In Depths of Love Part-05

0
1978

#In_Depths_of_Love
Ramisa Ishrat
|| পর্ব-০৫ ||
___________________________________________

দেখতে দেখতে কেটে যায় দু’দিন! এ দু’দিনে রিমি বারবার চেষ্টা করেছে রোমানের মুখ থেকে সত্যিটা বের করার। কিন্তু রোমান তো রোমানই! মুখ দিয়ে একটা কথাও বের করে নি।
.
.
.
সকাল সকাল লম্বা শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসল রিমি। নীল রঙের সোনালী পাড়ের শাড়ি পরেছে সে। সাথে ম্যাচিং ইয়ারিংস, চোখে কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক! এটুকুতেই তাকে দেখতে ভয়ানক সুন্দর লাগছে। সবার সাথে বসে ব্রেকফাস্ট করার জন্য রেডি হয়ে নিচে গেল রিমি। রিমিকে নামতে দেখে রিসান (রোমানের কাজিন) জোরে জোরে বলে উঠল,

–‘এই তিন্নি, রাকিব! দেখ, দেখ ভাবীকে আজ কত সুন্দর লাগছে।’

রিসানের কথা শুনে সবাই সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে রিমিকে দেখে হা হয়ে গেছে। অন্য দিনের থেকে আজ রিমিকে বড্ড বেশি সুন্দর লাগছে। লাগারই কথা! নীল শাড়িতে যে কাওকে সুন্দর লাগে। সেখানে রিমিকে লাগাটা অস্বাভাবিক কোনো কিছু না।

রিমি এসে ড্রাইনিং টেবিলে বসতেই তিন্নি বলে,
–‘অও, ভাবী! তোমাকে না আজ খুব খুব সুন্দর লাগছে।’

–‘ধন্যবাদ, তিন্নি!’

পাশ থেকে চিমটি কেটে রিসান বলল,
–‘হ্যাঁ, ভাবী! তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে। আরেকটু কম সাজলেও পারতে। দেখো না, ভাইয়া সেই কখন থেকে এখনো তোমার দিকে তাকিয়ে আছে! চোখের পলক ফেলতেই পারছে না।’

রিসানের হঠাৎ এমন কথা শুনে রোমান ভ্যাঁবাচ্যাঁকা খেয়ে গেল। আর উপস্থিত সবাই একগাল হেসে দিল।

খাওয়ার এক পর্যায়ে রিমি বলে উঠে,
–‘আম্মু! আসলে অনেক দিন তো হয়ে গেলো মা-বাবার সাথে দেখা হয় না। তো আমি ভাবছিলাম তাদের কাছে গিয়ে কয়দিন একটু থেকে আসতে।’

–‘খুব ভালো চিন্তা! তারাও হয়তো তোমাকে অনেক মিস করছে। তাহলে কবে যাবে?’

–‘যদি সম্ভব হয়, তাহলে আজকেই যেতে চাচ্ছি আম্মু।’

–‘আচ্ছা! তাহলে খেয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে ফেলো। আর রোমান তুই ওকে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যাস কেমন!’

পাশ থেকে রোমান বলল,
–‘কিন্তু আমার তো কাজ আছে আম্মু। ওকে পৌঁছে দিতে গেলে তো অনেক লেট হয়ে যাবে।’

–‘আমি কোনো কিছু শুনতে চাচ্ছি না। ওকে ঠিকঠাক ভাবে পৌঁছে দিয়ে, তারপরেই তুই অফিস যাবি। এটা আমার ফাইনাল ডিসিশন!’

রোমানের আর কিছু করার নেই। মায়ের আদেশ বলে কথা! তাই বাধ্য হয়ে রাজি হয়ে গেল।
___________________🍁🍁

ড্রাইভিং সিটে বসে আছে রোমান। আর তার ঠিক পাশের সিটে বসে আছে রিমি। দু’জনের কারো মুখে কোনো সাড়াশব্দ নেই। মনে হচ্ছে কোনো কিছুর নীরবতা পালনে ব্যস্ত তারা! এই নীরবতার বাঁধ ভেঙে রিমি বলল,
–‘আচ্ছা আপনি কি আমাকে সত্যি ভালোবাসেন?’

আকস্মিক এমন কথায় রোমান গাড়ি ব্রেক করে।

–‘এ-কি আপনি গাড়ি কেন থামালেন?’

–‘হঠাৎ তোমার এমন প্রশ্ন করার কারণ?’

–‘এমনিতেই! আপনি তো আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। যতদূর আমি শুনেছি। তো সেই খাতিরেই আমি আপনার মুখ থেকে কথাটা শুনতে চাই।’

রোমান রিমির কথায় পাত্তা না দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। আপন গতিতে গাড়ি চলতে শুরু করল। এতে রিমি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। কিন্তু এখন সে-টা প্রকাশ করার টাইম না। কারণ সে এখন অন্য কিছু নিয়ে ভাবনায় ব্যস্ত। আবার দু’জনের মধ্যে নীরবতা ছেয়ে গেল।

রিমিদের বাসার সামনে এসে গাড়ি থামল। রিমি গাড়ি থেকে নামতে নামতে বলল,
–‘ভিতরে আসবেন না আপনি?’

–‘না, আজ আর না। এমনিতেই অনেক কাজ পরে আছে অফিসে। তাও মায়ের কথা রাখতে তোমায় পৌঁছে দিয়ে গেলাম। ভিতরে গেলে আরো টাইম ওয়েস্ট হবে।’

–‘তাই বলে সামান্য সময়ের জন্যও আসবেন না? আপনি না আসলে যে আম্মু-বাবা অনেক কষ্ট পাবে।’

–‘তুমি উনাদের একটু বুঝিয়ে বলো। আমি এখন যাই।’ বলে রোমান গাড়ি স্টার্ট করে চলে গেল।

রিমি রোমানের যাওয়ায় পানে চেয়ে থেকে ভাবল, “একটা মানুষ কিভাবে এমন হতে পারে? একটু ভিতরে আসলে তো উনার বেশি ক্ষতি হত না।”

পরক্ষণে সব ভাবনা-চিন্তার ইতি টেনে সে তার লাগেজ নিয়ে বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালো। কতক্ষন বাজতেই রহিমা এসে দরজা খুলে দিল। রহিমা রিমিদের বাসায় কাজ করে।

–‘আরে রহিমা খালা! কেমন আছেন আপনি?’

–‘এইতো ভালো আছি। তুমি কেমন আছো? অনেক দিন পর তোমায় দেখলাম মামনি!’

–‘আমিও ভালো আছি খালা। বাকিরা সব কই?’

–‘তুমি ভিতরে আসো। সবাই ভিতরেই আছে। এত দিন বাদে তোমায় দেখলে সবাই অনেক খুশি হবে।’

আহানা শেখ ভিতর থেকে চিল্লিয়ে বললেন,
–‘কে কলিং বেল বাজালো রে রহিমা? কে আসলো এ সময়?’

–‘আপা! রিমি মামনি এসেছে।’

–‘রিমি এসেছে? তো ওকে ভিতরে না এনে দরজায় দাঁড়িয়ে কেন গল্প জোড়া দিছিস?’ (বসা থেকে উঠে আসতে আসতে বলল)

আহানাকে দেখে রিমি দৌঁড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
–‘আম্মু কেমন আছো তুমি? কত মিস করছি তোমাদের জানো?’

–‘ভালো আছি। তুই কেমন আছিস? আর হ্যাঁ তুই একা আমাদের মিস করিস নি, আমরা তোকে অনেক মিস করেছি।’

–‘জানি জানি! কত মিস করেছো? খুব ভালো করেই জানি।’ (মুখ ফুলিয়ে)

–‘আচ্ছা এখন এসব বাদ। তুই বল কার সাথে আসলি?’

–‘রোমান দিয়ে গেলেন।’

–‘কি বলিস? রোমান দিয়ে গেল, ওকে ভিতরে আসতে বলবি না? এভাবে দিয়ে কেও চলে যায় না-কি?’

–‘আমার কি দোষ? আমি তো উনাকে বারবার বললাম, ভিতরে আসার জন্য। উনি উনার কাজের অযুহাত দিয়ে চলে গেলেন।’

–‘আচ্ছা থাক! আজকে যখন চলেই গেছে, আমাদের আর তো এখন কিছু করার নেই। এরপর যখন আসবে, তখন বুঝাবো নি মজা!’

–‘আম্মু বাবা কই? দেখছি না যে!’

–‘ওহ, তোর বাবা একটা জরুরি কাজে গেছে। ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাবে।’

–‘এটা ঠিক না? আমি আসলাম আর সবার কাজের ধুম পরে গেছে।’

–‘তুই এখন বল, কি খাবি? কি বানাবো তোর জন্য?’

–‘আমি এখন কিছু খাব না। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি, দেন একসাথে বসে আড্ডা দিব। এটাই জানি শুধু!’

–‘পাগলী মেয়ে! তা বললে কি হয়? এত দিন বাদে মায়ের কাছে এসে খাবি না? আমি তোর জন্য তোর ফেভারিট খাবার রান্না করছি।’

–‘কিন্তু……!’

–‘কোনো কিন্তু না, যা ফ্রেশ হয়ে নে গিয়ে।’

রিমি ফ্রেশ হয়ে এসে তার মায়ের সাথে খেতে বলল। দু’জনে কথা বলছে আর মাঝেমধ্যে একটু আকটু খাচ্ছে। তাদের খাওয়ার মাঝে হঠাৎ তাদের বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠল।

রিমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
–‘এ সময়ে আবার কে আসল আম্মু?’

–‘জানি না তো! রহিমা, যা তো গিয়ে দেখ। কে আসলো আবার?’

দরজা খোলার সাথে সাথে বাহিরে থাকা মেয়েটা দ্রুত বাড়িতে ঢুকে রিমিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। রিমি মেয়েটাকে ওর সামনে নিয়ে এসে ওর মুখ দেখে প্রচন্ড খুশি হয়।

–‘তুই? তুই কবে আসলি?’

–‘আজকেই এসেছি। ফ্লাইট থেকে নেমে সোজা তোদের বাসায় চলে আসলাম। খালামনির কাছে শুনেছিলাম, তুই না-কি আমাকে বড্ড মিস করছিস! তাই ভাবলাম তোকে সারপ্রাইজ দিতে চলে আসি।’

–‘ভালো করেছিস মিতু সোজা আমাদের বাসায় চলে এসে। বাট তুই জানলি কি করে আমি এখানে?’

–‘খালামনিকে কল করেছিলাম ফ্লাইট থেকে নেমে।’

–‘আম্মু তুমি জানতে ও আসবে?’

–‘হ্যাঁ!’

–‘তাহলে আমাকে কেন বলো নি?’

–‘ও কাম অন রিমি! আমি ফ্লাইট থেকে খালামনিকে কল দিয়ে বলি তোকে বাসায় আসার জন্য। আর এখানে দেখি মেঘ না চাইতেই জল। শুনি তুই আজই বাসায় এসেছিস। তাই তোকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এসে পরলাম। আর খালামনিকে আমি মানা করে দিয়েছিলাম তোকে যেন কোনো কিছু না বলে।’

–‘আমি তোমাদের দু’জনের সাথে রাগ করেছি। যাও আর কথা নাই তোমাদের সাথে।’

–‘ও আমার জানটুস, রাগ করে না। যদি রাগ করিস, তাইলে আমি চলে যাচ্ছি।’

–‘এই না, না! আমি রাগ করি নি। কোথাও যাওয়া লাগবে না তোর!’

–‘এইনা হলে আমার জানটুসটা! আচ্ছা আমি যাই এখন ফ্রেশ হয়ে নেই। তারপর কিছু খেয়ে বসে আড্ডা দিব নি।’

–‘আচ্ছা যা!’
______________________🍁🍁

বিকেলে ছাদে বসে থেকে গল্প করছে রিমি আর মিতু।

–‘আচ্ছা মিতু লন্ডনে তোর কেমন কাটছিল?’

