ক্রাশ যখন বর Season_3Part_13/14/15

0
2515

ক্রাশ যখন বর Season_3Part_13/14/15
Writer-Afnan Lara

দুজনেই বাসায় ঢুকে হাঁপিয়ে গেসে,,হঠাৎ করে দুজনেই হেসে দিলো,তনু হাসতে হাসতে শিশিরের গায়ে ঢলে পড়লো
শিশির-এই সরো,
শিশির তনুকে সরিয়ে দিলো
তনু-মাথা থেকে তোমার বাতাসা আমি বের করবো, আগে প্রমান জোগাড় করতে হবে,
শিশির তোয়ালে নিয়ে মাথা মুছতেছে,,তনু হা করে তাকিয়ে আছে
শিশির-আচ্ছা তোমার আর কাজ নেই
তনু ভেংচি দিয়ে চলে গেলো,,
শিশির নিজের রুমে বসে ফোন দেখতেছে,কারেন্ট চলে গেলো,৫মিনিট পরই তনু রুমে ঢুকলো,,মুখে শয়তানি হাসি,,বাইরে ব্জ্রপাত,, তনু দরজা লাগালো
শিশির আড় চোখে তাকালো,তারপর আবার নিজের কাজে মন দিলো
তনু গিয়ে শিশিরের গা ঘেঁষে বসলো,
শিশির -বুয়ায়ায়ায়ায়ায়,এক কাপ কফি দাও
তনু শিশিরের চুল ঠিক করতে করতে বললো আজ আমি বুয়াকে ছুটি দিয়ে দিসি
শিশির-কিহ?কেন
তনু-Romance করবো তাই
শিশির-পাগল হয়সো তুমি,সরো
তনু শিশিরের হাত জড়িয়ে ধরলো,ওর কাঁধে মাথা রাখলো
শিশির-সরো আমার অসহ্য লাগতেছে
তনু-উহু
শিশির অনেক কষ্টে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো
তনু-মনের ভিতরে feelings teelings?নাই?নাকি??
শিশির-আছে,তা তোমার জন্য না
তনু-আছে তাহলে ওটা আমার জন্য আমি আদায় করে নিব
শিশির-পারবা না
তনু-যদি পারি
শিশির-অসম্ভব,
শিশির দরজা খুলে চলে গেলো,
তনু পিছন পিছন গেলো,,অন্ধকারে পিলারকে শিশির মনে করে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে তনু ভয় পেয়ে চিৎকার দিলো,তারপর আর কি নিচে পড়ে গেলো
শিশির ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে দেখলো তনু বোকার মতন নিচে বসে পা ধরে তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে
শিশির-একদম ঠিক হয়সে,
তনু-ভয় পাইসি আমি,
শিশির-তা তো দেখতে পারতেছি,
শিশির তনুকে উঠানোর জন্য হাত বাড়াতেই তনু ও একটান দিলো
শিশির গিয়ে পড়লো তনুর উপর,এই সুযোগে মিসেস তনু তার বরের গালে চুমু দিয়ে দিলো,শিশিরের হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়াই অন্ধকারে কি করবে কিছুই বুঝতেছে না
তনু উঠে এক দৌড় দিতে যাবে শিশির তনুর আঁচল ধরে ফেললো
তনু থেমে গিয়ে তাকালো শিশিরের দিকে
শিশির ফোন হাতে নিয়ে তনুর মুখের দিকে আলো ধরলো,তনু এক হাত দিয়ে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে।
শিশির-তখন কি করলা এটা
তনু-কই
শিশির-চুমু
তনু -আসলে আপনি হঠাৎ পড়লেন তো বুঝে উঠতে পারিনি,,গালটা নরম লাগসে তাই দিলাম?
শিশির-আর একদিন এমন করবা তো তোমারে মারতে মারতে আম্মুর কাছে নিয়ে যাব
তনু-গিয়ে কি বলবেন,বউ আপনাকে চুমু দিসে
শিশির-সরো,
শিশির উঠে চলে গেলো
তনু-????
শিশির ল্যাপটপ নিয়ে একটা মুভি দেখতেছে,,ভূতের film,,ভাবসে তনু ভয়ে কাছে আসবে না,ওমা তনু তো ভূতের film বলতে অজ্ঞান,তনু গিয়ে দেখতেছে পাশে বসে
শিশির-তোমার ভয় করতেছে না
তনু-না কেন
শিশির-ওও,গুড
ভূত আসতেই তনু শিশিরের শার্ট শক্ত করে ধরলো,,তারপর বার বার ঢোক গিলছে
শিশির পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো
তনু-কেমন স্বামী আপনি,মুভি দেখার সময় কেউ পানি খায়??চিপস,পপকর্ন, কোক এসব তো আনতে পারেন নাকি
শিশির-????
শিশির Foodpanda থেকে খাবার order করে আনলো,,
তনু খাচ্ছে আর মুভি দেখতেছে,
শিশির তনুর খাওয়া দেখে ওর পেট ভরে গেসে,
তনু এক কামড় দিয়ে বাকিটা শিশিরকে দিলো,হুম খান
শিশির-No thanks,আপনি খান
তনু-ওকে,
শিশির মুভি দেখা শেষে তাকিয়ে দেখলো তনু শিশিরের কাঁধেই ঘুমিয়ে গেসে,
শিশির আস্তে করে ওরে শুইয়ে দিয়ে উঠে গেলো,,
রাত ৯টা♥
তনু উঠে দেখলো শিশির নেই,
তনু-আবার বাতাসাকে দেখতে যাইনি তো
তনু খাট থেকে নেমেই দেখলো শিশিরের হাত দেখা যাচ্ছে বারান্দায়,তনু পা টিপে টিপে দেখতে গেলো,শিশির গাছ দেখতেছে ধরে ধরে
তনু-আল্লাহ গো এত কিউট কেমনে হয়,আমার মাথা ঘুরাচ্ছে,,
শিশির গান গাইতেছে♥
সরি দীপান্বিতা
সময় যখন মরুর ঝড়ে,
এ মন হারায় কেমন করে,
আমি তখন যোজন দূরে,
একাকি সঙ্গি মৌনতা,
আকাশ যখন আঁধার ভীষণ,
এক ফোঁটা জল চেয়েছে মন,
অবহেলায় অপমানে পেয়েছে রিক্ত শুন্যতা
সমান্তরাল পথের বাকে,
তোমার পথের দিশায় থাকে,
সে দিশা খোঁজে তোমাকে দীপান্বিতা …
গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে,
তোমার ছোঁয়া মিশে থাকে,
সে ছোঁয়া খোঁজে তোমাকে দীপান্বিতা…
তুমি নীলাকাশ আপন করেছো
হঠাৎ কোন কালে কে জানে!
স্বপ্ন সীমানা ছুঁয়ে দিয়েছ
কোন সে জাদুতে কে জানে!
আমি ছিলাম তোমার পাশে,
তোমার আকাশ ভালবেসে,
সে বিশালে খুঁজেছি একটুকু ঠাই,
তাও মেলেনি তা,
হঠাৎ যখন ছুটির খেলা,
মেঘে মেঘে অনেক বেলা,
তখন সে ক্রান্তিকালে
ধুম্রজালে খুঁজছ যে বৃথা
অশান্ত মন বোঝাই কাকে,
হারিয়ে চাইছি তোমাকে,
হাতছানি দিয়ে যে ডাকে স্মৃতির পাতা…
নদীর শেষে আকাশ নীলে,
স্বপ্নগুলো মেলে দিলে,
তারা বলে সবাই মিলে,
দীপান্বিতা…
শোননা রূপসী,
তনু-হ্যাঁ গো বলো
শিশির অবাক হয়ে পিছনে তাকালো,তনু হেলান দিয়ে তাকিয়ে আছে
শিশির-?
তনু-এত সুন্দর গান ও গাইতে পারেন?
তনু এটা বলেই অজ্ঞান হয়ে গেলো,শিশির ধরে ফেললো,
শিশির তনুকে এক হাত দিয়ে ধরে রেখে তনুর চুল ঠিক করতেছে,,আর মুচকি হাসতেছে,এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করে এনেছি যে আমাতে মুগ্ধ হয়ে বারবার জ্ঞান হারায়,,
তনু-তাহলে ভাবেন আমি কত লাভ করি আপনাকে,
শিশির আচমকা তনুর কথা শুনে তনুকে ছেড়ে দিলো আর তনু নিচে পড়ে গেলো
তনু-আউচ,আমি আম্মুর কাছে বিচার দিব আপনার নামে
শিশির-ভান করতেছিলা
তনু-না seriously অজ্ঞান হয়সিলাম,আপনার টাচে জ্ঞান ফিরসে,
শিশির চলে যেতে নিলো তনু পা ধরে ফেললো
শিশির-আবার কি
তনু-গানটা কার জন্য ছিলো,ঐ মরা কাতল মাছের জন্য না তো?
শিশির-মরা কাতল মাছ কে আবার
তনু-বাতাসা আর কে
শিশির-তুমি ওরে নিয়ে আর একটাও উল্টা পাল্টা কথা বলবা না একদম
শিশির সোফার রুমে গিয়ে মোমবাতি খুঁজতেছে,কারন ফোনের চার্জ কমে আসছে,
তনু আস্তে করে শিশিরের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো,,
শিশির মোম বাতি জ্বালিয়ে পিছন ফিরতেই তনুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলো,গিয়ে সোফায় পড়লো
তনু-আরে কি হলো কি,পড়লেন কেন,আহারে আমি তো জড়িয়ে ধরার জন্য এসেছিলাম,মোমবাতি টাও নিভে গেলো কিছু দেখতেছি না
শিশির উঠে তনুর মুখ চেপে ধরলো
অন্ধকারে তনুর চুড়ির আওয়াজেই বুঝতে পেরেছে তনুর অবস্থান,
শিশির-সারাদিন বকবক বকবক,চুপ থাকতে পারো না,
তনু-উহু
তনু শিশিরের জামার ভিতরে হাত দিয়ে পেটে চিমটি কাটলো
শিশির চিৎকারর দিয়ে ছেড়ে দিলো
তনু-????
শিশির-অসভ্য বেহায়া মেয়ে,
তনু-জানি জানি
কারেন্ট চলে আসলো,,শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে দেখলো তনু কোমড়ে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে,এতক্ষন এই বেশে কথা বলতেছিলো নাকি
তনু-হুহ
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_14
শিশির চলে গেলো,,
তনু টেবিলে খাবার আনতে লাগলো,,
শিশিরের ফোনে কল আসলো,নাতাশার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে,,
শিশির-আমি এখন কি করবো,,তনুকে একা রেখে যাব?এত রাতে,,
শিশির-তনু
তনু-হুম,আসুন খাবার রেডি
শিশির-নাতাশাকে দেখতে যাব,তুমি আমার সাথে চলো, তোমাকে একা রেখে যাব না,
তনু খুশি হয়ে রেডি হয়ে নিলো
শিশির হসপিটালে এসে তনুকে বাইরে বসতে বলে নিজে ঢুকলো,Doctor শিশিরকে কিছু ঔষুধ আনতে বললো,শিশির যাওয়ার সময় তনুকে ইশারা করে বললো যাতে এখানেই বসে থাকে,
তনু-একবার দেখি মরা কাতল মাছটা কি করে, উঁকি মেরে যা দেখলো তনু তার জন্য প্রুস্তুত ছিলো না,নাতাশা বসে মায়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলতেছে,
তনু-চিটার,শিশিরকে বুঝাবো কি করে,,ফোন ও তো আনি নাই,,
তনু দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলো,,নাতাশা সাথে সাথে শুয়ে ঘুমানোর ভান করলো
তনু-এই মেয়ে আর নাটক করতে হবে না,সব দেখে ফেলসি আমি,
শিশির তখনই আসলো
শিশির-তনু,!!!
শিশির তনুর হাত ধরে রুম থেকে নিয়ে এলো,,চুপচাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকো
তনু-আরে শুনুন
শিশির ভিতরে চলে গেলো,
নাতাশার মা বললো তুমি তনুকে এখানে না আনলেও পারতা,,নাতাশা তোমার বউকে দেখে কষ্ট পাবে,,হয়ত পাচ্ছেও,,
শিশির-সরি,আমি বুঝতে পারিনি
শিশির রুম থেকে বেরিয়ে তনুর হাত ধরে নিয়ে গেলো
শিশির রাগে ফেটে যাচ্ছে,,
তনু-নাতাশা নাটক করতেছে,,আমি জানালা দিয়ে দেখেছি ও বসে ওর মায়ের সাথে কথা বলতেছিলো,,
শিশির-just shut up!তোমার নিরাপত্তার জন্য আমি তোমাকে এনেছি আর তুমি কি করলে,ভিতরে ঢুকতে মানা করসিলাম না আমি,,নাতাশার যদি কোনো ক্ষতি হয় তোমার জন্য আমি তোমাকে ছাড়বো না,
তনু-কি বললেন,আপনার এত বড় সাহস আপনি আমাকে ঐ সামান্য মেয়ের জন্য এত কথা শুনালেন,আমি আগামী ২দিনের মধ্যে প্রমান করে দিব এই মেয়েটা মিথ্যা কথা বলতেছে,আর আমি সত্যি বলছি
শিশির-তা অসম্ভব,,
শিশির গিয়ে গাড়ীতে বসলো
তনু-যাব না আমি আপনার সাথে
তনু সামনে হাঁটা ধরলো,,
শিশির গাড়ী থেকে বেরিয়ে দেখলো তনু চলে যাচ্ছে,
শিশির-ফাইন যাও!রাতের ভূতে তোমাকে খাবে চিবিয়ে
তনু হাঁটতে হাঁটতে একটা পার্কে এসে বসলো,চুপ হয়ে বসে আছে,,রাগে হচ্ছে, ঐ মেয়েটার জন্য আমাকে এত কথা বললো,আজ ফোন হাতে থাকলে এইদিন আমাকে দেখতে হতো না,
একটা হাত এসে তনুর হাতের উপর রাখলো,তনু শিশির ভেবে খুশি হয়ে তাকালো,কিন্তু মূহুর্তেই তনুর মুখ ভয়ে চুপসে গেলো,
তনু-তুমি
তন্ময় -তুমি?এখানে??জানতা যে আমি আসতেছি??
জানো আমি মাত্র যাচ্ছিলাম বাসায় আর রোডে তোমায় দেখলাম,,তুমি আসলা কি করে এখানে?এত রাতে
তনু উঠে দাঁড়ালো
তনু-চলে যাও এখান থেকে,
তনু পিছিয়ে হাঁটা ধরলো
তন্ময় গিয়ে সামনে দাঁড়ালো,,কোথায় যাও তোমার future তো তোমার সামনে
তনু-আমার সামনে থেকে সরো
তন্ময়-আমার সাথে চলো তাহলে
তন্ময় তনুর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো,
তনু শিশিরকে ডাকতে যাবে ওর মনে হলো শিশির নামটা শুনলে তন্ময় জেনে যাবে তনুর বিয়ে হয়সে আর শিশিরের ক্ষতি করার আগে দুবার ভাববে না
তনু কি করবে বুঝতেছে না,, যেতে যেতে হঠাৎ তন্ময় আর তনুর হাতের মাঝখান দিয়ে শিশির ধরে তনুকে টান দিয়ে নিয়ে নিজের কাছে নিয়ে এলো
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে ভাবতেছে কেন আসলো শিশির,,তন্ময় যে কতটা dangerous তা শিশির জানে না,তনুর ভয়ে মুখটা অন্ধকার হয়ে আসতেছে
শিশির-কে তুমি?ওর হাত ধরে কই নিয়ে যাচ্ছো??আর তনু তুমি ওর সাথে যাচ্ছো কেন?
তনু-বাসায় যাব
শিশির-ও তোমাকে বাসায় দিয়ে আসবে?
তন্ময়-এক মিনিট,তুমি কে?
শিশির-আমি ওর husband
শিশির তনুর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো
তনু-ইস যেটার ভয় পেয়েছি সেটাই বলে দিলো
তন্ময়-তনু বিয়ে করেছে??!!!!
তনু ভয়ে পিছনে তাকাচ্ছে না,,গাড়ীতে চুপপ হয়ে বসে আছে
শিশির-ঐ ছেলেটাকে চিনো তুমি?
তনু-না মানে হ্যা্ঁ
শিশির-আচ্ছা বুঝছি বলতে হবে না,সবারই অতীত থাকে
তনু-এক মিনিট,অতীত মানে??আমি আপনার মতন second hand না,পিউর ভার্জিন আমি,কোনো ছেলে আজ পর্যন্ত আমার সাথে প্রেম করতে পারেনি,আমি সুযোগ দিই নাই,আর এই ছেলেটা আমাকে disturb করতো
শিশির-হ্যাঁ তাই তো চুপচাপ ওর সাথে চলে যাচ্ছিলা
তনু-নাহ,আপনার নাম বললে ও যদি আপনার ক্ষতি করতো,তাই
শিশির -আর কি বললে আমি second hand?আমি আজ পর্যন্ত নাতাশাকে কিস করিনি,even চুমু ও দিই নাই গালে আমাদের রিলেশনের ২মাস পরেই এই ঘটনা ঘটে,ও কোমায় চলে যায়
তনু-ও করতে চায়নি বুঝি
শিশির-তোমার কি,আমি দিই নাই ওরে করতে,
তনু-আমার জন্য রেখে দিসিলেন তাই না??
শিশির-না,চুপ থাকো???
তনু-আমাকে ২হাজার টাকা দিন
শিশির-কেন?
তনু-প্রমান করবো তো নাতাশা মিথ্যা বলতেছে
শিশির-নাতাশা আমাকে ঠকাবে না,বুঝছো,হুদাই নিজেকে আমার সামনে insult করাইও না
তনু-সেটা আমার ব্যাপার
শিশির বাসায় এসে শুয়ে পড়লো তনু ভাবতে থাকলো কি করবে,,
তারপর সারারাত জেগে থেকে সকালে গিয়ে ঘুমালো একটু,
শিশির উঠে দেখলো তনু সোফায় ঘুমিয়ে আছে,শিশিরের বুঝতে বাকি রইলো না যে তনু রাগ করে সোফায় শুইছে
শিশির ২হাজার টাকা টেবিলে রেখে সোফার রুমে গেলো বুয়া নাস্তা বানিয়ে টেবিলে রেখে চলে গেসে,শিশির নাস্তা করে চলে গেলো,তনু উঠে রেডি হয়ে নিলো,আজ শপিং করবো,কিন্তু আমি তো ঢাকার রাস্তা ঘাট চিনি না,তনু গুগল ম্যাপ দেখে পাশের একটা শপিং মলে গিয়ে বোরকা কিনলো,, পিন কিনলো,,মরিচ গুড়া কিনলো,,মরিচ গুড়া বাসায় ছিলো কিন্তু তনু রাধুনী মরিচ গুড়া কিনলো, অনেক ঝাল হয় ওগুলা,কাজে লাগবে,
বাসায় আসতে গিয়ে রাস্তা ভুলে গেলো,ম্যাপ ও বুঝতেছে না,কি করবো,
শিশিরকে কল দিলো তনু,
শিশির-কি?
তনু-কথা বলার ইচ্ছা নাই তাও কল দিলাম,,help লাগবে
শিশির-কিসের help
তনু-আমি ধানমন্ডি লেকের সামনে,রাস্তা ভুলে গেসি?
শিশির-?????
তনু-হাসতে হবে না আমাকে নিয়ে যান
শিশির-ওকে ওখানে থাকো আমি আসতেছি,,
শিশির কিছুক্ষন পরে এসে তনুকে নিয়ে বাসায় গেলো,,
তনু-আজ রাতে আমাকে নাতাশার হসপিটালে দিয়ে আসবেন কিন্তু আপনি ঢুকবেন না
শিশির-কেন
তনু-যা বলছি তাই করবেন
শিশির তাই করলো,সন্ধ্যায়য় তনুকে হসপিটালে দিয়ে নিজে গেলো না,,হসপিটালের বাইরে বসে থাকলো,শিশির তো সিউর যে তনু কিছু প্রমান করতে পারবে না,নাতাশার উপর তার পুরো বিশ্বাস আছে,
তনু বাথরুমে গিয়ে বোরকা পড়ে নিয়ে নাতাশার রুমের জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলো নাতাশা ফোনে কথা বলতেছে
তনু-ছিঃ,বেয়াদব মেয়ে আমার জামাইকে ঠকায়,,তোর জন্যে কাল আমাকে বকছে, আজ তোর হচ্ছে,
তনু ফোন নিয়ে ভিডিও করলো,১৫মিনিট ধরে ভিডিও করে শিশিরের কাছে গেলো
শিশির-কে আপনি?
তনু নাকাফ উঠালো
তনু-আপনার বউ আমি,চলুন নাতাশাকে দেখতে যাবেন
শিশির-প্রমান করতে পারলা না জানতাম
তনু-একদম চুপ
শিশিরকে নিয়ে হসপিটালে ঢুকতেই দারোয়ান নাতাশাকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলো শিশির আসতেছে
নাতাশা আবার শুয়ে পরলো
তনু জানতো তাই আগেই ভিডিও করে রেখেছে, বোরকা পরে ঢুকেছে তাই দারোয়ান বুঝতে পারেনি
শিশির-দেখো নাতাশা শুয়ে আছে
তনু ভিতরে গিয়ে নাতাশার সামনে দাঁড়ালো
তনু-আহারে মেয়েটার কত কষ্ট,তনু হাতের মুঠি থেকে এক চিমটি মরিচের গুড়া নাতাশার চোখে ছুড়ে মারলো,পিন নিয়ে পায়ে ঢুকিয়ে দিলো,
এবার বুঝো চান্দু☺☺?
নাতাশা এক চিৎকার দিয়ে উঠে বসলো
নাতাশা-পানি পানি, মাগো,আম্মাগো
শিশির চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Crush যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_15
নাতাশার মা-বাহ বাহ,তোমার বউয়ের জন্য আমার মেয়ে ঠিক হয়ে গেসে,আগের মতন,আলহামদুলিল্লাহ ?
নাতাশার মা নাতাশাকে জড়িয়ে ধরলো,কেঁদে দিলো,,নাটক শুরু করলো
নাতাশা উঠে শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো
তনু তো ফুলে রেগে মেগে এক ধাক্কা দিয়ে নাতাশাকে সরিয়ে ফেললে
তনু-সর এখান থেকে,বেয়াদব মেয়ে,নাটক হচ্ছে??
শিশির দাঁড়িয়ে আছে
শিশির নাতাশার মায়ের কথা বিশ্বাস করে গিয়ে নাতাশাকে আবার জড়িয়ে ধরলো
এটা দেখে তনুর চোখ কপালে
তনু-এই কুত্তা,হারামি,তোর এত বড় সাহস???
তনু শিশিরের শার্ট টেনে ওকে ছুড়ে মারলো
নাতাশাকে ঠাস করে চড় মেরে দিলো
শিশির-তনু!!!
তনু-চুপ একদম চুপ,আমি বলবো তোরা শুনবি?
তনু-আমি জানতাম এমন কিছু একটা হবে আর তাই আমি আগেই ভিডিও করে রেখেছি,
তনু ভিডিও টি শিশিরকে দেখালো,
তনু-ও যদি এখন ভালো হয় তাহলে তখন ফোনে কথা বলসে কি করে??
শিশির ভিডিওটি দেখে নাতাশার দিকে তাকালো,
তনু -কি হলো জড়িয়ে ধরো ওরে,হাড় ভেঙে হাতে ধরায় দিব,জীবনে আমাকে জড়ায় ধরেনি,আর আজ এই মা** রে জড়িয়ে ধরসে,তালাক দিব তোমারে
তনু চলে গেলো
শিশির নাতাশার দিকে তাকিয়ে আছে
নাতাশা-বেবি ভিডিওটা মিথ্যা এডিট করসে
শিশির-চুপ,আর একটা কথাও না,
শিশির ও চলে গেলো,,
তনু গাড়ীতে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে,
শিশির গাড়ীতে এসে বসলো, দুজনেই চুপ হয়ে আছে
তনু-আমি বাসায় যাব,
শিশির drive করতে থাকলো,,বারবার চোখ মুছতেছে,
তনুর বুঝতে বাকি রইলো না যে শিশির কাঁদতেছে,ছেলেরাও কাঁদে??
এই মেয়েরে এত ভালোবাসতো,আর তার মূল্য সে কি দিলো,
তনু চুপ হয়ে শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে,
তারপর কিছুদূর যেতেই তনু শিশিরকে গাড়ী থামাতে বললো
শিশির গাড়ী থামালো,তনু শাড়ীর আঁচল দিয়ে শিশিরের মুখ মুছে দিলো,তারপর হঠাৎ করে উঠে শিশিরের কাছে এগিয়ে গিয়ে ওর গালে চুমু দিয়ে আবার নিজের সিটে চলে আসলো,
শিশির অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,
তনু-অবাক হওয়ার কিছু নাই,কান্না থামানোর জন্য চুমু দিসি,সরি
শিশির হাসলো,তারপর আবার গাড়ী চালানো শুরু করলো,,
বাসায় এসে শিশির নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো, তনু ও বুঝলো শিশিরের একা থাকা উচিত কিছু সময়,,
রাত গিয়ে সকাল হয়ে গেলো শিশির দরজা খুললো না
তনু-এই যে দরজা খুলুন,,সকাল হয়ে গেসে,১০টা বাজে,আমি গোসল করসি,আমার জামা কাপড় তো রুমের ভিতরে,এই যে,উফ, কি পরবো আমি, আমার ঠাণ্ডা লেগে যাবে তো এই যে,
শিশির দরজা খুললো,চোখ মুখ ফুলে একাকার, মনে হয় সারা রাত কেঁদেছে,
তনুকে দেখে শিশিরের হুস আসলো,গায়ে ওর তোয়ালে একটা
শিশির-যাও change করে আসো
তনু-হুহ,বলতে হবে না,
তনু ঢং করে হাঁটতে গিয়ে পিছলা খেয়ে ঠাস করে পড়ে গেলো নিচে আর তোয়ালে টাও গেলো*****
শিশির তাকাতে যাবে তনু চিৎকার দিলো
তনু-এই তাকাবেন না একদম
শিশির-কেন
তনু-কিছু না,
তনু উঠে ঠিকঠাক হয়ে বাথরুমে চলে গেলো শাড়ী নিয়ে
শিশির আয়নায় দেখছে এক পলক তারপর হাসতে হাসতে চলে গেলো,,সারা রাত কাঁদার পর সকালে হাসি দিয়ে শুরু হলো,
তনু বেরিয়ে দেখলো শিশির টিভি দেখতেছে
তনু-অফিস যাবেন না
শিশির-না,আজ ভালো লাগতেছে না,
কলিং বেল বাজলো,শিশির গিয়ে খুলে দেখলো নাতাশা দাঁড়িয়ে আছে,নাতাশা শিশিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
তনু-বেয়াদব মাইয়া,তোর এত বড় সাহস, ছাড় বলসি,তনু টানতেছে এদিকে শিশির ছাড়ানোর জন্য টান দিতেছে ঐদিকে,নাতাশা ছাড়ার পাত্রী না
তনু-ওগো কে কোথায় আছো গো আমার জামাইকে নিয়ে যাচ্ছে গো,তনুর চিৎকারে পাশের ফ্ল্যাটের কয়েকজন চলে এলো
তনু-দেখো না এই মেয়ে আমার জামাইকে কতদিন ধরে disturb করতেছে,এই মেয়েটা মাইনসের জামাই পটিয়ে টাকা খায়,শিশির তনুর কথায় হা হয়ে তাকিয়ে আছে,তনু কি বলতেছে এসব
আন্টি-তাই নাকি,দাঁড়াও পুলিশে কল দিচ্ছি
নাতাশা-মোটেও না,এই মেয়ে মিথ্যা কথা বলো কেন,আর শিশির তুমি কিছু বলতেছো না কেন
শিশির বলতে যাবে তনু শিশিরের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো, আর মুখের উপর ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো,,
তারপর দরজার মাঝখানের ফুটা দিয়ে দেখতে থাকলো নাতাশা কি করে
এক হাত দিয়ে শিশিরকে ধরে আছে,শিশির অবাক হয়ে তনুর কর্মকান্ড দেখতেছে
তনু-যাক গেসে আপদ,উফ কি ঝামেলা,,
তনু সোফায় গিয়ে বসলো
তনু-এই যে মিঃ এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি নিয়ে আসো
শিশির-আমি?
তনু-হ্যাঁ তুমি,তোমার জন্য ঝামেলায় পড়সি
শিশির পানি এনে দিলো
তনু-চলো বাতাসা নামক ঝামেলা গেসে এবার তুমি আমাকে নিয়ে পুরা ঢাকা শহর ঘুরাবা,
শিশির-কাজ আছে আমার শিশির নিজের রুমে চলে গেলো
তনু-আজব তো,দেখো আগে নাতাশাকে ভালোবাসতা,এখন সে গেসে,হাতে আছে তোমার বউ,তারে ভালোবাসবা,আর আমাকে ভালোবাসলে আমি কিন্তু ঠকামু না,ডাবল দিব,বুঝছো তো ডাবললললললল বাবু
শিশির-চুপ
তনু বসে বসে শিশিরকে দেখছে আর শিশির ফাইল চেক করতেছে
শিশির-তুমি প্লিস চোখটা সরাবা
তনু-আপনি জানেন কেমনে যে আমি তাকাই আছে
তনু রান্নাঘরে গিয়ে দুকাফ কফি বানিয়ে আনলো,গিয়ে শিশিরের পাশে বসলো
তনু-আচ্ছা একটা জিনিস চাইবো দিবেন
শিশির-কি
তনু-ঐ যে নাতাশাকে যেভাবে জড়িয়ে ধরসিলেন,আমাকে ওভাবে ধরবেন একটু,,অনলি ১০সেকেন্ডের জন্য
শিশির-না
তনু-হিংসুটে,স্বার্থপর
শিশির-Thanks for coffee
তনু–?
