গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ২

0
1835

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ২

এই যে মিস্টার এই দিকে শুনো।(নুসরাত)
–জি আমাকে বলছেন???(আমি)
–এই খানে তো আর কাউ কে দেখছি না।
আপনি কি কাউকে দেখছেন???(নুসরাত)
–না তো।(আমি)
–তাহলে আপনাকেই ডাকছি।
এই দিকে শুনুন।(নুসরাত)
–জি বলুন।(আমি)
–বাড়িতে এত্য ভদ্র হয়ে থাকেন কেনো হুম।আপনার জন্য আমাকে বকা খাইতে হলো।(নুসরাত)
–আমি আবার কি করলাম।(আমি)
–কি করলেন মানে!!
আপনার জন্য আমাকে আম্মু বকা দিছে।(নুসরাত)
–এই শুনেন বেশি কথা বললে আন্টি কে বলে দিবো যে আপনক আমাকে থাপ্পড় মারছিলেন হুম।(আমি)
–আ_আআমি তো ইচ্ছে করে মারিনি।
ভুলে মেরেছি।(নুসরাত)
— ভুলে মারেন আর যেনেই মারেন মারছেন তো।আমি তো আন্টি কে বলেই দিব।(আমি)
–এখানে আম্মু কে বলার কি আছে??
আমরাই তো ঝামেলা মেটাতে পারি।(নুসরাত)
–না তা বললে তো হবে না।
আমি তো আন্টি কে বলেই দিবো। (আমি)
–হুম জান জান বলেন।
তারপর দেখেন কি হাল করি আপনার।(নুসরাত)
–ভয় দেখচ্ছেন?(আমি)
–ধরে নিন তাই।(নুসরাত)
–কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি না।(আমি)
–হুম জান জান বলেন।
দেরি করছেন কেনো এখনি যায়ে বলেন।(নুসরাত)
–হুম ঠিক আছে আমি গেলাম আপনাদের বাসায়।
বলে ওদের বাসার দিকে গেলাম গিয়ে কলিং বেল বাজালাম…..
পিছনে দেখি নুসরাতও আসছে।
আমার সাথে নুসরাতও দাড়ালো।
একটু পর আন্টি দরজা খুলে দিলেন —
–আসসালামু আলাইকুম আন্টি। (আমি)
–ওয়ালাইকুম আসালাম বাবা তুমি!!
আসো ভিতরে আসো। (আন্টি)
–আর বলিয়েন না আন্টি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম আর নুসরাত আমাকে……
কথা টা বলতে না বলতেই নুসরাত আমার মুখ চেপে ধরল।
–নুসরাত কি করছিস ছার ওকে।(আন্টি)
নুসরাত ছেরে দিলো।
–হ্যা বাবা বলো নুসরাত কি করছে তোমাকে। (আন্টি)
–না আন্টি কিছু করে নাই।
আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম।
আমাকে দেখে জোর করে আপনাদের বাসায় নিয়ে আসলো। (আমি)
–ওওহহহ তাই বলো।
আমি ভাবলাম তোমার সাথে ফাজলামি করছে নাকি??(আন্টি)
–না না আন্টি। ও তো খুব ভালো মেয়ে।(আমি)
এই দিকে নুসরাত আমার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।
–আচ্ছা বাবা তুমি বসো।
আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসি।(আন্টি)
আন্টি নাস্তা আনতে চলে গেলো।
–এই যে মিস্টার মিথ্যা কথা বললেন কেনো হুম।(নুসরাত)
–কই মিথ্যা কথা বললাম।(আমি)
–মিথ্যা কথা বলেন নাই মানে।
আমি কি আপনাকে জোর করে এখনে আনছি।(নুসরাত)
–না। (আমি)
–তাহলে মিথ্যা কথা বললেন কেনো হুম???(নুসরাত)
–বারে কই আমাকে ধন্যবাদ দিবেন তা না আমাকে মিথ্যুক বানিয়ে দিচ্ছেন।(আমি)
–ওরে আসছে ধন্যবাদ নিতে।
আমি আপনাকে বলছি মিথ্যা কথা বলতে।(নুসরাত)
–তাহলে আমার মুখ চেপে ধরছিলেন কেনো হুম।আমি তো সত্যি টা বলতে যাচ্ছিলাম। (আমি)
–হয়ছে থাক আর বলতে হয়ে না।
এখন নাস্তা করে ফুটেন তো।(নুসরাত)
–তাড়িয়ে দিচ্ছেন।(আমি)
–যদি বলি তাই।(নুসরাত)
–আর আমি যদি না যাই।(আমি)
–সে দিনের থাপ্পড়ের কথা ভুলে গেছেন??(নুসরাত)
–কি ভুলে গেছে রে নুসরাত।(আন্টি)
–কি,,,,কি,,,,কিছু না আম্মু।(নুসরাত)
–না কিছু তো একটা বলছিস।(আন্টি)
–না আন্টি তেমন কিছু না।
আসলে আমি আপনাদের বাড়ি আসার রাস্তা টা ভুলে গেছি তাই বলছিলাম আর কি।(আমি)
–ওওওও এই কথা তুমি চিন্তা করোনা নুসরাত তোমাকে দিয়ে আসবে।(আন্টি)
–আচ্ছা আন্টি। (আমি)
–হুম বাবা এখন নাস্তা কর।(আন্টি)
নাস্তা শেষ করে আন্টির সাথে কিছুক্ষন গল্প করার পর আন্টিকে বললাম–
–আচ্ছা আন্টি আজ উঠি।(আমি)
–আচ্ছা বাবা আসিও আবার।
নুসরাত যা তো হৃদয়কে ওদের বাড়িতে দিয়ে আয়।(আন্টি)
–আচ্ছা আম্মু।(নুসরাত)
তারপর দু’জনাই বের হলাম।
কেউ কোন কথা বলছি না।
একটু পর নুসরাত বলল–
–আপনি এত খারাপ কেনো??? (নুসরাত)
–কেনো কি করলাম আমি??(আমি)
–কি করেন নাই তাই বলেন??
আপনি কি বাড়ির রাস্তা চিনেন না???(নুসরাত)
–হুম চিনি তো।(আমি)
–তাহলে আম্মু কে বললেন কেনো রাস্তা ভুলে গেছেন।(নুসরাত)
–হুম না বললে তো আপনার গালে থাপ্পড় পরতো।আর আপনাকে ওখনে থাপ্পড়ের কথা বলতে কে বলছে হুম।
এখন যদি আমি আপনার গালে থাপ্পড় মারি হুম কেমন হবে বলেন তো।(আমি)
–হুম মারেন।
গাল এগিয়ে দিয়ে বলল নুসরাত।
আমি কি করব বুঝতে পারছি না এত সুন্দর গালে থাপ্পড় মারলে গাল টা নষ্ট হয়ে যাবে!!
তাই নুসরাতের গালে চুমু একটা দিয়ে দিলাম সেই এক দৌড়। ???
এই দিকে নুসরাত তো রেগে আগুন–
–ঐ হৃদয়ের বাচ্চা।
দাড়া তোকে আজ আমি শেষ করে দিব।(নুসরাত)
–ধরতে পারলে তো। (আমি)
–ঐ দাড়া বলতেছি।(নুসরাত)
–আমাকে কি পাগলে কামরাইছে যে মার খাবার জন্য দারাবো।(আমি)
দৌড়ে বাড়িতে এসে রুম লক করে শুয়ে আছি।একটু পর নুসরাত ও আসলো।
–আন্টি তাজমিনা কই??(নুসরাত)
–ওর ঘরে আছে মা যাও।(মা)
–আচ্ছা আন্টি। (নুসরাত)
নুসরাত তাজমিনার রুমে গেলো।
আর আমি আমার রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে দেখছি।একটু পর আবার বের হয়ে গেলো।
যাক বাবা বাচা গেলো।
যাই তাজমিনার কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে আসি।
–তাজমিনা ফোনটা দে।(আমি)
–হুম নে।(তাজমিনা)
–এই শোন। (আমি)
–কি??(তাজমিনা)
–নুসরাত তোকে কি বলে গেলো রে।(আমি)
–কিছু না তো।(তাজমিনা)
–আচ্ছা ঠিক আছে।(আমি)
তারপর রুমে চলে আসলাম।
অনেকক্ষন থেকে ফেসবুকে ঢুকা হয় নি একটু ঢুকি।ফেসবুকে গল্প পড়ছিলাম।
গল্প টা সুন্দর ছিলো।
পুরু মন টা গল্পের ভিতরে দিয়ে দিছি।
এর মধ্যে কে যেনো ফোন দিলো।
মেজাজ টা সেই গরম হয়ে গেলো বিরক্তি হয়ে ফোনটা ধরলাম–
–হ্যালো কে বলছেন???(আমি)
–ঐ লুচু তোরে খালি আমি সামনে পায়।(মেয়ে)
–ও হ্যালো বলা নাই কয়া নাই আপনি আমাকে লুচু বলছে কেনো হুম??
কি লুচ্চামি করছি আমি??(আমি)
–কি লুচ্চামি করছেন মনে নাই।
একটু আগে কাকে চুমু দিছেন হুম।
যদি আপনাকে সামনে পাইই,
তাহলে আপনার খবর করব।
(এইবার বুঝতে পারলাম মেয়েটা কে।
আপনারাও তো বুঝতে পারছেন যে মেয়েটা নুসরাত)
–আ,,আ,,আপনি… (আমি)
–জি আমি।(নুসরাত)
–আপনি আমার নাম্বার কই পাইলেন।(আমি)
–কই পায়ছি সেটা বড় কথা নয়।
বড় কথা হলো আপনাকে আমি ছারব না।(নুসরাত)
–ইয়ে মানে এই বারের মত ক্ষমা করে দিন।
আর জিবনেও এমন হবে না।(আমি)
–ক্ষমা কিসের ক্ষমা।
আপনাকে আমি ক্ষমা করব না।(নুসরাত)
–প্লিজ এই বারের মত ক্ষমা করেন আপনি যা বলবেন তাই করবো।(আমি)
–সত্যি তো আমি যা বলবো তাই করবেন??(নুসরাত)

-হুম সত্যি।(আমি)
,,
~চলবে

লেখক: তৌহিদুল ইসলাম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে