Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ভালোবাসিবো খুব যতনেভালোবাসিবো খুব যতনে পর্ব-১৪+১৫

ভালোবাসিবো খুব যতনে পর্ব-১৪+১৫

#ভালোবাসিবো_খুব_যতনে
#Ayrah_Rahman
#part_14 ( জমিদার বাড়ির রহস্য )

” এই পূর্ণ আর কত দুর রে ? হাটতে হাটতে পা ব্যথা হয়ে গেলো যে ”

ইলুর কথায় আমি ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকালাম , টপ আর জিন্স পড়া মেয়েটার গাল কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের অস্তিত্ব বিদ্যমান ,

গাড়ি থেকে নেমে, এই যে বন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাটছি তো হাটছি পথ তো আর শেষ হচ্ছে না ,

আসলে এটা বন জঙ্গল ছিলো না এটা একটা মানুষ চলাচলের রাস্তা , বহুদিন এই পথ দিয়ে কেউ আসে না তাই গাছ পালা গজিয়ে রাস্তা টা প্রায় অদৃশ্য করে দিয়েছে , বিভিন্ন গাছগাছালি আর বাঁশ ঝাড় দিয়ে পথ টা অনেক টাই অন্ধকার ,

আমি সামনে দিকে তাকিয়ে বললাম ,

” হাটতে থাক , আমি নিজে ও জানি না আর কত টুকুন হাটতে হবে ”

হঠাৎ সামনে বাড়ি টাইপ কিছু দেখতে পেয়ে দ্রুত পা চালালাম ,

হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি দুপুর ১ টা বাজতে চলল , এখন মনে হচ্ছে আরো ও আগে রওনা দিতে পারলে ভালো হতো ,
_______________

এই মূহুর্তে আমি আর ইলু দাঁড়িয়ে আছি নন্দনপুর এর সেই জমিদার বাড়ির সামনে , বিশাল জমিদার বাড়ি এটা , বাড়ির সামনে র লোহার গেইট জং ধরে গেছে ,

গাছের শুকনো পাতায় বেশ আচ্ছাদন করা বাড়ির সামনের জায়গা টা ,

ঘাড় ঘুরিয়ে আশেপাশে তাকাতেই নজরে এলো এক বিশাল বট বৃক্ষ , বেশ কয়েকশ বছরের পুরনো বৃক্ষ দেখেই বোঝা যাচ্ছে , এবার নজরে এলো জমিদার বাড়ি টা , বহু বছর ধরে মেরামতের অভাবে অনেক জায়গায় ই ভেঙে পড়েছে , রঙ গুলো চটে গেছে ,
মনে কৌতুহল হলো না জানি বাড়িতে মানুষ থাকা কালিন বাড়ির দৃশ্য টা কেমন ছিলো ! নিশ্চয়ই ভিষণ সুন্দর আর সতেজ ,

আমি লোহার গেইট টা ধাক্কা দিতেই তুমুল শব্দে গেইট টা খুলে গেলো , আমি আর ইলু প্রবেশ করলাম বাড়ির ভেতরে ,

শুকনো পাতায় পা ফেলতেই পাতার মর মর শব্দে মুখরিত হলো চারপাশ , ইলু আমার হাত আঁকড়ে ধরে আছে , কেন যে এলো ও , এখন আবার ভয় পাচ্ছে ,

আমি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম সদর দরজার দিকে , বেশ পুরানো কাঠের দরজা , আমি দরজা টায় চাপ দিলাম , বেশ শক্ত মনে হচ্ছে , দরজার হাতল ধরে বেশ জোরে ধাক্কা দিতেই দরজাটি বেশ শব্দ করে খুলে গেলো ,

” পূর্ণ ভেতরে যাস না , আমার না কেমন জেনো লাগছে ”

আমি ইলুর দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালাম ,

” এত দুর এসেছি কি না দেখে চলে যাবার জন্য না কি ? চুপচাপ ভেতরে চল ! তোর কি আদৌও মনে হয় এখানে ওই সব ভূত টুত থাকবে? আমার তো মনে হয় না ”

কথাটা বলেই ওর হাত টা শক্ত করে ধরে ভেতরে আসলাম , ভেতরে বেশ বড় একটা বৃত্তাকার স্পেস খালি তার চারপাশ জুড়ে বেশ কয়েকটি ঘর , এক পাশ দিয়ে দোতলা ওঠার কাঠের তৈরি সিড়ি ,

নিচের সব গুলো ঘর এক এক করে দেখলাম ,

আমি সিড়ি র দিকে এগুতেই ইলু পিছনে থেকে আটকে দিলো ,

” আয় পূর্ণ ফিরে যায় , চুলোয় যাক তোর ইনভেস্টিগেশন , পরে কিছু হলে ! ”

আমি ঘাড় ঘুরিয়ে ইলুর দিকে তাকিয়ে এখন নিজের কপালে নিজে বারি দিতে ইচ্ছে করছে কেন যে এই ভীতুর ডিম কে নিয়ে আসতে গেলাম!

” তুই যাবি ? না গেলে এখানে দাড়া আমি দোতলা টা ঘুরে আসি , দেখি কিছু পাই কি না ! ”

” না না আমি যাবো , চল ”

আমি আর ইলু ধীর পায়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলাম ,

এক এক করে প্রতিটি ঘর দেখলাম , প্রতিটি ঘরেই ময়লার স্তুপ , মাকড়সার জালে ভরপুর , হয়তো এখানে বহু দিন কারো পদ ধুলি পরে নি , ভয়ে তো কেউ এ মুখো হয় ই না , শহর থেকে বেশ অনেক টায় দুর এই জমিদার বাড়ি টা , তার উপর কিসব ভুতের উৎপাত ,

প্রায় বেশ কিছু টা ঘর ঘুরলাম , বাড়ি টা যেমন বড় ঘর সংখ্যা তো প্রায় শতাধিক , অনেকাংশে ভাঙা ঘর গুলো , মেরামতের অভাব !

ভাই এতো বড় বাড়ি তে থাকত কজন ? আজব

” দোস্ত খিদে পেয়েছে , কিছু আনসোস ? ”

ইলুর কথা শুনে আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ওর দিকে ,
ও পেট চেপে সটাং দাঁড়িয়ে আছে ,

” তোকে নিয়ে আর পারি না বাপু ”

ব্যগ থেকে একটা বিস্কুট এর প্যাকেট ওর হাতে ধরিয়ে দিলাম ,
” নে বিস্কুট খা, তাও আমার মাথা খাস না ”

সব গুলো ঘর দেখা শেষে বারান্দার সবচেয়ে শেষের ঘর টা দেখতে যাবো , দরজায় ধরতে গেলাম ওমনি ঠাস করে একটা শব্দে আমি আর ইলু চমকে উঠলাম , মনে হচ্ছে দরজা লাগানোর আওয়াজ ,

ইলু দৌড়ে এসে আমার হাত আকড়ে ধরলো , আমি চারপাশে সূক্ষ্ম দৃষ্টি নিক্ষেপ করলাম , দোতলার উপর থেকে নিচ তলায় দৃষ্টি যেতেই আসল কারণ টা বুঝতে পারলাম , বাড়ির সদর দরজা টা বন্ধ হয়ে গেছে , হয়তো বাতাসে , ইলু কাদো কাদো কন্ঠে বলল ,

” তোকে আগেই বলেছিলাম , পূর্ণ চল এসব ছাতার ইনভেস্টিগেশনের দরকার নেই শুনলি না তো , এখন বুঝ ঠেলা , গরীবের কথা বাসি হলেও ফলে , এখন ওই ভুত আইসা তোর ঘাড় ও মটকাইবো সাথে আমি ফ্রি ”

” ভুতে ঘাড় মটকিয়ে কি করবে শুনি ? ”

” কি আর করবে , রক্ত খাবে চুষে চুষে ”

” তাহলে তো বেচারা ভুতের কপাল টা ই খারাপ ”

” কেন কেন ? ”

” কারণ আমাদের রক্ত খেয়ে ভুত মোটে ও মজা পাবে না , কারণ দু জন ই রক্ত শুন্যতায় ভুগছি৷, শরীরে তো রক্ত নাই৷, তার চেয়ে বরং ভুতেরা আমাদের মেরে হার্ট, কিডনি , চোখ এগুলো কেটে ব্যবসা করতে পারবে , বেশ লাভ হবে কি বলিস ”

আমি এক ভ্রু উঁচু করে বেশ সিরিয়াস ভাবে কথা টা বলে উঠলাম ,
আমা কথা শুনে ইলু চোখ দুটো ছোট ছোট করে কাদো কাদো দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল ,

” পূর্ণ তুই কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস ? আমি কিন্তু সত্যি ই ভয় পাচ্ছি ”

ওর কথা শুনে আমি মুখে হাত দিয়ে গা দুলিয়ে হেসে উঠলাম ,

” বোকা মেয়ে , তুই না আধুনিক যুগের আধুনিক মেয়ে তুই ও এসব আজগুবি ভুত প্রেত বিশ্বাস করিস , আরে ও সব বলতে কিছু হয় না বোকা

” তাহলে দরজা টা বন্ধ করলো কে ? ”

” আরে ওটা মনে হয় বাতাসে বন্ধ হয়ে গেছে , চল তোকে দেখাচ্ছি ”

” হুম ”

আমি ওকে নিয়ে দোতলার সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসলাম ,

আমি গিয়ে দরজার হাতলে ধরে টান দিলাম কিন্তু আশ্চর্য , দরজা খুলছে না , বেশ অনেক বার চেষ্টা করে ও খুলতে পারলাম না , মনে হচ্ছে কেউ বাইরে থেকে বন্ধ করে রাখছে , এখন উপায়?

আমি ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসলাম , ইলু আমাকে দেখে বলল ,

” আমি বলে ছিলাম না এখানে ওসব ভুত প্রেত আছে বিশ্বাস করলি না তো , এখন হলো তো , থাক এখানে , পরে পরে ভুতের রাতের ডিনার হহ , সাথে আমি তো আছি ই ”

আমি নির্বিকার ভঙ্গিতে বসলাম সিড়ি তে ,

আমাকে এমন ঠান্ডা দেখে ইলু বেশ চটে গেলো,

” এই মেয়ে তোর ভয় লাগছে না ? ”

” সারাক্ষণ সাথে একটা আস্ত পেত্নি নিয়ে ঘুরলে তোর কি মনে হয় আর কোন পেত্নি আমার ধারে কাছে আসবে ? ”

আমার কথা শুনার প্রায় সেকেন্ড ১০ পর ইলু চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল ,

” তুই কি কোন এঙ্গেল এ আমাকে পেত্নি বললি পূর্ণ ? ”

আমি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে পায়ের নখ দিয়ে মাটি ঠুকতে ঠুকতে বললাম ,

” আমি এঙ্গেল এ কেন বলতে যাবো ? আমি তো সরাসরি ই তোকে পেত্নী বললাম ”

” পূর্ণ র বাচ্চা ”

” আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে আমার বাচ্চা হবে দুর আমার এখনো বিয়েই হই নি ”

আমার কথা শুনে ইলু ধপ করে আমার পাশে বসে নাক ফুলিয়ে রাগে ফোস ফোস করতে লাগলো ,

আমি নিচ দিকে তাকিয়ে হাসলাম , যাক কিছু টা হলেও ভয় কমেছে ,

হাতের ঘড়ির দিকে আমি বেআক্কেল বনে গেলাম , এত তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা হয়ে গেছে , এখন প্রায় ৬ টার কাছাকাছি , এখনই মাগরিবের আজান হয়ে যাবে , তারমানে আজ রাত এখানেই থাকতে হবে ,

আলো থাকতে থাকতে একটা ভালো দেখে রুম বের করতে হবে নয়তো পরে আর পারব না ,

কথা টা ভাবতে ভাবতে ই উঠে দাড়ালাম ,

” কোথায় যাচ্ছেন আপনি ? ”

” ভালো দেখে রুম খুজতে , আজ রাত টা এখানে ই থাকতে হবে ”

আমার কথা শুনে ইলু বলে উঠলো ,

” মানে কি ? এখানে থাকব মানে ? ”

” তুই দেখছিস না দরজা খুলছে না এদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে , তাহলে ? ”

আমি আর কথা বাড়ালাম না , ওর সাথে কথা বললে সত্যি ই অন্ধকার হয়ে যাবে ,

বেশ খুঁজে খুঁজে একটা রুম বের করলাম ,
নিচ তলায় এ রুম টাই অন্য গুলোর থেকে ধুলো কম , একেবারে ই যে নেই সেটা বললে ভুল হবে , তবে কম আর কি!

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এলো ,

ধীরে ধীরে সব কিছু আধার হয়ে এলো ,

আমি আর ইলু ওই বাছায় করা রুম টায় বসে আছি ,

থেকে থেকে ভেসে আসছে শিয়ালের ডাক , কুকুরের কান্না , ভয়ে ইলু গুটিয়ে যাচ্ছে বারংবার ,

আমি ভেবে ই রেখেছিলাম এমন হয়তো কিছু হতে পারে তবে সিউর ছিলাম না তবুও সাথে দুটো মোম আর একটা দিয়াশলাই রেখেছিলাম ,

মেঝেতে মোম জ্বালিয়ে বসে আছি আমি আর ইলু , ও ঘুমে ঢুলছে ,

” তুই না হয় ঘুমা আমি বসে থাকি . তারপর আমি ঘুমাবো তুই জাগবি ”

আমার কথায় ইলু সায় জানিয়ে , কাঁধে র ব্যগ টা কে বালিশ বানিয়ে শুয়ে পড়লো মেঝেতে , বেচারীর সত্যি ই ঘুম পেয়েছে ,

রাত তখন প্রায় একটা , হঠাৎ শোনা যাচ্ছে কারো ফিসফিস কথার শব্দ আর পায়ের শব্দ , মাঝে মাঝে নুপুরের আওয়াজ ও আসছে , ঘুঙুর এর আওয়াজ টা আবছা ,ধীরে ধীরে পায়ের শব্দ টা বাড়ছে মনে হচ্ছে কেউ এদিকে ই আসছে !

তবে কে হতে পারে ? …

চলবে ….

#ভালোবাসিবো_খুব_যতনে
#Ayrah_Rahman
#part_15 ( জমিদার বাড়ির রহস্য ২)

ওই পদ ধ্বনি টা হঠাৎ ই থেমে গেলো , কান পেতে রইলাম কিছু শোনার জন্য কিন্তু ? কিন্তু নাহ্ আর শোনা যাচ্ছে না ,

এই জঙ্গলের ভেতরে একটা পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে কে ই বা আসতে পারে , কি তার উদ্দেশ্য ? ভুত বলতে যে কিছু ই নেই সেটা তো জানি তবে এ কেমন ভুত বেশধারী মানব!

ইলু হাত পা নাড়াচাড়া করছে হয়তো মশা কামড়াচ্ছে ! বেশ ভালো ই মশা আছে এখানে , এখন মনে হচ্ছে কয়েক টা মশার কয়েল নিয়ে আসলে ভালো হলো ,

ধুর ছাতা আগে জানলে তো বিছানা পত্র সব ই নিয়ে আসতাম , কে জানত বাপু এখানে এভাবে আটকে যাবো?

মশা গুলো ও যাচ্ছে তাই , হয়তো মনে মনে বলছে ,

” আইজকা পাইছি চান্দু , জম্মের খাওন খাইয়া লমু , তোদের রক্ত দিয়াই আইজকা গোসল করমু, হু হা হা ”

এসব আজগুবি কথা চিন্তা করতে করতে ই আড় চোখে ইলুর দিকে তাকালাম ইলু এক হাতের তালু দিয়ে আরেক হাত ঘষতে ঘষতে উঠে বসলো ,

” কি হলো উঠলি কেন ? ”

আমার কথা শুনে ইলু মুখ টা কাঁদো কাঁদো বানিয়ে বলল ,

” তো উঠবো না তো কি ? ভুতের ডিনার না হলেও মশার জীবনের খাবার এক সাথে ই সাবার করতাছে , জন্মের খাবার খাইতাছে ”

আমি ভ্রু কুচকে বললাম ,

” ভুত ? ”

ও আমার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে বলল ,

” হু সাথে পেত্নী ও ”

” আচ্ছা ইলু এমন ও তো হতে পারে ভুতেরা এই মশাদের ছদ্মবেশে এসে রক্ত খাচ্ছে! আসলে কি বলতো তোর শরীরে এমনি তেই তো রক্ত কম , ভুতের ওই ইয়া বড় বড় দাঁত দিয়ে রক্ত চুষতে কষ্ট হবে তাই হয়তো মশার ছদ্মবেশ ধরেছে

কিছু টা থেমে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বললাম ,

হতেই পারে ”

বলেই আড়চোখে ইলুর দিকে তাকালাম , বেচারি একের পর এক ঢোক গিলছে আর এদিক ওদিক তাকিয়ে বারবার আমার দিকে চাপছে ,

ওর সাথে মজা করতে করতে ই হঠাৎ আবার সেই আওয়াজ কানে আসলো , এবার বোধ হয় ঘুঙুরের আওয়াজ টা বেশি আসছে বলে মনে হচ্ছে ,

আমি চুপ করে আওয়াজ শুনছি , ইলু ও এতক্ষণে শুনতে পেয়েছে , বেচারীর চেহারা রক্ত শুন্য হয়ে গেছে ভয়ে আমি ওর হাতের উপর আমার হাত রেখে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বললাম ,

” ইলু তুই ভয় পাস না , এটা কোন মানুষের কাজ , আমি যখন সব বিষয়ে, সব দিক দেখছিলাম এমন একটা আর্টিক্যাল ও পড়েছি যাতে লেখা এই জমিদার বাড়ি টা অনেকে ভোগ করার জন্য মানুষের মাঝে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে যে এখানে ভুত আছে , আসলে এখানে কিছু ই নেই , যাস্ট এটা একটা বাড়ি নাথিং ইল’স ”

আমার কথা শুনে ইলুর মনে হয় ভয় টা কিছু টা কমছে , আসলে এসব আমি কখনোই শুনিনি , এছাড়া ওকে ভয় থেকে বের করার আর কোন উপায় ও ছিলো না তবে এটা যে একেবারে বানোয়াট তা কিন্তু না , হতেও পারে তদন্ত শেষে এটাই ঠিক হলো ”

” এই পূর্ণ এটা কিসের আওয়াজ রে ? ”

” মনে তো হচ্ছে ঘুঙুর এর ”

” আমাদের ভয় দেখানোর জন্য এটা বাজাচ্ছে না কি রে ? ”

ইলুর কথা টা যে একেবারে ফেলনা তা কিন্তু না , আমারো কেন জানি মনে হচ্ছে গভীর এক রহস্য জরিয়ে আছে এই জমিদার বাড়ি ঘিরে ,

” হুম হয়তো , চল তো! ”

আমার কথা শুনে ইলু আঁতকে উঠে বলল ,

” কোথায় ? ”

” আওয়াজের উৎস বের করতে ”

” কি দরকার বল ! ”

” তুই যাবি কি না বল , না হলে আমি একাই যাবো ”

বলেই মোম হাতে নিয়ে উঠে দাড়ালাম , আমার সাথে সাথে ইলু ও উঠে দাড়ালো ,

আমি প্যান্টের পকেটে দিয়াশলাই গুজে নিলাম , আমি হাঁটছি পিছনে পিছনে ইলু ও বের হলো , ঘর থেকে বের হয়ে মনে হচ্ছে আওয়াজ টা দোতলায় থেকে আসছে , আমি কাঠের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলাম , পিছনে পিছনে ইলু ও , ধীর পায়ে হাটতে হাটতে বারান্দা দিয়ে এগুতে লাগলাম ,

এক এক করে ঘরের সামনে গিয়ে দাড়ায় , যেন আওয়াজ টা আসছে কি না দেখার জন্য , ধীরে ধীরে আমি আর ইলু দোতলায় একেবারে শেষ মাথায় যে বদ্ধ রুম টা সেখানে থমকে দাঁড়ালাম ,

হ্যা , আওয়াজ টা এই ঘর থেকে ই আসছে ,

আমি আলতো হাতে রুমটার দরজার হাতলে ধরলাম,

রুম টার দরজায় ধাক্কা দিলাম খোলার জন্য কিন্তু আশ্চর্য জনক ভাবে এটা খুলল না , বেশ কয়েকবার ট্রায় করলাম, নাহ্ খুলছে না , হঠাৎ মনে হলো তাল মারা না তো , হাতলের দিকে তাকিয়ে দেখলাম , বাইরে দিয়ে তালা মারা ও না তাহলে ?

তাহলে ভেতরে কি কেউ আছে ? অবাক করা হলেও সত্যি , এই দরজা টা অন্য সকল দরজা থেকে ভিন্ন , ডিজাইন টা ও অন্য রকম তাই কৌতুহল টা ও বেশি ,

বেশ কয়েক বার দরজার হাতল ধরে এদিক সেদিক করলাম কিছু তেই খুলছেনা ,

ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে গিয়ে ও থমকে দাড়ালাম, ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকালাম , আমার থমকে যাওয়া দেখে ইলু ভ্রু কুচকে তাকালো আমার দিকে মোম টা ওর হাতে দিলাম ,

সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষন করলাম দরজা টায় দু হাত দিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখলাম , খানিকটা এগিয়ে গিয়ে পুনরায় দরজার হাতল ধরে খানিকটা উপর নিচ করে ভেতরের দিকে চাপ দিলাম ,

দরজা খুলে গেলো,

আমি বেশ খুশি হয়ে দরজা ধাক্কা দিলাম , দরজা খুলে গেলো ,

আমি হাতে মোম নিয়ে ভেতরে ঢুকলাম ,

বাট ভেতরে যা দেখলাম, সেটা কখনো কল্পনায় ও আশা করি নি ,

মোমের আবছা আলোই ভেতরে অনেক গুলো মানব কঙ্কাল ঝুলোনো দেখতে পেলাম , ঝুলোনো বললে ভুল হবে , একেকটা একেক এঙ্গেল এ রাখা , কিছু কঙ্কাল মনে হচ্ছে বসে আছে কিছু আবার মেঝেতে ছড়িয়ে আছে , পায়ের হাড্ডি এক জায়গায় তো খুলি আরেক জায়গায় , একটা কঙ্কাল দেখে বেশ অবাক হলাম , কঙ্কাল টা এমন ভাবে রেখেছে যেন তার দু হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ঘরের এক কেনে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে এমন মনে হচ্ছে , ঘরে আবার একটা বিছানা আর একটা টেবিল ও রাখা , কিন্তু বেশ আশ্চর্য জনক হলো টেবিলে বই তাক তাক করে সাজানো , আমি ধীর পায়ে টেবিলের দিকে এগুলাম , এক টা বই হাতে নিতে ই দেখি ইংরেজি সাহিত্যের বই ,

বাব বাহ্ আজকাল ভুতে রাও সাহিত্য চর্চা করে নাকি?

বাকি ঘর গুলোর মতো এটা তে বিন্দু পরিমাণ ধুলো নেই , মনে হচ্ছে প্রতিদিন ই এই রুম টা কেউ পরিষ্কার করে , কারো আসা যাওয়া প্রতিনিয়ত ই হচ্ছে

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখানে থাকে কে ? প্রায় কয়েক যুগ ধরে তো কেউ এখানে আসেই না , তাহলে ? বেশ অনেক টা রহস্য আছে তাহলে!

কিছু ক্ষন আগে যে পায়ের শব্দ টা শুনলাম এগুলো ও বা কিসের ,

তবে খটকার বিষয় হলো , বারান্দা দিয়ে আসার সময় মনে হচ্ছিলো আমার আশে পাশে ই কেউ আছে , কারো চলা ফেরা আছে , আর আমার মন কখনো মিথ্যা যুক্তি দেখায় না , তাহলে কি আমরা ছাড়াও কেউ আছে এখানে ? , ঠান্ডা বাতাস আর দমকা হাওয়ায় নাকে কেমন চেনা গন্ধ লাগছিলো , হ্যা পারফিউম এর গন্ধ , কিন্তু কথা তো এটা না কথা হলো আজকাল ভুতেরা ও কি পারফিউম ইউজ করে নাকি ? হতেও পারে আধুনিক যুগের আধুনিক ভুততত ,

কিছু একটা মনে হতেই আমি ঘাড় ঘুরিয়ে ইলুর দিকে তাকালাম ,

ও ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে কঙ্কাল গুলোর দিকে ,

এগুলো কি আদৌ তেও কোন মানুষের তো ?

চলবে …

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