তনু বারান্দায়য় বসে আছে,আর উঁকি মেরে শিশিরকে দেখতেছে,ভালো লাগে না ধুর,
তনু মাকে কল দিলো,
মা-হ্যাঁ রে তনু আমার ছেলের দিন কেমন চলে
তনু-তোমার বউমা তো নাতাশা নামক অভিশাপ দূর করছে
মা-সে কি,সত্যি?
তনু-হ্যাঁ
মা-আলহামদুলিল্লাহ
তনু-মিষ্টি খাওয়াও তাহলে
মা-শিশিরকে বল তোরে মিষ্টি কিনে দিতে
তনু ফোন রেখে শিশিরের কাছে গেলো
তনু-জামাই মা বলসে আমাকে মিষ্টি দিতে
শিশির-মিষ্টি?কিসের মিষ্টি?
তনু-ঐ যে ঐ মিষ্টি
শিশির-এই তুমি মাকে কি বলো এসব
শিশির গিয়ে ফোন হাতে নিলো
মা-তনুকে দোকান থেকে মিষ্টি এনে খাওয়া
শিশির-ওহ আচ্ছা,শিশির তনুর দিকে আড় চোখে তাকালো
তনু-চোরের মনে পুলিশ পুলিশ
শিশির-কি বললা?
তনু-কিছু না?
তনু-আপনি চাইলে আমাকে সেই মিষ্টি দিতে পারেন
শিশির-কাম নাই আমার
শিশির দেখলো তনু রুমে হেঁটে হেঁটে সব ধরে দেখতেছে,
শিশির-আচ্ছা রেডি হয়ে নাও,ঘুরতে যাব
তনু-সত্যি????
তনু এক দৌড়ে গিয়ে রেডি হয়ে নিলো,,
শিশির তনুকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছে,, flying disco দেখে তনু চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে,
শিশির-উঠবা নাকি
তনু-আরে না,মরেই যাব
তনু একটা জামা হাতে নিলো,,সুন্দর তবে western,তাও তনু হাতে নিয়ে দেখতে থাকলো,
তারপর price চেক করতে গিয়ে দেখলো ৫হাজার টাকা,বাপরে বাপ এত দাম,এই পাতলা জামার?
তনু রেখে দিয়ে আবার হাঁটতে লাগলো,
শিশির ওটা কিনে নিলো,,
তনু এক জোড়া জুতা নিলো,,তারপর দুজনে খেয়ে আবার বাসার দিকে রওনা দিলো,,
সন্ধ্যা হয়ে গেসে,তনু জানালায় হেলান দিয়ে বাইরে দেখতেছে,,আজ হালকা মনে হচ্ছে তনুর নিজেকে,আজ থেকে শিশির শুধু তার।,,
শিশির মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে তনুর দিকে,,তনু কথা না বললে শিশিরের নিজের কাছেই খারাপ লাগে,,মনে হয় কি একটা যেন নেই
বাসায় এসেই তনু চুলে খোঁপা বেঁধে কোমড়ে আঁচল গুজে রান্নাঘরে চলে গেলো
শিশির গিয়ে fresh হয়ে আসলো,
তনু কফি এনে center table এ রাখলো,
শিশির-তনু খাটে একটা জিনিস আছে দেখে আসো
তনু-কি?
তনু তো surprise পেতে খুব পছন্দ করে,এক দৌড় দিয়ে গিয়ে দেখলো সেই জামাটা,
শিশির দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
শিশির-এটা পড়ে কিন্তু বাইরে বের হওয়া যাবে না
তনু-হুম এটা special একটা দিনে পড়বো
শিশির-কবে?
তনু-পড়লেই দেখবেন
চলবে♥

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে