Friday, August 29, 2025
বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 2025



পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_১০

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_১০
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

মেয়েটি প্রানপনে আমার দিকে দৌড়ে ছুটে আসছিল। আমিও কোনো কিছু না ভেবে তার দিকেই ধাবিত হচ্ছিলাম। খেয়াল করলাম তার পেছন পেছন ছুটে আসছে আরেকটি ছেলে। মেয়েটির মুখে ছিল ভয়ের ছাপ, মনে হচ্ছিল তার থেকে বাঁচতেই আমার দিকে ছুটে আসা। কি যেন কি হলো মেয়েটি দৌড়ে আসতে আসতে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

এভাবেই বর্ণনা দেয়া শুরু করে আদিল। আদনান অধর্য্য হয়ে বলে,

“ভাইয়া, ভনিতা বাদ দিয়ে প্রথম থেকে বল।”

আদিল মুখে সিরিয়াস ভাব নিয়ে আসে। তার চোখের সামনে যেন সব ভেসে উঠে এবং বলা শুরু করে ঘটনাটি।

গাড়ি চালিয়ে ম্যাকডোনাল্ডের পথে রওনা দিয়েছে আদিল মুজদাহীর তার ছোট ভাই আদনানের অনুরোধে তাদের বড় বোন আলিয়ার জন্য খাবার আনতে।

হাইওয়েতে গাড়ি উঠিয়ে কিছুদূর যাবার পর দেখতে পায় সামনে একটি গাড়ি থেমে আছে সার্ভিস লেইনে। থাকতেই পারে, গাড়ির কোনো সমস্যা হলে সার্ভিস লেইনেই গাড়ি থামানোর নিয়ম। তার গাড়িটি যখন ৮০ মাইল বেগে সার্ভিস লাইনের গাড়িটি অতিক্রম করছিল, ডান দিকের জানালা দিয়ে হঠাৎ চোখে পড়লো কারো হাত বারবার গাড়ির জানালায় জোরে আঘাত করছে। প্রথমে আদিল পাত্তা না দিলেও পরে খেয়াল করে বলিষ্ঠ কোনো পুরুষের হাত মেয়েটির হাত চেপে ধরে সরিয়ে নিয়েছে।

আদিলের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দেয় যে পরিস্থিতি ভয়ানক। নিশ্চই কেউ বিপদে পড়েছে। তার গাড়িটি বহুদূর চলে এসেছে তবুও দ্রুত গাড়িটি একই সার্ভিস লেইনে জোরে ব্র্যাক কোষে দাড় করায়। গাড়ি থেকে নেমেই উল্টো দিকে সেই গাড়িটির দিকে দৌড়তে শুরু করে আদিল। ততক্ষনে মেয়েটা গাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছে এবং আদিলের দিকেই মেয়েটি প্রানপনে ছুটে আসতে শুরু করে। তারপরেই খেয়াল করে মেয়েটা হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পরে। আদিল দ্রুত ছুটে যায় এবং মেয়েটির মুখ থেকে চুল সরিয়ে নিজের কোলে মেয়েটির মাথা রাখতে যেয়ে থমকে যায় সে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আবিষ্কার করে বিপদগ্রস্থ মেয়েটি আর কেউ নয়, তিয়াশা। সাথে সাথেই পকেট থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে ৯১১ এ কল করে আদিল।

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


আজ সেমিস্টার ফাইনাল এক্সামের শেষ দিন। তিয়াশা, ম্যাথিউ আর প্যাট্রিসিয়া তাদের ক্যালকুলাস এক্সাম শেষে তাদের সেই চিরচেনা সুবিশাল লনের নির্দিষ্ট গাছের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে এসে বসেছে। তাদের মনে আজ ভালো মন্দ মিলিয়ে মিশ্র অনুভূতি, এই ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ থেকে তারা আগামী তিনমাস দূরে থাকবে। কারণ আগামী তিনমাস গ্রীষ্মকালীন ছুটি।

তিয়াশার মন একটু বেশি খারাপ। দুই সপ্তাহ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি বার বার মনে পড়লেও নিজেকে ভুলিয়ে ব্যাস্ত রাখতে পেরেছিল ক্লাস ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার জন্য। এখন তো লম্বা অবসর, সেই ভয়ানক ঘটনার কথা যে বারংবার তার স্মৃতিতে এসে হানা দিবে।

তিয়াশা যখন চুপচাপ বসে এসব ভাবছে, তখন দূর থেকে একটা চেনা মানুষ হাসি হাসি মুখ করে তাদের দিকেই হেটে আসছে। তাকে দেখতে পেয়ে ম্যাথিউ তার দিকে হাত নাড়িয়ে বলে উঠে,

“হেই বাডি, কাম ওভার হেয়ার।”

আদনান ও হাত নাড়িয়ে বলে উঠে,

“আই ওয়াস লুকিং ফর ইউ গাইস। আই নিউ দ্যাট আই উইল ফাইন্ড ইউ হিয়ার।”

ম্যাথিউ এর পাশে বসে আদনান, তারপর আড় চোখে একবার তিয়াশার দিকে তাকিয়ে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে,

“কেমন আছ তিয়াশা?”

তিয়াশার বিষন্ন মুখে সৌজন্যতার হাসি এনে বলে,

“আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? আপনার পরীক্ষা কেমন হলো?”

“আমার এক্সাম তো বেশ হয়েছে। এক্সাম শেষ, আমিও বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছি। লম্বা ছুটি সামনে, ভাবলেই মনটা খুশি হয়ে যাচ্ছে।”

প্যাট্রিসিয়া তখন ভ্রু কুঁচকে মজার ছলে বলে উঠে,

“হেই, এম আই ইনভিসিবল টু ইউ?”

“ওহ মাই, অফকোর্স নট। হাও আর ইউ ডিয়ার?”

প্যাট্রিসিয়া একটু ফ্লার্ট করে জবাব দেয়,

“আই এম ওকে নাও”

প্যাট্রিসিয়ার এই কথায় সবাই একসাথে হেসে উঠে, তিয়াশার ঠোঁটেও আলতো হাসি ফুটে। আদনান হাসি থামিয়ে ম্যাথিউ এর দিকে তাকায় এবং বাকি সবার দিকে তাকিয়ে বলে,

“ম্যাথিউ আমার বন্ধু, আর তার ক্লোজ বন্ধু তোমরা। আমিও অফিসিয়ালি তোমাদের বন্ধু হতে চাই।”

তিয়াশার দিকে আড় চোখে তাকায় আদনান তারপর আবার চোখ সরিয়ে ডান হাত বাড়িয়ে দেয় হ্যান্ডশেকের উদ্দেশ্যে এবং বলে,

“আমার সাথে বন্ধুত্ব করবে?”

প্যাট্রিসিয়া সাথে সাথে তার ডান হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে আদনানের সাথে আর বলে,

“অবশ্যই বন্ধুত্ব করবো।”

প্যাট্রিসিয়া হাত সরিয়ে নিলে আদনান হাত বাড়িয়ে দেয় তিয়াশার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তিয়াশা যেন অন্য জগতে বাস করছে। আদনান, প্যাট্রিসিয়া আর ম্যাথিউদের কোনো কথাই যে তার কানে যাচ্ছেনা। সেই তখন মাঠে আসার পর থেকে মাথা নিচু করে অন্যমনস্ক হয়ে আছে। আদনান গলা একটু পরিষ্কার করে আবার বলে,

“তিয়াশা, বন্ধু হবে আমার?”

তিয়াশা হকচকিয়ে উঠে, তখন প্যাট্রিসিয়া তিয়াশার পিঠে হাত বুলিয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ইশারায় কিছু বলে। তারপর তিয়াশার হাত টেনে আদনানের সাথে মিলিয়ে দিয়ে বলে,

“অবশ্যই বন্ধু হবে।”

আদনান খেয়াল করে তিয়াশা কেমন যেন অন্যমনস্ক রয়েছে। প্রথমদিন কথা বলার সময় তার মাঝে যেই প্রাণচঞ্চলতা ছিল সেটা নেই। মুখ শুষ্ক হয়ে আছে, হাসি নেই, চোখের নিচে কালো দাগ পরে আছে, দেখে মনে হচ্ছে সে কোনো বিষন্নতায় ডুবে আছে। প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ দুজনই তিয়াশাকে খুব আগলে রাখছে। আদনান আন্দাজ করতে পারে কিছু একটা হয়েছে কিন্তু তা আর সবার সামনে জিজ্ঞেস করেনি। পরক্ষনেই বলে উঠে,

“তো বন্ধুগণ, এখন যখন বন্ধুত্ব হয়েই গেল; তখন এই বন্ধুর একটা আবদার রাখতে হবে।”

প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ দুজনেই কৌতূহলী চোখে বলে,

“মানে?”

“মানে হচ্ছে, আমাদের বাসায় আগামী সপ্তাহের শুক্রবারে সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এবং সেখানে তোমাদের দাওয়াত।”

প্যাট্রিসিয়া জিজ্ঞেস করে,

“দাওয়াত? আই লাভ দাওয়াত। কিন্তু কি উপলক্ষে?”

“আমার ভাইয়ার গ্রাজুয়েশন উপলক্ষে। আমি চাই তোমরা সবাই সেখানে উপস্থিত থাকো।”

ম্যাথিউ ও প্যাট্রিসিয়া দুজনেই সমস্বরে বলে উঠে,

“অবশ্যই আমরা যাবো।”

আদনান তিয়াশার দিকে তাকিয়ে বলে,

“তুমি আসবে তো?”

তিয়াশা একটু ইতস্তত বোধ করে এবং বলে

“না…। আমি আসলে… আসতে পারবোনা।”

আদনানের একটু মন খারাপ হয়। মনে মনে ভাবে, যাকে নিতে চাচ্ছি বাসায় সেই যেতে চাইছেনা। তারপর আবার বলে,

“যদি সম্ভব হয়, এসো। ভীষণ ভালো লাগবে।”

তিয়াশা কোনো উত্তর দেয়না। তখন প্যাট্রিসিয়া বলে,

“আই উইল ট্রাই মাই বেস্ট টু ব্রিং হার টু দি প্রোগ্রাম।”

আদনান মুচকি হাসি দিয়ে বলে,

“তোমরা সবাই আসলে ভীষণ খুশি হব। এখন আমার একটু তাড়া আছে। যেতে হবে। আশা করি দেখা হবে সবার সাথে।”

এই বলে বিদায় নিয়ে চলে আসে আদনান। কিন্তু তার মন খচখচ করছে তিয়াশার বিষন্নতা দেখে। কি হয়েছে তিয়াশার? কেন এত বিদ্ধস্ত দেখাচ্ছে তাকে? সে নাহয় ম্যাথিউ এর কাছ থেকে জেনে নেয়া যাবে।

কিন্তু এখন তার আসল চিন্তা,

তিয়াশা অনুষ্ঠানে আসবে তো? পারবে তো প্যাট্রিসিয়া তিয়াশাকে ম্যানেজ করে নিয়ে আসতে?

চলবে…

আগের পর্বের লিংক:

পর্ব ০৯: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/929224704174916/

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৯

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৯
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

তিয়াশার চেহারা চোখের সামনে বারবার ভেসে আসছে আদিলের। পড়ার টেবিলে বসেও মনযোগ দিতে পারছেনা।

তিয়াশাকে তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে এসেছে কিন্তু সে আর বাড়ির ভেতরে যায়নি। নিজের বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে পড়ার টেবিলে বসেছে এখন। আর দুই সপ্তাহ পরেই ইয়ার ফাইনাল, আর তার পরের সপ্তাহেই ইউনিভার্সিটিতে তার গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠান। এখন পড়াশোনা করাটা তার জন্য অত্যাবশ্যক।

কিন্তু ভীষণ অস্থির লাগছে তার। একমাস আগে তিয়াশাকে প্রথম দেখেছিল এরপর আজ এভাবে দেখা হওয়াটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এই নিয়ে বহুবার গিয়েছে ম্যাকডোনাল্ডস-এ, আজ ও সে ম্যাকডোনাল্ডস এর দিকেই যাচ্ছিল শুধুমাত্র তিয়াশাকে একবার দেখার জন্য।

পড়ার টেবিল ছেড়ে বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করে দুলতে থাকে আদিল। চোখের পাতায় ভেসে আসে, এইতো মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগের ঘটনা। আদনান কল করে আদিল কে বলে,

“হেই ব্রো, তুই কি আমাকে একটা হেল্প করতে পারবি?

“না, পারবো না। এখন সোজা বাসায় যাবো। আমার অনেক পড়াশোনা বাকি।”

“ভাইয়া প্লিজ একটাই হেল্প চাচ্ছি মাত্র। তারপর তোর এক্সাম পর্যন্ত আই উইল নট বদার ইউ।”

“আচ্ছা সাহায্য করবো, তবে একটা শর্ত আছে।”

“ধুর এত শর্ত কেনো?”

“শর্ত না মানলে আমি নাই। রাখলাম।”

“ওয়েট ব্রো, লিসেন…তুই তো প্রায়ই ইউনিভার্সিটির কাছের ম্যাকডোনাল্ডে যাস।”

“হুম যাই। তো কি হয়েছে?”
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



“আজও একটু যেতে হবে।”

আদিল তখন ভাব নিয়ে ভারিক্কি স্বরে বলে,

“কেন? আজ কেন যেতে হবে?”

“একটু যাবি আরকি আমার জন্য।”

“তুই কবে থেকে ম্যাকের খাবার খাওয়া শুরু করলি?”

“ধুর, নট ফর মি। আপি কলড এন্ড ব্ল্যাকমেইলিং মি টু গেট ফুড ফ্রম ম্যাক। আমি না নিলে সে মাইশাকে কল করবে বাসায় আসার জন্য।”

আদিল হা হা করে হেসে বলে,

“তুই আর তোর মাইশা?”

“ভাইয়া প্লিজ তুই ম্যাকে যেয়ে আলুর জন্য চকোলেট সানডে আর আর… কি যেন বললো?”

“আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই…?

“হুম এ দুটো নিয়ে বাসায় এসে আমার হাতে দিবি। আমি সেটা তখন আলুপিকে যেয়ে দিয়ে আসবো। ও মনে করবে আমি নিয়ে এসেছি।”

“কেন তুমি কোন চুলোয় যাচ্ছ? নিজের কাজ নিজে করো।”

“ভাইয়া প্লিজ একটু করে দেনা। এখন আমরা বন্ধুরা মিলে গিটারে একটু গান বাজনা করবো। গান তুলব। সামনে তোর গ্রাজুয়েশনের অনুষ্ঠান না?”

“হুম বুঝেছি। আচ্ছা যা আমিই নিয়ে আসবো। কিন্তু তোরও তো সেমিস্টার ফাইনাল। একটু মন দে পড়াশোনায়।”

“ভাইয়া প্লিজ শুরু করে দিওনা এখন। শুধু এই কাজটা করে দাও। দোয়া করি তুমি সুন্দর একটা বউ পাও। ওহ ডাক্তার বউ।”

“মাইর খাবি। এবারের জন্য করছি। ছোট বলে সবসময় পার পেয়ে যাস। একটু দায়িত্ব নিতে শিখ।”

“ভাইয়া… আই এম গোয়িং নাও। ফ্রেন্ডস আর হেয়ার।”

আদনান টুক করে ফোন কেটে দিলে আদিল হেসে দেয় কারণ সে জানে আদনান একটা পাগলাটে ছেলে, ও নিজে থেকে কিছু করতে না চাইলে সেটা করানো সহজ না। তবে আদিলের জন্য ভালোই হয়েছে। আজ ভেবেছিল যাবে না, পড়ায় মন দিবে। কিন্তু একটা অজুহাত পেয়ে গেল যাবার, দেখা যাক তিয়াশার দেখা পাওয়া যায় কিনা।

আদিল গাড়িতে উঠে রওনা দেয় ম্যাকডোনাল্ডের উদ্দেশ্যে। সবে মাত্র হাইওয়েতে উঠেছে গাড়ি নিয়ে।

আদিলের স্মৃতিচারণে ছেদ পরে হঠাৎ সিগারেটের ধোঁয়ার গন্ধে। চোখ মেলে তাকায় এবং অবাক ও বিস্মিত কণ্ঠে বলে উঠে,

“কিরে আদনান, তুই আবার সিগারেট ধরেছিস?”

আদনান উত্তর না দিয়ে রেলিং এ হেলান দিয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেটে সুখটান দিয়ে ধোয়া তুলতে থাকে। আদিল এবার উঠে দাঁড়ায়। আদনানের পাশে যেয়ে কাঁধে স্পর্শ করে জিজ্ঞেস করে,

“সিগারেটের মরণ নেশা থেকে তোকে অনেক কষ্টে বের করে আনা হয়েছিল। ভাই আমার, তোর সিগারেট খাওয়া যে তোর জীবনে ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসেনা। তাকি ভুলে গেছিস?”

“আজ মনটা খুব ভালো”

“তো? ভালো হলে সিগারেট খেতে হবে?”

“আচ্ছা যা আর খাবোনা”

বলেই সিগারেটের আগুন নিভিয়ে ট্র্যাশক্যানে ফেলে দিয়ে হনহন করে হেঁটে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

“এই আদনান, বলে তো যা কি হলো? রাগ করলি কেন?”

আদনান ঘরের বাইরে থেকে চেঁচিয়ে জবাব দেয়,

“তোকে তো বলতেই এসেছিলাম। দিলি তো মুড টা নষ্ট করে।”

আদিল আনমনে হেসে দেয়, কারণ সে জানে আদনান একটু পরেই আবার ফিরে এসে পেটের সব কথা এসে বলে দিবে তাকে। কিন্তু হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার ব্যাপারটা বেশ ভাবাচ্ছে তাকে। কি এমন ঘটলো যে সিগারেট খেতে হলো তার? নাহ খেয়াল রাখতে হবে।

*

আদনান নিজের রুমের বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে। বিছানা বরাবর সরাসরি দেয়ালে টাঙানো বিশাল এক ৬০ ইঞ্চি টেলিভিশনে “আয়রন ম্যান” সিনেমা চলছে। কিন্তু আদনানের তাতে কোনো মন নেই। সে ভাবছে আজকে তিয়াশার সাথে কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা ও কথা হওয়ার ব্যাপারটা। তিয়াশার চোখের চাহনি, চোখের নিচে দেয়া কালো কাজল, তার ঠোঁটের হাসি, বাতাসে খেলা করা উন্মুক্ত চুল, সবই যেন তার মন কেড়ে নিয়েছে। আহ তাকে দেখলেই মনে এক শীতল হাওয়া মনে দোলা দিয়ে যায়।

ঘণ্টাখানিক বাদে এসব ভাবতে ভাবতে সে আবার আদিলের ঘরে যায় এবং তার বিছানায় ধুপ করে শুয়ে পরে। আদিল তখন নিজের বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করতে বিভোর হয়ে চোখ বন্ধ করে বারান্দায় বসে রবীন্দ্র সংগীত শুনছিলো,

“সখী ভাবনা কাহারে বলে
সখী যাতনা কাহারে বলে

তোমরা যে বলো দিবস রজনী
ভালোবাসা, ভালোবাসা…

সখী ভালোবাসা কারে কয়
সেকি কেবলই যাতনাময়”

চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে আদনানও বিছানায় শুয়ে মনোযোগ দিয়ে গান শুনছে। আদিল মুচকি হেসে বারান্দা থেকে উঠে এসে আদিলের পাশে বসে তার চুলে স্পর্শ করতেই আদনান চোখ মেলে তাকায়, তারপর বলে,

“ভাইয়া, ভালোবাসা কারে কয়?”

“আমি কি করে বলবো? আমার কি অভিজ্ঞতা আছে?”

“তা ঠিক, তোর নেই।”

“হুম, তোর তো ছিল, তুই বল।”

“ধুর সেটা কি আসলেই ভালোবাসা ছিল? সেটা ছিল অল্প বয়সের মোহ।”

“ভালো কথা বলেছিস, তোর সেই গার্লফ্রেন্ডের কি খবর? যোগাযোগ আছে এখনো?”

“আরে নাহ। হাইস্কুলেই শেষ। আর বারবার প্রেম বলিস নাতো। ওটা যে কি ছিল নিজেই তো এখনো বুঝে পাইনা।”

“তাই?”

“হুম তাইতো? শোন পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, স্প্যানিশ অথবা ভিনদেশীদের প্রেমে পড়িস না কখনো। ওরা একসাথে অনেকগুলো প্রেম করে। আর সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হচ্ছে ওরা পারলে প্রথমদিনই শারীরিক মিলন করতে চাইবে।”

“সেই ভিনদেশীদের পাল্লায় পরেই তো সিগারেট খাওয়া ধরলি, নেশা করা শুরু করলি। কতো কষ্টে এসব ছাড়ানো হলো। ভুলে গেছিস? কেমন গাঁজাখোরের মতো ব্যাবহার করতি তুই।”

“আবার শুরু করলে?”

“তাহলে কেন আবার সিগারেট ধরলি? আর খাবিনা বল? নয়তো বাবাকে বলে দিব।”

“বলেছি তো আর খাবোনা।”

“যাই হোক, এবার তুই বল তুই আবার ফিজিক্যাল কিছু করিস নিত তোর স্প্যানিশ গার্লফ্রেন্ডের সাথে?”

“মাথা খারাপ! আমার এসবে কন্ট্রোল আছে।”

“সম্পর্কটা যেন কেন ভাঙলো তাহলে?”

“ওই যে বললাম, একাধিক প্রেম ছিল তার আর… এ জন্যই তো পালালাম।”

“খুব ভালো হয়েছে যে তুই ফিরে আসতে পেরেছিস। আমার কি মনে হয় জানিস, ভালোবাসলে আমাদের ভাষাভাষীর মানুষকেই ভালোবাসা উচিত।”

“হতে পারে।”

“আচ্ছা এবার বল তখন কি বলতে এসেছিলি?”

আদনান আদিলকে থামিয়ে দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে,

“তার আগে বল? তুই দেরি করে বাড়ি ফিরলি কেন? আমি তো আপির কাছে ধরা খেয়ে গিয়েছিলাম। কত কি বলে ম্যানেজ করে তারপর বাড়ির কাছের ম্যাক থেকে খাবার নিয়ে আসি। তাও আলুর রাগ কমেনা, বলে ক্যাম্পাসের কাছের ম্যাকের খাবার নাকি বেশি মজা। এবারতো তাও কোনোরকম পার পেয়ে গেছি।”

“ওহ গড। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। ভালোই হয়েছে তোর কাজ তুই নিজেই করেছিস। আসলে রাস্তায় একটা একসিডেন্ট এর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম আমি। সেখানেই ছিলাম।”

“কি বলিস? তোর কোনো সমস্যা হয়নি তো?”

“আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি।”

“কি একসিডেন্ট হয়েছিল? আর কিভাবে হলো?”

“আটেম্পট টু রেপ। ভাগ্গিস মেয়েটার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।”

“ওহ মাই গড। সিরিয়াসলি? পুরো ঘটনাটা বল।”

তিয়াশার নাম পরিচয় গোপন রেখে পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে ঘটনার যেই নির্মম বর্ণনা দিয়েছিল তিয়াশা, আদিল হুবুহু তা আদনানের কাছে জানায়। আদনান সবটা শুনে খুবই দুঃখিত হয় এবং আদিলকে সাধুবাদ জানায় এমন ভয়ানক সময়ে সেই মেয়েটাকে সাহায্য করতে পেরেছিল বলে। তারপর আদিলকে বলে,

“আই এম প্রাউড অফ ইউ মাই ব্রো। হ্যাটস অফ টু ইউ।”

“মানুষের বিপদেই তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এটাই তো মনুষ্যত্বের পরিচয়।”

আদনান আদিলের কথায় হেসে দেয় এবং কিছুক্ষন থেমে বলে,

“একটা প্রশ্নতো রয়েই গেল। তুই ঘটনাস্থলে পৌঁছলি কিভাবে ভাইয়া?”

আদিল একটু চুপ করে থেকে উত্তরে বলে,

“ইটস রিয়েলি আ মিরাক্যাল। আল্লাহ বোধহয় আমাকে সঠিক সময়ে সেখানে পৌঁছতে সাহায্য করেছিলেন। কিছুটা সহযোগিতা তুই ও করেছিস অবশ্য।”

“আমি? কিভাবে?”

“ম্যাকডোনাল্ডে পাঠিয়ে। ওই রাস্তাতেই তো হয়েছে।”

“ওহ মাই গড। সিরিয়াসলি? এখন আসল কথা বল, দুর্ঘটনাটি তোর চোখে পড়লো কীভাবে?”

“আচ্ছা বলছি। শোন তাহলে…”

পর্ব ১০ আসছে…

আগের পর্বের লিংক:

পর্ব ০৮: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/927920380972015/

[গল্পটি পড়ে কেমন লাগছে, কমেন্টে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না।]

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৮

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৮
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

তিয়াশা আপ্রাণ চেষ্টা করছে হিংস্র মানুষরূপী পশুটার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর।

ভেবে পায়না তিয়াশা, তার সাথেই কেন এমনটা হচ্ছে। সে তো যথেষ্ট শালীনতা বজায় রেখে চলে এই বিদেশ বিভুঁয়ে থেকেও। হাতে গোনা কয়েকটা মানুষের সাথে চলাফেরা করে। কোনো বারে বা আড্ডায় পর্যন্ত যায়না। নেশা বা বাজে কোনো কিছুর সাথেই সে নিজেকে জড়ায় না। সবকিছু থেকে নিজেকে এক প্রকার গুটিয়ে রাখে। তাহলে কেন? কেন বার বার আঘাত পাবে সে? এর কারণ কি তার সহজ সরলতা, নম্রতা ভদ্রতা? মানুষ কে বিশ্বাস করা আর সাহায্যের প্রতিদানে এটাই কি তার পাওনা?

দম বন্ধ হয়ে আসছে তিয়াশার, রাগে ক্ষোভে ঘৃণায় কান্না পাচ্ছে। ড্যানিয়েল জোর পূর্বক তিয়াশার দুই হাত চেপে অনেকটা তিয়াশার উপরে চলে আসে। তিয়াশা আপ্রাণ চেষ্টা করছে হাত ছাড়ানোর। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ড্যানিয়েলের বিয়ারের খালি বোতলটা হাতের নাগালে পেয়ে যায় তিয়াশা, বাঁচার তাগিদে ওটা দিয়েই সজোরে আঘাত করতে যায় সে। কিন্তু লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়, অন্য কিছুতে বাড়ি লেগে কাঁচের বোতলটা ভেঙে যায়।

খুব দ্রুত ঘটছে সব ঘটনাগুলো, তিয়াশা কি করছে না করছে নিজেও ভাবার সময় পাচ্ছে না। তিয়াশার হৃদপিন্ড এত জোরে লাফাচ্ছে যেন এখনি বের হয়ে আসবে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। নাহ আর সহ্য করতে পারছেনা সে। সাহস করে তার দুই হাতে যত শক্তি ছিল তার সবটুকু দিয়ে ড্যানিয়েলের বুকে ধাক্কা দেয়। তাল সামলাতে না পেরে অন্য দিকের জানালাতে যেয়ে বাড়ি খায় মাতাল ড্যানিয়েল। হাতে কিছু সময় পায় তিয়াশা এবং তৎক্ষণাৎ গাড়ির দরজা জানালা আনলক করে ফেলে সে।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



গাড়ির দরজা খুলে বের হতে নিবে অমনি বিশাল এক থাবা এসে তিয়াশার নাক মুখ চেপে ধরে। টেনে হিচড়ে গাড়ির ভেতরে ঢুকাতে চেষ্টা করছে তিয়াশাকে। চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছেনা তিয়াশা, তাও নিজেকে বাঁচাতে আসেপাশে কিছু একটা খোঁজার আশায় হাতড়াতে থাকে। পেয়ে যায় গাড়ির চাবি, সেটা দিয়ে ড্যানিয়েলের বাহুতে বেশ কয়েকবার আঘাত করলে মুখের উপর থেকে হাতের চাপ একটু কমতেই কোনোরকমে সেই নরক থেকে হাচড়ে পাঁচড়ে বের হয়ে আসে সে। প্রাণপণে দৌড়োতে থাকে সে সার্ভিস লেইন ধরে।

হঠাৎ সামনে একটি অবয়ব দেখতে পায় তিয়াশা যেন তার দিকেই আসছে। দূরে কাউকে দেখতে পেয়ে যেন তিয়াশার মনে আশার আলো দেখা দেয়। এই বুঝি কেউ তাকে উদ্ধার করতে এসেছে এই নরক থেকে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনা সে, চোখে পানি চলে আসে। এক মুহূর্তের জন্য পেছনে তাকিয়ে দেখে শয়তানটাও বের এসেছে গাড়ি থেকে।

আর কিছু না ভেবে, চোখের পানি মুছতে মুছতে দৌড় দেয় সে অচেনা অবয়বটার দিকে। হঠাৎ তিয়াশারা খেয়াল হয় হাত দিয়ে রক্ত ছুটছে তার।

লাল টুকটুকে তাজা রক্ত দেখে প্রচন্ড আঁতকে উঠে তিয়াশা। পুরা দুনিয়াটা কেমন যেন দুলে উঠে ওর, চোখে ঝাপসা দেখতে থাকে। ক্ষণিকবাদেই অন্ধকার যেন তার চারপাশ গ্রাস করে নেয়।

*

মাথাটা তীব্র যন্ত্রনা করছে, ধীরে ধীরে চোখ খোলার চেষ্টা করছে তিয়াশা। তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে সে এখন কোথায় আছে। ঝাপসা চোখে দেখতে পায় দূরে দুজন পুলিশ দাঁড়িয়ে কথা বলছে কারো সাথে। তিয়াশার চোখ আবার বন্ধ হয়ে আসতে নিলে একটা আবছা চেহারা ভেসে আসে তার মুখের কাছে। তিয়াশা ভয়ে চিৎকার করে উঠে এলোপাতাড়ি হাত পা ছুড়তে থাকে সেই ব্যক্তিকে মারার উদ্দেশ্যে।

কানের কাছে শুনতে পায় কেউ আশ্বস্ত কন্ঠে বলছে,

“ভয় পেওনা। কিছু হবেনা তোমার। কেউ কিছু করতে পারবেনা তোমার। প্লিজ শান্ত হও।”

তিয়াশা ভালো ভাবে তাকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আবছা ভাবটা ধীরে ধীরে কেটে গেলে তিয়াশা দেখতে পায় সামনে থাকা ব্যক্তিটির কলার তার হাতের মুঠোয় মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আছে। তিয়াশা অস্ফুট স্বরে বলে উঠে,

“আ..পনি…? আ… আদিল? আদিল মুজদাহীর?”

উঠে বসার চেষ্টা করলে আদিল বলে,

“তুমি উঠনা এখন। বিশ্রাম নাও।”

“আমি কোথায় এখন?”

“তুমি এম্বুলেন্স এ। তোমার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। পুলিশও এসেছে, ইনভেস্টিগেশন চলছে।”

তিয়াশার চোখের কোণ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, সে আহত কণ্ঠে বলে,

“ড্যানিয়েল…”

আর কিছু বলতে পারেনা, কান্নায় তার কথা যেন দলা পাকিয়ে আসছে। অঝোর ধারায় কান্না শুরু করে তিয়াশা। আদিলের চোখেও পানি চলে এসেছে। তিয়াশার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

“অপরাধী ধরা পড়েছে তিয়াশা। তুমি নিশ্চিত থাকো, সে তার উপযুক্ত শাস্তি পাবেই।”

তারপর একটা ক্লিয়ার প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে তিয়াশার মোবাইলটি হাতে দিয়ে বলে,

“পুলিশ গাড়ি থেকে এটা খুঁজে পেয়েছে। আমার ধারণা এটা তোমার। তুমি কি চাও আমি তোমার কোনো পরিচিত কাউকে ফোন দিয়ে জানাই?”

তিয়াশা কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন থেকে প্যাট্রিসিয়ার নম্বর বের করে আদিলকে দিয়ে বলে,

“আমার বন্ধু, একসাথে পড়াশোনা করি তাকে একটু ফোন দিয়ে এখানে আসতে বলেন। তাহলেই হবে।”

আদিল দেরি না করে তিয়াশার ফোন থেকেই প্যাট্রিসিয়াকে ফোন দেয় এবং সব কিছু জানিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলে।

ইতিমধ্যে তিয়াশার জ্ঞান ফিরেছে দেখতে পেয়ে পুলিশ এসে তিয়াশার কাছে ঘটনার বিস্তারিত জেনে নেয়। তারপর তাকে আশ্বস্ত করে বলে যে অপরাধীকে ধরে ফেলা হয়েছে এবং সে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে। তারপর তিয়াশাকে হাসপাতালে ট্রিটমেন্টের জন্যে নিতে চাইলে তিয়াশা কান্না করে উঠে বলে,

“No, I don’t want to go to the hospital. I wanna go home.” (না, আমি হাসপাতাল এ যেতে চাইনা। আমি বাড়ি যেতে চাই।)

“But we need to make sure that you are in good health mam.” (কিন্তু আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন ম্যাডাম।)

তিয়াশা তখন উৎকণ্ঠিত হয়ে বলে,

“I am ok sir. Please I need to go home. I will be properly taken care of at home.” (আমি ঠিক আছি জনাব। অনুরোধ করছি, আমি বাসায় যেতে চাই। বাসাতেই আমার সঠিক পরিচর্যা হবে।)

“Ok. Would you be able to go home by yourself.” (আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি নিজে নিজে বাড়িতে যেতে পারবেন?)

প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ তখন ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং তিয়াশার পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশকে বলে,

“We will take her to home, sir. Thank you for your help.” (আমরা তাকে তার বাসায় নিয়ে যাবো। ধন্যবাদ আপনাদের সহযোগিতার জন্য।)

প্যাট্রিসিয়া তিয়াশাকে ভালোভাবে ধরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামায়। আদিল অনুরোধ করে প্যাট্রিসিয়াকে যেন সে তিয়াশাকে নিয়ে আদিলের গাড়িতে উঠে যেহেতু সেটি বেশ বড় গাড়ি এবং তিয়াশা দরকার হলে শুয়ে যেতে পারবে। প্যাট্রিসিয়া ও আদিলের কথায় সম্মতি জানিয়ে তিয়াশাকে ধরে আদিলের গাড়িতে নিয়ে বসায়। আদিল ড্রাইভিং সিটে বসে আর প্যাট্রিসিয়া তিয়াশাকে ধরে পেছনের সিটে বসেছে।

তিয়াশা পুলিশের সামনে নিজেকে যথেষ্ট শক্ত রেখেছিল। কিন্তু গাড়িতে বসেই প্যাট্রিসিয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেয়। কান্নারত কন্ঠে পুরোটা ঘটনা খুলে বলে। পরে আদিলের সাথেও পরিচয় করে দেয়।

তারপর তিয়াশা তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানায় সময়মত পৌঁছানোর জন্য।

প্যাট্রিসিয়া তিয়াশার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,

“This gentleman deserves your thanks, Tee. Luckily he somehow managed to be here.” (এই ভদ্রলোকই তোমার ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, টি। সৌভাগ্যপূর্ণ বসত সে সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল।)

তারপর কৌতূহল নিয়ে আদিলকে জিজ্ঞেস করে,

“Mr. Muzdahir, how did you get in spot on the right time?” (মিস্টার মুজদাহির,আপনি কিভাবে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গাতে উপস্থিত হলেন?)

*

তিয়াশাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে সবাই যে যার বাসায় চলে যায়। তিয়াশার মা নীলিমা হাবিব তিয়াশার বন্ধুদের থেকে সবটা শুনে খুব কষ্ট পায় মনে। তিনি তিয়াশাকে এ বিষয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি, কারণ তার উপর দিয়ে অনেক ধকল গিয়েছে, এখন মেয়েকে কিভাবে স্বাভাবিক করা যায় সেটা নিয়েই চিন্তিত তিনি।

তিয়াশা হাতমুখ ধুয়ে চুপচাপ খাবার খেয়ে নিজের বিছানায় এসে ঘুমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বারবার চোখের সামনে তার সেই ভয়ানক দৃশ্য ভেসে উঠতে থাকে। তিয়াশার মনে ভাবনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ আদিলের কথা মনে পরে তিয়াশার। এই স্বল্পপরিচিত লোকটা কিভাবে যেন সবসময় তিয়াশার বিপদে দেবদূত হয়ে আসে। তিয়াশা মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে এবং আনমনে ধন্যবাদ জানায় আদিলকেও।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় আদিল তার সাথে বাংলায় কথা বলেছে। সেটা নাহয় তিয়াশার নাম অথবা আইডি কার্ড দেখে ধারণা করে নিয়েছে।

কিন্তু একটা প্রশ্ন রয়েই যায়, আদিল কিভাবে সঠিক সময়ে তিয়াশার কাছে পৌঁছায়? আদিল করছিল টাই বা কি সেখানে?

পর্ব ০৯ আসছে…

আগের পর্বের লিংক:

পর্ব ০৭: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/926433071120746/

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৭

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৭
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

ইউনিভার্সিটির পার্কিং লটটি ক্যাম্পাসের একেবারে শেষ প্রান্তে। ক্লাস শেষ করে পার্কিং লটে যেতে বেশ খানিকটা পথ হাটতে হয় এবং চারপাশটাও বেশ নীরব থাকে। তিয়াশা আজ একাই পার্কিং লটের দিকে যাচ্ছে কারণ ক্লাস শেষ করে প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ একসাথে ঘুরতে বের হয়ে গেছে ম্যাথিউ এর গাড়িতে করে। তিয়াশার ম্যাকডোনাল্ডস এ কাজ আছে তাই সে প্যাট্রিসিয়ার গাড়িটি নিয়ে যাবে।

“তিয়াশা!”

নিজের নাম শুনে পেছন ফিরে তিয়াশা দেখে তার ক্লাসমেট ড্যানিয়েল রদ্রিগেজ ছুটে আসছে তার দিকে। তিয়াশা কিছু না ভেবেই দাঁড়িয়ে পরে। ড্যানিয়েল এসে তিয়াশাকে বলে,
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



“Hey Tiyasha, I heard from Patrisia that you are going to work driving her car.” তিয়াশা, আমি প্যাট্রিসিয়ার কাছ থেকে শুনলাম যে তুমি কাজে যাচ্ছ ওর গাড়ি নিয়ে।)

তিয়াশা বিভ্রান্তি নিয়ে বলে,

“Yes, I’m going to work. So?” (হ্যাঁ, আমি কাজে যাচ্ছি। তো?”

“If you don’t mind, can you drop me off at Walmart. My car’s engine broked and I don’t have time to fix it. Getting late to work.” (তুমি যদি কিছু মনে না করো, তুমি কি আমাকে ওয়ালমার্টে নামিয়ে দিতে পারবে? আমার গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে এবং ঠিক করার মতো সময়ও নেই আমার হাতে। কাজের দেরি হয়ে যাচ্ছে।)

“I am not sure how to help you. My work place is only 5 mile away from here.” (আমি আসলে বুঝতে পারছিনা, আমি কিভাবে তোমার সাহায্য করতে পারি। আমার কাজের জায়গা এখান থেকে মাত্র ৫ মাইল দূরে।)

“Don’t worry. I know where you work and my work place is not far from your one. Only 2 street away.” (চিন্তা করোনা। আমি জানি তুমি কোথায় কাজ করো, আর আমার কাজের স্থান ও তোমার টার থেকে বেশি দূরে নয়। মাত্র ২ টা রাস্তা পরেই।)

তিয়াশার খুব অস্বস্তি লাগছে তবুও এক সাথে ক্লাস করে আর সাহায্য চাইছে দেখে রাজি হয়ে যায়।

ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসেছে ড্যানিয়েল। তিয়াশা গাড়ি চালিয়ে মাত্র হাইওয়েতে উঠেছে তখন তিয়াশা খেয়াল করে ড্যানিয়েল একটা বিয়ারের বোতল খুলছে তার ব্যাগ থেকে বের করে। তিয়াশা আড় চোখে তাকিয়ে ড্যানিয়েলকে একটু কড়া গলায় বিরক্তি নিয়ে বলে,

“If you don’t mind can you put that bottle away. I don’t want you to drink it in the Car. Plus, you are going to work.” (কিছু যদি মনে না করো, বোতলটা সরিয়ে রাখো। আমি চাইনা তুমি গাড়িতে এসব খাও। তার উপর তুমি এখন কাজে যাচ্ছ।)

“Who said I’m going to work, Honey. I want to spend some quality time with you.”(কে বলল আমি কাজে যাচ্ছি, হানি। আমি তো তোমার সাথে কিছু একান্ত সময় কাটাতে চাই।)

কথাটি বলেই সে এক নিঃশ্বাসে পুরো বিয়ার এর বোতল খালি করে ফেলে। তিয়াশা ভালো করে খেয়াল করেনি, না হলে বুঝতে পারতো যে ড্যানিয়েল কিছুটা টাল মাতাল হয়ে আছে আগে থেকেই। এখন আরো বিয়ার খাওয়ার পর ভালো মতই তার মাতলামি শুরু হয়ে গিয়েছে।

তিশায়া খুবই বিরক্ত নিজের উপর! কোন দুঃখে যে ওকে সাহায্য করতে গেছিলাম! এখন দ্রুত ওকে নামিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে, সে চিন্তা করতে করতে দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছে তিয়াশা।

হঠাৎ করে আপত্তিকর ভাবে তিয়াশার হাত স্পর্শ করে বসে ড্যানিয়েল, তিয়াশা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় তাকে।

ড্যানিয়েল এর কণ্ঠে মাতলামির সুর,

“Why are you staying away, come little closer dear!” (কেনো এতো দূরে আছো? কাছে আসো না একটু!)

তিয়াশা ঘাবড়ে যায়। ভয়ে তার আত্মা শুকিয়ে আসছে কিন্তু তা প্রকাশ করছেনা। মাতালটার থেকে নিজেকে বাঁচাবে নাকি ৮০ মাইল বেগে হাইওয়েতে ছুটে চলা গাড়ি সামলাবে। একটু এদিক ওদিক হয়ে গেলেই বিশাল বড় অ্যাকসিডেন্ট হয়ে গাড়ি সমেত গুঁড়িয়ে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।

তিয়াশা একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। ড্যানিয়েলকে কিছু বুঝতে না দিয়ে শান্ত কিন্তু কাঁপা কণ্ঠে বলে,

“Daniel, behave yourself please. If you touch me again, I will call 911.” (ড্যানিয়েল, দয়া করে ভদ্রতা বজায় রাখো। আমাকে আরেকবার স্পর্শ করলে আমি ৯১১ তে ফোন দিয়ে পুলিশ ডাকবো।)

এ কথা শুনে যেন ড্যানিয়েল আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠে। একরকম তিয়াশার উপর দিয়ে জোরপূর্বক এসে গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল ঘুরিয়ে গাড়িটা হাইওয়ের সার্ভিস লেইনে ঢুকিয়ে ব্রেক কষতে বাধ্য করে।

তিয়াশা ড্যানিয়েলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফোন নিয়ে কল করতে গেলে তার হাত থেকে ফোন টান দিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। ফোনটি যেয়ে পরে গাড়ির পেছনের সিট গুলোর নিচে। ড্যানিয়েল আরো ঝুঁকে এসে গাড়ির সব দরজা জানালা লক করে তিয়াশার দিকে তাকায়। সেই মুহূর্তে যেন ড্যানিয়েলের ঠোঁটে ফুটে উঠে এক পৈশাচিক হাসি।

*

চোখে সানগ্লাস, কাঁধে গিটার নিয়ে আপন মনে আদনান হেটে চলেছে ইউনিভার্সিটির পার্কিং লটের দিকে। আজ সে ভীষণ খুশি, তিয়াশার সাথে শেষ পর্যন্ত কথা বলতে পেরেছে। আনমনে হাসছে আর ভাবছে কিভাবে তিয়াশার মনে জায়গা করে নেয়া যায়। এসব ভাবতে ভাবতে গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভিং সিটে বসতেই আদনানের ফোন বেজে উঠে। নাম্বার দেখে সে কল কেটে দেয়। আরো দুইবার ফোন আসার পর সে ফোন রিসিভ করে বলে,

“আপি, কেন বারবার ফোন দিয়ে জ্বালাচ্ছিস? নিশ্চয়ই তোর কোনো কাজের কথা মনে পড়েছে।”

আদনানের বোন আলিয়া হেসে উত্তর দেয়,

“হুম তাতো পড়েছেই। আচ্ছা তার আগে শোন, মাইশা এসেছে বাসায়।”

“মাইশা? কোন মাইশা?”

“ইশ! চিনিস না বুঝি কোন মাইশা? আমাদের কাজিন মাইশা। তোর হবু বউ, তোকে খুঁজছে। জলদি আয় বাসায়।”

“আলুপি, প্লিজ মাফ চাই। ও কিসের আমার হবু বউ। পিচ্চি পাকনা মেয়ে একটা। একবার শুধু মজা করে বলেছিলাম বিয়ে করতে চাই। তারপর থেকে আঠার মত পিছে লেগে থাকে।”

“এই আলুপি বলবিনা, খবরদার। আর আমি কি জানি, তুই বিয়ে করবি নাকি করবি না? মাইশার আম্মু মানে আন্টিও এসেছে বাসায়। এবার বোধ হয় তোর বিয়ে পাকা হয়েই গেল।”

“ধ্যাৎ আলু, রাখছি আমি।”

“আচ্ছা শোন শোন। মজা করছিলাম। বাসায় এসেছিল মাইশা, তোকে না পেয়ে চলে গেছে।”

“সত্যি বলছিস তো?”

“হুম বলছি। এবার আমাকে তোর খাওয়ানোর পালা।”

“জ্বি না। তোকে আবার কিসের খাওয়ানো?

“খাবার না নিয়ে আসলে কিন্তু তুই বাসায় আসলে মাইশাকে ফোন করে আসতে বলে দিব।”

“মাফ চাই বইন আমার, বল কি খাবি।”

“তোর ইউনিভার্সিটির কাছেই তো ম্যাকডোনাল্ডস আছে। আসার সময় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আনিস ওখান থেকে। ওহ আর চকোলেট সানডে আনতে ভুলিস না কিন্তু।”

“তুইও আদিলের মতো হয়ে গেলি নাকি? দুই দিন পর পর ম্যাকডোনাল্ডস এ যায় আর সেখান থেকে কি সব খায় আবার তোকেও খাওয়ায়। দুটোই তো ভোম্বল হয়ে যাবি। আদিলকে বল সে নিয়ে আসবে। উলটো পথে যেতে চাইনা আমি।”

“তোকে যা বলেছি সেটা কর। নাহলে কিন্তু মাইশাকে কল দিব।”

“আচ্ছা যা এবারের মতো আনবো। এখন বিদায় আলু।”

“আবার আলু?”

“ওকে ওকে আপি। বাই।”

আদনান গাড়িতে পছন্দের গান জোরে ছেড়ে দিয়ে বের হয়ে যায় ম্যাকডোনাল্ডস এর উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে তিয়াশা ম্যাকডোনাল্ডস এ যাবার পথের হাইওয়ের সার্ভিস লেনে আটকে আছে জীবন হাতে নিয়ে।

আদনানের কি তিয়াশার থেমে থাকা গাড়িটি চোখে পড়বে?

পর্ব ০৮ আসছে…

আগের পর্বের লিংক:

পর্ব ০৬: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/925714417859278/

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৬

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৬
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

এক মাস পর। সকাল ১০:০০ টা। আজও ক্যালকুলাস ক্লাস শেষ করে এখন লনে বসে আছে তিয়াশা, প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ। আজ তাদের ক্যালকুলাস হোমওয়ার্ক এর কোনো তাড়া নেই, কারণ আজ তাদের ক্লাস টেস্ট ছিল। এখন লনে বসে খোলা হাওয়াতে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। মিনিট পনেরো পর প্যাট্রিসিয়া উঠে বলে,

“Guys, I’m hungry. I’m gonna go to the cafeteria now to eat something. Who wants to join me?” (বন্ধুরা, আমি ক্ষুধার্থ। আমি এখন ক্যাফেটেরিয়াতে কিছু খেতে যাবো। কেউ কি যেতে চাও?)

ম্যাথিউ ও প্যাট্রিসিয়াকে সমর্থন জানিয়ে বলে,

“I’m hungry too. I will go to cafeteria with you Patt.” (আমারও ক্ষুদা পেয়েছে। আমিও তোমার সাথে যাবো প্যাট।)

তিয়াশার কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ম্যাথিউ জিজ্ঞেস করে,

“Tee, are you coming? Or you want us to bring something for you?” (টি, তুমি কি যাবে? নাকি তোমার জন্য কিছু নিয়ে আসবো?)

“No, I’m not hungry. Besides there is not much Halal food option for me except french fries, fish or veggie sandwich. I think I’ll pass for now.” (না, আমার ক্ষুদা নেই। তাছাড়া এখানে হালাল খাবারও খুব একটা পাওয়া যায়না, শুধু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, মাছ বা সবজি স্যান্ডউইচ ছাড়া আর কিছু নাই আমার জন্য। ভাবছি আজকে বাদ।)
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



“Ok, understood Tee. You better stay here and take rest. We will be back in 30 minutes.” (হুম, বুঝতে পেরেছি টি। তুমি এখানে থাকো, আমরা ঠিক ৩০ মিনিট পরেই চলে আসব।)

“Ok, I will be here waiting for you guys. Enjoy your food.” (ঠিক আছে, আমি এখানে অপেক্ষা করছি তোমাদের জন্য। তোমরা তোমাদের খাবার উপভোগ করো।)

প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ চলে গেলে, তিয়াশা তার পরবর্তী নেটওয়ার্কিং ক্লাস এর বই বের করে পড়াশোনা শুরু করে। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার বাকি আছে আর মাত্র ২ সপ্তাহ। তাই সময় নষ্ট করতে চায়না তিয়াশা। যখন সময় পায় তখনই বই নিয়ে পড়তে বসে যায়। বই এর মধ্যে মাথা গুজে আছে তিয়াশা। হঠাৎ গিটার এর শব্দে ধ্যান ভাঙ্গে তার। কাছে কোথাও কে যেন সুন্দর করে গিটারে একটা গান বাজাচ্ছে। হুম, মেলোডি টা তো সুন্দরই, ভাবে তিয়াশা।
একটু শোনার পর তিয়াশা আবার পড়ায় মন দিতে যাবে, হঠাৎ তিয়াশা চমকে মাথা উচু করে চারপাশে তাকায়। আরে, মিউজিকটা তো চেনা চেনা লাগছে। এটা তো সেই গানটা, যেটা তিয়াশাকে লুকিয়ে কে যেন চিরকুটে লিখে পাঠিয়েছিল।

ভড়কে যায় সে, হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানী হাতুড়ির মত বাড়ি দিচ্ছে বুকে। তিয়াশা পুরো লনের চারপাশে ভালো করে তাকিয়ে দেখে। নাহ কাউকে তো গিটার বাজাতে দেখছেনা। তিয়াশা কোনো রকম ব্যাগ গুছিয়ে গিটার এর শব্দের উৎস খুঁজতে হাটা শুরু করে।

গিটারের শব্দ অনুসরণ করে তিয়াশা একটি ভবনের পেছন দিকে এসে পৌঁছায় এবং দেখে একটি গিটার ভবনের পেছনের সিঁড়ির রেলিং এ হেলান দিয়ে দাঁড় করানো, কিন্তু আসে পাশে কেউ নেই।

পেছন থেকে কারো গলার আওয়াজ শুনে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে একটি ছেলে তার দিকে হাত বাড়িয়ে বলছে,

“Excuse me! Is it your phone?” (এই যে শুনছেন! এটা কি আপনার ফোন?

তিয়াশা ফোনটি দেখে হাতে নিয়ে বলে,

“Yes, this is my phone. How did you get it?” (হ্যা, এটা তো আমারই ফোন। আপনি কিভাবে পেলেন?)

“It was dropped on the floor.” (এটা মাটিতে পড়েছিল।)

“Oh, thank you so much for returning the phone.” (ওহ, ধন্যবাদ ফোনটি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।)

ছেলেটি হেসে বাংলায় জবাব দেয়,

“কোনো সমস্যা নেই। বরং ভালো লাগলো আপনাকে সাহায্য করতে পেরে।”

তিয়াশা বেশ অবাক হয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করে,

“আপনি বাঙালি? খুব ভালো লাগলো বাঙালি কারো সাথে পরিচিত হতে পেরে। আপনার নামটা?”

“আমার নাম আদনান।”

প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ ক্যাফেটেরিয়া থেকে ফিরে তিয়াশাকে লনে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে কাছাকাছি চলে আসে সেই বিল্ডিং এর পেছন দিকটায় যেখানে তিয়াশা ও আদনান দাঁড়িয়ে পরিচিত হচ্ছিল।

ম্যাথিউ দূর থেকেই হাত নেড়ে বলে উঠে,

“Here you are, Tee. We were looking for you. What are you doing here?” (টি, এইখানে তুমি। আমরা তোমাকে খুঁজে ফিরছি। এখানে কি করছো?)

পরক্ষনেই আদনানের দিকে চোখ পড়ল ম্যাথিউ এর, তার সাথে হাই ফাইভ দিয়ে বলে,

“Hey buddy, what are you doing here? Do you guys know each other.” (বন্ধু, এখানে কি করছো? তোমরা কি একজন আরেকজনের পরিচিত?)

তিয়াশা, ম্যাথিউ ও আদনানের কথোপকথন শুনে তাদেরকে থামিয়ে ম্যাথিউ কে বলে,

“Wait a sec. I just met him. But it seems like you guys know each other closely.” (এক মিনিট। আমার সাথে মাত্রই ওর পরিচয় হলো। কিন্তু মনে তো হচ্ছে যে তোমরা একজন আরেকজনকে বেশ ভালোভাবে চেনো)

“Yeah we know each other Tee. He is my gym mate and very good friend.” ( হ্যা টি, আমরা পরিচিত। আমরা একসাথে জিম করি এবং ভালো বন্ধুও।)

আদনান প্রত্যুত্তরে জানায়

“Yes, Matthew and I are friends and gym partner. We know each other from very long time. Besides, with one of you I have a common class as well.” (ঠিক। ম্যাথিউ আর আমি দুজনে বন্ধু এবং জিম পার্টনার। আমরা একজন আরেকজন কে অনেক আগে থেকেই চিনি। তাছাড়া, তোমাদের মধ্যে একজনের সাথে আমার কমন ক্লাস ও আছে।)

তিয়াশা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“Really? Which class you have in common? And with whom?” (সত্যি? কোন ক্লাসটি কমন? আর কার সাথে?)

আদনান স্মিত হেসে উত্তর দেয়,

“That you guys have to find out.” (সেটা তোমরাই নাহয় খুঁজে বের কর।)

প্যাট্রিসিয়া এতক্ষন সব চুপচাপ শুনছিলো। এক পর্যায়ে সে সবাইকে থামিয়ে বলে উঠে,

“Guys, our next class will be starting just in 10 minutes. Let’s go now.” (দোস্তোরা, আমাদের পরবর্তী ক্লাস ঠিক ১০ মিনিট পর শুরু হয়ে যাবে। জলদি চলো সবাই।)

তারপর আদনানের সাথে হাত মিলিয়ে বলে,

“Nice to meet with you. Since you are Matt’s friend meaning you are our friend as well. I hope we will see you more often.” (তোমার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো। যেহেতু তুমি ম্যাট এর বন্ধু তার মানে তুমি আমাদেরও বন্ধু। আশা করবো তোমার সাথে প্রায়ই দেখা হবে এখন থেকে।)

আদনান হেসে জবাব দেয়,

“Sure, we will meet again.” ( অবশ্যই তোমাদের সাথে আবারও দেখা হবে।)

তিয়াশাও আদনান কে বিদায় জানিয়ে বলে,

“It was really nice to meet with you, and thank you for the phone.” (পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো আপনার সাথে। আর ফোনটি ফেরত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।)

আদনান তার বুকের বাঁ পাশে হাত রেখে অল্প ঝুকে উত্তর দেয়,

“The pleasure was mine my lady. Bye for now.” (এটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের ছিল মাই লেডি। এখনকার জন্য বিদায়।)

তিয়াশা, ম্যাথিউ ও প্যাট্রিসিয়া বিদায় জানিয়ে আদনানকে, তাদের যেই ভবনটিতে পরের ক্লাস সেদিকে হাটতে শুরু করে। আদনানও উলটো পথে হাঁটা দেয়।

যেতে যেতে এক ফাঁকে তিয়াশা পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে গিটারটা এখনো সিঁড়ির রেলিং এ দাঁড় করানো এবং আসে পাশে এখনো কেউ নেই। একটু হতাশ হয়ে সে আবার সামনে হাটতে শুরু করে।

তিয়াশা ও তার বন্ধুরা তাদের ক্লাস ভবনের ভেতর ঢুকে গেলে তিয়াশা ও আদনানের যেখানে পরিচয় হয় সেই ভবনের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে আদনান। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি তার। গিটারটা কাঁধে তুলে গুন গুন করে “I won’t give up” গানটা গাইতে গাইতে তার গন্তব্যে রওনা দেয়।

আগের পর্বের লিংক:

১. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/915622528868467/

২. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/917622012001852/

৩. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/918995701864483/

৪. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/920508638379856/

৫. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/923391284758258/

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৫

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৫
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

প্রাসাদসম ডুপ্লেক্স বাড়িটার দোতলায় নিজের বেডরুমের বারান্দায় পায়চারী করছে আদিল। তার মনটা আজ বেশ অশান্ত। তিয়াশার সাথে দেখা করার জন্য আজ সে ম্যাকডোনাল্ড’স এ গিয়েছিল কিন্তু পায়নি তাকে সেখানে। অন্য কর্মচারীদের কাছে তিয়াশার ফোন নাম্বার ও ঠিকানা জানতে চাইলে প্রাইভেসি পলিসির কারণে তাকে সেই তথ্য জানায়নি।

তিয়াশার কথা ভাবতে ভাবতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আদিল তাদের বাসার সুইমিং পুল এর হালকা গরম পানিতে পা ডুবিয়ে বসে পরে। পূর্ণিমার চাঁদ সুইমিং পুল এর পানিতে প্রতিফলিত হয়ে চারপাশে অন্যরকম আলোছায়ার সৃষ্টি করেছে। সুইমিং পুল এর পানিতে একটি চেহারা ভেসে উঠলে আদিলের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠে এবং সেদিকে তাকিয়ে বলে,

“তিয়াশা, এসেছ তুমি? এসো কিছুক্ষন বসো আমার পাশে।”

পিঠে হাতের স্পর্শ পেয়ে পেছনে তাকায় আদিল। দেখতে পায় তার ছোট ভাই আদনান মুজদাহীর তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।

“কিরে ভাইয়া, কার সাথে কথা বলিস?”

“আরে ধুর, কার সাথে কথা বলবো?”
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



“Nope. Something is wrong , bro. You are just not telling me.” (নাহ্। কিছু তো একটা রহস্য আছে ভাইয়া। তুই শুধু আমাকে বলছিস না।)

“হুম, তোর মাথা।”

“আমার মাথাই তো? দেখিস এই মাথা দিয়েই আমি খুঁজে বের করবো।”

“আচ্ছা করিস।”

“আচ্ছা শোন। মা খেতে ডাকছে। চল এখন।”

“তুই যা আমি একটু সাঁতার কেটে মাথাটা ঠান্ডা করে আসছি।”

“ঠিক আছে। চল দেখি সাঁতার কেটে কে আগে ওই পাড়ে যেতে পারে।”

বলেই আদনান হাসতে হাসতে তার টি শার্ট খুলে সুইমিং পুল এ লাফ দেয়। আদিল ও তার শার্ট খুলে আদনান কে অনুসরণ করে পানিতে লাফ দিয়ে সাঁতার কাটার প্রতিযোগিতায় নেমে যায়।

আদিল ও আদনান আপন দুইভাই। ঠিক দেড় বছরের ছোট বড়। দেখতে প্রায় একই রকম, সুঠাম দেহ, সুদর্শন, হলুদ ফর্সা গায়ের বরণ, চেহারাতে ও বেশ মিল এবং উচ্চতাও কাছাকাছি। হঠাৎ করে দেখলে বোঝা যায়না কে কোনজন। শুধু পার্থক্য হচ্ছে আদনান চোখে চশমা পরে আর আদিলের নাক খাড়া ও হাসলে এক গালে টোল পরে। দেড় মাস পরেই ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডক্টর অফ মেডিসিন ডিগ্রি নিয়ে গ্রাজুয়েশন করবে আদিল। আর আদনান বিবিএ ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে একই ইউনিভার্সিটি তে, আর ওর পড়াশোনা শেষ করে বের হতে আরও এক বছর লাগবে।

খাবার টেবিলে বসে আছে আদিল, আদনান তাদের বড় বোন আলিয়া, মা নওরীন মুজদাহীর এবং বাবা ডাক্তার নাদিম মুজদাহীর। নাদিম মুজদাহীর একজন ভারতীয় বাঙালি মার্কিন নাগরিক, লস এঞ্জেলেস শহরের বেশ সুনামধন্য ও সুপরিচিত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। আলিয়া মুজদাহীরও তাঁর বাবার মতোই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হয়ে বের হয়েছে ২ বছর আগে এবং বাবার চেম্বার এই বসে রোগী দেখে।

আদিলও তাদের বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করে তার অনুপ্রেরণাতে ডক্টর অফ মেডিসিন ডিগ্রী নিয়ে বের হওয়ার পথে। এদিকে আদিল একেবারে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ডাক্তারী না পড়ে বিজনেস এডমিনিষ্ট্রেশন বেছে নিয়েছে এবং তার জন্য বেশ অসুন্তষ্ট বাবা নাদিম মুজদাহীর। তাদের মা নওরীন মুজদাহীর একজন খাঁটি বাংলাদেশি মার্কিন নাগরিক এবং পুরোদস্তুর একজন গৃহিণী।

রাতের খাবারের সময়ই শুধু মাত্র নাদিম পরিবারের সবার একসাথে দেখা হয় এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়। আজ পরিবেশ বেশ থমথমে, মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হবে।

খাবার খাওয়ার মাঝে নাদিম মুজদাহীর একটু কেশে গলা পরিষ্কার করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং বলেন,

“সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আগামী মাসে আদিলের গ্রাজুয়েশন উপলক্ষে আমাদের বাসায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো। সেখানে আমার অনেক বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, স্বনামধন্য ডাক্তার ও তাদের পরিবারকে দাওয়াত দেয়া হবে।”

নওরীন মুজদাহীর সমর্থন জানিয়ে বলেন,

“খুব ভালো একটা কথা বলেছ। আমাদের পরিবারে আরোও একজন ডাক্তার হয়ে বের হচ্ছে এর মতো আনন্দের খবর আর হয়না। উদযাপন তো করতেই হবে। তবে এবার আদিলের জন্য একটি মিষ্টি ডাক্তার মেয়ে দেখে বিয়েও দিতে হবে।”

“তাতো অবশ্যই। এই অনুষ্ঠানে একসাথে দুটো কার্যসম্পাদন হবে। এক আমাদের ছেলের ডাক্তার হয়ে বের হওয়া সবার সাথে উদযাপন করা হবে এবং সেই সাথে আমাদের মেয়ে আলিয়া’র বিয়ের ঘোষণাও দেয়া হবে।”

একটু থেমে নাদিম মুজদাহীর আবার বললেন,

“সেদিন যেহেতু অনেক পরিবার উপস্থিত থাকবে, তোমার ছেলেকে বলে দিও সেখান থেকে কোনো মেয়েকে পছন্দ করতে। তবে বলে রাখছি আমি কিন্তু আদিলের জন্য ডাক্তার বউ-ই চাই।”

তারপর মেয়ে আলিয়ার দিকে তাকিয়ে বলেন,

“আলিয়া তো আর কথা শুনলোনা, ডাক্তার ছেলে বিয়ে না করে পছন্দ করলো এক ব্যবসায়ী ছেলেকে। আমাদের প্রথম সন্তান তাই মেনে নিয়েছি।”

আলিয়া খুশি হয়ে আহ্লাদে বলে উঠে,

“সত্যি বাবা, তুমি আমাকে ভীষণ ভালোবাসো।”

ওদিকে আদিল ভীষণ বিরক্ত হচ্ছে এসব কথা শুনে। ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবার, কিন্তু বাবা মায়ের ইচ্ছায় বাধ্য হয়ে ডাক্তারি পড়ে। এখন ডাক্তার মেয়ে বিয়ে করার বিষয় টা চাপিয়ে দিচ্ছে দেখে তার ভীষণ মেজাজ খারাপ হচ্ছে। খাবার শেষ না করেই সে উঠে চলে যায়।

তাদের মা নওরীন আদিলের উঠে যাওয়া দেখে হেসে বলে,

“আমাদের ছেলেটা বিয়ের কথা শুনে লজ্জা পেয়েছে।”

আদনান ও খাওয়া কোনোরকম শেষ করে যেতে যেতে তাদের বাবাকে জিজ্ঞেস করে,

“বাবা, আমার বন্ধুবান্ধবদের দাওয়াত দিতে পারব তো?”

তাদের বাবা নাদিম মুজদাহীর একটু বিরক্তি নিয়েই উত্তরে জানায়,

“তা পারবে বৈকি। তোমার আর কি, যা মনে চায় তাই করে বেড়াচ্ছ।”

আদনান পরের কথাটি শুনেনি এমন ভাব করে বাবা নাদিম মুজদাহীর কে ধন্যবাদ জানিয়ে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে চলে যায় তার রুমে।

আদিল ও আদনান দুজনই যার যার ঘরে, কিন্তু দুজনই কোনো বিষয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন।

আদিল তার বারান্দায় ইজি চেয়ার এ বসে চোখ বন্ধ করে দুলতে দুলতে ভাবছে, কিভাবে তিয়াশার সাথে আরেকটি বার দেখা করা যায়। তাকে কি দাওয়াত দিবে? দাওয়াত দিলেই কি সে আসবে? আচ্ছা তিয়াশা কি নিয়ে পড়াশোনা করছে? কিছুই তো জানিনা তিয়াশা সম্পর্কে।

আগের পর্বের লিংক:

১. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/915622528868467/

২. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/917622012001852/

৩. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/918995701864483/

৪. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/920508638379856/

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৪

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৪
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

পূর্ণিমা সন্ধ্যা। আকাশে বিশাল বড় চাঁদ। কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ চারিপাশে। শীতল বাতাস বইছে। একটি বিল আর তার মাঝে ছোট্ট একটি তরী ধীরে ধীরে ছুটে চলেছে অসংখ্য সাদা শাপলার মাঝ দিয়ে। তরী টির এককোনে বসে আছে তিয়াশা। জোছনার আলো তিয়াশার গায়ে পরে তাকে যেন এক ঐশ্যর্যিক সৌন্দর্যে পরিনিত করেছে। তার সেই রুপে চোখ যেন ঝলসে যায়।

পরনে তার সাদা শুভ্র শাড়ি, দু’হাত ভর্তি লাল কাঁচের চুড়ি, কপালে টিপ, চোখে কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। তিয়াশা আঁচল বিছিয়ে, চুল ছেড়ে পানিতে পা ভিজিয়ে খেলা করছে আর আকাশের পানে চেয়ে মিষ্টি কন্ঠে গাইছে,

“চাঁদের হাঁসি বাঁধ ভেঙেছে
উছলে পরে আলো
ও রজনীগন্ধা তোমার
গন্ধ সুধা ঢালো”

আদিল ধীর পায়ে হেটে এগিয়ে যাচ্ছে তিয়াশার দিকে। তার পরনেও রয়েছে সাদা পাঞ্জাবী আর পায়জামা। দেখতেও আরো বেশি সুদর্শন লাগছে তাকে। আদিল তিয়াশার কাছে যেয়ে তার চুল সরিয়ে এক পাশের কানে লাল ও সাদা ফুল গুঁজে দেয়। পাশে বসে তিয়াশাকে কাছে টেনে কপালে চুমু দিতে গেলে নৌকাটি হঠাৎ দুলে উঠে এক পাশে কাত হয়ে যায়।

ভীষন জোরে ধরাম শব্দ হয়। আদিল চমকে উঠে নিজেকে আবিষ্কার করে বিছানার পাশে মেঝেতে পড়ে আছে। আনমনে হেসে বিছানায় যেয়ে কোলবালিশ জড়িয়ে আবার শুয়ে পরে। কিন্তু দু চোখের পাতায় তার একবিন্দু ঘুম নেই। আদিলের তৃষ্ণার্ত হৃদয় যেন তিয়াশাকে দেখার তৃষ্ণায় তৃষিত হচ্ছে বারবার।

*
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ভোর ৬:৩০ এ এলার্ম বেজে উঠে। তিয়াশা তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে প্রতিদিনকার মতো সকালের নাস্তায় সবার জন্য স্যান্ডউইচ বানায়। তারপর ইউনিভার্সিটি তে যাবার জন্য তৈরি হয়ে নিজের নাস্তা সেরে বাকি নাস্তাগুলো টেবিলে ঢেকে রাখে। তারপর পৌষীকে ডেকে তুলে সে বের হয়ে যায় ইউনিভার্সিটি এর উদ্দেশ্যে। এর পরের কাজ গুলো পৌষীর।

পৌষী ঘুম থেকে উঠে তার ছোট ভাই ইশতিয়াক কে ডেকে তুলে। তারপর ফ্রেশ হয়ে স্কুল এর জন্য দুজন তৈরি হয়ে একসাথে নাস্তা করে স্কুল বাস ধরার জন্য বের হয়। কিন্তু তার আগে তাদের মা নীলিমা হাবিব কে ডেকে তুলে দিয়ে যায়। তারপর তারা দুই ভাই বোন বাসা থেকে বের হয়ে বাসার কাছের রাস্তায় স্কুল বাস পিকআপ পয়েন্ট এ যেয়ে যার যার স্কুল বাস এর জন্য অপেক্ষা করে।

অন্যদিকে তাদের মা নীলিমা হাবিব ঘুম থেকে উঠেই দুপুরের জন্য রান্না চড়িয়ে ঘরদোর পরিষ্কারের কাজে লেগে যায়। রান্না ও ঘর পরিষ্কার শেষে তিনি গোসল সেরে তৈরি হয়ে সকালের নাস্তা সেরে, টিফিন বাটিতে দুপুরের খাবার বেড়ে তা সাথে করে নিয়ে রওনা দেয় গ্রোসারি এর উদ্দেশ্যে।

*

আজ তিয়াশার ইকোনমিক্স ক্লাস। সপ্তাহে দুইদিন হয় তার এই ক্লাসটি। যদিও তার পড়াশোনার বিষয় কম্পিউটার সাইন্স আর তার সাথে ইকোনমিক্স এর কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও আমেরিকার ইউনিভার্সিটি গুলোতে প্রধান বিষয়ের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক ৩০ ক্রেডিটের অন্যান্য যেকোনো বিষয়ের ক্লাস নিতে হয়। তাই তিয়াশা নিয়েছে ইকোনমিক্স (৩ ক্রেডিট), কিন্তু প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ ইকোনমিক্স পছন্দ করেনা তাই তারা দুজন নিয়েছে ফুড এন্ড সাইন্স ক্লাস।

সকাল ৭:৩০ এ ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু আজ তিয়াশার আসতে একটু দেরি হয়ে যাওয়া তে সে ক্লাসের সামনের দিকে যেই চেয়ার এ বসে সেখানে খালি জায়গা না পেয়ে পেছনের দিকে এক কোনে একটি খালি সিট পেয়ে সেখানে যেয়ে বসে। তার ব্যাগ থেকে খাতাপত্র বের করে চেয়ারটির সাথে বিল্টইন ডেস্কটি নামিয়ে তাতে সেগুলো রাখতে গেলে লক্ষ্য করে ডেস্কটিতে একটি লাল টুকটুকে গোলাপ ফুল আর তার নিচে একটি ছোট্ট চিরকুট স্কচটেপ দিয়ে লাগানো। চিরকুটের উপরের অংশে লিখা “তিয়াশা”।

ব্যাপারটি দেখে তিয়াশা বেশ ভরকে যায়। চারপাশে তাকিতে দেখে নেয় সে, তারপর ইতস্তত হাতে গোলাপফুলটি স্কচটেপ থেকে ছাড়িয়ে তার বই খাতার উপরে রাখে এবং কাঁপা কাঁপা হাতে চিরকুটটি খুলে পড়তে শুরু করে।

“When I look into your eyes
It’s like watching the night sky
Or a beautiful sunrise
So much they hold

And just like them old stars
I see that you’ve come so far
To be right where you are
How old is your soul?

I won’t give up on us
Even if the skies get rough
I’m giving you all my love
I’m still looking up.”

– Your secret Admirer.

তিয়াশা চিরকুটটি ভাঁজ করে বইয়ের ভাঁজে রেখে বইটি ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে এবং ক্লাসে মন দেয়।

সব ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরেই তিয়াশা তার রুম এ ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। ব্যাগ থেকে ফুলটি বের করে তার ঘরের পড়ার টেবিলে রাখে এবং চিরকুটটি আরও একবার ভালো করে পড়ে। তিয়াশার ভীত মনে এক অজানা ভালো লাগা কাজ করতে থাকে।

সব হোমওয়ার্ক শেষে রাতের খাওয়া সেরে আজ তিয়াশা তাড়াতাড়ি ঘুমোতে চলে আসে। কাঁথার নিচে শুয়ে তিয়াশা ফোনে হেডফোন লাগিয়ে গুগলে সার্চ করে: “When I look into your eyes,
It’s like watching the night sky”. প্রথম সারিতেই “Jason Mraz” এর “I won’t give up” গানটির ইউটিউব এর লিঙ্ক চলে আসে। গানটি ভীষণ ভালো লাগে তিয়াশার। গানটি বারবার শুনতে শুনতে তিয়াশা ঘুমের এক অতল রাজ্যে পাড়ি জমায়।

আগের পর্বের লিংক:

১. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/915622528868467/

২. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/917622012001852/

৩. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/918995701864483/

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৩

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৩
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

ছেলেটিকে এতক্ষনে ভালো করে দেখার সুযোগ পেলো তিয়াশা। ছেলেটি আনুমানিক ৬ ফুট লম্বা, সুঠাম দেহ, হলুদ ফর্সা গায়ের বরণ ছেলেটি দেখতেও বেশ সুদর্শন। খাড়া নাক, হাসলে একগালে টোল ও পরে। ছেলেটির মাঝে কি যেন কি আছে চোখ ফেরানো যায়না। তবুও তিয়াশা চোখ সরিয়ে ধাতস্থ হয়ে বলে,

“Not again today, sir. I have heard it already.” (আজকের আর নয় জনাব। ইতিমধ্যে একবার শোনা হয়ে গেছে।)

কথাটি বলেই তিয়াশা হেসে দেয়, এবং ছেলেটিও তিয়াশার হাসি দেখে সাথে সাথে হেসে দেয়। তিয়াশা তারপর বলে উঠে,

“Jokes apart. I am really thankful to you for helping me that time.” (আর নয় রসিকতা। আমি আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই তখন আমাকে সাহায্য করার জন্য।)

“No problem at all. It was my pleasure. Every gentleman should do that.” (এটা কোনো সমস্যাই নয়। আমি এর জন্য আনন্দিত।প্রত্যেকটা ভদ্রলোকেরই সে সময় সাহায্য করা উচিত।)

“Thank you once again. Now tell me sir how can I help you? What would you like to order here?” (আপনাকে আবারও ধন্যবাদ। এখন বলুন জনাব আমি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি? আপনি কি অর্ডার করতে চান?)

ছেলেটি তার পছন্দানুযায়ী খাবার অর্ডার করে সেগুলো সাথে নিয়ে একটি হাই টেবিলে এ যেয়ে বসে যেখান থেকে তিয়াশা কে সরাসরি দেখতে পাওয়া যায়। তার খাবার শেষ করে হাতে কফির কাপ নিয়ে তাতে চুমুক দিতে দিতে ছেলেটি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তিয়াশা কে দেখছে আর ভাবছে আজকালকার যুগেও একটা মেয়ে এতটা সাদামাটা কিভাবে হতে পারে? মুখে না আছে কোনো মেকআপ, না আছে লিপস্টিক তবুও কত স্নিগ্ধ লাগছে মেয়েটাকে। কাজের সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট , কালো ক্যাপ ও বর্ণিল টাই তেও মেয়েটির রূপ যেন আরও জ্যোতি ছড়াচ্ছে। নাহ ছেলেটি চোখ সরাতে পারছেনা। কেন এত ভালো লাগছে তিয়াশা কে দেখতে তার?

রাত ৯ টা। তিয়াশার ম্যানেজার এলবাস ট্রয় তিয়াশাকে আজকে কাজে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এক ঘন্টা আগেই ছুটি দিয়ে দেয়। তিয়াশাও খুব খুশি হয়ে কাজের জামা বদলে ম্যাকডোনাল্ড’স এর প্রধান দরজার কাছে গেলে দেখতে পায় ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাগ থেকে ফোনটি বের করে প্যাট্রিসিয়াকে কল দেয়, কিন্তু দুই তিনটা রিং হবার পরেই রিং হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে তিয়াশা আবার কল করার জন্য ফোনটি কানের থেকে নামালে দেখে এক ফোটাও চার্জ নেই। আর তারপরেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



তিয়াশা খুব অসহায় বোধ করে। কি করবে বুঝতে পারছেনা। সাথে ছাতাও নেই যে এই বৃষ্টির মাঝে বের হয়ে গাড়ি ডাকবে। দরজার সামনে কিছুক্ষন পায়চারি করে সাতপাঁচ ভেবে বৃষ্টির মাঝেই বের হয়ে যায় মনে প্রত্যাশা নিয়ে যদি কোনো ট্যাক্সি পাওয়া যায়।

বাইরে বেশ অন্ধকার, শুধু দুইটা স্পটলাইট জ্বলছে, আর সামনেই ম্যাকডোনাল্ড’স এর ট্রেডমার্ক লোগো প্রায় ৩০ ফুট লম্বা খাম্বার উপরে বিশাল একটা M লেখা। আধো আলো, সাথে বৃষ্টি আর ক্ষনে ক্ষনে ঝড়ো বাতাসে প্রায় ভূতুড়ে লাগছে পরিবেশটা। তিয়াশার শরীর হটাৎ কেন জানি শিরশির করে কেঁপে উঠে। ঠান্ডা বাতাসে, নাকি এই ভুতুড়ে অনুভূতি তে? কারন যেটাই হোক না কেন, তিয়াশা জলদি বাসায় যাওয়ার তাগিদ অনুভব করে।

তিয়াশা এই সাতপাঁচ ভাবে আর দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির আশায়। হঠাৎ অনুভব করে যে মাথার উপরে কে যেন একটা ছাতা ধরেছে। তিয়াশা ভড়কে যায়, সাথে সাথে ঘুরে দেখতে গেলে একটি ছেলের বুকে যেয়ে ধাক্কা খায়। মুখ সরিয়ে দেখতে পায় তখন সাহায্য করা সুদর্শন ছেলেটি। তিয়াশা লজ্জা পেয়ে একটু সরে এসে বলে,

“Sorry, I didn’t see you. What are you doing here?” (দুঃখিত, আমি আপনাকে দেখতে পাইনি? আপনি এখানে কি করছেন?)

“I am here at your service mam. I guess you need a lift. If you want I can drop you off at your address.” (আমি এখানে আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য ম্যাডাম। আমার ধারণা আপনার লিফ্ট লাগবে। আপনি চাইলে আপনাকে আমি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারি।)

“Sorry, I cant take your help all the time.” (দুঃখিত, আমি সবসময় আপনার কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারিনা।)

তারপর তিয়াশা একটু কিছু ভেবে বলে,

“If you really want to help me, could you please call me a taxi? My phone is dead.” (আপনি সত্যি যদি আমাকে সাহায্য করতে চান, অনুগ্রহ করে একটি ট্যাক্সি ডেকে দিতে পারবেন কি? আমার ফোনটি বন্ধ হয়ে গেছে।)

“Of course, I can do that. But are you sure you don’t want me to drop you off?” (অবশ্যই পারবো। কিন্তু আপনি নিশ্চিত যে আপনি চান না আমি আপনাকে আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেই?)

“Yeah I’m sure. I don’t want to give you hard time. Just call a taxi. I would really appreciate your help.” (জ্বি আমি নিশ্চিত। আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনা। শুধু একটি ট্যাক্সি ডেকে দিন। আমি তাতেই সাধুবাদ জানাই আপনাকে।)

ছেলেটি কথা না বাড়িয়ে পকেট থেকে ফোন বের করতে গেলে অন্য হাতে ধরে রাখা ছাতাটি বাতাসের চাপে একপাশে কাত হয়ে যায়। তিয়াশা কিছু না ভেবেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সাথে সাথে ছাতা টি ধরে সোজা করে। হঠাৎ ঠান্ডা নরম স্পর্শ পেয়ে ছেলেটি কেঁপে উঠে। তিয়াশা ও ছেলেটির দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখতে পায় সে ছেলেটির হাতের উপর হাত রেখে ছাতা টি ধরে আছে। তৎক্ষণাৎ তিয়াশা হাত সরিয়ে ফেলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ছেলেটিও কিছু হয়নি এমন ভাব নিয়ে ট্যাক্সি কল করে এবং জানায় গাড়িটা আসতে ১০ মিনিট সময় লাগবে।

এদিকে বৃষ্টি বেড়ে চলেছে। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দুজনে ম্যাকডোনাল্ড’স এর ভেতর দরজার সামনে দাঁড়ায়। মুখোমুখি দুজন দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু কারো মুখে কোনো সাড়া নেই। ছেলেটি মনে মনে কত কথা ভাবছে মেয়েটিকে বলবে কিন্তু গলায় এসে সব আটকে যাচ্ছে।

ঠিক ১০ মিনিট পরে গাড়িটি আসলে তিয়াশাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে বিদায় জানায় ছেলেটি।

গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতেই তিয়াশা চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে,

“Hey stranger! I didn’t get to know your name.” (এই যে অপরিচিত। আপনার নামটি তো জানা হলোনা।)

“It’s Adil. Adil Muzdahir.” (আদিল। আদিল মুজদাহীর।)

“Thank you Mr. Muzdahir. I will never forget this day.” (ধন্যবাদ মিস্টার মুজদাহীর। আমি আজকের দিনটি কখনো ভুলবোনা।)

আদিল ও হেসে আনমনে উত্তর দেয়,

“I will never forget you too.” (আমিও আপনাকে কখনো ভুলবোনা)

চোখের পলকে গাড়িটি অন্ধকারে মিলিয়ে যায় আর আদিল একবুক নিঃশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে রয় তিয়াশার চলে যাওয়ার দিকে।

পর্ব ০৪ আসছে…

আগের পর্বের লিংক:

১. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/915622528868467/

২. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/917622012001852/

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০২

0

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০২
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

ক্লাস শেষ করে ম্যাথিউ কে বিদায় জানিয়ে প্যাট্রিসিয়া ও তিয়াশা পার্কিং লটের দিকে হাঁটা শুরু করে।

প্যাট্রিসিয়া ও তিয়াশা পাশাপাশি বাড়িতে থাকে, তাই প্যাট্রিসিয়ার গাড়িতেই দুজনে একসাথে আসা যাওয়া করে। গাড়ি প্যাট্রিসিয়ার হলেও দুজনে পাল্টা পাল্টি করে গাড়ি চালায় ওরা, যখন যার মনে চায়।

“Give me the key. I am driving today”
(চাবিটা দাও তো, আজকে আমি-ই চালাবো)

বলতে বলতে তিয়াশা হাতটা এগিয়ে দিলো প্যাট্রিসিয়ার দিকে। চাবিটা নিয়ে “আনলক” বোতামটা চাপতেই কিছু দূরের হোন্ডা সিভিক মডেলের নীল রঙের সেডান গাড়িটা “পিক” করে একটা আওয়াজ করে জেগে উঠে।

তিয়াশা ড্রাইভিং সিটে বসে সিট বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে বললো,

“Pat, I have to go to work now. Manager called me. Employee is short today, so he requested me to be there by 3.30 pm.” (প্যাট, আমাকে কাজ যেতে হবে এখন। ম্যানেজার ফোন করে বলেছে আজকে কর্মী সঙ্কট, তাই অনুরোধ করেছে আমাকে সাড়ে তিনটার মধ্যে পৌঁছতে।)
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



প্যাট্রিসিয়া তখন বলে উঠলো,

“Ok, then how are you gonna get home dear? If you want, I can pick you up. Just let me know the time.” (আচ্ছা, তাহলে বাসায় ফিরবে কিভাবে তুমি? তুমি যদি চাও তাহলে আমি তোমাকে নিতে আসতে পারি। শুধু আমাকে সময় টা জানিও।)

তিয়াশা খুশি হয়ে উঠে,

“That’s great! I will let you know after I talk to my Mom.” (সেটা তো খুবই ভালো হয়, আমি তোমাকে জানাবো আম্মুর সাথে কথা বলে)

আমেরিকার একটি মজার বিষয় হচ্ছে এখানে হাইস্কুলে পড়া সময়কালীন থেকেই সব ছেলে মেয়েরা নিজেদের হাত খরচের জন্য বিভিন্ন দোকানে, রেস্তোরাঁতে অথবা শপিং মলে খণ্ডকালীন কাজ করে থাকে। সেই সাথে এখানে কোনো কাজকেই ছোট করে দেখা হয়না। সবাই ছোট বড়ো সব কাজকেই শ্রদ্ধা করে। পাশাপাশি এসব কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এবং তা প্রফেশনাল চাকরির সিভি তে উল্লেখ করলে তা বিশেষ ভাবে গণ্য করা হয়। সদ্য পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এটা একটা প্লাস পয়েন্ট।

গাড়ি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ মাইল দুরে ম্যাকডোনাল্ড’স এর সামনে গাড়ি রেখে তাড়াহুড়ো করে প্যাট্রিসিয়া কে বিদায় জানিয়ে, যেতে যেতে তিয়াশা বলে,

“Bye Pat. I will let you know when you need to pick me up, if needed.” (বিদায় প্যাট। আমি তোমাকে প্রয়োজন হলে জানাবো যে কখন আমাকে নিতে আসতে হবে।)

তিয়াশা ম্যাকডোনাল্ড’স এর ক্যাশিয়ার পদে খণ্ডকালীন কাজ করে। তার কাজ হচ্ছে লাইন এ দাঁড়ানো মানুষের কাছ থেকে খাবার অর্ডার নেয়া এবং তাদের খাবার কিচেন থেকে তৈরি হয়ে আসলে সেগুলো সংগ্রহ করে প্যাকেটজাত করা এবং যার যার অর্ডার তাদের রিসিট নম্বর ডেকে তার অর্ডারকৃত খাবারের প্যাকেটটি দিয়ে দেয়া। শুনতে খুব সহজ মনে হলেও, কাজটা এতটা সহজ না তা তিয়াশা খুব ভালো করেই বুঝেছে এতদিনে।

ম্যাকডোনাল্ড’স এ ঢুকতে ঢুকতে তিয়াশা তার মা নীলিমা হাবিব কে ফোন দিয়ে বলে,

“আম্মু, আজকে কাজে আসতে হলো। ম্যানেজার ফোন করে আসতে বললো।”

“আচ্ছা। তোর কাজ শেষ হবে কয়টায়? আর বাড়ি ফিরবি কি করে? আমার তো কাজ শেষে গুছিয়ে বাসায় আসতে আসতে ১১ টা বেজে যাবে। বাড়ি থেকে তো তোর কাজের জায়গা উল্টো পথে।”

“তুমি চিন্তা করোনা আম্মু, আমার কাজ সম্ভবত রাত ১০ টায় শেষ হবে। প্যাট বলেছে ওকে জানাতে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে ও এসে আমাকে নিয়ে যাবে।”

“ঠিক আছে মা। সাবধানে আসিস।”

বলেই ফোন কেটে দিলো নীলিমা হাবিব।

মা নীলিমা হাবিব ও ছোট দুই ভাই বোন নিয়ে তিয়াশাদের ৪ জনের সংসার। তিয়াশার পরেই তার বোন পৌষী হাবিব যে কিনা এখন হাইস্কুলে ১১ গ্রেডে পড়ে, আর ছোট ভাই ইশতিয়াক হাবিব পড়ে মিডল স্কুল এর ৭ গ্রেডে। তার বাবা আহসান হাবিব পৃথিবীর মায়া ছেড়েছেন ৫ বছর আগে। আহসান হাবিবের একটি নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত গ্রোসারি স্টোর আছে লস এঞ্জেলেস শহরে। তার মা নীলিমা হাবিব তারই দেখাশোনা করে এখন। তিয়াশাও ওর পড়ালেখা আর খন্ডকালীন কাজের ফাঁকে সময় পেলেই তাদের পারিবারিক গ্রোসারিতেও সময় দেয়।

তিয়াশা ম্যাকডোনাল্ড’স-এ ঢুকে কাজের পোশাক পরিধান করে কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে মানুষের লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে গেছে কাউন্টার এর সামনে খাবার অর্ডার দেয়ার জন্য।

কাজ করতে করতে রাত ৮ টা বেজে গেছে, কাজ শেষ হবার বাকি আছে আরও ২ ঘন্টা। এক মুহূর্ত জিরোনোর সময় পায়নি তিয়াশা। এখনো সামনে বিশাল লম্বা লাইন। তিয়াশা ভেবে পায়না যে আজ এত মানুষ কোথা থেকে আসছে। এরই মধ্যে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে দুজন লম্বা আফ্রিকান-আমেরিকান খাবার অর্ডার করার জন্য। ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছেনা, নেশায় টলছে, চোখ গুলো লাল হয়ে আছে সাথে মুখ দিয়ে বের হচ্ছে মদের তীব্র গন্ধ। তিয়াশা দেখেই বুঝতে পারলো এরা দুইজন পুরাই মাতাল হয়ে আছে। ভীষণ বিব্রত বোধ করছে ও, তবুও কাজের খাতিরে অস্বস্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“How may I help you sir? What would you like to order?” (আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি? কি অর্ডার করতে চাচ্ছেন?)

