Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমি এসেছিলে বলেতুমি এসেছিলে বলে পর্ব-২২+২৩+২৪

তুমি এসেছিলে বলে পর্ব-২২+২৩+২৪

#তুমি_এসেছিলে_বলে
পর্ব : ২২
#নাদিয়া_আক্তার_সিয়া

মেহতাবের কথাটা সৌরভের কর্নপাত হতেই । সে বলে ওঠে ,

সৌরভ : তাহলে আজকেই ফ্লাইটের টিকেট বুক করি কী বলিস দোস্ত । লাভ গুরুর পক্ষ থেকে উগান্ডা হানিমুন গিফট । ( মুচকি হেসে )

.

.

সকাল গড়িয়ে দুপুর । সবাই নিচের কেফ এ বসে গল্প করছে । মেহতাব আর মেঘ রুমে আছে । তাই তারা আর বিরক্ত করেনি । তাদের কেউ প্রাইভেসি দেওয়া উচিত । আহতাব আর অহনার নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক নরমাল থাকলেও তারা ঝগড়ার অ্যাক্টিং করছে । সৌরভ তার বাকি বন্ধুদের টিম আর মিথিলার টিম আলাদা বসে আছে । সৌম আর মেহসান শান্তি বজায় রাখার কাজে নিযুক্ত । টিনার শরীর ব্যাথা করছে । সে ওয়াশরুমে ঘুমাচ্ছিল সে এটাকে তার ঘুমের ওষুধ না খাওয়ার জন্য ঘুমের মধ্যে হাটাকে দায়ী করছে । কাউকে বলেও নি মজা করবে ভেবে । নিরব নিস্তব্ধ পরিবেশ । দুই দল তাদের চোখের ইশারায় তর্ক বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছে । সৌম আর মেহসান ক্ষণে ক্ষণে শুঁকনো ঢোক গিলছে আর পানি খাচ্ছে । আহতাব আর অহনা বেশ মজা পাচ্ছে । এই ছমছমে পরিবেশ সম্পর্কে অবগত নয় টিনা । টিনা এক ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাদের মুখ পানে । বলে উঠলো ,

টিনা : কী হয়েছে ?

সকলের অগ্নি নিক্ষেপণ দেখে আগ বাড়িয়ে আর কিছু বললো না টিনা । নিরব দর্শকের মতো দেখতে লাগলো । জল কতটুকু গড়িয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে ।

.

.

মেহতাবদের রুমে মেঘ কোনো এক উপন্যাসের বই পরছে । মেহতাব মেঘের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে আছে আর ল্যাপটপে কাজ করছে । মেঘকে সে দাড়ি বাইট দিয়েছে । তা সম্পর্কে সে অবগত ছিলো না । মেঘের নরম গালগুলো ফুলে গেছে । হয়তো তাই সে আজ নিচে যায় নি আর মেহতাব এর সাথে কথাও বলে নি বইয়ে মশগুল হয়ে আছে । মেহতাব কে আড় চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেঘ বলে উঠলো ,

মেঘ : কিছু বলবেন ?

মেহতাব ইতস্তত করে বলে উঠলো ,

মেহতাব : ব্যাথা করছে মেডিসিন এনে দিবো ?

মেঘ : না ঠিক আছি ।

মেহতাব : ওকে ।

এই বলে সে রুম থেকে চলে গেলো । মেঘ একটা তপ্ত শ্বাস ফেললো । গালে হাত দিতেই ব্যাথায় কুকড়ে উঠলো । সামান্য ব্যাথা কিন্তু ভীষণ জ্বলছে । সে বই রেখে বারান্দায় খোলা আকাশের পানে তাকিয়ে রইলো । লোকটার প্রতি অনুভুতিটা ভালোবাসায় পরিপূর্নরূপ ধারণ করেছে তা বুঝতে পারছে মেঘ । অপলকহীন ভাবে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হয় লোকটার মুখের পানে । তার মুখে বিষন্নতার ছাপ এই ব্যাথার জন্য নয় বরং তার মন মধ্যিখানে মানুষটিকে নিজের করে না পাবার ব্যাথা যা সর্বক্ষণ ধাওয়া করে । উথালপাথাল করে দেয় তাকে । সে চায় নিজে মেহতাবের ভালোবাসার শিকড়ে জড়ানোর আগে মেহতাব যেন তাকে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে নেয় । একটিবার যেনো মেঘকে নিজের অনুভুতি সম্পর্কে অবগত করিয়ে দেয় । বেশি কিছু নয় একটু ভরসা , আস্থা আর কিঞ্চিৎ ভালোবাসাই যথেষ্ট ।

