ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_16/17/18

0
2521

ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_16
Writer-Afnan Lara

শিশিরের ফোনে কল আসলো,,
শিশির-হ্যালো মীম বল
মীম-শোন আমরা সবাই কাল আসবো ঢাকায়
শিশির-ওকে,হঠাৎ?
মীম-?আসলেই বুঝবি
পরেরদিন সকালবেলা সবাই এসে হাজির,
শিশির-কি হয়সে?তোমরা এত তাড়াতাড়ি??
মা-তোর কি সমস্যা রে?যা অফিস যা
শিশির রেডি হয়ে অফিস চলে গেলো
তনু-মা ঘটনা কি বলোতো
মা-আরে কাল শিশিরের জন্মদিন
তনু-কিহ?????আমি জানতাম না
মা-হুম,surprise দিব সবাই মিলে তাই তো এলাম,আর বিকালে আমাদের এখানের কিছু রিলেটিভ আসবে,,সেজেগুজে নে,
তনু-আচ্ছা,
বিকালে বাসায় মেহমানে ভর্তি হয়ে গেলো,একটা ছোটখাটো অনুষ্ঠান হলো,শিশিরের ফুফাতো বোনেরা এসে তনুকে নিয়ে গসিফিংয়ে লেগে গেলো,,যে তারা কম কিসের,,শিশিরদের পুরো ভাইবোনদের গুষ্টিরর মধ্যে শিশিরই বেশি কিউট,,যার কারণে ওর জন্য ওর অনেক কাজিনই পাগল,
একটা তো মাত্রাতিরিক্ত পাগল,আর তার নাম হলো রাইসা,সে আজ এসেছে,তনুকে রাগী চোখে দেখতেছে,তনুকে লাল শাড়ী পড়িয়ে দিসে মা,,হালকা গয়না পরিয়ে দিসে,, যার কারনে অনেক সুন্দর লাগতেছে ওকে,,লালে তনুকে খুব মানায়,
শিশির এখনও আসেনি,,
রাইসা তনুর কাছে এসে ওর হাত ধরে ওদের রুমে নিয়ে গেলো
রাইসা-কি জাদু করসো শিশিরকে??
তনু-এখনও কিছুই পারলাম না,তা তুমি করসিলা নাকি
রাইসা-?এভাবে কেউ ফুফাতো বোনের সাথে কথা বলে?
তনু-এভাবে কেউ মামাতো ভাইয়ের বউয়ের সাথে কথা বলে?আমি না তোমার ভাবী?
রাইসা-এসব দেখায় পাগল করসো তাই না
তনু-না আরও অনেক কিছু দেখাইসি,তোমার সমস্যা?
রাইসা-ঢং দেখাও??তুমি ভাইয়ার যোগ্য না তা তুমি জানো?
তনু-হ্যাঁ যোগ্য যে তা জানি কারন যোগ্য তাই আজ আমি তার বউ,যা তোমার মত মেয়ের কপালে নেই,আর তার যোগ্যতাও তোমার নেই,Now সরো এখান থেকে আমার জামাই আসছে,
তনু রাইসাকে সরিয়ে চলে গেলো
রাইসা তো ফুলতেছে
তনু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শাড়ী ঠিক করে যাচ্ছিলো,,শিশিরদের রুমের সামনে ৭টা সিড়ি আছে,তারপর নিচের ফ্লোর,
রাইসা দরজার বাইরে লুকিয়ে ছিলো,
শিশির আসতেই সবাই মিলে ওকে ঘিরে ধরেছে,,যার কারনে সে রুমে আসতে পারেনি,
তনু বের হতেই রাইসা ওকে জোরেসোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো,
তনু নিচে পড়ে পায়ে ব্যাথা পেলে তারপর দেখলো রাইসা হাসতে হাসতে চলে গেলো,
তনু-মীম,মীম!
গান বাজতেছে তনুর কোনো আওয়াজই আসতেছে না সোফার রুমের দিকে,
তনু এতটাই ব্যাথা পেয়েছে যে উঠতে পারতেছে না
শিশির দেখলো রাইসা খুব হাসতেছে,,
শিশির রাইসার স্বভাবের সাথে পরিচিত,, তনু কই??
