Saturday, August 30, 2025
বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 2031



Crush যখন বর?Season_2Part_10/11/12

0

Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?Season_2Part_10/11/12
বাবা-তনু শিশিরের মা আগামী মাসের ৫তারিখে engagement করবে বলসে,
তনু-যা খুশি করো,
তনু নিজের রুমে আসলো,,একটু একটু খুশি লাগতেছে,কারন আমি শিশিরকে ভালোবাসি আর তার সাথেই আমার বিয়ে হচ্ছে,,রাজি হচ্ছি না কেন??
শিশির-হ্যালো রুনা,আমার তো বিয়ে ঠিক হয়সে তনুর সাথে,,
রুনা-কিহ?আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না শিশির,,
শিশির-(আজ ওরে হাতেনাতে ধরবো)জানো আমার চাকরি টা শেষ,,এখন আপাতত মুদি দোকান নিয়ে বসবো আর তনুর বাবা সেটাতেই খুশি,
রুনা-ওও,তোমার চাকরি শেষ??সো স্যাড,,আচ্ছা আমাকে মম কল দিসে পরে কথা বলবো,
শিশির-(হুম,রুনাকে চিন্তে ভুল করি নাই,)থাক আপদ বিদায় হয়সে,,বিয়ে তো তনুকেই করবো,,হিহি,মুনার কথাই ঠিক,,ওরে সারাজীবন জ্বালাবো,,
মা-শিশির চল মার্কেটে
শিশির-কেন?
মা-আংটি কিনবো,,তনু ও যাবে আর মুনা
শিশির-?
শিশির আর তনু এক রিকসায় আর মা আর মুনা আরেক রিকসায়,,
শিশির হুদাই ফোন নিয়ে তনুকে দেখিয়ে কথা বলতে লাগলো
শিশির-হুম জান,বলো, আচ্ছা তোমার জন্য ও গিফট আনবো,,
তনু-?(শালা লুচু,বিয়ে কয়েকদিন পর এখনও পিরিত দেখাইতেছে)
শিশির-কিছু বললা?
তনু-উহু,
মার্কেটে♥♥
মা-তনু পছন্দ করো,,শিশির তুই ও,
তনু -বাহ
শিশির-বাহ
মা-হুম তাইলে এটা পছন্দ,, শিশির আর তনু তাকিয়ে আছে দুজন দুজনের দিকে,,
কর্মচারি-ম্যাম স্যার আপনাদের চয়েস অনেক সুন্দর,,
তনু নিলো রিংটা,,এবার শিশিরের টা চয়েস করার পালা,,
শিশির-ধুর একটাও সুন্দর নাই,,
তনুর চোখ পরলো পাশের দোকানের একটা রিংয়ের উপর তনু গিয়ে হাতে নিয়ে দেখলো,,শিশির খপ করে হাত থেকে নিয়ে নিলো,
শিশির-মা দেখো আমি চয়েস করসি,নাইস না?
মা-বাহ,অনেক সুন্দর,
তনু-?চয়েস করসি আমি,নাম নেয় উনি
রিকসায়♥
শিশির একটা কানের দুল পকেট থেকে বের করে তনুকে দেখালো,
তনু-ওয়াও,,আমার?
শিশির-পাগল নাকি তুমি?তোমার জন্য কেন হবে,আমার লাভ রুনার জন্য,
তনু-হুহ,,
বাসায় তনু চলো গেলো,
শিশির দাঁড়িয়ে দেখতেছে
মুনা-Sachi muchi hun tenu love karta????
শিশির-শয়তান মাইয়া যা এখান থেকে,
শিশির বাসায় চলে আসলো,,
শিমুল-তনু তোমার নাকি বিয়ে??
তনু-হুম
শিমুল-নিশ্চই শিশিরের সাথে
তনু-হুম
শিমুল-আর আমি??
(এবার আপনাদেরকে শিমুলের পরিচয় দিই,,শিমুল রাগী,,বেয়াদব,একটা ছেলে,ওর জিএফ এর অভাব নেই,,,রুনার সাথেও প্রেম করসিলো একবার,,তনু সব জানে,শুধু শিশিরের দেওয়া কষ্ট মুছার জন্য রিলেশন করসে,,তাও নামেই রিলেশন)
তনু-বলসিলাম,আব্বু যার সাথে বলবে তাকেই করবো,,তনু আচ্ছা ৫লাখ দেনমোহরে বিয়ে করবে,,তাহলে চলো পালায় যাই??
শিমুল-পালাবো না, আম্মু বকবে,,
তনু-(জানতাম) ঠিক আছে,
শিশির তনুকে মেসেজ দিলো,,
রসগোল্লায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া
তনু-এই একদম এই নামে ডাকবেন না
শিশির-ডাকবো,,দিন দিন তো হেভি স*** হয়ে যাচ্ছো
তনু-ছিঃ,আমি রুনা না,আমাকে এসব নামে ডাকবেন না একদম,
শিশির-শুনেন,আম্মা আপনার জন্য শাড়ী রাখছে,,কাল আমাদের বাসায় আসবেন, এসে খেয়ে যাওয়ার সময় শাড়ী টা নিয়ে যাইয়েন,,engagement -এ পরবেন,মা বলসে,
তনু-?আপনি না থাকলে আসবো
শিশির-আমি অফিস যাবো
তনু-তাহলে আসবো,
পরেরদিন ♥
মুনা-আরে তনু ভাবী,আসো আসো,,
তনু গিয়ে মুনার রুমে বসলো,
মুনা-মা বাথরুমে,আসবে,
তনু-ওহ,,
তনু বারান্দায় গেলো,,তারপর আসার সময় গ্রিলে তনুর ওড়না টা গেলো আটকিয়ে,
তনু-ইস,মানুষের জামাই,বি এফের সাথে ওড়না আটকে আর আমার জিনিস পত্রের সাথে,
তনু টানতে টানতে ছাড়াতে পারলো না ওড়না ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
শিশির-মুন!!
তনু-!!!এ্যাই এখানে কি করেন,তনু গায়ে হাত দিয়ে আরেক দিকে ফিরে গেলো,
শিশির-আমি আসলে মুনাকে ডাকতে আসছিলাম,তুমি কখন আসলা,আর এই অবস্থা কেন?
তনু-যান এখান থেকে,,
শিশির -বলো
তনু-ওড়না আটকে গেসে,
শিশির-হাহাহা,শিশির এসে ওড়না টা খুলে তনুর হাতে দিলো,
শিশির -এটা নয় যে ওড়না ছাড়া আগে দেখি নাই,,
তনু-মানে কি
শিশির-হাহাহা,
তনু-আপনি না অফিস থাকবেন?
শিশির-হুম,আম্মু বলসে আজ অফিস গেলে মাইর দিবে,,
তাই
তনু-ও,
মা-তনু এসেছিস,,আয় বস এখানে,আজ আসলে শিশিরের ফুফুরা আসবে তোকে দেখতে,,
তনু রাগী চোখে শিশিরের দিকে তাকালো,কারন শিশির তনুকে এই ব্যাপারে বলেনি,বললে তনু আরেকটু সাজ দিয়ে আসতে,আজ Normally এসেছে,
শিশির-(ইচ্ছে করে বলিনি,কারন তনুকে ন্যাচারালি সুন্দর লাগে,মেক আপ এ আমার কাছে ভালো লাগে না)?
ফুফুরা আসলো,,
ফুফু-আরে তনু??তনু শিশিরের বউ হবে??
মা-হুমম,আমার ছেলেকে যে বুঝবে সেই তার বউ হওয়ার যোগ্যতা রাখে,,
চলবে ♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_11
ফুফুরা কথা বলতেছে,,
মুনা আর তনু কথা বলতেছে,,
শিশির-কেউ কি আমাকে কফি বানিয়ে দিবে???নাকি না খেয়ে থাকব?
মুনা-আপু তুমি করে দাও না,আমার স্কুলে দেরি হয়ে যাচ্ছে,
তনু-আচ্ছা,,
তনু কফি বানিয়ে শিশিরের দরজায় নক করে খুললো
তনু-আস্তাগফেরুল্লাহ!
শিশির-কি হয়সে??
তনু-এই রুমে কি মানুষ থাকে,?আল্লাহ রুমের কি অবস্থা
শিশির-?আমার রুম তো সুন্দর
তনু-এটাকে সুন্দর বললে সুন্দররে কি বলবে??
তনু শিশিরের হাতে কফিটা দিলো,,
তনু-আমি যাই
শিশির-দাঁড়াও
তনু-কি?
শিশির-ধরো আমার এই কাজটা complete করো,,এটা তুমি পারবা
তনু-আমার আর কাজ নাই,পারুম না
শিশির-রুম থেকে কি করে বের হও আমিও দেখব
তনু ফাইল টা নিয়ে বসলো,,কলম মুখে দিয়ে দাঁত দিয়ে কামরাচ্ছে আর কাজ করতেছে,
মা-শিশির তোর কাছে কলম আছে?
তনু নিজের টা দেওয়া ধরলে শিশির খপ করে হাত থেকে নিয়ে নিলো,,আরেকটা কলম মাকে দিলো,
তনুর টা রেখে দিল,
তনু-এসব কি?
শিশির-কিছু না
তনু চলে যাওয়া ধরলো শিশির হাত ধরে ফেললো,
তনু-আবার কি?
শিশির তনুর হাতে shirt ধরিয়ে দিলো,,
শিশির-নাও এটা ধুয়ে দাও,,আমার shirt আমি ধুই,এখন থেকে তুমি ধুয়ে দিবা,
তনু-বউ হয়নাই এখনও
শিশির-হয়ে যাবা,যেটা বলসি করো,
তনু মুখ ভেঁংচি দিয়ে বাথরুমে গেলো,,গিয়ে এক চিৎকার দিলো,পা পিছলিয়ে পড়ে যাওয়া ধরলো শিশির এসে ধরে ফেললো,
শিশির-কি ভূত দেখলা?
তনু-ছিঃ কি নোংরা
শিশির-ও এই ব্যাপার?
তনু-না
শিশির-তাহলে?
তনু-Underwear?
শিশির তনুকে ছেড়ে দিলো,ঠাসসসসসসস!
তনু-আহ মাগো,যখন ছেড়েই দিবেন ধরেন কেন?
শিশির তাড়াতাড়ি করে বাথরুম থেকে underwear সরিয়ে ফেললো,,
তনু উঠে ওড়না পেঁচিয়ে shirt ধুয়ে নিলো,,
তনু-নেন ধরেন
শিশির-কি করবো?যাও ছাদে দিয়ে এসো,
তনু-?
তনু ছাদে গিয়ে shirt মেলে দিলো,
শিশির এসে আয়না দিয়ে তনুর মুখে লাইট মারতেছে,
তনু-উফ,আপনার আর কাজ নেই,
তনু চোখ হাত দিয়ে সরতেছে,
তনু-সরান,উফ,কিছু দেখতেছি না,,
তনু ছাদের শেষ পর্যন্ত চলে এসেছে,,
শিশির এটা খেয়াল করে এক দৌড় দিলো,তনু হাত ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে এলো,,
তনু তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে,
শিশির-এভাবে দেখার কি আছে,I know I’m enough handsome ?
তনু-কচু!ডাকাত ছাড়া কিছু না,
শিশির-কি?আমি ডাকাত??
তনু-হ্যাঁ
শিশির-দাঁড়াও,
তনু এক দৌড়ে বাসায় আসলো,পিছন পিছন শিশির ও আসলো,,
তনু গিয়ে ফুফুদের সাথে বসে পরলো,
শিশির-পরে দেখে নিবো,
দুপুরে♥♥
সবাই খেতে বসেছে,,,
ফুফু-তা বিয়ের মার্কেট কবে হবে??
মা-Engagement শেষ হলেই পরেরদিন আমরা যাবো,,তনু শিশির তোরা কোন কালার ম্যাচিং করবি?
তনু-Deep red
শিশির-Deep red
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে,
মা-আজীবন দুজনের পছন্দ এক,,ঠিক আছে,Deep red এর লেহেঙ্গা আর শেরওয়ানি হবে,
খাওয়া শেষে♥
মা-তনু ধর এই শাড়ীটা engagement এর দিন পরবি,,
তনু-বাহ অনেক সুন্দর,
মা-এটা আমার মায়ের,,আমাকে দিসে, আমি তোকে দিলাম,
তনু-আচ্ছা,আন্টি আসি তাহলে,,আসসালামু আলাইকুম
মা-ওয়ালাইকুম আসসালাম
তনু দেখলো শিশির নিজের shirt এর হাতা উঠাইতেছে,
তনু সেই লেভেলের speed এ দৌড় মারলো বাসার দিকে,
শিশির-হাহাহা বোকা মেয়ে,আমি তো পানির টাংকি পরিষ্কার করব তাই হাতা উঠাইসি?
৫তারিখ♥♥
মা-এ্যাই শিশির তুই নাকি তনুকে সাজানের জন্য পার্লারের লোকদের কল দেস নাই??
শিশির-হুম
মা-কেন?
শিশির-তনুকে মেক আপ ছাড়া সুন্দর লাগে
মা-এটা নরমাল দিন না,এই দিনে সাজা লাগে,
শিশির-মেইন husband মানা করে দিসে,সাজবে না,বলে দিও হালকা lipstick, দিতে,,আর একটা টিপ
মা-আর কাজল?
শিশির-তনু কাজল লাইক করে না,
মা-এই ছেলেকে নিয়ে কি করবো?ওরা কি ভাববে?
শিশির-কিছু ভাববে না..
সবাই Party center এ আসলো,,
শিশিরের আন্দাজ মতন তনু সেই সাজটাই দিল,হালকা lipstick দিয়েছে,,কপালে টিপ
মা-আল্লাহ দুজনকে দুজনের জন্য বানিয়েছে,,♥
ফুফু-দুজনের মধ্যে Bonding টা বেশ ভালো♥
মুনা-দুজন দুজনকেই লাভ করে শুধু বলতে পারে না,,♥
তিথিকে হালকা সাজে শিশিরের কাছে অপূর্ব লাগতেছে,শিশির তখন থেকে হা করে তাকিয়ে আছে,,
Golden কালারের শাড়ী,খোলা চুল,,হাতে চুড়ি,,হালকা lipstick,,কপালে টিপ♥
তনু তাকালো শিশিরের দিকে,
শিশির তনুকে দেখে আরেক দিকে ফিরে গেলো,
শিশির ও কম না,ওকেও অনেক সুন্দর লাগছে,,শিশির ও golden শেরওয়ানি পরেছে,,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_12
মা-শিশির তনুর পাশে এসে দাঁড়া
শিশির এসে দাঁড়ালো,
শিশির আংটি নিয়ে তনুর হাত ধরে পরিয়ে দিলো,,
তারপর তনু ও শিশিরকে আংটি পরিয়ে দিলো,,
তনু সবার সাথে কথা বলতেছে,
শিশির-তনু এদিকে আসো
তনু আসলো,
শিশির তনুর কোমড়ে হাত দিয়ে টেনে ছবি তুললো,তনু তো অবাক হয়ে হা করে তাকিয়ে আছে,,
শিশির-এভাবে তাকানোর কি আছে??আমার frder দেখাতে হবে না আজ আমার engagement হয়সে,কার সাথে হয়সে,,অনেক frdইতো আসে নাই,,
শিশির সবার সাথে কথা বলতেছে,,
হঠাৎ খেয়াল করলো তনু মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে আছে আর কাকে যেন খুঁজতেছে,,
শিশির তনুর কাছে গেলো,,কি হয়সে??
তনু-আম্মুকে পাইতেছি না,
শিশির-কেন?তোমার আম্মুকে তো দেখলাম বাইরে খাবারের রুমের দিকে গেলো,
তনু-মুনা?
শিশির-কি হয়সে??
তনু-আমার,,,ব্লাউজের ফিতা খুলে গেসে
শিশির-ও,শিশির তনুর হাত ধরে একটা রুমে নিয়ে গেলো,,
তনুকে আরেকদিকে ফিরিয়ে ফিতা লাগাতে গিয়ে দেখলো পিঠের মাঝ বরাবর একটা তিল,,
শিশির-বাহ জামাইর হাতে মাইর খাবা
তনু-মানে?
শিশির-পিঠের মাঝখানে তিল,হাহাহা,
শিশির ফিতা লাগিয়ে দিলো,,হুম যান লাগিয়ে দিসি,
সবাই খেতে বসলো,,
মা-তনু দই খাও ধরো
তনু-আমি?
শিশির-তনু দই খায় না,
মা-ও, তাইলে থাক,,
তনু কাল সকালে আমরা মার্কেট যাবো,রেডি হয়ে থেকো,তোমাকে নিয়ে যাবো,
তনু-ঠিক আছে,
সবাই চলে যাওয়া ধরলো সাথে তনু ও,
শিশির তনুর হাত ধরে ফেললো,,দাঁড়িয়ে আছে আরেকদিকে ফিরে,
তনু-এই যে আমার হাত ছাড়ুন বাসায় যাবো না??
শিশির-এই তুমি কি মেহমান??তুমি বউ,জামাইর সাথে বাসায় যাবা,চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকো,
তনুর মা-কিরে তনু আয়, যাবি না?
তনু-আম্মু
শিশির-মা ওকে আরেকটু থাকতে বলসে
তনুর মা-ওহ ঠিক আছে,শিশির বাসায় দিয়ে যাইও
শিশির-ওকে,
তনু-মিথ্যুক!
শিশির-তোমার জামাই
সন্ধ্যায়♥♥
মা-শিশির তনুকে দিয়ে আয়,সন্ধা হয়ে গেসে,
শিশির আর তনু হাঁটতেছে,হঠাৎ শিশির খপ করে তনুর হাত ধরলো,,
তনু-আবার কি?
শিশির-রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বাচ্চাদের হাত ধরে রাখতে হয়,,
তনু-আমি বাচ্চা?
শিশির-তা নয়ত কি,তারউপর রসগোল্লায়ায়ায়া
তনু-চুপ,,
তনুদের বাসা এসে গেলো,কিন্তু শিশির হাত ছাড়তেছে না,
তনু-আজব,হাত ছাড়ুন
শিশির-ওহ বাসা এসে গেসে বুঝি??ঠিক আছে,শিশির হাত ছেড়ে দিলো,যাই কেমন??
তনু-হুহহহহহ
শিশির -হুহহহহহহ
পরেরদিন সকালে♥
তনু-হুম,,কোনটা পরবো??Black or pink or white or blue?
শিশির মেসেজ করলো,,
তনু আজ পিংক পরবা,,
তনু-হুহ, আমি black পরবো,,
তনু শিশিরদের বাসায় গেলো,,
মা-তনু বসো,,শিশির ঘুম থেকে উঠতে দেরি করেছে,,তাই লেট,,
তনু বসে আছে সোফায়,,শিশির গোসল করে চুল মুছতে মুছতে বের হয়ে তনুকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো,
শিশির-তোমাকে বলসিলাম না পিংক পরবা
তনু-আমার ইচ্ছা,,
শিশির-ও তাই নাকি??শিশির রান্নার রুমে তাকালো মা কাজ করতেছে,
মুনা নিজের রুমে পড়তেছে,,,শিশির তনুর হাত ধরে টেনে নিজের রুমে নিয়ে গেলো,
তনু-আরেহ,কি হয়সে এমন করেন কেন?
শিশির তনুকে দেওয়ালের সাথে ঠেকে ধরলো,,কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো,,তনুর দুহাত চেপে ধরে আছে,
তনু-ছাড়ুন,আপনার মা কি ভাববে?
শিশির-কিছুই না,
শিশির তনুর হাত ধরে বাথরুমে নিয়ে গেলো,
তনু-এ্যাই পাগল হয়ে গেসেন?
শিশির-পরবর্তীতে আমার কথা শুনবা কেমন??মনে রেখো আমি তোমার ভালোর জন্য বলি,
শিশির ঝর্না ছেড়ে দিলো তনুকে নিচে দাঁড় করিয়ে,
তনু-ইস ভিজে যাচ্ছি, প্লিস এটা অফ করুন
শিশির -পুরোপুরি না ভিজা পর্যন্ত অফ হবে না,,
তনুর সাথে সাথে শিশির ও ভিজতেছে,,
১০মিনিট পর মায়ের আওয়াজে শিশির তনুকে ছেড়ে দিলো,নিজের হাত থেকে টাওয়েল নিয়ে তনুর গায়ে জড়িয়ে দিলো,যাও মুনার কাছে,মুনার একটা dress নিয়ে পড়ো,
তনু -হারামি,কুত্তা,বিলাই?
শিশির বের হয়ে মার কাছে গেলো,তনু মুনার কাছে,
মুনা-একি তোমার এই অবস্থা কেন?
তনু-ইয়ে মানে,,আচ্ছা তোমার একটা dress দাও,
তনু মুনার dress পড়ে চুল মুছে বসে আছে,
শিশির-হুমম এখন ঠিক আছে,,পাকনামি করতে আসে always,, আমাকে কি এখনও চিনো নাই?
চলবে♥

Crush যখন বর? Season_2 part 7/8/9

0

Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর? Season_2 part 7/8/9
#Part_7
তনু চলে যাওয়া ধরলো শিশির এসে হাত ধরে ফেললো,
তনু-হাত ছাড়ুন
শিশির-আমি partyতে থাকা সবার জন্য return gift আনছি,তোমার টা নিয়ে যাও
তনু-লাগবে না,,
শিশির-চুপ,,
শিশির নিচে বসে পরলো,তনুর পায়ে হাত দিলো,
তনু-কি করতেছেন কি??
শিশির পকেট থেকে একটা পায়েল নিয়ে তনুর পায়ে পরিয়ে দিলো,,এত সুন্দর পায়েলটা তনু অজান্তেই মুচকি হেসে দিলো,,
তনু চলে গেলো,,পায়ে ঝুনঝুন শব্দ হচ্ছে,,শিশির চোখ বন্ধ করে ফেললো,,শব্দটা শিশিরকে টানছে,,,
পরেরদিন ♥♥
তনু -ভাইয়া যাবেন??
ধুর,!!একটা অটো ও পাই নাহ,,
শিশির-ম্যাম আসেন আমি দিয়ে আসি,
তনু-No thanks
শিশির রিকসা থেকে নেমে গিয়ে তনুর পাশে দাঁড়ালো,অটো একটা আসলো,,তনু উঠলো পাশে শিশির বসে পরলো,
শিশির-হ্যালো,রুনা বেবি,কি করো জান
তনু-????
তনু কলেজে নেমে গেলো,,
শিশির-টাটা
তনু বাসায় আসার সময়,,
তৃনা-তনু তনু(তৃনা শিশিরদের বাসার ফ্ল্যাটে থাকে+শিশিরের চাচাতো বোন)
তনু-হ্যাঁ আপু বলো
তৃনা-আগামী ২৯তারিখ আমার বিয়ে,,
তনু-ওয়াও,Congratulation
তৃনা-হুম thanks,,তুমি ২৮তারিখ থেকে আমার বাসায় আমার সাথে থাকবা,আমি কিছু শুনতে চাই না,,
তনু-না না,
তৃনা-?রাগ করসি,বাই
তনু-আরে শোনো,,
শিশির এসে হাজির,,
শিশির -আরে ভিতু,,আমি যদি খেয়ে ফেলি তাই আসবে নাহ,
তনু-?
তৃনা-তনু তোমাকে আসতে হবে,আর আমি uncle কে ফোন করে বলে দিব,,,
তনু-ওকে?
তৃনা-এই শিশির তোর কাজ নাই??অফিস যাস না?
শিশির-অফিস থেকে আসলাম?যা ভাগ,যা জামাইর লগে টাংকি মার,
তৃনা-তোর কইতে হবে না হুহ,
২৮তারিখ♥♥
তৃনা-তনু
তনু-আপু!!আসো ভিতরে আসো
তৃনা-নাহ,তোমাকে নিতে এসেছি,অনেক কাজ,হলুদের কাজ শুরু, আসো,
তনু-আরে,তৃনা টান দিয়ে নিয়ে গেলো,,
শিশির Stage সাজাচ্ছে,তনুকে দেখলো,থ্রি পিস পরা,,
শিশির-কামের বেডি আইছে?
তনু-????
তৃনা-বেয়াদব, তনুর পিছনে না লাগলে তোর শান্তি হয় না??
তৃনা তনুকে নিয়ে নিজের রুমে গেলো,নে এই লেহেঙ্গা পর,, সবাই সেম লেহেঙ্গা পরবে,
তনু পরে নিলো,,,বাহ সুন্দর তো,,
তৃনা-এটা শিশির আর আমার আম্মু গিয়ে কিনছে,তোর টার speciality হলো ঝুমকা লাগানো,,
তনু-ওহ,তো তুমি রাখো নাই কেন এটা??
তৃনা-হ শিশির আমাকে ছাদ থেকে ফেলে দিবে
তনু-কেন??
তৃনা-ও সবার জন্য আলাদা আলাদা প্যাকিং করসে,,
তনু-ওহ,,
তনু চারিদিক দেখতেছে,
শিশির ফুল লাগাচ্ছিল তনুকে দেখে হ্যাং হয়ে গেলো,হাত চলতেছে নাহ,,তনু চুল নিয়ে কানে গুজে দিয়ে দেখতে লাগল
শিশির খেয়াল করলো আশেপাশের ছেলে একটা দুটো তাকাচ্ছে,,
শিশির-মাইয়া মানুষ এখানে কি করে,যাও বাসায় যাও
তনু-?,হুহহহহ
তনু চলে গেলো,,
তৃনা-কিরে কি হয়সে?
তনু-তোমার ভাই আমাকে stage দেখতে দিলো না
তৃনা-সারাদিন লেগে থাকে তোর পিছনে,,
তিশা-কুচ কুচ হোতা হে(তৃনার বোন)
তনু-?কচু হোতা হে,তোমাদের ভাবি আছে,রুনা
তৃনা-হয় নাই এখনও
তনু-হবে তো
তিশা-তার সিউরিটি নাই,,
তৃনা-নে তনু মিষ্টি খা,তনু হাতে নিয়ে মুখে দিবে শিশির হাত থেকে নিয়ে খেয়ে নিলো
শিশির-এত মিষ্টি খাওয়া ভালো নাহ
তৃনা-এই তুই এখানে কি করিস??
শিশির-কাজ শেষ,গিয়ে দেখ কি সুন্দর করে সাজিয়েছি,,
তৃনা-আমাকে পরে নিবে,তনু গিয়ে দেখে আয়,
তনু-আমি যাবো না,,হুহ
শিশির-যাইতে হবে না,,
শিশির-রুনননননননা
তৃনা-আইসা গেসে আপদ
তিশা-অসয্য,ভাইয়া কিভাবে সয্য করে আল্লাহ জানে!
রুনা হলুদ থ্রি পিস পরেছে,,
শিশির-লুকিং হট
রুনা-জানি আমি always ?
তৃনা-হাহাহা
তনু-??,,
বিকালে♥♥♥♥♥♥
সবাই stage-এ গিয়ে বসলো,,,তনু stage -এ বসে খাবার গুলা ডেকোরেশন করতেছে,,
শিশির stageএর চেয়ার ঠিক করতেছে,,
রুনা-আমিও পারি এসব করতে বাট মেক আপ নষ্ট হয়ে যাবে
তিশা-????
তনু পিছন ফিরলো শিশির ও,দুজনেই ঠাস করে মাথায় বারি খেলো,
তনু-উহ মাগো
শিশির-?
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_8
তনু গিয়ে মুনার সাথে বসলো,শিশির এসে তনুর পাশে বসে পরলো,,
তনু-মুনা একটু উঠো তো,
মুনা উঠলো,তনু গিয়ে মুনার সাইডে বসলো,,মুনা গিয়ে শিশিরের সাথে,
শিশির রাগে ফুলতেছে,,
তৃনা-তনু!!!!আয় হলুদ লাগায় দে,
তনু উঠে আসলো,,তৃনার গালে হলুদ লাগিয়ে দিলো,,
তৃনা-শিশির আয়
শিশির এসে দুহাতে হলুদ নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে দিলো তৃনার
তৃনা-এ্যা এ্যা
শিশির-হাহাহাহা
রুনা এসে এক আঙুল হলুদ নিয়ে লাগালো,,
শিশির কেক নিয়ে খেতে লাগলো,
তনু গিয়ে বসলো আগের সিটে,,গান বাজতেছে জোরে,,
শিশির-কে নাচবা আমার সাথে??আমার partner লাগবে,,
শিশির তনুর কাছে এসে তনুকে সরিয়ে রুনার হাত ধরে stage -এ নিয়ে গেলো,,
দুজনেই নাচতেছে,
Munda thoda off beat hai
Par kudiya de naal bahut sweet hai
Dhongi sa ye bada dheeth hai
Viral hogaya yeh tweet
Par phool wool karne mein cool Tu badi tezz katari hai Shagan teri ki, lagan teri ki Humne kardi tayari hai Nachde ne saare ral mil ke Aaj hil dul keLe saare ke saare nazaare
Khasma nu khaane! Hadipa!
Aaloo bade karare Karam naal aaloo bade karare Chad chad ke chaubaare Karam naal sweetu wajan maare…
তনু-হুহ?
রনি-If you don’t mind আমি আপনার সাথে একটা নাচ দিতে পারি??(তৃনার frd)
তনু-সরি
তনু দেখলো শিশির আর রুনা এখনও নাচতেছে,
তনু-ওকে,,
শিশির খেয়াল করলো তনু আর রনি কথা বলতেছে,,
শিশির নাচ শেষ দিয়ে তৃনার কাছে গেলো,
শিশির-তৃনা,তনুকে বল ওর মা আসছে ওরে ডাকতেছে,উনি এদিকে পরে আসবে,শিশির এটা বলে চলে গেলো
তৃনা-তনু
তনু-হ্যাঁ বলো
তৃনা-তোর মা আসছে,তোকে ডাকতেছে,
তনু-আচ্ছা,
তনু ভিতরে গেলো,,বাসা খালি,,
তনু-আম্মু???আম্মু??আম্মু?
শিশির এক টান দিয়ে নিজের রুমে নিয়ে এনে দেওয়ালের সাথে ঠেকে ধরলো,
তনু-আহ,ছাড়ুন,এমন করতেছেন কেন?
শিশির-রনির সাথে কিসের এত কথা??আর আমি যখন তোমার পাশে বসছি কোন সাহসে উঠে মুনাকে বসিয়ে দিলে?
কথাগুলো তনুর হাত চেপে চেপে বলতেছিলো,
তনু-লাগতেছে আমার ছাড়ুন,
হাতে কাঁচের চুড়ি,ফাটছে কয়েকটা,,
শিশির-আমার উত্তর দাও
তনু-নাচবো রনির সাথে কোনো সমস্যা??
শিশির আরও জোরে চাপ দিলো,হ্যাঁ সমস্যা, নাচবা না তুমি,
তনু-আপনি পারছেন আমিও পারবো
শিশির-মানা করসি তোমাকে,,আশা করি শুনবা,
তনু-শুনতে বাধ্য নই
শিশির ছেড়ে দিলো, তনু চোখের পানি মুছে চলে আসা ধরলো,
শিশির পিছন থেকে তনুকে আবার দরজার সাথে চেপে ধরলো,,
শিশির-পারলে এখনই সব করতে পারি,বাসা খালি,একটা পাখিও জানতে পারবে না,
তনু চোখ বন্ধ করে আছে,,আর কাঁদতেছে,
শিশির ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো,,
তনু আর stage-এ যায় নি,সোজা বাসায় চলে এলো,,
তৃনা-শিশির তনু কই??
শিশির-জানি না আমি,,
তৃনা ফোন নিয়ে কল দিলো,ফোন সুইচড অফ,,
তৃনা-মুনা
মুনা-হ্যাঁ আপু
তৃনা-বাসায় গিয়ে দেখতো তনু কই??
মুনা-আচ্ছা,,
মুনা-আপু বাসায় নেই,
তৃনা-কি হলো, কই গেলো মেয়েটা??
মুনা-ভাইয়া তনু আপু কই??
শিশির-আমি জানি নাহ
শিশির চলে গেলো,
তৃনা-মনে হয় কিছু হয়সে দুজনের মধ্যে
তিশা-তনু আপু ঠিক আছে,আর বাসায় গেসে,যদি অন্য কিছু হতো ভাইয়া এখনও বসে থাকতো না,,
মুনা-হ্যাঁ ঠিক
তৃনা-মেয়েটা চলে গেলো কেন,কি হয়সে কে জানে
তনু বাসায় এসে রুমে চলে গেলো,,
হাত ব্যাথা করতেছে তাকিয়ে দেখলো রক্তে টলাটল,চুড়ি ফেটে হাত দিয়ে ঢুকে গেসে,,
তনু হাত পরিষ্কার করে fresh হয়ে গিয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরলো,
রাতে♥
তৃনা মুনাকে নিয়ে তনুদের বাসা আসলো,
তৃনা-আমাকে না বলে চলে এলি??
তনু-ভালো লাগতেছিলো না
মুনা-ভাইয়া কি বলছে??
তনু-কিছু না,
তৃনা-চল আমার সাথে
তনু-না, যাও তোমরা,কাল যাবো
তৃনা-ঠিক আছে,,
পরেরদিন তনু রেডি হয়ে বের হলো,,লাল গাউন পরলো,,সাথে ওড়না,,চুল ছেড়ে দিলো,,
তৃনার পাশে বসে আছে,তৃনাকে সাজানো হচ্ছে,,
শিশির একবার আসছে শুধু তাও ডালা নেওয়ার জন্য,তনুর দিকে তাকালো,তনু আরেক দিকে তাকিয়ে আছে,,
মুনা-আপু তোমার হাতে কি হয়সে??
তনু-ওহ আসলে দরজার সাথে লেগে কাটা গেসে,
তৃনা-ইস রে,,মলম লাগাইছস??
তনু-হুম
শিশির বাইরে থেকে শুনতে পেলো,,,
তারপর চলে গেলো,,
তৃনা আর তৃনার বর stageএ বসে আছে,,,
তনু চেয়ারে বসে আছে,শিশির কাজের ফাঁকে ফাঁকে বারবার তাকাচ্ছে,,
খাওয়া শেষে,,
তৃনা-ভাইয়া তুই তনুকে ভালোবাসিস,,ওকে যেতে দিস না,আর ও তোকে ভালোবাসে,,
শিশির-আমি জানি ও আমাকে ভালোবাসে,,আমি ওরে ভালোবাসি নাহ,
তৃনা-তাহলে এসব??
শিশির-জ্বালাঔ,ভালো লাগে,ওরে না জ্বালায়ইলে ভালো লাগে না আমার
তৃনা মুচকি হাসলো,ভাইয়া এটাই ভালোবাসা♥শিশির আর কিছু বললো নাহ
তৃনাকে গাড়ীতে উঠানো হলো,চলে গেলো,,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_9
শিশির বাসায় আসলো,
তনু-আন্টি আমি আসি,,
যাওয়ার সময় শিশিরের সাথে চোখাচোখি হলো,,
শিশির-দাঁড়াও
তনু দাঁড়ালো নাহ,
শিশির-দাঁড়াতে বলসি,তনু দাঁড়ালো,
শিশির-দেখি হাত,
তনু হাত সরিয়ে ফেললো,শিশির হাত টেনে দেখলো,,
তনু-মলম লাগাতে হবে না,
শিশির-মলম কেন লাগাবো??ভালো হয়সে কাটছে,আমার কথা না শুনলে এমনই হবে,,
তনু হাত ছাড়িয়ে চলে গেলো,
শিশির-মুনা
মুনা-বলো ভাইয়া
শিশির-ধর এই মলমটা তনুরে দিবি,বলবি তৃনা দিসে,
মুনা-কেন??
শিশির-যেটা বলসি কর,
মুনা মলম নিয়ে গেলো,শিশির নিজের রুমে চলে এলো,
মা -মুনা দাঁড়া,আমি তোর সাথে যাবো,,
মুনা আর শিশিরের আম্মু তনুদের বাসায় গেলো,
মা-আপনারা কাল আমার বাসায় আসবেন,দাওয়াত দিলাম, সবাইকে নিয়ে আসবেন,,আমার আপনাদের সাথে কিছু কথা আছে,
তনুর বাবা-ঠিক আছে,আমার ও কথা ছিলো আপনাদের সাথে,
পরেরদিন সকাল♥
শিশির-মা আমি অফিসে যাচ্ছি
মা-দুপুরে আসিস,দরকার আছে
শিশির-কিসের??
মা-আসতে বলসি আসবি,
তনু-বাবা,কলেজ থেকে আসতে লেট হবে,,আজ কোচিং আছে,
বাবা-কিন্তু,,
তনু-বাই বাবা,
দুপুরে তনুর পরিবার শিশিরদের বাসায় গেলো,,
মা-দেখুন,আমরা বেশি দূরে থাকি নাহ,আমাদের ছেলেমেয়েরা তাই প্রতিদিন দেখা শুনা করে,শিশির আর তনু হয়ত দুজন দুজনকে পছন্দ করে,,
আর আশেপাশের মানুষদের কথা হয়ত আপনারাও শুনসেন,তারা শিশির আর তনুর মেলামেশা ভালো চোখে দেখছে নাহ,
তনুর বাবা-হ্যাঁ আমিও শুনসি,আমি আপনাদের বলতাম তার আগেই আপনারা বললেন,
মা-আমার শিশির তো কিছুদিন হলো চাকরিতে Join করেছে,,ভালই বেতন পায়,,আর আমার ছেলেকে তো আপনারা কবে থেকেই চিনেন,,
তনুর বাবা-সেটা তো চিনিই,,শিশির ভালো ছেলে,,বেতন সমস্যা নাহ,আমার মেয়েকে ভালো রাখলে আর কি লাগবে,
মা-আসলে ব্যাপারটা আরও পরেও বলতে পারতাম কিন্তু আশেপাশের লোকদের কথা বেড়ে গেসে,,তো আপনারা বলেন এবার,,তনুকে তো আমার পছন্দ,,ছেলের বউ করতে আমার আপত্তি নাই,,
তনুর বাবা-আমার ও আপত্তি নাই,,তনুর সাথে কথা বলে দেখি,,আপনারাও শিশিরের মত নেন
মা-ওদের কিসের মত, ওরা তো সেই কয়েক বছর আগ থেকেই দুজন দুজনকে বাচাই করে রেখেছে,,আমরা তো এখন শুধু পরে বন্ধনে আবদ্ধ করবো,,
তনুর বাবা-হ্যাঁ ঠিক,,আচ্ছা আসি তাহলে,,আসসালামু আলাইকুম,,
মা- ওয়ালাইকুম আসসালাম,
শিশির-মা,তনুর বাবা মা এখানে আসলো কেন??
মা-আমি ওদের দাওয়াত দিসিলাম,তোর আর তনুর বিয়ের ব্যাপার নিয়ে,
শিশির-wait!what???!!!!!!!!!!!!!!!!!!
মা-এত শক হওয়ার কি আছে??তুই তনুকে চিনস না??
মুনা-হাহাহা
শিশির-এই চুপ, চিনি তো তাই বলে বিয়ে??
মা-আশেপাশের লোকের কথা শুনস তো??কি বলে তারা?তোরা যে হারে প্রেম শুরু করছস তারা কি চোখে দেখে?
শিশির-কিসের প্রেম??
মা-যাই হোক, আমি ওদের বলে দিসি,রাতে কল দিয়ে আমাকে জানাবে,
শিশির-মানে কি??আমার মত নিবা না?
মা-কিসের মত,?তুই তনুরে ভালোবাসোস না??
শিশির-না,
মা-না?তাইলে রোজ দেখা করা,যেকোনো জায়গায় দুজন একসাথে সেটা কি??
শিশির-ওগুলা প্রেম নাহ,
মা-এখনও প্রেম কি জিনিস সেটাই জানস না??
শিশির-আজব তো,আমি বিয়ে করবো না,
মা-তোর এই জেদের জন্য কি এলাকা ছাড়া হবো?
শিশির-আলাদা বাড়ি কিনবো তাও বিয়ে করবো না,,
শিশির নিজের রুমে চলে গেলো,,
মুনা-ভাইয়া,তনু আপুরে বিয়ে করলে সারা জীবন জ্বালাতে পারবি????
শিশির -যা এখান থেকে,
তনু বিকালে বাসায় আসলো,,
বাবা তনুকে সব বললো,
তনু-মানে কি??আমি আর শিশির??পাগল হয়সো তোমরা?আমি ওরে বিয়ে করবো না
বাবা-আশেপাশের ৪-৫টা লোক কি বলে শুনস তো,তোদের মেলামেশা,
তনু-ওয়েট,কিসের মেলামেশা???আজব তো,
বাবা-আমি জানি না,আমার ছেলে পছন্দ,, আর ছেলের পক্ষের সবাই রাজি,,আর তুই ও রাজি হবি তোর কাছে আর কোনো ওয়ে নেই,আর হ্যাঁ তোরা দুজন দুজনকে ভালোবাসোস এটা তো মিথ্যা নাহ
তনু-হ্যাঁ মিথ্যা,,,,আমি ওরে ভালোবাসি না
বাবা-আমি কিছু শুনতে চাই না,এ এলাকায় ২০বছর ধরে আছি,কখনও কেউ আঙুল তুলে কিছু বলতে পারেনি,কিন্তু ইদানিং তোদের কর্মকান্ডে তারা যা শুরু করসে,,তুই দায়ী আমরা না
তনু নিজের রুমে চলে গেলো,,
বাবা-আমি শিশিরের আম্মুকে হ্যাঁ বলে দিচ্ছি,
বাবা-হ্যালো আপা,রাজি আমরা,
শিশিরের মা-আলহামদুলিল্লাহ! আমরাও রাজি,,
শিশির-মা এটা ঠিক হচ্ছে না,তোমরা আমার মত না নিয়েই??
মা-চুপ কর,ভিতরে ভিতরে দুজন দুজনকে ভালোবাসোস আর আমরা বিয়ে দিতে চাইলেই দোষ??
শিশির তনুকে মেসেজ দিলো,,তনু বাসা থেকে বের হয়ে পিছনের রোডে আসো,
তনু-হ্যাঁ আমার কথা আছে আপনার সাথে,
দুজনেই আসলো,
শিশির-এসব কি??
তনু-আমার একই প্রশ্ন,, আমি বিয়ে করবো না
শিশির-আমিও না,
তনু-বাবাকে বলসি বাবা শুনতেছে না
শিশির-আমার মাও শুনতেছে না,আমি তো রুনাকে লাভ করি,
তনু-হুহ,,তনু চলে আসা ধরলো শিশির হাত ধরে ফেললো,
শিশির কিছুক্ষন তনুর দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবলো,,
শিশির-রুনাকে বিয়ে করবো
তনু-করেন,আমার হাত ছাড়েন
শিশির হাত ছেড়ে দিয়ে শয়তানি হাসি দিয়ে চলে গেলো,
তনু-??
চলবে♥

Crush যখন বর? Season_2 Part_4/5/6

0

Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর? Season_2 Part_4/5/6
তনুর বাবা বাজার করে বাসায় আসতেছিলো, হঠাৎ হোচট খেয়ে পড়ে গেলো,শিশির তখন বাসা থেকে বেরিয়ে দেখতে পেলো,
শিশির এসে উনাকে ধরে তুললো,সব গুছিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে দিলো,
শিশির-Uncle ঠিক আছেন??
বাবা-হ্যাঁ বাবা
শিশির-চলেন আপনাকে দিয়ে আসি,,
বাবা-না থাক,,
শিশির জোর করে গেট পর্যন্ত দিয়ে আসলো,,
বাবা-শুনো শিশির
শিশির-জী
বাবা-কাল তনুর জন্মদিন, তোমার দাওয়াত রইলো,,তোমার Family এর সবাইকে নিয়ে আসিও কেমন?
শিশির-চেষ্টা করবো,
বাবা-না আসতে হবে,
শিশির-ঠিক আছে,,
শিশির বাসায় আসলো,,হ্যালো রুনা,
রুনা-হ্যাঁ বেবি বলো
শিশির-কাল আমাদের এখানে আসিও তোমাকে নিয়ে দাওয়াতে যাবো,
রুমা-ওমা তাই?ঠিক আছে
শিশির-হুহ,কাল ভালো করে জ্বালাবো,
পরেরদিন ♥♥
ছাদ হালকা করে সাজানো হলো,,,
সবাই দাঁড়িয়ে আছে,,তনু আসলো,,হালকা বেগুনি কালারের লং থ্রি পিস পরেছে,,
শিশির আর রুনা এসে হাজির,,
তনু-ওরা এখানে কেন??
বাবা-আমি দাওয়াত দিসি
তনু-?
শিশির -Uncle ও আমার হবু বউ,
বাবা-ওহ তাই,,
মা-তনু কেক কাট,
তনু মুখ গোমড়া করে কেক কাটলো,বাবাকে মাকে খাওয়ালো,,
মা-যা ওদের দিয়ে আয়
দুই পিস নিয়ে শিশির আর রুনার হাতে দিলো,,
রুনা-excuse me শিশির আমার একটা কল আসছে,আসতেছি,
তনু চলে যাওয়া ধরলো শিশির হাত ধরে ফেললো,
তনু-কি?
শিশির-সবাইকে খাওয়াই দিলা আর আমাকে খাওয়াইবা না?
তনু-নাহ
শিশির-দাঁড়াও,রুনানানানানা
রুনা-কি হয়সে??
শিশির-হা করো বেবি, শিশির তনুকে দেখিয়ে দেখিয়ে রুনাকে খাইয়ে দিলো,
তনুর চোখ দিয়ে পানি বেয়ে বেয়ে পড়তেছে,চোখ মুছে চলে এলো,,
মা-কিরে তনু কেক খাবি না,
তনু-না খিধা নেই,
শিশির-Uncle আসি তাহলে
বাবা-ঠিক আছে,,ধন্যবাদ আসার জন্য,,
শিশির যাওয়ার সময় বারান্দা দিয়ে তনুর রুমের দিকে তাকালো,তনুকে দেখা যাচ্ছে, তনু বসে বসে টিসু দিয়ে চোখ মুছতেছে,,
শিশির-ডোজ টা বেশি হয়ে গেলো নাকি??
শিশির-রুনা চলো রিকসায় উঠায় দিই,
শিশির রুনাকে বিদায় দিয়ে দেখলো সবাই ছাদে, সোজা তনুর রুমে গেলো,
তনু-কে??
পিছনে তাকিয়ে শিশিরকে দেখে খাট থেকে উঠে গেলো,
আপনি.??
শিশিরের হাতে কেক,
শিশির-Birthday girlকে কেক খাওয়ানো হয়নি
তনু-খাবো না আমি,যান এখান থেকে,
শিশির তনুর কাছে গেলো,
শিশির-হা করো,
তনু-বলসি না খাবো না,
তনু উঠে চলে যাওয়া ধরলে শিশির হাত ধরে ফেললো,নিজের কাছে এনে মুখ টিপে ধরে খাইয়ে দিলো,তারপর কিছুক্ষন চেয়ে রইলো তনুর দিকে,,তনুর চোখের পানি বলে দিচ্ছে বারবার যে শিশিরকে সে কতটা ভালোবাসে,,
শিশির হয়ত বুঝতে পারলো হয়ত বুঝে নাই,তনুকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো,,
তনু তাকিয়ে আছে,,কি চায় উনি??বুঝি নাহ,
পরেরদিন ♥♥
মা-শুনো তনুর খুব জ্বর,এখন কি করবো??
বাবা দৌড়ে গিয়ে ঔষধ এনে দিলো,,
তনুর জ্বরে বেড়েই চলছে,,
শিশির-সারাদিন অনলাইনে আসলো না কেন??কি হয়সে?
শিশিরের মা-শিশির
শিশির-হুম বলো
মা-বাজার থেকে এগুলা নিয়ে আয় যা
শিশির-ঠিক আছে,,
শিশির বাজারে গেলো,রুনার সাথে সেখানে দেখা হলো,
রুনা-চলো ঘুরবো,
শিশির-মুড নাই,পরে কথা হবে
রুনা-আমি আছি তো মুড ঠিক করে দিব
শিশির-পরে কথা হবে বাই,
শিশির চলে এলো,মা আমি একটু আসতেছি,
শিশির হাঁটতে হাঁটতে তনুদের বাসার সামনে আসলো,,উঠানে কেউ নেই,অথচ এই সময়ে তনু উঠানে থাকে,ফুল গাছে পানি দেয়,,আজ নেই কেন??ইচ্ছে করতেছে গিয়ে দেখি কিন্তু,,,,!
শিশির তনুর একটা frd রে নক দিলো,
শিশির-হাই
টিনা-হাই
শিশির-তনুর সাথে আজ তোমার কথা হয়সে??
টিনা-হুম ভাইয়া,আমি কল দিসিলাম, কলেজে আসে নাই যে তার জন্য, ওর তো খুব জ্বর কাল রাত থেকে,
শিশির-ও,,ঠিক আছে,ধন্যবাদ,আর হ্যাঁ একটা কথা pls আমি যে এটা ask করসি তনুকে বলবা না,
টিনা-কেন?
শিশির-pls
টিনা-ঠিক আছে ভাইয়া,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_5
শিশির -তুমি কি তনুদের বাসায় আসবা?
টিনা-হ্যাঁ বিকালে,ওকে দেখতে আসবো
শিশির-ওর পাশে বসে আমাকে ভিডিও কল দিও,
টিনা-ঠিক আছে,,
বিকালে♥
টিনা তনুর পাশে বসে কল দিলো শিশিরকে,
তনু চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে,
শিশির কল রিসিভ করলো,,
শিশির কিছুক্ষন তনুকে দেখলো, কোনো কথা বললো না,তারপর কেটে দিলো,
পরেরদিন তনু একটু সুস্থ হলো,,
কলেজে যেতে হবে, Result দিবে,,
তনু কলেজ শেষে বাসায় ফিরার সময় মুনা ডাক দিলো,
তনু-কি মুনা?
মুনা-আপু তুমি কতো সুন্দর করে হিজাব বাঁধো আমাকে একটু শিখিয়ে দাও প্লিস,,
তনু-আসো বাসায়, শিখায় দিব
মুনা-আম্মু বাসায় নেই,বাসা খালি,,
তনু-তোমার ভাইয়া ও নেই?
মুনা-নাহ,ভাইয়া অফিসে,
তনু-ওকে তাহলে চলো,
তনু মুনাকে হিজাব বাঁধা শিখাচ্ছে,,তখন শিশির বাসায় আসলো,,বাসায় ঢুকেই তনুর গায়ের ঘ্রান পেলো,,চেনা ঘ্রান,,শিশির উঁকি মেরে তাকালো তনুর জামা দেখা যাচ্ছে,,
শিশির-তনু???
তনু শিশিরের কথা শুনে চমকে উঠলো সাথে সাথে হাত দিয়ে পিন ঢুকে গেলো,আহহহ!
শিশির দৌড়ে এসে হাত ধরলো,
শিশির-দেখে কাজ করতে পারো না??
শিশির-মুনা যা এক glass পানি নিয়ে আয় আর One time bandage ও আনিস,
তনু কাঁদতেছে,
শিশির-এই একদম কাঁদবা না,চোখ বন্ধ করো
তনু-কেন??
শিশির-করতে বলসি
তনু চোখ বন্ধ করলো,শিশির জোরে এক টান দিয়ে পিন উঠিয়ে ফেললো,তনু ব্যাথায় শিশিরের Shirt টেনে ধরলো,,
মুনার কথায় চোখ খুলে শিশিরকে ছেড়ে দিলো,
শিশির বসে হাতে bandage লাগিয়ে দিলো,,,
তনু-মুনা আসি তাহলে,
মুনা-না আপু থাকো,আজ আমি রান্না করসি তোমাকে খাওয়াবো,,
তনু-পরে,,,,
শিশির-খাবে না, পেত্নির হাতের রান্না কেউ খাবে না
মুনা-ভাইয়া??
তনু-আচ্ছা খাবো
মুনা খাবার এনে টেবিলে দিলো,,
তনু -বাহ অনেক মজা হয়সে,,
শিশির-ছিঃ এটা কোনো খাবার?
মুনা-?
খাওয়া শেষে
তনু-আসি মুনা,,
মুনা বাই বলে চলে গেলো,
শিশির পিছন পিছন এসে তনুকে এক টান দিয়ে দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে ফেললো
তনু-কি হয়সে আবার???
শিশির হাত নিয়ে তনুর কপালে রাখলো,চেক করলো জ্বর আছে কিনা,
শিশির-হুম কম আছে,বাট পুরোপুরি যায় নাই
তনু-ছাড়েন তো
শিশির-নাহ,আমার কাজ শেষ হোক,বাসায় গিয়ে এই ঔষধটা খাবা,জ্বর পালিয়ে যাবে,
তনু-খাবো না,
শিশির জোর করে হাতে ধরিয়ে দিলো,
শিশির-যাও,
তনু রাগী লুকে তাকিয়ে আছে
শিশির-নাকি আমি দিয়ে আসতাম??
তনু- নাহ নাহ ঠিক আছে যাইতেছি
তনু দৌড় মারলো
তনু বাসায় এসে ঔষধটার দিকে তাকিয়ে ছুঁড়ে মারলো,
শিশির মেসেজ দিলো
শিশির-ঔষধ খেয়ে নাও,কাল আবার জ্বর চেক করবো যদি দেখি আছে তাহলে I’m sure তুমি ঔষধ খাও নাই,কি হাল করুম তোমার ভেবে নিতেছি
তনু -হুহ?আমি কাল বাসা থেকে বের হবো না,,দেখি কি করে,,
তনু শুয়ে পরলো,,রাতে জ্বর বেড়ে গেলো,
মা মাথায় পানি দিলো,তাও কমতেছে নাহ,
পরেরদিন সকাল♥
তনু আস্তে করে উঠার চেষ্টা করলো পারলো না,ঝাপসা দেখছে সব,,
হালকা খাবার খেয়ে টিভি দেখলো,ভালো লাগতেছে না দেখে ছাদে গেলো,,বসে আছে,,হঠাৎ ঠাস করে শব্দ হলো,
তনু উঠে পিছনে তাকালো,শিশির গাছ দিয়ে ছাদে উঠছে,
তনু শিশিরকে দেখে Hang হয়ে গেলো,
শিশির-পালাবা কোথায়??
তনু দৌড় মারা ধরলো শিশির টান দিয়ে নিচে বসিয়ে দিল কারন রাস্তার মানুষ দেখলে বিপদ আছে,
শিশিরও বসে পরলো,তনুর মাথায় হাত দিয়ে দেখলো গায়ে জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে,, তনু কাঁপতেছে,,
শিশির কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো,,রাগে কি করবে??অসুস্থ নাহলে পিটিয়ে ভর্তা বানিয়ে দিতো তনুর
শিশির নিজের গা থেকে জ্যাকেট খুলে পরিয়ে দিলো,
শিশির-কাল দিয়ে দিও
তনু-ছাড়েন বাসায় যাবো
শিশির-নাহ,কাজ শেষ হোক,
শিশির সেই ঔষধ টা এনে তনুর মুখ টিপে ধরে খাইয়ে দিলো,,পকেটে পানির বোতল ছিলো,,
তনু্ তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে,,
শিশির-জানতাম কথা শুনবা না,আর তাই আজ বাসা থেকে বের ও হও নাই,বুঝতে পারসি আমি,,
শিশির- বাসায় যাও,শীত পরতেছে,,
শিশির আবার গাছে উঠা ধরলো,
তনু-গেট দিয়ে যান,সমস্যা নাই,
শিশির-না Problem হবে,
শিশির চলে গেলো,
তনু বাসায় এসে জ্যাকেট টা খুলে গুছিয়ে রাখলো,
রুনা-বেবি তুমি আমাকে আজ কল করলা না যে?
শিশির-(শুরু হয়সে ন্যাকামি)সরি জান,,
চলবে♥

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_6
শিশির-এই মাইয়ারে কবেই ছেড়ে দিতাম,,ছ্যাঁচড়া,,১০১টার সাথে প্রেম করে,,আমি নাকি বুঝি নাহ,আমি কাঁচা মাছ খাই??রাত ১২টায় উনার number বিজি থাকে,ask করলে বলে মামা কল দিসিলো,
আরে রাত ১২টায় মামা কেন কল দিবে??আমি কি বাচ্চা??আমাকে বোকা বানায়,,আমার সাথে থাকলেও ১০বার কল আসে,,শুধুমাত্র তনুকে জ্বালানোর জন্য রুনাকে সয্য করতেছি,,
তনুকে জ্বালাইতে আমার ভালো লাগে,,
তনু বসে জ্যাকেট টার দিকে তাকিয়ে আছে,
শিশির মেসেজ দিলো,
আমার জ্যাকেটের দিকে এত তাকানো লাগবে না,নজর লাগবে,
তনু বিষম খেলো,ঘরে ক্যামেরা আছে নাকি??
শিশির-শুনো কাল আমার বাসায় party আছে,,আসবা
তনু-সরি,পারবো না
শিশির-না আসলে কোলে তুলে আনবো
তনু-তাও আসবো না,
শিশির-ঠিক আছে,,
পরেরদিন ♥
তনু বাথরুমের উপরের store -এ উঠে বসে আছে,চিপস চকলেট সব নিয়ে উঠছে,নইলে খিধা লাগলে নামতে হবে,
তনু-হিহি,আজ আমায় নিতে পারবে না,,
দরজা নক হলো,
মা-তনু, তনু
তনু-কি??
মা-মুনা আসছে
তনু-ওরে বলো আমি যাবো না,
মা-ও খাবার দিতে এসেছে,,তোর সাথে খাবে,,
তনু-ওও,ঠিক আছে
তনু নিচে নামলো,,মুনার কাছে গেলো,
মুনার পিছন থেকে শিশির এসে দাঁড়ালো কোমড়ে হাত দিয়ে,
তনু শিশিরকে দেখে ৪৪০ভোল্টের শক খেলো,
মা নেই,,রান্নার রুমে চলে গেলো,
শিশির-মুনা তুই যা আমি ওরে নিয়ে আসতেছি,,
মুনা চলে গেলো,শিশির তনুকে খপ করে ধরে কোলে তুলে হাঁটা শুরু করলো,
তনু-এই pls ছাড়ুন আমাকে,রাস্তার মানুষ দেখলে কি ভাববে,pls ছাড়ুন,,
শিশির-যেতে হবে
তনু-আচ্ছা আচ্ছা যাবো,ছাড়ুন
শিশির -ওককককককে,,ছেড়ে দিলো
ঠাসসসস!
তনু-মাগো,কোমড় গেলো গো,,
শিশির- চলো,হাত বাড়ালো,
তনু হাত না ধরে নিজে নিজে উঠলো,তারপর গেলো,
ছাদে party হচ্ছে,,শিশিরের সব frd রা এসেছে,,
রুনাও এসেছে,,
শিশির -আসো রুনা dance করবো,,শফিক গান লাগা
শফিক-ওকে,,
গান শুরু,,,
shuru!
Jo akh lad jaave,,,.
Saari raat neend na aave
Mainu bada tad paave
Dil chain kahin na paave paave paave
Khan khan khan khan choori
Teri khan khan khan khan khanke re
Khan khan khan khan khanke
Vekh vekh ke chehra Mera dil yeh dhak dhak dhadke re Dil yeh dhak dhak dhadke
Tar saave tere bin yeh reh na paave Maahi jo tu na aave aave aave Jo akh lad jaave Saari raat neend na aave Mainu bada tad paave
Dil chain kahin na paave paave paave,,
শিশির তনুকে দেখিয়ে রুনার কাঁধে হাত দিলো,আরও কয়েকজন কাপল ও নাচতেছে,,
তনু -হ্যালো শিমুল,,আমাদের বাসার এদিকে আসো,,First!
১০মিনিটে শিমুল আসলো,তনু ছাদে থেকে শিমুলকে ডাক দিলো,
শিমুল আসলো,,
তনু শিমুলকে টান দিয়ে কাপলদের মাঝে ঢুকে গেলো,
শিশির শিমুলকে দেখে রেগে গেলো,রুনাকে ছেড়ে দিয়ে দূরে চেয়ার নিয়ে বসলো,
রুনা-কি হয়সে বেবি??
তনু শিমুলের গলায় হাত রাখলো,,
শিশির গিয়ে গান অফ করে দিলো,
শিশির-নাচানাচি শেষ,সবাই খেতে আসো,
শিমুল তনুর পাশে বসা ধরলো শিশির এসে বসে গেলো,পাশে রুনাকে বসিয়ে দিলো,
শিমুল ঘুরে গিয়ে তনুর ডান সাইডে বসলো,
রুনা-ইস কি তেল জাতীয় খাবার,আমি তো এসব খেলে মুটকি হয়ে যাবো,
শফিক-(তুমি তো এমনিতেই মুটকি)
রুনা-কিছু বললা?
শফিল-না আপা,??
শিশির মুরগীর রান নিয়ে তনুর পাতে দিলো,তনু প্রিয় সব জিনিস শিশিরের জানা,,
শিশির-সবাই খাওয়া শুরু করো,,আমার অফিসে promotion হয়সে সেই উপলক্ষে party,,,
শিমুল হাত নিয়ে তনুর চেয়ারে রাখলো,,
শিশির খেয়াল করলো,ঠাস করে glass টেবিলে রাখলো,
তনু চমকে উঠলো,,
শিশির-এত ভয় পাওয়ার কিছু নাই,,
শিশির-বেবি হা করো,,হা
রুনা-হা
শিশির ধরে খাইয়ে দিলো,,
তনু-??
তনু শিমুলের মুখ টিপে ধরে খাইয়ে দিলো,,,
শিশির-??
খাওয়া শেষে তনু আর শিমুল চলে যাওয়া ধরলো,,
শিশির-আমি কাউকে এখনও যেতে বলিনি, party শেষ হয়নি,
শিমুল-আমি আসি,,আমার ভার্সিটিতে কাজ আছে,শিমুল চলে গেলো,,
শিশির রুনাকে সবার সামনে specially তনুকে দেখিয়ে হাতে bracelet পরিয়ে দিলো,,
তনু আর চোখের পানি সামলাতে পারলো না,চোখ মুছে ওখান থেকে চলে এলো,
মুনা-আপু দাঁড়াও কই যাও,কাঁদতেছো কেন??
তনু-কিছু নাহ,চোখে কি যেন পড়েছে তাই,,
তনু চলে গেলো,
শিশির-কিরে মুনা তনু কই??
মুনা-আপু কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো,তুই কি বলেছস??
চলবে♥

ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ৬

0

#ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ৬
Writer: ইশরাত জাহান সুপ্তি

মাঝরাতে টের পেলাম শুভ্র স্যার আমার কাধঁ ঝাকিয়ে আমায় ডাকছে।আমি চোখ মেলে তাকাতেই  সে বলল,সুপ্তি তাড়াতাড়ি উঠো,নামাজ পড়।
আমি ঘুমঘুম চোখে বললাম,এই মাঝরাতে নামায পড়ব কেনো?
সে বলল,এখন মাঝরাত?ভালো করে তাকিয়ে দেখেন ম্যাডাম সকাল হয়ে গেছে।

আমি ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সত্যিই আঁধার কেটে আলো ফোটা শুরু করেছে।
তাই আলসেমি ভেঙে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে এসে দেখলাম স্যার আমার জন্য আগের থেকেই তার পাশাপাশি জায়নামাজ বিছিয়ে রেখেছে।
আমি গিয়ে দাঁড়াতেই স্যারও নামাজ পড়া শুরু করল।আমি নামাজ শেষে মোনাজাত দিয়ে স্যারের দিকে তাকিয়ে দেখলাম স্যারের এখনো নামাজ শেষ হয় নি।সে আরও দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করছে।
এই সময় হঠাৎ শোকরানা নামাজ পড়ছে কেনো বুঝতে পারলাম না।স্যার দীর্ঘ সময় নিয়ে মোনাজাত করল।আমি স্যারের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।কি সুন্দর লাগছে দেখতে!স্যার মনে হয় আগের থেকে আরো বেশি সুন্দর হয়ে গেছে।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



স্যার মোনাজাত শেষে আমার দিকে ফিরে বলল,
কি দেখছো?
আমি তাড়াতাড়ি মাথা নাড়িয়ে বললাম কিছু না।

এরপর স্যার তার জামা কাপড় নিয়ে বাথরুমে চলে গেল।মনে হয় গোসল করছে।
আর আমি ঘুরে ঘুরে রুমটা দেখছিলাম।রুমটা বিশাল বড় আর খুব সুন্দর করে সাজানো গোছানো।
বিছানাটা শুধু এলোমেলো হয়ে রয়েছে তাই আমি তাড়াতাড়ি করে বিছানা গুছিয়ে নিলাম।

একটু পরই স্যার বাথরুম থেকে একটি অ্যাশ কালারের গেঞ্জি আর ব্লাক টাউজার পড়ে টাওয়েল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বেরোল।
আমার কাছে এসে আমার হাত ধরে এক টান দিয়ে বাথরুমে নিয়ে গেল।আমি অবাক হয়ে বললাম,স্যার আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেনো?
সে আমাকে বলল,গোসল করতে।
গোসলের প্রতি আমার সবসময়ই একটা আলসেমি কাজ করে।১১টা থেকে শুরু হয় মার চেচাঁমেচি আমাকে গোসল করতে পাঠানোর জন্য।আলসেমি করতে করতে দুপুর ১টা বাজলে তারপর ঢুকি বাথরুমে।আর শীতকালে তো দুই একদিন বাদও পড়ে যায়।
আর সে এখন বলে কিনা এই সকাল সকাল শীতের মধ্যে আমাকে গোসল করতে!
আমি চরম বিরক্তি নিয়ে বললাম,এত তাড়াতাড়ি কে গোসল করবে!
স্যার তার দু হাত আমার দু পাশে দেয়ালে রেখে মাথা ঝাকিয়ে চুলের পানি আমার মুখে ছিটিয়ে মুচকি হেসে বলল,এখন থেকে সকালেই গোসল করবে।
আমি মুখ ফুলিয়ে বললাম,ইশ বললেই হল!আমি করব না।
সে এবার তার গলায় পেচানো টাওয়েল দিয়ে আমার মুখের পানি মুছতে মুছতে বলল,চুপচাপ করবে,নাকি আমি করিয়ে দেব?
তার কথা শুনে আমি চোখ মুখ কুঁচকে বললাম,
ছি!আপনি তো ভালো বেশরম হয়ে গেছেন।
আগে তো এমন ছিলেন না।
সে একটি বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,বেশরমের কি হল!আমি কি অন্য কাউকে বলছি নাকি,আমার বউকে বলছি।কারণ বউ তো বউই।
বলেই একটা চোখ টিপ মারল।তারপর আবার চোখে চোখে রেখে বলল,
আর আমি যা হয়েছি, যেমন হয়েছি সব তোমার জন্য।সো এখন ভুগতে থাকো।
এই বলে সে শাওয়ার অন করে চলে গেল।আর আমি শীতে কাঁপতে কাঁপতে হাত পা ছুড়ে বিরক্তি প্রকাশ করলাম।

গোসল শেষে বের হয়ে দেখলাম,স্যার রুমে নেই।
তাই তাড়াতাড়ি আমি শাড়ী পড়তে লাগলাম।
তখনি রুমে স্যারের ছোট বোন সামিয়া আসল।মাত্র শাড়ি পড়াটা শেষ হয়েছে।এখনো চুলটাও ঠিক করি নি।সামিয়া এসেই আমার মুখ ধরে বলল,বাহ্!ভাবী তোমাকে তো এই শাড়ি টায় খুব সুন্দর লাগছে।

তখনই শুভ্র স্যার রুমে আসল ফোন টিপতে টিপতে।সামিয়ার কথা শুনে সে আমার দিকে একপলক তাকিয়ে সোফায় বসে আবারো ফোন টিপা শুরু করল আর আড়চোখে আমায় দেখতে লাগল।
নিচ থেকে আমার শ্বাশুড়ি মা সামিয়াকে ডেকে উঠলে সামিয়া যেতে যেতে বলল,ভাবী তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে এসো কিন্তু।

সামিয়া চলে গেলে আমি চুল আঁচড়াতে লাগলাম।
হঠাৎ আয়নার দিকে খেয়াল করলাম,স্যার আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি সাথে সাথে পিছনে ফিরতেই সে আবারো ফোনের দিকে নজর দিল।
আবারো একটুপর আয়নায় দেখলাম সে তাকিয়ে রয়েছে।এবং আমি পিছনে ফিরতেই সে নজর ঘুরিয়ে নিল।তখনই আমার মনে পড়ল সে একটু আগে বাথরুমে যে বলল “আমার বউ”। তার মুখে বউ কথাটা শুনে কেমন যেনো লেগেছিল।ভেবেই আমি একটু লজ্জা পেলাম।

আমি রেডি হয়ে গেলাম।সবার সাথে বসে নাস্তা খেলাম।আমার শ্বাশুড়ি মা আমাকে বলল,কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে যেনো আমি তাকে জানাই।
আজ থেকে তার এক মেয়ে না দুই মেয়ে।
কথাটা শুনে আমার বেশ ভালো লাগল।আমার শ্বশুর,শ্বাশুড়ি আর ননদ সবাই বেশ ভালো আর মিশুক।আমার ননদের সাথে আমার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল
সামিয়া আমার এক ক্লাস নিচে পড়ে।

ও আমাকে পুরো বাড়ি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে লাগল।আর বলতে লাগল,জানো ভাবী, ভাইয়াকে মা আরো দেড়বছর আগে থেকে বিয়ের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু ভাইয়া বিয়ের কথা শুনলেই ফায়ার।একটা মেয়েও দেখাতে নিয়ে যেতে পারে নি।মা কতজনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে যে ভাইয়াকে বোধ হয় আর বিয়ে করাতে পারবে না।কিন্তু একদিন হঠাৎ ভাইয়া রাত বারোটা বাজে এসে বাবা মাকে ডেকে তোমার কথা বলল।আর বলল কালকেই যেনো তোমাকে দেখতে যায় আর পাকা কথা বলে।বাবা মা তো হাতে আকাশে চাদঁ পাওয়ার মতো খুশি হয়েছে। তাই তাড়াতাড়ি করে দুইদিনের ভেতরেই তোমাকে নিয়ে আসল।আর কয়দিন সময় পেলেই তো আরো বড় ধুমধাম করে তোমাদের বিয়ের আয়োজন করতে পারত।এই ভাইয়াও টাও না!
কারো কথা শুনে না।এত রাগী হয়ে গেছে।আগে একদমই এমন ছিল না।

সামিয়ার কথা শুনে নিজেকে অপরাধী লাগছিল।কিন্তু আমি তো স্যারকে ঠিক বুঝতেই পারছি না।
আর সেদিনের ঐ মেয়েটা?
শুধু শুধু কিছু না থাকলে তো আর একটি মেয়ে একটি ছেলেকে জড়িয়ে ধরতে পারে না।কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।

পুরো বাড়ি মেহমানে ভর্তি।আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুইদিনেও কম আয়োজন করে নি।
স্যারের খালা,মামী,ফুফুরা মিলে আমাকে আর স্যারকে দিয়ে একশটা নিয়ম পালন করাল।তারপর আমাকে কি সব কথা যে বলতে লাগল।তারা একবছরের মধ্যেই নাতি নাতনির মুখ দেখতে চায়।পারলে মনে হয় কালকেই নিয়ে আসে।আর স্যারের খালাতো ভাবীদের মজা,টিটকারি তো আছেই!

বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে আমাকে আর স্যারকে আমাদের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হল।বাড়িতে সবাই স্যারকে নিয়েই ব্যাস্ত।কি খাওয়াবে না খাওয়াবে তা নিয়ে।আমার কথা তো কারো মনেও নেই।আমিও তাই সেখান থেকো উঠে মনের মত ঘুরতে লাগলাম।

একটুপর ভাবি এসে আমার হাত টান দিয়ে বলল,এই গাধী জামাই তোর রুমে বসে আছে কখন থেকে আর তুই এখানে কি করছিস?
বিয়ে হয়ে গেছে এখনো কি সব আমি শিখিয়ে দেব?
বলেই আমাকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে গেল।
তারপর দাতঁ কেলিয়ে হাসতে হাসতে বলল,সুপ্তি রান্নাঘরেই ছিল,তোমাকে কি খাওয়াতে হবে না খাওয়াতে হবে আমাদের বলছিল।

আমি তো হা করে তাকিয়ে রইলাম।কি মিথ্যা কথা!
তারপর আবার বলতে থাকল,
তোমাদের বাচ্চা কাচ্চার কি প্লানিং শুনি?
আমার চোখ তো ছানাবাড়া হয়ে গেছে।স্যারের সামনে কি সব বলছে!
ঐ বাড়িতে তবুও আমি একা শুনেছি আর এখন তো দেখি সরাসরিই সব বলে দিচ্ছে।
আমি চোখ দিয়ে ইশারা করে ফিসফিসিয়ে বললাম,ভাবী চুপ থাকো।
ভাবী জোরেই বলে উঠল,তুই চুপ থাক।

তারপর আবার স্যারের উদ্দেশ্যে বলতে থাকল, সুপ্তির বাচ্চা স্বভাব এখনো যায় নি।বেশি তিরিং বিরিং করে।শুভ্র তুমি আবার মন খারাপ করো না।
নিজের মতো বুঝিয়ে শুনিয়ে নিও।
হায় আল্লাহ!এই ভাবীকে তো আর থামানো যাবে না।স্যার মানুষের সামনে কি আর এসব শোনা যায়?
আমি তো কাচু মাচু করতে করতেই শেষ।আর স্যার চুপচাপ বসে রয়েছে।আমি ভাবীকে থামানোর জন্য বললাম,ভাবী পোড়া পোড়া গন্ধ আসছে, কি যেন পুড়ে যাচ্ছে।তাড়াতাড়ি যাও।

ভাবী আমার কথা শুনেই ছুটে বের হয়ে গেল।
আর আমি স্যারের দিকে একবার তাকিয়ে একটি জোরপূর্বক হাসি দিয়ে এক দৌড় দিয়ে ওখান থেকে বের হয়ে আসলাম।

রাতে খাবারের টেবিলে বসে দেখলাম অনেক আইটেমের রান্না করা হয়েছে।খাবার মুখে দিয়েই দেখি ঝাল কম।আমি প্রচুর ঝাল খাই।ঝাল ছাড়া রান্না আমি মুখেও দিতে পারি না।এর জন্য আমার গ্যাস্টিকের সমস্যাও আছে প্রচুর।কিন্তু ঝাল খাওয়া থেকে আমাকে আটকায় কে।

মাকে আমি বললাম,মা রান্নায় ঝাল কম দিয়েছো কেনো?
বলেই সালাদের বাটি থেকে দুটি কাঁচা মরিচ উঠিয়ে নিলাম।
আর আমার মা আবার সবসময়ের মতো শুরু করল,এত ঝাল খেতে পারে মেয়েটা।এই কারণেই এত গ্যাস্টিকের সমস্যা।তবুও যদি বাদ দেয় ঝাল খাওয়া।

স্যার আমার সোজাসুজি সামনে বসেছে।মার কথা শুনে আমাকে ইশারায় বলল মরিচ রাখতে।আমি সবে মাত্র মরিচে কামড় টা দিতেই নিয়েছিলাম।
তার কথা শুনে আমি ভুরু কুঁচকে কামড় দিয়েই দিলাম।কে শুনে কার কথা!

খাওয়ার পর রুমে যেতেই স্যার আমায় টান দিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল।আর রাগী গলায় বলতে লাগল,তখন মানা করেছিলাম না ঝাল খেতে?
আমার কথা শুনলে না কেনো?বেয়াদপ মেয়ে!
স্যারের কথা শুনে না।

তার মুখে বেয়াদপ শুনে আমিও মুখ ফুলিয়ে রইলাম।
আর স্যার এবার একটু দূরে সরে বলতে লাগল, কথা শুনো নি,এখন শাস্তি পাবে।কানে ধরো।পনের মিনিট কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে।
কানে ধরার কথা শুনে আমার চোখ যেন বাইরে বের হয়ে আসতে চাইছে।আমি এত বড় মেয়ে এখন স্কুলের বাচ্চাদের মত কানে ধরে দাড়িয়ে থাকব।তাও আবার পনের মিনিট!
আমি মুখ ফুলিয়েই জবাব দিলাম,আমি কানে ধরবো?
স্যার তার দুই হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে মাথাটা হালকা কাত করে বলল,হ্যাঁ।ভুলে গেছো আমি তোমার স্যার!আজ থেকে তোমার বেশি ঝাল খাওয়া বন্ধ।

তারপর একটা জোরে ধমক দিয়ে বলল,কানে ধরো।
তার ধমক শুনে আমিও আস্তে আস্তে কানে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম,মুখে একটা কাঁদো কাঁদো ভাব এনে।আর স্যার খাটে আধশোয়া হয়ে পা দুলিয়ে দুলিয়ে বই পড়ছে।
কত বছর পর আজ কানে ধরলাম।চব্বিশ ঘন্টা স্যারদের সাথে থাকার এই একটা সমস্যা।
আমাকে নাকি এখন থেকে ঝালও খেতে দেবে না।বুঝতে পারছি এই অ্যাংরি বার্ড টা আমাকে এভাবেই জ্বালিয়ে মারবে।

পনের মিনিটের এক সেকেন্ড আগেও স্যার আমাকে কান ছাড়তে দিল না।কাঁটায় কাঁটায় পনের মিনিট পর্যন্তই আমাকে দাঁড়া করিয়ে রাখল।
আমি রাগে দুঃখে সেখান থেকে বের হয়ে আসলাম। অনেক সময় কাটিয়ে তারপর রুমে ফিরলাম।এসে দেখি স্যার ঘুমিয়ে পড়েছে।
তাই আমি আস্তে আস্তে গিয়ে তার পাশে শুয়ে
পরলাম একটু দূরত্ব রেখেই।
শোওয়ার সাথে সাথেই স্যার কাছে এসে আমাকে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।তারমানে স্যার জেগে আছে।
আমাকে তার দিকে ঘুরিয়ে তারপর বলল,সুপ্তি,তোমার ভাবী যেন তখন কি বলছিল?
স্যারের কথা শুনে তো আমি শেষ!তার দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করতে লাগলাম।আর তোতলিয়ে বললাম,মা..মা..মানে?

স্যার আমার অবস্থা দেখে জোরে জোরে হাসতে লাগল।হাসতে হাসতে বলল,কিছু না,ঘুমাও।

সকালে খাওয়া দাওয়ার পর আমার এক মামাতো ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম।ভাইয়াটা খুবই মজার।এত হাসির হাসির কথা বলে।হাসতে হাসতে আমার পেট ব্যাথা হয়ে যায়।হঠাৎ ভাইয়ার ফোনে কল আসায় ভাইয়া অন্যদিকে চলে গেল। আর আমি হাসতে হাসতেই পিছনে ফিরে দেখলাম,স্যার দূর থেকে আমার দিকে রক্তবর্ণ চোখে তাকিয়ে রয়েছে।রাগে যেন সে এখনই ব্লাস্ট হয়ে যাবে।হঠাৎ আমার কাছে এসেই সে…………

চলবে,,

ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ৫

0

#ভদ্র স্যার রাগী বর-পর্ব ৫
Writer: ইশরাত জাহান সুপ্তি

আচ্ছা আমি কি স্বপ্ন দেখছি?
তা না হলে এটা কিভাবে সম্ভব আমি তো দেখছি যে আমার সামনে শুভ্র স্যার।

স্যার তার দু হাত দিয়ে আলতো করে আমার মুখ ধরে পলকহীন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।আমিও তার চোখে চোখ রাখলাম।স্যারের চোখ যেনো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।তার চোখ দুটো যেনো হাজার বছরের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিচ্ছে।

আমার মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বেরোলো,স্যারর…

তখনি স্যার ক্রোধে ফেটে পরে আমার কাধঁ তার দুই হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠলো,
কেনো করেছো আমার সাথে এমন?কেনো?
কোথায় কোথায় না খুঁজিছি আমি তোমায়।
জানো!এই দুই বছর সাত মাস পনের দিন  সতের
ঘন্টা আমি কিভাবে কাটিয়েছি?ধোঁকা দিয়েছো
তুমি আমাকে।

তার শেষের কথাটি শুনে আমারো বেশ রাগ উঠে গেল।সেই দিনের সেই মেয়ের কথা মনে পড়ে গেল।

আমি তাকে এক ধাক্কা দিয়ে বললাম,ধোঁকা আমি না,আপনি দিয়েছেন আমাকে।
স্যার অবাক দৃষ্টি নিয়ে ভুরু কুঁচকে বলল, আমি দিয়েছি মানে?
আমি তাচ্ছিল্যের সুরে বললাম,থাক আর ন্যাকা সাজতে হবে না।আমি আর আপনাকে এগুলো বলার কে!
আর আপনি এখানে কেনো এসেছেন?আজ আমার বাসর রাত।আমার বর কোথায়?

শুভ্র স্যার একটা বাঁকা হাসি দিয়ে আমার আরো
কাছে এসে বলল,শেরোয়ানী পরে সামনে বসে
আছে তবুও নিজের বরকে চিনতে পারছো না?
এত সুন্দর মেহেদী লাগিয়েছো হাতে, একবার
তাকিয়ে দেখোতো।
সত্যিই আমি আমার হাতের মেহেদী এখনো দেখিনি তাই তার কথা মতো হাত মেলে দেখলাম খুব সুন্দর ডিজাইনের মাঝখানে গাড় লাল রঙে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা “শুভ্র”।
মানে কি?এটা কি ভাবে সম্ভব,তার মানে স্যারের
সাথে আমার বিয়ে হয়েছে!

কিন্তু আমি তো জানতাম স্যার মধ্যবিত্ত পরিবারের।কলেজের গেস্ট টিচার। আর এখানে এত বড়লোক, বিজনেসম্যান!
স্যার সম্ভবত আমার ভাবনা বুঝতে পারল তাই আমার চোখের সামনে হাত নেড়ে বলল,কি এটাই ভাবছো তো, কলেজের নরমাল একজন গেস্ট টিচার, এত বড় বাড়ির ছেলে কি করে হল!

বড়লোক বাবার ছেলে যেন টাকা,প্রাচুর্যে বিগড়ে না যায় তাই আমার বাবা আমাকে সাধারণ জীবন যাপন করাও শিখিয়েছে।সাথে আমাদের পরিবারের নিয়ম হল প্রথমে নিজের যোগ্যতায় কিছু করে তারপর এই বিশাল বিজনেসে জয়েন করা।আমার বাবাও একই জিনিস করেছে।আর আমিও তাই করেছিলাম।

তার কথা শুনে আমি চরম পর্যায়ের অবাক হলাম।এত বড়লোকের ছেলে কিভাবে এত সাধারণ জীবন যাপন করতে পারে!
নিজের চোখে না দেখলে তো আমি বিশ্বাসই করতে পারতাম না।

সে হঠাৎ আবার আমার দিকে ক্রোধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,এই জন্যই সেই সাধারণ কলেজ টিচারকে ছেড়ে দিয়ে এই রিচ বিজনেসম্যানকে বিয়ে করলে তাই না?
তার কথা শুনে আমার মনে হল আমার বুকে যেনো কেউ তীর গেঁথে দিল।যা আমি কখনো কল্পনাতেও ভাবি নি সেই কথাটা সে আমাকে বলতে পারলো!

আমি আহত চোখে তার দিকে তাকালাম।আমার চোখে চোখ পরতেই সে তার দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল।
আর বলতে থাকল,এই কয় বছর আমি কিভাবে কাটিয়েছি তা শুধু আমিই জানি।কি ভেবেছিলে?
আমার ফিলিংস নিয়ে ছিনিমিনি খেলে গা ঢাকা দিয়ে আমাকে ছেড়ে দিবে?সেই তো আমি তোমাকে খুঁজে বের করে বিয়ে করেই ফেললাম।
অনেক জ্বালিয়েছো আমাকে,আর না।এবার তোমার পালা।এই বলে সে বেড়িয়ে গেল।

আর আমি অশ্রু ঝরিয়ে ভাবতে লাগলাম,সে এসব কি বলছে।এসব কথার মানে কি?সে তো অন্য মেয়েকে ভালোবাসে, তাহলে আমাকে বিয়ে কেনো করল?

হয়ত ইগো!ইগোতে লেগেছে তার।এত বড়লোকের ছেলে আমার মত একটা সাধারণ মেয়ের ইগনোর নিতে পারে নি।তাই এসব করল।

কিন্তু শুভ্র স্যার তো এমন না!কি জানি আমিই বা তাকে কতটুকু বুঝতে পেরেছিলাম।যা বুঝেছিলাম তা তো ভুলই হয়েছিল।
আর এই বা কোন শুভ্র স্যার?আমি যেই শুভ্র স্যারকে চিনতাম সে তো খুব শান্ত,ভদ্র,লাজুক ছিল।আর এ তো সম্পূর্ণ বিপরীত।এত রাগী সে।
এত রাগ,সেই শুভ্র স্যারের!ভাবা যায়!

অস্বীকার করব না,যখন স্যারকে এখানে দেখলাম
এক পলকের জন্য আমি অনেক খুশি
হয়েছিলাম।

বের হওয়ার তিন মিনিটের মাথায় স্যার আবার রুমে ফিরে আসল হাতে করে তার দেওয়া সেই মাছের অ্যাকুরিয়াম দুটো নিয়ে।
মনে পড়ল,আমি ভাবিকে বলেছিলাম মাছের অ্যাকুরিয়াম দুটো আমার সাথে যেনো এ বাড়ি
পাঠিয়ে দেয়।তাই বিদায়ের সময় ভাবি আমার ননদ মানে শুভ্র স্যারের ছোট বোনের হাতে দিয়েছিল।আজ পর্যন্ত কখনো কাছ ছাড়া করিনি এগুলো।

স্যার আমার সোজাসুজি রাখা ছোট টি টেবিলটিতে অ্যাকুরিয়াম দুটি রেখে এর একটি ঠাস করে মেঝেতে ফেলে দিল।স্বচ্ছ কাচের অ্যাকুরিয়ামটি মেঝেতে চূর্ণ বিচূর্ন হয়ে পড়ল,মাছটি দাপাদাপি করছে।

আমি তাড়াতাড়ি বেড থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বললাম,
এ কি করলেন?

স্যার মেঝে থেকে মাছটি দু হাত দিয়ে তুলে অন্য অ্যাকুরিয়ামটিতে রেখে গম্ভীর গলায় বলল,এখন থেকে এরা একসাথেই থাকবে।

আমি দ্বিতীয় বার আর প্রশ্ন করতে পারলাম না।তার রাগ দেখে পুরো চুপসে গেছি।শত হলেও স্যার তো!একটা ভয় ভয় ফিলিংস কাজ করে।

আমি ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
সে আমার দিকে ঘুরে রাগী গলায় বলল,এভাবে স্ট্যাচুর মতো দাড়িয়ে আছো কেনো?
যাও গিয়ে চেঞ্জ করে আসো।

আমার গলা দিয়ে বের হয়ে গেল,কেনো?

সে ধীরে ধীরে আমার কাছে আসতে আসতে একটি বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,কেনো!তুমিই তো তখন বললে,আজ আমাদের বাসর রাত।

তার কথা শুনে আমার গলা শুকিয়ে গেল।আমি ঢোক গিলে তার থেকে সরে এসে একটি গোলাপী রঙের সুতি শাড়ী নিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলাম।

বের হয়ে দেখলাম স্যারও চেঞ্জ করে নিয়েছে।একটি হোয়াইট কালারের টি শার্ট আর ব্লাক,ব্লু কালারের কম্বিনেশনের টাউজার পরে বেডে আধশোয়া হয়ে ফোন টিপছে।
আমি আস্তে আস্তে গিয়ে তার পাশ থেকে একটি বালিশ নিয়ে সোফার দিকে যাচ্ছিলাম।
সে পেছন থেকে ডেকে বলল,এই মেয়ে কোথায় যাও?

আমি মুখ ফুলিয়ে জবাব দিলাম,আমি সোফায় ঘুমাব।
সে জিগ্যাসা করল,কেনো?
আমি বললাম,কারণ আপনি আমার স্যার।
সে ভুরু কুঁচকে বলল,মানে?
আমি হরবরিয়ে বললাম,মানে আবার কি!
স্যার তো স্যারই।

তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে আমার দিকে এমন ভাবে রেগে তাকিয়ে আছে যেনো এক্ষনি আমায় গিলে খাবে।

আমাকে জোরে একটি ধমক দিয়ে বলল,বেশি সিরিয়াল দেখা হয়েছে,তাই না?
বিয়ের পরেও স্বামী স্ত্রী একজন সোফায় ঘুমাবে একজন বেডে ঘুমাবে,আবার মাঝখানে কোলবালিশ দাও!যত্তসব।
এক্ষনি এখানে এসে ঘুমাবে নাহলে কিন্তু এখন এখানে সত্যি সত্যিই বাসর রাত হবে।
তার কথা শুনে আমি তাড়াতাড়ি বেডে গিয়ে চুপচাপ তার পাশে শুয়ে পরলাম।
সে তারপর আমাকে বলল,আমার উপর হাত দাও।
আমি হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।এগুলো কি বলে!
স্যার আবার আমাকে ধমক দিয়ে বলল,কি তাড়াতাড়ি দিবা নাকি…..

তার কথা শেষ না হতেই আমি তার উপর হাত রাখলাম।সাথে সাথে স্যার আমাকে তার দু হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।আমার খুব লজ্জা লাগল।

তখন মনে পড়ল সেই বিকেলের কথা।যেদিন আমি আর স্যার রাস্তা দিয়ে পাশাপাশিই হাটঁছিলাম।হাটঁতে হাঁটতে হঠাৎ স্যারের হাতের সাথে আমার হাতের হালকা স্পর্শ লাগে।সাথে সাথে মনে হল আমি যেনো হাই ভোল্টেজের শক খেয়েছি।আমি লজ্জা পেয়ে হাত সরিয়ে দ্রুত হাটঁতে লাগলাম।হঠাৎ মনে হল স্যার আমার সাথে নেই।আমি পিছনে ফিরে দেখলাম সে সেখানেই দাড়িয়ে বুকে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
মুখে হালকা লাজুক হাসি।বুঝতে পারলাম স্যার আমার থেকেও বেশি লজ্জা পেয়েছে।
সাথে শকও।

আর এখন, কিভাবে জড়িয়ে ধরে রেখেছে।আর সে কিনা সেই লাজুক শুভ্র স্যারই।এমন ভাবে জড়িয়ে ধরে রেখেছে যেনো ছাড়লেই আমি হারিয়ে যাবো।

এত কাছাকাছি এই প্রথমবার।আমি তো লজ্জায় মরে যাচ্ছি।আর সে কি সুন্দর ঘুমিয়ে পরেছে।মুখে প্রশান্তির ছাপ।
তার হৃদস্পন্দন আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি।কি ভালো লাগছে শুনতে।কিন্তু সেখানে তো আর আমার নাম নেই।সে তো আর আমাকে ভালোবাসে না!!

মাঝরাতে টের পেলাম শুভ্র স্যার আমার কাধঁ ঝাকিয়ে আমায় ডাকছে।আমি চোখ মেলে তাকাতেই………..

চলবে,,

ভদ্র স্যার♥রাগী বর-৩

0

#ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ৩
Writer: ইশরাত জাহান সুপ্তি

এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে ফেললাম।তার পরই হুশ হল এগুলো কি বললাম।কথার কোনো আগামাথা কিছুই নাই।
আস্তে আস্তে মাথা তুলে সামনের দিকে দেখলাম যে স্যার আমার দিকে হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তমার দিকে ফিরে দেখলাম ওর মুখ হা হয়ে গেছে।

আমি সেই যে সেখান থেকে এক দৌড় দিয়ে বাসায় আসলাম তারপর চারদিন কলেজ যাই নি।
পাঁচ দিনের দিন সকালে তমার ফোন আসল,
ওঁ হরবর করে বলে যাচ্ছে,”কিরে কলেজ আসছিস না কেনো।তোর হয়েছে কি?সেদিন ওসব কি বললি।আজ কলেজ আসিস।শুভ্র স্যার আজ ক্লাস টেস্ট নেবে।
স্যার বলেছে যে আসবে না তার প্রাকটিক্যালে নাম্বার কাটা যাবে।”

আর কি করার ফোন কেটে কলেজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলাম।
ক্লাসে গিয়ে দেখি শুভ্র স্যার এসে পরেছে।
আজ স্যার চকলেট কালারের একটি সার্ট পরেছে।আর সবসময়ের মতই মনে হচ্ছে এই রংটাতেই স্যারকে বেশি মানায়।
আমি চুপচাপ  মাথা নিচু করে ভেতরে ঢুকে বেঞ্চে বসলাম।বুঝতে পারছি স্যার আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি তো লজ্জায় শেষ।স্যারকে আর কিভাবে মুখ দেখাবো তাই ভাবছি।

পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে।ক্লাস টেস্ট আর কি,খাতা থেকে দুটো পৃষ্ঠা ছিড়ে তাতে বোর্ডের প্রশ্নের উত্তর লিখা।মোটামুটি ভালোই পারলাম।

স্যার বলল খাতা দেখে তৃতীয় পিরিয়ডেই দিয়ে দিবে।
তমা সেই কখন থেকে প্রশ্নের ঝুরি খুলে বসেছে।
আমি কোনো কথার জবাব না দিয়ে চুপ করে বসে আছি।

একটু পর স্যার এসে একে একে সবার খাতাই দিলো শুধু আমারটা বাদে।লজ্জায় আমি জিজ্ঞাসাও করতে পারলাম না।
কলেজ শেষে বাসায় যাওয়ার জন্য তমাকে নিয়ে বের হতেই শুভ্র স্যার পেছন থেকে “সুপ্তি শোনো” বলে ডেকে উঠল।

আমি বেশ অবাক হলাম।কারণ স্যার সব মেয়েদের নামের আগে মিস বলে ডাকে আর আপনি করে কথা বলে।এই প্রথম স্যার আমায় শুধু সুপ্তি বলে ডাকল,তাও আবার তুমি করে।আমি পিছনে ফিরে তাকালাম।চেহারায় এখনো লাজুক ভাব স্পষ্ট।স্যার আমার হাতে পরীক্ষার খাতাটি এক ভাঁজ করে দিয়ে চলে গেল।

আমি খাতার ভাঁজ খুলে দেখলাম যে ভেতরে লেখা,”পৃথিবীর কিছু অদ্ভুত স্যারদেরও ছাত্রীর প্রতি ঐ পছন্দ হয়ে যায়।আর আমিও তাদের মধ্যে একজন”

নিচে তার সিগন্যাচার দেওয়া।আমি হালকা লজ্জা মিশ্রিত অবাক দৃষ্টি নিয়ে স্যারের চলে যাওয়ার দিকে তাকালাম আর সাথে সাথে স্যার হাটতে হাটতেই পিছনে ফিরে মাথা চুলকিয়ে একটি লাজুক হাসি দিয়ে আবার সামনে ফিরে গেল।
তমা আমাকে কাঁধ দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে খ্যাপানো শুরু করল।আর আমি আমার লাজে রাঙা চোখ লুকানোর জন্য হাতের খাতা দিয়ে মুখ ঢাকলাম।

এখন আর আমি ক্লাসে শুধু বইয়ের দিকেই তাকিয়ে থাকি না।কিন্তু শুভ্র স্যারের বের হওয়ার সময় ঠিকই তাকাই।
ভিন্ন শুধু এতটুকুই যে স্যারও একবার পিছনে তাকিয়ে তারপর যায়।এই ব্যাপারটা আপাত দৃষ্টিতে দেখলে কিছুই না।কিন্তু আমাদের ভেতর এতটুকুতেই যেনো অনেক কিছু হয়ে যায়।

ব্যাপারটা শুধু এতটুকুতেই থেমে থাকে নি,স্যার এখন আমাকে বাসায় অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত পৌছেও দেয়।আমার বাসায় যাওয়ার রাস্তায় অটোর দুটি স্ট্যান্ড পরে।তাই দুইবার অটো বদলাতে হয়।তমার আর আমার বাড়ির রাস্তা পরের স্ট্যান্ড থেকে আলাদা হয়েছে।আগে দুটো অটো পাল্টিয়েই যেতাম।কিন্তু এখন অর্ধেক রাস্তা হেঁটে যাই স্যারের সাথে।সাথে তমাও থাকে।

হাঁটতে হাঁটতে কিছুও কথাও হয়।স্যার তো আমার থেকেও বেশি লাজুক।আমি তো স্পষ্ট কথা বলে ফেলি যা পেটে থাকে।
আমার সব থেকে বেশি ভালো লাগে,যখন স্যার আমার কিছু্ কথা শুনে মাথা চুলকিয়ে একটি লাজুক হাসি দেয়।
আমি কিন্তু এখনো তাকে স্যার বলেই ডাকি আর আপনি করে।কিন্তু স্যার আমায় তুমি করে কথা বলে আর সুপ্তির আগে মিস টা বাদ দিয়ে।

স্যারকে দেখি সবসময় লোকাল বাসে করে কলেজে আসতে।সেদিন দেখলাম একটি ভীড়ে ঠাসা বাস থেকে নামছে।কাঁধে সবসময়ের মতো অফিস ব্যাগ।যার কালো বেল্ট টা বুকের মাঝ বরাবর থাকে।তার গেটআপের সাথে খুব সুন্দর মানায়।ফর্সা মুখটা গরমে লাল হয়ে গিয়েছে।টপটপ করে ঘাম পড়ছে মুখ থেকে।
নিশ্চয়ই সারাটা রাস্তা দাঁড়িয়ে এসেছে।দেখে যে কি মায়া লাগল!

আজ আমাদের ক্লাসের বিদায় অনুষ্ঠান।টেস্ট পরীক্ষা এই কয়দিন আগেই শেষ হয়েছে।
ক্লাসের সব মেয়েরা ঠিক করেছে শাড়ি পরবে তাই আমিও আজ সবুজ রঙের একটি শাড়ি পরে এসেছি।আর হাত ভরে চুড়ি।সবাই বলে আমার চোখে নাকি জন্ম কাজল আছে তাই আর কাজল দেওয়া লাগে না।চুলগুলো মাঝখানে সিঁথি করে খোলা রেখেছি।আমার চুল আবার নিচ দিয়ে হালকা কোঁকড়ানো।ঠোঁটে একদম হালকা গোলাপী লিপস্টিক।ব্যাস এতটুকুই এর থেকে বেশি সাজ আমার ভালো লাগে না।মেকআপ তো একদমই না।

কলেজে যেতেই তমা বলতে লাগল স্যার নাকি আজ আমাকে দেখলে পাগল হয়ে যাবে।
স্যার আমাকে দেখে কি পাগল হবে,আমিই স্যারকে দেখে পাগল হয়ে গেলাম!
শুভ্র স্যার আজ একটি আকাশি রঙের পান্জাবী পরেছে।সাথে হোয়াইট কালারের জিন্স।হাতে একটি হোয়াইট কালারের ঘড়ি।পান্জাবীর হাতা কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করা।

স্যার স্টেজের পাশেই দাড়িয়ে ছিল।আমার দিকে চোখ পরতেই এক পলক তাকিয়ে স্টেজে উঠে মাইক হাতে নিলেন।সবাই চেয়ার আপ করে উঠল।স্যার রবীন্দ্র সংগীত গাইছেন।”ভালোবাসি ভালোবাসি”গানটা গাইছেন একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে।স্যার যে এত সুন্দর গান গাইতে পারেন তা আমার ভাবনারও বাইরে।স্যারের তো গায়ক হওয়া প্রয়োজন!আমি যেনো সুরের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছি।

সামনের বোর্ড পরীক্ষার জন্য প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বিদায় উপলক্ষে সবাইকে একটি করে
পেনসিল বক্স দিচ্ছে।
দেওয়ার দায়িত্বটা শুভ্র স্যারের উপর।প্রিন্সিপাল স্যারের সবকিছুই অদ্ভুত। কলেজের স্টুডেন্টদের কি পেনসিল বক্স দেয়?

একটি ক্লাসের বাইরে আমরা সবাই সারি হয়ে দাড়িয়ে আছি।স্যার এক এক করে সবাইকে দিয়ে যাচ্ছে।স্যারের পাশে কার্টুনে ভরা একেক রঙের পেনসিল বক্স।
আমি আর তমা সবার পিছনে পরে গেছি।একে একে সবাই চলে গেছে।স্যার তমার হাতে একটি বক্স দিয়ে আমায় বলল,সুপ্তি তোমার কোন রং পছন্দ?
আমি একটু তার দিকে ইঙ্গিত দিয়েই জবাব দিলাম,স্কাই ব্লু।

স্যার কার্টুনে বক্সগুলো ঠিক করছিল আমার দিকে না তাকিয়েই একটি মুচকি হাসি দিল।
আমি নিচে তাকিয়ে শাড়ির আঁচলের কোনা আঙুল দিয়ে পেচাচ্ছিলাম।
হঠাৎ স্যার আমার সামনে এসে দাঁড়াল।আমি তার দিকে তাকিয়ে হেসে বললাম,আমার বক্স কোথায়?
স্যার বলল,তুমি বক্স পাবে না।
আমি অবাক হয়ে বললাম,কেনো?
স্যার বলল,কারণ আর নেই।
আমি মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নকল অভিমানের সুরে বললাম,এতক্ষণ ধরে দাড়িয়ে রয়েছি আর আমার বেলায়ই নেই!

স্যার আমার সামনে একটি ছোট অ্যাকুরিয়াম তুলে ধরলেন যার ভেতর একটি খুবই ছোট রঙিন মাছ।দেখেই আমার চোখ খুশিতে ঝিলিক মেরে উঠল।আমি ওটা হাতে নিতেই আবার আরেকটা একই রকমের মাছসহ অ্যাকুরিয়াম তুলে ধরল।
আমি জিগ্যেস করলাম দুটি কেনো?
স্যার বলল,একটি ছেলে মাছ আর একটি মেয়ে মাছ।
আমি আবারো ভুরু কুঁচকে জিগ্যাসা করলাম তাহলে দুটো আলাদা আলাদা রাখার কি দরকার?
একটার ভেতরেই তো থাকতে পারে।
স্যার মুচকি হেসে বলল,এখন আলাদাই থাকুক।

আমরা শুনসান রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।আমরা মানে আমি,তমা আর স্যার।আমার হাতে একটি অ্যাকুরিয়াম আর তমার হাতে একটা।
স্যার নিয়ে হাটতে চেয়েছিল কিন্তু আমি দেই নি।বলে দিয়েছি যে একবার যখন আমাকে দিয়েছেন আর দিচ্ছি না।
আজ তমা আমাদের মাঝখানে হাঁটছে।কেউ কোনো কথা বলছি না।তিনজনই চুপচাপ।
নিরবতা ভেঙে আমিই বললাম,তমা স্যারকে বলেছিস আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।তমা আমার দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে বলল,কোনটা।
আমিও একটু ভাব নিয়ে বললাম,ঐ যে আমি ঠিক
করেছি বিয়ে করব না।দেখলাম যে স্যার অন্য দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছে।

তখনি একটি বাচ্চা ছেলে এসে স্যারকে বলল,ভাই দুই দিন ধরে কিছু খাই না কিছু ট্যাকা দেন।
স্যার আমাদের এক মিনিট অপেক্ষা করতে বলে
ছেলেটিকে নিয়ে রাস্তার ওপারের একটি হোটেলে নিয়ে গেল।
হঠাৎ আমার মাথায় একটি ভাবনা এলো,স্যার যে আমায় দুই দুটো অ্যাকুরিয়াম এনে দিল,এগুলোতে নিশ্চয়ই অনেক টাকা খরচ হয়েছে,কারণ এই দুটো শুধু গোল কাচের বোলের মতোই না যেমনটা সচরাচর টিভিতে দেখায়।গোল বোল দুটির বাইরে দিয়ে খুব সুন্দর লতাপাতার ডিজাইন করা।স্বচ্ছ কাচের।দেখতে খুবই সুন্দর এবং দেখলে বোঝাও যায় যে এক্সপেনসিভ।
স্যার এতটাকা কেনো খরচ করতে গেলো।ধুরর ভালো লাগে না।কলেজের গেস্ট টিচারদের বেতন যে খুবই সীমিত তা আমি খুব ভালো করেই জানি।
তারউপর স্যার মেসে থাকে।

আচ্ছা আমি কি স্যারকে ভালোবাসি?
এমন তো নয় যে স্যার শুধু সুন্দর বলেই আমার ভালো লাগছে!
স্যারকে যে আমি খুবই পছন্দ করি সেখানে কোনো সন্দেহ নেই।কিন্তু আমি এটাও জানি যে পছন্দ আর ভালোবাসা এক নয়।
“পছন্দ মানে মানুষটির কাছে থাকতে খুবই ভালো লাগা আর ভালোবাসা মানে হলো সেই মানুষটির কাছে না থাকতে পারলে পাগলের মতো লাগা।”
আর আমি পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলতে চাই না।
স্যার কি আমায় শুধু পছন্দই করে নাকি ভালোবাসে?

আমার এসব ভাবনার ছেদ ঘটালো তমা, একটি খোঁচা দিয়ে বলল,কিরে স্যার তোকে এত সুন্দর ডাবল গিফট দিলো আর তুই কিছু দিবি না।
আমি ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বললাম,আমি কি দেব?
ও বলল,আরে কি দিবি আবার,যেটাতে ছেলেরা বেশি খুশি হয় সেটাই।একটু হাতটা ধরে হাঁটতে শুরু কর বা একটা ফ্লাইং কিস দে।
আমি অস্থির হয়ে বললাম,না বাবা।হাত ধরলে এক্সপেক্ট করবে গালে কিস দেওয়ার।গালে কিস দিলে আবার……..না না কোনো দরকার নেই!
বিয়ের আগে কোনো ধরণের স্পর্শ আমার ভালো লাগে না।তাছাড়া গুনাহও তো হয়।
তমা বিরক্তি ভাব নিয়ে বলল,তুই কোন যুগে পরে আছিস।
আমি ওকে বললাম,চুপ থাক।মডার্ণ হওয়া মনে উচ্ছৃঙ্খল হওয়া না।

এর ভেতরই স্যার এসে পড়ল।আমরা আবার হাঁটা শুরু করলাম।স্যারকে ডেকে আমি বললাম,স্যার শুধু শুধু এগুলো কেনো কিনেছেন?
স্যার তাকিয়ে বলল,কেনো,তোমার পছন্দ হয় নি?
আমি বললাম,পছন্দ তো অনেক হয়েছে কিন্তু টাকাও তো অনেক খরচ হয়ে গেলো তাই না?
স্যার বলল,সে চিন্তা তোমার করতে হবে না।

তমা আমায় ফিসফিসিয়ে বলতে শুরু করল,তুই আসলেই একটা হাঁদারাম।কই এখন আলাপ করবি,কলেজ তো শেষ এখন কিভাবে যোগাযোগ হবে,তা না!মহারাণী খরচ নিয়ে মরছে।

স্যার সম্ভবত আমাদের কথা শুনতে পেরেছে কারণ স্যার হাসছে।এই তমার মাইকের মতো গলা দিয়ে কি আর ফিসফিস কথা বের হয়।
অটো স্ট্যান্ডের কাছাকাছি চলে এসেছি।স্যার অনেকক্ষণ ধরেই কাচুমাচু করছে।কিছু যেনো বলতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না।
তমা একটি অটোতে উঠে চলে গেছে।আমিও একটিতে উঠলাম তারপর আবার মাথা বের করে স্যারের উদ্দেশ্য বললাম,01×××××××××,
আমার ফোন নাম্বার।

তারপর অটো চলতে শুরু করল।পেছনে না তাকিয়েও বুঝতে পারলাম স্যার আবার মাথা চুলকিয়ে তার লাজুক হাসি দিচ্ছে।
এখন প্রতিদিন রাতে আমরা ফোনে কথা বলি।পাঁচ মিনিটের জন্য।আমি আরও বলতে চাই কিন্তু স্যার মানুষ তো!আমার সামনে পরীক্ষা….হেনতেন এসব বলে পাঁচ মিনিটের বেশি কথা একদিনও বলে না।

দেখা হয় সপ্তাহে তিনদিন।আমি আর তমা কলেজ থেকে খানিক দূরে আরেক স্যারের কাছে ইংলিশ প্রাইভেট পড়তে যাই তখন।আমাদের প্রাইভেট দুপুর তিনটা বাজে পড়া শেষ হয়।
তো স্যার শুনে সেখানে আসা শুরু করল।
আমি অনেকবার বারণ করেছি কারণ কলেজ ছুটি হয় দুইটা বাজে।কলেজের সব কাজ সেরে আসতে আসতে আড়াইটা বেজে যায়।এখন ত্রিশ মিনিটে স্যার নিশ্চয়ই গোসল খাওয়া দাওয়া সব করতে পারে না।
তাই স্যারকে আমি বললাম,স্যার শুধু শুধু এত কষ্ট
করে এখানে আসার কি দরকার?
স্যার মুচকি হেসে জবাব দিল,কষ্ট যাতে না হয় তাই তো আসি।
আমার সেন্স অব হিউমার বেশি ভালো না।তবে এই কথাটার মানে ঠিকই বুঝেছি।
আমি আবার জিগ্যাসা করলাম,খাওয়া দাওয়া করেছেন?
স্যার মাথা নাড়িয়ে না বলল।
আমি চোখ দিয়ে ইশারা করে শাসন করলাম।
স্যার আমাকে স্যরি বলে বলল,আচ্ছা চল ওখানে একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে সেখানে যাই।
কিন্তু আমি স্যারকে জোর করে একটি ফুচকার দোকানে নিয়ে গেলাম।জানি খালি পেটে ফুচকা খাওয়া ঠিক না।কিন্তু কি করার,তিনজন মানুষ যদি ওমন রেস্টুরেন্টে যাই তবে স্যারের অনেক টাকা খরচ হয়ে যাবে।
খেয়াল করলাম স্যার আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আমি স্যারের চোখের সামনে হাত নাড়িয়ে ইশারা করলাম কি?
স্যার মুচকি হেসে বলল,কিছু না।

তারপর দিন স্যার আসল।খেয়াল করলাম স্যার আজ ফরমাল শার্ট পরে নি।আজ স্যার ক্যাসুয়াল ড্রেস পরেছে। নেবি ব্লু কালারের জিন্স,হোয়াইট কালারের টি শার্টের উপর লাল কালো চেকের শার্ট পরেছে।শার্টের বোতাম সব খোলা।বাতাসে হালকা হালকা উড়ছে।দেখলাম যে স্যার ঘেমে টেমে অস্থির।ঘাম টপটপ করে পড়ছে মুখ দিয়ে।
আমি কিছু না ভেবেই আমার ওড়না দিয়ে স্যারের মুখ মুছে দিচ্ছিলাম।স্যার যখন আমার দিকে তাকাল আমি বেশ লজ্জা পেলাম।আমি স্যারকে একটি মাঠের মত জায়গা দেখিয়ে বসতে বললাম।

তারপর ব্যাগ থেকে একটি টিফিন বক্স বের করে তার সামনে দিলাম।স্যার চোখ দিয়ে ইশারা করল কি?
আমি বললাম,নুডুলস।আমি বানিয়েছি আপনার জন্য।আমি শুধু নুডুলসই বানাতে পারি।
স্যার খাওয়া শুরু করল আর আমি তাকিয়ে রইলাম।মাঝে মাঝে আমাকেও খাইয়ে দিতে লাগল।আবার আমি তাকে।
এভাবেই চলতে লাগল।আই লাভ ইউ,আই লাভ ইউ টু না বলেও আমাদের ভেতর প্রেম প্রেম ভাবটা জমে গেল।
আমি প্রতিদিন স্যারের জন্য নুডুলস বানিয়ে নিতে লাগলাম।মাঝে মাঝে দুষ্টুমি করে মাঠ ভরে দৌড়াদৌড়িও করতাম।আর সাথে পাঁচ মিনিটের ফোন কল তো আছেই।
ইদানিং খুব বেশিই খুশি থাকি।মন যেন কোন অজানা সুখের শিহরণে ভেসে যাচ্ছে।
দেখতে দেখতে পরীক্ষাও খুব কাছে এসে পড়ল।
লাইব্রেরীর একটি বই আমার কাছে ছিল।তাই সেটা জমা দেওয়ার জন্য কলেজে গেলাম।শুভ্র স্যারকে বলি নি ভেবেছি হঠাৎ করে গিয়ে চমকে দিব।বই জমা দিয়ে খুব এক্সাইটেড হয়ে কেবিনের দরজাটা একটু ফাঁক করতেই যা দেখলাম…….

চলবে,,

ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ২

0

#ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ২
Writer: ইশরাত জাহান সুপ্তি

পরদিন ক্লাসে যেতে একটু লেট হয়ে গেল।
গিয়ে দেখি শুভ্র স্যার অলরেডি ক্লাসে।
আজ স্যার একটা হোয়াইট কালারের সার্ট ইন করে পরেছে।
সেদিন মনে হচ্ছিলো সার্টের আকাশি কালারটাতেই তাকে বেশি মানায়।
আজও মনে হচ্ছে সার্টের এই রংটাই তার জন্য পারফেক্ট।
আমি হালকা কাশি দিয়ে আস্তে করে বললাম,স্যার আসব?
স্যার হ্যাঁ বললে সামনের বেঞ্চ ক্রস করে পিছনের দিকে যাচ্ছিলাম।
ঠিক করেছি আর সামনে বসবো না।

বুঝতে পারলাম তমা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে রয়েছে।কিন্তু একটু আগাতেই তমা ওর মাইক আলা গলা দিয়ে আমায় ডেকে বলল,এই আনিশা এখানে বোস,ওখানে কোথায় যাচ্ছিস।

স্যারও আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাই আর উপায় না পেয়ে সামনেই বসলাম।
হঠাৎ স্যার আমায় বলল মিস.আনিশা কাল কি পড়া ছিল?
সাথে সাথে পুরো ক্লাসে হাসির বন্যা বয়ে গেল।

তার কারণ হল এই,আমার নাম আনিশা নয়।
আমার নাম সুপ্তি।আনিশা বলে আমায় শুধু তমা ডাকে।
আমার চেহারা দেখতে নাকি ওর কোন হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকার মত লাগে।তাই সিরিয়ালে নায়িকার যে নাম আমায় ও তাই
বলেই ডাকে।আর এই কথা ক্লাসের সবাই জানে।

বেচারা স্যার নিশ্চয়ই কারো নাম না জানার কারণে একটু আগে তমার মুখে এই নাম শুনে আমায় ডেকেছিল!
তমা স্যারকে হাসতে হাসতে বলল,স্যার ওর নাম তো সুপ্তি।আনিশা না।এটা একটা সিরিয়ালের নায়িকার নাম,ওকে শুধু আমিই এই নামে আদর করে ডাকি।

সামনে তাকিয়ে দেখলাম স্যার বেশ লজ্জা পেয়েছে।তা দেখে আমিও একটু মুচকি হাসি দিলাম।

আজও আমি পুরো ক্লাসে বইয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।
আর স্যার যখন বেড়িয়ে যাচ্ছিল তখন বেহায়া চোখ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।

এখন অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে ক্লাসের সব মেয়েরা হা করে স্যারের দিকে তাকিয়ে থাকে আর একমাত্র আমি কোনোদিকে নড়াচড়া না করে একদৃষ্টিতে বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি।
মনকে কোনো ভাবেই স্যারকে নিয়ে অন্য কিছু না ভাবার জন্য মানাতে পারছি না।

আমার এই অবস্থা তমাও বুঝতে পারল আর
আমাকে বলল,জিবনে প্রথম কোনো ছেলেকে পছন্দ করলি।তা আবার মানতে চাইছিস না কেনো।
আমি তো এটাই বুঝি না এত ইয়াং,হ্যান্ডসাম ছেলেকে দেখে তুই স্যার স্যার ফিলিংস আনিস কিভাবে।

এভাবেই দিন চলতে লাগল,শুভ্র স্যারের পুরো ক্লাস জুড়ে আমার বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা আর বের হওয়ার সময় এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকা নিয়ে।

স্যার বেশ শান্ত,ভদ্র আর লাজুক টাইপের।
ক্লাসের সব মেয়েরা স্যারকে ইমপ্রস করার জন্য পড়া ঠিকমতো পড়ে আসে।শুধু আমি বাদে।আমিই শুধু পড়া ঠিকমতো পারি না।

কি করে পারব!আমি তো মনকে বোঝাতে বোঝাতেই ক্লান্ত যে আমি স্যারকে ঐ নজরে পছন্দ করিনা টিচার হিসেবে করি।

একদিন স্যার আমায় ডেকে বলল,মিস.সুপ্তি  পড়ালেখায় আরেকটু মনোযোগ দিন।
আর একমাস পরই তো টেস্ট পরীক্ষা।আমি সেদিন যথেষ্ট লজ্জিত হয়েছিলাম।
কিছু কিছু ন্যাকা মেয়েগুলো অযথাই স্যারের সাথে ঢং করে হেসে হেসে কথা বলতে থাকে।তখন আমার গা একদম জ্বলে যায়।

অবশেষে আমি মানতে বাধ্য হলাম,আমি স্যারকে পছন্দ করি আর ঐ নজরেই করি।
আমার এই মেনে নেওয়ায় সব থেকে বেশি খুশি হল তমা।তার কথা যে সত্যি হয়েছে।

একদিন স্যার হঠাৎ করে আমার সামনে এসে বলল,ক্লাসের সবাই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে দিয়েছে,আপনি দেন নি কেনো?
আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম।
কিসের অ্যাসাইনমেন্ট,কিসের জমা?
আমি তো কিছুই জানি না।

তাই কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,স্যার কিসের অ্যাসাইনমেন্ট?
স্যারও যেনো আমার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়ল,কিন্তু রেগে।
আমায় খুব কর্কশ ভাবেই বলল,প্রতিদিন ক্লাসে এসেও আপনি অ্যাসাইনমেন্টের কথাই জানেন না।
আপনার মনোযোগ কোথায় থাকে?
আজ পুরো ক্লাস আপনি দাড়িয়ে থাকবেন।
স্ট্যান্ড আপ।
আর হ্যাঁ, কালকের মধ্যে আমার অ্যাসাইনমেন্ট জমা চাই।

আর কি করার,আমি দাড়িয়ে রইলাম।
ক্লাসের সবাই আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে রইলো যেনো আমি মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলেছি।

আর হবেই না কেনো যেই স্যার কারো উপর একটু বিরক্তও হয় না সেই স্যারকে আমার ওপর এভাবে রাগতে দেখে সবার অবাক হওয়ারই কথা।

আমার চোখ ছলছল করে উঠল।বড্ড অভিমান হলো,কিন্তু কার উপর জানি না।

ক্লাস শেষে আমি তমাকে খোঁচা দিয়ে বললাম,
আমাকে বলিস নি কেনো অ্যাসাইনমেন্টের কথা?
তমা বলল,আমি কি জানি তুই খেয়ালই করিস নি।স্যার তো কয়বারই ক্লাসে বলল।
তুই তো দেখি ভালো হারিয়ে গেছিস স্যারের মধ্যে!

সারারাত জেগে অ্যাসাইনমেন্ট কমপ্লিট করলাম।
পরদিন কলেজে গিয়ে শুভ্র স্যারের কেবিনে যাচ্ছিলাম তমাকে নিয়ে।
উদ্দেশ্য অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া।
দেখলাম স্যারও মাত্রই কেবিন থেকে বেরোলো তাই সেখানেই স্যারের দিকে না তাকিয়েই তার হাতে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে চুপচাপ চলে আসছিলাম।

হঠাৎ পিছন থেকে স্যার  মিস.সুপ্তি বলে ডেকে উঠল।আমি ফিরে তাকাতেই স্যার বলল,
আমি মনে হয় আপনার সাথে কাল একটু বেশিই
রুড হয়ে গিয়েছিলাম।
কিন্তু আপনার কি কোনো প্রবলেম হয়েছে?
সবসময় দেখি পুরো ক্লাসে বইয়ের দিকেই তাকিয়ে 
থাকেন আর যখন আমি বের হতে নেই তখন  আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।আমাকে কি কিছু বলতে চান?

আমি খুবই চমকে গেলাম স্যারের কথা শুনে।
স্যার কি করে পিছন থেকে বুঝলো যে আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি।

চমকানোর মধ্যেই আমি কিছু না ভেবেই হুট করে বলে ফেললাম,জীবনে প্রথম কোনো ছেলেকে পছন্দ হলো তাও আবার স্যারকে।
কিন্তু স্যারের প্রতি যেনো সেই ধরণের পছন্দ আর না বাড়ে তাই তো বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি আর বের হওয়ার সময় তাকিয়ে থাকার উপর আমার কোনো হাত নেই।সেটা কিভাবে যেনো হয়ে যায়।

পৃথিবীর কিছু অদ্ভুত ছাত্রীরই স্যারদের প্রতি ঐ..ঐ পছন্দ হয়ে যায়।আর আমি মনে হয় সেই অদ্ভুতদের মধ্যে একজন হয়ে গেছি।

এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে ফেললাম।তার পরই হুশ হল এগুলো কি বললাম।কথার কোনো আগামাথা কিছুই নাই।আস্তে আস্তে মাথা তুলে সামনের দিকে দেখলাম যে স্যার………..

চলবে,,

ভদ্র স্যার♥রাগী বর

1

Writer: ইশরাত জাহান সুপ্তি
#ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ১

কলেজে পৌছে ক্লাসে গিয়ে বসতেই আমার বেস্টু
তমা আমাকে আনিশা আনিশা বলে ডেকে খোঁচানো শুরু করে দিল।
সাথে সাথে আমার ভুরু কুঁচকে গেলো একরাশ বিরক্তি নিয়ে।
এমনিতেই মাত্র ঘুম থেকে উঠে এসেছি।এখনো চোখে ঘুম ঘুম ভাব।তারউপর পুরো ক্লাসে থমথম ভাব কারণ এবারের ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের প্রি টেস্ট পরীক্ষায় আমাদের পুরো ব্যাচ খারাপ রেজাল্ট করেছে।প্রিন্সিপাল স্যার সেই খ্যাপা খেপেছে।দু মাস পরই টেস্ট পরীক্ষা।সেই টেনশনও আছে।
আর এই গাধী টা সেই কখন থেকে খোঁচা দিয়েই যাচ্ছে।মানুষ কাউকে ডাকার হলে আস্তে খোঁচা  দিয়ে ডাকে কিন্তু না তমা এমনভাবে খোঁচাবে যে হাত ব্যাথা বানিয়ে ছারবে।

আমি বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরে বললাম কি?
তমা ব্যাঙের মতো লাফিয়ে বলা শুরু করল,জানিস কলেজে নতুন ইয়াং গেস্ট টিচার এসেছে।
শুনেছি খুবই মেধাবী স্টুডেন্ট ছিলো।এই বছরই মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে।
আর এখন আমাদের কলেজে গেস্ট টিচার হিসেবে জয়েন করছে।আর প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের জন্যই তাকে এই ক্লাসে স্পেশাল ভাবে নিয়োগ দিয়েছে।

আর তার থেকেও ইম্পর্টেন্ট কথা হলো এই স্যার দেখতে একদম বলিউডের নায়কের মতো।আমি তো দেখেই ক্রাশ খাইছি।
তুইও দেখলে পাগল হয়ে যাবি।

আমি বললাম,থাক আমার আর পাগল হওয়া লাগবে না।
সামনের বেঞ্চেই তো আমরা বসা তুই তোর নতুন ক্রাশকে দেখতে থাক আর পাগল হতে থাক।
আমি সবসময়ই সামনের বেঞ্চে বসি।

যেখানে কলেজে উঠলে সবাই পিছনের বেঞ্চেই বেশি বসতে চায়।কিন্তু আমার সামনে না বসলে একদম ভালো লাগে না।তা বলে আমি যে মেধাবী ছাত্রী তা কিন্তু বলা যাবে না।
ছাত্রী আমি মোটামুটি পর্যায়েরই।তবে সবসময় স্পষ্ট কথা বলি।
আমার পাশের এই তমাও সবসময় ফাস্ট বেঞ্চে বসে।হ্যান্ডসাম স্যারদের ভালো ভাবে দেখার জন্য।কলেজের বেশিরভাগ টিচারই তার ক্রাশ লিস্টে আছে।

তমার সাথে আমার পরিচয় এই কলেজে উঠার পরেই হয়েছে ফাস্ট বেঞ্চে বসতে বসতে।
তবে এই দেড়বছরেই আমরা একে অপরের বেস্টু হয়ে গেছি।
তমা যেমন স্যার দের উপর ক্রাশ খেতেই থাকে তেমনি আমি কারো উপরই ক্রাশ খাই নি আর স্যার দের উপর তো একদমই না।
কারণ আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি শিক্ষকরা বাবা মার মতই।তাদের দিকে সবসময় সম্মানের নজরে তাকাতে হয়।এই নজরে তো একদমই না।সে যতই ইয়াং টিচার হোক।
টিচার মানে তো টিচারই!

একবার এই কলেজেরই এক টিচার আমায় প্রোপোজ করে বসে।আমি তো হতবাক!
তবে তাকেও আমি এই কথাগুলো শুনিয়ে না করে দেই।

সবাই বলে আমার চেহারা নাকি খুব মিষ্টি।তবে গায়ের রং ফকফকা ফর্সা না।একটু চাপা।

সেই কারণে আমার আত্মীয় স্বজনের কম হা হুতাশ আমার শুনতে হয় নি।তবে আমার এইসব কথা কোনো গায়ে লাগে না।
ফকফকা ফর্সা না হয়েও কিন্তু আমি জিবনে অনেক প্রপোজাল পেয়ে গেছি।তবে কোনোটাই একসেপ্ট করিনি।এই
ছেলেদের আমি ঠিক একটা বিশ্বাস করতে পারি না।আজ একটা তো কাল আরেকটা…উফফ, এর থেকে একা একাই বেশ আছি।ভাবছি বিয়েটাও পারলে করবো না।

আমার ভাবনার ছেদ ঘটালো একটি ছেলে,হঠাৎ করে আমাদের ক্লাসে এসে।
ছেলেটিকে দেখে আমার কি যেন হয়ে গেল।ছেলেটির পরনে হালকা আকাশি রংয়ের সার্ট ইন করে পরা।শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করা।সাথে কালো রংয়ের প্যান্ট।হাতে কালো রঙের ঘড়ি।

সাধারণত ফকফকা ফর্সা ছেলেদের আমার ভালো লাগে না।কেমন যেনো মেয়ে মেয়ে ভাব আসে।
কিন্তু এই ছেলেটাকে কি যে ভালো লাগছে!
যেনো এতেই সে পারফেক্ট।চেহারায় এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা।চুলগুলোও কি সুন্দর।লম্বাও ঠিকঠাক।একটা মানুষের ভেতর সবকিছু এত পারফেক্ট কি করে হয়!

আমি যেন কোথাও হারিয়ে গেছি।ক্লাসের সবাই যে দাড়িয়ে রয়েছে সেদিকে আমার খেয়াল নেই।আর তমার খোঁচানোও আমাকে হারিয়ে যাওয়া থেকে ফিরিয়ে আনতে পারছে না।

আমি শুধু দেখলাম ছেলেটা আমার দিকে হালকা ভুরু কুঁচকে তাকালো।
আর সাথেসাথে প্রিন্সিপাল স্যার এসে আমাকে এক ধমক লাগালো,
“এই মেয়ে ক্লাসে টিচার আসলে দাড়াতে হয় জানো না।”
বুঝতে পারলাম এই আমাদের নতুন টিচার।এবার আমি বেশ হকচকিয়ে চারপাশে চোখ বুলিয়ে দাড়য়ে বললাম,
স্যরি স্যার,সে যে স্যার আমি বুঝতে পারি নি।

সামনে একপলক তাকিয়ে দেখলাম,ছেলেটি মানে আমাদের নতুন স্যার একটু লজ্জা পেয়ে আমার দিকে তাকালো আর যেই আমার সাথে একটু চোখাচোখি হল সাথে সাথে অন্য দিকে চোখ সরিয়ে নিল।

প্রিন্সিপাল স্যার আমাকে বসতে বলে সবার উদ্দেশ্যে বলা শুরু করল,ইনি হলেন এই কলেজের নতুন টিচার মি.শুভ্র আহমেদ।
তোমাদের নতুন ক্লাস টিচার।

তারপর নতুন স্যারের দিকে তাকিয়ে বললেন,এই
সবকয়টা একেকটা গর্ধভ।
শুভ্র,এদেরকে একটু ঠিকমতো দেখো।এই বলে প্রিন্সিপাল বেরিয়ে গেল।

সাথে সাথেই তমা আমায় খোঁচা দিয়ে বলল,কি হুশ উরে গেল তো।

আমিও শান্ত মেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললাম।

শুভ্র স্যার পড়ানো শুরু করে দিয়েছে।
আমি সেই যে মাথা নিচু করেছি।পুরো ক্লাসে আর সামনে তাকাই নি।কারণ স্যারকে বাবা মার মতো সম্মানের চোখে না দেখে আবার অন্য নজরে না দেখে ফেলি সেই ভয়ে।
কারণ স্যার তো স্যারই!
মনকে বারবার এই বোঝাচ্ছি।ক্লাস শেষের ঘন্টা পরলে স্যার যখন বেরিয়ে যাচ্ছিল তখন আরেকবার তাকালাম।পিছন থেকে দেখতেও কি সুন্দর লাগে তাকে।

আচ্ছা,আমি কি তমার মতো ক্রাশ খেয়েছি?ক্রাশ কথাটা আমার ভালো লাগে না।
তাই আমি এর নাম দিলাম মুগ্ধতা।আর মনকে এটাও বোঝালাম,
যে সুন্দর কিছু দেখলে তো মানুষ মুগ্ধ হবেই।স্যার সুন্দর তাই আমি মুগ্ধ হয়েছি ব্যাস,আর কিছু না।
আর অন্য কোনো চিন্তা না।বাবা মার পরই শিক্ষকের অবস্থান।

পাশ থেকে তমা আমায় খোঁচা দিয়ে বলল,এই আনিশা,স্যারের পেট দেখেছিস?কি সুন্দর মিশানো।একদমই ভুড়ি নেই।নিশ্চয়ই জিম করে।
আমি আবারো ভুরু কুঁচকে বললাম,তুই কি স্যারদের পেটও খেয়াল করে দেখিস।
তমা আবার লাফিয়ে বলল,আরে সামনে এত সুন্দর স্যার থাকলে দেখবো না কেনো।তোরও তো পছন্দ হয়েছে।
আমি ওকে চুপ থাক বলে বাসায় চলে আসলাম।কিছু ভালো লাগছে না।মনকে ঠিকমতো বোঝাতে হবে।

পরদিন ক্লাসে যেতে একটু লেট হয়ে গেল।গিয়ে দেখি শুভ্র স্যার……

চলবে..

ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ৪

2

#ভদ্র স্যার♥রাগী বর-পর্ব ৪
Writer: ইশরাত জাহান সুপ্তি

বই জমা দিয়ে খুব এক্সাইটেড হয়ে কেবিনের দরজাটা একটু ফাঁক করতেই যা দেখলাম তাতে আমার পুরো শরীর যেনো অবশ হয়ে গেলো।দম বন্ধ হয়ে আসল।

কারণ আমি দেখলাম একটি সুন্দরী মেয়ে স্যারের দু হাত ধরে কিছু বলছে।তারপর স্যারও মেয়েটির হাতের উপর তার হাত রাখল।আর সাথে সাথেই মেয়েটি স্যারকে জড়িয়ে ধরল।

এর থেকে বেশি দেখার শক্তি আমার ছিলো না।মাথার ভেতরটা কেমন ফাকা ফাকা লাগছে।

দরজাটা তাড়াতাড়ি বন্ধ করে একবার জোড়ে শ্বাস নিলাম।তারপর ওখান থেকে খুবই দ্রুত হাটতে লাগলাম।
পিয়নের সাথে ধাক্কা লেগে তার হাতের কাগজের স্তুপটা পড়ে চারদিকে ছড়িয়ে যেতে লাগল।আমাকে হয়ত পিছন থেকে চেচিয়ে কিছু বলছে।

কিন্তু আজ আমার কোনোদিকেই কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।আমার পৃথিবী যেনো থমকে গেছে।সবকিছু যেনো শব্দহীন হয়ে গেছে।
আর এই শব্দহীন পৃথিবীতে ভেতর থেকে কিছু ভেঙে যাওয়ার বিকট আওয়াজ কানে আসছে।

কোনো দিকে কোথাও না থেমে বাসায় পৌছে সোজা শাওয়ারের নিচে দাড়ালাম।সব গুলো পানির লাইন একসাথে ছেড়ে শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে একটি জোরে চিৎকার দিলাম।চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রুর বন্যা বয়েই যাচ্ছে।

আমি বুঝতে পেরেছি যে আমি স্যারকে ভালোবাসি।শুধু ভালোবাসি না প্রচন্ড ভালোবাসি।

কি অদ্ভুত!ভালোবাসার অনুভূতি অনুভব হলো তো তাও আবার মন ভেঙে।

সেদিন মোবাইল থেকে সিমটা বের করে দু টুকরো করে ফেললাম।যেই প্রাইভেট টা পড়তাম সেটা বাদ দিয়ে দিলাম।তমার সাথেও কোনো যোগাযোগ রাখলাম না।যাতে শুভ্র স্যার তমার থেকেও কিছু না জানতে পারে।তমা আমার বাসাও চিনে না।

আচ্ছা শুভ্র স্যার আমার সাথে এমন কেনো করল?অবশ্য সে তো আমাকে কখনো বলেও নি যে সে আমাকে ভালোবাসে।তাহলে আমাদের ভেতর এতদিন যা হল তা কি ছিল?আসলেই সব ছেলেরা একরকমই হয়।

ভালোবাসায় এত কষ্ট কেনো?

যদি জানতাম ভালোবাসলে এত কষ্ট পেতে হয়।তাহলে কখনোই ভালোবাসতাম না।
খুবই ভালো হতো যদি ভালোবাসায় আমাদের নিজেদের হাত থাকতো।

আর আমি কলেজে যাই নি।পরীক্ষার আগে আগে বাবাকে দিয়ে অ্যাডমিড কার্ড ম্যানেজ করে আনিয়ে নিলাম।
যে কলেজে আমাদের সিট পরেছে সেটা অনেক বড়।আমার সিট পরেছে দোতলায়।বোরকা পড়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া শুরু করলাম।সবকিছু অনেক কড়া।স্টুডেন্ট আর কলেজের ডিউটিরত টিচার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না।
ভাইয়া বাইকে করে দিয়ে যেত, আবার নিয়ে আসত।

শেষ পরীক্ষার দিন পরীক্ষা দিয়ে বের হতেই দোতলা থেকেই দেখলাম শুভ্র স্যার গেট দিয়ে জোর করে ঢুকে চারপাশে চোখ বুলিয়ে কি যেনো খুব তন্ন তন্ন করে খুজছে।

আমি পিলারের আড়ালে গিয়ে স্যারকে দেখতে লাগলাম।চুলগুলো এলোমেলো,মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি গজিয়েছে,চেহারা শুকিয়ে মলিন হয়ে আছে।

ইচ্ছে করছে ছুটে স্যারের সামনে যাই।আমার শরীর থরথর করে কাপঁতে লাগল।

যখন কেউ বুঝতে পারে যে সে কাউকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে এবং সেই অনুভূতি বোঝার পরে প্রথম সেই মানুষটিকে যখন চোখের সামনে দেখতে পায়,তখন যেই অনুভবটা হয় তা ভাষায় প্রকাশের বাইরে।

আমি ততক্ষণ পিলারের আড়ালে দাড়িয়ে রইলাম যতক্ষণ পর্যন্ত না গার্ড রা এসে স্যারকে জোর করে বাইরে নিয়ে গেল।স্যার বারবার গার্ড দের অনুরোধ করে যাচ্ছে কিন্তু তারা মানছে না।

সেদিন বাসায় এসে সেই যে কান্না শুরু হল আর থামার নাম নেই।সারারাত নির্ঘুম কান্না করেছি।

সেদিনই স্যারের সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল।
তারপর ধীরে ধীরে সময় বইতে লাগল।

সে বছরই বাবার বদলি হওয়াতে আমরা ফরিদপুর থেকে আমাদের হোমটাউন ঢাকায় এসে পড়লাম।

আমি এখন ঢাকার একটি ভার্সিটিতে অনার্স দ্বিতীয়  বর্ষে পড়ি।
এই আড়াই বছরে অনেক কিছু হয়ে গেছে।বড় আপুর বিয়ের পর এই প্রথম একটি মেয়ে বাবু হয়েছে।
বাবা রিটায়ার্ড করেছে।ভাইয়াও একটি চাকরি পেয়ে বিয়ে করে একটি দুষ্টু মিষ্টি ভাবী এনেছে।

আর এখন আমি একটি বিশাল রুমের মাঝখানে ফুলে ফুলে সজ্জিত একটি বেডে বসে আছি, বধূ বেশে।

অনার্স ২য় বর্ষে উঠতে না উঠতেই মা আমার বিয়ের জন্য পাগল হয়ে গেল।এখন বিয়ে না দিলে নাকি আর ভালো ছেলে পাওয়া যাবে না।
আর তখনি এই সম্বন্ধ টা আসলো।আর বাসার সবাই পাগল হয়ে গেল।
শহরের বড় নামকরা বিজনেসম্যানের একমাত্র ছেলে।বাবার সাথে সেও এখন বিজনেসে যোগ দিয়েছে।তারপর আর কি যতপ্রকার ইমোশনাল ব্লাকমেইল আছে সব করে আমাকে রাজি করাল।আমি না করতে পারলাম না কারণ বাবার শরীরও তখন খুব অসুস্থ হয়ে পরেছিল।

তাই ভাগ্যের উপর সব ছেড়ে দিয়ে ভেবে নিলাম জীবনে কোনো কিছুই তো আর মনমতো হলো না তাই সেই লিস্টে না হয় আরেকটি নামও উঠল।

আমি ছেলেকে এখনও দেখি নি।দেখার ইচ্ছেও ছিল না।
বিয়ের দুইদিন আগে ভাবী আমায় এসে বলল,সুপ্তি তোর বর তো দেখি হেব্বি হ্যান্ডসাম।আমরা তোর বিয়ের সপিং করতে গিয়েছিলাম,সেখানে এসেছিল।এত সুন্দর ছেলে আমি জীবনেও দেখি নি।আমার যদি এখন তোর ভাইয়ের সাথে বিয়ে না হত আমি তোর বরের উপর ক্রাশ খেতাম।

ভাবী সবসময়ই এমন মজা করে।কিন্তু ভাবীর এই কথা শুনে আমার তমার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল।আর সাথে শুভ্র স্যারের কথাও।যেদিন স্যার প্রথম আমাদের ক্লাসে আসল।

অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি।কিন্তু আমার মনে কোনো অপেক্ষা নেই তার আসার।তার নামটাও এখনো জানি না।

হঠাৎ রুমে কারো প্রবেশ করার অনুভূতি হল।খটখট শব্দে বুঝতে পারলাম সে দরজার ছিটকানি লাগাচ্ছে।
আমি আস্তে আস্তে মাথা তুলে তাকাতেই আমার মাথা ঘুরিয়ে উঠল।

সে ছুটে এসে আমার কপালে অনেক সময় নিয়ে একটি গভীর চুম্বন করল।আমি কেঁপে উঠলাম তার ছোঁয়ায়।

আচ্ছা আমি কি স্বপ্ন দেখছি?
তা না হলে এটা কিভাবে সম্ভব আমি তো দেখছি যে আমার সামনে………….

চলবে,,

আন্টির সাথে ফেসবুকে পরিচয়, পরিচয় থেকে সুসম্পর্ক।

0

আন্টির সাথে ফেসবুকে পরিচয়, পরিচয় থেকে সুসম্পর্ক।
কিছুদিন আলাপচারিতার পর আন্টি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন,
– অনিকেত তোমার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে তোমাকে আমার মেয়ের জামাই বানাতে চাই।

আমি লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে একটি “ফল ইন লাভ” ইমু সেন্ড করলাম। কুইক রিপ্লাইয়ে আন্টি তার মেয়ের ছবি পাঠালেন।

অসাধারণ রূপবতী মেয়ে, ধুলাবালির পৃথিবীতে এমন রূপসী মেয়ে সচরাচর দেখা যায় না। আমার ভাগ্য ভালো বলে পেতে যাচ্ছি। খেয়ে না খেয়ে সারাদিন ফেসবুক চালানো অবশেষে সফল হতে যাচ্ছে।

আন্টির মেয়ে সবে কলেজে উঠেছে, আন্ডার এইজ তাই ছ’মাস পর এইট্টিন প্লাস হলে আমাকে পারিবারিক ভাবে জামাই বানাবেন।

আন্টিকে আমি শাশুড়ীর আসনে স্থান দিলাম । সকাল বিকাল ফোন করে ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগারের খোঁজ খবর নিলাম। মনে করে ঔষধ খাওয়ার তাগিদ দিলাম। অরিজিনাল শাশুড়িরাও তাদের জামাইদের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পায়না। সম্মান, শ্রদ্ধা, মর্যাদা জানাতে কোনো কার্পণ্য করিনি।

কিন্তু আন্টি আজ এটা কী বললেন ?
এতোদিন পরে এসে বলছেন, তার নাকি কোনো মেয়েই নাই! এ কেমন বিশ্বাসঘাতকতা?

শাশুড়ী হয়ে সম্মান নিবেন, শ্রাদ্ধা নিবেন কিন্তু মেয়ে দেবার সময় অস্বীকার করবেন, তা হতে পারেনা।

আন্টিকে কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে বললাম,

– আমি আপনার মেয়েকেই বিয়ে করবো!
– সত্যি বলছি বাবা আমার কোনো মেয়ে নাই।
– তাহলে রিডিং টেবিলে বসা ঐ মেয়ের ছবিটা কার ?
– ওটা আমার মেয়ে না!
– তাহলে কার মেয়ে?
– কার মেয়ে জানিনা, আমি ফেসবুক থেকে নিয়ে দিয়েছি।
– আমি আপনার কথা বিশ্বাস করিনা।
– বিশ্বাস করো বাবা, সত্যি আমার কোনো মেয়ে নাই। আমার শুধু দুইটা ছেলে আছে।
– আমার সাথে এসব হাংকি পাংকি করবেন না।
– তোমার সাথে হাংকি পাংকি কেন করবো বাবা।
– অবশ্যই করেছেন, আপনি আমার ইমোশন নিয়ে খেলেছেন।
– আমার ভুল হয়ে গেছে বাবা, আমাকে মাফ করে দাও।
– মাফ করতে পারবো না, আপনার বয়স কতো বলেন?
– এসব কী সর্বনাশা কথা বলছো ?
– আরে আগে বলেন আপনার বয়স কতো ?
– আমার বয়স বিয়াল্লিশ!
– অসুবিধা নাই চলবে!
– চলবে মানে?
– ঐশ্বরিয়া রাই ফোর্টি প্লাসে মেয়ে জন্ম দিছে, চেষ্টা করলে আপনিও পারবেন!
– কী বলছো এসব?
– জী আন্টি, আঙ্কেলকে বুঝিয়ে বলুন?
– কী বলবো ?
– বলবেন, মেয়ের জামাই নাছোরবান্দা যেভাবেই হোক তাকে মেয়ে দিতে হবে।
– অনিকেত তুমি কী পাগল?
– আই এ্যাম ওকে আন্টি। আঙ্কেলের সাথে কথা বলে চেষ্টা করেন। চেষ্টা করলে উপায় হয়।
– এমন নির্লজ্জ ছেলে আর দেখিনি।
– আন্টি প্রয়োজনে আমি আরো দুই যুগ অপেক্ষা করবো। আমার ধৈর্যের অভাব নাই আপনি চেষ্টা করেন!

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। এক আন্টি আমাকে মেয়ের জামাই বানাবে বলে আশ্বাস দিয়ে,অনেকদিন ঘুরিয়ে এখন বলছে তার নাকি কোনো মেয়েই নাই?!)