Dangerous_Crazy_Lover Part-06

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#Dangerous_Crazy_Lover_
#Sumaiya_Moni.
#Part-6.

আচমকা পিছন থেকে আরিয়ার মুখে কেউ রুমার চেপে ধরলো। আরিয়া ওর মুখের কাছ থেকে রুমার চেপে ধরা হাতটা বার বার সরানোর চেষ্টা করছে কিছু সরাতে পারছে না। আরিয়ার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। চোখের সামনে সব ঝাপসা ঝাপসা দেখছে। কিছুক্ষন পর আরিয়া ছটফটানি কমে যায়। সেন্সলেস হয়ে যায় আরিয়া।

পিট পিট করে চোখ মেলে তাকিয়ে‌ নিজেকে বন্ধ রুমে আবিষ্কার করে আরিয়া। মাথায় হাত দিয়ে উঠে বসে চার দিন ভালো করে চোখ বুলিয়ে একবার দেখে নিল। ওর কাছে চেনা-যানা রুম মনে হচ্ছে না। হুট করেই মনে পড়ে যায় সকালে ওর সাথে কী হয়েছিল।

আরিয়া: লোক গুলো কারা ছিল? কেন আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে? কী তাদের উদ্দেশ্যে?…..

মনে মনে এই সব ভাবছিল এর মধ্যেই দরজা ঠেলে রুমের মধ্যে প্রবেশ করলো একজন মধ্য বয়স্ক লোক। পরনে এ্যাস কালারের টিশার্ট ও কালো রঙের প্যান্ট । লোকটি আরিয়া কে দেখে পৈশাচিক হাসি দিল । লোভনিয় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরিয়ার দিকে। আরিয়া লোকটিকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। মনে মনে প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে। কিন্ত সেটা বাহিরে প্রকাশ করছে না। লোকটি দরজা লক করে আরিয়ার থেকে এক দু হাত দুরে বসে পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললো।

লোকটি: হেই কিউটি গার্ল তোমার নাম কী?

আরিয়া:…………….

লোকটি: কী হল নাম বল?

আরিয়া: প্লিজ আমাকে বাসায় যেতে দিন…আমি‌ বাসায় যাবো……[ বিনয়ি স্বরে ]

লোকটি: যাবে তো বটেই তার আছে আমার খায়েস মিটিয়ে নেই? তুমি হচ্ছো আমার শিকার। আজকে তোমার সাথে আমার বাসর রাত হবে।…..[ শয়তানি হাসি দিয়ে ]

আরিয়া এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়। চোখ বড় বড় করে লোকটির দিকে তাকিয়ে আছে। মিনতির স্বুরে লোকটিকে বলতে লাগলো ।

আরিয়া: প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন…আমাকে বাসায় যেতে দিন । আমার এমন সর্বনাশ করবেন না দয়া করে।

লোকটির কানে যাচ্ছে না আরিয়ার কথা আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে লাগলো আরিয়ার কাছে। আরিয়া ভয়তে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। লোকটি তার এক হাত বাড়িতে আরিয়ার গালে স্পর্শ করতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় কড়া নেড়ে উঠলো। লোকটি থেমে গেল। এক রাশ বিরক্ত নিয়ে দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলে দিল। দরজা খুলে দেখে দরজার অপর পাশে বিদ্যুত দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে রাগের আভা দেখা যাচ্ছে । লোকটি বিদ্যুত কে দেখে মুচকি হেসে বললো।

লোকটি: আরে বিদ্যুত তুমি? এখনে হঠাৎ কী মনে করে?

বিদ্যুত: একজনের সাথে হিসাব নিকাস মিটাতে এসেছি……… [ রাগ নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো ]

লোকটি বিদ্যুতের কথা ঠিক বুঝতে পারলো না। পাল্টা প্রশ্ন করে উঠলো বিদ্যুতের উদ্দেশ্যে ।

লোকটি: কার সাথে ? আর কথা বলছো তুমি? চল নিচে গিয়ে কথা বলি?

বিদ্যুত: রুমে বসে কথা বলতে কী সমস্যা? …….[ বলেই দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো বিদ্যুত ]

লোকটি চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো।

লোকটি: আরে আরে কোথায় যাচ্ছো? আমরা নিচে গিয়ে কথা বলি চল।

বিদ্যুত লোকটির কথার উওর দিচ্ছে না‌ রাগী চোখে এক দৃষ্টিতে বিছানায় বসা আরিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে । আরিয়া বিদ্যুত কে দেখে আরো ভয় পেয়ে যায়।
মেয়েটির দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে লোকটি বিদ্যুতের কাঁধে হাত রেখে বলে উঠলো।

লোকটি: কী পছন্দ হয়েছে মেয়েটি কে? রাত কাঁটাতে চাও? আমার কোন সমস্যা নেই? তুমি প্রথম ইউস কর তারপর না হয় আমি করবো?

বিদ্যুত লোকটির এই কথা গুলো শুনে ওর মাথায় আরো রাগ চেপে বসলো। রাগে মাথার রগ ফুলে গিয়েছে । হাত মুঠ করে রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।

লোকটি: আরে লজ্জা পাচ্ছো কেন? তুমি শুরু কর আমি বাহিরে আছি।….[ বলেই চলে যেতে নিলে বিদ্যুতের কথায় থেমে যায় ]

বিদ্যুত: বড্ড ভুল করে ফেলেছেন খান সাহেব। বড্ড ভুল করেছেন আপনি । ……..[ রাগী কন্ঠে ]

রাসেল‌ খান: কী বলতে চাও তুমি বিদ্যুত?……[ ভ্রু কুঁচকে ]

বিদ্যুত: আপনি কার কলিজায় হাত দিয়েছেন জানেন না। এর জন্য আপনাকে চড়ম মূল্য দিতে হবে।…….[ কর্কশ কন্ঠে ]

রাসেল খান: মানে?

বিদ্যুত: ওই মেয়েটি আমার কলিজা….আর আপনি আমার কলিজায় হাত দিয়েছেন।…..[ গর্জে বলে উঠলো ]

রাসেন খান বিদ্যুতের কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়। আমতা আমতা করে বললো।

রাসেল খান: আমি এটা জানতাম না বিদ্যুত । তুমি মেয়েটিকে নিয়ে যেতে পারো। আমি ওকে এখনও টার্চ করিনি। তবে একটা কথা বলতেই হবে….তোমার চয়েজ আছে।

বিদ্যুত এখনও আগের মত দাঁড়িয়ে হাত মুঠি বদ্ধ করে আছে ।

রাসেল খান: কী হল বিদ্যুত? এবাবে দাঁড়িয়ে আছ কেন? যাও মেয়েটিকে সাথে করে নিয়ে যাও।

বিদ্যুত: যাবো! তার আগে তোকে শেষ করে দিয়ে যাবো……।

রাগী কন্ঠে বলে কোটের ভিতর থেকে গান বের করে রাসেল খানের পেটে তাক করে গুলি ছুঁড়ে। এক সাথে পরাপর চার পাঁচ টা গুলি রাসেল খানের পেটে বুকে গেথে দেয়। রক্তে সারা ফ্লোল ভেসে যাচ্ছে । আরিয়া এই দৃশ্য দেখে ভয়তে চোখ খিচে বন্ধ করে দু হাত দিয়ে কান চেপে রেখেছে। বিদ্যুত রাসেল খানের নিথর দেহ ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। বামে তাকিয়ে দেখে আরিয়া দু হাত কানের কাছে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে । কিছুটা রাগ নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো ।

বিদ্যুত: আরিয়া কাম…..।

আরিয়া এখনো আগে মত বসে আছে। বিদ্যুত এবার ‌চিৎকার দিয়ে বললো।

বিদ্যুত: আরিয়াআআআআ….আসো আমার সাথে।

বিদ্যুতের চিৎকার শুনে আরিয়া কান থেকে দু হাত সরিয়ে চোখ মেলে বিদ্যুতের দিকে তাকায় ।আরিয়ার চেহারায় ভয় দেখতে পাচ্ছে বিদ্যুত।

বিদ্যুত: আসো……[ রেগে ]

আরিয়া বিছানা থেকে নেমে গুটি শুটি পায়ে বিদ্যুতের সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়ায়। বিদ্যুত আরিয়ার হাত ধরে হেচড়া টান দিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে আলতো করে আরিয়ার কঁপাল ছুঁয়ে দেয়। আরিয়ার প্রচন্ড ঘৃন্না হচ্ছে বিদ্যুতের স্পর্শ ওর কঁপালে পেয়ে। বিদ্যুত কিছুক্ষন আরিয়ার ভিতু ভিতু চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে ওর হাত ধরে নিচে নামতে লাগলো। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে বিদ্যুত রবিন কে ইশারা করে দেয়। রবিন বুঝে যায়‌ ওকে কী করতে হবে। বিদ্যুত আরিয়া কে নিয়ে‌ গাড়িতে উঠে বসে । গাড়ি চলতে লাগলো ।

এখন আসি আগের কথায়। রাসেন খানের লোক যখন আরিয়া কে কিডন্যাপ করে তখন বিদ্যুতের গার্ডস রা এটা দেখে ফেলে। ওরা আরিয়া কে নিয়ে‌ চলে যায় আর গার্ডস রা বিদ্যুতের কাছে এই খবর‌ জানিয়ে দেয়। বিদ্যুত দেরি না করে বিদ্যুৎ এর বেগে ছুটে আসে রাসেল খানের বাসায়। তারপরের গুলো তো জানেনই।

গাড়ি এসে থামে আরিয়ার বাসার সামনে । বিদ্যুতের লোক এসে গাড়ির দরজা খুলে দেবার সাথে সাথে আরিয়া গাড়ি থেকে নেমে সোজা বাসার ভিতরে চলে যায়। বিদ্যুতের এটা দেখে ভিশন রাগ হয়। চোখ বন্ধ করে রাগ কমানোর চেষ্টায় আছে। একটা বার বায় বললে কী এমন ক্ষতি হত। বিদ্যুত চলে আসে ওর বাড়িতে।

আরিয়া বাসায় প্রবেশ করার সাথে সাথে আরিয়ার আম্মু ও মারিয়া চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।

আরিয়া প্রশ্নের উওর না দিয়ে চুপ চাপ ওর রুমে চলে যায়। আরিয়ার এমন ব্যবহারে আরিয়া আম্মু কষ্ট পায় । আরিয়া গেট লক করে বিছানার উপরে গুটিশুটি মেরে বসে তখন কার মুহূর্ত গুলো ভাবতে লাগলো। ভয়ের রেশ এখনও আরিয়ার মন থেকে কাঁটে নি। ডুকরে কেঁদে উঠলো আরিয়া । ওর হাসি খুশি জীবনটা নিজের হাতে নিজেই শেষ করে দিল। ওর জন্যই আজ ওর জীবনে কালো ছায়া নেমে এসেছে। চড়ম ক্ষতি করে ফেলেছে নিজের। আদৌ কী বিদ্যুতের থেকে মুক্তি পাবে? বালিশের সাথে মুখ গুজে কান্না করছে আরিয়া।

দুই দিন পর…..

আরিয়া এখন আর আগের মত হাসে না। ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করে না।এই দুই দিন কলেজে যায় নি। নিজেকে ঘর বন্ধি করে রেখেছে। যখনি বিদ্যুত আরিয়ার ফোনে কল দেয় আরিয়া তখন আতঙ্কের মধ্যে থাকে। ভয় ভয় বিদ্যুতের সাথে কথা বলে। বিদ্যুত আরিয়ার সব খবরি পায়। আরিয়ার এমন অবস্থা দেখে ওর ভিশন রাগ হয়। আরিয়া কে এখন আপন করে নিতে চায় বিদ্যুত। আরিয়ার থেকে দূরে থাকা বিদ্যুতের কাছে বড্ড দায় হয়ে গেছে।

রাজু হোসেন বড় একটা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িটি রাজ প্রাশাদের চেয়ে কম বললে ভুল হবে। একবার চিন্তা করছে বাড়ির ভিতরে যাবে কি যাবে না। বড় সাইন বোর্ডে লেখা আছে বিদ্যুত আরিয়ার চৌধুরী হাউস। বিদ্যুত রাজু হোসেন কে খবর পাঠায় ওর বাসায় আসার জন্য। কেন ডেকেছে সেটা তার কাছে অজানা । এবার মনে কিছুটা সাহস জোগাড় করে বাড়ির ভিতরে পা রাখলো। আসে পাশে তাকিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে বাড়িটি দেখতে লাগলো। হঠাৎ এক যুবক রাজু হোসেন এর সামনে এসে দাঁড়ায়। রাজু হোসেন এবার যুকটিকে পরিদর্শন করতে লাগলো। যুবকটি তাকে বাসার ভিতরে আসতে বললো। রাজু হোসেন কে হল রুমে বসতে বলে যুবকটি উপরের রুমে চলে যায়। রাজু হোসেন কিছুটা ইতস্তত বোধ করছে। বার বার কঁপালের ঘাম রুমার দিয়ে মুছে নিচ্ছে। কিছুক্ষন পর একজন যুবক কে নামতে দেখে রাজু হোসেন নিচে ফেলে এটাই বিদ্যুত আরিয়ার চৌধুরী ।

বিদ্যুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে রাজু হোসেন এর অপর পাশের সোফায় বসে পড়ে। রাজু হোসেন এবার বিদ্যুত কে প্রশ্ন করে।

রাজু হোসেন: আমাকে এখানে ডাকা হয়েছে কেন?

বিদ্যুত: কথা বলার জন্য।

রাজু হোসেন: কী কথা ?

বিদ্যুত: আরিয়া কে আমি বিয়ে করতে চাই? সামনের সপ্তাহের মধ্যে ।

রাজু হোসেন এই কথা শুনেই ক্ষেপে যায়। আর যাই হোক মেয়েকে কিছুতেই একজন ক্রিমিনালের সাথে বিয়ে দিবে না। রাগে দাঁড়িয়ে গিয়ে বললো।

রাজু হোসেন: তুমি কী করে ভাবলে আমি তোমার মত একজন ক্রিমিনাল লইয়ারের কাছে আমি আমার মেয়ে কে বিয়ে দিবো।

বিদ্যুত: ভাবার কী আছে এটা আমার ডিসিশন । আমি আরিয়া কেই বিয়ে করবো। সেটা আমি আপনাকে জানিয়ে দিলাম।

রাজু হোসেন: আমি তোমার সাথে আরিয়া কে বিয়ে দেবো না।

বিদ্যুত: হোয়াই?…….[ রেগে ]

রাজু হোসেন: মনে নেই নিলিমা নামের মেয়েটির কথা। এত তাড়াতারি ভুলে গিয়েছে?

বিদ্যুত: নিলিমা কোন নিলিমা…..ওহ ইয়েস ইয়েস মনে পড়েছে। নিলিমার সাথে এই বিয়ের সাথে কিসের সম্পর্ক?

রাজু হোসেন: সম্পর্ক আছে। আমার বন্ধুর একমাএ মেয়ে ছিল নিলিমা। আমিও ওকে আমার মেয়ে মত ভালোবাসতাম। কলেজে যাওয়া আসার সময় প্রতিদিন এমপির ছেলে নিলিমাকে ডিস্টার্ব করতো। নিলিমা এর প্রতিবাদ করাতেই এমপির ওই বখাটে ছেলে নিলিমা কে রেপ করে রাস্তার মধ্যে ফেলে দিয়ে যায়। সাক্ষি প্রমান সব ছিল আমাদের কাছে। নিলিমাও কোর্টে বয়ান দেয়। কিন্ত তুমি? তুমি এসে কেসটাকে মিথ্যে করে দেও। এমপির ছেলে নাকি নিলিমা কে স্পর্শ করে নি। নিলিমা ভালোবাসে এমপির ছেলে রিপন কে । রিপন কে পাবার জন্য নিলিমা মিথ্যে নাটক করছে । এই রকমটা কোর্টে পেশ কর। জজ সেটা বিশ্বাস করে নেয় । মুক্তি পেয়ে যায় এমপির ছেলে। এক নিমিষে শেষ হয়ে যায় নিলিমা পুরো পরিবার। সমাজে মুখ দেখাতে পর্যন্ত পারছে না। নিলিমা আত্মহত্যা করে। আমার বন্ধু ও নিলিমার মা মেয়ের শোখে এতটাই আহত হয় যার কারনে বিষ খেয়ে সেই রাতেই দুইজনে মারা যায়। শেষ হয়ে যায় তিনটি জীবন শুধু তোমার জন্য। এমন আরো অনেকের জীবন তুমি নষ্ট করেছ। তোমার মত একজন বদলোক,জালোয়ারের সাথে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে তো দূর ছায়াও পড়তে দেব না গায়ে।

বিদ্যুত তাচ্ছিল্যের স্বরে হেসে বললো……

বিদ্যুত: ছায়া তো অনেক আগেই পড়ে গিয়েছে। আরিয়ার কে আমি বিয়ে করবোই?

রাজু হোসেন: আমি বেঁচে থাকতে আরিয়ার সাথে তোমার বিয়ে কিছুতেই হবে না।

বিদ্যুত: আর আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি আপনি বেঁচে থাকতে আমিই আরিয়া কে বিয়ে করবো।

রাজু হোসেন: এটা কিছুতেই হবে না।

বিদ্যুত: দেখা যাক। সময় বলে দিবে হবে কী হবে না।

রাজু: আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করবো সেই সময়টা যেন না আসে।

প্রতি উওরে বিদ্যুত মাথা দুলিয়ে বাকা হাসলো।

রাজু হোসেন রাগে গজগজ করতে ‌করয়ে বাড়ি থেকে‌ বেরিয়ে যায়। বিদ্যুত মুচকি হেসে উপরে চলে যায়।

ফুতপাত দিয়ে হাঁটছে রাজু হোসেন । মনের মধ্যে বিদ্যুত নামক ভয়টা ঢুকে গিয়েছে । কোন বাবাই চাইবে না এমন একটা ক্রিমিলানের সাথে তার মেয়েকে বিয়ে দিতে। আরিয়া কে নিয়ে টেনশনে পড়ে যায় রাজু হোসেন । এই সব চিন্তা করতে করতে কখন যে বাসার সামনে এসে পড়েছে টের ও পায় নি।
বাসার ভিতরে প্রবেশ করে সোফায় বসে গা এলিয়ে দেয়। আজ একটু বেশি পরিশ্রম করেছে। তার উপর বিদ্যুতের কথা গুলো খুবি ভাবাচ্ছে। মনে মনে চিন্তা করে আরিয়ার বিয়ে ঠিক করবে একজন ভালো ছেলের সাথে।

পরের দিন

খাবার টেবিলে বসে সবাই খাবার খাচ্ছে। আরিয়া চুপ চাপ মাথা নিচু করে খাবার খাচ্ছে। রাজু হোসেন আরিয়ার উদ্দেশ্যে বললো।

রাজু হোসেন: আরিয়া তোমাকে কাল ছেলে পক্ষের লোকেরা দেখতে আসবে। এবং তারা তোমাকে আগেই পছন্দ করে রেখেছে। আমি চাই তোমার বিয়েটা তাড়াতারি হয়ে যাক । আসা করি আমার ডিসিশনে তুমি অমত করবে না।

আরিয়ার খাবার গলায় আটকে যায় ওর বাবার কথা গুলো শুনে । পানি খেয়ে নিজেকে শক্ত করে বলতে লাগলো।

আরিয়া: বাবা আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।

রাজু হোসেন: কেন ?……..[ গম্ভীর কন্ঠে ]

আরিয়া: [ কারনটা যদি বলতে পারতাম তাহলে কবেই আমি তোমাদের কে হারিয়ে ফেলতাম-মনে মনে ] এখন আমি বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত নয় আব্বু ।

রাজু হোসেন: আমি তোরাম কোন কথা শুনতে চাই না। বিয়ে তোমাকে করতেই হবে।

আরিয়া এবার চিৎকার দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো।

আরিয়া: আমি পারবো না এই বিয়ে করতে। আমাকে আমার মত থাকতে দেও আব্বু । কেন আমাকে জোর করছো। আমি বাচ্চা নয় এখন।

কথা গুলো বলেই চলে যায় ওর রুমে। রাজু হোসেন মনে অনেকটা কষ্ট পায়। আরিয়া কখনোই এমন করে কখনোই কথা বলে নি রাজু হোসেনের সাথে আর আজ কিনা। খাবার টেবিল থেকে উঠে পড়ে রাজি হোসেন । আরিয়ার আম্মু ডাক দেবার সর্তেও তার ডাকে পাত্তা দেয় নি । ব্যাগ কাঁধে নিয়ে কাজে বেরিয়ে পড়ে।

আরিয়া ওর রুমে গিয়ে অঝোরে কান্না করতে লাগলো । আজকে ওর সব চেয়ে প্রিয় মানুষটির ওর বাবার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। ভাবতেই খারাপ লাগে আরিয়ার।

আরিয়া: স্যরি আব্বু আমি চাই নি তোমার সাথে এমন ব্যবহার করতে। আমি যে নিরুপায়। আমার জন্য আরেকটি ছেলের প্রান যাবে আমি সেটা চাই না। আমি সেটা চাই না আব্বু……।
.
.
.
.
.
.
বিদ্যুত কোর্ট থেকে বের হচ্ছে । চেহারায় উজ্জল ভাবটা আজও আছে । হ্যাঁ! আজকের কেসটাও জিতে গিয়েছে। মিডিয়ার লোকেরা এসে বিদ্যুত কে সামনে থেকে গিরে ধরে। এটা ওটা জিজ্ঞেস করলে বিদ্যুত সবার প্রশ্নের উওর দিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। কিছুক্ষনের মধ্যে চলে আসে বাসায়। বাসায় এসে লম্বা শাওয়ার ন্যায়। ড্রিঙ্কের গ্লাস হাতে নিয়ে বড় ফ্রেমে বাঁধান আরিয়ার ছবির সামনে বসে পড়ে। ড্রিঙ্কের গ্লাস পাশের টেবিলে রেখে আরিয়ার নাম্বার ডায়াল প্যাডে উঠিয়ে কল দেয় আরিয়া কে। একবার ফোন বেজে কেঁটে যায়। আরিয়া ফোন রিসিভ করেনি। বিদ্যুত রাগে চোখ বন্ধ করে আরেকবার কল দিল এবারও ফোন ধরলো না আরিয়া। বেশ রাগ হচ্ছে বিদ্যুতের আরিয়ার উপর। নিজেকে সান্ত করার চেষ্টায় আছে বিদ্যুত।
.
.
.
.
.
আরিয়ার বিয়ে হচ্ছে অন্য এক ছেলের সাথে। আরিয়া লাল বেনারশি শাড়ি পড়ে বসে আসে। কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানর কাজ শুরু করে দিয়েছে । আরিয়া কবুল বলতে যাবে ঠিক দেই সময় বিদ্যুতের গর্জন শুনে সামনে তাকিয়ে দেখে গান হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যুত গান তাক করে প্রথমে আরিয়ার বাবা কে শুট করে দিল। তারপর আরিয়ার যার সাথে বিয়ে হচ্ছে সেই ছেলেটি কে গুলি করে দেয়। আরিয়া জোরে এক চিৎকার দিয়ে উঠলো।

নাআআআআআআআআআআআআ……….
.
.
.
.
.
.
.
.
Continue To…………

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব | ইমোশনাল গল্গ

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৫ (শেষ পর্ব) . তন্ময়, তিন্নি রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ডুকরে কেঁদে উঠলাম আমি। তিহান আমার সাথে এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এটা...

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৪

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৪ . তিহান অফিসে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তন্ময় হন্তদন্ত পায়ে আমার কাছে ছুটে আসে। আমি ওর প্রতীক্ষায়ই ছিলাম। ও আসার পর সরাসরি...

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৩

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৩ . হঠাৎ করে তিহান হাসতে আরম্ভ করলেন। এবার আমি ভ্রুজোড়া কুঞ্চিত করে জিজ্ঞেস করলাম, 'হাসছেন কেন?' উনি হাসতে হাসতেই জবাব দিলেন, 'তোমাকে ভয় পেলে বেশ...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব | ইমোশনাল গল্গ

0
#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৫ (শেষ পর্ব) . তন্ময়, তিন্নি রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ডুকরে কেঁদে উঠলাম আমি। তিহান আমার সাথে এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এটা...
error: ©গল্পপোকা ডট কম