হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-১১
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-১১
রাফি সীটবেল্ট বেঁধে নিয়ে জানালার দিকে তাকায়। বিমানটি রানওয়ের দিকে যাচ্ছে আর রাফিও এগিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।
অবশেষে বিমানটি আবার আকাশে উড়লো, রুহী জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছে আর রাফি দেখছে রুহীকে। এই পুচকী মেয়েটা মাফিয়া গার্লের এসিস্টেন্ট! এ এখানে কি করছে! কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এই মরুভূমির দেশে এসে বসে আছে রাফিকে এসিস্ট করার জন্য! নাহ ব্যপারটা কিছুতেই হজম হচ্ছে না রাফির। একগাদা প্রশ্ন মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে রাফির কিন্তু রুহীর স্বভাব রাফির একটু হলেও মনে আছে, “যতটুকু ঠিক ততটুকু” টাইপ। তাই হয়তো কি দিয়ে শুরু করলে সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে সেটাই ভাবছে রাফি। রাফি ভাবতে ভাবতে,
রুহী – দেখুন, আমি জানি আপনার মনে একগাদা প্রশ্ন জমা হয়ে আছে। সেক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক কোন প্রশ্ন বা টপিক এড়িয়ে চলাটাই আপনার জন্য মঙ্গলজনক হবে।
রাফি – কিন্তু কিছু প্রশ্নের জবাব না পেলেই নয়। কম সময় ধরে জ্বালাচ্ছে না প্রশ্নগুলো যেগুলোর জবাব পাওয়া জরুরী।
রুহী – আচ্ছা? Let me guess your first question? মাফিয়া গার্ল কে? তাইতো? ঠিক বলেছি?
রাফি তব্দা খেয়ে বসে থাকে, রুহীর সোজাসাপটা জবাব এর আগেও শুনেছে রাফি। কিন্তু রাফি সুযোগ পেলে এই প্রশ্নটিই করতো রুহীকে।
রাফি – প্রশ্নটি মনে জাগাটা স্বাভাবিক নয় কি?
রুহী – তার আগে আমার একটা প্রশ্নের জবাব দিন, ধরেন আপনি জানতে পারলেন মাফিয়া গার্ল কে, তারপর কি?
রাফি – মানে?
রুহী – মানে কি, ধরুন আমি মাফিয়া গার্ল, আপনি জেনে গেলেন, এখন কি!
রাফি – আপনি মানে তুমিই মাফিয়া গার্ল!!!!
রুহী – আমি কখন বললাম আমি মাফিয়া গার্ল, ধরে নিতে বলেছি মানে কি আমাকেই মাফিয়া গার্ল হতে হবে?
রাফি – ধরে নেয়া তো দূর কেউ কখনো স্বপ্নেও বলে নি মাফিয়া গার্ল কে। তাই হঠাৎ কথাটি শুনে আসলে নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে পারি নি।
রুহী – হয়েছে হয়েছে, এখন বলেন কি হবে জেনে কে এই মাফিয়া গার্ল!
রাফি – বাহ, এতদিন ধরে যে আমাকে গার্ডিয়ান এন্জেলের মত সাহায্য করে চলেছে তাকে চিনতে চাইতে পারি না!
রুহী – আমার প্রশ্ন ছিলো চেনা জানার পর কি?সেটা বলেন? চিনে ফেলার পর কি? প্রেম করবেন? আমি ত যতদূর জানি আপনি বিবাহিত, তাহলে কি? পরকীয়া?
রাফি আসলেই এক গোলকধাঁধাঁয় পড়ে যায়। আসলেই তো! রাফি তো মাফিয়া গার্লকে চিনতোই না, মাফিয়া গার্ল ই মাফিয়া বয় থেকে রাফিকে খুজে পেয়েছে আর সেধেপড়ে এখনো সাহায্য করছে। কিন্তু মাফিয়া গার্ল কেন এভাবে সাহায্য করবে রাফিকে সেটা বোঝার জন্য হলেও তো মাফিয়া গার্লকে চিনতে হবে রাফিকে, একবার রাফিকেই চেয়ে বসা মেয়েটা আর কি উদ্দেশ্যে রাফিকে সাহায্য করতে পারে?
রাফি – আজিব, প্রেম ভালোবাসা ছাড়া কি দুনিয়ায় আর কিছু নেই! নাকি শুধুমাত্র প্রেম ভালোবাসার জন্যই কেউ কাউকে চিনতে চায়! আমি মাফিয়া গার্লকে চিনতে চাই কারন বুঝতে চাই যে কেন একজন মানুষকে এভাবে সাহায্য করবে সে।
রুহী – একজন! মানে আপনি মনে করেন আপনাকে ছাড়া আর কাউকে হেল্প করে না MG?
রাফি – MG!
রুহী – Mafia Girl এর শর্ট MG. তো নিজেকে এতোটাই স্পেশাল মনে করেন? হুহ
রাফি – স্পেশাল ভাবতে যাবো কেন? মাফিয়া গার্ল যেভাবে দিনে রাতে আমাকে সাহায্য করে তাতে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে আমিই একমাত্র ব্যক্তি।
রুহী – যদি তাই ই হতো তাহলে আপনি এই বিমানে থাকতেন না আর আমিও না। সাইবার দুনিয়ায় মানুষগুলো হয়তো আপনাকে মাফিয়া বয় হিসেবে চেনে কিন্তু রিয়েল লাইফ টা তো সম্পূর্ণ আলাদা আর এতদিনে আশা করি আপনার সে ধারনা হয়ে গেছে!
রাফি – আমার কেন সন্দেহ হচ্ছে যে আমি হয়তো মাফিয়া গার্লের সামনেই বসে আছি।
রুহী – সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু MG আপনার ব্যপারে আমাকে খুব সুন্দরভাবে ব্রিফিং দিয়েছেন এবং আমরা এতক্ষণ যে প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছি সেই প্রসঙ্গ এরিয়ে যাওয়ার জন্য হাজারবার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনা না মানার ফল কি হতে পারে তা এখন আন্দাজ করতে পারছি আমি। আর হ্যাঁ, MG র একটা পার্সোনাল লাইফ আছে, তাছাড়া সে যদি এখন আপনার সামনে বসে বকবক করতে থাকে তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশে গিয়ে আপনারা দুইজন কি করবেন না করবেন সেটা কে ঠিক করে দেবে?
রাফি বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে, এই চাকরিতে যোগদান করার পর থেকে সন্দেহের বাতিক হয়েছে রাফির। কোন ধরনের অসংলগ্নতা দেখলেই কেমন যেন সিগন্যাল দেয়।
রুহী – আপনার কৌতুহলবসত প্রশ্নসমূহ বাদে অন্য কোন প্রশ্ন থাকলে জানতে পারেন।
রুহীকে মাফিয়া গার্লের এসিস্টেন্ট হিসেবে দেখে রাফি ভেবেছিলো হয়তো রুহী বলতে পারবে মাফিয়া গার্ল কে, কিন্তু একে তো জিলাপির প্যাঁচ মেরে পাঠিয়ে দিয়েছে রাফির কাছে। চাইলেও কোন জবাব পাওয়া সম্ভব না। তাই কৌশল অবলম্বন করতে চাইলো রাফি।
ফোন বের করে *6666# ডায়াল করলো আর খুবই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুহীর দিকে তাকিয়া রইলো এটা বুঝতে যে নিজের করা সন্দেহ সত্যি কি না।
কিন্তু রুহীর কাছে না কোন মেসেজ আসা আর না কোন সিগন্যাল, উল্টো রাফির ফোনে মেসেজ আসে,
“I gave you a live assistant coz I have to do my work. She will help, you don’t have to worry.”
রুহী হঠাৎ নড়ে ওঠে, পকেট থেকে ফোন বের করে কি যেন চেক করে, তারপর ড্যাবড্যাব করে রাফির দিকে তাঁকিয়ে থাকে। রাফি বিব্রতবোধ করে চাহনীটা ইগনোর করতে চাইলেও মুখোমুখি বসে থাকা দুইজন মানুষের চাহনী ইগনোর করা খুবই কষ্টসাধ্য। অগত্যা রুহী নিজেই বলে উঠলো,
রুহী – MG আমাকে এখানে পাঠিয়েছে আপনাকে এসিস্ট করার জন্য, সেটা কি আপনার পচ্ছন্দ হচ্ছে না?
রাফি – কেন? পচ্ছন্দ হবে না কেন!
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/
রুহী – তাহলে এটা কি?
বলে রুহী তার মোবাইলটা রাফির দিকে ঘুরিয়ে ধরলো, রাফি চেয়ার থেকে একটু সামনে ঝুকে রুহীর স্ক্রীনটা চোখের সামনে নিয়ে আসে। একটা মেসেজ, MG থেকে,
“HE IS YOUR RESPONSIBILITY TILL NEXT DESTINATION , IF HE NEEDS ME TILL THEN, THAT MEANS YOU ARE NOT DOING YOUR TASK PROPERLY. SHOULD I REPLACE YOU? I HAVE OPTIONS.”
রাফি বড়সড় একটা ঢোক গেলে। সামনে বসা মেয়েটা মাফিয়া গার্ল কিনা সেটা কনফার্ম না হলেও রাফি যে আর চালাকি করতে পারবে না সেটা বুঝে গেলো।
রুহী – MG কে আমার বিরুদ্ধে রাগিয়ে দিয়ে কি হাসিল করতে চান আপনি? এমনিতেই আপনাকে ডোনারদের ডিটেলস দিতে গিয়েছিলাম জেনে MG ক্ষেপে গিয়েছিলো, তার উপর আজ আবার…………. আমার দায়িত্ব শেষ হোক তারপর যা ইচ্ছা তাই কইরেন MG র সাথে।
রাফি ভদ্র ছেলের মত বকাগুলো শুনে বসে থাকে। চাইলেই জবাব দিতে পারতো দাঁতভাঙ্গা কিন্তু তর্ক করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না ভেবে চুপ মেরে গেলো রাফি।
বাকী যাত্রায় টুকটাক কথা হলেও লম্বা কনভার্সেশন হলো না আর। বেশীরভাগ সময়েই রুহী মোবাইলে অথবা নোটপ্যাডে সময় দিচ্ছিলো অথবা জানালা দিয়ে মেঘের ওড়াউড়ি দেখেছিলো। আর রাফি সেই ল্যাপটপটা নিয়ে দেশ ছাড়ার পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর আপডেট নিতে থাকলো।
বেশ লম্বা যাত্রা শেষে সেই কাঙ্ক্ষিত দেশের ল্যান্ড করলো বিমানটি। রাফি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে এটা কোন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নয়, আসেপাসের পরিবেশ সেটা বলছে না
রাফি – এ কোথায় ল্যান্ড করলাম আমরা!
রুহী – অস্ত্র ব্যবসায়ীর পার্সোনাল রানওয়েতে। তাড়াতাড়ি নামতে হবে কারন স্যাটেলাইটে এই বিমান ধরা পড়লে পুলিশ মিলিটারি সব একসাথে এখানে চলে আসবে।
কিন্তু এখানে ঘটলো আর এক বিপত্তি, এতক্ষন বিমানের ভেতরে এসিতে কিচ্ছু বোঝা না গেলেও শহরের তাপমাত্রা এককের ঘরে, যাকে বলা যায় হাঁড়কাঁপানো শীত। রুহী মোটামুটি প্রস্তুত থাকলেও রাফি কোনভাবেই এমন পরিস্থিতির জন্য তৈরী ছিলো না। রুহী হয়তো বাড়ি থেকে নিজের জন্য একটা জ্যাকেট নিয়ে আসলেও রাফির কাছে তেমন কিছুই ছিলো না।
রাফি – (অস্থিরতা নিয়ে) তাড়াতাড়ি নামতে হবে তো বুঝলাম কিন্তু নামবো কিভাবে! শীতের কোন কাপড় নেই আমার কাছে আর এই যে ভয়াবহ ঠান্ডা।।।
রুহী – ( দীর্ঘস্বাস ছেড়ে উপরে তাকিয়ে) Ohh God, why you create boys? Why?
রাফি – আমার সাথে জ্যাকেট নেই বলে সোজাসুজি উপরওয়ালার কাছে নালিশ ঠুকে দিলেন! এখানে আসতে হবে জানলে দেশ থেকে গরম কাপড় প্যাক করে নিয়ে আসতাম।
রুহী একটা অদ্ভুত বিরক্তিকর কেয়ারলেস একটা লুক দিয়ে বলে
রুহী – রিয়েলি!
রাফি আর কোন কথা না বাড়িয়ে পাইলটের চেম্বারের দিকে যায়, কিছুক্ষণ কথা বলার পর সহকারী পাইলটকে হাত দিয়ে বিমানের পিছনের অংশে কি যেন দেখিয়ে দেয়।
সহকারী পাইলট বিমানের পেছনের অংশে একটা আলমারির মত অংশ খুলে রাফিকে বেশ মোটাসোটা একটা জ্যাকেট বের করে দিলো। রুহী ততক্ষণে জ্যাকেট পরে নিজের ব্যাকপ্যাক ঘাড়ে আর কোমরে ঝোলানো একটা ব্যাগ নিয়ে নামতে তৈরী। রাফিকে মোটা জ্যাকেটটা পড়া অবস্থায় দেখে রুহী হেঁসে দিলো। অদ্ভুত সাইজের জ্যাকেটটা পড়লে যে কাউকেই হাস্যকর লাগবে যদি দর্শক স্বদেশী কেউ হয়, এই দেশে হয়তো এটা কোনো ব্যাপারই না।
রাফি ঝটপট ব্যাকপ্যাক ঘাড়ে আর লেদার ব্যাগটা হাতে নিয়ে নেমে পড়লো। ঠান্ডা হাওয়ায় প্রথম ছোঁয়াটা এতটা ভয়াল হবে বুঝতে পারে নি, শীতকাল ভালো লাগতো রাফির কিন্তু আজ থেকে আর নয়।
রাফি – মানুষ বেঁচে থাকে কিভাবে, এত ঠান্ডায়?
রুহী – কিছুদিন পর তুষারপাত শুরু হবে, সেটা দেখতে আরো বেশী সুন্দর।
রাফি প্রশ্নের সাথে জবাবের মিল না পেয়ে আর কোন কথাই বলে না। রুহী আগে আগে হেঁটে যেতে থাকে আর রাফি অনুসরণ করতে থাকে।
কিছুদূর যাওয়ার পর একটা গ্যারেজ জাতীয় কিছু চোখে বাধে দুইজনেরই, রুহীর হাঁটার ধরন বলে দিচ্ছে গন্তব্য আপাতত ওই গ্যারেজটি।
রাফি আশেপাশের পরিবেশে চোখ বুলাতে থাকে, গাছপালা এখনো সবুজ হয়ে আছে, এত ঠান্ডায় প্রকৃতির এমন রুপ। গ্রাম অথবা জঙ্গল ই বলা যায় এই এলাকাকে। গ্যারেজের অন্য পাশে একটা বাড়ি দেখা যাচ্ছে। একটা মাত্রই বাড়ি পুরো এলাকাতে। হেঁটে যেতে যেতে পেছন থেকে সাঁই করে প্রাইভেট জেটটি উড়ে গেলো।
রুহী ঝটপট গ্যারেজের কাছে এসে কিছু না বলে রাফির কাছে হাত পাতে। রাফি বুঝতে পারে না যে রুহী কি চায়। নজর ঘোরায় রাফি। গ্যারেজের সাইডডোরে তালা লাগানো আর রুহী হয়তো চাবি চাইছে, কিন্তু কেউ ত রাফিকে কোন চাবি দেয় নি!
রাফি – কি! আমার কাছে কোন চাবি নেই।
রুহী বিড়বিড় করে কি যেন বলতে বলতে রাফির ল্যাদার ব্যাগটি হাতে নিয়ে নিলো। ছোট্ট একটা পকেট যেখানে এক দুই পয়সার কয়েন রাখা যায় সেখান থেকে দুইটা চাবি টেনে বের করলো।
রাফি ত নিজেই অবাক। ব্যাগেই ওইরকম পিচ্চি একটা পকেটে এমন জরুরী চাবি থাকতে পারে তা যে কারো ভাবনাচিন্তার বাইরে থাকাটাই স্বাভাবিক।
রুহী চাবি নিয়ে গ্যারেজের তালা খুলে ফেললো। ভেতরটা এমন অন্ধকার যে নাকের সামনে কিছু থাকলেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
রুহী – হাদারামের মত দাড়িয়ে না থেকে আলোর সুইচটা খুঁজে বের করা যাচ্ছে না! দরজার আশেপাশেই থাকার কথা।
রাফি দরজার পাশে হাত বাড়াতেই আলোর সুইচটা পেয়ে যায়। অন করে দেয় সুইচটা। বেশ ভালো জিনিসপত্র রয়েছে ম্যাকানিক্সের আর পর্দা দিয়ে ঢাকা একটা গাড়ি।
রাফি এগিয়ে গিয়ে পর্দা সরিয়ে ফেলে। বেশ চকচকে গাড়িটা। দেশের নামকরা ব্রান্ডের।
রুহীর কাছে থাকা অন্য চাবিটা দিয়ে গাড়ির দরজা খুলে রাফিকে ড্রাইভ করতে বললো।
রাফি সীটবেল্ট বেঁধে রুহীর কাছে গন্তব্য জানতে চায়। রুহী গাড়ির জিপিএস এ লোকাল ভাষায় একটা ঠিকানা ইনপুট দিয়ে সীটবেল্টটা বেঁধে নিলো। রাফি আর কথা না বাড়িয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। বেশ লম্বা যাত্রা তাই রাফি যেন ড্রাইভ করতে করতে ঘুমিয়ে না পড়ে সেজন্য রুহী মাঝে মাঝেই বিভিন্ন প্রসংগ টেনে কথা বলতে লাগলো। রাফি প্রসংগ ঘুরিয়ে যতবারই মাফিয়া গার্লের নাম নিয়েছে ঠিক ততবারই রুহী প্রসংগ এড়িয়ে গেছে।
অবশেষে গন্তব্যে পৌছায় রাফি এবং রুহী।
রুহী – এখানে রাখতে হবে।
রাফি গাড়ি পার্ক করে রাখে একটা ক্যাফের পার্কিংএ রুহী গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির চাবি চায় রাফির কাছে। রাফি গাড়ি থেকে জিনিসপত্র বের করে লক করে দেয় গাড়িটা আর চাবি তুলে দেয় রুহীর কাছে।
রুহী – এখানেই অপেক্ষা করুন। কোথাও যাবেন না।
রুহী ক্যাফের ভেতরে গিয়ে কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসে।
রুহী – অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাহায্য নেয়া শেষ হলো। এখন আমরা আমাদের মত।
রাফি – আমরা আমাদের মত তো বুঝলাম কিন্তু কোথায় যাবো!
রুহী রাস্তার পাশে দাড়িয়ে একটা গাড়ির কাছে লিফট চায়। গাড়ির ড্রাইভারের সাথে লোকাল ভাষায় কথা বলে রুহী। ড্রাইভারকে খুব খুশি মনে হলো আর রুহীকে …………
এই মেয়ে মানুষ ফুসলাতে ওস্তাদ। কি না কি বলে ড্রাইভারকে পটিয়ে ফেললো গন্তব্য পর্যন্ত পৌছে দেয়ার জন্য। রুহী সামনে ড্রাইভারের পাশের সীটে বসলো আর রাফি বসলো পেছনে। রুহী আর ড্রাইভার দুইজনে লোকাল ভাষায় খোসগল্পে মেতে ওঠে আর লোকাল ভাষার কিছুই বুঝতে না পারা রাফি বসে বসে জানালা দিয়ে প্রকৃতি দেখতে থাকে। আসলেই অনেককিছু জানা বাকী রাফির, অনেক কিছু করা বাকী।
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-১০
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-১০
জেট ছুটতে শুরু করলো রানওয়ে বরাবর। রাফি চোখ বন্ধ করতেই পরিবারের সবার চেহারা ভেসে ওঠে। নাহ, তাদের কাছে ফিরে যেতেই হবে রাফিকে।
প্রিপারেশন দেখে বোঝাই যাচ্ছিলো বেশ লম্বা সফর হতে চলেছে, রাফিও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে লাগলো। দেশে ফিরে কোথায় যাবে কি করবে, নিজের করা ভুলগুলো শুধরাতে ত হবে। জেটটি অটোপাইলট মোড দিয়ে মেইন পাইলট কেবিনে এলো রাফির সাথে কথা বলতে, কোন সমস্যা হচ্ছে কি না বা কিছু লাগবে কি না। কেবিন ক্রু কে দেখিয়ে দিলো যেন সব ধরনের প্রয়োজনে তাকে ডাকতে পারে।
রাফি ফোনটা অন করতে করতে শুধু একটা জিনিস ই জানতে চাইলো,
রাফি – গন্তব্য কোথায় আমাদের?
পাইলট – এই বিমান আপনাকে পিরামিডের দেশ পর্যন্ত পৌছে দেবে, তার আগে একটা দেশ থেকে একজন এসিস্টেন্ট উঠবেন যিনি আপনাকে আপনার চুড়ান্ত গন্তব্যে নিয়ে যাবেন।
রাফি মনে মনে ভাবে শালা পাইলট ও জানে না আমি কই যাচ্ছি, এটা কেমন কথা। অবশ্য পাইলটেরও দোষ নয়। সে তার চুড়ান্ত গন্তব্যের কথা তো বলেছে রাফিকে। রাফিই জানে না রাফির গন্তব্য।
ভাবনায় নজর ঘোরাতে ঘোরাতে চোখ যায় ব্যাগটির দিকে যেটা বাংকার থেকে নিয়ে এসেছিলো রাফি। এতক্ষণ ধরে বহন করার পরও রাফি জানেই না যে ব্যাগে কি আছে। আগে হয়তো দেখার এখতিয়ার ছিলো না কারন ব্যাগটি একপ্রকার চুরি করে আনা হয়েছিলো বাংকার থেকে, না বলে নেয়া আর চুরি করা একই কথা।
রাফি সিট থেকে উঠে ব্যাগটা নিয়ে আবার নিজের সিটে বসলো। একটু ঘেঁটেঘুটে দেখা দরকার। মাঝারী আকারের চামড়ার ব্যাগ, দেখতেও বেশ দামি লাগছে। রাফি উপরের থেকে চেন খোলা শুরু করলো, কার্ডটা রেখে দিয়েছে ব্যবসায়ী, উপরের অন্যন্য পকেটগুলোতে তেমন কিছু না পেয়ে ভেতরের বড় পকেট খুললো রাফি, বিস্মিত হলো না সে, হার্ডড্রাইভটা রয়েছে ব্যাগে, আর সাথে দড়ি দিয়ে বাধা ছোট্ট একটা কাপড়ের পুঁটলি। রাফির কৌতুহল বাড়ে। পুঁটলিটা খুললে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়, ৬/৭ টুকরা সাদা পাথর। রাফির ধারনা নেই খুব তবে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এমন সাদা পাথর আসলে কি হতে পারে তা আন্দাজ করতে পারে রাফি। আনকাট ডায়মন্ড !!! এমন সাইজের এক একটা আনকাট ডায়মন্ডের দাম অনেক টাকা। রাফি এতকিছু ভাবতে ভাবতে ফোন আসে। আননোন সোর্স মানেই মাফিয়া গার্ল।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/
– যাত্রা শুরু হলো?
রাফি – বিমানে আছি, যাচ্ছি কোথায়?
– বিমানটি আর ৬ ঘন্টা পর একটা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করবে, তোমাকে নামতে হবে না বরং আমার একজন এসিস্টেন্ট তোমার বিমানসংঙ্গী হবে।
রাফি – এসিস্টেন্ট? যাক এটলিষ্ট কথা বলার মত কাউকে পাওয়া যাবে।
– এতটাও ফ্রেন্ডলি নয় সে, তোমাকে তোমার গন্তব্যে পৌছে দেয়াটাই ওর মিশন।
রাফি – কিন্তু আমার গন্তব্য কোথায়? দেশে ফিরছি তো আমি?
– এখনই নয়। দেশে ফিরতে হলে তোমাকে নিজেকে আগে নির্দোষ প্রমানিত করতে হবে। তা না হলে তোমার জন্য দেশে আসা আর মারা যাওয়া সমান কথা।
রাফি – (চিন্তিত) আমাকে আমার পরিবারের সাথে কথা বলতে হবে। কোন ব্যবস্থা হলো কি?
– ব্যবস্থা হচ্ছে। তোমার সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা নাগাদ তোমার ফ্যামিলির সাথে কথা বলতে পারবে।
রাফিকে খুশি হওয়া উচিত তবে পরিবেশ পরিস্থিতি রাফিকে ঠিক খুশি করতে পারে না। জানালা দিয়ে বাইরে দেখলো রাফি। নিজেকে আকাশের বুকে উড়তে দেখেও কেমন যেন বন্দি মনে হতে লাগলো।
রাফি – (ভাবতে ভাবতে) হমম, আচ্ছা তোমাকে তো একটা কথা বলা হয় নি। ব্যবসায়ী তো উপহার পাঠিয়েছেন তারই বাংকার থেকে নেয়া ব্যাগটা আর হার্ডড্রাইভটা।
– আচ্ছা, শুধুই হার্ডড্রাইভ?
রাফি – (কৌতূহল) কেন, আরো কিছু থাকার কথা ছিল নাকি!
– হ্যাঁ, একটা ছোট্ট কাপড়ের পুঁটলি থাকার কথা।
রাফি – হ্যাঁ, আছে। পুঁটলিটা ব্যাগের ভেতরেই আছে। তবে পুঁটলির ভেতরে যা আছে তা তো আমার প্রাপ্য নয়।
– প্রাপ্য তবে পরোক্ষভাবে। মনে আছে আমাকে ট্রেস করার জন্য আমার করা কাজগুলো খুঁজে বের করছিলে?
রাফি তার মেমরী ঝাকিয়ে ফিরে যায় অতীতের কথায় যখন রাফি আর NSA এর চার সদস্য মিলে মাফিয়া গার্লকে ট্রেস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলো। যেখান থেকে যতটুকু ইনফরমেশন যোগাড় করা সম্ভব সেখান থেকেই ইনফরমেশন টেনে বের করেছিলো রাফির টিম।
রাফি – খুব ভালোভাবেই মনে আছে। কতভাবেই যে খোঁজ করেছি তোমাকে আমরা ৫ জন মিলে।
– জানি, যাইহোক আফ্রিকাতে হীরার বদলে অস্ত্রের একটা বড় চালান ধরা পড়ার খবর তো পেয়েছিলে এই খোঁজাখুঁজির ভেতর?
রাফির মনে পড়ে মাফিয়া গার্লকে খোঁজার সময় এমন একটা রিপোর্ট এসেছিলো যেখানে চরমপন্থিদের সাথে হীরার বিনিময়ে অস্ত্র বেচাকেনা করা এক বিশাল গ্যাংকে হাতেনাতে ধরেছিলো আফ্রিকান সেই দেশের পুলিশ, প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ প্রধান বলেছিলো আননোন সোর্স থেকে ফোন দিয়ে এই চালান রিলেটেড কিছু নির্দেশনা এবং ডিটেলস দেয় যার মাধ্্মে পুলিশ অনেক সহজে চরমপন্থীদের ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের এক বিশাল চালান জব্দ করে।
রাফি – হ্যাঁ, মনে পরছে! কিন্তু তার সাথে এই কাপড়ের পুঁটলির সম্পর্ক কি!
– যে অস্ত্র চোরাকারবারিরা ধরা পড়েছিলো তারা অনেক বড় মাপের চোরাকারবারি ছিলো এবং তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকতো সবসময়। ওই অপারেশনে চোরাকারবারিগুলো ধরা পরার পর এই অস্ত্র ব্যবসায়ী সুযোগ পায় তার ব্যবসা কয়েকগুনে বাড়িয়ে দেয়ার। সেদিনের সেই ঘটনার কারনে আজ সে বিশাম বড় অস্ত্র ব্যবসায়ী।
রাফি – তাহলে সে আমার ফ্যান হতে যাবে কেন? তার তো তোমার ফ্যান হওয়া উচিৎ। কারন কাজটা তো তুমি করেছিলে।
– আমি তো তোমার এসিস্টেন্ট, সারা সাইবার দুনিয়া তো জানে মাফিয়া বয়ের নাম, আর মাফিয়া গার্ল তো একটা ছায়া মাত্র।
রাফি – তারমানে তুমি আমার এসিস্টেন্ট হয়ে ওই চোরাকারবারিদের ধরিয়ে দেয়ার ফলে এই অস্ত্র ব্যবসায়ী বড় করে ব্যবসা করার সুযোগ পেয়ে যায় আর সেইজন্য এই উপঢৌকন!
– ব্যপারটা অমনও না, এই উপঢৌকনের মাধ্যমে সে আনুগত্য প্রকাশ করেছে শুধু। এতো মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। সে এখন তোমার হাতের পুতুল। চাইলেই নাচাতে পারবে, তাই অতটা ভাবনাচিন্তা ঝেড়ে ফেলো।
রাফি – (কৌতুহল) আসলে তুমি কি চাইছো সেটা বলো তো? তোমার আসল উদ্দেশ্য কি? কেন এভাবে আমাকে এভাবে সাহায্য করছো?
– সাহায্য করবো না আর?
রাফি – তুমি খুব ভালো করেই জানো যে আমার প্রশ্নের মানে এটা ছিলো না।
#লেখা_sharix_dhrubo
– পৃথিবীর পাওয়ার ব্যালান্সলেস হয়ে গেছে, পানিকে শান্ত দেখে আগুন এখন দাপট দেখাচ্ছে। কিন্তু আগুনকে অবশ্যই পানিকে ভয় করা উচিৎ, আর সেটাই আমার উদ্দেশ্য।
রাফি – কিছুটা বুঝলাম আর কিছুটা একেবারে মাথার উপর দিয়ে গেলো। যা ই বোঝাও না কেন সেখানে আমার ভূমিকা কি!
– তোমার যোগ্যতা এবং ক্ষমতাকে আজ পর্যন্ত ঠিকমত কাজে লাগাও নি তুমি। তোমার ফুল প্রোটেনশিয়ালিটি দিয়ে তুমি অনেককিছুই করতে পারো যা দুনিয়ার মানুষের চিন্তার বাইরে।
রাফি – আমি একটা স্বাভাবিক জীবন চাই শুধু, আমার পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো থাকতে চাই।
– জীবনটা একটা কয়েনের মত, এপিঠ আর ওপিঠ। তুমি যতই কয়েনের একপিঠ নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করো না কেন, না তুমি কয়েনের অপরপিঠকে অস্বীকার করতে পারবে আর না পারবে আলাদা করতে। কয়েনের অপরপিঠটাকেও যে নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। এখন এসব নিয়ে না ভাবলেও চলবে। এখন রাখছি। আমার এসিস্টেন্ট না আসা পর্যন্ত বিমান থেকে নামবে না। আর হ্যাঁ, আমার এসিস্টেন্ট তোমার পূর্বপরিচিত তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
রাফির কপালে এখন আর ভাজ পড়ে না। ভাজ পড়তে পড়তে এমন বলিরেখা তৈরী হয়েছে যে দেখলেই মনে হয় কপাল কুচকে আছে।
রাফি – আমার পরিচিত? কে সে? কিভাবে পরিচিত!
– সবই জানতে পারবে যখন সে তোমার সাথে জয়েন করবে। এখন রাখছি, I’ll be in touch.
রাফি ফোনটা রেখে দেয়, বিমানে করার মত তেমন কোন কাজই খুজে পায় না রাফি। তাই বিমানবালাকে ডেকে জানতে চায় কোন ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ডিভাইস আছে কি না বিমানে।
বিমানবালা রাফির সামনের ডেস্ক থেকে একটা ল্যাপটপ বের করে দেয়। রাফি ল্যাপটপটি ওপেন করে সাধারণ আপডেট নিতে থাকে দেশের।
রাফির অনুপস্থিতিতে কারেন্সি চুরির কেসটাতে এক নাটকীয় মোড় এনেছেন ডাইরেক্টর স্যার।
প্রেস ব্রিফিং এ সবাইকে জানিয়েছেন যে রাফির সাহায্যেই কারেন্সিটা চুরি হয়েছে এবং যখন জড়িতদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হিস্যা দাবি করে রাফি তখন অন্যরা বেঁকে বসায় রাফি সবাইকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পুরো টাকাটা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
রাফি ভাবতে থাকে এটা কিভাবে সম্ভব। সে তো তার ফাইনাল রিপোর্ট সাবমিট করে দিয়েছিলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং তার হস্তক্ষেপেই এখন অপরাধীরা জেলে, তাহলে টাকাগুলো নিয়ে আমি উধাও হলাম কিভাবে, টাকাগুলো কি আবারও আনট্রেসেবল হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন একাউন্টে ঘুরে বেরাচ্ছে। যদি এমনটাই হয় তাহলে তো অপরাধীরা বেকসুর ছাড়া পেয়ে যাবে আর দোষ রাফির কাঁধেই পড়বে।
একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল কেটে বের হতে না হতেই আরো একশোটা জাল এসে পেঁচিয়ে ধরে রাফিকে। কি দোষ ছিলো আমার! ১০ সদস্যের টাস্কফোর্সই বা কি করেছে এই কেসের ইনভেষ্টিগেশন নিয়ে!
রাফির মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে এসব, কেন রাফির সাথে বার বার এমনটি হচ্ছে। ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে মাফিয়া গার্লের কথাটা, কয়েনের এপিঠ ওপিঠ। রাফি কয়েনের এপিঠ নিয়েই বেশী ব্যস্ত ছিল সবসময় কিন্তু কয়েনের ওপিঠ নিয়েই তো সবসময় কাজ করেছে সে। কোডিং, হ্যাকিং, এগুলো তো বেশীরভাগই কয়েনের ওপিঠে সংগঠিত হয়। অপ্রিয় হলেও এটাই সত্যি যে রাফির পরিস্থিতির জন্য রাফি নিজেই দায়ী। নিজেকে নিজে সিকিউর না করে অনেক বড় ভূল করেছে সে।
আরো একটু ঘাটাঘাটি করতে চাইলো রাফি, নিজের ব্যপারে। বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ছাপিয়েছে যার সারাংশ হলো রাফিউল ইসলাম নামের একজন NSA অফিসার, প্রাক্তন NSA ডাইরেক্টর মরহুম ব্রিগেডিয়ার ইজাজ মামুনের মদদে কয়েকজন লোভী আর ক্ষমতাশালী কর্মকর্তাদের নিয়ে এই বিশাল অংকের কারেন্সি চুরি করে এখন পুরো কারেন্সি সহ বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং কয়েকজন নিরপরাধ জননেতা ও কর্মকর্তা এই কেসের মিথ্যা অপবাদ নিয়ে জেল খাটছে।
রাফি ল্যাপটপের লীডটা নামিয়ে রাখে। মাথাটা চিনচিন করছে রাফির।
#লেখা_sharix_dhrubo
একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো রাফি, ঘুমিয়েও পড়লো কিছুক্ষণের ভেতর।
হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙ্গে যায় রাফির। চোখ খুলে দেখতে পায় সীটবেল্ট বাঁধা, ল্যাপটপটাও আর টেবিলের উপর নেই। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো বিমান দাড়িয়ে আছে। চোখ ঘোরাতে ঘোরাতে পাশের সোফাতে কাউকে বসে থাকতে দেখে রাফি, বেশ টিপটপ পরিপাটি একটা মেয়ে পায়ের উপর পা তুলে দুলাতে দুলাতে মোবাইল চাপছে, দেখলেই বোঝা যাচ্ছে চুইংগাম চিবচ্ছে আচ্ছামত কিন্তু মাথা নীচু করে মোবাইল চাপছে বলে মুখের সামনে চুল চলে এসেছে তাই চেহারাটাও ঠিকমত দেখতে পাচ্ছে না রাফি।
ঘাড় নীচু করে চেহারাটা দেখার চেষ্টা করলো রাফি কিন্তু চেহারাটা দেখতে পাচ্ছে না রাফি। সীটবেল্টের কারনে বেশী নীচু হয়ে দেখতে পাচ্ছে না ভেবে সীটবেল্টটা খুলে ফেলে রাফি। হয়তো সীটবেল্টের আওয়াজ পেয়ে পায়ের দুলুনী বন্ধ হয়ে যায়, চুইংগাম চাবানোটাও মন্থর হয়ে যায়।
“রাফি সাহেব, অনেকদিন পর দেখা হলো, ভালো আছেন নাকি এখনো কলেজের ডোনারগুলোকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন?”
রাফির কৌতুহল বেড়ে যায়, চেনা চেনা কন্ঠ আবার কলেজের ডোনার খোঁজার কথা বলছে! কে সে?
রাফি – (কৌতূহল) রুহী!!
“বাহ, যতটা হতবুদ্ধ ভেবেছিলাম ততটাও হতবুদ্ধ নন আপনি। বেশ তীক্ষ্ণ কান আপনার।”
মাথা তোলে মেয়েটা, চোখে একটা সানগ্লাস দেওয়া। যেমনটি ক্যাম্পাসে দেখেছিলো তেমনটি একদমই লাগছে না আর রুহী নামের মেয়েটিকে। নিজেকে এমনভাবে কভারআপ করেছে যে দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না যে সে লোকাল কেউ নয়।
#লেখা_sharix_dhrubo
রাফি – রুহী আপনি! আপনি এখানে কি করছেন!
রুহী – কি আর করবো! এক পথভোলা ক্রিমিনালকে পথ দেখাতে এসেছি। উপরের হুকুম।
রাফি – কিন্তু আপনাকে এখানে এভাবে দেখবো কখনো ভাবি নি। আপনার উপরমহল বলেছিলো যে এসিস্টেন্ট নাকি আমার পরিচিত হবে, কিন্তু সেটা যে আপনি হবেন তা বুঝতে পারি নি।
রুহী – মানুষ তার জীবনে অনেককিছুই ভাবতে পারে না কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি মানুষকে শুধু ভাবাতেই না, অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সামনেও ফেলে দেয়। হয়তো সেটা আমার থেকে আপনি সেটা বেশী ভালো জানেন।
রাফি – হম, তাহলে আপনি নিয়ে যাবেন আমাকে দেশে?
রুহী – দেশে! আপনাকে তো দেশে নিয়ে যাওয়ার কোন মিশন দেয়া হয় নি।
রাফি – তাহলে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে! কোথায় যাচ্ছি আমরা?
রুহী – পৃথিবীর বৃহত্তম দেশে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে আপনাকে। আমরা ওইদিকেই যাচ্ছি।
রাফি – মানে! ওখানে কেন যাচ্ছি আমরা?
রুহী – আপনার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে।
ইন্টারকমে সিগন্যাল দেয় বিমান এখনই এয়ারপোর্ট ত্যাগ করবে। রুহী সোফা ছেড়ে এসে রাফির সামনের চেয়ারে বসে পড়ে। সীটবেল্টটা বেঁধে নেয় আর রাফিকেও ইশারা করে সীটবেল্ট বেঁধে নিতে। রাফি সীটবেল্ট বেঁধে নিয়ে জানালার দিকে তাকায়। বিমানটি রানওয়ের দিকে যাচ্ছে আর রাফিও এগিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৯
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৯
কিছুক্ষণের ভেতর চোখগুলো ভারী হয়ে আসতে থাকে রাফির। হাত পা অসাড় হয়ে যায়, ধীরে ধীরে জ্ঞান হারায় রাফি।
লিমুজিনটা চলতে থাকে রাফির পরবর্তি গন্তব্যের দিকে।
হঠাৎ এক বিকট গন্ধে জ্ঞান ফেরে রাফির। গা হাত পা ঝাড়া দিয়ে ওঠে মুহূর্তের ভেতর। অনেকটা হঠাৎ করেই কিক স্টার্ট দেয়া মোটরসাইকেলের মত অবস্থা। রাফির ঘোর আর অজ্ঞানতা কাটিয়ে বের হয়ে আসতে বেশ সময় লাগলো। রাফি মিটি মিটি করে চোখ মেলে দেখতে চায় আসপাস আর ওই উটকো গন্ধের উৎস। হাত পা নড়াতে না পারলেও চোখ খুলে পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করে , কে যেন নাকের কাছে একটা ছোট্ট কাঁচের বোতলের ছিপি খুলে ধরে আছে আর বোতলটা থেকেই উটকো গন্ধটা আসছে। রাফি নাক ঝাড়া দিয়ে সরে যেতে চায় কিন্তু নিজেকে হাত পা বাধা অবস্থায় একটা চেয়ারে আবিষ্কার করে সে।
জ্ঞান ফিরেছে এবং স্বজ্ঞানে চেয়ারে দাপাদাপি করতে দেখে রাফির নাকের কাছ থেকে বোতলটি সরিয়ে নিলো লোকটি। জ্ঞান ফেরানোর জন্য চেহারায় একটু পানি ছিটিয়ে দিলেই হতো, নাকের এমন বিদঘুটে গন্ধ দেয়ার কি প্রয়োজন ছিলো সেটাই বুঝতে পারলো না রাফি। পুরোপুরি জ্ঞান ফেরার পর আশপাশটা ভালোভাবে দেখা শুরু করলো রাফি। বেশ বড়সড় একটা আলোছায়া ঘেরা রুম। মোটামুটি আন্দাজ করা যাচ্ছে রুমের মাঝখানে বসে আছে রাফি। আধো আলো ছায়ায় যতুটুকু বোঝা যায় পুরো রুমটাতে শুধু সাদা এবং কালো রং এর জিনিসপত্র। দেয়ালের রং থেকে শুরু করে বইয়ের মলাট পর্যন্ত। রাফি কাউকেই দেখতে পাচ্ছে না আর। সবাই কেমন যেন অন্ধকারে লুকিয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাফি চুপচাপ থেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলেও কিছুই বুঝতে পারলো না, শেষমেষ বলে বসলো,
রাফি – ( ইংরেজীতে) কেউ কি বলবে আমি কোন জাহান্নামে আছি?
ব্যক্তি ১ – (ইংরেজিতে) পৃথিবীর জাহান্নামে?
রাফি – এভাবে বেধে রাখার কি মানে? আমি সেচ্ছায় এখানে এসেছি। এভাবে বেধে রাখার প্রয়োজন আছে কি?
ব্যক্তি ২ – তুই এখন যার সামনে বসে আছিস তার সামনে বসে কেউ আজ পর্যন্ত এতগুলো কথা বলতে পারে নি।
রাফি – তাহলে আমি বেঁচে আছি কিভাবে?
বস – ( বেশ গম্ভীরভাবে) কারন আমার ইচ্ছা।
রাফি কথার ওজন শুনেই বুঝে গেলো এ বস টাইপের কেউ। কিছু বলা যৌক্তিক হবে কি না ভেবেও বলে বসে রাফি,
রাফি – মেহেরবানী করে হাতের বাধনটি খুলে দিন। প্রচন্ডরকমের নাক চুলকাচ্ছে। পারছি না আর।
এমন থমথমে পরিবেশে এইরকম কথা শুনে একটা গম্ভীর হাঁসির আওয়াজ পেল রাফি। বেশ জোরেশোরেই হাসছেন তিনি,
বস – (হাসতে হাসতে) খুলে দে।
অন্ধকারের ভেতর থেকে দুটি ছায়া এগিয়ে এলো, একজন ঠায় দাড়িয়ে রইলো এবং আর একজন হাতের বাঁধন খুলে দিতে লাগলো।
হয়তোবা এখানে পৌছানোর পর থেকেই হাত বাঁধা ছিলো, বাঁধন খুলে দেয়ার সাথে সাথে রক্ত চলাচল শুরু করলো হাতের শিরা উপশিরাতে। রাফি দ্রুত এক হাত দিয়ে নাক চুলকাতে লাগলো, যদিও নাক চুলকানোর ব্যপারটা মিথ্যা ছিলো। তাইই বলে তো আর সবাইকে বুঝতে দেয়া যাবে না বিষয়টা।
বস – ( হাঁসি থামিয়ে গম্ভিরতা এনে) তাহলে তুই দাবি করছিস যে তুই আমার বাংলোতে ঢুকেছিলি আর জ্যান্ত বের হয়ে এসে আমার সাথে কথা বলছিস!!!!?
রাফি – ( দড়ি দিয়ে হাতের বাঁধা জায়গায় হাত বোলাতে বোলাতে) জ্বী হ্যাঁ। বিপদে পড়েই ঢুকতে হয়েছিলো ওখানে।
বস – (কৌতুহল) বিপদ! কিসের বিপদ! আমার বাংলোই তো একটা বিপদের কূপ। তোর আন্দাজ আছে যে গতকাল কতগুলো মানুষ জান খুইয়েছে আমার বাংলোর দরজার সামনে!
রাফি না সূচক মাথা দোলায়।
বস – (গর্ব করে) ১৪৩ জন। একজনও বাংলোর বাউন্ডারি ও ছুঁয়ে দেখতে পারে নি অথচো মরে লাশ হয়ে গেছে আর তুই কিনা বলছিস তুই আমার বাড়ি ঢুকেছিলি! তো কিভাবে মানবো যে তুই আমার বাড়ি ঢুকেছিলি? প্রমান দে।
রাফি – আমার সাথে দুইটা ব্যাগ ছিলো, ওগুলো কোথায়?
ব্যক্তি ১ – ওগুলো বাইরে কাউন্টারে রয়েছে।
রাফি – দয়া করে আমার সামনে এনে দেবেন কি? প্রমান ব্যাগে।
বস গলা দিয়ে হুহহ বলে হয়তো কাউকে নির্দেশ দিলেন ব্যাগ নিয়ে আসার জন্য।
কেউ একজন ছায়ার ভেতর থেকে হেঁটে হেঁটে রাফির পেছনে চলে গিয়ে দরজা খুলে বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আবারও দরজা খোলার আওয়াজ হয় আর ঝপ করে দুইটা ব্যাগ রাফির সামনে ফেলে লোকটি আবার ছাঁয়ায় মিলিয়ে যায়।
রাফি বাংকার থেকে নিয়ে আসা ব্যাগটা তুলে নিয়ে তার উপর কার্ডটি রেখে বলে,
রাফি – (আত্ববিশ্বাসের সাথে) দেখুন তো ব্যাগ আর কার্ডটি চিনতে পারেন কিনা!
অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না ঠিকমত কিন্তু রাফির হাতে থাকা ব্যাগটি আবছা আলোতে দেখেই,
বস – (আতংক এবং উত্তেজনায়) আলো জ্বালা। কেউ একজন আলো জ্বালা, এখনই।
রাফি জানে যে এখন ভয়াবহ এক ড্রামা সিরিয়াল হতে চলেছে। তাই মানষিকভাবে রাফি প্রস্তুত ই ছিলো।
আলো জ্বলে উঠতেই রাফি তার সামনে টেবিলের গায়ে হেলান দেয়া মাঝবয়সী এক ব্যক্তিকে আবিস্কার করে, ভয়াবহ স্ট্যাইলিশ, হাতে রোল্যাক্স, গায়ে সাদা শার্ট কালো কোর্ট, কালো স্যু! শুধু চোখটা একটু বেশীই বড় হয়ে আছে, আর দৃষ্টি স্থীর হয়ে আছে রাফির হাতের ব্যাগটা দিকে।
একজনকে ইশারা করলো রাফির হাত থেকে ব্যাগটা নিয়া আসার জন্য, আর নিজে ঘুরে গিয়ে চেয়ারের সামনে দাড়িয়ে একটা মোটা চুরুট ধরাতে শুরু করলো।
একজন এসে ব্যাগ আর কার্্ডটা রাফির হাত থেকে নিয়ে বসের সামনে টেবিলে রাখলো। চুরুটে লম্বা এক টান দিয়ে বস টাইপের লোকটি ওই কার্ড টেবিল থেকে হাতে তুলে নেয়। চোখ ছানাবড়া হবার উপক্রম তারপরও নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে ওই বস টাইপের লোকটি।
বস – ( অন্য দুজনকে উদ্দেশ্য করে) তোরা বাইরে যা, প্রয়োজনে ডেকে নেবো।
রুমের ভেতর বস আর রাফি ছাড়া আর সবাই বের হয়ে গেল। সবাই বের হয়ে যাওয়ার পর দরজা লাগতেই,
বস – (বিস্মিত হয়ে) একটাই প্রশ্ন করবো, পরিস্কার জবাব চাই। কিভাবে?
রাফি যা যা ঘটেছে তার বর্ননা শুরু করতেই,
বস – ওসব শুনতে চাই নি, এই ব্যাগটা আমার বাংলোর ১০০ ফুট নীচে বাংকারের একটা লকারে ছিলো। এটা তোর হাতে আসলো কিভাবে?
রাফি – কারন গতপরশু রাত থেক গতকাল রাত পর্যন্ত আমি ওই বাংকারেই ছিলাম।
বসের চোখ নাক গাল লাল হয়ে গিয়েছে রাফির কথা শুনে।
বস – কি!!!!! তুইই বলতে চাস গতকাল বাউন্ডারি ছুঁতে না পারা চোরগুলোকে শেষ করে দেয়া সিকিউরিটি সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে তুই আমার বাউন্ডারিতে ঢুকেছিস, বাংকারের লিফটে পৌছেছিস, লিফট থেকে নেমে বাংকারের কোড ভেংঙ্গে বাংকারের দরজা খুলেছিস, আমার ক্যাশরুমে ঢুকে লকার খুলে ব্যাগটা নিয়ে বের হয়ে এলি অথচো তোর গায়ে ফুলের টোকাও পড়ে নি!!!!!! আর আমি কোন ইনট্রুডার এ্যালার্ট ও পেলাম না!!!! অসম্ভব!!!!
রাফি – আমার জানামতে আপনার বাউন্ডারির ভেতর যে একটা এন্টিনিউক্লিয়ার বাংকার রয়েছে এই ইনফরমেশন জানা কোন ব্যক্তিই জীবিত নেই। আর আপনার সিকিউরিটি এসিস্টেন্ট ও যথেষ্ট কর্মপটু তা গতরাতে আপনার বাড়ির সামনের লাশের বহর দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু আমার এ্যাসিস্টেন্ট ও কম যায় না। সে আপনার পুরো সিস্টেমকে হ্যাক করে ফেলেছে।
বস – (উদ্বিগ্ন) আমার সিকিউরিটি সিস্টেম হ্যাক করা যাবে না এমনটাই বলেছিলো ওরা, তাহলে আমার টাকা!
রাফি – চিন্তার কোন কারন নেই। আপনার পুরো বাংলো থেকে ওই ব্যাগ আর এই হার্ডড্রাইভ ছাড়া আর কিছুই খোঁয়া যায় নি!
বস – (আরো বিস্মিত হয়ে) হার্ডড্রাইভ ও নিয়ে এসছিস!!!!! সেটা কোথায়?
রাফি – ওই ব্যাগের ভেতরই আছে। ব্যাগটা যে আমি সাজিয়ে নিয়ে আসি নি তার প্রমাণ।
বস – (বিস্ময়ের সাথে) তুই! তুই আমার বাংকার পর্যন্ত চলে গেলি! তার মানে আমার সিকিউরিটি সিস্টেমে সমস্যা রয়েছে। আমার ইন্টেলিজেন্ট সিকিউরিটি সিস্টেম আসলে ইন্টেলিজেন্ট নয়! এমন ভুলভাল সিকিউরিটি এসিস্টেন্ট যদি আমি বিক্রি করি তাহলে তো আমার জীবন নিয়েই টানাহ্যাচড়া শুরু হয়ে যাবে।
রাফি – আপনার সিকিউরিটি সিস্টেম যে ডেমো দেখিয়েছে তাতে নিশ্চয়ই অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে পিকাচু?
বস – (অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে) তুই আমার বাংকারের ইন্টেলিজেন্ট সিকিউরিটি এ্যাসিস্টেন্টর নাম ও জানিস?
রাফি – (মুচকি হাঁসতে হাঁসতে) আসলে ২৪ ঘন্টার ও বেশী সময় ধরে ছিলাম তো বাংকারে, একা একা ভালো লাগছিলো না। তাই পিকাচুর সাথে গল্প করছিলাম। ভালো এবং খুবই ভদ্র এসিস্টেন্ট।
বস – (চোখ বাকিয়ে) তোর ভালো লেগেছে পিকাচু কে?
রাফি – আবার জিগায়, ভালো লাগবে না কেন? খুবই ভালো মনের এসিস্টেন্ট খালি একটা শরীর নাই।
বস মনে মনে ভাবে এমন একটা সিকিউরিটি সিষ্টেমের উপর ভরসা করে সে তার বানানো ১৫ নং বাংলো খোলা ফেলে রেখে এসেছে! হায় হায়।
বস – (ভাব নিয়ে) হমমমম, তার মানে তুই কম্পিউটার নিয়ে নাড়াচাড়া করিস! ভালো। তোকে একটা অফার দিতে চাই। তুই যদি পিকাচুর সমস্যা সমাধান করে দিতে পারিস তাহলে পিকাচু তোর।
কথাটা শোনার সাথে সাথে রাফির খটকা লাগে, পিকাচুর ডেভলপার কাউকেই এই লোক জীবিত রাখে নি আর রাফি ত মামুলি মানুষ।
রাফি – (কপাল কুঁচকে) কাজটা করার পর আপনি যে আমাকে মেরে ফেলবেন না তার গ্যারান্টি কি!
বস মনে মনে ভাবে যে এই ছেলেকে যতটা বোকা মনে করেছিলাম ততটা বোকা নয়। এখন!
বস – (ইতস্ততঃ) না না না, আমি তোকে মারবো কেন? তুইই আমার এত বড় উপকার করবি, তোকে মারা যায়!
কথাটা শোনার পর রাফির বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে, মনে হতে লাগে এ যাত্রাই মনে হয় শেষ যাত্রা।
রাফি – (কিছুটা উত্তেজিত) আমার ফোনটা? আমার কথা বলতে হবে আমার এ্যাসিস্টেন্টের সাথে।
এখানে তোর জন্য ফোনে কথা বলার কোন সুযোগ নেই, যদি গোয়েন্দা সংস্থাকে আমার লোকেশন জানিয়ে দিস, তো?
তখন রাফি কিছু বলতে যায়, কিন্তু বসের ফোন বেজে ওঠায় সে হাত তুলে থামিয়ে দেয় রাফিকে।
ফোনে কথা বলা শুরু করে রাফির সামনেই, প্রথম প্রথম হু হা তে জবাব দিলেও কিছুক্ষণের ভেতর সে রাফির দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেছে। আরো কিছুক্ষণ কথা চলার পর বস রাফির দিকে ফোন এগিয়ে দিলেন।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/
রাফি বিস্ময়ের সাথে ফোনটি নিয়ে কানে ধরলাে,
কম্পিউটার জেনারেটেড ফীমেল ভয়েসটা রাফির খুবই পরিচিত,
– মাফিয়া গার্ল।
রাফি – কোথায় এনে ফাঁসিয়ে দিলে! এ তো এখন আমাকে মারার ফন্দি আটছে।
– (অট্টহাসি) তাই নাকি? বেশ বাড় বেড়েছে মনে হচ্ছে। যাইহোক যে জন্য তোমাকে এখানে আনা, তোমাকে কোন ট্রেস ছাড়া পরবর্তী গন্তব্যে পৌছে দিতে কেবলমাত্র ও ই পারবে। ভেবেছিলাম পুরস্কার হিসেবে তোমার ফ্রী ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করবো। কিন্তু এখন তো দেখছি ব্যপারটা উল্টো করতে হবে।
রাফি – (রাগান্বিত) তুমি যদি বিনা অনুমতিতে আমার টাকার গুদামে ঢোকো তাহলে আমার রাগ হওয়া স্বাভাবিক নয় কি!
– কথাটা তুমি মন্দ বলো নি। যাইহোক ফোনটা ওকে দাও।
রাফি ফোনটা এগিয়ে দিতেই কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা কানে তুলে নিলো বস। কিছুক্ষণ ইয়েস নো তে কথা বলে ফোনটা কেটে দিলো। রাফির দিকে তাকিয়ে চেয়ারে বসে পড়লো। চুরুটে লম্বা একটা টান দিয়ে রাফিকে প্রশ্ন করতে বসলো,
বস – (চিন্তিত) গতকাল রাতে যারা আমার বাড়ির সামনে এসেছিলো তারা আসলে আমার বাড়ি চুরি করতে এসেছিলো না, তাইনা?
রাফি না সূচক মাথা দোলায়।
বস – ( চিন্তিত) তারা সব তোকে মারতে ওখানে হাজির হয়েছিলো?
রাফি হ্যাঁ সূচক মাথা দোলায়।
বস – (চিন্তিত) তুই ওদের হাত থেকে বাঁচতে বাংকারে ঢুকেছিলি!? চুরি করতে নয়!?
রাফি হ্যাঁ সূচক মাথা দোলায়।
বস – তোর এ্যাসিস্টেন্ট আমাদের সব কথা শুনছিলো?
রাফি এর উত্তর জানে না তবে মাফিয়া গার্লের পক্ষে আড়ি পাতা সম্ভব তাই হ্যাঁ সূচক মাথা দোলালো।
বস উঠে গিয়ে জানালার দিকে ফিরে ডাক দিলো তার এ্যাসিস্টেন্টগুলোকে, দুইজন রুমে এসে রাফির পিছনে দাঁড়াল।
বস – (এ্যাসিস্টেন্টগুলোর উদ্দেশ্যে) প্রাইভেট জেট রেডি করতে বলো, আর এর বাঁধন খুলে পেন্টহাউজে নিয়ে যাও। জেট রেডি না হওয়া পর্যন্ত একে ওখানেই রাখো। আর একে এর সবকিছু দিয়ে দাও।
এ্যাসিস্টেন্টগুলো রাফির কোমরের আর পায়ের বাঁধন খুলে দিলো আর রাফির ব্যাকপ্যাকটা রাফির হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাদেরকে অনুসরণ করতে বললো। রাফি বুঝলো না ওই বস টাইপের লোকটিকে ধন্যবাদ জানানো উচিৎ কি না। ভাবনাচিন্তা বাদ দিয়ে রাফি এ্যাসিস্টেন্ট দুইজনের পেছন পেছন চলতে শুরু করলো, দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে শেষবারের মত তাঁকিয়ে দেখলো লোকটি তখনো জানালা বরাবর তাকিয়ে চুরুট টানছে।
রুম থেকে বেরিয়ে করিডোর হয়ে এসিস্টেন্ট দুইজন রাফিকে নিয়ে গিয়ে লিফটে তোলে।
করিডোরের ডেকোরেশন আর লোকজনের আসাযাওয়া দেখে রাফি ধারনা করে এটা কোন বড়মাপের হোটেল। লিফট ২২ তলায় গিয়ে থামে। এ্যাসিস্টেন্টের পেছন পেছন রাফি গিয়ে ঢোকে পেন্টহাউজে। টপ ফ্লোরের এই পেন্টহাউজটিকে একটা জানালার ঘর বলা চলে। পুরো ঘরটার মেঝে ছাদ আর একপাসের দেয়াল ছাড়া পুরোটাই জানালা দিয়ে ঘেরা। এ্যাসিস্টেন্টগুলো রুমে আসে না, ইশারায় বলে ইন্টারকমে ফোন এলে যেন রিসিভ করে। রাফি ফোনটা বের করে অন করে। অন হতে হতেই মাফিয়া গার্লের ফোন,
– কি? সব ঠিকঠাক আছে তো? নাকি সমস্যা হয়েছে কোন!
রাফি – এভাবে মানুষদের ব্যবহার করা আমার মোটেই পচ্ছন্দ নয়। আমি এখানে তাদের সাথে দুশমনী করতে আসি নি। নিজের প্রয়োজনে মানুষকে এভাবে ব্যবহার করা!!! নিজের উপরই নিজের ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা করছে।
– নিজেকে এত ছোট করে দেখার কিছু নেই, তুমি যে দুনিয়ায় বাস করো সেই দুনিয়ায় কেউ কারো জন্য কিচ্ছু করে না। হয় তোমাকে সেটা আদায় করে নিতে হবে অথবা দখল নিয়ে নিতে হবে। আর তুমি তো কারো ক্ষতি করছো না।
রাফি – ১৪৩ টা লাশ কি কোন ক্ষতির ভেতর পড়ে না!
– তার জন্য তুমি দায়ী নও আর পুলিশ ও কোন ক্লু মেলাতে পারবে না। কারন লোকালয়ের ভেতর এমন সিকিউরিটি সিস্টেম রাখা বেআইনী আর পুলিশ জেনেশুনে কিভাবে এটা এতদিন এলাউ করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইনেসপেক্টর G কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আর অভিযোগ প্রমানিত হলে পাপের শাস্তি ভোগ করা শুরু আর আমি নিজে সেটা কনফার্ম করবো।
রাফি – কিন্তু এই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে কেন ব্যবহার করছো!
– এ ই এখন তোমাকে নিরাপদ গন্তব্যে নিয়ে যাবে। তোমরা এখন ভালো বন্ধু হয়ে গেছো। দেখো না সে তোমার জন্য কত্ত কিছু করবে।
রাফি – আমি কেবল বাড়ি যেতে চাই। আমার মা বাবা আর বৌয়ের কাছে।
– আগে বের তো হও এখান থেকে, তারপর অন্যকিছু। এখন রাখছি। ফ্রেস হয়ে তৈরী হয়ে নাও। একটু পরই বস আসবে তোমার সাথে কথা বলতে।
রাফি কিছু বলার আগেই মেয়েটা ফোন কেটে দেয়। এই বাজে স্বভাবটা রাফির একদমই পচ্ছন্দ না।
ফোনটা রাখতে রাখতে দরজা খুলে বসের আগমন ঘটে। রাফিকে দেখে উষ্ণ একটা হাসি দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়। কিছুক্ষণ আগে যে লোকটা রাফিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে কথা বলছিলো, হঠাৎ করে তার এমন পরিবর্তন দেখে রাফি যার পর নাই অবাক হয়ে যায়।
বস – অফিসরুমে করা ব্যবহারে আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি বুঝতেই পারি নি যে আপনি মাফিয়া বয়, দি মাফিয়া বয়।
রাফি – এমনভাবে কেন বলছেন?
বস – আমি আপনার কাজের অনেকবড় ফ্যান। আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি যে আপনাকে কখনো দুই চোখে দেখতে পাবো।
রাফি – (কৌতুহল নিয়ে) মাফিয়া বয়ের কাজের ফ্যান আপনি! কিন্তু আমার যতদূর মনে পড়ে আমি কখনো কোন সন্ত্রাসীকে সাহায্য করি নি।
বস টাইপের লোকটা জিভে কামড় বসিয়ে দিলো,
বস – ছি ছি ছি ছি, আমাকে সন্ত্রাসী বললেন! আমি একজন সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী, পৃথিবীর বেসামাল ক্ষমতার সুযোগে যারা পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করছে তাদেরকে রুখে দিতে বিভিন্ন দেশের বিদ্রোহীদের সাথে আমি ব্যবসা করি। আমি না থাকলে ওইসব মারনাস্ত্রের সামনে কি নিয়ে দাড়াতো বিদ্রোহীরা বলুন তো? এই আমরা আছি বলেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে।
রাফি – বাহ, নিজের ব্যবসায়ের পক্ষে খুব সুন্দর একটা উপসংহার দাঁড় করিয়েছেন।
বস – ( হাসতে হাসতে) ব্যবসাকে কিভাবে খারাপ বলি ভাই, আমার রুটিরুজী যোগাড় হয় এখান থেকে।
তখন ইন্টারকম বেজে ওঠে। বস উঠে গিয়ে রিসিভারটা কানে তুলে নেয় কিছু কথা শুনে ওকে বলে রিসিভারটা রেখে দেয়।
বস – আপনার জেট তৈরি। আপনাকে আপনার গন্তব্য পর্যন্ত পৌছে দেবে আমার জেট। (একটা কার্ড এগিয়ে দিয়ে) এটা রাখুন, জানি যে আমার নাম্বার খুজে পেতে এই কার্ডের দরকার পড়বে না, তারপরও যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার যে কোন সমস্যা আপনি আমাকে নির্দিধায় জানাতে পারেন। আমি আপনাকে সাহায্য করবো।
রাফি – (কার্ড হাতে নিয়ে) আপনি আমাকে সাহায্য করবেন! কেন?
বস – (হাসতে হাসতে) আপনি অনেক বেশী প্রশ্ন করেন, কৌতুহল ভালো তবে আমাকে বের হতে হবে। চলুন একসাথে বের হওয়া যাক।
বস রাফিকে হোটেলের লবি পর্যন্ত এগিয়ে দিলো। তারপর একজন এ্যাসিস্টেন্ট রাফিকে নিয়ে সেই লিমুজিনে ওঠালো। মাঝখানে কোথাও না থেমে লিমুজিনটি এয়ারপোর্টের ভিআইপি লঞ্জ হয়ে সোজা প্রাইভেট জেটের সামনে এসে দাঁড়ায়। ডিপ্লোম্যাটিক ক্লিয়ারেন্স থাকলেও ইমিগ্রেশনে যেতে হয় কিন্তু এ তো পুরাই আলাদা লেভেলের।
ড্রাইভার এসে রাফিকে দরজা খুলে দিলো আর বিমানের পাইলট রাফিকে অভর্থনা জানিয়ে বিমানে তুলে নিলেন। জেটের দরজা লাগার আগে গাড়ির ড্রাইভার একটা ব্যাগ এনে রাফির সামনে রাখলো যেটা রাফি বাংকার থেকে নিয়ে এসেছিলো। তখনই বিমানের ইন্টারকমে ফোন আসে। রাফি রিসিভ করতেই,
বস – আমাদের বন্ধুত্বের শুরুটা সুখকর না হলেও আশা করা যায় সামনের দিনে আমাদের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। আমার তরফ থেকে সামান্য উপহার আপনার জন্য। আপনার যাত্রা শুভ হোক।
বলে টেপরেকর্ডারের মত কথাগুলো বলে ফোনটা রেখে দিলো। রাফি কোন কথা বলার সুযোগই পেল না। ফোনটা রেখে ব্যাগটার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগেই পাইলট অনুরোধ জানায় ফোন অফ করে সিটবেল্ট বেধে নিতে। জেট এখনই টেকঅফ করবে। জানতেও পারলো না কোথায় পরবর্তী গন্তব্য। জেট ছুটতে শুরু করলো রানওয়ে বরাবর। রাফি চোখ বন্ধ করতেই পরিবারের সবার চেহারা ভেসে ওঠে। নাহ, তাদের কাছে ফিরে যেতেই হবে রাফিকে।
টিপসঃ
যে কোন সোসাল একাউন্টের পাসওয়ার্ড অবশ্যই একটু কঠিন রাখবেন। সংখ্যা, নাম্বার ও সিম্বল মিলিয়ে রাখবেন। যেমনঃ a5l4p3h2a1@(). সফটওয়্যার দ্বারা একে ক্রাক করতে ২ বিলিয়ন বছর লাগবে। আসা করি বুঝতে পেরেছেন। না বুঝলে পেজের ইনবক্সে টেক্সট করতে পারেন।
বিঃদ্রঃ আপনার বন্ধুদেরও invite করে গল্প পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৮
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৮
বাধ্য হয়ে রাফিকে ফোন বন্ধ করতে হলো। কিছুক্ষণের ভেতর কার্গো বিমানটি দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করলো রানওয়ে বরাবর। রাফি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখছে আর আতংকে তার বুক ধুকপুক করছে, কি ঘটে যাওয়ার কথা বললো মাফিয়া গার্ল! কোন অশুভ কিছু নয় তো?
বিমানটি উড়ে চলেছে মেঘ ভেদ করে। সবকিছু ভাবতে ভাবতে বেশ কিছুটা সময় পার করে ফেলে রাফি। কার্গো বিমানের জানালা দিয়ে ছোট ছোট প্রদীপের মত আলো দেখে রাফির নিজের বাড়ির কথা মনে পড়ে আবার। বাসায় কথা বলা দরকার। কার্গোপ্লেনের এরোপ্লেন মোড টাইম শেষ হওয়ার সাথে সাথে ফোনটা অন করে রাফি। বাবাকে ফোন দেয়, কিন্তু বলে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাবা মাঝে মাঝেই ফোনে চার্জ দিতে ভূলে যান ভেবে মায়ের নাম্বারে ফোন দেয় রাফি, সেটাতেও সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাফির কপাল কুঁচকে যায়। তাহলে সত্যি সত্যিই কি কোন খারাপ কিছু হলো! তাড়াতাড়ি তোহার নাম্বার বের করে ডায়াল করতে যাবে তখনই ফোন আসে আননোন সোর্স থেকে, মাফিয়া গার্ল।
– তোমার পরিবারের কারো নাম্বারই আর সচল নেই।
রাফি – মানে কি? কি হয়েছে সব খুলে বলো! তাদের ফোন বন্ধ কেন? কোথায় তারা? কি হয়েছে তাদের?
– তারা সবাই ভালো আছে। তাদের নিরাপত্তার জন্যই তাদের ফোন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
রাফি – কিন্তু কেন? তাদের উপর কেউ হামলা করেছিলো কি? তাদের সাথে যোগাযোগ করবো কিভাবে?
– তারা একটা বাড়িতে নিরাপদ আছেন, তাদেরকে নিয়ে ভেবো না।
রাফি – ভাববো না মানে? এটা আমার পরিবার! আমার পরিবার নিয়ে আমি ভাববো না তো কে ভাববে! কোথায় তারা!
– আমি যদি এখন তাদের ঠিকানা ও তোমাকে দিয়ে দেই তবুও তুমি কিছুই করতে পারবে না। তাহলে শুধুশুধু কেন টেনশন বাড়াচ্ছো। তারা ভালো আছে, সুস্থ আছে। তোমার বৌ অনেক বুদ্ধিমতী মেয়ে। সে সবকিছু সামলে নিয়েছে।
রাফি – আমার পরিবার কোথায়? তারা পুলিশ প্রোটেকশনে ছিলো। তারপরও কেন তাদের অন্য কোথাও সরাতে হলো? খুলে বলো আমাকে সবকিছু।
– তোমাকে যে ট্রেনিং প্রোগ্রামের কথা বলা হয়েছিলো সেটা মিথ্যা ছিলো। যে এন্টি সাইবার ক্রাইম ডিভিশনের আন্ডারে তোমার ট্রেনিং এর কথা বলা হয়েছিলো সেই প্রতিষ্টানে এই মৌসুমের ট্রেইনী লিষ্টে তোমার বা NSA এর কারো নাম ই নেই।
রাফি – তাহলে যে আমাকে চিঠি দেয়া হলো? সরকরিভাবে আমাকে ট্রেনিং এ পাঠানো হয়েছে।
– কিন্তু অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশনে তোমাকে ট্রেনিং এ পাঠানোর কথা থাকলেও অরিজিনালী এই সিজনে তুমি ইনলিষ্টেড কোন ট্রেইনি নও। এটা ঠিক যে তোমার নাম রিকমেন্ড করা হয়েছিলো এবং তোমাকে নির্বাচন ও করা হয়েছে কিন্তু সেটা পরবর্তী মৌসুমের জন্য, এই মৌসুমের জন্য নয়, সেটি আরো ১ মাস পরে।
রাফি – সরকারি কাগজপত্রে ভুল হয় কিভাবে? এত বড় ভুল?
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/
– জেনে বুঝেই এই ভূলটা করা হয়েছিলো। কাগজপত্র ঠিকইই আছে। তোমার ট্রেনিং কালিন ছুটির পার্মিশন ও আছে কিন্তু সেটা একমাস পরের। তোমাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে মেরে ফেলার ফন্দি আঁটা হয়েছিলো এইমাসেই।
রাফি – কিন্তু কে? আমাকে অফিসিয়ালী ট্রেনিং অর্ডার দিয়েছিলেন ডাইরেক্টর স্যার, তিনিই আমার বিমানের টিকিট দিয়েছেন তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন এই মাসে ট্রেনিং এর কথা। তাহলে কি!!!!!!
– ঠিকই ধরেছো। তোমার ডাইরেক্ট স্যার ই তোমার জন্য এই মৃত্যুফাঁদ তৈরী করেছেন। NSA এর ডিজিটাল লগবুকে তোমাকে অনুপস্থিত শো করছে অর্থাৎ তুমি বিনা পার্মিশনে ছুটি কাটাচ্ছো।
রাফি – আমাকে কম করে হলেও ১০ ধরনের কাগজে সিগন্যাচার করে ট্রেনিং এ পাঠানো হয়েছে। তুমি বললেই আমি মেনে নেবো না যে এত বড় যোগসাজশ ঘটেছে।
– তো জানতে পারি তুমি ঠিক কোথায় বসে সব কাগজে সিগন্যেচার করেছো? কোন সাক্ষী আছে তোমার এইসব কথার?
রাফির কপালে ভাঁজ পড়ে, সবগুলো কাগজপত্র ডাইরেক্টর স্যারের সামনেই সই করেছিলো রাফি। এমনকি অফিসের সব কলিগদের রাফিই জানিয়েছিলো ট্রেনিং এর কথা, কোন প্রঙ্গাপন ও জারি হয়েছিলো না। রাফি ছাড়া আর কেউ ই জানে না যে এসব ডাইরেক্টর স্যারের কারসাজি।
– খুব বেশী চিন্তায় পড়ে গেলে তো? এই মানুষটার হাতেই তুমি তোমার পরিবারের দায়িত্ব দিয়ে এসেছিলে! আজ আমি তোমাকে এইসব জানাচ্ছি বলে তুমি জানতে পারছো, ভেবে দেখো যদি আমি না জানতাম তাহলে কোথায় থাকতে তুমি।
রাফি – প্রমাণ দেখাও যে তুমি সত্য বলছো। প্রমান ছাড়া আমি তোমার একটা কথাও আর বিশ্বাস করবো না। আর ডাইরেক্টর স্যার কেন আমাকে মারতে চাইবে!
– প্রমান চাও তো? আচ্ছা। বিমান থেকে নামো, সবধরনের প্রমান দেয়া হবে তোমাকে।
রাফি – আমি আমার পরিবারের সাথে কথা বলতে চাই।
– সেটা আপাতত সম্ভব নয়। তাদের কাছে এখন কোন কমিউনিকেশন সিস্টেম নেই। যখন সম্ভব হবে তখন আমিই কথা বলিয়ে দেবো। আপাততঃ তোমার পরিবার আমার জিম্মায়। আমি থাকতে তাদের কোন ক্ষতি হতে দেব না।
রাফি – আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এই কার্গোপ্লেন? বাড়ির রাস্তা ফেলে কেনই বা যাচ্ছি অন্য কোথাও?
– তোমার ডাইরেক্টর স্যার খুব সুন্দরভাবে তোমাকে এই কারেন্সি চুরির কেসে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। কিছু ভুয়া প্রমানপত্র জোগাড় করে তোমাকে পলাতক ঘোষনা করেছে। তোমার অবর্তমানে তোমার ফ্যামিলিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পার্মিশন ও বের করে ফেলেছে তোমার ডাইরেক্টর স্যার। তাই বাধ্য হয়ে তোমার পরিবারকে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।
রাফি চুপ করে থাকে কিছুক্ষণের জন্য। মাফিয়া গার্ল যদি সত্য বলে তাহলে আসলেই রাফির তার পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলে রেখে এই মৃত্যুফাঁদে পা দিয়েছিলো। কিন্তু এত অল্প সময়ে এতকিছু ঘটে যাওয়াটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না রাফির কাছে। নাহ, সবকিছু যাচাইবাছাই না করে আর কোন মন্তব্য করতে চায় না রাফি।
রাফি – যত দ্রুত সম্ভব আমার পরিবারের সাথে আমার কথা বলানোর ব্যবস্থা করো, প্লিজ।
– সে ব্যবস্থা আমি করছি। আর হ্যাঁ কার্গোপ্লেনটি তোমাকে আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশে নিয়ে যাচ্ছে। বিমানটি সরাসরি একটা আর্মি বেস এ ল্যান্ড করবে। ওখান থেকে তোমাকে তোমার গন্তব্যে পৌছে দেয়া হবে।
রাফি – কিন্তু আমার গন্তব্য কোথায়!
– সময় হলেই জানতে পারবে। এখন বিশ্রাম নাও। কাল অনেক কাজ আছে।
রাফি ফোনটা কেটে দেয়। মেঘের উপর দিয়ে ভেসে চলেছে কার্গোপ্লেনটি।
রাফি মনে মনে ভাবতে থাকে কেন নিজের সিক্রেট আইডেন্টিটি মাফিয়া বয় ছেড়ে প্রকাশ্যে একজন Cyber Crime Analysist Officer হতে গেলো! দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে চেয়েছিলো রাফি সবসময়। কিন্তু মুহূর্তের ভেতর সবার কাছে শত্রু হয়ে যেতে হবে এটা কখনই ভাবে নি রাফি। দেশের জন্য কিছু করতে গেলে যে এতবড় মাসূল দিতে হয় এটা রাফির সত্যিই অজানা ছিলো। নিজের পজেটিভ মনকে নেগেটিভিটির ছায়ায় দেখতে মোটেই অভস্থ্য নয় রাফি। কিন্তু নিজেকে পজেটিভ রাখার সব শক্তি হারাতে বসেছে সে। এতসব ভাবনাচিন্তার সমুদ্রে সাঁতার কাটতে কাঁটতে রাফি যে কখন ঘুমিয়ে যায় তা সে নিজেও জানে না। হঠাৎ কিছুটা ঝাকিতে রাফির ঘুম ভেংগে গেলো। সকাল হয়ে গেছে মেঘের উপর। কিছুক্ষণের ভেতর হয়তো বিমানটি ল্যান্ড করবে তাই সিগন্যাল দিচ্ছে সিটবেল্ট বেধে নিতে এবং ফোন সুইচ অফ করতে। রাফি ফোন বন্ধ করে আর কিছুটা আড়মোড়া দিয়ে ল্যান্ডিং এর প্রস্তুতি নেয়।
বেশ ঝাক্কি খেতে হলো কার্গোপ্লেনটি ল্যান্ড হতে। রাফি শক্ত হয়ে বসে রইলো তার সীটে, মনে হচ্ছিলো এটাই শেষ যাত্রা। অবশেষে কার্গো প্লেনটি থামলো।
মাফিয়া গার্ল বলেছিলো এখান থেকে কেউ একজন রাফিকে নিয়ে যাবে গন্তব্যে কিন্তু কে নেবে কোথায় নেবে কিছুই জানে না রাফি। ফোন অন করে যথারিতী *6666# নাম্বার ফোন দেয় রাফি।
কিছুক্ষণের ভেতর ফোন দেয় মাফিয়া গার্ল।
– ল্যান্ড করেছো?
রাফি – এইমাত্র ল্যান্ড করলো। কে আমাকে নিতে আসবে, কোথায় যাচ্ছি?
– একটা সবুজ রং এর আর্মি জীপ। রানওয়ের আশেপাশে ওই গাড়িটা ছাড়া আর কোন গাড়ি থাকার কথা না।
রাফি আশে পাশে তাকিয়ে একটাই জীপ দেখতে পায়।
রাফি – হয়তো পেয়েছি। কিন্তু কি বলবো ড্রাইভারকে।
– বলো ” I am the package”
রাফি – I have the package?
– না না, I am the package.
রাফির কাছে উদ্ভট লাগলেও জীপের ড্রাইভারের কাছে গিয়ে মাফিয়া গার্লের শিখিয়ে দেয়া কোড বললো। ড্রাইভার কোন প্রতিউত্তর না দিয়ে গাড়িতে বসতে বললো।
রাফি ব্যাগদুটো নিয়ে গাড়ির পেছনে গিয়ে বসলো।
ড্রাইভার নিজ মনে গাড়ি চালাতে শুরু করে।
রাফি – কিন্তু আমরা যাচ্ছি কোথায়?
– যে অস্ত্র ব্যবসায়ীর বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলে তার কাছে।
রাফি – মানে! তার কাছে কেন!
– কেন কি! তার জিনিস তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে না! তার ব্যাগ হার্ডড্রাইভ সব ফেরত দিতে হবে তো!
রাফি – সে যদি জানে যে আমি তার বাংকারে ঢুকে পড়েছিলাম তাহলে তো আমাকে গুলি করে মারবে।
– অতটাও সহজ নয়। সে তার বাড়ির সিকিউরিটি স্ট্যাটাস দুনিয়াকে দেখানোর জন্য একটা ডিক্লিয়ারেশন দিয়েছিলো। ২৪ ঘন্টার ভেতর যদি কেউ তার বাংলোতে ঢুকে যে কোন কিছু চুরি করে আনতে পারে তাহলে তিনি চোরকে যে কোন কিছু দিতে তৈরি।
রাফি – ওই বাংলোতে কেউ ঢোকার সাহসই বা কেউ করবে কেন? জান গেলে কি আর জান ফেরত আসবে?
– তুমি তো ঠিকই ঢুকেছিলে, তাও সবচেয়ে সিক্রেট বাংকারে।
রাফি – আমি তো না জেনেই……… কিন্তু এই চুরির আয়োজনের উদ্দেশ্য কি?
– অস্ত্র ব্যবসায়ী পিকাচু কে বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে একটা ইন্টেলিজেন্ট সিকিউরিটি এসিস্টেন্ট হিসেবে। সে নিজেই পিকাচু কে চুরি করেছে এর ডেভলপার গ্রুপের কাছ থেকে আর ডেভলপারের সবাইকে মেরে ফেলেছে।
রাফি – তার মানে বিক্রির আগে পিকাচুর নৃষংশতার একটা ডেমো দেখাতে চেয়েছিলো সে!.
– একদম ঠিক।
রাফি – কিন্তু পিকাচু তো কাউকে মারে নি। কোন ডেমো ই শোঅফ হয় নি।
– মেরেছে। তুমি কার্গো প্লেনে ওঠার পর পিকাচুর সব পার্মিশন রেষ্ট্রিকশন খুলে দেই আমি। পিকাচু রেষ্ট্রিকশন ফ্রী হয়ে আর্মি বেসে যাওয়ার আগেই আর্মড ট্রাক কন্ট্রোল করা বন্ধ করে দেয়, ফলে সন্ত্রাসীরা আর্মড ট্রাক খুজে তোমাকে না পেয়ে আবার বাংলোতে ফিরে আসে। রেষ্ট্রিকশন ছাড়া পিকাচু কি করার ক্ষমতা রাখে তা তোমার আইডিয়াতেই আছে। একটা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকেও জ্যান্ত ছাড়ে নি পিকাচু।
রাফি – আমি কোন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দেখতে চাইছিলাম না। তারপরও এমনটা ঘটলো। আচ্ছা কেউই কি আসে নি চুরি করতে?
– সেটা বলা সম্ভব নয় কারন পিকাচু কাউকেই জিন্দা ছাড়ে নি।
রাফি – তাহলে আমি এখন ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে কি করবো?
– বন্ধুত্ব করতে যাবে এবং তোমার পুরস্কার আনতে যাবে। কিছুক্ষণের ভেতরেই তুমি একটা উপশহরে পৌছাবে, সেখানে গাড়ি বদল হবে এবং তোমাকে সিকিউর করে অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে।
রাফি – সিকিউর! মানে হাত পা চোখ বেধে!
– বলা যায়, অমনই কিছু একটা।
রাফি – কোথা থেকে এনে কোন বিপদে ফেলছো আমায় তুমি?
– চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। Good luck.
রাফি কথা বলা শেষ করে গাড়ির জানালার দিয়ে দেখতে থাকে। শহরটা খুবই সুন্দর , সাজানো গোছানো রঙিন শহর।
আধঘন্টা বা তার একটু বেশী সময় পর গাড়িটা একটা রাস্তার মোড়ে দাঁড়াল। ড্রাইভার ইশারা করে গাড়ি থেকে নামার জন্য। রাফি ব্যাগ গুলো নিয়ে নেমে পড়ে গাড়ি থেকে। চার রাস্তার মোড় অথচো একটা গাড়িও নেই। মানুষজনেরও বালাই এই একেবারেই।
রাফি দেখতে পায় দূর থেকে একটা গাড়ি আসছে। কাছাকাছি আসতেই রাফি বুঝতে পারে এটা একটা লিমুজিন। রাফির সামনে এসে দাঁড়ায় গাড়িটা। একজন হোমড়াচোমড়া লোক গাড়ি থেকে নেমে রাফিকে গাড়িতে উঠতে বলে। অন্য কোন উপায় না থাকায় রাফিকে গাড়িতে উঠতে হলো। গাড়ির ভেতর পুরাই আলাদা, বাঘের চামড়া দিয়ে বানানো সোফার কভার। মদের বোতল সহ আরো অনেক কিছু দিয়ে সাজানো পুরো লিমুজিনের ভেতরটা। গাড়িটা তখনও দাড়িয়ে। বাইরের লোকটা ভেতরে এসে বসে রাফিকে একটা ছোট্ট বোতল দেয়।
রাফি – (ইংরেজীতে) আমি এ্যালকোহল নেই না।
লোকটা – এটা এ্যালকোহল নয়। সিডেডিভ। তোমাকে বেহুস করে দেবে। গন্তব্যে পৌছানোর পর তোমার জ্ঞান ফেরানো হবে। এখন জলদি।
বলেই একটা পিস্তল বের করে রাফির বুক বরাবর ধরে।
লোকটির সোজাসাপটা জবাব আর পিস্তলের নল দেখে রাফির গলা আটকে আসে, কিন্তু আর কোন উপায় না থাকায় মাফিয়া গার্লকে একশো এক টা গালি দিতে দিতে রাফি বোতলে মুখ খুলে গালে চালান করে দেয় পুরো বোতলের সিডেডিভ।
কিছুক্ষণের ভেতর চোখগুলো ভারী হয়ে আসতে থাকে রাফির। হাত পা অসাড় হয়ে যায়, ধীরে ধীরে জ্ঞান হারায় রাফি।
লিমুজিনটা চলতে থাকে রাফির পরবর্তি গন্তব্যের দিকে।
বিঃদ্রঃ
লেখার মান এবং পাঠকদের প্রত্যাশা ঠিক রাখার জন্যই মাঝে মাঝে ব্রেক নেই। সাথেই থাকুন, ইনশাআল্লাহ নিরাশ হতে দেবো না।
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৭
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৭
কিছুক্ষনের ভেতর পিকাচু তার সেন্সরে বড়সড় মুভভমেন্ট আইডেন্টিফাই করলো।
পিকাচু – They are moving. Marking the red zone. Prepare to fire.
রাফি – Okay Dark world, you want me? Then Come and get me.
সন্ত্রাসীরা রাতে দেখতে পাওয়া যায় এমন চশমা পড়ে অন্ধকারের ভেতর নিজেদের পজিশন নিয়ে নিয়েছে আক্রমনের জন্য। মাফিয়া গার্ল নেটওয়ার্ক জ্যাম করে দেয়ার কারনে কেউ কারো সাথে কমিউনিকেশন করতে পারছে না, তাই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ত্রাসীরা সামনে এগোতে থাকলো।
পিকাচু – most of them are in my red zone. I can kill them now. Waiting for your command.
রাফি – পিকাচু, standby. মাফিয়া গার্ল, তোমাকে একটা কাজ করতে হবে।
– আমাকে? কি কাজ?
রাফি – আর্মড ট্রাকগুলো রেডি করো। সময় হয়েছে ওগুলোকে কাজে লাগাবার। ড্রোনগুলোকে যেখান থেকে আনা হয়েছিলো সেখানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করো।
– এখন! এই অবস্থায়?
রাফি – হ্যাঁ এখনই, এই অবস্থায়ই।
– রাফি? ঠিক কি করতে চাইছো তুমি? এখন এসব করার সময় নয়, শত্রুরা ঘিরে নিয়েছে পুরো বাড়িটা। আর্মড ট্রাকের প্লানটা হীতে বিপরীত হয়েছে।
রাফি – ধন্যবাদ তোমাকে যে এমন একটা আইডিয়া এসেছিলো তোমার মাথায়। তখন হয়তো সফল হয় নি। তবে এবার হবে। পিকাচু, বাউন্ডারিতে মেইন গেট বাদে আর কয়টি প্রবেশদ্বার রয়েছে?
পিকাচু – পকেট গেট একটি, ব্যাকডোর দুইটি।
রাফি – পিকাচু, এনালাইসিস করো সন্ত্রাসীরা কিভাবে ভেতরে প্রবেশ করার প্লান করছে।
পিকাচু – Feeding satellite images, analyzing motion sensors activity. ৮১% চান্স রয়েছে সন্ত্রাসীর কোন ব্রেক এন্ট্রি করবে না। তারা জানে আনঅথরাইজড এন্ট্রি করলে পরিনাম কি হতে পারে।
রাফি – মাফিয়া গার্ল? আর্মার্ড ট্রাক তিনটিকে তিনটি দরজা বরাবর নিয়ে দাঁড় করাও। পিকাচু, মেইন গেট এবং ব্যাকডোর খোলার প্রস্তুতি নাও, wait for my signal.
পিকাচু – Main gate control standby, weapons system standby.
মাফিয়া গার্ল ট্রাকগুলোকে তিনটি দরজার সামনে দাড় করালো।
– তোমার এই সন্ত্রাসীদের গুলি করে মারার কোন প্লান নেই, ঠিক বলছি?
রাফি – আছে আবার নেইই আর থাকলেও এখানে এই পরিস্থিতিতা নয়। পিকাচু, তুমি কি এই ড্রোন কন্ট্রোল করতে পারবে?
পিকাচু – Affirmative but I don’t have permission to engage.
রাফি – মাফিয়া গার্ল? এই পার্মিশন তো দেয়া যায়, না কি?
– ঠিক কি বোঝাতে চাইছো আমি কিছুই বুঝছি না। পিকাচুকে কেন ড্রোন কন্ট্রোল করতে হবে? ট্রাকগুলোর অটোপাইলট মোড রয়েছে। তারা নিজেরাই জিপিএস লোকেশন পর্যন্ত পৌছাতে পারবে।
রাফি – পৌছাতে পারতো যদি না এটা হাইস্পিড চেসিং না হতো, ড্রোনগুলোকে আমি সন্ত্রাসীদের সামনে দিয়ে বের করে নিয়ে যাবো এগ্রেসিভ ভাবে। অটোপাইলট কখনই এগ্রেসিভ ড্রাইভিং সাপোর্ট করে না। আশা করি সন্ত্রাসীরা এই টোপ গিলে নেবে। ভাববে ট্রাকগুলোর যে কোন একটাতে আমি রয়েছি, তাই আশা করা যায় তারা ট্রাকগুলোর পিছু নেবে। মাফিয়া গার্ল? তুমি কি এখনো সন্ত্রাসীদের চ্যানেল জ্যাম করে রেখেছো?
– হ্যাঁ। এখনো জ্যাম করাই আছে। আমি পিকাচু কে ড্রোন কন্ট্রোলের পার্মিশন দিয়ে দিয়েছি। এখন পিকাচু ড্রোন চালাতে পারবে ।
রাফি – পিকাচু? Take over those drones, have some aggressive exhaust.
পিকাচু – পিকা পিকাআআআ। Taking over the control system. Safety protocol override. System is 100% go.
পিকাচু ট্রাকগুলোর ইন্জিন অন করে সবগুলো গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে দিলো এবং ইন্জিন দিয়ে ভয়ংকর আওয়াজ করতে লাগলো। ২ হাজার হর্সপাওয়ারের V16 ইন্জিনের সাথে সুপারচার্জার এক হয়ে এক ভয়ংকর দানব এই আর্মড ট্রাকগুলো। ১৬ চাকার এই দানবগুলো দেখলে যে কেউ ভয় পাবে, একপ্রকার ট্যাংক ই বলা যায়। আর এমন ট্রাকের কন্ট্রোল যদি পিকাচুর মত স্কিলড ড্রাইভারের হাতে পড়ে তাহলে তো কথাই নেই।
পিকাচু – ভ্রুম ভ্রুউউউউউম। গাড়ির ইন্জিনের আওয়াজ এবং হেডলাইটের আলো সন্ত্রাসীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
রাফি – Ready to have some fun Pikachu?
পিকাচু – পিকা পিকা।
রাফি – ওকে পিকাচু, গেট খুলে গাড়িগুলো বের করো, ১……..২……..৩.Go।
পিকাচু – ( এগ্রেসিভ) পিকা পিকা পিকাআআআআ।
পিকাচু মেইইন গেট এবং ব্যাকডোরগুলো খুলে দিলো এবং খুবই এগ্রেসিভ ও রেকলেসভাবে গাড়িগুলোকে চালিয়ে বের হয়ে গেলো। সন্ত্রাসীরা হতভম্ব হয়ে গেল কিন্তু কারো সাথে কারো যোগাযোগ না থাকায় যে যার মত করে গাড়ি তিনটিকে ফলো করতে শুরু করলো। তিনটি গাড়ি শহরের তিন দিকে চলতে থাকলো। আর গাড়িগুলোর পেছনে মাইক্রো, মোটরসাইকেল, পিকআপ যার যা আছে তাই নিয়ে সন্ত্রাসীরা পিছু করতে লাগলো।
কিছুক্ষণ ধরে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলো রাফি। মনিটরে তিনটি গাড়ির ফ্রন্ট ক্যামেরা শো করছে, পিকাচু কখনো ৬০ আর কখনো ১০০ কিলো/ঘন্টা গতিতে ট্রাকগুলো চালাচ্ছে।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/
রাফি – পিকাচু, আর্মড ট্রাকগুলোর ওয়েপন সিস্টেম কি রিমোটলী কন্ট্রোল করা যাবে?
পিকাচু – ফ্লাশব্যাং এবং টিয়ার শেল ছাড়া অন্যসব অস্ত্র ম্যানুয়াল।
রাফি – আপাততঃ লাগছে না অন্য অস্ত্রগুলো। পিকাচু, প্রয়োজনে টিয়ার সেল এবং ফ্লাশব্যাং ব্যবহার করো। ওরা যেন কিছুতেই সন্দেহ করতে না পারে।
পিকাচু – পিকা পিকা।
রাফি – পিকাচু? স্ক্যান করো বাড়ির আসপাশ। কতজন আছে এখনো আশেপাশে।
পিকাচু তার সব সিকিউরিটি মেজার্স দিয়ে আসপাশ স্ক্যান করলো।
পিকাচু – মেইন গেটের সামনে ১২ জন রয়েছে যারা সন্ত্রাসীদের যানবাহনে উঠতে পারে নি, তাদেরকে রেখেই চলে গেছে বাদবাকি সবাই!
রাফি – বাদবাকি সবাই! বাহ।
পিকাচু – তাদের নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেশন না থাকায় একজনের পেছনে আর একজন করতে করতে সবাই আর্মড ট্রাকের পেছন পেছন বের হয়ে গিয়েছে।
রাফি – মানে পেছনের দুই গেটে এখন কেউ নেই?
পিকাচু – Negative.
রাফি – পিকাচু, আর্মড ট্রাকগুলোকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?
পিকাচু – আপাতত যারা ফলো করছে তাদেরকে বিশ্বাস করাচ্ছি যে ট্রাকে রাফি রয়েছে। তারপর আর্মি বেসে নিয়ে যাবো।
রাফি – মাফিয়া গার্ল? আর্মি বেসে অথরাইজড সিগন্যাল পাঠাও। যেন এই মেহমানদের ঠিকঠাক স্বাগতম জানানো হয়।
– you are taking the war to the real warriors. Cleaver move. অথোরাইজড সিগন্যাল পাঠানো হচ্ছে আর্মি বেসে, সম্ভাব্য আক্রমনের সতর্কীকরণ হিসেবে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা কি আর্মি বেস পর্যন্ত যাবে!
রাফি – যতদূর যাবে ততটুকুই যথেষ্ট। বাকীটা আর্মি বেসের সাইরেন ই করে দেবে। Now Lets get out of here. যদি কোনভাবে ওরা টের পায় যে আর্মড ট্রাকগুলো খালি তাহলে আবারও ফিরে আসবে।
পিকাচু – সন্ত্রাসীরা এখনো ট্রাকটির পেছনেই লেগে আছে। ইনেসপেক্টর G আর্মড ট্রাকে করে পালানোর বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং আর্মি বেসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।
রাফি বের হওয়ার জন্য তৈরী কিন্তু একটা জিনিস রাফিকে টেনে ধরে, পিকাচু। পিকাচুর মত একটা ইফিসিয়েন্ট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে এই বাংকারে বন্দি দেখতে মোটেই ভালো লাগছে না রাফির। কিন্তু চুরি জিনিসটা পচ্ছন্দ নয় রাফির।
রাফি – পিকাচু, I’ll miss you.
পিকাচু – (স্যাড) পিকা পিকা।
– পিকাচু ও তোমাকে মিস করবে। এখন বাংকারের শুরুতে যে রুমে তোমাকে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলাম, সেই রুমে যাও।
রাফির কপালে ভাঁজ পড়ে। এতোকিছুতে মাথা খাটানোর কারনে রাফি ভুলেই গিয়েছিলো এই বাংকারের একটি রুমে সে এখনো প্রবেশ করে নি।
রাফি রুমটির দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো।
– দরজা খোলো।
রাফি দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো। ভেতরে ঢুকে রাফি বুঝতে পারলো কেন মাফিয়া গার্ল রাফিকে এই রুমে আসতে বারন করেছিলো। সমস্ত রুম ভর্তি টাকা, কয়েকশো হাজার কোটি টাকা হবে। পুরো রুম জুড়েই টাকার পাহাড়। অন্যান্য রুমগুলো থেকে এই রুমটা আকারেও বড়।
রাফি – ওয়াও। এত্তো টাকা!
– পৃথিবীর স্বনামধন্য অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে এটা কিছুই না। তবে এই টাকার জন্য আমি তোমাকে এই রুমে আসতে বলি নি। রুমের পেছনে যাও।
রাফি রুমের শেষ মাথায় পৌছালো।
– একটা লকার দেখতে পাচ্ছো? লকারটি ওপেন করো। কম্বিনেশন ১২-৩৪-৫৬-৭৮, আবার বলছি ১২-৩৪-৫৬-৭৮.
রাফি লকারটা দেখতে পায়। মাঝারী সাইজের লকারটিকে কম্বিনেশন দিয়ে ওপেন করে রাফি, লকার খুলে আরো বেশী অবাক হয়। দুইটি তঁাক একটিতে একটা মাঝারী আকারের ব্যাগ, এবং অন্যটিতে একটি হার্ড ড্রাইভ।
– ব্যাগ এবং হার্ডড্রাইভটা নাও আর দ্রুত বের হও এখান থেকে। আমি তোমার জন্য রাইডের ব্যবস্থা করেছি।
রাফি চটজলদি হার্ডড্রাইভ এবং ব্যাগটা নিয়ে বাংকারের গেটে চলে আসলো। কাঁচের বাক্সটি দেখে রাফির বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। মনে পড়ে গেল সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভর্থনা। ঢোক গিলতে গিলতে,
রাফি – আবার কি কাঁচের বাক্সে ঢুকতে হবে!
– ঢুকতে ত হবে কিন্তু কোন গ্যাস স্প্রে হবে না। এখন চটজলদি বের হও।
রাফি চোখ বন্ধ করে দ্রুত গতিতে কাঁচের বাক্সে র ভেতর দিয়ে চলে আসলো। ততক্ষণে টাইটেনিয়ামের মোটা দরজা খুলে গেলো। রাফি কাঁচের দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে আর সামনে পায় সেই মাসল কার লিফট যেটাতে করে সে এই বাংকারে প্রবেশ করেছিলো।
– সময় নষ্ট করার সময় নেই রাফি, তুমি জানো তোমাকে কি করতে হবে So do it fast.
রাফি কথা না বাড়িয়ে গাড়িতে বসে ব্রেক চেপে ধরে। গাড়িটি একটু দ্রুতই রাফিকে টেনে উপরে নিয়ে আসে। উপরে এসে রাফি বুঝতে পারে পুরো বাড়িকে অন্ধকার করে রেখেছে মাফিয়া গার্ল এবং পিকাচু। মনিটরে Night vision আর infrared ক্যামেরার কারনে বাড়ির আঙ্গিনা দিনের আলোর মত চকচক করছিলো।
– অন্ধকারের জন্য দুঃখিত, কিন্তু আলো জ্বালালে অবশিষ্ট সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভেতর চলে আসতে পারে।
হঠাৎ করে একটা গাড়ির সিগন্যাল লাইট জ্বলতে নিভতে শুরু করলো। রাফি চমকে ওঠে কিন্তু কোন আওয়াজ ছাড়া শুধুমাত্র সিগন্যাল লাইট জ্বলে ওঠায় রাফি কিছুটা স্বস্তি পায়।
– সিগন্যাল জ্বলা গাড়িটার কাছে যাও। দরজা খোলাই আছে, চুপচাপ ভেতরে গিয়ে বসো।
রাফি যতটা সম্ভব অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতে গাড়িটা পর্যন্ত পৌছায়। দরজা খুলে ভেতরে বসে।
রাফি – এখন কি?
– সিটবেল্ট বাধো আর অপেক্ষা করো।
রাফি সিটবেল্ট বাঁধতে বাঁধতে খেয়াল করে গ্যারেজের শাটার খুবই সন্তর্পণে খুলছে।
গাড়ির ইন্জিনটা অটোমেটিক স্টার্ট হয়ে গেল। এতক্ষণে রাফি বুঝতে পারলো এটি একটি ইলেকট্রিক গাড়ি, কোন তেল পোড়ানো গাড়ী এতটা নিঃশব্দে চালু হতে পারে না।
– আমি তোমাকে ব্যাকডোর পর্যন্ত পৌছে দিচ্ছি কোনরকম হেডলাইট ছাড়া। ব্যাকডোর থেকে বের হয়ে জিপিএস লোকেশন পর্যন্ত পৌছাও।
রাফি গাড়ির ভেতর ছোট্ট জিপিএস মনিটরে ডেষ্টিনেশন দেখতে পায় সাথে মডিফাইড রুট।
রাফি – আমি ত অনেক কম পথ ব্যবহার করে এই লোকেশনে পৌছাতে পারি। এতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেতে হবে কেন?
– পিকাচু কে তো ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্স দিয়ে দিয়েছো, সে ই তোমার জন্য এই রুট বানিয়ে দিয়েছে যেটা তোমার ডেষ্টিনেশন পর্যন্ত পৌছানোর ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্স ব্লাইন্ড স্পট। এই রুট ফলো করলে তোমাকে একটি ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরাতেও দেখা যাবে না।
রাফি – বাহ, আমার হয়ে পিকাচুকে থ্যাংকস জানিয়ে দাও,
– পিকা পিকাআআ, পিকাচু তোমাকে ওয়েলকাম জানিয়েছে।
এইসব কথাবার্তা চলতে চলতে গাড়ি একটা ব্যাকডোরের সামনে চলে এলো। ব্যাকডোরটি খুলে গেল এবং গাড়িটিও সন্তর্পণে রাস্তায় নেমে এলো।
– আমি তোমাকে গলির মাথায় এনে ছেড়ে দিচ্ছি। এরপর তুমি জিপিএস এ দেখানো পথ ধরে চলে যাও ডেষ্টিনেশনে। I’ll be in touch.
রাফি গাড়ির স্টেয়ারিং এ হাত দেয়। গলির মাথায় চলে আসার পর গাড়ির হেডলাইট জ্বলে ওঠে।রাফি বুঝতে পারে এখান থেকেই তাকে তার মত সামনে এগোতে হবে। রাফি যথেষ্ট সাবধানে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালিয়ে ডেষ্টিনেশনের দিকে এগোতে লাগলো।
রাফি ডেষ্টিনেশনের কাছাকাছি পৌঁছায়। শুনশান নীরব রাস্তা। কতক্ষণ আগে যে শেষ গাড়িটা রাফিকে ক্রস করেছে সেটা রাফি মনে করতে পারে না। গাড়ির হেডলাইটের আলোয় রাফি দেখতে পায় সামনেই নিউক্লিয়ার টেষ্ট ফিল্ড এবং রেডিয়েশন জোন।
রাফি গাড়ি থামাতে থামাতে মাফিয়া গার্লের ফোন আসে।
– সাইনবোর্ডগুলো দিয়ে জনসাধারণকে এই এলাকা থেকে দূরে রাখা হয়। এটা একটি সিক্রেট মিলিটারি ফ্যাসিলিটি। শুধুমাত্র লেভেল ৫ ক্লিয়ারেন্সপ্রাপ্ত অফিসারগনই এই ফ্যাসিলিটিতে প্রবেশ করতে পারে। লকার থেকে আনা ব্যাগটার উপরের পকেটে একটা কার্ড পাবে। ওটা বের করে হাতের কাছে রাখো। রাফি ব্যাগ থেকে কার্ডটি বের করে হাতে নেয়।
কোন ছবি নেই, শুধু লোকাল ভাষায় কি যেন লেখা।
কিছুক্ষনের মধ্যেই রাফি একটা চেকপোস্ট দেখতে পায়, গ্যাসমাস্ক এবং রেডিয়েশন প্রোটেক্টিভ ড্রেস পরিহিত কয়েকজন সৈন্য। প্রত্যেকের হাতেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র রয়েছে।
– ওরা গাড়ি থামানোর সিগন্যাল দিলে ওদের কার্ডটি শো করবে। গাড়ির ড্যাশবোর্ডের নীচে গ্যাসমাস্ক আছে। Do not let them see your face.
রাফি ড্যাশবোর্ডের নীচে হাত দিয়ে গ্যাসমাস্ক খুজে পায়। গাড়ি তাদের কাছে আসার আগেই রাফি গ্যাসমাস্ক পড়ে নেয়।
সৈন্যরা সিগন্যাল দিয়ে দাড় করায় রাফি কে। রাফিকে গ্লাস নামিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করে।
– কার্ডটা দেখাও ওদের,
রাফি কার্ড শো করে। সৈনিকটি কার্ডটা নিয়ে মেশিনে পাঞ্চ করে এরপর কার্ডটা রাফির হাতে দিয়ে সবাই একসাথে সেলুট করে রাফিকে। আর সামনের গেট খুলে দেয় ভেতরে যাওয়ার জন্য।
রাফি স্যালুটের জবাব দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। মোটামুটি গতিতে গাড়ি চালাতে চালাতে,
রাফি – কার্ড পাঞ্চের পর গেটের সবাই আমাকে স্যালুট দিলো কেন!
– কার্ডটি ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীর যে এই ফ্যাসিলিটিতে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। স্পেশাল পাশ ছিলো কার্ডটিতে তাই সবাই স্যালুট জানিয়েছে।
রাফি – এখানে আমার কাজটা কি? আমি এখানেই বা কেন!
– ১৫ মিনিটের ভেতর একটা কার্গো প্লেন এই ফ্যাসিলিটি ছেড়ে যাবে, কার্ডটি শো করলে ওরা তোমাকে বিমানে তুলে নেবে।
রাফি – পাসপোর্ট লাগবে না? কোথায় যাবে এই বিমান, আমাকে আবার কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?
– এখন পর্যন্ত যখন বেঁচে আছো তখন বিমানে তুলে তোমাকে মারার কোন প্লান নেই আমার। দ্রুত কার্গো প্লেনের কাছে পৌছাও।
রাফি গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। ৮ মিনিটের মাথায় রাফি ফ্যাসিলিটির বিল্ডিং দেখতে পায়। আরো দুইটি চেকপোস্ট পার করে রাফি গাড়িসহ পৌছে যায় রানওয়েতে।
– দ্রুত গাড়ি থেকে বের হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে কার্ডটি দেখাও। সময় নেই একদমই।
রাফি দ্রুত গাড়ি থেকে বের হয়ে কার্গোহোল্ডের কাছে অফিসারের কাছে গিয়ে কার্ড শো করে।
অফিসার কার্ডটি দেখে আংগুল তুলে একজন অফিসারকে দেখিয়ে দেয়। রাফি সেই অফিসারের কাছে গিয়ে কার্ডটি দেখালে তিনি রাফিকে কার্গোপ্লেনের শিড়ি দেখিয়ে দেন বিমানে ওঠার জন্য। রাফি কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়ে বিমানে। একটা সিটে বসে নিজের সিটবেল্ট টা বেঁধে নিয়ে বসে থাকে।
– এখন চুপচাপ বসে থাকো। কার্গো প্লেনে ৪ ঘন্টার পথ। নামার আগেই আমি যোগাযোগ করে নেবো।
রাফি – কিন্তু যাচ্ছি কোথায়? আমার বাড়ি ফিরতে হবে। বাড়িতে সবাই টেনশন করছে। তাছাড়া আমাকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা যদি আমার পরিবারের ক্ষতি করতে চায়? না, না, আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে।
– তোমার বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা ই করা হচ্ছে। বাংকারে থাকা অবস্থায় অনেককিছুই ঘটে গেছে যা তোমার জানা নেই। আগে শান্ত হয়ে বসো। বিমান এখনই টেকঅফ করবে। ফোন এরোপ্লেন মোডে দেয়ার সময় হয়েছে।
রাফি – আরে কি হয়েছে সেটা তো বলে যাও? অনেক কিছু কি ঘটেছে? সবাই ঠিকঠাক আছে তো?
ততক্ষণে মাফিয়া গার্ল কল কেটে দিয়েছে। রাফি সাথে সাথে *6666# এ ডায়াল করতে যাবে এমন সময় একজন রাফির সামনে দাড়িয়ে লোকাল ভাষায় কি যেন বললো। রাফি মানুষটার অঙ্গভঙ্গি দেখে বুঝলো যে তিনি ফোন অফ করতে বলছেন।
বাধ্য হয়ে রাফিকে ফোন বন্ধ করতে হলো। কিছুক্ষণের ভেতর কার্গো বিমানটি দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করলো রানওয়ে বরাবর। রাফি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখছে আর আতংকে তার বুক ধুকপুক করছে, কি ঘটে যাওয়ার কথা বললো মাফিয়া গার্ল! কোন অশুভ কিছু নয় তো?
টিপস : কেউ কারো ফেসবুক, ইমেইল, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোন আইডি হ্যাক করলে নিন্মোক্ত ধারায় মামলা করে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। শাস্তিসহ ধারা:
#ডিজিটাল_নিরাপত্তা_আইন_২০১৮_এর_৩৪_ধারা_অনুযায়ী
(১) যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বিঃদ্রঃ গঠন মূলক মন্তব্য করবেন। দয়া করিয়া। অন্যথায় মন্তব্যের প্রয়োজন নেই। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৬
হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-৬
রাফি – আমার সারেন্ডার করা উচিৎ। সারেন্ডার করলে হয়তো আমি প্রমান করতে পারবো আমি নিরাপরাধ।
– oh really? Go to the server room, something is waiting for you.
একের পর এক চমক পেতে পেতে রাফি কেমন যেন অভস্থ হয়ে গেছে, চমকে না উঠলেও কিছুটা বিচলিত হলো রাফি।
– কি হলো? যাও!
রাফি – (চমকে উঠে) ওহ, হ্যাঁ যাচ্ছি।
বলে সার্ভার রুমের দিকে রওনা দিলো রাফি।
কম্পিউটার স্ক্রীনে একটা মেসেজ লাফাতে থাকে। একটা ফাইল। পুলিশের শুট অন সাইট অর্ডার।
রাফির কেমন যেন গা সওয়া হয়ে গেছে,
রাফি – দেখলেই গুলি করবে? যাহ, শেষ পর্যন্ত জীবনটা এভাবে শেষ হবে!
– এত তাড়াতাড়ি হাল ছাড়লে হবে মিষ্টার? মনকে এত ভেঙ্গে পড়তে দিতে হয় না। তুমি এখানে নিরাপদ থাকবে।
রাফি – মানে বাদবাকি জীবনটা আমার এই বাংকারে কাটাতে হবে! আমি এভাবে বাঁচতে চাই না।
– I will take you out of here. You’ll be free.
রাফি – আমি বাংকার থেকে জীবিত বের হতে পারলেও এই দেশ থেকে বের হতে পারবো না।
– we shall see about that. Now prepare for war.
রাফি – war! মানে যুদ্ধ! কি বলছো কি?
– তোমাকে এই বাংকারের ঠিকানা দেবার আগে ভেবেছিলাম তোমাকে যে কোনভাবেই হোক আমি ওই দেশ থেকে বের করে নিয়ে আসবো। কিন্তু গ্যাং এর লোকজন যখন হোটেলে আগুন লাগিয়ে দিলো তখন একটা জিনিস আমার কাছে পরিস্কার হয়ে গেছিলো, you can’t leave this country without a fight. They will destroy your plane if necessary. যার জন্য তোমার প্লেনের টিকিট কনফার্ম করেও তোমাকে বিমানবন্দরে না নিয়ে এখানে নিয়ে আসতে হয়েছে।
রাফি – আমার প্লেনের টিকিট! মানে আমার দেশে ফেরার টিকিট! মানে আমার বাড়ি যাওয়ার টিকিট!
– উত্তেজিত হয়ো না।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/
গতকাল রাত থেকেই এয়ারপোর্টে হাই এ্যালবার্টা জারী হয়েছে। তোমার আজ সকালে ফ্লাইট ছিলো আর তুমি কোনভাবেই নিরাপদে বিমানবন্দর পৌছাতে পারতে না।
রাফি – হ্যাঁ, স্বাধীন দেশে আমি বন্দি হয়ে আছি একটা বাংকারে। এটা কেমন কথা! আমি বের হবো এখান থেকে।
বলেই লিইভিং রুমে ঢুকে ব্যাগ নিয়ে বের হতে উদ্যত হলো।
– রাফি, আমি জানি তুমি এখন কনফিউজড হয়ে আছো। দেখো তুমি যদি এভাবে ওই গ্যাং এর সামনে দাড়াও তাহলে তোমার শরীরে অতখানি জায়গাও নেই যতগুলো গুলি তোমার শরীর ঝাঁঝরা করে দেবে। আর যদি তুমি এখানে থাকো তাহলে you have a fighting chance.
রাফি ব্যাগটা আবার খাটের উপর ছুড়ে মারলো। এভাবে ঝামেলায় জড়িয়ে যাওয়া সম্ভব তা হয়তো এর আগে রাফির জানা ছিলো না।
রাফি – (শান্ত গলায়) এরপর কি ?
– নিজেই দেখে নাও। এলাকের পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সিকিউর লাইন ট্যাপ করে সিস্টেমে ট্রান্সলেটর ইনস্টল করে দিয়েছি। হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জন্য যে কেস দায়ের হয়েছে তার মেইন ইনভেষ্টিগেটরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইনেসপেক্টর G কে। এই ইনেসপেক্টর G এক দিকে আইনের লোক তেমনি অন্যদিক দিয়ে এই লোকাল গ্যাং এর অন্যতম মদদ দাতা। আমি তার ল্যান্ডলাইন এবং ফোন ট্যাপ করে বাংকারের সার্ভারে কানেক্ট করে দিয়েছি। ইনেসপেক্টর G কখনো ধারনাও করতে পারবে না যে তাদের সিকিউর লাইন ও কেউ ট্যাপ করতে পারে। আসা করা যায় তুমি তোমার সব তথ্যই পেয়ে যাবে, পুলিশ এবং সন্ত্রাসী উভয়েরই।
রাফি – (রহস্য নিয়ে) তাহলে এখন আমি গুপ্তচর?
– হ্যাঁ। আপডেট থাকা ভালো। আর হ্যাঁ আমি কয়েক ঘন্টার জন্য অফলাইন হচ্ছি। সার্ভারটিতে পিকাচু নামের একটা প্রোগ্রাম আছে। আমার অবর্তমানে পিকাচু তোমাকে সাহায্য করবে। এটা একটি পরিক্ষামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা prototype Artificial intelligence. এটার ব্যবহার প্রচুর তবে আপাতত পিকাচু তোমাকে সিকিউরিটি সার্ভেইল্যান্স এবং ওয়েপনস কন্ট্রোল এর কাজে সাহায্য করবে।
রাফি কম্পিউটার ঘেঁটে পিকাচু নামের প্রোগ্রামটি পায়। পিকাচু রান করার কিছুক্ষণ পর স্ক্রীনে লোডিং শুরু হয় এবং বাংকারের সব আলো একসাথে বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার সব আলো জ্বলে ওঠে।
রাফি – কি হলো এটা!
– পিকাচু জেগে উঠছে এবং সিস্টেমের কন্ট্রোল নিয়ে নিচ্ছে। Ok, I have to go. Have fun.
মাফিয়া গার্ল ফোনটা কেটে দিলো। এদিকে সার্ভার স্ক্রীনে ৮০% লোডিং শো করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ১০০% লোডিং কমপ্লিট হয়ে গেলো।
পিকাচু – (কার্টুন ভয়েস) Hi, I am pikachu. How may I help?
রাফি – ( ডানে বায়ে তাকিয়ে) হ্যালো, পিকাচু। কি কি করতে পারবে তুমি?
পিকাচু – আমার পার্মিশন সেটিংসে শুধুমাত্র ওয়েপন সিস্টেম, সার্ভেইল্যান্স কন্ট্রোল এবং ডাটা ম্যানেজমেন্ট এসিস্টেন্স এক্টিভেট রয়েছে। কিন্তু আমি এর থেকে আরো অনেক কিছু পারি।
স্ক্রীনে শো করছে Activating weapon and surveillance control.
রাফি – পিকাচু? কি করছো তুমি?
পিকাচু – আমি সিকিউরিটি এবং সার্ভেইল্যান্সের কন্ট্রোল নিচ্ছি। Please go to the surveillance room. You can access everything from there.
রাফি সার্ভার রুম থেকে সার্ভেইল্যান্স রুমে চলে যায়। সার্ভেইল্যান্স রুমে। ততক্ষণে পিকাচু তার কাজ শুরু করে দিয়েছে। মোট ৮ টি স্ক্রীনের সবগুলোতেই কোন না কোন কাজ চলছে। একটিতে ইনেসপেক্টার G এর ফোনের এক্টিভিটিস দেখা যাচ্ছে। অন্য একটিতে রাডার এক্টিভিটিস দেখা যাচ্ছে। অন্য একটিকে ল্যান্ডমাইনের লোকেশন ও স্ট্যাটাস দেখা যাচ্ছে একটা বড় স্ক্রীন ছাড়া অন্যন্য স্ক্রীনগুলোতে বাড়ির আশে পাশে চলাচল করা প্রতিটা মানুষের ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং তাদের শরীরে অস্ত্র আছে কি না তাই স্ক্যান করছে।
পিকাচু – All systems are 100% ok. Weapons system is now on stealth mode. Security system is activate. Pikachu is on.
রাফি – weapon system কেন stealth মোডে রেখেছো। its not necessary right now.
পিকাচু – এ্যানালাইসিস বলছে যে কোন সময় এখানে এ্যাটাক হতে পারে, weapons system কে offline থেকে activate করতে মিনিমাম ১০ মিনিট লাগে। যেখানে স্টেল্থ মোড থেকে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় নেয় পিকাচু।
রাফি – এখানে এ্যাটাক হতে পারে বলতে!
পিকাচু – ইনেসপেক্টর G এর কল রেকর্ড অনুযায়ী সন্ত্রাসীরা তোমার ট্যাক্সি থেকে নামার স্থান পর্যন্ত পৌছে গেছে। পুলিশ যদি তোমাকে ধরে ফেলে বা মেরে ফেলে তাহলে সন্ত্রাসীদের পেমেন্ট আটকে দেয়া হবে এবং ইনেসপেক্টর G ও কোন উপরি ইনকাম করতে পারবে না। তাই প্রথম সুযোগটা সন্ত্রাসীরাই পাবে।
রাফি – সন্ত্রাসীরা এখানে চলে আসবে! কিভাবে?
পিকাচু – ইনটেল বলছে পুলিশের ট্রাফিক ক্যামেরায় তোমাকে দেখা গেছে এবং সেই ট্রেইল ধরেই সন্ত্রাসীদের লীড দিচ্ছেন ইনেসপেক্টর G।
রাফি – পিকাচু? তুমি কি পুলিশের সার্ভেইল্যান্স হ্যাক করতে পারবে?
পিকাচু – পারবো কিন্তু আমার পার্মিশন নেই।
রাফি – পিকাচু, তোমার পার্মিশন সেটিংস দেখাও আমাকে।
বড় স্ক্রীনে পার্মিশন সেটিংস আসে পিকাচু নামের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের। বেশ বড়সড় একটা লিষ্ট চলে আসে। রাফি পার্মিশন সেটিংস চেন্জ করতে গেলে স্ক্রীনে “আনঅথোরাইজড এক্সেস” শো করতে থাকে। সাথে সাথে মাফিয়া গার্লের ফোন চলে আসে।
– রাফি? কি করছো?
রাফি – পিকাচুর পার্মিশন সেটিংস চেন্জ করার চেষ্টা করছি।
– পিকাচুকে ফুল অথোরাইজেশন দিলে পিকাচু নিজেই পুলিশ ডেকে এনে তোমাকে ধরিয়ে দেবে। পিকাচু শুধুমাত্র তার মালিকের প্রপার্টি সিকিউর করছে এবং তোমাকে স্পেশাল গেষ্ট হিসেবে প্রোটেকশন দিচ্ছে। ফুল অথরাইজেশন পেলে তুমি এবং আর দশজন ইনট্রুডারের মধ্যে কোন পার্থক্য পাবে না পিকাচু। Remember, pikachu is loyal to his master, not yours.
রাফি – পিকাচুকে তো ডাটা এ্যানালাইসিস একসেস দেয়া রয়েছে, তাই না।
– হ্যাঁ, যেন সে ইনেসপেক্টর G এর এক্টিভিটিস এ্যানালাইসিস করতে পারে।
রাফি – তাহলে বাকি কাজটা আমিই শেরে ফেলছি।
বলে ফোনটা কেটে রাফি নিজেই বসে গেলো ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্স একসেস নিতে। অনেক ঘাটাঘাটি করে ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্সের ব্যাকডোর খুঁজে বের করে অথরাইজড একসেস নিয়ে নিলো রাফি। রাফি এখন এই ট্রাফিক জোনের সকল সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা ও ডেটা স্ট্রিম একসেস করতে পারবে।
রাফি – পিকাচু?
পিকাচু – At your service.
রাফি – ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্সের একসেস টেকওভার করো, এ্যানালাইসিস করে জানাও কোথায় কোথায় আমাকে দেখা গেছে বা কোন কোন ভিডিও ফুটেজে আমার ট্রেস আছে।
পিকাচু – পিকা পিকা।
রাফি – মানে!
পিকাচু – consider it done. Accessing all traffic data.
রাফি দেখতে থাকে কতটা ইফিশিয়েন্টলি পিকাচু গত ৪৮ ঘন্টার ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্স এ্যানালাইসিস করছে। প্রতিটা ভিডিও ১২৬x স্পিডে টেনে টেনে রাফির ফেসিয়াল ম্যাচিং এবং রাফির ট্রানসপোর্ট ক্যাবটির সবকিছু বের করছে। ১০ মিনিটের মাথায় পিকাচু তার এ্যানালাইসিস রিপোর্ট শো করে।
পিকাচু – বিমান থেকে ল্যান্ড করার পর থেকে এই বাড়ির সামনে আসার আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৮৪ টি ট্রাফিক ক্যামেরাতে তোমাকে এবং তোমার ব্যবহৃত ইয়োলো ক্যাবটি ধরা পড়েছে। এমনকি এই বাড়ির সামনের ট্রাফিক ক্যামেরাতেও তোমার ৯৮% ফেসিয়াল ম্যাচিং ধরা পড়েছে।
রাফি – can you delete those footage.
পিকাচু – I can but it’s too late. পুলিশ ডিপার্টমেন্ট 2 ঘন্টা আগে তোমার লাষ্ট সার্ভেইল্যান্স ভিডিও ডাউনলোড এবং কপি করে নিয়েছে। Now they know where you are.
রাফি – দুই ঘন্টা আগে আমার ট্রেস পেয়েছে অথচো এখনো কোন এক্টিভিটিস কেন নেই?
পিকাচু – তারা রাত হবার অপেক্ষায় আছে। ইনেসপেক্টর G সন্ত্রাসীদের আজ রাত সময় দিয়েছে। এবং সন্ত্রাসীরা আজ রাতের ভেতর তোমাকে শেষ করে দেবে বলে জানিয়েছে।
রাফি – তাহলে ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্স একসেস করো, সার্ভারে ‘০০০’ নামে একটা ফাইল রয়েছে, সেখানে থাকা সব ছবিগুলো স্ক্যান করে ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্সে তাদের লাষ্ট পজিশন লোকেট করো।
পিকাচু – পিকা পিকা।
রাফি এবার বুঝলো পিকাচু কি বুঝিয়েছে।
পিকাচু – Accessing file name ‘০০০’. Analyzing facial algorithm, searching 123 person in traffic area.
রাফি স্ক্রীনে ‘০০০’ ফাইলের সবার ছবি দেখতে পায়। পিকাচু সবাইকে সার্চিং এ্যালগোরিদমে ফেলে ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্সের লাইভ ফীডে সার্চ করতে থাকে।
পিকাচু – সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার ডাটা স্ট্রিম বলছে ১২৩ জনের ভেতর ৬৩ জন এখন এই এলাকার বাইরে রয়েছে যার ভেতর এয়ারপোর্টে ২০ জন, বাস স্ট্যান্ডে ১০ জন এবং শহরের অন্যান্য মেজর পয়েন্টে ৩৩ জন রয়েছে এবং ৬০ জন এখন এই এলাকায় রয়েছে।
রাফি – এই এলাকার কোথায় রয়েছে?
পিকাচু – Showing last surveillance footage.
পিকাচু বড় স্ক্রীনে ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্সে শো করে তিনটা মাইক্রোবাসে করে বেশ কিছু মানুষ নেমে একটা ঘরের ভেতর ঢুকে গেলো। চেহারাগুলো মার্ক করে আইডেন্টিফাই করে দেখাচ্ছে সব ছবিগুলো এবং কত পার্সেন্ট ম্যাচ তা ও করে দেখাচ্ছে।
রাফি – ওরা ওই ঘরের ভেতর কি করছে।
পিকাচু – আমার একটা ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে ওদের বাড়ি স্ক্যান করে দেখা সম্ভব। Activating Infrared Camera number 201.
পিকাচু ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে বিল্ডিং স্ক্যান করা শুরু করে। বড় স্ক্রীনে দেখা যায় বাড়িটার দোতলায় সবাই কিছু অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তৈরী হচ্ছে এবং ২ জন দূরবীন দিয়ে এই বাড়ির উপর নজর রাখছে।
রাফি – Can you take them out?
পিকাচু – সবাইকে সম্ভব নয়। রকেট লঞ্চার দিয়ে হয়তো সম্ভব তবে সাকসেস রেট ৬০%. বরং তারা যদি আমার রেন্জের ভেতর চলে আসে তাহলে ১০০% এ্যাকিউরেসি নিয়ে সবাইকে শেষ করা সম্ভব।
বলে বড় স্ক্রীনে নিজের ১০০% একিউরেসি রেন্জ শো করলো পিকাচু। রেড সার্কেল ১০০%, ইয়োলো সার্কেল >৯৯%।
রাফি – তাহলে আমাদেরকে অপেক্ষা করা উচিৎ! তাদেরকে আমাদের রেড সার্কেলে প্রবেশ করতে দিতে হবে । তাহলে তো তোমার পক্ষে তাদের শেষ করা সম্ভব! তাই না?
পিকাচু – Affirmative. কিন্তু তারা আমার সিকিউরিটি এবং ওয়েপন সিস্টেম সম্পর্কে ধারনা পেয়েছে ইনেসপেক্টর G এর কাছ থেকে। ইনেসপেক্টরের G এর ফোন রেকর্ড এবং মেইল কুকীজ থেকে এটা কনফার্ম যে তিনি এই বাসার ব্লুপ্রিন্ট সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তোমার জন্য একটা পজেটিভ নিউজ হলো ব্লুপ্রিন্ট অথবা অন্য কোথাও এই এন্টিনিউক্লিয়ার বাংকারের এবং বাউন্ডারিতে মোট ৫৪ টি M134 মিনিগান এর কথা উল্লেখ নেই। তাই এগুলো সন্ত্রাসীদের কাছে একটা সার্প্রাইজ হিসেবে কাজ করবে।
রাফি – dark is coming. Are we ready?
পিকাচু – পিকা পিকাআআআ।
সন্ধ্যা হতে আরো কিছুক্ষণ বাকী। রাফি লিভিংরুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলো। পিকাচুর ট্রাফিক সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরায় সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়লো। রাফিকে সিগন্যাল পাঠানোর জন্য লিভিং রুমের এ্যালার্ম অন করে দেয়।
রাফি দৌড়ে চলে আসে সার্ভেইল্যান্স রুমে। পিকাচুর সার্ভেইল্যান্সে কয়েকটি আর্মার্ড ট্রাক আসছে বাড়ির দিকে।
রাফি – কারা এরা?
পিকাচু – Running the surveillance destination.
রাফি দেখতে পায় পিকাচু গাড়িগুলোর উৎস বের করার চেষ্টা করছে। কোথা থেকে এই গাড়িগুলো আসলো তাই। পিকাচুর সার্ভেইল্যান্সে মেইন স্ক্রীনে শো করলো একটা মিলিটারী বেজ থেকে তিনটি আর্মড ট্রাক বের হয়েছে। কিছুক্ষণের ভেতর সার্ভেইল্যান্স মুুছে যেতে লাগলো।
রাফি – পিকাচু, কি হচ্ছে এগুলো?
পিকাচু – কেউ একজন সার্ভেইল্যান্স ভিডিও মুছে দিচ্ছে। তবে শুধুমাত্র ততটুকুই যতটুকুতে আর্মড ট্রাকগুলো ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে।
রাফি – মানে কেউ হয়তো চায় না এই ট্রাকগুলোর মুভভমেন্টের কোন রেকর্ড থাকুক।
পিকাচু – Affirmative. Should I element them? They are in my javelin missile range.
এমন সময় মাফিয়া গার্লের ফোন আসে।
– Do not attack on those trucks. I’m sending them.
পিকাচু ততক্ষণে ট্রাকগুলোতে টার্গেট লক করে রাফির অনুমতির অপেক্ষা করছে।
রাফি – পিকাচু, ওয়েট। Those are ours. Do not shoot.
স্ক্রীনে দেখা যায় পিকাচু ট্রাকগুলোকে গ্রীন মার্ক করে মিসাইইল লক ডিসএনগেজ করে।
– গাড়িগুলো তোমাদের বিল্ডিং কম্পাউন্ডে ঢুকবে।
রাফি – কিন্তু কি আছে ওই ট্রাকে?
– কিছুই না!
রাফি – কিছুই নেই মানে?
– মানে ট্রাকগুলো ফাঁকা। কিছুই নেই, এমনকি কোন ড্রাইভারও নেই।
রাফি – ড্রোন ট্রাক?
– হ্যাঁ।
রাফি – কিন্তু কি কাজ এই ড্রোনগুলোর?
– ট্রাকগুলোতে ২০ জন করে মোট ৬০ জন আর্মি সদস্য বহন করতে পারে। সন্ত্রাসীরা অলরেডি বাড়ির উপর নজরদারি রেখেছে। তারা যদি দেখে এমন তিনটি ট্রাক এই বিল্ডিং কম্পাউন্ডে প্রবেশ করছে তাহলে হয়তো তারা আক্রমণ করার সাহস করবে না।
রাফি – cleaver, art of war.
– ট্রাকগুলো কাছাকাছি চলে এসেছে। পিকাচুকে বলো মেইন গেট ওপেন করে গাড়িগুলোকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিতে।
রাফি – পিকাচু, open the main gate please.
পিকাচু – পিকা পিকা।
এতোটা প্রেশারের ভেতরেও পিকাচুর ভয়েসে পিকা পিকা শুনে রাফি হেসে দিলো।
মেইন গেট খুলে গেলে তিনটি ট্রাক খুব সুন্দরভাবে পার্কিং কম্পাউন্ডে দাড়িয়ে গেলো। আর এমনভাবে দাঁড়াল যেন বাইরে থেকে কেউ দেখতে না পারে গাড়ি থেকে কেউ নামছে কি না।
পিকাচু তার ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে দেখতে পারে সন্ত্রাসীরা কিছুটা বিচলিত হয়ে ইনেসপেক্টর G কে ফোন করে এবং আপডেট দেয়। ইনেসপেক্টর G কিছুটা চিন্তিত হয়ে বাদবাকি ৬৩ জনকেও অত্যাধুনিক অস্ত্র সহ অপারেশনে যোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়।
রাফি – They are bringing everyone with everything. মাফিয়া গার্ল, তাদের সিগন্যাল ব্লক করে দাও যেন সন্ত্রাসীরা অন্য কাউকে ডাকতে না পারে।
– অলরেডি ব্লক করে দেয়া হয়েছে। সবাই মিলে চেষ্টা করছে রিইনফোর্সমেন্টের জন্য।
এমন সময় পিকাচু শো করে সন্ত্রাসীদের মধ্যে একজন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তা ক্রস করছে।
রাফি – পিকাচু, কোথায় যাচ্ছে সে, ট্রাককরে পসিবল ডেষ্টিনেশন শো করো।
পিকাচু শো করে রাস্তার ওপারে পে ফোন রয়েছে আর সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৯%.
রাফি – মাফিয়া গার্ল, পে ফোনকে ডিসেবল করতে পারবে?
– এত অল্প সময়ের মধ্যে পসিবল না। তবে আমি অন্য ৬৩ জনের নাম্বার ব্লক করে রাখতে পারি যেন কোন কল না যেতে পারে।
সেই সন্ত্রাসী একটা নাম্বারে ডায়াল করে কিন্তু ওই ৬৩ জনের কারো নাম্বারেই কল যায় না।
– He is not calling any of them, he is calling someone else.
রাফি – what? কিভাবে জানলে!
– ৬৩ জনের নাম্বার ব্লক করলেও কেউ যদি এই নাম্বারে ফোন করে তো আমার এখানে শো করবে।
ততক্ষণে সন্ত্রাসীর ফোনে কথা বলা শেষ হয় এবং সে বিল্ডিং এ ফিরে যায়।
– I’m getting something. কেউ একজন এদের সবাইকে ফ্লাস মেসেজ পাঠিয়েছে নিজেস্ব নেটওয়ার্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। সবাইকে ওই বিল্ডিং এ মিট করতে বলা হয়েছে। And it’s more than 123 now.
রাফি – এই অনাকাংখিত যুদ্ধ এভয়েড করা গেলো না কোনভাবেই।
– এখন এটা শুধু লোকাল গ্যাং ই না। সেইসব জংঙ্গী সংগঠনের বিক্ষিপ্ত সদস্যরাও রয়েছে যাদের হর্তাকর্তারা রাফির কারনে আজ জেলের ঘানি টানছে। They knew that you are the one they are looking for.
রাফি – পিকাচু, তুমি তৈরী!
পিকাচু – পিকা পিকা।
রাত ৯ টার দিকে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সন্ত্রাসীরা। তাদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। যার মাধ্যমে পিকাচুর ইনফ্রারেড ক্যামেরা কাজ করবে না।
কিছুক্ষণের ভেতর পুরো এলাকার বিদ্যুৎ চলে গেলো।
– গ্রীড থেকে পাওয়ার কাট করা হয় নি। কেউ একজন লোকাল পাওয়ার কেটে দিয়েছে ।
রাফি – পিকাচু, পিকাচু?
পিকাচু – Activating alternative power source. আমার নিজেস্ব পাওয়ার সোর্স রয়েছে সো Don’t worry.
– পিকাচু অনেক ইফিসিয়েন্ট আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। সে তার পসিবল অপশনগুলো সবসময় স্ট্যান্ডবাই রাখে।
কিছুক্ষনের ভেতর পিকাচু তার সেন্সরে বড়সড় মুভভমেন্ট আইডেন্টিফাই করলো।
পিকাচু – They are moving. Marking the red zone. Prepare to fire.
রাফি – Okay Dark world, you want me? Then Come and get me.
(((টিপস : পাবলিক বা ওপেন ওয়াইফাই ব্যবহার থেকে সাবধান। পাবলিক ওয়াইফাই বা হটস্পট এ কানেক্ট হওয়ার আগে ২য় বার ভাবুন। ওপেন ওয়াইফাইতে কানেকশন দেয়ার সাথে সাথে কিছু পারমিশন ও দেয়া হয়ে যায়, যার মাধ্যমে যদি ওয়াইফাই এর মালিক অথবা কোন চতুর ব্যক্তি চায় সে আপনার সকল কুকিজ (যেমনঃ ব্রাউজিং হিস্ট্রি) এমন কি সেভ করা ফেসবুকের পাসওয়ার্ড, সেভ করা বিকাশ লগইন কোড সহ সেভ করা সকল ওয়েবসাইটের আইডি এবং পাসওয়ার্ড পেয়ে যেতে পারে। So be careful)))
বিঃদ্রঃ গঠন মূলক মন্তব্য (comment) করুন। n, nt, nxt, next, f, ন, ফ এগুলো করবেন না দয়া করিয়া, নাহলে শুধু লাইক দেন কিংবা না দেন। তাও ওগুলো মন্তব্য করবেন না। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।