শিশির-আচ্ছা আমি আসতেছি fresh হয়ে,,
রাইসা-ভাইয়া থাক না কত enjoy হচ্ছে এখানে
শিশির-নাহ,আমি tired
রাইসা আটকাতে পারেনি শিশির চলে গেলো,গিয়ে দেখলো তনু বিছানায় বসে আছে মীম মলম লাগিয়ে দিচ্ছে
শিশির-একি ওর পায়ে কি হয়সে
মীম-সিঁড়ি থেকে পড়ে গেসে,
শিশির-আমাকে ডাকো নি কেন
তনু-মীম তুমি যাও
মীম চলে গেলো
তনু-ডাকলে আসতেন আপনি?আদৌ আমার কিছু হলে আপনার কিছু যায় আসে,এতবার ডাকসি তাও তো আসলেন না,
শিশিড-,আমি শুনতে পাইনি, পড়ে গেলা কি করে,ঠিক করে হাঁটতে পারো না
তনু-রাইসা ফেলে দিসে আমাকে,আমাদের বাসায় ও সিঁড়ি আছে,জীবনে পড়ি নাই আমি
শিশির উঠে চলে গেলো,গান থামিয়ে দিলো
শিশির-ফুফু তুমি রাইসাকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দাও,আর নইতো mental hospital -এ ভর্তি করিয়ে দাও
ফুফু-কি করসে ও,এসব কেন বলস
শিশির-ও তনুকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিসে,তনু হাঁটতে পর্যন্ত পারতেছে না
মা-সেকি,তনু কই,মা চলে গেলো তনুকে দেখতে
ফুফু রাইসাকে নিয়ে চলে গেলো,
মা-ইস পা ফুলে গেসে মেয়েটার,
শিশির পাশে বসে আছে,তনু মুখ গোমড়া করে আছে,
কোথায় ভাবলো আজ রাত ১২টায় সুন্দর করে শিশিরকে surprise দিবে,তা আর হলো না?
শিশির ওয়াসরুম থেকে এসে দেখলো তনু আলমারি ধরে নিজের জামা নিতেছে
শিশির-এই তুমি খাট থেকে নামসো কেন
তনু-তো কি করবো,বসে থাকবো, আমার so called romantic husband এসে আমাকে শাড়ী পরিয়ে দিবে,নিজের হাতে??
শিশির গিয়ে খাটে বসলো আর কিছু বললো না,তনুর মেজাজ যে গরম তা বুঝা যাচ্ছে,,
তনু-রুমের থেকে যান,আমি বাথরুমে যেতে পারবো না,এখানেই change করবো
শিশির শুনলো না,কানে headphone ছিলো,
তনু-fine,,
তনু শাড়ী change করতে লাগলো,শিশির তাকিয়ে এক প্রকার শক খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো
শিশির-এটা কি,বাথরুমে যেতে পারো না
তনু-কানে কি তুলা দিয়ে রাখসেন,বলসি না আমি যেতে পারবো না,আপনাকে যেতে বলিনি??
শিশির চলে গেলো,
তনু change করে বসে আছে,কচুর plan করবো আমি,মাইয়াটা আমার সব plan এ পানি ঢেলে দিলো,
১১:৩০বাজে,শিশির বারান্দাতে বসে আছে ফোন নিয়ে,
তনু খাটে বসে আছে গালে হাত দিয়ে,?কি করবো??কি করতে পারি আমি???
কান্না পাচ্ছে আমার,জামাইর জন্মদিনে পা মচকে বসে আছি,
তনু আস্তে করে নেমে দেওয়াল ধরে ধরে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো,
শিশির-বসবা?
তনু-হুম,
তনু শিশিরের পাশে গিয়ে বসলো, শিশিরের অনেক frd ই ওকে advance happy birthday জানাচ্ছে,শিশির সেগুলাই দেখতেছে
তনু চাঁদের আলোয় শিশিরের মুখ দেখছে,এমন একটা গিফট দিব,যাতে বাকি গিফট তোমার ছোট মনে হয়,তনু মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে,,
শিশির-কি?কি ভাবতেছো
তনু-নাহ কিছু না
আর ২মিনিট বাকি,,শিশির হাসতেছে ওর frd দের উইস দেখে,আর তনু সময়ের অপেক্ষায় বসে আছে,
হালকা ঠাণ্ডা বাতাস তনুকে আরও ভয় জাগিয়ে দিচ্ছে,,করতাম??যদি রেগে যায়
১মিনিট বাকি,তনুর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতেছে,,,তনু বারবার ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকাচ্ছে,,১০সেকেন্ড বাকি,
তনু-শিশির চৌধুরী???
শিশির তনুর দিকে তাকাতেই তনু শিশিরের গলার পিছনে হাত দিয়ে ওর মুখটা কাছে টেনে এনে ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলো,???
শিশির চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে,??,এটার জন্য শিশির মোটেও প্রস্তুত ছিলো না,
শিশির হাত দিয়ে সরাতে যাবে তনু সেই হাতটা ধরে ফেললো,শিশিরের একটা হাত খালি, শিশির সেটা দিয়ে তনুর চুলের ভিতরে হাত দিয়ে আরও এগিয়ে আনলো তনুকে,,,?
১২টা বেজে গিয়ে ১২:০১বাজে,,
তনু ছেড়ে দিলো শিশিরকে,
দুজনেই চুপ হয়ে বসে আছে কিছুক্ষণ আগে যেটা ঘটেছে সেটা কি ছিলো,তনু লজ্জায় মরে যাচ্ছে
পায়ের জন্য দৌড়ে পালাতেও পারবে না,,
মীম-ভাইয়া কেক রেডি চলে আয়
শিশির উঠে চলে গেলো,
তনু দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো,??যাক success হইসি,এটা কেমনে করসি আমি?????????
কি proud feel হচ্ছে আমার,এক মিনিট,শিশির ও তে ধরলো আমাকে,ধাক্কা দিয়ে সরাতে পারতো,তা করেনি
তনু খুশিতে এক লাফ দিয়ে উঠতেই ব্যাথা পেয়ে পড়ে গেলো
তনু-আচ্ছা এটা সমস্যা না,রাইসাকে পরে দেখে নিব,তুই আমারে সিঁড়ি থেকে ফালাইছস আমি তোরে পাহাড় থেকে ফালামু,
তনু আবার উঠে আস্তে আস্তে গেলো সোফার রুমের দিকে,,শিশির কেকের সামনে বসে আছে,নিচের দিকে তাকিয়ে,বেচারা ও লজ্জা পেয়েছে,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_17
শিশির কেক কেটে মাকে খাইয়ে দিলো,তারপর মীমকে,,
তারপর কেক নিয়ে তনুর দিকে এগিয়ে দিলো,মা আর মীম ঘুমাতে চলে গেলো,তনু দুষ্টুমি করে কেক নিয়ে শিশিরের গালে লাগিয়ে দিয়ে এক দৌড় দিলো,??
শিশির -শয়তান মাইয়া???
শিশির টিসু নিয়ে মুছতে মুছতে রুমে গেলো,তনু খাটে বসে আছে,আরেকদিকে ফিরে,
শিশির এসে বসলো,দুজনেই চুপ,
শিশির-অনেক রাত হয়সে ঘুমিয়ে পড়ো,
শিশির শুয়ে পড়লো,
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে বসে আছে,,কিছুক্ষণ পর♥
শিশির-কিছু বলবা?(চোখ বন্ধ করে)
তনু-না, না?,ঘুমান নি?
শিশির-এভাবে তাকিয়ে থাকলে ঘুমাবো কি করে
তনু শুয়ে পড়লো,,
পরেরদিন ♥
তনু তাড়াতাড়ি উঠেই রান্নাঘরে চলে গেলো,,
বুয়া এসেছে,,তনু সব করলো বুয়া help করলো,,শিশির ঘুম থেকে উঠেই পাশে তাকালো,তনু নেই,মনে হয় রান্নাঘরে,শিশির রেডি হয়ে বের হলো,মা আর মীম খাচ্ছে
মা-আয় শিশির বস
শিশির বসলো,,তনু বারবার মুচকি হাসতেছে,হাসবেই না কেন,কাল রাতের কথা শুধু মনে পড়তেছে ওর
তনুর হাসি দেখে শিশিরের বুঝতে বাকি রইলো না যে তনু কেন হাসতেছে,,
মা গেলো টিভি দেখতে আর মীম রুমে চলে গেলো
শিশির-এই মেয়ে হাসা বন্ধ করো বলতেছি
তনু-সরি?
শিশির আড়চোখে তাকিয়ে চলে গেলো,
তনু বারান্দা দিয়ে তাকিয়ে রইলো যতক্ষন শিশিরের গাড়ী দেখা যায়
মা-কিরে আমার ছেলেকে দেখছিস
তনু-না মানে?
মা-বুঝি,,,তা এবার বল ঐ মেয়েকে বিদায় করছস কেমনে
তনু বসে পুরো ঘটনা বললো মা তো হাসতে হাসতে শেষ,,
মা-ধর
তনু-কি এটা
মা-এটা আমাকে শিশিরের দাদি দিসে,বৌভাতে পড়ার জন্য,আমি সেদিন আনতে ভুলে গেসিলাম,তুই আজ পরিস,,
তনু-মা এটা তো অনেক ভারী
মা-হ্যাঁ আমার ও পড়তে কষ্ট হয়সে তবে বেশি পড়তে হবে না,নিয়ম রক্ষায় ২ঘন্টা পড়ায় রাখলেই হবে,বেশি সমস্যা হলে পড়িস না থাক,,
তনু-নাহ পড়বো?
মা-আচ্ছা☺?
মা-শোন বাসায় থেকে কি করবো চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি,,
তনু-আচ্ছা চলো,
তনু মীম আর মা বের হলো,,শপিংমলে আসলো মা শাড়ী দেখতেছে আর তনু মীমকে জামা চয়েস করে দিচ্ছে,,
কেনাকাটা শেষে খেতে গেলো ৩জনে একটা restaurant এ,
তনু হঠাৎ খেয়াল করলো ওর দিকে কেউ তাকিয়ে আছে, সামনে চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো তন্ময়,, তনুর ভয়ে গলা শুকিয়ে গেসে,,মা আর মীমকে যে বলবে তার ও উপায় নেই
মা-কিরে তনু চুপ হয়ে গেলি কেন
তনু-নাহ,এমনি
তন্ময় আজ কিছু করবে না কারন তার আজকের task হচ্ছে তনুদের বাসা চেনা,,
তনু হঠাৎ দেখলো তন্ময় উধাও,শান্তির নিশ্বাস ফেলে বাসায় চলে এলো সবাই,,তন্ময় যে ওরে ফলো করসে তা টের পায়নি তনু
তনু শিশিরের জন্য একটা t-shirt নিয়েছে,
তনু-আচ্ছা তন্ময়ের ব্যাপারটা কি শিশিরকে বলে দিব,,নাহ থাক
বিকালে শিশির বাসায় আসলো,,
মা-শিশির তনুকে নিয়ে ঘুরে আয় যা
শিশির-তোমরা সহ চলো
মা-নাহ রে আমরা গিয়ে ঘুরে আসছি,,তুই তনুকে নিয়ে যা,
শিশির তনুকে নিয়ে লং drive এ গেলো,,অনেকদূরে একটা খোলামেলা জায়গায় গেলো,তনুর মন খারাপ,না জানি এখানেও এসে পড়ে
শিশির-কি হয়সে তোমার?
তনু-নাহ কিছু না,
শিশির -কিছু তো হয়সে,কারন যে মেয়ে সারাদিন বকবক করে সে কিনা এত চুপ হয়ে গেলো,
তনু-না এমনিতেই
বাসায় এসে শাড়ীটা হাতে নিলো তনু,,ঘুরে এসে হালকা লাগতেছে,,শাড়ী নিয়ে পরে আসলো,,ভারী খুব হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে,,
শিশির বারান্দা থেকে এসে দেখলো তনু দাঁড়িয়ে আছে শাড়ীটা পড়ে,,তারপর শিশিরকে দেখে ওর দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পা বারাতেই পড়ে যেতে নিলো শিশির ধরে ফেললো
শিশির -এত ভারী শাড়ী পরার কি দরকার
তনু-আসলে এটা মা দিসিলো,আপনার দাদির শাড়ী,,
শিশির-ওও,বাহ বেশ লাগছে আমার দাদির মতন?
তনু-?আমি দাদি??
শিশির-সেরকমইতো লাগতেছে,,
তনু শিশিরের হাতে কামড় বসিয়ে দিলো
শিশির -আউচচ,শয়তান মাইয়া?
দুজনেই চুপ হয়ে একে ওপেরর দিকে তাকিয়ে আছে,,তনু এগিয়ে যেতেই হঠাৎ শিশির কি যেন ভেবে তনুকে ছেড়ে চলে গেলে
তনু ও আর বেশি ভাবলো না,,মাকে সালাম করে এসে শাড়ীটা change করে ফেললো,,
পরেরদিন মা আর মীমকে শিশির গাড়ীতে উঠিয়ে দিয়ে আসলো,মীমের পরীক্ষা তাই চলে গেসে তারা,,
শিশির তনুকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলো আজ সে তাড়াতাড়ি বাসায় আসবে,,
তনু সুন্দর করে সাজলো,,শিশিরকে পাগল করে দিব আজকে???
বুয়াকে ছুটি দিয়ে দিলো তনু,,বসে আছে সেই কখন থেকে শিশিরের জন্য,,,
শিশিরের একটা কাজ এসে পড়ায় আর আসতে পারলো না,এতটাই বিজি যে ফোন করে বলেও দিতে পারলো না,
তন্ময় সকাল থেকে খেয়াল করলো যে সবাই চলে গেসে তার মানে তনু একা,,
কলিংবেল বাজতেই তনু উঠে দৌড়ে গেলো,,দরজায় গিয়ে দেখলো ও না যে কে এসেছে,,গিয়েই দরজা খুলে দিলো,
একটা লোক ঐদিকে ফিরে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
তনু-কে?
তন্ময় ফিরে তাকালো
তনু-তততততুমমমমি
তন্ময় ভিতরে ঢুকে গেলো,
তনু-চলে যাও এখান থেকে
তন্ময় -বাহ বাসাটা জোস তো,,সুন্দর করে সাজিয়েছো,তা কেমন চলে তোমার সংসার?নিশ্চয় খুব ভালো?
তনু কি করবে,,বুয়াও নেই,,তনু আস্তে করে বাসা থেকে বের হতে যাবে তন্ময় হাত ধরে ফেললো,
তন্ময় -মাত্রই তো আসলাম,এখনই যাচ্ছ?
তনু-কি চাও তুমি
তন্ময় -তোমাকে,চলো আমার সাথে,শিশিরের চাইতেও অনেক সুখে রাখবো
তনু-চলে যাও এখান থেকে
তন্ময় -যাবা না আমার সাথে?এটা বলেই তন্ময় তনুর দিকে তাকিয়ে দেখতেছে,,পা থেকে মাথা পর্যন্ত।
তনু ফোন খুঁজে শিশিরকে কল দিতে যাবে তন্ময় হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো,
তনু নিচে বসে পড়লো,
তনু-প্লিস চলে যাও এখান থেকে
তন্ময় তনুর হাত চেপে ধরে উঠালো,,এসব ছুঁয়েছে শিশির??
তনু-কেউ আছো!!!
তন্ময় তনুর মুখ চেপে ধরলো,
তন্ময় -shhhhhhh
তন্ময় তনুর ঘাড়ের দিকে মুখ নিতেই তনু চড় মেরে দিলো
তন্ময় -তুমি আমাকে চড় মারলা??আমাকে.??
তনু-বেরিয়ে যাও.
তন্ময় তনুকে ছুড়ে মারলো নিচে,,
নিচে পড়ে তনুর হাতের প্রত্যেকটা চুড়ি ভেঙে হাত অনেকটা কাটা গেলো,
তন্ময় -ইস রে এটা কি হলো,শিশিরের বউয়ের হাত কাটা গেলো,কিন্তু শিশির কই??বাঁচাবে না তোমাকে??
তন্ময় তনুর গায়ে হাত দিতে যাবে ওর হাত আটকে গেলো,তাকিয়ে দেখলো শিশির দাঁড়িয়ে আছে,আর তন্ময়ের হাত ধরে আছে,,একটা থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দিলো শিশির,,তারপর মারা শুরু করলো,পাশের ফ্ল্যাটের অনেকেই ছুটে আসলো,,Mr.তমাল এসে আটকালো শিশিরকে,,তন্ময় নাকের রক্ত মুছতে মুছতে চলে গেলো,শিশির তনুর কাছে গিয়ে ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,,
তনু-আমি আমি আসলে
শিশির-চুপ
শিশির তনুকে উঠিয়ে সোফায় বসালো,,তনুর হাতের ভিতর কাঁচ ঢুকে গেসে,
শিশির-চলো ফার্মেসিতে গিয়ে এটা ক্লিন করতে হবে তা না হলে infection হয়ে যাবে,চলো
তনু-আমি কোথাও যাব না
শিশির-সে আর কোনদিন আসবে না,আসলেও সে তোমার কিছু করতে পারবে না কথা দিলাম,
কথাগুলো শিশির তনুর হাত ধরে বললো,,
তনু-একটা কথা বলবো
শিশির-বলো
তনু-আবার জড়িয়ে ধরুন না আমাকে
তনুর কথা শুনে শিশির হেসে দিলো,
শিশির-আচ্ছা তোমারে জন্মের পর কি খাওয়াইসিলো??হাতে কাঁচ আটকে আছে,রক্ত বের হচ্ছে,,আর তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরা নিয়ে পড়ে আছো
তনু-ধরলে ব্যাথাটা কমে যায়☺
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_18
শিশির গিয়ে ফার্মেসীর একটা লোক এনে কাঁচ গুলা উঠালো তনুর হাত থেকে,তনু শুধু শিশিরের দিকে তাকিয়ে ছিলো,,
শিশিরের মনে আছে নাতাশা একবার পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়ে সারাদিন চিল্লাইসে,আর এ মেয়ে দেখি তার উল্টা ?
শিশির দরজা লাগিয়ে ভিতরে ঢুকতেই তনু শিশিরের গলা জড়িয়ে ধরলো
শিশির-এটা কি আবার
তনু-কোলে তুলুন
শিশির-পারবো না
তনু-নিন না
শিশির চলে গেলো
তনু-এই
শিশির-কি?
তনু-আমাকে কেমন লাগছে??
শিশির তাকালো তনুর দিকে,ফকিন্নির মতন লাগতেছে
তনু-??????
মা কল দিলো
মা-হ্যালো শিশির,আমরা বাসায় পৌঁছে গেসি,,
শিশির-ওকে
মা-বালিশের নিচে চেক কর
শিশির-কি?শিশির গিয়ে বালিশ উঠিয়ে দেখলো একটা খাম,,৪দিন ৪রাত কক্সবাজার হোটেল টিউলিপে stay করার টিকিট,,
মা-তোর জন্মদিনের গিফট,,
শিশির-আমার অনেক কাজ আমি যেতে পারবো না
মা লাইন কেটে দিলো,
তনু উঁকি মেরে মেরে দেখতেছে শিশিরের হাতে ওটা কি,,তারপর আস্তে গিয়ে শিশিরের হাত থেকে খামটা নিয়ে দেখলো টিকিট
তনু দাঁত বের করে হেসে শিশিরের দিকে তাকালো
শিশির-impossible!!
শিশির চলে গেলো
তনু আলমারি খুলে জামাকাপড় সব বের করে গুছিয়ে নিলো,,
শিশির আবার রুমে আসতেই অবাক,তার বউ লিপ্সস্টিক আইব্রু দিয়ে নায়িকা সেজে বসে আছে???
শিশির-কি এসব কি
তনু-আমরা ঘুরতে যাব না
শিশির-কে বলসে তোমারে যে আমরা যাব
তনু-টিকিট বলসে আর কে,ডেট দেখেন না,আজ রাতেই বের হতে হবে
শিশির-যাব না আমি,শিশির ল্যাপটপ নিয়ে বসলো,
তনু কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চলে গেলো,
৫টা বাজে তনুর কোনো খবর নেই শিশির রুম থেকে বেরিয়ে তনুকে খুঁজতে লাগলো,মেইন দরজা খোলা একা কোথাও চলে যায়নি তো??
শিশির বের হতেই দেখলো মিঃ তমালের স্ত্রী ছাদ থেকে নামতেছে
উনি শিশিরকে বললো তনু ছাদে
শিশির ছাদে চলে গেলো,,তনু দাঁড়িয়ে আছে এক কোণে
শিশির-বাসায় চলো
তনু-আপনি যান,আমি পরে যাব
শিশির চলে গেলো,,৭টা বাজে তনুর খবর নেই,
শিশির রেডি হয়ে ব্যাগ নিয়ে গাড়ীতে রাখলো,,তারপর গাড়ী নিয়ে রোডে বেরিয়ে জোরে জোরে হর্ন বাজাতে থাকলো,
তনু চাঁদ দেখতেছিলো,চোখ নামিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখলো শিশিরের গাড়ী,হর্ন বাজাচ্ছে
তনু মুচকি হেসে দৌড় দিলো,গিয়ে গাড়ীতে বসলো
শিশির-কি?এবার খুশি??তুমি আর আম্মু আমাকে আমার অফিস থেকে বের করিয়ে ছাড়বা
তনু তো আনন্দে শেষ,,
১০টার দিকে ঘুমিয়ে গেলো তনু,,জানালার কাঁচের মধ্যে হেলান দিয়েই,,শিশির একবার তাকালো ভাবলো টেনে নিজের কাঁধে নিয়ে আসবে পরে ভাবলো তনু পাগল হয়ে যাবে,,থাক এমনি থাক,
শিশিরের চোখ লেগে আসতেছে,,গাড়ী থামালো,কোথাও দোকান খোলা থাকলে চা খাওয়া যেতো,,
শিশির গাড়ী লক করে বের হলো,,সব দোকান বন্ধ,,তনু উঠে গেলো,,শিশিরকে ইশারা করলে শিশির দরজার লক খুলে দিলো
শিশির-উঠলা কেন
তনু-চা খাবেন নাকি?
শিশির-হুম,কিন্তু দোকান সব অফ
কয়েকটা ছেলে হেঁটে যাচ্ছিলো,
একজন থেমে শিশিরকে বললো কি চাই,শিশির বললো চায়ের দোকান খুঁজতেছে
ছেলেটি বললো তাদের বাসায় যেতে তার মা বানিয়ে দিবে,,
শিশির-না থাক
ছেলেটি এক প্রকার জোর করলো, বললো তাদের বাসা কাছেই
শিশির চাপে পড়ে রাজি হলো,তনুর হাত ধরে হাঁটা ধরলো,ছেলেগুলো সামনে আর তনু শিশির পিছন পিছন,একটা বাজারের উপর দিয়ে যাচ্ছে তারা,সব দোকান বন্ধ,হঠাৎ তনু শিশিরের হাত ধরে টান দিয়ে একটা দোকানের ফাঁকে নিয়ে গেলো,শিশির কিছু বলতে যাবে ওর মুখ চেপে ধরলো,
তনু-চুপ
ছেলেগুলা ওদের খুঁজতে লাগলো
একটা ছেলে বললো ধুর মালটা হাত থেকে পালালো,
আরেকজন বললো আর একটুর জন্য হারাইলাম কই গেলো,,এত সুন্দর জিনিস হারিয়ে ফেললো,তোরা একটু খেয়াল করতে পারস নাই
শিশির তো ওদের কথা শুনে অবাক,,তনু শিশিরের এতটাই কাছে ওর মুখের আশেপাশের চুল শিশিরের মুখের সাথে লেগে আছে,শিশির তনুকে দেখছে আর তনু ছেলেগুলোর উপর নজর রাখতেছে
ছেলেগুলা কিছুক্ষন পর চলে গেলো,,
শিশির-তুমি জানলা কি করে যে ওদের মনে এসব আছে
তনু-একটা সেলুনের দোকানের আয়না দোকানের বাইরে রাখা ছিলো,,আয়নায় দেখসি সামনের ছেলেগুলো শয়তানের মত হাসতেছে একে অপরের দিকে তাকিয়ে
শিশির-বাপরে কি বুদ্ধি
তনু-???
শিশির-চলো যাই
তনু-আরে না,এখন ওরা আমাদের গাড়ীর আশেপাশে আছে,,
৩০মিনিট ধরে শিশির আর তনু দোকানের পিছনে একটা গাছের গুড়ির উপর বসে ছিলো,,
তারপর আস্তে আস্তে লুকিয়ে গাড়ীর চারপাশ দেখলো দুজনেই চুপিচুপি গাড়ীতে বসতেই ছেলেগুলো কোথা থেকে এসে হাজির হলো একটা ছেলের গাড়ীর ভিতরে হাত দিয়ে তনুকে ধরতে গেলো তনু সরে যেতেই ওর ওড়নাটা টাচ করতে পারলো সেটা টেনে নিয়ে নিলো,
শিশির speed বাড়িয়ে গাড়ী চালিয়ে চলে গেলো,
শিশির-তনু তুমি ঠিক আছো?
তনু-?আমার এত স্বাদের ওড়নাটা???????
শিশির-নতুন কিনে দিব,
তনু-আমি কি এমনই থাকবো??ওড়না তো ব্যাগে
শিশির তনুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দিয়ে ওর চুলের থেকে রাবার ব্যান্ড খুলে ফেললো,
শিশির-চুলই যথেষ্ট ?
তনু-বাহ,কিন্তু চা??
শিশির-একটা গান গাও ঘুম থামবে
তনু-ওকে,,ঘুম থামার জন্য তো,ওয়েটট
তনু গলা ঠিক করে গান ধরলো
Who let the dogs out ✌?????
Who!?Who?!who?????????????
শিশির-আল্লাহ! চুপ?????
তনু-কি হয়সে?
শিশির-এইডা একটা গান হইলো??
তনু-ঘুম যাতে না আসে তাই গাইলাম আমার কি দোষ?
শিশির-সুন্দর দেখে গান গাও
তনু-ওকে ওয়েট
Iss Tarah Se Khudse Aa Mujhko Jor Tu
Thoda Bhi Mujhme Na Mujhko ChorTu
Na Yaad Teri Tujhko
Na Yaad Mujhe Hoon Main
Aa Mujhko Pehan Le Tu
Aa Tujhko Odh Loon Main
Katra Katra Main Girun
Jism Pe Tere Theharun
Katra Katra Main Girun
Tujh Mein Hi Kahin Reh Lun??
শিশির-আল্লাহ তুমি এই মেয়েকে হেদায়াত দান করো,এর উপর রহমত দান করো
তনু-??????হুহ
দুজনে কথা বলতে বলতে হোটেলে এসে পড়লো,,
তনু রিসিপশানে গিয়ে দাঁড়ালো শিশির কিছু বলতে যাবে
তনু -ঐ যে বিচ দেখা যায় ঐ সাইড দেখে রুম দিবেন
ম্যানেজার -ওকে ম্যাম cost tk 7k,,,,,,,,, এটা বলার আগেই শিশির ইশারা করলো যাতে না বলে
তনু-তাহলে চলুন,,
শিশির -টাকা নিয়ে সমস্যা নেই শুধু ওর সামনে বলিয়েন না,,এটা শুনলে এখানে আর থাকবে না,,
ম্যানেজার -ওকে স্যার
তনু তো রুমে গিয়ে সে কি খুশি,,
শিশির-আগে আসো নি?
তনু-২বার আসছি,কিন্তু এই হোটেলে আসা হয়নি
শিশির-এখন তো আসা হলো,
আমি অনেক tired?
শিশির গিয়ে খাটে শুয়ে পড়লো,তনু বাইরেটা ভালো করে দেখতেছে,,
কিছুক্ষণ পর
আল্লাহ গো!!??????????????
শিশির-কি হয়সে কি হয়সে???
তনু নিচে বসে আছে
তনু-জানেন এই হোটেলে নাকি ৭হাজার টাকা fee দিতে হয়
শিশির-ও,তো?
তনু-তো???এত টাকা?
শিশির-উফ তনু ঘুমাতে দাও আমাকে
শিশির ঘুমিয়ে পড়লো,তনু নিজের হাতে নিজে চিমটি কেটে উঠে দাঁড়ালো,তারপর শিশিরের মানি ব্যাগটা খুঁজে বের করে দেখলো কোনো টাকা নেই,তনু আরেক চিৎকার দিলো
শিশির-কি হয়সে আবার
তনু-খাবো কি,বিল দিব কি? টাকা দেখি কিছু নাই
শিশির-মারে,, আমার কার্ড আছে,ATM থেকে তুলে বিল দিব,ঘুমাতে দাও আমাকে,আর একবার জাগালে জানালা দিয়ে ফেলে দিব তোমাকে
চলবে♥

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে