Friday, August 29, 2025
বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 2336



গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৬

0

গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৬

লেখক : অর্দ্র(MR)

আমি উপরে চলে আসতে আসতে একটা কথা মাথায় আসার কারণে ঐ মেয়েটাকে বললাম আপনি ইয়াসমিন আক্তার রুবি কি ।
আমার কথা শুনে সবাই চুপ করে গেল আমি তাড়া দেওয়ায় মেয়েটা ভয় পেয়ে বলতে যাবে এমন সময় আম্মু চলে এসে বলছে কী হয়েছে তুই ওকে ঐ রকম করছিস কেন । তুই দিন দিন কী হচ্ছিস বল তো ।
বাড়িতে একটা মানুষ এসেছে আর তুই কিনা আলতু ফালতু প্রশ্ন করা শুরু করেছিস । ( আম্মু বলল )
কই নাতো আমি তো শুধু সত্যি কথা টা জানতে চাইলাম আর তুমি কী না কী বলছো । (আমি)
তোর কিছু এখন জানতে হবে না এখন উপরে যা পরে জানবি। ( আম্মু)
সাথে আবার আব্বুও একটু যোগ করলো ,,
আমিও তো সে কথাই বলছি তুই এখন যা আমি পরে সব বলবো । ( আব্বু)
আমি : আচ্ছা ঠিক আছে । তবে আপনি ( মেয়েটাকে উদ্দেশ্যে করে ) কিন্তু পার পাবেন না আপনাকে উত্তর দিতেই হবে ।
বলেই আমি উপরে চলে । পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা শেষ করে অফিসে চলে আসলাম । সেদিনের মত অফিস শেষে বাসায় এসে দেখি ভাইয়া ভাবি আসছে আর পিচ্চি এসেছে । আরে আপনারা ভাবছেন পিচ্চি আবার কে ও আপনাদের তো বলাই হয়নি পিচ্চি হচ্ছে আমার ভাইয়ের মেয়ে নাম ঈশিতা । আমি পিচ্চি বলি , যাইহোক এই কয় খুব ভালো কাটবে কারণ পিচ্চির সাথে খুব ভালো সময় কাটানো যায় আর পিচ্চি টা অনেক কিউট আর খুব পাকা পাকা কথা বলে । পিচ্চির সাথে কোনো বিষয়ে পেরে উঠা যায় না । এই দেখেন আমি আপনাদের সাথেই কথা বলছি ঐদিকে পিচ্চি দাঁড়িয়ে আছে ওর সাথে কথাই বলা হয়নি এখনো । আপনাদের সাথে একটু পরে কথা বলি আগে পিচ্চি মামনির সাথে কথা বলি ,,
আমি : হেলো পিচ্চি মামনি ।
পিচ্চি : আমি তোমার সাথে কথা বলবো না । আমি এসেছি সকালে আর তুমি এখন আসছো খবর নিতে । তুমি যাও তোমার বাবার অফিসে ।
কী আমি বললাম না যে পিচ্চি খুব পাকা পাকা কথা বলে ।
পিচ্চির কথা শুনে সবাই হাসতে শুরু করেছে ।
আমি : না মামনি আর এইরকম হবে না । আমার মনে ছিল না । আসলে অফিসে অনেক কাজ তো তাই কাজের চাপে ফোন করতে পারিনি । তবে কালকে থেকে আর এই রকম হবে না ।
পিচ্চি : না এইগুলো বলে হবে না তুমি মিথ ‍্যে কথা বলছো ।
আমি : সত্যিই বলছি মামনি ।
এখনো অন ‍্য দিকে তাকিয়ে আছে আমার উপর সত্যিই অনেক রাগ করেছে । আর আমিও না একটিবার ও মনে হয়নি যে আজকে ওরা আসবে ,,,এখন দেখি কী করা যায় ,,,
আমি : মামনি আমি কান ধরেছি প্লিজ মাফ করো মা আর এমন হবে না । ( ছোট বাচ্চাদের মতো করে বললাম )
এইবার মন হয় কাজ হয়েছে । হ‍্যা সত্যি কাজ হয়েছে আমার দিকে ঘুরে বললো ,,,
পিচ্চি : না শুধু কান ধরলেই হবে না কালকে আমাকে তোমার অফিসে নিয়ে যেতে হবে আর বিকেলে আসার সময় চাচির বাসায় গিয়ে চাচির সাথে দেখা করিয়ে নিয়ে আসতে হবে ।
আমি : তোমাকে কালকে অফিস নিয়ে যাবো ঠিক আছে কিন্তু তোমার চাচিটা কে ।
পিচ্চি : ওরে বাবা যে তুমি শুধু বড়ই হয়েছ কিছু বুঝতে শেখ নি এখনো । তোমাকে আর কত শেখাবো বলতো । দাদু তুমি তোমার ছেলেকে কিছু শেখাতে পারোনি এখনো বোকাই আছে । আমার চাচি কে তুমি বুঝতে পারোনি আমার চাচি হচ্ছে রুবি ।
পিচ্চির কথাগুলো শুনে সবাই হাসতে শুরু করলো । সবার হাসি দেখে নিজেকে কেমন যেন অসহায় মনে হচ্ছে । আমি একটু লজ্জিত হয়ে বললাম ,,,
কিন্তু মামনি তোমার রুবি চাচি তো আর কয়েকদিন পর থেকে আমাদের বাড়িতেই থাকবে এখন আর দেখতে যেতে হবে না । তার চেয়ে বরং আমরা অন‍্য কোথাও যেয়ে ঘুরে আসবো কালকে অফিস শেষে । (আমি)
না, না আমি রুবি চাচিকেই দেখবো । ( পিচ্চি)
না মা এমন করে না তোমার চাচির বাসায় গেলে তোমার চাচির আম্মু আমাদেরকে বকবে। তুমি তো জানো না তোমার চাচির আম্মু অনেক রাগি । (আমি)
এবার মনোহয় পিচ্চি একটু ভয় পেয়েছে ।
তাহলে এখন তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো তারপর বলবো অন‍্য কোথায় যাওয়া যায় । (পিচ্চি)
আচ্ছা ঠিক আছে আমি ফ্রেশ হয়ে আসি তুমি ততোক্ষণে ভাবতে থাকো । (আমি)
তারপর আমি বাবি আর ভাইয়া এর সাথে কথা বলে আমার রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলাম । দিনটা না মানে অফিস থেকে আসার পর থেকে সময়টা অনেক ভালো গেল ।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা শেষ করে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডী হচ্ছিলাম তখনই পিচ্চি এসে বলছে আমি রেডি । তোমার এতো সময় লাগে কেন । তারাতাড়ি করো ।
আমি : আচ্ছা মা একটু ওয়েট করো আমি আসছি ।
তারপর রেডি হয়ে পিচ্চিকে নিয়ে অফিসে চলে আসলাম । সারাটা দিন ও অফিসেই ছিল । আমি কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু করে গল্প করছিলাম পিচ্চির সাথে । অফিস শেষে পিচ্চি আমাকে বলছে চাচা আমরা আজকে কোথাও যাবো না । আমরা বাড়িতে যাবো ।
আমি : আচ্ছা ঠিক আছে ।
আমরা আসছি আসতে আসতে হঠাৎ করেই পিচ্চি বলতে শুরু করল ,,
চাচ্চু তুমি চাচি আম্মার সাথে কথা বলো নাই । (পিচ্চি )
আমি : না মামনি তোমার দাদু দেখা করতে দেয় নি ।
পিচ্চি : ওহ তোমার অনেক কষ্ট হয়েছে তাই না ।
আমি : কেন কিসের কষ্ট হবে মামনি ।
পিচ্চি : ঐ যে চাচির সাথে দেখা করতে দেয়নি দাদু ভাই তাই । বলেই খিল খিল করে হাসতে শুরু করেছে ।
আমি : ও এতক্ষন তাহলে মজা করা হচ্ছিল তাই না ।
আমি কথা শেষ না করতেই পিচ্চি বললো ,,,
পিচ্চি : চাচ্চু গাড়ি থামাও ,,, তাড়াতাড়ি ।
আমি : কেন মামনি কী হয়েছে ।
আমি গাড়ি থামাতেই ও আমাকে হাত ইশারায় দেখিয়ে দিল বিষয়টা দেখে আমার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে নিজের ওপর আবার বখাটে গুলোর ওপর ।
আমি গাড়ি থেকে নেমে ওখানে গিয়ে বললাম কী হচ্ছে এখানে ,
আমার কথা শুনে সবাই আমার দিকে তাকালো ,,,,,,,

চলবে

গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৫

0

গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৫

লেখক : অর্দ্র ( MR)
অফিস থেকে বাসায় এসে ফ্রেশ হতে না হতেই আম্মুর ডাক ,,,
….মেহেদী দেখ তোর ফ্রেন্ড এসেছে ‌ । তারাতাড়ি নিচে আয় । (আম্মু)
আম্মুর কথা শুনে মনে মনে বললাম আমার ফ্রেন্ড তাও আবার আমার বাড়িতে । যাইহোক নিচে গিয়ে দেখা যাক কে আমার ফ্রেন্ড ।
নিচে এসে সোফার দিকে চোখ পড়তেই আমার চক্ষু চড়কগাছ ‌।
আমি আবারও আগেরবার এর মতো হতবাক । আরে আপনারা ভাবছেন কে এসেছে । আর বইলেন না ঐ যে মেয়েটা ঐঐ ঐ মেয়েটাই আসছে । কী রকম মেয়েরে বাবা চিনা নাই জানা নাই হুটহাট সবাই জায়গায় চলে আসে ।
আমার এইভাবে হা করে তাকিয়ে থাকা দেখে আম্মু বলল কী রে অবাক হবার কী আছে আর ঐ রকম গাধার মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন বস । ( আম্মু বলল)
আমি কিছু না বলে বসলাম আর ঐ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা একরকমের হাসি দিচ্ছে শয়তানি টাইপ হাসি , তা দেখেও আমি কিছুই বললাম না ।
আমি বসার পরে আম্মু বলল তোরা বসে গল্প কর আমি একটু আসছি ।
আমি: আচ্ছা ঠিক আছে ।
এমনিতেই আমার প্রচন্ড রকম রাগ হচ্ছে যে মেয়েটাকে আমি চিনি না । তারপরও আমি সব কিছুই বুঝিয়ে বলেছি তারপরও এই রকম কাজ করে কী ভাবে । আমার চুপ করে বসে থাকা দেখে মেয়েটা বলল কী ব ‍্যাপার রেগে গেছেন মনে হয় ।
আমি : না আমি রাগব কেন ‌ আপনি কী রাগ করার মত কিছু করেছেন যে আমি রাগ করবো ।
মেয়েটা : না আমি জানি আপনার রাগ অনেক । আর আপনি যে এখন প্রচুর রেগে আছেন আমি বুঝতেই পারছি ।
আমি: তো যখন বুঝতেই পারছেন তাহলে আবার বলেন কেন । আর আপনি আমার বাসার ঠিকানা কোথায় পেলেন ‌ ।
মেয়েটা : আমি যেখানেই পেয়েছি আপনাকে বলবো কেন । আপনি কে ?
আমি : আমি কেউ না তারপরও আপনাকে বলতে হবে । আর আপনি ঠিকানা পেয়েছেন ঠিক আছে তো আবার বাসায় এসেছেন কেন ।
মেয়েটা : আসতে মন চেয়েছে তাই এসেছি । আর আপনাকে অনেক দিন দেখি নাই তাই চলে আসছি ।
আমি : ওরে আল্লাহ্ রে , আমাকে একটু ওপরে উঠায় নেও তাও মনে হয় আমি ভালো থাকবো ।
মেয়েটা : আরে কী বলেন এইসব । আর মাত্র কয়েক দিন পর আপনার বিয়ে আর এখন এগুলো কথা বলছেন কেন ।
আমি : তো আমি কী করবো বলেন ।
মেয়েটা: আপনাকে কিছুই করতে হবে না । যাইহোক আপনার বিয়েতে আমাকে দাওয়াত দিচ্ছেন তো নাকি।
আমি : আপনাকে দাওয়াত দিব আমার বিয়েতে কোনো প্রশ্নই উঠে না ।
আমার কথা শেষ না হতেই আব্বুর আগমন ।
আব্বু : কী হ ‍্যা কে কাকে দাওয়াত দিচ্ছে না শুনি ।
মেয়েটা : আঙ্কেল আসসালামুয়ালাইকুম । আপনি কেমন আছেন ।
আব্বু : আমি ভালো আছি মা তুমি কেমন আছো । আর তোমার বাসায় সবাই কেমন আছে ।
মেয়েটা : সবাই ভালো আছেন । আম্মু বলল আপনাদের সাথে দেখা করে যেতে আর আম্মু আপনাকে আর আন্টি কে একবার যেতে বলেছে । তাই আর কী ।
কথা শেষ না হতেই আমি শুরু করলাম ,,,
আমি : ও তাহলে আমার সাথে প্রথম দিন থেকেই তাহলে সবার অভিনয় চলছে ‌ বাহ্ খুব ভালো । ( আসলে একটু খারাপ লাগছে এটা ভেবে যে আব্বু আম্মু সবাই ঐ মেয়েটাকে চেনে আর সামনে প্রকাশ করেন না )
আর আব্বু বলছিলে না যে কাকে দাওয়াত দিব না সে হচ্ছে এই মেয়েটা ।
আব্বু : চুপ গাধা । যা ওপরে যা এইখানে আর বসে থাকতে হবে না । আর শোন কালকে সকালে তোর ফ্রেন্ডের সবাইকে দাওয়াত দিবি ।
আমি : আচ্ছা ।
আমি উঠে চলে আসার সময় একটা কথা মাথার মধ্যে কেমন যেন ঘুরপাক খাচ্ছে । আমি আর কিছু না ভেবে পেছনে ঘুরে মেয়েটাকে উদ্দেশ্যে করে বললাম এই যে আপনি কী ইয়াসমিন আক্তার রুবি।
আমার কথা শুনে ওর মুখ টা কেমন চুপসে গেল আর আব্বু তো মনে হয় পুরাই অবাক হয়ে গেছে কিছুই বলছে না । শুধুই তাকিয়ে আছে ।
কেউ কিছু বলছে না এর দুজনেই হতবাক ।
এইবার আমার একটু রাগ হলো আমি এবার জোরে বললাম ,,
কী হলো বলেন , কথা বলেন ।
আমার দিকে তাকিয়ে আব্বু বুঝতে পেরেছে যে আমার রাগ হচ্ছে । তাই আব্বু আর কিছুই বলল না । কারন আমি রাগলে কেউ কিছুই বলে না , আর তখন কেউ কিছু বল্লে আমার রাগ বেশি হয় আর পরিণতি খারাপ হয়।
এখনো কেউ কিছুই বলছে না আমি এবার বললাম ,
কী কিছু বলছেন না কেন, কিছু বলবেন না অন্য কিছু করতে হবে আমাকে ।
এবার মনেহয় মেয়েটা একটু ভয় পেয়েছে ,ভয় পেয়ে মেয়েটা ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় কথা বলছে ,,,
মেয়েটা : আআআ আমি ,,,,,,

চলবে

গল্প : হবু বউ পাঠ: ০৪

0

গল্প : হবু বউ পাঠ: ০৪

লেখক : অর্দ্র(MR)

কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে কন্ঠ থেকে আওয়াজ আসলো আমি কী আসতে পারি ।
কথাটা শুনে আমি সামনের দিকে মুখ তুলে তাকাতেই আমার চোখটা আটকে গেল দরজায় । আমার হা হয়ে তাকিয়ে থাকা দেখে মেয়েটা বলল কী আসবো না এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো ।
আমি : হুম আসেন ।
মেয়েটি ভেতরে এসে দাড়াতেই আমি বললাম বসেন । মেয়েটি আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে বসলো ।
আমি বললাম আমি আপনার জন্য কী করতে পারি ।
না আমার জন্য আপাতত আপনাকে কিছু করতে হবে না । আপনি কালকে রাতে যেভাবে রাগ দেখিয়ে ফোন টা রেখে দিলেন তাতে ভাবলাম একবার আপনার সাথে দেখা করে আসি । ( মেয়েটা)
আচ্ছা একটা কথা বলেন তো আপনি কীসের জন্য আমার সাথে লেগেছেন আমি আপনার কী করেছি । আপনি অনেক দিন থেকেই আমাকে এইভাবে বিরক্ত করছেন । কিন্তু কীসের জন্য এইরকম করছেন । (আমি)
এমনিতেই আপনাকে জ্বালাতন করতে আমার খুব ভালো লাগে তাই । আর আপনাকে ছাড়া আর কাকে জ্বালাতন করবো বলেন । ( মেয়েটা)
কী বলছেন এসব আমি আপনাকে চিনি না । আর আমাকে জ্বালাতন করতে ভালো লাগে মানে টা কী । আর আমাকে ছাড়া কাউকে জ্বালাতন করবেন না মানে টা কী । (আমি)
সব গুলোর উত্তর একটাই আপনি মনে হয় ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন ।(মেয়েটা)
তবে শুনুন আমার না বিয়ে ঠিক করা আছে । আর আমার ওয়াইফ এর নাম রুবি । ১৫ দিন পর আমার বিয়ে ।( ওহ আপনাদের তো বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার বিয়ের আর মাত্র ১৫ দিন বাকি ) (আমি)
তাই বুঝি ‌ ।(মেয়েটা)
আমি: হুম । কোন কনফিউশন আছে নাকি ।
মেয়েটা : না । তো আপনার ওয়াইফ এর নাম কী ।
আমি : আমার ওয়াইফ এর নাম যাই হোক আমি আপনাকে বলবো কেন । আর আপনি অনেক ধরে আমার সময় নষ্ট করছেন । আপনি এখন আসতে পারেন ।
মেয়েটা: হুম । আপনার সময় নষ্ট করার জন্য সরি । তবে আপনার সাথে আবারো দেখা হবে । বাই ,,,
মেয়েটা উঠে চলে যেতে যেতে পেছনে তাকিয়ে বলল বাইদ ‍ ্যাওয়ে আমার নাম অবন্তী । বলেই মেয়েটা চলে গেল ।
মেয়েটা চলে যাবার পর মনে হলো আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম । বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার কাজে মন । এই ভাবে দিনটা শেষ ।
এইভাবে যেতে যেতে দুদিন পর অফিস থেকে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে একটু ছাদে যাবো ভাবলাম তখনি আম্মু একটা ডাক দিল ,,,,
মেহেদী দেখ তোর ফ্রেন্ড এসেছে বাহিরে আয় ।
আমি মনে মনে বললাম আমার ফ্রেন্ড আসছে কিন্তু আমার তো এইরকম কোনো ফ্রেন্ড নাই ।
যাইহোক আমার রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ ,,,,,

চলবে

গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৩

0

গল্প : হবু বউ পাঠ : ০৩

লেখক : অর্দ্র (MR)

……………………
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে আসতেই আমার ফোন টা বেজে উঠলো আমি অপরিচিত নাম্বার দেখে রিসিভ করলাম না কিন্তু যে ফোন দিচ্ছে সে তো অবিরাম ফোন দিয়েই যাচ্ছে । শেষমেষ ফোন টা রিসিভ করলাম । রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মেয়েলী কন্ঠে ,,,,,
আসসালামুয়ালাইকুম । কেমন আছেন।
আমি: ওয়ালাইকুমুস সালাম। ভালো আছি । কিন্তু আপনি কে ?
কেমন আছেন জিজ্ঞেস করার আগেই বলছেন আমি কে । ( মেয়েটি বলল)
আমি : হুম । কারন আমি আপনাকে চিনি না আর আপনি কে সেটাও জানি না । আগে আপনার পরিচয় দিন ।
আমি আপনার কাছের একজন । আমি আপনাকে অনেক আগে থেকে চিনি আর আপনিও আমাকে চিনেন । ( মেয়েটা বলল)
আমার আর বুঝতে বাকি রইল না যে মেয়েটা কে ।
আপনি আমার নাম্বার পেয়েছেন কোথায় থেকে ।আর আপনাকে আমি চিনি না । আপনি ভুল নাম্বারে কল করেছেন । ( আমি বললাম )
না আ আমি সঠিক নাম্বারে কল করেছি কারন আপনি মেহেদী । ( মেয়েটা বলল)
শোনেন আপনি আমাকে অনেক জ্বালিয়েছেন আমি কিন্তু কিছুই বলিনি ।
আপনি আর কখনো আমার চোখের সামনে আসবেন না আর আমাকে কখনো ফোন করবেন না ।আর যদি এগুলোর মধ্যে একটা করেন তাহলে আপনার খবর আছে । (আমি বললাম)
মেয়েটা কিছু বলার আগেই টুট টুট টুট টুট টুট,,,,,,,, লাইনটা কেটে দিলাম ।আর আমার প্রচন্ড রকম রাগ হচ্ছিল মেয়েটার ওপর যা কে কিনা আমি চিনি না জানি না সে নাকি আমাকে চেনে আজব সব কারবার ।
তারপর আমি ঘুমিয়ে গেলাম ।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে আম্মু কে একবার বললাম ,
আম্মু আমি কী একবার রুবির সাথে দেখা করতে পারি । (আমি)
না তোর দেখা করতে হবে না ও তোর সাথে দেখা করেছে এবং কথাও বলেছে তোর আর আলাদা করে দেখা করতে হবে না । ( আম্মু)
কী বলছো এসব রুবি আমার সাথে দেখা করলো কোথায় । (আমি)
হুম করেছে । তোর এতো ভাবতে হবে না ।তোর না আজকে থেকে অফিস যাওয়ার কথা । তারাতাড়ি করে অফিসে যা না হলে তোর আব্বু রাগারাগী করবে কিন্তু । ( আম্মু বলল)
আচ্ছা যাচ্ছি আর কী করবো । এরপর আরো কিছু কথা বলে বের হয়ে চলে আসলাম অফিসে ।
অসুস্থ থাকায় এতো দিন যাই নি । আসলে এটা আমার আসলে এটা আমার বন্ধুর অফিস আমার বন্ধু এই অফিসের এমডি ।
আমি বসে বসে কিছু কাজ করছিলাম এমন সময় পিওন এসে বলল স ‍্যার আপনার সাথে একজন দেখা করতে আসছেন । তিনি বললেন অনেক জরুরী ।
আমি বললাম আচ্ছা পাঠিয়ে দিন ।
কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে বলে উঠলো ,,
মেয়েটা: আমি কী আসতে পারি ,,,,,
আমি কথা শুনে মাথাটা সামনের দিকে তুলে তাকাতেই আমার চোখটা আটকে গেল ,,,,,,,

চলবে

গল্প : হবু বউ পাঠ :০২

0

গল্প : হবু বউ পাঠ :০২

লেখা : অর্দ্র(MR)
আমরা আমাদের বাইকটা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম । আমি যত বাড়ির দিকে আসছি ততো বেশি ভয় হচ্ছে যে আজ কপালে কী আছে সেটা আল্লাহই ভালো জানেন ।
আমরা বাড়িতে চলে আসছি
যাক বাবা আব্বু এখনও কিছু বলেনি ।
আমি সরাসরি আমার রুমে চলে গেলাম গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে ড্রয়িং রুমের দিকে যেতেই দেখি আব্বু আর আম্মু বসে আছে
তারা কী যেন বলাবলি করছে ।
আমি গিয়ে পাসে বসতেই আম্মু হাসতে হাসতে আমাকে জিজ্ঞেস করলো কি রে বাবা ঐ মেয়েটা কে ছিল । ( আম্মু)
আমি একটু ভ ‍্যাবাচ ‍্যাকা খেয়ে গেলাম আর আস্তে করে বললাম কোন মেয়েটা আম্মু ‌।
আম্মু : গাধা মাকেট এ গিয়ে যে তোকে বয়ফ্রেন্ড বানাতে চাচ্ছিল ঐটা কে চিনিস না ।
আমি: আশ্চর্য আমি চিনবো কীভাবে ।
আমি কী আগে কখনো দেখেছি নাকি যে চিনবো ।
আম্মু : আরে রাগ হবার কী আছে রাগ করিস না । আর এখনও কোনো পছন্দ থাকলে বল ।
( আসলে আমার রাগ একটু বেশি তাই বলল যে রাগ করিস না । আর ভাবছেন যে আমার পছন্দের কথা বলছে কেন আসলে সবাই আমার জন্য মেয়ে দেখে রেখেছে তাই আর কী)
আমি : আরে না আমার কোনো পছন্দ নাই ।
এই বলে আমি ঐখান থেকে রুমে চলে আসলাম ।
তারপর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমুতে যাবো তখন মার্কেট এর ঐ মেয়েটার কথা মনে হচ্ছিল । এখন ঐ সব ভাবাভাবি শেষ আগে আপনাদের আমার পরিচয়টা দিই।
আমি মোঃ মেহেদী হাসান
বাবা মায়ের তিন নাম্বার এবং শেষ পিচ্চি ছেলে আমার বড় দুই ভাই আছে ।
বাবা কিছুই করে না ভাইয়া করে । আর আমার হবু উয়াইফ এর নাম রুবি আব্বুর বন্ধুর মেয়ে । আমি চেয়েছিলাম একটা প্রেম করবো তারপর বিয়ে করব । কিন্তু আব্বু আম্মুর কথায় রাজী হয়ে যাই বিয়েটা করতে । আমি পড়াশোনা শেষ করে এখন একটা কম্পানিতে চাকরি করি । আর আমি কিন্তু এখনও আবার স্ত্রী কে দেখি নাই মানে হবু বউ।
যাইহোক পরিচয় দিতে দিতে ঘুমিয়ে গেছি । এভাবে কয়দিন চলে গেলো আজ আব্বু বলছে একটু শ্বশুর বাড়ি যেতে হবে সরি হবি শ্বশুর বাড়ি । ভেবেছিলাম আজকে অন্তত নিজের জিনিসটার সাথে একটু দেখা করতে পারবো । কিন্তু কথায় আছে না যে ভাগ্যে না থাকলে কিছুই হয় না। আজকে ও দেখা হলো না । যাইহোক ঐখানে থেকে আসার সময় রাস্তার মধ্যে হঠাৎ করে বৃষ্টি আসায় একদম ভীজে গেলাম । যাইহোক বাসায় এসে রাতে থেকে প্রচন্ড জ্বর আসলো ।
ঔষধ খেয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি ।
আজ আমি আর আব্বু ডাক্তার এর কাছে গেলাম ডাক্তার আমাকে দেখে কিছু পরীক্ষা করাতে বলল । আজকে প্রচন্ড ভীড় তাকায় আমরা ওয়েট করছিলাম এমন সময় কোথায় থেকে যেন সেই মেয়েটা এসে আমাকে বলছে যে,,,
মেয়েটা: এতো টেনশন করতে হবে না বাচ্ছার বেশি সমস্যা হয়নি শূধু একটু জ্বর আসছিল । ( আমি যথারীতি অবাক হয়ে আব্বুর দিকে তাকিয়ে দেখলাম আব্বু মুচকি মুচকি হাসছে । আমি ভাবছিলাম আব্বু প্রচন্ড রিয়াক্ট করবে )
আমি : মান আপনি কাকে কী বলছেন এসব ।
মেয়েটা : মানে টা হ ‍্যা কী বলছ এইসব ।
আমার প্রচন্ড রকম রাগ হচ্ছে এইবার । খেয়াল করলাম আব্বু আমার দিকে তাকিয়ে ঐ মেয়েটাকে বলল,,
আব্বু: মা তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে ।
মেয়েটা: না আংকেল ।
আব্বু : আচ্ছা আমরা এই বিষয়ে পরে কথা বলি তুমি বাইরে ওয়েট করো আমরা আসছি ।
মেয়েটা : ওকে আঙ্কেল ।
মেয়েটা বাইরের দিকে চলে আসলো ।আপনারা ভাবছেন আমি এতক্ষন চুপ করে ছিলাম কেন কারন আব্বু আমার রাগ হওয়া দেখে আমার হাত ধরে রেখেছিল যেন আমি কথা না বলি ।
তারপর আমরা এখানকার কাজ করলাম টেষ্টের রেজাল্ট একদিন পরে দিবে তাই চলে আসলাম ।
বাইরে এসে দেখি মেয়েটা আর নাই চলে গেছে । আমি মনে মনে বললাম ভালো হয়েছে
তারপর আমরা বাড়িতে চলে আসলাম আমাকে ।
পরদিন গিয়ে আমি রেজাল্ট নিয়ে ডাক্তারকে দেখালে ডাক্তার বলল সব ঠিক আছে তারপর আমি বাসায় চলে আসলাম । রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে আসতেই আমার ফোন টা বেজে উঠলো আমি অপরিচিত নাম্বার দেখে রিসিভ করলাম না কিন্তু যে ফোন করছে সে আর থামছেই না পাঁচ বার ফোন করার পর আমি ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সালাম দিল।
আমি সালাম নিয়ে বললাম আপনি কে ।
ওপাশ থেকে : আমি ,,,,,,,,

গল্প: হবু বউ পাঠ: ০১

0

গল্প: হবু বউ পাঠ: ০১

লেখা: অর্দ্র ( MR)
মার্কেট এ আসছি আজকে অনেক দিন পরে তবে মার্কেট এ আসার কারণ হচ্ছে সামনে যে শীত মা গো মা ।
আমি ও আমার আব্বু এসেছি সবার জন্য মার্কেট করতে ।
আমাদের বাইকটা রেখে মার্কেট এ ঢুকতে যাবো এমন সময় খেয়াল করলাম যে আজকে অনেক যানযট লাগছে মার্কেটে ।
যাইহোক আমরাও আমাদের কেনাকাটা শুরু করলাম ।
আমাদের কেনাকাটা শেষ করে টাকা দিয়ে যেই পেছনের দিকে ঘুরবো তখনই একটা বোরকা পরা মেয়ে আমার দিকে কিছু শপিং ব ‍ ্যাগ দিয়ে বলছে কী ব ‍্যাপার আমাকে ঐখানে রেখে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে।
আমি তো পুরাই হাঁ হয়ে গেলাম। আর আপনারা ভাবছেন আমার আব্বু কী বলবে তাহলে শুনুন,,,
আব্বু : আজকে আগে বাড়ি চল তারপর তোর একদিন কি আমার একদিন
আমার হা হয়ে থাকা দেখে মেয়েটা বলল কি হলো আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসবে না । আমি তো একা একা বাসায় যেতে পারবো না এতগুলো ব ‍্যাগ নিয়ে ।
এবার আমি কথা বললাম ,,,,,
আমি: এই মেয়ে এই আপনার সমস্যা কি ,চেনা নাই জানা নাই আপনি এসে এসব কী বলছেন তখন থেকে।
মেয়েটা: কীইইইইইইই ,,,,,,, আমি এমন করছি তাই না তাহলে ঐখানে আমাকে একা একা রেখে চলে এসছো কেন আবার এখন বলছো আমাকে চেন না ।কী পাগল হয়ে গেলা নাকি অন্য কোন মেয়ে দেখে আমাকে চিনতে পারছো না ।
আমি: (আমার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে কিন্তু রাগ না প্রকাশ করে বললাম ) আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে । আপনি মনে হয় কারও সাথে আমাকে গুলিয়ে ফেলছেন। দেখুন আমি আপনাকে চিনি না আর আমি এখানে আমার আব্বুর সাথে এসেছি । ( এতোক্ষণ আমার আব্বু চুপ করে ছিল কিন্তু এবার কথা বলল,,,)
আব্বু : দেখ মা তোমার সত‍্যিই কোথাও ভুল হচ্ছে কারন ও তো এখানে থেকে কোথাও যায়নি আর ও তো কোনো মেয়ের সাথে রিলেশন তো দুরের কথা কথাও বলে না ও হলো একটা ভিতুর ডিম ।( এইবার আমার প্রেস্টিজ এর বারোটা বাজলো )
মেয়েটা: ওহ সরি আঙ্কেল আমার মনে হয় সত্যিই তাহলে কোথাও ভুল হচ্ছে।
আমি: এইবার তাহলে বুঝতে পেরেছেন।
মেয়েটা: হুম সরি।
তারপর মেয়েটি চলে গেল
আমরাও রওনা দিলাম বাড়ির দিকে।

চলবে..

