Friday, June 5, 2026







Dangerous_Crazy_Lover Part-07

#Dangerous_Crazy_Lover_?.
#Sumaiya_Moni.
#Part-7.

বিদ্যুত গান তাক করে প্রথমে আরিয়ার বাবা কে শুট করে দিল। তারপর আরিয়ার যার সাথে বিয়ে হচ্ছে সেই ছেলেটি কে গুলি করে দেয়। আরিয়া জোরে এক চিৎকার দিয়ে উঠলো।

নাআআআআআআআআআআআআ……….
.
.
আরিয়া বিছানায় লাফ দিয়ে উঠে বসে। সারা শরীর ঘেমে অস্থির । মাথার উপরে পাখা চলছে তারপর ও ঘেমে যাচ্ছে আরিয়া । ভয়তে বুকের মধ্যে ধুক ধুক শব্দ হচ্ছে । আরিয়া এতক্ষন সপ্ন দেখছিল। সেই সপ্নের নিজের বাবা কে‌ মারতে দেখার দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে যায় । হু হু কেঁদে উঠল।

আরিয়া: আমার জীবনটা নরক বানিয়ে দিয়েছে ওই বিদ্যুত! এর থেকে কি আমি মুক্তি পাব না?……..[ কাঁদছে আর বলছে ]
.
.
.
.
.
রাজু হোসেনের মনটা আজ একটু ভালো। আরিয়ার জন্য যোগ্য ছেলে পেয়ে গিয়েছে। ছেলেটি কলেজের প্রফেসর। দেখতে বেশ সুন্দর । নাম শাকিল আহমেদ। আরিয়ার ছবি দেখে শাকিল পছন্দ করে।
খুব তাড়াতারি আরিয়ার সাথে শাকিলের বিয়ে দিব।

এইসব ভাবতে ভাবতে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন রাজু হোসেন । বাসায় এসে সোফায় বসে আরিয়ার আম্মু কে ডাক দিয়ে তাকে শাকিলের সম্পর্কে সব কিছু বললো ।
.
.
.
পরের দিন…..

আরিয়া পা বাজ করে মুখ গুজে মন মরা হয়ে বসে আছে ওর রুমে । আরিয়ার আম্মু রুমে এসে আরিয়া কে এবাবে বসে থাকতে দেখে বিছানায় বসে আরিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে । আরিয়া মুখ তুলে দেখে ওর আম্মু। আরিয়ার আম্মু আরিয়ার দিকে মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার এই কয়দিনে চেহারার কি হাল করেছে? চোখের নিচে কিছুটা কালি পড়ে গেছে। মুখটা শুকনা‌ শুকনা লাগছে। চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। যে আরিয়া সারা দিন বক বক করত। আজ সেই আরিয়া একদমি চুপ হয়ে গেছে। পাপ্পি কে নি সারা দিন খেলায় মেতে থাকত। আজ পাপ্পিকে হারিয়ে রুমের এক কোণায় বসে থাকে। অনেকটাই পরিবর্তন দেখা‌ যাচ্ছে আরিয়ার মধ্যে ।

এসব ভাবতে বুক চিড়ে দীর্ঘনিশ্বাস বেড়িয়ে এলো আরিয়ার আম্মুর। মৃদ স্বরে আরিয়া কে বলল।

আরিয়ার আম্মু: আরিয়া মা সারা দিন ঘরে থাকলে মন এমনেতেই খারাপ হয়ে যায়। বাহিরে যা লিলি,রাইমার সাথে সময় কাঁটা। ভালো লাগবে তোর।

আরিয়া তাছিল্যের স্বরে বলল।

আরিয়া: আরিয়ার সময় গুলো এখন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে মা। আমি চাইলেও সেটা ঠিক করতে পারবো না।

আরিয়ার আম্মু: এভাবে বলছিস কেন মা। তোর কী হয়েছে? পাপ্পির জন্য তুই এমন করছিস। আমি তোর বাবা কে বলে তোর জন্য আরেকটি কুকুরের ছানা এনে দিতে বলব।

আরিয়া: আমার দরকার নেই। তুমি আমার রুম থেকে যাও আম্মু । আমাকে একটু একা থাকতে দেও।

আরিয়ার আম্মু: একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম।

আরিয়া: প্লিজ আম্মু স্টপ এন্ড গো।

আরিয়ার আম্মু মনে‌ এক রাশ কষ্ট নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। মেয়ের এমন অবস্থা দেখে বড্ড কষ্ট লাগছে ।
.
.
.
.
আরিয়ার আম্মু রুম থেকে চলে যাবার কিছুক্ষন পর পরই আরিয়ার ফোন বেজে উঠল। আরিয়া ফোনের স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখে বিদ্যুত কল দিয়েছে। তাই দেরি না করে ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে অপর পাশ থেকে বলল।

বিদ্যুত: নিচে গাড়ি অপেক্ষা করছে। তাড়াতারি গাড়িতে গিয়ে বসো।

টু….টু….টু

এই টুকু বলেই ফোন কেঁটে দিল বিদ্যুত। আরিয়া কান থেকে ফোন সরিয়ে হেঁটে হেঁটে নিচে যেতে লাগলো ।যাবার আগে ওর আম্মুকে কিছু বলে আসেনি। নিচে নেমে দেখে কালো রঙের চকচকে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে ওর অপেক্ষায়। আরিয়া গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াবার সাথে সাথে ড্রাইভার গাড়ির দরজা খুলে দিল। আরিয়া চুপটি করে গাড়িতে উঠে বসলো। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিল । আরিয়া মন মরা হয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে । ওর এই জীবনে এখন আর কোন শখ,আল্লাদ নেই। সবটাই‌ বিদ্যুতের হাতে। কিছুক্ষন পর গাড়ি একটা বড় বাড়ির সামনে এসে থামলো। রবিন গাড়ির দরজা খুলে দিল। আরিয়া চোখ তুলে বামে তাকিয়ে ছেলেটি কে দেখে চিনে যায় । সেদিনের রাতে সেই ছেলেটি । আরিয়া গাড়ি থেকে নেমে বাড়িটির দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে আছে ।

রবিন: ভিতরে আসুন ম্যাম….. ।

রবিনের কথায় আরিয়া একটু নড়ে চড়ে দাঁড়াল। রবিন হাঁটছে আরিয়া রবিনের পিছন পিছন হাঁটছে। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করার পর আরিয়া বড় ফ্রেমে বাঁধান দেয়ালে টাঙানো বিদ্যুতের ছবি দেখতে পায়। আরিয়া এবার বুঝতে পারে এটা বিদ্যুতের বাড়ি । মনের মধ্যে হালকা ভয় অনুভব করছে। রবিন বিদ্যুতের ছবির দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে হালকা কেশে বলল।

রবিন: আপনি এখানে বসুন? আমি স্যার কে ডাক দিয়ে নিয়ে আসছি ।

রবিন চলে যায়। আরিয়া ঠিক অগের মতো দাঁড়িয়ে আছে । সোফায় বসতে অসস্থি ফিল করছে। ভাবনার সাগরে তলিয়ে আছে আরিয়া। কখন যে‌ ওর পাশে বিদ্যুত এসে দাঁড়িয়েছে সেটা টের ও পায়‌নি। বিদ্যুত আরিয়া কে দেখতে ব্যস্ত । মনে হচ্ছে কত বছর পর নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে দেখছে। আরিয়াকে দেখার মাঝে ব্যাঘাত ঘটাল রবিন।

রবিন: স্যার কমিশনার সাহেবের ফোন?

বিদ্যুত কিছুটা রাগ হল। বিরক্তি নিয়ে বললো।

বিদ্যুত: বল পরে কথা বলবো ।

রবিন: ওকে স্যার ।

রবিন চলে যায় ।

বিদ্যুত: আরিয়া বসো।

আরিয়া বিদ্যুতের কথা শুনে বসে যায়। মাথা নিচু করে বসে আসে।

বিদ্যুত: চেহারার অবস্থা করুন করে ফেলেছ! সমস্যা নেই সব ঠিক করে ফেলবো আগে তোমাকে আমার করে নেই।……..[ মৃদ হেসে ]

আরিয়ার বিরক্তি লাগছে বিদ্যুতের এই সব ফালতু কথা শুনতে।

বিদ্যুত: ওকে যেটা বলার জন্য তোমাকে এখানে আনা হয়েছে । শুনলাম তোমার বাবা নাকি শাকিল নামের একটা ছেলের সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করেছে।

বিদ্যুতের কথা শুনে আরিয়া ভয় পেয়ে যায় । ঘাবড়ে যায় অনেকটা। বিদ্যুত কে এখন কী বলবে ঠিক বুঝতে পারছে না আরিয়া। আমতা আমতা করে বললো।

আরিয়া: আমি এই বিষয় কিছুই জানি না।

বিদ্যুত: না জানই ভালো। তবে হ্যাঁ! তোমার বাবা কে গিয়ে বলবে,তুমি এই বিয়ে করতে রাজি না। তুমি আমাকে বিয়ে করবে। ……….[ গম্ভীর কন্ঠে ]

আরিয়া: ………………..

বিদ্যুত : কী বলেছি শুনতে পেয়েছ?…..[ কিছুটা ধমকের স্বুরে ]

আরিয়া: বুঝতে পেরেছি….[ মৃদ স্বুরে ]

বিদ্যুত: গুড…..তুমি খুব Talented, সহজেই‌ সব কথা বুঝে যাও । আরেকটা কথা শুনে রাখ । চালাকি, পালান চলবে না। তার শাস্তি সহরুপ তোমার বাবা,আম্মু‌‌ ও তোমার ছোট বোনের প্রানটা যাবে। ক্লিয়ার? ……..[ টেডি স্মাইল দিয়ে ]

আরিয়া :…….হ্যাঁ!…….[ ভয়ে ]

বিদ্যুত: ভেরি গুড। রবিন…. রবিন….?

রবিন: ওকে বাসায় দিয়ে আসো ।

রবিন: ওকে স্যার ।

বিদ্যুত উঠে চলে যায় উপরে । আরিয়া রবিনের পিছু পিছু বাহিরে যেতে লাগলো । বাসায় চলে আসে আরিয়া।

রাতে….

ড্রইংরুমের আরিয়াকে ডাকা হয়েছে । আরিয়ার মা ও মারিয়া সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল। রাজু হোসেন গম্ভীর হয়ে বসে আছেন।রুমের মধ্যে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে । রাজু হোসেন আরিয়ার উদ্দেশ্যে বললো।

রাজু হোসেন: আরিয়া আমি তোমার বিয়ে ঠিক করেছি। সামনের সপ্তাহে তোমার বিয়ে।

আরিয়া: বাবা আমি এই বিয়ে করতে পারবো না ।

আরিয়ার মুখে এই কথাটা শুনে রাজু হোসেন কিছুটা রেগে গেলেন।

রাজু হোসেন: কেন? কারনটা কি?

আরিয়া:…,……….

রাজু হোসেন: চুপ করে থেকো না‌,কারনটা কী বল?………[ রাগী কন্ঠে ]

আরিয়া:………….

রাজু হোসেন: আরিয়া………[ জোরে চিল্লিয়ে ]

আরিয়া: আমি বিদ্যুত কে বিয়ে করবো।

রাজু হোসেন এই কথাটা শুনেই বসা থেকে উঠে এসে আরিয়ার গালে কোষে একটা থাপ্পর দেয়।

রাজু হোসেন: লজ্জা করলো না ওই ক্রিমিনালটার কথা বলতে? তুমি ভালো করেই যানো বিদ্যুত ভালো মানুষ না তারপরও…….[ আরিয়া থামিয়ে দেয় ]

আরিয়া: তারপরও আমি বিদ্যুত কে বিয়ে করবো।……[ ঝাড়ি দিয়ে বললো ]

রাজু হোসেন: বিদ্যুতের সাথে তোমার বিয়ে হবে না। আমি বেঁচে থাকতে এটা কোন দিনও সম্ভব না। শাকিলের সাথেই তোমার বিয়ে হবে। কালকে তোমার বিয়ের সব ব্যবস্থা করবো। বিয়ে কালকেই হবে। ……….[ বলেই তার রুমে চলে যান ]

আরিয়া উঠে ওর রুমে চলে আসে । বিছানায় শুয়ে মুখ গুজে কাঁদতে থাকে । যে বাবা ওর গায়ে আজ পর্যন্ত হাত তোলে নি। আর আজ ওকে থাপ্পর দিয়েছে ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে আরিয়ার । আরিয়ার হুট করেই মনে পড়ে যায় ওর সপ্নের কথা ।

আরিয়া: না না এই বিয়ে আমি কিছুতেই করবো না। আমি চাই না আমরা বাবার কোন ক্ষতি হোক। আমাকেই কিছু একটা করতে হবে ।…..

আরিয়া চোখ মুছে ওর পড়ার টেবিলে গিয়ে বসলো। একটা কাগজে কিছু একটা লিখে এক বাজ করে বইয়ের নিচে রেখে দিল ।

সবাই ঘুমিয়ে যাবার পর ১২টার সময় বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটা ধরলো আরিয়া। উদ্দেশ্যে বিদ্যুতের বাড়িতে যাবে। সেখানে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় আরিয়া দেখছে না। একা একা রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। ভাবতেও পারেনি পরিবারের কাছ থেকে এভাবে না বলে পালিয়ে যেতে হবে। ল্যাম্পপোস্টের আলোই রাস্তাটা সুন্দর দেখাচ্ছে । আরিয়ার মন চাইছে ল্যাম্পপোস্টের নিচেই বসে থাকতে। সেদিনের কথাটা খুব মনে পড়ছে। চোখের সামনে লিলি,রাইমার চেহারটা ভেসে উঠছে ওর। যদি ফেলে‌ আসা দিন গুলোই ফিরে যেতে পারতো। তাহলে আরিয়ার করা আগের ভুলটা শোধরে নিত।

আনমনে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটছে। মাঝে মাঝে দু একটা গাড়ি ধুলো উড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে । আরিয়ার এই মুহূর্তে মন চাইছে গাড়ির নিচে পড়ে মরে যেতে। কিন্ত চেয়েও তা পারছে না। রাস্তার মাঝ খানে বসে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে মন চাইছে। কিন্ত চেয়েও সংযত করল নিজের মনকে। অন্য মনস্ক হয়ে হাঁটছে। হঠাৎ একটা চলন্ত দ্রুত গতির গাড়ি এসে আরিয়া কে ধাক্কা দেয়। আরিয়া ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে। মাথা ফেলে রক্ত ঝড়তে শুরু করে। হাত পা ছিলে যায় । চিত হয়ে পড়ে আছে আরিয়া। চোখ জোড়া একবার বন্ধ করছে আবার খুলছে। মনে হচ্ছে এখনি হয়তো ওর প্রানটা চলে যাবে। বড্ড কষ্ট হচ্ছে চোখ মেলে রাখতে। চোখ বন্ধ করার আগে সামনের মানুষটিকে একবার দেখে ন্যায়। তারপর পরম যত্নে চোখ বন্ধ করে ন্যায়।
.
.
.
.
.
এক সপ্তাহ পর……

পিট পিট করে চোখ মেয়ে তাকায় আরিয়া । বুঝতে চেষ্টা করে এখন কোথায় আছে। শরীরে কিছুটা ব্যাথা অনুভব করছে। একজন নার্স এসে আরিয়ার জ্ঞ্যান ফিরতে দেখে উত্তেজিত হয়ে বাহিরে গিয়ে ডাক্তার কে ডাক দিয়ে নিয়ে আসে । ডাক্তার মিনা কেবিনে এসে আরিয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদ হেসে বললো।

ডঃ মিনা: এখন কেমন লাগছে তোমার? তুমি কি একটু ভালো ফিল করছো?

আরিয়া ডাক্তার মিনার কথা শুনে ড্যাবড্যাব করে তার দিকে তাকিয়ে আছে ।

ডঃ মিনা: আচ্ছা তোমার নাম কী?

আরিয়া ঠিক আগের মতই তাকিয়ে আছে।

ডঃ মিনা কিছুটা ঘাবড়ে যায় এভাবে চুপ থাকতে দেখে।

ডঃ মিনা: তোমার বাবার নাম কি?

আরিয়া এবার মুখ খুলে বললো।

আরিয়া: আপনি কে? আর আমি এখানে কেন? আমি কে?

ডঃ মিনা বুঝে যায় আরিয়া ওর স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

ডঃ মিনা: মি.বিদ্যুত কে খবর দেও এখনি?

নার্স : জ্বী ম্যাম ।

বিদ্যুত আরিয়ার জ্ঞ্যান ফিরেছে শুনে কোর্টের কাজ অসম্পূর্ন রেখে hospital এ চলে আসে। তাড়াতারি করে আরিয়া কে রাখা কেবিনে এসে দেখে আরিয়া পাগলামি শুরু করে দিয়েছে ।

আরিয়া: ওই নার্স আমার কাছে আয় তোকে ইনজেকশন দিয়ে দেবো।

নার্স মেয়েটি ভয়তে দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

আরিয়া: ওই ডাক্তার মহিলা তোর চামচা কে আসতে বল আর নাহলে তোকে ইনজেকশন দিয়ে দেবো।

ডঃ মিনা: আরিয়া…আরিয়া তুমি একটু সান্ত হও।

আরিয়া: আরিয়া কে?

ডঃ মিনা: আরিয়া তোমার নাম।

আরিয়া: আমার নাম তোকে কে বলেছে?

পিছন থেকে বিদ্যুত বলে উঠল।

বিদ্যুত: আমি বলেছি।

আরিয়া: আব্বে শালা তুই কে? কোন জাগা থেকে আমদানি হয়েছিস?

বিদ্যুত কিছুটা রেগে যায়।

বিদ্যুত: আরিয়া…..।

আরিয়া: রাগ দেখাস কেন? তোর বউ হয় নাকি আমি।

বিদ্যুত কিছু বলতে যাবে তার আগেই ডাক্তার মিনা ইশারায় না করে দেয়।

ডাক্তার মিনা বিদ্যুত কে বাহিরে নিয়ে গেল।

ডাক্তার ম্যাডাম: দেখুন মি.বিদ্যুত আরিয়া তার আগের স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তাই ওর সাথে রাগ বা রুড ব্যবহার করবেন না। পারলে ওকে বুঝিয়ে আগে ঘটে যাওয়া জীনিস গুলো বুঝিয়ে বলুন,মনে করাতে চেষ্টা করুন। তাহলে হয়তো আরিয়ার স্মৃতি ফিরে পেতে পারে।

বিদ্যুত: আই উইল ট্রাই…।

ডাক্তার ম্যাডাম: আর আমি কিছু মেডিসিন লিখে দিচ্ছি তাকে সব সময় খাওয়াবেন। আর একটা কথা মনে রাখবেন আরিয়ার স্বভাব এখন কিছুটা বাচ্চাদের মত হয়ে গেছে। ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। আর যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমাকে জানবেন।

বিদ্যুত: হুমমম….।

বিদ্যুত কেবিনের ভিতর চলে যায় । কেবিনের ভিতরে প্রবেশ করে দেখে আরিয়া নার্সের চুল ধরে টানছে। নার্স জোরে জোরে চিৎকার করছে। বাকি নার্স গুলো দূরে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কাছে যেতে সাহস পাচ্ছে না।

বিদ্যুত: আরিয়া ওকে ছেড়ে দেও।…..[ কিছুটা রেগে ]

আরিয়া: তোর বাপ-দাদার সম্পতি নাকি যে ছেড়ে দেব।

বিদ্যুত নিজের রাগ কন্ট্রোল করাচে চোখ বন্ধ করে । নিজেকে সান্ত করে বললো।

বিদ্যুত: আরিয়া তুমি ওকে ছেড়ে দেও আমি তোমার জন্য চকলেট নিয়ে এসেছি।

আরিয়া: লোভ দেখাচ্ছিস ? তোর চকলেট তুই গিল, যা দূরে গিয়ে মর মুখ পোড়া কালা হাতি।

বিদ্যুত এবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারল না বাহিরে বেড়িয়ে দেয়ালে হাত দিয়ে কয়টা ঘুষি দিল। রবিন এটা দেখে ভয়তে‌ নাই নাই অবস্থা । কেবিনের ভিতরে গিয়ে দেখে। আরিয়া এখনো আগের মতই নার্সের চুল ধরে টানছে । নার্সটি জোরে জোরে চিল্লাসচ্ছে।

রবিন: আরিয়া ম্যাম ওকে ছেড়ে দিলে আমি আপনাকে……….[ এই যা কি দেবো সেটাই তো ভুলে গেছি-মনে মনে মাথা চুলকিয়ে বললো ]

আরিয়া: কি দিবি হ্যাঁ!

রবিন: কি চাই আপনার বলুন?

আরিয়া: কুকুর ছানা এনে দে?

রবিন: আচ্ছা কুকুর ছানা‌ এনে দেবো। এখন ছেড়ে দিন তাকে।

আরিয়া নার্সের চুল ছেড়ে দিয়ে বললো।

আরিয়া: যা আজকের মতো চুল চুল খেলা শেষ… কালকে আবার খেলবো ঠিক আছে ।

নার্স মেয়েটি ভয়তে কেবিন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।

আরিয়া: কুকুর ছানা‌ এনে দে ?

রবিন: দেবো তার আগে বাসায় চলুন তারপর ।

আরিয়া: আচ্ছা ঠিক আছে চল।

রবিন বড় একটা নিশ্বাস ফেলে বাহিরে গিয়ে বিদ্যুত কে বললো।

রবিন: স্যার কোন রকম মানিয়ে নিয়েছি। এবার ম্যাম কে বাসায় নিয়ে চলুন।

বিদ্যুত: হুমমম।

বিদ্যুত কেবিনে ঢুকে আরিয়ার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো । আরিয়া তো গালি দিয়ে বিদ্যুতের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্দার করছে।

আরিয়া: ওই শয়তানের ঘরে বদমাশ,বদমাশের ঘরে কুত্তা,কুত্তার ঘরে বেড়াল,বেড়ালের ঘরে গরু,গরুর ঘরে মহিস,মহিসের ঘরে হাতি,হাতির ঘরে গাধা,গাধার ঘরে ছাগল,ছাগলের ঘরে কুমিড়,কুমিড়ের ঘরে ইঁদুর,ইঁদুরের ঘরে বাদুর,বাদুরের ঘরে চিকা,চিকার ঘরে ব্যাঙ,ব্যাঙের ঘরে রাম ছাগল,রাম ছাগলের ঘরে……..হাত ছাড় আর গুলো মনে করতে দে আমাকে হারামি।

বিদ্যুত রাগে ফেটে যাচ্ছে দাঁতের উপর দাঁত রেখে নিজেকে সান্ত করার চেষ্টায় আছে। আর এদিকে রবিনের পেট ফেটে যাচ্ছে আরিয়া গালি শুনে,হাসতে পারছে না বিদ্যুতের জন্য। বহুৎ কষ্টে বিদ্যুত কে বললো।

রবিন: স্যার আমি একটু আসছি।…..

বলেই দৌড়ে একটা ফাঁকা জাগায় গিয়ে জোরে জোরে হাসতে লাগলো । এতক্ষন অনেক কষ্টে হাসিটা চেপে রেখেছে। এখন সব বের করে দিয়েছে।হাসি থামিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে গাড়িতে‌ উঠে বসলো। এদিকে আরিয়া তো বিদ্যুত কে এটা ওটা বলেই যাচ্ছে। বিদ্যুত রাগে ফায়ার হয়ে আছে। কিছু বলতে পারছে না।

রবিন:………[ এবার খেলাটা জমবে -মনে মনে ]

গাড়ি চলতে লাগলো সাথে আরিয়ার মুখও। বক বক করেই যাচ্ছে আরিয়া।

ওরা যেতে থাকুক তার মধ্যে আপনাদের আরিয়ার এক্সিডেন্টের কথা বলি চলুন ।
.
.
.
বিদ্যুতের সেদিন রাতে কাজ বেশি থাকার ফলে অফিস থেকে বাসায় ফিতরে রাত হয়ে যায়। ১২টার দিকে বাসার উদ্দেশ্যে ফিরছিল। ড্রাইভার কে গাড়ি জোরে চালাতে বিদ্যুতই বলেছিল। যার কারনে সামনে একটি মেয়েকে দেখতে পেয়েও ব্রেক করার আগের ধাক্কা লেগে যায় মেয়েটির সাথে। বিদ্যুত গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভার কে একটা চড় দেয় আর হেঁটে মেয়েটির কাছে গিয়ে দেখে এটা আরিয়া। এটা দেখার সাথে সাথে বিদ্যুতের দুনিয়া উল্টা-পাল্টা হয়ে যায় । রবিন তখন বিদ্যুতের সাথে ছিল না। বিদ্যুত তখনি আরিয়া কে hospital এ এডমিট করায়। বিদ্যুত তখন এটা বুঝার ট্রাই করছে‌ এত রাতে আরিয়া রাস্তায় কী করছিল? এটা জানার জন্য বিদ্যুত hospital থেকে আরিয়া দের বাসায় যায়। রাজু হোসেন সাথে বিদ্যুতের তর্ক হয়। এবং এক পর্যায় আরিয়ার রুমে গিয়ে সেই চিঠিটা পায় যেখানে লেখা ছিল আরিয়া এই বিয়ে করবে না। তাই বিদ্যুতের কাছে চলে যাচ্ছে । তখন বিদ্যুত বুঝতে পারে বিষয়টা। বিদ্যুত হুমকি দিয়ে আসে আরিয়ার কিছু হলে তাদের তিন জন কে দুনিয়া থেকে চালান করে দেবে।
এক সপ্তাহ পর্যন্ত আরিয়া অজ্ঞ্যান ছিল। মাথায় চোটটা একটু বেশি পেয়েছিল। যার কারনে আরিয়া অজ্ঞ্যান অবস্থায় ছিল। আর ডাক্তার এটাও বলেছে আরিয়ার স্মৃতি হারিয়ে ফেলার চান্স আছে ৬৮% । বিদ্যুত অনেকটা ভয় পেয়ে যায় ‌এই কথাটা শুনে । এই এক সপ্তাহ বিদ্যুত সব কাজ ফেলে আরিয়ার কাছেই বেশি ভাগ সময় কাঁটিয়েছে। আরিয়ার মা-বাবা দেখতে এসেছিল। কিন্তু বিদ্যুত তাদের আপমান করে তাড়িয়ে দেয়। আজ টানা এক সপ্তাহ পর আরিয়ার জ্ঞ্যান ফিরেছে। বিদ্যুত অনেকটাই খুশি হয়েছিল এই কথাটি শুনে। কিন্ত যখন শুনল আরিয়ার স্মৃতি-শক্তি হারিয়ে ফেলেছে তখন অনেকটাই খারাপ লেগেছিল।কিন্ত বিদ্যুত এটা ভেবে খুশি ছিল আরিয়াকে ফিরে পেয়েছে, এটাই ওর কাছে বেশি।

ওরা বাসায় এসে পড়ে।
.
.
.
.
.
.
.
Continue To……..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