বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 14



নিষ্ঠুর নিয়তি পর্ব-০৩

#নিষ্ঠুর_নিয়তি
পর্ব – ৩
Kzal Mithun

আমি আস্তে করে আমার হাসব্যান্ডের হাতটা আমার কোমর থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলাম । পেটে ক্ষিদা , মন মেজাজ ভালো নেই আমার । রাত দুপুরে উনার এসব ন্যাকামি একদম ভালো লাগছে না আমার । উনি যে আমাকে ভালোবেসে কাছে টানছে না ,সেটা আমি বেশ বুঝতে পারছি । বিয়ে বাড়িতে সুন্দরি সুন্দরি মহিলাদের দেখে উনার মাথা গরম হয়ে আছে ।

বিরক্ত হয়ে বললাম – প্লিজ ছাড়ো আমাকে । ভালো লাগছে না এসব ! তুমি জানো আমি অসুস্থ ! তারপরও তুমি ….! আমার কথা শেষ না হতেই আমার হাসব্যান্ড আমার কোমর ছেড়ে দিলো । মুখে অসম্ভব রকমের বিরক্তির ভাব নিয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো । ধ্যুর ! অহস্য ! সরে যাও আমার কাছ থেকে । এই অসুস্থতার নাটক আর কতদিন করবা বলোতো ..? বা..লের এক প্যানপ্যানি আর ভালো লাগে না । সারাদিন খেটুখুটে বাসায় আসি , আর উনি আমাকে রাতের বেলায় পা ভাঙার নাটক দেখান ! আর জাস্ট নিতে পারছি না । বিরক্ত লাগছে আমার ! দাঁত মুখ খিচিয়ে চেচিয়ে উঠলো সে ।

রাত দুপুরে হাসব্যান্ডের এমন অসভ্য আচরনে আমি একদম ফ্রিজ হয়ে গেলাম । ছি ! ছি ! ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে । দুজনেই ওরা প্রাপ্ত বয়স্ক । ওরা মনে হয় এখনও ঘুমায়নি । পাশের রুমেটাই আমার ছেলের । ওদের বাবার চিৎকার কথা শুনে জানি কি ভাবছে ওরা ! ইস্ ! কি লজ্জা ! কি লজ্জা ! মনে হচ্ছে আমি মাটির নিচে লুকাতে পারলে বাচঁতাম ।

চাপা কন্ঠে বললাম – প্লিজ চুপ করো । পাশের রুমে ছেলে আছে । রাত দুপুরে তোমার চিৎকার শুনলে কি ভাববে বলতো ?

লেকচার মেরো না । সারাক্ষন শুধু জ্ঞান দিতে থাকে । বিরক্তিকর ! যাও , পাশের রুমে গিয়ে ঘুমাও । বলেই উনি পাশ ফিরে অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে পড়লো ।

হাসব্যান্ডের এতো অপমান সত্তেও ঘর থেকে বের হতে পারলাম না শুধু লজ্জায় । ছেলে মেয়ের সামনে মুখ দেখাবো কেমন করে ? যদি জিজ্ঞেস করে – ওদের বাবা কেনো আমাকে রাত দুপুরে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে ? নিজের সন্মান বাঁচাতে শক্ত পাথর হয়ে বসে থাকলাম উনার পাশেই ।

সারারাত এক ফোটা চোখের পাতা এক করতে পারিনি । পাশে শুয়ে থাকা মানুষটা গভির ঘুমে আচ্ছন্ন ; অথচ তার প্রতিটা নিশ্বাস যেনো আমার কানের কাছে তপ্ত সীসার মতো বিঁধছিলো । যে মানুষটা সারা সন্ধ্যা অন্য নারীদের সাথে পান , মিষ্টি খেয়ে আনন্দ ফুর্তি করেছে ; সে মানুষটা একবারও ভাবিনি যে তার অসুস্থ স্ত্রী ঘরে না খেয়ে বসে আছে । আমার শরীরের পঙ্গুত্বের চেয়ে আমার মনের পঙ্গুত্ব এখন আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে ।

ফজরের আযান দিলে নিজের রুম থেকে বের হলাম । লাঠি নিলাম না হাতে শব্দ হবে বলে। দেয়াল ধরে আস্তে করে দরজা খুললাম । তারপর এক পায়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ডাইনিং এ আসলাম । কাল রাতে বাকি ওষুধগুলো না খাওয়াতে ব্যথা কমেনি । ঠোঁট ব্যথায় টন টন করছে । তবে পায়ের ব্যথাটা একটু কম মনে হলো । একটা চেয়ার টেনে বসলাম । বেড রুম থেকে এ পর্যন্ত আসতেই কেমন জানি হাপিয়ে গেলাম । এ কদিনে শরীরটা অনেক দুর্বল হয়ে গেছে । গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে । এক গ্লাস পানি ঢেলে ঢক ঢক করে এক নিশ্বাসে খেলাম । মুহূর্তে ভুলে গেলাম ঠোঁটের ব্যথা । উফ্ ! শান্তি ! আলহামদু লিল্লাহ !

আমি উঠার পর পরই দেখলাম আমার ছেলে আলিফ উঠে এসেছে । ওকে দেখে চমকে উঠলাম ! আলিফের চোখ দুটো একদম রক্ত লাল হয়ে আছে । চুলগুলো এলোমেলো । মুখটা শুকনো । সারারাত ঘুমায় নি মনে হচ্ছে আমার ছেলেটা । বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো । হাত বাড়িয়ে ছেলেকে কাছে টেনে নিলাম । কি হয়েছে আব্বা ! মুখটা এমন শুকনো কেনো রে ? আমার মনে হচছে তুই কাল বিয়ে বাড়িতে পেট ভরে খাসনি ।

ছেলে আমার কথা শুনে আমার বুকে মুখ লুকালো । আমি ছেলেকে জড়িয়ে ধরলাম বুকের মধ্যে । কি যেনো একটা বলতে চায় ও আমাকে । কিন্তু এখনি কিছু শুনতে চাই না আমি । পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা । রাতের ওষুধগুলোও খাওয়া হয়নি । সবার আগে কিছু খেয়ে ওষুধ খেতে হবে । ডোজ কমপ্লিট না করলে সহজে সুস্থ হবো না আমি । এখন যদি ছেলের মুখে নিজের আপন লোকজন সম্পর্কে নেগেটিভ কিছু শুনি , তাহলে আমার খাওয়ার মুডটাই নষ্ট হয়ে যাবে । মনের উপর এখন আর আমি চাপ বাড়াতে চাচ্ছি না । ছেলের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললাম – আমাকে একটু চা করে খাওয়াবি আব্বা ? ভিষন ক্ষুধা পেয়েছে রে । তুই চা কর আমি নামাজটা পড়ে নিই ! আর হ্যা ! পারলে দুটো পরোটা ভাজিস আব্বা ! শুধু বিস্কিট চা খেয়ে পেট ভরবে না এখন ।

আমার ছেলে পরোটা ভেজেছে , দুইটা ডিম পোচ করেছে । ফ্রিজে মাংস ছিলো সেটাও গরম করেছে । মা ছেলে খেতে বসেছি । ছেলে বেশ আদর নিয়ে জিজ্ঞেস করলো – আম্মু ! খাইয়ে দেবো ? মাথা ঝাকিয়ে বললাম না ! চল , মা ছেলে মিলে দুজন একসাথে খাই ।

খাওয়া প্রায় শেষের দিকে । ওরা বাপ বেটি তখনও ঘুম থেকে উঠেনি । সকাল প্রায় ৯ টা বাজে । ফোন বাজলো আমার । ভাশুরের বউর ফোন । ভ্রু কুঁচকে মনে মনে বললাম – এতো সকালে এই মহিলা কেনো ফোন দিচ্ছে ? নিশ্চয় কোনো মতলব আছে । ছেলের দিকে তাকালাম । ছেলে ফোন ধরতে না করলো । বললো – আগে খাওয়া শেষ করো আম্মু ! উনার দরকার হলে আবার উনি ফোন করবে । তুমি জানোনা আম্মু , কাল হলুদের অনুষ্ঠানে বড় চাচি আর ছোট চাচি মিলেই আপুনিকে নাচতে পাঠিয়েছে । আমি বার বার আপুনিকে না করলাম কিন্তু শুনলো না । ছোট চাচি ইচ্ছে করেই ক্যামেরাম্যানকে দিয়ে আপুনিকে বাজে ভাবে ভিডিও করিয়েছে যাতে দেখতে বাজে দেখায় , আর উনার ভিউ ব্যবসা ভালো হয় । উনার ব্লগের ভিউ বাড়ানোর জন্য আমার বোনটাকে উনারা দুজন মিলে সবার সামনে হাসির পাত্র বানিয়েছে আম্মু ।

মেজাজটা চট করে উঠে গেলো – তোর বাবা কি তখন ওখানে বসে ঘাস কাটছিলো ? সে দেখেনি যে তার মেয়েটাকে ওরা বোকা বানাচ্ছে ! বাবা তো তখন অন্য আন্টিদের সাথে মজা করতে ব্যস্ত ! বলেই ছেলে মাথা নিচু করে ফেললো । আহারে বাচ্চাটা আমার ! নিজের বোনের অপমান আর চোখের সামনে নিজের বাবার অসভ্য আচরন মেনে নিতে পারছে না । তাইতো কাল সারারাত আমার ছেলেটা ঘুমোতে পারিনি ।নিজেকে এ মুহুর্তে খুব অসহায় লাগলো । ঘর বন্দি হয়ে আছি দুই সপ্তাহও হয়নি । অথচ আসে পাশের আপন মানুষগুলো পিঠে ছুরি চালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ! কিভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করা যায় , সেই নেশায় এখন মত্ত এরা । বুক চিরে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললাম । নাহ্ ! এভাবে শুয়ে বসে থাকলে হবে না । সুস্থ হতে হবে আমাকে ।

ছেলের রুমে ঘুমিয়েছিলাম আমি । বাসায় লোকজনের কোলাহলে ঘুম ভাঙলো আমার । ঘড়ির দিকে তাকালাম । বেলা এগারোটা বেজে গেছে । ছেলে আমাকে ওর রুমে দিয়ে দরজা আটকে দিয়েছিলো যাতে আমি না উঠি ।একটু ঘুমিয়ে অবশ্য ফ্রেশ লাগছে এখন । কিন্তু ! কারা এলো বাসায় ? তখনি মেয়ে দরজা খুললো । বিছানায় কেবল উঠে বসেছি আমি । আম্মু ! দাদা – দাদু আর ছোট চাচিরা এসেছে । শিগগির ওঠো ! আর কতো ঘুমাবা ?মেয়ের কথা শুনে ভিষণ অবাক হলাম আমি । নিজের কান দুটোকে বিশ্বাস হলো না আমার । মুখটা বিকৃত করে নাক মুখ কুঁচকে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম – কারা এসেছে ? মেয়ে গলা চেপে আবার বললো – আরে দাদা দাদীরা এসেছে সেই কখন ! তুমি ঘুমাচ্ছো বলে আলিফ তোমাকে ডাকতে নিষেধ করেছে । এতে কিন্তু দাদী খুব মাইনড করেছে । বাবাও ক্ষেপে আছে আলিফের উপর !

যতটুকু না সুস্থ লাগছিলো তার চেয়েও এখন বেশি অস্বস্তি লাগতে লাগলো উনাদের আসার কথা শুনে । বিয়ে বাড়ি রেখে আমার বাসায় এতো ভিড় করার কি মানে সেটা বুঝলাম না । দরজা খোলা দেখে ছোট দেবরের বউ ছেলের রুমে ঢুকলো । আরে ভাবি কি অবস্থা তোমার ? পা কি সত্যিই ভেঙেছে নাকি হুদাই ব্যান্ডেজ লাগাইছো … হা ..হা . হি .. হি বলেই সে অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো । মেজাজ ঠান্ডা রাখলাম । পাত্তা দিলাম না ওর কথায় । মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে এখন আমাকে ।

শশুর শাশুড়ির সাথে দেখা করার জন্য লাঠি ছাড়াই দেয়াল ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ড্রইংরুমে আসলাম । শাশুরির মুখটা বেশ গম্ভির হয়ে আছে দেখলাম । শশুর আব্বা আর আমার ছেলে ব্যস্ত হয়ে উঠলো – আহা ! তুমি কষ্ট করে উঠে আসতে গেলে কেনো ? ছেলে দৌড়ে এসে আমাকে ধরলো । আমার হাসব্যান্ড তার মুখটা বাংলা পাঁচের মতো করে সোফার এক কোনায় বসে আছে দেখলাম ।আমাকে দেখে বেশ ভারি গলায় বললো – দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থা করো তো জলদি । আম্মা – আব্বা ঐ বাসায় পোলাও বিরিয়ানি খেতে পারছে না । একটু মাছ তরকারি রান্না করো !

আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম আমার হাসব্যান্ডের কথা শুনে । সে দেখছে যে আমি এখনও ঠিকমত দাঁড়াতে পারছি না , সে আমাকে হুকুম করছে মাছ তরকারি রান্না করতে !! কাল রাতের শোধ তুলছে বুঝতে পারলাম । শালা বাজে লোক একটা ! ইচ্ছে করছে মুখের উপরে ঠাস করে বলে দিই যে – পারবো না । তোমার আত্মীয়দের তুমি রান্না করে খাওয়াও । আমার কি দায় ঠেকেছে ? কিছুই বললাম না ।কারন আমার বাবা – মা আমাকে সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন ।

রান্নাঘরে টুলে বসে রান্না করছি । কাজের মেয়েটা আসেনি আজকে । ওরা যখনি বিপদ দেখে তখনই যেনো বেশি বেশি কাজে কামাই করে । গরমে ঘেমে নেয়ে একদম ভিজে গেছি আমি । ভিষন অস্থির লাগছে আমার । এরই মধ্যে ছোট বউ রান্না ঘরে ঢুকলো – হ্যালো বন্ধুরা ! কেমন আছেন সবাই …? এখন আমি আমার মেজো জায়ের রান্নাঘর থেকে সরাসরি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । দেখেন আপনারা – এই অসুস্থ অবস্থায় , ভাঙা পা নিয়েও আমাদের প্রিয় মেজো ভাবি আমাদের জন্য ইলিশ মাছ রান্না করছে ।বলেই ছোট বউ ওর মোবাইল ক্যামেরা আমার পায়ের দিকে ধরলো । তারপর আবার শুরু করলো – শুধু ভাবির পা ভাঙেনি বনধুরা ! ভাবির ঠোঁট কেটেও দুটো সেলাই লেগেছে কিনতু ! এতো অসুস্থ হওয়া সত্তেও ভাবি আমাদের জন্য রান্না করছে । বন্ধুরা একেই বলে আদর্শ গৃহিনী ।

কথা বলতে বলতেই আমার ছোট জা এবার তার মোবাইল ক্যামেরা আমার মুখের দিকে ঘুরালো । আমি পিছন ফিরে বসে ছিলাম। আমাকে দেখা যাচ্ছে না বলে সে আমার মুখটা ধরে ক্যামেরার দিকে ঘুরিয়ে নিতে গেলো । ভয়ঙ্কর ভাবে রেগে গেলাম আমি । আমি বাচঁতেছি না আমার জ্বালায় , উনি আসছে আমার সাথে ইয়ারকি করতে । আমাকে সাহায্য করবে কি ! তা না ! ফাইজলামি শুরু করেছে আমার বাসায় এসে ।

রাগে মুখটা ঘুরিয়ে নিলাম আমি । খুব তেতো করে বললাম – এসব ন্যাকামি আমার একদম পছন্দ না । প্লিজ রান্নাঘর থেকে যাও । আরে আরে রাগ করছো কেনো ভাবি ? আমি আমার দর্শকদের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছি । দেখো দেখো কতগুলো লাইক কমেনট এসেছে ! দেখবা তুমি কিছুক্ষনের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যাবা ! দেখলা না , আমাদের মাইশা কেমন একদিনেই ফেমাস হয়ে গেছে ..!

আমার মাইশার কথা বলাতে নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না । রাগে আমার সারা শরীর কাঁপতে লাগলো । ইচ্ছে করছে ছোট জার গালে ঠাস করে একটা থাপ্পর লাগায় ! কিন্তু সেটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে । সেটা না করে ওর মোবাইল ধরা হাতটা আমার ডান হাত দিয়ে এক ঝটকায় সরিয়ে দিলাম । ছোট বউ ঠিক বুঝে উঠার আগেই ওর হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে গেলো মেঝেতে …..!

চলবে …..!

নিষ্ঠুর নিয়তি পর্ব-০২

#নিষ্ঠুর_নিয়তি
২য় – পর্ব
Kzal Mithun

খুব মন খারাপ করে ফোন রাখলাম । ছেলে মেয়েকে রেডি হতে বললো আমার হাসব্যান্ড ।অথচ আমার কথা বললো না । ওরা তো আর হেটে যাবে না । গাড়ি করেই তো যাবে । আমিও যেতে পারতাম ।হয়তো আমি সাঁজ গোছ করতে পারবো না এখন । কিন্তু একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো মোটামুটিভাবে তো রেডি হয়ে যেতে পারতাম । কয়েকদিন ধরে সারাক্ষন তো ঘরে শুয়ে বসে আছি ।আর ভালো লাগছে না । বিরক্ত লাগছে আমার । বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে , সবার সাথে দেখা হলে আমার একটু ভালো লাগতো ।পায়ের কারনে হয়তো হাঁটা চলা করতে পারতাম না । কিন্তু এক যায়গায় বসে থেকে পরিচিত মুখ গুলো দেখেও তো শান্তি পেতাম । বুকের ভিতর একটা চাপা কষ্ট অনুভব করলাম । ঠোঁট আর পায়ের ব্যথার থেকেও মনের ব্যথাটা টন টন করতে লাগলো ।

মেয়ে সাজুগুজু করে আমার রুমে ঢুকলো । শাড়ি পরেছে আমার মেয়ে । লাল শাড়িতে আমার মেয়েকে একদম পরির মতো সুন্দর লাগছে । মনে মনে বললাম – মাশা আল্লাহ ! কারো নজর না লাগে ! মেয়ের হাতে একটা শপিং ব্যাগ দেখলাম । জিজ্ঞেস করলাম – ব্যাগে কি নিচ্ছো ? বললো – নাচের জন্য আলাদা করে একটা ড্রেস নিচ্ছি । ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম – মানে ? কোথায় নাচবা তুমি ? আরে সিয়াম ভাইয়ার হলুদের প্রোগরামে । আজকালকার গায়ে হলুদের প্রোগরামে উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েদের নাচা – গানা আমার একদম পছন্দ না । কি যে সব শুরু হয়েছে এখন ! মেয়ের কথা শুনে একটু রেগে গেলাম আমি । তুমি হলুদের অনুষ্ঠানে নাচবা সেটা আমাকে জানাও নি কেনো ?

আশ্চর্য ! নিজের আপন কাজিনের গায়ে হলুদে একটু নাচানাচি করবো , আনন্দ করবো , সেটাতেও তোমার পারমিশন লাগবে ? আজব তো ! মেয়ে বেশ চোখ রাঙিয়ে দাঁত মুখ খিচিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বললো ।

আহত হলাম ওর এমন আচরনে । মুখে কিছুই বললাম না । তাছাড়া ঠোঁটের ব্যথায় কথা বলতেও কষ্ট হয় আমার এখন । রাগটা আপাতত পুষে রাখলাম । মনে মনে বললাম – বহুত বাড় বেড়েছিস এ কদিনে । আমাকে একটু সুস্থ হতে দে । তারপর দেখাবো মজা ।

ছেলে ঢুকলো রুমে । ওর এক হাতে আমার ব্যথার ওষুধ আর এক হাতে পানির গ্লাস । ওষুধ খুলতে খুলতে বললো – আম্মু নাও , ব্যথার ওষুধটা খেয়ে নাও । ব্যথা কমলে কিছু খেয়ে নিও । আমি তোমার খাবারটা রুমে দিয়ে যাচ্ছি । বাকি ওষুধগুলো আমি বাসায় এসে তোমাকে খাইয়ে দিবো । আর হ্যা ! শরির খারাপ লাগলে আমাকে ফোন করবা আম্মু । আমি চলে আসবো । ছেলের কথার মধ্যে তেমন কোনো আদর ছিলো না । কেমন যেনো একটা দায়সারা ভাব ছিলো ।

তবুও মনকে বুঝ দিলাম – যাক্ ! আমার ছেলেটা তাহলে এখনও অতোটা নিষ্ঠুর হয়ে পারিনি ।

নিজের রুমে একদম একা বসে আছি । বাচ্চারা চলে যাওয়ার পর ভিষন একা লাগছে অমার । ওরা তো গিয়েছে প্রায় ঘন্টা খানেক হলো । গিয়ে তো ফোন দেয়ার কথা , দিলো নাতো ! বিয়ে বাড়িতে সবাই আনন্দ ফুরতি নিয়ে ব্যস্ত । ফোন করার কথা হয়তো ভুলেই গেছে । ভাশুরের বাড়িতে আজ কতো আত্মীয়স্বজন এসেছে । সবাইতো নিজেদেরই লোকজন । কই ? আমার খোঁজ তো কেউ করলো না ? অবশ্য সবাই তো আর জানে না যে আমি অসুস্থ ! আচ্ছা , যদি জানেও … তাও তো কেউ জানতে চাইলো না আমি এখন কেমন আছি ? হুহ্ ! নিজের হাসব্যান্ডই এখনও একটা ফোন দিলো না তো বাইরের মানুষ আমার কি খোঁজ নিবে ..! একটু তাচ্ছিল্যের হাসি দিলাম ।

হঠাৎ বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠলো । কেমন যেনো একাকিত্বে পেয়ে বসলো আমার । সারা বাসা শুনশান নিরাবতা । ভয় করতে লাগলো আমার । ওরা যে আমাকে এই অবস্থায় একা ফেলে রেখে চলে গেলো , কখন আসবে তারও তো কোন ঠিক নেই ..! এর মধ্যে আবার যদি আমার শরিরটা খারাপ হয় ? প্রেসার বেড়ে আবার যদি এই খোড়া পা নিয়ে নিচে পড়ে যাই …? আরো খারাপ কিছুও হতে পারে আমার সাথে ! এতোক্ষন হয়ে গেলো কেউ আমার একটা খবর নিলো না এখনও পর্যন্ত ! আরে আমি তো মরিনি এখনও । বেচে থেকেও এতো অবহেলা এখনিই ? মাত্র কদিন হলো অসুস্থ হয়েছি । এরই মধ্যে আমি এতো পর হয়ে গেলাম সবার ?

অথচ সুস্থ থাকতে দিন রাত ওদের সেবায় নিজেকে সারাক্ষন ব্যস্ত রেখেছি । জ্বর , মাথা ব্যথা , হাই প্রেসার এগুলো পাত্তা দিই নি কখনও । সকাল থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সারাদিন বিছানায় পিঠ দিতে পারিনা আমি । হাসব্যান্ডকে সকালের নাস্তা খাইয়ে অফিসে পাঠাই আবার তাকে দুপুরের খাবার বক্স করে দিয়ে দিই । উনি আবার অফিসের ক্যানটিনের খাবার খেতে পারেন না সেজন্য । ছেলেকে কলেজে দিয়ে আসি প্রতিদিন । আমি চাই না ছেলে কোনো খারাপ সঙ্গে মিশুক । তাকেও নাস্তা খাইয়ে , তার টিফিন দিয়ে কলেজে দিয়ে আসি । মেয়েকেও আমি প্রায় সময় ভারসিটিতে নিয়ে যাই ওর সিরিউরিটির কথা ভেবে । ছায়ার মতো সঙ্গ দিই ওদেরকে আমি ।

তারপর একে একে ওরা যখন বাসায় ফেরে , তখন শুরু হয় আমার ২য় ইনিংস । সন্ধ্যার নাসতা , রাতের খাবার , ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খোঁজ নেয়া , হাসব্যান্ডের জন্য আমাকে রাতে টাটকা খাবার রানতে হয় । কারন উনি আবার এক তরকারি একবারের বেশি খান না ।আমার অনেক কষ্ট হয় । কিন্তু তারপরও আমি আমার স্বামী সন্তানের জন্য হাসিমুখেই সবকিছু করি ।

ফোন বেজে উঠাতে ভাবনায় ছেদ পড়লো আমার । ফোন হাতে তুললাম । ভাশুরের বউর ফোন । যাক্ ! উনি তাহলে মিস করছে আমাকে । সেই যে বিয়ের কার্ড দিয়ে জামাই বউ গেলো , আর এ পর্যন্ত একটা খোঁজ নেয়নি আমার । ভাগ্যিস আমার পাটা আপাততো অকেজো , আমি অসুস্থ । তা না হলে সব মেহমান আমার বাসায় পাঠিয়ে ছাড়তো উনি । আল্লাহ বাঁচাইছেন । মনে মনে বললাম ।

হ্যালো মেজো বউ !! কেমন আছিস এখন ? আস্তে করে বললাম – ভালো না ভাবি । পায়ের ব্যথাটা কিছুতেই কমছে না গো । প্রসঙ্গ পাল্টে বললাম – আমার বাবুরা ঠিকঠাক আছে তো ভাবি ? ওরা পৌছে আমাকে একটা কল দিলো নাতো । তাই জিজ্ঞেস করছি । আরে ওরা খুব মজা করছে সবাই । আমাদের মাইশার নাচ দেখে তো সবাই ভিষন অবাক ! ফাটিয়ে দিয়েছে একেবারে ! ও কবে কবে এমন নাচ শিখলো রে ? ভাবি দেখলাম খুব রসিয়ে রসিয়ে আমার মেয়ে মাইশার প্রশংসা করছে । কেমন জানি একটু খোঁচা দিয়ে বলার মতো মনে হলো আমার । চুপ করে গেলাম ।

শোন্ মেজো বউ ! তোর খাবার আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি । আর হ্যা ! আব্বা -মা (শশুর শাশুড়ি) আর রফিক (ছোট দেবর ) রফিকের বউ বাচ্চা সহ ওদেরকে তোর ওখানে পাঠাচছি । আমার বাসায় এতো মেহমান রাখার যায়গা নেই রে । ওরা বউভাত পর্যন্ত তোর ওখানে থাকবে । ভাবির কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো । চট করে মেজাজটা গরম হয়ে গেলো আমার । তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলাম আমি । ফাজিল মহিলা বলে কি ? দেখছে আমি অসুস্থ ! তার ছেলের বিয়ে , অথচ এই খোঁড়া পা , কাটা ঠোঁট নিয়ে আমি মেহমানদারি করবো ? নিজে বিছানা থেকে নামতে পারি না। এক সপ্তাহর বেশি হয়ে গেলো , এক বক্স খাবার তো দুরের কথা , কেউ একটা খোঁজ নিলো না কেমন আছি ? এখন আসছে আমাকে প্যারা দিতে !

পারবো না ! মুখের উপর ঠাস করে না করে দিলাম আমি । তোমার পাঁচ তলা বাড়ি ভাবি । শুনেছি তুমি একটা ফ্লাট খালি করেছো সিয়ামের বিয়ে উপলক্ষে । আব্বা – মাকে ওখানেই রাখো । প্লিজ আমার বাসায় কোনো মেহমান পাঠাবা না । তোমার মেজো দেবরকে বলে দিও – সে যেনো এই বিষয় নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করে । আর হ্যা ! আমার জন্য খাবার পাঠানোর কোনো দরকার নেই । বলেই আমি লাইন কেটে দিলাম

ফোন হাতে থাকতেই ফেইসবুক নটিফিকেশন এলো । কেউ বোধহয় লাইভে আছে । হুম ! ছোট দেবরের বউ ফেইসবুক লাইভে । সে আবার ব্লগার । একটু পর পর লাইভে আসে । রিল শেয়ার করতে থাকে সারাক্ষন । ঘন্টায় ঘন্টায় ছবি পোস্ট করে । দেখলাম সিয়ামের হলুদ অনুষ্ঠানের অনেক ছবি সে পোস্ট করেছে । স্ক্রল করতে থাকলাম । আমার হাসব্যান্ডের বেশ কিছু ছবি আছে দেখলাম । কিছু ছবিতে আমার চোখ আটকে গেলো । বেছে বেছে সুন্দরি সুন্দরি মহিলাদের সাথে বেশ আন্তরিক হয়েই সে ছবিতে পোজ দিয়েছে । কাউকে কাউকে দেখলাম মুখে তুলে মিষ্টি খাইয়ে দিয়েছে । কারো মুখে পান গুঁজে দিয়ে হেসে লুটিয়ে পড়েছে । কোনো মহিলাকেই চিনতে পারলাম না । বোধহয় সিয়ামের শশুর বাড়ির আত্মীয় হবে । তার মানে আমি না যাওয়াতেই আমার স্বামী খুব ফূর্তিতে আছেন ।

স্ক্রল করতে করতে এবার আমার মেয়ের নাচের ভিডিও সামনে এলো । মেয়ের নাচ দেখে তো আমার চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো । কে দিলো পিরিতের বেড়া ..! লিচুরও বাগানে ! পারলে বেড়া ডিঙ্গায় আসো …. ! দুষ্ট কোকিল ডাকে রে ….! এইসব বাজে গানের সাথে কি বিশ্রি অঙ্গ ভঙ্গি দিয়ে একটা অপরিচিত ছেলের সাথে আমার মেয়ে নাচছে । ছেলেটা বার বার আমার মেয়ের শরিরে টাচ করার চেষ্টা করছে । চোখের চাহনি কি অশ্লিল ! মাইশা কৌশলে সরে যাচ্ছে । উফ আল্লাহ ! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না ।

মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আমার মেয়ের নাচ ভাইরাল হয়ে গেছে । হাজার হাজার শেয়ার । কি সব বাজে বাজে কমেনট ! নিজের বাচ্চার সম্পর্কে এসব মন্তব্য সহ্য করা যায় না । উফ্ আল্লাহ ! হেফাজত করেন আমার বাচ্চাটাকে । এখন বুঝতেছি কেনো ভাশুরের বউ আমাকে খোঁচা দিয়েছে । আমার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে আমার বাচ্চাটাকে ব্যবহার করেছে ওরা । রাগে অভিমানে চোখে পানি চলে এলো আমার । মানুষ এতো খারাপ হয় ? আমার মেয়ে তো ওদেরই আপন রক্ত । আমাকে ছোট করে ওদের এতো শান্তি ? ছি! কি নিচু মানসিকতা ওদের ।

বেশ রাত করে বাসায় ফিরলো ওরা । না , সাথে কোনো মেহমান আসিনি । আমার ছেলের মুখটা বেশ থমথমে হয়ে আছে দেখলাম । সম্ভবত তার বোনের বিষয়টা তার ভালো লাগেনি ।বাপ বেটিকে একদম স্বাভাবিক দেখলাম । বুঝতে পারছি না ব্যাপারটা আমি ! ওরা কি এখনও ফেইসবুকে ঢুকেনি ?

কাউকে কিছুই বললাম না । সকাল হোক । এখন সবাই ক্লান্ত । রাত দুপুরে অনর্থক ঝামেলা করার দরকার নেই । হাসব্যান্ড চেইনজ করে আমার পাশে খুব ঘনিষ্ট হয়ে শুয়ে পড়লো । মন মেজাজ কোনোটাই ভালো নেই আমার । আমি একটু সরে গেলাম । সে দেখলাম , আমার কোমরটা জড়িয়ে ধরে আরো কাছে টেনে নিলো …! শালা ! বাসায় ফিরে কিছু খেলাম কিনা , ওষুধ খেয়েছি কি না , সেসব কিছু জানতে চাইলো না ! এখন রাত দুপুরে আসছে পিরিত মারাইতে !

কেনো জানি গা টা ঘিন ঘিন করে উঠলো অমার ..!

চলবে ….!

নিষ্ঠুর নিয়তি পর্ব-০১

#নিষ্ঠুর_নিয়তি
১ম -পর্ব
Kzal Mithun

মেয়ের খুব কাছের বান্ধবীর মা মারা গেছে কয়েকদিন হলো । এতে আমার মেয়ের মনটা বেশ খারাপ হয়ে আছে । আমারও খুব খারাপ লাগছে । আহারে – ভাবিটা দুইটা বাচ্চা রেখে মারা গেলো । উনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন । সারাক্ষন ভাবির মুখে হাসি লেগেই থাকতো । শুনেছিলাম ভাবিরা নতুন ফ্লাট কিনেছে । সামনের মাসেই ওদের নতুন বাসায় উঠার কথা ছিলো । নিজের হাতে বাসা সাজিয়েছিলো ভাবি । আমাদের সাথে দেখা হলেই ভাবি তার নতুন ফ্লাটের গল্প করতো।এটা কিনেছি , ওটা কিনেছি বাসার জন্য । দামি দামি সব ফার্নিচার কিনেছি বুজছো ? আরো বলতো – আমার নতুন বাসায় উঠার পর ,তোমাদের সবাইকে একদিন দাওয়াত করে খাওয়াবো । বুক চিরে একটা দীর্ঘনিশ্বাস বেরিয়ে এলো আমার ! আহারে – ভাবির সখটা আর পুরন হলো না ! হঠাৎ করে উনি স্ট্রোক করে মারা গেলো ।

তবে ,ভাবির এই মৃত্যু নিয়ে অনেকে একটু কানাঘুসা করে । কেউ বলে , ভাবির হাসব্যান্ডের উপর রাগ আর অভিমান করে নাকি ভাবি অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলো । আবার কেউ বলে ভাবি নাকি গলায় ফাঁস নিয়েছিলো । কিন্তু ভাবির হাসব্যান্ড স্ট্রোক বলে চালিয়ে দিয়েছে । কি জানি ? কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে ? আল্লাহ ভালো জানেন ।

প্রতিদিন আমার মেয়ে ওর বান্ধবীর খোঁজ নিচ্ছে । আমিও রান্না করে মাঝে মধ্যে ওর বান্ধবীর বাসায় পাঠাচ্ছি । আমার মেয়ে ভার্সিটিতে পড়ে । ওর বান্ধবী অবশ্য অন্য একটা কলেজে অনার্স পড়ছে । আর ওর বান্ধবীর ভাইটা এবার কলেজ পাস করলো । মায়া লাগে বাচ্চা দুইটার জন্য । এই বয়সে ওরা মাকে হারালো । আল্লাহ ওদের সহায় হউন । ভাবির হাসব্যান্ডের নিজের ব্যবসা আছে । আর্থিক দিক দিয়ে ওরা বেশ সচ্ছল ।

দিন পনেরো পর , আমি আমার ছেলেকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে বাসার দিকে ফিরছিলাম । হঠাৎ দেখি – ভাবির হাসব্যান্ড একটা ছোট মেয়ে বাচ্চা সহ এক মহিলার সাথে করে আরেকটা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে । গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম শিউর হওয়ার জন্য । হ্যা ! ঠিকই তো দেখছি । মনে মনে ভাবলাম – হয়তো আত্মীয় হতে পারে । এ মুহুর্তে আমি নেগেটিভ কিছু ভাবতে চাচ্ছি না । তবে স্কুলের নামটা মনে রাখলাম ।

বাসায় এসে আমার মেয়েকে ওর বান্ধবীর খোঁজ নিতে বললাম । জিজ্ঞেস করতে বললাম ঔ সকুলে ওদের কোনো আত্মীয়ের বাচ্চা পড়ে কি না ? মেয়ের বান্ধবী না বললো । আমি বিষয়টা চেপে গেলাম । কাল আমার মেয়ের জন্মদিন । মেয়েকে বললাম ওর বান্ধবীকে বাসায় ডাকতে ।জন্মদিন উপলক্ষে কোনো আয়োজন করলাম না । শুধু মেয়ের কয়েকজন কাছের বান্ধবীকে বাসায় ডাকলাম । যাতে ওরা কয়েকজন মিলে ওর মন ভালো করে দিতে পারে ।

পরদিন বিকেলে আমার মেয়ের বান্ধবীরা ঠিক সময়ে চলে এলো । কিন্তু ঐ মা মরা মেয়েটা( পায়েল ওর নাম )তখনও আসিনি ।ভাবলাম – হয়তো বাচ্চাটার মন খারাপ সেজন্য আসবে না । কিন্তু আমার মেয়ের সাথে ওর অন্য বান্ধবীরা কি একটা বিষয় নিয়ে দেখলাম চুপিচুপি কথা বলছে । আমি গেলেই চুপ হয়ে যাচ্ছে ।একটু সন্দেহ হলো আমার । মেয়েকে পাশের রুমে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম – কি ব্যাপার বলতো ? তোরা কিছু একটা লুকাচ্ছিস মনে হচ্ছে ? বল আমাকে কি হয়েছে ? আমার মেয়ে কিছু একটা বলতে যাবে – ঠিক তখনই বাসার কলিং বেলটা বাজলো ।

আমি দরজা খুলতে যাবো – আমার মেয়ে আমাকে যেতে দিলো না । তড়িঘড়ি করে বললো – আম্মু ! তুমি থাকো , আমি যাচ্ছি । বলেই সে দ্রুত চলে গেলো দরজা খুলতে । মনে মনে আশ্বস্ত হলাম । যাক্ ! পায়েলটা তাহলে আসলো শেষ পর্যন্ত ! মেয়ে হয়তো সেই খুশিতেই নিজে গেলো দরজা খুলতে ।

আমি দশ পনেরো মিনিট অপেক্ষা করলাম । কৈ !পায়েল তো আমার সাথে দেখা করতে ভিতরে এলো না ! হয়তো মেয়েটার মনটা বেশিই খারাপ । মাত্র ক’দিন হলো ওর মাটা মারা গেছে । তাই হয়তো চুপচাপ আছে । নিজেই এগুলাম ড্রইংরুমের দিকে পায়েলের সাথে দেখা করার জন্য । যাই , বাচ্চাটাকে একটু সান্তনা দিয়ে আসি । একটু এগোতেই একটা পুরুষ কন্ঠ কানে এলো আমার । একি ! পুরুষ কন্ঠ কার ? ওর বাবা তো বাসায় নেই । ছেলেও কোচিং এ । তাহলে কে কথা বলছে । আমার মেয়ের তো কোনো ছেলে বন্ধুও আসার কথা না ? তাছাড়া আমার মেয়ের কোনো ছেলে বন্ধুও নেই । কৌতুহলি হয়ে ড্রইংরুমের পর্দা সরিয়ে আৎকে উঠলাম !

রোগা পাতলা একটা ছেলের পাশে খুব ঘনিষ্ট হয়ে সোফায় বসে আছে পায়েল । পায়েলের পোষাকটাও খুব দৃষ্টিকটু । অন্যান্য বান্ধবীরা চোখ ইশারা দিয়ে দুষ্টুমি করছে পায়েল আর ঐ ছেলের সাথে । আমার মেয়ের মুখটা ভয়ানক শুকিয়ে গেছে ভয়ে । হাত নেড়ে খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে পায়েলকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছে দেখলাম ।

আমার তো রাগে সারা শরির জ্বলতে লাগলো । এতোবড় স্পর্ধা এই মেয়ের ? বয়ফ্রেন্ড নিয়ে আমার বাসায় এসে হাজির হয়েছে ! অথচ ওর মা বলতো – ভাবি আমার মেয়ে এ যুগের মতো এতো ফাস্ট না বুঝছো ? ওসব প্রেম ট্রেমের কিচছু বোঝে না আমার মেয়ে ।এখন এসব কি দেখছি ? ওর মা মারা গেছে মাত্র কয়েকদিন হলো ! এর মধ্যেই এই মেয়ে এতদুর পৌছে গেছে ?

ড্রইংরুমে না ঢুকে আড়াল থেকে আমার মেয়েকে কড়া গলায় জোরে ডাক দিলাম । আশ্চর্য ! এক ডাকে আমার মেয়ে আসলো না । রাগে আমার শরির কাঁপতে লাগলো । একটু অপেক্ষা করে আবার ডাকলাম। এবার এক ছুটে সে আমার রুমে আসলো ।আমি কিছু বলার আগেই সে বললো – আম্মু ! ওরা চলে গেছে । একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম – সবাই চলে গেছে মানে ? আমার মেয়ে বললো – তুমি রাগ করবা বলে আমি ওদেরকে তানিদের বাসায় যেতে বলেছি । আশ্চর্য ! ওদেরকে না খেয়ে চলে যেতে বললি কেনো ? ধমক দিলাম মেয়েকে । কি করবো বলো ? তুমি তো আর পায়েলের বয় ফ্রেন্ডকে আমাদের বাসায় এ্যালাউ করবা না ।

আজব কথা তো ? পায়েলের মা মারা গেছে মাত্র কয়েকদিন হলো – এরই মধ্যে মেয়েটা বয় ফ্রেন্ড নিয়ে বান্ধবীদের বাসায় যাতায়াত শুরু করে দিয়েছে ? আর এটা আমি প্রশ্রয় দিবো তুই ভাবলি কি করে ? তুই কি আগে থেকে জানতিস যে এই মেয়ে প্রেম করে ? জানলে আমাকে জানালি না কেনো ? রেগে গেলাম আমি ।

আশ্চর্য ! সব কথা তোমাকে কেনো বলতে হবে আম্মু ? আমি তো এখন বড় হয়েছি তাই না ! আর পায়েল প্রেম করে এটা তোমার কাছে বলার কি হলো ? বলেই মেয়ে মুখ ঝামটা দিয়ে চলে গেলো । মেয়ের কথায় একটু আহত হলাম আমি । ইদানিং দেখছি বেশ মুখে মুখে তর্ক করছে মেয়েটা ।

পরদিনই শুনলাম পায়েল নাকি ঐ ছেলেকে বিয়ে করেছে । শুনে খুবই মর্মাহত হলাম । এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই শুনি , পায়েলের বাবাও বিয়ে করেছে । নতুন ফ্লাটে উঠেছে সেই বউকে নিয়ে । খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম – এই মহিলার সাথে নাকি পায়েলের বাবার অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক ছিলো । আর এই বিষয়টা নিয়েই পায়েলের মার সাথে নাকি ওর বাবার ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো । তার মানে ভাবির মৃত্যুটা তাহলে আসলেই স্বাভাবিক ছিলো না । মনে মনে কষ্ট পেলাম ভাবির জন্য ।

ছেলেকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম একদিন । গিয়ে দেখি পায়েলের ভাইটাও একটা মেয়ের সাথে খুব আপত্তিকর অবস্থায় বসে সিগারেট টানছে। একটু পর পর মেয়েটা অসভ্যর মতো খিল খিল করে হাসছে আর ছেলেটার গায়ের মধ্যে ঢলে ঢলে পড়ছে। এসব দেখে কেমন জানি অস্থির লাগতে লাগলো আমার । দ্রুত ছেলেকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম আমি ।

হায়রে …! মহিলাটা মারা গেছে এক মাসও হয়নি । এরই মধ্যে স্বামী , সন্তানরা তাকে ভুলে গেলো ? তার সাজানো গোছানো সংসার , ছেলে মেয়ে সবই এখন অন্যের দখলে । কেউ তার কথা মনে রাখেনি । এতো দ্রুত কিভাবে সবাই ভুলে গেলো মানুষটাকে ! কাছের মানুষগুলো এতো নিষ্ঠুর হয় কেমন করে ?

আচ্ছা ! আমিও যদি এমন হঠাৎ করে মরে যাই , তাহলে কি আমার সন্তানরাও আমাকে এতো দ্রুত ভুলে যাবে ? আমার স্বামীও কি এক মাসের মাথায় আর একটা বিয়ে করবে ? এমনও হতে পারে – আমার হাসব্যান্ডও এখন অন্য কোনো মহিলার সাথে পরকীয়া করে যেটা আমি জানিনা । আচ্ছা ! আমার মেয়েও কি প্রেম করে ? আমি মরে গেলে আমার মেয়েও মনে হয় ওর বয় ফ্রেন্ডের হাত ধরে পালিয়ে যাবে । আর আমার এতো আদরের ছেলে ..? ও কি করবে ? ঔ নিশ্চয় ওর মাকে ভুলে যাবে । না না ! আমার ছেলে এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারবে না মনে হয় । কি জানি ? কিছুই ভাবতে পারছি না আমি ।

আমার এতো কাছের , এতো আপন মানুষগুলো আমি মরে গেলে এরা সবাই আমাকে ভুলে যাবে, এটা ভেবে আমি মনে মনে খুব অস্থিরতা বোধ করতে লাগলাম। তাহলে .. কেনো আমি এতো কষ্ট করছি ওদের জন্য ? সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এতটুকু বিশ্রাম নেই আমার । স্বামী , সংসার , সন্তানদের জন্য জীবনপাত করে চলেছি । ঠিকমতো খাই না , ঘুমাই না , কোথাও ঘুরতে যাই না । সারাদিন শুধু ছুটছি আর ছুটছি । তিনটা মানুষের তিনরকম পছন্দের খাবার রান্না করি আমি । আমি কি পছন্দ করে খেতাম , সেটাই আমি এখন ভুলে গেছি । শশুর বাড়ির আত্মীয়স্বজন দের কোনোরকম একটু অযত্ন হলে হাসব্যান্ড কিন্তু কথা শুনাতে একটুও ছাড়ে না । অথচ ! আমার দিকে তার এতটুকু নজর নেই ।সারাক্ষন সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ।

এসব ভাবতে ভাবতে খুব অসুস্থ বোধ করতে লাগলাম আমি । সারা শরির ঘামতে শুরু করলো আমার । বোধহয় প্রেসারটা বেড়েছে । প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো । বাসায় কেউ নেই তখন। ওরা তিনজনই বাইরে। গলাটা শুকিয়ে গেলো একদম । খুব পানি পিপাসা পেয়েছে। মাথায় পানি দিতে পারলে মনে হয় ভালো লাগতো । ইস ! মাথার ভিতরে ঘিলুগুলো মনে হচ্ছে টগবগ করে ফুটছে । বিছানা থেকে উঠে যে ডাইনিং পর্যন্ত বা ওয়াশরুমে যাবো , সেই শক্তি পাচ্ছি না । আহ্ ! কি ভয়ানক যন্ত্রনা !

ততাড়াহুড়া করে বিছানা থেকে নামতে যেয়ে পায়ে ওড়না বেধে মুখ থুবরে পড়ে গেলাম। মেঝেতে লেগে দাঁতের চাপে উপরের ঠোঁট থেতলে গেলো আমার । গল গল করে রক্ত পড়া শুরু করলো । ডান পাটা উল্টে গিয়ে ভয়ানকভাবে মট করে একটা শব্দ করলো । আল্লাহ জানে পায়ের হাডডি ভেঙে গেলো কি না । আল্লাহ গো বলে একটা শব্দ করে জ্ঞান হারালাম ।

যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি আমার পায়ে ব্যান্ডেজ করা । ঠোঁটে সেলাই লেগেছে দুটো । মুখটা অসম্ভব ফুলে গেছে । বাম হাত ব্যথায় নড়াতে পারছি না । সারা শরিরেও ভয়ানক ব্যথা । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ১২ টার বেশি বাজে । আমার মাথার কাছে আমার মেয়ে আর পায়ের কাছে আমার ছেলে আর আমার হাসব্যান্ড বসে আছে । সবার মুখেই দুশ্চিন্তার ছাপ । ছেলের মুখে সব শুনলাম । আল্লাহ বাচিয়েছেন যে , সবার কাছে একটা করে চাবি থাকে । তা না হলে তো তোমাকে আজকে বাঁচানো যেতো না আম্মু ! কি আর হতো – তোর আম্মুটা মরে যেতো ! উপহাস করে বললাম আমি । কি যে সব আবোল তাবোল বল না তুমি ? যতসব বাজে কথা ! ধমক দিলো আমার হাসব্যান্ড । আমার ছেলেও বকা দিলো আমাকে ।

পরদিন আমার হাসব্যান্ড অফিসে গেলো না । আমার অসুস্থতার জন্য ছুটি নিলো । ছেলে মেয়েও বাসায় থাকলো । হাসব্যান্ড রান্না করে , ছেলে ওষুধ খাইয়ে দেয় , মেয়ে মুখে তুলে স্যুপ খাইয়ে দেয় আমাকে । সে কি যত্ন তিন জনের । অনেক বছর পর , সারাটা দিন স্বপ্নের মতো কেটে গেলো । বুকের উপর থেকে আমার একটা পাথর নেমে গেলো । ধ্যুর ! শুধু শুধু আজে বাজে ভাবনা ভেবে অযথা নিজের শরিরের বারোটা বাজালাম । ওরা কত ভালোবাসে আমাকে ।

ডাক্তার আমাকে দুই সপ্তাহ বেড রেস্ট নিতে বলেছে । পায়ের হাডডি ভাঙেনি, তবে মচকে যাওয়ার কারনে সরে গেছে । তাই ডান পাটা প্লাস্টার করা । পা নাড়াতে পারি না । হাঁটা হাঁটি করাও নিষেধ । ঠোঁটের সেলাই কাটবে সাতদিন পর । ঠিকমতো খেতে পারি না । সারাক্ষন বিছানায় শুয়ে থাকতে হচ্ছে । কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখলাম হাসব্যান্ডের আচরনে বেশ পরিবর্তন এসেছে । ছেলে মেয়েও আমার রুমে খুব একটা আসে না । ডাকলে আসে । অবশ্য ওরা পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে । হাসব্যান্ডও তো সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে ফেরে । বাসায় ফিরে অসুস্থ বউকে দেখতে হয়তো তার ভালো লাগে না । নিজের খাবারটাও তাকে নিজে নিয়ে খেতে হয় । আমার পাশে একটু খানি যায়গার মধ্যে তাকে ঘুমাতে হয় । দিন দিন মনে হচ্ছে সে খুব বিরক্ত হচ্ছে আমার এই সারাক্ষন শুয়ে থাকা দেখে ।

ভাশুরের ছেলের বিয়ে । আগে থেকেই ডেট ফিক্সড করা ছিলো । আজকে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ।আমার হাসব্যান্ড আজকে অফিস শেষ করে বাসায় ফিরলো না । আমাকে ফোন করে বলে দিলো ,সে সরাসরি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে চলে যাবে । ছেলে মেয়েকে রেডি থাকতে বললো । বললো – সন্ধ্যার পর গাড়ি পাঠিয়ে দিবে । আমার কথা সে কিছুই বললো না । তাকে খুব ব্যস্ত মনে হলো । হবেই বা না কেনো ..? ভাইয়ের ছেলের বিয়ে বলে কথা !

চলবে …..!

What Makes Modern Online Casinos So Popular

What Makes Modern Online Casinos So Popular

Online casino sites have become one of the most vibrant corners of the digital home entertainment globe. Their appeal lies in the blend of excitement, convenience and constant technology. Gamers no longer need to visit physical venues to experience real-money video gaming. Rather, they can open a mobile application or web browser and access hundreds of video games within mins. This comfort has actually created a brand-new generation of gamers who value adaptability and rapid access over standard online casino routines.

The development of secure payment techniques and reliable systems has also strengthened trust. Accredited operators comply with stringent regulations, while modern encryption technologies protect every transaction. Therefore, players really feel safer depositing and taking out funds on-line than ever.

The Selection of Games Available Today

One of the strongest benefits of on-line gambling enterprises is the sheer deepness of their video game libraries. Digital platforms supply everything from timeless pokies and modern-day video clip slots to table video games like blackjack, roulette and baccarat. Online dealership areas add an additional layer of realistic look by streaming human croupiers directly to the gamer’& rsquo; s display. These workshops integrate real online casino ambience with the comfort of playing at home.

The consistent release of new titles keeps the experience fresh. Game service providers frequently introduce upgraded mechanics, enhanced graphics and appealing bonus offer rounds. With numerous choices readily available, players can switch over in between motifs and gameplay styles without feeling limited.

Rewards and Promotions That Forming Player Experience

On-line gambling establishments typically stand out via their marketing systems. Rewards can enhance very early sessions, expand gameplay time and supply a chance to discover new games. Although every offer has specific problems, the structure of bonuses plays a significant function in bring in new gamers. Operators create unique incentives for different sorts of users, making certain novices and seasoned gamers alike can locate something that matches their style.

Promotions also construct lasting interaction. Routine incentives, special occasions and exclusive campaigns assist preserve rate of interest even after the initial deposit. This recurring value is just one of the reasons why many gamers stay loyal to details gambling enterprise brand names.

The Value of Mobile-First Platforms

Mobile video gaming has changed the entire online casino site market. Most players currently access their preferred video games through smartphones instead of desktops. This shift has actually encouraged operators to optimise every attribute for smaller screens, making mobile experiences smoother, quicker and extra user-friendly.

Touch-based user interfaces allow all-natural interaction with games, while light-weight application variations use instantaneous access without jeopardizing on high quality. Mobile-friendly style also makes certain players can take pleasure in quick sessions during breaks or commutes. Because of this, mobile casino sites have actually come to be the key entrance to on-line gaming for several customers worldwide.

Safety and security, Licensing and Responsible Video Gaming

Depend on is the structure of on-line casino success. Reliable operators obtain permits from recognised authorities and comply with stringent regulative regulations. These permits verify that games make use https://testtest-test.com/perevirka/ of audited arbitrary number generators which payouts adhere to clear regulations. Financial systems additionally play a important role, as encrypted transactions and modern safety devices secure sensitive information.

At the same time, responsible gaming devices assist make sure that players remain in control. Functions such as deposit limits, cooldowns and self-exclusion choices produce a safer and a lot more encouraging atmosphere. The industry remains to progress with new policies made to protect gamers from risky behaviours.

The Future of Online Gambling Establishment Enjoyment

The future of on the internet gaming points towards also better technology. Virtual reality experiences, boosted live-dealer communications and ultra-fast settlement systems are ending up being extra common. Game programmers explore motion picture graphics and advanced technicians that make electronic play extra immersive.

As innovation continues to advance, on the internet casino sites will likely deliver a lot more customised experiences. Tailored suggestions, adaptive rewards and interactive features will certainly shape the next stage of electronic gaming. The market reveals no signs of decreasing, and gamers can anticipate an progressively abundant and appealing atmosphere in the years ahead.

What Makes Modern Online Casinos So Popular

What Makes Modern Online Casinos So Popular

Online casino sites have become one of the most vibrant corners of the digital home entertainment globe. Their appeal lies in the blend of excitement, convenience and constant technology. Gamers no longer need to visit physical venues to experience real-money video gaming. Rather, they can open a mobile application or web browser and access hundreds of video games within mins. This comfort has actually created a brand-new generation of gamers who value adaptability and rapid access over standard online casino routines.

The development of secure payment techniques and reliable systems has also strengthened trust. Accredited operators comply with stringent regulations, while modern encryption technologies protect every transaction. Therefore, players really feel safer depositing and taking out funds on-line than ever.

The Selection of Games Available Today

One of the strongest benefits of on-line gambling enterprises is the sheer deepness of their video game libraries. Digital platforms supply everything from timeless pokies and modern-day video clip slots to table video games like blackjack, roulette and baccarat. Online dealership areas add an additional layer of realistic look by streaming human croupiers directly to the gamer’& rsquo; s display. These workshops integrate real online casino ambience with the comfort of playing at home.

The consistent release of new titles keeps the experience fresh. Game service providers frequently introduce upgraded mechanics, enhanced graphics and appealing bonus offer rounds. With numerous choices readily available, players can switch over in between motifs and gameplay styles without feeling limited.

Rewards and Promotions That Forming Player Experience

On-line gambling establishments typically stand out via their marketing systems. Rewards can enhance very early sessions, expand gameplay time and supply a chance to discover new games. Although every offer has specific problems, the structure of bonuses plays a significant function in bring in new gamers. Operators create unique incentives for different sorts of users, making certain novices and seasoned gamers alike can locate something that matches their style.

Promotions also construct lasting interaction. Routine incentives, special occasions and exclusive campaigns assist preserve rate of interest even after the initial deposit. This recurring value is just one of the reasons why many gamers stay loyal to details gambling enterprise brand names.

The Value of Mobile-First Platforms

Mobile video gaming has changed the entire online casino site market. Most players currently access their preferred video games through smartphones instead of desktops. This shift has actually encouraged operators to optimise every attribute for smaller screens, making mobile experiences smoother, quicker and extra user-friendly.

Touch-based user interfaces allow all-natural interaction with games, while light-weight application variations use instantaneous access without jeopardizing on high quality. Mobile-friendly style also makes certain players can take pleasure in quick sessions during breaks or commutes. Because of this, mobile casino sites have actually come to be the key entrance to on-line gaming for several customers worldwide.

Safety and security, Licensing and Responsible Video Gaming

Depend on is the structure of on-line casino success. Reliable operators obtain permits from recognised authorities and comply with stringent regulative regulations. These permits verify that games make use https://testtest-test.com/perevirka/ of audited arbitrary number generators which payouts adhere to clear regulations. Financial systems additionally play a important role, as encrypted transactions and modern safety devices secure sensitive information.

At the same time, responsible gaming devices assist make sure that players remain in control. Functions such as deposit limits, cooldowns and self-exclusion choices produce a safer and a lot more encouraging atmosphere. The industry remains to progress with new policies made to protect gamers from risky behaviours.

The Future of Online Gambling Establishment Enjoyment

The future of on the internet gaming points towards also better technology. Virtual reality experiences, boosted live-dealer communications and ultra-fast settlement systems are ending up being extra common. Game programmers explore motion picture graphics and advanced technicians that make electronic play extra immersive.

As innovation continues to advance, on the internet casino sites will likely deliver a lot more customised experiences. Tailored suggestions, adaptive rewards and interactive features will certainly shape the next stage of electronic gaming. The market reveals no signs of decreasing, and gamers can anticipate an progressively abundant and appealing atmosphere in the years ahead.

অ_সময় পর্ব-০৪ এবং শেষ পর্ব

#অ_সময় (শেষ)
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

শিউলি নিলু কাছে এসে অনুরোধ করলেও আমার কানে কথাটা এসেছে অন্যভাবে। শিউলি আমায় জানায়, আমার বউ তাকে নানাভাবে অপমান করে গেছে। তার বলার ভাষা, মিছে কান্না সব আমায় ভুলিয়ে দেয়। সে রাতেও বাসায় এসে নিলুর উপর খুব অত্যাচার করলাম। এক সময় সব শান্ত হয়ে যায়। নিলু চুপচাপ হয়ে যায়। খুব শান্ত। বছর দেড় ঝামেলা ছাড়াই কেটে যায়। আমার শিউলির কাছে যাওয়া আসা আর নিলুকে কষ্ট দিতে পারে না। হয়তো কষ্ট দেয় কিন্তু ও আর আমাকে ওর কষ্টটা বুঝতে দেয় না। আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। প্রয়োজনে যদি দুই চারটা কথা বলা লাগে তখন, এছাড়া বলে না।

তার পুরো পৃথিবী এখন মুন্নাকে ঘিরেই কাটে। তার সঙ্গেই পুরোটা সময় কাটিয়ে দেয়। হয়তো মনেমনে ভাবে, আর একটু সময়। ছেলেটা বড় হোক। সে বড় হলে নিলুর দুঃখ কমে যাবে। সেই অবধি সয়ে যাক। এটা ভেবেই বোধহয় চুপচাপ রয়ে যায়। নিলুর সময় কিভাবে কাটে সেটার খোঁজ সেভাবে নেইনি কখনো। তাই তো এখন সব ধারণা থেকে বলতে হচ্ছে। তার খোঁজ নেওয়ার সময় ছিলো আমার? আমি তো আমার দুনিয়ায় ব্যস্ত ছিলাম। যে দুনিয়ায় শিউলি ছিলো, নিলু অল্প একটু ছিলো। কখনো কখনো প্রয়োজন বোধ করলে তার সঙ্গে মিলিত হতাম। কখনো বা টুকটাক থাপ্পড় দেওয়ার ইচ্ছা হলে যেকোন অজুহাতে দিতাম। এই তো ছিলো তার সঙ্গে দেনা পাওনা। এভাবে বিয়ের আট বছর পার হয়।

সপ্তাহ দুই আগের কথা, একদিন নিলু খুবই মলিন গলায় বলে,“আমি মা হতে যাচ্ছি।” আমি তার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যাই। এই সময়ে বাচ্চা? সত্যি বলতে বাচ্চার পরিকল্পনা তো করিনি। তবে খুশি নাহলেও দুঃখী হইনি। হ্যাঁ একটু কষ্ট পেয়েছিলাম নিলুর মলিন মুখ দেখে। বাচ্চা তো মায়ের জন্য সুখের। তবে মা হয়ে সে মলিন গলায় তার আগমনের কথা জানাচ্ছে কেন? এটা ভেবে খারাপ লাগছিলো। আমার মন অজান্তেই বলেছিলো,“এত কষ্ট দিয়েছি আমি নিলুকে যে সে এখন আমার সন্তান গর্ভে নিয়ে খুশি হতে পারছে না।” জানি না এটাই সত্য কি-না। তবে মনে হয় এক মুন্নার জন্য তার জীবনটা বাঁধা পড়ে রয়েছে। মুন্না না থাকলে হয়তো এ জীবন থেকে মুক্তির জন্য আত্ম হত্যা করতো। তার মুখের দিকে তাকিয়ে এই নরকে মানিয়ে নিয়েছে। তার মধ্যে এখন এই দ্বিতীয় সন্তান। এটা নিলুকে খুশি দিতে পারেনি। এটা তার জন্য ঝামেলার বোধহয়। তবুও মাতৃ হৃদয় তো তাকে অবহেলা করতে পারেনি৷ তাই তো সন্তানটাকে নষ্ট করার কথা ভাবেনি।

নিলু দ্বিতীয়বার মা হবে তাতে আমার কোন খারাপ লাগা ছিলো না। তবে ছোট ভালো লাগা ছিলো। প্রথমবার বাবা হয়েও তো সব অবহেলায় হারালাম। তবে এবার কেন জানি না বাচ্চাটাকে নিয়ে কল্পনা করে খুব খুশি হচ্ছিলাম। কিন্তু এই খবরটা শিউলি খুশিমনে নেয় না। আমি যে নিলুর কাছাকাছি যাচ্ছি, সে আমার সন্তানের মা। এটা মানতে পারছে না শিউলি। শিউলি থাকা অবস্থায় আমি নিলুর সন্তানের বাবা। এটা মানা যায়? তাছাড়া শিউলি ভয় পাচ্ছিলো, কারণ গ্রাম অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে পুরুষরা প্রথম সন্তানের সময়ও পুরোপুরি বাবা হয়ে উঠতে পারে না কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের সময় সে সম্পূর্ণরূপে বাবা হিসাবে ধরা দেয়। তখন সন্তানদের প্রতি আরও বেশি মায়া কাজ করে। এটা শিউলির বাবার বাড়ির দিকে বলতো। তাই ভয় পাচ্ছিলো। এই মায়ায় না আবার আমি নিলুতে মজে যাই।

আর এজন্য শিউলি আমাকে বোঝাতে শুরু করলো, এই বাচ্চা আমার নয়। আমি কতটা সময় আর নিলুর সঙ্গে থাকি। নিলু নিশ্চয় অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক বানিয়েছে। নয়তো বাচ্চা আসবে কিভাবে? তবে এবার এই কথা আমি মানলাম না। কারণ আমি জানি নিলুর কারো সঙ্গে সম্পর্ক নেই। ওর কাছে কেউ আসেনি। ওটা আমারই বাচ্চা। সত্যি বলতে আমি সেই মানুষ যার সঙ্গে নিলুর লাভ ম্যারেজ হয়েছে। এই মানুষটা তাকে যে নরক দুনিয়ায় দেখিয়েছে, তারপর অন্য কোন পুরুষকে বিশ্বাস করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা অসম্ভবের ঘটনা। তাছাড়া নিলু চরিত্রহীন নয়। ও বাচ্চার বাপ আমি নাহলে সে কখনো আমায় জানাতো না। এটা নিয়ে শিউলির সঙ্গে আমার একটু তর্ক হয়। তবে শিউলি অনেক চেষ্টা করছিলো, আমাকে বোঝানোর। এক পর্যায়ে তার একই কথা বারবার ঘ্যানঘ্যান করায় আমি বিরক্ত হয়ে যাই। তাই একটু উচ্চশব্দেই বলে ফেলি,“তুমি সবাইকে নিজের মতো ভাবো নাকি যে যার তার সঙ্গে শুয়ে পড়বে।”

এই কথাটা তখন অজান্তেই মুখ দিয়ে বের হয়েছিলো। আমি চাইনি শিউলিকে অপমান করতে। তবে শিউলি অপমানিত হয়। এটা তার ইগো হার্ট করে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমি তাকে বে…. বোঝালাম। মানতে পারে না শিউলি। সেদিন রাতে নিলুকে ফোন দিয়ে গালাগালি করে। তার এক কথা,“কার না কার বাচ্চা পেটে ধরে এখন তুই সুজয়ের নাম দিচ্ছিস মা….।”

নিলু এসব কথার পর সেদিন আমার সঙ্গে তর্ক করে। বহুদিন পর সে আমার সঙ্গে অনেক কথা বলে। তবে মিষ্টিমধুর গল্প হয় না, হয় ঝগড়া। নিলু এক সময় হতাশ গলায় বলে,“আমার বাচ্চা অবৈধ নয়। এই বাচ্চা তোমারই।”

আমি আর সেদিন কথা বাড়াতে পারলাম না। আমি তো জানি এই বাচ্চা আমার। তবে নিলু ভাবছিলো, শিউলির মতো আমিও বিশ্বাস করি এ বাচ্চা আমার নয়। কিন্তু সেটা সত্যি নয়। তবে সত্যটা নিলুকে বোঝাতে পারলাম না। এদিকে শিউলি চাচ্ছিলো না এই বাচ্চাটা দুনিয়ায় আসুক। সে বাচ্চা নষ্ট করতে বলছিলো। তবে আমি এসব কথা নিলুকে বলিনি। আমি কোথাও গিয়ে এই বাচ্চা চাচ্ছিলাম। আমাকে দিয়ে কাজ হচ্ছে না দেখে শিউলি নিজেই বাড়ি এসে বাচ্চা নষ্ট হওয়ার ঔষধ খাওয়াতে চাচ্ছিলো নিলুকে। এই খবর আমি জানতাম না।

আমাকে না জানিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শিউলি এসে আমার বাসায় ওঠে। সে এসে নিলুর সঙ্গে খুবই আজেবাজে ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে। শিউলির বলার ধরণ ছিলো এমন,“এই বাচ্চা অবৈধ। জারজ সন্তান। এটাকে রেখে তুই সুজয়ের ঘাড়ে চাপাবি তা তো হবে না। এই বাচ্চা তোকে নষ্ট করতে হবে।”

বাচ্চা অবৈধ, তার উপর নষ্ট করতে হবে এই কথা শুনে নিলু সহ্য করতে পারে না। সে গর্জে ওঠে। এক মূহুর্তে কয়েকটা থাপ্পড় শিউলির গালে বসিয়ে দেয়। তারপর বলে,“খবরদার৷ নিজের নোংরা মুখ দিয়ে আমার বাচ্চা সম্পর্কে একটা বাজে কথা উচ্চারণ করবি না।”

“তুই আমার গায়ে হাত তুললি?”
শিউলি প্রচন্ড ক্ষেপে যায়। সেও নিলুকে পাল্টা আঘাত করে।অতঃপর দু’জনার মধ্যে লেগে যায় মারাত্নক তর্ক বিতর্ক। হাতাহাতিও হয়। তবে শিউলি পারে না। নিলু তার অসাবধানতার সুযোগ দিয়ে তাকে এক ধাক্কা দেয়। যার ফলে তার মাথাটা গিয়ে সজোরে ফ্রীজে বারি খায়। আর মাথা আঘাত পেয়ে সে একটু দূর্বল হয়ে যায়। মেঝেতেই শুয়ে পড়ে। নিলুর মধ্যে সেসময়ে কি হয়েছে জানা নেই? মুন্না এসব দেখে কান্নাকাটি করছিলো। নিলু তাকে পাশের ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। অতঃপর সে এক ভয়াবহ কান্ড ঘটিয়ে ফেলে। নিলু এটা জানতো আজ শিউলিকে ছেড়ে দিলে সে তার এবং তার বাচ্চার অবস্থা খারাপ করে দিবে। তাছাড়া বহুদিনের ঘৃণা তো জমা ছিলোই। সেজন্য শিউলি নিজেকে সামলে উঠে বসার মধ্যে সে হাতে করে নিয়ে আসে কেরোসিন তেল। এতক্ষণে শিউলি উঠে বসে। নিলু এসে সরাসরি শিউলির কোমরের নিচের অংশে তেল ফেলে দেয়। শিউলি এটা দেখে রাগান্বিত গলায় বলে,“খা… মা….। তুই লড়াই করতে চাচ্ছিস আমার সাথে। তবে আয় দেখাচ্ছি মজা।” কথাটা বলে উঠেই নিলুকে ধাক্কা দেয়। পরপর দুই চারটা থাপ্পড়ও বসিয়ে দেয়। নিলু কিছুই বলে না। সে তো তার হাতে থাকা ম্যাচের কাঠিটা জ্বালানো শুরু করে। শিউলি তাকে বাঁধা দিচ্ছিলো। তবে তার বাঁধা সামলে কোনমতে জ্বালিয়ে ম্যাচের কাঠিটা নিলু শিউলির কোমরের অংশে ছুড়ে মারে। সঙ্গে সঙ্গে নিলুও দূরে সরে যায়। এদিকে শিউলির গায়ে কেরোসিন তেল পড়ায়, একটু আগুনের ছোঁয়া পেতেই সেটা জ্বলে ওঠে। শিউলি চিৎকার দিয়ে ওঠে। সে লাফাতে শুরু করে৷ এদিকে নিলু সেই সুযোগে তেলের বোতল তুলে নিয়ে আরও তেল ঢালতে শুরু করে। আর বলে,“এটা দিয়েই তো বশ করেছিস সুজয়কে। এবার মেটা এটার খাইস। এটাই যদি না থাকে তখন স্বামী, সুজয় তাছাড়া যত পুরুষ বশ করছিস সেটা কিভাবে করিস?”

শিউলিও ছেড়ে দেবার পাত্র ছিলো না। যখন সে বুঝেছে তার মরার সময় এসে গেছে। অবস্থা বেশ খারাপ তখন সে নিলুর দিকে এগিয়ে যায়। মরলে তাকে নিয়ে মরবে। নিলু এটা বুঝতে পেরে দ্রুত এক রুমে ঢুকে নিজেকে বন্দী করে নেয়। অতঃপর শিউলি বসার ঘরে বসে ছটফট করতে থাকে। সত্যি সত্যি তার নিচের অংশই বেশি পুড়ে যায়। সেখানে দগ্ধ বেশি হয়। এদিকে এসব চিৎকার চেঁচামেচি আশেপাশের ফ্লাটেও যায়। তারা শুনেও শোনে না। তবে শিউলি যখন বাঁচার আকুতি জানায়, কান্নাকাটি করে তখন দুই ফ্লাট থেকে লোকজন এগিয়ে আসে। তাছাড়া আগুনের ধোঁয়াও দেখতে পায় তারা। তখনই প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়ে শিউলিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি খবর পেয়ে হাসপাতালে না গিয়ে দ্রুত বাড়ি আসি।

শিউলি তখনও বেঁচে ছিলো। তবে তার অবস্থা খুব খারাপ। আর তার খারাপ অবস্থা শুনে আমার মাথাও খারাপ হয়ে যায়। নিলুর এতবড় সাহস ও শিউলিকে মেরে ফেলেছে। না রাগটা সেখানে ছিলো না৷ রাগটা ছিলো ওখানে যে নিলু শান্ত শিষ্ট, নরম স্বভাবের মেয়ে। যে আমার মার খেয়ে কখনো আমার মুখের উপর কথা বলার সাহস পায় না সেই মেয়ে শিউলি আমার সব জেনেও এতকিছু ঘটিয়ে ফেলেছে। এটা বেশি ইগোতে লাগে। আমি বাসায় এসে নিলুকে ডাকতে থাকি। নিলু বের হয়। ততক্ষণে নিলু মুন্নাকে পাশের ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। নিলু বেরিয়ে আসতে আমি তার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেই। এটা দেখে প্রথমে নিলু বলে,“বে… জন্ম বউ পিটাচ্ছো। বাহ্। চমৎকার।”

“নিলু।”
আমি চিৎকার দিয়ে উঠি। তবে আমার চিৎকারে কিছু যায় আসে না নিলুর। নিলু এক ভয়াবহ অপরাধ করে সাহসী হয়ে যায়। তার তো এখন এমনি শাস্তি হবে। হয়তো খুব তাড়াতাড়ি পুলিশ আসবে। তাই মনমতো আজ প্রতিবাদটা করে নিক নিলু। তাই নিলু আমাকে আর শিউলিকে যা নয় তা বলা শুরু করে। সবচেয়ে বড় ব্যপার হলো আমি অনাথ। আর নিলু আমাকে কোন বে… গর্ভে জন্ম হওয়া সন্তান বলে ফেলে। তাই আমার স্বভাব এমন। একে তো শিউলির ঐ অবস্থা, তার মাঝে নিলুর এমন কথা। সব মিলিয়ে আমি হয়ে যাই পশু। অতঃপর লাথি থাপ্পড় একের পর এক চলতে থাকে। নিলুর পেটে একের পর এক লাথি দিলে তখন নিলুর হুঁশ ফেরে। সে বাচ্চার জন্য বাঁচার আকুতি জানায়। পেটে আঘাত করতে বারণ করে। কিন্তু আমার কি সেসব শোনার সময় আছে? নাই তো। আমি তো তখন আস্ত এক জানো য়ার হয়ে গিয়েছি। আমার মধ্যে অন্য এক সত্তা ঢুকে পড়েছে যেন। এমনটা হয়তো শিউলি আসার পর নিলুরও হয়েছে। তবে নিলু তো তাও অনেক সহ্য করেছে। সহ্যশক্তি হারিয়ে গেছে বলেই এমন করলো। কিন্তু আমি কেন করছিলাম? হয়তো অমানুষ বলে। তাই তো নির্দয়ের মতো তাকে পেটাতে থাকি। এক সময় তো হাতের কাছে পাওয়া কাঠের চেয়ার তুলে পেটের উপর একের পর এক আঘাত করতে থাকি। যতক্ষণ না আমি ক্লান্ত হই ততক্ষণ অবধি তাকে মারতেই থাকি। এতক্ষণে নিলু জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গিয়েছে। তার সাড়া শব্দ নাই দেখে আমি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাই।

আমি হাসপাতালে এসে খবর পাই শিউলির অবস্থা জটিল। বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁচবে। তবে তার নিচের অংশ খুব বাজেভাবে দগ্ধ হয়েছে। কয়েক ধাপে সার্জারী করার পরও কতটা কি ওখানে ঠিক হয় বলা যায় না। ডাক্তাররা নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে শিউলির বাপের বাড়ির লোকজন আসে। তার স্বামীও ফোনে ফোনে যোগাযোগ রাখছে। পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলছে। পুলিশ এখানকার পরিস্থিতি দেখছিলো। শিউলির পক্ষ হয়ে নিলুর বিরুদ্ধে এখনো কেউ মামলা করেনি। প্রতিবেশীরা জানিয়ে দিয়েছে, তারা শুধু তাকে আহত পেয়েছে এসব কে করেছে জানা নেই। এখন তারা হয়তো শিউলির মুখ থেকে অপরাধীর নাম শুনে নিশ্চিত হয়ে নিলুকে ধরতে যাবে।

____
ভোরের আলো ফুটতে আমি বাড়ি ফিরে আসি। তবে আসার আগে নিলুর নামটা পুলিশকে বলে আসি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। শিউলিও হয়তো আদো আদো কন্ঠে নিলুর নাম বলছে। পুলিশ খুব শীঘ্রই নিলুকে ধরতে আসবে। তার আগে আমার একটু তাকে দেখতে আসা। ঘরে তো এসেছিলাম নিলুকে আরও শায়েস্তা করতে। তবে ঘরে এসে আমি নিজেই শেষ হয়ে গেলাম। গতরাতের মার সহ্য করতে না পেরে বাচ্চা তো পেটেই শেষ। তবে তলপেটে আঘাত খাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় নিলুর। সারারাত ওভাবে পড়ে থাকায়, রক্তক্ষরণে নিলু মা রা যায়। আমি এতই পাষাণ যে যাবার সময় ফ্লাটে তালা মেরে গিয়েছিলাম। তাই কেউ ঘরে এসে নিলুর খোঁজও নিতে পারেনি। আর নিলুর এই মৃ ত্যু আমার হৃদয়ে বহুবছর পর ধাক্কা দেয়। শুধু কি নিলু? সঙ্গে তো বাচ্চাও ছিলো। নিলুর নিথর দেহ, পাশের ঘরে মুন্নার মা মা কান্নার শব্দ শুনে এই প্রথমবার আমি আমার অপরাধ উপলব্ধি করলাম। তবে সেটা অসময়ে। যখন কিছুই করার ছিলো না। নিজ হাতে আমি আমার সাজানো গোছানো সুন্দর জীবনটা নষ্ট করে ফেলেছি। আমার ভালোবাসা, আমার নিলুকে মেরে ফেলেছি। এই অসময়ে এসে আমার স্মৃতির পাতায় আমার সব অপরাধগুলো ভেসে উঠেছে। পাশের ঘরে মুন্নার মায়ের সাড়া না পেয়ে কান্নার বেগ বাড়তে থাকে, তার কান্নার সঙ্গে অদৃশ্য কেউ যেন আমায় বলছে,“বাবা তুমি খু নি। তুমি আমায় মেরে ফেলেছো। আমার ভাইয়ের কাছ থেকে মাকে কেড়ে নিয়েছো। বাবা তুমি খুনি।” আর এসব শব্দ আমায় তীব্র অপরাধবোধ অনুভব করাচ্ছে। যা এক অসহ্যকর যন্ত্রণা। অন্যরকম যন্ত্রণা।

পরিশেষে, পুলিশ এসে নিলুর মৃত দেহ পায়। সুজন নিজ থেকে পুলিশের কাছে ধরা দেয়। তার সমস্ত অপরাধ স্বীকার করে নেয়। সে তার প্রাপ্য শা স্তি মাথা পেতে নিতে চায়। তার কেসটা আদালতে উঠেছে। অন্যদিকে মুন্নার দায়িত্ব তার নানা, নানী নেয়। যারা মেয়ে হারিয়ে এখন আফসোস করছে। তারা বাবা, মা নামের কলঙ্ক। সমাজ নামক এক মিথ্যে সম্মানের ভয়ে তারা তাদের আদরের মেয়েটাকে একেবারে শেষ করে দিলো। আর এখন অসময়ে এসে তাদের উপলব্ধি হচ্ছে ভুল করেছে। মেয়েটাকে নিজেদের কাছে এনে রাখলেই পারতো। অন্যদিকে শিউলি বেঁচে রয়েছে। তবে জীবন্ত লাশ হয়ে। তার নিচের অংশ প্যারালাইজড হয়ে রয়েছে। এসবের চিকিৎসা ব্যয়বহুল, যেটা বহন করেও কোন লাভ হবে না। তাই তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে শিউলি জানতে পারে, তার স্বামী সেদিন নিলুর কথা যাচাই বাছাই করেছে অন্য এক লোকের মাধ্যমে। তার চরিত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সে বিদেশেই অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। আর সেজন্য হয়তো তার চিকিৎসার খরচ বহন করতে চাচ্ছে না। তাই এভাবে তাকে তালাক দিলো। জীবনের এই সময়ে এসে শিউলিও তার ভুল বুঝতে পারে। অনুশোচনায় দগ্ধ হয়। এভাবেই চলছে তাদের জীবন।

(সমাপ্ত)

অ_সময় পর্ব-০৩

#অ_সময় (৩)
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

নিলু খুব বোকা ছিলো। আমার ভাবনা অনুযায়ী সে বোকা। সরল মানুষ। কিন্তু তাও কিভাবে যেন সে শিউলি ভাবীর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করলো। আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি নিলু এতদূর যেতে পারে। এটা তার পক্ষে সম্ভব। অথচ সে শিউলি ভাবীর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমাদের বিষয়ে তাকে জানিয়ে দেয়। জানি না নিলু কোন উদ্দেশ্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। হয়তো ভেবেছিলো লোকটা তার বউকে শায়েস্তা করবে। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বারণ করবে। হয়তো এই উপায়ে আমি শিউলি ভাবীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো। এই আশায় বোধহয় নিলু এসব করেছে। কিন্তু এটা সম্ভব হয়নি। বোকা নিলু তো জানতোই না, শিউলি ভাবীর স্বামী অন্ধ প্রেমিক। বউয়ের প্রতি তার অন্ধ প্রেম, বিশ্বাস। সে নিলুর কথা বিশ্বাস তো করলোই না উল্টা তাকে বকা দিয়েছে।

তবে হ্যাঁ শিউলি ভাবীকে এসব কথা বলে দিয়েছে। আর শিউলি ভাবীর মাধ্যমে আমি জানলাম, নিলু আমার অগোচরে এমন কান্ড ঘটিয়েছে। নিলু কতটা কষ্ট হাহাকার নিয়ে শিউলি ভাবীর স্বামীকে বলেছে,“ভাই আমি আপনার ছোট বোনের মতো, দয়া করে আমার স্বামীকে একটু আমাকে ফিরিয়ে দেন। একটু দয়া করুন। আপনার স্ত্রীকে সামলান।”

নিলুর এই কথা জানার পর আমার খুশি হওয়া উচিত ছিলো। তার প্রতি সহানুভূতি জাগা উচিত ছিলো। কিন্তু তা হয়নি। বরং হয়েছে রাগ। আমি রেগে গেলাম। খুব রেগে গেলাম। কিভাবে আমার অগোচরে এতবড় কান্ড ঘটালো নিলু? শিউলিকে জীবন থেকে সরানোর চেষ্টা করেছে। নিলু খুব খারাপ কাজ করেছে। তার উপর শিউলি ভাবী কেঁদে কেঁদে বললো,“আমার স্বামী আজ যদি নিলুর কথা বিশ্বাস করতো, তাহলে তো আজ আমি শেষ হয়ে যেতাম। আমি তো তোমাকেও হারিয়ে ফেলতাম। সুজয় আমি তোমাকে হারাতে চাই না। আমি তোমায় খুব ভালোবাসি। কতবড় সর্বনাশ না তোমার বউ করতে যাচ্ছিলো আজ।”

তার এই কান্না, ভালোবাসা আমার রাগ বাড়িয়ে দিলো। আর সেদিন বাসায় এসে আমি নিলুর উপর খুব রাগ দেখালাম। টুকটাক হাত তোলা হয়ে গিয়েছে বড়সড় আঘাত। পুরো এক ঘন্টা কু কুরের মতো তাকে পিটালাম। বেল্ট খুলে ইচ্ছামতো দিলাম পিটানি। নিলু এত মার সহ্য করতে পারছিলো না। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু তার কান্না আমার কানে গেলো না। আমি তো গালাগালি দিতে ব্যস্ত ছিলাম। সঙ্গে আঘাত করতে। এক সময় নিলু আমার পা জড়িয়ে বলে,“আমার মাফ করে দাও। দয়া করে আর মেরো না। আমাকে মাফ করো। আমি আর কখনো তোমার আর তার জীবনে বাঁধা হবো না। ক্ষমা করো।”

তার ক্ষমা, তার ভেঙে পড়া আমার ভেতরে থাকা পশুটাকে পৈশাচিক আনন্দ দিচ্ছিলো। সে এক অন্যরকম আনন্দ। মন আপন তালে বলে উঠলো,“মা…. পোষ মানবি না তো যাবি কোথায়? আমার সঙ্গে গরম। দেখলি মজা।”

অথচ তার এই পোষ মানার মধ্যে যে অসহ্য যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিলো তা আমি না দেখে রইলাম। তার শরীর, মনের যন্ত্রণা আমাকে ছুঁতেই পারছিলো না। কারণ আমি যে অমানুষে রূপান্তিত হয়ে গিয়েছিলাম। সে রাতে নিলু হুহু করে শুধু কাঁদতেই ছিলো। এর আগেও অনেক রাত সে কেঁদেই কাটিয়েছে। তবে এই রাতের কান্না অন্যরকম ছিলো। অন্যরকম যন্ত্রণার। কিন্তু আমি সে কান্নার গভীরতা অনুভব করতে পারিনি। উল্টো আমার মনের পশুটা সুখ পাচ্ছিলো। আমার সুখ দ্বিগুন বেড়ে যায় যখন নিলু কেঁদে কেঁদে তার মাকে ফোনে বলছিলো,“মা আমায় নিয়ে যাও। আমাকে আর মুন্নাকে একটু নিয়ে রাখো। তোমরা আমাকে খাওয়াতে না পারো, একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিও। আমরা নাহয় আমাদেরটা সে থেকে চালিয়ে নিবো। প্লীজ।”
জবাবে তার মা বলে,“তোর বাবা হার্টের রোগী। এখন সংসার ছেড়ে এসে তাকে মারতে চাস? একবার তো সম্মান সব শেষ করলি, এখন আবার। দেখ মা, সংসার জীবনে ওমন ঝামেলা হয়। একটু মানিয়ে নে।” তার মায়ের এসব কথা আমাকে খুশি করে দেয়। তার কথা আমাকে বুঝিয়ে দেয় সে আমার কাছে বন্দী। তার বাবা, মা সমাজ মিছে সম্মানের ভয়ে কখনো তাকে ঘরে জায়গা দিবে না। নিলুর যাবার কোথাও জায়গা নাই। আর না আছে তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা যা তাকে স্বাবলম্বী করতে পারে। তাই তার সঙ্গে আমি যাই করি না কেন তাকে আমার কাছেই থাকতে হবে। মাটি কামড়ে। আর এটা বোঝার পর থেকে আমার আচরণ আরও বদলে যায়। এরপর থেকে তাকে জোরালোভাবেই আঘাত করা শুরু করি।

কখনো বেল্ট, কখনো হাতুড়ি, কখনো বা কাঠ দিয়ে আঘাত করে বসি তাকে। মাথা কেটে যায়, কোমড় নাড়াতে পারে না। সেই অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকে। তাও চিকিৎসা করাই না। কখনো ভাবিনি তার চিকিৎসা দরকার। তবে আস্তে আস্তে মুন্না বড় হয়। তার মুখে কথা ফোটে। তার বাবা ডাকটা মাঝে মাঝে অনেককিছু ভাবায়। আমার মধ্যে নূন্যতম বেঁচে থাকা মানুষটা অমানুষ থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবে। সেটা ঐ ভাবা অবধিই। যখনই শিউলির কাছে যাই। তার মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে মনে হয়, এটাই আমার দুনিয়া। জানি না কি ছিলো তার কাছে। তবুও সে আমার কাছে অনেক প্রিয় ছিলো। নিলুর জন্য জীবনে যা কিনিনি তা সব শিউলির জন্য কিনেছি। বিবাহিত জীবনের প্রথমদিকে টানাটানি ছিলো। চাকরির বেতন ছিলো স্বল্প। তখন নিলুকে একজন ভালো স্ত্রীর মতো মুখ প্রসাধনী ব্যবহার করা বাদ দিতে হয়। সেই সঙ্গে আরও অনেককিছুই বাদ দিতে হয়। তাই সেভাবে মেয়েদের কোন পোডাক্ট চেনা হয়নি। কিন্তু শিউলির সংস্পর্শে এসে সব চিনেছি। তবে সেই চেনা শিউলির জন্য নিয়ে আসায় সীমাবদ্ধ ছিলো। নিলুর জন্য এসব কখনো যায়নি। এভাবেই চলছিলো জীবন। পাপ মানুষকে খুব আকর্ষণ করে। খুবই বিমোহিত করে রাখে। তাই তো শিউলি আমার দুনিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ধীরে ধীরে শিউলির বাচ্চারা আরও বড় হয়। তারা কিছু একটা বুঝছিলো। ছেলেটা তো বলেই ফেলতো,“তোমার ঘরে চাচা কেন আসে মা? এসব তো খারাপ কাজ? সবাই তো বলে খারাপ। তুমি এসব করো কেন?” তবে আমার মতোই শিউলি অন্য জগতে মগ্ন ছিলো। তাই তার ছেলের এসব কথা গায়ে সইতো না। বরং ছেলেটাকে মারধর করে চুপ করিয়ে রাখতো। এসব বিষয়ে অন্ধের মতো থাকতে বলে দিতো। তবুও ছেলেটা কথা বলতো। তার এসব ভালো লাগতো না। মায়ের অধঃপতন সহ্য হতো না বোধহয়। তবে তাতে আমার বা শিউলির কিছুই যায় আসতো না।

এর মাঝে নিলু এসে শিউলির হাতে পায়েও ধরে। আমি জানি না নিলু নিজেকে এতটা ছোট কেন করছিলো। হয়তো এখানেই থাকতে হবে, তাই স্বামীর মনটা নিজের দিকে ঘুরানোর শেষ চেষ্টা। তবে শিউলির কি মন গলে? গলে না। সে তো মজা পাচ্ছিলো নিলুর আচরণে। তাই তো অহংকারের সঙ্গে বলে,“নিজের স্বামী ধরে রাখার মুরোদ নাই, আসছে আমাকে থামাতে। এই আমি কি তোর স্বামীকে ডেকে নিয়ে আসি?ও আসে। তুই তোর স্বামীকে ধরে রাখতে পারিস না। তুই ওকে আসতে মানা কর। তাহলেই হয়।”
এসব শোনার পরও নিলু তার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলে। নরম গলায় বলে,“আপনিও তো একটা মেয়ে। মেয়ে হয়ে এভাবে অন্য এক মেয়ের ঘর ভাঙতে পারলেন ভাবী?”

নিলু নরম গলায় বলছিলো। কিন্তু শিউলি এটা নরম হিসাবে নেয়নি। এই সামান্য কথা মাইন্ডে নিয়ে নেয়। যা নয় তা বলে গালিও দেয়। শুধু কি তাই? নিলুর ক্ষমতা নাই ভালোবাসা পাওয়ার। শিউলির ক্ষমতা রয়েছে বলেই আমি এবং তার স্বামী দুজনেই তাকে ভালোবাসি। শিউলির মুখের ভাষায় সে কি অহংকার। অথচ বৈধ পবিত্র সম্পর্ক থাকা পরও নিলু এমন অহংকার নিয়ে কথা বলতে পারেনি। আমিই তাকে সুযোগ দেইনি।তবে নিলু সেদিন অনেক বেশিই ভেঙে পড়ে। যদিও প্রতি নিয়তই ভেঙে পড়েছে। তাও তার চেয়ে বেশি ভাঙা যাকে বলে। তবে সেদিনের ঘটনা এমন হলেও, আমার কানে সেটা ভিন্নভাবে এসে পৌঁছায়। অতঃপর…..


চলবে,

অ_সময় পর্ব-০২

#অ_সময় (২)
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

নিলু খুব শান্ত গলায় জানতে চায়,“শিউলি ভাবীর শোবার ঘর অবধি যাবার অনুমতি কবে থেকে পেয়েছো তুমি?”
সেদিন নয় ছয় বোঝাতে পারলাম না। আমার কন্ঠ দিয়ে কোন কথাই বের হলো না। নিলুর শান্ত চোখ, তার কন্ঠে গভীর কিছু ছিলো। যা আমাকে বাঁধা দিলো মিথ্যা বলতে। সত্যি বলতে সেদিন আমি স্পষ্ট বুঝে গেলাম, নিলুকে আর মিথ্যে বলা সম্ভব নয়। সে সত্য জেনে গিয়েছে। তাই মিথ্যা বলা সম্ভব নয়। তবুও ভয়ে ভয়ে বললাম,“ভুল ভাবছো তুমি।”

“ভুল নয়।”
নিলু খুব শান্ত গলায় বলে। অতঃপর আমার দিকে তাকায়। তার চোখ দুটো ছলছল। এই বুঝি কান্না করে দিবে। তবে কাঁদে না। সে খুব শান্ত গলায় বলে,“বাবু হওয়ার আগে তোমার কত এক্সাইটেডমেন্ট ছিলো। কত স্বপ্ন ছিলো। অথচ তার জন্মের পর তোমার মধ্যে আমি কিছুই পাচ্ছিলাম না। বাবা হিসাবে সন্তানের প্রতি যে একটা ভালোবাসা থাকে, তোমার মধ্যে সেই ভালোবাসাটা ছিলো না সুজয়। শুধু তাই নয়, তোমার আমার প্রতিও কেমন অনীহা দেখা দিচ্ছিলো। ধীরে ধীরে কেমন যেন দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। হ্যাঁ মুখে বলোনি। মুখে তো ভালোবাসি বলেছো। কিন্তু আচরণে সেই ভালোবাসাটারই অভাব ছিলো। যা আমার মধ্যে অনেক অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে আজ আমি শেষ হয়ে গেলাম সুজয়। পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
নিলু আমাকে তার হৃদয়ে কষ্ট, তার ভালোবাসার বেঈমানী মানতে না পারার যন্ত্রণা ব্যখা করছিলো। সে আমার জন্য কতটা আঘাত পেয়েছে। কত গভীর ক্ষত জন্ম নিয়েছে তার মধ্যে, সেসব বলছিলো। কিন্তু আমি। আমি সেসব শুনেও শুনলাম না। আমার মধ্যে তো তখন অন্য ভয় ছিলো। নিলু সব জেনে গিয়েছে। এবার কি আমাকে নিলু বা শিউলি ভাবী একজনকে বেছে নিতে হবে? কিন্তু আমি একজনকে বাছতে পারছিলাম না।

আমি জানি না, তখন আমার মধ্যে কি হচ্ছিলো। আমার মধ্যে মানুষের বৈশিষ্ট্য ছিলো কি-না। তবে হ্যাঁ আমি নিলুর কষ্ট অনুভব করতে পারিনি। শুধু এটাই মাথায় চলছিলো, আমার নিলুকে দরকার। তাই তখনই তার হাত ধরে বললাম,“নিলু স্যরি। ভুল হয়ে গিয়েছে। অজান্তে হয়ে গিয়েছে ভুলটা। এটা ভুল করে হয়ে গিয়েছে।”
আমার এই কথা শুনে নিলু খুব রেগে যায়। খুব কড়া গলায় বলে,“ভুল? এটা ভুল? তুমি আমার বিশ্বাস, আমার ভালোবাসা সব ভেঙে দিয়েছো। আর এখন বলছো এটা ভুল? এটা আদৌ ভুল বলো?”

নিলু এবার হুহু করে কেঁদে দেয়। তার কান্না মনে আঘাত করছিলো কি-না জানি না। তবে তাকে হারাতে চাইনি। তাই তাকে জড়িয়ে ধরে মাফ চাচ্ছিলাম। একবার নয় বহুবার। নিলু কাঁদতে কাঁদতে বলে,“তোমায় ভালোবেসে সব ছেড়ে তোমার কাছে এসেছিলাম সুজয়। আর সেই তুমি। তুমি কিভাবে পারলে এটা করতে? বলো কিভাবে?”

নিলু সেদিন রাতে খুব কান্না করলো। বিছানায় শোয়া মুন্নাও জেগে গিয়ে কান্নাকাটি করছিলো। তবে নিলু তাকে ছুঁয়েও দেখলো না। নিলুকে দেখে মনে হচ্ছে তার এই দুনিয়ার প্রতি এখন কোন আগ্রহই নাই। আর আমি? তার দুঃখ আমি আদৌ বুঝেছি। না হয়তো। আমার তো শুধু তাকে দরকার। তাই তো তার পায়ের কাছে পড়েছিলাম। ক্ষমা চেয়েছি। সেবার টানা দু’দিন তার হাতে পায়ে পড়ার পর সে ক্ষমা করে। বিনিময়ে শর্ত দেয়। কখনো শিউলি ভাবীর সঙ্গে দেখা করা যাবে না। কথা বলা যাবে না। শুধু তাই নয় আমাদের এখান থেকে বাসা বদলাতে হবে। আমি তার সব শর্ত মেনে নেই। সত্যি তখন শিউলি ভাবীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। কিন্তু আমি তখন ভালো ছিলাম না। তার সংস্পর্শে আমি যে সুখটা পেতাম, সেটা হারিয়ে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। তবুও নিলুর জন্য মেনে নেই। ওদিকে শিউলি ভাবীও আমাকে হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। আমাদের বাড়ি আসে। কিন্তু নিলু দরজা খোলে না। তাকে ঘরে প্রবেশ করতে দেয় না। আর আমাকে বাসা পাল্টানোর জন্য চাপ দেয়।

সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বাধ্য হয়ে নিলুর জন্য বাসা বদলাতে হয়। তবে এই খবর শিউলি ভাবী পেয়ে সে পাগল হয়ে যায়। আমাকে ফোন দিয়ে প্রচুর কান্নাকাটি করে। সে আমাকে ভীষণ ভালোবাসে। আমিও তাকে চাই। তবে নিলুকে হারিয়ে নয়। তাই বাসাটা বদলেই ফেললাম। কিন্তু মন? পুরুষ মনের কামনা সেটা কি বদলাতে পারলাম? তাই তো নিলুর মন জয় করতে না করতে শিউলি ভাবীর সঙ্গে আবার দেখা করা শুরু করে দেই। তবে বেশিদিন পারিনি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে নিলুর কাছে আবার ধরা খাই। তবে এবার ক্ষমা চেয়েও লাভ হয়নি। নিলু বাচ্চাকে নিয়ে সোজা বাবার বাড়ি চলে যায়। আমার কোন কথাই শোনেনি।

নিলু চলে যাবার পর কয়েকবার ফোনেও যোগাযোগ করি। কিন্তু পারিনি। ব্যর্থ হই। তিনদিনের মাথায় তাকে নিয়ে আসতে যাই। তবে নিলু আসেনি। তখন রাগ করে মাস খানেক ছিলো নিলু বাবার বাড়ি। আমি মাত্র সাতদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তাকে ফেরানোর। তবে সে না আগানোতে আর চেষ্টা করি না। বাদ দিয়ে দেই। কারণ তখন যে আমার জন্য শিউলি ভাবী ছিলো। হ্যাঁ নিলুর জন্য সাময়িক কষ্ট হয়েছে৷ তবে সেটা গাঢ় ছিলো না। আর না স্থায়ী হয়েছে সেই কষ্ট। তাই তো খুব সহজেই তার চিন্তা বাদ দিয়ে শিউলি ভাবীতে মজে যাই। সত্যি বলতে, পাপ এমন এক জিনিস যেটা একবার করার পর বারবার করতেই মন চায়। আর বারবার করার পর মনের মধ্যে থাকা পাপবোধ, সংকোচ, ভয় সব কেটে যায়। তখন সেটা শুধু মনকে আনন্দই দেয়। আমার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। নিলু আমার ভালোবাসা ছিলো। তবে সেই ভালোবাসায় তো নিষিদ্ধ কাম ছিলো না। তাই তো সেটা আমায় জোরালো ভাবে আটকাতে পারেনি।

তবে নিলু আমাকে ছেড়ে বেশিদিন থাকতে পারেনি। মাস খানেকের মধ্যে সে আমার সংসারে ফিরে আসে। সে যে কত কষ্ট, দুঃখ পেয়ে এই ঘর করতে এসেছে তা আমি জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টা করেনি। আমি তো খুশি ছিলাম আমি মাফ না চাইতেই চলে এসেছে। আমি শিউলি ভাবীর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছি,সেটা জানার পরও সে ফিরে এসেছে। তার মানে সে সব মেনে ঘর করবে। এটা আমার জন্য খুশির ছিলো। কারণ এখন আর যে তাকে লুকিয়ে কিছু করতে হবে না। তবে সেদিন রাতে নিলু আমার পা জড়িয়ে ধরে বলেছিলো,“বাবা, মায়ের সম্মান নষ্ট করে তোমার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিলাম। বাবা, মাকে কষ্ট দিয়ে। সেই কষ্টের ফল এখন পাচ্ছি গো সুজয়। তবুও দয়া চাচ্ছি তোমার কাছে। একটু দয়া করো। প্লীজ ঐ পাপ থেকে বেরিয়ে আসো। আমার জন্য না হোক আমাদের সন্তানের জন্য ফিরে এসো।”

‘সন্তান’। হ্যাঁ আমার একটা সন্তান আছে। কিন্তু তার প্রতি বাবা হিসাবে আমার যে একটা টান থাকার কথা সেটা আমি কখনো অনুভবই করিনি। করার সময় তো পাইনি। আমি তো অন্য দুনিয়ায় ব্যস্ত। তাই বাবা নামক সত্তাটা কখনো জাগেনি। তাই নিলুর কথায় গুরুত্ব দিলাম না। তবে এটা বুঝেছি নিলু তার বাবা, মায়ের ঘর থেকে কষ্ট পেয়েই এখানে এসেছে। হয়তো তারা মেয়ের পাশে ডিভোর্সি উপাধি চায়নি। এটা তাদের সম্মান আরও নষ্ট করবে তাই ভাবনা। তাছাড়া এই বিয়ে তো তাদের ইচ্ছায় নয়। নিলুর ইচ্ছায় হয়েছে। তাই এই স্বামী খারাপ হলে তাদের কি? দোষ তো নিলুর। হয়তো এমন কিছু খারাপ কথা শুনিয়েই নিলুকে ঘরছাড়া করেছে। বুঝতে পারছি আমি। তবে এসব বোঝার পরও নিলুর প্রতি সহানুভূতি নয় বরং আমার তিরস্কার ভেসে আসে। তাই তো খুব কড়া গলায় বললাম,“গেলি তো বাপের বাড়ি? তো বাপ রাখলো না এক মাসের বেশি? আরে কে রাখবে? বিয়ের পর মেয়ের স্বামীর ঘরই সব। তাই এখন থেকে আমি যা বলবো তাই মেনে চলবি। আমাকে কোন কাজে বাঁধা দিবি না। তোর সমস্ত ভরণপোষণ পেয়ে যাবি।”

আমার মুখ দিয়ে বের হওয়া এই কথাগুলো নিলুর জন্য কত ভারী ছিলো তা আমি জানতাম না। ইচ্ছা করেই জানতে চাইনি। কারণ তখন আমি নিলুর কষ্ট দেখতেই চাইনি। তাই তো নিলুর কোন ভালো কথা সহ্য হয়নি। অতঃপর আমাদের সংসার ওভাবেই চলতে থাকে। আমি রাতের পর শিউলির কাছে থাকতাম। প্রায় শেষ রাতে বাড়ি ফিরতাম। এসব নিলু মানতে পারতো না। প্রায়ই ঝগড়া করতো। আর সেই ঝগড়া থেকে আমি তার গায়ে হাত তুলি। তার মুখ বন্ধ করার মাধ্যম ছিলো এই হাত তোলা। যেটা দিনের পর দিন বাড়ে। কারণ ততদিনে আমার পুরুষ মন জেনে গিয়েছিলো, নিলুর যাওয়ার জায়গা নাই। তার বাবার ঘরে তার জায়গা হবে না। তারা ডিভোর্সি মেয়ে ঘরে তুলবে না। তাই বাধ্য হয়ে নিলুকে আমার সঙ্গেই থাকতে হবে। তাই তো নিলুর উপর অঘোষিত ভাবে হাত তোলার লাইসেন্স পেয়ে যাই। তুলতেও থাকি। তবে হ্যাঁ মাঝে মাঝে তার কাছে আসতাম। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতাম। কিন্তু নিলু সেভাবে সাড়া দিতো না। তাই মজা পেতাম না। তাই তো মিলন শেষে তাকে থাপ্পড় মেরে কড়া ভাষায় বুঝিয়ে দিতাম, তার এবং শিউলির পার্থক্য। সে কথার জবাবে অবশ্য নিলু বলতো,“তোমার জন্য এখন শুধু আমার মনে ঘৃণাই আছে সুজয়। আর যাকে ঘৃণা করা যায় তাকে মিলিত হতে সাহায্য করা যায় না। আর পারস্পরিক ইচ্ছা না থাকলে তো তৃপ্তি পাওয়া যায় না। এটা তুমি বুঝবে না।” যে কথা বলার পর অবশ্য নিলু চড় থাপ্পড় খেতো খুব। এভাবেই চলছিলো আমাদের সংসার। আমাদের ছোট সন্তান বাবা, মায়ের এই কলহ থেকেই বড় হচ্ছিলো। তবে একদিন আমি সব সীমা অতিক্রম করে ফেললাম। সেদিন মাত্রাটা ছাড়িয়েই ফেললাম৷ একটু বেশিই হয়ে যায়। হবে না কেন? নিলু কাজটাই করলো এমন। নিলু….


চলবে,
(ভুলক্রুটি ক্ষমা করবেন।)

অ_সময় পর্ব-০১

#অ_সময় (১)
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

আমার স্ত্রী এবং আমার প্রেমের বিয়ে ছিলো। তার প্রতি এক সময় আমার গভীর প্রেম ছিলো। অথচ আজ আমিই তার মৃ ত্যুর কারণ। শুধু কারণ, বলা যায় খুনি আমি। তার খু নি। এক সময় যে মানুষটা আমার তীব্র প্রেম উপেক্ষা করতে পারেনি বলে বাবা-মাকে ছেড়ে চলে এলো। আজ সেই মানুষটাকে আমার জন্য ম রতে হলো।

গতকাল রাতে যে শরীরে আঘাত করতে আমি দু’বার ভাবেনি। আজ সেই শরীরটায় হাত ছোঁয়াতে ভয় হচ্ছে। খুব ভয়। ভয় তো হবেই। এই শরীরটায় যে প্রান নেই। তার এই প্রানহীন দেহটার দিকে তাকিয়ে আমার অতীতের প্রেমটা জেগে উঠলো। এখন তার মুখটা কত মিষ্টি লাগছে। কি সুন্দর! চমৎকার! অথচ কাল অবধি তাকে দেখলে বিরক্তি লাগতো। ভালো লাগতো না। আচ্ছা এটা ভালোবাসা? নাকি শুধুই তার চলে যাওয়ার অনুশোচনা? কোনটা? তার নিথর দেহের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছি আমি। আমার চোখজোড়া নড়ছে না যেন। এই তো বছর আট হলো দাম্পত্যের। বছর চার তো সুন্দরই ছিলো। স্বপ্নের মতো। বিয়ের আগে তাকে যে যে স্বপ্নের সংসারের আশা দিয়েছিলাম তেমন ছিলো। কিন্তু হঠাৎ সব বদলে গেলো।

তখন বিয়ের চার বছর। নিলু তখন গর্ভবতী। সাত মাস চলছিলো। এতদিনে তার পরিবারও আমাদের মেনে নেয়। তার ভুলটা ক্ষমা করে দেয়। তাই তো নিলুর অসুস্থতা দেখে তার বাবার বাড়ি পাঠাই। সেই পাঠানোই হয়তো আমার ভুল ছিলো। সত্যি কি তাই? এটাই ভুল ছিলো নাকি দোষটা আমারই ছিলো? যেই দোষটা ঢাকতে এখন অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছি। হবে হয়তো তাই।

তখন প্রায় বছর খানেক বাবার বাড়ি কাটায় নিলু। বাচ্চা জন্ম হওয়ার ছয় মাস পর বাড়ি ফেরে। আর তার এই লম্বা সময়ের বাবার বাড়িতে থাকার সময় মাসে একবার আমি তার বাবার বাড়ি যেতাম। তিন, চারদিনের জন্য। বাকিটা সময় নিজ বাড়িতেই থাকতাম। যদিও নিলু খুব চিন্তা করতো। একা থাকছি, কি খাচ্ছি না খাচ্ছি? ফোনে কথা হলেই তার কথার মাঝে স্ত্রীসুলভ এসব চিন্তা ফুটে উঠতো। তার ভালোবাসাটাও প্রকাশ পেতো। প্রথম দুই মাস আমিও তাকে খুব মিস করতাম। ভালোবাসতাম যে। কিন্তু পরে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিলাম। তার মাঝে এসে জুটে আপদ পাশের বাসার শিউলি ভাবী।

শিউলি ভাবীর স্বামী প্রবাসী। এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে সে এখানে একাই থাকে। নিলুর সঙ্গে তার বেশ সখ্যতা ছিলো। নিলু বাড়ি নেই শুনে সে প্রায়ই আমার খোঁজ নিতে চলে আসতো। প্রথম প্রথম সব স্বাভাবিকই ছিলো। তবে আস্তে আস্তে সব অন্যরকম হয়ে যায়। শিউলি ভাবীর অসাবধানতায় শাড়ীর আচল পড়ে যাওয়া, কখনো বা পেটের অংশ বের হয়ে আসা এসব আমার চোখে পড়তে থাকে।

শিউলি ভাবীও ধীরে ধীরে ঘন ঘন আসা শুরু করে। আমার জন্য কখনো কখনো রান্না করেও নিয়ে এসে। কখনো বা আমার ঘরে বসেই আমার রান্নাটা করে দিয়ে যায়। তখন ঘন্টা দুই তিন থাকা হয় একসাথে। প্রথমদিকে ভাবী কি ভাববে সেটা ভেবে তার সঙ্গে গল্প করতে চলে আসতাম। তবে পরবর্তী এই গল্প করতে ভালো লেগে যায়। যেই ভালো লাগা ধীরে ধীরে কামনায় বদলে যায়।

আমি জানি না, এখানে দোষটা কার। আমার না নিলুর না শিউলি ভাবীর। তবে আমার মনে হয় বেশি দোষ নিলুরই ছিলো। ও আমাকে ছেড়ে এতদিনের জন্য কেনই বা বাড়ি থাকলো? তাই তো এসব হলো। আমি আর শিউলি ভাবী এত ক্লোজ হয়ে গেলাম। আর শিউলি ভাবী? সে তো খুব দুঃখী। স্বামী প্রবাসে পাঁচ বছর ধরে। ফোনে কথা বলে কি সব হয়? তাছাড়া স্বামীটা তো টাকা দিয়েই খ্যান্ত। একটুও ভালোবাসা দেখায় না। তাই তো ভুল হয়ে গেছে। আর সময়ের সঙ্গে ভুলটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

আমার যেদিন ছেলে হয় সেদিনও আমি শিউলি ভাবীর সঙ্গে ছিলাম। নিলু ওদিকে লেবার পেইনে কষ্ট পাচ্ছে। আর আমি এদিকে। সেদিন বারবার নিলুর পরিবার ফোন দিচ্ছিলো। আর আমি আশ্বাস দিচ্ছিলাম, এই তো পথে, এই তো জ্যামে আটকা পড়ে গিয়েছি। অতঃপর ছেলেটা হওয়ার দুই ঘন্টা পর হাসপাতালে গিয়ে উপস্থিত হই। কিন্তু নিলু এরপরও কিছু মনে করিনি।আমি যে কাজের ব্যস্ততার অজুহাত দিয়েছি। নিলু সেই ব্যস্ততা সত্যি মেনে নিয়েছি। তবে নিলুর বাবা কিছুটা বিরক্ত ছিলেন। একে তো আমি তার পছন্দের পাত্র নই। তার উপর নিলুর এমন অবস্থায় আসতে দেরি করেছি। তাই বিরক্ত হয়তো। তবে বুঝতে দেননি।

অতঃপর আমার ছেলের ছয় মাস বয়স অবধি নিলু বাবার বাড়িই ছিলো। যদিও ও এক মাস পরই আসতে চাচ্ছিলো। কিন্তু আমি আসতে দেয়নি। বাঁধা দিয়েছি। তখন যে নিলুর কাছে ভালো স্বামী হয়ে থাকতে চাইছিলাম। সঙ্গে শিউলি ভাবীকেও হারাতে চাইনি। তাই আমিই নানা অজুহাতে রাখলাম। তবুও নিলু মনমরা হয়ে বলছিলো,“এতদিন ধরে তোমায় মনমতো কাছে পাই না। আমার ভালো লাগে না সুজয়। তাছাড়া তুমিও তো ওখানে কষ্ট করছো।”

“হ্যাঁ।কিন্তু নিলু তুমি এখন অসুস্থ। এই সময়ে এসে বাচ্চাকে সামলাও, সংসার সামলাও। সবটা পারবে না। তাই বাবু একটু বড় হোক। ততটা সময় মায়ের কাছে থাকো। একটু বড় হলে তখন নাহয় আসলে। ততদিনে তুমিও সন্তান লালন পালন শিখে যাবে।”
আমি শুধু এই কথা নয়। আরও অনেক অজুহাত দিয়েছি। নিলুর একা সংসারে কষ্ট হবে। বাচ্চা কান্না করলে দিক বেদিক হারিয়ে যাবে। সবকিছু সামলানো কষ্টকর। নিলুকে সেবার মানাতে বেশ বেগ পোহাতে হয়। তবুও সে মেনে যায়। কিন্তু বাচ্চার ছয় মাস বয়স হওয়ার পর থেকে আর তাকে সামলানো যাচ্ছিলো না। সে এবার আসবেই। তাই আমাকেও বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে আসতে হয়। সেই সময়ে মনে অনেক ভয় কাজ করতো। কারণ নিলুর কাছে খারাপ হতে চাইনি। তাকে তখনও বোধহয় ভালোবাসতাম। তাই খুব সাবধানে চলাফেরা করতাম। কিন্তু শিউলি ভাবী এসব মানতো না। বাচ্চা দেখার নামেও হুটহাট ঘরে আসতো। হঠাৎ হঠাৎ কাছেও চলে আসতো। যেটা আমার জন্য ভয়ের ছিলো। তবে শিউলি ভাবী আমার ভয়টা বুঝতেই চাইতো না। তার মাঝে ভয় ডর কমই ছিলো। তবুও আমি বেশ সাবধানে চলতাম। কিন্তু চাইলেই সব আড়াল করা যায়? শিউলি ভাবী যখন তখন ফোন করে তার কাছে ডাকতো। না যাইতে চাইলে ঘরে চলে আসার কথা বলতো। তাই না চাইতেও যেতে হতো। তবে তার কাছাকাছি গিয়ে যে খারাপ লাগতো তা নয়। বেশ ভালোই লাগতো।

কিন্তু রাতে তার কাছে গেলে সে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে দিতো না। একলা ঘরে বাচ্চা নিয়ে নিলু খুব প্যারায় থাকতো। তার মাঝে আমার রাত করে বাসায় ফেরা, সবকিছু নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলো। এটা নিয়ে আমাদের টুকটাক কথা কাটাকাটি হতে থাকে। নিলুর একটাই কথা, রাতে তো আমি অফিস করি না। তবে বাসায় ফিরছি না কেন? এত লেট হয় কেন? আমার কথা, সে এত কৈফিয়ত চাচ্ছে কেন? এটা নিয়ে টুকটাক ঝগড়া হয়। এই শুরু আমাদের ঝগড়ার। তবে প্রথম প্রথম ঝগড়া শেষে আমি তাকে মানাতাম। রাগ কমাতাম। কথা দিতাম, পরে তাড়াতাড়ি আসবো। কিন্তু সেই পরটা আর আসে না। সত্যি বলতে শিউলি ভাবীর চাওয়া, সঙ্গে আমারও একটা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে তার সাথে কাটানোর। তাই ছাড়তে পারছিলাম না।

আর রোজ রোজ এত দেখা করা কাল হয়ে দাঁড়ায়। সেদিন রাতে শিউলি ভাবীর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিলুর নজরে পড়ে। সে জানালার কাছে কোন একটা কাজে এসেছিলো। আমি ঘরে ঢুকতেই নিলু জানতে চায়,“তুমি শিউলি ভাবীদের ঘরে গিয়েছিলে?”

নিলুর মুখে বিস্ময় ছিলো। এদিকে তার প্রশ্ন শুনে আমি ভয়ে চমকে গেলাম। তবুও নিজেকে সামলে খুব সাবধানে বললাম,“কই না তো। তাদের বাড়ি কেন যাবো আমি?”

“মনে হলো তুমি সেখান দিয়ে আসলে।”
নিলুর বিস্ময় এখনো কাটেনি। সে অবাক হয়েই বলে। তার মুখের ভাবভঙ্গি দেখে আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। নয় ছয় বোঝানো শুরু করলাম। সেদিন নিলু মেনে নিলো। তবে আরও দুইদিন তার একই কথা মনে হলো। আমি বোধহয় শিউলি ভাবীর বাসা থেকে বের হলাম। আমি তখনও তাকে নয় ছয় বুঝিয়ে দেই। তবে কতদিন? কথায় বলে না, চোরের দশদিন গৃহস্থতের একদিন? সেটাই হলো। একদিন নিলু নিজের সন্দেহ দূর করতে মুন্নাকে(ছেলে) ঘুম পাড়িয়ে শিউলি ভাবীর ঘরে আসে। তবে সরাসরি ঘরে প্রবেশ করে না। তাদের জানালায় এসে উঁকি দেয়। শিউলি ভাবী নিচতলায় থাকার সুবাদে সেই জানালায় তাকাতে নিলু আমাদের দেখতে পায়। নিলু বোধহয় আকাশ থেকে পড়ে। তার পুরো পৃথিবী কেমন ওলট পালট হয়ে যায়। তার মনের বয়ে চলা ঝড়ের খবর আমি তখনও নেইনি। পরে যে নিয়েছিলাম তা নয়। পরেও নেইনি। তবে সেদিন রাতে বাসায় ফিরলে নিলু খুব শান্ত গলায় জানতে চায়,“শিউলি ভাবীর শোবার ঘর অবধি যাবার অনুমতি কবে থেকে পেয়েছো তুমি?”


চলবে,