Friday, August 29, 2025
বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 2027



বোবা বর

0

লজ্জা করছেনা আপনার নিজের থেকে চৌদ্দ / পনেরো বছরের ছোট একটা মেয়েকে ঘরে বউ করে আনতে? এই প্রথম কথা ওনার সাথে আমার।

কিন্তু উত্তর পেলাম না, লোকটা ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়েই আছে। ওনার হ্যাবলার মতো তাকানোর ভঙ্গি দেখে আমার রাগ শুধু বেড়েই যাচ্ছে।

কি হলো কিছু বলছেন না যে কেনো বিয়ে করলেন আমায়? আমার জীবনটাকে বিষিয়ে দেওয়ার জন্য!

আমি নাহয় মেয়ে মানুষ আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিছে পরিবার থেকে, কিন্তু আপনি তো পুরুষ মানুষ। কেমন পুরুষ আপনি যে নিজের থেকে এতো ছোট একটা মেয়ে কে বউ করে নিয়ে আসলেন , কেনো পুতুল খেলার জন্য নাকি বলেন?

একটা কথারো উত্তর না দিয়ে লোকটা ওয়াশরুমে চলে গেলেন। এদিকে আমার রাগের মাত্রাও অধিক হারে বাড়ছে। আমি আবার অতিরিক্ত রাগ উঠলে রাগের প্রভাবে কেঁদেই ফেলি।

আধা ঘণ্টা পার হয়ে গেলো লোকটা ওয়াশরুম থেকে এখনো বাইরে আসছে না। তাতে আমার কি, আমি তো এই অর্ধবয়স্ক লোকটাকে বিয়ে করতেই চাইনি।

বাবা মা কে এতো করে বললাম এই লোকটাকে বিয়ে করতে পারবো না আমি, শুনলোনা আমার কথা কেউ।

পালিয়েও আসতাম রবির সাথে (আমার বয়ফ্রেন্ড) পরিকল্পনা করছিলাম ওর সাথে কিন্তু পরদিন রাতেই বিয়ে দিয়ে দিলো। কাছের আত্নীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী দিয়ে বাড়ি ভর্তি ছিলো তাই আর পালাতে পারলাম না।

কবুল, কবুল, কবুল তিনবার বলেই দিলাম শুধু মুখদিয়ে মনথেকে নয়।

রাগে দুঃখে কিছুক্ষণ নিরবে কান্না করে রবির কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম, যে কাল রবির সাথে কথা বলতে হবে আমি এই লোকটার সাথে থাকতে পারবোনা ও যেনো এখান থেকে নিয়ে যায় আমাকে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম লোকটা ফজরের নামাজ পড়ছেন। পাশে আর একটা জায়নামাজ বিছিয়ে রেখেছেন হয়তো আমার জন্য, অন্য দিন নামাজ পড়লেও আজ ওনার জন্য নামাজ পড়লাম না আমি (চলে যাওয়ার পর একা পড়ে নিলাম) । নামাজ পড়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলেন উনি। আমি নামাজ শেষ করে
ঘরেই বসে আছি।

একটু পর দরজায় কড়া নাড়লেন ওনার মা – বউমা উঠছো তোমরা এই বলে, আমি জ্বী মা বলে দরজার কাছে গিয়ে শ্বাশুড়ি কে ভিতরে নিয়ে আসলাম ।

একটা ছোট মেয়ে বয়স নয়-দশ হবে হয়তো, সে ট্রেতে সকালের নাস্তা নিয়ে আসছে।
শ্বাশুড়িমা – জুলি তুই খাবারের ট্রেটা টেবিলে রেখে রান্নাঘরে তোর ছোট ভাবি কে কাজে সাহায্য কর যা।

শ্বাশুড়ি মা – কাল তোমাদের খোঁজ ঠিকভাবে নিতে পারিনি, কোনো অসুবিধা হয়নি তো মা তোমাদের ?

আমি- না মা, কোনো সমস্যা হয় নি।
শ্বাশুড়িমা – আচ্ছা ঠিক আছে নাস্তা করে বিশ্রাম নেও তোমরা।

আমি ঠিক আছে মা। তখন বিছানায় বসা অবস্হায় শ্বাশুড়িমা আমাকে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন আমার কেনো জানি ওনার এই সময় আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাটা স্বাভাবিক লাগলো না। কান্না থামিয়ে শ্বাশুড়িমা আমার মাথায় হাত দিয়ে বলছে আমার ছেলেটা অনেক সহজসরল ওকে দেখে রেখো মা।

তখনি রুমে লোকটা প্রবেশ করেন। মা কথা থামিয়ে বলেন বাবা তোরা নাস্তা করে নে আমি যাচ্ছি, লোকটা মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক সম্মতি জানায়।
লোকটা রুমে সোফায় বসে হাতে করে আনা খবরের কাগজ এ মুখ ডুবাই আছে।

এদিকে আমার পেটে ক্ষুধাতে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। খাবার টেবিলে, কিন্তু আমার খেতে কেমন একটা দ্বিধা লাগছে নিজে থেকে।

আমি – শুনেন মা তো নাস্তা করতে বলে গেলো খেয়ে নিন।লোকটা একটু মাথা উঠায় আবার খবরের কাগজ পড়তে লাগলেন।

আমি আর অপেক্ষা না করে একাই কিছু খেয়ে নিলাম। একটুপর লোকটা ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলেন না খেয়েই।
আমিও এই সুযোগে রবি কে কল দিলাম রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছে না। পাঁচবার বার কল দেয়ার পর ষষ্ঠ বার কল রিসিভ করলো।

রবি – দেখো জান্নাত (আমি) তুমি এখন অন্যের বিবাহিত স্ত্রী, এভাবে আর আমাকে কল দিবা না।
আমি – এই অর্ধবয়স্ক লোকটার সাথে আমি থাকতে পারবো না, তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।

রবি – পাগলামি করোনা জান্নাত, আমার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। তুমি এখন একজন এর বউ, আমার কেউ নও। আর কখনোই কল দিওনা, ভালো থেকো। এই বলে ফোনটা কেটে দিলো রবি।

আমি হতাশ হয়ে, আবার কল দিচ্ছি রবিকে কিন্তু নাম্বার ব্যস্ত একবার রিং হয়ে ব্যস্ত বলে কেটে যাচ্ছে । তার মানে রবি আমার মোবাইল নাম্বার টা ব্লাকলিস্টে রেখে দিলো!

এমনি মনটা খারাপ আরো খারাপ হয়ে গেলো রবির আচরণে। জানালার পাশে এসে দাড়িয়ে প্রকৃতি দেখছি আর চোখ থেকে পানি ঝড়ছে।

এমন সময় আমার ছোট জা রুমে এসেই, কি ভাবি বাসর রাত কেমন কাটলো বলেন শুনি ?

আমি – জ্বি ভালো।
জা – আমাদের ভাইয়া কিন্তু অনেক ভালো মানুষ ভাবি। এ বাড়ির সবাই ওনাকে অনেক পছন্দ করে, আমিও ওনাকে ভাসুর নয় নিজের ভাই আর উনিও আমাকে নিজের ছোট বোনের মতোই স্নেহ করেন।
আমি – চুপ করে আছি।

জা – আরে ভাবি আপনার চোখ দেখছি লাল হয়ে আছে! বাবা মার জন্য মন খারাপ লাগছে বুঝি? প্রথম প্রথম আমারো অনেক খারাপ লাগতো কিন্তু এ বাড়ির সবার সাথে থেকে এখন বাবা মার কথা খুব কম মনে পড়ে।
আসেন তো আমার সাথে নিচে যাই, একা একা থেকে বেশি নিঃসঙ্গ বোধ করছেন, ভাইয়াটাও যে কোথায় নতুন বৌ কে একলা রেখে উধাও।

আমি কিছু বলতে যাবো ওমনি ছোট জা আমার হাত ধরে নিচে নিয়ে যাচ্ছে, আমিও আর কিছু না বলে ওনাকে অনুসরণ করে চলছি আর দেখছি বাড়িটা বেশ বড়ো আর সুসজ্জিত দুইতলা বিশিষ্ট । লোকটার ছোট ভাইয়ের বউ হলেও আমার থেকে আমার ছোট জা বয়সে অনেক বড় হবে।

ছোট জা একটা রুমের সামনে এসে পিউ বলে ডাকতেই ছোট্ট একটা পরীর মতো সুন্দর মেয়ে দৌড়ে আসলো।

জা – ভাবি আমার ছোট মেয়ে পিউ, আর বড় ছেলেকে ওর বাবা স্কুলে নিয়ে গেছে। পিউ মা এইযে তোমার বড়আম্মু এই কথা বলতেই পিউ আমার কোলে আসার জন্য হাত উঠালো।

আমিও খুশি মনে পিউকে কোলে নিয়ে গালে একটা আদর দিলাম, পিউও আমার গালে আদর দিলো তখন জড়িয়ে নিলাম বুকে পিউ কে।

পিউ এর সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে রান্না ঘরে গেলাম।
ছোট জা কে আপু সম্মোধন করে বল্লাম আপু আমিও হেল্প করবো আপনাকে? ওমা সেকি কথা মা জানতে পারলে আমাকে অনেক বকবেন, ভাবি আপনি তারচেয়ে বিশ্রাম নিন রুমে গিয়ে । আর আমার নাম আশা আপনি আমাকে আশা বলেই ডাকেন।

আমি – না তা হয়না আমার কোনো বোন নেই আমি আপনাকে আপু বলেই ডাকবো।
জা – খুশি হয়ে ঠিক আছে ভাবি।

আমি টুকটাক সাহায্য করছি আশা আপু কে। রান্নাঘরে আরো দুজন মহিলা অন্যান্য কাজ করছে, কিন্তু রান্না আশা আপুই করছে একা।

শ্বাশুড়ি মা রান্নাঘরে প্রবেশ করেই, একি আশা তুমি প্রথম দিনেই নতুন বউমা কে রান্না ঘরে নিয়ে আসছো?
আশা আপু কিছু বলতে যাবার আগেই আমি বললাম,
না মা আমি নিজে থেকেই আসলাম আর আপু তো আমাকে রান্নাঘরে ঢুকতেই দিচ্ছিলো না।
শ্বাশুড়িমা ঠিক আছে বউমা, আর আশা তোমার ভাইয়ার ভাতের সাথে খাওয়ার জন্য মিষ্টি চাটনি টা করছো?

আশা আপু – না মা এখনো করিনি সবকিছু রেড়ি, করে ফেলবো একটু পর।
শ্বাশুড়িমা – ঠিক আছে, আমার দিকে তাকিয়ে বড় বউমা আমার ছেলেটা খাওয়ার শুরুতে কোনোকিছুর টক মিষ্টি চাটনি ছাড়া খেতে পারে না, বলে রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে গেলেন।

আশা আপু বেগুন তেঁতুল এর টক দিয়ে চাটনি করছে, আমি পাশে দাড়িয়ে দেখছি, আর আপুর বিয়ে কিভাবে হলো সেই গল্প শুনছি।
মহিলা দুজন যেনো কোথায় বেড়িয়ে গেলেন, এমন সময় পিউ মা মা বলে চিৎকার করছে আপু দৌড়ে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে পিউ এর খোঁজে গেলেন।

আমিও এই সুযোগে চাটনিতে ইচ্ছে মতো মরিচের গুঁড়ো, লবন আর পাশে রাখা করলার জুস এর কিছু মিশিয়ে দিলাম। আমার শ্বশুর এর ডায়াবেটিস তাই তিনি করলার জুস খান করলার মৌসুমে ।
একটু পর আশা আপু ফিরে এসে, চাটনি হয়ে গেছে বলে নামায় ফেললো।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



আমিও রুমে চলে আসলাম মন অনেক খারাপ থাকলেও চাটনিতে ওসব মিশিয়ে এখন বেশ ফুরফুরে লাগছে এটা ভেবে যে লোকটা ওই চাটনি খাবে কিভাবে!

জোহরের নামাজের পর মসজিদ থেকে বাড়ির পুরুষেরা ফিরলে সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলাম।
দুপুরে খেতে বসে দেখলাম আমার আরো একটা ছোট দেবর আছে আর বড় ননদ ও ছোট ননদ দুপুরে খেয়েই তাদের নিজের স্বামীর বাড়িতে চলে যাবে দুলাভাইরাও সঙ্গে আছেন।

সবাই কে খেতে বসায় দিয়ে আশা আপু আর শ্বাশুড়িমা পরিবেশন করছেন, সবমানুষের মুখে এতো কথা কিন্তু ওই লোকটা কোনো কথাই বলেনা। এ কেমন মানুষ ( আমি মনে মনে) !

সবাই খেতে শুরু করেছে, আমি অপেক্ষা করছি লোকটা ওই চাটনি টা খেলে তার প্রতিক্রিয়া কি হবে তা দেখার জন্য । ছোট মেয়ে কে বিয়ে করার শখ কতো তা বুঝানোর জন্য ।

এমন সময় লোকটা বসা অবস্থায় আআ””’আআআআ বলে চিৎকার করতে করতে দাড়িয়ে মুখে হাত দিয়ে বাতাস করছে, সবাই খাওয়া বাদ দিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওনাকে জিঙ্গেস করছে কি হইলো কিন্তু উনি শুধুই চিৎকার আর ছটফট করছেন। এতো ঝাল, লবন, তিতা সহ্য করতে পারেন নাই বেচারা।

শ্বাশুড়িমা কান্নার কণ্ঠে বললেন আমার ছেলেটা কথা বলতে পারেনা, কিভাবে বুঝবো ওর কি সমস্যা হচ্ছে।

এই কথা শোনামাত্র কারেন্ট এর শক্ খেলাম পুরো শরীরে আর বজ্রপাত হলো মাথায়। নিজেকে সামলিয়ে পানি এগিয়ে দিলাম লোকটাকে, একনিমিশে সব পানি খেয়ে গ্লাস নাড়িয়ে আরো পানি চাইলেন আশা আপু পানি দিলেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে একটু সময় লাগলো। ভাগ্যিস বেগুনে সবার এলার্জি জন্য চাটনি কেউ খায়নি।
সবাই হালকা ভাবে দুপুরের খাবার খেয়ে যার যার স্থানে ফিরে গেলেন। আমি রুমে এসে ওয়াশরুমের দরজা আটকালাম, আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম শেষ পর্যন্ত এই ছিলো আমার কপালে বোবা, বুড়া স্বামী। কি পাপ করছিলাম আমি আল্লাহ বলে, আয়নায় নিজেকে দেখে আরো ভিতর থেকে কষ্টে কাঁদতে লাগলাম। বেশকিছু সময় পর রুমে এসে শুয়ে পড়লাম, এতো কান্নার পরো ভিতর থেকে আবার কান্না আসছে দূর্ভাগ্যের জন্য।

এভাবে শুয়ে বিকেলটা কাটালাম, সন্ধায় আব্বু আম্মু আর ছোট ভাই আমাকে আর লোকটাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এ বাড়িতে আসলো।

আমি ওদের কারো সাথেই ভালো ভাবে কথা বললাম না। তাড়াতাড়ি রাতের খাওয়া শেষ করে আমাদের বাড়িতে গেলাম। গিয়ে ক্লান্ত লাগছিল বলে শুয়ে পড়লাম, খুব কষ্ট পেয়ে কান্না করলে আমার আবার ঘুম পায়।

বিছানায় শুয়ে আছি, লোকটা আমার বিছানার এক পাশে শুয়ে পড়লো দেখে আমি নিজে তার মাথা থেকে বালিশ নামিয়ে মেঝেতে ফেলে দিয়ে সেখানে শুতে বললাম। লোকটা বাধ্য ছেলের মতো মেঝেই শুয়ে পড়লো। কিন্তু কিছু বললে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকানোটা ত্যাগ করতে পারলো না যা আমার কাছে খুব অসহ্য লাগে।

আমাদের বাড়িটা একটু গ্রামের পাশে তাই নতুন বিয়ে হলে গ্রামের অনেক মানুষ নতুন বর / বউ দেখতে আসেন। আজ সকালে উঠেই অনেক মানুষের কোলাহল দেখছি আমার বর দেখার জন্য।

লোকটা দরজার কাছে চেয়ার এ বসে আছে আর লোকজন বারান্দার নিচে দাড়িয়ে দেখছে নতুন বর কেমন তা।
আমি চলে আসার সময় শুনতে পেলাম কেউ কেউ বলছে এতো কথা বলছি নতুন বর এর এতো অহংকার একটা কথাও বলছে না বড়োলোক জন্য এমন হয় মানুষ , আমাদের জান্নাত কতো সুন্দরী, পরীর মতোন তার কপালে এমন একটা বুইড়া জামাই জুটলো, বরটা লম্বা আর সুন্দর আছে তয় বয়সটা একটু বেশি। এসব কথা শুনে আমার মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেলো।

রান্না ঘরে গিয়ে রাগে আম্মু কে বললাম, আম্মু আমি আর ওই বাড়িতে যাবো না কিছুতেই না, ওই লোকটার এতো বয়স আর উনি কথাও বলতে পারে না বোবা। তোমরা কিভাবে এমন একটা লোকের সাথে আমার বিয়ে দিলে বলো?

আম্মু চুপ করে আছে, আব্বু রান্নাঘরে এসে আমার সব কথা শুনে আমাকে বললো মা কোনো পিতামাতা তার সন্তান এর খারাপ চায় না।
জামাই বাবা কিছুদিন আগে গ্রামে এসে তোকে দেখে খুব পছন্দ করে, আর তোর শ্বাশুড়ি সম্পর্কে আমার বড় বোন হন ছোটবেলা আমি একবার পুকুরে পড়ে গেছিলাম তখন তিনি আমায় বাঁচান, ওই ঋণ একটু হলেও শোধ করতে চাই আমি। আব্বু আমার মাথায় হাত রেখে বলছে তুই অনেক সুখী হবি রে মা দেখে নিস, হাতটা সরায় দিলাম আমি আর বললাম বোবা জামাই নিয়ে কি সুখী হবো আমি বলো তুমি?

আব্বু — জামাই আগে স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন, একটা দুর্ঘটনার পর থেকে কথা বলতে পারে না। একটা কথা মনে রাখবি মা মানুষের সবথেকে বড় পরিচয় সে মানুষ।

আমি — কি দুর্ঘটনায়?
আব্বু কিছু বলার আগেই শ্বাশুড়ি মা মেবাইলে কল দিয়ে কান্না করতে করতে বললেন আমার শ্বশুর বাবা অনেক অসুস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন, আমরা যেন দ্রুত সেখানে যাই।

তখনই তাড়াতাড়ি বের হয়ে আব্বু, আম্মু, লোকটা, ছোট ভাই সহ রওনা দিলাম,,,,,,,,,,(চলবে)

প্রথম পর্ব,
গল্প : বোবা বর

লেখা : মরিয়ম খাতুন হাওয়া।

(ভুল ক্রুটি মার্জনীয়)

Protected: অমীমাংসিত উপাখ্যান

0

This content is password protected. To view it please enter your password below:

Protected: কোভিড ১৯

0

This content is password protected. To view it please enter your password below:

ব্যস্ততা। ৩য়_অন্তিম_পর্ব।

0

ব্যস্ততা। ৩য়_অন্তিম_পর্ব।

#লেখা_আরজুমান_তাশা।(আরু)

৩.

অভি যদি সেদিন ছাদে ইরার গায়ে হাত দিয়ে দেখতো তাহলে বুঝতে পারতো ইরার শরীরটা কতোটা উত্তাপে ছিলো। ইরা আজ তিনদিন ধরে বিছানা থেকে উঠতেই পারছেনা। জ্বরে সারা শরীর পুরে যাচ্ছে। অভির উপর রাগ অভিমান করে ডাক্তার অবধি দেখাচ্ছেনা। কিছুক্ষন থেমে থেমে অঝোর দ্বারাতে কান্না করছে। আর বিড়বিড় করে বলছে অভি, মুক্ত করে দিবো তোমাকে একে বারের জন্য। ইরার এমন অবস্থা দেখে তার মা বাবা অনেক ভয়ে আর টেনশনে আছে। এদিকে অভিকে অনেক গুলো কল দেওয়া হয়েছে কিন্তু অভি একটা কল অবধি ধরছেনা। সবাই টেনশনে পরে গিয়েছে। ইরা একটা খাবারের ধানা মুখে নিচ্ছেনা নিজেকে তিলতিল করে শেষ করে দিতে চাই সে। মৃত্যুর দিকে নিজেকে ঠেলে দিচ্ছে একটু একটু করে। অভি ছাড়া ইরার জীবনটা ইরার কাছে অচল মনে হচ্ছে।সেদিন অভিকে দেখে অনেক খুশি হয়েছিলো ইরা। যদি আরেকবার অভি জোড় করতো ইরা ঠিকই চলে যেতো অভির সাথে। কিন্তু,অভি তা না করে রাগ দেখিয়ে চলে গেলো।

অভি সেদিন সকালে ইরাকে নিয়ে যাবে বলছি ভাগ্যক্রমে সেদিন অভিকে অফিসের কাজের জন্য বাইরে যেতে হয়।হাজার চেয়েও আর যেতে পারেনি। কিন্তু হাজার ব্যস্ততার মধ্যে বারবার ইরার কথা মনে পড়ছে। ভিতর টা অস্থিরতায় ভরে গেছে।

এই কয়েকদিনে সেই অভি আর অভি নেই। চোখের নিচে কালো দাগ, চুলগুলো উস্কোখুস্কো এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে নিজের প্রতি কতটা অবহেলা করছে সে। কোথায় কি, কে কি বলছে তার দিকে অভির কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। কাজ নিয়ে সিরিয়াস থাকা অভির এখন কাজের দিকে কোন মন নেই। আজকে সে যাবে ইরাকে নিয়ে আসছে, মন মরা হয়ে বসে অভি কথাটা চিন্তা করছে তার অফিসে, ঠিক তখনি শাওনের প্রবেশ।

-অভি?

সাড়াশব্দ নেই কোন অভির।

-অভিইইইই?

-হ্যা! আরেহ তুই কবে আসলি?

-এইতো একটু আগে।

-ওহ আই বস।

-তুর একি অবস্থা করে রেখেছিস বলতো? কি হাল করেছিস তুই নিজের!

-ঠিক আছি আমি। তা তুই হঠাৎ আমার অফিসে!?

-তুকে হাজার বার কল দিয়েছি ফোন ধরছিস না। ঠিক আছিস কিনা তা দেখার জন্য বাসায় গিয়েছিলাম বোয়া বললো তুই অফিসে তাই অফিসে চলে আসলাম।

-অহ হো সরি ফোন তো বাসায় রেখে এসেছি রে। ভুলে গেছি ফোনের কথা।

-অহ।

-বল কি হয়েছে?

-প্রীতি আমায় কল দিয়েছে। তোকে নাকি অনেক বার কল দিয়েছে পায়নি। আমার কাছে জানতে চাইলো তুই কই সেটা। তুর সাথে আমার কথা হলে আর্জেন্ট কল দিতে বলছে।

শাওনের কথা শুনে অভি টেনশনে পরে যায়। অভি শাওন কে বলে যাতে প্রীতি কে কল দেয়। আর শাওন তাই করে। প্রীতিকে কল দেয়।

-হ্যালো প্রীতি নাও অভির সাথে কথা বলো।
-হ্যালো ভাইয়া? কি হয়েছে আপনার কল ধরছিলেন না কেনো?

-আসলে প্রীতি ভুলে ফোনটা বাসায় রেখে এসেছি। বলো কি জেনো বলবে।

-ভাইয়া আপনি তাড়াতাড়ি আমাদের বাসায় চলে আসুন। আপুউউউউ (আর বলতে পারলোনা প্রীতি ডুগরে কেঁদে উঠে।)

-কি হয়েছে তোমার আপুর? (অনেকটা ঘাবড়ে যায় অভি।)

-ভাইয়া, আপু। (কেঁদেইই চলছে প্রীতি)

-প্রীতি কান্না থামিয়ে বলো ইরার কি হয়েছে?

-আপনি জলদি আমাদের বাসায় চলে আসুন।আপনি না আসলে আপুকে বাচানো যাবেনা।

এই বলে প্রীতি কল কেটে দেয়।

অভি এই মুহূর্তে কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। টেনশনে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে অভির ইরার চিন্তায়।

শাওন চল জলদি আমার সাথে ইরাদের বাসায়।
-কি হয়েছে?
-এতো কিছু বলার সময় নেই এখন জলদি চল।

অভি কিভাবে ইরাদের বাসায় পৌছালো অভি হয়তো নিজেও জানেনা। বাসায় পৌছে দেখে ইরা অবচেতন অবস্থায় বিছানায় পরে আছে আর পাশে ইরার মা, বাবা কাঁদছে। আর পাশে দাঁড়িয়ে প্রীতি কান্না করছে। সবার কান্না দেখে অভির বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠে।

-ইরা,এই ইরা।

ইরাকে ডেকেই চলছে অভি৷ ইরার গায়ে স্পর্শ করতেই অভির হাতটা জেনো পুড়ে গেলো।

-ইরার এতো জ্বর আর আপনারা ওকে এভাবে ফেলে রেখেছেন?

-কি করবো মেয়েটা আমার বড্ড জেদি আর অভিমানী তোমার উপর অভিমান নাওয়াখাওয়া ছেড়ে দিয়েছে, ডাক্তার দেখাচ্ছেনা। বাসায় ও ডাক্তার কে আসতে দিচ্ছেনা

তুমি কিছু করো অভি। (মা)

-শাওন তুই গাড়িতে গিয়ে বস আমি ইরা কে নিয়ে আসছি। জলদি যা।

-আই তুই ইরাকে নিয়ে।

শাওন গাড়ি চালাচ্ছে আর অভি ইরাকে নিয়ে পিছনের সিটে বসে। ইরার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে শুধু একটা কথায় বলছে অভি। সরি ইরা, আমার জন্যই তোমার এই অবস্থা। ?ভির চোখ চলচল করছে আর বুকের বাম পাশে ব্যথা অনূভব করছে। বুকের সাথে শক্ত করে ইরাকে চেপে ধরে অভি। কষ্টে বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে অভির। নিজেকে বড্ড অপরাধী লাগছে নিজেকে আজ নিজের কাছে। শান্ত হচ্ছেনা কোন ভাবেই অভির মনটা। চোখ বেয়ে আপনা আপনি জল গড়িয়ে পড়তে থাকে অভির। পারছেনা শুধু চিৎকার দিয়ে কান্না করতে। কি হাল করে ফেলেছে মেয়েটার । নিজের ব্যস্ততা আর অবহেলার ফল হিসেবে আজ সে নিজের ভালোবাসার মানুষ টা কে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলো। ইরার কিছু হয়ে গেলে অভি নিজেকে কোন দিন ও ক্ষমা করতে পারবেনা।

ইরাকে ICU তে ভর্তি করা হয় অবস্থা বেগতিক। স্যালাইন লাগানো,অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় ইরা।

আজ দুইদিন পর ইরা আস্তে আস্তে করে চোখ খুলে। চোখ খুলতে ওর খুব কস্ট হচ্ছে। শরীর অবশ প্রায় বলতে গেলে। বা হাতটা নাড়তে গিয়ে অনুভব করে কেউ তার হাতটা ধরে আছে। পাশ ফিরতেই দেখে অভি ইরার হাতটা ধরে ঘুমাচ্ছে। অভিকে দেখে ইরার চোখ ছলছল করছে। ইচ্ছে করছে অভির মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতে। কিন্তু পারছেনা। ইরা একটু নড়ে উঠলে অভি জেগে উঠে।

-আস্তে, কিছু লাগবে।

-নাহ।

ইরার হাতটা শক্ত করে ধরে মাথা নিচু করে অভি

-I am sorry Ira।

-it’s okkkk। (শুকনো একটা হাসি দিয়ে)

-ইরা প্লিজ তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও। আই প্রমিস তুমি যেভাবে চাইবে আমি সেভাবেই চলবো। আগের অভি হয়ে যাবো আর তোমার উপর রাগ দেখাবোনা। (প্রায় কান্না করে দিলো অভি)

-অভি প্লিজ কান্না করোনা। সহ্য হচ্ছেনা আমার তোমার কান্না।

-আগে বলো তুমি ফিরে যাবে আমার সাথে। এই কয়দিননে আমি বুঝে গেছি ইরা তোমাকে ছাড়া আমি কতোটা অচল। তোমাকে ছাড়া আমার নিঃশ্বাস নিতেও কস্ট হয়। আই লাভ ইউ ইরা। আই রেলি লাভ ইউ।

-তুমি ছাড়া আমিও অচল অভি। অভির মাঝেই ইরা। আই লাভ ইউ টু। এবার হাসো, না হলে যাবোনা তোমার বাসায় আমি।

-আমার একার না ইরা। আমাদের বাসা।

-হ্যা আমাদের বাসা।

এই বলে দুজন হেসে দেই।


আরো তিনদিন পর ইরাকে রিলিজ দিয়ে দেয়। ইরার মা বাবা নিয়ে যেতে চাইলে অভি বলে সে ইরার যতেষ্ট খেয়াল রাখবে। আর ইরাও তার মা বাবাকে না করে দেয়। ইরার মা বাবা খুশি হয় ওদের এক হতে দেখে আবার আর রিলেক্স হয় তারা।

ইরা ভিতরে ঢুকতে গেলে অভি ইরা কে থামিয়ে বলে…………..

-ইরা দাড়াও।

-কেনো!?

-চোখ বন্ধ করো আগে!

-কিন্তু কেনো?

হু।
………..
.

ইরাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে অভি ইরার চোখ গুলো হাত দিয়ে চেপে ধরে আস্তে আস্তে করে ভিতরে নিয়ে যায়।

-চোখ খুলবেনা কিন্তু।

-আচ্ছা বাবা, খুলবোনা।
…………..

কিছুক্ষন পর………….

-Wellcome To our home।

-ইরা চোখ খুলে অবাক পুরো ঘর সাজানো। শাওন প্রীতি আর বাদ বাকি সব কলেজ ফ্রেন্ড উপস্থিত।

সবাই এক সাথে বলে উঠে Happy Anniversary to you Guys .

ইরা অবাক হয়ে অভির দিকে তাকিয়ে থাকে।
অভি ইরার পিছনে গিয়ে ইরার দুই কাধে দুই হাত রেখে তার পর ইরার কাধে মাথা রেখে………..

-Happy Anniversary My dear .

-আমি সত্যি সারপ্রাইজ অভি। আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। সরি আমি সত্যিই ভুলে গেছি।

-থাকনা একবার না হয় আমিই মনে করিয়ে দিলাম প্রতিবারতো তুমিই মনে করিয়ে দাও।

-থ্যাংকস।
—–

সবাই খুব ধুমধাম করে পার্টি করে। রাতে খেয়ে সবাই চলে যায় আর সব কিছু ইরাই করলো। ও ভুলেই গিয়েছে ও হসপিটাল থেকে এসেছে। মনের ভিতর এক অজাননা আনন্দ বয়ে চলেছে ইরার। আসলে মানুষের মন সুস্থ থাকলে শরীর টাও সুস্থ থাকে।

সবাই চলে যাওয়ার পর ইরা আর অভি ছাদে গিয়ে দোলনায় বসে থাকে। অভির কাধে মাথা রেখে বসে আছে ইরা। আর হাত দুটো দিয়ে অভির হাত ধরে আছে।
-আই প্রমিস ইরা আজ থেকে প্রতিটা দিন আমাদের সুন্দর যাবে। অফিসের কাজ অফিসে, বাসায় নিয়ে আসবোনা।
-আই প্রমিস অভি আমিও তোমার সাথে অকারনে ঝগড়া করবোনা।

– হুম চলো অনেক্ষন হলো এবার ঘুমাতে চলো।

-আরেকটু থাকিনা অভি।

-হু একদমি না। তুমি এখন রেস্ট নিবা। আমি আর কিছু শুনবোনা।

-একটু বেশি না।

-শিসসসসসস। তোমাকে এভাবে হবেনা।
ইরাকে কোলে করে অভি রুমে নিয়ে চলে যায়। বিছানায় শুয়ে দিয়ে ইরার মাথায় বিলি কেটে দেই। ইরা অভির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কবে যে ঘুমিয়ে পরে ইরা নিজেই জানেনা। অভি ইরার ঘুমন্ত চেহারা টার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপালে একটা চুমু একে দেয়।

সরি ইরা অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমায়। হাজার ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়েছি তোমায়। আজকে সব গ্লানি দূর তোমার। কাল থেকে তোমার আমার এক ভালোবাসার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।মান অভিমান থাকবে কিন্তু কোন ঝগড়া অবহেলা দুরত্ব কখনো সৃষ্টি হবেনা। ভালোবাসি খুব পাগলি। ইরার ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে এসব বলতে থাকে অভি। কপালে আবার ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে খুব নিবিড় ভাবে ইরাকে জড়িয়ে ধরে অভিও ঘুমের দেশে তলিয়ে পড়ে।

[প্রিয় মানুষ টাকে একটু সময় দিন। এরা একটু আপনার থেকে সময় চাইলে ব্যস্ততা অজুহাত দেখাবেন না৷ ধন্যবাদ ]

#সমাপ্ত।

(ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার চোখে দেখবেন। ধন্যবাদ)

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্যস্ততা পর্ব_২

0

ব্যস্ততা পর্ব_২

#লেখা_আরজুমান_তাশা_আরু।

২.

কোন কিছু না খেয়ে অভি অফিসে চলে যায়। অফিসে গিয়ে জেনো অভির মন বসছেনা। বারবার শুধু মোবাইলটা চ্যাক করছে, কিন্তু নাহ!কোন কল কোন মেসেজ আজ আর আসলো না অভির ফোনে। অসহ্য লাগছে অভির আজকে। যখন ইরা ফোন মেসেজদিয়ে জিজ্ঞাসা করতো তখন অভি কতোটা বিরক্তিকর বোধ করতো। আর আজ! কল মেসেজ না আসাতেও বিরক্তিকর বোধ করছে। আসলেই মানুষ এক অদ্ভুত প্রানী৷

কোন মতে বিকেল অবধি অফিস করে চলে আসে। মনে মনে এটায় ভেবে রেখেছে হয়তো ইরা ফিরে এসেছে। কিন্তু! বাসায় ফিরে দেখে পুরো বাসা খালি পরে আছে আর কেমন জেনো গুম মেরে আছে পুরো বাড়িটা। অভির নিশ্বাস নিতেও কস্ট হচ্ছে এমন পরিবেশে। মনে মনে ভাবছে দুই মিনিটে তার এমন অবস্থা না জানি ইরার কি কস্টটায় না হয়েছে। নাহ এভাবে বেশিক্ষন থাকলে অভি পাগল হয়ে যাবে। তাই সে অফিসের ড্রেসটা পরা অবস্থায় বেড়িয়ে পরে।

কলিংবেল বাজিয়েই যাচ্ছে অভি সে কখন থেকে কিন্তু দরজা কেউ খুলছেনা। কিছুটা অসস্থি বোধ করছে সে। আরেকবার কলিংবেল বাজাতেই ইরার মা দরজা খুলে দেই।

-আসসালামুয়ালাইকুম মা।

-ওয়ালাইকুম আসসালাম। আরেহ অভি! আসো ভিতরে আসো।

-মা ইরা??

-ও মনে হয় ছাদে তুমি বসো আমি ডেকে নিয়ে আসছি।

– না মা থাক আপনাকে কস্ট করে ডাকতে হবেনা বরং আমি যায় ছাদে। মা প্রিতি কোথায়?

– আর প্রিতি, ওর কি আর কাজ আছে? স্কুল থেকে এসেই ঘুমাচ্ছে।

-অহহ।

-আচ্ছা তুমি যাও ছাদে। আমি নাস্তা পাঠিয়ে দিচ্ছি।

-জ্বী মা।

ইরা গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে ছাদের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে থেকে সূর্যাস্ত দেখছে। চোখ মুখ ফুলে আছে, হয়তো খুব কেঁদেছে।


অভি ছাদে এসে এদিক সেদিক তাকিয়ে অবশেষে ছাদের এক কোণায় ইরাকে দেখে। আস্তে আস্তে করে ইরার পাশে গিয়ে অভি দাঁড়ায়। ইরা জেনো অন্য এক জগতে হারিয়ে গেছে ওর পাশে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে সেটা ইরা খেয়ালি করলো না।

-ফিরে চলো।

অভির এমন কথায় চমকে উঠে ইরা! পাশ ফিরে দেখে অভি দাড়িয়ে আছে।অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ইরা।

-ফিরে চলো প্লিজ ইরা।

-সম্ভব না আর। তুমি ফিরে যাও অভি।

-আমি একা ফিরে যেতে আসিনি তোমাকে সহ নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি।

-সেটা সম্ভব না। আমি আর ফিরে যাবোনা। খুব শীঘ্রই সেপারেশন লেটার পাঠিয়ে দিবো।

– ইরা!!! প্লিজ লাস্ট টাইমের মতো ফিরে চলো। আর এমন হবেনা। আমি তোমার সে আগের অভি হয়ে যাবো।

-নাহ অভি, সেটা আর হবার নই।

-ওকে সম্ভব না তো? ঠিক আছে থাকো তুমি তোমার মতো করে। আর হ্যা সেপারেশন লেটার তোমার পাঠানো লাগবেনা আমিই পাঠিয়ে দিবো। বাই


এই বলে অভি হনহন করে ছাদ থেকে নেমে যায় আর ইরা ছলছল নয়নে অভির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। বুকের মাঝে এক অসহ্য ব্যথা অনুভব করছে ইরা। অভি ছাদ থেকে নেমে গেলে ইরা ছাদে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। সে জানে তার এই কাঁন্না অভির কান অবধি পৌছাবে না। ইরা কাদছে চোখের জলের জেনো আজ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ইরা ছাদে বসে কাঁদতে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে করে ছাদ থেকে নেমে নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে দিয়ে শুয়ে পরে ইরা।

অভি ছাদ থেকে হনহন করে নেমে গিয়ে কারো সাথে কথা না বলে বেড়িয়ে পরে।ইরার মা অভি এভাবে চলে যাওয়া দেখে বেশ অবাক হলেন। মনে মনে কিছ একটা আঁচ করছেন তিনি। ইরাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে অভি তার এক বন্ধুর রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসে থাকে। চুপচাপ কোন টু শব্দ করছে। অবশ্য অভির বন্ধু দুইতিনবার অভির সাথে কথা বলার চেস্টা করেছে কিন্তু অভি একটা শব্দ ও করেনি। শাওন হয়তো বুঝতে পেরেছে অভির মন খারাপ তাই সে আর আগ বারিয়ে কথা বললোনা। অভিকে একা ছেড়ে দিলো।

-রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা অভি এখনো সেই একই জায়গায় বসে আছে। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষন। কাস্টমার সব চলে গেছে, রেস্টুরেন্ট বন্ধ করার সময় হয়েছে শাওনের। শাওন এবার সাহস করে অভির পাশে গিয়ে অভির কাঁধে হাত রাখে। শাওনের হাতের স্পর্শে অভির ধ্যান ভাঙ্গে।
-এভাবে আর কতক্ষন বসে থাকবি বলতো! রাত তো কম হলোনা।
-ওহ।
-কি হয়েছে বলতো? তখন থেকে কি চিন্তা করে চলেছিস। কতোবার তুকে ডাকলাম কিন্তু তুই শুনতেও পাসনি।

-কিছু হইনি। (দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে)

-দেখ অভি তুই আমার ছোট বেলার বন্ধু তোকে আমি খুব ভাল করে চিনি। কি হয়েছে খুলে বল আমায়। একটা salutation তো দিতে পারবো।

-শাওন ইরা ডিভোর্স চাই। আমার সাথে ও আর থাকতে চাইনা।

-হুয়াট! কেনো কি হয়েছে?

-আসলে সব দোষ আমার,আমার জন্যই এমন টা হয়েছে। আমি এমন ভাবে টাকার নেশায় পড়ে গিয়েছি আমি প্রায় ইরাকে ভুলতে বসেছি। আমি ভুলেই গেছি আমার জীবনের সাথে ইরা নামে কেউ জড়িয়ে আছে। ও আমার থেকে একটু সময় চাইতো আমি সেটায় ওকে দিইনি। দিনরাত শুধু অফিস অফিস করেছি। বাসায় গেলেও অফিসের কাজ নিয়ে পরে থাকি। ইরা খেয়েছে কিনা সেটা জানার ও আমার কাছে সময় নেই। খুব অবহেলা করেছি মেয়েটাকে।


তারপর অভি গত রাত থেকে আজ বিকেল অবধি যা হলো সব বললো। শাওন ও চিন্তায় পড়ে গেলো। আর কেউ না জানলেও শাওন জানে ইরার জন্য অভি কতটা পাগল। কি পরিমান ভালবাসে তা। কিছুক্ষন চুপ থেকে শাওন অভিকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। অভি বাসায় এসে সারাঘর ঘুরছে। সব কিছুতে জেনো ইরার হাতের ছোয়া লেগে রয়েছে। চুপচাপ অভি তাদের রুমে গিয়ে শুয়ে পরে না খেয়ে। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা।

মনে মনে ভাবছে অভি ইরার সাথে রাগ না করে ঠিক ভাবে শান্ত ভাবে বললে হতো ইরা চলে আসতো কেনো যে রাগ দেখাতে গিয়েছি। মেয়েটাকে বোঝার ক্ষমতা বোধ হয় আমার হয়নি৷ আমি না চাইতেও বেশি কিছু পেয়ে ফেলেছি তাই ইরার কদর টা বুঝিনি। এখন হারে হারে বুঝছি ইরা আমার জন্য কতোটা প্রয়োজন। কালকে আমি আবার যাবো তোমার কাছে। দরকার হলে তোমার পায়ে ধরবো। যে কিছুর মূল্যে তোমায় আমি আবার আমাদের সংসারে নিয়ে আসবো। তোমায় আমি আর ব্যস্ততা দেখাবোনা ইরা।
দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে সোফায় হেলান দিয়ে চোখ বুঝে রই অভি আর অপেক্ষা করে সকাল হওয়ার।

#চলবে______

(বিঃদ্রঃ তিন পর্বের গল্প)

#রিপোস্ট।

লেখাঃ ১১/১১/২০১৮।

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্যস্ততা।১

0

ব্যস্ততা।১

আরজুমান তাশা।

.

__”কখন আসবে বাসায়?
-জানিনা,
-জানিনা মানে কি? তুমি আমাকে আজকে কথা দিয়েছো তাড়াতাড়ি আসবে।আর এখন বলছো জানোনা!
-ফিরতে অনেক রাত হবে জরুরি একটা মিটিং আছে।
-তুমি কোন দিনটায় তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরেছো যে আজ আবার নতুন করে বলছো দেড়ি হবে?
-দেড়ি হবে তাই দেড়ি হবে বলছি। আর প্রতিদিন এই এক প্রশ্নের উত্তর দিতে ভালো লাগেনা।
-অভি এই এত্তো বড় বাড়িতে আমি একা থাকি। আমার কি ভয় লাগেনা একা থাকতে। আর একটা দিন জলদি বাসায় আসলে সমস্যা কোথায়?
-আজকে একদমি সম্ভব না, অন্য একদিন। আসি উম্মাহ।
-অ,অভি ইইইইই।

অভি চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে ইরা। ভালবেসে বিয়ে করেছে। কলেজ জীবনের প্রেম তারপর বিয়ে। ইরার এতো বড় বাড়ি, গাড়ির দরকার নেই ও শুধু অভির থেকে সময় চাই আর অভি দিনরাত টাকার পিছনে ছুটছে সে প্রায় ভুলতে বসেছে তার সাথে আরো একটা জীবন জড়িয়ে আছে। সকালে অফিসে যায় আসে রাতে বাসায় ফিরে,বাসায় ফিরে আবার অফিসের কাজ নিয়ে বসে। ইরা কে জেনো অভির চোখেই পরেনা।


খেতে এসো।

-খেয়ে এসেছি। তুমি খেয়ে নাও।

-মানে? আমি আজ তোমার পছন্দের রান্না করেছি আর তুমি কিনা খেয়ে এসেছো।

-ক্লাইন্ট অনেক জোড় করছিলো তাই খেতে হলো তাদের সাথে।

-আর আমি যে কস্ট করে এতোসব রান্না করলাম সেগুলো?

-ফ্রিজে রেখে দাও।পরে খাওয়া যাবে।
-আচ্ছা নাই খেলে একটু আমার পাশে তো বসো। আমি খাবো আর তুমি দেখবে।

-ইরা কি শুরু করেছো বলোতো? সবসময় শুধু বাচ্চাদের মতো বায়না ধরো। দেখতেই তো পারছো কাজ করছি।

-কিসের এতো কাজ তোমার? দিন নাই রাত নাই, শুধু কাজ আর কাজ। সেই সকাল বেলা যাও রাতে আসো সারাদিনন একটা কল দিয়ে খোজ নিয়ে দেখোনা বেচে আছি কিনা মরে গেছি রাতে যাও আসো তাও অফিসের কাজ নিয়ে পরে থাকো।

-আমি যদি কাজ না করি তাহলে এই এতো বাড়ি,গাড়ি এসব কোথায় থেকে পেতে?

-কে চেয়েছে এতো কিছু তোমার থেকে? আমিতো চাইনি এতোসব।

-দেখো ঝগড়া করার ইচ্ছে নেই, আমাকে আমার কাজ করতে দাও।

-আমি ঝগড়া করছি? তোমার সাথে কথা বলাটাও এখন ঝগড়া?

-তুমি যাবে নাকি আমি এখান থেকে চলে যাবো।

এই বলে অভি সেখান থেকে উঠে অন্য রুমে চলে যায় আর ইরা পাথরের মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। আর চোখ দিয়ে টপ টপ করে জ্বল গড়িয়ে পরছে। সোফায় হাত দিয়ে ধপ করে বসে পরলো, ওতো এই অভি কে চাইনি যে অভি কিনা তাকে অবহেলা করবে। কিন্তু কেনো এতো পরিবর্তন। সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে ইরা। কতক্ষণ যে এভাবে বসে কেঁদেছে ইরা নিজেও জানেনা। তারপর আস্তে আস্তে করে ধীর পায়ে রান্না ঘরে যায় আর রান্না করা সব কিছু ডাস্টবিনে ফেলছে আর চোখ জল মুছছে। তারপর রুমে গিয়ে ইরা শুয়ে পরে।
———
অভি কাজ করতে করতে কখন যে সোফায় ঘুমিয়ে গেছে সেটা অভির অজানা। ঘুম থেকে উঠেই অভি ইরা কে ডাকতে থাকে।

-ইরা আমার চা টা দিয়ে যাও।

——

অনেক্ষন হয়ে গেলো কিন্তু ইরার কোন সাড়া শব্দ নেই। তাই অভি সোফা থেকে উঠে কিচেনের দিকে যায়, গিয়ে দেখে রান্না ঘর ফাকা। তারপর রুমে বেলকনি, ছাদে গিয়ে খুজে দেখে কোথাও নেই। রুমে আবার আসে অভি ইরা ইরা বলে ডাকতে থাকে। কিন্তু সাড়া পায়না। হঠাৎ টেবিলের উপর অভির চোখ গেলো। একটা গ্লাসের নিচে একটা চিঠি!চিঠি টা অভি হাতে নেই, তার বুঝতে বাকি নেই লেখা গুলো কার হাতের।
—-
অভি,
আমি কখনোই তোমার কাছ থেকে দামি বাড়ি, গাড়ি,আসবাবপত্র কিছুই চাইনি। আমি শুধু চেয়েছি মাথার উপর একটা ছাদ আর সেই অভিকে যে অভি কিনা আমায় পাগলের মতো করে ভালবাসে। আমার মুখ একটু গুমড়া হলে যে অস্থির হয়ে যেতো আমার মুখে হাসি ফুটাটো সেই অভিকে। তুমি এখন সে অভি নেই। বদলে গেছো টাকার নেশায় পরে। তোমার কাছে তোমার অফিস, তোমার ক্লাইন্টরাই সব। আমি কিছুনা।অনেক মানিয়ে চলতে চেয়েছি কিন্তু আমাকে দিয়ে আর হচ্ছেনা তাই চলে গেলাম তোমার কাছ থেকে। আজ থেকে এই ইরা আর তোমাকে জিজ্ঞাসা করবেনা কখন ফিরবে বাসায়? কেউ তোমায় আর কল দিয়ে ডিস্ট্রাব করবেনা। একসাথে বসে খাওয়ার বায়নাও ধরবেনা। আর হ্যা খুব শীঘ্রই সেপারেশন লেটার পেয়ে যাবে। কাল রাতে তোমার চোখে মুখে আমি আমার জন্য বিরক্তির চাপ দেখেছি। মুক্ত করে দিবো একে বারের জন্য। ভাল থেকো

‘ইরা’
—–
——

চিঠিটা পেয়ে অভি যেনো খুবব বড় একটা ধাক্কা খেলো । মোবাইল হাতে নিয়ে কল দিতে থাকে ইরাকে রিং হচ্ছে কিন্তু কল রিসিভ হচ্ছেনা দুইতিনবার কল দেওয়ার পর অভি খেয়াল করলো ইরার মোবাইল বালিশের নিচে রাখা। কি করবে বুঝতে পারছেনা। চুপ করে বিছানাতে বসে পরে অভি। কাল রাতের কথা ভাবছে আসলেই কাল রাতে বেশি বলে ফেলেছে ইরাকে এতো বলা উচিত হয়নি। কি বা চেয়েছে একটু সময় তো আর অভি সেই একটু সময় দিতে পারলো না ইরাকে এখন নিজের প্রতি নিজেরি রাগ হচ্ছে অভির। তাই তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে বেড়িয়ে পড়ে অভি না খেয়ে।

#চলবে____

(বিঃদ্রঃ তিনপর্বের গল্প)

লেখাঃ৯/১১/২০১৮.

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


Protected: গল্প~ একটু স্নেহ

0

This content is password protected. To view it please enter your password below:

ক্রাশ যখন বরSeason_3Part_49/50/51Last part

1

ক্রাশ যখন বরSeason_3Part_49/50/51Last part
Writer-Afnan Lara

শিশির তনুর আঁচল ধরে শুয়ে পড়লো,
সকালে চোখ খুলতেই দেখলো তনু দাঁড়িয়ে আছে কোমড়ে হাত দিয়ে
শিশির-কি হইসে আবার
তনু-ঢাকা যাব
শিশির-এই সময়ে এত জার্নি করা ঠিক হবে না,,
তনু-নাহ আমি যাব
শিশির আর কি করবে তনুকে নিয়ে বের হলো,অফিসের কাজ ও আছে তাই আর না করলো না
মা বললো তিনি ১/২সপ্তাহ পর আসবে
গাড়ীতে তনুর শরীর খারাপ হয়ে গেলো
শিশির এক হাত দিয়ে ধরে আছে তনুকে,তনু দূর্বল হয়ে সিটে হেলান দিয়ে আছে,তাও শিশিরের কাঁধে হেলান দিবে না
বাসায় আসতে আসতে পুরো দিন শেষ,
শিশির-বাসায় যাওয়ার আগে চলো হসপিটালে চেক আপ করে আসি,অনেকদিন হইসে চেক আপ করা হয়না
তনু-আচ্ছা
দুজনেই বসে আছে হসপিটালে,,আশেপাশের pregnant মহিলারা তনু আর শিশিরকে দেখতেছে শুধু
দেখারই কথা তনুর পেট ওর বডি অনুযায়ী নরমাল না,অনেক বড়,,
একটা লোক তার ওয়াইফকে নিয়ে এসেছে
লোকটা শিশিরকে জিজ্ঞেস করলো কোনো সমস্যা আছে কিনা,কারন এমন বড় হওয়া তো নরমাল না
শিশির-না ভাই সব ঠিক,জোস!
লোকটা একটু চাপা স্বরে বললো,,গোপনীয় কিছু কিনা
শিশির-আরে ভাই আমি ৩টা সন্তানের বাপ হতে চলেছি তাই এমন লাগে,ইটস নরমাল তাই না?
লোকটা ইয়া বড় হা করে তাকিয়ে আছে
তার বউতো রীতিমত তনুকে ভালো করে দেখতেছে
শিশিরের কথাটা জোরে হওয়ায় যারা নতুন গর্ভবতী তারা already তনুর পাশে বসে ওর থেকে টিপস নেওয়া শুরু করে দিসে
শিশির-আরে এসব টিপস টুপস এ কাম নাই,সব আমার credit, টিপস নেওয়ার তো আমার থেকে নাও
তনু বড়বড় চোখ করে তাকালো শিশিরের দিকে
শিশির-ইয়ে মানে আসলে বলতেছি তোমাগো জামাইরে কও আমারে জিগাইতে
doctor এসে তনুর চেকআপ করলো,সব ঠিক আছে বললো,এমনকি আল্ট্রাতে বাবু ও দেখিয়েছে তনুর মুখে হাসি ফুটলো,শিশির তনুর মুখের দিকে চেয়ে আছে,এই হাসি কতদিন সে দেখেনি
দুজনেই বাসায় ফিরলো,, তনু বারান্দায় বসে বাইরে তাকিয়ে আছে,চাঁদ দেখতেছে তনু
শিশির -আমি সিওর তুমি কাল নাতাশার ১২টা বাজাবা তাই না
তনু কিছু বললো না
শিশির-আমি বলিকি বাবু হওয়ার পরে করিও,নাতাশা আমাদের বেবির ক্ষতি করতে পারে
তনু-তা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না,ভাবার হলে এতসব কাজ করে বসতেন না
শিশির-আর কত বকবা তুমি?
তনু ফোন নিয়ে শিশিরকে এগিয়ে দিলো,,
কাগজে যা যা লিখে দিসি পড়ে নাতাশাকে বলেন
শিশির -ওকে
শিশির নাতাশাকে ফোন দিলো
নাতাশা-আজ সূর্য কোনদিকে উঠেছে??
শিশির কাগজ নিয়ে রিডিং পড়া শুরু করলো
শুনো নাতাশা আমি খেয়াল করসি যে তনুকে নিয়ে আমি সুখি থাকতে পারবো না,
এই তনু এগুলা কি লিখসো(ফিসফিসিয়ে)
তনু শিশিরের পা মাড়িয়ে দিলো
শিশির -আউচচচ
নাতাশা-কি হইসে?
শিশির -কিছু না,তো কই ছিলাম
,জানো সামান্য কারণে ও আমাকে ডিভোর্স দিসে,,আমাদের মাঝে আর কোনো সম্পর্ক নাই,তুমি চাইলে তোমাকে লেটারটা দেখাতেও পারি,আমার অনেক একা লাগতেছে প্লিস এসো এখানে,বাসায় কেউ নেই
নাতাশা-কোনো খেলা খেলতেছো নাতো??
শিশির-না, সত্যি তোমার কসম?
নাতাশা-ওকে আসতেছি
শিশির-এখন কি হবে?ও আসলে কি হবে?
তনু -ওয়েট এন্ড ওয়াচ
১০টার দিকে দরজা নক হলো
শিশির গিয়ে দরজা খুললো,নাতাশা তার ভাইকে নিয়ে এসেছে
দুজনেই গিয়ে সোফায় বসলো
নাতাশা-ডিভোর্স লেটার টা দেখাও
শিশির লেটারটা এগিয়ে দিলো
নাতাশার ভাই ক্লাস সেভেনে পড়ে,তাও যে ভাব নিয়ে লেটারটা পড়তেছে এডভোকেট ও কেঁদে দিবে???
শিশির হাসি চেপে রেখে তাকিয়ে আছে
নাতাশার ভাই বললো সত্যি ডিভোর্স হইসে
শিশির-তো ওরকম করলা কেন,এমনি কইলেও হতো
নাতাশা-তনুকে ছাড়তা এত সহজে?তাই সেদিন তোমাকে হাই পাওয়ারের মদ খাইয়ে দিসিলাম,তনুর জায়গায় আমারে দেখসো?
শিশির-আমি তো কিছু করি নাই তাই না
নাতাশা-কি করবা,তোমার জ্ঞান ছিলো নাকি?ধরে ধরে ভিডিও করসি,বিয়ের পর দেখা যাবে কেমন?তাহলে কাল আমরা বিয়ে করছি?
শিশির-(তনু তো এটা শিখিয়ে দেয়নি,এখন কি কমু)
নাতাশা-বলো??
তনু-হুমম,আসিও,আমার আর শিশিরের বিয়েতে,কাল আমরা আবার বিয়ে করবো,তোমার দাওয়াত
নাতাশা চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
নাতাশা-ডিভোর্স তো হয়েই গেসে
শিশির-এটা ফেক বলদ?☺☺?
নাতাশা-হোয়াট??!!!
নাতাশা তনুর পেটের দিকে তাকালো,
এগিয়ে গিয়ে তনুকে ইচ্ছে করে ধাক্কা দিতে যেতেই তনু পিছন থেকে মরিচের গুড়া নিয়ে ছুড়ে মারলো নাতাশার মুখে
নাতাশার ভাই এগিয়ে আসতেই শিশির ডাইনিং এ রাখা নুনের বাটি থেকে নুন ছুড়ে মারলো
তনু-আরে বোকা নুনে effect কম করবে
শিশির-ওহ তাই,সরি
তাও চোখের ভিতর নুন ঢুকে যাওয়ায় নাতাশার ভাই নিচে বসে গেলো,
নাতাশা তো চিৎকার দিচ্ছে অনবরত
তনু গিয়ে ওর সামনে বরাবর সোফায় বসলো
শিশির-কি করবো?
তনু-পানি লাগবে//??পানি দাও ওদের,টেবিলে জগের পানি দাও
শিশির-পাগল হইসো?ডোজ তো কম হলো
তনু-দাও
শিশির পানি দিলো নাতাশাকে
নাতাশা পানি নিয়ে চোখে ঢালতেই অবস্থা আরও খারাপ,কারন তনু শুকনা মরিচ গুলে রেখেছিলো ঐ পানিতে
নাতাশা-দেখে নিব আমি
তনু বসে বসে নাতাশার ভিডিও করলো,,
তনু নাতাশার ফোন নিলো হাতে,,
তনু-পাস বলো
নাতাশা-জীবনেও না
তনু-শিশির মরিচের গুড়া আরও আনো
নাতাশা-পাস হচ্ছে রাকিব
শিশির-রাকিব কেডা আবার
নাতাশার ভাই-আমি কমু রাকিব কে আগে পানি দাও,ভালো পানি দিও
তনু-কে আগে বলো
নাতাশার ভাই-বুবুর বফ
শিশির-ভাইরে আর কত??
তনু পাস খুলে সব পিক ডিলিট দিলো,,তারপর নাতাশাকে বসিয়ে আরেকটা ভিডিও বানালো,ভিডিওতে নাতাশা বলতেছে আমার দোষ, আমি শিশিরকে ফাঁসানোর জন্য এমনটা করেছি
তনু-হুম ঠিক আছে,বাবুরা এবার যাও
শিশির-ছেড়ে দিবা?
তনু-এটাই যথেষ্ট, next time পিছে লাগলে এই যে ভিডিও গুলা আছে না??ভাইরাল করে দিব,কেমন??
নাতাশা-ডিলেট দাও,আমি আর কিছু করবো না
তনু-ঠিক আছে যাও
নাতাশা চলে গেলো
শিশির-বাপরে বাপ,এবার বিশ্বাস হলো তোমার???
তনু-?
তনু উঠে শুতে চলে গেলো
শিশির-এই আমাদের বিয়ে মানে?
তনু-কাল আমরা আবার বিয়ে করবো,,আমার ইচ্ছা,,বলতে পারেন
শিশির -হঠাৎ?
তনু-বিয়ের প্রথম দিন আমি শিশিরকে যেভাবে চেয়েছি সেভাবে পাইনি,তাই আমি সেই দিন আবার চাই
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_50
শিশির-ওকে then,,
পরেরদিন শিশির ছোটখাটো একটা বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো,,তার কিছু বন্ধুবান্ধব আসলো,,পুরোদিন সবাই মজা করে বিকালের দিকে যে যার বাসায় চলে গেলো
আজকে তনু গোলাপি রঙের শাড়ী পড়েছে, শিশির হালকা গোলাপি রঙের পাঞ্জাবি পরেছে,,শিশির তনুর হাত ধরে ছাদে বসে আছে,,
শিশির-এই দিনটা আসবে আমার লাইফে আমি ভাবিনি,,কখনও জানতাম ও না এত সুন্দর ও জীবন হতে পারে,,,
তনু-আমিও
শিশির-তারপরে সবচেয়ে সুন্দর জীবন হবে যখন আমাদের বাচ্চারা থাকবে
তনু শিশিরের হাত শক্ত করে ধরলো
শিশির-ভয় পেও না,আমি সবমসময় তোমার পাশে আছি,সব বিপদ থেকে আমি তোমাকে সেভ করবো
শিশির-চলো সন্ধ্যা হয়ে গেসে,
তনু-চলুন
লিফট পর্যন্ত আসতেই দেখলো লিফট অফ,শিশির দারোয়ানকে কল দিলো,
দারোয়ান বললো লিফটে কি যেন সমস্যা হইসে,,
তনু-এখন কি হবে,আচ্ছা আমার হাত ধরুন, আস্তে আস্তে নামবো
শিশির মুচকি হেসে তনুকে কোলে তুলে নিলো,তারপর হাঁটা ধরলো
তনু-একি করতেছেন,এতদূর পারবেন না,,১০তলা কম না
শিশির হাঁটতেছে চুপচাপ
বাবু সহ তনুর ওজন এখন প্রায় ১০৬কেজি,
তনু শিশিরকে বলতেছে নামানোর জন্য কিন্তু শিশির থামতেছেই না
শিশির-আরে আমি জিমে আরও ওজন নিয়ে practice করসি,don’t worry,ওখানে মেশিন কোলে নিতে পারসি আর এখন বউ বাচ্চাকে নিতে পারবো না??
তনু শিশিরের গলা ধরে আছে শক্ত করে
যারা যারা এই দৃশ্য দেখেছে সবাই হাততালি দিতেছে,,
শিশির তনুকে নিয়ে রুমে এসে একেবারে খাটে নিয়ে নামালো,,
শিশিরের গা ঘামে ভিজে গেসে
তনু আঁচল দিয়ে মুছে দিলো শিশিরের মুখ
শিশির মিষ্টি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে
তনু-পানি খাবেন.এনে দিই?
শিশির-নাহ
তনুর চোখ চিন্তিত
শিশির তনুর মুখ দুহাত দিয়ে বললো তার কোনো কষ্টই হয়নি
তনু শিশিরের দিকে চেয়ে রইলো
শিশির তনুর ঠোঁটে চুমু দিলো,কতদিন পর ছুঁলো মনেই নেয়,হয়ত এই মূহুর্তের জন্য এতদিন ওরা কাছে আসতে পারেনি,
তনু ঘুমিয়ে গেসে,শিশির বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে দেখতেছে,,নিজেকে আজ নতুন বর বর লাগতেছে,শিশিরের মনে পড়লো প্রথম সেই দিনের কথা,তনু কত চেয়েছিলো শিশিরের কাছে আসতে অথচ শিশির সেদিন তনুকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলো
এক নজর তনুর দিকে তাকালো শিশির,শিশিরের জায়গাটায় হাত রেখে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে তনু,,
শিশির বুয়াকে বললো তনুর দিকে যেন খেয়াল রাখে তার বাজারে যেতে হবে,,
বুয়া তনুর কাছে বসে রইলো
তনু যখন চোখ খুললো দেখলো বাচ্চাদের দোলনা খেলনা সব এনে শিশির রুম ভর্তি করে ফেলেছে
তনুর মনে হলো তার বাচ্চারা পাশের রুমেই আছে,,পরে পেট ধরে বুঝলো তারা এখনও আসেনি,
শিশির তনুর হাত ধরে বসলো,,
একটা খেলনার দিকে তাকালো তনু,সেটা হাতে নিয়ে দেখলো
শিশির-এটা নাকি চালালে আক্রমন করে,
শিশির ওটা চালাতেই লাফ দিয়ে তনুর গায়ের দিকে পড়লো,তনু অনেক ভয় পেয়ে গিয়ে পিছিয়ে গেলো
শিশির তাড়াতাড়ি খেলনাটা সরিয়ে ফেললো
শিশির-কিছু হয়নি তনু,এটা একটা খেলনা
তনু শিশিরের হাত শক্ত করে ধরে রাখলো
তনু-আমার খুব ভয় করে শিশির,কোনো ক্ষতি হবে না তো ওদের?? যদি আমার কিছু হয় তাও হোক কিন্তু ওদের কোনো ক্ষতি হতে দিয়েন না
শিশির-চুপ থাকো,বেশি বলবা না,ঘুমাও
তনু-ঘুম আসে না,এতক্ষন তো ঘুমাইসি
শিশির-তাহলে কি করবেন??আসেন টিভি দেখি
শিশির তনুকে নিয়ে সোফায় বসালো,,টিভি অন করে গেলো কফি বানাতে,বুয়া চলে গেসে,,
কফি খেয়ে দুজনেই আজকের তোলা ছবি দেখতেছে,,
তনু-একটা কথা বলবো?
শিশির-হুম বলো
তনু-আমি আপনার যোগ্য না তাই না
শিশির-এমন কেন বলতেছো??!!!
তনু-দেখুন পিকে আমাদের কেমন যেন লাগতেছে
শিশির-আরে বোকা গোল আলুর মত লাগতেছে কারন তুমি আমার ৩টা বাচ্চাকে পেটে ধরে আছো,,বুঝছো,আর সসের সাথে গোল আলু খেতে হেব্বি
তনু ব্রু কুঁচকে তাকালো
শিশির-কি?
তনু-আপনি সস?
শিশির-অবশ্যই,,
তনু-হুহ!তো বললেন না তো??আমি আপনার যোগ্য কিনা
শিশির-তুমি শুধু আমারই যোগ্য আর তাই তুমি আমার বউ,নইতো ভাবো তুমি যেখানে থাকো ওখানে হাজার হাজার মেয়ে আছে,ওদের মধ্যে তুমিই আমার বউ হলা,তার মানে অবশ্যই আমরা made for each other
তনুর মুখে হাসি ফুটলো,,
রাতে খাবার খেয়ে দুজনেই ঘুমিয়ে পড়লো,,
doctor -সরি আমরা একটা বাচ্চাকে বাঁচাতে পারিনি,ও অনেক উইক ছিলো,?
শিশির কান্নায় ভেঙে পড়লো,,
তনুর হাত পা অবশ হয়ে আসতেছে,শিশির আমি মনে হয় আর বাঁচবো না শিশির,
হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতেই তনু চিৎকার দিয়ে উঠে বসলো
শিশির-কি হইসে তনু?তুমি ঠিক আছো??
তনু-এটা স্বপ্ন ছিলো,আল্লাহ!
শিশির-কি হইসে তনু?পানি খাবা??
তনু-শিশির আমার বাচ্চা সব সুস্থ হবে তো?
শিশির-কোনো চিন্তা করিও না তনু,সবাই সুস্থ হবে ইনশাল্লাহ ♥
তনু পানি খেয়ে শিশিরের বুকে শুয়ে পড়লো,,শিশিরের শার্ট খাঁমছে ধরে আছে,,চোখে ঘুম নেই,,
শিশির অনেক tired ছিলো তাই ৫মিনিটেই ঘুমিয়ে পড়লো আবার,,তনুর দেরি করে ঘুম আসলো
ভোর ৫টার দিকে তনু জেগে গেলো,উঠে বাথরুমে গিয়েই বমি করে দিলো,,fresh হয়ে এসে সোফার রুমে গিয়ে বসলো তনু
শিশির ৮টার দিকে উঠলো,,তনুকে না পেয়ে চিন্তায় বের হতেই দেখলো তনু কার্টুন দেখতেছে
শিশির তনুর পাশে বসে দেখলো ওর চোখ মুখ ফুলে আছে,কেমন অসুস্থ লাগতেছে তনুকে
শিশির-তনু তোমার শরীর খারাপ??চোখ মুখ এমন হয়ে আছে কেন
তনু-না,,,এমনিতেই
শিশির তনুর মাথা মুছে দিয়ে খাবার এনে নিজের হাতে তনুকে খাইয়ে দিলো,,অফিসে যাবে না সে,ঘরে বসেই কাজ করবে,তনুকে নিয়ে আর কোনো রিস্ক শিশির নিতে চায় না
তনু এই নিয়ে ২বার বমি করলো,,শিশিরকে ডাক দিলো খাটে বসে
শিশির যেতেই তনু শিশিরকে ধরলো,কথা বলার আগেই senseless হয়ে গেলো তনু,
শিশির তাড়াতাড়ি doctor ডেকে আনলো,উনি বারবার জিজ্ঞেস করলেন তনু বমি করসে কিনা,শিশির বললো সে করতে দেখেনি,
doctor -আমি এই ঔষধটা দিতাম যদি বলতে পারেন উনি বমি করসে কিনা
শিশির-ওর জ্ঞান ফিরা পর্যন্ত ওয়েট করলে হয় না??
doctor -আমি দিয়ে যাচ্ছি,আপনি দিয়ে দিবেন,খুব সোজা,,আমার icuতে রোগী, যেতে হবে
চলবে♥

Crush যখন বর?
Writer-Afnan Lara
#Season_3
#শেষ_পর্ব
তনুর জ্ঞান ফিরতেই শিশির ওকে ধরে উঠিয়ে ইনজেকশান টা দিয়ে দিলো,,
তনু-আমার বাচ্চার কিছু হবে না তো?
শিশির-কিছু হবে না
তনু শিশিরের হাত ধরে বসে থাকলো,,,,
কয়েকদিন পর মা আসলো,সাথে তনুর মা বাবা ও এসেছে,,বাসা এখন ফুল,হইচই,সবাই বাসা গিফটে ভর্তি করতেছে,,৩টা বাচ্চা আসবে,আয়জন তো কম হলে চলবে না,,
তনুর শরীর এখনও খারাপ,নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে যাতে ওদের কোনো ক্ষতি না হয়
সব রেডি এখন শুধু অতিথীদের আসার পালা,আর কয়েকটা দিন বাকি
তনুর অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে,,
কোনো কিছুই মুখে তুলতে পারে না বমির জন্য,,,
শিশিরের ইদানিং খুব ভয় হয়,,advance রক্ত দেওয়ার জন্য ৪/৫জন লোক রেডি করে রেখেছে,,ভালো ভালো doctor রেডি করে রেখেছে,,
এসব দেখে তনুর ভয় আরও বেড়ে যাচ্ছে,,রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না তনুর,তনুর নড়াচড়াতে শিশিরের চোখেও ঘুম আসে না,,
একদিন সকালে♥
শিশির তনুর কপালে চুমু দিয়ে অফিসে চলে গেলো
তনু টিভি দেখতেছে,মা বাবা সবাই মায়ের রুমে গল্প করতেছে,মা একবার এসে তনুকে দেখে গেসে
তনুর পানির পিপাসা লাগায় বুয়াকে বললো পানি দিতে,বুয়া পানি এনে দিলো,,
কিন্তু পরেরবার আবার পিপাসা লাগায় বুয়াকে আর ডাকলো না তনু,নিজেই উঠলো,,টেবিল থেকে পানির বোতল টা নিয়ে পানি খেলো,বোতল টা ছিলো কাঁচের, ওজনে ভারি আর চওড়া
তনুর হাত পিছলে বোতলটা গিয়ে তনুর পায়ের উপর পড়লো,ব্যাথা সয্য করতে না পেরে তনু নিচে বসে গেলো,তাও অনেক আকস্মিকভাবে,,এই মাসগুলোতে এমন situation আর আসেনি,,এভাবেও কখনও নিচু হয়নি তনু,
তাই তাড়াহুড়ো করে বসতে গিয়ে পেটে ব্যাথা পেলো চাপ লাগলো প্রচণ্ড ভাবে আর পা তো ফুলেও গেসে,
বুয়া দৌড়ে এসে ধরলো,,
sound পেয়ে পাশের রুম থেকে সবাই দৌড়ে আসলো,,
তখন দুপুর ১২টা বাজে,
তনুর বাবা শিশিরকে ফোন দিলো
শিশির-তনুর কিছু হয়নি তো,হ্যালো বাবা
বাবা-শিশির হসপিটালে চলে এসো,,বিপদ হয়সে অনেক বড়,তাড়াতাড়ি আসো
শিশির দেরি না করে গাড়ী drive করে তাড়াতাড়ি এসে পড়লো,,পথে চিন্তায়য় শিশিরের অবস্থা কাহিল
শিশির-কি হইসে তনুর??ও ঠিক আছে??আর বাচ্চারা??
বাবা-বুয়া বললো জোরে কিছু পড়ার শব্দ হইসে,তারপর দেখলো তনু নাকি নিচে পড়ে আছে,,
শিশির দেখলো একটা নার্স রক্ত মিশ্রিত তুলা নিয়ে চলে যাচ্ছে
এটা দেখে শিশিরের কলিজা কেঁপে উঠলো,না জানি কি হইসে,
শিশির-প্লিস আমাকে একবার দেখতে দিন,আমি ওরে দেখবো,,ওকে বাঁচান আপনারা, প্লিস
২০মিনিট পর doctor বের হলো
শিশির-তনু ঠিক আছে??আর বাচ্চারা,,,,,,,,,,,,,,,!?
Doctor -এখনও ডেলিবারি হয়নি,উনার অবস্থা খারাপ হয়সে পায়ে ভারী জিনিস পড়ায়,,সেটাতেই ব্যাথা পেয়েছে,,
আমরা পায়ে ব্যানন্ডেজ করে দিসি,
শিশির-এখন নিয়ে যেতে পারবো?
Doctor -নাহ,আজকেই ডেলিবারি করাতে হবে কারন উনি পেটে চাপ খেয়েছেন জোরে,,বাচ্চার অবস্থান নড়ে গেসে,,ওয়েট করেন,,পেইন উঠলেই আমরা কাজ করবো
শিশির-আমি কি ওরে দেখতে পারি??
Doctor -অবশ্যই
শিশির গিয়ে তনুর পাশে বসলো,,
তনু চোখ বুজে আছে,,
প্রায় ঘন্টা খানেক পার হয়ে গেসে,শিশির তনুর হাত ধরে বসে আছে,,
মা তনুকে ধরে খাবার খাইয়ে দিলো,,
তনু-সরি শিশির,আমার জন্য আজ এই বিপদ এসেছে
শিশির-এসব চিন্তা বাদ দাও তনু,,
বিকালের দিকে তনু খেয়াল করলো পেটে চিনচিন করতেছে,ব্যাপারটা স্বাভাবিক লাগলেও পরে এই পেইন আরও বেড়ে গেলো,,তনু শিশিরের হাত টেনে ধরলো
শিশির-কি হইসে?পেইন হচ্ছে??
তনু-হ্যাঁ শিশির,,প্রচণ্ড ব্যাথা করতেছে
নার্স দৌড়ে গিয়ে doctor ডেকে আনলো,,,
শিশিরকে থাকার অনুমতি দেওয়া হলো কিন্তু শিশিরের শরীর খারাপ লাগতেছে,,মনে হচ্ছে আর কিছু সময় এখানে থাকলে জ্ঞান হারাবে,শিশির তাই বাইরে চুপচাপ বসে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে
শিশিরের request এ তনুকে অজ্ঞানের ইনজেকশান দেওয়া হইসে,কারন ৩টা বাচ্চা নরমালে করতে গেলে তনু এই ব্যাথা সয্য করতে পারবে না
শিশিরের শ্বাস নিশ্বাস যেন অফ হয়ে গেসে,,
মা শিশিরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,শিশির না পারতেছে situation টা বহন করতে না পারতেছে দেখতে,,গা কাঁপতেছে শিশিরের,,
২৩মিনিট পর বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেলো সবাই,প্রথমে একটার তারপরে ২টার, কিন্তু ৩য় জনের আওয়াজ আসতেছে না দেখে শিশির দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলো,নার্স দুটো বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,আর doctor রা সিজার করতে ব্যস্ত,,
শিশির-ওর কিছু হবে নাতো
নার্স বাচ্চা দুটো শিশিরের কোলে ধরিয়ে দিলো,
শিশির ওদের দিকে তাকাতেই ওর চোখ আঁটকে গেলো,সেম টু সেম তার চেহারা,এমনকি ঠোঁটের নিচে তিলটাও পেয়েছে একজন,,দুজনেই ছেলে,,তারপর আবার শিশির পরের বাচ্চার দিকে নজর দিলো,
Doctor -এই বাচ্চাটা আঁটকে গেসে,আমরা ওর বডি টাচ করতে পারতেছি কিন্তু টানতে পারতেছি না
শিশির-প্লিস দুজনকেই বাঁচান,
শিশির বাচ্চা দুটোকে নিয়ে মা আর তনুর মায়ের কোলে দিয়ে আসলো,
১০মিনিট হয়ে গেসে doctor এখনও চেষ্টা চালাচ্ছে,,শেষে নাগাল পেলো বাচ্চাটার,,
তার কান্নার আওয়াজ এতই তীব্র যে মনে হয় হসপিটালে উড়িয়ে নিয়ে যাবে
Doctor -এটা মেয়ে আমি সিওরর?
সবাই ১মিনিট হাসলো
শিশির চোখ মুছে কোলে নিলো,,পুরো শিশিরের মায়ের চেহারা☺
Doctor -রক্ত এক ব্যাগ লাগবে,লোকের ব্যবস্থা করুন
শিশির-আমি already এনে রেখেছি,,
শিশির মেয়েকে বাবার কোলে দিয়ে এসে আবার তনুর কাছে বসলো,,তনুকে রক্ত দেওয়া হলো,,
তনুর জ্ঞান ফিরলো,,শিশিরকে দেখা যাচ্ছে,শিশির হাসিমাখা মুখে তাকিয়ে আছে,
চোখ খুলতেই তনু চিৎকার দিয়ে উঠলো
তনু-আমার বাচ্চারা?
শিশির ইশারা করলো পাশে তাকাতে
তনু পাশে তাকালো
তনুর মায়ের কোলে মেয়ে, শিশিরের মায়ের কোলে ছেলে,,মীমের কোলে আরেকটা ছেলে
তনুর হাসিটা দেখে কে,,☺
৩জনকেই তনুর কোলে দিলো সবাই,
তনু একবার একজনকে দেখতেছে,,
শিশির তনুর কপালে চুমু দিয়ে একেএকে সব গুলো বেবির কপালে চুমু দিলো
তনুর সমস্ত যন্ত্রনা মূহুর্তেই বিলীন হয়ে গেলো,,
বাসায় আসার পর নানা আয়োজন শুরু হলো,,
ছেলে দুজনের নাম হলো শান্ত আর শিমুল,, মেয়ের নাম তিয়াশা,,
তনু শিশিরের কাছে বাবুদের রেখে বাথরুমে গেলো
একটা বাবু,,নাম শিমুল,সে কাঁদা শুরু করলো
শিশির-কাঁদা মানে খুধা পেয়েছে,,কি খাওয়ামু?
শুন তোর মা বাথরুমে আসলে খাওয়ামু
ওমা শিমুলের দেখাদেখিতে শান্ত ও কাঁদা শুরু করসে,এবার তিয়াশাও,,
শিশির-আরে চুপ চুপ,কি করবো আমি,
শিশির শান্তকে ধরে চুমু দিলো,ওমা বাবু চুপ,তিয়াশাকে চুমু দিলো তাই,তিয়াশাও চুপ,শিমুল বাদ যাবে কেন,চুমু পাওয়ায় ৩জনেই চুপ
শিশির-বাহ আমি কত brilliant ♥
শিশির উঠে যেতেই ৩জন আবার কাঁদা শুরু করলো
শিশির-কি বিপদরে বাবা,তনু তাড়াতাড়ি আসো,তোমার টিম তো আমাকে পাগল করে ছাড়বে
শিশির ৩জনকেই কোলে তুলে নিলো,হাঁটতে থাকলো,
মা বাবা দাঁড়িয়ে দেখতেছে আর হাসতেছে,,কয়েকবছর আগের শিশির আর এখনকার শিশিরের কত তফাৎ,এটাই তো আমরা চেয়েছিলাম,ভাগ্য করে আমার রাজপুত্র শিশিরের জন্য রাজকন্যা তনুকে খুঁজে এনেছিলাম,আর সে আমাদের ২রাজপুত্র আর এক রাজকন্যা উপহার দিলো,
তনু বের হতেই বাচ্চাগুলা চুপ হয়ে গেলো,বাপের বুকে শান্তিতে চুপ হয়ে আছে
তনু-দেখসো বাপকে কত ভালোবাসে
শিশির-মিথ্যা কথা,এতক্ষন আমাকে জ্বালাইয়া খাইসে
তনু-কই,কত সুন্দর চুপচাপ আছে,
রাখো ওদের আমি রেডি হয়ে নিই,মেহমান আসবে,
শিশির বাচ্চাদের ধরে গাল টিপে দিলো,তনু রুম থেকে বের হতেই সবাই সিরিয়াল ধরে কাঁদা শুরু করলো,
শিশির-ওরে শয়তান,
ব্যস এভাবেই শিশির তনুর আর তাদের ৩জন টক ঝাল মিষ্টি,,শিমুল শান্ত আর তিয়াশাকে নিয়ে দিন কাটতে থাকলো,,বাবুরা শিশিরকে ইচ্ছামত জ্বালায়য়,কিন্তু তনুর চাইতেও শিশিরকে বেশি ভালোবাসে,শিশির ছাড়া তাদের আর কিছু ভালো লাগে না,শিশির অফিস থেকে আসলে,টেনেও ওদের শিশির থেকে ছুটানো যায় না,,
হ্যাপি হ্যাপি হ্যাপি ফ্যামিলি,,
♥♥♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥♥♥♥
(আমি দোয়া করি এরকম সকল তনু যেন তার জীবনে শিশিরকে পায় স্বামী হিসেবে,,তোমরাও আমার জন্য দোয়া করিও)
(কাল থেকে রাক্ষস জামাই সিজন ২ continue হবে,,সেটা তাড়াতাড়ি শেষ হবে,Then প্রেমনেশা সিজন ২??সাথে থাকিও সবাই)

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_46/47/38

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_46
Writer-Afnan Lara

শিশির তনুকে বসিয়ে টিসু এনে ঠোঁট মুছতে মুছতে বললো যে অমি এসেছিলো,বাকিটাও বললো
তনু-ওহ, বেয়াদব একটা
শিশির-আচ্ছা ঔষধ খাবা, ভাত খেয়ে নাও
তনু-আমার মায়ের কাছে থাকতে ইচ্ছে করতেছে
শিশির-অসম্ভব,আমি তোমাকে ছাড়া থাকবো কি করে
তনু-মায়ের কথা খুব মনে পড়তেছে আমার,২দিন ছুটি নিন
শিশির-১দিন পারবো
তনু-সেটা তো আমাকে দিয়ে আসতেই শেষ হয়ে যাবে
শিশির-কিছু করার নাইই,তার চেয়ে বরং মা বাবারে বলো এখানে চলে আসতে
তনু-ওরা এতদূর কিভাবে আসবে
শিশির-তাহলে কি আর করার আমি নাহয় দিয়ে আসবো,থাকলাম তোমাকে ছাড়া
শিশির মন খারাপ করে চলে গেলো
তনু-?আমার বুঝি মা বাবাকে দেখতে মন চায় না
রাতে তনু শিশিরের কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরতেই শিশিট সরে গেলো
শিশির-হুহ ঢং
তনু-এমন করেন কেন?আমি মা বাবাকে দেখি না কতদিন হয়ে গেসে,আমার বুঝি দেখতে মন চায় না
শিশির-হুম দিয়ে আসবো কাল
পরেরদিন তনু মা বাবাকে সালাম করে বের হলো,গাড়ীতে শিশির কথা বলতেছে না
তনু-আইসক্রীম খাব
শিশির তাও গাড়ী চালাচ্ছে চুপচাপ
তনু-খিধা লাগসে আমার
শিশির পানির বোতল এগিয়ে দিলো
তনু পানি খেয়ে তাকিয়ে রইলো
তনু-আমার সত্যি খিধা পেয়েছে
শিশির একটা হোটেলের সামনে গাড়ী থামালো
অনেকগুলো খাবার অর্ডার করলো
শিশির-নাও খাও
তনু অল্প খেয়ে আর খেতে পারতেছে না,শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে
শিশির-সব খেতে হবে নইতো খবর আছে,খিধা খিধা করে মাথা খাইসে আমার
তনু জোর করে আরেকটু খেলো,
শিশির ধরে পরোটা একটা খাইয়ে দিলো জোর করে
ক্যাশে টাকা দেওয়ার সময় একজন লোক এসে বললো তনু বাইরে বমি করতেছে ,উনার ওয়াইফ তনুকে ধরেছে,শিশির তাড়াতাড়ি করে গিয়ে তনুকে ধরলো
পানি খাইয়ে গাড়ীতে বসালো
শিশির-সরি,
তনু-?
তনু শিশিরের কাঁধে মাথা রাখলো,শিশির drive করতেছে
তনু-বেশি থাকবো না??
রাতে গিয়ে ওরা বাসায় পৌঁছালো,,
তনু অনেক ক্লান্ত ছিলো তাই ঘুমিয়ে পড়লো
শিশির বসে আছে,আবার রওনা দিতে হবে,
ইদানিং অফিসে এত কাজ যে বলে বুঝানো যাবে না,এর ভিতর ওর এমন ঘুম থেকে আমার ওকে জাগাতে মন চাচ্ছে না
আর ৫মিনিট বাকি,শিশির তনুর হাত চেপে ধরতেই তনু জেগে গিয়ে উঠে বসলো
শিশির-তনু লেট হচ্ছে আমি যাই
তনু-এখনই?আরেকটু থাকেন
শিশির-নাহ,৭দিন পর আসবো,ভালো থেকো,নিজের খেয়াল রেখো,ফোন দিও
তনু শিশিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলো
শিশির তনুর কানের কাছে মুখ নিয়ে চুমু খেলো,ওর কপালে চুমু দিয়ে উঠে চলে গেলো,
শিশির বাসায় আসতে আসতে পরেরদিন দুপুর হয়ে গেসে,
একটু rest করেই অফিসে চলে গেলো,
তনু তো সময়ই পাচ্ছে না,সবাই ওর আত্নীয় স্বজনে ভীড় হয়ে গেসে,তনুর ৩টা বাচ্চা হবে,সবাই একেএকে ওকে দেখতে আসছে
শিশিরের কিছু frd বললো ঘুরতে যাবে সাথে ওকে নিয়ে যেতে
তো যেমন কথা তেমন কাজ,বউ নাই,ঘুরতে যেতেই পারে তাও রাতের পার্টি,কাজ ও নেই
সবাই মিলে ঘুরলো খেলো,শেষে মদ আনলো
শিশির আগে খেত কিছুদিন অফ রাখসিলো খাওয়া তাই এখন সামনে পেয়ে লোভ সামলাতে পারলো না,এক বোতল খেয়েই ছাড়লো,চারপাশে গুনে গুনে ১০টা তনুকে দেখছে শিশির,যদিও সব পার্টির মেয়ে, নিজেকে ঠিক করে ওয়াসরুমে গিয়ে মুখে পানি দিলো,একটা মেয়ের হাত শিশিরের শার্ট ছুঁলো
শিশির চোখ মুছতে মুছতে ঘুরে তাকালো,তনু??এখানে??কিভাবে
শিশির দেখলো এটা সত্যি তনু,
শিশির জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিলো মেয়েটাকে,নিয়ে সিটে বসালো,মাথার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ওর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো
পরেরদিন সকালে♥
তনু-উফ ফোন ধরতেছে না কেন আমার
তনু মাকে কল দিলো মা বললো কাল শিশির বাসায় আসেনি,বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেসে
তনু আরও চিন্তায় পড়ে গেলো,,তনুর ফোনে একটা আইডি থেকে কিছু পিক পাঠালো
নেট স্লো তাই পিক আসতেছে না,তনু ফোন রেখে গোসল করতে চলে গেলো
শিশির যখন চোখ খুললো নিজেকে একটা হোটলের রুমে পেলো,শার্টের বোতাম গুলো ও ঠিকঠাক নেই,শিশির চমকে উঠে বসলো,গালে লিপ্সটিকের দাগ,এসব কি,,শিশির মাথায় হাত দিয়ে উঠে দাঁড়ালো,উফ মাথাটা অনেক ধরসে,
শিশির ফোন খুঁজে দেখলো তনুর ৫৬টা মিসড কল,
শিশির তনুকে ফোন দিলো
তনু বাথরুমে তাই রিসিভ করতে পারলো না
শিশির fresh হয়ে গাড়ী নিয়ে সোজা অফিস গেলো,
তনু চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসলো,ফোন হাতে নিয়ে মেসেজটা চেক করার পর তনুর যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো
এসব কি ধরনের পিক,আর কিছু ভিডিও,আমার শিশির এমন না,এটা হতে পারে না
শিশির!
তনুর চোখ থেকে পানি পড়তেছে,শেষমেষ নাতাশার সাথে এমন করলো শিশির,আমার আগেই ভাবা উচিত ছিলো,,পিক মিথ্যা হতে পারে কিন্তু ভিডিও?
তনু চোখ মুছতে মুছতে নিচে বসে পড়লো
পেটে ব্যাথা করতেছে হঠাৎ করে,,
মা-একি তনু,কি হইসে
তনু চোখ মুছে নিলো
তনু-না কিছু না,
শিশির তনুকে ফোন দিলো,তনু ফোনের দিকে তাকিয়ে বসে আছে,,
আমি একদিন থাকলাম না আর শিশির,আমার কেন বিশ্বাস হচ্ছে না,এত প্রমানের পরও
তনু পেটে হাত দিয়ে বসে আছে,ব্যাথা বেড়ে যাচ্ছে,,এখনও ২মাস বাকি,,তাহলে এখন ব্যাথা করতেছে কেন,,
তনু ব্যাথাটা সারাদিন সয্য করলো
মাকে শিশির ফোন দিয়ে বললো তনুকে ফোন দিতে
মা-তনু তো ঘুমায়,
শিশির-ওহ,আচ্ছা উঠলে বলবেন ফোন চেক করতে
মা-ঠিক আছে
তনু রাতে উঠলো,পেটের যন্ত্রনা অনেক বেড়ে গেসে,,
ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো শিশিরের কল
তনু ফোনটা নিয়ে রিসিভ করলো
শিশির-তনু,কি হইসে তোমার,আমার কল ধরতেছো না কেন,সারাদিনে কতবার ফোন দিসি তোমাকে?
তনু-এই ধোকা না দিলেও পারতেন,আমি কি দোষ করেছি,আপনাকে ভালোবাসাটা আমার অপরাধ ছিলো??নাতাশাকে যে আমার চাইতেও ভালোবাসেন আর কত প্রমান করবেন, আমি কি এতই খারাপ,
শিশির-কি বলতেছো এসব?
তনু-যাই হোক,আমি ডিভোর্স দিয়ে দিব আপনাকে,আপনি নাতাশার সাথে আরও বেশি সুখী হবেন,
তনু ফোন রেখে দিলো,
শিশির-মানে?
যে আইডি থেকে তনুকে ছবি আর ভিডিওগুলা দিসিলো সেই আইডি থেকে এবার শিশিরকেও ছবি গুলো দেওয়া হলো
শিশিরের চোখ কপালে,নাতাশা শিশিরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে,শিশিরের কোলে নাতাশা,এসব পিক,ওর গালে চুমু দিচ্ছে,চুমু দেওয়ার সময় ভিডিও করসিলো,
শিশিরের জ্ঞান যে নাই তা একদম বুঝা যাচ্ছে না আর তার কারন হচ্ছে শিশির চোখে তনুকেই দেখেছে,
শিশির চমকে উঠলো এমন ছবি ভিডিও দেখে,তারপর বন্ধুদের ফোন দিলো,ওরা বললো শিশিরই নাকি কাল ওদের চলে যেতে বলেছে,সে নাকি নাতাশার সাথে time spend করতে চায়
শিশির-তনুকে কি করে বুঝাবো আমি,ওর এসময়ে কেন এমন একটা ভেজাল হতে গেলো,না জানি একা একা কি করতেছে,শিশির মাকে ফোন দিয়ে বললো তনুর খেয়াল রাখতে
মা বললো তনুর নাকি সকাল থেকে শরীর খারাপ,খাট থেকেও নামতে পারতেছে না
শিশির একটা নতুন stuffএনে ওকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে সোজা নাতাশাদের বাসায় গেলো,গিয়ে নাতাশাকে চড়ের উপর চড় মারতে থাকলো,
শিশির-জীবনে তো কোনো ছেলে পাবা না তাই এমন করতেছো আমাকে নিয়ে তাই না,,আমার লাইফটাকে হেল করতে চাচ্ছো,কালকের নাটকটা কেন করলা???!
নাতাশা-যাতে তনু তোমাকে ভুল বুঝে?
শিশির নাতাশাকে আরেকটা চড় মারলো,এখন যদি ওরে মেরেও ফেলি তাও রাগ কমবে না,
শিশির বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে,মাকে বলে তনুদের বাসার জন্য রওনা দিলো,
তনু কিছু খেতে পারতছে না পেটে ব্যাথার জন্য,doctor বললো এমন হয় মাঝে মাঝে টেনশানের কিছু নেই
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_47
শিশির রাতেই তনুদের বাসায় আসলো,এসে দেখলো তনু চোখ বুজে শুয়ে আছে,আর একজন মহিলা doctor তনুর হাতে ইনজেকশান দিচ্ছে,
শিশির-কি হইসে ওর
মা-পেট ব্যাথা বেড়ে গেসে
শিশির doctor এর দিকে তাকালো
Doctor -উনি প্রচণ্ড tensed ছিলেন যার কারনে এই সমস্যা দেখা দিসে,উনাকে টেনশন মুক্ত রাখার চেষ্টা করবেন
শিশির-হুম ওকে
শিশির তনুর মাথায় হাত বুলাচ্ছে বসে বসে
মা শিশিরের জন্য খাবার রেডি করতেছে
তনু চোখ খুলে শিশিরকে দেখে খুশি হয়ে গেলো,পরক্ষনেই ওর ছবি আর ভিডিওর কথা মনে পড়ে যেতেই শিশিরের হাত সরিয়ে ফেললো
তনু-টাচ করবেন না আমাকে,আপনি খুব খারাপ
শিশির -তনু বিশ্বাস করো আমাকে
তনু-আপনি এখানে এসেছেন কেন,চলে যান এখান থেকে,আমি আপনার মুখ দেখতে চাই না
তনু কথাগুলো কেঁদে কেঁদে বলতেছে
শিশির-সব বাদ,তুমি শান্ত হও প্লিস,
তনু-চলে যান এখান থেকে
শিশির-ঠিক আছে চলে যাব
শিশির তনুর চোখ মুছতে গেলো তনু পিছিয়ে গেলো
শিশির-ঠিক আছে,চলে যাচ্ছি
শিশির বেরিয়ে গেলো
মা-শিশির দাঁড়াও,কিছু খেয়ে যাও
শিশির-মা আমি এখানেই আছি,আমাদের বাসায় থাকবো,
শিশির চলে গেলো,রহিম চাচা খাবার রেডি করে দিসে,
শিশির মুখের সামনে খাবার ধরে বসে আছে,শুধু তনুর কথা মনে পড়তেছে,
রাত ১টা বাজে,কি করতেছে কে জানে
শিশির আর থাকতে না পেরে আবার রওনা দিলো,তনুদের বাসায় আসলো,বুয়া দরজা খুলে দিসে,
তনু ঘুমিয়ে গেসে,শিশির গিয়ে ওর গায়ের কাঁথা টেনে ঠিক করে দিয়ে ওর পাশে শুয়ে পড়লো,
সকালে তনু উঠে পাশে তাকালো,কেউ নেই,কিন্তু আমার কেন মনে হলো শিশির আমার পাশে ছিলো,
শিশির সকাল সকাল চলে গেসিলো,তনু উঠার আগেই
তনু উঠে fresh হয়ে আবার এসে বসলো খাটে,শিশিরের হাতের ঘড়ি বিছানায় এক কোণে পড়ে আছে,তার মানে শিশির কাল রাতে সত্যিই এসেছিলো
ছবি গুলো আর ভিডিও গুলো তনু আবার দেখলো,দেখে আবার কষ্টে কেঁদে দিলো,চোখ মুছে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো,
শিশির গালে হাত দিয়ে বসে আছে তাদের বাসায়,তনু এত কাছে আছে তাও তাকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি নাই
শিশির নিজেকে control করতে না পেরে বেহায়ার মতন গেলো দেখতে, তনু বারান্দায় বসে বাইরে দেখতেছে
শিশির-আসবো?
তনু তাকিয়ে দেখলো শিশির বারান্দার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে
তনু কিছু বললো না,চোখ ফিরিয়ে নিলো
শিশির এসে তনুর পাশে বসলো
তনু হাত ধরতেই তনু হাত ছাড়িয়ে নিলো
তনু-এই হাত অন্য নারীকে ছুঁয়েছে,এই হাত আমার যোগ্য নাহ,নোংরা হাত,আমি চাই না,আমার বাচ্চাদের গায়ে এই হাত লাগুক
শিশির-তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না?
তনু-করি,কিন্তু এবার??বিশ্বাস করার মতন কিছু আমি দেখতেছি না
শিশির-আমি নেশার ঘোরে ছিলাম তনু,আর আমি ভাবসি ওটা তুমি
তনু-ওহ এখন আপনি মদ ও খান তাই না
শিশির-আমি তোমাকে ভালোবাসি তনু,তোমাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে কেন,,
তনু-ব্যস,!অন্য কাউকে তো না,নাতাশাকে,নাতাশাতো অন্য কেউ না,নাতাশা আপনার ভালোবাসা,একমাত্র,আর আমি নামেমাত্র
তনু উঠে দাঁড়ালো
তনু-চলে যান এখান থেকে
তনু রুম থেকে বেরিয়ে গেলো
তনু নাস্তা করে এসে দেখলো শিশির তনুর খাটে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে,
তনু আবার চলে গেলো,
শিশির শান্তিতে ঘুমাচ্ছে,,
বিকালের দিকে শিশির চোখ খুলে তাকালো,তনু বসে তাকিয়ে আছে
শিশির-গুড afternoon বউ
তনু কাগজ একটা এগিয়ে দিলো,
শিশির পড়ে দেখলো ডিভোর্স পেপার আর তনুর সাইন করা
শিশির চোখ ডলে আবার চেক করলো
শিশির-আর ইউ সিরিয়াস?
তনু-বেরিয়ে যান,আপনার সাথে আমার সব সম্পর্ক শেষ
শিশির-তনু তুমি এটা পারলে??
শিশির উঠে তনুকে জড়িয়ে ধরতে গেলো তনু সরে গেলো
শিশির আরও এগিয়ে গিয়ে তনুকে ধরলো
শিশির-তনু আমাকে বিশ্বাস করো
তনু তাকাচ্ছে না শিশিরের দিকে
শিশির তনুর মুখ ধরে চুমু দিতে যাবে তনু শিশিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো
তনু-সাহস হয় কি করে আপনার??নাতাশাকে তো চুমু দিসিলেন,আবার আমাকে কেন??আই hate you
তনু গিয়ে মাথা ধরে খাটে বসলো
শিশির চুপচাপ কাগজটা নিয়ে চলে গেলো,
বাসায় এসে বসলো,রহিম চাচা
রহিম চাচা-বলুনন ছোট সাহেব
শিশির-আমার জন্য মদ আনার ব্যবস্থা করো
রহিম চাচা-কিন্তু
শিশির চোখ রাঙিয়ে তাকালো,
রহিম চাচা গিয়ে মদ এনে দিলো
শিশির-বেরিয়ে যাও
শিশির দরজা লাগিয়ে গিয়ে বসলো,হুহ এই মদ আমার থেকে তনুকে নিয়ে গেসে,আই উইস এই মদই আবার ফিরিয়ে আনবে,
শিশির কাগজটার দিকে তাকিয়ে হাসলো,তারপর মদ খেতে থাকলো,কখন যে ঘুমিয়ে পড়সে সেদিকে খবর নেই
তনু শিশিরকে ভুলার চেষ্টা করতেছে,,বাবুদের ভারের জন্য ঠিকমত হাঁটা চলাও সম্ভব হচ্ছে নাহ
তাই বেশির ভাগ সময় তনু বিছানায় থাকে,ফোন অফ করে মায়ের আলমারিতে রেখে দিসে তনু,যাতে শিশিরকে মনে না পড়ে,কিন্তু তারপরেও সারাদিন চোখে, মনে,শুধু শিশিরের কথাই আসে,
ওদিকে শিশিরের অবস্থা নাজেহাল, মদ খেয়ে খেয়ে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিসে,দরজা খুলে না,সারাদিন একা রুমে থাকে,রহিম চাচা তনুকে অনেকবার ফোন দিসে,কিন্তু তনুর তো ফোন অফ,
শিশিরের খুব জ্বর তাও,শুয়ে আছে,টিভি দেখতেছে,
৫দিন হয়ে গেসে দুজন দুজনের খবর নেয় না,রহিম চাচা পরে মাকে কল দিয়ে সব জানিয়ে দেয়,মা বাবা দেরি না করে তারাও রওনা দিয়ে দেয়,,
তারা এসে অনেকক্ষন ধরে দরজা ধাক্কানোর পর শিশির দরজা খুলে
শিশির-কে??
মা-শিশির!তোর এই অবস্থা কেন?আর তনু কই
তনু নামটা শুনে শিশিরের চোখে পানি এসে গেলো,চোখ মুছে গিয়ে খাটে বসলো
মা-তনু কই?
শিশির-জানি না
মা-কেন জানস না, আর তোর এই অবস্থা কেন?গায়ে জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে আর তুই একবার ফোন পর্যন্ত দেস নাই
মা-আমি তনুকে নিয়ে আসতেছি
শিশির-ও এখন আমাদের পর হয়ে গেসে মা
মা-মানে?
শিশির কিছু বললো না,কাঁথা টেনে শুয়ে পড়লো
চলবে♥
(ডিভোর্স হয়নি,কেউ আমারে বকবা না কইয়া দিলাম?কেমনে কি হইসে তা কালকের পার্টে বুঝবা)
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_48
মা পানি এনে শিশিরের মাথায় পানি দিলো,,
শিশির ঘুমাচ্ছে,,মা এবার তনুকে আনতে গেলো,
তনু মাকে দেখে কিছুটা অবাক হলো
তনু-মা আপনি?সব ঠিক আছে তো
মা-কিছুই ঠিক নেই রে,,তোদের মধ্যে কি হইসে বল??শিশির অনেক অসুস্থ হয়ে গেসে,মাত্র মাথায় পানি দিয়ে আসলাম,এই কদিনে ঠিকমত খাওয়া দাওয়া ও করেনি,তুই শিশিরকে বাঁচা মা,
মা কাঁদতে থাকলো তনুর হাত ধরে,
তনু-মা প্লিস কাঁদবেন না
তনু মায়ের সাথে উনাদের বাসায় আসলো,তনু শিশিরের রুমে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিশিরের দিকে তাকিয়ে, শিশির গভীর ঘুমে আছে
সকালে শিশির উঠলো,, উঠে চোখ ডলতে ডলতে মদের একটা বোতলে হাত দিতেই তনু হাত থেকে বোতলটা নিয়ে নিলো
শিশির চোখ কচলিয়ে ভালো করে তাকালো,তনু?নাহ ঘুমের ঘোরে ভুল দেখতেছে
শিশির বোতলটা টান দিতেই তনুও টান দিলো
শিশির-আজ আবার চোখের ভুলে কারে রেখে কারে দেখছি কে জানে,
শিশির একটা ধাক্কা দিলো তনুকে
তনু নিচে পড়ে যাওয়া ধরলো,পরে যাওয়ার সময় শিশিরের হাত ধরে ফেললো,শিশির দেওয়াল ধরে balance করে নিলো,
শিশির-এটা তো সত্যি সত্যি তনু
শিশির টান দিয়ে তনুকে বুকে নিয়ে এলো
শিশির-সরি আমি বুঝতে পারিনি,তুমি ঠিক আছো?
তনু কিছু বললো না,বোতলটা নিয়ে চলে গেলো,
শিশির fresh হয়ে,আলমারি থেকে একটা মদের বোতল খুঁজে গিয়ে খাটে বসলো
তনু নাস্তা নিয়ে এসে দেখলো শিশিরর বোতল থেকে গ্লাসে মদ ঢালতেছে
তনু টান দিয়ে গ্লাসটা নিয়ে নিলো
তারপর ব্রু কুঁচকে নাস্তার ট্রে এগিয়ে দিলো
শিশির-আমার অভ্যাস হয়ে গেসে তনু,মদ দাও,নাস্তাতে পেট ভরবে না
তনু মদের বোতল নিয়ে চলে গেলো
শিশির আর উপায় না পেয়ে রুটি একটা খেয়ে নিলো,
তনু শিশিরের সামনে আসে না,দূরে দূরে থাকে
শিশির-এতই পর হয়ে গেসি তাই না?
তনু কথাটা শুনলো কিন্তু কিছু বললো না
দুপুরে মা বাবা ঘুমাতে চলে গেলো,,তনু সোফায় বসে আছে,,মাথা হেলান দিতেই ঘুম এসে গেলো
শিশির চুপিচুপি এসে তনুর সামনে ফ্লোরে বসলো,তনুর গালে হাত দিয়ে টাচ করলো,এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতেছে,
তনুর গালে নিজের ঠোঁট লাগালো শিশির,,এরকম অনূভুতি আর হয়নি কখনও,,
শিশিরের গালের ছোট ছোট দাঁড়িতে খোঁচা লাগতেই তনু জেগে গেলো,হঠাৎ শিশিরকে দেখে তনু চমকে উঠলো
শিশির-আমি আমি,ভয় পেও না
তনু উঠে চলে গেলো,কিছুদূর হাঁটতে হাঁটতে পিছনে তাকালো,দেখলো শিশির নেই তনু সেই দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো,
শিশির -কাকে খুঁজছো?
তনু কিছুটা লজ্জা পেয়ে চলে গেলো,
শিশির খাটে বসে তাকিয়ে আছে আর তনু বারান্দায়
শিশির যদি এখন বারান্দায় যায় তবে তনু বাসা থেকেই চলে যাবে
তনুর কষ্ট হচ্ছে একটু rest করলে ভালো হতো,কিন্তু খাটে তো শিশির,যেতে কেমন জানি লাগতেছে
শিশির-তনু,এখানে এসে ঘুমাও,আমি বাজার থেকে ঘুরে আসি
তনু ভাবতে থাকলো শিশির কিভাবে বুঝলো,
শিশির চলে গেলো,তনু এসে খাটে শুতেই ঘুমমমমম,
শিশির বাজারে গিয়ে গোলাপ কিনলো তনুর জন্য,সাহস পাচ্ছে না,তনুকে দিতে
বিকাল হতেই শিশির আসলো বাসায়,খাটে তনু নেই,আবার চলে গেলো না তো
শিশির তাড়াহুড়ো করে সোফার রুমে আসতেই দেখলো তনু মায়ের সাথে বসে চা খাচ্ছে
শিশির ফুলটা নিয়ে খাটে রেখে এসে মায়ের পাশে বসলো,
তনু শিশিরকে দেখে উঠে চলে গেলো
রুমে এসে দেখলো বিছানায় একটা গোলাপ,
তনু গোলাপটা হাতে নিয়ে তাকিয়ে আছে,হঠাৎ নিজের পেটে কারোর স্পর্শ পেলো তনু,শিশির ধরেছে,
তনু শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
শিশির-ওভাবে আর কখনও,,,,,,,,থাক,নাই ছুঁলাম,,,,,
শিশির-একটা কথা বলবা
তনু চুপ হয়ে আছে
শিশির-তোমাকে সেদিন ছুঁয়ে আমি ঢাকায় ফিরে এসেছিলাম,সেই ছোঁয়া কি তোমার ফেক মনে হইসে?আমি কি এত খারাপ??
আমাদের বাবুদের জন্য হলেও তো ভাবতা,কেন এতবড় সিধান্ত নিলে তুমি,আমাকে কি বিশ্বাস করা যায় না একবার ও??ঐ ছবিগুলোই সব?
তনু-ভিডিও?
তনু শিশিরের দিকে ফিরে তাকালো,নিজের ফোন থেকে ভিডিওটি play করলো
তনুর চোখ থেকে পানি অনবরত পড়তেছে
শিশির তনুকে ধরতে যাবে তনু পিছিয়ে গেলো
তনু-পাপী,
তনু গিয়ে খাটের এক কোণে বসলো,গোলাপটা ছুড়ে ফেলে দিলো নিচে
শিশির ভিডিওটির দিকে তাকিয়ে আছে,কি দিয়ে কি প্রমান করবো তাই বুঝতেছি না আমি
শিশির বালিশ নিয়ে সোফায় বসলো,
তনু না দেখার ভান করে বসে আছে,
শিশির-একটা সময় মেয়েটা আমার জন্য পাগল ছিলো আর এখন আমাকে পাগল করে ছেড়েছে,
রাতে ♥
তনু বসে আছে গালে হাত দিয়ে,ঘুম আসতেছে না,শিশির মরার মত ঘুমাচ্ছে,লাইটের আলো গিয়ে ওর মুখে পড়েছে,,এত সুন্দর লাগতেছে যে তনু শিশিরের দিকেই তাকিয়ে আছে,,আমার বাবুগুলো যেন সব শিশিরের চেহারা পায়,কিউট কিউট কিউট
অনেকক্ষন কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে থাকলে আপনার পাকা ঘুম ভেঙে যাবে
শিশিরের ক্ষেত্রেও তাই হইসে
শিশির ঘুম ভেঙে যেতেই চোখ খুলে দেখলো তনু বসে তাকিয়ে আছে খাট থেকে
তনু শিশিরকে দেখে চোখ আরেকদিকে ফিরিয়ে নিলো
শিশির-কি হইসে তনু?ঘুমাও না কেন,কোনো সমস্যা?
তনু কিছু বললো না
শিশির উঠে এসে তনুর পাশে বসলো
শিশির-খাবা কিছু??
তনু-না
শিশির তাহলে ঘুমাও,আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিই
তনু-লাগবে না,সরুন
শিশির-হুম এখন তো আমি অপরিচিত লোক
শিশির গিয়ে সোফায় বসলো আবার
শিশির-এখন যদি আমি তোমাকে জোর করে আদর করি?
তনু-????
শিশির-?
শিশির ডিভোর্স পেপারটা নিয়ে দেখতে বসলো,,ছিঁড়ে ফেললো তো হবে,ডিভোর্স হবে তখন?
শিশির পেপারটা পড়ে কিছুক্ষনের জন্য থ হয়ে বসে রইলো
আরে এটা তো আমার বানানো ফেক ডিভোর্স লেটার টা যেটা আমি অমিকে দেখানোর জন্য বানাইসিলাম
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে বসে আছে,শয়তান মেয়ে একটা,আমি তো ভয় পেয়ে গেসিলাম,
শিশির-তার মানে ডিভোর্স হয়নি,যাক,তাহলে এখন গিয়ে বউরে জড়িয়ে ধরতে পারবো কোনো প্রকারর বাধা ছাড়াই
শিশির গিয়ে তনুকে ঝাঁপটে ধরে শুয়ে পড়লো
তনু-একি,সরুন,ধরবেন না আমাকে
শিশির-তোমার কারসাজি ধরা খাইসে,
তনু-কি মানে
শিশির-মানে আপনি আমার আইনগত বউ এখনও,
তুমি দেখি চোরের উপর বাটপারি করসো,আমি ফেক লেটার বানাই অমিরে ধোকা দিসি আর তুমি সেই পেপার দিয়ে আমাকেই ধোকা দিসো,বলতে হবে অনেক চালাক তুমি,তাহলে এই চালাকি নাতাশার কাজকর্ম বের করতে লাগাও,আমাকে শান্তি দাও,এ কদিনে মরে যাওয়ার মত অবস্থা হইসে, বিশ্বাস করো তনু আমি সৎ,আমি উল্টা সিধা কিছু করিনি,আর যা দেখসো ওগুলা তুমি ভেবে করসি,বিশ্বাস করো
তনু শিশিরকে ছাড়িয়ে নিলো
তনু-দূরে থাকুন,প্রমান হলে টাচ করবেন,
চলবে♥

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_43/44/45

0

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_43
Writer-Afnan Lara

শিশির তনুর দিকে অসহায়ের মতন তাকিয়ে আছে
তারপর শিশির গ্লাসের জুস তনুকে না দিয়ে নিজেই খেয়ে ফেললো
কিন্তু শিশিরের কিছুই হলো না
অমি-আমি কি বোকা??তোমাকে আমি বিষ আলা জুস দিব আর তুমি best husband হয়ে ওটা তনুকে না দিয়ে খেয়ে ফেলবা,এটাতে বিষ ছিলো না শিশির,আমি তোমার সামনে,এবং তোমাকে দিয়ে তোমার বাচ্চাকে মেরে ফেলবো
তনু কথাটা শুনে ওর মাথা ঘুরে উঠলো পড়ে যাওয়া ধরলো শিশির ধরতে যাবে ছেলেগুলো ওরে আটকে ফেললো
তনু নিচে পড়ে গেলো,,
অমি ইশারা করতেই একটা ইনজেকশান শিশিরের হাতে দিলো ছেলেটা,,
মীমের মাথার সাথে গুলি টাচ করে ফেলেছে already
অমি-ইনজেকশান দাও তনুকে
শিশিরের চোখ থেকে পানি পড়তেছে,,
তনু পেটে হাত দিয়ে বসে আছে,
শিশির নিচে বসলো তনুর সামনে
শিশির-কিচ্ছু হতে দিব না তোমার
তনু-দিন,তাও মীমকে বাঁচান
শিশির তনুর হাত ধরলো,,
তনু শিশিরের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে
অমি-ওটা অজ্ঞানের ইনজেকশান,,তনুর অজ্ঞানের পর তোমার সামনে বেবি মারা যাবে,বাট তনু যেন ব্যাথা না পায় তার জন্য অজ্ঞান করতেছি
শিশির চুপচাপ তনুকে ইনজেকশানটা দিয়ে দিলো,,মিনিটেই তনু অজ্ঞান হয়ে শিশিরের বুকে পড়লো,
শিশির-কি চাও বলো দিয়ে দিব,কিন্তু ওদের কোনো ক্ষতি করো না,,
অমি-ঠিক আছে,,তনুর বাচ্চা আর তনুর কোনো ক্ষতি করবো না,,
তুমি তনুকে নিয়ে বাসায় চলে যাও,
মীম আমার বাসায় থাকবে,যতদিন না task complete হয়,,
আর হ্যাঁ don’t worry আমি ওরে টাচ করবো না,
interest আমার তনুর উপর,,তুমি তনুকে ডিভোর্স দিবে,,তাহলে তনু আর ওর বাচ্চার কোনো ক্ষতি আমি করবো না
শিশির-ও মানবে না,আমি পারবো না
অমি-ঠিক আছে,তাহলে হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছি,কি বলো?
শিশির -ঠিক আছে
অমি-আর হ্যাঁ,,তোমার রুমে,সোফার রুমে,তোমার গাড়ীতে,even তোমার full বাসায় আমার লোকেরা bluetooth device ta লাগাই দিসে,,যা বলো শুনবো,তনুকে এসব জানানোর চেষ্টা করসো তো মীমের কি হাল হবে ভাবো,আর তোমার সন্তানের কি হবে??
এখন যাও কেমন??
অমি চলে গেলো দলবল নিয়ে,
শিশির তনুকে নিয়ে বাসায় আসলো,,
মা-কিরে তুই কি এসি ঠিক করতে লোক পাঠাইসিলি?
শিশির বুঝলো ওরা bluetooth device ta লাগাতে এসেছিলো,
শিশির তনুর পাশে বসে আছে,,
তনু চোখ খুলে তাড়াতাড়ি উঠে পেটে হাত দিলো
শিশির-বাচ্চা ঠিক আছে
তনু শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে
তনু-আমি ভয় পেয়ে গেসিলাম,ওটা কি ছিলো
শিশির-একটা দুঃস্বপ্ন,ভুলে যাও
তনু মুচকি হেসে শিশিরকে আরও শক্ত করে ধরলো,শিশির তনুকে ছাড়িয়ে নিলো
তনু-কি হইসে
শিশির-আমার কাজ আছে,rest নাও
শিশির চলে গেলো,
তনু অনেক tired তাই শুয়ে পড়লো
মা-শিশির মীমকে কলেজ থেকে নিয়ে আয়
শিশির-মা ও মামাদের বাসায় থাকবে কদিন,আমাকে খুব করে বলসে তাই রেখে আসলাম,ওর নাকি কিছু ভালো লাগে না,,তনু বাজারে গেসিলো সাথে করে ওর জামাকাপড় নিয়ে গেসে,,
মা-একবার আমাকে বললো না মেয়েটা,থাক ওখানে থাকলে ওর মন ভালো হয়ে যাবে
তনু দুপুরের দিকে উঠে বারান্দাতে দাঁড়ালো,fresh লাগতেছে,
শিশির গোসল করে এসে চুল মুছতেছে
তনু গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো শিশিরকে
শিশিরের কোনো react নাই,চুপচাপ চুল মুছতেছে
তনু শিশির ঘাড়ে নাক ঘষতে লাগলো
শিশির এবার তনুকে সরিয়ে রুম থেকে চলে গেলো
তনু পিছন পিছন গেলো,
শিশির চুপচাপ খাবার খাচ্ছে
মা-আয় তনু বস,,
তনু-না মা খাব না খিধে নেই,তখন বাজারে গেসি না,খেয়েছি
তনু চলে গেলো
শিশির জানে তনু কিছুই খায়নি,তাই নিজেও আর খেলো না
রুমে যায় নি,টিভি দেখতেছে বসে বসে
তনু এসে পাশে বসলো
শিশিরের হাত জড়িয়ে ধরলো
শিশির বিরক্তিবোধ নিয়ে তনুকে সরাতে যাবে তাকিয়ে দেখলো তনু ঘুমিয়ে গেসে
শিশির-(আমি চাই তুমি আমাকে ঘৃনা করো,তারপর ডিভোর্স পেপারে সাইন করতে তোমার কষ্ট হবে না,এতে করে অন্তত তুমি, আমার সন্তান আর মীম বেঁচে যাবে)
তনু চোখ খুলতেই দেখলো সে এখনও শিশিরের কাঁধে,
শিশির যেই খেয়াল করলো তনু জেগে গেসে,উঠে চলে গেলো
তনু চোখ ডলতে ডলতে রান্নাঘরে গেলো,আপেল,কমলা ২টা নিয়ে বারান্দায় এসে বসলো,,ওগুলা খেয়ে বসতেই পেটে সইলো না,দৌড়ে গিয়ে বমি করে দিলো
দূর্বল হয়ে সোফায় বসলো
শিশির বুয়াকে দিয়ে খাবার পাঠালো,,
তনু অর্ধেক খেয়ে রেখে দিলো
শিশির রুমে আসতেই তনু জড়িয়ে ধরলো শিশিরকে
তনু-কি হইসে বলুন
শিশির-আমার ঘুম আসতেছে,,সরো
তনু ছাড়তেছে না শিশিরকে,
বাচ্চাদের মত আঁকড়ে ধরে আছে শিশিরকে,
শিশির নিজের চোখ সরানোর চেষ্টা করতেছে তনুর উপর থেকে,কিন্তু পারতেছে না
শিশির থাকতে না পেরে নিজেও ধরলো তনুকে
কোলে তুলে নিয়ে গেলো,,
ওকে বিছানায় রেখে কপালে চুমু দিয়ে পুরো রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজলো কিন্তু bluetooth device ta পেলো না
তনু-কি খুঁজেন?
শিশির -কিছু না
শিশির চলে গেলো রুম থেকে
তনু-কি হইসে আল্লাহ জানে,এমন কেন করতেছে
শিশির দেখলো তনু ঘুমিয়ে গেসে,তারপর এসে নিজেও শুয়ে পড়লো,তনু এত সহজে ডিভোর্স দিবে না
পুলিশের সাহায্য নিতে হবে,কিন্তু যদি অমি জেনে যায়
অমি শিশিরকে ফোন দিয়ে বললো যেন বেশি দেরি না করে
চলবে ♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_44
তনু বিকালে বসে বসে আচার খাচ্ছে আর শিশিরকে দেখতেছে
শিশির সোফায় বসে তনুকে না দেখার ভান করে কাজ করতেছে
তনু খেতে খেতে শিশিরের কোলে এসে বসে পড়লো,,
শিশির-এসব কি,দেখো না কাজ করতেছি??
তনু-কি কাজ??
শিশির-উঠো,আমার কাজ আছে
তনু-উঠবো না কি করবেন ফেলে দিবেন?
শিশির তনুকে তুলে খাটে রেখে আসলো
তনু আবার এসে শিশিরের কোলে বসলো,
শিশিরের মেজাজটা গরম হয়ে যাচ্ছে যত চাচ্ছে তনুকে দূরে রাখতে তাও তনু জোঁকের মত আটকে থাকছে
শিশির-প্লিস তনু উঠে যাও,আমার অনেক কাজ আছে
তনু উঠে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো
শিশির-আমার এখন ভাবতে হবে কিভাবে তনুকে ব্যাপারটা জানানো যায়,,
শিশির বুয়ার থেকে ফোন চাইলো,কারন তার ফোনের থেকে করা কল সম্পর্কে অমি জেনে যেতে পারে,
বুয়ার ফোন থেকে শিশির বাথরুমে গিয়ে একটা ছেলের সাথে contact করলো,,তারপর বেরিয়ে আসতেই তনু সামনে এসে দাঁড়ালো
তনু-কার সাথে কথা বলতে বাথরুমে গেসেন?
শিশির-চুপ,আস্তে
তনু-কেন??কে শুনবে??কার সাথে কথা বলছেন?
শিশির তনুর মুখ চেপে ধরে খাটে নিয়ে গেলো,,
তনু থামতেছেই না,বারবার বলেই যাচ্ছে কলের কথা,
শিশির তনুকে থামাতে না পেরে ওকে ধরে কিস করে দিলো,,
তারপর তনু থামলো
শিশির ইশারা করলো যেন সে চুপ থাকে,,
শিশির একটা খাতাতে লিখলো অমি রুমে bluetooth device লাগিয়েছে যেন তনু চুপ থাকে
তনু চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
শিশির গিয়ে সোফায় বসলো
তনু খাতায় লিখলো,তো এখন??
শিশির খাতায় লিখে জানালো কোনে সমস্যা নাই সে যেন নরমাল থাকে নাহলে অমির সন্দেহ হবে
তনু শিশিরের কানের কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বললো কাল থেকে এমন মিসবিহেভ করসেন কেন আমার সাথে?
শিশির ছোট থেকেই জীবনেও ফিসফিসিয়ে কথা বলেনি তনুর মুখের দিকে তাকিয়ে বসে আছে
তনু ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে
শিশির খাতায় লিখলো
“মুখ বন্ধ করে rest নাও যাও,নইলে কামড়ে অজ্ঞান করে দিব”
তনু-?
তনু গিয়ে শুয়ে পড়লো,
এদিকে অমি এসে হাজির,মা বাবা ঘুমাচ্ছে,অমি পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসে আছে
অমি-তনুকে বলো আমার জন্য কফি বানিয়ে আনতে
শিশির-বুয়া
অমি চোখ রাঙালো
শিশির তনুর কাছে গিয়ে বললো কফি বানাতে
তনু গিয়ে কফি বানালো,কিন্তু ইচ্ছামত মরিচ মিক্স করে দিলো,তারপর অমির দিকে এগিয়ে দিলো
অমি-এটা তোমার husband কে খেতে বলো,আমি জানি এটাতে তুমি কি মিশাইসো,আর শিশিরের হাতের টা আমাকে দাও
তনু শিশিরের হাত থেকে নিয়ে অমির হাতে দিলো,
শিশির অমির টা নিয়ে খেয়ে নিলো,কোনো ঝালই লাগলো না
অমি-এটা কেমনে সম্ভব, ওহ তাহলে কিছুই দেয়নি,আমি ভুল ভাবলাম
অমি নিজের কফিতে মুখ দিতেই ঝালে চিৎকার দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো
তনু-এটাকে বলে overconfidence, আমি জানতাম তোমার আত্নবিশ্বাস বেশি তাই ইচ্ছে করেই তোমার কফিতে কিছু মিশাইনি,জানতাম তুমি কফির মগ পাল্টাবা
অমির চোখ লাল হয়ে আছে,
শিশির তনুকে রুমে চলে যেতে বললো
অমি-যাই হোক,ওর এই দুষ্টুমি আমার ভালো লাগসে,,
যা বলসি করসো তো??
শিশির-হুম রেডি করতেছি,
অমি-তনুকে চড় মারো একটা যাও
শিশির-অসম্ভব,
অমি-জোরে মারবা যেন ব্যাথা পায় বুঝছো
শিশির-পারবো না আমি,তুমি বরং আমাকে চড় মারো
অমি-নাহ,এটাতে তোমার তেমন কষ্ট হবে না,যেটা বলসি করো নইতো আজ তোমার বোনের সাথে রুমডেট টা সেরে ফেলবো,
অমি শিশিরকে ইশারা করলো,
শিশির আস্তে আস্তে রুমের দিকে যাচ্ছে
তনু খাটে বসে মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে,,
অমি দরজার বাইরে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে তনু শিশিরের দিকে
তনু-দেখলেন কেমন টাইট দিলাম??
শিশিরের চোখ শক্ত হয়ে আছে,,
তনু-কি হইসে আবার??
শিশির তনুর গায়ে হাত উঠালো,তনু গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে,
শিশির চুপচাপ চলে গেলো বারান্দার দিকে
তনুর মনে হলো ও যতটা না ব্যাথা পেয়েছে শিশির তার চেয়েও বেশি ব্যাথা পেয়েছে,চড়টা শব্দ করলেও তনুর ব্যাথা লাগলো না,বরং শিশিরের ঐ চাহনি দেখে তনুর ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে
উঠে শিশিরের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো তনু,,
শিশির দেখলো অমির গাড়ী চলে যাচ্ছে,তার মানে অমি চলে গেসে
শিশির তনুর হাত ধরে টেনে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো
শিশিরের হাত থেকে রক্ত পড়তেছে,,ইচ্ছেমত গ্রিলে বাড়ি দিসে শিশির,
তনু শিশিরকে আগলে ধরে আছে
শিশির-মাফ করে দাও আমাকে তনু
শিশির নিচে বসে গেলো
তনু -প্লিস উঠুন
শিশির-আমি বাধ্য হয়ে আজ এটা করেছি
তনু -আমি জানি শিশির
তনু শিশিরকে উঠালো,শিশির হাত পিছনে নিয়ে প্যান্টে মুছে ফেললো রক্ত,,
তনু -কবে শেষ হবে এগুলা??
শিশির-শীঘ্রই
শিশির তনুকে এনে খাটে বসালো,,ওর গালে হাত দিয়ে মুছে দিলো
তনু শিশিরের বুকে হেলান দিয়ে শুয়ে পড়লো
শিশির অবাক হয়ে দেখছে তনুকে,একটা প্রশ্ন করলো না সে,,চুপচাপ আগলে ধরে আছে আমাকে,,মাঝে মাঝে বুঝি না আমি কি তনুর যোগ্য??
শিশির তনুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে
মাঝরাতের দিকে তনু জেগে গেলো,,তাকিয়ে দেখলো শিশির চোখ বন্ধ করে ওকে ধরে শুয়ে আছে,,
তনু আস্তে করে শিশিরের হাতটা ছাড়িয়ে উঠে বসলো,,শিশিরের হাতের দিকে চোখ যেতেই তনুর যেন কলিজা কেঁপে উঠলো,,রক্ত জমে শুকিয়ে গেসে
তনু শিশিরের মুখের দিকে চেয়ে বসে আছে
আসলে সবসময় সুন্দর ছেলেদের মন ভালো হয় না,কিন্তু এই ছেলেটা,যেমন সুন্দর তার চেহারা তেমনটাই তার গুন, চরিত্র,,আর তাই Crush খেয়ে খেলাম,ইস?
তনু শিশিরের কপালের উপর থেকে চুল গুলো সরিয়ে চুমু খেলো কপালে
শিশির ভাবলো অমির লোক ওরে মারতে আসছে,একটান দিয়ে তনুকে খাট থেকে ফেলে দেওয়া ধরলো পরে যখন দেখলো এটা তনু, ওকে উপরে তুলে ফেললো
তনুর ভয়ে কলিজা কাঁপতেছে,শিশির হেসে দিয়ে ওকে ধরে বসালো
তনু-আর একটুর জন্য মরেই যেতাম
শিশির-আমি ভাবসি দুশমন
তনু-আপনি তো আনাকে দুশমনই ভাবেন?
শিশির-?
চলবে♥
(রাইটারের উপর আস্থা রাখুন,সব ঠিক করে দিব)

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_45
শিশির আরেকদিকে ফিরে শুয়ে পড়লো
পরেরদিন সকালে একটা ছেলে আসলো কিছু কাগজ নিয়ে,শিশিরের হাতে দিলো সেগুলা
শিশির-নাও সাইন করো
তনু-এটা কি
শিশির-ডিভোর্স লেটার
তনু-কিহ?তার মানে আমি single mother হয়ে যাব?
শিশির-চুপচাপ সাইন করো
তনু-মইরা গেলেও না
শিশির তনুর হাত ধরে বাসার বাইরে নিয়ে গেলো,
শিশির-শুনো তনু
শিশির তাকিয়ে দেখলো কালো জামা পড়া দুটো ছেলে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে
শিশির-উফ
শিশির-যাও বাসায় যাও
তনু বাসায় চলে আসলো,
ছেলেগুলো শিশিরের হাতে ফোন দিলো
অমি-হ্যালো শিশির,,কি ভাবো??বাইরে আমার নজর থাকবে না?
শিশির-আজকেই ডিভোর্স হয়ে যাবে,মীমকে ছেড়ে দাও
অমি-আগে পেপার
শিশির তনুর কাছে এসে কাগজ ধরলো
তনু -পাগল হয়ে গেসেন??
শিশির-আমার উপর তোমার ভরসা নেই?থাকলে সাইন করো
তনু কাগজ নিয়ে সাইন করে দিলো,
অমি কাগজ হাতে পেয়ে মীমকে ছেড়ে দিলো,,
অমি-তনু will you marry me?
তনু-?সরি I have an ex husband
শিশির-কি??
অমি-তোমাদের তো ডিভোর্স হয়ে গেসে,এবার আমাকে বিয়ে করতে তো তোমার কোনো সমস্যা হবে না তাই না?
তনু-কে বলসে??
শিশির -পুলিশ অফিসার!!
একজন পুলিশ শিশিরদের বাসায় ঢুকলো,শিশির তার অফিসের সেদিনের ভিডিও ফুটেজ দেখালো পুলিশকে,,
আর তাছাড়া অমির কিছু লোককেও পুলিশ ধরে ফেলেছে তারাই অনেক কিছু বলেছে পুলিশকে,আর bluetooh device ও খু্ঁজে পাওয়া গেসে
অমি-যাই হোক ডিভোর্স আমি করাতে পেরেছি
শিশির-ভাবলে কি করে আমি এই ভুল করবো?ওটা ফেক ছিলো
অমি শিশিরের দিকে চোখ রাঙিয়ে চলে গেলো
তনু আড়চোখে তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে,তারপর ঢং করে মুখ বাঁকিয়ে চলে গেলো
শিশির শান্তিতে গিয়ে সোফায় বসলো,,এখন মনে হয় বডিগার্ড রাখা দরকার,,
শিশির তনুর কাছে গেলো ম্যাডাম বসে বসে শিশিরের ফোন চেক করতেছে
শিশির -তনু!
তনু-কি হইসে আবার আল্লাহ?
শিশির-?কিছু না,এমনি ডাকলাম
তনু-বজ্জাত?
শিশির অনেক ভয়ে ভয়ে থেকে বডিগার্ডের ব্যবস্থা করেছে,,এখন আপাতত শান্তিতেই আছে,,
তনুকে চোখে চোখে রাখতেছে,,
বেশকিছুদিন কেটে গেলো এভাবেই
তনু আজ অনেক খুশি,কারন আজ আলট্রাতে বাবু দেখাবে,খুশিতে ওর লাফাতে ইচ্ছে করতেছে
শিশিরের হাত ধরে বসে আছে তনু, হসপিটালে
doctor আল্ট্রা চেক করে তনু আর শিশিরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দিলো
তনু-কি হইসে??টুইন বেবি তো??বলেন না,ছেলে না মেয়ে
শিশির-তনু চুপ থাকো
তনু-কি হইসে???
Doctor -cool down,,কোনো টেনশনের কিছু নেই
তনু-তাহলে বলেন বাবু টুইন কিনা
Doctor -নাহ বাবু টুইন না
শিশির-Alhamdulillah
তনু-???????
Doctor -টুইন নয় ট্রিপল
শিশির-What!!!!
তনু-কিহ
তনু খুশিতে অজ্ঞান হয়ে গেসে
শিশির টিসু বের করে ঘাম মুছলো মুখের তারপর doctor এর দিকে তাকালো
শিশির-আর ইউ সিরিয়াস??
doctor -ইয়েস,আমারও বিশ্বাস হচ্ছে না
শিশির আল্ট্রার রিপোর্ট হাতে নিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে,আর তনুর দিকে তাকাচ্ছে,,নার্স পানির ছিঁটা দিতেই তনুর জ্ঞান আসলো,তারপর মনে পড়লো doctor ট্রিপল বলসে,খুশিতে তনু লাফ দিয়ে খাট থেকে নামলো
তনু-এই ডিনকাচিকা ডিনকাচিকা????
শিশির-চুপ,বাচ্চাদের মতন শুরু করসে,তুমি জানো আর কয়েক মাস পর তোমার পেট কত বড় হবে
তনু-তো?
শিশির-সামলাবা কি করে
তনু-ওমনেই,Don’t worry
শিশির মাথায় হাত দিয়ে আবার বসে পড়লো
তনু doctor কে জড়িয়ে ধরে hand shake করলো,তারপর শিশিরের হাত ধরলো
তনু-চলেন আম্মুরে কমু,
শিশির হাঁটা ধরলো,হসপিটালের অনেকেই তনু আর শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে,কারন ইতিমধ্যেই জানাজানি হয়ে গেসে তনুর পেটে ৩টা বাচ্চা,,
তনু গাড়ীতে বসে ভাবতে থাকলো,তার মানে ঐ যে বাদাম খেয়েছি ওগুলা জমজ ৩টা ছিলো,বাপরে,আমি তো জানতাম ও না
শিশির-?বুঝবা পরে কত ধানে কত চাল
তনু-?আপনার এত ভয় লাগতেছে কেন??
শিশির-কিসের ভয়??
তনু-?হুহ,
তনু পেটে হাত বুলাচ্ছে আর হাসতেছে দাঁত বের করে
শিশির-?
তনু বাসায় এসে মাকে জড়িয়ে ধরলো
মা-কিরে বাবু দেখছস??
শিশির রিপোর্ট মায়ের হাতে দিলো,,
মা-কি হইসে??আমি তো এসব বুঝি না রে,বল কি হইসে
তনু-মা তুমি ৩জনের দাদি হতে চলেছো☺?
মা-মানে????????
শিশির-?ওর পেটে ৩টা বাচ্চা
মা-আল্লাহ এইডা কেমনে সম্ভব ??
তনু-??☺?
বুয়া-?আমি জমজ বাদাম খাওয়াইসি?
তনু-?তোমার বেতন বাড়াই দিব
শিশির-?শুনো যাই হোক,বাবু তো আমারই,বাদাম তাদাম কিছু না,সব আমার credit ?
তনু-ইহ?এতক্ষন পর হুস আসলো আপনার??
শিশির ঢং দেখাইয়া চলে গেলো
মা-ইস কবে যে ৩টারে কোলে নিব আমি
তনু-?
মা-বেশি করে খাবি বুঝছস,,
মায়ের মুখের হাসি দেখে কে,,
তনু বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো অনেকক্ষন এর মাঝে শিশির ২বার এসে কানে চুমু দিয়ে চলেও গেসে,শিশির কাজ করতেছে আর মাঝে মাঝে তনুকে দেখে চলে যাচ্ছে
তনু পেট ধরে একটা ছবি তুললো,তারপর সেটা শিশিরকে মেসেজে পাঠিয়ে দিলো,
শিশির ছবিটা দেখে হেসে দিলো,,তারপর কাজ রেখে তনুর কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে বসলো,,
শিশির-আজকের দিনটা কত সুন্দরর তাই না?
তনু-হুম
শিশির-আমি আর বাবু নিব না,এই ৩টারে পালতেই আমার দাঁড়ি গোঁফ পেকে যাবে,পরে আবার নিলে না জানি ৪টা হয়, থাক বাবা
তনু হো হো করে হেসে দিলো,,
শিশির-আই এম সো লাকি
তনু-?
শিশির-সবগুলো মেয়ে হলে ভালো হবে
তনু-?ছেলে চাই আমার
শিশির -?
তনু বাইরে দেখতে দেখতে শিশিরের বুকে ঘুমিয়ে পড়লো,,
তনুকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে শিশির ওর মাথায় হাত বুলাতে লাগলো,
বডি গার্ড শিশিরকে ফোন দিলো
শিশির-এই সময় আবার কে
বডি গার্ড বললো অমি নাকি সবাইকে পিটাচ্ছে ভিতরে যাওয়ার জন্য,সে লুকিয়ে ফোন দিসে শিশিরকে
শিশির-আমি আসতেছি
শিশির শার্টের হাতা উঠাতে উঠাতে বেরিয়ে গেলো,,
বাসার দরজা লক করে বের হতেই অমিকে দেখলো
শিশির অমির শার্টের কলার ধরে ছুঁড়ে মারলো
শিশির -কি?আমি মাইর পারি না ভাবসো??just সেদিন আমার বোন তোর কবলে ছিল বলে চুপ ছিলাম,কিন্তু আজ সবাই সেফ,বাট তুই না,তোরে আজ মেরেই ফেলবো
শিশির অমির সাথে মারামারি শুরু করে দিলো
এক পর্যায়ে আশেপাশের মানুষ এসে ওদের দুজনকে থামালো
শিশির দেখলো ওর ঠোঁট থেকে রক্ত ঝড়তেছে
তারপর ঠোঁট মুছতে মুছতে বাসায় চলে আসলো,
অমিরে ওর বডি গার্ডরা হসপিটালে নিয়ে গেসে,কারন অমির অবস্থা আরও খারাপ
শিশির বাসায় আসতেই দেখলো তনু উঠে বসে আছে
তনু-কই গেসিলেন?
শিশির -একটু বাইরে গেসিলাম
তনু-ঠোঁট মুছেন কেন,কারে চুম্মা দিসেন
শিশির-একটা মেয়েকে,খুব করে জোর করলো তাই না করে পারলাম না
তনু-কিহ?
তনু উঠে শিশিরের মাথার চুল ধরে টানা শুরু করলো
শিশির-আরে আরে মজা করসি
তনু-তাহলে বলেন ঠোঁট মুচছেন কেন
শিশির মুখ তুলে তনুর দিকে তাকালো
তনু দেখলো শিশিরের ঠোঁটের কোণে রক্ত জমে আছে
তনু-একি,এটা হলো কিভাবে
শিশির-আসলে
তনু-মেয়েটা কামড়াইয়া রক্তই বের করে দিসে
শিশির-কিহ,আরে না
তনু-আম্মুউউউউউউউ,তোমার ছেলে
শিশির তনুর মুখ চেপে ধরে বিছানায় নিয়ে গেলো
চলবে♥?