পিছনে কিছুর শব্দে ভাবনার ছেদ ঘটে মেঘের । পিছনে তাকাতেই দেখতে পায় মেহতাব এসেছে হাতে অনেকগুলো প্যাকেটে ফল , চকলেট আর কিছু একটা নিয়ে । জিনিসটা নিয়ে এগিয়ে আসতেই মেঘ জিজ্ঞেস করে ,

মেঘ : কী এটা ?

মেহতাব উত্তর দেয় না বরং মেঘের অনেকটা কাছে চলে আসে সে । মেহতাবের হৃদস্পন্দনের আওয়াজ শুনতে পারছে সে । মেহতাব বিনাবাক্য খরচ করে একটু ক্রিম বের করে মেঘের গালে লাগিয়ে দেয় । মেঘের দৃষ্টি মেহতাবের মুখের পানে । আর কিছুক্ষণ এভাবে থাকলে সে নির্ঘাত কিছু একটা করে বসবে । ক্রিমটা লাগানো শেষ হতেই সে কোনো রিয়েক্ট না করে সেখান থেকে নিচে চলে গেলো । মেঘকে লজ্জা পেতে দেখে মেহতাব আনমনে হাসলো । পিছনে চুলে হাত দিয়ে বলে উঠলো ,

মেহতাব : লাজুকতা মেয়েদের শোভা পায় । বউ আমার বড্ড লাজুক একটু বেশি । ( মুচকি হেসে )

সৌরভ : তাহলে দেরী কিসের উগান্ডার প্ল্যান টিকেট কেটে ফেলি ।

কারো আওয়াজ পেয়ে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলো ,

মেহতাব : তোদের কী আর কোনো কাজ নেই ?

সিয়াম : হুমম গভীর প্রশ্ন । একটা এপস খুলবো ভাবছি ভালোবাসা ডট কম । দামে সস্তা ভালোবাসার বস্তা ।

মেহতাব কিছু বললো না ওদের কথায় হাসতে বাধ্য সবাই এই ভেবে বারান্দার সোফায় বসে পড়লো । রৌফ বলে উঠলো ,

রৌফ : দোস্ত আজকে একটা পার্টি আছে । মেয়েদের থেকে ছেলেরা যেন এগিয়ে থাকে । বি রেডি ।

সামির : পার্টিতে কী ভালো খাবার পাওয়া যাইবো ?

সৌরভ : তুই বরং বেগুনের সাথে বিয়ে করিস । কুমড়োর সঙ্গে গাঁয়ে হলুদ । ফুলকপির সঙ্গে ফুলসজ্জা । অধপেটুক একটা ।

সামির : তাহলে খাবো কাকে ?

সৌরভ : এটা তো ভেবে দেখিনি গুড কোয়েশ্চেন ।

সৌরভ আর সামিরের কথায় হাসিতে ফেটে পরলো সবাই মেহতাব ও তাদের সাথে যোগ দিলো ।

.

.

অহনার রুমে বসে আছে সবাই । টিনা সবার হাতে কিছু একটা ধরিয়ে দিলো । সবার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দেখে টিনা বলে উঠলো ,

টিনা : সিস এটাতে শাড়ি আছে হোয়াইট কালার সবার জন্য । সন্ধ্যায় পার্টি আছে । ছেলেদের থোতা মুখ ভোতা করে দিয়েই ছাড়ব ।

শাম্মী : উফফ এই প্রথম আমার মন জয় করে নিয়েছো টিন আপু এক বালতি চুমু ।

এই বলে শাম্মী টিনাকে চুমু দিয়ে রুম থেকে চলে গেলো । টিনা অবাক ভঙ্গিতে দাড়িয়ে বলে উঠলো ,

টিনা : আমাকে কী অপমান করলো না প্রশংসা ।

সিমরান : যাই হোক । সবাই আমাদের রুমে চলে আসো । ওখানে রেডি হয়ে নিবো । অহনা আর মেঘ ভাবীতো আছেই ।

মেঘ : আমি পার্টিতে থাকতে পারবো না ।

মিথিলা : কেনো ভাবী ? এমন করো না প্লিজ ।

অহনা : মেঘ আসবে আমার লাস্ট কথা নাহলে আমিও আসবোনা ।

মেঘ : আপু এমন করিস না আমার শরীর ভালো লাগছে না ।

অহনা : না কোনো কথা নয় । আপুর কথা রাখবি তুই নাহলে ভাববো তুই আমায় ভালবাসিস না ।

মেঘ : ব্ল্যাকমেল করছিস ভালো খুব ভালো । ( রাগ দেখিয়ে )

টিনা : হোয়াইটমেল এটা মেঘু ভাবী ।

টিনার কথায় সকলের মুখে হাসি ফুটে উঠলো ।

টিনা : যাক ভাবীর মুখে হাসি ফুটলো । ( মুচকি হেসে )

.

.

সন্ধ্যা আকাশ । শীত হওয়ায় পার্টির আয়োজন সন্ধ্যার দিকে করা হয়েছে । মেহতাব একটা ব্ল্যাক শার্ট তার সাথে ব্ল্যাক প্যান্ট পড়েছে । চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করে নিয়েছে । মেঘ এখনও রুমে আসে নি । তাই মেহতাব রেডি হয়ে নিচে মেঘকে খুঁজতে চলে গেছে । পথের মাঝখানে কাঁটার মতো সৌরভ আর তার দল দাড়িয়ে আছে ।

সৌরভ : বাহ্ ! দোস্ত কারো নজর না লাগে বড্ড রূপবতী তুই ।

সৌরভের কথায় মেহতাব মুচকি হাসলো ।

মেহতাব : হুম তাই নাকি বেশি দিন নেই সেই তো লান্ডান ব্যাক করতে হবে । তখন শোধ তুলবো । উগান্ডা হানিমুন গিফট করবো মিথিলার সাথে যাস ওকে ।

শেষ কথাটা আস্তে বলাতে বাকিরা না শুনলেও সৌরভের কান অব্দি পৌঁছেছে । সে শুঁকনো ঢোক গিলে বিড়বিড় করে বলে উঠলো ,

সৌরভ : ওর চোখ এনাকণ্ডার মতো । কান ডাইনাছর এর মতো। কিভাবে জানলো শালায় ।

মেহতাব এর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো ,

সৌরভ : চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে , জেনে যাবে হবু জ্বালা জেনে যাবে ।

মেহতাব কিছুই বললো না তার চোখ এড়ানো এতো সহজ নয় । সৌরভের ভয়ার্ত কন্ঠে বলা কথায় হেসে দিলো ।

মেহতাব : জ্বালা নয় শালা হবে ।

#তুমি_এসেছিলে_বলে
পর্ব : ২৩
#নাদিয়া_আক্তার_সিয়া

সন্ধ্যার পার্টি সবাই যার যার মতো ইনজয় করছে । মেহতাব নিজের ফোনে কোনো জরুরি কল এটেন্ড করছে । সৌরভ একটা জুস নিয়ে তাকিয়ে আছে । রৌফ , সামির , সিয়াম তিনজনের নজর মেহতাবের দিকে । সৌম আর মেহসান প্রকৃতি কি অবস্থায় আছে আঁচ করার চেষ্টা করছে । বেশ কিছুক্ষণ পর মেহতাব কথা বলা শেষ করে ওদের সাথে একটা টেবিলে বসে পড়লো । মেহতাবকে আসতে দেখে সিয়াম বলে উঠলো ,

সিয়াম : দোস্ত মেঘ কই ?

মেহতাব : জানিনা তুই যেখানে আমিও সেখানে ।

সিয়াম সৌম আর মেহসান এর দিকে ইশারা করলো । তারা কথা না বাড়িয়ে মেয়েদেরকে খুঁজতে চলে গেলো । সবাইকে গোমড়া দেখে সবার মন ভালো করার জন্য রৌফ চেয়ার থেকে উঠে দাড়িয়ে বলে উঠলো ,

রৌফ : বিলকিসের মা ওঠ ।

সবাই নিজেদের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করলো রৌফ কাকে কথাটা বলেছে সেটা বোঝার জন্য । রৌফ কিঞ্চিৎ হেসে সামিরের কোমর জড়িয়ে ধরে বললো ,

রৌফ : রূপবতী হওয়া উচিত তোমার মতো । তোমার বিড়ালের মতো চোখ , কুকুরের মতো দাঁত, হাতির মতো নাক, বাদুড়ের মতো কান আমায় তোমার দিকে আকৃষ্ট করে প্রিয় । ওরে বিলকিসের মা চুল গুলা পাইকা গেছে হাওয়াতে ।

সিয়াম ফোরণ কেটে বলে উঠলো ,

সিয়াম : বিলকিসের মারে দেইখা ক্রাশের নামে বাঁশ খাইলাম ।
.

.

( মেহতাবদের রুমে )

অহনা মেঘকে শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে । সিমরান মেঘের মেকআপ করিয়ে দিচ্ছে । মিথিলা মেঘের চুলে গোলাপ ফুল লাগিয়ে দিচ্ছে । টিনা গহনা পড়িয়ে দিচ্ছে । শাম্মী বিছানায় আধশোয়া হয়ে তাদের কান্ড দেখছে আর হাসছে । সিমরান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলো ,

সিমরান : এখানে শুয়ে আছিস‍ কেনো ? দেখ কেউ আসছে নাকি । একদম ঢুকতে দিবি না ।

শাম্মী : জো হুকুম হুজুর ।

এই বলে শাম্মী দরজায় ঠেস হয়ে দাড়িয়ে রইলো । তখনি সৌম আর মেহসান ঢুকতে গেলেই শাম্মীর পায়ের সাথে উষ্ঠা খেয়ে পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো । মেহসান বুকে ফুক দিয়ে বলে উঠলো ,

মেহসান : আপু কী করছো ? আমরা তো উভয় পক্ষ ।

শাম্মী তাচ্ছিললের সুরে বলে উঠলো ,

শাম্মী : ওরে আমার সিঙ্গারার আলু । তোদের ভালো করেই জানা আছে ।

মেহসান : সরো ভাবীকে দেখতে চাই ।

শাম্মী : উহুম একদম চালাকি না । নাহলে ছাদে শুকো দিয়ে শুঁটকি বানিয়ে দিবো ।

সৌম : দেখতে ভেটকি মাছের মতো আমাদের আবার শুঁটকি বানাবে আসামী একটা । (মজা করে)

শাম্মী আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেকে ধাতস্থ করে বলে উঠলো ,

শাম্মী : যা যা মাফ করে দিলাম ।

সৌম আর মেহসান কথা বাড়ালো না । ওরা চলে গেলে শাম্মী পিছনে মেঘ কে দেখেই মুখ হাঁ করে তাকিয়ে রইলো ।

সিমরান : মশা ডুকে যাবে ।

সিমরানের কথায় হুশ ফিরল শাম্মীর।

শাম্মী : হায়! হায়! কারো নজর না লাগে ।

.

.

সবাই নিচে বসে বোর হচ্ছে । সৌরভ মুখে তালা দিয়ে রেখেছে । মেহতাব ফোনে ইম্পর্ট্যান্ট কাজ করছে আর আহতাবের সাথে ডিসকাস করছে । সিয়াম , রৌফ চুপচাপ বসে আছে । সৌম আর মেহসান ফোনে মগ্ন । সামির পরিস্থিতি ঠিক করতে বলে উঠলো ,

সামির : এক বনে এক সাহসী ছেলে ছিলো ।

মেহসান ফোন থেকে মাথা তুলে বলে উঠলো ,

মেহসান : নাম নিশ্চয়ই সামির ।

সামির : তুই বুঝলি কেমনে ? ব্রেইন হ্যাক করে নিয়েছিস নাকি । ( অবাক ভঙ্গিতে )

সবাই সামিরের ভঙ্গি দেখে হেসে নিজেদের কাজে মন দিলো । তৎক্ষণাৎ মেঘ আর বাকিদের নিচে নামতে দেখে সবার দৃষ্টি সিড়ির দিকে গেলো । মেহতাবের নজর কেড়ে নিলো সাদা শাড়ি পরিধানরত রমণী । চোখে গাঢ় কাজল , ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক , মাথায় লাল গোলাপ । যাকে বলা যায় কোনো কিছুর খামতি নেই । মেহতাব কে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে উপস্থিত সবাই হেসে দিলো । সৌরভ মুখ খুলে বলে উঠলো ,

সৌরভ : দোস্ত এটা মেঘ তোরই বধূ এমন ভাবে দেখছিস যেনো প্রথমবার দেখলি ।

সৌরভকে চিমটি মেরে থামতে বললো আহতাব । আহতাব মেঘকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো ,

আহতাব : শালিকা তোমায় দেখে তো মেহতাব কল্পনাতে ডুব দিয়েছে ওকে বাঁচাও ।

আহতাবের কথায় সবাই হেসে দিলো । হাসলো না মেহতাব । মেঘ লজ্জা পেলো প্রকাশ করলো না । মেয়েরা এসে সবাই এক টেবিলে গোল করে বসলো । মিউজিক চালানো হলো । মুহূর্তেই রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি হলো । সবাই ডিনার পার্টির জন্য ভালো ভালো খাবার অর্ডার দিয়েছে । খাবার এসে পড়েছে সঙ্গে পার্টি আরো রসালো করার জন্য টিনা আর সামির এক পাশে এসে পড়লো । টিনা বলে উঠলো,

টিনা : একটা প্লান আছে । আমি আর তুমি এখানে সবচেয়ে অকাজের চরিত্র । তো আমাদের কে আরো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে হবে । তাহলে কোম্পানিতে মেহতাব আমাদের দুজনকে প্রমোশন করিয়ে দিতে পারে ।

সামির : টিনা এমন কিছু করিস না বইন যাতে মেহতাব প্রমোশন তো ধুর চাঙায় তুইলা রাখে ।

টিনা : নো টেনশন ওদের বিয়ে আরো রসালো করবো জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ ।

সামির : আমি জানতাম না তুমি বাবুচি গিরি করতে পারো ।

টিনা মুচকি হেসে টেবিলে এসে বসে পড়লো । সামির কে ইশারা করতেই ও উপরে চলে গেলো । সবাই যার যার মতো খাচ্ছে । সৌরভ পা দিয়ে মিথিলার পায়ে গুতো দিচ্ছে । মিথিলার অগ্নি দৃষ্টি দেখেও থামে নি সে । মিথিলা কেশে বলে উঠলো ,

মিথিলা : সিমরান , শাম্মী আমার পায়ে কিছু একটা পড়েছে দেখ না প্লিজ ।

সৌরভ এই কথা শুনে পা নিজের জায়গায় গুটিয়ে নিলো ।

মেহতাবের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলে ওঠে ,

সৌরভ : দোস্ত আমারে কিছু মেয়েদেরকে পটানোর টিপস দে । লাভ গুরু তোরে ময়মসিংহগামী ট্রেনে হানিমুনের টিকেট কাইটা দিবো । ফ্রীতে ট্রেভেল আর হানিমুন হইয়া যাইবো । এক ঢিলে দুই পাখি আর কী ।

মেহতাব বিষম খেয়ে উঠলো সৌরভের কথা শুনে । সৌরভ হা করে তাকিয়ে রইল সে ভুল কিছু বলেছে নাকি ? মেঘ মেহতাব কে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো ।

মেঘ : এই নিন ।

মেহতাব পানি এক ঢোকে শেষ করলো । মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল,

মেহতাব : থ্যান্ক ইউ মেঘ ।

সবাই যার যার খাওয়া শেষ করে ফেললো । সামির সবাইকে ড্রিংক সার্ভ করে দিলো । মেঘ ড্রিংক করবে না । সামির বলে উঠলো ,

সামির : ডোন্ট ওয়ারী ভাবী এটা আ্যলকোহল না ফ্রুট জুস।

সামির মেঘকে জোর করে ধরিয়ে দিলো । সামির কে মেহতাব বলে উঠলো ,

মেহতাব : তোরা আজেবাজে কিছু করবি না । আমি ওয়ার্নিং দিচ্ছি ।

সামির : দোস্ত ওইটা ফ্রুট জুস সত্যি রৌফের দাড়ির কসম ।

রৌফ চিবুকে হাত দিয়ে বললো ,

রৌফ : কিন্তু আমার তো দাড়ি নাই ।

#তুমি_এসেছিলে_বলে
পর্ব : ২৪
#নাদিয়া_আক্তার_সিয়া

সবাই ডিনার করে একসাথে বসে আছে । সবার হাতে ড্রিঙ্কস মেহতাবের বাদে । টিনা ফিসফিস করে সামিরের কানে কিছু বলে দিলো । সামির কথামত মেঘ আর মেহতাবের ড্রিঙ্কস এ ট্যাবলেট জাতীয় কিছু একটা মিশিয়ে দিলো । সামির ড্রিঙ্কস নিয়ে মেহতাব কে জোর করে ধরিয়ে দিলো । মেঘ নিতে না চাইলে সামির টলমল চোখে তাকাতেই নিতে বাধ্য হলো মেঘ । সবাই ভালো লেভেলের ড্রিঙ্কস করে নিয়েছে । কেউ দুলছে তো কেউ উল্টোপাল্টা কথা বলছে । টিনার বুঝতে বাকি নেই সামির সবাইকে আ্য‍লকোহল দিয়েছে ফ্রুট জুসের বদলে । অকর্মন একটা এই ভেবে সে সবাইকে যার যার রুমে দিয়ে আসার চেষ্টা করছে । সবাইকে নিয়ে সামির আর টিনা চলে গেলো মেঘ আর মেহতাবকে বাদে তাদের জন্য আজ বাসর ঘর সাজাবে এই প্লান ওদের । ওদের কাছাকাছি আনলে ওদের ঝামেলাও ঘুচে যাবে আর টিনাকেও ক্ষমা করে দিবে । যতই হোক সে মেহতাবের খারাপ অন্তত চাইনি । সে ভালো থাকুক এটাই তার প্রত্যাশা । এই ভেবে তপ্ত শ্বাস ফেলে সামির আর টিনা সবাইকে রুমে দিয়ে আসার জন্য নিয়ে গেলো ।

মেহতাব আর মেঘ দুজন পাশাপাশি বসে আছে । টেবিলে হেলান দিয়ে দুজন দুজনকে দেখছে মেঘ মেহতাবের দিকে আর মেহতাব মেঘের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । মেঘ বলে ওঠে ,

মেঘ : আপনি এতো সুদর্শন কেনো ? আপনার মতো এতো সুদর্শন পুরুষ পৃথিবীতে একজনকেও দেখিনি ।

মেহতাব মুচকি হেসে মেঘের কপালের উপর পড়ে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দেয় । বলে ওঠে ,

মেহতাব : তোমার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দর আর আমি তো তোমারই অর্ধেকঅঙ্গ । তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী । প্রত্যেক স্ত্রীর কাছে শ্রেষ্ট সুদর্শন পুরুষটি হচ্ছে তার স্বামী ।

মেঘ : আপনি এতো রোমান্টিক কথা বলছেন । আজ কি হলো সাহেব ?

মেহতাব : জানিনা আমি যখনই তোমাকে দেখি আমি ভুবন ভুলে যাই কেবল তোমাকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছা অনুভব করি । আমি যখনই তোমাকে আমার পাশে একাকী পাই তখন আমি তোমাকে ভালোবাসার সুযোগ হারাতে পারি না ।

মেঘ মুচকি হাসে নিজের মুখটাকে মেহতাবের আরো কাছে এনে ভালোবাসার স্পর্শ দেয় কপালে । মেহতাব মেঘের আরো কাছে চলে আসে । টিনা আর সামির নিচে এসে ওদের এতো কাছাকাছি দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে ।

টিনা : সামির আমি যা দেখেছি তুমিও কী তাই দেখেছো ?

