প্রিয় অরণ্য – Samannita Ghosh

0
640

#গল্পপোকা_চিঠি_প্রতিযোগিতা_২০২০
#চিঠি_নং_০১ (শব্দসংখ্যা-৫৫২)

প্রিয় অরণ্য,

জানো, বড় ইচ্ছে করছে তোমার বুকে মাথা গুঁজে দুহাতে শক্ত করে তোমাকে ধরে রাখি আর আমার চোখের জলগুলো আশ্রয় পাক তোমার শার্ট মাখামাখি হয়ে ঐ বুকে । মন চাইছে তোমার কোলে মাথা রেখে একটু শুতে আর তুমি আমার চুলে বিলি কেটে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। তোমার উপর অভিমান করতেও সাধ হচ্ছে যাতে তুমি এসে একটু কেয়ার নিয়ে বলো,”কি হয়েছে তোমার? রাগ করেছ কোনো কারণে? ওগো আমার অভিমানী কষ্ট পেয়েছ বুঝি?আচ্ছা কান ধরছি আমি আর নীরব থাকব না কখনো তোমার কথার উত্তরে। এবার তো হাসো। ”
এই দেখেছ আমি তো বিস্মৃতই হয়েছিলাম , আমি তো তোমার মনের মানুষই না যে এইসব অন্যায় আবদার বা অনধিকার ভাবনা করছি। আর আমি এও ভুলে গিয়েছিলাম যে তুমি জানবে কিভাবে যে আমি তোমাকে….
তবে সবচেয়ে বড় ভুল আমার কি জানো ? এই যে আজ তোমার জীবনের এত সুন্দর একটি বিশেষ দিন তোমার বিয়ের দিনে আমি পাগলের প্রলাপ বকছি ;কি করব বলো আমি তো তোমারই পাগলিসোনা।এই যে ভাববেননা যে আজ আপনার আর সাথে আমারো অপরিচিত একজনের সাথে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বলে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। আমি যেমনটা শেষ দুপুরে প্রিন্সেপ ঘাটে বসে আর মন চাইতেই ফোন করে বকবক করে তোমার কান ঝালাপালা করে দিতাম তেমনটাই করব। তবে এবারে সেটা মনের অন্তরালে, কল্পনা আর ভাবনার গহীনে।
এই , তুমি কি জানো কোন না কোন বরের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে ? আচ্ছা বলোতো অরণ্য ,আমি তাকে ভালোবাসব কিভাবে ? আমি তো শুধু তোমার ময়ূরপঙ্খী ;আর কারো না। বলো না গো ,আমি কি এতই পচা যে আমাকে একটু ভালোবাসা যায়না ? এই দেখেছ এবারে সত্যিই মনে হচ্ছে আমাকে মাথার ডাক্তার দেখাতে হবে কেননা তুমি তো আর মনপাখি না যে মনের খবর জানবে আর আমার মতো একটা পাগল,জেদী,
আজব,অকামের অসুন্দরী মানুষকে ভালোবাসতে তোমার বয়েই গিয়েছে।
সেদিন তুমি একটা কথা ঠিক বলেছিলে ,আমি তোমার কিছুদিনের পরিচিতা ছাড়া আর কেউ নই যে এত অধিকার ,আবদার , অভিমান দেখাচ্ছি।
আসলে আমার মন বারম্বার বলে ওরে তুই ভালোবেসে ফেলেছিস রে তোর অরণ্যকে; সময়ের হিসেবে কি আর ভালোবাসা হয়? তা কখন ,কার সাথে কীভাবে মনকে মিলিয়ে দেয় তা কেবল সেই জানে।
জানো তো আমার না খুব কষ্ট হচ্ছে , কলম চলতেই চাইছে না আর চোখ ভেঙে জল আসছে তবু আজ হয়তো না বললে কোনোদিনো বলা হবেনা…অরণ্য আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছি কিনা জানিনা কিন্তু আমার মন জুড়ে, ভাবনা জুড়ে যদি কেউ থাকে প্রতিক্ষণে , যার হাসিতে হাজার তারার মেলা বসে আমার চারপাশে আর যার বিরহযাতনায় মেঘ জমে মনের ঈশানকোণে, যার সাথে একটা দিনও কথা না বললে অভিমানী বৃষ্টির মিছিল বসে আঁখির কোলে আর যার প্রতিটি কথা আমার মনের খাতায় লেখা হয়ে থাকে–সে আর কেউ নও তুমি অরণ্য। তোমার কাছে যদি এটা ইনফ্যাচুয়েশন বা আবেগে ভেসে যাওয়া হয় তবে তা-ই। আর কেউ না জানুক বা মানুক আমার মন তো জানে আমার কাছে তুমি ঠিক কি…
এই দেখেছ এই দুটা বছর ধরে কি বোকামিটাই না করে চলেছি আমি ? তুমি আদৌ কোনোদিন পাবে বা পেলেও পড়বে কি আমার চিঠিগুলো? তবু লিখে চলেছি।
আর আমার জীবনের শেষ দুটো ইচ্ছে কি জানো ?

এক : তুমি যেন পারিবারিক,মানসিক সুখশান্তি লাভ করো,শরীরী সুস্থতা বজায় থাকুক।
দুই: আমার মা-বাবা বা স্বামী যেন আমার মৃত্যুর পর তোমাকে এই চিঠির ডায়েরিটা দিয়ে আসেন। ইচ্ছা হলে পড়বে আর না হলেও একটু স্থান দিওগো তোমার ধুলোমাখা স্মৃতিমাঝে,ঘরের কোণে।

বিবাহিত জীবনের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল। ভালো থেকো। চিন্তা কোরোনা,আমিও ভালো থাকব গো ;আরে এই ডায়েরির প্রতি পৃষ্ঠায় ভালোবাসা হয়ে রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেগে থাকা অরণ্যকে নিয়ে ঠিক কাটিয়ে দেব আমার বাকি জীবনটা।
ইতি,
তোমার অভিমানী ময়ূরপঙ্খী ..শুধু তোমার…

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে