Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তোর ছায়ার সঙ্গী হব পর্ব-১৫

তোর ছায়ার সঙ্গী হব পর্ব-১৫

#তোর_ছায়ার_সঙ্গী_হব
লেখক-এ রহমান
পর্ব ১৫

৩৩
ইলহাম আর ইরা এক এক করে সব জিনিস নিচে নামিয়ে রাখছে। আর ঈশা তার মা আর চাচি সেগুলো যত্ন করে গোছাচ্ছে। ইভান রা আজ ঈশাদের বাড়ির নিচ তলায় শিফট করছে। সবাই তাই খুব ব্যাস্ত। ঈশা ইভানের ঘর গুছিয়ে দিচ্ছিল। সব জিনিস পত্র বের করে সাজিয়ে রাখছিল। সব গোছানো শেষে ইভানের লাগেজ টা খুলল সে। সব জিনিস এক এক করে বের করতেই একটা প্যাকেট চোখে পড়লো। প্যাকেট টা খুলতেই তার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। সেই ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত তার সমস্ত ছবি। তার সাথে একটা ডাইরি। ডাইরিটা উলটে পালটে দেখতে লাগলো। পুরো ডাইরিটা ভর্তি লেখা। লেখার চাপে কয়েক গুন ওজন বেড়ে গিয়েছে তার। খুব যত্ন করে সেটা উলটে পালটে দেখতে লাগলো। একটা পাতায় লেখা “আমার স্বপ্ন তোকে লাল শাড়ী পরে ঘরে বউ করে আনবো। জানিনা কবে সেই স্বপ্ন পুরন হবে।” লেখাটা পড়েই একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ঈশা সব কিছু গুছিয়ে রাখল। কিন্তু সেই ডাইরিটা নিজের জন্য রেখে দিলো। পরে সময় করে পড়বে সেটা।
সব কিছু গুছিয়ে দিয়ে ঈশা নিজের ঘরে চলে গেলো। ভেতর থেকে দরজা আটকে দিলো। ইভানের ডাইরিটা খুলে পড়তে শুরু করলো। সমস্ত ডাইরি জুড়ে ইভানের আবেগ ছড়িয়ে আছে। তার মনের সব না বলা কথা যেন আজ জীবন্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে ঈশার কাছে। সে ইভান কে আজ অনুভব করতে পারছে।
ইভান অফিস থেকে এসে দেখে সব গোছানো শেষ। তার ঘরে ঢুকে একবার সব ভালো ভাবে দেখে নিলো। খুব সুন্দর করে গোছানো। ঠিক ও যেভাবে চায় সব সেই জায়গা মতই আছে। বিছানায় ল্যাপটপ টা রেখে একটু চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। ইলহাম এসে বলল
–ভাইয়া তোমাকে মা খেতে ডাকছে।
চোখ খুলে উঠে বসে বলল
–শুরু কর আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
সব কিছুর উপরে চোখ বুলাতে বুলাতে আবার বলল
–আমার ঘর কে গুছিয়েছে রে?
–আপি। কেন?
–না এমনি। যা আসছি।
ইভান একটু হাসলো। ওয়াশ রুমের দরজার কাছে যেতেই আবার ঘুরে এলো। এসেই তার লাগেজের সব জিনিস ভালো করে খুজে দেখতে লাগলো। সব আছে শুধু তার ডাইরি নেই। ইভান একটু ভাবল। তারপর একটা শ্বাস ছেড়ে বলল
–ভেবেছিলাম বিয়ের দিন বাসর রাতে তোকে সব দিয়ে দিবো। কিন্তু সেই সুযোগ হয়নি। আজকে নিজে থেকেই সব কিছু তোর কাছে চলে গেলো।
খাওয়া শেষ করে সোফায় বসে ফোনে কি যেন মনোযোগ দিয়ে দেখছে ইভান। কলিং বেল বাজতেই ইলহাম দৌড়ে গেলো। দরজা খুলে বলল
–আপি তুমি?
ঈশা ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল
–চাচি কোথায়?
–ঘরে।
ঢুকেই সোফায় বসা ইভানের দিকে চোখ পড়লো তার। মনোযোগ দিয়ে কি যেন দেখছে ফোনে।তার দিকে একবারও তাকালনা। ঈশা তার চাচির কাছে গেলো।
–চাচি…।
–কি রে ঈশা? কিছু বলবি?
— তোমার তেল রেখে এসেছিলে।
–ও ভালো করেছিস। আমি উপরে যাব ভাবছিলাম। একটু কাজ আছে।
–আচ্ছা তুমি আসো আমি গেলাম।
বলেই ঈশা বাইরে চলে এলো। ইভান তখনও একি অবস্থায় আছে। সে ইভানের দিকে দেখতে দেখতে চলে গেলো দরজার কাছে। দরজা খুলতে যাবে তখনি ইভানের কথা কানে এলো
–কান্না ছাড়া আর কিছুই কি পারিস না তুই?
ঈশা পিছনে ঘুরে দেখে ফোনের দিকে তাকিয়েই ইভান কথাটা বলেছে। কিন্তু ঈশা আশ্চর্য হল। সে যে কেঁদেছে সেটা ইভান জানলো কিভাবে। ঈশা পরিস্থিতি সামলাতে বলল
–কিছু বললে?
ইভান আগের অবস্থা থেকেই বলল
–যা বলেছি শুনতেও পেয়েছিস আর বুঝতেও পেরেছিস।
ঈশা অবাক হয়ে দাড়িয়েই থাকলো। তার দাড়িয়ে থাকা বুঝতে পেরে ইভান আবার বলে উঠলো
–তোকে বুঝতে তোর দিকে তাকাতে হয়না। আমার বুকের ভিতরে যে হার্ট টা আছে সেটাই আমাকে সব জানিয়ে দেয়।
ইভানের দিকে তাকিয়ে আছে ঈশা। ইভান এবার ঈশার দিকে তাকিয়ে বলল
–এভাবে দূর থেকে দেখে কি মন ভরে? মন ভরানোর জন্য কাছে এসে অনুভব করতে হয়।
ঈশা কোন কথা না বলে চলে গেলো। আসলে ইভানের লেখা ডাইরি পড়ে ঈশা অনেক কেঁদেছে। কারন ইভানের সমস্ত ভালোবাসা আবেগ অনুভুতি যা কখনও সে ঈশার সামনে প্রকাশ করেনি সেই সব কিছুর সমষ্টি ওই ডাইরিটা। এতদিন ধরে এতো কষ্ট পেয়েছে ইভান ঈশা বুঝতে পারেনি। ঈশার জন্য ইভানের অনুভুতি গুলা এতোই গভীর ছিল যে ঈশা সেসব পড়ে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। নিজের মন কে শান্ত করতে অনেক কেঁদেছে। ইভান তাকে কতটা ভালবাসে তা ঈশা উপলব্ধি করতে পেরেছে।

৩৪
রাতের ফুরফুরে হাওয়ায় ইভান ছাদের রেলিঙ্গের উপরে বসে ছাদের বিপরিত দিকে পা ঝুলিয়ে নিচে তাকিয়ে আছে। হাতে সিগারেট। গভীর ভাবে কিছু একটা ভাবছে। ঈশা কখন এসেছে সে খেয়াল করেনি। বেশ কিছুক্ষন সে দাড়িয়ে ইভান কে দেখছে। তারপর আসতে করে গিয়ে ইভানের পাশে উলটা দিকে ঘুরে ছাদের দিকে পা ঝুলিয়ে বসলো। গভীর ভাবনায় ডুবে থাকায় ঈশার উপস্থিতি বুঝতে পেরে সে একটু চমকে উঠলো । একবার ঈশার দিকে তাকিয়ে হাতের কাল ঘড়িটা দেখে বলল
–তুই এতো রাতে এখানে?
ঈশা তার কথার উত্তর না দিয়ে সামনের আকাশে চাঁদটার দিকে তাকিয়ে বলল
–কি সুন্দর চাঁদ তাই না।
ইভান ঈশার কথা শুনে একটু অবাক হয়। মাথা ঘুরিয়ে একবার চাঁদ দেখে বলল
–হুম!
ঈশা এবার উপরে তাকিয়েই বলল
–তুমি এতো রাতে এখানে কি করছ?
ইভান একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল
–কিছুনা। কিন্তু তুই এতো রাতে কেন ছাদে এসেছিস?
–তুমি আছো তাই।
ঈশার কথা শুনে ইভান তার দিকে তাকাল। হাতের সিগারেট টা ফেলে দিয়ে তার দিকে ঘুরে বসলো। ঈশার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল
–তুই কিভাবে জানলি আমি এখানে আছি?
ঈশা একটু হেসে বলল
–আন্দাজ করেছি।
–যদি না থাকতাম।
–তাহলে চলে যেতাম।
–একা একা রাতে এভাবে ছাদে আর কখনও আসবিনা।
–আসিনা তো!
ইভান এবার বিরক্ত হয়ে বলল
–ঈশা আমি সিরিয়াস!
ঈশা ইভানের দিকে তাকিয়ে বলল
–আমি এতো রাতে একা ছাদে আসিনা। আজ আসতে ইচ্ছা হল। তখন মনে হল তুমি এই সময় ছাদে থাকতে পার তাই আসলাম।
ইভান ঈশার কথা শুনে খুব শান্ত ভাবে বলল
–যদি কখনও আসতে ইচ্ছা করে তাহলে আমাকে ফোন দিবি। আমি তোকে নিয়ে আসবো। এভাবে আন্দাজ করে আর কখনও আসবিনা।
ঈশা সামনে তাকিয়েই বলল
–আর ফোন দিতে হবেনা।
ইভান ঈশার কথার মানে বুঝতে না পেরে ভ্রু কুচকে বলল
–কি বললি তুই?
ঈশা একটু হেসে বলল
–তুমি আমার কথার মানে বুঝতে পারনা এটা আমি বিশ্বাস করতে পারলাম না।
ইভান ঈশার কথায় অবাক হয়ে গেলো। সে বুঝতে পারল ঈশা তাকে কিছু বলতে এসেছে। আর সে ততোক্ষণ পর্যন্ত বলবে না যতক্ষণ না তার মনে হইছে ইভান তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। তাই ইভান হেয়ালি না করে তার কথায় মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে। ঈশার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছে। ঈশা ইভানের দিকে না তাকিয়েই একটু হেসে বলল
–আগের মতো অভ্যাস টা এখনও আছে। কথা শোনার জন্য মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা কর।
ঈশা যে ইভানের আচরণ বুঝে ফেলবে ইভান ভাবেনি। একটু হেসে বলল
–তোর কথা শোনার জন্যই আমি অপেক্ষা করে থাকি কিন্তু তুই বলিস না।
ঈশা কিছু বলল না। ইভান জিজ্ঞেস করলো
–এখন তোর শরীর কেমন আছে? জর কমেছে?
ঈশা ইভানের দিকে তাকিয়ে বলল
–বুঝতে পারনা?
ইভান একটু হেসে বলল
–সে আমি না দেখেও বুঝতে পারি। কিন্তু তোর কাছ থেকে জানতে ইচ্ছা করলো।
–ভালো আছি।
দুজনি বেশ কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো। ঈশা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আর ইভান ঈশার দিকে। ঈশা ভাবছে কিভাবে কথা শুরু করবে। আর ইভান অপেক্ষা করছে ঈশা কি বলবে সেটা শোনার জন্য। বেশ কিছুক্ষন পর ঈশা আকাশের দিকে তাকিয়েই বলল
–তোমার ফোনের ওয়াল পেপারে আমার যে ছবিটা আছে সেটা কোথায় পেলে?
ঈশার এমন কথায় ইভান একটু অপ্রস্তুত হয়ে যায়। কারন এই ছবিটা অল্প কিছুদিন আগের তোলা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল। ঈশার কাছে এরকম কোন ছবিই নেই। ইভান কথাটাকে এভয়েড করার জন্য একটু অবাক হয়ে বলে
–সিরিয়াসলি ঈশা! তুই আমার ফোন চেক করিস?
ঈশা ভ্রু কুচকে তার দিকে তাকিয়ে বলল
–কেন? তোমার ফোনে কি এমন সিক্রেট আছে যা আমার জানা যাবেনা?
ইভান কি বলবে বুঝতে পারলনা। পরিস্থিতি সামলাতে বলল
–এভাবে চেক করার কি আছে। চাইলে আমি নিজে থেকেই দিয়ে দিতাম।
–এটা কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর না।
ইভান এবার ঠোঁট কামড়ে ঈশার দিকে তাকিয়ে ভাবছে আচ্ছা রকম পরিস্থিতিতে পড়ে গেলো। সে এই প্রশ্নের উত্তর টা আসলে দিতেই চায়না। কিন্তু সে এটাও জানে ঈশা নাছোড়বান্দা। একবার যদি মনে হয়েছে সেটা শুনেই তবে ক্ষান্ত হবে। একটু সাজিয়ে মিথ্যা বলল ইভান
–ইরার কাছে পেয়েছি।
ইভান যে মিথ্যা বলছে তা বুঝতে পেরে ঈশা একটু হাসল। আর সত্যিটা সে বলতে চাইছেনা তাই আর জোর করলনা। ঈশার মুখের দিকে তাকিয়ে ইভানও বুঝতে পারল ঈশা তার মিথ্যে ধরে ফেলেছে। তাই আর কথা বাড়ালনা। ইভান পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে আরেকটা সিগারেট জালানোর জন্য বের করলো। তখনি ঈশা সিগারেটের দিকে তাকিয়ে বলল
–তুমি না বলেছ আমাকে পেলে আর সিগারেট খাবেনা।
ঈশার কথা শুনে ইভান ঈশার দিকে ঘুরে তাকায়। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে
–পেলে তো দুনিয়া ছেড়ে দিতেও একবার ভাবতাম না।
ঈশা ইভানের দিকে তাকিয়ে বলল
–এখনও কি বাকি আছে?
ইভান ঈশার কথা শুনে শব্দ করে হেসে উঠল।তারপর নেমে একটু সামনে গিয়ে একটা সিগারেট হাতে নিয়ে বলল
–তুই কি ভাবছিস সেদিন রাতে সত্যি আমাদের মাঝে কিছু হয়েছে? আমি তোকে জালানোর জন্য এমনি বলেছিলাম। কিছুই হয়নি আমাদের মাঝে।
কথাটা শেষ করেই ইভান হাতে থাকা সিগারেট টা ঠোঁটে লাগিয়ে লাইটার টা জালাতেই ঈশা গিয়ে ইভানের পিঠে নিজের মাথাটা ঠেকিয়ে বলে
–সেটা আমি বিশ্বাসও করিনি।
ইভান লাইটার টা নিভিয়ে ঠোটের সিগারেট টা নিচে ফেলে দিয়ে ঈশার দিকে ঘুরে বলে
–তাহলে?
ঈশা একটু হেসে বলে
–যেদিন রাতে তুমি আমাকে ঔষধ খাওয়াতে আমার ঘরে এসেছিলে। চাইলেই অনেক কিছুই করতে পারতে। আর আমি বাধাও দিতাম না। ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলে আমি তোমার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু তবুও তুমি আমার মুখ থেকে শোনার অপেক্ষা করছিলে। আর মাতাল অবস্থায় তুমি আমার সুযোগ নিবে তা আমি কিভাবে বিশ্বাস করি বল।
ইভান ঈশার দিকে নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আজ ঈশা অনেক কিছু বলতে চায়। আর ইভান তাকে বলার সুযোগ দিতে চায়। ঈশা ইভানের দিকে তাকিয়ে বলল
–তুমি মজা করছিলে আমি সুযোগ দিয়েছিলাম।
বলেই ইভানের দিকে এগিয়ে গেলো তারপর তার টি শার্ট টা খামচে ধরে নিজেকে তার সাথে লেপটে দিয়ে বলল
–তাই বলে তোমার সব কথা বিশ্বাস করে নিয়েছি সেটা ভাবার দরকার নেই। আমি তোমার শিরায় শিরায় বিরাজ করি মিস্টার ইভান মাহমুদ।
ইভান ঈশার কথা শুনে কিছু বলতে পারলনা। অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো। ইভানের মুখের কাছে নিজের মুখটা এনে ঈশা বলল
— তোমার প্রতি এভাবেই সম্পূর্ণ আড়ষ্ট হয়ে পড়ি। তোমাকে ছাড়াতে গেলে আরো ক্রমশ জড়িয়ে যাই আমি। আমার কিছুই আর করার থাকে না। তুমি এভাবেই বেঁধে ফেলো যদি দূরে যেতে চাই। যেখানেই যেতে চাই, সেখানেই বিছিয়ে রেখেছো তোমার অনুভুতি। তোমাকে কি অতিক্রম করা কখনো সম্ভব!!
“এই জীবনের প্রাপ্তির হিসাবে শুধুই তুমি।“
ঈশার কথা শুনে ইভান এবার আকাশ থেকে পড়লো। ইভানের বুঝতে বাকি রইলনা যে ঈশা সেদিন যতটা মাতলামি করেছিলো ততটা মাতাল ছিলোনা। যা বলেছিল সব সজ্ঞানে। ইভান ঈশা কে ছেড়ে দিয়ে রেলিঙ্গের ধারে গিয়ে দাড়িয়ে সামনে তাকিয়ে বলল
–তাহলে সেদিনের সব কথা তোর মনে আছে।
ঈশা একটু হেসে বলল
–ভেবেছিলাম তুমি বুঝতে পারবে।
ইভান একটু হেসে বলল
–স্ট্রেঞ্জ! সেটাই ভাবছি আমি কেন বুঝতে পারলাম না। সেদিন রাতেও তুই যা করেছিলি সব জেগেই করেছিলি।
ঈশা তার দিকে তাকিয়ে বলল
–মাঝে মাঝে না বুঝতে পারার সুবিধা আছে। সেদিন যদি বুঝতে তাহলে আজ কি আবার শুনতে পেতে?
ঈশার কথা শুনে কিছুক্ষন তার দিকে তাকিয়ে থাকলো ইভান। দুজনের দৃষ্টি দুজনের উপরে স্থির। কেউ কোন কথা বলছেনা। ইভান এভাবে কিছুক্ষন থেকে পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট টা বের করে নিচে ফেলে দিলো। তারপর ঈশার কাছে এসে তার কোমর ধরে এক টান দিলো। নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে তার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোটের মাঝে আবদ্ধ করে নিলো। আজ ঈশাও সাড়া দিয়ে ইভানের পিছনের টি শার্ট খামচে ধরল। বেশ কিছুক্ষন পর ছেড়ে দিয়ে ইভান বলল
–এই নেশার কাছে ওই নেশাটা কিছুই না। ওটার সত্যিই আর দরকার নেই।
ইভানের কথা শুনে ঈশা লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলো। ইভান ঈশার মুখটা আলতো করে তুলে বলল
–তোর এই লজ্জা মাখা মুখটা আমাকে আরও বেশি তোর কাছে টানে।
ঈশা এবার লজ্জায় ইভানের বুকে মুখ লুকাল। ইভানও পরম ভালবাসায় তাকে জড়িয়ে নিলো। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে। এর মাঝেই ইভান বলল
–এই মুহূর্তটার জন্য আমি এতো বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু তুই যে আমাকে এতো বছর অপেক্ষা করালি তার শাস্তি কি হবে বল?
ঈশা ইভান কে ছেড়ে দিয়ে বলল
–তোমার এই শাস্তির লিস্ট কি এই জীবনে কখনও শেষ হবে?
ইভান ঈশাকে আবার জড়িয়ে ধরে বলল
–এই জীবনে আমার কোন শাস্তি থেকে তুই বাঁচতে পারবিনা।
ঈশার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে বলল
–আমার এই ভালবাসায় ভরা শাস্তি শুধুই তোর জন্য। ইনফ্যাক্ট আমার আবেগ অনুভুতি সবই শুধুই তোর।
ইভানের কথা শুনে ঈশা কেঁদে ফেললো। ঈশাকে কাঁদতে দেখে ইভান একটু বিচলিত হয়ে বলল
–কি হয়েছে জান? কাদছিস কেন?
ঈশা আরও জোরে কেঁদে ফেললো। ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল
–তোমাকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি। অনেক বেশি। কিভাবে সহ্য করেছো? আমাকে কিভাবে এতো সহজে মাফ করতে পারলে? আমি অনেক খারাপ। আমি শুধু তোমাকে কষ্ট দেই।
ইভান পরম যত্নে ঈশার চোখের পানি মুছে দিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলল
–আমি তোকে তোর মতো করেই ভালবেসেছি। শুধু তোর ভালোবাসা টা না তোর রাগ অভিমান ঘৃণা সবটাই আমার নিজের করে নিয়েছি। তুই আমাকে যতোই ঘৃণা কর না কেন তাতে আমার কোন আফসোস নেই। কারন এই সব কিছু তো আমারি হওয়ার কথা ছিল। তুই আমার অস্তিত্ব। আর থাকলো ভালবাসা সেটা নাহয় আমি আমার ভালোবাসা দিয়েই জয় করে নিবো।
ইভানের কথা শুনে ঈশা তাকে জড়িয়ে ধরল। ইভানও শক্ত করে ঈশাকে জড়িয়ে ধরে বলল
–তোকে খুব ভালোবাসি জান। নিজের থেকেও বেশি।

চলবে……।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