ভুল করে ফেললো,আপনি মাফ করে দিলেন,যদি সে একই ভুল আবার করে তখন কি করবেন?
তনু-দুবার ভুল হতেই পারে,আমি তাকে ক্ষমা করে দিব,বাট 3rd time তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দিব
তনুর জবাবে সবাই হাততালি দিলো,,
শিশির-ওয়াহ,!!!what a reply!!
তনু-হুহ,আমি কি জিনিস আগামীতে বুঝবা
সবার সাথে দিন কাটিয়ে দুজনেই বিকালের বাসায় আসলো,,
মেঘ ধরেছে আকাশে,,গর্জন বেড়ে গেসে,,হালকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেসে তার সাথে বাতাস
তনু বারান্দায় এসে চোখ বুজে দাঁড়িয়ে আছে,,খুব ভালো লাগতেছে,
হঠাৎ করে একটা হাত তনুর কোমড় ছুঁলো,তারপর তার পিঠের চুলো গুলো সরিয়ে সেখানে নাক লাগালো
তনু কেঁপে উঠে পিছনে তাকাতে যাবে শিশির শক্ত করে চেপে ধরে বললো ভয় নেই
তনু আর তাকালো না,বাইরে তাকিয়ে রইলো
হঠাৎ জোরো হাওয়ায় খুব জোরে বৃষ্টি বেড়ে গেলো এবং তনু শিশির দুজনকেই কাক ভেজা ভিজিয়ে দিলো,
তনু হা করে তাকিয়ে আছে
শিশির-ইস রে,ধুর
তনু-আমার শাড়ীটা গেলো
শিশির সরে গেলো কিন্তু তনু সরতে নিতেই ওর শাড়ী গোলাপ গাছের সাথে আটকে গেলো,তনু খুলতে যাবে
শিশির গোলাপটি সহ ছিঁড়ে নিলো,আঁচল ঘুরিয়ে এনে তনুর কানে লাগিয়ে দিলো ফুলটি,
তারপর কানের কাছে চুমু দিয়ে দিলো,খুব জোরে বিজলি চমকাতেই তনু ভয় পেয়ে গেলো,কিন্তু আর ৫টা গল্পের নায়িকাদের মতন সে শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো না,ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো,,শিশিরের শার্টের কলার চেপে ধরে
শিশির-নাতাশা হলে জড়িয়ে ধরতো
তনুর মেজাজটা গেলো গরম হয়ে,এক ধাক্কা দিয়ে শিশিরকে নিচে ফেলে দিলো ফ্লোরে,তারপর নিজে গিয়ে শিশিরের উপরে উঠে বসলো
তনু-নাতাশা ছাড়া তোর মাথায় আর কিছু আসে না??শয়তান বেয়াদব,লু****,,মা****,তোরে কাল আমি নাতাশার সামনে নিয়ে যাব তোর যত ইচ্ছা কাল পূরন করিস আমার সামনে
কথাগুলে তনু শিশিরের মাথার চুল টানতে টানতে বলতেছিলো
শিশির-মাগো বাঁচাও,,প্লিস আমার চুল ছাড়ো আর নাম নিমু না ছাড়ো,এবয়সে টাকলু হতে চাই না আমি
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_27
তনু -চল তুই আমার সাথে এখন নাতাশাদের বাসায় যাবি,নইলে তোরে মেরে বিধবা হবো আমি
তনু শিশিরের কলার টেনে উঠালো শিশিরকে
শিশির-পাগলামি করো না,ছাড়ো
তনু টানতে টানতে নিয়ে গেলো,গাড়ীতে বসলো
তনু-drive কর,,এখনই!!!
শিশির চুপচাপ drive করে নাতাশাদের বাসায় আসলো,
তনু হাত ধরে টেনে নিয়ে নাতাশার পাশে ছুঁড়ে মারলো,
তনুর মাথায় রাগে ভর্তি হয়ে আছে
তনু-ওরে যা বলার বল
শিশির-তনু চলো এখান থেকে প্লিস
নাতাশা-বেবি কি হয়সে বলো??তনু ওকে আমার কাছে দিতে এসেছো??
শিশির-চলো তনু
তনু-তুই কাকে ভালোবাসস সেটা বল এখনই
তনু কেঁদে দিলো
তনু-সেই কবে থেকে ভালোবেসে এসেছি,,আমাকে শুধু অবহেলায় করেছে,শুধু নাতাশা নাতাশা,,আর কিছু না সবসময় নাতাশা
আজ তুই বলবি তুই কাকে ভালোবাসস,
তনু আঁচল দিয়ে মুখ মুছতেছে আর কথা গুলো বলতেছে
নাতাশা শিশিরের হাত চেপে ধরলো
নাতাশা-হুম বেবি বলো
শিশির দুমিনিট দাঁড়িয়ে থাকলো,,চুপ হয়ে
তারপর হঠাৎই তনুর দিকে এগিয়ে গিয়ে ওকে পাগলের মত কিস করতে থাকলো?
এটার জন্য নাতাশা তনু কেউই প্রস্তত ছিলো না
তনু চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
নাতাশা চিল্লানি দিয়ে শিশিরের শার্ট ধরে ওকে সরানোর চেষ্টা করতেছে শিশির আরও জোরে চেপে ধরতেছে তনুকে
নাতাশা-?????
প্রায় ৬/৭মিনিট পর শিশির তনুকে ছাড়লো,,তনুর রাগ টাগ সব গায়েব,আর তনুর মুখে হাসি ফুটলো,কারণ শিশির যেটা প্রমান করলো সেটাই তনু চেয়েছিলো
শিশির আর এক মিনিট ও না দাঁড়িয়ে তনুর হাত ধরে বেরিয়ে গেলো,
তনু শিশিরকে দেখছে শুধু
গাড়ীতেও তাকিয়ে আছে তনু,
শিশির তাকাচ্ছে না,কারন সে মাত্র যেটা করেছে সেটা কি ছিলো,যাকে সে ভালোবাসত তার সামনে আরেকজনকে সে চুমু দিয়েছে,তাও কোনো বাধা তাকে আটকায় নি,
বাসায় এসে শিশির চুপ হয়ে আছে,কথা বলছে না তনুর সাথে
তনু ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আর শিশিরের সামনে আসতেছে না
দুজনেই দুই রুমে বসে আছে,,
রাত ২টা বাজে,দুজনেই সজাগ,পার্থক্য একটি দেওয়ালের
তনু জামা পড়ার সময় দেখলো কাঁধে খাঁমচির দাগ বসে আছে,শিশির তখন খুব জোরে চেপে ধরেছিলো,
তনু জামা পড়ে শুয়ে পড়লো,২০মিনিট ধরে এপাশ ওপাশ করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো,
ঠিক তখনই শিশির আসলো তনুকে দেখার জন্য,ঘুমিয়েছে কিনা,হুম ঘুমিয়েছে,
শিশির গিয়ে পাশে বসলো,মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো তনুর,
শিশির-আমি তোমাকে ভালোবাসি না,হয়ত এখনও বাসতে পারিনি,কিন্তু মায়া জিনিসটা কাজ করে আমাদের মাঝে,একসাথে থাকতে থাকতে একটা মায়া জন্মে গেসে,,হয়ত একদিন ভালোবেসে ফেলবো,তোমার পাগলামিতে আমি মুগ্ধ,,সেটাই তোমাকে ভালোবাসতে সাহায্য করবে, আমি চাই তোমাকে ভালোবাসতে,কিন্তু নাতাশা নামক মেয়ের নেশা আমার পিছু ছাড়ে না,বারবার তার সেই মুখ ভেসে উঠে যে মুখ দেখে আমি তার প্রেমে পড়েছি,,
যখন আমি তোমার কাছে যেতে চাই তখন ওর কথা মনে পড়ে,
?
বাসতাম, এখন আর বাসি না,সময় লাগবে, সময় দাও আমাকে,তোমাতে নিজেকে মগ্ন করে দিব আমি,
শিশির উঠে চলে গেলো,
পরেরদিন সকাল♥
তনু উঠে শিশিরের রুমে উঁকি মারলো,শিশির ঘুমায়
তনু গিয়ে ওর জন্য নাস্তা বানালো,,
বুয়া-আপামনিরে আজ অনেক খুশি লাগতেছে?
তনু-হুমমমম দিনটা বিশেষ
শিশির এসে বসলো টেবিলে,,তনু খাবার দিয়ে নিজেও বসলো,,
শিশিরের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,শিশিরের নাক ঠোঁট সব দেখতেছে
তনু-ইস যেন একটা টমেটো ☺
শিশির-?
তনু-না না মিষ্টি কুমড়া!
শিশির-চুপ থাকো
তনু ধরে গাল টিপে দিলো
শিশির মুখ ভেংচি দিয়ে রেডি হতে চলে গেলো
রেডি হয়ে এসে দাঁড়াতেই তনু শিশিরের গলা ধরে জড়িয়ে ধরলো
শিশির-আরেহ এটা কি
তনু-ধরুন
শিশির-আমার লেট হচ্ছে
তনু-নাহলে ছাড়ব না
শিশির পিঠে হাত লাগিয়ে চলে গেলো,
তনু-??
তনু ভাবলো আজ কিছু একটা করে শিশিরের মন ভালো করবে
তাই দারোয়ানকে দিয়ে অনেক ফুল আর candle আনলো,
ফুল দিয়ে মেইন দরজা থেকে রুম পর্যন্ত রাস্তা বানালো,,
বুয়াও help করলো
Candle light dinner এর arrange করলো,আরও কত কি করলো
সন্ধ্যায় শিশির আসলো বাসায়,
দরজা খুলে দেখলো লাইট অফ,লাইট অন করে তনু দাঁড়িয়ে ঢুলতেছে,,আর মুচকি হাসতেছে,পরনে নাইটি
শিশির-নাইস
শিশির হেঁটে চলে গেলো
তনু মুখ ভেঁংচি দিয়ে ফুলের উপর পা দিয়ে হাঁটতে যেতেই দুম করে নিচে পড়ে গেলো
ধপাস!!ঠাস!?
শিশির পিছনে তাকালো,তনু কোমড়ে হাত দিয়ে নিচে বসে আছে
শিশির-ব্যাথা পাও নি তো
তনু-আপনি ভিতরে যান আমি আসতেছি
তনু বুয়ার দিকে তাকালো
বুয়া-হিহি আপা??রুম থেকে কেমন গন্ধ আসতেছিলো তাই গোলাপজল ছিঁটাই দিসি,ভালা করসি না????
তনু-খুব ভালা করসো
শিশির fresh হয়ে এসে বসলো টেবিলে,তনু সুন্দর করে টেবিল সাজিয়েছে
জুস দু গ্লাস নিয়ে টেবিলে রেখে নিজে বসলো শিশিরের পাশে
শিশিরের আগেই নিজে এক গ্লাস জুস নিয়ে মুখ দিতেই ফুরুত করে ফেলে দিলো,আর কাশতে থাকলো,এত লবন কেন??
তনু বুয়ার দিকে তাকালো,বুয়া উঁকি মেরে দাঁত বের করে তাকিয়ে আছে,ভুলে চিনির জায়গায় লবন দিয়ে দিসে
শিশির-কি হয়সে?
তনু-থাক এটা খেতে হবে না
তনু উঠে গেলো খাবার আনার জন্য পা পিছলে আবার দুম করে নিচে পড়ে গেলো,
শিশির হাসি আর আটকাতে পারতেছে না
হো হো করে হেসে দিলো
তনু-????
শিশির-হয়সে,আমার আজকের রাতের বিনোদন complete, thanks for the night ?????
তনু-নাহ খান প্লিস
শিশির-তাহলে তুমি বসো আমি খাবার আনতেছি,নইলে এবার খাবার নিয়ে পড়বা?
তনু গিয়ে বসলো,শিশির খাবার এনে টেবিলে রাখলো,শিশির চুপচাপ খাচ্ছে,
হঠাৎ তনুর কথা মনে পড়তেই ওর দিকে তাকালো,
তনু হা করে তাকিয়ে আছে,ওকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য
শিশির চামচ নিয়ে ধরতেই তনু গাপুস করে খেয়ে নিলো,
শিশির তনুকে খাইয়ে দিলো,
বুয়া চলে গেলো,তনু দরজা লাগিয়ে এসে দেখলো শিশির শুয়ে পড়েছে,
তনু জানে শিশির এত তাড়াতাড়ি ঘুমায় না,ভান করতেছে,তাও তনুর থেকে distance এর জন্য
তনু নাইটির উপরের পার্ট খুলে শিশিরের গায়ে মারলো,
শিশির চুপ হয়ে আছে এখনও
তনু গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো শিশিরকে
শিশিরের গলায় চুমু খেলো,শিশিরকে নিজের দিকে ফিরিয়ে শার্টের কয়েকটা বোতাম খুলে সেখানে গিয়ে শুয়ে পড়লো,,
তনুর চুলের ঘষায় শিশিরের গা কাঁপতেছে,,
তনু শুধু নড়াচড়া করতেছে,,
২মিনিট পর শিশির উঠে বসলো,তনু ও উঠে বসলো,শিশিরের কাঁধে হাত রাখলো
শিশির-আমাকে সময় দাও
তনু হাত নামিয়ে নিলো,তারপর বালিশ নিয়ে চলে গেলো
চলবে♥
(অসুস্থতার জন্য লিখতে পারিনি,,কিন্তু তাও ভাবলাম অনেকেই অপেক্ষা করবে,তাই কষ্ট করে হলেও পার্টটা লিখেছি,দেরি হওয়ায় কেউ বকবা না আমাকে)

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_22/23/24

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_22
Writer-Afnan Lara

৫মিনিট যেতেই তনুর হাত যখন শিশিরের শার্টের বোতামের দিকে গেলো শিশির উঠে গেলো
তনু জিজ্ঞাসাসূচক ভাবে তাকিয়ে আছে
শিশির পানি নিয়ে খেলো তারপর গিয়ে সোফায় বসলো
তনু কিছুক্ষন চুপ হয়ে নিজেই কথা বললো
তনু-কি হয়সে?

শিশির-কিছু না,,খাবা এখন??আনতাম?
তনু-খিধে নেই আমার
তনু গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো,,
শিশির তাকিয়ে তনুকে দেখলো,কাঁদতেছে মনে হয়,বারবার চোখ মুছতেছে,,আজ এটা করাও আমার ঠিক হয়নি,আমি তো তনুকে ভালোবাসি না,তাহলে ওকে কেন আজ,,,,, শুধু শুধু ও এখন কষ্ট পাচ্ছে
রাত হতেই তনু এসে খাটে বসলো,,

তনু-বাসায় যাব
শিশির -আরও দুদিন থাকো
তনু-না
শিশির আর কিছু বললো না,,সব গুছিয়ে নিলো,,
সকাল হতেই দুজনে বেরিয়ে পড়লো,,
তনু একটা কথাও বলছে না,,পুরো জার্নিতে দুজনে একটা কথাও বলেনি
বাসায় এসে দেখলো নাতাশা দাঁড়িয়ে আছে দরজার বাইরে
শিশিরকে দেখে জোরে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো
তনু চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো শিশির কি করতেছে
শিশির -এসব কি ছাড়ো আমাকে
শিশির ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছে কিন্তু নাতাশা আরও শক্ত করে ধরতেছে
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে ভিতরে চলে গেলো
শিশির-তনু!
শিশির নাতাশাকে এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো
শিশির-don’t touch me!
তনু রুমে এসে শাড়ী হাতে নিতেই দেখলো শিশির দাঁড়িয়ে আছে
তনু কিছু না বলেই fresh হতে চলে গেলো,
নাতাশা শিশিরের পিছন পিছন এসে আবার জড়িয়ে ধরলো শিশিরকে
শিশির-ছাড়ো আমাকে,অনেক হয়সে তোমার নাটক
নাতাশা-বিশ্বাস করো,আমি তোমাকে ভালোবাসি অনেক
নাতাশা কান্নাকাটি শুরু করে দিলো
আর যাই হোক শিশির তো নাতাশাকে ভালোবাসে,শিশির নাতাশার চোখে পানি দেখে থেমে গেলো,
তনু বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো ওরা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে আছে,নাতাশার হাত শিশিরের শার্টের কলার ধরে আছে
তনু ২মিনিট তাকিয়ে থাকলো
তনু-শুনুন
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে নাতাশার হাত ছাড়িয়ে নিলো
শিশির-বলো
তনু-আমাকে ৫০০টাকা দিন
শিশির-কেন?কিছু লাগবে?
তনু-হুম,দিন
শিশির পকেট থেকে ১হাজার টাকার নোট নিয়ে তনুকে দিলো,তনু চলে গেলো
শিশির যেতে গেলো নাতাশা হাত ধরে ফেললো,শিশিরের গলা জড়িয়ে ধরলো
শিশির-শুনো আমার বিয়ে হয়ে গেসে,এসব অফ করো,,আর আমি আমাদের রিলেশন টা সেদিনই শেষ করে দিয়েছি,
নাতাশা-শেষ বললেই শেষ??আমাদের মধ্যে যে কত কিছু হলো??
তনু সোফার রুমে থেকে সব কথা শুনে আর চোখের পানি আটকে রাখতে পারলো না,ভাবসিলো যাবে না,কিন্তু এ কথা শুনে আর থাকা তনুর পক্ষে সম্ভব নাহ,
তনু হাতে টাকা নিয়ে চলে গেলো,সাথে করে আর কিছুই নিলো না
শিশির-কিছুই হয়নি আমাদের মধ্যে,আন্দাজে কথা বলবা না
নাতাশা নিজের ওড়না খুলে নিচে ফেলে দিয়ে শিশির কলার টেনে বিছানায় নিয়ে যেতে নিতেই শিশির একটা চড় মেরে দিলো নাতাশাকে
শিশির-গেট আউট ফ্রম হিয়ার,নইতো দারোয়ান ডাকবো
নাতাশা চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে চলে গেলো
শিশির বাইরে এসে তনুকে ডাকলো,তনু নেই,হয়ত টাকা নিয়ে দোকানে গেসে,কি লাগতো আমাকে বললেই হতো
শিশির পুরো বিকেল বসে রইলো,
মাগরিবের আযান দিসে,
শিশির-অনেকক্ষন হয়সে তনু আসতেছে না কেন,শিশির তনুকে কল দিলো কিন্তু ফোন সোফার উপর বাজতেছে,ফোন ও নেই নি,শিশির বাইরে এসে দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলো তনু কোনদিকে গেসে
দারোয়ান -আপা মনি তো কাঁদতে কাঁদতে ঐদিকে চলে গেসে
শিশির-কাঁদতে কাঁদতে?oh shit!
শিশির মাকে কল দিলো,মা তনু কি ওখানে গেসে??
মা -না রে,কেন??ওরে তুই একা ছাড়ছস??
শিশির-আসলে রাগ করে বেরিয়ে গেসে
শিশির কি করবে এখন,যদি ও ঢাকায় থেকে থাকে আমি ওদের বাসায় গেলে তো আবার উল্টা হয়ে যাবে
শিশির এক ঘন্টা ওয়েট করে যখন দেখলো তনু আসতেছে না তনুদের বাসার দিকে রওনা দিলো
সোজা তনুদের বাসায় গিয়ো পৌঁছালো রাত ১টায়,
অনেক ক্লান্ত হয়ে গেসে শিশির,,
তনুদের বাসার বুয়া দরজা খুলেছে,সবাই নাকি ঘুমাচ্ছে,
শিশির তনুর রুমের দিকে গেলো,তনু কাঁথা মুড়ি দিয়ে এক কোণে শুয়ে আছে
দরজা খোলা শব্দ পেয়ে তনু পিছন ঘুরে তাকালো,রুমের লাইট অফ ছিলো
তনু-বুয়া মানা করসি না আমাকে disturb করবা না
শিশির লাইট অন করতেই তনু অবাক হলো শিশিরকে দেখে
শিশির দেখলো তনুর চোখ মুখ ফুলে গেসে,মনে হয় খুব কেঁদেছে
তনু চোখ মুছে ফেললো,
তনু-আপনি এখানে?
শিশির-না বলে আসছো কেন,জানো না আমার চিন্তা হয়?
তনু-হয়?
শিশির -হ্যাঁ হয়
তনু-না হয় না,হলে নাতাশাকে পেয়ে আমাকে ভুলে যেতেন না
শিশির-কই ভুললাম,নাতাশাকে বের করে দিসি
তনু কিছু না বলেই শুয়ে পড়লো আবার
শিশির শার্ট খুলে রেখে গিয়ে পানি খেলো,,৫মিনিট পর তনু উঠে চলে গেলো
শিশির বাইরে এসে দেখলো বুয়া টেবিলে খাবার দিচ্ছে
শিশির-তনু কই?
বুয়া-আপা মনি সোফার রুমে
শিশির সোফার রুমে গিয়ে দেখলো তনু সোফায় ঘুমাচ্ছে,
শিশির আর জাগালো না,একটা চাদর এনে ওর গায়ে দিয়ে চলে গেলো
সকালে তনু উঠে দেখলো টেবিলে খাবার রাখা,তনু বুয়ার দিকে তাকাতেই বুয়া বললো শিশির কিছু খায়নি
তনু নিজের রুমে গেলো,শিশির ঘুমাচ্ছে,এমন মায়া চেহারাই তনু কিছুক্ষনের জন্য সমস্ত কষ্ট ভুলে গেলো,শিশিরের মাথাই হাত বুলিয়ে দিলো,নাতাশার কথা মাথায় আসতেই তনু উঠে চলে যেতে নিলো শিশির শাড়ীর আঁচল ধরে ফেললো
শিশির-আরেকটু হাত বুলিয়ে দাও,ভালো লাগতেছে
তনু আঁচল ছাড়িয়ে নিলো
তনু-নাতাশার কাছে যান
শিশির -??
শিশির উঠে Fresh হয়ে নিলো,,
তনুর মা শিশিরকে ডাকলো খাওয়ার জন্য,,
শিশির বললো ওর শরীর ভালো না পরে খাবে,,
তনু ছাদে তখন
শিশির বাসা থেকে বেরিয়ে চলে গেলো,তনু ছাদে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে,,
সন্ধ্যার দিকে শিশির বাসায় আসলো,মুখ শুকিয়ে আছে,,কাল যে বিকালে এক কাপ কফি খেয়ে এসেছিলো গোটা একদিনের বেশি হয়ে গেলো শিশির মুখে কিছু দেয় নি
রুমে এসে হঠাৎ ওর মাথা ঘুরে উঠতেই পড়ে যেতে নিলো,তনু দেখতে পেয়ে ধরতে গেলো শিশিরকে,,একটা বডি বিল্ডারকে তো এভাবে ধরা সম্ভব না,তনু ভার নিতে না পেরে দেওয়ালের সাথে লেগে গেলো,
শিশির চোখ খুলে তাকালো তনুর দিকে,,
তনু-এখনও কিছু খান নি?
শিশির-তুমি খাইয়ে না দিলো খাবো না
তনু-আমার থেকে এসব আশা করবেন না আর
আমি জোর করে আপনার লাইফে interfere করসি,,যেখানে নাতাশাকে আপনি পাগলের মতন ভালোবাসেন,,কালই তা বুঝেছি আর তাই চলে এসেছি,তাও আপনি কেন আমার পিছু চলে এলেন,আমার তো কোনো অভিযোগ নেই
কথা গুলো বলতে গিয়ে তনু কেঁদে দিলো
শিশির দেওয়ালে হাত রাখলো
শিশির-তোমরা মেয়েরা কাঁদা ছাড়া আর কিছু পারো না?
তনু সরতে গেলো শিশির আরেক হাত দেওয়ালে রেখে আটকালো
শিশির-কি ভাবসো?একদিন না খেয়ে সব শক্তি গেসে আমার??আরেহ আমি তো ৩/৪দিন কিছু না খেয়েও থাকতে পারি
তনু-হাত সরান
শিশির এগিয়ে গেলো,তনুর খুব কাছে
শিশির-কি করবা?
তনু-আম্মুর কাছে যাব
শিশির আরেকটু এগিয়ে গেলে,এবার নাকে নাক লাগলো
শিশির-তারপর কি করবা?
তনু মুখ সরিয়ে নিয়ে বললো সরুন
শিশির দেওয়াল থেকে হাত নামিয়ে তনুর ডান হাত টেনে কোমড়ের পিছনে নিয়ে চেপে ধরলো
আরেকহাত ধরে রেখেছে দেওয়ালের সাথে চাপ দিয়ে
শিশির-না ছাড়লে??
তনু-নাতাশা কিছু করতে দেয়নি কাল??
তনুর মুখে এমন কথা শুনে শিশিরের মেজাজ টা প্রচন্ডভাবে গরম হয়ে গেলো,এক ধাক্কা দিয়ে তনুকে নিচে ফেলে দিলো
শিশির-আমারই দোষ,যে যেটা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না তাকে কেন আমি দিতে যাই
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_22
৫মিনিট যেতেই তনুর হাত যখন শিশিরের শার্টের বোতামের দিকে গেলো শিশির উঠে গেলো
তনু জিজ্ঞাসাসূচক ভাবে তাকিয়ে আছে
শিশির পানি নিয়ে খেলো তারপর গিয়ে সোফায় বসলো
তনু কিছুক্ষন চুপ হয়ে নিজেই কথা বললো
তনু-কি হয়সে?
শিশির-কিছু না,,খাবা এখন??আনতাম?
তনু-খিধে নেই আমার
তনু গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো,,
শিশির তাকিয়ে তনুকে দেখলো,কাঁদতেছে মনে হয়,বারবার চোখ মুছতেছে,,আজ এটা করাও আমার ঠিক হয়নি,আমি তো তনুকে ভালোবাসি না,তাহলে ওকে কেন আজ,,,,, শুধু শুধু ও এখন কষ্ট পাচ্ছে
রাত হতেই তনু এসে খাটে বসলো,,
তনু-বাসায় যাব
শিশির -আরও দুদিন থাকো
তনু-না
শিশির আর কিছু বললো না,,সব গুছিয়ে নিলো,,
সকাল হতেই দুজনে বেরিয়ে পড়লো,,
তনু একটা কথাও বলছে না,,পুরো জার্নিতে দুজনে একটা কথাও বলেনি
বাসায় এসে দেখলো নাতাশা দাঁড়িয়ে আছে দরজার বাইরে
শিশিরকে দেখে জোরে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো
তনু চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো শিশির কি করতেছে
শিশির -এসব কি ছাড়ো আমাকে
শিশির ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছে কিন্তু নাতাশা আরও শক্ত করে ধরতেছে
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে ভিতরে চলে গেলো
শিশির-তনু!
শিশির নাতাশাকে এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো
শিশির-don’t touch me!
তনু রুমে এসে শাড়ী হাতে নিতেই দেখলো শিশির দাঁড়িয়ে আছে
তনু কিছু না বলেই fresh হতে চলে গেলো,
নাতাশা শিশিরের পিছন পিছন এসে আবার জড়িয়ে ধরলো শিশিরকে
শিশির-ছাড়ো আমাকে,অনেক হয়সে তোমার নাটক
নাতাশা-বিশ্বাস করো,আমি তোমাকে ভালোবাসি অনেক
নাতাশা কান্নাকাটি শুরু করে দিলো
আর যাই হোক শিশির তো নাতাশাকে ভালোবাসে,শিশির নাতাশার চোখে পানি দেখে থেমে গেলো,
তনু বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো ওরা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে আছে,নাতাশার হাত শিশিরের শার্টের কলার ধরে আছে
তনু ২মিনিট তাকিয়ে থাকলো
তনু-শুনুন
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে নাতাশার হাত ছাড়িয়ে নিলো
শিশির-বলো
তনু-আমাকে ৫০০টাকা দিন
শিশির-কেন?কিছু লাগবে?
তনু-হুম,দিন
শিশির পকেট থেকে ১হাজার টাকার নোট নিয়ে তনুকে দিলো,তনু চলে গেলো
শিশির যেতে গেলো নাতাশা হাত ধরে ফেললো,শিশিরের গলা জড়িয়ে ধরলো
শিশির-শুনো আমার বিয়ে হয়ে গেসে,এসব অফ করো,,আর আমি আমাদের রিলেশন টা সেদিনই শেষ করে দিয়েছি,
নাতাশা-শেষ বললেই শেষ??আমাদের মধ্যে যে কত কিছু হলো??
তনু সোফার রুমে থেকে সব কথা শুনে আর চোখের পানি আটকে রাখতে পারলো না,ভাবসিলো যাবে না,কিন্তু এ কথা শুনে আর থাকা তনুর পক্ষে সম্ভব নাহ,
তনু হাতে টাকা নিয়ে চলে গেলো,সাথে করে আর কিছুই নিলো না
শিশির-কিছুই হয়নি আমাদের মধ্যে,আন্দাজে কথা বলবা না
নাতাশা নিজের ওড়না খুলে নিচে ফেলে দিয়ে শিশির কলার টেনে বিছানায় নিয়ে যেতে নিতেই শিশির একটা চড় মেরে দিলো নাতাশাকে
শিশির-গেট আউট ফ্রম হিয়ার,নইতো দারোয়ান ডাকবো
নাতাশা চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে চলে গেলো
শিশির বাইরে এসে তনুকে ডাকলো,তনু নেই,হয়ত টাকা নিয়ে দোকানে গেসে,কি লাগতো আমাকে বললেই হতো
শিশির পুরো বিকেল বসে রইলো,
মাগরিবের আযান দিসে,
শিশির-অনেকক্ষন হয়সে তনু আসতেছে না কেন,শিশির তনুকে কল দিলো কিন্তু ফোন সোফার উপর বাজতেছে,ফোন ও নেই নি,শিশির বাইরে এসে দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলো তনু কোনদিকে গেসে
দারোয়ান -আপা মনি তো কাঁদতে কাঁদতে ঐদিকে চলে গেসে
শিশির-কাঁদতে কাঁদতে?oh shit!
শিশির মাকে কল দিলো,মা তনু কি ওখানে গেসে??
মা -না রে,কেন??ওরে তুই একা ছাড়ছস??
শিশির-আসলে রাগ করে বেরিয়ে গেসে
শিশির কি করবে এখন,যদি ও ঢাকায় থেকে থাকে আমি ওদের বাসায় গেলে তো আবার উল্টা হয়ে যাবে
শিশির এক ঘন্টা ওয়েট করে যখন দেখলো তনু আসতেছে না তনুদের বাসার দিকে রওনা দিলো
সোজা তনুদের বাসায় গিয়ো পৌঁছালো রাত ১টায়,
অনেক ক্লান্ত হয়ে গেসে শিশির,,
তনুদের বাসার বুয়া দরজা খুলেছে,সবাই নাকি ঘুমাচ্ছে,
শিশির তনুর রুমের দিকে গেলো,তনু কাঁথা মুড়ি দিয়ে এক কোণে শুয়ে আছে
দরজা খোলা শব্দ পেয়ে তনু পিছন ঘুরে তাকালো,রুমের লাইট অফ ছিলো
তনু-বুয়া মানা করসি না আমাকে disturb করবা না
শিশির লাইট অন করতেই তনু অবাক হলো শিশিরকে দেখে
শিশির দেখলো তনুর চোখ মুখ ফুলে গেসে,মনে হয় খুব কেঁদেছে
তনু চোখ মুছে ফেললো,
তনু-আপনি এখানে?
শিশির-না বলে আসছো কেন,জানো না আমার চিন্তা হয়?
তনু-হয়?
শিশির -হ্যাঁ হয়
তনু-না হয় না,হলে নাতাশাকে পেয়ে আমাকে ভুলে যেতেন না
শিশির-কই ভুললাম,নাতাশাকে বের করে দিসি
তনু কিছু না বলেই শুয়ে পড়লো আবার
শিশির শার্ট খুলে রেখে গিয়ে পানি খেলো,,৫মিনিট পর তনু উঠে চলে গেলো
শিশির বাইরে এসে দেখলো বুয়া টেবিলে খাবার দিচ্ছে
শিশির-তনু কই?
বুয়া-আপা মনি সোফার রুমে
শিশির সোফার রুমে গিয়ে দেখলো তনু সোফায় ঘুমাচ্ছে,
শিশির আর জাগালো না,একটা চাদর এনে ওর গায়ে দিয়ে চলে গেলো
সকালে তনু উঠে দেখলো টেবিলে খাবার রাখা,তনু বুয়ার দিকে তাকাতেই বুয়া বললো শিশির কিছু খায়নি
তনু নিজের রুমে গেলো,শিশির ঘুমাচ্ছে,এমন মায়া চেহারাই তনু কিছুক্ষনের জন্য সমস্ত কষ্ট ভুলে গেলো,শিশিরের মাথাই হাত বুলিয়ে দিলো,নাতাশার কথা মাথায় আসতেই তনু উঠে চলে যেতে নিলো শিশির শাড়ীর আঁচল ধরে ফেললো
শিশির-আরেকটু হাত বুলিয়ে দাও,ভালো লাগতেছে
তনু আঁচল ছাড়িয়ে নিলো
তনু-নাতাশার কাছে যান
শিশির -??
শিশির উঠে Fresh হয়ে নিলো,,
তনুর মা শিশিরকে ডাকলো খাওয়ার জন্য,,
শিশির বললো ওর শরীর ভালো না পরে খাবে,,
তনু ছাদে তখন
শিশির বাসা থেকে বেরিয়ে চলে গেলো,তনু ছাদে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে,,
সন্ধ্যার দিকে শিশির বাসায় আসলো,মুখ শুকিয়ে আছে,,কাল যে বিকালে এক কাপ কফি খেয়ে এসেছিলো গোটা একদিনের বেশি হয়ে গেলো শিশির মুখে কিছু দেয় নি
রুমে এসে হঠাৎ ওর মাথা ঘুরে উঠতেই পড়ে যেতে নিলো,তনু দেখতে পেয়ে ধরতে গেলো শিশিরকে,,একটা বডি বিল্ডারকে তো এভাবে ধরা সম্ভব না,তনু ভার নিতে না পেরে দেওয়ালের সাথে লেগে গেলো,
শিশির চোখ খুলে তাকালো তনুর দিকে,,
তনু-এখনও কিছু খান নি?
শিশির-তুমি খাইয়ে না দিলো খাবো না
তনু-আমার থেকে এসব আশা করবেন না আর
আমি জোর করে আপনার লাইফে interfere করসি,,যেখানে নাতাশাকে আপনি পাগলের মতন ভালোবাসেন,,কালই তা বুঝেছি আর তাই চলে এসেছি,তাও আপনি কেন আমার পিছু চলে এলেন,আমার তো কোনো অভিযোগ নেই
কথা গুলো বলতে গিয়ে তনু কেঁদে দিলো
শিশির দেওয়ালে হাত রাখলো
শিশির-তোমরা মেয়েরা কাঁদা ছাড়া আর কিছু পারো না?
তনু সরতে গেলো শিশির আরেক হাত দেওয়ালে রেখে আটকালো
শিশির-কি ভাবসো?একদিন না খেয়ে সব শক্তি গেসে আমার??আরেহ আমি তো ৩/৪দিন কিছু না খেয়েও থাকতে পারি
তনু-হাত সরান
শিশির এগিয়ে গেলো,তনুর খুব কাছে
শিশির-কি করবা?
তনু-আম্মুর কাছে যাব
শিশির আরেকটু এগিয়ে গেলে,এবার নাকে নাক লাগলো
শিশির-তারপর কি করবা?
তনু মুখ সরিয়ে নিয়ে বললো সরুন
শিশির দেওয়াল থেকে হাত নামিয়ে তনুর ডান হাত টেনে কোমড়ের পিছনে নিয়ে চেপে ধরলো
আরেকহাত ধরে রেখেছে দেওয়ালের সাথে চাপ দিয়ে
শিশির-না ছাড়লে??
তনু-নাতাশা কিছু করতে দেয়নি কাল??
তনুর মুখে এমন কথা শুনে শিশিরের মেজাজ টা প্রচন্ডভাবে গরম হয়ে গেলো,এক ধাক্কা দিয়ে তনুকে নিচে ফেলে দিলো
শিশির-আমারই দোষ,যে যেটা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না তাকে কেন আমি দিতে যাই
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_24
তনু-আমি তো সোফায় ছিলাম
শিশির-আমি নিয়ে আনছি,রাতে খুব শীত পড়সে তো
তনু-আর কখনও এমন করবেন না
তনু উঠে চলে গেলো
গিয়ে নাস্তা বানিয়ে টেবিলে দিতে থাকলো,
মা-তনু
তনু-হ্যাঁ মা বলো
মা-শিশিরকে ডাক তো,এখনও উঠে নাই?
তনু-বাথরুমে মনে হয়,কি হয়সে?
মা-সুসংবাদ কবে পাবো
তনু-কিসের??
মা-বোকা মেয়ে,,আমি দাদি হবো কবে??
কথাটা শুনে তনুর মন খারাপ হয়ে গেলো,কারন শিশির তো কখনও এটা করবেনা,বরং সে চায় নাতাশাকে ফিরিয়ে আনতে
মা-কিরে??
শিশির-কি হয়সে মা
মা-তোর বউরে বলসিলাম দাদি হবো কবে
শিশির-হয়ে যাবা,প্রচুর টাইম আছে
শিশির এমনভাবে কথা বললো যেন সে পুরো নরমাল
ওদিকে তনুর মন টা পুরো খারাপ হয়ে গেলো
খাবার খেয়ে গিয়ে বারান্দাতে বসে থাকলো,,
শিশির ল্যাপটপ নিয়ে বসলো খাটে
শিশির-এক কাপ কফি কি পাবো না?
তনু কথাটা শুনে গিয়ে কফি বানিয়ে এনে দিলো,
শিশির-কিসের এত চিন্তা করো তুমি
তনু-ভাবতেছি কি বলে আপনাকে ডিভোর্স দিব,মাকে কি বলবো
শিশির-তোমার মাথা কি খারাপ হয়ে গেসে??
তনু কিছু না বলে চলে যাওয়া ধরলো শিশির হাত ধরে টান দিয়ে বিছানায় বসালো
শিশির-দেখো তুমি আমার লিগালি ওয়াইফ,আর ডিভোর্স আসে কোথা থেকে,তুমি কি ভাবতেসো আমি নাতাশাকে এখনও ভালোবাসি??আরে আমি ওরে ভালোবাসি না
তনু হাত ছাড়িয়ে চলে গেলো
শিশির ঘুমিয়ে পড়লো,দুপুর একটার দিকে জেগে গেলো
রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো তনু রান্না করতেছে,,শিশির হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকলো
মীম-নাতাশা ??
শিশির-কই??
মীম-ভয় পেলি??নাকি খুশি হলি
শিশির-ভয়,,
তনু আরেকদিকে ফিরে কাজ করতে থাকলো
শিশির-মীম যা এখান থেকে
মীম-ভাবি রাগ করলা?
তনু-নাহ,রাগ করবো কেন
শিশির-তুই যা এখান থেকে
তনু সালাদ তৈরি করতেছিলো,,সালাদ মেখে এখন হাত ধুতে যাবে শিশির হাত ধরে ফেললো
তনু-??
শিশির তনুর হাত থেকে চেটে সালাদ খেতে থাকলো,তনু চোখ বন্ধ করে আছে,,হঠাৎ তনুর হাত গিয়ে গরম পাতিলের সাথে লাগতেই তনু কেঁপে উঠলো,কিন্তু আওয়াজ করলো না
শিশির-কি হয়সে?
তনু-কিছু না,যান আমার কাজ আছে
তনু কাজে মন দিলো,
শিশির গিয়ে টিভি দেখতে বসলো,,রান্না শেষে তনু খাবার টেবিলে দিয়ে গোসল করতে চলে গেলো,,গোসল শেষে সবাইকে খাবার বেড়ে দিতে থাকলো
মা-কিরে তনু তোর হাত পুড়সে কেমনে
তনু আঁচল টেনে লুকিয়ে ফেললো
তনু-কই??এমনি মসলার দাগ এটা
মীম হাত টেনে বের করে দেখে বললো সত্যি পুড়ে গেসে
তনু-বাদ দাও এটা কিছু না
শিশির-আমার খাওয়া শেষ
মা-একি মাত্রই তো বসলি,
শিশির-খিধে চলে গেসে
শিশির উঠে চলে গেলো,
তনু সবাইকে খাবার দিলো কিন্তু নিজে খেলো না,একটা প্লেট এ খাবার নিয়ে শিশিরের কাছে গেলো
শিশির-তখন তোমার হাত পুড়ে গেসে আমাকে বলোনি কেন?
তনু-সামান্য কিছুতে আমার লাগে না,নিন খেয়ে নিন
শিশির-কি চাও তুমি??
তনু খাবার রেখে চলে গেলে,
এত avoid আর সহ্য হচ্ছে না শিশিরের
শিশির মলম নিয়ে বসে আছে তনু আসলে লাগিয়ে দিবে,কিন্তু তনু আসতেছেই না,
শিশির গিয়ে দেখলো তনু মীমের সাথে ঘুমিয়ে আছে,,
বিকালে♥♥
তনু উঠে দেখলো হাতে মলম লাগানো,,শিশির এসেছিলো মনে হয়,নাহ আমি তো শিশিরের রুমে,মীমের রুমে ঘুমিয়েছিলাম আমি
মাথা ঘুরিয়ে উঠতেই শিশিরের মাথার সাথে বাড়ি খেলো তনু
মাথা মুছতে মুছতে তনু সরে গেলো
শিশির -বসো কফি আনতেছি
তনু-লাগবে না
শিশির চোখ রাঙিয়ে তাকালো
তারপর গিয়ে কফি নিয়ে আসলো,
তনু কফি হাতে নিয়ে বললো সে বাসায় যেতে চায়,,আর একা থাকতে চায়
শিশির-নাহ,দিব না
আমি পরশু ঢাকায় চলে যাব,তুমি আমার সাথে যাবা
তনু-গিয়ে আপনার আর নাতাশার ভালোবাসা দেখবো??
শিশির-আজব তো,আর কতবার বলবো যে নাতাশাকে আমি ভালোবাসি না
তনু-আমাকেও তো ভালোবাসেন না,তাহলে আমি থেকে কি করবো??
শিশির-বিয়ে করার আগে ভাবা উচিত ছিলো তোমার,মা তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে আর আমি চাই না তোমার জন্য আমার মা কষ্ট পাক
তনু-স্বপ্ন?বাচ্চার স্বপ্ন দেখে,দিবেন সেটা??পারবেন না,
তনু উঠে চলে যেতে নিলো শিশির টান দিয়ে তনুকে বুকে নিয়ে এলো
তনু-আমি থাকবো না এখানে
শিশির-থাকবা
তনু-ছাড়ুন,বাধ্য না আমি
শিশির তনুর মুখ ধরে ঠোঁটে চুমু দিতে থাকলো?,তনু শিশিরের হাতে খাঁমছি দিয়ে ধরলো?
শিশির তনুকে দেওয়ালের সাথে ঠেকে ধরলো?
তনুর মনে পড়লো সেদিনকার কথা,নাতাশার দিকে শিশিরের চাহনি,কষ্ট ক্ষোভে তনু শিশিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো
শিশির গিয়ে আবার ধরলো তনুকে
তনু যতই শিশিরকে হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করতেছে ততই শিশির আরও জোরে চেপে ধরছে,একটা সময় শিশির ছেড়ে দিলো তনুকে,তনু মুখ মুছতে মুছতে বারান্দায় চলে গেলো
শিশির বেরিয়ে গেলো রুম থেকে
রাতে বাসায় আসলো,,এসে দেখে তনু রুমে নেই
শিশিরের ভয় লাগলো,চলে গেলো না তো
বের হয়ে খুঁজে দেখলো মায়ের রুমে মায়ের সাথে কথা বলতেছে
শিশির শান্তির নিশ্বাস নিয়ে চলে এলো,
তনু রুমে এসে দেখলো শিশির এসে গেসে,
তনু-আমি কাল সকালে চলে যাবসবার আগে আমার গল্প পড়তে চাইলে “নীল ক্যাফের ভালোবাসা” পেজে পাবেন।
শিশির-তুমি চাও আমি তোমাকে আবার কিস করি?
তনু-না,একদম না
শিশির-তাহলে বললা কেন?,তখন বলায় কি করসি মনে নেই??নাকি আবার মনে করাই দিতাম,, গরুর ভূড়ি খেয়ে আসছি একটা frd এর বাসা থেকে,কিস করবো নাকি?
তনু-ইয়াক ছিঃ ছিঃ
শিশির-?????????
তনু-?
তনু বিছানা ঠিক করে সোফায় চলে যেতে নিলো শিশির আঁচল ধরে ফেললো
শিশির-তুমি যদি সোফায় যাও আমি কিন্তু বাসা থেকে বেরিয়ে যাবো আর আসবো না
তনু-(মজা করতেছে)যান আমার কি
শিশির সত্যি সত্যি উঠে চলে গেলো
১০মিনিট হয়ে গেসে এখনও আসতেছে না,তনু ভয় পেয়ে গেলো,বের হয়ে দেখলো সদর দরজা খোলা,,
চিন্তায় ফোন নিয়ে কল দিতে যাবে মাবাবার কথা শুনলো
মা বলতেছে
মা-আমার সোনা ছেলে
তনু উঁকি মেরে দেখলো শিশির তার বাবা মার মাঝখানে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে
তনু-শয়তান ছেলে,আমাকে পুরা ভয় পাইয়ে দিসিলো
তনু রুমে চলে আসলো,
শিশির মুচকি মুচকি হাসতেছে,কারন সে আয়নায় তনুকে দেখেছে,,
তনু খোঁপা বাঁধতেছে আর ভিজা গোলাপ গাছের একটি ফোটা ফুলে গাল লাগিয়ে ঘষতেছে,,কিছুক্ষন আগের বৃষ্টিতে ভিজে গেসিলো গাছটা
তনু চোখ বন্ধ করে আছে হঠাৎ খোঁপাটা আবার খুলে গেলো,তনু মাথায় হাত দিয়ে দেখলো কাঠিটা নেই,পিছন ফিরে তাকাতেই শিশিরকে আচমকা দেখে পড়ে যেতে নিলো,শিশির ধরে ফেললো,
তনু-আপনি
শিশির-কেন আমার রুমে আমি আসতে পারি না?
তনু-পারেন,
তনু সরে গেলো,
শিশির-এটা নিবা না?
তনু তাকিয়ে দেখলো শিশিরের হাতে কাঠি,তনু হাত বাড়িয়ে নিতে গেলো শিশির হাত সরিয়ে ফেললো
শিশির-চুল খোলাই থাকুক
চলবে♥

Crush যখন বর Season_3 Part_19/20/21

0

Crush যখন বর Season_3 Part_19
Writer-Afnan Lara

দুপুর হয়ে গেসে তনু খিধায় মরে যাচ্ছে,,এদিকে শিশির মরার মত ঘুমাচ্ছে,,
তনু আস্তে করে শিশিরের পাশে বসলো,,ওর গাল ধরে টেনে দিলো,,শিশির চোখ মেলে বড়বড় চোখ করে তাকাতেই তনু ভয় পেয়ে নিচে পড়ে গেলো
তনু-উফ
শিশির উঠে বসলো
তনু-?আমার খিধা লাগসে
শিশির ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ২টা বাজে,
শিশির তাড়াতাড়ি করে fresh হতে চলে গেলো
বের হয়ে দেখলো তনু রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,একটা লং থ্রি পিস পরেছে,কিন্তু ওড়না কই??
তনু-আমি দেখসি সবাই ওড়না ছাড়া আসছে
শিশির রাগ করে গিয়ে ব্যাগ থেকে ওড়না এনে তনুর গায়ে ছুড়ে মারলো
শিশির-সবার মত হতে যাইও না,তুমি শিশিরের ওয়াইফ বুঝছো,বাকিদের না
তনু-মানে?কি বললো এটা
শিশির ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেলো,তনু ও পিছন পিছন গেলো,,শিশির মাকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলো যে তারা পৌঁছে গেসে,,
খাওয়া শেষ শিশির হোটেলের দিকে যাওয়া ধরলো
তনু-ঘুরতে যাব না?
শিশির-কাল,আজ আমি ঘুমাবো
তনু-আসেন না প্লিজ
শিশির-নাহ
একটা ছেলে-তুমি চাইলে আমি তোমাকে ঘুরিয়ে আনতে পারি??
তনু-?
শিশির-?No thanks
শিশির তনুর হাত ধরে রুমের দিকে নিয়ে গেলো
তনু-এ্যা???আমি সমুদ্র দেখতে যাব?????
শিশির-কাল
তনু-আমি একাই যেতে পারবো,হাত ছাড়েন
শিশির-না
তনু হাতে কামড় বসিয়ে এক দৌড় দিলো
শিশির-আরে দাঁড়াও,উফ!
তনু বাইরে বেরিয়ে গেলো দেখার জন্য,শিশির মুখ গোমড়া করে চেয়ার নিয়ে বসে তনুকে পাহারা দিচ্ছে আর তনু বিচে চরকার মত ঘুরতেছে,
শিশির-একটা কফি প্লিস?
সাইডে তাকিয়ে দেখলো তনু এসে হাজির
শিশির-মাত্রই তো ওখানে ছিলা
তনু-আমাকে রেখে কফি খাবেন??
শিশির -আচ্ছা দুটো দিয়েন
তনু শিশিরের হাত জড়িয়ে ধরলো শিশির ছাড়িয়ে নিলো
পাশে একটা বয়স্ক মহিলা বসে ছিলো,,তেমন বয়স্ক নয়,,
মহিলাটি শিশিরের দিকে তাকিয়ে বললো,কি??জোর করে বিয়ে দিসে নাকি তোমার মা বাবা,
তনু ব্রু কুঁচকে তাকালো
শিশির-None of your business
মহিলাটি হেসে দিলো,,তারপর বললো এটাতে স্বাদ না মিটলে বলিও,,
শিশির তনুর হাত ধরে উঠে চলে যেতে নিলো তনুর হাত ছাড়িয়ে মহিলাটির দিকে তেড়ে গেলো
শিশির-তনু ওয়েট
তনু-কি বললি তুই??আরেকবার বল
মহিলাটি উঠে দাঁড়ালো
মহিলা -বললাম যে তোমার দ্বারা কাজ না হলে আমার কাছে আসতে
তনু-ওহ তাই,তোমাকে দিয়ে কাজ হবে?
মহিলা-of course
তনু-তাহলে test করে দেখি?
এটা বলেই তনু নিজের সব শক্তি দিয়ে মহিলাটিকে ধাক্কা দিয়ে সাইডের পুলে ফেলে দিলো
তনু-☺Feeling কেমন??Post করে ট্যাগ দিও??
শিশির-????
তনু -কি বলো আমাতে কাজ হবে না??
শিশির-চুপ,চলো তুমি,আদৌ জানো এই বাক্যের মানে কি
তনু-জানি তাই তো গায়ে লাগসে,
মহিলাটি চিল্লাচ্ছে পানিতে থেকে
তনু শিশিরের হাত ধরে টানতে টানতে বিচে নিয়ে গেলো,
দুজনেই বালিতে বসে আছে,,মাঝখানে এক হাত দূরত্ব
তনু সেই অনেকক্ষন ধরে পানির দিকে তাকিয়ে আছে,কথা বলতেছে না,মহিলাটির কথা ওর কানে বাজতেছে
শিশির-মানুষের কথায় কান দিও না
তনু উঠে দাঁড়ালো
তনু-মানুষ তো এমনি এমনি বলে না,যা দেখে তাই বলে
তনু চলে গেলো
শিশির তাকিয়ে আছে,,
তখনকার ছেলেটা এসে হাজির
ছেলেটা-চলো আমরা পানিতে পা ভিজাবো
শিশির ছেলেটিকে দেখে শার্টের হাতা উঠাতে উঠাতে এগিয়ে আসতে লাগলো
তনু-তোর আর কাম নাই??আমার পিছনে লাগছস কেন??বেশি কথা বললে তোরে নিয়ে আমি পানিতে ভিজামু
ছেলেটি-প্লিস ভিজাও
তনু-রাগ control হচ্ছে না আমার????
শিশির আসার আগেই তনু ছেলেটির হাত ধরে নিয়ে পানিতে ফেলে গলা টিপে ধরলো
শিশির-আরে তনু পাগল হইসো
ছেলেটি -বাঁচাও আমাকে কেউ,এই মেয়ে মেরে ফেলবে আমাকে
শিশির গিয়ে তনুর হাত ধরে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছে,কিন্তু তনু ছাড়তেছেই না,আশেপাশে মানুষ জড় হয়ে গেসে,
শিশির আর কোনো উপায় না পেয়ে তনুর কোমড় ধরে উঁচু করে নিয়ে গেলো
তনু-ছাড়ুন বলতেছি,আমি মেরে দিব এটারে
শিশির-চুপ থাকো,মানুষ কি বলবে,বাচ্চাদের মত কাজ করে সবসময়?
তনু-তোরে আমি দেখে নিব শয়তান
শিশির-হ্যাঁ দেখে নিয়েন
শিশির তনুকে নিয়ে চলে এলো হোটেলে
তনু বারান্দায় বসে নিচে দেখতেছে,কি একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে,,
তনু-আমি যাব ওখানে
শিশির-আজ আর না
তনু-আসেন না প্লিস,,কি সুন্দরর করে সাজানো হয়সে,,আসেন না
শিশির না শুনার ভান করে টিভি দেখতেছে
তনু গিয়ে টিভির সামনে দাঁড়ালো
তনু-যাবেন না??
শিশির-নাহ
তনু-last বার ask করতেছি
শিশির-যাব না
তনু-আমি কিন্তু গায়ের সব খুলে ফেলে দিব,
শিশির-হুহ?ভয় দেখাচ্ছো.?
তনু-নাহ,Threat দিচ্ছি
শিশির মুখ ভেংচি দিয়ে টিভি দেখতে লাগলো
তনু নিজের ওড়না নিয়ে শিশিরের মুখ মারলো
শিশির-what the!!?
তনু নিজের জামার চেইনে হাত দিয়ে টানতেছে আর হাসতেছে
শিশির-ওকে ওকে যাব,খুশি??
তনু-অবশ্যই খুশি
শিশির তনুকে নিয়ে নিচে গেলো,সব কাপলরা মজা করতেছে,,
তনু দেখলো সবাই অনেক খুশি,শুধু শিশির আর তনু বাদে,,তাদের কে এলিয়েন মনে হচ্ছে,কারন সব কাপলই dance করতেছে,,একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে
শিশির-দেখো এবার,আমি এসব পারবো না
শিশির গিয়ে সিটে বসলো,,
তনু গিয়ে পাশে বসলো
তনু একটা মেয়েকে দেখতেছে যে তার স্বামীকে নিয়ে নাচতেছে,,মেয়েটা দেখলো তনু আর শিশির আলাদা হয়ে বসে আছে,,মেয়েটা তনুর দিকে তাকিয়ে সো স্যাড বললো,এক প্রকারর ভেঁংচি দিয়ে
তনুর মাথায় আবার রাগ উঠলো,,শিশিরের দিকে তাকালো,যেন এখনই চিবিয়ে খেয়ে নিবে,
শিশির-আমি কি তোমাকে বলসিলান এখানে আসতে??চলো হোটেলে ফিরে যাই
তনু-যামু না আমি,আপনি আমার সাথে নাচবেন এখন,নাহলে কেঁদে দিব
শিশির-পারবো না
শিশির উঠে চলে গেলো,
এবার মেয়েটা হো হো করে হেসে দিলো তনুর দিকে তাকিয়ে
তনুর চোখে পানি এসে গেসে,
শিশির রুমে এসে পিছনে তাকিয়ে দেখলো তনু নেই,উফ আবার যেতে হবে,শিশির আবার সেই জায়গায় গেলো কিন্তু তনুকে পেলো না,
শিশির-এবার আবার কই খুঁজবো আমি
একটু এগোতেই দেখলো তনু মুখ গোমড়া করে বসে আছে
শিশির-আচ্ছা এত জ্বালাও কেন বলোতো
তনু-??????
শিশির তনুর হাত ধরলো
শিশির-অনেক হয়সে চলো,
তনু-নাহ
ঐ মেয়েটা এবার আবার ঢং করে হেসে দিলো,তনু সেটা দেখে কেঁদে দিলো
শিশির-হায়হায় কি হয়সে
তনু-মেয়েটা তখন থেকে পিরিত করতেছে আর আমাকে দেখাচ্ছে,হাসতেছে,আমার জামাই আমাকে আদর করে না তাই আরও বেশি করে হাসতেছে
শিশির এবার বুঝলো পুরো ব্যাপারটা,,
শিশির-চলো
এটা বলেই তনুকে কোলে তুলে নিলো,,
তনু -?ঢং
তনু খেয়াল করলো ঐ মেয়েটা মুক কালো করে তাকিয়ে আছে এমনকি ওখানের সব কাপলরাই তাকিয়ে আছে শিশির আর তনুর দিকে,সবাই হাততালি দিচ্ছে
তনু এবার হাসলো,আর ঐ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ভেঁংচি কেটে দিলো???
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_20
শিশির রুমে এসে তনুকে নামিয়ে দিলো,,
তনু সেই সুযোগে শিশিরের গালে চুমু দিয়ে দিলো
শিশির-এটা কি করলে
তনু-খুশি হইসি তাই দিলাম
শিশির গাল মুছে ফেললো,তারপর গিয়ে জামা নিয়ে বাথরুমে চলে গেলো
শিশিরের ফোনে কল আসলো, তনু গিয়ে রিসিভ করলো
নাতাশা-শিশির আই লাভ ইউ
তনু-আই লাভ শিশির অলসো???
নাতাশা-শিশিরকে দাও
তনু-কেন রে??তোর কথা আমার শুনতে হবে কেন
নাতাশা-দাও বলসি
তনু-আমরা হানিমুনে আসছি,ডু নট disturb
নাতাশা-কই??
তনু-সিলেট??
নাতাশা-ওকে
তনু-এবার তুমি সিলেট যাইয়া বসে থাকো,আমরা এখানে শান্তি করি☺?
শিশির-আমার ফোন আসছিলো??
তনু-হ্যাঁ,জিপিআলারা ফোন দিসে,,
শিশির-ওহ,,
শিশির গিয়ে খাটে বসলো,তনু পাশে গিয়ে হাত জড়িয়ে ধরে বসলো
শিশির-হাত ছাড়ো,সারাদিন জোঁকের মত লেগে থাকে
তনু-আমি না আপনার ওয়াইফ???
শিশির-তা বলে মাথায় উঠে বসবা?
তনু-কই বসলাম,মিথ্যা কথা বলেন কেন??
শিশির-???
শিশির টিভি দেখতে দেখতে খেয়াল করলো তনু ওর পেট জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেসে,
শিশির কাঁথা টেনে দিয়ে নিজে সরতে যাবে তনু আরও চেপে ধরলো,,
শিশির রেগে গিয়ে এক ধমক দিলো,তনু উঠে গেলো
তনু-কি হয়সে এমন করেন কেন
শিশির-জোঁকের মত লেগে থাকতে মানা করসি না
তনু-তাই বলে কাঁচা ঘুম ভাঙিয়ে দিবেন?এখন তো নাতাশা হলে এমন করতে পারতেন না,ও যত বেয়াদবই হোক আপনি সবসময় ওকে কাছে টেনে নিতেন
তনু উঠে বারান্দায় চলে গেলো,ওখানে বসে পড়লো মুখ গোমড়া করে
শিশির আরেকদিকে ফিরে শুয়ে পড়লো
সকালে উঠে শিশির দেখলো পাশে তনু নেই,,বাথরুমের দরজা খোলা,তনু কই
বারান্দায় গিয়ে দেখলো নিচে ফ্লোরে বসে ঘুমিয়ে আছে,,
শিশির অনেকবার ডাকলো তনু উঠে না দেখে কাঁধে হাত দিয়ে ধরতেই দেখলো গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে,,
শিশির-তনু,এই তনু
তনু চোখ খুলে তাকালো
শিশির-দেখি উঠে এখান থেকে,উঠো
তনু শিশিরের হাত ছাড়িয়ে উঠে চলে গেলো,ঠিকমত হাঁটতে পারতেছে না,,শিশির ধরতে যাবে হাত সরিয়ে ফেললো তনু,,
গিয়ে খাটে গিয়ে কাঁথা টেনে শুয়ে পড়লো
শিশির ড্রয়ার থেকে ঔষধ বের করে রাখলো, খাবার অর্ডার করে এনে তনুকে ডাকলো,
শিশির-তনু উঠে ঔষধ খেয়ে নাও
তনু-লাগবে না এত পিরিতের
শিশির অনেকক্ষন বসে রইলো,মায়ের সাথে কথা বলে নিলো,মা বললো জোর করে খাওয়াতে,
শিশির উঠে গিয়ে তনুকে জোর করে উঠে বসালো
তনু-আমি মরে গেলে আপনার কি??
শিশির তনুর চোখের দিকে তাকালো,,,কাল রাতের জন্য সরি, তোমাকে বলসি এত জোঁকের মত লেগে থাকিও না তারপরেও কথা শুনো না তুমি,আর এখন বারান্দায় গিয়ে সারা রাত থেকে জ্বর করলা,,
শিশির খাবার নিয়ে মুখে ধরলো তনু উঠে চলে গেলো,,,
শিশির-আবার কই যাও
তনু বারান্দায়য় গিয়ে দররজা লাগিয়ে দিলো
শিশির-তনু পাগলামো করো না তোমার জ্বর
তনু আবার নিচে বসে পড়লো
শিশির দরজা ধাক্কাচ্ছে,তনুর খবর ও নেই,তনু বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে
শিশির নিচে গিয়ে বারান্দার চাবি এনে খুললো,,রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে শিশিরের,,
শিশির এক টান তনুকে টেনে উঠালো
তনু একটুও ভয় পাচ্ছে না
শিশির তনুকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে গেলো,,
তারপর গাল টিপে ধরে খাইয়ে দিলো,,
খাওয়া শেষে তনু আরেকদিকে ফিরে শুয়ে পড়লো,,
শিশির-চলো ঘুরতে যাই
তনু-যাব না আমি
শিশির-ঠিক আছে আমি যাচ্ছি,হেঁটে আসি বিচ থেকে
শিশির রেডি হয়ে দরজা খুললো পিছনে তাকিয়ে দেখলো তনু আড়চোখে তাকিয়ে আছে,,
তারপর দরজা লাগাতে যাবে তনু এসে দাঁড়ালো,
শিশির মুচকি হেসে তনুর হাত শক্ত করে ধরে ওকে নিয়ে গেলো,,
দুজনেই চুপচাপ হাঁটতেছে,,শুধু আর ৫দিনের মত নয় আজ,,আজ তাদের দূরত্ব কম,,দুটি হাত এক হয়ে যাচ্ছে
তনুর সেদিকে খেয়াল নেই,মাথা ঘুরাচ্ছে,,বারবার পড়ে যাচ্ছে,শিশির আগলে ধরে হাঁটতেছে,,
তনু-একটা জিনিস চাইবো দিবেন?
শিশির-কি বলো
তনু-???
শিশির-পাগল হইসো তুমি?/এই তো সবে এত ভাব দেখাইলা আর এখন আবার,এত মানুষের মাঝে
তনু-কি করবো,আপনার সাথে রাগ করে থাকতে পারি না,আর আমি তো মানুষের সামনে দিতে বলিনি,রুমে গেলে দিবেন??
শিশির কিছু বললো না আবার হাঁটা ধরলো,,
শিশির-আজ হিমছড়ি যাওয়া যেত,তোমার জ্বর তাই যাওয়া হলো না
তনু-কাল যাব
শিশির-এই জ্বর আগামী ১০/১২দিনে ভালো হবে??
তনু-কিস দিলে হয়ে যাবে
শিশির চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে হাঁটা ধরলো,,অনেকক্ষন হেঁটে রুমে চলে আসলো দুজনে,,
তনু আলমারী থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে বাথরুমে চলে গেলো,শিশির বারান্দাতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেছে,,তুলতে তুলতে রুমের দিকে ফোন ঘোরাতেই আটকে গেলো শিশির
এটা কে?
ফোন নিচে নামিয়ে নিজে তাকিয়ে দেখলো তনু দাঁড়িয়ে আছে সেদিনকার সেই টপস টা পড়ে,,দেখে মনে হচ্ছে এখনই পড়ে যাবে জ্বরে তাও আমাকে জ্বালানো ছাড়ে না?
তনু ক্যাট walk দিয়ে আসতেছে, শিশির রোবটের মত দাঁড়িয়ে আছে কি করবে কে জানে, শুধু টপস টাই পড়েছে আর কিছু পড়েনি,,লজ্জায় শিশির মরে যাচ্ছে,,
তনু-লজ্জা পামু আমি, আপনি পান কেন??
শিশির ঘামতেছে,,
তনু মুছতে দিলো
শিশির মুখ মুছে তাকিয়ে দেখলো যেটা দিয়ে মুছতে দিলো সেটা হলো তনুর টপসের ফিতা
ব্যস টান খেয়ে ফিতা খুলে টপস নিচে,,শিশির যখন সেটা বুঝতে পারলো এক চিৎকার দিলো
তারপর কাশতে কাশতে গিয়ে খাটে বসলো
তনু টপস টা পড়ে এসে শিশিরের পাশে বসলো
তনু-কি হয়সে??Anything wrong??
শিশির-তোমাকে কে শেখায় এগুলা??
তনু -টিভি
শিশির-পুরা নষ্ট করে দিসে
তনু-??
তনু পানি এগিয়ে দিলো,,
শিশির পানি খেয়ে সরে গেলো,তনু ও এগিয়ে গেলো
শিশির সরতে সরতে খাটের stand এর সাথে লেগে গেলো,
তনু-????☺️???????
শিশির-প্লিস সরো
তনু-ধুর!
তনু গিয়ে টিভি অন করে বসলো,
শিশির শার্টের কয়েকটা বোতাম খুলে নিজেকে ঠিক করলো,এতক্ষন দম বন্ধ হয়ে আসতেছিলো বাপরে,,
তনু -ঠিক করলেন না এটা,শোধ আমি উঠাবো
শিশির-কি করবা
তনু-দেখবেন কি করি
শিশির দুপুরে গোসল করে বের হলো,,
তনু-এ্যা এ্যা আমার চোখে কি পড়সে????
শিশির-যাব না ধরে কিস করে ফেলবা
তনু-?ধুর planningটা নষ্ট হলো
শিশির-টপস পাল্টিয়ে নাও,নিচে গিয়ে খেয়ে আসবো
তনু-এখানে আনেন,আমার যেতে মন চায় না
শিশির কল করে খাবার আনলো,,
শিশির প্রতি পদে পদে ভয় পাচ্ছে, না জানি কখন কি করবে,তাই সাবধানে চলতেছে,তনু নরমালি খাচ্ছে,,
তনু-ভয় পাইয়েন না,সুযোগের সদ্য ব্যবহার করবো আমি
???
শিশির ভয়ে পানি এক গ্লাস খেয়ে নিলো,শিশিরের কল আসলো,শিশির ধরার আগেই তনু ধরলো
তনু-হ্যালো
নাতাশা-সিলেটের কোন জায়গায় তোমরা
তনু-সো স্যাড আমরা তো সিলেট থেকে ঢাকায় চলে আসছি
নাতাশা-??????
তনু লাইন কেটে দিয়ে ফোন রেখে দিলো
শিশির-কে কখন সিলেট গেলো,আর কার সাথে কথা বলসো
তনু-নাতাশা
শিশির-বুঝলাম না
তনু-বুঝতে হবে না টিসু পেপার টা দিন
শিশির টিসু নেওয়ার জন্য উঠতেই তনু শিশিরের খাবারের প্লেট টা নিয়ে নিলো
শিশির-দাও
তনু-দিব না
শিশির-দাও
শিশির এগিয়ে যেতেই তনুর মুখে হাসি ফুটলো,শিশির বুঝতে পেরে সরে গেলো,
তনু-হয়সে থাক,করলাম না কিস,ধরেন আপনার প্লেট?
পুরো বিকাল শিশির দূরে দূরে থেকে শেষে তনুর পাশে এসে বসে টিভি অন করলো,,টিভি দেখতে দেখতে ফোনটা হাতে নিলো,,
ফোনে কে যেন মেসেজ দিসে
????Edike jan
??????nice jan
????Dan dike
???????Bam dike
??????Upore takao
?????dan pase takao
শিশির লেখাটা পড়তে পড়তে যেই না ডান পাশে তাকালো তনু ঝাপটে ধরে চুমু দিয়ে দিলো
শিশির ভুলেই গেসিলে এটা তনুর চাল হতে পারে
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_21
শিশির তনুকে একটা আলতো করে ধাক্কা দিতেই তনু balance করতে না পেরে নিচে পড়ে যেতে নিলো শিশিরের জামার কলার ধরে টান দিলো পড়ে যাওয়ার সময়,দুজনেই নিচে পড়ে গেলো,,তনু শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো,শিশির সরে যেতে নিলো কিন্তু তনু ছাড়লো না
অনেকক্ষন পর
শিশির-উঠবো
তনু ছেড়ে দিয়ে নিজেই উঠে গেলো,,
রাতটা দুজনে আলাদা আলাদা কাটিয়েছে
শুধু রাতে শিশির বারবার তনুর গায়ে কাঁথা টেনে টেনে দিসে,,গায়ে জ্বর কমেনি
পরেরদিন ♥♥
শিশির ঘুমের মধ্যে অনুভব করলো চুলের খোঁচা দিতেছে কেউ,,
শিশির-আজ খবর আছে তোমার
শিশির এক টান দিয়ে হেসে উঠে বসলো,তনুর চুল ছিঁড়ে হাতে এনেছে শিশির ভাবলো
নিজের হাতে তাকিয়ে দেখলো মেক আপ করার ব্রাশ
তনু-আমি এত বোকা না যে নিজের চুল দিয়ে আপনাকে জাগাবো,খুব জানি আমার চুল ছিঁড়বেন,
শিশির আড় চোখে তাকিয়ে উঠে গেলো,হঠাৎ কি মনে উঠে পিছনে ঘুরে তাকালো,,তনুকে আজ অন্য রকম লাগতেছে,,পড়নে লাল টুকটুকে শাড়ী,,খোলা চুল,,হাতে লাল চুড়ি,শিশির মিনিট খানেক তাকিয়ে রইলো হা করে
তনু-এই যে ক্রাশ খেলেন নাকি
শিশির-হুহ,মানুষ আমাকে দেখে ক্রাশ খায়,আমি খাই না কারোর উপর?
তনু-তাহলে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?এর মানে কি বুঝবো?
শিশির-পেঁচার মত লাগতেছে তাই
তনু-কিহ!!!!আপনাকে আমি!!!
শিশির এক দৌড়ে বাথরুমে চলে গেলো
তনু আয়নায় গিয়ে দাঁড়িয়ে শিশিরকে গালি দিলো,হুহ আমাকে নাকি পেঁচার মত দেখতে তাহলে নাতাশা পেঁচার বাসার বুয়া,,
শিশির বের হয়ে শার্ট পড়ে হাতে ঘড়ি দিতে দিতে রুমে হাঁটতেছে আর ফোনে কথা বলতেছে
তনু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে Lipstick দিচ্ছে,,
শিশিরের ফোনের দিকে খেয়াল করে কথা বলতেছিলে
তনু আঁচল পিছনের দিকে ছুড়তেই শিশিরের হাতের উপর পড়লো,,শিশির ভাবলো এটা হইতো ওর রুমাল হবে,হাতে নিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে হাঁটা ধরতেই
তনু হকচকিয়ে পিছনে তাকালো
তনু-আরে আরে কি করতেছেন কি
শিশির -ওকে বাই
শিশির-কি?
শিশির পিছনে তাকালো
তনু গায়ের অর্ধেক শাড়ী শিশিরের হাতে
তনু লজ্জায়,, তার উপর এমন কান্ডে হেসে দিলো?????
শিশির তনুর হাসি দেখে নিজেও হেসে দিলো,,দুজনে হাসতে হাসতে খাটে বসলো
শিশির-আমি ভাবসি আমার রুমাল
তনু-?দুষ্টু
শিশির-আমি ইচ্ছে করে করসি?
তনু-তাই তো মনে হয়
শিশির-আমার আর কাজ নেই
তনু-নেই??
দুজনে বাইরে বের হলো,,পাহাড়ে উঠে শিশির চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে শ্বাস নিচ্ছে,,আর তনু সেই সুযোগে শিশিরের অনেকগুলো ছবি তুলে নিলো,,
আকাশ-কিরে শিশির!!!
শিশির সাইডে তাকিয়ে আকাশকে দেখে লাফিয়ে উঠে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরলো,,
তনু-কে?
শিশির-এটা আমার খালাতো ভাই আর আমার close frd ও
তনু-ওহ
আকাশ -বিয়ে করছিস?????
শিশির-তোরে জানানোর সময় পাইনি হুট করে হয়ে গেলো
আকাশ তনুর দিকে তাকালো, তনুকে আজ সত্যি অনেক সুন্দর লাগতেছে আকাশ ভালো চোখে তাকায়নি তনু বুঝতে পেরে শিশিরের হাত চেপে ধরলো
আকাশ-রিয়া রিয়া
রিয়া আসলো,,
আকাশ-মিট মাই ওয়াইফ রিয়া
সবাই গল্প গুজব করতে করতে পাহাড় থেকে নামলো,,,আকাশ বারবার তনুকে দেখতেছে,,
আকাশ-তা তোরা কোন হোটেলে?
শিশির-টিউলিপ
রিয়া-আরে আমরাও তো টিউলিপে
শিশির-তাই নাকি,
আকাশ-দেখসো আমরা একসাথে এক হোটেলে অথচ মিট হলো এখানে
শিশির-যাক ভালো হইসে,আজ রাতে অনেক গল্প হবে
আকাশ -তা তো অবশ্যই
হোটেলে এসে তনু শিশিরের হাত টেনে ধরলো
শিশির-কি?
তনু-আকাশ ভাইয়ার নজর ভালো না
শিশির-না জেনে শুনে কথা বলবা না,ও খুব ভালো ছেলে
তনু-বারবার আমার দিকে কেমন করে তাকাচ্ছিলো
শিশির-এমনি তাকাইসে,নেগেটিভলি নাও কেন,আমি আর কিছু শুনতে চাই না,ও শুধু আমার frd ই না খালাতো ভাই ও
শিশির fresh হতে চলে গেলো
তনু মন খারাপ করে বসে আছে,,
শিশির বের হয়ে দেখলো তনু এখনও বসে আছে,,
শিশির-রেডি হয়ে নাও,আমরা নিচে গিয়ে বসে সবাই গল্প করবো
তনু শাড়ী change করে লং থ্রিপিস পরে নিলো,
আকাশ বারবার খারাপ চোখে তনুকে দেখছে,তনুর একটুও ভালো লাগতেছে না
শিশির-কি হয়সে?
তনু-আমার শরীর ভালো লাগতেছে না,রুমে যাব
শিশির-আচ্ছা তাহলে কাল দেখা হবে,,আজ আমার ওয়াইফ অসুস্থ
আকাশ-ওকে ব্রো
তনু শিশিরের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে আর শিশির ফোনে কথা বলতেছে,
শিশির-আচ্ছা শুনো আকাশ আমাকে নিচে ডাকতেছে,তুমি rest নাও আমি ২০/৩০মিনিটে আসতেছি
তনু-ওকে
শিশির যাওয়ার ২/৩মিনিট পর দরজা নক করলো কে যেন
তনু ভাবলো শিশির, তনু গিয়ে দরজা খুললো
আকাশ -শিশির কই??
তনু -উনি তো নিচে গেসে আপনি নাকি ডাকসেন
আকাশ-তাহলে ঠিক আছে
এটা বলেই আকাশ ভিতরে ঢুকে গেলো,,
তনু-আপনি,!! শিশির নেই,এখন যেতে পারেন
আকাশ-নাহ,একটু থাকি
বেশ ভালোই কপাল শিশিরের, দেখতে হবে
তনু চলে যেতে নিলো আকাশ দরজা লক করে ফেললো
আকাশ-আসো আমরা enjoy করি,তোমার স্বামী ও জানবে না আর আমার বউ ও জানবে না
তনু পিছচ্ছে আর আকাশ এগোচ্ছে,,
তনু-শিশির!!!শিশির
আকাশ কাছে যেতেই তনু একটা চড় মেরে দিলো
আকাশ রাগে ক্ষোভে তনুর হাত চেপে ধরলো,
আকাশ -এই থাপ্পড় কিছু না
তনু চিৎকার করতেছে,,তনুর হাতের চুড়ি ভেঙে রক্ত পড়তেছে
তনুর বাম হাত হালকা হতেই তনু আরেকটা চড় মেরে দিলো,,
তখনই শিশির দরজা ধাক্কাতে লাগলো
শিশির-তনু??
আকাশ উঠে গিয়ে দরজা খুললো,,
শিশির-তুই এখানে??
আকাশ-তুই আসোস না দেখে এখানে আসলাম আর তোর বউ আমাকে চড় মারলো,আমি নাকি ওর সাথে খারাপ কিছু করবো
শিশির তনুর দিকে তাকালো,তনুর গা কাঁপতেছে
শিশির-তনু??তুমি ওকে চড় মারছো??
তনু কাঁদতে কাঁদতে বারান্দার দিকে চলে গেলো
আকাশ-থাক বাদ দে,,রিয়া যেন না জানে,নইলে তনুকে মেরে ফেলবে,আসলে আমার চরিত্র এত খারাপ না রিয়া জানে,আর কেউ তা খারাপ বললে ওর তো কষ্ট হবে তাই না
আকাশ চলে গেলো
শিশির বারান্দাতে গিয়ে দেখলো তনু নিচে বসে আছে,,চোখ মুছতেছে বসে বসে
শিশির-ও কিছু করসে?
তনু নিজের হাত এগিয়ে দেখালো,লাল দাগ হয়ে আছে,অনেক জায়গায় রক্ত জমে আছে
শিশির কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইলো,,তারপর বেরিয়ে গেলো
সন্ধ্যা হয়ে গেসে শিশির এখনও আসতেছে না
তনু কল দিতেছে,ফোন ও রিসিভ করতেছে না,
অবশেষে ৭টার দিকে আসলো,,
কপালে ব্যান্ডেজ করা,হাতে ও করা
তনু-কি হয়সে আপনার,এমনটা হলো কিভাবে??
শিশির খাটে বসলো,,
শিশির-মেরেছি খুব,রাগ যাওয়া পর্যন্ত সাথে ও মারছে আমাকে,তাই এই অবস্থা
তনু-কি দরকার ছিল এসবের
শিশির-বিশ্বাস করো আমি ভাবতেও পারিনি ও এমনটা করবে,, যদি না তোমার হাত না দেখতাম হয়ত বিশ্বাস করতাম না,আসলে কে আপন আর কে পর তা বোঝা মুসকিল,আর আই এম সরি,আমি তোমার কথা প্রথমে বিশ্বাস করিনি করলে হয়ত এসব হতো না
তনু কান্না করে দিলো শিশিরের এমন অবস্থা দেখে
শিশির-কেঁদো না সব ঠিক হয়ে গেসে,
তনু বসে বসে দুহাত দিয়ে চোখ মুছতেছে আর আবার কেঁদে চোখ ভাসিয়ে ফেলতেছে
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে দেখতেছে,এত কিউট লাগতেছে বলে বোঝানো যাবে না,শিশির ভুলেই গেসে সে তনুর দূরে দূরে থাকতো,মনে হচ্ছে যেন খুব কাছের একটা মানুষ
তনু শাড়ীর আঁচল দিয়ে মুখ মুছতেছে
কেঁদে পানির গ্লাস নিতে যাচ্ছিলো পানি খাওয়ার জন্য শিশির এক হাত দিয়ে আটকালো আরেক হাত দিয়ে টেনে কাছে নিয়ে এলো তনুকে
তনুর কোমড় চেপে ধরে কিস করলো তনুকে
তনুর কান্না নিমিষেই বন্ধ হয়ে গেলো,তনু শিশিরের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে
আর শিশিরের চোখ তনুর দিকে সম্ভবত তনুর নাকের নাকফুলের দিকে,,তনুকে আরেকটু টেনে কাছে আনলো শিশির,হঠাৎ করে এমনটা কেন করতেছে শিশির সেটা সে নিজেও জানে না,,
তনু শিশিরের চুলে হাত দিয়ে ধরলো,,
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_16/17/18

0

ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_16
Writer-Afnan Lara

শিশিরের ফোনে কল আসলো,,
শিশির-হ্যালো মীম বল
মীম-শোন আমরা সবাই কাল আসবো ঢাকায়
শিশির-ওকে,হঠাৎ?
মীম-?আসলেই বুঝবি
পরেরদিন সকালবেলা সবাই এসে হাজির,
শিশির-কি হয়সে?তোমরা এত তাড়াতাড়ি??
মা-তোর কি সমস্যা রে?যা অফিস যা
শিশির রেডি হয়ে অফিস চলে গেলো
তনু-মা ঘটনা কি বলোতো
মা-আরে কাল শিশিরের জন্মদিন
তনু-কিহ?????আমি জানতাম না
মা-হুম,surprise দিব সবাই মিলে তাই তো এলাম,আর বিকালে আমাদের এখানের কিছু রিলেটিভ আসবে,,সেজেগুজে নে,
তনু-আচ্ছা,
বিকালে বাসায় মেহমানে ভর্তি হয়ে গেলো,একটা ছোটখাটো অনুষ্ঠান হলো,শিশিরের ফুফাতো বোনেরা এসে তনুকে নিয়ে গসিফিংয়ে লেগে গেলো,,যে তারা কম কিসের,,শিশিরদের পুরো ভাইবোনদের গুষ্টিরর মধ্যে শিশিরই বেশি কিউট,,যার কারণে ওর জন্য ওর অনেক কাজিনই পাগল,
একটা তো মাত্রাতিরিক্ত পাগল,আর তার নাম হলো রাইসা,সে আজ এসেছে,তনুকে রাগী চোখে দেখতেছে,তনুকে লাল শাড়ী পড়িয়ে দিসে মা,,হালকা গয়না পরিয়ে দিসে,, যার কারনে অনেক সুন্দর লাগতেছে ওকে,,লালে তনুকে খুব মানায়,
শিশির এখনও আসেনি,,
রাইসা তনুর কাছে এসে ওর হাত ধরে ওদের রুমে নিয়ে গেলো
রাইসা-কি জাদু করসো শিশিরকে??
তনু-এখনও কিছুই পারলাম না,তা তুমি করসিলা নাকি
রাইসা-?এভাবে কেউ ফুফাতো বোনের সাথে কথা বলে?
তনু-এভাবে কেউ মামাতো ভাইয়ের বউয়ের সাথে কথা বলে?আমি না তোমার ভাবী?
রাইসা-এসব দেখায় পাগল করসো তাই না
তনু-না আরও অনেক কিছু দেখাইসি,তোমার সমস্যা?
রাইসা-ঢং দেখাও??তুমি ভাইয়ার যোগ্য না তা তুমি জানো?
তনু-হ্যাঁ যোগ্য যে তা জানি কারন যোগ্য তাই আজ আমি তার বউ,যা তোমার মত মেয়ের কপালে নেই,আর তার যোগ্যতাও তোমার নেই,Now সরো এখান থেকে আমার জামাই আসছে,
তনু রাইসাকে সরিয়ে চলে গেলো
রাইসা তো ফুলতেছে
তনু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শাড়ী ঠিক করে যাচ্ছিলো,,শিশিরদের রুমের সামনে ৭টা সিড়ি আছে,তারপর নিচের ফ্লোর,
রাইসা দরজার বাইরে লুকিয়ে ছিলো,
শিশির আসতেই সবাই মিলে ওকে ঘিরে ধরেছে,,যার কারনে সে রুমে আসতে পারেনি,
তনু বের হতেই রাইসা ওকে জোরেসোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো,
তনু নিচে পড়ে পায়ে ব্যাথা পেলে তারপর দেখলো রাইসা হাসতে হাসতে চলে গেলো,
তনু-মীম,মীম!
গান বাজতেছে তনুর কোনো আওয়াজই আসতেছে না সোফার রুমের দিকে,
তনু এতটাই ব্যাথা পেয়েছে যে উঠতে পারতেছে না
শিশির দেখলো রাইসা খুব হাসতেছে,,
শিশির রাইসার স্বভাবের সাথে পরিচিত,, তনু কই??
শিশির-আচ্ছা আমি আসতেছি fresh হয়ে,,
রাইসা-ভাইয়া থাক না কত enjoy হচ্ছে এখানে
শিশির-নাহ,আমি tired
রাইসা আটকাতে পারেনি শিশির চলে গেলো,গিয়ে দেখলো তনু বিছানায় বসে আছে মীম মলম লাগিয়ে দিচ্ছে
শিশির-একি ওর পায়ে কি হয়সে
মীম-সিঁড়ি থেকে পড়ে গেসে,
শিশির-আমাকে ডাকো নি কেন
তনু-মীম তুমি যাও
মীম চলে গেলো
তনু-ডাকলে আসতেন আপনি?আদৌ আমার কিছু হলে আপনার কিছু যায় আসে,এতবার ডাকসি তাও তো আসলেন না,
শিশিড-,আমি শুনতে পাইনি, পড়ে গেলা কি করে,ঠিক করে হাঁটতে পারো না
তনু-রাইসা ফেলে দিসে আমাকে,আমাদের বাসায় ও সিঁড়ি আছে,জীবনে পড়ি নাই আমি
শিশির উঠে চলে গেলো,গান থামিয়ে দিলো
শিশির-ফুফু তুমি রাইসাকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দাও,আর নইতো mental hospital -এ ভর্তি করিয়ে দাও
ফুফু-কি করসে ও,এসব কেন বলস
শিশির-ও তনুকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিসে,তনু হাঁটতে পর্যন্ত পারতেছে না
মা-সেকি,তনু কই,মা চলে গেলো তনুকে দেখতে
ফুফু রাইসাকে নিয়ে চলে গেলো,
মা-ইস পা ফুলে গেসে মেয়েটার,
শিশির পাশে বসে আছে,তনু মুখ গোমড়া করে আছে,
কোথায় ভাবলো আজ রাত ১২টায় সুন্দর করে শিশিরকে surprise দিবে,তা আর হলো না?
শিশির ওয়াসরুম থেকে এসে দেখলো তনু আলমারি ধরে নিজের জামা নিতেছে
শিশির-এই তুমি খাট থেকে নামসো কেন
তনু-তো কি করবো,বসে থাকবো, আমার so called romantic husband এসে আমাকে শাড়ী পরিয়ে দিবে,নিজের হাতে??
শিশির গিয়ে খাটে বসলো আর কিছু বললো না,তনুর মেজাজ যে গরম তা বুঝা যাচ্ছে,,
তনু-রুমের থেকে যান,আমি বাথরুমে যেতে পারবো না,এখানেই change করবো
শিশির শুনলো না,কানে headphone ছিলো,
তনু-fine,,
তনু শাড়ী change করতে লাগলো,শিশির তাকিয়ে এক প্রকার শক খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো
শিশির-এটা কি,বাথরুমে যেতে পারো না
তনু-কানে কি তুলা দিয়ে রাখসেন,বলসি না আমি যেতে পারবো না,আপনাকে যেতে বলিনি??
শিশির চলে গেলো,
তনু change করে বসে আছে,কচুর plan করবো আমি,মাইয়াটা আমার সব plan এ পানি ঢেলে দিলো,
১১:৩০বাজে,শিশির বারান্দাতে বসে আছে ফোন নিয়ে,
তনু খাটে বসে আছে গালে হাত দিয়ে,?কি করবো??কি করতে পারি আমি???
কান্না পাচ্ছে আমার,জামাইর জন্মদিনে পা মচকে বসে আছি,
তনু আস্তে করে নেমে দেওয়াল ধরে ধরে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো,
শিশির-বসবা?
তনু-হুম,
তনু শিশিরের পাশে গিয়ে বসলো, শিশিরের অনেক frd ই ওকে advance happy birthday জানাচ্ছে,শিশির সেগুলাই দেখতেছে
তনু চাঁদের আলোয় শিশিরের মুখ দেখছে,এমন একটা গিফট দিব,যাতে বাকি গিফট তোমার ছোট মনে হয়,তনু মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে,,
শিশির-কি?কি ভাবতেছো
তনু-নাহ কিছু না
আর ২মিনিট বাকি,,শিশির হাসতেছে ওর frd দের উইস দেখে,আর তনু সময়ের অপেক্ষায় বসে আছে,
হালকা ঠাণ্ডা বাতাস তনুকে আরও ভয় জাগিয়ে দিচ্ছে,,করতাম??যদি রেগে যায়
১মিনিট বাকি,তনুর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতেছে,,,তনু বারবার ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকাচ্ছে,,১০সেকেন্ড বাকি,
তনু-শিশির চৌধুরী???
শিশির তনুর দিকে তাকাতেই তনু শিশিরের গলার পিছনে হাত দিয়ে ওর মুখটা কাছে টেনে এনে ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলো,???
শিশির চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে,??,এটার জন্য শিশির মোটেও প্রস্তুত ছিলো না,
শিশির হাত দিয়ে সরাতে যাবে তনু সেই হাতটা ধরে ফেললো,শিশিরের একটা হাত খালি, শিশির সেটা দিয়ে তনুর চুলের ভিতরে হাত দিয়ে আরও এগিয়ে আনলো তনুকে,,,?
১২টা বেজে গিয়ে ১২:০১বাজে,,
তনু ছেড়ে দিলো শিশিরকে,
দুজনেই চুপ হয়ে বসে আছে কিছুক্ষণ আগে যেটা ঘটেছে সেটা কি ছিলো,তনু লজ্জায় মরে যাচ্ছে
পায়ের জন্য দৌড়ে পালাতেও পারবে না,,
মীম-ভাইয়া কেক রেডি চলে আয়
শিশির উঠে চলে গেলো,
তনু দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো,??যাক success হইসি,এটা কেমনে করসি আমি?????????
কি proud feel হচ্ছে আমার,এক মিনিট,শিশির ও তে ধরলো আমাকে,ধাক্কা দিয়ে সরাতে পারতো,তা করেনি
তনু খুশিতে এক লাফ দিয়ে উঠতেই ব্যাথা পেয়ে পড়ে গেলো
তনু-আচ্ছা এটা সমস্যা না,রাইসাকে পরে দেখে নিব,তুই আমারে সিঁড়ি থেকে ফালাইছস আমি তোরে পাহাড় থেকে ফালামু,
তনু আবার উঠে আস্তে আস্তে গেলো সোফার রুমের দিকে,,শিশির কেকের সামনে বসে আছে,নিচের দিকে তাকিয়ে,বেচারা ও লজ্জা পেয়েছে,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_17
শিশির কেক কেটে মাকে খাইয়ে দিলো,তারপর মীমকে,,
তারপর কেক নিয়ে তনুর দিকে এগিয়ে দিলো,মা আর মীম ঘুমাতে চলে গেলো,তনু দুষ্টুমি করে কেক নিয়ে শিশিরের গালে লাগিয়ে দিয়ে এক দৌড় দিলো,??
শিশির -শয়তান মাইয়া???
শিশির টিসু নিয়ে মুছতে মুছতে রুমে গেলো,তনু খাটে বসে আছে,আরেকদিকে ফিরে,
শিশির এসে বসলো,দুজনেই চুপ,
শিশির-অনেক রাত হয়সে ঘুমিয়ে পড়ো,
শিশির শুয়ে পড়লো,
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে বসে আছে,,কিছুক্ষণ পর♥
শিশির-কিছু বলবা?(চোখ বন্ধ করে)
তনু-না, না?,ঘুমান নি?
শিশির-এভাবে তাকিয়ে থাকলে ঘুমাবো কি করে
তনু শুয়ে পড়লো,,
পরেরদিন ♥
তনু তাড়াতাড়ি উঠেই রান্নাঘরে চলে গেলো,,
বুয়া এসেছে,,তনু সব করলো বুয়া help করলো,,শিশির ঘুম থেকে উঠেই পাশে তাকালো,তনু নেই,মনে হয় রান্নাঘরে,শিশির রেডি হয়ে বের হলো,মা আর মীম খাচ্ছে
মা-আয় শিশির বস
শিশির বসলো,,তনু বারবার মুচকি হাসতেছে,হাসবেই না কেন,কাল রাতের কথা শুধু মনে পড়তেছে ওর
তনুর হাসি দেখে শিশিরের বুঝতে বাকি রইলো না যে তনু কেন হাসতেছে,,
মা গেলো টিভি দেখতে আর মীম রুমে চলে গেলো
শিশির-এই মেয়ে হাসা বন্ধ করো বলতেছি
তনু-সরি?
শিশির আড়চোখে তাকিয়ে চলে গেলো,
তনু বারান্দা দিয়ে তাকিয়ে রইলো যতক্ষন শিশিরের গাড়ী দেখা যায়
মা-কিরে আমার ছেলেকে দেখছিস
তনু-না মানে?
মা-বুঝি,,,তা এবার বল ঐ মেয়েকে বিদায় করছস কেমনে
তনু বসে পুরো ঘটনা বললো মা তো হাসতে হাসতে শেষ,,
মা-ধর
তনু-কি এটা
মা-এটা আমাকে শিশিরের দাদি দিসে,বৌভাতে পড়ার জন্য,আমি সেদিন আনতে ভুলে গেসিলাম,তুই আজ পরিস,,
তনু-মা এটা তো অনেক ভারী
মা-হ্যাঁ আমার ও পড়তে কষ্ট হয়সে তবে বেশি পড়তে হবে না,নিয়ম রক্ষায় ২ঘন্টা পড়ায় রাখলেই হবে,বেশি সমস্যা হলে পড়িস না থাক,,
তনু-নাহ পড়বো?
মা-আচ্ছা☺?
মা-শোন বাসায় থেকে কি করবো চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি,,
তনু-আচ্ছা চলো,
তনু মীম আর মা বের হলো,,শপিংমলে আসলো মা শাড়ী দেখতেছে আর তনু মীমকে জামা চয়েস করে দিচ্ছে,,
কেনাকাটা শেষে খেতে গেলো ৩জনে একটা restaurant এ,
তনু হঠাৎ খেয়াল করলো ওর দিকে কেউ তাকিয়ে আছে, সামনে চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো তন্ময়,, তনুর ভয়ে গলা শুকিয়ে গেসে,,মা আর মীমকে যে বলবে তার ও উপায় নেই
মা-কিরে তনু চুপ হয়ে গেলি কেন
তনু-নাহ,এমনি
তন্ময় আজ কিছু করবে না কারন তার আজকের task হচ্ছে তনুদের বাসা চেনা,,
তনু হঠাৎ দেখলো তন্ময় উধাও,শান্তির নিশ্বাস ফেলে বাসায় চলে এলো সবাই,,তন্ময় যে ওরে ফলো করসে তা টের পায়নি তনু
তনু শিশিরের জন্য একটা t-shirt নিয়েছে,
তনু-আচ্ছা তন্ময়ের ব্যাপারটা কি শিশিরকে বলে দিব,,নাহ থাক
বিকালে শিশির বাসায় আসলো,,
মা-শিশির তনুকে নিয়ে ঘুরে আয় যা
শিশির-তোমরা সহ চলো
মা-নাহ রে আমরা গিয়ে ঘুরে আসছি,,তুই তনুকে নিয়ে যা,
শিশির তনুকে নিয়ে লং drive এ গেলো,,অনেকদূরে একটা খোলামেলা জায়গায় গেলো,তনুর মন খারাপ,না জানি এখানেও এসে পড়ে
শিশির-কি হয়সে তোমার?
তনু-নাহ কিছু না,
শিশির -কিছু তো হয়সে,কারন যে মেয়ে সারাদিন বকবক করে সে কিনা এত চুপ হয়ে গেলো,
তনু-না এমনিতেই
বাসায় এসে শাড়ীটা হাতে নিলো তনু,,ঘুরে এসে হালকা লাগতেছে,,শাড়ী নিয়ে পরে আসলো,,ভারী খুব হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে,,
শিশির বারান্দা থেকে এসে দেখলো তনু দাঁড়িয়ে আছে শাড়ীটা পড়ে,,তারপর শিশিরকে দেখে ওর দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পা বারাতেই পড়ে যেতে নিলো শিশির ধরে ফেললো
শিশির -এত ভারী শাড়ী পরার কি দরকার
তনু-আসলে এটা মা দিসিলো,আপনার দাদির শাড়ী,,
শিশির-ওও,বাহ বেশ লাগছে আমার দাদির মতন?
তনু-?আমি দাদি??
শিশির-সেরকমইতো লাগতেছে,,
তনু শিশিরের হাতে কামড় বসিয়ে দিলো
শিশির -আউচচ,শয়তান মাইয়া?
দুজনেই চুপ হয়ে একে ওপেরর দিকে তাকিয়ে আছে,,তনু এগিয়ে যেতেই হঠাৎ শিশির কি যেন ভেবে তনুকে ছেড়ে চলে গেলে
তনু ও আর বেশি ভাবলো না,,মাকে সালাম করে এসে শাড়ীটা change করে ফেললো,,
পরেরদিন মা আর মীমকে শিশির গাড়ীতে উঠিয়ে দিয়ে আসলো,মীমের পরীক্ষা তাই চলে গেসে তারা,,
শিশির তনুকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলো আজ সে তাড়াতাড়ি বাসায় আসবে,,
তনু সুন্দর করে সাজলো,,শিশিরকে পাগল করে দিব আজকে???
বুয়াকে ছুটি দিয়ে দিলো তনু,,বসে আছে সেই কখন থেকে শিশিরের জন্য,,,
শিশিরের একটা কাজ এসে পড়ায় আর আসতে পারলো না,এতটাই বিজি যে ফোন করে বলেও দিতে পারলো না,
তন্ময় সকাল থেকে খেয়াল করলো যে সবাই চলে গেসে তার মানে তনু একা,,
কলিংবেল বাজতেই তনু উঠে দৌড়ে গেলো,,দরজায় গিয়ে দেখলো ও না যে কে এসেছে,,গিয়েই দরজা খুলে দিলো,
একটা লোক ঐদিকে ফিরে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
তনু-কে?
তন্ময় ফিরে তাকালো
তনু-তততততুমমমমি
তন্ময় ভিতরে ঢুকে গেলো,
তনু-চলে যাও এখান থেকে
তন্ময় -বাহ বাসাটা জোস তো,,সুন্দর করে সাজিয়েছো,তা কেমন চলে তোমার সংসার?নিশ্চয় খুব ভালো?
তনু কি করবে,,বুয়াও নেই,,তনু আস্তে করে বাসা থেকে বের হতে যাবে তন্ময় হাত ধরে ফেললো,
তন্ময় -মাত্রই তো আসলাম,এখনই যাচ্ছ?
তনু-কি চাও তুমি
তন্ময় -তোমাকে,চলো আমার সাথে,শিশিরের চাইতেও অনেক সুখে রাখবো
তনু-চলে যাও এখান থেকে
তন্ময় -যাবা না আমার সাথে?এটা বলেই তন্ময় তনুর দিকে তাকিয়ে দেখতেছে,,পা থেকে মাথা পর্যন্ত।
তনু ফোন খুঁজে শিশিরকে কল দিতে যাবে তন্ময় হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো,
তনু নিচে বসে পড়লো,
তনু-প্লিস চলে যাও এখান থেকে
তন্ময় তনুর হাত চেপে ধরে উঠালো,,এসব ছুঁয়েছে শিশির??
তনু-কেউ আছো!!!
তন্ময় তনুর মুখ চেপে ধরলো,
তন্ময় -shhhhhhh
তন্ময় তনুর ঘাড়ের দিকে মুখ নিতেই তনু চড় মেরে দিলো
তন্ময় -তুমি আমাকে চড় মারলা??আমাকে.??
তনু-বেরিয়ে যাও.
তন্ময় তনুকে ছুড়ে মারলো নিচে,,
নিচে পড়ে তনুর হাতের প্রত্যেকটা চুড়ি ভেঙে হাত অনেকটা কাটা গেলো,
তন্ময় -ইস রে এটা কি হলো,শিশিরের বউয়ের হাত কাটা গেলো,কিন্তু শিশির কই??বাঁচাবে না তোমাকে??
তন্ময় তনুর গায়ে হাত দিতে যাবে ওর হাত আটকে গেলো,তাকিয়ে দেখলো শিশির দাঁড়িয়ে আছে,আর তন্ময়ের হাত ধরে আছে,,একটা থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দিলো শিশির,,তারপর মারা শুরু করলো,পাশের ফ্ল্যাটের অনেকেই ছুটে আসলো,,Mr.তমাল এসে আটকালো শিশিরকে,,তন্ময় নাকের রক্ত মুছতে মুছতে চলে গেলো,শিশির তনুর কাছে গিয়ে ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,,
তনু-আমি আমি আসলে
শিশির-চুপ
শিশির তনুকে উঠিয়ে সোফায় বসালো,,তনুর হাতের ভিতর কাঁচ ঢুকে গেসে,
শিশির-চলো ফার্মেসিতে গিয়ে এটা ক্লিন করতে হবে তা না হলে infection হয়ে যাবে,চলো
তনু-আমি কোথাও যাব না
শিশির-সে আর কোনদিন আসবে না,আসলেও সে তোমার কিছু করতে পারবে না কথা দিলাম,
কথাগুলো শিশির তনুর হাত ধরে বললো,,
তনু-একটা কথা বলবো
শিশির-বলো
তনু-আবার জড়িয়ে ধরুন না আমাকে
তনুর কথা শুনে শিশির হেসে দিলো,
শিশির-আচ্ছা তোমারে জন্মের পর কি খাওয়াইসিলো??হাতে কাঁচ আটকে আছে,রক্ত বের হচ্ছে,,আর তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরা নিয়ে পড়ে আছো
তনু-ধরলে ব্যাথাটা কমে যায়☺
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_18
শিশির গিয়ে ফার্মেসীর একটা লোক এনে কাঁচ গুলা উঠালো তনুর হাত থেকে,তনু শুধু শিশিরের দিকে তাকিয়ে ছিলো,,
শিশিরের মনে আছে নাতাশা একবার পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়ে সারাদিন চিল্লাইসে,আর এ মেয়ে দেখি তার উল্টা ?
শিশির দরজা লাগিয়ে ভিতরে ঢুকতেই তনু শিশিরের গলা জড়িয়ে ধরলো
শিশির-এটা কি আবার
তনু-কোলে তুলুন
শিশির-পারবো না
তনু-নিন না
শিশির চলে গেলো
তনু-এই
শিশির-কি?
তনু-আমাকে কেমন লাগছে??
শিশির তাকালো তনুর দিকে,ফকিন্নির মতন লাগতেছে
তনু-??????
মা কল দিলো
মা-হ্যালো শিশির,আমরা বাসায় পৌঁছে গেসি,,
শিশির-ওকে
মা-বালিশের নিচে চেক কর
শিশির-কি?শিশির গিয়ে বালিশ উঠিয়ে দেখলো একটা খাম,,৪দিন ৪রাত কক্সবাজার হোটেল টিউলিপে stay করার টিকিট,,
মা-তোর জন্মদিনের গিফট,,
শিশির-আমার অনেক কাজ আমি যেতে পারবো না
মা লাইন কেটে দিলো,
তনু উঁকি মেরে মেরে দেখতেছে শিশিরের হাতে ওটা কি,,তারপর আস্তে গিয়ে শিশিরের হাত থেকে খামটা নিয়ে দেখলো টিকিট
তনু দাঁত বের করে হেসে শিশিরের দিকে তাকালো
শিশির-impossible!!
শিশির চলে গেলো
তনু আলমারি খুলে জামাকাপড় সব বের করে গুছিয়ে নিলো,,
শিশির আবার রুমে আসতেই অবাক,তার বউ লিপ্সস্টিক আইব্রু দিয়ে নায়িকা সেজে বসে আছে???
শিশির-কি এসব কি
তনু-আমরা ঘুরতে যাব না
শিশির-কে বলসে তোমারে যে আমরা যাব
তনু-টিকিট বলসে আর কে,ডেট দেখেন না,আজ রাতেই বের হতে হবে
শিশির-যাব না আমি,শিশির ল্যাপটপ নিয়ে বসলো,
তনু কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চলে গেলো,
৫টা বাজে তনুর কোনো খবর নেই শিশির রুম থেকে বেরিয়ে তনুকে খুঁজতে লাগলো,মেইন দরজা খোলা একা কোথাও চলে যায়নি তো??
শিশির বের হতেই দেখলো মিঃ তমালের স্ত্রী ছাদ থেকে নামতেছে
উনি শিশিরকে বললো তনু ছাদে
শিশির ছাদে চলে গেলো,,তনু দাঁড়িয়ে আছে এক কোণে
শিশির-বাসায় চলো
তনু-আপনি যান,আমি পরে যাব
শিশির চলে গেলো,,৭টা বাজে তনুর খবর নেই,
শিশির রেডি হয়ে ব্যাগ নিয়ে গাড়ীতে রাখলো,,তারপর গাড়ী নিয়ে রোডে বেরিয়ে জোরে জোরে হর্ন বাজাতে থাকলো,
তনু চাঁদ দেখতেছিলো,চোখ নামিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখলো শিশিরের গাড়ী,হর্ন বাজাচ্ছে
তনু মুচকি হেসে দৌড় দিলো,গিয়ে গাড়ীতে বসলো
শিশির-কি?এবার খুশি??তুমি আর আম্মু আমাকে আমার অফিস থেকে বের করিয়ে ছাড়বা
তনু তো আনন্দে শেষ,,
১০টার দিকে ঘুমিয়ে গেলো তনু,,জানালার কাঁচের মধ্যে হেলান দিয়েই,,শিশির একবার তাকালো ভাবলো টেনে নিজের কাঁধে নিয়ে আসবে পরে ভাবলো তনু পাগল হয়ে যাবে,,থাক এমনি থাক,
শিশিরের চোখ লেগে আসতেছে,,গাড়ী থামালো,কোথাও দোকান খোলা থাকলে চা খাওয়া যেতো,,
শিশির গাড়ী লক করে বের হলো,,সব দোকান বন্ধ,,তনু উঠে গেলো,,শিশিরকে ইশারা করলে শিশির দরজার লক খুলে দিলো
শিশির-উঠলা কেন
তনু-চা খাবেন নাকি?
শিশির-হুম,কিন্তু দোকান সব অফ
কয়েকটা ছেলে হেঁটে যাচ্ছিলো,
একজন থেমে শিশিরকে বললো কি চাই,শিশির বললো চায়ের দোকান খুঁজতেছে
ছেলেটি বললো তাদের বাসায় যেতে তার মা বানিয়ে দিবে,,
শিশির-না থাক
ছেলেটি এক প্রকার জোর করলো, বললো তাদের বাসা কাছেই
শিশির চাপে পড়ে রাজি হলো,তনুর হাত ধরে হাঁটা ধরলো,ছেলেগুলো সামনে আর তনু শিশির পিছন পিছন,একটা বাজারের উপর দিয়ে যাচ্ছে তারা,সব দোকান বন্ধ,হঠাৎ তনু শিশিরের হাত ধরে টান দিয়ে একটা দোকানের ফাঁকে নিয়ে গেলো,শিশির কিছু বলতে যাবে ওর মুখ চেপে ধরলো,
তনু-চুপ
ছেলেগুলা ওদের খুঁজতে লাগলো
একটা ছেলে বললো ধুর মালটা হাত থেকে পালালো,
আরেকজন বললো আর একটুর জন্য হারাইলাম কই গেলো,,এত সুন্দর জিনিস হারিয়ে ফেললো,তোরা একটু খেয়াল করতে পারস নাই
শিশির তো ওদের কথা শুনে অবাক,,তনু শিশিরের এতটাই কাছে ওর মুখের আশেপাশের চুল শিশিরের মুখের সাথে লেগে আছে,শিশির তনুকে দেখছে আর তনু ছেলেগুলোর উপর নজর রাখতেছে
ছেলেগুলা কিছুক্ষন পর চলে গেলো,,
শিশির-তুমি জানলা কি করে যে ওদের মনে এসব আছে
তনু-একটা সেলুনের দোকানের আয়না দোকানের বাইরে রাখা ছিলো,,আয়নায় দেখসি সামনের ছেলেগুলো শয়তানের মত হাসতেছে একে অপরের দিকে তাকিয়ে
শিশির-বাপরে কি বুদ্ধি
তনু-???
শিশির-চলো যাই
তনু-আরে না,এখন ওরা আমাদের গাড়ীর আশেপাশে আছে,,
৩০মিনিট ধরে শিশির আর তনু দোকানের পিছনে একটা গাছের গুড়ির উপর বসে ছিলো,,
তারপর আস্তে আস্তে লুকিয়ে গাড়ীর চারপাশ দেখলো দুজনেই চুপিচুপি গাড়ীতে বসতেই ছেলেগুলো কোথা থেকে এসে হাজির হলো একটা ছেলের গাড়ীর ভিতরে হাত দিয়ে তনুকে ধরতে গেলো তনু সরে যেতেই ওর ওড়নাটা টাচ করতে পারলো সেটা টেনে নিয়ে নিলো,
শিশির speed বাড়িয়ে গাড়ী চালিয়ে চলে গেলো,
শিশির-তনু তুমি ঠিক আছো?
তনু-?আমার এত স্বাদের ওড়নাটা???????
শিশির-নতুন কিনে দিব,
তনু-আমি কি এমনই থাকবো??ওড়না তো ব্যাগে
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দিয়ে ওর চুলের থেকে রাবার ব্যান্ড খুলে ফেললো,
শিশির-চুলই যথেষ্ট ?
তনু-বাহ,কিন্তু চা??
শিশির-একটা গান গাও ঘুম থামবে
তনু-ওকে,,ঘুম থামার জন্য তো,ওয়েটট
তনু গলা ঠিক করে গান ধরলো
Who let the dogs out ✌?????
Who!?Who?!who?????????????
শিশির-আল্লাহ! চুপ?????
তনু-কি হয়সে?
শিশির-এইডা একটা গান হইলো??
তনু-ঘুম যাতে না আসে তাই গাইলাম আমার কি দোষ?
শিশির-সুন্দর দেখে গান গাও
তনু-ওকে ওয়েট
Iss Tarah Se Khudse Aa Mujhko Jor Tu
Thoda Bhi Mujhme Na Mujhko ChorTu
Na Yaad Teri Tujhko
Na Yaad Mujhe Hoon Main
Aa Mujhko Pehan Le Tu
Aa Tujhko Odh Loon Main
Katra Katra Main Girun
Jism Pe Tere Theharun
Katra Katra Main Girun
Tujh Mein Hi Kahin Reh Lun??
শিশির-আল্লাহ তুমি এই মেয়েকে হেদায়াত দান করো,এর উপর রহমত দান করো
তনু-??????হুহ
দুজনে কথা বলতে বলতে হোটেলে এসে পড়লো,,
তনু রিসিপশানে গিয়ে দাঁড়ালো শিশির কিছু বলতে যাবে
তনু -ঐ যে বিচ দেখা যায় ঐ সাইড দেখে রুম দিবেন
ম্যানেজার -ওকে ম্যাম cost tk 7k,,,,,,,,, এটা বলার আগেই শিশির ইশারা করলো যাতে না বলে
তনু-তাহলে চলুন,,
শিশির -টাকা নিয়ে সমস্যা নেই শুধু ওর সামনে বলিয়েন না,,এটা শুনলে এখানে আর থাকবে না,,
ম্যানেজার -ওকে স্যার
তনু তো রুমে গিয়ে সে কি খুশি,,
শিশির-আগে আসো নি?
তনু-২বার আসছি,কিন্তু এই হোটেলে আসা হয়নি
শিশির-এখন তো আসা হলো,
আমি অনেক tired?
শিশির গিয়ে খাটে শুয়ে পড়লো,তনু বাইরেটা ভালো করে দেখতেছে,,
কিছুক্ষণ পর
আল্লাহ গো!!??????????????
শিশির-কি হয়সে কি হয়সে???
তনু নিচে বসে আছে
তনু-জানেন এই হোটেলে নাকি ৭হাজার টাকা fee দিতে হয়
শিশির-ও,তো?
তনু-তো???এত টাকা?
শিশির-উফ তনু ঘুমাতে দাও আমাকে
শিশির ঘুমিয়ে পড়লো,তনু নিজের হাতে নিজে চিমটি কেটে উঠে দাঁড়ালো,তারপর শিশিরের মানি ব্যাগটা খুঁজে বের করে দেখলো কোনো টাকা নেই,তনু আরেক চিৎকার দিলো
শিশির-কি হয়সে আবার
তনু-খাবো কি,বিল দিব কি? টাকা দেখি কিছু নাই
শিশির-মারে,, আমার কার্ড আছে,ATM থেকে তুলে বিল দিব,ঘুমাতে দাও আমাকে,আর একবার জাগালে জানালা দিয়ে ফেলে দিব তোমাকে
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_13/14/15

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_13/14/15
Writer-Afnan Lara

দুজনেই বাসায় ঢুকে হাঁপিয়ে গেসে,,হঠাৎ করে দুজনেই হেসে দিলো,তনু হাসতে হাসতে শিশিরের গায়ে ঢলে পড়লো
শিশির-এই সরো,
শিশির তনুকে সরিয়ে দিলো
তনু-মাথা থেকে তোমার বাতাসা আমি বের করবো, আগে প্রমান জোগাড় করতে হবে,
শিশির তোয়ালে নিয়ে মাথা মুছতেছে,,তনু হা করে তাকিয়ে আছে
শিশির-আচ্ছা তোমার আর কাজ নেই
তনু ভেংচি দিয়ে চলে গেলো,,
শিশির নিজের রুমে বসে ফোন দেখতেছে,কারেন্ট চলে গেলো,৫মিনিট পরই তনু রুমে ঢুকলো,,মুখে শয়তানি হাসি,,বাইরে ব্জ্রপাত,, তনু দরজা লাগালো
শিশির আড় চোখে তাকালো,তারপর আবার নিজের কাজে মন দিলো
তনু গিয়ে শিশিরের গা ঘেঁষে বসলো,
শিশির -বুয়ায়ায়ায়ায়ায়,এক কাপ কফি দাও
তনু শিশিরের চুল ঠিক করতে করতে বললো আজ আমি বুয়াকে ছুটি দিয়ে দিসি
শিশির-কিহ?কেন
তনু-Romance করবো তাই
শিশির-পাগল হয়সো তুমি,সরো
তনু শিশিরের হাত জড়িয়ে ধরলো,ওর কাঁধে মাথা রাখলো
শিশির-সরো আমার অসহ্য লাগতেছে
তনু-উহু
শিশির অনেক কষ্টে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো
তনু-মনের ভিতরে feelings teelings?নাই?নাকি??
শিশির-আছে,তা তোমার জন্য না
তনু-আছে তাহলে ওটা আমার জন্য আমি আদায় করে নিব
শিশির-পারবা না
তনু-যদি পারি
শিশির-অসম্ভব,
শিশির দরজা খুলে চলে গেলো,
তনু পিছন পিছন গেলো,,অন্ধকারে পিলারকে শিশির মনে করে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে তনু ভয় পেয়ে চিৎকার দিলো,তারপর আর কি নিচে পড়ে গেলো
শিশির ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে দেখলো তনু বোকার মতন নিচে বসে পা ধরে তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে
শিশির-একদম ঠিক হয়সে,
তনু-ভয় পাইসি আমি,
শিশির-তা তো দেখতে পারতেছি,
শিশির তনুকে উঠানোর জন্য হাত বাড়াতেই তনু ও একটান দিলো
শিশির গিয়ে পড়লো তনুর উপর,এই সুযোগে মিসেস তনু তার বরের গালে চুমু দিয়ে দিলো,শিশিরের হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়াই অন্ধকারে কি করবে কিছুই বুঝতেছে না
তনু উঠে এক দৌড় দিতে যাবে শিশির তনুর আঁচল ধরে ফেললো
তনু থেমে গিয়ে তাকালো শিশিরের দিকে
শিশির ফোন হাতে নিয়ে তনুর মুখের দিকে আলো ধরলো,তনু এক হাত দিয়ে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে।
শিশির-তখন কি করলা এটা
তনু-কই
শিশির-চুমু
তনু -আসলে আপনি হঠাৎ পড়লেন তো বুঝে উঠতে পারিনি,,গালটা নরম লাগসে তাই দিলাম?
শিশির-আর একদিন এমন করবা তো তোমারে মারতে মারতে আম্মুর কাছে নিয়ে যাব
তনু-গিয়ে কি বলবেন,বউ আপনাকে চুমু দিসে
শিশির-সরো,
শিশির উঠে চলে গেলো
তনু-????
শিশির ল্যাপটপ নিয়ে একটা মুভি দেখতেছে,,ভূতের film,,ভাবসে তনু ভয়ে কাছে আসবে না,ওমা তনু তো ভূতের film বলতে অজ্ঞান,তনু গিয়ে দেখতেছে পাশে বসে
শিশির-তোমার ভয় করতেছে না
তনু-না কেন
শিশির-ওও,গুড
ভূত আসতেই তনু শিশিরের শার্ট শক্ত করে ধরলো,,তারপর বার বার ঢোক গিলছে
শিশির পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো
তনু-কেমন স্বামী আপনি,মুভি দেখার সময় কেউ পানি খায়??চিপস,পপকর্ন, কোক এসব তো আনতে পারেন নাকি
শিশির-????
শিশির Foodpanda থেকে খাবার order করে আনলো,,
তনু খাচ্ছে আর মুভি দেখতেছে,
শিশির তনুর খাওয়া দেখে ওর পেট ভরে গেসে,
তনু এক কামড় দিয়ে বাকিটা শিশিরকে দিলো,হুম খান
শিশির-No thanks,আপনি খান
তনু-ওকে,
শিশির মুভি দেখা শেষে তাকিয়ে দেখলো তনু শিশিরের কাঁধেই ঘুমিয়ে গেসে,
শিশির আস্তে করে ওরে শুইয়ে দিয়ে উঠে গেলো,,
রাত ৯টা♥
তনু উঠে দেখলো শিশির নেই,
তনু-আবার বাতাসাকে দেখতে যাইনি তো
তনু খাট থেকে নেমেই দেখলো শিশিরের হাত দেখা যাচ্ছে বারান্দায়,তনু পা টিপে টিপে দেখতে গেলো,শিশির গাছ দেখতেছে ধরে ধরে
তনু-আল্লাহ গো এত কিউট কেমনে হয়,আমার মাথা ঘুরাচ্ছে,,
শিশির গান গাইতেছে♥
সরি দীপান্বিতা
সময় যখন মরুর ঝড়ে,
এ মন হারায় কেমন করে,
আমি তখন যোজন দূরে,
একাকি সঙ্গি মৌনতা,
আকাশ যখন আঁধার ভীষণ,
এক ফোঁটা জল চেয়েছে মন,
অবহেলায় অপমানে পেয়েছে রিক্ত শুন্যতা
সমান্তরাল পথের বাকে,
তোমার পথের দিশায় থাকে,
সে দিশা খোঁজে তোমাকে দীপান্বিতা …
গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে,
তোমার ছোঁয়া মিশে থাকে,
সে ছোঁয়া খোঁজে তোমাকে দীপান্বিতা…
তুমি নীলাকাশ আপন করেছো
হঠাৎ কোন কালে কে জানে!
স্বপ্ন সীমানা ছুঁয়ে দিয়েছ
কোন সে জাদুতে কে জানে!
আমি ছিলাম তোমার পাশে,
তোমার আকাশ ভালবেসে,
সে বিশালে খুঁজেছি একটুকু ঠাই,
তাও মেলেনি তা,
হঠাৎ যখন ছুটির খেলা,
মেঘে মেঘে অনেক বেলা,
তখন সে ক্রান্তিকালে
ধুম্রজালে খুঁজছ যে বৃথা
অশান্ত মন বোঝাই কাকে,
হারিয়ে চাইছি তোমাকে,
হাতছানি দিয়ে যে ডাকে স্মৃতির পাতা…
নদীর শেষে আকাশ নীলে,
স্বপ্নগুলো মেলে দিলে,
তারা বলে সবাই মিলে,
দীপান্বিতা…
শোননা রূপসী,
তনু-হ্যাঁ গো বলো
শিশির অবাক হয়ে পিছনে তাকালো,তনু হেলান দিয়ে তাকিয়ে আছে
শিশির-?
তনু-এত সুন্দর গান ও গাইতে পারেন?
তনু এটা বলেই অজ্ঞান হয়ে গেলো,শিশির ধরে ফেললো,
শিশির তনুকে এক হাত দিয়ে ধরে রেখে তনুর চুল ঠিক করতেছে,,আর মুচকি হাসতেছে,এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করে এনেছি যে আমাতে মুগ্ধ হয়ে বারবার জ্ঞান হারায়,,
তনু-তাহলে ভাবেন আমি কত লাভ করি আপনাকে,
শিশির আচমকা তনুর কথা শুনে তনুকে ছেড়ে দিলো আর তনু নিচে পড়ে গেলো
তনু-আউচ,আমি আম্মুর কাছে বিচার দিব আপনার নামে
শিশির-ভান করতেছিলা
তনু-না seriously অজ্ঞান হয়সিলাম,আপনার টাচে জ্ঞান ফিরসে,
শিশির চলে যেতে নিলো তনু পা ধরে ফেললো
শিশির-আবার কি
তনু-গানটা কার জন্য ছিলো,ঐ মরা কাতল মাছের জন্য না তো?
শিশির-মরা কাতল মাছ কে আবার
তনু-বাতাসা আর কে
শিশির-তুমি ওরে নিয়ে আর একটাও উল্টা পাল্টা কথা বলবা না একদম
শিশির সোফার রুমে গিয়ে মোমবাতি খুঁজতেছে,কারন ফোনের চার্জ কমে আসছে,
তনু আস্তে করে শিশিরের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো,,
শিশির মোম বাতি জ্বালিয়ে পিছন ফিরতেই তনুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলো,গিয়ে সোফায় পড়লো
তনু-আরে কি হলো কি,পড়লেন কেন,আহারে আমি তো জড়িয়ে ধরার জন্য এসেছিলাম,মোমবাতি টাও নিভে গেলো কিছু দেখতেছি না
শিশির উঠে তনুর মুখ চেপে ধরলো
অন্ধকারে তনুর চুড়ির আওয়াজেই বুঝতে পেরেছে তনুর অবস্থান,
শিশির-সারাদিন বকবক বকবক,চুপ থাকতে পারো না,
তনু-উহু
তনু শিশিরের জামার ভিতরে হাত দিয়ে পেটে চিমটি কাটলো
শিশির চিৎকারর দিয়ে ছেড়ে দিলো
তনু-????
শিশির-অসভ্য বেহায়া মেয়ে,
তনু-জানি জানি
কারেন্ট চলে আসলো,,শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে দেখলো তনু কোমড়ে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে,এতক্ষন এই বেশে কথা বলতেছিলো নাকি
তনু-হুহ
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_14
শিশির চলে গেলো,,
তনু টেবিলে খাবার আনতে লাগলো,,
শিশিরের ফোনে কল আসলো,নাতাশার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে,,
শিশির-আমি এখন কি করবো,,তনুকে একা রেখে যাব?এত রাতে,,
শিশির-তনু
তনু-হুম,আসুন খাবার রেডি
শিশির-নাতাশাকে দেখতে যাব,তুমি আমার সাথে চলো, তোমাকে একা রেখে যাব না,
তনু খুশি হয়ে রেডি হয়ে নিলো
শিশির হসপিটালে এসে তনুকে বাইরে বসতে বলে নিজে ঢুকলো,Doctor শিশিরকে কিছু ঔষুধ আনতে বললো,শিশির যাওয়ার সময় তনুকে ইশারা করে বললো যাতে এখানেই বসে থাকে,
তনু-একবার দেখি মরা কাতল মাছটা কি করে, উঁকি মেরে যা দেখলো তনু তার জন্য প্রুস্তুত ছিলো না,নাতাশা বসে মায়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলতেছে,
তনু-চিটার,শিশিরকে বুঝাবো কি করে,,ফোন ও তো আনি নাই,,
তনু দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলো,,নাতাশা সাথে সাথে শুয়ে ঘুমানোর ভান করলো
তনু-এই মেয়ে আর নাটক করতে হবে না,সব দেখে ফেলসি আমি,
শিশির তখনই আসলো
শিশির-তনু,!!!
শিশির তনুর হাত ধরে রুম থেকে নিয়ে এলো,,চুপচাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকো
তনু-আরে শুনুন
শিশির ভিতরে চলে গেলো,
নাতাশার মা বললো তুমি তনুকে এখানে না আনলেও পারতা,,নাতাশা তোমার বউকে দেখে কষ্ট পাবে,,হয়ত পাচ্ছেও,,
শিশির-সরি,আমি বুঝতে পারিনি
শিশির রুম থেকে বেরিয়ে তনুর হাত ধরে নিয়ে গেলো
শিশির রাগে ফেটে যাচ্ছে,,
তনু-নাতাশা নাটক করতেছে,,আমি জানালা দিয়ে দেখেছি ও বসে ওর মায়ের সাথে কথা বলতেছিলো,,
শিশির-just shut up!তোমার নিরাপত্তার জন্য আমি তোমাকে এনেছি আর তুমি কি করলে,ভিতরে ঢুকতে মানা করসিলাম না আমি,,নাতাশার যদি কোনো ক্ষতি হয় তোমার জন্য আমি তোমাকে ছাড়বো না,
তনু-কি বললেন,আপনার এত বড় সাহস আপনি আমাকে ঐ সামান্য মেয়ের জন্য এত কথা শুনালেন,আমি আগামী ২দিনের মধ্যে প্রমান করে দিব এই মেয়েটা মিথ্যা কথা বলতেছে,আর আমি সত্যি বলছি
শিশির-তা অসম্ভব,,
শিশির গিয়ে গাড়ীতে বসলো
তনু-যাব না আমি আপনার সাথে
তনু সামনে হাঁটা ধরলো,,
শিশির গাড়ী থেকে বেরিয়ে দেখলো তনু চলে যাচ্ছে,
শিশির-ফাইন যাও!রাতের ভূতে তোমাকে খাবে চিবিয়ে
তনু হাঁটতে হাঁটতে একটা পার্কে এসে বসলো,চুপ হয়ে বসে আছে,,রাগে হচ্ছে, ঐ মেয়েটার জন্য আমাকে এত কথা বললো,আজ ফোন হাতে থাকলে এইদিন আমাকে দেখতে হতো না,
একটা হাত এসে তনুর হাতের উপর রাখলো,তনু শিশির ভেবে খুশি হয়ে তাকালো,কিন্তু মূহুর্তেই তনুর মুখ ভয়ে চুপসে গেলো,
তনু-তুমি
তন্ময় -তুমি?এখানে??জানতা যে আমি আসতেছি??
জানো আমি মাত্র যাচ্ছিলাম বাসায় আর রোডে তোমায় দেখলাম,,তুমি আসলা কি করে এখানে?এত রাতে
তনু উঠে দাঁড়ালো
তনু-চলে যাও এখান থেকে,
তনু পিছিয়ে হাঁটা ধরলো
তন্ময় গিয়ে সামনে দাঁড়ালো,,কোথায় যাও তোমার future তো তোমার সামনে
তনু-আমার সামনে থেকে সরো
তন্ময়-আমার সাথে চলো তাহলে
তন্ময় তনুর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো,
তনু শিশিরকে ডাকতে যাবে ওর মনে হলো শিশির নামটা শুনলে তন্ময় জেনে যাবে তনুর বিয়ে হয়সে আর শিশিরের ক্ষতি করার আগে দুবার ভাববে না
তনু কি করবে বুঝতেছে না,, যেতে যেতে হঠাৎ তন্ময় আর তনুর হাতের মাঝখান দিয়ে শিশির ধরে তনুকে টান দিয়ে নিয়ে নিজের কাছে নিয়ে এলো
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে ভাবতেছে কেন আসলো শিশির,,তন্ময় যে কতটা dangerous তা শিশির জানে না,তনুর ভয়ে মুখটা অন্ধকার হয়ে আসতেছে
শিশির-কে তুমি?ওর হাত ধরে কই নিয়ে যাচ্ছো??আর তনু তুমি ওর সাথে যাচ্ছো কেন?
তনু-বাসায় যাব
শিশির-ও তোমাকে বাসায় দিয়ে আসবে?
তন্ময়-এক মিনিট,তুমি কে?
শিশির-আমি ওর husband
শিশির তনুর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো
তনু-ইস যেটার ভয় পেয়েছি সেটাই বলে দিলো
তন্ময়-তনু বিয়ে করেছে??!!!!
তনু ভয়ে পিছনে তাকাচ্ছে না,,গাড়ীতে চুপপ হয়ে বসে আছে
শিশির-ঐ ছেলেটাকে চিনো তুমি?
তনু-না মানে হ্যা্ঁ
শিশির-আচ্ছা বুঝছি বলতে হবে না,সবারই অতীত থাকে
তনু-এক মিনিট,অতীত মানে??আমি আপনার মতন second hand না,পিউর ভার্জিন আমি,কোনো ছেলে আজ পর্যন্ত আমার সাথে প্রেম করতে পারেনি,আমি সুযোগ দিই নাই,আর এই ছেলেটা আমাকে disturb করতো
শিশির-হ্যাঁ তাই তো চুপচাপ ওর সাথে চলে যাচ্ছিলা
তনু-নাহ,আপনার নাম বললে ও যদি আপনার ক্ষতি করতো,তাই
শিশির -আর কি বললে আমি second hand?আমি আজ পর্যন্ত নাতাশাকে কিস করিনি,even চুমু ও দিই নাই গালে আমাদের রিলেশনের ২মাস পরেই এই ঘটনা ঘটে,ও কোমায় চলে যায়
তনু-ও করতে চায়নি বুঝি
শিশির-তোমার কি,আমি দিই নাই ওরে করতে,
তনু-আমার জন্য রেখে দিসিলেন তাই না??
শিশির-না,চুপ থাকো???
তনু-আমাকে ২হাজার টাকা দিন
শিশির-কেন?
তনু-প্রমান করবো তো নাতাশা মিথ্যা বলতেছে
শিশির-নাতাশা আমাকে ঠকাবে না,বুঝছো,হুদাই নিজেকে আমার সামনে insult করাইও না
তনু-সেটা আমার ব্যাপার
শিশির বাসায় এসে শুয়ে পড়লো তনু ভাবতে থাকলো কি করবে,,
তারপর সারারাত জেগে থেকে সকালে গিয়ে ঘুমালো একটু,
শিশির উঠে দেখলো তনু সোফায় ঘুমিয়ে আছে,শিশিরের বুঝতে বাকি রইলো না যে তনু রাগ করে সোফায় শুইছে
শিশির ২হাজার টাকা টেবিলে রেখে সোফার রুমে গেলো বুয়া নাস্তা বানিয়ে টেবিলে রেখে চলে গেসে,শিশির নাস্তা করে চলে গেলো,তনু উঠে রেডি হয়ে নিলো,আজ শপিং করবো,কিন্তু আমি তো ঢাকার রাস্তা ঘাট চিনি না,তনু গুগল ম্যাপ দেখে পাশের একটা শপিং মলে গিয়ে বোরকা কিনলো,, পিন কিনলো,,মরিচ গুড়া কিনলো,,মরিচ গুড়া বাসায় ছিলো কিন্তু তনু রাধুনী মরিচ গুড়া কিনলো, অনেক ঝাল হয় ওগুলা,কাজে লাগবে,
বাসায় আসতে গিয়ে রাস্তা ভুলে গেলো,ম্যাপ ও বুঝতেছে না,কি করবো,
শিশিরকে কল দিলো তনু,
শিশির-কি?
তনু-কথা বলার ইচ্ছা নাই তাও কল দিলাম,,help লাগবে
শিশির-কিসের help
তনু-আমি ধানমন্ডি লেকের সামনে,রাস্তা ভুলে গেসি?
শিশির-?????
তনু-হাসতে হবে না আমাকে নিয়ে যান
শিশির-ওকে ওখানে থাকো আমি আসতেছি,,
শিশির কিছুক্ষন পরে এসে তনুকে নিয়ে বাসায় গেলো,,
তনু-আজ রাতে আমাকে নাতাশার হসপিটালে দিয়ে আসবেন কিন্তু আপনি ঢুকবেন না
শিশির-কেন
তনু-যা বলছি তাই করবেন
শিশির তাই করলো,সন্ধ্যায়য় তনুকে হসপিটালে দিয়ে নিজে গেলো না,,হসপিটালের বাইরে বসে থাকলো,শিশির তো সিউর যে তনু কিছু প্রমান করতে পারবে না,নাতাশার উপর তার পুরো বিশ্বাস আছে,
তনু বাথরুমে গিয়ে বোরকা পড়ে নিয়ে নাতাশার রুমের জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলো নাতাশা ফোনে কথা বলতেছে
তনু-ছিঃ,বেয়াদব মেয়ে আমার জামাইকে ঠকায়,,তোর জন্যে কাল আমাকে বকছে, আজ তোর হচ্ছে,
তনু ফোন নিয়ে ভিডিও করলো,১৫মিনিট ধরে ভিডিও করে শিশিরের কাছে গেলো
শিশির-কে আপনি?
তনু নাকাফ উঠালো
তনু-আপনার বউ আমি,চলুন নাতাশাকে দেখতে যাবেন
শিশির-প্রমান করতে পারলা না জানতাম
তনু-একদম চুপ
শিশিরকে নিয়ে হসপিটালে ঢুকতেই দারোয়ান নাতাশাকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলো শিশির আসতেছে
নাতাশা আবার শুয়ে পরলো
তনু জানতো তাই আগেই ভিডিও করে রেখেছে, বোরকা পরে ঢুকেছে তাই দারোয়ান বুঝতে পারেনি
শিশির-দেখো নাতাশা শুয়ে আছে
তনু ভিতরে গিয়ে নাতাশার সামনে দাঁড়ালো
তনু-আহারে মেয়েটার কত কষ্ট,তনু হাতের মুঠি থেকে এক চিমটি মরিচের গুড়া নাতাশার চোখে ছুড়ে মারলো,পিন নিয়ে পায়ে ঢুকিয়ে দিলো,
এবার বুঝো চান্দু☺☺?
নাতাশা এক চিৎকার দিয়ে উঠে বসলো
নাতাশা-পানি পানি, মাগো,আম্মাগো
শিশির চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_15
নাতাশার মা-বাহ বাহ,তোমার বউয়ের জন্য আমার মেয়ে ঠিক হয়ে গেসে,আগের মতন,আলহামদুলিল্লাহ ?
নাতাশার মা নাতাশাকে জড়িয়ে ধরলো,কেঁদে দিলো,,নাটক শুরু করলো
নাতাশা উঠে শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো
তনু তো ফুলে রেগে মেগে এক ধাক্কা দিয়ে নাতাশাকে সরিয়ে ফেললে
তনু-সর এখান থেকে,বেয়াদব মেয়ে,নাটক হচ্ছে??
শিশির দাঁড়িয়ে আছে
শিশির নাতাশার মায়ের কথা বিশ্বাস করে গিয়ে নাতাশাকে আবার জড়িয়ে ধরলো
এটা দেখে তনুর চোখ কপালে
তনু-এই কুত্তা,হারামি,তোর এত বড় সাহস???
তনু শিশিরের শার্ট টেনে ওকে ছুড়ে মারলো
নাতাশাকে ঠাস করে চড় মেরে দিলো
শিশির-তনু!!!
তনু-চুপ একদম চুপ,আমি বলবো তোরা শুনবি?
তনু-আমি জানতাম এমন কিছু একটা হবে আর তাই আমি আগেই ভিডিও করে রেখেছি,
তনু ভিডিও টি শিশিরকে দেখালো,
তনু-ও যদি এখন ভালো হয় তাহলে তখন ফোনে কথা বলসে কি করে??
শিশির ভিডিওটি দেখে নাতাশার দিকে তাকালো,
তনু -কি হলো জড়িয়ে ধরো ওরে,হাড় ভেঙে হাতে ধরায় দিব,জীবনে আমাকে জড়ায় ধরেনি,আর আজ এই মা** রে জড়িয়ে ধরসে,তালাক দিব তোমারে
তনু চলে গেলো
শিশির নাতাশার দিকে তাকিয়ে আছে
নাতাশা-বেবি ভিডিওটা মিথ্যা এডিট করসে
শিশির-চুপ,আর একটা কথাও না,
শিশির ও চলে গেলো,,
তনু গাড়ীতে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে,
শিশির গাড়ীতে এসে বসলো, দুজনেই চুপ হয়ে আছে
তনু-আমি বাসায় যাব,
শিশির drive করতে থাকলো,,বারবার চোখ মুছতেছে,
তনুর বুঝতে বাকি রইলো না যে শিশির কাঁদতেছে,ছেলেরাও কাঁদে??
এই মেয়েরে এত ভালোবাসতো,আর তার মূল্য সে কি দিলো,
তনু চুপ হয়ে শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে,
তারপর কিছুদূর যেতেই তনু শিশিরকে গাড়ী থামাতে বললো
শিশির গাড়ী থামালো,তনু শাড়ীর আঁচল দিয়ে শিশিরের মুখ মুছে দিলো,তারপর হঠাৎ করে উঠে শিশিরের কাছে এগিয়ে গিয়ে ওর গালে চুমু দিয়ে আবার নিজের সিটে চলে আসলো,
শিশির অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,
তনু-অবাক হওয়ার কিছু নাই,কান্না থামানোর জন্য চুমু দিসি,সরি
শিশির হাসলো,তারপর আবার গাড়ী চালানো শুরু করলো,,
বাসায় এসে শিশির নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো, তনু ও বুঝলো শিশিরের একা থাকা উচিত কিছু সময়,,
রাত গিয়ে সকাল হয়ে গেলো শিশির দরজা খুললো না
তনু-এই যে দরজা খুলুন,,সকাল হয়ে গেসে,১০টা বাজে,আমি গোসল করসি,আমার জামা কাপড় তো রুমের ভিতরে,এই যে,উফ, কি পরবো আমি, আমার ঠাণ্ডা লেগে যাবে তো এই যে,
শিশির দরজা খুললো,চোখ মুখ ফুলে একাকার, মনে হয় সারা রাত কেঁদেছে,
তনুকে দেখে শিশিরের হুস আসলো,গায়ে ওর তোয়ালে একটা
শিশির-যাও change করে আসো
তনু-হুহ,বলতে হবে না,
তনু ঢং করে হাঁটতে গিয়ে পিছলা খেয়ে ঠাস করে পড়ে গেলো নিচে আর তোয়ালে টাও গেলো*****
শিশির তাকাতে যাবে তনু চিৎকার দিলো
তনু-এই তাকাবেন না একদম
শিশির-কেন
তনু-কিছু না,
তনু উঠে ঠিকঠাক হয়ে বাথরুমে চলে গেলো শাড়ী নিয়ে
শিশির আয়নায় দেখছে এক পলক তারপর হাসতে হাসতে চলে গেলো,,সারা রাত কাঁদার পর সকালে হাসি দিয়ে শুরু হলো,
তনু বেরিয়ে দেখলো শিশির টিভি দেখতেছে
তনু-অফিস যাবেন না
শিশির-না,আজ ভালো লাগতেছে না,
কলিং বেল বাজলো,শিশির গিয়ে খুলে দেখলো নাতাশা দাঁড়িয়ে আছে,নাতাশা শিশিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
তনু-বেয়াদব মাইয়া,তোর এত বড় সাহস, ছাড় বলসি,তনু টানতেছে এদিকে শিশির ছাড়ানোর জন্য টান দিতেছে ঐদিকে,নাতাশা ছাড়ার পাত্রী না
তনু-ওগো কে কোথায় আছো গো আমার জামাইকে নিয়ে যাচ্ছে গো,তনুর চিৎকারে পাশের ফ্ল্যাটের কয়েকজন চলে এলো
তনু-দেখো না এই মেয়ে আমার জামাইকে কতদিন ধরে disturb করতেছে,এই মেয়েটা মাইনসের জামাই পটিয়ে টাকা খায়,শিশির তনুর কথায় হা হয়ে তাকিয়ে আছে,তনু কি বলতেছে এসব
আন্টি-তাই নাকি,দাঁড়াও পুলিশে কল দিচ্ছি
নাতাশা-মোটেও না,এই মেয়ে মিথ্যা কথা বলো কেন,আর শিশির তুমি কিছু বলতেছো না কেন
শিশির বলতে যাবে তনু শিশিরের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো, আর মুখের উপর ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো,,
তারপর দরজার মাঝখানের ফুটা দিয়ে দেখতে থাকলো নাতাশা কি করে
এক হাত দিয়ে শিশিরকে ধরে আছে,শিশির অবাক হয়ে তনুর কর্মকান্ড দেখতেছে
তনু-যাক গেসে আপদ,উফ কি ঝামেলা,,
তনু সোফায় গিয়ে বসলো
তনু-এই যে মিঃ এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি নিয়ে আসো
শিশির-আমি?
তনু-হ্যাঁ তুমি,তোমার জন্য ঝামেলায় পড়সি
শিশির পানি এনে দিলো
তনু-চলো বাতাসা নামক ঝামেলা গেসে এবার তুমি আমাকে নিয়ে পুরা ঢাকা শহর ঘুরাবা,
শিশির-কাজ আছে আমার শিশির নিজের রুমে চলে গেলো
তনু-আজব তো,দেখো আগে নাতাশাকে ভালোবাসতা,এখন সে গেসে,হাতে আছে তোমার বউ,তারে ভালোবাসবা,আর আমাকে ভালোবাসলে আমি কিন্তু ঠকামু না,ডাবল দিব,বুঝছো তো ডাবললললললল বাবু
শিশির-চুপ
তনু বসে বসে শিশিরকে দেখছে আর শিশির ফাইল চেক করতেছে
শিশির-তুমি প্লিস চোখটা সরাবা
তনু-আপনি জানেন কেমনে যে আমি তাকাই আছে
তনু রান্নাঘরে গিয়ে দুকাফ কফি বানিয়ে আনলো,গিয়ে শিশিরের পাশে বসলো
তনু-আচ্ছা একটা জিনিস চাইবো দিবেন
শিশির-কি
তনু-ঐ যে নাতাশাকে যেভাবে জড়িয়ে ধরসিলেন,আমাকে ওভাবে ধরবেন একটু,,অনলি ১০সেকেন্ডের জন্য
শিশির-না
তনু-হিংসুটে,স্বার্থপর
শিশির-Thanks for coffee
তনু–?
তনু বারান্দায়য় বসে আছে,আর উঁকি মেরে শিশিরকে দেখতেছে,ভালো লাগে না ধুর,
তনু মাকে কল দিলো,
মা-হ্যাঁ রে তনু আমার ছেলের দিন কেমন চলে
তনু-তোমার বউমা তো নাতাশা নামক অভিশাপ দূর করছে
মা-সে কি,সত্যি?
তনু-হ্যাঁ
মা-আলহামদুলিল্লাহ
তনু-মিষ্টি খাওয়াও তাহলে
মা-শিশিরকে বল তোরে মিষ্টি কিনে দিতে
তনু ফোন রেখে শিশিরের কাছে গেলো
তনু-জামাই মা বলসে আমাকে মিষ্টি দিতে
শিশির-মিষ্টি?কিসের মিষ্টি?
তনু-ঐ যে ঐ মিষ্টি
শিশির-এই তুমি মাকে কি বলো এসব
শিশির গিয়ে ফোন হাতে নিলো
মা-তনুকে দোকান থেকে মিষ্টি এনে খাওয়া
শিশির-ওহ আচ্ছা,শিশির তনুর দিকে আড় চোখে তাকালো
তনু-চোরের মনে পুলিশ পুলিশ
শিশির-কি বললা?
তনু-কিছু না?
তনু-আপনি চাইলে আমাকে সেই মিষ্টি দিতে পারেন
শিশির-কাম নাই আমার
শিশির দেখলো তনু রুমে হেঁটে হেঁটে সব ধরে দেখতেছে,
শিশির-আচ্ছা রেডি হয়ে নাও,ঘুরতে যাব
তনু-সত্যি????
তনু এক দৌড়ে গিয়ে রেডি হয়ে নিলো,,
শিশির তনুকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছে,, flying disco দেখে তনু চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে,
শিশির-উঠবা নাকি
তনু-আরে না,মরেই যাব
তনু একটা জামা হাতে নিলো,,সুন্দর তবে western,তাও তনু হাতে নিয়ে দেখতে থাকলো,
তারপর price চেক করতে গিয়ে দেখলো ৫হাজার টাকা,বাপরে বাপ এত দাম,এই পাতলা জামার?
তনু রেখে দিয়ে আবার হাঁটতে লাগলো,
শিশির ওটা কিনে নিলো,,
তনু এক জোড়া জুতা নিলো,,তারপর দুজনে খেয়ে আবার বাসার দিকে রওনা দিলো,,
সন্ধ্যা হয়ে গেসে,তনু জানালায় হেলান দিয়ে বাইরে দেখতেছে,,আজ হালকা মনে হচ্ছে তনুর নিজেকে,আজ থেকে শিশির শুধু তার।,,
শিশির মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে তনুর দিকে,,তনু কথা না বললে শিশিরের নিজের কাছেই খারাপ লাগে,,মনে হয় কি একটা যেন নেই
বাসায় এসেই তনু চুলে খোঁপা বেঁধে কোমড়ে আঁচল গুজে রান্নাঘরে চলে গেলো
শিশির গিয়ে fresh হয়ে আসলো,
তনু কফি এনে center table এ রাখলো,
শিশির-তনু খাটে একটা জিনিস আছে দেখে আসো
তনু-কি?
তনু তো surprise পেতে খুব পছন্দ করে,এক দৌড় দিয়ে গিয়ে দেখলো সেই জামাটা,
শিশির দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
শিশির-এটা পড়ে কিন্তু বাইরে বের হওয়া যাবে না
তনু-হুম এটা special একটা দিনে পড়বো
শিশির-কবে?
তনু-পড়লেই দেখবেন
চলবে♥