Saturday, August 30, 2025
বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 2033



হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-৫

0

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-৫

(বিলম্বের জন্য দুঃখিত)

রাফি আন্দাজ করলো প্রায় ১০ তলা গভীরে নেমে এসেছে সে। অবশেষে গাড়িটার তলানো থামলো। রাফি গাড়ি থেকে নামলে একটা মোটাসোটা টাইটেনিয়ামের দরজা দেখতে পায়। সামনে আসতে আসতে আনলক হয়ে যায় দরজাটি। কম করে হলেও প্রায় ২০ ইঞ্চি পুরু দরজাটা অটোমেটিক খুলে যায় রাফির সামনে। লাইইটগুলো জ্বলে উঠতে থাকে আর রাফির বিস্ময়ের স্তর বাড়তেই থাকে।
ঢুকতেই একটা কাঁচের বাক্স। রাফি কাচেঁর বাক্সটির সামনে দাড়িয়ে থাকে। প্রায় ৭ ফিট হাইট, ৪ ফিট চওড়া চারকোণা একটা বক্স।
– বাংকারটি নিউক্লিয়ার কন্টামিনেশন ফ্রী জোন। যদি কোনভাবে তোমার শরীরে নিউক্লিয়ার রেডিয়েশন বা কন্টামিনেশন বা যে কোন ধরনের সংক্রামক থাকে তাহলে বাংকারটি আর নিরাপদ থাকবে না। তাই অস্ত্র ব্যবসায়ী কাঁচের রুমটি এখানে স্থাপন করেছে। দুই হাত উচুঁ করে রুমটাতে প্রবেশ করো, উপরের লাল আলো যতক্ষণ সবুজ না হচ্ছে ততক্ষণ কাচেঁর রুমের ভেতরে থাকতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, Do not breath in there.
রাফি – সিরিয়াসলি! কতক্ষণ ওই বাক্সে দম আটকে থাকতে হবে?
– বেশী না, ৩০-৪৫ সেকেন্ড। সর্বোচ্চ।
রাফি – মানতে পারছিনা কি কি হচ্ছে আমার সাথে আরো কি কি যে দেখতে হবে।
বিড়বিড় করে কথাগুলো বলতে বলতে বুক ভরে স্বাস নিয়ে কাচেঁর বক্সে ঢুকে গেলো রাফি। দরজা বন্ধ হয়ে গেলে চারিদিক থেকে গ্যাস এবং লিকুইড স্পে হতে লাগলো পুরো বক্সের ভেতর। নিশ্বাস না নিলেও রাফি আন্দাজ করতে পারছে যে গ্যাসটা রেডিয়েশন এবং নিশ্বাস দুটোর জন্যই ক্ষতিকর। চোখ বন্ধ করে দম আটকে ঠায় দাড়িয়ে রইলো রাফি। গ্যাসটা মেঝেতে শুষে নিলো এবং একটি মিশ্র হাওয়া স্প্রে তে রাফির অর্ধভেজা শরীরকে শুকিয়ে দিলো। পুরা প্রসেস শেষ হয়ে গেলে বক্সের উপরের লাল বাতিটা সবুজ হয়ে গেল আর সামনের দরজাও খুলে গেল। রাফি কাচেঁর রুমে দম আটকে থাকায় সেখান থেকে একপ্রকার লাফ দিয়ে বের হয়ে বুক ভরে নিশ্বাস নিলো।
কিন্তু এ কি! নিশ্বাস নিতে রাফির যথেষ্ট অস্বস্তি হচ্ছে। নিশ্বাস নিলেও কেমন যেন দম আটকে আসতে লাগলো।
রাফি – ( দম আটকা আটকা ভাব) I can’t breath, I can’t breath.
– This bunker is 11 level below and the air you are breathing is not natural. Your body has taken this type of air for the first time. Don’t fight with it, your body will adjust. I am opening the ventilation system for real air.
রাফি – (হামাগুড়ি দিয়ে) I will be dead by then.
– just hold on. You will be fine.
রাফির কানে ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকতে শুরু করেছে আর চোখের সামনে সব সাদা হয়ে যাচ্ছে।
– রাফি, stay with me, রাফি?
রাফি মেঝেতে শুয়ে পড়ে, শরীর কুঁকড়ে যেতে থাকে।
রাফি – জ্ঞান হারাচ্ছি না তো?
রাফি বেশ জোরেই কথাটি বলেছিলো কিন্তু গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হলো না। রাফি নিজেকে শক্ত করলো। মনে মনে বলতে থাকলো “আল্লাহ, জ্ঞান হারানো যাবে না, জ্ঞান হারানো যাবে না”
প্রায় ৫-৬ মিনিট ধরে এই আর্টিফিশিয়াল বাতাস শরীরে নেয়ার পর রাফির শ্বাসকষ্ট কমে যেতে লাগলো এবং আগের মতো কানের ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজও কমে যেতে লাগলো।
– রাফি? রাফি? Are you okay?
রাফি – better now. তবে মাথা ধরে গেছে।
– কিছুসময় পর সবকিছুই শরীর এডযাষ্ট করে নেবে। কিছুক্ষণ যেভাবে আছো ওভাবেই থাকো।
কুঁকড়ানো অবস্থায় পড়ে রইলো কিছুক্ষনের জন্য। তারপর উঠে বসে হামাগুড়ি দিয়ে উঠে দাঁড়ালো রাফি। নিজের পূর্ন অবস্থা ফিরে আসাতে আবারও চারিদিক চোখ বোলানো শুরু করে রাফি।
গ্লাসবক্স তো কেবল বিস্ময়ের শুরু ছিলো, পুরো বিস্ময়ের দোকান তো সামনে খোলা।ভেতরে লম্বা করিডোর আর তার দুইদিকে বেশ কয়েকটা দরজা। সাদা রং এর দেয়ালে কালো দরজাগুলো চোখ ধাঁধিয়ে নিয়ে আসে।
– তোমার বাম হাতের দরজা খোল।
রাফি দরজা খুলে দেখতে পায় বেশ কিছু মনিটর এবং সার্ভার সহ একটা টেক রুম।
– এটা সিকিউরিটি এবং সারভিলেন্স রুম। এখান থেকে পুরো বাড়ি এবং বাড়ির এরিয়ার বাইরের ও সিকিউরিটি সারভিলেন্স এনশিওর করা সম্ভব। Turn on the system from sleep.
রাফি পাওয়ার অন করে সিস্টেমটির। সিস্টেম এক্টিভেট হলে সামনে রাখা চেয়ারে বসে কিবোর্ডে হাত চালায় রাফি। উদ্দেশ্য সিকিউরিটি মেজার্সগুলো যাচাই করে দেখা। রাফির চোখ বড় হতে হতে ছানাবড়া হয়ে যায় এডভান্স সিকিউরিটি মেজার্সগুলো দেখে। শুধু যে সিসিটিভি, মোশান সেন্সর আর ইনফ্রারেড দিয়েই ঘেরা এই পুরো এলাকা তা নয়। এটা ছোটখাটো একটা মিলিটারি গ্রেড ফ্যাসিলিটি। অতি উচ্চমানের সিকিউরিটি এনশিওর করার জন্য পুরো কম্পাউন্ড রিমোটলি এক্টিভেটেড ল্যান্ডমাইন দিয়ে ভর্তি। এছাড়াও বাড়ির ছাদে রাডার, ল্যান্ড টু এয়ার জ্যাভলিন এবং হীট সিকার মিসাইল, বিল্ডিংয়ের চারদিক ও প্রাচীরের একটি পিলার অন্তর মোশান সেন্সরড M134 মিনিগান, ভারী যান কিংবা অন্যকিছুকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে ৩৬০° রকেট লঞ্চার সহ পুরো বাড়িতে ৫ স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এতসব মারনাস্ত্র সজ্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে রাফির গলা শুকিয়ে আসে যদিও সে যতটা সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছিলো।
রাফি – মাফিয়া গার্ল? You can control all of this, right?
– with 95% accuracy, yes. I can control all of them but you can use them with 100% accuracy. Wanna try?
চেয়ার থেকে এক লাফে উঠে দাড়ায় রাফি, দুই হাত কিবোর্ড থেকে সরিয়ে মাথার উপর তুলে ধরে,
রাফি – Are you mad? To whom? I’m not gonna use them.
– you have to if it’s necessary. Activate the sensors and link with the weapon system.
রাফি – তাহলে তো অনাকাঙ্ক্ষিত যে কারো জীবন হুমকির মুখে পড়বে। ভুল করেও তো কেউ এরিয়ার ভেতর চলে আসতে পারে নাকি?
– then what you suggest?
রাফি – এ্যালার্মই ইনাফ, যদি সেটা থ্রেট হয় তাহলে আসবে অস্ত্রের ব্যবহার।
– do you wanna see what Alarm looks like!
হঠাৎ ঘরের আলো নিভে গেলো আর এম্বুলেন্সের সাইরেন লাইটের মত লাল আলো বী‌প করতে থাকলো। দেখতেই ভুতুড়ে অবস্থা।
রাফি – Are you doing this? Please stop it.
এ্যালার্ম সিগন্যাল বন্ধ হয়ে সব নর্মাল হয়ে গেলো।
– I was! Just Showing you those cool stuffs.
রাফি সিকিউরিটি মেজার্স এক্টিভেট করে দিলো। রুম থেকে বের হতেই সামনে একটা দরজা। রাফি দরজাটি খুলতে যাবে তখন,
– Not now, we shall open this door another time.
রাফির কৌতুহল বেড়ে যায় আবার এন্টিনিউক্লিয়ার বাংকার বলে কথা, আগ বাড়িয়ে কিছু করতে না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
করিডোর বেয়ে সামনে এগোয় রাফি। সামনের একটি দরজা খোলে রাফি, বেশ বড়সড় একটা লিভিং রুম। মোটামুটি আর দশটা হাইক্লাস বেডরুমের মতনই শুধু বড়বড় জানালা নেই। রুমটা থেকে বেরিয়ে পাশের রুমে যায়। ডাইনিং রুম + ফুড স্টোরেজ। অসংখ্য সেলফ আর তাতে ছোট মাঝারী টিনের কৌটা রাখা যা ক্যানড ফুড বলে পরিচিত।
– ৪ জন মানুষের জন্য ৭ বছরের খাবার মজুদ রয়েছে এখানে।
রাফি রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে যায়, অস্ত্রের ব্যবসায়ী হিসাবে যথার্থ মর্যাদা সে রেখেছে। রুমের পুরোটা জুড়ে অস্ত্র সাজিয়ে রাখা যার মধ্যে কিছু প্রোটোটাইপ অস্ত্র ও আছে। এছাড়াও স্টান্ডার্ড মানের ড্রয়িং + বার রুম, এবং একটা সার্ভার রুম ও আছে বাংকারে।
রাফি – তুমি এতো জায়গা থাকতে আমাকে এখানে নিয়ে এলে কেন?
– তোমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
রাফি – (কৌতূহলী) আর দশটা মানুষের মত সিকিউরিটি এটা না। আমার এমন সিকিউরিটির প্রয়োজন ছিলো না।
– ছিলো।
রাফি – মানে!
– ড্রয়িং রুমে গিয়ে টিভিটা অন করো।
রাফির মনে সন্দেহ জাগে, এমন কি হলো যার জন্য মাফিয়া গার্ল এমন কথা বলছে। রাফি ড্রয়িং রুমে গিয়ে টিভি অন করলো। হয়তো এটাই দেখার বাকী ছিলো। ব্রেকিং নিউজ চলছে সব চ্যানেলে। ভাষা দূর্বোধ্য হলেও ভিডিওতে দেখানো বাড়িটা পরিচিত রাফির। মাফিয়া গার্ল অনুবাদ করে দেয়,
– রাফি, তুমি যে ৪ তারা হোটেলে অবস্থান করছিলে সেখানের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২২ জন প্রান হারিয়েছে। ৬য় তলায় আগুন লাগে, আর সেই আগুন উপরের বাদবাকি ফ্লোরেও ছড়িয়ে পড়ে। অজ্ঞাত কারনে ৭ম তলার ফায়ার এক্সিট, লিফট এবং শিড়িতে বাধা থাকায় ৭ম তলা থেকে উপরের সব তলার অবস্থানরত অতিথিদের কেউই নীচে নামতে পারে নি ফলে সবাই জ্যান্ত পুড়ে মারা যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারনা এটি শর্ট সার্কিটের আগুন কিন্তু আমার মনে হয় না তুমি সেই ধারনার সাথে একমত।
রাফি কখনো ভাবতেও পারে নি যে তার জন্য এতগুলো মানুষকে জান খোয়াতে হবে।
রাফি – আমাকে মারতে ওরা একটা হোটেলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে এতগুলো মানুষের জীবন নিয়ে নেবে?
– I told you earlier, real life is much more dangerous than cyber world. They are hunting you. The won’t stop, the never stop.
রাফি – এখানে তো সারাজীবন আটকা থাকতে পারবো না, তাই না?
– সারাজীবনের চিন্তা পরে আগে এইমুহূর্তের চিন্তা করো। পুলিশ ইনভেস্টিগেশন শুরু করেছে এবং আমার মনে হয় না যে সেটা তোমার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে।
রাফি – মানে!
– ৬য় ফ্লোরে একজন হোটেল বয়কে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পুলিশ ধারনা করছে সে হয়তো কিছু জানতে পারে। রাফি? রুম থেকে বের হওয়ার পর থেকে কি কি হয়েছে সবকিছু ইন ডিটেলস বলো আমাকে।
রাফি প্রথম থেকে সবকিছু বলতে শুরু করলো মাফিয়া গার্লকে। নীরবে পুরো ঘটনা শুনে মাফিয়া গার্ল বলতে শুরু করলো,
– তার মানে হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরা তোমাকে ধরে ফেলেছে, এমন ও হতে পারে যে তুমি যখন হোটেল বয়কে আক্রমন করেছো তখন সেই ঘটনাও সিসিটিভি ফুটেজে চলে আসতে পারে। এছাড়াও তুমি ফ্লোর ম্যানেজারের সামনে দিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে এসেছো। পুলিশ তোমাকে প্রাইম সাসপেক্ট হিসেবে আইডেন্টিফাই করতে পারে আর যদি তাই হয় তাহলে শুধু লোকাল গ্যাং নয়, দেশের পুলিশও তোমার পিছনে পড়বে।
রাফি – oh shit shit shit shit. This whole things is your idea, YOUR….. first the mercenary, second the local gang, and now the police! !!!!! I’ll be dead because of you.
– you are alive because of me, you should be thankful.
বলে ফোনটা রেখে দেয় মাফিয়া গার্ল। রাফি রাগে ফুসতে থাকে, তবে একটা জিনিস ঠিক আছে, মাফিয়া গার্ল ওয়ার্নিং দিয়েছিলো বলেই পুড়ে মরতে হয়নি রাফিকে। মাফিয়া গার্লের জন্যই আজ রাফি বেঁচে আছে। নাহ, এতটা রুডভাবে কথা বলা ঠিক হয় নি।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/


নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হলো।
নাহ এভাবে বসে থাকা চলবে না, কোন একটা রাস্তা তো বের করতেই হবে। অন্যদিকে রাত ও অনেক হয়েছে। *6666# এ ডায়াল করে রাফি।
একটা মেসেজ আসে রাফির ফোন এ,
“Go to sleep. You are safe in there. We shall talk in the morning. Good night”
মেসেজটা পড়ে রাফির কিছুটা হতাশ লাগলো। এই অবস্থায় মানুষ ঘুমায় কিভাবে! তখনই আরো একটা মেসেজ আসে, মাফিয়া গার্ল।
“If you have sleeping problem, go to the server room, run the file name ‘ooo’. You will find some name, photos and other details. Study them, you have to face them if you want to leave this country alive. You can have more information if you want, this server is 3x more powerful than your NSAs server. Good luck and good night.”
রাফি এবার কিছুটা জোস পেলো। অবশেষে তার পিছু নেয়া শত্রুগুলোর ডিটেলস জানতে পারবে সে। ড্রয়িং থেকে এক প্রকার দৌড়ে সার্ভার রুমে চলে গেলো রাফি। সেখান থেকে ooo ফাইলটা খুজে বের করে রান করলো সে।
বাহ, সিষ্টেম যথেষ্ট স্মুথ। ফাইলটিতে বেশ কয়েকজন মানুষের ডিটেলস দেয়া রয়েছে। রাফি এদের কাউকে না চিনলেও এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা সংস্থার মোষ্ট ওয়ান্টেড লিষ্টে আছে। আর যাদেরকে লোকাল গ্যাং বলে বলে এতক্ষণ অনিহা করেছিলো রাফি তারা মোটেই অতোটা ফেলনা ছিলো না। এই দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাংব্যাংগারস এরা। এদের শেকড় যথেষ্ট গভীর, এই দেশের রাজনীতি কন্ট্রোল করে এই গ্যাং। রাফির বোঝা হয়ে যায় যে যাদের লিষ্ট মাফিয়া গার্ল দিয়েছে এরা যদি সত্যিই রাফিকে মারার জন্য পেছনে লেগে থাকে তাহলে এই বাংকারও রাফির জন্য নিরাপদ না।
ফাইলটিতে যে শুধু এদের লিষ্ট দেয়া আছে তাই ই নয়, পুরো ফাইলটিতে একটা প্যাটার্ন রয়েছে যার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে কার সাথে কে কানেক্টেড আর এদেরকে চালাচ্ছেই বা কে।
বেশ ঝুক্কি ঝামেলার পর রাফির শরীর আর চলতে চায় না, সেইভাবে ঘুম না আসলেও ক্লান্তি আর অবসাদ রাফিকে ঘিরে ধরে, অপরাধীদের দেখতে দেখতেই ঘুমে ঢলে পড়ে রাফি।
ঘুম ভাংগে পরদিন দুপুরের দিকে, মাফিয়া গার্ল একের পর এক ফোন দিয়ে রাফিকে না পেয়ে বাংকারের ইন্টারকম দিয়ে রাফিকে ডাকতে থাকে। ছোট্ট রুমগুলোতে ইন্টারকমের সাউন্ডে গম গম করছে,
– wake up Raffi. Wake up. Its an emergency, wake up.
রাফি আড়মোড়া দিয়ে উঠেই কান চেপে ধরে। ফোনেও একনাগাড়ে রিং হচ্ছে। রাফি কোনমতে ফোনটা রিসিভ করে কানে তোলে,
রাফি – হ্যাঁ হ্যাঁ জেগে গেছি জেগে গেছি, আর চ্যেচিও না।
– I have a bad news for you. Turn on the TV.
মাফিয়া গার্লের এমন কথা শুনে রাফির আবারো বুক ধড়ফড়িয়ে উঠলো, আবার কি খারাপ সংবাদ। জলদি ছুটে গেলো ড্রয়িং রুমে, মোবাইলটা কানে চেপে রেখে টিভি অন করে রাফি! টিভিতে ব্রেকিং নিউজে কয়েকটে সিসিটিভি ফুটেজ দেখাচ্ছে যার মধ্যে কয়েকজনকে হোটেলের লিফট এবং শিড়ি ব্লক করে দিতে দেখা যায় এবং অন্য একটা ফুটেজে একটি যুবককে একজন হোটেল বয়ের উপর ঝাপিয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রায় ১০ জনের চেহারা পাওয়া গেছে যাদের সবার ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকায় শনাক্ত করা গেছে কিন্তু হোটেল বয়কে আক্রমন করা ব্যক্তিকে এখনো কেউ স্বনাক্ত করতে পারে নি। আর টেলিকাষ্ট করা ভিডিওটাও যথেষ্ট অস্পষ্ট।
– যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই। পুলিশ তোমাকে সাসপেক্ট লিষ্টে এড করে নিয়েছে। পুলিশ ভাবছে হয় তোমার কারনে আগুন লেগেছে অথবা তুমিই আগুন লাগিয়েছো। সমস্ত নিউজ চ্যানেলে অন্যান্য ফুটেজের সাথে সাথে তোমার ভিডিও ফুটেজও প্রচার করতে বলা হয়েছে। আমি যতদূর সম্ভব ভিডিও ব্লার করে দিয়েছি তাই ভিডিও টেলিকাষ্ট হলেও কেউ তা থেকে তোমাকে চিনবে না কিন্তু পুলিশ অরিজিনাল ভিডিও ফুটেজ থেকে তোমার ছবি বের করতে সক্ষম হয়েছে। সমস্ত পুলিশ স্টেশনে তোমার ছবি ফ্যাক্স অথবা ইমেইলের মাধ্যমে সার্কুলেট করা হয়েছে। আমি যতদূর পেরেছি পুলিশের ফরোয়ার্ড করা ছবিটা রিপ্লেস করে দিয়েছি।
রাফি – গ্যাং পেছনে পড়েছিলো, এখন আবার পুলিশ! তবে এবার হয়তো গ্যাং একটু পিছে হটবে, তাদেরকেও তো খুজবে পুলিশ নাকি?
– গ্যাং পিছু হটবে না, এরা পুলিশের নাকের ডগাতেই থাকে। পুলিশ ওয়ারেন্ট ইশ্যু করে এরেষ্ট করলেও এদেরকে ধরে রাখতে পারে না। জনগনের মনে শান্তনা দেয়ার জন্য তাদের ভিডিও আর ছবি টিভিতে টেলিকাষ্ট করছে।
রাফি – তার মানে তারা আমার পিছু ছাড়ছে না?
– একদমই না, বরং কিছু কোরাপ্ট অফিসার তাদেরকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে তোমার উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
রাফি – কিন্তু সেটা তো সত্য নয়, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
-পুলিশকে যেভাবে লীড দেয়া হচ্ছে তাতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তোমাকেই অপরাধী বলে ধরে নেবে। তোমার কোন পুলিশ রেকর্ড না পাওয়ায় তুমি একজন প্রোটেনশিয়াল ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট। এছাড়া হোটেলের রিসিপশনিষ্ট তোমাকে অরিজিনাল ভিডিও ফুটেজ দেখে চিনে ফেলেছে এবং একজন অতিথি হিসেবে আইডেন্টিফাই ও করে নিয়েছে।
রাফি – হোটেলের লগবুকে তো আমার নামে কিছুই লেখা নেই, আমি তো কোন তথ্যই দেই নি।
– হ্যাঁ কারন আমি আগে থেকেই কিছু তথ্য দিয়ে রেখেছিলাম। আমি অনলাইনের তথ্য অথেন্টিক করে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু এদের নিজেদের ভেতর যোগসাজশ দেখ অথেনটিক করে দেয়ার সাহস করি নি, এতে তোমার পরিবারের উপর খারাপ প্রভাব পড়তো।
রাফি – আমার সারেন্ডার করা উচিৎ। সারেন্ডার করলে হয়তো আমি প্রমান করতে পারবো আমি নিরাপরাধ।
– oh really? Go to the server room, something is waiting for you.

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন২ পর্ব-৪

0

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন২ পর্ব-৪

“Now take rest, I’ll be in touch, if you need me, dial *66666#, I’ll call you and one thing, do not try to contact with anybody, please.”
রাফি মেসেজটা দেখে ফ্রেস হতে চলে যায়। ফিরে এসে জানালার দিকে মুখ করা চেয়ারটাতে বসে দেখতে থাকে শহরটাকে আর ভাবতে থাকে সামনে আর কি কি হতে চলেছে।
বেশ খিদে পেয়েছে রাফির। বাইরে গিয়ে কিছু খেয়ে নেয়া উচিত ভেবে তৈরী হয়ে নেয় রাফি। বাইরে রেষ্টুরেন্টে গিয়ে বসে রাফি। ভালোমন্দ অর্ডার করে খেতে বসে সে। খেতে খেতে মাফিয়া গার্লের কল পায় রাফি,
– where are you?
রাফি – আমি রেষ্টুরেন্টে, খেতে হবে না?
– ভালোমত খেয়ে নাও, আর খাওয়ার সুযোগ পাবে কি না তা উপরওয়ালাই জানে।
রাফির খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কি বলে এই মেয়ে!
রাফি – মানে!
– মার্সেনারী গ্রুপের প্রাইভেট নেটওয়ার্ক থেকে তোমার ডিটেলস ফরোয়ার্ড করা হচ্ছে একদল লোকাল গ্যাং এর কাছে।
রাফি – তো!
– লোকাল গ্যাং কোন দেশের লোকাল হতে পারে বলো তো?
রাফি – (কপালের ঘাম জমে গেছে) এখন আমি যে দেশের হোটেলে বসে খাবার খাচ্ছি?
– একদম ঠিক ধরেছো। সো জলদি জলদি খাওয়া শেষ করে ফেলো। আমি তোমার ফিরতি টিকিটের ব্যবস্থা করছি।
রাফি – মানে দেশে ফিরে আসতে হবে আমাকে!
– এটা ছাড়া আর কোন উপায় আছে কি!
রাফি – আছে। আমি আমার ট্রেনিং শেষ করবো। চোরের মত পালিয়ে বাঁচতে পারবো না আমি সারাজীবন।
– বোকার মত কথা বলো না রাফি। ওখানে তোমাকে শেষ করে গুম করে ফেলার জন্য পৃথিবীর অন্যতম কুক্ষ্যাত ভাড়াটে সৈনিকদল অপেক্ষা করছে যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হবে তোমাকে হত্যা করা।
রাফি – এভাবে কতদিন পালাবো আর কতদিন তুমি আমাকে সাহায্য করবে?
– …………….
রাফি – জবাব দাও! যদি তুমি না থাকতে তাহলে এতদিনে আমি এমনিতেই সাড়ে তিন হাত মাটির নীচে থাকতাম। এভাবে আর কত?
– তুমি ফ্রন্ট লাইনে এসে এমন একটা বিষগাছের গোড়ায় কুড়াল মেরেছো যারা সাইবার দুনিয়ার আগে থেকে এসবের সাথে জড়িত। তোমাকে খুজে বের করতে এদের কম্পিউটারের সাহায্য লাগববে না। ডাইরেক্টর স্যারের পরিনতি দেখেও কি তোমার ভয় হয় না। Real world is much more dangerous than cyber world. You just can’t logout from real world.
রাফি – তারপরও। আমি হাল ছেড়ে দিতে পারি না। তোমাকে কিছু সাহায্য করতে বলবো, করবে?
– বলেই দেখো?
রাফি – আমাকে নিরাপদে আমার ট্রেনিং সংস্থার হেডকোয়াটারে পৌছে দিতে পারবে?
– Difficult but not impossible. But the problem is, they’ll be waiting for you. The moment you touches that country, they’ll know and start hunting.
রাফি খাবার রেখে খাবারের বিল পে করে রুমের দিকে চলতে থাকলো।
রাফি – ( ভাবনাযুক্ত) এখন তাহলে কি করা উচিৎ! এভাবে পালাতে ইচ্ছা হচ্ছে না।
– you are a good man, Raffi. But if you enter into that country, you are as good as dead.
রাফি – ফিরে আসা উচিৎ?
– For now, yes. You will get your opportunities again. Don’t risk your life.
রাফি – আচ্ছা ঠিক আছে। আমি দেশেই ফিরবো। আচ্ছা একটা প্রশ্ন, আমি প্রায় ৬ ঘন্টা হলো এই দেশে আছি, বাড়িতে জানানো দরকার, তাছাড়া আমাকে যদি অপরাধীরা খুজে না পায় তাহলে তো আমার পরিবারের জীবনও হুমকির মুখে পড়বে।
– তোমার স্ত্রী এবং বাবা মা এখনো তোমার কোয়ার্টারেই অবস্থান করছে। কোয়ার্টারের সিকিউরিটি যথেষ্ট ভালো এবং তোমার সুপারিশে ডাইরেক্টর স্যার অর্ডার করেছেন যেন তোমার পরিবারকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করা হয়। আমার সাজেশন থাকবে তোমার ফ্যামিলি যেন কোয়ার্টারেই অবস্থান করে। it’s 70% safer than your home. Call them and tell them to stay. I’ll be in touch.
রাফি মাফিয়া গার্লের সাথে কথা শেষ করতে করতে রাফি রূমে পৌছে যায়। রুমে ঢুকে বাবাকে ফোন দেয় রাফি।
রাফি – হ্যালো, বাবা? আসসালামুআলাইকুম। কেমন আছেন?
বাবা – ( সবাইকে ডাকলেন) ওয়ালাইকুলুসসালাম। কি খবর বাবা? বিমান থেকে নেমেছিস কখন? সহীহ সালামত পৌছে গেছিস তো।
রাফি – বিমানে কিছু সমস্যা হয়েছে তাই গন্তব্যের আগেই ল্যান্ড করাতে হয়েছে।
বাবা – কি বলছিস! কোন সমস্যা হয় নি তো! তুই ঠিক আছিস তো।
রাফি – কিচ্ছু হয় নি আমার। আমি একদম ঠিক আছি। ওই বিমানে কোন এক যাত্রীর জন্য বিমানকে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করাতে হয়েছে। যাত্রীদেরকে আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে দেশে। আমিও চলে আসতেছি তাদের সাথে।
বাবা – (কৌতুহলী) তুই কিছু লুকাচ্ছিস না তো রাফি?
রাফি – কি বলছো বাবা? লুকাতে যাবো কেন? ফিরে আসি তারপর জেরা কইরো মনমত।
বাবা – নাহ, আমার সন্দেহ হচ্ছে রাফি। নে তোর মায়ের সাথে কথা বল।
মা – হ্যালো রাফি? কিরে তোর বাবা কি সব বলছে রে? কি হয়েছে! তুই কোথায়? পৌছাস নি এখনো!
রাফি – (কপালে হাত দিয়ে) আরেহ, মা? আমি ঠিক আছি, কিচ্ছু হয় নি আমার। ফিরে আসতেছি। এসে সামনাসামনি কথা বলবো। এতো চিন্তা করো না।
মা – চিন্তা করবো না! কি একটা চাকরী নিলি! জীবনটাই কেমন এলোমেলো করে দিলো। তুই আয় তো, চলে আয় তো দেশে।
রাফি – (অট্ট হাসি দিতে দিতে) মা? কি যে সব বলছো না তুমি। আচ্ছা মা রাখছি।
মা – কিরে নিজের বৌয়ের কথা ভুলে গেলি? মেয়েটা মন মরা হয়ে আছে অথচ জানতেও চাইলি না ওর কথা?
রাফি – (মাথা চুলকাতে চুলকাতে) কি যে বলো না মা, আমি ফোন দিতাম তো ওকে, তুমি ফোন রাখলেই ফোন দিতাম।
মা – হয়েছে হয়েছে, কেন একবারেই কথা বলে নিলে কি এমন ক্ষতি হবে! এইতো বৌমা চলে এসেছে। নে কথা বল।
তোহা – হ্যালো?
রাফি – কি খবর? মন খারাপ নাকি?
তোহা – ( না সূচক) উহহুহ।
রাফি – তোমার নাকি মন খারাপ। দেখো, ক্যান্সেল হয়ে গেছে সব। চলে আসতেছি।
তোহা – (হ্যাঁ সূচক) হুউউ।
রাফি – আর হ্যাঁ, বাবা মা কে যেতে দিয়ো না আর ডাইরেক্টর স্যারকে বলে সিকিউরিটি কোয়ার্টারে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করো। আমি ফিরে এসে দেখছি সব।
তোহা – (হ্যাঁ সূচক) হুউউ।
রাফি – রাখছি তাহলে। ফিরতে হবে।
তোহা – সাবধানে ফিরে এসো।
রাফি – ফি আমানিল্লাহ।
রাফি ফোনটা রেখে দিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নেয় রাফি।
ব্যাগ গোছানো শেষ হতে হতে মাফিয়া গার্লের ফোন চলে আসে।
– হোটেলে তোমার সময় শেষ রাফি। লোকাল গ্যাং তোমার ইয়োলো ক্যাবকে ট্রেস করতে পেরেছে। ক্যাবটির জিপিএস লোকেশন এখন তোমার হোটেলের পাশেই। আর লোকাল গ্যাং এর সদস্যদের ফোন লোকেশন তোমার হোটেলের আশেপাশে। তারা হয়তো পরিবেশ বুঝতে চাইছে হোটেলের। এখনই হোটেল থেকে বের হতে হবে তোমাকে। it’s now or never.
রাফি – আমি তৈরী।
– একটা খারাপ খবর আছে। হোটেলের সবকিছুই অফলাইন, অর্থাৎ আমি কিছুই করতে পারবো না। যা করার তোমাকেই করতে হবে। আমি ধারনা করতে পারি নি যে মার্সেনারী গ্রুপের লিংক এইদেশে এভাবে চলে আসবে ভাবি নি। রাফি, you are on your own.
রাফি – Should I thank you for this?
– good luck. Stay on the line.
রাফি ইয়ারবট কানে গুঁজে ব্যাকপ্যাক কাধে তুলে নেয়। জানালা দিয়ে হালকা উঁকি মারে। রাস্তায় ভালই মানুষজন আছে কিন্তু কে গ্যাং এর লোক আর কে না তা বুঝবে কিভাবে?
রাফি – কে গ্যাং এর লোক এটা বুঝবো কিভাবে?
– চিনে চিনে তুমি এই গোলকধাঁধা থেকে বের হতে পারবে না। সবার হাত থেকে পালিয়েই বের হতে হবে তোমাকে। সন্ধ্যা ও হয়ে এসেছে। ফায়ার এক্সিট, লিফট, শিড়ি কোনটাই ব্যবহার করতে পারবে না।
রাফি – সার্ভিস এলিভেটর? এটা তো ভাবনায় আনবে না তারা?
– affirmative, go for it. Good luck.
রাফি ফোনটা কেটে রুমের দরজা খোলে, মাথা বের করে উকি মারে। নাহ কেউ নেই। রাফি সার্ভিস এলিভেটর খুজতে থাকে। পেয়েও যায় কিন্তু হোটেল স্টাফ ছাড়া আর কেউ যাতে এটা ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য একসেস কার্ড প্রোটেকশন দেয়া রয়েছে। রাফি অন্য দিকে দৌড় দেবে তখনই সার্ভিস এলিভেটর খুলে যায়। একজন ক্লিনার তার ইকুইপমেন্ট নিয়ে এলিভেটর দিয়ে নামে। রাফি ঠায় দাড়ায় থাকে আর দোয়া করতে থাকা যেন ক্লিনার চোখের আড়াল হওয়ার আগে লিফটের দরজা বন্ধ না হয়ে যায়। ক্লিনার করিডোরে মোড় ঘুরতেই রাফি লিফটের দিকে দৌড় দেয়। লিফটের দরজা ততক্ষণে বন্ধ হতে শুরু করেছে। রাফি উপায় না দেখে দৌড়াতে দৌড়াতে নিজের ঘাড়ের ব্যাগ খুলে নেয় আর দরজার দিকে ছুড়ে মারে। দরজায় ব্যগটি আটকে যাওয়ায় দরজা আবারও খুলে যায়।
রাফি ভেতরে ঢুকে গ্রাউন্ড ফ্লোরের বাটন প্রেস করে। লিফট ৬য় ফ্লোরে আসার পর লিফট থেমে গেল। দরজা খুলতেই একজন হোটেল বয় কে দেখতে পেল। হোটেল বয় রাফিকে দেখে কপাল কুঁচকে তাকালো রাফির দিকে। রাফি হোটেল বয়ের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন দেখে এতটুকু বুঝতে পারলো যে হোটেল বয় যথেষ্ট কনফিউজড এবং যে কোন মুহূর্তে চিৎকার দেবে। রাফি রিক্স নিতে চাইলো না। করিডোর ও একদম ফাঁকা। রাফি সুযোগ বুঝে ঝাপিয়ে পড়ে হোটেল বয়ের উপর। হোটেল বয়ের গলায় নিজের ডানহাত পেঁচিয়ে বাম হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখে। কিছুক্ষণের ভেতরে হোটেল বয় অজ্ঞান হয়ে যায়। অবশেষে হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট ট্রেনিং এর কিছু কাজে লাগলো রাফির। হোটেল বয়ের একসেস কার্ডটি নিয়ে কাছাকাছি একটা রুমের লক খুলে ফেলে রাফি। হোটেল বয়ের বডিটা টেনে সেই ঘরে ঢুকিয়ে নেয়। নিজের শার্ট এক্সচেঞ্জ করে ফেলে হোটেল বয়ের সাথে।
হোটেল বয়কে রুমে রেখে রুমের বাইরে নো ডিস্টার্ব সাইন টানিয়ে দিয়ে রুম লক করে দেয় রাফি। ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে রওনা দেয় আবার সার্ভিস এলিভেটরের দিকে। এলিভেটর দিয়ে সরাসরি সার্ভিস রুমে চলে গেল রাফি। সেখানে হোটেলবয়, সার্ভিস ম্যান, সহ আরো অনেকে ছিলো। রাফি ঘাড় থেকে ব্যাগটা নামিয়ে যতটা সম্ভব মাথা নীচু রেখে ব্যাকডোর খুজতে থাকলো। রাফি যতদূর জানে, একজন হোটেল বয় অনডিউটিতে কোন পার্সোনাল ব্যাগ বহন করতে পারে না। তাই চেষ্টা করলো কারো নজরে না আসার। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত থাকায় রাফির দিকে কেউ নজর দিলো না। রাফি ব্যাকডোর দেখতে পায় কিন্তু সেটা করিডোরের অপরপ্রান্তে। সার্ভিস রুমের সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ওই প্রান্তে যাওয়া অসম্ভব। রাফি আসে পাশে বড় পলিব্যাগ দেখতে পায়। একটা পলিব্যাগের ময়লা ফেলে দিয়ে সেই ব্যাগে নিজের ব্যাকপ্যাক ভরে নেয়। তারপর আরো কিছু ময়লার পলিব্যাগ কাধে তুলে মাথা যতটা সম্ভভব নীচু রেখে সার্ভিস এক্সিটের দিকে এগোতে থাকে রাফি। কোনপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই রাফি পৌছে গেল সার্ভিস এক্সিটে কিন্তু সেখানে কেউ একজন রাফিকে আটকায়। হয়তো ফ্লোর ম্যানেজার। রাফির হার্টবিট বেড়ে যায়। এই বুঝি ধরা পরে যায়। ফ্লোর ম্যানেজার রাফির চেহারার বদলে পলিব্যাগে কি আছে তা নিয়ে বেশী ইন্টারেস্টেড। রাফির কাছে ৪ টা পলিব্যাগ ছিলো। ফ্লোর ম্যানেজার দুইটা ব্যগ চেক করলো। রাফি মনে মনে ভাবে এই বুঝি ধরা পড়ে গেলো, কারন পরের ব্যাগটা খুললেই রাফির ব্যাকপ্যাক দেখতে পাবে ফ্লোর ম্যানেজার। সৌভাগ্যক্রমে ফ্লোর ম্যানেজার অন্য দুইটা ব্যাগ চেক না করেই রাফিকে যেতে দেয়। রাফি যেন হাপ ছেড়ে বাঁচে। বাইরে এসে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলে বাইরের পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করে রাফি। হোটেল সামনের দিকটা যেমন জমকালো, পেছনের দিকটা ঠিক ততটাই সুনসান। রাফি পলিব্যাগ থেকে ব্যাকপ্যাক বের করে ঘাড়ে নেয়। চুপচাপ ওই সুনসান গলি দিয়ে বের হয়ে মেইন রাস্তার এসে পড়ে রাফি। একটা ট্যাক্সিকে সিগন্যাল দিয়ে দাঁড় করায় রাফি। এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ঠিক করে উঠে পড়ে ট্যাক্সিতে। এয়ারপোর্ট তো ঠিক করলো কিন্তু এখনো তো কিছুই ঠিক হয় নি আর দেশে ফেরার টিকিট ও কাটা হয় নি।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: <a href=”https://www.facebook.com/groups/golpopoka/”>https://www.facebook.com/groups/golpopoka/</a>

<a href=”http://এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/”>
<img class=”size-full wp-image-24268 aligncenter” src=”https://golpopoka.com/wp-content/uploads/2020/03/20200313_200909.jpg” alt=”” width=”2560″ height=”2020″ /></a>

রাফি *66666# নাম্বারে ডায়াল করে যেমনটি মাফিয়া গার্ল বলেছিলো। কিছুক্ষণের মধ্যে মাফিয়া গার্ল ফোন করে,
– you are an excellent agent Raffi. Excellent work. I am arranging your way home.
রাফি – কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে হবে কিভাবে? আমি তো এখন এই দেশেও সেফ না।
– এয়ারপোর্ট এলাকায়ও তোমার ছবি ফরোয়ার্ড হওয়া মোবাইলের লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে।
রাফি – (অবাক হয়ে) তুমি আমার ছবি ট্রাক করছো কিভাবে?
– আমি তোমার ছবির ডেসক্রিপশন ম্যাপ সেট করে রেখেছি, তোমার যে ছবি সার্কুলেট হয়েছে সেই ছবি যার যার মোববাইলে ফরোয়ার্ড হয়েছে বা কপি হয়েছে তাদের সবার লিষ্ট আমার স্ক্রিনে রয়েছে। আমি শুধুমাত্র তাদেরকেই ট্রাক করতে পারছি যারা ফোনে তোমার ছবিটা কপি অথবা ফরোয়ার্ড করে নিয়েছে। যদি কেউ হার্ডকপি করে নেয় অথবা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকে তাহলে তাকে ট্রাক করা পসিবল নয়।
রাফি – এখন আমার কি করা উচিৎ। চোর পুলিশ খেলা হয়ে যাচ্ছে অনেকটা। পুলিশের কাছে যাওয়া উচিৎ?
– পুলিশকে কিভাবে বিশ্বাস করাবে যে কিছু লোক তোমার পিছু নিয়েছে?
রাফি – এখন কোথায় যাবো তাহলে? এই লোকাল গ্যাং তো আমার পেছনে কুকুরের মত লেগে আছে। আর তুমি যা বললে তাতে তো আমার এয়ারপোর্টে যাওয়াটাও নিরাপদ না।
– আমি একটা এড্রেস দিচ্ছি। সেখানে চলে যাও। সেখানে তোমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবো আমি।
বলে মাফিয়া গার্ল একটা জিপিএস লোকেশন সেন্ড করে রাফিকে। আগেরবার এই ট্যাক্সিওয়ালাই রাফির হোটেল পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিলো লোকাল গ্যাংদের। এবার আর সেই ভূল করতে রাজী না রাফি। ড্রাইভারকে দুই গলি আগের ঠিকানা দেয় রাফি। প্রথমদিকে ড্রাইভার রাজী না হলেও অতিরিক্ত টিপসের লোভ দিয়ে রাফি মানিয়ে নেয় ড্রাইভারকে।
– ঠিকানায় পৌছে আমায় জানাবে। আর হ্যাঁ আমি না বলা পর্যন্ত ঠিকানার মেইন গেটের সামনে যাবে না।
রাফি – আগে পৌছাই তো। তারপর জানাচ্ছি।
– Good luck.
রাফির কথামত ড্রাইভার রাফিকে দুই গলি আগে নামিয়ে দেয়। রাফি পায়ে হেটে জিপিএস লোকেশনের কাছাকাছি পৌছায়। কিন্তু রাফির ফোন দেয়ার আগেই মাফিয়া গার্ল ফোন দেয় রাফিকে,
– ওখানেই দাঁড়াও আমি Go বলার সাথে সাথে মেইন গেটের দিকে চলে যাবে। stay on the line …………..GO.
রাফি ডাইনে বায়ে না তাকিয়ে সোজা মেইন গেট বরাবর হাটতে থাকে। মেইন গেট আস্তে আস্তে খুলতে থাকে।
– Don’t stop, keep going.
রাফি গেটের সামনে এলে দেখলো ঠিক যতটুকু খুলেলে রাফি সহজে গেট দিয়ে ঢুকতে পারবে ঠিক ততটুকুই খোল গেটটি। রাফি ঢুকে গেলো গেটের ভেতর। রাফি ভেতরে ঢোকার পরপরই মেইন গেটটা লেগে গেল।
– you can relax now, এখানে তুমি নিরাপদ থাকবে।
তাড়াহুড়ায় রাফি প্রথমে ঠিকমত বাড়িটা দেখতে পায় নি। মাফিয়া গার্লের কথায় স্বস্তি পেয়ে রাফি চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগলো। বিশাল প্রাচিলে ঘেরা আলিশান দুইতলা বাড়ি। দেখলেই বোঝা যাচ্ছে মর্ডান আর্কিটেকচারের ছোঁয়া। বাইরে থেকে কেউ দেখতে পারবে না এই প্রাচীরের ভেতর কি হচ্ছে। ছোটখাটো একটা দূর্গ বলা যায়।
রাফি – কার বাড়ি এটা।
– পৃথিবীর অন্যতম অস্ত্র ব্যবসায়ীর বাংলো এটি। পৃথিবীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বাড়িটাতে। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো আমি এই বাড়ির সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে পানির ট্যাপ পর্যন্ত কন্ট্রোল করতে পারবো।
রাফি – তুমি সব কন্ট্রোল করতে পারলে আমাকে চোরের মত এখানে ঢোকালে কেন।
– বাড়িটার সিকিউরিটি অনেক বেশী টাইট। সিকিউরিটি যদি কোন আনঅথরাইজড এন্ট্রি ডিটেক্ট করে তাহলে একটা সাইলেন্ট এ্যালার্ম ট্রিগার হবে যা ওই অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং লোকাল পুলিশ দুইজনের কাছেই চলে যাবে। একবার সাইলেন্ট এ্যালার্ম ট্রিগার হলে তা আমি বন্ধ করতে পারবো না।
রাফি – তা কোথায় তোমার এই অস্ত্র ব্যবসায়ী।
– কোন এক দ্বীপে পার্টি করছে। তাকে নিয়ে তোমার না ভাবলেও চলবে।
রাফি কথা বলতে বলতে ঘরের দরজার দিকে পা বাড়াতেই মাফিয়া গার্ল বলে ওঠে,
– ওইদিকে নয়। বাড়ির পেছনের দিকে যাও।
রাফি বাড়ির ধার ঘেঁষে পেছনের দিকে যেতে থাকে। পুরো বাড়িতে সিসিটিভি, ইনফ্রারেড, মোশান সেন্সর লাগানো রয়েছে।
রাফি – এটা কি বাড়ি না আরকিছু, পুরা বাড়িতে সিসিটিভি, ইনফ্রারেড, মোশান সেন্সর লাগানো, এখনো কি এলার্ম বাজে নি!
– এগুলো এখন আমার নিয়ন্ত্রণে। আমি ভিডিওফিড রিপ্লেস করে দিয়েছি। তাই তুমি এখন সিসিটিভিতে একটা ভুত হয়ে আছো। যাইহোক গ্যারেজের সাইডের দরজার সামনে যাও।
রাফি সাইডের দরজা খুঁজে বের করে। বেশ বড় গ্যারাজ। কিছুক্ষণের মধ্যে খট করে দরজা আনলক হয়ে গেল। রাফি ভেতরে ঢুকে পুরোদন্তু অবাক হয়ে গেলো। গ্যারেজে বিশ্বের নামকরা দামী আর দ্রুতগতির গাড়ি সাজানো রয়েছে। প্রতিটা গাড়িই চোখ ধাঁধানো। রাফি কখনো এসব গাড়ি চোখে দেখবে ভাবতে পারে নি।
-গ্যারেজের অন্যপ্রান্তে যাও।
রাফি মাফিয়া গার্লের কথামত গ্যারেজের অন্যপ্রান্তে গেলো।
একটা ওল্ডফ্যাশন মাসল কার দেখতে পেলো রাফি।
– গাড়ির ভেতরে বসো। তারপর গাড়ির ব্রেক চেপে ধরো। যা ই হয়ে যাক ব্রেক ছাড়বে না।
রাফি তাই করলো, ভেতরে বসে গাড়ির ব্রেক চেপে ধরলো। কিছুক্ষণের মধ্যে একটা কাঁপুনি দিয়ে গাড়িটা মাটির নীচে তলাতে লাগলো। রাফি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়লো।
– ভয়ের কারন নেই। এটা একটা এন্টিনিউক্রিয়ার বাংকারের লিফট। বাড়িতে আলো জ্বালালে কারো সন্দেহ হতে পারে, সেদিক থেকে বাংকার নিরাপদ।
রাফি আন্দাজ করলো প্রায় ১০ তলা গভীরে নেমে এসেছে সে। অবশেষে গাড়িটার তলানো থামলো। রাফি গাড়ি থেকে নামলে একটা মোটাসোটা টাইটেনিয়ামের দরজা দেখতে পায়। সামনে আসতে আসতে আনলক হয়ে যায় দরজাটি। কম করে হলেও প্রায় ২০ ইঞ্চি পুরু দরজাটা অটোমেটিক খুলে যায় রাফির সামনে। লাইইটগুলো জ্বলে উঠতে থাকে আর রাফির বিস্ময়ের স্তর বাড়তেই থাকে।

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-৩

0

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-৩

লেখা- @sharix dhrubo

এদিকে বিমানবালা রাফির পাশে দাড়িয়ে বার বার ফোন বন্ধ করতে অনুরোধ করছে। রাফি ভেবে পায় না এখন সে কি করবে।
রাফি ফোনটা বন্ধ করতে করতে বিমানবালাকে বললো,
রাফি – I’ve got an emergency, I need to get of this plane.
বিমানবালা – Sir, it’s not possible now, we are already on the runway.
রাফি – But it’s urgent. I need to get off.
বিমানবালা – we are extremely sorry sir.
বলে বিমানবালা চলে গেলো। রাফি ফোনটা অন করতে গিয়েও করে না।
ইসসসস, এরোপ্লেন মোড দিয়ে দিলেই তো হয়ে যেতো, শুধুশুধু ফোনটা বন্ধ করলো রাফি। এটলিষ্ট মেসেজগুলো তো পড়া যেত। এখন অন ও করতে পারবে না ফোনটা। ফোন সুইচ অন হওয়ার সময় সবচেয়ে বেশী রেডিয়েশন ছড়ায়। তাই চাইলেও ফোনটা অন করতে পারবে না রাফি। কিন্তু কি কারনে মাফিয়া গার্ল এমন মেসেজ দিলো রাফিকে।
অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো কখন ফোন অন করার পার্মিশন পাওয়া যাবে। নিদিষ্ট সময় পার হবার পর ফোন এবং সীটবেল্ট খোলার পার্মিশন পাওয়া গেল।
রাফি যেন তৈরী হয়েই ছিলো এই মুহূর্তের জন্য। চট করে অন করে ফেলে ফোনটা। কিছুক্ষণের ভেতর আরো দুইটা মেসেজ আসে, আননোন সোর্স থেকে,

 

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: <a href=”https://www.facebook.com/groups/golpopoka/”>https://www.facebook.com/groups/golpopoka/</a>

<a href=”http://এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/”>
<img class=”size-full wp-image-24268 aligncenter” src=”https://golpopoka.com/wp-content/uploads/2020/03/20200313_200909.jpg” alt=”” width=”2560″ height=”2020″ /></a>

“You couldn’t make yourself out, could you?”
রাফি বেশ খানিকটা বিস্ময় নিয়ে ভাবতে থাকে মাফিয়া গার্ল কেন হঠাৎ এসব মেসেজ পাঠাচ্ছে আর বিমানে ওঠার পর থেকেই কেন?
এসব ভাবতে ভাবতে আগের মেসেজ ওপেন করে রাফি,
“You must find a way to get off that plane”
আজীব, এতবার করে কেন বিমান থেকে নামতে বলা হচ্ছে রাফিকে। কি সমস্যা? বিমানে কোন সমস্যা নাকি অন্য কিছু? নাকি পরিবারের কোন ক্ষতি হতে চলেছে?
এতশত ভাবতে ভাবতে আননোন সোর্স থেকে ফোন চলে আসে,
রাফি – অবশেষে?
কম্পিউটার জেনারেটেড ফীমেল ভয়েস,
– Don’t you care my warning?
রাফি – কিসের ওয়ার্নিং? কেন নামবো আমি বিমান থেকে?
– Remember the those who try to frame you on currency case, they are planning something big now.
রাফি – কি বলতে চাও সোজাসাপটা বলো।
– গত ৪ দিন ধরে কারেন্সি মামলায় স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে পদচ্যুত কর্মকর্তাদের বিশেষ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ভেংগে ভেংগে বেশ মোটা অংকের টাকা ট্রান্সফার হয়েছে একদল কুক্ষাত নৃষংশ মার্সেনারীর একাউন্টে। And guess what, you are going directly to there home country.
রাফি – হতে পারে কোন বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে তাদেরকে টাকা পাঠানো হয়েছে।
– হতেই পারে কিন্তু সমস্যা হলো এই মার্সেনারী দেশের অভন্ত্যরে ব্যতিত অন্য কোথাও কোন অপারেশন করার কোন রেকর্ড নেই। এরা যা করে তা এদের দেশের আইনের মারপ্যাচের সাথে মিলিয়েই করে।
রাফি – এখানে আমার হুমকি আসছে কেন?
– তুমি এয়ারপোর্টে পৌছানোর আগ পর্যন্ত আমি নিশ্চিত ছিলাম না কিন্তু তুমি এয়ারপোর্টে পৌছানোর পর একটা গ্রুপ মেসেজ ট্রিগার হয় যা শুধুমাত্র এই দেশেই নয়, দেশের বাইরে এবং ওই মার্সেনারীদের নাম্বারেও চলে যায়।
রাফি – কি ছিলো মেসেজে?
– হয়তো কোডনেম ইউজ করা হয়েছে, আমার ইনক্রিপশন বলছে মেসেজটা ছিলো এমন,
“Rabbit has arrived”
এবং তুমি ইমিগ্রেশন ক্রস করার পর আরো একটি গ্রুপ মেসেজ ট্রিগার হয় যা অনেকটা এইরকম,
“Rabbit is in the hole, mission is a go”
রাফি – তাতেও তো প্রমানিত হয় না যে তারা আমার জন্য এইসব আয়োজন করছে। অন্যকিছুও তো হতে পারে।
– being positive is not a negative thing but being blind is. Do the math by yourself. I’ll be in touch.
বলে ফোনটা কেটে দেয় মাফিয়া গার্ল। রাফির কাছেও ব্যপারটা আজগুবি লাগলেও অসম্ভব লাগছে না। ক্ষমতাশীন দলের মন্ত্রী সহ কয়েকজন বাঘা বাঘা কর্মকর্তাদের জেলের ঘানি টানাচ্ছে রাফি, যাদেরকে আজ পর্যন্ত আইনের কোন ধারা আটকাতে পারে নি তারা আজ রাফির কারনে জেলে। ব্যপারটা রাফির সাথে ঘটলে হয়তো আরো বিদঘুটে কান্ড করে বসতো রাফি। কিন্তু বিদেশের মাটিতে কেন! যদি রাফিকে মেরে গুম করে দেয়া হয় তাহলে বিদেশের মাটিতে ইনভেষ্টিগেশনে জটিলতা, আর কুটনৈতিক সম্পর্কের মারপ্যাচে রাফির ডেডবডীও দেশে ফেরৎ আনা দায় হয়ে যাবে। মাফিয়া গার্লের কথা একেবারে ফেলনা নয়।
এমন সময় মেসেজ আসে রাফির ফোনে, আননোন সোর্স থেকে,
“Those Mercenary group started to share a photo to there private network. And look who is smiling in that picture”
মেসেজটি স্ক্রোল করে আর একটু নীচে যেতেই রাফির চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো। ছবিটা রাফির এবং ছবিটা এয়ারপোর্ট থেকেই কেউ তুলেছে! একই পোষাকে আছে রাফি এখনো। বিমানের তাপমাত্রা 20 ডিগ্রি হলেও তা এখন রাফির কপালের ঘাম আটকাতে ব্যর্থ। একেবারে খরগোশ হয়ে সোজা শিংহের গর্তে ঢুকে পড়াটা মোটেই ভালো ঠেকছে না রাফির।
আচ্ছা ওরা এই বিমানে কিছু করবে না তো? কোন বোমা অথবা সিস্টেম ফেইলিয়ার! এভাবেই তো অনেক সহজেই রাফিকে মেরে ফেলা সম্ভব।
রাফি চেষ্টা করলো মাথা ঠান্ডা রাখতে।
ফোন চলে আসলো মাফিয়া গার্লের, এই মানুষটার টাইমিং ও অসাধারণ,
কম্পিউটার জেনারেটেড ভয়েস,
– ওইদেশের মাটিতে ল্যান্ড করার ইচ্ছা আছে নাকি?
রাফি – আমি চিন্তায় আছি বিমানের যাত্রীদের কোন ক্ষতি হয় কি না।
– যাদের যাদেরকে ছবিগুলো পাঠানো হয়েছে তাদের মধ্যে একজন তোমার বিমানেই আছে।
রাফি – What the hell! Now you are telling me this!
– Don’t worry, according to the register log he is 4 row behind you. He can’t here you except you are shouting. He seems harmless. He is just following you.
রাফি – what should I do?
– Just do nothing. He is updating his boss about your every move. So please don’t do anything. Let me check what I can do.
রাফি ফোনটা কান থেকে নামিয়ে রাখে। পায়ে যেন কেউ পাথর বেধে দিয়েছে। ঘরের কোনায় এসি রুমে বসে বসে হ্যাকিং করা আর real life circumstances সম্পূর্ণ আলাদা।
কিছুক্ষণ পর বিমানের ইন্টারকলে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং এর ঘোষনা দিলো। সিটবেল্ট বেধে নিতে বলা হলো। রাফি কিছুটা অবাক হলো। ৬ ঘন্টার বিমানযাত্রা ঘন্টাখানেকে শেষ হওয়ার কথা না। তাহলে!
ফোন এলো রাফির ফোনে আবার। মাফিয়া গার্লের।
– I hack into the Airlines communication system and order to make emergency landing. But the plane already crossed the national border. The plane shall land to Z international airport.
রাফি – সেই তো দেশের বাইরেই চলে এলাম। ফিরতে গেলেও তো বিপদ।
– it’s your job Mr. Raffi. Live with it.
রাফি – what now?
– keep your heads down. I’ll be in touch.
কি এক ঝামেলায় জড়িয়ে গেলো রাফি। ভালো কিছু করতে গেলেও এখন পদে পদে বিপদে পড়তে হচ্ছে। এতটুকু রাফি বুঝতে পেরেছে, যে গাছের শেকড় অনেক গভীরে সেই গাছের ডালপালা যতই কুচি কুচি করে কাটা হোক না কেন সেই গাছ আবার নিজের ডালপালা বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে। শেকড়সুদ্ধ উপড়ে ফেলা ছাড়া এই গাছ নির্মূল করা সম্ভব না।
১৫ মিনিট পর বিমান Z International Airport এ ল্যান্ড করলো।
বিমান থেকে নেমে রাফি ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে লাগলো। ডাইরেক্টর স্যারকে ইনফর্ম করা দরকার। রাফি ডাইরেক্টর স্যারকে ফোন দেবে তার আগে মাফিয়া গার্লের মেসেজ আসে।
“Time to move. Be ready. Wait for my call”
রাফি ব্যাকপ্যাকটা হাতের কাছে নিয়ে নিলো। ইয়ারবট কানে গুঁজে অপেক্ষা করতে লাগলো মাফিয়া গার্লের জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাফিয়া গার্ল কল দিলো।
– you ready?
রাফি – I hope so.
– যে তোমাকে ফলো করছে সে এখনো তোমার বাম দিকে সেম রো তে বসে আছে, ২৫-২৮ বছর বয়সী, পেপার পড়ছে, আকাশী রং এর শার্ট।
রাফি মাথা ঘুরিয়ে দেখতে যাবে তখনই,
– Do not move your head.
রাফি – কিন্তু তুমি এতকিছু দেখছো কিভাবে?
– এয়ারপোর্টের সার্ভেইল্যান্স ওভাররাইড করতে একটু সময় লাগলো। আমি সবই দেখতে পাচ্ছি।
রাফি আড়চোখে সিসিটিভি ক্যামেরার দিকে তাকায়। সারা এয়ারপোর্টই সার্ভেইল্যান্সের আন্ডারে। মানে মাফিয়া গার্ল সবই দেখতে পাচ্ছে।
রাফি – কি করতে হবে এখন?
– আপাতত এই চামচা থেকে পিছু ছাড়াও। ব্যাগ পত্র নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। বিমানের কার্গোহোল্ডে থাকবে ওগুলো। ব্যাকপ্যাক ঘাড়ে ওঠাও আর সোজা গেটের দিকে রওনা দাও।
রাফি – কিন্তু এই দেশের ভিসা নেই তো আমার।
– তোমার জন্য ডিপ্লোম্যাটিক ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা করেছি। যতদূর এনালাইসিস করেছি তোমার ফলোয়ারেরও এই দেশের ভিসা নেই তাই এয়ারপোর্ট কতৃপক্ষ হয়তোবা তোমার ফলোয়ারকে বের হতে দেবে না। এখন বের হও। And try to act normal.
রাফি – কিন্তু ………
– কথা প্যাচাইও না। বের হও।
রাফি চাইলেও আর কথা বাড়ায় না মাফিয়া গার্ল। ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট শো করে রাফি। ডিজিটাল পাসপোর্ট হওয়ায় ডিপ্লোম্যাটিক ক্লিয়ারেন্সে কোন সীল পাসপোর্টে না থাকলেও সার্ভার থেকে শো করায় ইমিগ্রেশন থেকে ক্লিয়ারেন্স পায় রাফি। এয়ারপোর্ট থেকে সোজা বের হয়ে যায় সে।
– পার্কিং এর দিকে যাও। একটা ইয়োলো ক্যাব ওয়েট করছে তোমার জন্য। গাড়ির নাম্বার ABC 123. Go now. ড্রাইভারকে নাম বলবে রকি, ঠিক আছে?
রাফি – আর ফলোয়ার?
– ইমিগ্রেশনে যায় নি সে। হয়তো জানে যে সে পার হতে পারবে না। কিন্তু সে তার বসকে ইনফর্ম করে দিয়েছে যে তুমি এয়ারপোর্ট ছেড়েছো। আর সে এয়ারপোর্টে আটকে গেছে।
রাফি পার্কিং এ গিয়ে ইয়োলো ক্যাবের ছড়াছড়ি। খুঁজতে শুরু করে ABC 123 ক্যাবটি। বেশী খোঁজাখুজি করতে হয় না। কাছাকাছিই ছিল। ড্রাইভারের গ্লাসের কাছে এসে মাথা নীচু করে হ্যালো বলতে ড্রাইভার লোকাল একসেন্ট দিয়ে জানতে চায় “রকি? রকি?” রাফি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়েই উঠে পড়ে গাড়িতে।
নতুন শহর, কিছুই চেনে না রাফি।
হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ে রাফির। হায় হায় এই দেশের কারেন্সি তো নেই রাফির কাছে। ট্যাক্সির বিল দেবে কিভাবে রাফি! টেনশন হতে থাকে রাফির। আর ট্যাক্সি কোথায় যাচ্ছে তা ও জানে না। এ কোন গোলকধাঁধায় পড়ে যায় রাফি। প্রায় ১৫ মিনিট পর মাফিয়া গার্ল আবার ফোন করে।
– সামনেই একটা এটিএম বুথ আছে। ড্রাইভারকে গাড়ি বুথের সামনে রাখতে বলো।
রাফি এটিএম বুথের কথা শুনে কিছুটা স্বস্তি পেলো। ক্যাবের গ্লাস দিয়ে উঁকি মারতেই এটিএম বুথ নজরে আসলো রাফির।
রাফি – (ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে) Please stop the car.
ড্রাইভার – ok sir.
বলে গাড়ি সাইডে পার্ক করে। রাফি গাড়ি থেকে নেমে এটিএম বুথে ঢোকে। এটিএম মেশিনের স্ক্রীনে দূর্বোধ্য লোকাল ভাষা ব্যবহার করা।
রাফি – (ফোনে) কি করতে হবে?
– ডান হাতের উপর থেকে ২য় বাটনটি চাপো।
রাফি – কোন কার্ড ছাড়াই?
– Do as I say.
রাফি মাফিয়া গার্লের কথামত বাটনটি প্রেস করে।
– এবার ডান হাতের উপর থেকে ৪ নাম্বার বাটন চাপো, তারপর বাম হাতের ৪ নাম্বার বাটন চাপো।
রাফি ঠিকঠাক বাটন চাপতে থাকে। স্কীনে একটা ডায়ালগ বক্স লাফাতে দেখে রাফি।
– একটা ডায়ালগ বক্স এসেছে?
রাফি – হ্যাঁ, কিছু একটা চাইছে।
– এই নাম্বারটা দাও 567890, আবার বলছি 567890। এরপর সবুজ বাটন প্রেস করো।
রাফি নাম্বার ঠিকঠাক মত বসিয়ে সবুজ বাটনে চাপ দিলো। কিছুক্ষণের মধ্যে চিরচেনা আওয়াজ শুনতে পায় রাফি। ক্যাররররররররর।
নীচে ক্যাশ কাউন্টারে কিছু টাকা বের হয়ে এলো। সব মিলিয়ে ২০ হাজার লোকাল কারেন্সি।
– I hope it’ll be enough for now.
রাফি – কিন্তু কার টাকা এগুলো।
– সেটা এই মুহূর্তে না জানলেও চলবে। এখন ট্যাক্সিতে গিয়ে বসো। I’ll be in touch।
রাফি বুথ থেকে বের হয়ে আবারও ট্যাক্সিতে গিয়ে বসে। চলতে চলতে ট্যাক্সি গিয়ে থামে বেশ বড়সড় ৪ তারা হোটেলের সামনে। রাফি ড্রাইভারকে ট্যাক্সির বিল পে করে হোটেলের সামনে দাড়িয়ে থাকে। মাফিয়া গার্লের একটা মেসেজ আসে।
“Go to the reciption, I get you a reservation. Your name is Rocky and you are here for a meeting.”
রাফি রিসিপশনে গিয়ে নিজেকে রকি বলে পরিচয় দেয় এবং রিজার্ভেশন আছে বলে জানায়। রিসিপশন থেকে রাফিকে স্বাগতম জানায় এবং তার সবকিছু ঠিকঠাক করাই আছে বলে জানায়। রিসিপশনিষ্ট রুমের চাবি একজন হোটেল বয়ের হাতে তুলে দেয় এবং রাফিকে হোটেল বয়ের সাথে যেতে বলে। হোটেল বয় রাফিকে নিয়ে ৮ তলার একটা রুমে নিয়ে যায়। রুমটা বেশ বড়সড়, জানালাগুলোও বিশাল বিশাল। ব্যাগটা কাঁধ থেকে বিছানায় রাখে রাফি। তখন মাফিয়া গার্লের মেসেজ আসে,
“Now take rest, I’ll be in touch, if you need me, dial *66666#, I’ll call you and one thing, do not try to contact with anybody, please.”
রাফি মেসেজটা দেখে ফ্রেস হতে চলে যায়। ফিরে এসে জানালার দিকে মুখ করা চেয়ারটাতে বসে দেখতে থাকে শহরটাকে আর ভাবতে থাকে সামনে আর কি কি হতে চলেছে।

বিঃদ্রঃ ভাইয়ারা আপু হয়ে রিকুয়েস্ট দেবেন না। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-২

0

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-২

রাফি আর কথা বাড়ায় না। অসম্পূর্ণতা রাফিকে ঘিরেই আছে। কিন্তু কিসের এত অপূর্নতা। তোহাকে দিতে না পারা সময় নাকি মাফিয়া গার্লের করা উপকারের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করতে পারা?
তোহা – (অভিমানী কৌতুহল নিয়ে) বাবা মা কে জানিয়েছো? নিশ্চই জানাও নি!
রাফি সত্যিই ভুলে গিয়েছিলো। কিন্তু তাদের কাছ থেকেও তো অনুমতি নিতে হবে। পরিবারের উপর দিয়ে তো আর কম ধকল গেলো না।
রাফি – (বিস্মিত হয়ে) এই যা, বাবা মা কে তো আজ এমনিতেই ফোন দেয়া হয় নি। ফোন দেয়া উচিৎ, কি বলো?
তোহা – (অবাক হয়ে) অবশ্যই! তোমার এত বড় একটা খবর তাদের জানাবে না! এক্ষুনি ফোন দাও।
রাফি ভেতর থেকে ফোনটা নিয়ে আসে। মায়ের নাম্বারে ফোন দেয় রাফি। তোহা রাফির হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নেয়। ফোন কানে দিয়ে,
তোহা – (রাফির উদ্দেশ্যে) আমি বলছি তাদের, তুমি তো ভুলেই গিয়েছিলে। (ওপাসে ফোন রিসিভ হলো) হ্যালো, মা? আসসালামু আলাইকুম।
মা – ওয়ালাইকুমুস সালাম। কি খবর বৌমা, কেমন আছো?
তোহা – আলহামদুলিল্লাহ মা, আপনি কেমন আছেন? বাবা কেমন আছেন?
মা – এই আছি, আল্লাহ রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। (ঠাট্টার ছলে)তোমার শ্বশুরমশাইকে কখনো খারাপ থাকতে দেখেছো, সে সবসময় বিন্দাস থাকে। তোমাদের খবর কি?
তোহা – আলহামদুলিল্লাহ মা। মা জানো আজ কি হয়েছে? তোমার ছেলে কি করেছে?
মা – (আতংকিত) রাফি আবার কি করলো, সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো মা! কোন সমস্যা হয় নি তো আবার!
তোহা – আরে না মা, সব ঠিক আছে। আজ তোমার ছেলের ট্রেনিং অর্ডার এসেছে, দেশের বাইরে ট্রেনিং। আর ট্রেনিং শেষে প্রমোশন হবে আর তোমার ছেলে মন খারাপ করে বসে আছে। তার নাকি সবকিছু অসম্পূর্ণ লাগছে।
মা – (কৌতুহল নিয়ে) অসম্পূর্ণ! কেন? ট্রেনিং শেষে প্রোমোশন তো খুবই ভালো খবর, আলহামদুলিল্লাহ। (হালকা আওয়াজ আসে) ওগো শুনছো, তোমার ছেলের প্রোমোশন হবে। তাড়াতাড়ি এদিকে এসো।
তোহা – (অভিযোগ) তোমার ছেলেকে একটু বোঝাও তো, সুসংবাদ কিভাবে দিতে হয় সেটাও যদি এখন শেখাতে হয়।
মা – এই নাও তোমার বাবার সাথে কথা বলো।
বলে ফোনটা রাফির বাবার হাতে তুলে দেয় রাফির মা।
বাবা – হ্যালো মা? কেমন আছিস? কি করেছে হতচ্ছাড়াটা?
তোহা – এইতো বাবা আলহামদুলিল্লাহ। একটু ভালোভাবে বকে দাও তো তোমার ছেলেকে। ট্রেনিং শেষে প্রোমোশন পাবে জেনেও তার নাকি মন খারাপ।
বাবা – কই দে ত ওই হতচ্ছাড়াটাকে? সবকিছু হাতে কলমে শেখাতে হবে।
তোহা – এই নাও।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/


বলে ফোনটা এগিয়ে দেয় রাফির দিকে। রাফি এতক্ষণ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছিলো কিভাবে তোহা তার মা বাবা এতটা আপন হয়ে গেছে। কি সাবলীলভাবে অভিযোগগুলো করে গেলো অবলীলায়। তোহা ফোনটা দিয়ে হাতে খোঁচা দেয় রাফির।
তোহা – কি হলো? নাও? বাবা কথা বলবে।
রাফি ফোনটা কানে দিতেই গম্ভীর গলা টের পায়।
বাবা – কিরে রাফি? কি হচ্ছে এসব? সুখবর কেউ মন খারাপ করে দেয়?
রাফি – বাবা, পেছনের ঘটনাগুলো পিছু ছাড়ছে না। এখনো ভুলতে পারছি না ওসব। সব মিলিয়ে এখনো সুখবরের আন্দাজ করে উঠতে পারছি না। একটু আপসেট এই যা।
বাবা – (শান্ত গলায়) বড় হয়ে গেছিস এখন, বেশী কিছু বলবো না। জীবনের ঝড়ঝাপ্টা থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে হয়, ঝড়ের ধ্বংসস্তুপে বসে থাকতে নেই। অতীতের শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে শেখ। বিয়েসাদি করেছিস এখন বৌমার সামনে নিজের নাক কাটাস না।
রাফি – মাসখানেকের ট্রেনিং। নতুন কোয়ার্টার, তোমার বৌমাকে কি করবো?
বাবা – তোর ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না। আমাদের মেয়ে আমাদের কাছেই থাকবে। তোর যেখানে যেতে হয় তুই যা। আমরা আসছি আমাদের বৌমা কে নিতে। দে তো আমার মায়ের কাছে ফোনটা দে।
রাফি ফোনটা তোহার হাতে তুলে দিয়ে ইশারা করে যে সে ঘরে যাচ্ছে। তোহা আর বাবা আরো কিছুক্ষণ কথা বলে। রাফি ঘরে বসে মাফিয়া গার্লের কথা ভাবতে থাকে। যার এত সাহায্যে আজ তার চাকরীতেও অগ্রগতি, সেই মানুষটিকে সামান্য ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ ও পায় নি কখনো রাফি। যত ভালই হ্যাকার হোক না কেন মাফিয়া বয়, পালিয়ে বেড়ানোর সময় প্রয়োজনীয় রিসোর্স না থাকার কারনে মাফিয়া গার্লের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলো রাফি, এছাড়াও যে কাজ করতে এক চৌকস হ্যাকার টিমকে কয়েক সপ্তাহ লাগবে সেই কাজ মুহূর্তে করে ফেলে মাফিয়া গার্ল। সেই দূঃস্বপ্নের দিনগুলো চাইলেই ভুলতে পারবে না রাফি। মাফিয়া গার্ল যদি এত চৌকস হয় তাহলে মাফিয়া বয় হিসেবে আমার কমতি রয়ে গেছে অনেক। এখনো অনেক কিছু শেখার বাকী। ট্রেনিং টা জরুরী। পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী এন্টি সাইবার ক্রাইম ডিভিশনের আন্ডারে ট্রেনিং। সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। এসব কিছু ভাবতে ভাবতে তোহা ফিরে আসে বারান্দা থেকে। ফোনটা রাফির হাতে তুলে দিয়ে বলে,
তোহা – বাবা মা চান আমি যেন তোমার ট্রেনিং এর সময়টা তাদের সাথে থাকি। বাবা জানতে চেয়েছেন তুমি কবে যাচ্ছো। তারা তার আগে কোয়ার্টারে এসে আমাকে নিয়ে যাবেন।
রাফি – কাল অফিস থেকে ডিটেলস জেনে তাদের জানিয়ে দেবো।
তোহাকে অনেক খুশি খুশি লাগলেও চেহারার কোথায় যেন একটা মনপোড়া ছাপ দেখতে পেলো রাফি। তোহার জগৎভোলানো হাসি খুব ভালো করে চিনে গেছে রাফি তাই হয়তো ওই মনপোড়া ছাপ ধরতে অসুবিধা হয় না রাফির।
তোহা – (খুশিমনে) দাড়াও তোমার শ্বাশুড়িমা কে একটা ফোন দেই, জামাইয়ের কান্ডকারখানা তারাও একটু জানুক।
বলেই নিজের ফোন চেপে কল দিলো রাফির শ্বাশুড়িকে।
তোহা – হ্যালো, মা? …….. হ্যাঁ ভালো আছি। আজ কি হয়েছে জানো………….
পরদিন সকালে
অফিসে এসেই সোজা ডাইরেক্টর স্যারের রুমে চলে গেল রাফি,
ডাইরেক্টর – তো রাফি সাহেব? কি ডিসিশন নিলেন? ট্রেনিং এ যাবেন নাকি ঘরে বসে থাকবেন?
রাফি – একটা ইনফরমেশন জানার দরকার ছিলো স্যার। আমি কি আমার সাথে আমার স্ত্রীকে নিয়ে যেতে পারবো, মানে just in case.
ডাইরেক্টর স্যার রাফির দিকে ঘুরে তাকালেন।
ডাইরেক্টর – আপনার কোয়ারী শুনে আমার অবাক হওয়া উচিৎ ছিলো যদি না জানতাম যে আপনি নববিবাহিত। যাইহোক, সরকারের পক্ষ থেকে আপনার জন্য আপনার ট্রেনিংদাতা সংস্থার ডর্মেটরিতে থাকার ব্যবস্থা করেছে আর আমার জানা মতে সেখানে স্ত্রীসহ থাকা যাবে না। আর যদি আপনি আপনার মত থাকতে চান তাহলে হয়তো ট্রেনিংদাতা সংস্থা আপনার ট্রেনিং বাতিল করে দিতে পারে, এই ট্রেনিং শুধুমাত্র আপনার কীবোর্ড চালানোর দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং সবদিক দিয়ে আপনাকে চৌকস করে তুলবে। তাই আমি মনে করি এই ট্রেনিং ট্যুরে আপনার হানিমুন প্লান টা ক্যান্সেল করা উচিৎ।
রাফি ভিশন লজ্জা পেল, রাফির উদ্দেশ্য হয়তো হানিমুন ছিলো না কিন্তু তোহার চোখেমুখে থাকা মনপোড়া ছাপকে একেবারে অগ্রাহ্য করতে পারে নি রাফি। তাই হয়তো লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে ডাইরেক্টর স্যারকে প্রশ্নটা করে ফেলেছে।
রাফি – it’s okay, sir. এটা কেবলমাত্র একটি কৌতুহলবশত প্রশ্ন ছিলো। যাইহোক, আমি তৈরি। কবে যেতে হবে স্যার।
ডাইরেক্টর – I can understand your feelings Mr. Raffi. But This training is more difficult than any other. Less than 5% of outside trainee got passed from their tests. If you succeeded, they will train you as there own. Be serious about it. Start packing your bags, you’ll fly within 6 days. I’ll confirm you after I have your ticket. All the best.
রাফি – I’ll be ready by then. Thank you sir.
রাফি বের হয়ে আসে ডাইরেক্টর স্যারের রুম থেকে। নিজের ডেস্কে এসে কাজে ডুবে গেলো রাফি।
রাফি সব কাগজপত্র গোছাতে থাকে ট্রেনিং এর জন্য। অফিসের সবাই রাফির কাজ গুছিয়ে দিতে সাহায্য করতে লাগলো। কাজ গুছাতে নিজের ডেস্কে ফাইলপত্রের মাঝে উড়োচিঠি পায় রাফি, বেশ বড়সড় ধামকিওয়ালা চিঠি। চিঠিতে রাফির জীবননাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে। রাফি প্রথমে পাত্তা দিতে চায় না কিন্তু পর পর দুই দিন রাফি একই ধামকিওয়ালা চিঠি পায়। রাফি মোটমুটি আন্দাজ করতে পারে কারা এমন কাজ করতে পারে, কারেন্সি চুরির ঘটনায় যারা জড়িত তারাই হয়তো এমন কাজ করছে। কিন্তু রাফির জানামতে দোষীদের সবাইকেই গ্রেফতার করে আইনের আয়তায় আনা হয়েছে। তাহলে কে এই কাজ করছে? মেইলবক্সের সব চিঠির সাথে এই উড়োচিঠিগুলো এসেছে তাই চাইলেও রাফি ধরতে পারে না কে বা কারা এই চিঠিগুলো পাঠাচ্ছে। রাফি ঝামেলা থেকে বাঁচতে ডাইরেক্টর স্যারের মাধ্যমে থানায় একটা জিডি করে রাখে কিন্তু কম্পিউটার কম্পোজ হওয়ার কারনে পুলিশ হাতের লেখা ম্যাচিং করার সুযোগ পায় না তবে পুলিশ থেকে এই বিষয়ে সবধরনের সহায়তা করবে বলে জানায় রাফিকে।
পরবর্তীতে রাফি আর কোন উড়োচিঠি পায় না তবে রাফি চিঠিগুলো থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট বুঝতে পারে যে কেউ একজন হয়তো ভয়াবহ আকারে ক্ষেপে আছে রাফির উপর।
দুইদিনের মাথায় এক আধপাগলকে গ্রেফতার করে পুলিশ, পুলিশের ভাষ্যমতে কেউ একজন পাগলটাকে খাবার দেয় আর চিঠিগুলো পোষ্ট করে দিতে বলে কিন্তু মানষিক ভারসাম্যহীন একজনের কাছ থেকে হুমকিদাতা পর্যন্ত পৌছানো কিছুটা কঠিন। তবে পুলিশ টপ প্রায়রিটি দিয়ে কেসটা পর্যালোচনা করছে। খুব তাড়াতাড়ি একটা সমাধানে পৌছাতে পারবে বলে আশা পুলিশের। রাফি ডাইরেক্টর স্যারের কাছে নিজের পরিবারের সুরক্ষার জন্য অনুরোধ করে। ডাইরেক্টর স্যার ও আশ্বাস দেন যতদিন না আসল হোতাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে, প্রয়োজনে রাফি ফিরে আসার আগ পর্যন্ত রাফির পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
রাফির ফ্লাইটের ২ দিন আগে বাবা মা চলে আসে রাফির কোয়ার্টারে, রাফি চলে যাওয়ার পর তোহাকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে। পরিবারের কাছে হুমকি আর প্রটেকশন জাতীয় সবকিছু চেপে গেলেও বাবাকে কিছুটা খুলে বলে রাফি। রাফি পরিবার ছেড়ে ট্রেনিং এ যেতে রাজী নয় আর।
রাফি – বাবা, এতো ঝুটঝামেলার ভেতর আমি তোমাদের রেখে কোথাও যাবো না।
বাবা – আরে বোকা ছেলে। যারা এই চিঠিগুলো পাঠিয়েছে তাদের উদ্দেশ্যই এটা যেন তুই এই ট্রেনিং এ যেতে রাজী না হোস। যারা তোর সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত, তারাই তোর যাত্রা ভঙ্গের জন্য এইসব করছে।
রাফি – তারপরও বাবা আমি………..
বাবা – কোন কিন্তু নয়। আমি আমার ছেলেকে কাপুরুষ হিসেবে দেখতে চাই না। তুই যাবি আর ওইসব মানুষগুলোকে দাঁতভাংগা জবাব দিয়ে দিবি।
রাফি – কিন্তু তোমরা…
বাবা – তুই তো বললিই যে তোর অফিস থেকে প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করবে। তাহলে আর কি? এসবের জন্য এত বড় সুযোগ হারাস না।
অনিচ্ছায় স্বত্বেওও রাফি রাজী হয় ট্রেনিং এ যেতে। তোহা শুরু থেকেইই গোজগাছ করে রাফির ব্যগপত্র। ভালো ভালো রান্নাবান্না করলো মা মিলে। রাফি মোটামুটি মানষিকভাবে তৈরী হলো এই ট্রেনিং এর জন্য।
বাবা মা তোহা সবাই মিলে রাফিকে এগিয়ে দিতে এলো এয়ারপোর্টে। তোহার চোখ ভিজে আছে কিন্তু ঠোঁটে একটা হাঁসি ঠিকই ধরে রেখেছে। রাফি ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করবে তখন তোহা তার মুখ ঘুরিয়ে নিলো। বাবা মা হাত নেড়ে বিদায় জানালেও তোহা মুখ ঘুরিয়েই রাখলো। রাফি তোহার মনের অবস্থা আন্দাজ করতে পেরে রাফির মনটা মুচড়ে ওঠে কিন্তু রাফিকে নিজের জন্য হলেও এই ট্রেনিং এ যোগদান করতে চায়।
ইমিগ্রেশনের সব কাজ শেষ করে বিমানে গিয়ে বসে রাফি। বিমানবালা সবার ফোন সুইচ অফ করতে বলে কারন কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমান টেকঅফ করবে।
রাফি তার ফোনটা বের করে দেখে আননোন সোর্স থেকে বেশ কিছু মেসেজ এসেছে, সাথে বেশ কিছু ফোন। ফোন সাইলেন্ট ছিলো বলে টের পায় নি রাফি। প্রথম মেসেজটা ওপেন করে রাফি,
“You shouldn’t get on that plane”
রাফির কপাল কুঁচকে গেলো।
কি হলো এটা! হঠাৎ মাফিয়া গার্ল ওকে এমন মেসেজ দিলো কেন?
এদিকে বিমানবালা রাফির পাশে দাড়িয়ে বার বার ফোন বন্ধ করতে অনুরোধ করছে। রাফি ভেবে পায় না এখন সে কি করবে।

বিঃদ্রঃ ইনফরমেটিক গল্পের পর্ব গুলো একটু ছোটই হয়। তারপরো মনে মনে মাইন্ড খেলে ক্ষমা করবেন। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-১

0

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২পর্ব-১

লেখা-sharix dhrubo

টাইপ শেষ করতেই চ্যাটবোট উধাও হয়ে যায়। রাফিও বুঝতে পারে না কি হলো, আর কি ই বা হতে চলেছে রাফির জীবনে।
কপালের ভাঁজ ছিলো সারাদিনই, কিন্তু কাজের প্রতি অবহেলা করে নি রাফি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ল্যাপটপের স্ক্রীনের দিকে তাকায় রাফি, মাফিয়া গার্ল কেন এমনটা করলো তা ভেবে পায় না সে। নাহ, রাফির মন ছটফট করতেই থাকে। কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারছে না মাফিয়া গার্লের। অফিসের সময় শেষ হলে রাফি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দরজা কড়া নাড়ছে কিন্তু কোন সাড়া মিলছে না। তৃতীয়বার কড়া নাড়তেই তোহা দরজা খুলে দেয় কিন্তু রাফি তা খেয়াল ও করে নি। চতুর্থবারের জন্য দরজায় টোকা দেয়ার জন্য হাত বাড়াতে যাবে তখন তোহার মেকি কাঁশিতে ঘোর কাটে রাফির। দেয়াল থেকে চোখ ফিরিয়ে দরজার দিকে তাকাতেই যেন একটা আলোকছটা চোখে পড়ে রাফির। দরজায় তোহা দাড়িয়ে আছে। তেমন সাজে নি মেয়েটা, শাড়ীতে মোড়ানো, খোলা চুল, চোখে কাজল, কপালে টিপ আর ঠোঁটে হালকা রং এর ছোঁয়া। ব্যাস, এই মেয়েটাকে একটা হার্টবিটওয়ালা ডায়নামাইট বানাতে এতটুকুই যথেষ্ট। সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে পাড়ি জমানো এই অপ্সরী, রাফির মত একটা ছেলের জন্য কেন ফিরে এলো এই ভাবনায় রাফির মাথায় চুল পড়া শুরু হয়ে গেছে হয়তো বহু আগেই, রাফিই হয়তো খেয়াল করে নি। দরজার সামনে দাড়িয়ে তোহার চেহারার দিকে তাঁকিয়েই এই আকাশ পাতাল চিন্তা করে ফেলে রাফি। কিছুক্ষণ আগেও দেয়ালের দিকে তাকিয়ে মাফিয়া গার্লকে ভাবলেও দরজার ওপাসের পরীকে দেখে রাফির মস্তিস্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সারাদিনের ক্লান্তিতে শরীর অবস করে নিয়ে আসলেও তোহার মায়াবী চেহারায় বিমোহিত হয়ে ঠায় দাড়িয়ে থাকে রাফি। রাফির দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় তোহা, রাফিও বিমোহিত দৃষ্টিতে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দেয়। রাফিকে হাত বাড়াতে দেখে তোহার চোখ কিছুটা বড় করে, হালকা লাজুক চাহনীতে আলতো করে রাফির হাতটা সরিয়ে দিয়ে ঘাড়ের ব্যাগটা নিয়ে দৌড়ে চলে গেল ঘরের ভেতর। তোহার হাত বাড়ানোর উদ্দেশ্য যে ব্যাগ নেয়া ছিলো তা বুঝতে পেরে ভয়াবহ লজ্জা পেলো রাফি, বৌয়ের সৌন্দর্যের ঘোর কেটে বের হয়ে বাড়িয়ে দেয়া হাতটা ঘুরিয়ে এনে নিজের মাথায় নিজেই একটা আলতো চড় মেরে বসলো। নাহ, বৌ তার ভয়ংকর রুপসী।
ঘরে ঢুকে কিছুটা চমকে যায় রাফি। ঘরের সবকিছু একদম পরিপাটি করে ফেলেছে তোহা। কে বলবে যে তারা দুইদিন আগেই এই নতুন কোয়ার্টারে এসেছে। সবকিছু একদম ছিমছাম পরিস্কার। তোহা মেয়েটার যে শুধু অপরুপ তা নয়, করিতকর্মা ও। একাই পুরো ঘর সাজিয়ে ফেলেছে।
ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর খুবই পরিচিত এক সুবাস নাকে ধাক্কা মারতে লাগলো। কাচ্চি কাচ্চি কাচ্চি। রাফি চোখ বুজে সুবাস নিতে নিতে ড্রয়িং টেবিলের দিকে রওনা দিলো, তোয়ালেটা বিছানায় ছুড়ে মারবে তখনই,
তোহা – (উত্তেজিত) এই এই এই এই! কি করছো!
রাফি চোখ খুলে দেখলো তোহা সামনে দাড়িয়ে আছে। কোমরে হাত দিয়ে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে।
রাফি – (বিস্ময়ের সাথে) কি হলো?
তোহা – (অভিমানী অভিযোগ) আজ যদি ভেজা তোয়ালে বিছানায় রাখো তাহলে খেতে দিবো না কিন্তু, হুউ।
রাফির খেয়াল হয় আর একটু হলেই সে ভেজা তোয়ালেটা বিছানায় ছুড়ে ফেলতো। ভেজা তোয়ালেটা বুকে জড়িয়ে নিলো রাফি।
রাফি – (দুষ্টুমিতে) আচ্ছাআআআআ, তাহলে কি করা উচিৎ এই সন্ত্রাসী তোয়ালের সাথে যার জন্য আজ আমার উপবাস থাকার উপক্রম?
বলে হাতের ভেতর মোচড়াতে থাকলো তোয়ালেটাকে। তোহা চোখ বড় বড় করে রাফির কান্ড দেখছিলো আর গালে হাত দিয়ে নম্রস্বরে হাসছিলো।
তোহা -(হাসি হাসি) হয়েছে হয়েছে। আমাকে দাও। নিরপরাধ তোয়লের উপর আর অত্যাচার করতে হবে না।
বলে রাফির হাত থেকে তোয়ালের একপাশ ধরে বারান্দার দিকে যেতে চাইলো কিন্তু অপর প্রান্ত রাফি ধরেই রেখেছে তখনো। বাধা পেয়ে তোহা ফিরে তাকায় রাফির দিকে,
তোহা – ( অবাক) কি হলো? ছাড়ো তো?
রাফি – ( দুষ্টুমিতে) মাঝে মাঝে আমায় ছোঁয়ার জন্যও তো হাত বাড়াতে পারো, দেখতে পারো মাঝে মাঝে কার সাথে সংসার করছো, মানুষ নাকি ভুত।
তোহা – (আহ্লাদে) ভূতের সাথে সংসার করতে এসেছি আমি।
বলে টান দিয়ে তোয়ালে টা নিয়ে নিলো তোহা।
তোহা – (মিষ্টি গলায়) ডাইনিং রুমে যাও। আমি আসছি।
রাফি কিছুক্ষণ তোহার পথপানে চেয়ে থেকে চলে গেলো ডায়নিং রুমে।
কাচ্চি বিরিয়ানির সুবাসে সারাঘর একেবারে মৌ মৌ করছে। রাফি ডায়নিং এ বসে বেডরুমের দিতে উঁকি দেয় তোহার ফেরত আসার জন্য। সামনেই ডিসভরা কাচ্চি অথচো রাফি তোহার অপেক্ষায় বসেই আছে।
তোহা একপ্রকার দৌড়ে চলে এলো ডাইনিং এ , এসে থমকে গেল রাফিকে বসে থাকতে দেখে। যেন ভুত দেখছে তোহা।
তোহা – (অবাক হয়ে) তুমি এখনো শুরু করো নি?
রাফি – (বিস্ময়) কি শুরু করবো? আজ সেফ আমাকে সার্ভ করবে।
তোহা – (অবাক) তবে মা যে বলেছিলো………….
রাফির কপাল কুঁচকে যায়, স্থীরভাবে তোহার দিকে তাকায়।
রাফি – (কৌতুহল নিয়ে) মা? মা কি বলেছিলো?
তোহা – (প্রসংগ এড়াতে) না না, কিচ্ছু না বলে খাবার বাড়তে লাগলো।
রাফি ডুব দিলো অতীতের পাতায়, আজকের আগে সে কোনদিন কারো জন্য কাচ্চি বিরিয়ানিকে অপেক্ষা করায় নি। এমনও হয়েছে সবাই রাফির অপেক্ষায় কাচ্চি না খেয়ে বসে আছে আর রাফি এসে ম্যানুতে কাচ্চি দেখে কাউকে না ডেকে একাই সেটে দিয়েছে। কাচ্চিই রাফির ভালোবাসা। কিন্তু আজ কি হলো! রাফি অপেক্ষা করিয়েছে কাচ্চিকে! ক্যামনে সম্ভব!
মা তাহলে বিরিয়ানির গল্প তোহাকে বলে দিয়েছে!!! কিছু বলতে গেয়েও ভাষা হারিয়ে ফেলে রাফি। চুপচাপ বসে তার পার্সোনাল সেফ এর খাবার সার্ভ করা দেখতে লাগলো।
তোহা মুচকি হাঁসতে হাঁসতে রাফির প্লেটে বিরিয়ানি তুলে দেয়, রাফি প্লেটের দিকে তাকিয়ে মনে মনে কাচ্চিকে বলতে থাকে ” My love, তোমার সতীন চলে এসেছে।”
রাফির মনে হলো প্লেটভরা বিরিয়ানিও ওর কথার পাল্টা জবাব দিয়ে বললো “আগে খেয়ে তো দেখো আমার সতীন আমায় রাঁধে কেমন?”
রাফি তোহার দিকে লজ্জা নিয়ে তাকিয়ে কাচ্চিতে হাত ডোবায়। তোহা রাফির মন্তব্য শোনার জন্য তাকিয়ে থাকে রাফির দিকে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে একলোকমা তুলে গালে চালান দেয় রাফি। দুইবার গাল নাড়ানোর পর থেমে যায় রাফি, চোখটা বন্ধ হয়ে যায়।
রাফি – (উত্তেজনায়) উম …..উ…উম..উম..উম।
তোহা – (উৎকন্ঠার সাথে) কি হলো?
রাফির মুখ দিয়ে কোন কথা বের হয় না। অমৃতের স্বাদ নিতে আরো একলোকমা গালে ঠেসে দেয় সে। এদিকে তোহা যে হা করে উৎকন্ঠার সাথে রাফির মন্তব্য শোনার জন্য বসে আছে সেদিকে রাফির কোন খেয়াল নেই। যেন তোহার কোন কথাই শুনতে পায় নি রাফি।
গোগ্রাসে পুরো প্লেট সাফ করে ফেলে রাফি। কৌতুহলবসত রাফির চোখ যায় তোহার দিকে। কিন্তু যা দেখলো তা সাধারণ কিছু ছিলো না। তোহার চোখ বিশাল হয়ে গেছে, গালটাও হা হয়ে আছে, সামনে প্লেটে বিরিয়ানি রাখা কিন্তু মনে হয় না এখনো একলোকমাও তোহা গালে তুলেছে। রাফি তোহার চোখের সামনে হাত নাড়ায়। কিন্তু তোহা শুধু একটা চোখের পলক ফেলে রাফির হাত নাড়ানোর জবাবে।
তোহা -(অবাক) ক্যামনে পারে মানুষ?
রাফি – (কপালে ভাঁজ এঁকে) কি পারবে মানুষ?
তোহা – (উত্তেজনায়) আগে বলেন রান্না কেমন হয়েছে!
রাফি – (উল্লসিত হয়ে) লা-জওয়াব, মাইন্ডব্লোইং, সুপার সে উপার, ১এর ক, মারহাবা।
পুরোটা একদমে বলে তোহার চোখের দিকে তাকায় রাফি, রাফির মুখে ওভাবে কাচ্চির প্রসংসা শুনে লজ্জায় মেয়েটার গালদুটো লাল হয়ে গেল।
রাফি – জীবনে হয়তো কোনদিন আমি এত দ্রুত বিরিয়ানি শেষ করি নি। অমৃত ছিলো কাচ্চিটা।
তোহা – (লজ্জা পেয়ে) এত ভালো হয়েছে! (রাফি হ্যাঁ সূচক মাথা দোলায়) হয়েছে হয়েছে এখন যাও।
রাফির খাওয়া শেষ হলেও টেবিল ছেড়ে ওঠার নাম নেয় না। তোহা আড়চোখে রাফিকে দেখছে আর ছোট্ট একটা লোকমা তুলে গালে দিচ্ছে, আর রাফি তোহার খাওয়া দেখছে।
তোহা – (জোর করে) কি হলো, যাওও।
রাফি – আমিতো তোমার রান্নার স্বাদে ভেসে গিয়ে তোমাকে রেখেই খেয়ে নিলাম, এখন না হয় তোমার পাশে বসে তোমাকে সংঙ্গ দেই।
তোহা – (মুচকি হেসে) হয়েছে, সঙ্গ দিতে হবে না, এখন যাও তো। (মনে মনে) রাফিজ্বী আপনি আমার জন্য বিরিয়ানিকে ওয়েট করিয়েছেন দেখেই আমার মন আপনার সংঙ্গ পেয়ে গেছে।
রাফি আর অপেক্ষা না করে বেডরুমের বারান্দায় চলে গেল। আর ভাবতে লাগলো তোহার কথা। এই মেয়েটা কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসলো রাফির জীবনে আর এক পলকেই পাল্টে দিলো রাফির পুরো পৃথিবীকে। মনে মনে আবারো বৌয়ের প্রেমে পড়ে রাফি।
পরদিন সকাল
রাফি তৈরী হয়ে অফিসে রওনা দেবে এমন সময় তোহা একটা লাঞ্চবক্স এগিয়ে দেয়।
তোহা – (গম্ভীর গলায়) আজ থেকে দুপুরে বাইরের খাওয়া বন্ধ। ঠিক সময়ে খেয়ে নিবা। আমি কিন্তু ফোন দিয়ে শুনবো খেয়েছো কি না।
রাফি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আসলে এমন সিচ্যুয়েশনে কি বলা উচিৎ বা কি করা উচিৎ তা জানে না রাফি। তাই শুধু আচ্ছা বলে বেরিয়ে আসে রাফি।
অফিসে পৌছে রাফি দিনের কাজ শুরু করে। কিছুক্ষন পর ডাইরেক্ট স্যার রাফিকে তার রুমে ডেকে নেন।
রাফি – আসসালামু আলাইকুম, স্যার। আসতে পারি?
ডাইরেক্টর – ওয়ালাইকুমুস সালাম রাফি। ভেতরে আসেন।
রাফি চেম্বারের ভেতরে ঢুকে টেবিলের সামনে দাড়িয়ে রইলো। ইজাজ স্যার (প্রয়াত ডাইরেক্টর) খুব মিষ্টি একটা হাসি দিতো রুমে এসলেই। অথচো ডাইরেক্টরের চেয়ারে বসে থাকা বর্তমান মানুষটির কাছ থেকে এমনকিছু আশা করে না রাফি। গতকাল মাফিয়া গার্ল হয়তো এমন কিছু করেছে যে কারনে আজ ডাইরেক্টর রাফিকে আপনি করে বলছেন। সম্মান আর শ্রদ্ধা মন থেকে আসে, জোর করে ডাইরেক্টর স্যারের কাছ থেকে সম্মান আদায় করার পক্ষপাতী না রাফি।
ডাইরেক্টর – কি হলো! বসুন। হাতের কাজটা সেরেই কথা বলছি।
রাফি – স্যার যদি আপনি ব্যস্ত থাকেন তাহলে আমি পরে আসি?
ডাইরেক্টর – না না না, বসো। ব্যপারটা জরুরী।
রাফি আর কথা না বাড়িয়ে বসে পড়ল ডাইরেক্ট স্যারের সামনে। হাতের কাজ সেরে রাফির দিকে ঘুরে বসলেন ডাইরেক্টর।
ডাইরেক্টর – তারপর মি. রাফি? কেমন লাগছে অফিস?
রাফি – (বিব্রতবোধ করে) আগের মতনই। শুধু আপনাকেই নতুন পেয়েছি।
ডাইরেক্টর – বুঝতে পেরেছি। ইজাজের অকাল প্রয়ানে আমিও মর্মাহত। যিনি চলে গেছে তাকে তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না, শোককে শক্তিতে পরিনত করে সামনে এগনো উচিৎ। যাইহোক, যেজন্য ডেকেছি আপনাকে।
রাফি – (বিব্রত হয়ে) আমাকে তুমি করে বলবেন স্যার। আমি আপনার অধিনস্থ এবং বয়সেও ছোট, আপনি শুনতে অশোভন লাগে।
ডাইরেক্টর – সময়ের সাথে সাথে এডজাষ্ট হয়ে যাবে মি. রাফি। (বলে একটা কাগজ এগিয়ে দিলেন রাফির দিকে) পড়ুন।
রাফি পড়তে শুরু করে। রাফির জন্য একটা ট্রেনিং অর্ডার। দেশের বাইরে বড় একটা এন্টি সাইবার ক্রাইম ডিভিশনের আন্ডারে রাফির ট্রেনিং হবে মাসখানেক। সফলভাবে ট্রেনিং সম্পন্ন করলে প্রোমোশন হবে রাফির।
ডাইরেক্টর – উপরের অর্ডার, আপনার মত ইফিশিয়েন্ট অফিসারকে আরো চৌকস করে তুলতে এই স্পেশাল ট্রেনিং এর ব্যবস্থা।
রাফি – আমাকে একটু ভাবার সময় দিন। পরিবারের সবার সাথে কথা না বলে আমি হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না।
ডাইরেক্টর – Take your time, but it is a government order, mind it.
রাফি – I will, sir.
বলে রাফি উঠে দাড়ায়। বিয়ের পর একের পর এক ঝড় এসেই চলেছে রাফির জীবনে। এখন ট্রেনিং এর জন্য আবার দেশের বাইরে যেতে হবে। রাফি সাতপাচ ভাবতে ভাবতে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে। এদিকে রাফির ফরেন ট্রেনিং ট্রিপের কথা মোটামুটি সারা অফিস জেনে গেছে। সবাই এসে রাফিকে কংগ্রাচুলেশনস জানায়। অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও রাফি হাসিমুখে ধন্যবাদ জানায় সবাইকে।
অফিস সেরে বাড়িতে ফেরে রাফি। তোহা একগাল হাসি নিয়ে দরজা খোলে কিন্তু আজ আর রাফির চোখ তোহার হাসির উপর পড়ে না। মুখ ভার করে ঘারের ব্যাগটা তোহার হাতে তুলে দেয় রাফি। চুপচাপ রুমে চলে যায় ফ্রেশ হবার জন্য। তোহা আন্দাজ করতে পারে কিছু একটা হয়েছে কিন্তু কি হয়েছে তা ধরতে পারে না। এমন সিচুয়েশনে নেগেটিভ চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক।
রাফি ফ্রেস হয়ে বের হয় ওয়াশরুম থেকে। আজ আর বিছানায় তোয়ালেটা ফেলে না রাফি, সোজা বারান্দায় গিয়ে দাড়িয়ে পড়ে।
তোহা পেছন পেছন এসে রাফির পাশে দাঁড়ায়।
তোহা – কি হয়েছে তোমার? মন খারাপ কেন?
কিছুটা চমকে ঘুরে তাকালো পেছন দিকে। তোহাকে দেখে আবারো চোখ ঘুরিয়ে নিলো।
রাফি – কিছুই না। হয়তো আমার খুশি হওয়া উচিৎ কিন্তু বুঝতে পারছি না।
তোহা – বলবে তো কি হয়েছে?
রাফি ঘরে চলে যায়। ব্যাগ থেকে কাগজটা বের করে তোহার হাতে ধরিয়ে দেয়।
তোহা কৌতুহলের সাথে কাগজটা খোলে। পুরোটা পড়ে তোহার চোখ চকচক করে ওঠে।
তোহা – বাহ বাহ অফিসার! বিদেশে ট্রেনিং, ফিরে আসলে প্রোমোশন। ওয়াহ মি. রাফি। আপনার তো মহা খুশি হওয়া উচিত। তা আপনি এত মনমরা হয়ে আছেন কেন?
রাফি – (উদাসীনভাবে) জানি না। একের পর এক ঝামেলা পেরিয়ে এই সুসংবাদটাকেও এখন আর আনন্দময় লাগছে না। কেন যেন অসম্পূর্ণ সবকিছু। বিয়ের পর থেকে একটা দিনও ঠিকমত তোমার সাথে কাটাতে পারলাম না। ভয়ংকর এক মরনজাল থেকে মরতে মরতে ফিরে এলাম। কিছুটা সময় তো লাগবে স্বাভাবিক হতে।
তোহা -(হাসিমুখে) এইজন্যই কি আপনার মুখ ভার হয়ে আছে!
বলে রাফির বাম হাতের ভেতর নিজের হাত জড়িয়ে মাথা ঠেকায় রাফির হাতে। রাফি আর কথা বাড়ায় না। অসম্পূর্ণতা রাফিকে ঘিরেই আছে। কিন্তু কিসের এত অপূর্নতা। তোহাকে দিতে না পারা সময় নাকি মাফিয়া গার্লের করা উপকারের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করতে পারা?

চলবে???

Crush যখন বর?Season_2 part 1/2/3

1

Crush যখন বর?Season_2
Writer-Afnan Lara

#Part_1
ফইন্নি,তোর শান্তি হয় না আমারে না জ্বালাইয়া??মাগো আমার হাত গেছে,তোর জিএফ রে কইয়া দিমু,শয়তান ছেলে
শিশির-যাও বলো,সাহস থাকলে,কাঁচা গিলে ফেলবো
তুলি-লজ্জা করে না??জিএফ থাকতে এমন করতে আমার সাথে?
শিশির-কি করসি??
তুলি-এভাবে আমাকে টেনে আনছেন কেন??মানুষ কি ভাবে?
শিশির-যাই ভাবুক, আমার কি?আর তুমি আমাকে ভেংচি মারছো কেন??
তুলি-হুহ,
হাত ছাড়িয়ে নিলাম,বাসার দিকে চলে আসলাম,
(শিশির গল্পের নায়ক,তুলি নায়িকা?আগের টার চাইতেও এটা interesting হবে?)
তুলি-ইস সবাই কেমন আমার দিকে তাকিয়ে আছে,শয়তানটার কোনো common sense নাই?,,
তুলিদের বাসার পাশেই থাকে শিশির,, daily দেখা হয়,,,
তুলি -বাসায় আসলাম,আম্মুউউ
আম্মু-কি?চিল্লাস কেন?
তুলি-দেখো না মা শয়তানটা আজ আমার হাত ধরে ওদের বাসার সামনে নিয়ে গেছে,আশেপাশের মানুষ কি ভাববে?
আম্মু-আমি তোর আব্বুকে বলতেছি,
তুলি -হ্যাঁ বলো,
শিমুল ফোন দিলো,
তুলি-হ্যালো শিমুল
শিমুল-জান কি করতেছো?(তুলির বিএফ)
তুলি-?কিছু না,পরে কল দিবো,বাই
ঐদিকে♥
রুনা-হ্যালো বেবি, কেমন আছো?
শিশির-পরে কল দিবো,ভালো লাগতেছে না,বাই
তুলি-কাল আবার Disturb করতে আসলে চড় মেরে দিবো,?
শিশির-কাল ওর ১২টা যদি না বাজাইছি,

২বছর আগের ঘটনা♥
তুলি-উফ ৭দিন হয়সে এখনও দেখি নাই,কচু,এই বাসার পোলা টা heavy,আমি তো দেখেই ফিদা?? আমার প্রথম ভালোলাগা,ভালোবাসা,
স্কুলে যাওয়ার সময় তাকাইছি ওর বাসার দিকে দেখি নাই,
ধুর,
তুলি-
আইতে দেখি???যাইতে দেখি,??দেখি তোমায় বারবার ???তোমায় না দেখিলে ভাললাগে না ??
আজ দেরি করে বের হয়সি বাসা থেকে, ধুর দেরি হয় গেসে,
অর্ধেক পথে গিয়ে আটকে গেসি,আর হাঁটতে পারুম না,কারন আমার সামনে শিশির,সাইড দিয়ে চলে গেলো,
বুকের ভেতর কাঁপতেছে,
আজ ফইন্নির মতন বের হয়সি আর আজই দেখা হলো,হ্যাঁ একবার তাকায়ছে আমার দিকে,?????
রাতে♥
তুলি-একি এটা তো শিশিরের আইডি,Frd request দিসি??হিহি
শিশিরের বোন আমার এক ক্লাস junior,,
তুলি-মুনা(শিশিরের বোন)
মুনা-জী আপু
তুলি-কেমন আছো?
মাইমুনা-এইতো ভালো,তুমি?
তুলি-ভালো?
মেলা হচ্ছে,
উফ আজ যদি দেখতাম তারে???
frdদের সাথে এসেছি মেলায়,,
জিনিয়া-আজ তোর খবর আছে তুলি,আমারে কাল নোট দেস নাই,দাঁড়া
তুলি জিনিয়াকে দেখেই এক দৌড় মারলো,
তুলি -আল্লাহ গো আজ আমি শেষ,,তুলি জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে দৌড় মারছে,ঠাস!!!!
তুলি পড়ে গেলো,
সাথে আরেকজন পড়ছে,
একি???এটা শিশির,খায়সে আমারে
তুলি হা করে তাকায় আছে,
শিশির -দেখে চলতে পারেন না?
তুলি-আআআ?
জিনিয়া-ধরছি তোরে,
শিশির-হুহ,
শিশির উঠে চলে গেলো,তুলি এখনও বসে তাকিয়ে আছে,ইস কি বডি?ডাকাত ডাকাত লাগে??
চলবে♥

Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_2
তনু-ইচ্ছে করে block করে দিই, দিলে আমারে নিয়ে পুকুরে চুবাবে,সেইবার অবস্থা খারাপ হয়ে গেসিলো,,
(আজ থেকে নায়িকার নাম তনু)
শিশির-এই রসগোল্লা
তনু-হারামি একদম আমাকে এই নামি ডাকবি না,
শিশির-রসগোল্লারে তাইলে কি ডাকবো??
তনু মেসেজ সিন করে রেখে দিলো,,
শিশির-এ্যাই
তনু-কি?
শিশির-কাল তো তোমার কলেজে অনুষ্ঠান??
তনু-হুম
শিশির-যাবে না
তনু-যাবো
শিশির-মানা করসি আমি,,অনেক ছেলে আসবে,না যাওয়াই ভালো
তনু-আপনার কথা শুনতে আমি বাধ্য নই,,
তনু ডাটা অফ করে দিলো,,
পরেরদিন ♥♥♥♥
তনু লাল একটা শাড়ী পরলো,,হাতে লাল কাঁচের চুড়ি,,
লাল লিপ্সটিক,,রেডি হয়ে বের হলো,,
শিশিরদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়া লাগে,,
তনু সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ উপর থেকে এক বালতি পানি তনুর গায়ে ঢেলে দিলো শিশির,
তনু shock খেলো,এটা কি হলো??তনু উপর দিকে তাকালো,শিশির দাঁত বের করে হাসতেছে,
রাগে তনুর মাথা ফেটে যাচ্ছে,
শিশির নিচে নেমে তনুর হাত ধরে বাসার ছাদে নিয়ে এলো,
তনু ছাড়ানোর জন্য ইচ্ছামতো খাঁমছি দিতেছে,
শিশির তনুকে এনে চেয়ারে বসিয়ে দিলো,,
শিশির এবার এক বালতি পানি নিয়ে তনুর সামনে বরাবর বসলো,
শিশির-হুম পালানোর চেষ্টা করলে এই বালতি ও ঢেলে দিব,
তনু রাগ নিয়ে বসে আছে,,
শিশির -আমি মানা করসি শুনো নাই,এবার বুঝো?
তনু শীতে কাঁপতেছে,,
শিশির বসে বসে ফোন টিপতেছে,,প্রায় ২ঘন্টা পর তনুকে ছাড়লো,
শিশির-যাও বাসায়,অনুষ্ঠান শেষ,
তনু চেয়ার থেকে উঠে শিশিরের গালে চড় মেরে দিলো,
তনু-কি চান আপনি আমার থেকে??আপনার ভালোবাসার মানুষ আছে,,সব আছে তার পরেও আমাকে নিয়ে এমন করেন কেন??আমি তো কেউ না,তার পরেও!!!
শিশির তনুর চুল ধরে ওকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো,,,কি বুঝাতে চাও?আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা??হাহাহা,পাগল আমি??কখনও নাহ,ভালোবাসি না,আমি রুনাকে ভালোবাসি,,
তনু-জানতাম,
তনু চলে এলো বাসায়,,
মা-কিরে তোর এই অবস্থা কেন?
তনু-জানি না,
রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম,
এতো সুন্দর করে সেজেছি আর কি করলো??ভিজিয়ে দিলো,
শিমুল-বেবি কলেজে আসবা না??
তনু-না,
শিমুল-কাল দেখা করবা??
তনু-ঠিক আছে,,
পরেরদিন ♥
তনু আর শিমুল একটা restaurant e আসলো,
ভাগ্যবশত শিশির আর রুনাও সেই restaurant এ,,
শিশির আর তনু দুজনকে দেখে শক খেলো,তারপর নিজেদের মতন বসে পরলো,,
শিশির-রুনা,আসো কিস করবো,,
রুনা-ওকে,উমমমম
শিমুল-দেখো ওরা কিস করতেছে,আসো আমরাও কিস করি,
তনু-একটা থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফালায় দিব,বিয়ের আগে টাচ ও করবি না,যা distance রেখে বস,
শিশির তনুর কথা শুনে বিষম খেলো,,
রুনা-কি হলো বেবি কিস মি
শিশির-সরো তো,বিয়ের আগে কিছু না,,
শিমুল-এটা কি?তুমি আমার জিএফ আর একটু টাচ ও করতে পারবো না??
তনু-না পারবি না,আমি তো তোরে প্রথম দিনই বলসি আমাকে টাচ করা যাবে না,,
শিমুল-ফাইন,,
রুনা-আসো না কিস করি,সবাই করে, আমরাও করবো
শিশির-পাগল নাকি?এত উতলা হয়সো কেন??বিয়ে তো দেরি না
রুনা-তাহলে চলো বিয়ে করি,তুমি তো জব করতেছো,
শিশির-আমার বিয়ের বয়স হয়নি
রুনা-আর কতো হবে?
শিশির-চুপ করো তো,,
তনু ভেঁংচি দিয়ে শিমুলকে নিয়ে চলে গেলো,,
শিমুল-কাল কলেজে আসো নাই কেন?
তনু-শয়তানটা তো…….
শিমুল-কে?
তনু-কেউ না,,বাদ দাও,
শিমুল-চলো পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি
তনু-আমি কতো ছোট, এত তাড়াতাড়ি বিয়ে?তাও পালিয়ে?পাগল হয়সো??আব্বু যার লগে কইবো তারে করুম
শিমুল -ও,যদি আমাকে লাইক না করে?
তনু-আমি কি জানি,
রুনা-বেবি, pls kiss me
শিশির-এই পাগল নাকি,মাগো মা,আমি এসব করি না
রুনা-আমি করি,আসো
শিশির-উফ,
শিশির উঠে চলে গেলো
চলবে ♥

Writer-Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Season_2
#Part_3
বাসায়♥
মা-তনু যা তো উঠানে শুটকি গুলা রোদে দিয়ে আয়,,
তনু-ওকে
মা-কিরে যাস না কেন?
তনু-ওড়না খুঁজে পাইতেছি না
মা-এমনি যা,কে দেখবে?
তনু গিয়ে উঠানে শুটকি রোদে দিলো,
শিশির তখন ঐ রোড দিয়ে যাচ্ছিলো,তনুদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে চোখ আটকে গেলো,,
তনুদের বাসা whole boundary তে ঘেরা,,একটা পাশ complete বাকি আছে,শিশির সেই পাশ দিয়েই তনুকে দেখলো,
তনু দাঁড়িয়ে খোঁপা বাঁধতেছে,
তনু-এমা কাঠি টা কই?ধুর কি দিয়ে চুল বাঁধবো,হাতেই তো ছিলো,
তনু চুল ছেড়ে দিয়ে কাঠি খুঁজতে লাগলো,,
শিশির হা করে তাকিয়ে আছে,
টিটু-ভাই কি দেখস??
শিশির টিটুর চোখ হাত দিয়ে ঢেকে ফেললো,
টিটু-রুনা?
শিশির-না,
টিটু-তাইলে কে??
শিশিরের হুস আসলো,,সোজা গিয়ে তনুদের গেটে এসে নক করলো,
তনু গায়ে হাত দিয়ে দৌড় মারলো,,
তনু-বাবা কে জানি আসছে,গিয়ে দেখো,
বাবা গিয়ে গেট খুললো,
বাবা-হ্যাঁ বলো
শিশির-আসসালামুআলাইকুম
বাবা-ওয়ালাইকুম আসসালাম
শিশির-আপনাদের এই জায়গা টা যে খালি আশেপাশের ছেলেরা যে নজরে তাকায় তা দেখলাম,তাই যত তাড়াতাড়ি পারেন complete করে দেন,,
বাবা-হ্যাঁ করবো, আসলে এতবড় এরিয়া করে হাতের টাকা শেষ
শিশির-জী বুঝতে পারসি,আসি তাহলে,
বাবা-ঠিক আছে,
তনু-বাবা কে আসছে?
বাবা-ঐ বাসার ছেলেটা আসছে
তনু-কেন?
বাবা-বলসে boundary টা যত তাড়াতাড়ি পারি complete করতাম,
তনু-?(ওর কি?)
বাবা-যাও পড়তে যাও,
তনু-হুম,,
শিশির তনুকে একটা ছবি দিলো,,শিশির রুনাকে জড়িয়ে ধরে আছে,,
শিশির-Me and my Would be
তনু-আমাকে দেন কেন???
শিশির-এমনি,কি সুইট না?
তনু সিন করে রেখে দিলে,
খুব কান্না পাচ্ছে,,একসময় তনু শিশিরকে খুব ভালোবাসতো,,,যেদিন বলতে যাবে সেদিন তনু জানতে পারে শিশিরের ভালোবাসার মানুষ আছে,রুনা,তার পর থেকে তনু সরে যায়,,,বাট ভুলতে পারে না দেখে নিজেই রিলেশন করে শিমুলের সাথে,,,
কিন্তু শিশির এমন কেন করে??ও তো নিজেই বলেছে ও আমাকে ভালোবাসে না তাহলে??
ধুর,,
সেই ২বছর আগে তনু শিশির বলতে অজ্ঞান ছিলো,শিশিরকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যেতো,,ওদের বাসার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ১০০বার তাকাতো,,,গুনে গুনে ২০দিন পর দেখা হতো,,
কত কবিতা শিশিরকে নিয়ে লিখতো,,হিসেব নেই,,এফবি আইডি খুলার পর একদিন শিশিরের আইডি দেখলো,,,Frd request দিলো,,শিশির Accept ও করলো,,শিশির বুঝতে পারলো এটা তার বাসা থেকে একটু দূরে থাকা মেয়েটি,,
তো আলাপ হয়,,,
তনু একদিন ঠিক করলো সে শিশিরকে Propose করবে,,ঠিক সেদিন শিশির তার কভারে একটি মেয়ের পিক আপ দেয়,,
Comment এ একজন ask করসে এটা কে?
শিশির জবাবে বললো তোদের ভাবী,,
তনু সেই থেকে সরে গেসে,,আর তাকায়নি শিশিরের দিকে,, blk করে দিসিলো,,যার কারনে
একদিন ♥
তনু হাঁটতে বের হয়েসিলো,,
হঠাৎ কেউ একজন ওকে টান দিয়ে নিয়ে শক্ত করে দুহাত চেপে ধরলো,
তনু কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো,চিৎকার দেওয়ার উপায় ও নাই,,শিশির মুখ ধরে রাখসে,
শিশির-এ্যাই তুমি আমাকে blk দিসো কেন?
তনু-এমনি
শিশির-তাই না?
শিশির এক ধাক্কা দিয়ে তনুকে পুকুরে ফেলে দিলো,
শিশির -আমি ১০মিনিট পর বাসায় যাবো,,গিয়ে যেন দেখি unblk করসো,,
শিশির shirt খুলে পুকুরে ঝাঁপ দিলো,তনুকে শক্ত করে ধরে রাখলো,
পুকুরে শিশিরের নামার কারন আছে, কারন হলো তনু সাঁতার জানে না,শিশির সেটা জানে,Already তনু পানি খেয়ে ফেলেছে,,
শিশির-আরেকটা ডোজ দিতে হবে,শিশির তনুকে ২বার পানিতে চুবিয়ে দিয়েছে ,তারপর কোলে তুলে উপরে এনে ঠাস করে ছেড়ে দিলো,
তনু কাশতে কাশতে শেষ,,
শিশির ওড়না নিয়ে ওর গায়ে পেঁচিয়ে দিলো,
শিশির-যাও বাসার দিকে,Next time আশা করি blk করার সাহস পাবা না,
তনু লজ্জায়, রাগে চিৎকার দিলো,
আশেপাশের মানুষ আছে,তাদের মধ্যে দুএকজন ব্যাপারটা খেয়াল ও করেছে,তনুর দিকে তাকিয়েও আছে,
তনু উঠে এক দৌড় মারলো বাসার দিকে,
চলবে♥

Crush যখন বর?part67/68/শেষ পর্ব

0

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_67
শিশির -সরি,কাল শাড়ী পরিও,আর হ্যাঁ পেট জেনো না দেখা যায়
তনু-পেট দেখা গেলে কি হবে?
শিশির-কামড় দিব,মানা করসি শুনবা
তনু-আইচ্ছা,
তনু চলে যাওয়া ধরলো,,শিশির হাতটা ধরে ফেললো,
তনু-কি?
শিশির টেনে নিজের কাছে আনলো
তনু বুঝতে পারলো হাতা ছিঁড়ার দিকে তাকিয়ে আছে শিশির
শিশির-রাগটা control করতে পারলাম না,আমার বস না হলে মেরে দিতাম
তনু-হয়সে ছাড়েন
শিশির-না,তিলটাহ♥?
তনু-এই না ছাড়ুন,কাতুকুতু লাগে
শিশির-লাগবে না,
শিশির ঝুঁকে তিলটাই কিস করলো,
তনু চোখ মুখ খিঁচে রাখসে,
অনেক্ষন হলো শিশির ছাড়তেছেই না,তনু শক্ত করে শিশিরের একটা হাত ধরে আছে,
তনু-ব্যাথা হয়ে গেসে,চামড়া উঠাবেন নাকি??ঐ বেলুর উপর রাগ আমার উপর দেখান কেন?
তনুর কথায় শিশির ছেড়ে দিলো,তিলটার জায়গায় টুকটুকে লাল হয়ে গেসে,
শিশির-হুম যাও change করে আসো
তনু-হুম
তনু বাথরুমে গিয়ে জামা খুললো,আয়নায় দেখলো তিলটার জায়গায় লাল হয়ে গেছে,তিলটাই দেখা যাচ্ছে না
তনু মুচকি হাসলে,জামা আরেকটা পড়ে নিলো,
শিশির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে এখনও,
তনু এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো,
তনু-fresh হবেন না??
শিশির-হুম,
তনু গিয়ে পাশে দাঁড়ালো,বাতাসে চুল উড়তেছে,,
শিশিরের বউয়ের একটা গুন,চুল তার কোমড়ের নিচ পর্যন্ত,,
শিশির চুলের ভিতর হাত দিয়ে তাকিয়ে রইলো
তনু-কি ভাবেন এতো?
শিশির-ভাবতেসি হয়ত আম্মুর কথা না শুনে সেদিন বিয়ে ভেঙে দিলে আজ তোমায় পেতাম না
শিশির তনুর দিকে হাত বারিয়ে দিলো
তনু শিশিরের হাত ধরে ওর কাছে গেলো
তনু এসে শিশিরের পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালো,
তনু আস্তে আস্তে বললো,,ভর দিসি,আজ আবার ছেড়ে দিয়েন না,আমার সাথে বেবিও আছে
শিশির মুচকি হেসে টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে ফেললো,
তনু-ভালোবাসি♥
শিশির-জী আপু আমিও ভালোবাসি
তনু-হারামি!
শিশির-হিহি
শিশির-ভালোবাসি বলতে গিয়েও পারতাম না,আমি তেমন এগুলাতে interested নাহ
তনু-জানি,তাই আপনার থেকে আশাও করিনি, শুধু বললেই ভালেবাসার প্রমান মেলে নাহ
শিশির-সব বুঝো আমার,আল্লাহ তোমাকে কি দিয়ে বানিয়েছে?
তনু-আপনার বুকের বাম পাশের হাঁড় দিয়ে
শিশির-হাহাহা
শিশির -চোখ অফ করো
তনু-কেন?
শিশির-করো
তনু চোখ অফ করলো,
শিশির হাতে একটি স্কার্ফ দিলো,
তনু-এটার অর্ধেক তো ছিঁড়ে গেসিলো,আপনি কই পেলেন?
শিশির-আপনি আমার রুমের দরজা রেখে গেসিলেন
তনু-ওহ,যাক সঠিক মানুষ পেয়েছিলো
শিশির-হুমমম
তনু-ঘুমাবো
শিশির-পরে
তনু-এখন
শিশির-না
তনু-তাহলে কি?এভাবে উঁচু হয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যাথা হয়ে গেলো
শিশির-ও তাই,এটা বলে কোলে তুলে নিলো,দাঁড়িয়ে রইলো,
তনু শিশিরের গলার পিছন দিয়ে হাত দিয়ে ধরে রাখলো,
শিশির সেই নেশায় তাকিয়ে আছে,,
তনুর ঠোঁট নড়ছে,
শিশির তনুর মাথা কাছে এনে কিস করতে লাগলো♥????
তনু আবেগে ধরে আছে,,ভয় নেই,শিশির ছাড়বে নাহ,ধরে আছে শক্তকরে,,
শিশির এবার ওরে নিয়ে রুমে চলে এলো,বিছানায় শুইয়ে দিয়ে,shirt খুলে ফেললো,
তনুর কাছে গেলো,
সাথে সাথে কল আসলো,বস কল দিসে,
শিশির-উফ মুড টাই নষ্ট করে দিলো
শিশির-Hello sir
Client -শুনো কাল তোমরা Party dress পরে আসবা,আমি party throw করসি
শিশির-ওহ,ওকে
তনু-কি বললো বেইল্লা?
শিশির-Party আছে
তনু-ওও
শিশির -romantic mood টাই উধাও
তনু উঠে পিছন দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,আবার জাগিয়ে দিই?
শিশির তনুর দিকে দুষ্টুমির চোখে তাকালো
তনু-হিহি
পরেরদিন ♥
তনু একটা gown পরলো,
শিশির-সাবধানে হাঁটিও
তনু-আচ্ছা
তনু একটা ওড়না নিলো সাথে,,ওরা client এর বাসায় গেলো
Client তো তনুকে দেখে পাগল হয়ে গেসে,
Client-So beautiful! Gown এর সাথে ওড়না??interesting!
Client এসে হাত বারালো,Handshake করার জন্য,তনু হাত না দিয়ে সালাম দিলো
Cmiee-Oh,its ok fine
চলবে♥
Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_68
গান চলতেছে,,
Mere bin sooni hain dil ki raahe
Mere bin pyasi sabki nigahein
Jo mile bole bhar ke woh aahein
Suniye Aashiq banaya..
aashiq banaya
Aashiq banaya apne
Seene mein ghul keIshq dhadke toh mazaa hai
Hothon se par le Woh jo hothon pe likha hai
Meri nigahon mein tera chehra rawaan hain
Gehre hain armaan jaane jaan pagal sama hain
Aashiqui mein haaye kaisi
Waadiyan hain khili
Jaan jaan keh ke tune Jaan meri le li
Mere liye sabka dil hai awara Mere bin hona nahi hai guzara
Mere sang jhoom le aake yaara Suniye..
Client এসে তনুর কাছে দাঁড়ালো
শিশির তুমি যদি কিছু মনে না করে আমি কি উনার সাথে dance করতে পারি??
শিশির-ওকে
তনু-(শালা,আজ তোরে বুঝাই দিব তনু কি জিনিস?)
Client তনুর হাত ধরে couple dance করতেছে,
শিশির দাঁড়িয়ে আছে মুখ কালো করে,,
একটা মেয়ে এসে শিশিরের হাত ধরে ওকে টেনে নিয়ে আনলো নাচার জন্য
client তনুর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখতেছে
তনু মুচকি হেসে ঠাস করে পা দিয়ে client -এর পা মাড়িয়ে দিলো
তনু-ops সরি,আমি না খেয়াল করিনি, excuse me!তনু আস্তে সরে আসলো
তনু গিয়ে দেখলো একটা মেয়ে জোর করে ধরে শিশিরের সাথে নাচতেছে,
তনুর তো মাথা চড়গ গাছ,
শিশিরের কাছে গিয়ে মেয়েটার কাঁধে হাত দিয়ে টেনে সরিয়ে দিলো,
তনু-he is my husband, my boyfriend, my everything, Dont Dare to touch her,now leave!
শিশির-Omg
তনু-হুহ,
আসেন নাচি????
শিশির তনুর কোমড়ে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিলো,
শিশির -বস এতো তাড়াতাড়ি ছাড়লো?
তনু-পা মাড়িয়ে দিসি
শিশির-what!!?
তনু -হিহি
Client -তোমরা চাইলে এখানে আজ থাকতে পারো
শিশির-Its ok,আমরা যেতে পারবো,
client যে মাড়ানি খায়সে,,তনুর দিকে একবার তাকালো,আর তাকায়নি
শিশির আর তনু গাড়িতে বসে হাসতেছে,,
শিশির-তুমি পারও বটে???
তনু-এক মিনিট
শিশির-কি হয়সে?
তনু-পেট ব্যাথা করতেছে
শিশির-বেশি?
তনু-হুমম,আহহ বেশি ব্যাথা করতেছে,তনু শিশিরের হাত শক্ত করে ধরলো
শিশির-ওয়েট,,, Hospital যাইতেছি
তনু-খুব ব্যাথা করতেছে,,আর পারবো না
শিশির-আর একটু,,সয্য করো,
তনু কাঁদতেছে,শিশির চোখ মুছে দিলো,
শিশির-কেঁদো না সব ঠিক হয়ে যাবে
তনু-???আম্মু,,
শিশির মাকে কল করলো,
শিশির-মা তনুর সাথে কথা বলুন একটু,ওর পেইন উঠসে
মা-তনু মা,ধৈর্য ধর,,ঠিক হয়ে যাবে,,তনু কাঁদতে কাঁদতে শিশির বুকে শুয়ে পরলো
শিশির-মা আমি কি করবো?? ও চুপ হয়ে গেসে,
মা-ওরে জাগিয়ে রাখো,,
শিশির-তনু!তনু তাকাও আমার দিকে
২০মিনিটেই শিশিরের বুক করা হসপিটালে এসে পরলো তারা,,
শিশির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে,তনুকে নিয়ে যাওয়া হয়সে,
Nurse-Mr.Sisir,If you want you can capture all the moment, So you can go
শিশির-thanks So much
শিশির রুমে ঢুকলো,
তনু কাঁদতেছে,শিশির এসে হাত ধরলো,,
শিশির-কেঁদো না ঠিক হয়ে যাবে,
Doctor -বেবি normal এ করা যাবে না,উনি weak,Operation করতে হবে,Normal এ করলে life risk আছে,
শিশির-যেটা ভালো বুঝেন করেন,বাট আমার তনু যেনো ঠিক থাকে,আর বেবিও
Doctor -Okay,,
তনু শিশিরের দিকে তাকালো
তনু-আমার কিছু হয়ে গেলে বেবিদের দেখে রাখিয়েন,আর হ্যাঁ বিয়ে করবেন না,আপনি একাই যথেষ্ট ওদের জন্য,
শিশির-চুপ!
শিশির নিচে হাঁটু গেড়ে বসে পরলো,তনু মুখ দুইহাত দিয়ে ধরলো,
এরপর কিস করতে লাগলো,হয়ত আজ পর্যন্ত কেউ এসময়ে কিস করেনি,কিন্তু শিশির করতেছে,
তনু ব্যাথায় শিশিরের হাত ধরলো,
শিশির ছেড়ে দিলো,
শিশির চলে যাওয়া ধরলো
তনু কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,pls যাবেন না!!
শিশির থেমে গেলো,আর গেলো না,,
তনুকে অজ্ঞানের Injection দেওয়া হলো,তনুর হাত এখনও শিশিরকে ধরে আছে,,
শিশির আরেক দিকে তাকিয়ে আছে,
Doctor-আস্তে করে একটা বেবি বের করা হলো,,ছেলে,,?
শিশির চোখ বন্ধ করে আছে,,
Doctor -Congre**********ওয়েট
শিশিরের Heart beat মনে হলো থেমে গেসে,
শিশির-কি হয়সে??
Doctor -Twin baby??
শিশির-হ্যাঁ
Doctor -আগে বলেননি কেন?
Doctor -সবাইকে তাড়াতাড়ি করতে বললো,তনুকে oxygen দেওয়া হলো,
Doctor যে বেবিটা বের করসে তার কোনো সারা শব্দ নাই,,,একজন সেই বাবুকে ঠিক করতেছে আরেকজন বাকি বাবু বের করায় ব্যস্ত,
শিশিরের কোনো খবর নাই চোখ বন্ধ করে আরেক দিকে তাকিয়ে আছে,বেচারা ভয়ে শেষ,
১০মিনিট পর বেবি কান্না শুরু করলো,
শিশির চোখ খুললো,পিছনে ফিরে তাকালো,
এই খুশি কেমন বলে বোঝানো যাবে নাহ,
শিশির জড়িয়ে ধরলো বাবুটাকে,কাঁদতে লাগলো
বাকি বাবুটাকে এখনও বের করা যাচ্ছে না,ভিতরে পেঁচিয়ে গেসে
চলবে♥