–‘তোকে কতবার বলব, আমাকে তিথী নামে ডাকতে। আমার ক্লজ মানুষ সবসময় তিথী নামে ডাকবে, এটাই আমি চাই। মিতু তো জাস্ট কলেজে।’

–‘অভ্যাস হয়ে গেছে রে। পাল্টাতে পারি না।’

–‘পাল্টাতে শিখ রিমি। আমার পছন্দ হয় না এটা।’

–‘আচ্ছা, রাগ করিস না। আমি চেষ্টা করব। এখন তুই বল তো তোর লন্ডনে কেমন কাটলো?’

–‘সত্যি বলতে জাস্ট অসাম! জানিস আমি যেদিন ফাস্ট কলেজে যাই, সেদিন কিছু ফ্রেন্ড বানিয়েছিলাম। ওরা অনেক ভালো, সাথে অনেক মিশুকও।’

–‘ওহ, তাইলে তো আমাকে দরকার নেই?’

–‘সে-টা কি একবারো আমি উচ্চারণ করেছি? এমন আজগুবি কথাবার্তা বলবি না। এখন তুই বল তো, তোর তো বিয়ে হলো। তো বর কেমন? মানে কি করে? তোকে নিশ্চয় অনেক ভালোবাসে তাই না?’

–‘আছে আমার বরটা ভালো। বাট একটা জিনিস ভালো লাগে না। তার অতীতে কি জানি হয়েছে, যার জন্য সে মাঝেমধ্যে অদ্ভুত বিহেভ করে। আমি যদি জানতে চাই। আমাকে একটুও বলে না।’

–‘এটা আমার কেমন কথা? নিজের লাইফ পার্টনারের থেকে কেন লুকায়? এটা তো ঠিক না।’

–‘সে-টা ওরে বুঝায় কে?’

–‘তো নাম কি তোর বর মানে আমার দুলাভাইয়ের?’

–‘রোমান! রোমান খান ওর নাম।’

রোমানের নাম শুনে মিতুর কাশি উঠতে থাকে।

–‘আরে, তোর আবার কি হলো মিতু? হঠাৎ কাশি উঠলো কেন?’

–‘না, তেমন কিছু না। এখন ঠিক আছি আমি।’

–‘গুড। চিনিস নাকি রোমানকে?’

–‘চিনব না কেন? দেশের এত বড় বিজনেসম্যানের ছেলে বলে কথা! পত্র-পত্রিকায় তো তার নামও ছাপে।’

–‘ওটা না! রিয়েল লাইফে তোর সাথে পরিচয় নাকি? মানে কথা বলেছিস, একসাথে থেকেছিস। এমন!’

–‘হ্যাঁ, আমি যে ভার্সিটিতে পড়তাম। রোমানও ঠিক ওই একই ভার্সিটিতে পড়ত। তুই তো ঢাকা ভার্সিটিতে চাঞ্জ পাস নি। তাই তো তোকে অন্য কলেজে চলে যেতে হলো। তখন আমার থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলি।’

–‘হুম! তো এখন তাইলে রোমান যখন তার ভার্সিটির ফ্রেন্ডকে দেখবে, অনেক খুশি হবে তাই না?’

–‘উমহু! তুই ভুল বললি। আমরা জাস্ট ফ্রেন্ড না, বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম।’

–‘ওহ, আচ্ছা তোর আর রোমানের মধ্যে কি কোনো কিছু নিয়ে মিস আন্ডারেস্টিমেট আছে?’

–‘কই না তো!’

–’মিতু আমাকে মিথ্যা কেন বলছে? যদি না-ই থেকে থাকে, তাহলে রোমান এত ঘৃণা কেন করবে তার বেস্ট ফ্রেন্ডকে? মিতু তো লুকাচ্ছে কিছু একটা!’ (মনে মনে)

–‘ওহ, চল এখন নিয়ে যাই। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে প্রায়!’

–‘চল!’

চলবে…..☘️☘️

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে