Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমি আমার ভালোবাসা পর্ব-১৭

তুমি আমার ভালোবাসা পর্ব-১৭

#তুমি_আমার_ভালোবাসা
#পর্ব_১৭
#লেখিকা_Munni_Akter_Priya
.
.
ফাহাদের বাবার মুখোমুখি বসে আছে প্রিয়া। প্রিয়া মাথা নিচু করে বসে আছে। কথা বলাটা ফাহাদের বাবাই শুরু করলেন।
“তুমি কি তাহলে ফাহাদকেই বিয়ে করছো?”
“ইনশাআল্লাহ। যদি ফাহাদ না মত বদলায় তাহলেই।”
“তুমি খুব ভালো করেই জানো তোমার অতীতের কথা। তোমার কি মনে হয় এসব জানার পরও ফাহাদ তোমার সাথে থাকতে রাজি হবে?”
“আপনার কথার উত্তর দেওয়াটা হয়তো বেয়াদবি দেখাবে। কিন্তু আপনি তো মূলত উত্তর জানার জন্যই আমায় ডেকেছেন তাই বেয়াদবি হলে মাফ করবেন। আপনি যেটা বলছিলেন। আমার অতীতের কথা। হ্যাঁ আমি, আমার অতীত খুব ভালো করেই জানি। শুরু থেকে শেষটা জানি। যেটা বিস্তারিত আমার পরিবারের বাহিরের মানুষ জানেনা। আর আমার এমন আহামরি কোনো অতীত না যে, ফাহাদের খুব বেশি সমস্যা হতে পারে। ভালোবাসা তো অপরাধ নয়। আমি ভালোবেসেছিলাম আর ভাগ্য আমায় নিয়ে খেলেছে। এখানে তো আমার কোনো হাত ছিলো না। তবুও আমার এই ছোটখাট কোনো অতীতই আমি ফাহাদের থেকে লুকাবো না। যার সাথে সারাটা জীবন থাকার প্রতিজ্ঞা নিয়েছি তার অধিকার আছে আমার অতীত, বর্তমান জানার। এরপর যদি ফাহাদের মনে হয় সম্পর্ক আগাবে তাহলে স্যরি, আমি ফাহাদকে ছাড়তে পারবো না। মোট কথা, ফাহাদ নিজে থেকে যদি আমায় না ছাড়ে তাহলে আমি কখনোই ফাহাদকে ছাড়বো না।”
“আমি রাজি না জেনেও তুমি বিয়ে করবে?”
“আমার পরিবার আমাকে একা বিয়ে করার শিক্ষাী দেয়নি। আমি বলেছি, আমি ফাহাদকেই বিয়ে করবো। তার মানে এই নয় যে, আপনাদের কিংবা আমার পরিবারের কারো অমতে। যেদিন আপনি মেনে নিবেন সেদিনই বিয়ের বিষয়ে ভাববো আমরা। কিন্তু আমি আবারও বলছি আমি ফাহাদকে ছাড়তে পারবোনা।”
“যদি আমি কোনোদিনই না মেনে নেই?”
“প্রত্যেক বাবা-মা’ই চায় তাদের সন্তান সুখী হোক। এখন সন্তান কার সাথে সুখী হবে সেটাও তার বাবা-মাকে দেখতে হবে। ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনো ডিসিশন চাপিয়ে দেওয়া মানেই বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করা না।”
“আমি তোমার সব কথাই মানছি। কিন্তু তুমি নিজেই একবার ভেবে দেখো, এটা কি কখনো হওয়ার মত? কোথায় তুমি আর কোথায় ফাহাদ? সোসাইটিতে ছোট হয়ে যাবো আমি।”
“যতদিন আমি ফাহাদকে ভালোবাসিনি ততদিন আমিও এটাই ভাবতাম বড়লোকদের সাথে গরীবদের কখনো ভালোবাসা, বিয়ের মত সম্পর্ক হতে পারেনা। কিন্তু যেদিন থেকে আমি ফাহাদকে ভালোবেসেছি সেদিন থেকে এসব ইস্যু তুচ্ছ মনে হয় আমার কাছে।আর বাকি রইলো সোসাইটি? জীবনের এই ছোট্ট বয়স থেকেই আমি সোসাইটি জিনিসটাকে ঘৃণা করি। এই সোসাইটি শুধু পারে খোঁচাতে, কিভাবে টেনে-হিঁচড়ে একটা মানুষকে নিচে নামাতে হয় সোসাইটি খুব ভালো করেই পারে সেটা। এরা তিলকেও তাল বানাতে পারে। প্রত্যেকটা মানুষেরই আগে দেখা উচিত মেয়ে কে! কি করে! কিন্তু তারা তা করে না। তারা আগে দেখে মেয়ের বাপের কি আছে। কয় তলা ফ্লাট আছে, কয় বিঘা জমি আছে, কয়টা বাড়ি আছে। এরপর দেখবে মেয়েকে। মেয়ে যদি হয় কোটিপতির তখন মেয়ে ট্যারা হলেও সোসাইটি কিচ্ছুই বলবে না। সোসাইটিতে বড় হলেও ছোট থেকেই আমি বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছি। আমি তখনই যখন পাত্তা দেইনি আর এখন আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায় শুরু হওয়ার সময় ভুলেও সোসাইটিকে পাত্তা দিবো না। সোসাইটি আমার বিপদে কখনো এগিয়ে আসেনি, এরা আমাকে একবেলা খাওয়ায়ও নি, আমাকে পড়াশোনা করায়নি। তাহলে কেন সোসাইটিকে মূখ্য বিষয় মনে করবো? সোসাইটি পেরেছে তিলকে তাল বানিয়ে বদনাম ছড়াতে, আমার সমালোচনা করতে। এরচেয়ে বেশি কিছুই সোসাইটি থেকে আমি আশা করিনা।”
ফাহাদের বাবা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে। তিনি প্রিয়াকে দেখে ভেবেছিলেন, যা বুঝাবেন তাই বুঝবে। কিন্তু এত চালাকচতুর তিনি প্রিয়াকে ভাবেননি। তবে প্রিয়ার কোনো কথাই ফেলে দেওয়ার মত না। প্রত্যেকটা কথা সত্যি এবং গুরুত্বপূর্ণ।
.
.
অফিসে গিয়েই প্রিয়া ফাহাদের রুমে যায়। ফাহাদ হাসিমুখে বলে,
“মাই হোয়াইট ফেইরি কাম টু মি।”
“আপনাকে কিছু বলার ছিল।”
“কিছু কেন? সব শুনবো। বলো কি বলবে?”
“আপনি কখনো কাউকে ভালোবেসেছেন?”
“হ্যাঁ। এখনও বাসি।”
“কাকে?”
“আমার সাদা পরীকে।”
“আমি সিরিয়াস।”
“ভালোবেসেছি বলতে কলেজ লাইফে একটা রিলেশন ছিল।”
“পরে?”
“পরে আর কি! মেয়েটা পরবর্তীতে অন্য রিলেশনে যায়।”
“আপনি কিছু বলেননি?”
“কি বলবো? এসব নিয়ে আমি মাথা ঘামাইনা। হঠাৎ এসব কথা তুলছো কেন?”
“আপনার ইচ্ছা হয়না আমার সম্পর্কে জানার?”
“যেই মানুষটাই আমার তার সম্পর্কে জানার এত কিউরিসিটির কি আছে।”
“তবুও আমি জানাতে চাই।”
“আমি জানতে চাইনা। অতীতে যাই হয়ে থাকুক তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। যাই হোক আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।”
“তবুও…”
“শসসসসস!!”
ফাহাদ প্রিয়ার ঠোঁটে এক আঙ্গুল রেখে বলে,
“চুপ! আর কোনো তবুও না। ভালোবাসি।”
প্রিয়া হেসে দেয়।
“আমিও ভালোবাসি।”
“তুমি কম ভালোবাসো।”
“কিভাবে?”
“কম সময় ধরে তো আর ঘুরাওনি আমায়।”
“হিহিহি।”
“এভাবে হেসো না তো। বুকে লাগে।”
“লাগুক।”
“লাগুক তাই না? লাগলেই বা তোমার কি?”
“হয়েছে এখন আর ঝগড়া করতে পারবোনা। কাজ জমা হয়ে আছে।”
“ধুর! শুধু কাজ কাজ আর কাজ। আমার দিকে কোনো খেয়ালই নেই।”
“হুহ ঢং।”

অফিসের সব কাজ শেষ করতে করতে দেখে ফাহাদ নেই। প্রিয়ার খুব অভিমান হলো। একবার বলে গেলে কি এমন ক্ষতি হতো। দেখাও হলো না। কাজ শেষ করে বাসায় চলে যায় প্রিয়া। বাসে থাকাকালিন বেশ কয়েকবার কল দেয় ফাহাদ। কিন্তু প্রিয়া রিসিভড করেনি। এটাই ওর শাস্তি।
রাতের খাবার খেয়ে প্রিয়া মায়ের রুমে শুয়ে গল্প করছিলো। রাত তখন ১০টা বাজবে। প্রিয়ার বড় বোন লামিয়া এসে প্রিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে প্রিয়ার রুমে নিয়ে আসে।
“আরে এভাবে টানছিস কেন? কি হয়েছে? ঘুমাসনি কেন এখনো তুই?”
লামিয়া কোনো উত্তর না দিয়ে প্রিয়াকে ব্যালকোনিতে নিয়ে গিয়ে হাত দিয়ে ইশারা করে। প্রিয়া হাত বরাবর তাকাতেই চমকে যায়। ফাহাদ এখানে। প্রিয়া একবার নিচে তাকায় আরেকবার ওর বোনের দিকে। লামিয়া হেসে দিয়ে মায়ের রুমে চলে যায়। প্রিয়া ফাহাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ফাহাদ কান ধরে বললো,
“স্যরি।”
স্যরি বলাটা আসলে শোনা যায়নি। কিন্তু ফাহাদের মুখভঙ্গিতে এটাই বোঝা গিয়েছে। প্রিয়া এবার অন্যদিকে মুখ ঘোরালো। আড়চোখে আবার ফাহাদকেও দেখছে। ফাহাদকে এভাবে দেখে প্রিয়ার পেট ফেটে হাসি আসছে। কিন্তু কোনোরকমে তা চাপিয়ে রেখেছে। প্রিয়া রুমের ভেতর চলে আসলো। ফাহাদের মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মন খারাপ করেই ওখানে দাঁড়িয়ে রইলো। প্রিয়া ফাহাদকে ম্যাসেজ করলো,
“ছাদে আসো।”
প্রিয়ার এই ম্যাসেজ দেখে ফাহাদ খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। ফাহাদ সাথে সাথে ছাদে আসে। প্রিয়া কিছুক্ষণ পর যায়। প্রিয়াকে দেখেই ফাহাদ জড়িয়ে ধরে।
“স্যরি স্যরি। আসলে আর্জেন্ট একটা কাজ থাকায় হুট করেই চলে যেতে হয়েছে। প্লিজ স্যরি প্লিজ।”
প্রিয়া ধাক্কা দিয়ে ফাহাদকে সরিয়ে দেয়। তখন ফাহাদের মুখটা দেখার মত ছিল। যদিও প্রিয়ার খুব হাসি পাচ্ছিল কিন্তু কোনোরকমে হাসি আটকে বললো,
“আপনার ঢং আমার একদম পছন্দ না। এখানে ডেকেছি আদিক্ষেতা করার জন্য নয়। এত রাতে বাড়ির সামনে আসতে বলেছিল কে? কাল অফিসে বলা যেতো না? এসব করে কি প্রমাণ করতে চান? আপনি আমায় খুব ভালোবাসেন?”
“তুমি এভাবে কেন কথা বলছো প্রিয়া?”
“কারণ এরচেয়ে ভালো করে কথা বলতে পারিনা তাই।”
ফাহাদ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয়ার কথায় যে ফাহাদের মন খারাপ হয়েছে সেটা প্রিয়া বুঝেছে। ফাহাদ কোনোরকমে বললো,
“তুমি কি বিরক্ত হয়েছো?”
“হ্যাঁ হয়েছি। খুব বিরক্ত হয়েছি।”
“আচ্ছা আমি তাহলে চলে যাচ্ছি। তবুও প্লিজ রাগ করো না। আমি আসছি।”
ফাহাদ চলে যাওয়ার জন্য এগোতেই প্রিয়া হাত টেনে ধরে ফাহাদের বুকে মুখ লুকায়।
“কেন বিরক্ত হয়েছি সেটা তো জিজ্ঞেস করলেন না? বিরক্ত এজন্যই হয়েছি কেন আসেননি আরো আগে আমার জীবনে? কেন এত ভালোবাসেননি আগে?”
এবার ফাহাদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে।
“বিয়ের পর সবটা পুষিয়ে দিবো।”
রেলিং ঘেষে দুজনে একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। ফাহাদের এক হাত জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রাখে প্রিয়া। অপর হাতের আঙ্গু্ল ফাহাদের হাতের আঙ্গুলে সীমাবদ্ধ। মাথার উপর মস্তবড় একটা চাঁদ। চাঁদের আলোতে ফাহাদকে দেখছে প্রিয়া। ফাহাদ যখনই তাকায় তখনই প্রিয়া চোখ সরিয়ে নেয়। ফাহাদের দিকে তাকিয়ে প্রিয়া বললো,
“আচ্ছা একটা কথা বলি?”
“বলো।”
“সবসময়ই এভাবে ভালোবাসবেন তো?”
“না।”
“কিহ্?”
“এরচেয়েও অনেকবেশি ভালোবাসবো।”
“প্লিজ কখনো চেঞ্জ হয়ে যাইয়েন না। তাহলে ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস সারাজীবনের জন্য উঠে যাবে।”
“সারাজীবন ভালোবাসবো।”
বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে প্রিয়া বললো,
“জানেন, একটা ছেলেকে খুব বেশি ভালোবাসতাম।”
ফাহাদ এবার প্রিয়াকে সামনে দাঁড় করিয়ে অবাক হয়ে বললো,
“তুমি ভালোবাসতেও জানতে? আমি তো ভাবতাম তুমি খুবই আনরোমান্টিক। ভালোবাসায় এলার্জি আছে তোমার।”
“ভালোবাসা নিয়েই আমার সমস্যা শুরু থেকেই ছিল। মাঝখানে ভালোবাসা নিয়ে স্বপ্ন বুনতে শুরু করি।”
“তারপর?”
“তারপর…..”
প্রিয়া হারিয়ে যায় সেই শুরুর দিকে….

তখন ক্লাস টেনে পড়ে প্রিয়া। সারাদিন বান্ধবীদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা, ঘুরাঘুরি, আড্ডা দেওয়া নিয়েই ব্যস্ত থাকতো। প্রিয়াদের ফ্রেন্ডের একটা গ্যাং ছিল। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিল যারা রিলেশন করতো। রিলেশনের প্রথম কয়েক মাস ভালোই যেত। বান্ধবীরা চুটিয়ে প্রেম করতো। এরপর একটা সময় থেকে মনমালিন্য, ঝগরা লেগেই থাকতো। ক্লাসে বসে বসে কাঁদতো, মন খারাপ করে থাকতো। এইসব বিষয়গুলো খুব বিরক্ত লাগতো প্রিয়ার। এসব ভালোবাসা নাকি আজাইরা সময় কাটানো প্রিয়া ভেবে পেতো না। বান্ধবীদের জন্য খারাপও লাগতো। এদের মধ্যে প্রিয়ার সবচেয়ে ভালো বান্ধবী ছিল রাহা। একটা সময়ে রাহাও রিলেশন করে। প্রিয়া বারবার বারণ করা সত্ত্বেও শুনেনি। রাহা বলতো ছেলেটা আমায় খুব ভালোবাসেরে। রিলেশনের চার মাস পর্যন্ত খুব প্রেম চললো দুজনের মধ্যে। এরপর আবারও সেই ঝগরার পর্ব শুরু। প্রিয়া ক্লাসে এসে দেখে রাহা কাঁদছে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“কি হয়েছে রে?”
কান্নার জন্য কথাই বলতে পারছেনা রাহা। পাশ থেকে সীমা বললো,
“মনে হয় বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঝগরা হয়েছে।”
“হলে হয়েছে। তো? ফ্যাসফ্যাস করে কান্নার কি আছে?”
প্রিয়া রাহাকে ধমক দিয়ে বললো,
“এই কান্না বন্ধ কর। একশোবার বলেছিলাম এসব রিলেশনে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। শুনেছিস আমার কথা? এখন কেন কাঁদছিস?”
রাহা কোনোরকমে কান্না থামিয়ে বললো,
“তুই কি বুঝবি? তুই তো কখনো কাউকে ভালোইবাসিসনি। যেদিন কাউকে ভালোবাসবি সেদিন বুঝবি।”
“এসব ফালতু প্রেমের ওপর আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই বুঝলি। এখন চল ফুসকা খাবো।”
“আমি খাবো না।”
“আরে টাকা আমি দিবো।”
“বললাম তো খাবো না। মন ভালো নেই।”
“গলায় পাড়া দিয়ে খাওয়াবো। চল তাড়াতাড়ি।”
রাহাকে টেনে বাহিরে নিয়ে আসে প্রিয়া। ফ্রেন্ডসরা মিলে জমিয়ে আড্ডা দেয় আর ফুসকা খায়। ওদের ফ্রেন্ড সার্কেলে কারো মন খারাপ থাকলে কেউই কখনো স্কুল মিস দিতো না। কারণ একমাত্র ওরাই ছিল যারা মন খারাপের ওষুধ ছিল। বিশেষ করে প্রিয়া! প্রিয়া বকবে খুব বকবে প্রথমে। এরপর আদর করে ফুসকা, আচার, আইসক্রিম খাওয়াবে। হাসাবে।
কিছুদিন পর রাহার বয়ফ্রেন্ডের সাথে রাহার ঝগরা মিটে যায়। টেস্ট পরীক্ষা পর্যন্ত ভালোই চলছিল সবকিছু। কিন্তু রাহার বয়ফ্রেন্ড একেবারের মত ব্রেকাপ করে দিয়ে অন্য মেয়ের সাথে রিলেশনে যায়। রাহা এটা মানতে না পেরে সুইসাইড এটেম্প নেয়। তখন ওর বাড়ির সবাই ওর বিয়ে দিয়ে দেয়। রাহার আর এস.এস.সি পরীক্ষা দেওয়া হয়না। এই ঘটনার পর প্রিয়ার আরো রাগ আর ক্ষোভ হয় ভালোবাসার প্রতি। প্রিয়ার ধারণায় জন্ম নেয় ভালোবাসা মানেই কষ্ট! দেখতে দেখতে ফাইনাল পরীক্ষা এসে পড়ে। খুব ভালোভাবে সব পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর আস্তে আস্তে ফ্রেন্ড সার্কেলের অনেকেরই বিয়ে হয়ে যায়। যে কয়জন থাকে সবাই আলাদা আলাদা কলেজে ভর্তি হয়। স্কুল লাইফের পরিচিত গ্যাং আলাদা হয়ে যায়।
কলেজের প্রথমদিনেই ভালোবাসার অধ্যায়ে পা দিয়ে ফেলে প্রিয়া।
গেটের সামনে অনেক মানুষ। প্রিয়ার বাবা কলেজ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বাড়ি চলে যায়। প্রিয়া গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই কয়েকটা ছেলে হাসাহাসি শুরু করে দেয়। হাসির কারণ কি প্রিয়া বুঝলো না। এমনিতেই কলেজের প্রথম দিন। তারমধ্যে আবার একা। খুব আনইজি ফিল করে প্রিয়া। ছেলেগুলো শিহাবকে ধাক্কা দিয়ে বলে,
“মামা! তোর বোন এসে পড়েছে দেখ! তোর শেষ বোনই কিন্তু এটা।”
শিহাব হা করে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে। শিহাবের বন্ধু রোমান চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বললো,
“ঐ শালা! আমাদের গেমসের রুলস অনুযায়ী মেয়েটা তোর বোন লাগে। সো এভাবে তাকিয়ে থাকার কোনো মানে হয়না।”
“চুপ কর! সব মেয়ে যদি বোন হয় তাহলে বউ হবে কে?”
“আরে! এভাবে পল্টি খাচ্ছিস কেন? কথা ছিল এই মার্ক করা জায়গায় প্রথম যেই ১০ জন মেয়ে পা রাখবে তারা তোর বোন। এটা হলো দশ নাম্বার মেয়ে। বাকিগুলোকে তো বোন বানাতে ঠিকই রাজি হয়েছিস।”
“পরবর্তী আরো কয়েকশো মেয়েকে বোন বানাতে রাজি আছি। শুধু এই মেয়ে বাদে।”
“প্রেমে পড়লি নাকি?”
“বন্ধু হয়েছিস কি করতে? বন্ধুর মনের কথা বুঝিস না?”
“কিন্তু!”
“আবার কিন্তু কি? যা মেয়েটার সব খোঁজখবর জোগার কর।”
প্রিয়া ক্লাসে আসার পর থেকেই দেখছে গেটের সেই ছেলেগুলো উঁকিঝুঁকি মারছে। ক্লাস থেকে স্যার বের হওয়ার সাথে সাথে রোমান প্রিয়ার কাছে গিয়ে বললো,
“শিহাব তোমাকে দেখা করতে বলেছে।”
“কে শিহাব?”
“আমার বন্ধু।”
“আমি চিনিনা।”
“আমি চিনিয়ে দিচ্ছি। চলো।”
“পারবোনা।”
“শিহাব আসলে কিন্তু সিনক্রিয়েট করবে।”
প্রিয়া খুব বিরক্ত হয়। বাধ্য হয়েই শিহাবের কাছে গিয়ে বলে,
“আঙ্কেল আমায় ডেকেছেন?”
আঙ্কেল ডাক শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না শিহাব। বন্ধুরা সব হাসাহাসি করছে। শিহাব রেগে বাইক থেকে নেমে দাঁড়ায়। রাগি চোখে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে এক পা দু পা করে এগোতে থাকে। কলেজের মাঠের মধ্যে এমন এক অবস্থা সবাই তাকিয়ে আছে। প্রিয়া এবার ভয় পাচ্ছে। শিহাব এমন এক কাণ্ড করলো সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে…….

চলবে….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