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#শেষ_পর্ব
Nurse এসে শিশিরের থেকে বেবিকে নিয়ে গেলো,,
অনেক চেষ্টার পর বাকি বেবি বের করা সফল হলো,,আর এটাও ছেলে??
শিশির দুই বেবিকে কোলে নিয়ে বসে তনুর দিকে তাকিয়ে আছে,,
তনুর জ্ঞান আসা না পর্যন্ত তার বেবির দিকে খেয়াল নেই,
বেবির কান্নায় শিশিরের হুস আসলো,বেবির দিকে তাকালো,
পুরাই শিশিরের মতো হয়েসে,,পিক তুলে সবাইকে send করে দিলো,,
মা-শিশির টিকা লাগায় দে,
শিশির-কাজল পাবো কই??
মা-তনুর ব্যাগে দেখ
শিশির গিয়ে বেবিদের nurse এর হাতে দিয়ে ব্যাগ চেক করে পেলো কাজল,ওদের কপালে লাগিয়ে দিলো,দুজনেই
সাদা ধবধবে,,হ্যাঁ একটা জিনিস পেয়েছে তনুর,ব্রু,,সরু চিকন,,
শিশিরের সবসময় তনুর এই দিকটা খুব ভালো লাগতো,কারন তনু কখনও ব্রু প্লাক করতো না,নাতাশা ১০দিন পর পর গিয়ে করে আসতো,,
তনুর প্রাকৃতিক ভাবে ব্রু চিকন,
বিয়ের দিন পার্লারের লোকরা জোরাজোরি করেও ওর ব্রু প্লাক করতে পারেনি
তনু বারবার বলসে আমার ব্রু ঠিক আছে লাগবে না,বাট ওদের কাজের মধ্যে পড়ে তাই ওরা জোরাজোরি করসে তাও পারেনি,হাসি পায় তনুর সব কাজের কথা মনে পরলে,
Nurse -বেবি গুলো আপনার মতো বাঁকা করে হাসতেছে,
শিশির মুচকি হাসলো,,পুরা কার্বন কপি শিশিরের,,শিশিরের চোখ থেকে খুশির কান্নার পানি বেরিয়ে এলো,,বেবিকে স্পঞ্জ করে মায়ের দুধ খাওয়ানো হলো,,
মা কল করলো,
মা-বাবারে আমার নাতি গুলা দেখি পুরাই চাঁদের টুকরো, মাশাল্লাহ,,তনুর জ্ঞান ফিরসে?
শিশির-নাহ
প্রায় ২ঘন্টা পর তনুর হুস ফিরলো,ওর মনে পরলো সব,চোখ বড়বড় করে সাইডে তাকাতেই তার সমস্ত সুখগুলো দেখলো,
শিশির সোফায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছে চোখ অফ করে,আর কোলে বেবিগুলা,দুইপাশে দুটো,
তনুর কেমন লাগতেছে বলে বুঝানো যাবে না,তনু খুশিতে উঠতে চাইলো পারলো না,
Nurse-Hold on,,
শিশির nurse এর কথায় চোখ খুললো,তনুকে দেখে বেবিদের ওর কোলে দিয়ে দিলো,,
তনু খুশিতে কান্না করতেছে,বেবিদের চুমুতে ভরিয়ে দিলো,
শিশির তনুর কপালে চুমু এঁকে দিলো,
তনু-আমার বেবি
শিশির-আমাদের♥
তনু-আমি সফল হয়েছি,আলহামদুলিল্লাহ! এই ৯মাসে কতোবার শিশিরের পিক দেখসি নিজেরও হিসেব নেই,চাইতাম ওরা যেনো শিশিরের মতো হয়,আর তাই হলো,আমার #Crush_বরের #Crush_বেবি?,ইস??
শিশির-কি ভাবো??আমাকে একটু বলো,
তনু-পুরা আপনার মতো হয়সে
শিশির-হুমমমমম
পরেরদিন ওরা হোটেলে আসলো বেবিদের নিয়ে,,
তনু শুধু দেখতেছে,নজর ফেরাচ্ছে না,
তনু বেবিদের ঘুম পারিয়ে দিয়ে বসে তাকিয়ে রইলো,
শিশির তনুর হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে এলো,
শিশির হাঁটু গেড়ে নিচে বসে পরলো,
শিশির-ভালোবাসি তোমাকে, খুববববব,হয়ত এভাবে কখনও বলা হয়নি,তুমি আমার নিজের হওয়ার পরও সাহস পেতাম না,,আজ পেয়েছি,তুমি আমায় পৃথিবীর সেরা সুখি বানিয়ে দিলে,,
শিশির এক তোড়া গোলাপ তনুর হাতে দিলো,তনু কাঁদতেছে খুশিতে,,শিশির উঠে তনুকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে যতটা শক্ত করে ধরলে শরীরের সাথে মিশে যাওয়া যায়,,
তনু-আমার জড়িয়ে ধরা কপি করতেছেন??
শিশির-হুম,সব কপি করবো,একটা কথা বলার ছিলো
তনু-বলেন
শিশির-সত্যি কথা বলতে, আমি তোমার উপর crush খেয়েসিলাম অনেক আগেই তা বলিনি,,তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম বুঝিনি,পরে বুঝতে পেরেছি,তোমাকে বুঝতে দেইনি
তনু-আমি বুঝেছি,কারন যতবার আমার কসম দিয়ে কিছু বলতে বলসিলাম আপনাকে আপনি কথাটা ignore করতেন,,
শিশির হাতের ঘড়ি দেখলো,এরপর মুচকি হেসে তনুকে কোলে তুলে নিলো,,
বিছানায় নামিয়ে দিলো,
শিশির-১….২…৩…
Happy Birthday Dear♥♥
তনু-ইস আমি ভুলে গেসিলাম,
শিশির তনুর গলায় চেন পড়িয়ে দিলো সোনার,,
তনু -Thanks
শিশির-আরেকটা জিনিস আছে,
আমার বউয়ের প্রিয় একটা জিনিস,,3layer পায়েল
তনু-Omg!!
শিশির-এখান থেকে নিসি তোমার জন্য,চেইনটার চেয়েও তনু পায়েল পেয়ে মহা খুশি,কারন ওর এমন একটা ছিলো যা হারিয়ে গেসিলো ছোটবেলায়,,
শিশির নিজের হাতে তনুর পায়ে পায়েলটা পড়িয়ে দিলো,,
শিশির পায়ে চুমু দিলো, তনু চোখ বন্ধ করে ফেললো,
শিশির তনুর কাছে এসে ওর কপালে চুমু দিলো,
তনু-Best birthday ever!
শিশির তনুর মুখ ধরে কিস করলো,,??ওমনি বেবি গুলা একসাথে কান্না শুরু করে দিলো,
শিশির-বাবারে romance করতে দিবি না??
তনু হাসতেছে বসে বসে,,
শিশির-সুস্থ হন,তারপর বাকি আদর পুষিয়ে দিব
তনু লজ্জায় উঠে বারান্দায় চলে গেলো,
শিশির বেবিদের সাথে খেলতে লাগলো,
তনু আকাশের দিকে তাকালো,
তনু-এই একই দিনে আমি ৪বছর আগে আমার birthday gift হিসেবে শিশিরকে চাইসিলাম তোমার কাছে আল্লাহ!
আর আজ শিশিরের সাথে সাথে তুমি আমাকে আরও ২টা শিশির গিফট দিলে,,হয়ত জীবনে কোনো ভালো কাজ করসি যার জন্য তুমি আমাকে এত সুন্দর উপহার দিলে,
আলহামদুলিল্লাহ ♥
২মাস শিশির আর তনু বেবি রা আমেরিকা ছিলো,,
Client তনুকে তেমন জ্বালায় নি,তবে বেবিরা client কে সেই রকম জ্বালিয়েছে??
যতবার তনু কোলে ধরিয়ে দিতো ততবার হিসু করে দিতো
client এর গায়ে???
বেবি একটার নাম #শান্ত,আরেকটার নাম #শান♥♥
২মাস পর দেশে ফিরলো,
শিশিরের কোলে শান্ত আর তনুর কোলে শান,
মা বাবা,তনুর মা বাবা,রিসাদ,মীম সবাই দাঁড়িয়ে আছে,
ওদের ৪জনকে দেখে মা বাবা সবাই খুশিতে কেঁদে দিলো,চোখ মুছে জড়িয়ে ধরলো,,
পুরো এয়ারপোর্ট উজ্জ্বল হয়ে আছে তাদের আগমনে,,
তনু-আমার বিদেশি বাচ্চারা?
সবাই হেসে দিলো,,♥♥
নাতাশা??সে তো আরও ৩-৪টা প্রেম করসে,,এখন কি করে তা জানা নেই,,
তন্ময় আর সিয়াম জেলের ঘানি টানছে,,
আর তনু শিশিরের ভালোবাসা আজও সেই আগের মতো,,
বেবিরা এখন হাঁটতে শিখেছে,আদো আদো কথা বলে,বু বলে,
তনু অবাক চোখে ওদের দেখে আর শিশিরকে দেখে,দিনদিন শিশিরের প্রতি ভালোবাসাটা বেড়ে চলেছে,,
এই ভালোবাসা বিশুদ্ধ, নেই কোনো ভেজাল,,
তনু আজও মোনাজাতে আল্লাহর কাছে শোকর করে যা আল্লাহ তাকে দিয়েছে তার জন্য♥♥♥♥
(সব গল্প শিশির আর তনুর মতো হয় না,সব তনু শিশিরকে পায় না,,হয়ত এখনও অনেক তনু শিশিরের আশায় বসে আছে,কবে শিশির তাকে ভালোবাসবে,,জীবনটা বড় কঠিন,,আল্লার কাছে চাইতে হয়,হয়ত বা তনুর মতো করে চাইলে আল্লাহ দিবে,তার জন্য করতে হবে অপেক্ষা,, মনে রাখবেন আল্লাহর কাছে খাঁটি মন দিয়ে কিছু চাইলে আল্লাহ টা পূরন করবে,তা যেদিনই হোক)

[কাল থেকে #Crush যখন বর #season 2 শুরু হবে,সবাইকে পড়ার জন্য দাওয়াত দিলাম]

Crush যখন বর?64/65/66

0

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_64
তনু উঠে চলে গেলো,বারান্দায় গিয়ে কাঁদতেছে,
শিশির পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো,তনু ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছে,
শিশির-আমি কি করবো বলো??এই ডিল টা করতে পারলে ৯-১০লাখ আয় হবে,কম হলে যেতাম না
তনু-আমি থাকবো কি করে??
শিশির-কিছু করার নাই আমার,আমার তো ভিসা আছে,এখন তোমার ভিসা করতেই টাইম লেগে যাবে,আমাকে ৬দিন পর যেতে হবে,
তনু শিশিরকে ছাড়িয়ে চলে গেলো,
শিশির-আমি কি করবো বলো??
তনু কিছু বললো না,কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পরলো,
২০মিনিট পর শিশির টেনে তুলে বসালো
শিশির-ঔষধ খান নাই এখনও
তনু-খাবো না
শিশির-না খেলে চড় দিব একটা!
তনু-দেন,তাও খাবো না,
শিশির মারার জন্য হাত তুললো,তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে,চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরতেছে
শিশির শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
তনু আবার কাঁদতে লাগলো
শিশির-এভাবে কেঁদো না,আমি যাবো কি করে?
তনু-পারবো না থাকতে,বেবি একা সামলাবো কি করে
শিশির-মা বাবা মীম আছে,রিসাদ আছে
তনু-আপনাকে প্রয়োজন আমার
শিশির-পারলে থাকতাম,
তনু ঔষধ খেয়ে আরেকদিকে ফিরে ঘুমিয়ে পরলো,
শিশির কি করবে??ওর অফিসের কাজই এমন,
পরেরদিন সকালে♥
তনু উঠে শিশিরের জন্য নাস্তা করতে চলে গেলো,,হয়ত অনেকদিন ওর খাওয়া দেখতে পারবে না,আজ প্রানভরে দেখবে,,
বুয়া-আপা ছেড়ে দেন আমি করবো,
তনু-নিচের কাজ গুলা করে দাও আমি দাঁড়িয়ে রাঁধতে পারবো
বুয়া-আচ্ছা
শিশির ঘুম থেকে উঠলো,fresh হয়ে সোফার রুমে এসে দেখলো তনু কোমড়ে শাড়ী গুজে কাজ করতেছে,চুলে খোঁপা করেছে,,একটা দুইটা চুল বাইরে,কাজ করার সময় ওগুলা বার বার কানে গুজে দিচ্ছে,ইচ্ছে করসে গিয়ে জড়িয়ে ধরি,কিন্তু বুয়া আছে,নইলে ধরতাম!
শিশির বসে বসে দেখছে,ইস এতোদিন ওরে না দেখে থাকবো কিভাবে??
তনু এসে খাবার দিলো,,ওর পাশে বসলে,
তনু-নেন খান,আমি দেখি,
শিশির-তুমি খাবা না?
তনু-পরে,বমি আসতেছে
শিশির-ওকে
শিশির খেতে লাগলো,,তনু তাকিয়ে আছে,শিশিরের ঠোঁট টার দিকে সেই ৪বছর আগ থেকে তনুর নেশা ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে থাকা,মিনিমাম ১০মিনিট তাকিয়ে থাকতো শিশিরের ছবির দিকে,
আর এখন তো বাস্তব, এখন তো সারাদিন তাকিয়ে থাকে
শিশির খাচ্ছে,তনু হা করে তাকিয়ে আছে,শিশিরের কাছে এটা নতুন না,সবসময় তনু এমন করে অবাক হয়ে শিশিরের দিকে তাকিয়ে থাকে,নাতাশা শিশিরকে মূল্য দিতো না,আর তনু??সে তো শিশিরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসের প্রতি প্রেমে পাগল,,একদিন শিশির জিজ্ঞেস করসিলো,আমার মধ্যে তোমার কি ভালো লাগে?
তনু উত্তরে বলছে সব সব সব,
খাওয়া শেষে শিশির রেডি হলো অফিসে যাওয়ার জন্য,
তনু-সাবধানে যাইয়েন,
শিশির মুচকি হাসলো,
তনু শিশিরের সামনে হাসি মুখে থাকলেও মনের ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছে, শিশির সেটা জানে,কারন তনু খুশি থাকলে সে সুন্দর করে মুচকি হাসে একটু দাঁত দেখিয়ে সেই হাসিটা আজ নেই,
শিশির তনুর কাছে এসে ওর কাঁধে হাত রাখলো,
শিশির-তুমি ঠিক না থাকলে আমি ঠিক থাকি কিভাবে??
তনু শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো কোনো কথা বললো না,অনেক্ষনপর ছেড়ে দিলো,আরেক দিকে তাকিয়ে বললো যান,তাড়াতাড়ি আসিয়েন,,
শিশির টেনে নিজের দিকে ফিরালো,আদর দিবা না?
তনু-না
শিশির-তাহলে আমি দিই?
তনু-লাগবে না
শিশির তনুর কপালে চুমু খেলো,তনুর কিস করতে মন চাইলে শিশিরের ঠোঁটের দিকে নেশার চোখে তাকিয়ে থাকতো কিন্তু আজ তাকাচ্ছে না,
শিশির-তাকাবা না?
তনু-তাকাইসি তো
শিশির-না তাকাও নাই
তনু-যান!!
তনু শিশিরকে সরিয়ে চলে যাওয়া ধরলো শিশির আঁচল ধরে ফেললো,
শিশির-আর এক পা বারালে আজ হাল খারাপ করে দিব কিন্তু!
তনু-কি করবেন?
শিশির-দেখতে চাইলে এক কদম পার হও
তনু দাঁড়িয়ে আছে,শিশির আঁচল ধরে নিজের কাছে আনলো,
শিশির-এতো অভিমান??
তনু-কোনো অভিমান নাহ
শিশির-তাহলে?আদর সম্পূর্ন না হতেই চলে যাও কেন?৩মাস তো মুখটাই ধরার উপায় পাবো না,৫দিন বাকি তাও দিবানা?
তনু চুপ,
তনু-৩মাস থাকতে পারলে এই কইদিন আর কি?
শিশির-অনেক কিছু,
৩মাসের ভালোবাসা ৫দিনে পুষিয়ে দিব,
তনু-লাগবে নাহ আমার
শিশির-আমার লাগবে?
তনু-ইচ্ছা করতেছে দুনিয়ার যতো গালি আছে সব দিই?
শিশির-দাও,তাও যদি রাগ কমে
তনু-হা****,কু***,মা****,মা*****বা*****
শিশির- আস্তাগফেরুল্লাহ????
তনু আরও বলা ধরলো শিশির মুখ চেপে ধরলো,
শিশির-হয়সে হয়সে,ইজ্জত তো ধুয়ে দিতেসো,মানসম্মান সব গেলো আমার,কে শিখিয়েছে এসব তোমাকে?
শিশির-আপনার আর নাতাশার বা*** ভালোবাসা থেকে পাওয়া প্রাপ্ত jealousy শিখিয়েছে,
শিশির-ও, তার মানে তখন আমাকে গালি গুলা দিতা??
তনু-হুম
শিশির-এই জন্যই বলি খাইতে গেলে খালি বিষম খেতাম কেন?
তনু-???
শিশির -অবশেষে তার মুখে হাসি ফুটলো,
শিশির এবার এই হাসি মুখে আদর করে দাও
তনু-না,
শিশির গেলো রেগে খপ করে ধরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো,
তনু-আল্লাহ
শিশির-চুপ”!!!!!!
শিশির মুখ টিপে ধরে কিস করে দিলো,৫মিনিট পর হঠাৎ বুয়া এসে পরলো,
বুয়া-আপা!ইস??ইয়ে মানে পরে আসতেছি
তনু শিশিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো,
শিশির আরেক দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে গেলো,
তনু মুখ মুছতে মুছতে বুয়ার কাছে গেলো,
তনু-হ্যাঁ বলো
চলবে♥

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_65
বুয়া-আসলে কি রান্না হবে আজ তা জানার জন্য আসছিলাম
তনু-আজ চিকেন মাশালা করবো,,শিশিরের খুব প্রিয়, আর কদিন থাকবে
বুয়া -আচ্ছা আপা
শিশির-ম্যাম আসি তাহলে
তনু-তাড়াতাড়ি আসিয়েন
শিশির-আচ্ছা
তনু-দাঁড়ান
শিশির-জী
তনু টান দিয়ে গালের সাথে গাল ঘষে নিলো,
তনু-আসক্তি
শিশির-নেশা?
তনু-হ্যাঁ
অফিসে♥♥
শিশির-Okay but, I want to ask something
client-yeah sure,,
শিশির-My wife is pregnant so…
Client -oh Congress
শিশির-Actually I want to take her with me
Client -Sure,Don’t you know about the package?
শিশির-Wait?what??Which package?
Client -There 2visa I gave you,I for you and one for your wife, you read the letter??
শিশির-No,but, omg,thank you sooo much sir,
client -Most welcome
শিশির আনন্দে, তনুকে কল করলো,তনু তখন বাথরুমে ছিলো,
সম্ভবত শিশির অফিসে আসলে বাসায় কল করে না,তাও আজ কল করলো,
তনু-শিশির ফোন দিসে??ও তো দেয় না,
তনু টাওয়েল পেঁচিয়ে এক পা রাখতেই স্লিপ খেয়ে পড়ে গেলো,,
বিকালে♥
শিশির বাসায় আসলো,
মা-সব ঠিক হয়ে যাবে,শিশির আসবে,ওরে কল দিসি ও মনে হয় কাজে,doctor এসে যাবে
শিশির-তনু???
শিশির দৌড়ে রুমে ঢুকলো,তনু খাটে শুয়ে পেটে হাত দিয়ে কাঁদতেছে,,
শিশির তনুর কাছে এসে ধরলো,
শিশির-কি হয়সে??তনু
মা-বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় slip খেয়েছে,কার্পেট এ পড়সে,ব্যাথা পায়সে একটু,doctor রে কল দিসি,বলসে আসতেছে,
শিশির-এতোটা irresponsible হও কিভাবে?
তনু-আমি বুঝি নাই আসলে?
শিশির-কি বুঝো তুমি
doctor আসলো,,
Doctor -টেনশনের কিছু নাহ,কার্পেট টা বড় হওয়ায় বেবির কোনো ক্ষতি হয়নি,Just চাপ লাগায় ব্যাথা করতেছে,আমি Injection একটা দিতেসি,ঠিক হয়ে যাবে,
তনু হেলান দিয়ে বসে পেটে হাত দিয়ে মুছতে লাগলো,
তনু-সরি বেবি,আমার দোষ,
শিশির-কষিয়ে একটা চড় দিব,,আগে বেসামাল হয়ে চলতা তাই বলে এখনও??
তনু-ভয় দেখান কেন??দেন চড়
শিশির-আজ যদি কিছু হয়ে যেতো?
তনু-আপনার কল রিসিভ করার জন্য বেরিয়ে ছিলাম,
শিশির-যাই হোক,,
Good news আছে
তনু-আপনি বিদেশ যাবেন না??
শিশির-যাবো
তনু-ও?,তনু আরেক দিকে ফিরে শুয়ে পরলো,
শিশির-শুনবা না?
তনু-আর কি শুনবো?
শিশির-আমার সাথে মিসেস তনু চৌধুরীও যাবে বিদেশ
তনু-তো যাক না আমার কি??
তনু-কিহ??সত্যি?
শিশির-হুম
তনু উঠে শিশিরকে জড়িয়ে ধরলো,,
শিশির-হয়সে,কি কি নিবা বলো,আমি একেক করে গুছিয়ে দিচ্ছি
তনু-ওকে,
শিশির সব গুছিয়ে নিলো,মা বেবির জন্য কাঁথা দিলো অনেকগুলা,,
তনু ঘুমাচ্ছে,
মা-তনুকে দেখে রাখিস,,বেশি একা রাখিস না,ওখানে কি বুয়া আছে?
শিশির-আমরা হোটেলে উঠবো
মা-ও,তাহলে ভালো,তাও তনুকে একা ছাড়িস না
শিশির-অফিসে গেলে?
মা-তনু কল করলে কাটিস না যতই হোক ধরবি
শিশির-Try করবো
মা-না যেটা বলসি করবি,ওখানে মেয়েটা পুরা একা হয়ে যাবে,একা একা সামলাতে পারবে না,,তারউপর এই সময় একবার একটা লাগে,কে দিবে??তুই এক কাজ কর একটা বুয়া রাখ তনুর সাথে,
শিশির-জী ওকে,
রাতে তনু উঠলো,
তনু-আর পারবো না ঘুমাতে কচু?খালি ঘুম পায়?
শিশির-ভালো হয়সে তোমাকে ঘুমে রেখে অফিসে যাবো,
তনু-কেঁদে দিব
শিশির-দিও
তনু-আহা কি মজা আমার বেবি গুলা বিদেশি হবে
শিশির-হাহাহাহা
তনু-কি?
শিশির-ওরা ৭৮%আপনার পেটে দেশে আছে,তাইলে দেশি হবে
তনু-ও?
শিশির-হুমমমমম,
শিশির-দেখি উঠো,হাঁটো, Doctor বলসে হাঁটাচলে করতে
তনু-ওকে,তনু উঠতে গিয়েও পারলো না,পা ব্যাথা আহ মাগো?
শিশির-কি হয়সে দেখি,
শিশির তনুর পা ধরলো
তনু-মাগো ব্যাথা লাগে
শিশির-ওয়েট,শিশির মলম এনে লাগিয়ে দিলো
চলবে♥
(সরি কাল আমি Busy ছিলাম তাই গল্প দিতে পারিনি,যার কারনে আজ আরেকটা part পাবেন)

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_66
দেখতে দেখতে যাওয়ার দিন এসে গেলো,,
শিশির আর তনু সবাইকে বিদায় দিয়ে এয়ারপোর্টে গেলো
বিমানে তনু শিশিরকে খাঁমচে ধরে আছে,
তনু-আমার না বড্ড ভয় করছে?
শিশির-আরে কিছু হবে না
তনু-?
অবশেষে আমেরিকাতেতে গিয়ে পৌঁছালো,,,
তনু হা করে দেখতেছে,
শিশির-চলেন পরে দেখিয়েন,
তনু-আরে দেখতে দেন না
শিশির-ঘুরতে নিয়ে যাবো কেমন?এখন চলো,দেরি হয়ে যাচ্ছে
তনু মুখ গোমড়া করে চললো,হোটেলে গিয়ে সবাইকে কল করে জানিয়ে দিলো,,
শিশির-আমি এখন অফিসে যাই,
তনু-আমি একা?ভয় লাগে,
শিশির-আজ থাকো কাল বুয়া আসবে,আর কিছু লাগলে সাথে সাথে কল করবা
তনু-ওকে?
অফিসে♥
Client -Hii Mr,Sisir chowdhury,,
শিশির -Hello,
client -আমি কিছু কিছু বাংলা পারি, আপনার wife কই?
শিশির-হোটেলে,,
client -If you dont mind I would like to meet her
শিশির-yeah sure, কাল করাবো
Client -okay
তনু-হ্যালো রুম সার্ভিস,একটা চকোলেট কেক আর জুস পাঠাও
রাতে শিশির আসলো,
শিশির এসেই সোজা Recipient এ গেলো
শিশির-বিল কতো হয়সে?
Manager-আপনি জানেন কিভাবে যে বিল হয়সে?
শিশির মুচকি হেসে দিলো
শিশির-কারন আমার wife pregnant, আমি জানতাম এতোক্ষনে ও অনেক কিছু খায়সে
menager-oh,গুড
শিশির বিল দিয়ে রুমে গেলো,তনু বারান্দায় ঘুমিয়ে আছে,
শিশির গিয়ে বিছানা করে তনুকে কোলে তুলে এনে শুইয়ে দিলো,,নিজে fresh হয়ে তনুর পাশে শুয়ে পরলো
পরেরদিন ♥
শিশির-তনু রেডি হয়ে নাও,অফিসে নিয়ে যাবো তোমাকে, client মিট করবে,
তনু-আচ্ছা,
তনু-একটা থ্রিপিস পরে নিলো,
শিশির আর তনু অফিসে আসলো,
শিশির -Meet my wife♥
তনু-Hi(ওরে বেইল্লা)
Client -Hiii,নাইস টু মিট ইউ,You are sooo cute?
তনু-Thanku,,,You too(যদিও হনুমানের মতো লাগে)
শিশির তনুর কানে ফিসফিসিয়ে বললো
শিশির-আমার বস,একটু সম্মান দিয়ে মনে মনে কথা বলো
তনু শিশিরের দিকে বোকার মতো তাকিয়ে আছে,
Client -Take a sit
শিশির আর তনু বসলো
Client -তোহ কি খাবেন?
তনু-ফুচকা খাবো
শিশির-আরে চুপ
Client -What is fuchka?
তনু-ঐ যে মুখে পুরে নিলে মুছুড় মুছুর করে,ভিতরে টক,
Client -Sorry I cant understand your language
শিশির-এই তনু চুপ থাকো,
শিশির-কফি খাবো
Client -Your wife is soo cute
শিশির-I know
তনু -এই যে শুনুন
শিশির-কি?
তনু-আপনার টাকলু বস আমার উপরে crush খায়সে
শিশির-আস্তে
তনু-আরে বাংলা কম বুঝে
Client -কাল আমাদের বাসায় আসবেন,invite করলাম
শিশির-তনু আমার কেবিনে গিয়ে বসে থাকো আমি মিটিং সেরে আসতেছি
তনু-আইচ্ছা
Client -yeah you can go,ততক্ষন আমি উনার সাথে গল্প করি
তনু-(উফ অসয্য) জী বলেন
Client -সো তোমাদের বিয়ের কতোদিন হলো,
তনু-৫বছর?
Client -দেখে মনে হয় না
তনু-জী ছোটকালের প্রেমতো
Client -তাহলে বেবি এতো দেরিতে?
তনু-ওমা enjoy করা লাগবো না??
Client -কেমন enjoy?
তনু-বেবি হলে তো ওরে মাঝখানে শোয়াতে হবে,enjoy হবে কেমনে??
Client বিষম খেলো,পানি নিয়ে খেলো,
Client -(এই মেয়ে দেখি শয়তানের হাড্ডি)ওহ,আই সি
তনু-হ
Client -What is হ?
তনু-( হ মানে তোর মাথা)হ means yes
Client -oh
Client -How old are you?
তনু-১০০০০
Client -wait,Sisir told me that you are 18years old
তনু-(আবার আমার বয়স বলতে গেসে ধুর)হ্যাঁ?
Client- Good,I’m 26years old
তনু-(বুইড়া)ওহ ভালা
Client -Husband wife থেকে বড় হওয়া ভালো,শিশির তো মনে হয় 24,আরেকটু বড় হলে ভালো হতো
তনু-(তোর কি)its ok
শিশির-কেমন লাগলো গল্প করে?
Client -She is like a bomb
শিশির-জানি
তনু-(কি কইসি তোরে?আমাকে বোম কস কেন?হারামি)হিহি আপনিও নাহ?
শিশির-তনু, Sweetheart, একটু সামাল দিয়ে গালি দাও
তনু-?
Client -Okay,কাল আমার বাসায় আসবেন
শিশির-ওকে
হোটেলে ঢুকতেই শিশির টান দিয়ে তনুকে দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে দিলো
তনু-আরেহ কি হয়সে?
শিশির-next time নেট হাতার জামা পরবা নাহ
তনু-কি হয়সে?এটা তো আম্মু দিসিলো
শিশির-পরতে মানা করসি,পরবা তো?ঠিক আছে,
শিশির টান দিয়ে জামার হাতা ছিঁড়ে দিলো,তনু কিছুটা ভয় পেয়ে শিশিরকে খাঁমচে ধরলো,
শিশির-সরি,
শিশির বারান্দার দিকে চলে গেলো,
তনু গিয়ে সাথে দাঁড়ালো,
শিশির-বস বারবার তাকাচ্ছিলো,আর এমন জামা পরবা না
তনু-সরি,
শিশির তনুর দিকে তাকালো,বেচারা ভয়ে শেষ,,
শিশির জড়িয়ে ধরলো,
চলবে♥

Crush যখন বর?61/62/63

0

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_61
রাত ৯টায় তনু উঠে পরলো,উঠে দেখলো তনুর বরাবর শিশির বসে আছে হাতে খামটা,,এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো খেয়ে ফেলবে
তনু-খামমমম
শিশির-চুপ,
শিশির তনুর কাছে এসে গাল টিপে ধরলো,কি সমস্যা কি??আমাকে এমন ভয় দেখাইলা কেন???
তনু-আসলে
শিশির-আবার থাপ্পড় দিবো
তনু চুপ,
তনু-আপনি বাসায় যান
শিশির-কেনো আমি এখানে থাকলে কি কোনো সমস্যা??
তনু-হ্যাঁ,
শিশির-ওহ তাই?তাহলে একা যাবো না,তোমাকেও নিয়ে যাবো
তনু-আমি যাবো না,
শিশির -যেতে হবে,Right now
তনু-না
শিশির তনুকে কোলে তুলে নিলো,আমি যাবো না ছাড়ুন,ছাড়ুন,আপনিই তো বললেন আমি নাকি মিথ্যা বলসি সেটার prove দিয়ে তারপর যাবো,
শিশির-লাগবে নাহ আমার prove,
তনু-ছাড়ুন আমি যাবো না,তনু ইচ্ছা মতো কিল ঘুষি দিয়ে যাচ্ছে,,
শিশির তনুকে নিয়ে রাত ১০টায় বাড়ি ফিরলো,
তনু মুখ কালো করে আছে গাড়ি থেকে নামছে না,শিশির হাত ধরে টেনে নিয়ে এলো,
তনু রুমে ঢুকে Shock খেলো,একি রুমের এই অবস্থা করেছেন কেন??
শিশির দেখলো তনু নিজ থেকে ঝুঁকে ঝুঁকে সব মদের বোতল সরাচ্ছে,শিশির এসে কোলে তুলে খাটের মাঝখানে বসিয়ে দিলো,
শিশির-চুপচাপ বসে থাকো,আমাদের বাসায় কাজের বুয়া আছে ২জন,
তনু বসে রইলো,বুয়া এসে পরিষ্কার করে দিলো,আগেই করতে পারতো কিন্তু শিশির না থাকলে তার বিনা অনুমতিতে ওর রুমে কেউ ঢুকে না,
তনু উঠে আয়নায় দাঁড়ালো,হ্যাঁ ঠিক আছে একটু বড় হয়সে পেট টা এখন আমাকে pregnant লাগে,হিহি
শিশির ফাইল খুঁজতেছিলো,হঠাৎ ওর চোখ তনুর দিকে গেলো,তনু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পেট ধরে হাসতেছে,
শিশির গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো,গলায় চুমু খেলো,
শিশির-একটুখানি বড় হয়েছে
তনু-পুরা বড় কখন হবে?
শিশির-আমি জানি না,Maybe আরও পরে,,
তনু-আচ্ছা শুনেন
শিশির-জী বলেন
আমি মিনুর সাথে কথা বলবো চুপ থাকবেন,কোনো sound না
তনু মিনুরে কল দিলো
হুম মিনু আমি শিশিরকে divorce দিসি,ওর মতো এমন characterless ছেলেকে আর সয্য করা যাবে না,
মিনু-তো শিশির সাইন করেছে?
তনু-হ্যাঁ
মিনু-তুই এখন কই?
তনু-আমাদের বাসায়,ওর সাথে তো আমার সব সম্পর্ক শেষ
মিনু-ও আচ্ছা,থাক কাঁদিস নাহ ও তো এমনিতেও ভালো ছেলে না,
ফোন রাখলো,শিশির রাগী চোখে তাকিয়ে আছে
শিশির-এ্যাই আমি? আমি? আমি? characterless???
তনু-এগুলা বলার কারন আছে,,কাল বুঝতে পারবেন,
শিশির-আমি তো characterless??তাহলে এখন সেটার prove দিব,
তনু-না না
শিশির শয়তানি হাসি দিয়ে এগচ্ছে,
তনু পিছাচ্ছে,,
শিশির-ভয় লাগে নাকি??
তনু-একদম না,
শিশির-তাহলে পিছাচ্ছেন কেন??
তনু-না আসলে
তনু সাইড দিয়ে পালাতে নিলো শিশির হাত দিয়ে আটকালো,
শিশির-আমার সাথে পারবা না
তনু-??
শিশির-pregnant হওয়ায় একটু বেশি মিষ্টি হয়ে গেসেন,কি করব নিজেকে আটকাতেই পারি না,
তনু-কথাগুলা এমন করে তাকিয়ে বলতেছেন কেন আমার শরম করে,????
শিশির-ওহ তাই নাকি??
শিশির আরও কাছে এগিয়ে গেলো,তনুর কাঁপুনি দেখে শিশির মুচকি হাসতেছে,
সেই আগের মতন থুতনি নি ধরে তনুর মুখ উপরে তুললো,,
তুলে এক হাত দিয়ে তনুর চোখ ডেকে রেখে আরেক হাতে ধরে কিস করতে লাগলো?????
(???এর পরেরটা তো আপনারা জানেনই?)
পরেরদিন সকালে♥
শিশির ঘুম থেকে উঠে সাইডে হাত দিয়ে তনুকে বিছানায় না দেখে লাফ দিয়ে উঠে পরলো একি কই গেলো???
শিশিরের ফোনে মেসেজ আসলো,,
তনু-Don’t worry,আমি বাসাতেই আছি,,Just ভাব টা এমন করবেন যে আমি বাসায় নেই
শিশির-কিছু বুঝতেছি না,
শিশির fresh হয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো,মা বাবা বাসায় নেই নানু বাসায় গেছে,মীম স্কুলে,
তনু কই?ধুর,এখন আবার কে নক করতেছে,শিশির দরজা খুলে দেখলো মিনু,
শিশির-তুমি???
মিনু শিশিরকে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলো,
শিশির-what the***
মিনু-আজ তোমাকে কে বাঁচাবে???
মিনু নিজের ওড়না খুলে ফেলে দিলো,,
শিশির-এসব কি আজিব
মিনু-এরপরে তুমি আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য,Divorce তো হয়ে গেছে তনুর সাথে,
শিশির-এতো টা স্বার্থপর কারোর best friend হতে পারে??
মিনু-হাহা,best friend? কিসের??আমি কখনও ওরে আমার friend ভাবি নাই,
মিনু-ও তো বোকা সেরা বোকা,,হাহাহা,মিনু সোফায় বসলো,পায়ের উপর পা তুলে,
মিনু-কে বাঁচাবে??একটা মেয়ের সাথে একলা ঘরে, আশে পাশের মানুষ কি ভাববে??বউ নেই ঘরে বাসায় আরেকটা মেয়ে??হাহাহা
তোমরা দুজনেই বোকা,তনু তো এতো বোকা যে আমি ওর থেকে ওর এফবি আইডি চাইলাম আর ও আমাকে দিয়েও দিলো,,,,ও তো ছেলেদের পাত্তাই দিতো না,আমার তো এই স্বভাব না,আমি ওর পিক নিয়ে কতোজনের সাথে প্রেম করসি হিসেব নেই তাও ওর আইডি থেকে,তনু এফবিতে আাসার টাইম আমার জানা ছিলো আমি সে বুঝে চ্যাট করে ডিলেট দিয়ে দিতাম ও জানতেও পারতো না,
শিশির-best friend হিসাবে ও তোমাকে trust করেছিলো আর তুমি??? আমি ওকে কতটা অবিশ্বাস করেছি শুধুমাত্র তোমার জন্য
মিনু-oh come on,এগুলা ভেবে লাভ নেই,Divorce হয়ে গেসে,আর আমি একা একা তুমিও একা একা বাসায়,Already আশেপাশের মানুষ কথা বলাও শুরু করে দিসে????
মিনু এসে শিশিরের Shirt এ হাত দিবে তনু ধরে ফেললো,
তনু-Dont touch my man
মিনু হঠাৎ তনুকে দেখে Shock খেলো,
তনু সজোরে মিনুকে থাপ্পড় দিলো,
তনু-স্বার্থপর!!!!!তোর মতো best friend যেন আর কারও না হয়,
মিনু-তনু সব মিথ্যা আমি কিছু করিনি,তোর husband আমাকে ডেকেছে
তনু-আমি সব শুনেছি,সো মিথ্যা কথা বলে লাভ নেই,
মিনু-ও তাহলে সব শুনেছস,
মিনু শিশিরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,
শয়তানের মতো হেসে নিজের জামার হাতা টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেললো,
মিনু তনুর তাকিয়ে আবার হাসলো,তারপর ন্যাকা কান্না শুরু করে দিলো জোরে জোরে,
মিনু-বাঁচাও বাঁচাও,
মিনু গিয়ে দরজা খুলে দিলো,কয়েকজন ভিতরে ঢুকলো,কি হয়সে???
মিনু-এই ছেলেটা আমার সাথে খারাপ কাজ করেছে,দেখুন আমার অবস্থা,,
শিশির-এই তুমি পাগল হয়ে গেসো??
তনু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নাটক দেখতেছে,
সবাই শিশিরের দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে,
তনু এবার জয়ের হাসি দিলো,সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,
তনু হাসতে হাসতে গিয়ে সোফায় বসলো,,
তনু-এই যে আংকেল এই দিকে আসুন তো,এই নেন ভিডিও দেখেন সবাইরেও দেখান,Great Grand Masti??season 3?
মিনু চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে,
তনু মিনুর দিকে তাকালো,
তনু-মিনু, আমাকে এখনও চিনস নাই??আমি কাঁচা মাছ খাই নারে,,আমি তে বোকা তো বোকা মেয়ে কি করছে দেখবি না??
তনু ফোনটা নিয়ে মিনুকে দেখালো শিশিরের সাথে বলা সব কথা তনু দাঁড়িয়ে ভিডিও করেছে,,
তনু-এখন আপনারা ডিশিসন নেন,চোখে যেটা দেখেছেন সেটা বিশ্বাস করবেন নাকি কানে যেটা শুনেছেন সেটা,,আর তাও বিশ্বাস না হলে ওরে হসপিটালে নিয়ে psycal test করান,
চলবে♥

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_62
যতজন ছিলে সবাই একেক করে মিনুকে insult করতে লাগলো,
তনু-শুধু মাত্র আমার friend তুই তার জন্য ছাড়ছি তোকে,Next time আমার আশেপাশেও জেনো তোকে না দেখি,Now get out!!
সবাই চলে গেলো,
তনু রুমে যাওয়া ধরলো শিশির এসে পথ আটকালো,
তনু-সরি বলতে হবে না,
শিশির সরি বলবো না,,
তনু-তাহলে??
শিশির-ভালোবাসা দিয়ে মাফ চাইবো,মানা করতে পারবা না
তনু-মানা করলে শুনেন?
শিশির-,,,,,,,
তনু-btw doctor হসপিটালে যেতে বলেছে আজকে আলট্রাসোনোগ্রাফি করবে,,বেবি দেখবে
শিশির-সত্যি???
তনু-হুমমমমম
শিশির তাহলে চলো,,দুজনেই রেডি হয়ে hospital গেলো,
শিশির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে,তনুর হাসি শুনা যাচ্ছে খিলখিল করে হাসতেছে,,
শিশির-কি হয়সে doctor? ও এতো হাসতেছে কেন?
Doctor -আপনার wife কে বুঝান উনার নাকি আমি পেটে হাত দিলে কাতুকুতু লাগে,জেলি লাগানোর পর থেকে হাসতেছে হাত লাগাতেই পারছি না,
শিশির-আমি হাত লাগালেও এমন করে
তনু-আপনার মুখে কিছু আটকায় না??
শিশির-আমাকে দিন, আমি করবো ওর Altra,
শিশির পেটে হাত দিতেই তনু আবার হাসি শুরু করলো,শিশির শক্ত করে মুখ চেপে ধরলো,
শিশির-চুপ,বেবি দেখো ঐদিকে তাকিয়ে
তনু চোখমুখ খিঁচে হাসি বন্ধ করে তাকালো,বেবিকে দেখে শান্তি পেলো,
শিশির-আমাদের বেবি,,
বাসায় যাওয়ার পর তনু বারান্দায় বসে আছে হেলান দিয়ে,, শরীর ভালো নেই,,১২দিনে শিশির যেমন ঠিকমতো খায়নি তনু ও খায়নি,,তারউপর বমি তো আছেই,,
শিশির এসে পিছন থেকে চোখ ধরলো,
তনু-শিশির বাবু♥
শিশির-হুম,Surprise একটা আছে
তনু-কি??
শিশির album টা তনুর হাতে দিলো,Album এ তাদের বেবির 1st পিক,আলট্রার
তনুর খুশিতে চোখে দিয়ে পানি যেতে লাগলো,
শিশির পাশে বসে চোখ মুছে দিলো,
শিশির-বেবির সব পিক আমরা এই albumএ রাখবো,
তনু-হুম,
শিশির-আচ্ছা চলো বাইরে থেকে ঘুরে আসি
তনু-কই?
শিশির-শিশু পার্ক যাবা?
তনু-আমাদের এখানের?ওহ মাগো যে ছেলেটা পার্ক হওয়ার পর থেকে জীবনেও যায়নি সে আজ যাবে?
শিশির-হাঁটবো just,
তনু-ওকে,
দুজনেই হাঁটতেছে,ঘাটে এসে তনু শিশিরের কাঁদে মাথা রাখলো,,
শিশির-কি হয়সে??ভালো লাগে না?
তনু মাথায় উঠিয়ে বলতে যাওয়ার সময় মাথার উপরে থাকা গাছের সাথে বারি খাওয়া ধরলো তার আগেই শিশির উপরে হাত দিয়ে দিলো,
শিশির-সাবধানে
তনু-হুম,,জানেন আমি এই পার্কে আসলেও আপনাকে খুঁজতাম যদি একবার দেখা পাই সেই আশায়
শিশির-হাহা,আমি এইদিকে তেমন আসতাম না,
তনু-আপনি তো কলেজ রোড এর ঐদিকে থাকতেন
শিশির-হুম
তনু-চলেন বাসায়, ভালো লাগতেছে নাহ আমার
শিশির-চলো,,
গাড়ীতে উঠার সময় এক বৃদ্ধ মহিলা তনুর হাত ধরলো,,
মহিলা-মা আমাকে কিছু দাও,
তনু উনাকে দেখলো,,ছোটবেলা থেকে এসব ক্ষেত্রে তনু সবচেয়ে বেশি আবেগি,তনু গাড়ী থেকে কেক আর জুস উনার হাতে দিলো,শিশিরের কাছে গিয়ে ওর পকেট থেকে মানিব্যাগ নিয়ে দেখলো ৩০০০টাকা,,
তনু এনে উনার হাতে ধরিয়ে দিলো,,নিজের গায়ের থেকে চাদর টা নিয়ে উনার গায়ে দিয়ে দিলো,,
তনু-ওয়েট,,তনু নিজের ছোট সাইড ব্যাগটা উনার হাতে দিলো,ধরেন টাকা গুলা এখানে রাখেন,,টাকা রাখার পর তনু ব্যাগটা উনার গলায় দিয়ে ঢুকিয়ে ব্যাগটা উনার বোরকার ভিতরে ঢুকিয়ে দিলো,
তনু-কেউ আপনার থেকে আর টাকা টা নিতে পারবে না,,
মহিলা-আল্লাহ তোমাদের ভালো করুক, সুখে থাকো,শত সন্তানের জননী হও,এটা বলে চলে গেলো,
শিশির-ওমা এটা কি বলে গেলো??? শত?ইন্নালিল্লাহ,আমি শেষ হয়ে যাবো,তনু হাসতে লাগলো,
শিশির-যাই হোক ভালো কাজ করসো,Thanks,
তনু-Thanks আপনাকে,আপনার টাকাই তো দিলাম,
শিশির-তা ম্যাডাম আপনার গায়ে তো কিছু নাই,ঠান্ডা লাগবে তো,
তনু-তাহলে চিন্তা করেন উনারা কতো কষ্টে জীবন যাপন করে,
শিশির নিজের জ্যাকেট খুলে পরিয়ে দিলো,
শিশির -জানো একদিন নাতাশা আমার সামনে একজন বুড়ো লোককে ৩টাকা দিসিলো,বলেছে ওর এগুলা ভালো লাগে,
৩টাকাতে ওদের কিছু হয় না,৬জনের ৩টাকা জমিয়ে ওরা সামান্য খাবার খায়,ওদের দেওয়ার হলে সবসময় বেশি দেওয়া উচিত,,তোমার মতো করে যদি সবাই ভাবতো
তনু-ঐ ফইন্নির কথা বাদ দেন,একটা পাগল
দুজনেই বাসায় আসলো,,
তনু শিশিরের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে,মা কখন আসবে? আমার একা লাগে,
শিশির-এসে যাবে,,আমি কাল থেকে অফিস যাবো,
তনু-ওকে,একটা গান শুনান,
শিশির-আমি English গান শুনি,English পারি
তনু-শুনান
শিশির-The club isn’t the best place to find a lover So the bar is where I go Me and my friends at the table doing shots
Drinking fast and then we talk slow
And you come over and start up a conversation with just meAnd trust me I’ll give it a chance now
Take my hand, stop, put Van the Man on the jukebox
And then we start to dance, and now I’m singing like[Pre-Chorus]
Girl, you know I want your loveYour love was handmade for somebody like me
Come on now, follow my lead
I may be crazy, don’t mind me Say, boy, l
et’s not talk too much
Grab on my waist and put that body on me
Come on now, follow my leadCome, come on now, follow my lead[Chorus]I’m in love with the shape of youWe push and pull like a magnet doAlthough my heart is falling tooI’m in love with your bodyAnd last night you were in my roomAnd now my bed sheets smell like youEvery day discovering something brand newI’m in love with your bodyOh—I—oh—I—oh—I—oh—II’m in love with your bodyOh—I—oh—I—oh—I—oh—II’m in love with your bodyOh—I—oh—I—oh—I—oh—II’m in love with your bodyEvery day discovering something brand newI’m in love with the shape of you♥♥♥♥
তনু-ছাতার মাথাও বুঝি নাই?
শিশির-?
তনু-হাহাহা খালি একটা জিনিস বুঝছি
শিশির -কি
তনু-আপনি আমার বডি পছন্দ করেন???
শিশির-সেটা তো করি,লম্বা,চওড়া,,একটু চিকন বেশি না,pregnant হওয়ার পরে তো নাদুসনুদুস,,
তনু-ইস???
শিশির-লজ্জা পাইলা??
তনু-হুম পাইলাম,
শিশির-এতো লজ্জা কিসের,রোডে আমাকে দেখলে তো চোখ মারতা
তনু-সেটা দুষ্টুমি করে
শিশির-আচ্ছা
চলবে♥

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_63
শিশির বাথরুমে চলে গেলো,,
তনু ভাবতে লাগলো, যে ছেলেটাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যেতো,হুদাই বাসা থেকে বের হতো সে আজ সারাদিন তার চোখের সামনে থাকে,কিছুদিন পর তার দেওয়া সবচেয়ে বড় ভালোবাসার উপহার আসতে চলেছে,,
তনু যেনো নতুন করে শিশিরের প্রেমে পড়েছে,
তনু ভাবতেছে আর মুচকি মুচকি হাসতেছে,
শিশির বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো হাসতেছে,
শিশির-কি হয়সে ম্যাম??এতো হাসি?
তনু-কিছু না
শিশির-কিছু তো আছেই
তনু-না না
শিশির-হ্যাঁ হ্যাঁ
শিশির-এদিকে আসো
তনু কাছে আসলো,
শিশির-আরেকটু কাছে
তনু-আসলাম,
শিশির পিঠে হাত দিয়ে আরও কাছে এনে কানে ফিসফিসিয়ে বললো,,,,,,,,ভালোবাসি,,,♥
তনু-হুহ
শিশির-কি?
তনু-পুরাটা বলতে হবে নইলে বুঝব কিভাবে কে কারে ভালোবাসি কইসে
শিশির-হাহাহা,,আচ্ছা,আমি তোমাকে ভালোবাসি♥
তনু-আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি,উম্মাহ ?
শিশির-এই পাগলামি আর গেলো না,
তনু-আপনি দিবেন না?
শিশির-জী,উম্মাহ?
তনু-??????তনু শিশিরের ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আছে
শিশির-কিস??
তনু-না
শিশির-তাহলে কি দেখো?
তনু-আপনি যখন মায়ের পেটে ছিলেন মা কি খেতো,আপনার ঠোঁট দেখি আমার থেকেও গোলাপি
শিশির-আমি কখনও cigarette খায়নি
তনু-হুম তা না বাট এমনিতেই পিংক
শিশির-বুঝতে হবে
তনু-কি এরই,এগুলা আমার?Already ১৯বার কিস করে ফেলছি, এখন আর কেউ আপনাকে কিস করবে না????
শিশির-আবার count ও করসো??এতো কিছু কখন করো
তনু-?বুঝবেন না
শিশির-আচ্ছা ১৯?২০করে দিই,বলতে সুবিধা হবে তাহলে
তনু-?????
শিশির তনুর মুখে ধরে নিজের দিকে ফিরালো,
শিশির-বিয়ের বয়স হয়সে ৮মাস,,এখনও নতুন বউয়ের মতো লজ্জা?
তনু-তো কি?
শিশির-যদিও প্রথম প্রথম আমাকে জোর করে ধরে??করেছিলা
তনু-?না করলে তো জোরই করতে হয়
শিশির-হুম সেটা ঠিক
তনু -হুমম,তনু আরেক দিকে কিছু বলতে যাবে শিশির খপ করে ধরে কিস করে দিলো,
তনু ঠেলতেছে শিশিরকে,,
কিছুক্ষন পর,আপনার লজ্জা শরম নাই??আমি কথা বলতেছিলাম,ভয় পাইসি
শিশির-আমার কি?আমি আমার কাজ করে দিসি
শিশির গিয়ে laptop নিয়ে বসলো,তনু উঁকি মেরে মেরে কিছুক্ষণ দেখলো,তারপর উঠে গেলো, কফি বানাবে,
বানিয়ে আনলো,শিশিরকে দিলো,
শিশির-তুমি রান্না ঘরে কেন গেসো??
তনু-বুয়া help করসে
শিশির-না,যাবা না,দরকার হলে আমি বানাবো,
তনু-খান,
তনু কফি খাওয়ার পর কফির ফ্যানা ওর ঠোঁটের উপর লেগে আছে,
শিশির-পাগলি,শিশির হাত দিয়ে মুছে দিলো,,
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে,
তনু-(কে বলছে হালকা দাঁড়ি রাখতে,এমনিতেও handsome আবার দাঁড়ি পাগল হয়ে যাবো),,,,,,
শিশির-কি ভাবতেছো?
তনু শিশিরের গালে হাত দিলো,
তনু-এগুলা রাখসেন কেন?
শিশির-এই কদিনে সেভ করি নাই,করবো,
তনু-না
শিশির-কেন?
তনু-এমনি থাক ভালো লাগে
শিশির-ওওওওওওওওওওওও
তনু-কি ওওওওওও?
শিশির-কিস করলে যে গালের সাথে গাল লেগে যে খোঁচা লাগে ওটা ভালো লাগে বুঝি??
তনু-না কই
শিশির-তাই না??
শিশির তনুকে টান দিয়ে শুইয়ে দিলো,ওর গালে দাঁড়ি দিয়ে খোঁচা দিতে লাগলো
তনু দুই হাত দিয়ে সরানোর চেষ্টা করছে,শিশির দুহাত চেপে ধরলো,
তনু-কাতুকুতু লাগে,pls ছাড়েন,আম্মুউউউউউ,pls pls ছাড়ুন, মরে যাবো
শিশির হাসতেছে আর কাতুকুতু দিতেছে,
তনু-শয়তান ছেলে,কুত্তা বিলাই??
১০মিনিট পর ছেড়ে দিলো,
তনু-কথা কমু না
তনু চলে যাওয়া ধরলো শিশির হাত ধরলো,
শিশির-যাইতে দিব না
তনু এসে শিশিরের বুকে শুয়ে পরলো,হাঁপিয়ে গেসে দুজনেই,,
তনু-আচ্ছা একটা কথা বলি?
শিশির-হুম
তনু-বেবি হওয়ার সময় যদি আমার কিছু হয়ে যায়,?
শিশির রাগী চোখে তাকালো,
তনু-কি হলো বলেন
শিশির তনুকে বুক থেকে সরিয়ে দিলো,
তনু-বলবেন না?
শিশির-তোমাকে একদিন বলসি এসব কথা বলবা না,থাপ্পড় ও দিসিলাম,
তনু-সরি
শিশির উঠে বসে পরলো,
তনু-সরি,রাগ করবেন না,কানে ধরসি
শিশির উঠে গেলো,যাওয়ার সময় বললো অফিসে কাজ আছে
তনু-ধুর,এটা বলা ঠিক হয়নি,উত্তর দিলেও বা কি হতো?
সন্ধা হয়ে গেসে,শিশির এখনও আসেনি,
৮টায় আসলো,আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে shirt খুলতেছে,
তনু এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো,,শিশির কোনো কথা বললো না,
তনু দেখেন আপনার shirt পরেছি,
শিশির পিছনে তাকালো,তনু মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে,
শিশির ব্রু কুঁচকিয়ে ওরে কোলে তুলে নিলো
তনু ভাবসে শিশির রাগ করসে,কিন্তু একি?? ও দেখি কোলে তুলে নিলো
শিশির তনুকে বিছানায় নামিয়ে কম্বল গায়ে দিয়ে দিলো
শিশির-এই শীতে ঠান্ডা লেগে যাবে,
তনু-খাবো চলেন
শিশির-বসো আমি আনতেছি
শিশির খাবার এনে তনুকে খাইয়ে দিতে লাগলো,
তনু -সরি আর বলবো না তাও রাগ করে থাকিয়েন না,
শিশির-নাহ রাগ করিনি,আসলে একটা bad news আছে
তনু-কি?
শিশির-আমাকে অফিস থেকে America যেতে হবে,project টার client সেখানে,
তনু-কতোদিন থাকবেন??
শিশির-৩মাস
তনু-আমি থাকবো কি করে,এটা হবে না??????
আমি একা একা বেবি সামলাবো কি করে???
চলবে♥

Crush যখন বর?part58/59/60

0

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_58
শিশির laptop নিয়ে বসলো,
ফোন চেক করলে তনু ২৫বার কল দিসে,,
শিশির ফোন টা রেখে দিলো,,
দরজা কে জানি নক করলো,
মীম গিয়ে দরজা খুললো,
মীম-কে আপনি?
মিনু-আমি মিনু,তনুর Best friend
মীম-ও,আসেন ভিতরে আসেন,
মিনু-আমি শিশিরের সাথে কথা বলবো,আমি কি ওনার রুমে যেতে পারি?
মীম-আচ্ছা ঠিক আছে,
মিনু শিশিরের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো,শিশির তনু মনে করে বললো
শিশির-ফিরে তো আসলাই,
এটা বলে তাকিয়ে মিনু কে দেখে অবাক হলো,
শিশির উঠে দাঁড়িয়ে গেলো,আপনি??এখানে?আর দরজা লাগিয়েছেন কেন,
শিশির দরজা খুলতে যাবে মিনু হাত ধরে ফেললো,
মিনু-একা থাকি?থাক না দরজা বন্ধ,
শিশির হাত ছাড়িয়ে নিলো,
মিনু শিশিরকে জোর করে ধরে জড়িয়ে ধরলো,
মিনু-তোমাকে পাওয়ার জন্য কতো কিছু করলাম আর সেই তনু তোমাকে নিয়ে চলে গেলো,
শুরু থেকেই ওকে অনেক বুঝিয়েছি বাট ও তো তুমি বলতে অজ্ঞেন,ফালতু,
শিশির-WTF!leave me,শিশির ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছে কিন্তু পারতেছেই না,,
তনু গাড়িতে,সারা রাত ঘুমাতে পারে নি,তার উপর মা কল করে বললো উনি মদ খেয়েছেন, আমি ছাড়া কেউ উনাকে ঠিক করতে পারবে না,আমি যাই,কি করবো আর
শিশির-ছাড়ো,শিশির ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো,
মিনু খাটে শুয়ে পরলো জোরে জোরে হাসতে লাগলো,
শিশির দরজা খুলতে গিয়ে দেখলো লক,চাবি??
মিনু চাবি নিয়ে শিশিরকে দেখালো,
শিশির চাবি নিতে গেলো মিনু সরিয়ে ফেললো,
মিনু-উফ সোনা এতো দুষ্টুমি করো কেন???
মিনু রুমে তাকিয়ে দেখলো শিশির আর তনুর ছবি,সে ছবি টা দেখে ছুড়ে মারলো,
মিনু-শুধু মাত্র ওর জন্য আমি তোমার বউ হতে পারিনি,নাহলে আমার মধ্যে কি কোনো কম আছে নাকি,??তোমাকে আমি ভালোবাসি বলতে গিয়েও পারিনি,আর ও বলে তোমাকে জিতে গেলো??সেটা তো হয় না
শিশির-চাবি দাও আমাকে
শিশির মিনুর থেকে চাবি নিয়ে লক খুলে দরজা খুলতে যাবে মিনু একটান দিয়ে বিছানায় ফেলে দিলো,মিনু শিশিরের উপরে উঠে গেলো,
মিনুর কানে হঠাৎ তনুর আওয়াজ এলো,তনু মীমের সাথে কথা বলতেছিলো,সাথে সাথে শিশিরকে টান দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো প্লিস দুলাভাই এমন করিয়েন না,
তনু-মিনুর গলা না???
তনু রুমে এসে দেখলো মিনু চিৎকার দিতেছে,ওরা দুজনেই বিছানায়,
তনু কিছুক্ষন চুপ হয়ে তাকিয়ে রইলো,হাত থেকে ব্যাগটা পড়ে গেলো,
মিনু উঠে ওড়না হাতে নিয়ে তনুর কাছে গিয়ে কাঁদতে লাগলো,
মিনু-দেখ আমি তো ভাবলাম তোর সাথে দেখা করবো আর তোর husband এটা কি করতে গেসিলো,ভাগ্যিস তুই ঠিক টাইমে এসে গেলি,
শিশির-তনু নাহ,ওর কথা বিশ্বাস করো না,ও মিথ্যা বলতেছে
মিনু-তনু তুই তোর best friend কে বিশ্বাস করবি না?
তনুর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো,
তনু শিশিরের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছতে মুছতে চলে যেতে লাগলো শিশির এসে হাত ধরলো,
শিশির-তনু Trust me আমি এমন কিছুই করি নি,
তনু শিশিরের দিকে তাকালো,শিশির শক্ত করে ধরে রাখলো তনুকে,
শিশির-আমি এমন না তনু,pls trust করো,
তনু মিনুর দিকে তাকালো, মিনুর সাথে ওর ৮বছরের বন্ধুত্ব,মিনুর চোখের পানি দেখলো তনু,তারপরে শিশিরের থেকে হাত ছাড়িয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে কিছুদূর যেতেই senseless হয়ে গেলো,
তারপরে ♥
তনু চোখ মেলে শিশিরকে দেখলো,শিশির মাথায় হাত দিয়ে পাশে বসে আছে,তনু উঠলো,
শিশির তনুকে দেখে ধরতে গেলো তনু হাত দিয়ে মানা করলো,
তনু খাট থেকে নেমে ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার সময় শিশির আটকালো,
শিশির-আমাকে বিশ্বাস করো না?
তনু-করি!সাথে মিনুকেও
মিনুর পাল্টে যাওয়া দেখিনি,তবে আপনার টা দেখেছি,
তনু চলে যাওয়ার সময় মা আসলো,
মা এসে তনুকে ধরে কেঁদে দিলো,
মা-তনুরে এমন করিস না তোরা, তোদের সুখ দেখে নিজেও সুখ পেতাম হঠাৎ করে কি এমন হলো তোরা এমন করতেছস,দুটো বাচ্চা আসতে চলেছে তোদের মাঝে তা কি ভুলে যাস তোরা,,
মা তনুর হাত নিজের মাথায় রেখে বললো
মা-আমার কসম তুই এই বাসা থেকে আমি না বলা পর্যন্ত যাবি নাহ,এবার ইচ্ছা হলে যা আমি মরে যাবো
তনু-মা
মা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো,তনু মীমের রুমে চলে গেলো,
মীম-ভাবি তুমি তখন senseless হয়ে গেসিলা পরে ভাইয়া তোমাকে বাসায় এনেছিলো,
তনু-..।
তনু কি করবে???এক সাইডে তার best friend আরেক সাইডে শিশির,
তনু কাঁদতে লাগলো,
মীম-ভাবি কাঁদিও না,মীম তনুকে থামাতে পারছে না দেখে শিশিরকে ডেকে আনলো,
শিশির তনুর অবস্থা বুঝতে পারতেছে,তনুর কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পরলো,
মীম চলে গেলো রুম থেকে,
শিশির নিজের হাত তনুর পেটে রাখলো,
শিশির-আমার বেবির কসম আমি আজ মিনুর সাথে কোনো খারাপ কিছু করিনি, ও যা বলেছে সব মিথ্যা,আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি,সর্বপ্রথম তুমি সেই নারী যাকে আমি ছুঁয়েছি,সবার শেষ তুমি হবা,আর কেউ না,
তনুর চোখের পানি গিয়ে শিশিরের হাতে পরলো,
শিশির তনুকে জড়িয়ে ধরলো,
শিশির-সরি,Sorry for everything,
তনু -মাকে বলেন আমি কাল বাসায় চলে যাবো,আপনি বললে মা রাজি হবে,
শিশির-না যাবা না তুমি,
তনু-আমি কসমে বিশ্বাস করি
চলবে♥

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_59
তনু শিশিরকে সরিয়ে দিলো,
শিশির রুমে গিয়ে ফোন আনলো,এনে তনুর কাছে এলো,
তনু-আবার কি???
শিশির তনুর হাতে ফোন দিলো, দেখো এসব কি??
তনু সব মেসেজ পরে নিজেই টাস্কি খেয়ে গেলো, এগুলা তো আমার আইডি থেকে করা চ্যাট,বাট চ্যাট তো আমি করি নি,
শিশির-তুমি আমাকে বলতে পারতা,লুকালা কেন??
তনু-আমি লুকায় নাই,আজব আমি নিজেই জানি না,
শিশির-তো এগুলা কি মিথ্যা??আর তোমার ছবি?
তনু মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলো ভাবতে লাগলো এই ছবি ও কারে দিসে,তনু মিনুকে ছাড়া আর কাউরে কখনও পিক দিতো নাহ,না মিনু এমন করতে পারে না,তনু মাথায় হাত দিয়ে চাপতেছে,শিশির হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো
শিশির-থাক বাদ দাও,Rest নাও,just আমার খারাপ লাগসে এই কারনে যে তুমি আমাকে মিথ্যা বলছো,
তনু-আমি কোনো মিথ্যা বলি নি,আমি প্রমান করে দিব
শিশির -লাগবে না,
তনু-যান এখান থেকে,leave me alone
শিশির উঠে চলে যাওয়ার সময় তনু ডাক দিলো
শিশির-কি?
তনু -আমাকে আপনার ফোন টা দিয়ে যান
শিশির ফোন দিয়ে চলে গেলো,তনু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব দেখতে লাগলো,সারা রাত ধরে সব চেক করতে করতে at last tired হয়ে ঘুৃমিয়ে গেলো,
সকালে তনু ঘুম থেকে উঠে শিশিরের কাছে গেলো
তনু-আপনি মাকে বুঝান আমি বাসায় যাবো,
শিশির-না যাবা না
তনু-যা বলছি করেন, এমনিতেও এই বাড়িতে থাকার আমার কোনো শখ নেই,,আর হ্যাঁ single mother হয়ে থাকার ক্ষমতা রাখি,আমি আপনাকে divorce দিব,আশা করি এরপর থেকে আপনি ভালো থাকবেন,
শিশির তনুর হাত ধরলো,
শিশির-কি বলতেছো এসব??
তনু-যা বলছি করেন,
শিশির আর কিছু বললো নাহ,চুপচাপ শিশির মায়ের কাছে গেলো,মা তনু কিছুদিন নিজের মায়ের বাসায় থাকতে চায় তুমি ওরে অনুমতি দাও,আমাদের ঝগড়া মিটে গেসে,মা অনুমতি দিলো তনু সাথে সাথে বাসায় চলে যাওয়া ধরলো,শিশির শেষ বারের মতন তনুর হাত ধরলো,তনু পিছন ফিরে তাকালো না,
শিশির-একবার দেখবা না আমায়?
তনু-যোগ্যতা হারিয়েছেন,
শিশির-ওও,শিশির হাত ছেড়ে দিলো,তনু চলে গেলো,
কিছুক্ষন পর শিশির দৌড়ে গিয়ে তনুর সামনে দাঁড়ালো,
তনু-কি??
শিশির-চলো বাসায় দিয়ে আসি
তনু-লাগবে না,একা চলা শিখে গেসি,
শিশির হাত ধরে টেনে গাড়িতে উঠিয়ে বাসায় দিয়ে আসলো,
বাসায় এসে সেই আবার মদ order করলো,,
১০দিন কেটে গেলো,কেউ কারও কোনো খোঁজ নিলো না,শিশির নিজের কোনো খেয়াল রাখে না,দরজা সারাদিন বন্ধ,মন চাইলে খুলে order করে percel নিয়ে দরজা আটকে দেয়,,ঠিকমতো খায় না,তনুর সাথে যা করেছে তার শাস্তি সে নিজেকে দিচ্ছে,
তনু রিসাদকে একটা খাম দিলো,শিশিরকে দিয়ে আসার জন্য
রিসাদ গিয়ে খাম টা দিয়ে আসলো,
শিশির-Divorce paper, হাহাহা,শিশির মদ খেয়ে উন্মাদ হয়ে গেছে কিছুক্ষণ হেসে দেখলো তনুর সাইন,শিশির কেঁদে দিলো তার পর চোখ মুছে সাইন করে দিলো,,খাম টা ছুঁড়ে মারলো,
শিশির-রিসাদ তুমি যাও, আমি খাম টা নিয়ে আসবো,
রিসাদ চলে এলো,
শিশির আরও মদ খেলো,সব ঝাপসা,কোনো রকম উঠে গাড়ি চালিয়ে বাসায় আসলো,খাম টা হাতে নিয়ে ঢুকলো,
তনু বারান্দাতে দাঁড়িয়ে আছে,,
শিশির ধাক্কা দিয়ে দরজা খুললো,তনু চমকে উঠে পিছনে তাকালো,
শিশির রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো,
শিশির-নিজেকে কি ভাবো তুমি??আমার কোনো feelings নাই??খালি তোমার আছে???
তনু-(এই কি অবস্থা করেছে নিজের,চিনা যাচ্ছে না,)আপনি
শিশির তনুর কাছে গিয়ে তনুকে জোরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো,
তনু জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে,শিশির অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,
তনু-মদ খেয়েছেন?
শিশির একটা আঙুল এনে তনুর ঠোঁটের মাঝখানে রাখলো
শিশির-চুপ,
তনুর থুতনি ধরে মুখ উপরে তুললো,সাইন করে দিসি,তোমার ইচ্ছা পূরন হলো,শিশির হাসতে লাগলো,
হাসতে হাসতে তনুকে ছেড়ে জানালায় গিয়ে দাঁড়ালো,
তনু মুচকি হাসলো,,খাম টা নিয়ে পড়ে নিলো,
শিশির-খুব হাসি পাচ্ছে তোমার তাই না??
এখন তো আমরা husband wife নাহ,শিশির এসে আবার তনুকে চেপে ধরলো,
তনু কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো
শিশির-এখন তোমার সাথে কিছু করলে তা অবৈধ্য হবে তাই না??
তনু কিছু বলতে যাবে শিশির কোলে তুলে নিলো,তনু চুপ,
শিশির তনুকে খাটে নামিয়ে দিলো,,
শিশির-ঠিক করলে না এমনটা করে,
চলবে♥

Writer -Afnan Lara
Crush যখন বর?
#Part_60
তনু-আমি কিছু,,,,,শিশির চুপ করিয়ে দিলো,
শিশির-Shhhhhhh
শিশির তনুর পেটে হাত রাখলো,
শিশির-এগুলা আমার,, পেটের ভেতরের বেবিগুলা আমার,পেট টাও আমার,তারপরে তনুর ঠোঁটে হাত দিলো,এই ঠোঁট টাও আমার,তনুর গলায় হাত বুলিয়ে নিলো,এই সব আমার,অন্য কেউ এর ভাগিদার হতে পারবে না,আমি দিব না, কিন্তু??তুমি তো সাইন করিয়ে নিলা,এগুলা আর আমার থাকবে না???
শিশির উঠে বসে পরলো খাটে,,হাত দিয়ে চোখ মুছতেছে,আর হাসতেছে,
তনু বসে তাকিয়ে আছে শিশিরের দিকে,১২দিনে কি হাল করেছে নিজের,তনুর চোখ শিশিরের হাতের দিকে গেলো,,কাটা গেছে কিভাবে?তনু হাত টা ধরে দেখতে লাগলো,কিভাবে হয়সে এটা??
শিশির-জানি নাহ(শিশির রাগ উঠলে দেওয়ালে ইচ্ছা মতো ঘুষি মারে,ঐদিন মেরেছিলো তাই এই অবস্থা)
তনু-নাকি বলবেন না?
শিশির-বলবো না,
তনু উঠতে গেলো bandage আনার জন্য শিশির আটকালে,
শিশির-যে ব্যাথা টা বুকের ভেতর আছে সেটায় bandage লাগাতে পারবা??তাহলে নামিও
তনু কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো,তারপরে উঠে গেলো,
শিশির-,,,,,,,,
উঠে First aid box নিয়ে জানালার পর্দা টেনে দিলো,শিশিরের কাছে এসে ওর হাত ধরে bandage লাগিয়ে দিলো,,
তারপর হাত ছাড়িয়ে নিতে নিলো শিশির ছাড়লে নাহ,ধরে রাখলো,শিশির নেশার চোখে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে,এটা মদের নেশা না,প্রেমের নেশা,
pregnant হওয়ার পর থেকে তনু তেমন সাজগোজ করে না,গোসল করার পর তনুকে এক অন্যরকম সুন্দর লাগে,
আজ ও সেই সৌন্দর্য্য দেখসে শিশির,,
শিশিরের এমন তাকানো দেখে তনু কিছুটা লজ্জা পেলো,হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো পারলো না,শিশির শক্ত করে ধরে আছে,,,
তনু-সকালে কিছু খেয়েছেন,
তনুর কথায় শিশিরের হুস আসলো,
শিশির-হ্যাঁ খেয়েছি,মদ খেয়েছি,
তনু-আর কিছু খান নি?
শিশির-না
তনু-বসেন,আমি খাবার আনতেছি,
শিশির-নাহ,আমি খাবো না,ক্ষিধা নেই,
তনু-চুপ
তনু উঠে গিয়ে খাবার আনলো,শিশিরের হাতে তো bandage, তনু নিজে হাত ধুয়ে শিশিরকে খাইয়ে দিলো,,
তারপর প্যারাসিটামল একটা খাইয়ে দিলো,
মা কল করলো তনুকে,
তনু-হ্যাঁ মা উনি আমার কাছে,
মা-মা একটু কষ্ট করে ওরে খাইয়ে দিস,ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করে না
তনু -হ্যাঁ মা খাইয়ে দিসি,
মা-যাক, এখন কি করে?
তনু-ঘুমাচ্ছে,,
মা-আচ্ছা,মনে শান্তি পেলাম,
তনু খাট থেকে নামতে যাবে শিশির তনুর শাড়ীর আঁচল ধরে ফেললো,
শিশির-আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি,,এখন যা করবো তা কি অবৈধ হবে?
তনু-মুচকি হাসলো,,
শিশির -হাসলে চলবে না,আমাকে উত্তর দিতে হবে,নইলে আজ আমি এই অবৈধ কাজ করবো,
তনু কিছু না বলে চলে যাওয়ার সময় শিশির আঁচল ধরে টান দিলো,
শিশির-উত্তর দিবা নাতো??
ঠিক আছে,,
তনু-আসলে……..
শিশির মুখ চেপে ধরলো,
শিশির-উত্তর দেওয়ার সময় শেষ,আমি জীবনে এই প্রথম অবৈধ কাজ করবো,Dont disturb me,ok?
তনু-উহুউহু,কিছু বলতে পারছে না,শিশির মুখ চেপে ধরে আছে,,
শিশির সেই নেশার চোখে তনুকে দেখছে,তনুর মুখ থেকে হাত সরালো
তনু-pls এভাবে তাকিয়েন না,আমি মরে যাবো,
শিশির মুচকি হেসে তনুর চুলের মুঠি ধরে নিজের আরও কাছে আনলো,,
শিশির-কতোদিন ধরে এই ঘ্রান পাই নাহ,অভ্যাস হয়ে গেসে এই ঘ্রানের,,
শিশির তনুর ঠোঁটের দিকে চেয়ে রইলো,তনু ভয়ে থাকলে নিজে রোবট হয়ে থাকলেও ঠোঁট টা নড়াচড়া বেশি করে,শিশির নিজের আঙুল দিয়ে ঠোঁট চেপে রাখলো,
শিশির-এভাবে আমার সামনে ঠোঁট আমাকে লোভ দেখাচ্ছে,,আমি যদি খেয়ে ফেলি??
শিশির-আগে দেখবো,তারপরে?
শিশির আবার তনুকে দেখতে লাগলো,তনুকে চেপে ধরে দেখতেছে,তনু নড়তে পারছে না,দম বন্ধ হয়ে আসতেছে,
আর যাই হোক ছেলের শক্তির সাথে পেরে উঠা যায় নাহ,
তনু নড়াচড়া করতে করতে নিজেই tired হয়ে এবার আরেক দিকে তাকিয়ে শিশিরের গা থেকে হাত সরালো,এতোক্ষন শিশিরকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করেছে,
শিশির তনুর মুখ ধরে নিজের দিকে ফিরালো,
অজান্তেই তনুর চোখ থেকে পানি যেতে লাগলো,
শিশির হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দিলো,,নিজের দুইহাত দিয়ে তনুর মুখ ধরে এগিয়ে গেলো,নাকে নাক লেগে গেলো,
তনু এতক্ষন বাধা দিসে,এখন আর বাধা দেওয়ার শক্তি ওর নেই,তাই চুপ হয়ে থাকলো,,
শিশির নিজের মতো করে আদর করতে লাগলো,??আর কিছুক্ষণ পর সেই উল্টা পাল্টা কথা,আজগুবি কথা বলতে লাগলো,তার মধ্যে একটা ছিলো,,,,আচ্ছা আমি তো অবৈধ্য কাজ করে ফেলতেছি আমাকে কি জেলে দিবা??????


তনু ঘুমিয়ে আছে,শিশিরের চোখে ঘুম নেই,, তনুর দিকে তাকিয়ে আছে,তারপর ওর চোখ গেলো খামটার দিকে,তনুকে চাদর গায়ে দিয়ে শিশির বারান্দার দিকে চলে গেলো,
এটা কোনো divorce paper ছিলো না,?,এটা ছিলো একটা deal এর কাগজ,,,
শিশির আর তনুর বিয়েতে কাবিন ৬লাখের হয়ে ছিলো,,
শিশির বিয়ের দিনই ৫লাখ দিয়ে দিসিলো,,
১লাখ বাকি আছে,সেটা শিশিরকে আগামি ১০তারিখের আগে দিতে হবে না দিলে তনুকে শিশিরের নিজের অফিসের PA বানাতে শিশির বাধ্য???
আর সেই পেপারে Mr.Sisir chowdhury সাইন করে দিসে,,???
শিশির থ হয়ে গেলো,এটা কি ছিলো???
শিশির তনুর দিকে তাকালো,একটা মেয়ে এতো শয়তান কেমনে হতে পারে???
আমি তো আরও ভাবসি দেশে আর থাকবো না,বিদেশ চলে যাবো,
চলবে♥