Love At 1st Sight Season 3 Part – 54

13
695

Love At 1st Sight
~~~Season 3~~~

Part – 54

writer-Jubaida Sobti

মার্জান : [ নেহাকে পাশ মুড়িয়ে দিয়ে ] আরে দেখ না..

নেহা : [ দীর্ঘশ্বাস ফেলে মার্জানের দিক তাকিয়ে ] হ্যা! দেখেছি! সুন্দর লাগছে..

মার্জান : [ হেসে ] তাইইই! ভেরি গুড! [ নেহা আর কিছু না বলে সামনের দিক এগিয়ে যাচ্ছিলো তখনিই ]

শায়লা : [ নেহাকে আটকে ধরে ] ড্রেস তো অনেক সুন্দরই পড়ে এসেছো! আচ্ছা কোথায় থেকে কিনেছো? এই ওকেশন এর জন্যই কেনা হয়েছে নাকি? আচ্ছা প্রাইজ কতো হবে এটার? গোল্ডেন কালার! উমমম নাইস্ কালার!

নেহা : লুক! এতো রিয়েক্ট করার কি আছে? তোমাদের কি মনে হচ্ছে আমি ওদের দেখে জ্যালেস হচ্ছি বা ওদের বিয়ে ভাংগতে এসেছি এমনটাই?

শায়লা : দেখে তো তাই মনে হচ্ছে! তুমি যে কিছু করতে আসোনি মিস্! তার ওতো কোনো গ্যারান্টি নেই! হিহি,

নেহা : জ্যালেস্ হলে আমি এইখানে আসতামই না, আর যদি বিয়ে ভাংগার ইন্টেনশন থাকতো তাহলে এটা সিনেমা নাটক নয় যে আমি বিয়ের দিনই এসে বিয়ে ভেংগে দিয়ে চলে যাবো [ মুখ গোমড়া করে ] ইনফ্যাক্ট আমি তো এসেছি রাহুল আর স্নেহা দুজনকেই সরি বলতে,

মার্জান : শায়লা! আমি যা শুনেছি তুই ও কি তাই শুনছিস?

শায়লা : তুই ও শুনেছিস তার মানে সত্যিই ও এমনটা বলেছে!

নেহা : এক্সুলি! আমি জানি আমি যা করেছি সবটাই রোং ছিলো! জোড় করে চাইলেও কারো ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব নয়, ভালো তো মন থেকে বাসতে হয়,যেটা রাহুল আর স্নেহার মতো কাপলদের দেখেই বুঝা যায় [ মুচকি হেসে ] আর আমি কিনা পাগলের মতোই রাহুলকে জোড় করে যাচ্ছিলাম [ মার্জান আর শায়লা অবাক হয়ে ঘুরঘুর চোখে তাকিয়ে আছে নেহার দিক ]

নেহা : আসলে আমি এসবে অনেক শেইম ফিল করছি! [ হঠাৎ স্টেজের দিক থেকে উল্লাসিত চিৎকার আর তালির আওয়াজ ভেসে আসলো ]

শায়লা : [ এক্সাইটেড হয়ে ] আরে বিয়ে তো হয়েই গেছে মার্জান!

মার্জান : [ এক্সাইটেড হয়ে নেহার কাধে হাত রেখে ] অওও! তার মানে বলে ফেলেছে কবুলল! [ নেহার দিক তাকিয়ে ] ওহ সরি সরি! [ বলেই নেহার কাধ থেকে হাত সরিয়ে নেয় ]

শায়লা : এক হয়ে গেলো, রাহুল এবং স্নেহা,আই মিন ” রাস্নেহা ” এখন হ্যাপি ম্যারেড কাপল!

– আরে মালা পড়াচ্ছে, আমি যায়! [ বলেই দৌড়ে চলে গেলো স্টেজের দিক ]

মার্জান : [ হেসে ] আমিও দেখে আসি,বাইইই! মিস্ নেহা! ও হ্যা! এইবার আপনার যা খুশি তাই করতে পারেন,এতে আপনার আর কোনো লাভ হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না, কজ! বলে ফেলেছে “কবুল” [ বলেই হেসে পাশ ফিরতে যাবে তখনিই কানের ধারে ]

আসিফ : [ মাথা এগিয়ে দিয়ে ] আমারও, কবুল! [ কথাটি শুনতেই চোখ বড় করে ফেললো মার্জান, ধীরেধীরে পাশফিরে আসিফের দিক তাকিয়ে ঢোগ গিলতে লাগলো ]

আসিফ : [ হেসে মার্জানকে চোখ টিপ মেরে আবার নেহার দিক তাকিয়ে ] আরে নেহা? তুই কবে এলি?

নেহা : এইতো কিছুক্ষণ হলো এলাম! [ মার্জান আর কিছু না বলে লেহেংগা হাতে ধরে হুড়হুড় করে এগিয়ে চলে গেলো, আসিফ বুঝতে পেরে হাসতে লাগলো ]

মার্জান : [ হাটতে হাটতে ] কি আজিব! আমি কি ওকে বললাম নাকি কবুল! আমি তো রাহুল স্নেহা, উফফফ! দিন দিন এই ইডিয়ট টা মাথায় চড়ে বেড়াচ্ছে! [ হঠাৎ মনে পড়ে গেলো ওয়াসরুমে আসিফের জোড় করে কিস করার সিনটা ]

– ছিঃ অসভ্য একটা [ বলেই হাত দিয়ে ঠোট মুছতে যাবে হঠাৎ তখনি মনে পড়লো সে তো লিপিস্টিক লাগিয়েছে তাই আবার থেমে গিয়ে, দু-পাশে একবার চোখ বুলিয়ে স্টেজের দিকই হাটা ধরলো, স্টেজের কাছাকাছি আসতেই অবাক হলো মার্জান, রাহুল আর স্নেহার মালা পড়ানো এখনো হলো না, সাথে জারিফা, শায়লা এবং রাহুলের ফ্রেন্ডস আর কাজিনদের চেচামেচিতে মেতে উঠছে আশেপাশের আরো অনেকের হাসি ]

জারিফা : আরে জিজু! আপনি আপনার জায়গা থেকে নড়তে পারবেন না,লাষ্ট ওয়ার্নিং!

রাহুল : আরে তোমরা বার বার স্নেহাকে তোমাদের দিক টেনে নিয়ে নিচ্ছো, তাহলে না নড়ে কিভাবে পড়াবো?

শায়লা : [ চোখ টিপ মেরে ] এটাই তো আপনার এক্সাম জিজু! হিহি!

হঠাৎ,

রিদোয়ান : [ নিচের দিক ইশারা করে চেচিয়ে ] ককরোচচচ! [ বলতেই, মেয়েরা সব চমকে উঠে নিচের দিক তাকালো, মুহূর্তেই আর দেরি না করে রাহুল হেসে স্নেহার গলায় মালা পড়িয়ে দিলো, স্নেহা ও চমকে গিয়ে হেসে উঠলো ]

জারিফা : [ চেচিয়ে ] ওহহহ! নো নো! হবে না এটা চিটিং! আপনারা চিটিং করেছেন!

নেহাল : আরে ভাবী! আপনার শালীদের বলুননা! যে গেইম ইজ গেইম!

শায়লা : [ বিড়বিড় করে ] এই অষ্ট্রেলিয়ান শালীর বাচ্চা শালীকে তো আমি!

রিদোয়ান : আরে গাধা ভাবীর শালী না! রাহুলের শালী!

নেহাল : আচ্ছা? হলোই তো এক! ভাবী মানে রাহুল, রাহুল মানে ভাবী! [ হাসতে লাগলো স্নেহা আর রাহুল ]

জারিফা : ও হ্যালো মিষ্টার অষ্ট্রেলিয়া! গেইম ইজ গেইম হলে, রুলস ইজ রুলস! ওকে? নো চিটিং!

মার্জান : [ এগিয়ে এসে ] ওকে ওকে গাইস্! গেইম ইজ গেইম, রুলস ইজ রুলস, চিটিং ইজ চিটিং! সো্ আপনারা যখন চিটিং করেছেন তাহলে আপনাদের ও সেক্রিফাইজ করতে হবে, আর কোনো তালবাহানা না করে জিজু! ডিরেক্ট দাড়িয়ে থাকবেন আর স্নেহা মালা পড়িয়ে দিবে! ব্যাস!

জারিফা : হ্যা! ক্যারেক্ট!

রিদোয়ান : ওখেই! [ পেছন ফিরে ] গাইস্ আর ইউ রেডি? [ বলতেই ইয়েসসস্ বলে চিৎকার করা জবাব এলো ]

জারিফা : [ হেসে ] আরে! সবাই রেডি হোওয়ার কি আছে মালা সবাইকে পড়াবে নাকি স্নেহা! ওতো শুধু রাহুলকে পড়াবে!

নেহাল : নো ইটস্ এক্সুলি পিপারেশন এলার্ট! হিহি! ওখে ওখে! ভাবী, রাহুল ইজ রেডি!

শায়লা : [ স্নেহাকে নাড়িয়ে ] পড়িয়ে দে স্নেহা! [ স্নেহা মাথা নেড়ে হাত এগিয়ে পড়াতেই যাচ্ছিলো, হঠাৎ তখনিই রাহুলের ফ্রেন্ডসরা মিলে রাহুলকে আলকে উপরে তুলে ধরে ]

জারিফা : [ চেচিয়ে ] আরে আরেহহ! [ আশেপাশের মেহেমান সবাই আবারো হেসে উঠলো রাহুলের ফ্রেন্ডসদের কান্ড দেখে,স্নেহার ও মারাত্মক হাসি পাচ্ছিলো এসব কমিডিয়ান কান্ড দেখে, মাথা তুলে রাহুলের দিক তাকাতেই রাহুল ও হেসে চোখ টিপ মারলো ]

মার্জান : এটা তো ডাবল চিটিং!

নেহাল : [ হেসে ] গেইম ইজ গেইম! গার্লস্!

শায়লা : কিন্তু আমাদের সাইডে তো কোনো ছেলে নেই! যে স্নেহাকে উঠাবে!

রাশু : [ লাফাতে লাফাতে ] আমি আছি, আমি আছি! চলো আপু তোমাকে আমি উঠিয়েদি [ বলেই স্নেহার কোমোড় জড়িয়ে ধরে শক্তি ব্যয় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, হাসতে লাগলো স্নেহা সাথে বাকি সবাই ও হাসতে হাসতে কাতচিৎ হোওয়ার অবস্থা ]

রাশু : ওরে বাবা! পারছিনা তো! আরো শক্তিশালী হতে হবে!

– রাহুল ভাইয়া! তোমার বডি স্ক্যানারটা দিও আমিও বডি বানাবো তোমার মতো,তারপর আপুকে উঠাবো!

জারিফা : দুইকড়ির ডিব্বা! তুই বডি বানিয়ে উঠাতে আসতে আসতে,ওরা এইখানে দাঁড়িয়ে কংকাল হয়ে থাকবে,

রাহুল : [ রিদোয়ানের দিক তাকিয়ে ] আরে দোস্ত হয়েছে, এইবার নামিয়ে দে,

রিদোয়ান : বিয়ে তো হয়েই গেছে তোর, এখন আবার কিসের তাড়া?

মার্জান : তাড়া থাকতে হয় নাকি? ওনি ওনার বউ এর কষ্ট বুঝতে পারছে, কখন থেকে মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেচারি, তাই বলছে আরকি নামিয়ে দিতে, নামিয়ে দিন!

নেহাল : আরে ভাবী আপনার মালা ধরতে কষ্ট হচ্ছে? ভারী নাকি? মে আই?

শায়লা : [ বিড়বিড় করে ] এই অষ্ট্রেলিয়ান গাধাটাকে তো কোরবানীর সময় হাটে নিয়ে গরু বলে বিক্রি করে দেওয়া উচিৎ! [ জারিফা, মার্জান, স্নেহা তিনজনই হেসে উঠলো মুখ চেপে ]

নেহাল : ওহোহো ভাবী, লজ্জা পেয়েছে, লজ্জা পেয়েছে, রাইট? [ জারিফা আর মার্জান আরো জোড়ে হেসে উঠলো ]

হঠাৎ পেছন থেকে,

রাহুলের বাবা : [ স্নেহার কাছে এসে ] আরে ডোন্ট বি আপসে্ট মাই চাইল্ড! আমরা আছি না? তোমার সাইড থেকে আমরা উঠাবো!

স্নেহার বাবা : [ এগিয়ে এসে ] আমাদের বয়স হয়েছে বলে কি শক্তিও কমে গেছে নাকি? চল আমরা উঠাচ্ছি! [ স্নেহা তো চমকের উপর চমক পেলো একদিকে খুশি লাগছে তারউপর আবার লজ্জা ও লাগছে ]

রাশু : [ চেচিয়ে ] ইয়েএএএ! [ বলতেই স্নেহার বাবা এবং রাহুলের বাবা আলগে তুলে ধরলো স্নেহাকে, রাহুল হেসে মাথা ঝুকে দিলো, স্নেহা ও মুচকি হেসে মালা পড়িয়ে দিলো রাহুলকে, বাকিরা ও খুশিতে চেচিয়ে হাত তালি দিতে লাগলো, দু-জনকেই আস্তে করে নামিয়ে রাখলো, রাহুল হেসে স্নেহার পাশে দাঁড়িয়ে হাত ধরে রাখলো ]

মার্জান : আরে আংকেল আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? ছবি তুলতে হবে তো!

নেহাল : এক সেকেন্ড আমি আন্টিদের ও নিয়ে আসছি! [ বলেই একলাফে নেমে স্নেহার মা এবং রাহুলের মা কে ও টেনে তুললো স্টেজে, মাঝামাঝি এক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাহুল স্নেহা এবং স্নেহার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে রাহুলে বাবা তারপর স্নেহার বাবা, রাহুলের পাশে এসে দাড়ালো রাহুলের মা তারপর স্নেহার মা, ক্যামেরা মেন ছবি তুলছে আর এইদিকে স্নেহা কিছু বলার জন্য রাহুলের হাতে চিমটাতে আছে, রাহুল মাথা ঝুকে দিলে ]

স্নেহা : [ ফিসফিসিয়ে ] আপনি এবার এইদিকে দাড়ান ওদিকে দাঁড়িয়ে তো অনেক ছবিই তুলেছেন, [ বলতেই রাহুল আড়চোখে স্নেহার পাশে তাকিয়ে, তার বাবাকে দেখে বুঝতে পারলো স্নেহা মাথায় আসা বাহানা, যেটা পূরণ করা রাহুলের পক্ষে ইম্পসিবল ]

স্নেহা : কি হলো আসেন না?

রাহুল : শাট-আপ স্নেহা! স্টেজে উঠার পর তুমিই তো বললে যে তুমি আমার বাম পাশে দাড়াবা এটাই নিয়ম! সো্ মেইনটেইন করো [ বলেই আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, স্নেহা আবারো চিমটাতে লাগলো রাহুলের হাত, আর না পেরে রাহুল আবারো মাথা ঝুকিয়ে কান পেতে দিলো ]

স্নেহা : আরে এমন কেনো করছেন আপনি! আমার আপনার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা হয়নি! [ রাহুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার ও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়,এইবার স্নেহা আর রাহুলের হাতে চিমটালো না, এক্কেবারে রাহুলের হাত ধরে টেনে তার জায়গায় দাড় করিয়ে দিয়ে সে গিয়ে রাহুলের জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে, রাহুল অবাক হয়ে স্নেহার দিক তাকাতেই স্নেহা আর তাকালো না, মুচকি হেসে রাহুলের হাত শক্ত করে মুঠি বেধে ধরে রাখলো, এইদিকে রাহুলের তার বাবার এতোটা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে অকোয়ার্ড ফিল,নার্ভাসনেস সবই একত্রে কাজ করছে, ছবি তোলা শেষে একে একে সবাই নেমে পড়লো ]

স্নেহা : [ রাহুলের দিক তাকিয়ে ] আ..আপনি এইবার আপনার জায়গায় আসতে পারবেন!

রাহুল : [ আড়চোখে তাকিয়ে ] তোমার আসল ইন্টেনশন আমাকে বাবার পাশে দাড় করানোটাই ছিলো তাই তো?

স্নেহা : আরে! মো..মোটেও না! আচ্ছা বাদ দেন! তখন সবাই দেখলে বলবে বরটা ঝগড়াটে, আর আমার কাছে এখন কোনো চুইংগাম নেই যে আপনার মুখে ঢুকিয়ে দেবো [ হাসি চলে এলো রাহুলের স্নেহার কথা শুনে ]

স্নেহা : [ ফিসফিসিয়ে ] গুডবয়! [ হেসে ] এইদিকে আসেন এইদিকে [ বলেই রাহুলকে তার আগের জায়গায় দাড় করিয়ে স্নেহা স্নেহার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লো ]

রাহুল : [ হেসে ] তুমি আসলেই..

স্নেহা : আমি আসলেই যেটাই হই, যেমনি হই! আপনারই তো [ বলেই চোখ টিপ মারলো, রাহুল মুচকি হাসলো, এবং সাথেসাথেই সেই দিন রাতে গাড়ীতে রাহুল স্নেহাকে বলা কথাটি মনে পড়লো…
______________________________________

স্নেহা : [ রেগে মিউজিক বন্ধ করে দিয়ে ] আপনি আসলেই একটা [ বলেই চুপ হয়ে যায় ]

রাহুল : [ তেডি স্মাইল দিয়ে স্নেহার দিক তাকিয়ে ] বলো আমি আসলে একটা? ইডিয়ট?.. রাব্বিশ? ইউজলেস্? [ কিটকিটিয়ে হেসে সোজা তাকিয়ে ] স্নেহা ইউ নোও আমি যেটাই হই যেমনি হই, তোমারি তো!
_______________________________________

ভাবতেই ব্লাশিং হয়ে হেসে উঠলো রাহুল, হঠাৎ পাশ ফিরতেই অবাক হলো ]

নেহা : [ হেসে হাত নাড়িয়ে ] হ্যালো গাইস্! কনগ্রেচুলেশনস্ [ রাহুলের দিক তাকিয়ে ] তুই তো ইনভাইট করলি না,তাই আমি নিজ দায়িত্বেই চলে এলাম!

রাহুল : [ নরমালি হেসে ] ইনভাইট করিনি, কারণ আমি জানতাম! উইদাউট ইনভাইটেশনে ও তুই চলে আসবি!

নেহা : ইয়াহহ! আসার তো ছিলোই! কজ তোদের সরি বলাটাও যে বাকি ছিলো!

রাহুল : নো নিড ইয়র সরি!

নেহা : নো রাহুল! আই এম এক্সট্রেমলি সরি ফর মাই অল মিস্টেকস্!

রাহুল : এক্সুলি উই ডোন্ট ডিজার্ব ইয়র সরি!

নেহা : [ মাথা নাড়িয়ে ] আই নোও তুই আমার উপর অনেক রেগে আছিস! বাট,তাও সরি বলছি যদি পারিস ক্ষমা করে দিস! [ রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে অন্যপাশ ফিরে গেলো ]

নেহা : [ স্নেহার কাছে এসে ] আই থিংক তোমার সাথে এতোটা অন্যায় করার পর,আমি তোমার সামনে চেহেরা দেখানোটাও আসলে ডিজার্ব করিনা,

স্নেহা : নো নো ইটস্ ওকে! এখন তো সবই ঠিকঠাক, ভুল সবারই হ…[ বলতেই দেখে রাহুল স্নেহার দিক রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আছে, স্নেহা ও ঢোগ গিলে চুপ হয়ে যায় ]

নেহা : [ হেসে ] ওখে,সো্! অল দ্যা বেষ্ট! বোথ অফ ইউ! হ্যাপি ম্যারেড লাইফ! [ বলেই স্নেহার সাথে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালো, কিন্তু স্নেহা হাত এগিয়ে দেওয়ার আগেই ]

রাহুল : [ নেহার হাতে হ্যান্ডশেক করে ] থেংক ইউ! বাইই!

নেহা : [ মাথা নাড়িয়ে ] বাইই!

স্নেহা : [ মনে মনে ] আজিব! রাহুল এমন কেনো করছে? ও তো ওর ভুল বুঝতে পেরে সরিই বলতে এসেছে! [ নেহা চলে যাচ্ছিলো তখনিই ]

স্নেহা : [ চেচিয়ে ] বাইই নেহা! [ নেহা পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে স্নেহা হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে আছে, রাহুল জোড়ে নিশ্বাস ফেলে অন্যপাশ তাকিয়ে ফেলে, ]

নেহা : [ মুচকি হেসে হাতের মিডল ফিংগার রিং ঠিক করে, স্নেহার কাছে এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করে ] থেংক ইউউ! [ বলতেই হঠাৎ স্নেহা খেয়াল করলো তার হাতে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে,ব্যথা অনুভব করায় চিৎকার করতে চেয়ে ও আর করলো না, চোখ বটে নিস্তব্ধ হয়ে পড়লো স্নেহা, হাতছুটিয়ে চলে গেলো নেহা, রাহুল ও আর রেগে তাকালো না স্নেহার দিক, চুপ করে অন্যপাশ ফিরে আছে! নিজেকে কন্ট্রোল করে চোখ খুলে স্বাভাবিক হয়ে সোজা তাকিয়ে রইলো স্নেহা! ]

___________ এইদিকে,

শায়লা : এভাবে বুফে খেতে থাকলে তো আমার ওয়াইট ফিফটি ফাইভ থেকে হান্ড্রেট ক্রস করবে,

নেহাল : [ ছবি তুলতে তুলতে ] ইয়া..ইয়াহ

শায়লা : [ খাবার বারতে বারতে ] আচ্ছা আপনার ছবি তুলা ছাড়া কি, আর কোনো কাজ নেই?

নেহাল : [ ছবি তুলতে তুলতে ] ইয়া..ইয়াহ! আছে আছে!

শায়লা : হ্যা তা কি শুনি?

নেহাল : তার আগে তুমি আমার একটা কুয়েশ্চন এর আন্স দাও! তুমি কি সিংগেল নাকি.. আব..আ..আই মিন কেউ আছে?

শায়লা : [ নেহালের দিক তাকিয়ে ] যদি বলি কেউ আছে, তো? আর যদি বলি কেউ নেই, তো?

নেহাল : ওখে ওখে! [ বলেই শায়লার প্লেটে আরো কিছু তুলে দিয়ে ] কুল কুল!

শায়লা : হোয়াটেভার! [ বলেই আবার খাবার চয়েস করে করে বারতে লাগলো ]

__________ অন্যদিকে,

মার্জান : [ হাটতে হাটতে ] ক্ষিধে তো এবার আমারো পেয়ে গেছে, তখন শায়লার সাথেই খেতে চলে যাওয়া উচিৎ ছিলো! আর এই জারিফার তো খবরই নেই! [ বলতেই হঠাৎ ধাক্ষা খেলো কারো সাথে,পাশফিরতেই দেখে নেহা পা চেপে ধরে পাশে একটি চেয়ারে বসে পড়লো ]

মার্জান : ও হ্যালো! আর ইউ ওকে?

নেহা : [ পা ঘষতে ঘষতে ] হ্যা! জাষ্ট, পা একটু মোচর খেয়েছে!

মার্জান : ওহ!

নেহা : [ মুচকি হেসে ] ওকে! বাই! [ বলেই উঠে দাড়াতে যাচ্ছিলো তখনি আবার ] আহহহ! [ বলেই চেয়ারে বসে পড়লো ]

মার্জান : কি হলো?

নেহা : পায়ে ভর দিয়ে হাটতে পারছি না, কে্ন ইউ হেল্প মি প্লিজ! [ মার্জান অবাক হয়ে তাকালে ]

নেহা : জাষ্ট পার্কিং পর্যন্ত পৌছে দিলেই হবে!

মার্জান : [ মনে মনে ] ঢং করছে নাকি সত্যি সত্যিই হয়েছে কে জানে! [ চিন্তা করতে করতে ] এমনিতে আজ খারাপ কিছু করতে তো দেখলাম না এই পেত্নীকে, হয়তো শুধুরে গেছে কি জানি! এনিওয়ে তাতে আমার কি..

নেহা : কি চিন্তা করছো?

মার্জান : ও..ওখে! [ বলেই হাত বাড়ালো ]

নেহা : [ মার্জানের হাতে হাত রেখে উঠে দাঁড়িয়ে, ধীরেধীরে হেটে পার্কিং পর্যন্তই গেলো ]

মার্জান : গাড়ী কোথায়?

নেহা : লাষ্ট স্টেপে! প্লেস খালি ছিলো না তাই ঐদিকটাই রাখতে হয়েছে,

মার্জান : [ জোড়ে একটি শ্বাস ফেলে ] ওকে! [ বলেই আবার হেটে নেহাকে তার গাড়ী পর্যন্ত পৌছে দিলো ]

নেহা : আসোলে থেংক ইউ বললেও কম হবে,আমি তোমাদের সাথে এতোটাও মিসবিহেভ করেছি, তাও তোমরা…

মার্জান : ইটস্ ওকে!

নেহা : [ মাথা নাড়িয়ে ] গুড নাইট!

মার্জান : গুড নাইট [ বলেই হাটা ধরলো, নেহা ও গাড়ীতে উঠে স্টার্ট দিলো ]

মার্জান : [ মনে মনে হেসে ] ফাইনালি,তাহলে এই পেত্নীর মাথায় বুঝ এলো, আফসোস! যদি আরো কিছুদিন আগেই চলে আসতো বুঝগুলো, তাহলে আর রাহুল, স্নেহার এতো কষ্ট পেতে হতো না, [ এসব ভেবে ভেবেই কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর খেয়াল করলো, পেছন থেকে গাড়ীর লাইটের ফ্লাশ আসছে, তাই আবার সাইড হয়েই ওড়নার আচল নাড়িয়ে নাড়িয়ে হাটতে লাগলো, হঠাৎ মনে বাড়ি খেলো কেমন যেনো গাড়ীটা তার খুব নিকটেই আসছে,পেছন ফিরতেই যাবে ঠিক ঐ মুহুর্তে আর ফেরা হলো না,পাশ থেকে আসিফ হাত ধরে টেনে বুকে মুড়িয়ে নিলো, চোখ পড়লো নেহার গাড়ীটির উপর, কর্কট এক শব্দ নিয়ে আরেকটি গাড়ীর সামনের বনাট ভেংগে চুরমার করে দিলো, তা দেখে মার্জান সাথে সাথেই চোখ বটে কুকরে গেছে আসিফের বুকে, ভয়ে বুকটা ধুপধুপ করছে, জোড়ে জোড়ে শ্বাস ফেলছে দুজনেই ]

নেহা : [ গাড়ী বেক দিয়ে এসে,জানালার গ্লাস নামিয়ে ] এইবার বেচে গেছো! নেক্সট টাইম!

আসিফ : [ রাগান্বিত ভাবে ] ইয়াহ! অল দ্যা বেষ্ট! [ বলতেই নেহা নাক ফুলিয়ে জানালার গ্লাস তুলে গাড়ী টান দিয়ে চলে যায়, আশেপাশে থেকে কয়েকজন লোক ও এগিয়ে এলো ]

আসিফ : [ মার্জানের মাথায় হাত রেখে ] ইউ ওকে? [ মার্জান ধীরেধীরে আসিফের বুক থেকে মাথা তুলে তাকালো,চোখ পানিতে টলমল করছিলো, যা এই মুহুর্তেই গড়িয়ে পড়লো, চেহেরায় ভয়ের ছাপ ]

আসিফ : [ আংগুল দিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে ] অলরাইট! কান্না করার দরকার নেই!

মার্জান : আপনি এইখানে কখন…

আসিফ : তোমাকে ওর হেল্প করতে দেখে ফলো করতে করতে এলাম, আর এই নেহাকে দেখে আমার মনে যা ভেবেছিলাম তাই হলো,

মার্জান : [ আসিফ থেকে সরে দাঁড়িয়ে ] থে..থেংক ইউ!

আসিফ : [ মুচকি হেসে পকেটে হাত রেখে ] ব্যাস? জাষ্ট থেংক ইউ? [ মার্জান কৌতুহলি ভাবে তাকালো ]

আসিফ : আজকের লিপিষ্টিকটা দারুণ মানিয়েছে! [ মার্জান আর কিছু বললো না আশেপাশে একবার তাকিয়ে লেহেংগা ধরে দৌড় দিলো সোজা ভেতরে, হাসতে লাগলো আসিফ, ভেতরে ঢুকে ব্লাশিং হয়ে হয়ে হাসতে লাগলো মার্জান ও হঠাৎ ]

জারিফা : [ এগিয়ে এসে ] হেইইই মার্জান কোথায় ছিলি এতোক্ষণ?

মার্জান : আ..আমি?

জারিফা : ওহো এমন লজ্জা পেয়ে লাল হয়ে আছিস কেনো কি বেপ্পার?

মার্জান : কিছুনা! আমার অনেক ক্ষিধে পেয়েছে চল খাবো [ বলেই জারিফার হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে যায় ]
___________এইদিকে স্টেজে,

স্নেহা : রাহুল!

রাহুল : হুম

স্নেহা : আপনি রেগে আছেন আমার উপর?

রাহুল : নাহ! [ জোড়ে একটি শ্বাস ফেলে ] বাট এটাই তো সমস্যা! আমার এখন তোমার উপর রাগ দেখানো উচিৎ,কিন্তু আমি পারিনা তোমার উপর রেগে থাকতে [ স্নেহা ও আর কিছু বললো না মুখ গোমড়া করে সোজা তাকিয়ে চুপ করে থাকলো ]

রাহুল : কি হলো? আবার মন খারাপ করে আছো কেনো? আমি কি বললাম রেগে আছি?

স্নেহা : নাহ!

রাহুল : তাহলে?

স্নেহা : কিছুনা!

রাহুল : লিসেন্ট! বিয়ে পাঁচ মিনিটে করে শেষ করা যায়, এসব এতোক্ষণ ধরে স্টেজে রোবোটের মতো হয়ে বসে থেকে, ফুল ফ্যামিলি নিয়ে বিয়ের নীতি-টীতি পালন করে বিয়ে করার আমার মোটেও ইচ্ছে ছিলো না, এসব আমি সবই তোমার খুশির জন্য করছি ওকে?

– কিন্তু তুমিই দেখছি মন খারাপ করে বসে আছো!

স্নেহা : [ রাহুলের দিক ফিরে ] করবো না? আপনিও তো এতোক্ষণ ধরে মন খারাপ করেছিলেন!

রাহুল : হ্যাঁ! আমি করেছিলাম তাই বলে তোমার ও মন খারাপ করতে হবে নাকি?

স্নেহা : আপনার মন খারাপ থাকলে আমার মন ভালো থাকবে কেমনি? [ মুচকি হাসলো রাহুল ]

স্নেহা : হাসবেন না!

রাহুল : [ হেসে ] তাইই?

স্নেহা : [ সোজা তাকিয়ে ] হুম!

রাহুল : আই লাভ ইউ! [ স্নেহা ও হেসে দিলো ব্লাশিং হয়ে ]

[ এভাবেই সময় পেরিয়ে, রাত ঘনিয়ে,আনন্দে ভরে,প্রোগ্রাম শেষ পর্যায়ে পৌছে যায়, কাদলো স্নেহা তার ফ্যামিলিকে জড়িয়ে, তার ফ্রেন্ডসদের জড়িয়ে,বিদায়ের পালা শেষ করে,নতুন জীবনের পাড়ায় রাহুল এবং তার পরিবারের সাথেই বেড়িয়ে যায় স্নেহা ]

রিদোয়ান : [ জারিফাকে টেনে এক কোণে নিয়ে গিয়ে ] কি হলো এভাবে আপসেট হয়ে আছো কেনো?

জারিফা : [ রিদোয়ানকে জড়িয়ে ধরে কেদে কেদে ] স্নেহাকে মিস্ করছি, এতোদিন ধরে তো যেখান থেকেই হোক বাসায় আমাদের সাথেই ফিরেছে, রাতে আমাদের আড্ডায় আর থাকবে না,গায়ের কম্বল সরে গেলে টেনে দেবে না, ঝগড়া না করার জন্য সকালে সবার আগে উঠে ব্রেকফাষ্ট আমি বানাবো বলবে না, [ বলেই ফুফিয়ে কেদে উঠলো ]

রিদোয়ান : আরে এতে কান্না করার কি আছে! তোমার যখনি স্নেহার সাথে মিট করতে মন চাইবে,জাষ্ট আমাকে একটা কল দিবা!

– আর এমনিতেও আমার ভাবীকে দিয়ে অনেক ব্রেকফাস্ট বানিয়ে খেয়েছো এবার নিজেরাও বানিয়ে খাও! ওকে?

জারিফা : [ হেসে উঠে ] অনেক খুশিও লাগছে আজ! স্নেহার ভালোবাসা পরিপূর্ণতা লাভ করেছে,

রিদোয়ান : হ্যা! কতো ঝড়-তুফানই না গেলো দু-জনের উপর!

হঠাৎ,

শায়লা : [ এগিয়ে এসে ] জারিফা?

জারিফা : [ রিদোয়ান থেকে সরে দাঁড়িয়ে ] হ্যাঁ?

শায়লা : চল! যাবি না?

জারিফা : হ্যা! [ বলেই রিদোয়ানের দিক তাকিয়ে ] ওকে আসি!

রিদোয়ান : [ জারিফার কপালে একটি চুমু খেয়ে ] বাই! [ চলে গেলো জারিফা শায়লাকে নিয়ে ]

______ রাহুলের গাড়ী এসে ঢুকলো গেইটের ভেতর,পেছনে লাইন ধরা সব গাড়ী ও এক এক করে ঢুকছে গেইট দিয়ে,

বাড়ীতে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ ড্রইং রুমে বসে আছে স্নেহা! রাহুলের কাজিনদের সাথে কথা বলছে, আর রাহুল তার দাদীর সাথেই কথা বলছে,স্নেহার ও বোঝার বাকি রইলো না রাহুল তার দাদীর সাথে কি নিয়ে ঝগড়া করছে, কারণ সে তো এই বাড়ীতে থাকতে রাজি নয়, পাশের গেষ্ট হাউজটাই নিজের বাড়ী করে রেখেছে,তবে এখন বিয়ে হয়েছে বউকে কি গেষ্ট হাউজে রাখা যায়, দাদীর জবাব ও ঠিক এমনটাই হবে, ভাবতেই মুচকি হাসলো স্নেহা! তবে রাহুলের সাথে গেষ্ট হাউজ কেনো সে গাছতলায় থাকতেও রাজী আছে, কিন্তু রাহুলকে তার বাবার কাছে আনতে এই বাড়ীতে একসাথে থাকাটাও অনেক জরুরি!

রোহানী : ভাবী চলেন আপনাকে আপনার রুমে দিয়ে আসি! অনেক টায়ার্ড ও লাগছে হয়তো! আসেন রেষ্ট করবেন! [ বলেই স্নেহাকে রাহুলের কাজিনরা রাহুলের রুমে বসিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ হাসাহাসি শয়তানি করে চলে গেলো,স্নেহা ও পা গুটে খাটের উপর বসে আছে চুপচাপ,চোখ বুলিয়ে দেখছে চারদিক, অর্কিড ফুলের বাগিচার মতোই ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে,মিটিমিটি করে জ্বলছে ক্যান্ডেল লাইট গুলো ও ]

হঠাৎ কিছুক্ষণ পর, দরজা খোলার আওয়াজে পাশফিরে তাকালো স্নেহা, পাগড়ীটা হাতে নিয়ে দরজা বন্ধ করে হেটে খাটের সামনে এগিয়ে এলো রাহুল! ঘুরঘুর করে তাকিয়ে আছে স্নেহা! রাহুল একটা তেডি স্মাইল দিলো স্নেহার চাহনিতে,স্নেহা ও লজ্জা পেয়ে হেসে মাথা নুয়ে ফেললো,

রাহুল : [ হেসে ] ইশশ! কি লজ্জা! [ বলেই হুট করে স্নেহার পাশে বসে স্নেহার কোল থেকে হাত সরিয়ে নিজের মাথা রেখে শুয়ে পড়লো, অবাক হয়ে তাকালো স্নেহা ]

রাহুল : আই লাভ ইউ! [ চুপ করে তাকিয়ে আছে স্নেহা ]

– তোমার রিপ্লাই দু-বার বাকি রয়ে গেছে কিন্তু! [ মুচকি হাসলো স্নেহা, রাহুলের চোখে তাকিয়ে রিপ্লাই করতে ও হঠাৎ লজ্জা লাগছে ]

রাহুল : [ স্নেহার গালে স্লাইড করে ] স্নেহা!

স্নেহা : হুম!

রাহুল : তোমাকে দেখে এখন একটা গান মনে পড়ে গেলো!

স্নেহা : কি গান?

রাহুল : ♪♪ চান্দ ছুপা, বাদাল মে ♪♪
♪♪ শারমাকে মেরি জানা ♪♪

♪♪ আজা্ রে আজা্ চান্দা কি জা্বতাক তু না আয়েগা ♪♪
♪♪ সা্জনা কি চেহেরে কো দেখনে ইয়ে মাংগাল সা্জায়েগা ♪♪

♪♪ না নাহ চান্দা তু নেহি আনা তু জো্ আয়া তো ♪♪
♪♪ সা্নাম শারমাকে কাহি চালা জা্য়েগা ♪♪

[ ব্লাশিং হয়ে হাসতে লাগলো স্নেহা ]

রাহুল : [ স্নেহার মাথার ঘোমটা নিজের মুখ পর্যন্ত টেনে নিয়ে ]

♪♪ আচালমে তু ছুপ জানে দে ♪♪
♪♪ জুলফোমে তু খো জানে দে ♪♪

[ কোল থেকে মাথা তুলে স্নেহার গলায় কিস্ দিতেই স্নেহা লজ্জা পেয়ে অন্যপাশ ফিরে যায়, তখনিই রাহুল হেসে স্নেহার ঘোমটা খুলে নিয়ে নিজের মাথায় পড়ে, স্নেহার গায়ে ধাক্ষা দিয়ে নেচে নেচে]

♪♪ হেইই রেহেনেভি দো ♪♪
♪♪ জা~নেভি দো ♪♪
♪♪ আব ছোড়ো না ♪♪
♪♪ মু মোড়ো না♪♪
♪♪ ইয়ে সামা হা ইয়ে সামা কুচ অর হে ♪♪

[ কিটকিটিয়ে হাসতে লাগলো স্নেহা রাহুলের কান্ডে, রাহুল ও হাসতে হাসতে খাটে মাথা রেখে, স্নেহার হাত কাছে টেনে নিলো চুমু দেওয়ার জন্য, হঠাৎ ঐ মুহুর্তে স্নেহার হাতের দিক চোখ পড়তেই রাহুল অবাক হলো,স্নেহা তাড়াতাড়ি হাত টেনে নিয়ে নিলো ]

রাহুল : [ উঠে বসে ] স্নেহা? কিভাবে হয়েছে এটা?

স্নেহা : সাস..সামান্য একটুই, কেটে গেছে হয়তো কোথাও, খেয়াল নেই! [ বলেই হাত আচলের ওড়নায় বটে রাখলো, আর রাহুল নাক ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে স্নেহার দিক ]

চলবে..

Comments are closed.