Friday, August 29, 2025
বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 2335



মেয়েটা অসত্বী পর্ব/ ২

0

মেয়েটা অসত্বী পর্ব/ ২

লেখক/ ছোট ছেলে

********

আমি/ কি যতবড় মুখ নয় ততবড় কথা

রিমির চুলের মুঠি ধরে একটা চড় মেরে বিছানা ফেলে দিয়ে বললাম

অসত্বী নষ্টা মেয়ে আর কখনও আমার সামনে আসবিনা

তোকে আমার একদম সহ্য হয়না

রিমি একটা বালিশ জড়িয়ে কান্না করছে

আমি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম

পুরো শরীর ঘেমে গেছে

বন্ধুরা দেখে জানতে চাইলো

রৌদ্র/ কিরে শালা বিয়ে করে বউ পেয়ে আমাদের তো ভুলে গেলি

অন্য আরেকটা বলে উঠলো

কিরে দোস্ত…. কিরে দোস্ত বাঁসর রাত কেমন কাটলো

যা যা বলেছি তার কোন প্রমাণ পেতেছিস

আমি একটু হতাশ হয়ে বললাম না

বন্ধুরা সবাই কেমন জানি নিস্তব্ধ হয়ে গেলো

হঠাৎ একজন বলে উঠলো

বিয়ে যখন করে ফেললি তখন আর কি করা সংসার তো করতে হবে

হয়তো আমরা যা ভাবছি তা ভুলও হতে পারে

যা বাসায় ফিরে যা

রোদ্র/ হ্যাঁ ও ঠিক-ই বলছে

যা বাসায় ফিরে যা দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন

অন্য আরেকজন বন্ধু বলে উঠলো

তোরা যা বুঝিসনা তা নিয়ে কথা বলবিনা

এমন বউ নিয়ে সংসার না করলে কি হয়

উফফফফ….তোরা থামতো আমাকে তো পাগল করে দিলি

দ্যাতততত…. ওদের ওখান থেকে চলে আসলাম

বাসায় যেতেও মন চায়না

কার কাছে যাবো আর কিসের টানে যাবো

তারপরও বাসায় চললাম

বাসায় গিয়ে দেখি রিমি নেই

হয়তো চলে গেছে যাক ভালোই হলো গেলেই তো বাঁচি আমি এমন মেয়ের সাথে ঘর করার চাইতে একা থাকাই অনেক ভালো

তারপরও সব ঘর ভালো করে আবার দেখতে লাগলাম

না কোথাও পেলামনা

মনে হয় সত্যি সত্যি চলে গেছে

উফফফফ…. একবার ছাদে গিয়ে দেখতে হয়

ছাদে গিয়ে দেখি রিমি কার সাথে কথা বলছে

কিন্তু কে সে ছেলে নাকি মেয়ে

আচ্ছা যদি ছেলে হয় তবে এটা সেই ছেলে নয়তো

যার সাথে রিমি…….

না কি বলে একটু শুনে দেখি

রিমি/ প্লিজ আমি আর পারছিনা আমাকে এখান থেকে মুক্ত করে নিয়ে যাও

এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একরাতে

কি ব্যপার রিমি এসব কাকে বলছে আর কাছে যেতে চাইছে

সে মানুষটা কে আমাকে খুঁজে বের করতে হবে

একটু পরে দেখি ফিসফিস করে কি বলে রিমি ফোনটা রেখে দিলো

আমিও তাড়াহুড়ো করে নিচে চলে আসলাম এসে বসে রইলাম

নুপুরের শব্দ পেয়ে বুঝতে পারছি রিমিও নিচে আসতেছে

নিচে নামতে

আমি/ নাগরটা কে

রিমি/ মানে

আমি/ যার সাথে এতক্ষণ পিরিতের কথা বলছো সে মানুষটার কথা বলতেছি

রিমি/ কই নাতো আমি কারও সাথে কথা বলিনি

আমি রিমির চুল ধরে রাগী গলায় বলতে লাগলাম

আমি/ এই তোমার কি মনে হয় আমি অন্ধ কানে শুনতে পাইনা

বল এতক্ষণ কার সাথে কথা বলতেছিস

আর কাছে যেতে চাইছিস

রিমি/ আহহহহহহ….ছাড়ুন ছাড়ুন বলছি

আমি আমার ভাইয়ের সাথে কথা বলছি

আমি/ ভাই নাকি পিরিতের নাগর সেটা আমি তোর সব কথা শুনে বুঝেছি

তুই মুক্তি চেয়েছিস আমার থেকে তাইনা যা চলে যা

তোকে আমি মুক্তি দিয়ে দিলাম বেরিয়ে যাবার দরজা খোলায় আছে তবে ঢুকবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে চিরতরে

একথা বলতে

রিমি/ হ্যাঁ তাই করবো চলে যাবো এই সংসার ছেড়ে চাইনা আমার এমন স্বামী চাইনা আমার এমন ঘর

তুমি মানুষ নয় তুমি পশু

রিমির মুখে যা আসে তাই বলে চিৎকার করতে লাগলো

করুক তাতে কি…। কে শুনবে তার কথা

চুপ করে বসে রইলাম

রিমি দেখি ব্যাগ গুঁছিয়ে নিচ্ছে

মনে হয় সত্যি সত্যি চলে যাবে যাক ও গেলে আমি বাঁচি

চোখের জল মুছতে মুছতে মেয়েটা সব গুঁছিয়ে নিলো

ততক্ষণে আমি ছাদে গিয়ে বসে রইলাম

ছাদে বসে দেখতে লাগলাম রিমি যাচ্ছে নাকি

অনেক্ষণ ধরে বসে রইলাম না ঘর থেকেতো দেখি কেউ বের হয়না

ঘটনা কি রিমি কি যাবেনা

বুঝেছি কষ্টের বোঝাটা আরও বাড়াতে হবে

একটু পরে আবার নিচে নেমে আসলাম ফুফিয়ে ফুফিয়ে দেখি কাঁদছে রিমি

আমি কোনকিছু না বলে আবার বেরিয়ে পড়লাম

মন বসেনা কোন খানে

না বাসায় না দোকানে

বন্ধুদের সাথেও আড্ডা দিতে মন চায়না

ওরা সবসময় আমার দিকে আঙ্গুল ইশারা করে এটাই বোঝাতে চায়

তোর বউ অসত্বী

নিজের বউয়ের সম্পর্কে এমন কথা শুনতে কার কাছেই বা ভালো লাগে

টং দোকানে গিয়ে একটা চা খেলাম আর একটার পর একটা সিগারেট টানতে লাগলাম

দোকানদার/ কি ভাই একটার পর জ্বালালে তো তুমি নিজেই জ্বলে যাবে

আমি কি করে এই দোকানদারকে বোঝাবো

তুমিতো শুধু আমার মুখের ভিতর সিগারেটের আগুনটা দেখলে

মনের ভিতর যে দাঁউ দাঁউ করে আগুন জ্বলছে সেটা নয়

দোকানদার/ কি ভাই কি ভাবো
যাও অনেক বেলা হয়েছে খেতে যাও

বউ অপেক্ষা করছে খাবার নিয়ে

আমি মনে মনে বলি
খাবার তো পরের কথা
আজ তার সাথে যা করেছি তাতে এক গ্লাস পানি পাই কিনা সন্দেহ আছে

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সত্যি অনেক বেলা হয়েছে

যাই বাসায় ফিরে যাই

চলবে….???

মেয়েটা অসত্বী পর্ব/০১

0

মেয়েটা অসত্বী পর্ব/০১

লেখক/ ছোট ছেলে

********

বাঁসর ঘরে ডুকতে দেখি রিমি খুব সুন্দর সাঁজে বউ সেঁজে অপেক্ষা করছে আমার জন্য

ভাবতে কেমন জানি লাগে
ইসসসসস….. আজ ২৩বছর ধরে অপেক্ষা করছি এই রাতের জন্য

এক পাঁ দু পাঁ করে এগিয়ে গিয়ে বসলাম রিমির পাশে

মেয়েটা আমাকে দেখে একটু নড়েচড়ে বসলো

নিজের মনকে নিজে বোঝালাম

হয়তো এই প্রথম একটা পুরুষের সাথে রাত কাটাবে তাই হয়তো একটু লজ্জা পাচ্ছে সমস্যা নেই আমি মানিয়ে নিবো

রিমিকে একটু স্পর্শ করতে সে করুন সুরে বলতে লাগলো

রিমি/ দয়া করুন আপনি আমাকে একটু দয়া করুন

আমাকে স্পর্শ করবেন না প্লিজ

আমার না খুব খারাপ লাগছে

রিমির কথা শুনে আমার মাথাটা গরম হয়ে যায়

মেয়েটা কি পাগল হয়েছে নাকি যে তার
স্বামীকে স্পর্শ করতে দেয়না শরীর

কিন্তু বাঁসর রাত বলে এই রাত কি আর ফিরে আসবে বার বার

আমি/ এই এসব তুমি কি বলছো তোমাকে স্পর্শ করবোনা মানে
তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে

তুমি আমার বৌ আমি তোমার বর
আমরা দুজন দুজনার তাই কোন কথা নয় চুপ করে শুয়ে থাকো

রিমি/ তা ঠিক কিন্তু আমি একদম প্রস্তুত নয় আপনাকে একটু সুখ দিবার জন্য

কে শোনে কার কথা

মাথা থেকে রিমির কাপড় সরিয়ে দিলাম

তারপর রিমিকে শুয়ে দিলাম

মন ভরে আদর করতে লাগলাম

রিমি কিছুটা ব্যথায় ছটপট করতে লাগলো

আমি ভাবলাম সে মনে হয় খুশিতে এমনটা করছে

কয়েক মিনিট পরে রিমিকে ছেড়ে দিয়ে বললাম

আমি/ যাও এবার তুমি ঘুমাতে পারও

রিমি আমার দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু বলার মত হয়তো কিছুই তার জানা নেই

রিমি অসহ্য কিছু ব্যথা নিয়ে অন্যদিক ফিরে শুয়ে আছে

আমি উঠে লাইট টা জ্বালালাম

দেখি বন্ধুরা যা বলছে তা সত্যি কিনা

আমার বন্ধুরা আমাকে বলেছিলো বাঁসর রাতে যদি রক্তপাত হয় তাহলে বুঝবি তোর বউ বিয়ের কুমারী ছিলো

আর যদি নাহয় তাহলে মনে করবি তোর বউ বিয়ের আগে কাউকে তার দেহ দান করেছিলো

বন্ধুদের দেয়া উপদেশটা আমার মনে আছে

তাই আমিও এখন দেখবো আমার বউ বিয়ের আগে কি কুমারী ছিলো

নাকি একটা অস্বত্বী মেয়েকে বিয়ে করেছি

আমি বিছানা খুব ভালো করে দেখতে লাগলাম কিন্তু কোথাও এক ফোঁটা রক্ত দেখতে পাচ্ছিনা

আমি/ এই তুমি এদিকে সরে বসো

রিমি কোন কথা না বলে সরে বসলো

তারপর আমি আবারও খুব ভালো করে দেখতে লাগলাম কিন্তু শেষফল জিরো জিরো

মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো যখন-ই মনে হয় আমি একটা অস্বত্বী মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছি

রিমি কান্না কান্না কণ্ঠে কি জিজ্ঞেস করলো

রিমি/ কি হলো আপনি কি খুঁজেন এতক্ষণ ধরে এই বিছানায়

হাতমুখ ঘেমে গেছে আমার

তারপরও রিমিকে বুঝতে দেইনি

বাসায় আত্মীয়স্বজনে ভরা তাই আজ আর কিছু বললাম না

রিমি শুয়ে পড়লো

আমিও লাইট বন্ধ করে দিয়ে শুয়ে পড়লাম

চোখ বন্ধ করতে মনে হাজারও প্রশ্ন শেষমেষ একটা নষ্টা মেয়েকে বিয়ে করলাম

কিন্তু আমিতো কখনও কোন মেয়ের জীবন আর দেহ নিয়ে খেলেনি তবে আমার কপালে কেন একটা অসত্বী মেয়ে জুটলো

কিন্তু রিমির একটা দিক আমাকে খুব ভাবাচ্ছে

রিমি এখনও ব্যথায় ছটপট করে

নাকি সব-ই তার মিথ্যে অভিনয়

সবকিছু বুঝতে পেরে সে এমনটা করছে

হুমমমম এখন বুঝতে পারছি বাঁসর রাতে তাকে স্পর্শ করতে কেন সে নিষেধ করেছে

না এই অসত্বী মেয়ের সাথে আমি কখনও সংসার করতে পারবনা

যে মেয়ে বিয়ের আগে নিজেকে অন্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়

সে আর যাই হোক কারও বউ হতে পারেনা

ঘুমানোর অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু ঘুমাতে পারিনি

মনে হাজারো প্রশ্ন নিয়ে সকাল হলো

কখন যে চোখে একটু ঘুম আসলো বুঝতে পারিনি

রিমি আমার আগে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা বানিয়ে আমাকে ডাকতে লাগলো

রিমি/ এই যে শুনছেন এই যে

রিমির ডাক শুনে ঘুম ভাঙ্গলো

চোখ মেলতে দেখি রিমি আমার হাত ধরে আমাকে ডাকতে লাগলো

আমি/ এই শোন তুমি আমাকে একদম স্পর্শ করবেনা

রিমি একটু মজা করে বলতে লাগলো

রিমি/ বাহ্ ভালোতো কালরাতে যার শরীর চেটে খেয়েছেন এখন সে মেয়েটাকে বলছেন স্পর্শ না করতে

আপনি তো খুব মজার মানুষ

আমি/ এই শোন যা বলছি সত্যি বলছি

কান খুলে শুনে রাখো তুমি আজ থেকে আমার কাছে আসার একদম চেষ্টা করবেনা

রিমি/ এসব আপনি কি বলছেন

মাত্র একটা কয়েক ঘণ্টা হলো এসেছি এ বাড়িতে
একটা রাত আপনার সাথে কাটিয়েছি

এর মধ্যে আমি এমন কি করলাম

যার জন্য আপনার এমন সিদ্ধান্ত

আমি/ তুমি কিছু করোনি করেছে তোমার ঐ সুন্দর রূপে

তুমি কোন দোষ নেই দোষ হলো তোমার ঐ অসত্বী শরীরে

যা আমার আগে কেউ উপভোগ করেছে মন ভরে

রিমি/ ছিঃ…… এসব আপনি কি বলেন

আপনার কি মুখে একটুও বাঁধলোনা কারও সম্পর্কে না জেনে এমন মিথ্যে অপবাদ দিতে তার উপর আবার নিজের বউকে

আপনি যদি আমার স্বামী না হয়ে অন্যকোন পর পুরুষ হতেন তাহলে পাঁয়ের জুতো খুলে আপনার মুখে মারতাম

চলবে…..???

অপ্রত্যাশিত বিয়ে শেষ পর্ব

0

অপ্রত্যাশিত বিয়ে শেষ পর্ব


–আমাদের বিয়ের দিনেও খুব বৃষ্টি হচ্ছিল,মনে আছে তোমার ?

–হুম,আছে।

–সেদিন ইচ্ছা হচ্ছিল,তোমার সাথে ভেজার।

–আজ বৃষ্টি হলে,তোমার সে আশা পূরণ করে দেব।

জুঁই কোন জবাব দিল না,আস্তে করে ওর মাথা টা আমার কাধে রাখল।

তারপর বলল,,,

–এতদিন আমার সাথে এমন করলে কেন।কেন আমাকে এভাবে কষ্ট দিছ,,,,

ওর কথার কোন উওর আমার জানা ছিল না তাই কোন উওর দিতে পারি নি।

আমাদের ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত দশটা বেজে গেল। ঘরের অবস্থা দেখে জুই হেসেই কুটি কুটি।

আমি একটু লজ্জাই পেলাম।নিজের কিছু কাপড় এমন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেটা উচিত নয়।

জুঁই বলল,,,,

–লজ্জা পাচ্ছ কেন?আমি তোমার বউ হই

–হুম তাই তো,

দুজন মিলে খুব জলদিই পুরো ঘর গুছিয়ে ফেললাম। ঘর গোছানো শেষ হতেই জুঁই বলল,,,

–বিছানা টা কেমন খালি খালি লাগছে তাই না

–হুম বালিশ একটা,,

–তার জন্য নয়,

–তাহলে,

–ফুল দিয়ে সাজাতে হবে

–ফুল কেন

–বারে আজ তো আমাদের বাসর,বাসরে বিছানা সাজাতে হয়,

–হুম,আমাদের বাসর ভুলে গিয়েছিলাম।

–হুম,,

–বাদ দাও, কি আর করার আছে

–করার আছে,বাইরে গিয়ে ফুল নিয়ে আসো,
.
আমি একটু অবাক হয়ে বললাম,,,,,

–এত রাত্রে যাব,

–হুম, এখনি,যাও নিয়ে আসো।,

–আচ্ছা,কি কি ফুল নিয়ে আসবো ?

–গোলাপ,রজনী গন্ধা ,আর গাদা ফুলও নিয়ে আসো।

আমি বাসা থেকে বের হয়ে ফুল কিনতে গেলাম।
ফুল কেনার সাথে দু প্যাকেট বিরানিও কিনে নিয়ে আসলাম,চুমুতে মন ভরলেও পেট কখনোই ভরবে না।

বাসায় ফিরেই খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। একটু বেশি ক্ষুধা লেগেছিল। জুঁইদের বাড়িতে জুঁইকে চুমু ছাড়া আর কিছুই খাওয়া হয়নি। খাওয়া শেষে জুঁই সাজতে বসল।

আর আমি বিছানা সাজাতে বসলাম। বিছানা সাজায় কিভাবে জানিনা,প্রথম বার তো এত আয়োজন ছিলনা। তবুও,ফুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে যা করা যায়,বাসর রাত বলে কথা।

প্রথম বার যত নার্ভাস ছিলাম তার চেয়েও বেশি নার্ভাস হচ্ছিলাম, জানিনা একটু পর কি হবে?
মাঝে মাঝে জুঁইয়ের দিকে তাকাচ্ছিলাম, ও ঠিক ঠাক।লাল শাড়ি পড়ে হাসছে আর সাজছে।

জুই সাজগোজ শেষে যখন বিছানায় এসে বসল, আমি অনেকক্ষন অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।হালকা সাজে মেয়ে টাকে কত সুন্দর লাগছে।সব হালকা, খালি ঠোঁটে লিপস্টিক আর চোখে কাজল ঘন করে দেওয়া। আজ যে পেট খারাপ হবে এটা শিউর।কোন কোম্পানির লিপস্টিক কে জানে,,,

এই সুন্দর মায়াবী মেয়েটাকে আমি কিভাবে এতদিন ইগ্নোর করে এসেছি মাথায় এলোনা।
.
–কিছু বল

–কি বলব

–কেমন লাগছে ?

–তা, জানিনা।তবে তোমাকে ভালবাসি। খুব ভালবাসি।
.
আমি স্পষ্ট দেখলাম জুঁইয়ের চোখে পানি,পানি টা বেশি ক্ষন দেখা গেল না।খুব জোরে একটা শব্দ হল,মনে হল আশেপাশে কোথাও বাজ পরেছে। ফলে জুই ভয় পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল,তার সাথে সাথে কারেন্ট টাও চলে গেল।

(এখানেই থাকুক না,আর জেনে কি হবে,,,,)

সমাপ্ত

#লেখকঃ Tuhin Ahamed

অপ্রত্যাশিত বিয়ে  দ্বিতীয় পর্ব

0

অপ্রত্যাশিত বিয়ে
দ্বিতীয় পর্ব


–তুমি কিভাবে বুঝলে তোমার হাত টা ধরতে চাই?

জুঁই একটু হেসে বলল,,,,

–তোমার নজর সেই তখন থেকে আমার হাত টার উপর ছিল,

–তোমার চোখ তো বন্ধ ছিল তাহলে দেখলে কিভাবে ??

–প্রতিটা মেয়েই তার স্বামীর মনের কথা বুঝতে পারে,,,

–উমমমম,,,

–লজ্জা পাচ্ছ,

–না লজ্জা পাব কেন ? নিজের বউয়ের হাত ধরতে কিসের লজ্জা,

আমি জুঁইয়ের ডান হাত টা আমার দু হাতের মধ্য নিলাম।জুঁইয়ের মুখে হাসি ফুটল,এই প্রথম ওকে নিজের স্ত্রী বলে সম্মোধোন করলাম।এই জন্যই হয়ত বেশী খুশি হয়েছে।

জুঁই আবার বলল,,,,

–তুমি চাইলে আমাকে একটা চুমুও খেতে পারো,,

–তুমি আগে সুস্থ হও,,,

–আমি সুস্থ,তুমি এসে গেছ আর কি অসুস্থ থাকা যায়।

আমি জুঁইয়ের কথা শুনে অবাক হলাম,এ মেয়েটা এত অপমান সত্তেও আমাকে কত ভালবাসে। নিজের উপর অভিমান হল,কিভাবে পারলাম এই মেয়েটাকে কষ্ট দিতে,,,

যেদিন জুঁই আমার জন্য কষ্ট করে রান্না করল সেদিন না খেয়েই উঠে গিয়েছিলাম,চিন্তাও করিনি মেয়েটা কষ্ট পাবে কি না ?রোজ রাত্রে ও ফোন করত,সেই ফোন গুলোও কেঁটে দিতাম।নিজেকে এখন খুব অপরাধী মনে হচ্ছে।

–তুমি আবার লজ্জা পাচ্ছ,,,

–পাচ্ছিনা,

–তাহলে চুমু খাও,

আমি জুঁইয়ের কপালে একটা চুমু খেলাম। চুমু শেষেই জুঁই হাসতে হাসতে বলল,,,,

–তুমি আসলেই লজ্জা পাচ্ছ,

–কেন ?আমি তো চুমু খেলাম,

–কপালে কেন ?ঠোঁটে খাও,,,,

–না,

–খাও,,,,এই যে আমি চোখ বন্ধ করছি,
.
জুই চোখ বন্ধ করল। আমি জুঁইয়ের ঠোঁট গুলোর দিকে তাকালাম ,গোলাপী ঠোঁট গুলো অল্প অল্প নড়ছিল। যেই আমি আমার ঠোঁট গুলো নিচে নিয়ে যাব তখনি মনে হল কেউ ঘরের দিকে আসছে। আমি সাথে সাথে ঠিক হয়ে বসলাম।

পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখি জুঁইয়ের ছোট বোন জেরিন এসেছে।আমাদের ইশারা করে বলল,,,

–খেতে আসো তোমরা

আমি কিছু বলতে যাব, তার আগে জুঁই বলে উঠল,,,,

–না আমরা এখন খাব না।

–কেন ?

–আজকে আমরা অন্য কিছু খাব,

–অন্য কিছু,,,কি খাবে আপু,,

–তোকে বলা যাবে না।

–তাহলে আমিও খাব তোমাদের সাথে,,,

–জেরিন,,,,,,,তুই গেলি এখান থেকে,,,

–জুঁইয়ের ধমক শুনে জেরিন পালিয়ে গেল,,,

–নাও,আমি চোখ বন্ধ করছি,

–এখানে না,বাসায় গিয়ে।কখন কে আসে এ ঘরে,

–আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাবে,,,,
জুঁই একটু উচ্ছাসিত গলায় বলে উঠল।

–হুম নিয়ে যাব।আগে তুমি সুস্থ হও তারপর,

–আমি সুস্থ,,,

জুঁই আর বিছানায় শুয়ে রইল না,ফ্রেশ হতে চলে গেল।ফ্রেশ হয়ে এসে ওর ব্যাগ গোছানো শুরু করল।আমি একটু অবাক হলাম ওর উচ্ছাস দেখে।তবে একটা প্রবলেম ও আছে।আমি যেখানে থাকি সেটাকে মুরগীর ঘর বললে ঠিক ভুল হবেনা,একজনের থাকার ঘর।জুঁই কিভাবে ওখানে থাকবে কে জানে ?ওখানে বালিশ ও একটা।অবশ্য জুঁই অনেক কবার আমার ওখানে গিয়েছিল,ও তো জানেই এসব,তবুও এত আগ্রহ।

জুঁইয়ের ব্যাগ গোছাতে গোছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।ব্যাগ গোছানো শেষে ও সাজতে বসল।এমনিতেই ও সুন্দর সাজার কি দরকার।

আমি বললাম,,,,

–এ মেকাপ কি রাত পর্যন্ত থাকবে ?

–নাহ,

–এক কাজ করো,মেকাপ বক্স টা সাথে নিয়ে নাও।রাত্রে সাজিও,আমার ঘরে আয়না আছে,

–গুড আইডিয়া,,,

আমরা জুঁইদের বাসা থেকে যখন বের হলাম তখন বাজে সন্ধে সাড়ে সাতটা।জুঁইয়ের বাবা মা আমাদের খুশি মনেই বিদায় দিল। রিকশায় উঠে জুঁই কোন কথা বলল না।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,,,

–রাতে কি খাবে,কাল থেকে তো কিছুই খাওনি,

–চুমু খাব,,,,

–শুধু চুমুতে কি পেট ভরবে ?

–ভালবাসা থাকলে ঠিক ভরবে,,,

–হা হা,ভাল বলেছ,
.
রিকশায় বসা যে এত আনন্দ দায়ক হতে পারে তা জানা ছিলনা।জুঁইয়ের একটা হাত ধরে বসে ছিলাম সারা রাস্তায়।হালকা বাতাস বইছিল,মনে হচ্ছিল বৃষ্টি হবে। কোন ভাবে বৃষ্টি হওয়ার আগে বাসায় পৌছালেই হয়।

জুঁই বলল,,,,

–মনে হয় বৃষ্টি হবে ?

–আকাশ তো তাই বলছে,

–আমাদের বিয়ের দিনেও খুব বৃষ্টি হচ্ছিল খুব,মনে আছে তোমার ?

–হুম,মনে আছে।

–সেদিন ইচ্ছা হচ্ছিল,তোমার সাথে ভেজার।

–আজ বৃষ্টি হলে,তোমার সে আশা পূরণ করে দেব।

জুঁই কোন জবাব দিল না,আস্তে করে ওর মাথা টা আমার কাধে রাখল।

তারপর ও বলল,,,, ??

চলিবে,,,,

#লেখকঃ Tuhin Ahamed

অপ্রত্যাশিত বিয়ে  প্রথম পর্ব

0

অপ্রত্যাশিত_বিয়ে  প্রথম_পর্ব



অনেকটা সময় ধরে জুঁইরের পাশে বসে আছি।আজকে মেয়েটার থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না।মেয়েটার মুখে একটা অদ্ভুত রকমের মায়া আছে তা আগে কখনো লক্ষ্যে করে দেখিনি।আমার এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে জুঁই বলে উঠল,,,,

–আমার হাত টা তুমি ধরতে চাচ্ছ তাই না ?

আমি জুঁই এর কথা শুনে অবাক হলাম।আমি এতটাই মগ্ন ছিলাম ওর প্রতি যে লক্ষ্যই করিনি ও কখন চোখ খুলেছে।কিভাবে জানল আমার মনের কথা,,,,

প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে জুঁইয়ের বিছানার পাশে বসে আছি,যখন থেকে এসেছি তখন থেকেই ইচ্ছা হচ্ছিল ওর হাতটা একটু ধরি। খুব সংকোচ কাজ করছিল নিজের বউ এর হাত ধরতেও এত সংকোচ কেন মাথায় আসছিল না হয়তো এখনো ওকে ভালবাসতে পারিনি।আর তাই হয়তো মনের ইচ্ছেটা ওর কাছে বলতে পারিনি,,,

কিন্তু মেয়েটা খুব বুদ্ধিমতী।আমি কিছু না বললেও আমার মনের কথা ঠিকই বুঝে গেছে।

জুঁই আর আমার বিয়েটা হয়েছিল একটু অন্যরকম ভাবে,হুট করে।বাবা মেয়ে ঠিক করেছিল।আমি যেদিন দেখতে গেলাম সেদিনই বিয়ে দিয়ে দিল।আমার মত ছিল না বিয়েতে কিন্তু বাবার মতের বিরুদ্ধে যেতেও পারিনি,তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই বিয়ে করতে হয়।বিয়ের আগে জুঁইয়ের সাথে আমার কখনো কথাও হয়নি।

হঠাৎ এমন একজনের সাথে বিয়ে হয়ে গেল যাকে আমি চিনিনা জানিনা।তার সাথে কিভাবে থাকব ভেবে পেলাম না।যদিও কারো সাথে আমার প্রেম ছিলনা।বাট জুঁইকে আমার খারাপ লাগত না ভাল লাগত, তবুও তখনো ওর প্রতি ভালবাসা টা জন্মায় নি।আর কোরো প্রতি ভালোবাসা না জন্মালে তার সাথে থাকাটা খুব কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।

আমি যে শহরে থাকতাম, জুঁইদের বাসাও একই শহরে। মাত্রই জবে ঢুকেছি,তাই এখনো ভাল একটা বাসা নেওয়া হয়নি।অফিসের পাশেই একটা ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে থাকি।জুঁই লেখাপড়া করে তাই ও ওর বাবার বাসাতেই থাকে।

আমাদের সম্পর্ক যে ঠিক ঠাক নয় এটা আমাদের দুজনের পরিবারের কেউ জানে না। সবাই জানে আমি ঠিকঠাক বাসা পাচ্ছিনা তাই জুঁইকে নিয়ে একসাথে থাকছিনা।বাসা পেলেই নিয়ে যাব।তবে আমার তেমন কোন ইচ্ছা হচ্ছিল না,একটা ভাল বাসা ভাড়া করা আমার জন্য কোন ব্যাপার না।জুঁইকে মোটেও আপন করে নিতে পারছিলাম না।

জুঁই অনেক বার চেষ্টা করেছিল আমার কাছে আসার কিন্তু আমার তরফ থেকে কোন সায় ছিলনা।একটা মেয়ে হিসেবে যথেষ্ট করেছিল ও।
গত কালকের কথাই বলি।সকাল আটটা, ঘুম তখনো ভাঙেনি, শুক্রবার ছিল তাই অফিসও নেই।হঠাৎ কানের কাছে রাখা ফোন টা বেজে উঠল, একটু বিরক্ত হলাম।নাম্বার না দেখেই ফোন ধরলাম,

হ্যালো,,,,,,

ওপাশে কোন আওয়াজ নেই।এ কাজ টা একমাত্র জুঁই করে।ও অনেকক্ষন পর কথা শুরু করে।

আমি আবার বললাম,,,,
–কিছু বলবে,

–হুম,

বলো

–তোমার কি সময় হবে আজ দুপুরে,

–কেন ?

–আজ আমার জন্মদিন,

–ওহ,,,,শুভ জন্মদিন।

–সময় হবে কি ?

–না আজকে আমার সময় হবেনা’স্যরি’।
প্লিজ কিছু মনে কর না।

–আচ্ছা,ব্যাপার না।

সময় ছিল আমার কাছে তবুও জুঁইকে বলেছিলাম সময় নেই,,,,

কোন এক অদ্ভুত কারণে জুঁইকে আমার বিরক্ত লাগত, তাই ওর কাছ থেকে দূরে থাকতাম।তাই সারাদিন ঘরে শুয়ে বসে কাঁটিয়ে দিলাম।

রাত্রে আবার জুঁইয়ের ফোন এলো।কল ধরতেই ও বলা শুরু করল,,,,,

–খুব ব্যাস্ত ছিলে আজকে তাই না ?

আমার মনে হচ্ছিল ও কাঁদছে , আমি কি বলব ভেবে পেলাম না।ও কি জেনে গেছে আমি সারাদিন বাসায় ছিলাম।জুঁই আবার বলতে লাগল,,,,,

–খুব বেশি কিছু কি চেয়েছিলাম তোমার কাছে, শুধু একটু সময়ই তো চেয়েছিলাম,,,

এটুকুই বলেই ফোন রেখে দিল।আমি রিং ব্যাক দিলাম দেখি ওর নাম্বার বন্ধ।অদ্ভুত কোন কারণে জুঁইয়ের জন্য আমার মন টাও খারাপ হয়ে গেল।সারারাত ওর কথাই শুধু মাথায় এল।

বিয়ে হয়ে গেলে মেয়েরা যত তাড়াতাড়ি তাদের স্বামীকে কে ভালবেসে ফেলে,এত তাড়াতাড়ি ছেলেরা পারেনা নিজেদের বউকে ভালবাসতে।
আমিও পারিনি জুঁইকে ভালবাসতে। বিয়ের রাতেও ওর সাথে আমার কথা হয়নি। সারারাত বিছানায় নির্ঘুম রাত কাঁটিয়ে দিয়েছিলাম।ওই রাতের পর আমি জুঁইয়ের সাথে আর কখনো থাকি নি।

জুই মাঝে মাঝে আসত আমার এখানে।
কিছুক্ষন থেকে চলে যেত।খুব একটা কথাও হত না।ঘর পরিষ্কার করে দিত, মাঝে মাঝে রান্নাও করত,তবুও কখনো ওকে ধন্যবাদ দেওয়া হয় নি।

আজ সকালে অফিসেই ছিলাম, তখনি জুঁইয়ের বাবা ফোন করল।ওনাকে আমার ভালই লাগে, একমাত্র মেয়ের জামাই তাই আলাদা রকমের স্নেহ করেন।আমি ফোন ধরে বললাম,,,,

–আসসালামু আলাইকুম আব্বা।

–ওয়ালাইকুম আসসালাম, তুমি কোথায় ?

–অফিসে, কিছু হয়েছে ?

–জুঁইয়ের সাথে কিছু কি হয়েছে তোমার ?

–না তো,কেন?

–মেয়েটা কাল থেকে কিছুই খায়নি,সকালে মাথা ঘুরে পরে গেছে,

–ওহ,এখন কেমন আছে?

-ভাল,,,,,তুমি কি আসবে একটু ?

-হুম,আমি আসছি,,,,,

আমি ভাবতেই পারিনি ও অসুস্থ হয়ে যাবে।আর কিছু ভাবলাম না, সোজা অফিস থেকে বের হয়ে ওকে দেখতে আসলাম।ওকে দেখেই মনে শান্তি এলো।মনে হল,ওর খারাপ কিছু হয়ে গেলে আমি ভাল থাকতাম না।ও আমার জন্যই অসুস্থ হয়েছে।

জুঁই আবার বলল,,,,,

–কি হল ? ধরতে চাইলে ধরো,,,,,

–তুমি কিভাবে বুঝলে আমি তোমার হাত টা ধরতে চাই ?

জুঁই একটু হেসে বলল,,,,,

–তোমার নজর সেই তখন থেকে আমার হাত টার উপর ছিল,,,,

তোমার চোখ তো বন্ধ ছিলে তাহলে কিভাবে দেখলে,,,,,, ??

চলবে

~Tuhin Ahamed

গল্প : হবু বউ শেষ পাঠ

0

গল্প : হবু বউ শেষ পাঠ

,,,,,
লেখক : অর্দ্র ( MR)

যখন রুবি তার চোখ বন্ধ করে ফেলেছে তখনই দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ হলো । আওয়াজ হওয়াতে রুবি আমাকে ছেড়ে দিল আর মুখে অটোমেটিক ভাবে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো ।
রুবি আমার দিকে তাকিয়ে দেখলো আমি হাসছি ঠিক তখনই ও আবার আরো জোরে আমাকে ধরে আমার গালে একটা চুমু দিয়ে দিল ‌ আমি তো রিতিমত অবাক কী মেয়ের বাবা। আমাকে ছেড়ে দিয়ে ও উঠে যাচ্ছে কিন্তু ওর মুখে প্রচন্ড রকম বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছে ।আর আমার কথা ভাবছেন আমি তো পুরাই টাস্কি খেয়ে গেছি ।
যাইহোক ও গিয়ে দরজা খুলতেই দেখলাম ওর আম্মু মানে আমার শ্বাশুড়ি । ও গিয়ে বলল,,,,
রুবি : কী হয়েছে আম্মু । ( একটু ঘুমিয়ে গেছিলাম । ( একটু ঘুমের ঘোরে থাকার মতো করে বলল।)
ও তুই তো বড়ই কেয়ারলেস মেয়েরে ।( শ্বাশুড়ি)
রুবি: কেন আমি আবার কী করলাম হ ‍্যা।
শ্বাশুড়ি : দেখ তো আয়ান এর ঠোঁটের ওখানে কেটে গেছে দেখে তুই এই মলম টা এনে রেখে দিয়েছিস ‌ । কেন এটা ওখানে লাগাতে হবে না।
রুবি কিছু বলতে যাবে তার আগে আমিই বললাম না আন্টি আসলে ও নিয়ে এসেছিল কিন্তু আমিই দিতে চাইনি সেজন্য আবার রেখে এসেছে ।
আমার কথা শুনে রুবি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে ।
আমার শ্বাশুড়ি বলছে কেন ও আচ্ছা । ঠিক আছে তোমারা তাহলে ঘুমাও । কিন্তু এটা দিলে একটু তারাতাড়ি সেরে যেত ।
আমি : আচ্ছা দিন আমি লাগিয়ে নিব নি ।
তারপর আমার শ্বাশুড়ি ঐটা দিয়ে চলে গেল,
তারপর রুবি ঐটা হাতে করে আমার কাছে এসে বলল বাহ খুব ভালো মিথ ‍্যে বলতে পারেন তো । ( রুবি)
আমি : আপনাকেই তো বাচালাম । না হলে আপনাকে তো আপনার আম্মু না মানে আমার শ্বাশুড়ি অনেক বকা দিত । সেটা বুঝতে পেরেই তো আমি ঐটা বললাম ।
রুবি : ও তাই বুঝি । তা এখন এটা লাগিয়ে নাও তাহলে এটা তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে ।
আমি : কোনো দরকার নেই এটা লাগাতে হবে না । ওটা এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে ।
রুবি আর জোর করলো না আর বলল,,,,
রুবি : এখন শুয়ে পড়ুন অনেক রাতই তো হলো ।
আমি : কী আপনি ঘুমাবেন না । না কোথাও যাবেন আমি ঘুমানোর পরে।
রুনি : হ ‍্যা যাবো তো আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে । কালকে তো আপনার বাড়িতে ছিলাম তাই যেতে পারিনি ।
আমি : কীইইইইই ।
রুবি : হ‍্যা ।
আমি : কোথায় আপনার বয়ফ্রেন্ড আমিও যাবো দেখা করতে । চলেন ।
রুবি : আপনাকে যেতে হবে না । আর আপনার লজ্জা লাগবে না আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবেন আমরা কি করবো ।
এবার আমার একটু রাগ হচ্ছে ।
আমি : আচ্ছা ঠিক আছে । আপনি যান ‌ । তবে আগেই বলতে পারতেন যে আপনার এমন কেউ আছে ।
রুবি : তাহলে কী করতেন ।
আমি : তাহলে আপনাকে বিয়ে করতাম না ।
রুবি: কীইইইই তুই আমারে বিয়ে করতি না তো কাকে বিয়ে করতি বল। ( আমার কলার ধরে ঝাকাতে ঝাকাতে বলল)
এবার আমি রিতিমত অবাক আর নির্বাক দুটাই । এখন আমি বুঝতে পারছি কেন ও বিয়ের আগে আমাকে এভাবে জ্বালিয়েছে।
আমি : ঐ কলারটা তো ছাড়েন । ( একটু ভয়ে)
আর আপনি বললেন বলেই তো বললাম ।
রুবি : আপনি বুঝতে পারছেন না কেন ‌ । আমি তো বলেছি তাই না যে আমার ভুল হয়ে গেছে। সরি সরি সরি কিন্তু আপনি বুঝতেই চাইছেন না তো আমি কী বলবো বলেন ।
( হায় হায় এটা আমি কী দেখছি রুবি কান্না করে দিছে কিন্তু আমার কলার এখনো ছাড়েনি ।)
আমি কী করবো বুঝতে পারছি না । আসলে আমার যে ও কে ভালো লাগে না তাও না কিন্তু ,,,,,
ধুর কিসের কিন্তু যাই করুক না কেন সব তো আমার সাথেই করেছে আর বউটা তো আমার তাই না ।
আমি ওর চোখের পানি গুলো মুছে দিলাম আর বললাম ,,,,
এতো কষ্ট পাওয়ার কী আছে আমি তো অভিনয় করছিলাম আপনি যেমন করেছেন তেমন। (আমি)
রুবি আর কিছু বলল না আমার কলার ছেড়ে এখন আমায় ধরেছে ।
আমি এবারো অবাক কারন এই রকম পরিস্থিতিতে আমি প্রথম ।
আমার এই রকম দেখে রুবি বলল কী একটু জড়িয়ে ধরতেও পারেন না নাকি হ ‍্যা । ( রুবি)
আমি : হুম ,,,
আমি হুম বলতেই ও আরো বেশি শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আমায় মনে হচ্ছে ছোট বাচ্চা ভয় পেয়েছে । যাইহোক আমার ও যখন ধরেছে সেহেতু আমি ও ধরলাম ।
হায় হায় আপনারা সবাই শুনে ফেলেছেন ,,,, কী লজ্জা কী লজ্জা তবে ডোন্ট মাইন্ড হ ‍্যা । আপনারা আবার কাউকে বলবেন না কিন্তু ।
যাইহোক পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে একটু ঘুরতে বের হলাম একা একাই ।
তারপর দুপুরের পর খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিকেলে আমরা আমার বাসায় না মানে আমাদের বাসায় চলে আসলাম ।
ও আপনারা আবার শুনবেন কালকে রাতের সব কথা হায় হায় কী বলবো বলেন লজ্জা লাগছে ।
না মানে বুঝেনি তো ওটা তো ছিল শ্বশুর বাড়ি ঐখানে কী আর কিছু হয়।
হ ‍্যা তবে ঘুম হয়েছে একটু ।
তবে রুবি আমার বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়েছে আর আমি আমি আর কী করবো আমি শুধু জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে ছিলাম।
যাইহোক বাসায় এসে রাতের খাবার শেষ করে সবার সাথে গল্প করে তারপর আর কী রুমে গেলাম । গিয়ে দেখি বউটা আমার মুখটা ফুলিয়ে বসে আছে সেই বাসর রাতে যেভাবে বসেছিল সেই ভাবে । আমি রুমে যেতেই এসে আমার পায়ে সালাম করলো । কিন্তু আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কী ব ‍্যাপার আজকে তো বাসর না ।
ও কী বলল জানেন ,,,,
তো কী হয়েছে প্রথম দিন তো আর বাসর হয়নি তবে আজকে আর ছাড়ছি না বলেই আমার ওপর হামলা শুরু ,,,,,
এখানে থেকেই শুরু হলো রুনি আর মেহেদীর এর দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের সংসার ।