গল্পটা কেমন লাগলো জানাবেন?

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ৩/শেষ পর্ব

0

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ৩/শেষ পর্ব

–সত্যি তো আমি যা বলবো তাই করবেন??(নুসরাত)
–হুম সত্যি।(আমি)
–আমাকে আইসক্রিম খাওয়াতে হবে।(নুসরাত)
–আচ্ছা খাওয়াবো। (আমি)
–ওকে আজ সন্ধ্যার সময় আমি ফোন দিবো। (নুসরাত)
–ওকে।(আমি)
যাক বাবা বাচা গেলো।
আইসক্রিম আর কয়টা খাবে।
যাই গল্প টা শেষ করি।
আবার গল্প পড়ায় মনোযোগ দিলাম।
একটা গল্প শেষ করে আর একটা গল্প পরা শুরু করলাম এই ভাবে ৪-৫ টা গল্প পড়লাম।
সন্ধ্যার দিকে নুসরাত ফোন করল–
–হ্যালো কে বলছেন??(আমি)
–বাহহ এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন।
ও বুঝেছি আইসক্রিম খাওয়ানোর ভয়ে এখন চিনছেন না তাই না।(নুসরাত)
–ও আপনি।(আমি)
–হুম আমি।
এখন তারাতারি আমাদের বাসায় আসেন।(নুসরাত)
–আচ্ছা আসতেছি।(আমি)
রেডি হয়ে নুসরাত দের বাসায় গেলাম দরজার সমনে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম আন্টি দরজা খুলে দিয়ে বললেন-
–ও হৃদয় তুমি আসো বাবা ভিতরে আসো।(আন্টি)
তারপর ভিতরে গিয়ে বসলাম।
–আন্টি নুসরাত কোথায়।(আমি)
–তুমি না কি আইসক্রিম খাওয়াতে চাইছো তাই তোমার সাথে যাবার জন্য রেডি হচ্ছে।(আন্টি)
–(আমি খাওয়াতে চাইছি না জোর করে খাচ্ছে মনে মনে বললাম।)
হুমম আন্টি খাওয়াতে চাইছি।(আমি)
–আচ্ছা বাবা তুমি বসো আমি নুসরাত কে পাঠিয়ে দিচ্ছি।(আন্টি)
আন্টি চলে গেলো নুসরাত এর রুমে।
আমি বসে আছি একটু পর নুসরাত বের হলো নুসরাত কে দেখে তো আমি পুরাই হা হয়ে গেছি।নিল শাড়ি পরছে দেখতে অসাধারণ লাগছে।আমি তো একসাথে দু’বস্তা ক্রাশ খাইলাম।
এক পলকে নুসরাত এর দিকে তাকিয়ে আছি।ঘোর কাটলো নুসরাত এর ডাকে–
–ও হ্যালো এমন করে কি দেখেন।(নুসরাত)
–পরি..(আমি)
–কি???(নুসরাত)
–কিছু না।।
এহ একদম ভালো লাগছে না,
একবারে পেত্নীর মত লাগছে।(আমি)
–হুম আমি যানি আমাকে কিসের মত লাগছে আপনাকে বলতে হবে না।
এখন চলেন।(নুসরাত)
–হুমম চলেন।(আমি)
তারপর আমি আর নুসরাত বের হয়ে গেলাম।দু’জনায় পাশা পাশি হাটছি।
কিছুক্ষন ঘুরলাম তারপর আইসক্রিমের দোকানে গেলাম।
–মামা একটা আইসক্রিম দেন তো।(আমি)
–এখনে খাবেন না নিয়ে যাবেন।(দোকানদার)
–এখানেই খাবো মামা দেন।(নুসরাত)
–এই নেন (দোকানদার)
কিছুক্ষন পর নুসরাত বলল,
মামা আর একটা দেন।
দোকানদার আবার দিয়ে গেলো।
কিছুক্ষন পর আবার বলল মামা আর একটা দেন। দোকানদার আবার দিয়ে গেলো এই ভাবে ১০ টা আইসক্রিম খেয়ে শেষ করল।
তারপর নুসরাত বলল–
–হুম শেষ খাওয়া আমার।(নুসরাত)
–আচ্ছা আপনি দাড়ান আমি বিলটা দিয়ে আসি।।(আমি)
বিল দিতে যায়ে দোকানদার বলল–
–মামা মামীকে আপনার সাথে বেশ মানিয়েছে।(দোকানদার)
–ধন্যবাদ মামা।(আমি)
বিল দিয়ে আমি আর নুসরাত যাচ্ছিলাম–
–একটা রিক্সা নেন।(নুসরাত)
একটা রিক্সা নিয়ে দু’জন রিক্সায় উঠে বসলাম।রিক্সা চলছে তার গতিতে আমাদের কারো মুখে কথা নাই।
একটু পর নুসরাত বলল–
–দোকানদার কি বলল তখন??(নুসরাত)
–কই কিছু না তো।(আমি)
–আমি কিন্তু সব শুনছি।(নুসরাত)
–(এই রে কেস খেয়ে গেলাম)
কি শুনছেন??(আমি)
–কিছু না বলে মুচকি হাসি দিলো।
আর আমি তার হাসি দেখে আবার এক বস্তা ক্রাশ খেলাম।
কিছুক্ষন পর নুসরাত দের বাসার সামনে আসলাম।
–আচ্ছা আসি তহলে।(নুসরাত)
–আর একটু থাকলে হয় না।(অস্পষ্ট ভাবে)
–কি??(নুসরাত)
–কিছু না আসেন।(আমি)
–আচ্ছা বাই।আর শুনেন আমাকে আপনি করে বলার দরকার নাই তুমি করে বলবেন।(নুসরাত)
–হুম বলবো যদি আপনিও বলেন।(আমি)
–আচ্ছা সাবধানে বাসায় যাও।(নুসরাত)
–তুমি আগে যাও।
তারপর আমি যাচ্ছি। (আমি)
তারপর নুসরাত ওর বাসায় চলে গেলো আর আমি আমার বাসায় চলে আসলাম।
এই ভাবে শুরু হয়েছিলো আমাদের বন্ধুত্বটা। ঝগড়া, মান অভিমান সবই চলত আমাদের মাঝে তবে ঝগড়া টায় বেশি হয়।
এই সবের মধ্যে আমি কখন যে নুসরাত কে ভালোবেসে ফেলেছি নিজেও জানিনা।
ওকে কিছু বলতেও পারছি না।
ভয় করে যদি আর কথা না বলে।
আর না বলেও থাকতে পারছি না।
কয়েকদিন থেকে ভালো মত খেতেও পারছি না।সব সময় অন্যমনষ্ক হয়ে থাকি।
বিষয় টা বাবা ধরতে পারে —
–কি রে হৃদয় কি হয়ছে তোর??(বাবা)
–কিছু না বাবা।(আমি)
–কিছু না হলে তুই এমন থাকিস না।
কি হয়ছে খুলে বল আমাকে দেখি সমাধান করতে পারি কি না।(বাবা)
তারপর বাবা কে সব খুলে বললাম।
বাবা বললেন–
–আমার মনে হয় নুসরাতও তোকে ভালোবেসে কিন্তু বলতে পারছে না।
তুই নুসরাত কে তোর মনের কথা বলে দে।(বাবা)
–না বাবা যদি ও ভালো না বাসে।
পরে যদি আমার সাথে কথা না বলে।
ওর সাথে কথা না বললে আমি মরেই তুই নুসরাত কে তোর মনের কথা বলে দে।(বাবা)
–না বাবা যদি ও ভালো না বাসে।
পরে যদি আমার সাথে কথা না বলে।
ওর সাথে কথা না বললে আমি মরেই যাব বাবা।(আমি)
–তুই কিছু চিন্তা করিস না দেখি কি করা যায়।(বাবা)
–হুম।।
নুসরাতকে আমার চাই বাবা।
তুমি কিছু একটা কর।(আমি)
–এক কাজ কর তুই আজ রাতেই কিছু দিনের জন্য তোর নানু বাড়ি থেকে ঘুরে আয়।
ফোন বন্ধ করে রাখবি।
ফেসবুক বন্ধ রাখবি।(বাবা)
–বাবা এই সব করে কি হবে।(আমি)
–উহুম এই সব করেই সব হবে।
তুই জাস্ট দেখে যা।
ভুলেও ফোন ফেসবুক অন করবি না।(বাবা)
–আচ্ছা বাবা।(আমি)
বাবার কথা মতো রাতেই নানু বাড়ি চলে আসলাম।ফেসবুক ডিএক্টিভ করে ফোন বন্ধ করে রাখলাম। দু’দিন পার হয়ে গেলো নুসরাত এর সাথে কনো কথা হয়নি।
ওর সাথে কথা বলার জন্য মন টা ছটফট করছে।এই দিকে বাবার কথাও ফেলতে পারছি না।ফোনও অন করতে পারছি না।
নানুর ফোন দিয়ে বাবা কে ফোন দিলাম–
–হ্যালো বাবা।(আমি)
–হুম বল।(বাবা)
–বাবা আমি থাকতে পারছি না।
একবার ফোন দিবো নুসরাত কে।(আমি)
–এই না না ভুলেও ঐ কাজ করবি না।
তোর কাজ হয়ে যাচ্ছে।
আর কিছু দিন পর তুই চলে আসিস।
আর ভুলেও ফোন অন করবি না।(বাবা)
–আচ্ছা বাবা ফোন অন করব না।(আমি)
বাবার সাথে কথা বলে বসে আছি আর নুসরাত এর কথা ভাবছি।
সত্যিই ওর সাথে কথা না বলে থাকা যাচ্ছে না।
খুব কষ্ট হচ্ছে।
দেখতে দেখতে দশ দিন হয়ে গেলো এই দশ দিন যে আমার কি ভাবে কাটছে আমি কিছুই বলতে পারি না।তারপর নানু বাড়ি থেকে বাড়িতে চলে আসলাম।নুসরাত কে দেখার জন্য মন টা বেকুল হয়ে আছে।যেতে চাইলাম কিন্তু বাবা যেতে দিলো না।একটু পর দেখি নুসরাত নিজেই চলে আসছে–
–এই তাজমিনা তোর ভাই আসছে??(নুসরাত)
–হুমম আসছে ওর রুমে আছে।(তাজমিনা)
নুসরাত দৌড়ে আমার রুমে আসলো।
আমি তখন শুয়ে আছি।
এসেই দরজা লাগিয়ে দিয়ে দিলো–
–ঠাসসসস ঠাসসসসস
ঐ কুত্তা এত দিন কই ছিলি???
তোর ফোন বন্ধ কেন??
ফেসবুক ডিএক্টিভ করছিস কেন??(নুসরাত)
–আরে এত্য প্রশ্ন একবারে করলে উত্তর দিব কি ভাবে।আর কই যাই না যাই তোমার কি।(আমি)
–আমার কি মানে আমার অনেক কিছু।
আমি তোমাকে ভালো………(নুসরাত)
–কি ভালোবাস??(আমি)
–হুম অনেক বাসি।(নুসরাত)
–তাহলে বলোনি কেনো। (আমি)
–আগে বাসতাম নাকি।
তুমি চলে যাবার পর তোমাকে মিস করতে শুরু করলাম।তোমার সাথে কথা বলতে পারছিলাম না খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
মনে হচ্ছিলো কিছু একটা নেই আমার মাঝে।তারপর বুঝতে পারলাম তোমাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি।
এই দশটা দিন তোমার বাড়িতে এসে তোমার খবর শুনে গেছি।তোমাকে ফোন দিছি অনেক বার কিন্তু বার বার ফোন বন্ধ পাইছি।(নুসরাত)
–আমি ও কষ্ট পাইছি।
তোমাকে আমি অনেক আগে থেকেই ভালোবেসে ফেলেছি কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি যদি তুমি কথা বলা বন্ধ করে দাও।
তুমি আমাকে ভালোবাস কি না তা জানার জন্যই এই সব করা।(আমি)
–তুমি খুব খারাপ।
একবার তো বলতে পারতা।(নুসরাত)
–এখন তো বলছি।
নুসরাত এর দু’টি হাত ধরে বললাম বিয়ে করবে আমাকে।(আমি)
–হুম করব।
বলে আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না করছে।
–এই পাগলী কান্না কর কেনো। (আমি)
–আর কখনো ছেরে যাবে না তো।(নুসরাত)
–না রে পাগলী যাবনা কখনো।
বলে আমিও জরিয়ে ধরলাম।
কিছুক্ষন পর নুসরাত আমাকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
তখন দুজনই চুপ।
তাই আমি বললাম,
–আচ্ছা নুসরাত তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো ত???
–ঐ তুমি এই কথা বলো কেনো??
–আচ্ছা বলোনা।
–হুম তোমাকে আমি আমার জিবনের চেয়েও বেশী ভালবাসি।
–তার প্রমাণ কি???
–কি প্রমাণ চাও বলো??
–হুমম,,,
শুনেছি কিস করলে নাকি দুজন দুজনকে মিস করে!!
তাই ইমরান হাশমির মতো তুমি আমার ঠোঠে একটা পাপ্পী দাও।।
–ওমা!!
আমার বুজি লজ্জা করেনা।
— তো কি করলে তোমার লজ্জা যাবে??
–তুমি তোমার চোখ বন্ধ করো।
–আমি চোখ বন্ধ করার সাথে সাথেই নুসরাত আমাকে জড়িয়ে ধরে আমাদের চারটি ঠোঁঠ এক করে দিলো!!
আহ কি মজা???
এভাবেই শুরু হলো আমাদের দুজনের ভালবাসা।।।
.
.
সমাপ্ত

কেমন লাগছে জানাবেন

লেখক: তৌহিদুল ইসলাম

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ২

0

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ২

এই যে মিস্টার এই দিকে শুনো।(নুসরাত)
–জি আমাকে বলছেন???(আমি)
–এই খানে তো আর কাউ কে দেখছি না।
আপনি কি কাউকে দেখছেন???(নুসরাত)
–না তো।(আমি)
–তাহলে আপনাকেই ডাকছি।
এই দিকে শুনুন।(নুসরাত)
–জি বলুন।(আমি)
–বাড়িতে এত্য ভদ্র হয়ে থাকেন কেনো হুম।আপনার জন্য আমাকে বকা খাইতে হলো।(নুসরাত)
–আমি আবার কি করলাম।(আমি)
–কি করলেন মানে!!
আপনার জন্য আমাকে আম্মু বকা দিছে।(নুসরাত)
–এই শুনেন বেশি কথা বললে আন্টি কে বলে দিবো যে আপনক আমাকে থাপ্পড় মারছিলেন হুম।(আমি)
–আ_আআমি তো ইচ্ছে করে মারিনি।
ভুলে মেরেছি।(নুসরাত)
— ভুলে মারেন আর যেনেই মারেন মারছেন তো।আমি তো আন্টি কে বলেই দিব।(আমি)
–এখানে আম্মু কে বলার কি আছে??
আমরাই তো ঝামেলা মেটাতে পারি।(নুসরাত)
–না তা বললে তো হবে না।
আমি তো আন্টি কে বলেই দিবো। (আমি)
–হুম জান জান বলেন।
তারপর দেখেন কি হাল করি আপনার।(নুসরাত)
–ভয় দেখচ্ছেন?(আমি)
–ধরে নিন তাই।(নুসরাত)
–কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি না।(আমি)
–হুম জান জান বলেন।
দেরি করছেন কেনো এখনি যায়ে বলেন।(নুসরাত)
–হুম ঠিক আছে আমি গেলাম আপনাদের বাসায়।
বলে ওদের বাসার দিকে গেলাম গিয়ে কলিং বেল বাজালাম…..
পিছনে দেখি নুসরাতও আসছে।
আমার সাথে নুসরাতও দাড়ালো।
একটু পর আন্টি দরজা খুলে দিলেন —
–আসসালামু আলাইকুম আন্টি। (আমি)
–ওয়ালাইকুম আসালাম বাবা তুমি!!
আসো ভিতরে আসো। (আন্টি)
–আর বলিয়েন না আন্টি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম আর নুসরাত আমাকে……
কথা টা বলতে না বলতেই নুসরাত আমার মুখ চেপে ধরল।
–নুসরাত কি করছিস ছার ওকে।(আন্টি)
নুসরাত ছেরে দিলো।
–হ্যা বাবা বলো নুসরাত কি করছে তোমাকে। (আন্টি)
–না আন্টি কিছু করে নাই।
আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম।
আমাকে দেখে জোর করে আপনাদের বাসায় নিয়ে আসলো। (আমি)
–ওওহহহ তাই বলো।
আমি ভাবলাম তোমার সাথে ফাজলামি করছে নাকি??(আন্টি)
–না না আন্টি। ও তো খুব ভালো মেয়ে।(আমি)
এই দিকে নুসরাত আমার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।
–আচ্ছা বাবা তুমি বসো।
আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসি।(আন্টি)
আন্টি নাস্তা আনতে চলে গেলো।
–এই যে মিস্টার মিথ্যা কথা বললেন কেনো হুম।(নুসরাত)
–কই মিথ্যা কথা বললাম।(আমি)
–মিথ্যা কথা বলেন নাই মানে।
আমি কি আপনাকে জোর করে এখনে আনছি।(নুসরাত)
–না। (আমি)
–তাহলে মিথ্যা কথা বললেন কেনো হুম???(নুসরাত)
–বারে কই আমাকে ধন্যবাদ দিবেন তা না আমাকে মিথ্যুক বানিয়ে দিচ্ছেন।(আমি)
–ওরে আসছে ধন্যবাদ নিতে।
আমি আপনাকে বলছি মিথ্যা কথা বলতে।(নুসরাত)
–তাহলে আমার মুখ চেপে ধরছিলেন কেনো হুম।আমি তো সত্যি টা বলতে যাচ্ছিলাম। (আমি)
–হয়ছে থাক আর বলতে হয়ে না।
এখন নাস্তা করে ফুটেন তো।(নুসরাত)
–তাড়িয়ে দিচ্ছেন।(আমি)
–যদি বলি তাই।(নুসরাত)
–আর আমি যদি না যাই।(আমি)
–সে দিনের থাপ্পড়ের কথা ভুলে গেছেন??(নুসরাত)
–কি ভুলে গেছে রে নুসরাত।(আন্টি)
–কি,,,,কি,,,,কিছু না আম্মু।(নুসরাত)
–না কিছু তো একটা বলছিস।(আন্টি)
–না আন্টি তেমন কিছু না।
আসলে আমি আপনাদের বাড়ি আসার রাস্তা টা ভুলে গেছি তাই বলছিলাম আর কি।(আমি)
–ওওওও এই কথা তুমি চিন্তা করোনা নুসরাত তোমাকে দিয়ে আসবে।(আন্টি)
–আচ্ছা আন্টি। (আমি)
–হুম বাবা এখন নাস্তা কর।(আন্টি)
নাস্তা শেষ করে আন্টির সাথে কিছুক্ষন গল্প করার পর আন্টিকে বললাম–
–আচ্ছা আন্টি আজ উঠি।(আমি)
–আচ্ছা বাবা আসিও আবার।
নুসরাত যা তো হৃদয়কে ওদের বাড়িতে দিয়ে আয়।(আন্টি)
–আচ্ছা আম্মু।(নুসরাত)
তারপর দু’জনাই বের হলাম।
কেউ কোন কথা বলছি না।
একটু পর নুসরাত বলল–
–আপনি এত খারাপ কেনো??? (নুসরাত)
–কেনো কি করলাম আমি??(আমি)
–কি করেন নাই তাই বলেন??
আপনি কি বাড়ির রাস্তা চিনেন না???(নুসরাত)
–হুম চিনি তো।(আমি)
–তাহলে আম্মু কে বললেন কেনো রাস্তা ভুলে গেছেন।(নুসরাত)
–হুম না বললে তো আপনার গালে থাপ্পড় পরতো।আর আপনাকে ওখনে থাপ্পড়ের কথা বলতে কে বলছে হুম।
এখন যদি আমি আপনার গালে থাপ্পড় মারি হুম কেমন হবে বলেন তো।(আমি)
–হুম মারেন।
গাল এগিয়ে দিয়ে বলল নুসরাত।
আমি কি করব বুঝতে পারছি না এত সুন্দর গালে থাপ্পড় মারলে গাল টা নষ্ট হয়ে যাবে!!
তাই নুসরাতের গালে চুমু একটা দিয়ে দিলাম সেই এক দৌড়। ???
এই দিকে নুসরাত তো রেগে আগুন–
–ঐ হৃদয়ের বাচ্চা।
দাড়া তোকে আজ আমি শেষ করে দিব।(নুসরাত)
–ধরতে পারলে তো। (আমি)
–ঐ দাড়া বলতেছি।(নুসরাত)
–আমাকে কি পাগলে কামরাইছে যে মার খাবার জন্য দারাবো।(আমি)
দৌড়ে বাড়িতে এসে রুম লক করে শুয়ে আছি।একটু পর নুসরাত ও আসলো।
–আন্টি তাজমিনা কই??(নুসরাত)
–ওর ঘরে আছে মা যাও।(মা)
–আচ্ছা আন্টি। (নুসরাত)
নুসরাত তাজমিনার রুমে গেলো।
আর আমি আমার রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে দেখছি।একটু পর আবার বের হয়ে গেলো।
যাক বাবা বাচা গেলো।
যাই তাজমিনার কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে আসি।
–তাজমিনা ফোনটা দে।(আমি)
–হুম নে।(তাজমিনা)
–এই শোন। (আমি)
–কি??(তাজমিনা)
–নুসরাত তোকে কি বলে গেলো রে।(আমি)
–কিছু না তো।(তাজমিনা)
–আচ্ছা ঠিক আছে।(আমি)
তারপর রুমে চলে আসলাম।
অনেকক্ষন থেকে ফেসবুকে ঢুকা হয় নি একটু ঢুকি।ফেসবুকে গল্প পড়ছিলাম।
গল্প টা সুন্দর ছিলো।
পুরু মন টা গল্পের ভিতরে দিয়ে দিছি।
এর মধ্যে কে যেনো ফোন দিলো।
মেজাজ টা সেই গরম হয়ে গেলো বিরক্তি হয়ে ফোনটা ধরলাম–
–হ্যালো কে বলছেন???(আমি)
–ঐ লুচু তোরে খালি আমি সামনে পায়।(মেয়ে)
–ও হ্যালো বলা নাই কয়া নাই আপনি আমাকে লুচু বলছে কেনো হুম??
কি লুচ্চামি করছি আমি??(আমি)
–কি লুচ্চামি করছেন মনে নাই।
একটু আগে কাকে চুমু দিছেন হুম।
যদি আপনাকে সামনে পাইই,
তাহলে আপনার খবর করব।
(এইবার বুঝতে পারলাম মেয়েটা কে।
আপনারাও তো বুঝতে পারছেন যে মেয়েটা নুসরাত)
–আ,,আ,,আপনি… (আমি)
–জি আমি।(নুসরাত)
–আপনি আমার নাম্বার কই পাইলেন।(আমি)
–কই পায়ছি সেটা বড় কথা নয়।
বড় কথা হলো আপনাকে আমি ছারব না।(নুসরাত)
–ইয়ে মানে এই বারের মত ক্ষমা করে দিন।
আর জিবনেও এমন হবে না।(আমি)
–ক্ষমা কিসের ক্ষমা।
আপনাকে আমি ক্ষমা করব না।(নুসরাত)
–প্লিজ এই বারের মত ক্ষমা করেন আপনি যা বলবেন তাই করবো।(আমি)
–সত্যি তো আমি যা বলবো তাই করবেন??(নুসরাত)

-হুম সত্যি।(আমি)
,,
~চলবে

লেখক: তৌহিদুল ইসলাম

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ১

0

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ১

‘লেখক:- তৌহিদুল ইসলাম
,
যদি বউ সাজো গো আরো সুন্দর লাগবে গো।
–ঠাসসসস ঠাসসসস
–বেয়াদব ছেলে,,,
রাস্তায় মেয়ে দেখলেই টিজ করতে ইচ্ছে হয় না।(অপরিচিতা)
কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে ফুল ভলিউম দিয়ে গান টা শুনছিলাম আর রাস্তার পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হাটছিলাম আর আস্তে আস্তে গান টা গাচ্ছিলাম। বুঝলাম না মেয়েটা থাপ্পড় মারলো কেনো। আর আমি আবার কখন মেয়েটা কে টিজ করলাম।
–ও হ্যালো আমি আবার আপনাকে কখন টিজ করলাম।(আমি)
–কখন টিজ করলেন মানে।
এই মাত্রই তো আমাকে দেখে গান করলেন।(মেয়েটি)
–ও হ্যালো নিজেকে আয়নায় দেখেছেন কখনো???? যেই না মোর চেহেরা নাম রাখছে পেয়ারা!!???
আমার খেয়ে দেয়ে কাজ নাই ত
তাই আপনার মতো পেত্নী কে দেখে গান করব।
আমার মাথা এখনো ঠিক আছে বুঝছেন।
আমি তো গান শুনছিলাম। (আমি)
–এই আপনি আমাকে কি বলেন আমি পেত্নী।
ঘুশি মেরে নাক ফাটিয়ে দিব ভুত একটা।
আর মিথ্যা কথা ভালোই বলতে পারেন।
আমাকে দেখে গান গাচ্ছেন আর এখন বলছেন গান শুনছিলেন মিথ্যুক একটা। (মেয়েটি)
–বিশ্বাস না হলে নিজেই শুনুন।
ইয়ার ফোন টা মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিলাম।(আমি)
মেয়েটি ইয়ার ফোন কানে লাগিয়ে চুপ হয়ে গেলো। কোন কথা না বলে চলে যেতে লাগল।পিছন থেকে আমি বললাম–
— এই যে শুনুন থাপ্পড় টা তোলা থাকলো সুজোগ পেলে সুদে আসলে দিয়ে দিবো।(আমি)
মেয়েটি আমার দিকে ভেঙচি কেটে চলে গেলো।
এখন মেয়েটা বর্ণনা দেই।
মেয়েটি মোটেও পেত্নীর মত না!!
খুবই সুন্দর একটা মেয়ে।
দেখেই ক্রাশ খাবার মতো।
হিজাব পরে ছিলো তাই চুলের বর্ণনা দিতে পারছি না।তবে ভাই চোখ দেখে যে কেউ ক্রাশ খাবে শিয়র। আমিও বাদ পরিনি।
ঝগরার মধ্যে ছিলাম তো তাই বলতে পারি নি।তাছাড়া এলাকায় নতুন এসেছি।
বাবার বদলীর কারনে এখনে আসা।
এখন আমার সর্ম্পকে বলি,
আমি আপনাদের ফেসবুক ফ্রেন্ড হৃদয়।
আমি একজন MBBS.
আরে ভাই পড়ার দিক দিয়ে না।
মা বাবার বেকার সন্তান।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে এখন চাকরির জন্য ঘুরছি।বেশ কয়েকটা ইন্টার্ভিউ দিয়েছি এখনো কোনো খবর পাইনি।
তাই সারা দিন গান শুনি আর ঘুরে বেড়াই।
আমার বাবা একজন সরকারি কর্মকতা।
আর মা গৃহিণী।
আর একজন আছে বদের হাড্ডি আমার কলিজার টুকরা একমাত্র বোন।
পরিবারে আমি মা কে ভয় পায় বেশি আর বাবা তো আমার বন্ধুর মত।
সব কথা শেয়ার করি।
এই নিয়েই আমাদের সুখের সংসার।
অনেক পরিচয় দিলাম এবার গল্পে আসি।
যেখানে যাচ্ছিলাম সেখানে না গিয়ে বাসায় ফিরে যাই।আজ দিন টায় খারাপ যাচ্ছে।
বোনের সাথে ঝগরা করে বাসা থেকে বের হয়ছি আর এখন রাস্তায় ঝগরা করলাম।
কার মুখ দেখে যে উঠছি আজ।
না আজ ত আমি নিজের মুখ দেখেই ঘুম থেকে উঠছি ???
তাহলে এমন যাচ্ছে কেন।
আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে বাসায় আসলাম।
কলিং বেল বাজালাম–
–কে???(মা)
–মা আমি দরজা খুলো।(আমি)
–তোর বাড়িতে জায়গা নাই।
তুই বাহিরেই থাক।(বোন)
–ঐ পুচকি তোরে কিন্তু আমি মাইরা ফেলামু।তারাতারি দরজা খোল।(আমি)
–হা হা হা হা মাইরা ফেলা দেখি কত পারিস।
আছিস তো বাড়ির বাহিরে।(বোন)
–মা দরজা খুলতে বলো ওকে না হলে কিন্তু ভালো হবে না।(আমি)
–খুলতে পারি এক শর্তে?? (বোন)
–কি শর্ত শুনি। (আমি)
–আমাকে ৫০ টাকা দিতে হবে।
তাহলে খুলবো না দিলে খুলবো না।(বোন)
–আচ্ছা দিবো খোল এখন।(আমি)
–উঁহু হবে না।দরজার নিচ দিয়ে টাকা আগে দে তারপর খুলবো। (বোন)
কি আর করার ভাই জানেন ত ফাদে পরলে চামচিকাতেও লাথি মারে।
একে টাকে ভিতরে ঢুকে দিলাম।
ও টাকা নিয়ে দরজা খুলে দিয়ে দৌড়ে ওর রুমে চলে গেলো। আমি আমার রুমে চলে আসলাম।রুমে বসে ফেসবুকে গল্প পরছি।
গল্প পরতে আমার খুব ভালো লাগে আর মাঝে মাঝে ২-১ গল্প লিখি আর কি।
ত গল্প পড়ছিলাম তখনি তাজমিনা এসে বলল,
(তাজমিনা আমার বোনের নাম)
–ভাইয়া আম্মু তোকে ডাকছে।(তাজমিনা)
–আচ্ছা যা আসছি আমি।(আমি)
–না এখনি ডাকছে তারাতারি আয়।(তাজমিনা)
রুম থেকে বাহিরে গেলাম ড্রইং রুমের দিকে।বাড়িতে মনে হয় কে যেনো আসছে।
মাথা নিচু করেই গেলাম।
গিয়ে মাকে বললাম,
–মা আমাকে ডাকছো??(আমি)
–হুম এই তোর আন্টি পাশের বাড়িতে থাকে।(মা)
–আসসালামু আলাইকুম আন্টি।
কেমন আছেন??(আমি)
–ওয়ালাইকুম আসসালাম।
ভালো আছি বাবা তুমি কেমন আছো? (আন্টি)
–জি আন্টি ভালো আছি।
তখনো মাথা নিচু করে ছিলাম (আমি)
–দেখ দেখে কিছু শেখ।
বড় দের কি ভাবে সন্মান করতে হয় দেখে শেখ।(আন্টি)
দেখি কাকে শিখতে বলছে আন্টি।
মাথা টা তুলেই আমি পুরা ৪২০ ভোল্ট ঝাটকা খাইলাম।
আরে এ তো ঐ পেত্নী টা।
আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো। আমি আবার কি করলাম।
মনে হচ্ছে গিলে খাবে।
–আ_আ_আপনি আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছেন কেনো???
আমার ভয় করছে।(আমি)
–এই নুসরাত হচ্ছে টা কি।
কি করছিস ছেলে টা কে??(আন্টি)
(বাহহ নাম টা ত ভালোই নুসরাত।
চেহারার সাথে মিল আছে বটে।)
–আমি আবার কি করলাম আম্মু।(নুসরাত)
–কি করলি মানে।
এই ভাবে ওর দিকে তাকাচ্ছিস কেন???(আন্টি)
–কই কি ভাবে তাকাচ্ছি।
দুর ভাল লাগে না।
আমি গেলাম।(নুসরাত)
বলে রাগ করে চলে গেলো নুসরাত।
তারপর আন্টির সাথে কিছুক্ষন কথা বলে আমি রুমে চলে আসলাম।
বসে বসে গেমস খেলছিলাম তখনি তাজমিনা আসলো —
–এই ভাইয়া ফোন দে।(তাজমিনা)
–কেনো???(আমি)
–গেমস খেলবো দে।(তাজমিনা)
–দিবো না যা ভাগ।(আমি)
–দে বলছি না হলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে।(তাজমিনা)
–কি খারাপ হবে শুনি।(আমি)
–দারা দেখাচ্ছি।
বলে হাত থেকে ফোন টা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
–তাজমিনা ফোন দে।
না হলে কিন্তু ভালো হবে না।(আমি)
–………
–তাজমিনা ফোনটা দে বলছি।(আমি)
–দিব না যা ভাগ এখন আমি গেমস খেলবো। আর এখন যদি ডিস্টার্ব দিস তাহলে আরও দেরি করব।(তাজমিনা)
–লক্ষি বোন আমার দে ফোনটা।(আমি)
–বলছি না দিবো না তো দিবো না।(তাজমিনা)
–তুই এত্ত প্যারা দিস কেন বলতো।(আমি)
–কি!!
আমি প্যারা দেই যা তুই আজ ফোনই পাবি না।(তাজমিনা)
–এই না না প্লিজ লক্ষি বোন এমন করিস না।
প্লিজ ফোনটা দে।(আমি)
–না দিব না।
দুর এর জন্য শান্তি তে একটু ফোনটাও চালাতে পারব না।ফোন না থাকলে কি ভালো লাগে।
দুর ছাই বাড়িতেই থাকব না।
বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে আসলাম।
মাথা নিচু করে হাটছিলাম এমন সময় কে যেনো পিছন থেকে ডাকলো —
–এই যে মিস্টার এই দিকে শুনো।(নুসরাত)
–জি আমাকে বলছেন??
.
.
চলবে__

বাজিরপ্রেম২ ,২য় পর্ব/শেষ পর্ব

0

বাজিরপ্রেম২ ,২য় পর্ব/শেষ পর্ব

লেখক:- তৌহিদুল ইসলাম

। কষে এক চড় মেড়ে বসলাম ।
“আমি কখনও ভাবিও নি তুমি এমন টা করবে ! এতো সুন্দর চেহারা তোমার । মনটা এতো কুৎসিত কেন ?? আমার নিজের উপর ঘৃনা হচ্ছে যে তোমাকে আমি ভালবেসেছি ।“
কথা গুলো ওকে কিভাবে বলেছিলাম কে জানে । তারপর চলে আসি ওখান থেকে ।
পরের এক সপ্তাহ বলতে গেলে একেবারে বিচ্ছন্নই ছিলাম সবার কাছ থেকে । কারো সাথে কোন যোগাযোগ করি নি । একাই নিজের মন বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম । তারপর যখন ক্লাসে গেলাম সবাই যেন আমাকে একটু অন্য চোখে দেখতে লাগল ।
মুক্তা মত মেয়েকে যে আমি চড় মেড়ে বসব এই কথা হয়তো কেউ ভাবে নি । সবার কথা বলছি কেন আমি নিজেই তো ভাবি নি । নিজের ক্লাস রুমটাকে কেমন জানি অচেনা লাগছিল । কদিন আগেও জীবন টা কত সহজ ছিল । আর এখন জীবন টা কত জটিল হয়ে গেলো । মুক্তা আসলো তারও কিছুক্ষন পরে ।আগের মত হাসি খুশি না । আজ আর চেহারায় সেই আত্মবিশ্বাসের হাসি দেখতে পেলাম না । তারপর এভাবেই দিন চলে যাচ্ছিল ।
সব কিছুই ঠিক ছিল কিন্তু আগের সহজ সরল জীবনের সুর কেটে গিয়েছিল । আস্তে আস্তে এটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠল ।
তারপর একদিন । সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল । কেউই বলতে গেলে আসে নি । একটা ফরম জমা দিতে হবে বলে আমি এসেছিলাম । না হলে আমিও আসতাম না । হেডফোনে গান শুনছিলাম আর বৃষ্টি দেখছিলাম ।
এমন সময় দেখি মুক্তা আমার দিকে আসছে । প্রথম ওকে ইগনোর করা চেষ্টা করি । কিন্তু লাভ হয় না । ও আমার সামনে এসেই বসে । ইশারায় হেড ফোন খুলতে বলে । একসময় ছিল ওর সাথে কথা বলার জন্য মন টা সবসময় অপেক্ষা করে থাকতো । কিন্তু আজ প্রেক্ষাপট ভিন্ন ।
আমি উঠে চলে যেতে চাইলাম । ও আমার পথ আটকালো । বললাম “সমস্যা কি ?”
“ তোমার সমস্যা কি ? আমাকে কিছু বলার সুযোগ তো দিবে নাকি ! অন্তত ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ তো দিবে ?”
“ ক্ষমা চেয়ে কি করবা তুমি ? কোন দরকার আছে ?”
“ আছে ।‘
“ কোন দরকার নাই । কোন লাভ নাই । কারন আমি কোন দিন তোমাকে ক্ষমা করবো না । কোন দিনও না ।তোমার মত মেয়ের সাথে কথা বলতেও আমার ঘৃণ্ণা হচ্ছে । পথ ছাড়ো । যেতে দাও ।“
মুক্তা কিছু বলতে গিয়েও আটকে গেল ।এতো কঠিন কথা শুনে ওর অভ্যাস নেই । দেখলাম ওর চোখে দেখলাম পানি জমতে শুরু করেছে ।
জল ভরা চোখ নিয়ে ও বলতে লাগল “একথা সত্যি যে তোমার সাথে আমি মিশতে শুরু করেছিলাম বাজী ধরেই । কিন্তু বিশ্বাস কর তোমার সাথে মিশার সময় আমার মন আস্তে আস্তে বদলাতে শুরু করেছিল । আমি সত্যি সত্যি আমাদের রিলেশন টা স্থায়ী করতে চেয়ে ছিলাম । আমি তোমার উপর সত্যি সত্যি ফল করতে শুরু করেছিলাম ।ইনফ্যাক্ট আই হ্যাভ অলরেডি ফলেন ইন লাভ উইথ ইউ । আর এই কয়দিনে আমি আরো বেশি বেশি তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছি ।তৌহিদ প্লিজ আমার কথা টা বিশ্বাস কর ।“
খুব ইচ্ছা করছিল মুক্তার কথা গুলা বিশ্বাস করি ! কিন্তু বেলতলায় একবার যাওয়াই ভালো ।
“কথা শেষ হয়েছে তোমার?”
ও কিছু না বলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো আহত চোখে ।
“তুমি বিশ্বাস করছ না আমার কথা ?”
“করার কোন কারন নেই । আর শোন তোমার কেবল মনে হচ্ছে যে তুমি আমার প্রেমে পড়েছ । আসলে তা কিন্তু না । সারা জীবনে তুমি কখনও কারো কাছ থেকে রিজেক্টেড হও নি তো তাই তোমার এমন মনে হচ্ছে । আমি করেছি । তোমার আগে পিছে সব সময় তুমি ছেলেদের ঘোরাফেরা করতে দেখেছ ! আমি করছি না তাই আমার প্রতি তোমার আকর্ষন জন্মেছে । আর এটাকে আর যাই বলুক ভালবাসা বলে না!”
“তৌহিদ ……. “
মুক্তা আরো কিছু বলতে চাইছিল কিন্তু আমি ওকে সুযোগ দিলাম না ।

গাড়ি থেমে গেছে । মনেহয় চলে এসেছি । হাসপাতালে…..।হাসপাতাল আমার কোন কালেই পছন্দ না । কিন্তু এই হাসপাতাল টাকে ঠিক হাসপাতালের মত মনে হচ্ছে না । মনে হচ্ছে কোন নির্জন বাগান বাড়িতে চলে এসছি । পুরো হাসপাতাল জুরে এক আলো আধারির খেলা ।
মুক্তাকে রাখা হয়েছে চার তালার কোন একটা কেবিনে । লিফটে থেকে বের হয়ে যেন অন্য জগতে চলে এলাম । চারিদিকে আলোর বন্যা । পুরো করিডরে অসংখ্য মানুষ । তার মধ্যে আমাদের ক্লাসের অনেকে আছে ।
আমাদের কে আসতে দেখে দেখলাম এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক আমাদের দিকে এগিয়ে এল ।
“তুমি তৌহিদ?”
আমি কোন কথা বললাম না । কেবল একটু মাথা নাড়লাম ।
“এসো আমার সাথে ।“
আমি খ্যাল করলাম করিডরের প্রত্যেকটা চোখ আমার দিকে নিবদ্ধ । কেমন জানি অসস্তি লাগছিল আমার । ভদ্রলোক আমাকে মুক্তার কেবিনে নিয়ে গেল ।
মুক্তা তখন চোখ বন্ধ করে আছে । একজন ডাক্তার যেন কি একটা কাগজ দেখছিলেন ।
আমাদের ঢুকতে দেখে বললেন “আর কিছুক্ষনের মধ্যে সেন্স আসতে পারে ।“
ভদ্রলোক বললেন ডক্তর, “এ হল তৌহিদ।“
“ ওকে ফাইন । ও কেবিনেই থাকুক । সেন্স ফিরে যদি ওকে দেখে তাহলে পেসেন্ট মেন্টালি সাপোর্ট পাবে । আর এখনে কাররো থাকার দরকার নেই । ওকে ? আর কোন সমস্যা হলে তো আমরা আছি ।“
এই কথা বলে ডাক্তার চলে গেলেন ।
ভদ্রলোকও চলে গেলেন । তবে চলে যাওয়ার আগে আমাকে বললেন “আমার মেয়েটা খুব জেদি । যখন যা চেয়েছে তাই পেয়েছে তো তাই এমন হয়েছে । জোর দিয়ে কিছু বলার অধিকার তো আমার নেই কেবল তোমাকে অনুরোধ করতে পারি ।“
বলতে বলতে ভদ্রলোক কেঁদে ফেললেন । আমি খুব অসস্তির মধ্যে পড়লাম ।
“মুক্তা সারা জীবন যা চেয়েছে আমি তাই ওকে এনে দিয়েছি । কিন্তু এবার ও এমন কিছু চেয়েছে যা আমার সামনে থাকা সত্তেও আমি ওকে এনে দিতে পারছি না ।“
আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না । ভদ্রলোক আর কিছু বলতে পারলেন না । আস্তে আস্তে চলে গেলেন । আমি মুক্তার পাশে এসে বসলাম । মুক্তার মুখ টা কি নিশ্পাপ লাগছে । সাদা ধবধবে বিছানায় শুয়ে আছে । আমি কিছুক্ষন ওর দিক থেকে চোখ ফেরাতেই পারলাম না । এই পরীর মত মেয়েটা আজ আমার জন্য এই বিছানায় শুয়ে আছে ।
যতই মুক্তার উপর রাগ থাকুক ওকে ভাল তো আমি ঠিক বেসেছিলাম । জীবনের প্রথম ভালবাসার অনুভূতি তো ওর হাত ধরেই পেয়েছি । ওকে এই অবস্থায় দেখে মনের মধ্যে শান্তি কি আর লাগে ? কেন জানি নিজেকে বড় অপরাধী মনে হয় । আজ আমার কারনেই ও এখানে ।
সত্যিই সকাল বেলা ওর সাথে একটু বেশি খারাপ ব্যবহার করা হয়ে গেছে । এতো টা কঠিন আচরন না করলেও চলতো । অন্তত ভালবাসার এই দিনে তো এমন করা ঠিক হয় নি ।

সেদিনের পর মুক্তা প্রায়ই আমার সাথে কথা বলতে চাইতো । ক্ষমা চাইতো । এমন কি আমার সব বন্ধুদের কেও ও কনভেন্স করে ফেলেছিল । তারা সবাই আমার কাছে ওর সুপারিশ নিয়ে আসতো । কিন্তু আমি এসব পাত্তা দিতাম না । ওকে এড়িয়ে চলতাম ।
তবে আজ সকালে ক্লাসে আসার সময় মিজান আমাকে বলল যে আজ মুক্তা কোন সিন ক্রিয়েট করতে পারে । সত্যি তাই করল ও । কারনও ছিল ।
আজ ভেলেনটাইন । ভালবাসার দিন । ক্লাস শেষে বের হতে গেলাম মুক্তা পথ আটকালো ।
“তৌহিদ তুমি কি এখনও আমাকে ক্ষমা করবা না ! অন্তত আজ ভালবাসার দিনে ?”
মুক্তার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল যেন ও সত্যি কথা বলছে । আমার ইগো আর সেল্ফ রিস্পেক্ট, যাতে ও চরম ভাবে আঘাত করেছে, কিছুতেই ওর কথা বিশ্বাস করতে দিলো না । বরং ওর কথা শুনে মেজাজ টা আরো খারাপ হয়ে উঠল ।
“ শোন ভালবাসা কি জিনিস সেটা তোমার মত মেয়ে কোন দিন বুঝবে না । বুঝতে পারবেও না । আর আমি সারা জীবন যদি একা একা মরেও যেতে হয় তবুও তোমার মত মেয়ের কাছে যাবো না ।“
“ বিশ্বাস করো……”
“বিশ্বাস ? তোমাকে ? নো ওয়ে । পথ ছাড়ো । আমার কাজ আছে ।“
মুর্তির মত কিচ্ছুক্ষন মুক্তা দাড়িয়ে থাকলো । তারপর আমাকে বলল “তুমি তো বিশ্বাস করলে না । আমি তোমাকে সত্যি ভালবাসি । আর তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকতে আমি পারবো না । এটা আমি তোমাকে বুঝিয়ে দেবো ।“
আমি হেসে ফেললাম ।
“মরে যাবে তুমি ? আমার জন্য ? হা হা হা !”
আমি হাসতে থাকি । পুরো ক্লাস তখন আমাদের দিকে তাকিয়ে । তখন আমার মজাই লাগছিল ।
মুক্তা আর কিছু বলল না । দেখলাম ওর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল । কাঁদতে কাঁদতেই ও চলে গেলো । মিজান পাশেই ছিল । আমার কাছে এসে বলল “এভাবে না বললেও পারতিস !”
সত্যি কি তাই ? নিজের কাছে প্রশ্ন করলাম এভাবে না বললেও কি পারতাম ? তখন এই প্রশ্নের উত্তর জানা ছিল না । এখন ? এই কেবিনে বসে ? এখনও কি ঐ প্রশ্নটার উত্তর আমি জানি ? যখন মিজানের কাছ থেকে প্রথম খবর টা শুনি কেঁপে উঠেছিলাম । কিন্তু পরক্ষনেই আমার ঈগো মাঝখানে চলে এসছিল । আর ঈগোর কাছে আমার সব কিছু পরাজিত হয়েছিল কিন্তু এখন এই পরিস্থিতি তে আমি কি করব ? যেখানে একদিকে রয়েছে মুক্তার ভালবাসা আর ওর বাবা কান্না সাথে ওর জন্য আমার মনের বন্ধ করে রাখা স্বপ্ন । আর অন্য দিকে আমার ঈগো । কোন দিকে যাবো আমি ? হঠাত্ দেখলাম মুক্তার চোখের পাতা যেন একটু কেঁপে উঠল ।
কি যেন মনে হল, ইচ্ছা হল ওর হাতটা ধরি ।
ওর হাতটা ধরলাম । মনে হল যেন ওর হাতটা খানিকটা কেঁপে উঠল । ওর হাতটা আর ছাড়লাম না ।
মনে মনে বললাম প্রথম বার ভূল করেছিলাম তোমাকে ভালবেসে । দ্বিতীয় বার ভূল করেছিলাম তোমাকে ফিরিয়ে দিয়ে । আর তৃতীয় ভূলটা করতাম যদি আজ তোমার হাত টা না ধরতাম ! কিন্তু আমি সে ভূল করিনি । এই দেখো তোমার হাতটা আমি ধরেছি ।
জানি না আমার হাত ধরার জন্যও কিনা অথবা ওর এমনিতেই এখন সেন্স ফেরার সময় হয়েছিল । ও চোখ মেলল । ও হয়তো আশা করেছিল আমি আসবো না । ওর চেহারা কেমন জানি একটা শান্তির ছায়া দেখতে পেলাম ।
ও কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে চাইল । আমি ইশারায় কথা বলতে মানা করলাম । কথা না বললেও ও ওর দুর্বল হাত দিয়ে আমার হাত চেপে ধরতে চাইলো । আমি বুজতে পারছি ও বল পাচ্ছে না তবুও হাতটা চেপে ধরা চেষ্টা করেই যাচ্ছে ।
আমি এবার আমার দুহাত দিয়ে ওর হাত খানি ধরলাম । ওকে আশ্বাস দিলাম যে এই হাত ছুটে যাবে না । আমি ওর হাত ধরে ওর পাশে বসে আছি । আর ও পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে । যেন পলক ফেললেই আমি হারিয়ে যাবো ।
ওর দিকে তাকিয়ে থাকতেই দেখলাম ওর চোখ দিয়ে অশ্রুর ধারা নিচে নেমে চলেছে । নিরব অশ্রু দিয়ে যেন বলতে চাইছে আমি তোমাকে সত্যিই ভালবাসি । এই প্রান দিয়েই ভালবাসি । হঠাত্ লক্ষ্য করলাম যে আমার চোখ দিয়েও পানি পড়ছে । সাথে সাথে ওর প্রতি আমার যত রাগ ছিল ওই চোখের পানি দিয়ে সব ধুয়ে মুছে চলে গেল । মুক্তার ভালবাসার কাছে আমার ঈগো পরাজিত হল । সবাই দোয়া করবেন যেন এমন একজন কে পাই। সবার লাইফ টা এমনই হোক।

বিঃদ্রঃ গল্পটি কাল্পনিক ছিলো। কল্পনা ও ভাবনা থেকে গল্পটি লেখা,। কেমন হয়ছে সবাই জানাবেন আর ভালো থাকবেন সবসময়। আল্লাহ হাফেজ ❤
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,(তৌহিদ),,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,