সামির : আমি এমনি আধপাগল আমার দেখায় কিছু যায় আসে না ।

টিনা : কথায় যুক্তি আছে ।

সামির রাগী দৃষ্টিতে তাকায় টিনার পানে । টিনা ইতস্তত করে বলে ওঠে ,

টিনা : সরি ভুল হয়েছে । এখন কী করবো এই দুই চাতক পাখিকে নিয়ে ।

টিনা আর সামির উপরে চলে যায় । কোনো স্টাফের সাহায্য নিতে মেঘকে নিতে পারলেও মেহতাব কে তুলতে পারবে না তারা । আর রুমও তো সাজাতে হবে ।

মেঘ মেহতাব কে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয় । বুকে কয়েকটা কিল ঘুষি দিয়ে বলে উঠে ,

মেঘ : আপনি বড্ড খারাপ আমায় ভালোবাসেন না , অনুভব করেন না ।

মেহতাব মেঘের হাত তার বাম বুকে চেপে ধরে । মেঘ অনুভব করতে পারছে মেহতাবের হার্টবিট বিদ্যুতের বেগে চলছে । মেহতাব মেঘের চোখে চোখ রেখে বলে উঠে ,

মেহতাব : কিছু জিনিস শুধু দুর থেকে অনুভব করা যায় ধরা ছোঁয়া যায় না । এই হৃদয়ে তোমার জন্য ব্যাকুলতা অনুভব করতে তোমার কি ধরা ছোঁয়ার প্রোয়জন ?

মেঘ ওষ্ঠাধর প্রসারিত করে মুচকি হেসে নেশালো কণ্ঠে বলে ওঠে ,

মেঘ : না আপনার কিঞ্চিৎ ভালোবাসাই যথেষ্ট এই মেঘকে অনুভব করিয়ে দিতে । এই সাহেব মেঘের একান্ত মেঘের ।

মেহতাব স্মিত হেসে বলে ওঠে ,

মেহতাব : তোমার ঠোঁটের হাসি যথেষ্ট আমায় অনুভব করিয়ে দিতে যে তুমি আমার । ভীষণ ভালোলাগে যখন তুমি আমার চোখে চোখ রেখে তাকাও তোমার চোখের এক চাহনি আমায় বিশ্বাস করিয়ে দেয় তুমি আমার শুধু আমার । তোমার মুখের চাহনি আমার মনের ছবিতে আকা হয়ে গেছে চাইলেও তা ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব নয় । তোমার ঠোঁটের হাসি আমার বুকে গেথে গেছে চাইলেও তা মুছে ফেলা সম্ভব নয় । আসলে তুমি টাই এই মেহতাবের সব । এই সাহেব তোমায় বড্ড চায় অনেক চায় ভীষণভাবে চায় অর্ধাঙ্গিনী ।

মেহতাবের প্রকাশ্য কথাগুলো আজ বেশ ভালো লাগছে শুনতে মেঘের কাছে । মেঘ মেহতাবের চোখে দৃষ্টি রেখে বলে ওঠে ,

মেঘ : ভালোবাসেন আমায় ?

মেহতাব উত্তর দেয় না কোলে তুলে নেয় তার প্রিয়তমাকে ।

সকাল হয়ে গেছে । বাইরে কুয়াশার কারণে জানালায় পানির সূক্ষ কণা জমে আছে । মেঘ বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে । মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে । মেঘ শোয়া থেকে উঠে পরে । আসে পাশে তাকায় মেহতাব কে খুঁজতে মেহতাব ঘরের কোথাও নেই । মেঘ হাই তুলে নিজের গায়ে মেহতাবের শার্ট দেখে থমকে যায় । কালকের ঘটনা কিছুই মনে পরছে না তার । তারাতারি বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে । ফ্রেশ হয়ে বের হতেই তার চোখ যায় বিছানার পাশে টেবিল ল্যাম্প এর দিকে । তার পাশে চিরকুট জাতীয় কিছু রাখা । মেঘ চিরকুট খুলতেই থমকে যায় ।

চলবে।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