সমাপ্ত

গল্প : হবু বউ পাঠ :১০

0

গল্প : হবু বউ পাঠ :১০

লেখক : মেহেদী ( MR)
রুবি এগিয়ে আসতে আসতে একদম আমার কাছে চলে এসেছে। আমি তার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছি ।
এমন সময় দরজায় ঠক ঠক ঠক আওয়াজ পেলাম ।
আওয়াজ পেয়ে রুবি ও আমি দু’জন একসাথে দরজার দিকে তাকাতেই দেখি ভাবি আর ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে আর ভাবি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে । রুবি ওদের দেখে প্রচন্ড রকম লজ্জা পেয়েছে । লজ্জায় লাল হয়ে গেছে । আমি যে লজ্জা পায়়নি তাও না তারপরও কিছু বলছি না । ভাবি এখনো ঐখানেই দাঁড়িয়ে আছে ।
আমি বললাম ,,,,
কী ব ‍্যাপার ওখানে দাঁড়ায় থাকবি না ভেতরে আসবি । খিদা লাগছে তো । (আমি)
হুম আসছিই তো ।(ভাবি)
তারপর ভাবি খাবার রেখে খেয়ে নিতে বলল। আর যাওয়ার সময় রুবি কে কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল,,,, না না ,,, বলে গেল ,,, কী আপনারাও শুনবেন তাহলে শুনুন ,,,,,
রুবি তুমি এই বাঁদর টাকে একটু মানুষ করো তো । আর হ‍্যা তোমাকে কিছু বল্লে আমাকে বলবা নয়ত আব্বু কে বলবা । ( ভাবি )
আচ্ছা আপু । ( রুবি ছোট করে উত্তর দিল)
আসলে রুবি এখনো মাথা ওপরের দিকে উঠায় নি। খুবই লজ্জা পেয়েছে বেচারা ।
তারপর আর কিছু না বলে ভাবি আর ভাইয়া চলে গেল ।
এ মা একি এবার দেখি রুবি মাথা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে ।
আমি : কী হয়েছে হ ‍্যা এতো হাসির । হাসতে হবে কেন । আর একটা কথা শোনেন সবার সামনে আমাকে তুমি করে বলবেন না হলে ধরা খেয়ে যাবো । আর সবাই যদি জানতে পারে তাহলে মন খারাপ করবেন ।
আর হ‍্যা এখন যেমন শুরু করেছিলেন আর যেন না হয় ।(আমি)
তা নয় আমি তোমাকে সব সময়ই তুমি করে বলবো কারন আমার তো অধিকার আছে তাই না । আর হ‍্যা এখন যা করতে পারলাম না তা তো অবশ্যই করবো কারন আমি এখন তোমার বিয়ে করা বউ । ( রুবি )
হুম বিয়ে করা বউ কিন্তু আপনি বিয়ের আগেই সেই অধিকার হারানোর কাজ করেছেন । আবশ‍্যই আপনি আমার বিয়ে করা হালাল বউ , আপনার সব দায়িত্ব আমার কিন্তু আমি আপনাকে মানতে পারছি না (আমি)
তাহলে আমি কী করবো বলেন । আমি না হয না বুঝে় একটু অপরাধ করেছি তাই বলে কী মাফ করা যায় না । (রুবি)
হ ‍্যা আপনি তো নাবালক বাচ্চা । আপনি কিছুই বুঝতে পারেন না । আপনি কচি খুকি । না বুঝে না শুনে সব করছেন সেটা তো আমাকে বিশ্বাস করতে হবে তাই না । (আমি)
হুম তাই । ( রুবি)
হুম তাই,,,,,,,( ব ‍্যাঙ্গ করে বললাম )
আচ্ছা আমি আর এই বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না । এখন খুব খুদা লাগছে খেয়ে নেন।( আমি)
ওহ তাহলে মাফ করেছ। ( রুবি)
ঐ আর কথাও যেন না শূনতে পাই তারাতাড়ি খেয়ে নেন। (আমি)
ও ছোট বাচ্চাদের মতো করে মুখ ফুলিয়ে বলল হুম।
আমার এখন খাওয়া দাওয়া করছি । আমি খাচ্ছি আর ভাবছি মেয়েটা অনেক সুইট । সব কথা শুনে । এখনো বাচ্চাদের মতো স্বভাব থেকেই গেছে ।
ও হ ‍্যা আপনাদের তো বলাই হয়নি আমার বউটা অনেক অনেক সুন্দর । একদম পরীর মতন । একবার দেখলে শুধু তাকিয়েই থাকতে মন চায়।
আপনারা ভাবছেন আমি এগুলো বলছি কেন আসলে ও যাই করুক না কেন আমার বিয়ে করা বউ তো । যতই যাই বলি না কেন একটা টান হয়ে গেছে ।
যাইহোক হঠাৎ করে আমার প্রচন্ড জ্বলছে ঠোঁটের কোণে । কারন আব্বু চড় মারায় ওখানে কেটে গেছে ।
আমি খাওয়া শেষ করতেই ও বলল এই জন্যই তো তোমার শরীরের এই অবস্থা । এতো টুকু খেলে মানুষ কোনোদিন একটুও মোটা হবে না ।( রুবি)
এমনিতেই জ্বলছে আর তার ওপর এইরকম কথা কর ভালো লাগে ,,,,
ঐ আমার আর মোটা হওয়া লাগবে না । আমি চিকন আছি চিকনই থাকবো । চুপচাপ খাওয়া শেষ করেন। (আমি)
তারপর ও চুপচাপ খাওয়া শেষ করে প্লেট গুলো নিচে রেখে আসতে গেল আর আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম ।
একটু পরে দেখি মামনি আসছে আরে ভূলে গেছেন আমার ভাতিজি । ও এসে সরাসরি আমার বুকের ওপর শুয়ে পড়ল । আসলে ও এইরকমই করে যদি দেখে আমি শুয়ে আছি তখনই আমার বুকের উপর শুয়ে পড়বে । তারপর আমি বললাম মামনি তোমার নতুন চাচি তোমাকে আদর করেনি । (আমি)
হুম করেছে । অনেক আদর করেছে তোমার চাইতে বেশি । ( পিচ্চি)
আমি : তাই না ‌এখন আর কী আমাকে মনে থাকবে । এখন তো তুমি তোমার আদরের চাচি পেয়েছ ।
পিচ্চি: হুম পেয়েছি তো কী হয়েছে ।
আমি : আচ্ছা মামনি তুমি আজকে আমার সাথে চলো তোমার চাচির আম্মুর বাড়ি ।
আমার কথা শুনে ও উঠে বসে কেমন করে যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
আমি : আমি বললাম কী মামনি কী হলো ‌।
পিচ্চি : না কিছু না কিন্তু আমি যাবো না ।
আমি : কিন্তু কেন ।
পিচ্চি : তুমি জানো না চাচির আম্মু পচা । আমি যাবো না বাবা । তুমিই যাও ।
বলেই দৌড় ।
হায়রে কপাল সেদিন যদি না বলতাম কথাটা তাহলে আজকে ভালো হত । আসলে মিথ ‍্যা বললে বিপদে পড়তেই হয়। আপনারা ভাবছেন আমি এমন করছি কেন আসলে আমার কেমন যেন লাগছে ওদের ওখানে একা একা যেতে ।
যাইহোক দৌড় দিলাম ভাইয়ার এর কাছে। গিয়ে বললাম,,,
আমি : ভাইয়া আমাকে নাকি শ্বশুর বাড়ি যেতে হবে তো আমাকে কী একাই যেতে হবে নাকি ।
ভাই : আরে না একা যাবে কেন ,,,
তুমি আর রুবি যাবে ।
আমি : আমি কী আপনার সাথে মজা করছি বলেন ভাই । ভাই প্লিজ আপনি আমার সাথে চলেন না ।
ভাই : আরে দূর তুমি কি এখনো ছোট ।বোকা এতো ভয় কেন । এখন আমাকে ছাড়ো আমি দেখি তোমার শ্বশুর বাড়ির কারো কিছু লাগবে কিনা । ও রা তো এদিক ওদিক আছে ।
আসলে আমি ঘরে থাকায় কিছুই জানি যে উনারা কখন এসেছেন।
তারপর আমি ভাবি কাছে আসলাম কিন্তু কোনো লাভ হলো না ।
তারপর ব ‍্যাথ হয়ে রুমে আসলাম । হায় রে কপাল এখানেও শান্তি নেই পুরো রুমের মধ ‍্যেই মানুষ । এগুলো আবার কখন আসলো ।
আমাকে দেখে একজন বলল কিরে রুবি তোর হাজবেন্ড কে কী রাতে ঘুমানোর সময় দেসনি । বলেই সবাই হো হো করে হেসে উঠলো । রুবি খুবই লজ্জা পেয়েছে । মাথাটা নিচু করে বসে আছে । আর আমাকে প্রচন্ড খারাপ লাগছে কথা গুলো শুনে ।
আরে ভাই আমার ব ‍্যাপার আমি ঘুভাবো কিনা ‌ । তাদের এতো কী । আমি আর ওখানে না থেকে চলে আসলাম ।
তারপর ওখান থেকে নিচে এসে সবার সাথে কথা বললাম সব কিছু ঠিক আছে কিনা তা ভালোভাবে পরক্ষ করতেই আব্বু ডাকলেন আমি যেতেই বললেন শোনো তুমি রেডি হয়ে নাও বৌমা রেডি ।
আমি : আচ্ছা ঠিক আছে ।
বলে ্আসতে শুরু করলে আব্বু আবার বলল দেখ বাবা তোমার রাগের কারনে আমি জানি । আর সব কিছু ভুলে যাও । ( আব্বু )
আমি : আচ্ছা ঠিক আছে ।
কিন্তু মনে মনে বললাম এর ফল রুবি পাবে । তারপর ওখান থেকে এসে রেডি হয়ে চলে আসলাম শ্বশুর বাড়ি । লোকে বলে না শ্বশুর বাড়ি মধুর হাড়ি আসলে কথাটা সত্য । যাইহোক এখান কার সবাই এখন আমাকে নিয়ে ব ‍্যাস্ত বললেই চলে । কী আজব ব ‍্যাপার তাইনা । আমার বাড়িতে রুবি কে সবাই ব ‍্যাস্ত আর এখানে আমায় নিয়ে সবাই ব ‍্যাস্ত।
যাইহোক তারপর রাতের খাবার শেষ করে রুমে যেয়ে আমি ফেসবুকে একটু নিউজ ফিড এ ঘুরাঘুরি করছি ।একটু পরেই রুবি আসলো । এসেই সরাসরি দরজা বন্ধ করে বিছানার দিকে এগিয়ে আসছে আমি রুবির চোখের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম আমার সাথে এখন কিছু হলেও হতে পারে । ও এগিয়ে আসছে আর আমার অবস্থা আস্তে কেমন যেন হচ্ছে । বুজছি না । ও এসেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল দিয়ে ও আস্তে আস্তে ,,,,,,,,,,
আরে এতো তাড়াতাড়ি কেন আপনাদের আস্তে আস্তে বলি আমার বুঝি লজ্জা করে না ।।।।।
ও আস্তে আস্তে আমার ওপর উঠে বসে আমার মুখের দিকে মুখ নিয়ে আসছে ।
আমার কেমন যেন লাগছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না যে কী করবো । আমার ও কে আমার থেকে ছাড়াতে ও পারছি না ,,,, হায় হায় সবাই শুনলে কী বলবে আপনারাই বলেন আমি একটা মেয়ের থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারছিনা । আপনারা আবার কাউকে বলবেন না কিন্তু হ ‍্যা ।
ও মুখ একদম আমার মুখের কাছে চলে এসেছে ,,, ও ওর চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলছে ,,,
এমন সময় আবারো
ঠক, ঠক,,,,,,

চলবে

গল্প : হবু বউ পাঠ: ০৯

0

গল্প : হবু বউ পাঠ: ০৯

লেখক: অর্দ্র ( MR…..Mehedi Rubi)
নতুন বউয়ের ঘোমটা তুলে আমি বউয়ের দিকে তাকাতেই অবাক যেন আমি আমার চোখ দুটোকে বিশ্বাস করতে পারছিনা ।
আমার প্রচন্ড রকম রাগ হচ্ছে এখন নিজের বাবা মায়ের প্রতি ।
আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি ।কিছুই বলতে পারছি না ।একটা পাথরের মতো বসে আছি । ক্রমশ আমার রাগ বাড়ছে আর আস্তে আস্তে আমার চোখ দুটোর রং কালো থেকে লাল হচ্ছে।
আর আপনারা ভাবছেন আমি এইরকম রাগ হচ্ছি কেন ,,,,,,,
আসলে নতুন বউটা আর কেউ নয় সেই মেয়েটা । আপনারা বলছেন তাহলে তো ভালোই হলো আসলে বিষয় সেটা না বিষয়টা হচ্ছে আমার সাথে এতো নাটক কেন ।
আমার এখন মনে হচ্ছে আমার আপন কেউ নেই কারন আমার বাবা, মা ,বোন , দুলাভাই সবাই জানত যে ঐ মেয়েটাই আমার হবু বউ ছিল ।
আমার এই রকম ভাবে তাকিয়ে থাকা এবং রাগ হওয়া দেখে রুবি বলে উঠলো কী হলো আপনার কথা বলছেন না কেন আর আপনার চোখ গুলো এমন লাল হয়ে যাচ্ছে কেন ।
আমার মাথায় যেন কিছুই ঢুকছে না মেজাজটা আরো বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে । আর আমার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে যে সবাই মিলে আমার সাথে এমন করলো কেন ।
আমার কোনো রেসপন্স না পেয়ে রুবি আবারো বলল ,,,,
আমি বুঝতে পারছি ,, আপনার মনে হয় শরীর খারাপ লাগছে আপনি শুয়ে পড়ুন । আমি আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি ।
রুবি এই কথা বলে আমার মাথায় হাত দিতে যাবে ঠিক সেই সময় আমি ওর হাতটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে বললাম ,,,
কোনো দরকার নেই তোর এই আদিখ্যেতা করার । (আমি)
রুবি মাথা নিচু করে নিল । হয়তবা কান্না শুরু করেছে।
আমার সেদিকে কোনো খেয়াল নেই,, আমি আজকে এর একটা হ ‍ ্যাস্তনেস্ত করেই ছাড়বো।
আমি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালাম দরজার দিকে পা বাড়াবো ঠিক সেইসময় সে আমার হাত চেপে ধরলো । আমার হাত ধরায় আমার হাতের ওপর পানির মতো কিছু একটা পড়ল অনুভব করলাম ।
আমি হাতটা ছাড়িয়ে নিতে চাইলেই পারছি না কারন নিজের বিবেক চাচ্ছেনা ।
অবন্তী আমাকে বলছে দেখেন অন্তত আজকের দিনটায় সিনকৃয়েট করবেন না । বাড়িতে অনেক লোকজন । আব্বু অপমানিত বোধ করবেন । ( রুবি )
ওর কথায় যুক্তি আছে দেখে আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে।
তবে আপনি খবরদার আমার কাছে আসার চেষ্টা ও করবেন না । ( রাগ করে বললাম কথাটা )
ঠিক আছে । ( রুবি )
তারপর আমি বললাম আপনি ঘুমান । আর একটা কথা সবাই যেন বুঝতে পারে যে আমরা দুজনেই অনেক খুশি । (আমি)
হুম ঠিক আছে। কিন্তু আপনি ঘুমাবেন না । ( রুবি)
এই মেয়ে এই বেশি কথা বলতে না করছি না । আর একটা কথা বললে খবর আছে । (আমি)
রুবি আর কিছু না বলে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল । আমি সোফায় গিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম কিন্তু একটুও ঘুম আসছিল না । কেন জানি শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে যে আমি কী দোষ করেছিলাম যে আমাকে এমন শাস্তি দিয়েছে ।
আপনারা কী বলেন এইটা কি শাস্তি না । আমার সাথে সবাই অভিনয় করেছে ।
রাতে আর ঘুম হলো না সকালে ফ্রেশ হয়ে বাইরে বের হতেই দেখি দুলাভাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে ,,,
ভাইয়ের হাঁসি দেখে বুঝতে পারলাম যে এখন আমাকে নিয়ে কিছুক্ষণ উপহাস করা হবে ‌।
তাই আর কিছু না ভেবে বাইরে চলে আসলাম ।
হায় রে কপাল বাহিরে এসেও শান্তি নেই । সবাই দেখি একই কথা জিগায় কি রে রাতে ঘুম কেমন হলো ।
আমি সবাইকেই বলছি ভালো ভালো কিন্তু কেউ মানতেই চাচ্ছেনা । কারন সারারাত জেগে থাকার কারণে চোখ দুটো লাল হয়ে আছে ।
তাই আমি আর বাইরে না থেকে ভেতরে আসলাম । ভেতরে আসতেই আম্মুর ডাক শুনলাম ।
আম্মুর ডাকে সাড়া দিয়ে আম্মুর কাছে গেলাম সেখানে দেখি আব্বু ও আছে ।
আমি যেতেই আব্বু বললেন বিকেলে তোমার শ্বশুর বাড়িতে যেতে হবে তোমাদের ঐখান থেকে লোকজন আসবে ।
আমি কিছু না বলে ঐখানে থেকে চলে আসলাম । আমার কেমন জানি কিছুই ভালো লাগছে না । আমার রুমের দিকেও যেতে পারছি না যে গিয়ে একটু ঘুমাবো প্রচন্ড ঘুম , রাগ মিলিয়ে একদম বিরক্তিকর ব্যাপার মনে হচ্ছে আমার । যাইহোক আমি আর বাসায় না থেকে চলে আসলাম বাইরে । গাড়ি টা নিয়ে বাসায় থেকে অনেকটা দুরে। আবার এখানে এসেও ভালো লাগছে না । আমি আসলে বুঝতে পারছি না যে আমার সাথে এমন কেন হচ্ছে । কোথাও গিয়েও একটু ও শান্তি লাগছে না ।
যাইহোক আমি গাড়িটা একটা লেকের পাড়ে দাড় করিয়ে গাড়ি থেকে নেমে বসে আছি । কেমন জানি ভালো লাগে আমার এমন জায়গায় বসে থাকতে । বসে থাকতে থাকতে কখন যে দুপুর হয়ে গেছে সেদিকে আমার খেয়ালই নেই ।
সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কিছুই খায়নি তারপরও একটু ও খিদের জ্বালা বুঝতে পারছি না ।
যাইহোক ফোনটা ও পকেট থেকে বের করে আরো বড় ধরনের শকড খেলাম
। কারন সকাল ১০ টার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ টার ও বেশি কল আর ৫০ টার বেশি মেসেজ । আমি আর কিছু না ভেবে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। অতঃপর বাসায় এসে যা দেখলাম তা আমার ধারনার বাইরে ।
এসে দেখি আব্বু বসে আছে আর সবাই রুবি কে থামানোর চেষ্টা করছে আসলে রুবি প্রচন্ড রকম কান্না করছে আর হ ‍্যা এখনো আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে কেউ আসেনি।
আমাকে দেখে বাবা বসা থেকে উঠে এসে সরাসরি এক চড় বসিয়ে দিলেন । আমি কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না । আরেক টা বিষয় দেখে অবাক হলাম যে আমাকে চড় মারা দেখে রুবির কান্না আরো বেড়ে গেল।
আব্বু শুধু বলল তোর সাহস হয় কীভাবে ,,,, এটুকু বলতেই ভাইয়া এসে আব্বু কে থামিয়ে দিয়ে বলল,,,,
আব্বু তুমি বস আমি বলছি ( ভাই)
তারপর ভাইয়া আমাকে টানতে টানতে আমার রুমে নিয়ে আসলো ,,,,
কী তোর কী কোনো বুদ্ধি নাই না সব হারায় ফেলেছো ।( ভাই)
কেন কী হয়েছে ভাইয়া । আমি আবার কী করলাম। (আমি)
তুমি কোথায় গিয়েছিলে । তোমার ওয়াইফ এখন পর্যন্ত কিছুই খায়নি । আর তোমাকে কত বার ফোন করেছে দেখ তো । মেয়েটা সেই সকাল থেকে কান্না করেই যাচ্ছে ।( ভাই)
ও আচ্ছা । শ্বশুর বাড়ির লোকজন কখন আসবে ।(আমি)
এইতো কিছুক্ষণ এর মধ্যে চলে আসবে। আর শোন তোমার ঠোঁটের কোণে কেটে গেছে ঐখানে পরিষ্কার করে নাও ।( ভাই )
তারপর ভাইয়া চলে গেল । আর আমি বাথরুমে গিয়ে একদম গোসল সেরে বের হলাম । এই বাবা এইটা কী রুবি এখনো রুমে আসেনি । আমি দরজার সামনে গিয়ে দেখি এখন ও নিচে বসে কাঁদছে আর ভাবি আম্মু কিছুতেই ওর কান্না থামাতে পারছেনা ।
এই অব্যাহত যদি ওদের বাড়ির লোকজন দেখে তাহলে কী ভাববে আপনারাই বলেন।
আমি ওপর থেকেই ডাক দিলাম ,,,,
ভাবি ও কে উপরে নিয়ে আস তো । (আমি)
ও মা একি ঐ মেয়েকে কোনোভাবেই উপরে আনা যাচ্ছে না । ও আসতেই চাইছে না । আমি এটা দেখে একটা প্রস্তুতি নিলাম আমি রুমে গিয়ে একটা টিশার্ট পরে সরাসরি নিচে এসে ওর সামনে দাঁড়ালাম ‌ । কিন্তু মেয়েটা এখনো কেঁদেই চলেছে ।
আমি ভাবি কে বললাম উপরে যেন খাবার টা দিয়ে দেয় আর ইশারায় বললাম আম্মু কে এখান থেকে নিয়ে যেতে । আসলে তখন সেখানে শুধু ভাবি আর আম্মুই ছিল ।
তারপর ভাবি আম্মু কে নিয়ে চলে গেল আর আমি হাঁ হাঁ কী ভাবছেন ,,,,
আমি রুবি কে একদম কোলে তুলে নিয়ে উপরে চলে আসলাম । কোলে তুলে নিতেই ও পুরোপুরি অবাক হয়ে গেছে আর কান্নাও থেমে গেছে । রুমে ও কে নিয়ে আসতে আসতে ভাবলাম রুবি কে একটু হাসাতে হবে না হলে পরে সমস ‍্যা হতে পারে । কারন কোনো মানুষ অনেক কান্নাকাটি করতে করতে সেন্সলেস হয়ে পড়ে। এখন ভয় একটাই । যাইহোক রুমে নিয়ে এসে নীলা কে নামাতেই খেয়াল করলাম ও খুবই লজ্জা পেয়েছে । আর নামিয়েই বললাম বাবারে এতো ভারি । ও দেখি আমার দিকে তাকিয়ে আছে মনে হয় কিছু বলবে ,,,,,
আপনি খুবই খারাপ মানুষ । বুঝলেন। (রুবি)
আমি: হুম তারপর ।
তারপর আর কিছুই না,,,, বলে ও উঠে আমার দিকে এগিয়ে আসছে ওর চোখের চাহনি গুলো অন ‍্য রকম দেখাচ্ছে । ও আস্তে আস্তে আমার দিকে এগিয়ে আসছে আর আমি কিছু বুঝতে পারছি না কী করবো । ও করো এগিয়ে আসছে এবার আমি পিচাচ্ছি ও এগিয়ে আসছে আর আমি পিছিয়ে যাচ্ছি । একসময় আমি দেওয়ালের সাথে ঠেকে গেলাম কিন্তু ও থামছেই না এগিয়েই আসছে আস্তে আস্তে ও একদম আমার কাছে চলে এসেছে আমি ওর নিঃশ্বাস এর শব্দ ও শুনতে পাচ্ছি । আস্তে আস্তে ও ওর মুখটা আমার দিকে এগিয়ে নিয়ে আসছে । একদম কাছাকাছি চলে এসেছে আমার কেমন জানি লাগছে ,,,, কিন্তু রুবি তো থামছেই না ।
এমন সময়,, ঠক ,ঠক ঠক,,,,,

চলবে

গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৮

0

গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৮

লেখক : অর্দ্র(MR)
আমি রুমে আসতেই আমার ফোন টা বেজে উঠলো। অপরিচিত নাম্বার দেখেও সাত পাঁচ না ভেবে রিসিভ করলাম । কিন্তু মেজাজটা খারাপ থাকায় একটু কটমট করেই বললাম হেলো ।
কিন্তু একি ঐপার থেকে শুধু হাসির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ।
আমার বিরক্তি আরো বেড়ে যাচ্ছে । মেজাজটা আরো বেশি খারাপ হচ্ছে । আপনারাই বলেন, কার মেজাজ খারাপ হবে না এইরকম অবস্থায় । একে আব্বু কে ঐ বজ্জাত মেয়েটা মিথ্যা কী সব বানাই বলছে আর এখন আবার ফোনে এইরকম বিরক্তি আর ভালো লাগছে না ।
আমি আবার ও বললাম হেলো কিন্তু একই কাহিনী এবারো শুধুই হাসির শব্দ ।
আমি এইবার আর চুপ থাকতে পারলাম না ,,,,
ঐ বজ্জাত মেয়ে তুই কী পাইছিস রে । যেদিন থেকে আমার পেছনে রাগা শুরু করছস সেদিন থেকেই প্রায় সময় আমার জন্য একটা না একটা বাঁশ তৈরি হয়েই থাকে । আমি কী দোষ করেছি । দয়াকরে এইবার আমারে একটু রেহাই দে বোন ।( এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো শেষ করেছি আমি )
এইবার উত্তর পেলাম ,,,
এই তো জ্বালানো মাত্র শুরু । এখনও তো সারাজীবন পরেই আছে । এখনি এই অবস্থা । আর হ ‍্যা আমি আপনার বোন না । ( মেয়ে )
আপনি আমার যাই হোন না কেন আগে বলেন আমার আব্বুর কাছে কী বলেছেন । (আমি)
কই নাতো আমি তো কিছুই বলিনি । (মেয়ে )
দেখেন মেজাজটা এখন খুবই খারাপ আছে প্লিজ আর এখন এমন কিছু করতে বাধ্য করবেন না যে পরে আপনাকে এর জের টানতে হয়। (আমি)
ঐ আমাকে ভয় দেখান হ ‍্যা । আমি আর আপনাকে ভয় পাই না ।এখন আমি বুঝে গেছি আপনাকে কীভাবে শাস্তি পাওয়াতে হয়। ( মেয়ে)
একটু শান্ত হয়ে বললাম । দেখেন আপনি দয়াকরে বলুন আমি আপনার কী ক্ষতি করেছি , যার জন্য আমাকে এর মাশুল দিতে হচ্ছে । (আমি)
কই তখন মনে ছিল না যে আমি একটা মেয়েকে থাপ্পড় দিতে চাচ্ছি কোন সাহসে।
( মেয়ে)
ওওওওওও তাহলে এই কারণে আমার নামে বিচার এসেছে । আর আমি যে আপনাকে ওদের হাত থেকে বাচালাম এটার কী ।(আমি)
তো কী হয়েছে । বাঁচিয়েছেন ভালো কথা আমাকে তো রাগ না দেখালেও পারতেন । ( মেয়ে )
না তখন আমার উচিত ছিল সিনেমার নায়কদের মতো আপনাকেও কোলে তুলে নিয়ে আমার গাড়িতে বসানো । তাই না বজ্জাত মেয়ে। (আমি)
এটুকু না হলে করতেন । কী হতো একটু কোলে তুলে নিলে। ( মেয়ে)
সরি মাফ করবেন । আমি যেন আপনাকে আর আমার চোখের সামনে না দেখি ।
বলেই ফোনটা কেটে দিলাম । আসলে মেয়েটার কথা শুনে আমার রাগ আরো বেশি হচ্ছিল । আর ভালো লাগছিল না তাই লাইনটা কেটে দিলাম।
যাইহোক তারপর থেকে আর কোনো সমস্যা করেনি মেয়েটা । এভাবেই চলতে চলতে বিয়ের দিন চলে আসলো । আজকে গায়ে হলুদের দিন সন্ধ্যার পর ভাবি এসে আমাকে ভাবির ফোনটা দিয়ে বলছে নে ধর ওই মেয়েটা কথা বলবে । ( আপু)
না আমি ধরতে পারবো না । ( আমি)
আপনারা ভাবছেন ভাবির কাছে কেন ফোন করেছে আসলে ও আমার কাছে ফোন করেছে কিন্তু আমি রিসিভ করিনি ।
ভাবি : তুই ফোনটা ধরবি না আমি আব্বুকে ডাকবো ।
আসলে আমি আব্বুকে ভয় পাই । আর আমার বাসার সবাই হয়েছে মনে হচ্ছে আমার বিয়ে রুবির সাথে না মেয়েটার সাথেই হচ্ছে।
যাইহোক আমি ফোন টা ধরলাম ,,
আমি কোনো কথা বলছি না দেখে ফোনের ঐপার থেকে আওয়াজ আসলো কেমন আছেন ।
আমি : ভালো তো থাকতে দিলেন না । আবার জিজ্ঞেস করছেন কেমন আছি ।
মেয়ে : তাই বুঝি । আচ্ছা ঠিক আছে আপনাকে কথা দিলাম আজকের পর থেকে আর আপনাকে জ্বালাতন করবোনা ফোন করে ।
আমি : সত্যি ‌।
মেয়ে : হুম সত্যি ।
আমি : তবে ভালো থাকবেন । আপনি আপনার রাস্তা দেখেন আর আমারটা দেখি ।
মেয়ে : ওকে ভালো থাকবেন বাই ।
আমি ও কে বাই বলতে যাবো তার আগেই লাইনটা কেটে দিল । বুঝলাম না ‌।
যাইহোক আজকে আমার বিয়ে । অনেকটা টেনশনে আছি । বুঝেন তো আপনারা নতুন বিয়ে করছি না মানে বিয়ে করছি নতুন তাই আর কি।
সারাটা দিন কেটে গেল বিয়ের সব কাজ শেষ নতুন বউ নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
কিন্তু আমার পোড়া কপাল এখনো বউয়ের মুখখানা দেখি নাই । শুধু শুনলাম যে আমার বউ নাকি সুন্দর ।
আর একটা আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে আমি সেদিন মেয়েটা কে এখানেই নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিলাম বাট আজকে তো একবারো দেখলাম না মেয়েটাকে । আজকে অনেক খারাপ লাগছে এইটা ভেবে যে অনেক খারাপ ব ‍্যাবহার করেছি মেয়েটার সাথে । এরপর ফোন করে সরি বলে দেব ।
বাড়িতে আসার পরে সবাই নতুন বউ নিয়েই ব্যস্ত আমার দিকে কারো কোনো খেয়াল নেই। আসলে নতুন বউ বাড়িতে নিয়ে আসতে আমার যে একটা অবদান আছে সেটা কেউ মনে হয় জানেই না ।
আমার অবস্থা এখন ডাস্টবিনে ফেলে আসা খাবার এর মতো কেউ একবার তাকিয়েও দেখছে না আমার দিকে ।
আমার এই অবস্থা দেখে ভাইয়া আমার কাছে এসে বলছে কী ব ‍ ্যাপার ভাই কষ্টে আছত মনে হয় ।
আমি বললাম কী যে বলেন না ভাই কষ্টে থাকবো কেন ।
এর পর আরো কিছু কথা হলো ভাইয়ার এর সাথে । ও আপনারাও শুনবেন ,,, না আমার বলতে লজ্জা লাগছে বুঝেন তো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ না মানে নতুন বিয়ে করেছি ।
তাও শুনবেন আচ্ছা শুনেন
ভাইয়ার এর কাছে থেকে কিছু টিপস্ নিলাম আর কী কীভাবে বিড়াল মারতে হয়।আসলে আমি আমার ভাইয়ের সাথে ফ্রি।
এভাবে অনেক টা সময় পার হয়ে গেল । ভাই আমার অবস্থা দেখে উঠে গেল একটু পরে এসে আমাকে বলছে চলো রুমে যাবে তোমার জিনিস একা একা বসে আছে ।
আমি : কী বলেন জিনিস মানে । এখন আবার কিছু জিনিস নিয়ে যেতে হবে ।
ভাই : আমি বলছি তোমার বউ না মানে তোমার ওয়াইফ একা একা রুমে বসে আছে যাও তাড়াতাড়ি ।
আমি : ও আচ্ছা ।যাই তাহলে ,,,,
দু’পা সামনে আগাতেই মনের মধ্যে ধক করে উঠল । আমার ঘরের দরজার সামনে গিয়ে আবার পেছনের দিকে দৌড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে থামছি।
ভাই : কী হলো ।
আমি : না কিছু না এমনিতেই ভয় লাগছে ঘরে যেতে তুই একটু আমার সাথে যাবি ।
ভাই : হায় আল্লাহ এই তো শুধু বড়ই হয়েছে । এখন ছোট বাচ্চা ।ঐ তারাতাড়ি যাবি না আমি আব্বুকে ডাকবো ।
আমি : ভাইয়া তুইও ।
ভাই : আআআআব্বুউউউউ
পুরোপুরি চিৎকার না করতেই আমি দৌড় এক দৌড়ে দরজার কাছে ।
তারপর দু তিন বার বুকে ফুঁ দিয়ে রুমে ঢুকবো তখনি কেউ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে দরজা আটকে দিল ।।
আমার এই রকম অবস্থা দেখে আমার নতুন বউ একটু হেসে ফেললো ‌।
আমি অসহায় হয়ে শুধু একটু হাসির শব্দ পেলাম। যাইহোক বউ এসে আমার পায়ে সালাম করে আবার গিয়ে বিছানায় বসলো ইয়া বড় একটা ঘোমটা দিয়ে ।
আমি কী করবো বুঝতে পারছি না । আমি এখনো দাঁড়িয়েই আছি ।
আমার এই রকম দাঁড়িয়ে থাকা দেখে বেচারা আমার বউ বলল দাঁড়িয়েই থাকবেন না এদিকে এসে বসবেন।
আমি বউয়ের কথা শুনে একটু স্বস্তি পেলাম । আমিও আর দাঁড়িয়ে না থেকে বউয়ের পাশে গিয়ে বসলাম ।
আমার প্রচন্ড ঘাম হচ্ছে দেখে রুবি আমাকে বলে উঠলো ভয় পাচ্ছেন কেন এতো ।
আমি : না মানে প্রথম বিয়ে করছি তো তাই ।
রুবি : কীইইই আরো বিয়ে করার ইচ্ছা আছে নাকি।
হায়রে কপাল কী বলতে কী বলছি এসব।
আমি : না মানে ভুলে বের হয়েছে কথাটা ।
রুবি : ও আচ্ছা আর যেন ভুল না হয়।( ধমকের সুরে)
এই বার আমার একটু সন্দেহ হলো রুবির কন্ঠ শুনে । আসলে আমার পরিচিত কন্ঠ । মনে হচ্ছে এর আগেও শুনেছি কন্ঠ টা ।
সেদিকে মাথা ঘামিয়ে বললাম ,,,
আমি : আচ্ছা ঠিক আছে।
একটু সময় চুপ থেকে বললাম আমি আপনাকে দেখতে চাচ্ছি । যদি ঘোমটাটা সরাতেন।
রুবি : কেন আপনি সরাতে পারছেন না ।
আমি : ও আমিই সরাবো ।
রুবি : নয়ত কী আপনার ভাই কে ডাকবেন ।
আমি : না না তার দরকার নেই আমিই সরাচ্ছি ।
এটা বলেই আমি ঘোমটা সরিয়ে যেই মাত্র বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়েছি তাতেই আমার চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিনা ,,,,,,,,,,,

চলবে

গল্প :হবু বউ পাঠ : ০৭

0

গল্প :হবু বউ পাঠ : ০৭

লেখক : অর্দ্র(MR)
পিচ্চির কথা শুনে আমি গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে ওখানে গিয়ে বললাম কী হচ্ছে এখানে ‌।
আমার কথা শুনে ঐখানের সবাই আমার দিকে তাকালো এবং দেখলাম মেয়েটা মনে হয় হাফ ছেড়ে বাচলো । ও আপনাদের তো ঠিক মতো বলাই হয়নি কি হয়েছে এইখানে। আসলে কয়েকটা বখাটে মিলে একটা মেয়েকে ঘিরে ধরেছে । আর মেয়েটা একা ঐটা দেখেই আমার মামনি হাত ইশারায় দেখিয়ে দিল । আপনাদের বলেছিলাম না আমার মামনি অনেক বুদ্ধিমতী । যাইহোক আমাকে দেখে বখাটে দের একজন বলল ঐ তোরা চল । তারপর ওরা এখানে থেকে চলে গেল । আর আপনারা ভাবছেন ওরা আমাকে দেখে চলে গেল কেন আসলে আমাদের এখানে আমার আব্বুর প্রতিপত্তি অনেক বেশি আর আর বখাটেরা আমাকে ভালো করেই চেনে আর ওরা জানে আমি কেমন । যাইহোক ওরা চলে যাওয়ার পর আমি মেয়েটার দিকে তাকাতেই দেখি আসলে মেয়েটা আর কেউ নয় ঐ বখাটে মেয়ে । মেয়ে কে দেখে আমি বললাম,,,
আমি : ও আমি তো ভুল করলাম । আসলে বখাটেরা তো এইভাবেই বখাটের হাতেই বিপদে পড়ে ।
মেয়ে : ,,,,,,,,,,,,,,,,,। কিছুক্ষণ থেমে থেকে বলল । আপনি আসলে একটা খারাপ মানুষ ।
আমি : ও তাই না । আমিই তো আপনাকে বাচালাম আর আমিই খারাপ।
মেয়ে : হ ‍্যা । তো আমাকে আপনি বখাটে বলছেন কেন ।
আমি : তো আপনাকে কী বলবো বখাটে কে কী বলব। যাইহোক আমি এখানে দাড়িয়ে আপনার সাথে ঝগড়া করতে চায় না । বিপদে যখন পড়েছেন তো চলেন আপনাকে বাড়ী পৌছে দেই ।
মেয়ে : না দরকার নেই আমি একাই চলে যাবো ।
আমি : দেখেন বখাটে গুলো এখনো আশেপাশেই আছে আমি চলে গেলে আবার আপনাকে জ্বালাতন করবে তাই বলছি চলেন ।
মেয়ে : না ওরা আর আসবে না । আপনি চলে যান । আর আপনি আমাকে নামিয়ে দিবেন কেন । আমি আপনার কী হই।
আমি : আচ্ছা আপনি আমার বাবা মায়ের পরিচিত ‌। তাই আমার আপনাকে ভালোমতো বাড়ি পৌঁছে দেওয়া দায়িত্ব হয়ে গেছে ।
মেয়ে : আপনার সিমপ‍্যাথির কোনো প্রয়োজন নেই আপনি যান ।
এবার আমার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে আমি আবার কখন ওকে সিমপ‍ ্যাথি দেখালাম । তারপরেও নিজেকে শান্ত রেখে বললাম ,,
আমি: প্লিজ চলেন আপনার আবার কোনো বিপদ হতে পারে ।
মেয়ে : না ।
আমি : থাপ্পড় চিনস ছেড়ি । তাড়াতাড়ি গাড়িতে ওঠ । আর একটা কথা বললে থাপরাইয়া সব গুলো দাঁত খুলে ফেলবো ।
আমার রাগ করা দেখে মনে হয় ভয় পেয়েছে । মাথা নিচু করে গাড়িতে উঠে বসল। বুঝলাম না আমার কথায় তাহলে সত‍্যিই ভয় পেয়েছে । আমিও গাড়িতে উঠে চলা শুরু করলাম । এমন সময় মামনি বলছে চাচ্চু এই আন্টি টা কে ।
আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো যেহেতু কালকে ও রুবিকে সাথে দেখা করার জন্য বলেছিল সে জন্য আমি একটু দুষ্টুমি করে বললাম ,,
মামনি তুমি তোমার রুবি চাচিকে দেখতে চেয়েছিলে না এইটাই তোমার রুবি চাচি । (আমি)
পিচ্চি আমাকে একটা পাপ্পি দিয়ে মেয়েটা কে বলছে চাচি তোমার কী হয়েছিল ।
মেয়ে : কিছু না । ওখানে কিছু বদমাইশ আমাকে খারাপ খারাপ কথা বলছিল ।
ও হ ‍্যা আমি মেয়েটাকে কে ইশারায় বললাম একটু কোওপারেট করতে । দেখি কাজ হয়েছে । আসলে মেয়েটা ভালো কথা তো ভালোই শুনছে ।
পিচ্চি আবার মেয়েটা কে প্রশ্ন করলো ।
চাচি তোমার আম্মু নাকি পচা । আর অনেক রাগ দেখায় তাই তো চাচ্চু আমাকে তোমাদের ওখানে নিয়ে যাইনি । যাক ভালোই হলো তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল । ( পিচ্চি)
মেয়ে : আম্মু তোমার চাচ্চু বলেছে এইকথা তাই না । আসলে তোমার চাচ্চু একটা পঁচা তাই এইকথা বলেছে ।
পিচ্চি : না আমার চাচ্চু পচা না ।
ওদের কথার মাঝে আমি বললাম আপনাকে কোথায় নামিয়ে দেব।
তখন মেয়েটা আমাকে ওর বাড়ির ঠিকানা দিল । কিন্তু ওর ঠিকানা শুনে আমার সন্দেহ আরো বেড়ে গেল যে মেয়েটা কে । আমার মাথায় শুধু একটা কথাই শূধু ঘুরপাক খাচ্ছে যে মেয়েটা কে ।আরে আপনারা ভাবছেন আমি এগুলো ভাবছি কেন আসলে মেয়েটা যে ঠিকানাটা দিয়েছে সেটা হচ্ছে আমার হবু শ্বশুর বাড়ির মানে রুবিদের বাসার । আমার চুপ করে থাকা দেখে মেয়েটা আমাকে বলছে কী ব ‍্যাপার চুপ করে গেলেন কেন ।
আমি : না এমনিতেই ।
মেয়েটা আর পিচ্চি গল্প করছে আর আমি মনে মনে ভাবছি মেয়েটা কে । আমি বাসায় গিয়ে হাজার বার বললেও রুবির একটা ছবিও দেখাবে না ।
আসলে আমাকে প্রথমে রুবি কে দেখার বিষয় এ বলা হয় কিন্তু আমিই তখন বাহাদুর এর মতো বলেছিলাম আপনাদের পছন্দই আমার পছন্দ ।
আর এখন দেখতে চেয়েও দেখতে পাচ্ছি না । কপাল আমার ‌ ।
তবে আপনাদের বলছি আপনারা কেউ আমার মতো এমন বোকামি করবেন না ।
যাইহোক তারপর মেয়েটা কে আমার বউয়ের বাড়ি থুক্কু আমার হবু শ্বশুর বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়ে চলে আসলাম ।
বাসায় এসেই সরাসরি ভাবির কাছে হানা দিলাম কোন লাভ হলো না । তারপর ভাইয়ার এর কাছে তাতেও ফেল মারলাম । সবার একই কথা কদিন পরেই তো বিয়ে এখন আর দেখতে হবে না । শত শত বুঝিয়েও নাভ হচ্ছে না ।
তাই ব ‍্যাথ হয়ে রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম । চোখটা একটু ধরে এসেছে তখনই আব্বুর ডাক ।
ধরমর করে উঠে দৌড় দেরি হলে খবর আছে আর এখন ডাকার ধরনটা আলাদা মনে হচ্ছে ।
যাইহোক নিচে আসতে আসতেই বুঝতে পারলাম যে কিছু একটা হয়েছে ।
আব্বুর কাছে এসে বললাম কী হয়েছে আব্বু । ( নরম শুরে বললাম)
আব্বু : আজকে কী করেছিস ।
আমি : কই নাতো আমি তো কিছুই করিনি ।
আব্বু : রাস্তার মেয়েদের জ্বালানো শুরু করেছ ।
হায় হায় আমার ইজ্জত এই গেল বুঝি
আমি : না আব্বু আমি তো এইরকম কিছুই করিনি । আর তোমার কী মনে হয় । আমি যখন পড়াশোনা করতাম তখনই মেয়েদের পাত্তা দেইনি আর এখন । আর তোমাকে কে কী বলেছ শুনি ।
আব্বু : আমি সব ঠিকঠাক জানি যে তুই আজকে কাকে এগুলো করেছিস । আর বলছিস এইগুলো করিস নি ।
এবার আমার মাথার মধ্যে সব কিছুই একদম পরিষ্কার হয়ে গেল । আমি বুঝতে পারছি না মেয়েটা আমার পেছনে লেগেছে কেন ।
আমি আব্বুকে বললাম ঐটা কে রুনি ।
আব্বু : হ ‍্যা ,,,,,,,,,,,,,
আমি : সত্যিই ‌
আব্বু : হ ‍্যা মানে না। আমি কী বলতে কী বলছি ঐ তুই এখন যা পরে এই বিষয়ে কথা বলবো ।
তারপর আমি ওখানে থেকে চলে আসলাম এসে যেই মাত্র বিছানায় একটু শুয়ে পড়ার প্রস্তূতি নিচ্ছি তখনই আমার ফোন টা বেজে উঠলো ,,,,,,,

চলবে