আফ্রিকান-আমেরিকান দুজন খাবার অর্ডার না করে বরং নানা রকম কথা বলার চেষ্টা করছে তিয়াশার সাথে।

তিয়াশার নাম নেইমপ্লেট থেকে দেখে তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে,

“Hi Tiyasha. It’s a very beautiful name.” (হাই তিয়াশা। এটা খুব সুন্দর একটা নাম।)

আরেকজন আফ্রিকান-আমেরিকান কাউন্টার এ ঝুকে তিয়াশার কাছাকাছি এসে জিজ্ঞেস করে,

“Hi, do you know you are very beautiful. Would you like to come with us in a party?” (হাই, তুমি কি জানো তুমি অনেক সুন্দর? তুমি কি আমাদের সাথে পার্টি তে যাবে?)

তখন দুজন-ই একসাথে বলে উঠে,

“We will have lots of fun, and you will like it too.” (আমরা অনেক মজা করবো এবং তোমার ও অনেক পছন্দ হবে।)

তিয়াশা ভীষণ বিব্রত হয়, পেছনে সরে গিয়ে বলে,

“I would really appreciate if you could tell me what would you like to order here?” (আমি খুব খুশি হবো আপনারা যদি আমাকে জানান আপনারা কি অর্ডার করতে ইচ্ছুক এখানে)

আফ্রিকান-আমেরিকান দুজন আরো মাতলামি শুরু করে দেয়। ঠিক তখন-ই পেছন থেকে একটি ছেলে কাউন্টার এর সামনে এসে একটু জোরে চিৎকার করেই বলে,

“I would like to talk to the manager, please. How long we will be waiting on line?” (আমি ম্যানেজার এর সাথে কথা বলতে চাই। আমরা এই লাইনে দাঁড়িয়ে আর কতক্ষন অপেক্ষা করবো?)

চেঁচামেচি শুনে অন্য এক কর্মকর্তা ম্যানেজারকে খবর দিলে কিচেন এর পেছনে অফিস রুম থেকে ম্যানেজার এলবাস ট্রয় বের হয়ে আসে এবং সেই ছেলেটির সামনের এসে বেশ ভদ্র ভাবে জিজ্ঞেস করে,

“Yes sir, tell me is there any problem? How can I help you?” (জ্বি জনাব, বলুন আপনার কি সমস্যা? কিভাবে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।)

তখন ছেলেটি ম্যানেজার কে উদ্দেশ্য করে তিয়াশা কে দেখিয়ে বলে,

“Would you please help this lady? I guess she is in trouble with those two men. Also all these people are waiting to order their food.” (আপনি কি দয়া করে মেয়েটিকে সাহায্য করবেন? আমার ধারণা তিনি ঐ লোক দুটোর কারণে কোনো ঝামেলায় পড়েছে। এবং আমরাও অপেক্ষা করছি আমাদের খাবার অর্ডার করার জন্য।)

ম্যানেজার এলবাস ট্রয় কাজে বেশ অভিজ্ঞ লোক।

খুব দ্রুতই সে বুঝতে পেরেছে কি হয়েছে এখানে।

তিয়াশারা সাথে সেই দুটো আফ্রিকান-আমেরিকানদের ব্যাবহার দেখে এবং ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ছেলেটির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে। তারপর তিয়াশা কে অন্য একটি কাউন্টার এ পাঠিয়ে সেই দুজন আফ্রিকান-আমেরিকান এর সাথে কথা বলা শুরু করে। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে ম্যানেজার ৯১১ এ কল করে পুলিশের সাহায্য চায়। ৯১১ এ কল করার ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ চলে আসে এবং অবস্থা দেখে সেই দুজন মাতালকে ধরে নিয়ে চলে যায়।

অন্যদিকে তিয়াশা তখন অন্যান্যদের খাবারের অর্ডার নিচ্ছিল। সবার অর্ডার নেয়া হয়ে গেলে তখন সেই ছেলেটি তিয়াশার সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ঠোঁটে একটি মুচকি হাসি দিয়ে মজার ছলে বলে উঠে,

“Hi Tiyasha. It’s a very beautiful name.” (হাই তিয়াশা। এটা খুব সুন্দর একটা নাম।)

পর্ব ০৩ আসছে…

আগের পর্বের লিংক:

১. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/915622528868467/

পূর্ণিমা সন্ধ্যায় পর্ব ০১

0

পূর্ণিমা সন্ধ্যায় পর্ব ০১
লেখিকা_তাসনীম_তুষার

আজ আবহাওয়াটা ভীষণ ভালো, সূর্য উজ্জ্বল দিন। ২৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস, খুব গরম অথবা খুব ঠান্ডা ও না, সাথে মৃদুমন্দ বসন্ত বাতাস। লস এঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া ক্যাম্পাস এর সুবিশাল সবুজ ঘাসে আবৃত লন, চারপাশে প্রচুর গাছগাছালি আর তাতে ধরেছে নান রঙের ও বর্ণের ফুল। এছাড়া লন এর চারপাশে ল্যাম্পপোস্ট এর মত খাম্বা গুলোতে ঝাড়বাতির মতো করে নানা রকম ফুলের ঝাড় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আরও আছে টিউলিপ এর সমারোহ প্রত্যেকটি গাছের গোড়ায়। তার সাথে যোগ হয়েছে ছোট ছোট প্রজাপতি দের আনাগোনা যা জানান দিচ্ছে বসন্ত এসেছে বলে।

সেই সুবিশাল লন এর এক কোনে গাছের পাশে বসে আছে তিয়াশা। সাথে আছে ম্যাথিউ আর প্যাট্রিসিয়া। একটু আগেই ক্যালকুলাস ক্লাস শেষ করে এসেছে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ক্লাস শুরু হবার আগে হাতে আছে এক ঘন্টা, এই সময় টাতে গ্রুপ স্টাডি করার উদ্দেশ্যে তিয়াশা ও তার বন্ধুরা মাঠে এখন।

তিয়াশা হাবিব, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে এসেছে যখন, তখন তার বয়স ১২। ৫ ফিট ২ ইঞ্চি উচ্চতার শুকনা পাতলা শ্যাম-ফর্সা বর্ণের মেয়ে তিয়াশা। লাজুক প্রকৃতির মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে তিয়াশার মায়াময়ী মুখে সর্বদা হাসি লেগে থাকে। সে আমেরিকা তে বড় হলেও মনে প্রানে সে একজন খাঁটি বাঙালি।

তিয়াশা ব্যাচেলর ইন সাইন্স এর ফাইনাল ইয়ার এর ছাত্রী ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার। পড়াশোনার বিষয় কম্পিউটার সায়েন্স। বেশ সিরিয়াস সে তার পড়াশোনায়, সময় নষ্ট করতে একদম ই পছন্দ করেনা। তাইতো ক্লাস শেষ করে মাঠে এসেই বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলে,
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



“Guys, let’s finish the calculus home work professor Christopher gave us.” (চলো প্রফেসর ক্রিস্টোফার এর দেয়া ক্যালকুলাস হোম ওয়ার্ক গুলো শেষ করে ফেলি)

প্যাট্রিসিয়া একটু অধর্য্য হয়েই বলে উঠলো,

“Oh come on Tee (তিয়াশা কে সংক্ষেপে টি বলে ডাকে), we just finished the class. Let’s refresh our mind first.” ( টি, মাত্রই ক্লাস শেষ করলাম। আগে আমাদের মাইন্ড রিফ্রেশ করি)

ম্যাথিউ ও প্যাট্রিসিয়া কে সমর্থন জানিয়ে বললো,

“Tee, we still have an hour in our hand. So relax, we will finish it in no time.” (টি, আমাদের হাতে এখনো ১ ঘন্টা সময় আছে। রিলাক্স, আমরা এটা দ্রুতই শেষ করে ফেলবো)

তিয়াশা একটু কিছু ভেবে বললো,

“Ok, dear friends. Since the weather is spring like, let’s listen to a music. But it will be in my choice.” (ঠিক আছে বন্ধুরা, যেহেতু আবহাওয়া টা বসন্তের মতো, চলো একটা গান শুনে ফেলি। কিন্তু গানটি হবে আমার পছন্দের।)

ম্যাথিউ কে বলল,

“Matt (ম্যাথিউ কে সংক্ষেপে ম্যাট), give me your portable speaker.” (ম্যাথিউ, তোমার পোর্টেবল স্পিকার টা দাও তো।)

ম্যাথিউ জোন্স সাদা মার্কিন নাগরিক। তিয়াশা ও প্যাট্রিসিয়ার হাইস্কুল এর বন্ধু। একসাথে হাইস্কুল শেষ করে একই বিষয়ে একই ইউনিভার্সিটি তে পড়াশোনা করছে। গান শুনতে ভালোবাসে, কানে সবসময় হেডফোন পরে ঘুরে বেড়ায়। আর যখন বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠে, তার স্পিকার টা দারুন কাজে লাগে, মূহুর্তগুলোকে আরো আনন্দ ঘন করতে।

সবার পরিচয় যখন দিলাম, আসুন একটু জেনে নেই প্যাট্রিসিয়া সম্পর্কেও। প্যাট্রিসিয়া উইলিনস্কি একজন আফ্রিকান আমেরিকান। প্যাট্রিসিয়া আর তিয়াশা প্রতিবেশী তাই তাদের বেড়ে উঠা ছেলেবেলা থেকেই একসাথে। সেই থেকে দুজনের মাঝে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক যা আজ অব্দী বিদ্যমান।

যাই হোক, ম্যাথিউ তার ব্যাগ থেকে স্পিকার টা বের করে তিয়াশার হাতে দিলে সে তার ফোন ব্লুটুথ এর মাধ্যমে সংযোগ করে একটি বাংলা গান ছাড়ে।

“বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে
সইগো বসন্ত বাতাসে।

বন্ধুর বাড়ির ফুলবাগানে
নানান বর্ণের ফুল।
ফুলের গন্ধে মন আনন্দে
ভ্রমর হয় আকুল।
সইগো বসন্ত বাতাসে।”

প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ, তিয়াশার সাথে থেকে বাংলা গান শুনে কিছুটা অভ্যস্ত এবং বাংলা ও বুঝে কিছু কিছু তাই তারাও গানটি বেশ উপভোগ করতে থাকে। মাথার নীচে হাত দিয়ে ম্যাথিউ ও প্যাট্রিসিয়া সবুজ ঘাসের উপর শুয়ে চোখ বন্ধ করে মনোযোগ দিয়ে গান শুনছে। আর তিয়াশা তাদের মাঝে বসে এক পা সোজা ছড়িয়ে দিয়ে, আরেক পায়ের হাটু ভাঁজ করে হাটু জড়িয়ে তার উপরে থুতনি লাগিয়ে গানটি শুনতে থাকে একমনে। বসন্তের মৃদু মন্দ বাতাসে, তিয়াশার অবাধ্য সিল্কি লম্বা চুলগুলো ও যেন গানের তালে তালে খেলছে এবং তিয়াশার চোখে মুখে এসে লাগছে বারংবার।

বসন্তের এই গানটি বাতাসের সাথে পুরো লন জুড়ে যখন ভেসে বেড়াচ্ছে, ঠিক তখন লন এর অন্য প্রান্ত থেকে দুইজোড়া চোখ স্থির হয়ে যেন তিয়াশাকেই দেখছিল।

পর্ব ০২ আসছে…